তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

তালাক অধ্যায় পার্ট ১

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

Table of Contents

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪৮৭৫ – আল্লাহর বাণী: হে নবী ! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীগণকে তালাক দিতে ইচ্ছা কর, তখন ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাদের তালাক দিবে।

হাদীস নং ৪৮৭৫ – আল্লাহর বাণী: হে নবী ! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীগণকে তালাক দিতে ইচ্ছা কর, তখন ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাদের তালাক দিবে।

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেন।

উমর ইবনে খাত্তাব রা. এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন।তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে এবং নিজের কাছে লেখে দেয় যতক্ষণ না সে মহিলা পবিত্র হয়ে পুনরায় ঋতুবতী হয় এবং আবার পবিত্র হয়।

এরপর সে যদি ইচ্ছা করে, তাকে রেখে দিবে, আর যদি ইচ্ছা করে তবে সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক দেবে। আর ঐ-ই তালাকের পদ্ধতি, যে পদ্ধতিতে আল্লাহ তায়ালা স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার বিধান রেখেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৭৬ – হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে তা তালাক হিসাবে পরিগণিত হবে

হাদীস নং ৪৮৭৬ – হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে তা তালাক হিসাবে পরিগণিত হবে

সুলাইমান ইবনে হারব রহ…………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অব্স্থায় তালাক দিলেন, উমর রা. বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন।

তখন তিনি বললেন, সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে। রাবী (ইবনে সীরীন) বলেন, আমি বললাম, তালাকটি কি গণ্য করা হবে? তিনি (ইবনে উমর) বললেন, তবে কি হবে?

কাতাদা রহ. ইউনুস ইবনে জুবাইর রহ. থেকে, তিনি ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাকে নির্দেশ দাও সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে। আমি (ইউনুস) বললাম, তালাকটি কি পরিগণিত হবে? তিনি (ইবনে উমর) বললেন, তুমি কি মনে কর?

যদি সে অক্ষম হয় এবং স্বেচ্ছায় আহমকী করে। আবু মামার বলেন, আবদুল ওয়ারিস আইউব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, এটিকে আমার উপর এক তালাক ধরা হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৭৭ – তালাক দেওয়ার সময় স্বামী কি তার স্ত্রীর সামনাসামনি হয়ে তালাক দেবে?

হাদীস নং ৪৮৭৭ – তালাক দেওয়ার সময় স্বামী কি তার স্ত্রীর সামনাসামনি হয়ে তালাক দেবে?

হুমাইদী রহ………আওযাঈ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহরী রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সহধর্মিণী তাঁর থেকে পরিত্রাণ চেয়েছিল?

উত্তরে তিনি বললেন, উরওয়া রা. আয়েশা রা. থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জাওনের কন্যাকে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (একটি ঘরে) পাঠানো হল আর তিনি তার নিকটবর্তী হলেন, তখন সে মহান সত্তার কাছে পানাহ চেয়েছ।

তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, হাদীসটি হজ্জাজ ইবনে আবু মানী ও বর্ণনা করেছেন, তাঁর পিতামহ থেকে তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়া থেকে এবং আয়েশা রা. থেকে।

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪৮৭৮

হাদীস নং ৪৮৭৮

আবু নুয়াইম রহ……….আবু উসাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হয়ে শাওত নামক বাগানের নিকট দিয়ে চলতে চলতে দুটি বাগান পর্যন্ত পৌঁছলাম।

তিনি (ভিতরে) প্রবেশ করলেন। তখন নুমান ইবনে শারাহীলের কন্যা জুয়াইনাকে উমাইমার খেজুর বাগানস্থিত ঘরে পৌঁছান হয়। আর তাঁর সাথে তাঁর সেবার জন্য ধাত্রীও ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কাছে গিয়ে বললেন, তুমি নিজেকে আমার কাছে সমর্পণ কর।

তখন সে বলল, কোন রাজুকুমারী কি কোন বাজারী (নীচ) ব্যক্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করে? রাবী বলেন, এরপর তিনি তার হাত প্রসারিত করলেন তার শরীরে রাখার জন্য, যাতে সে শান্ত হয়।

সে বলল, আমি তোমার থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তিনি বলরেন, তুমি উপযুক্ত সত্তারই আশ্রয় নিয়েছ। এরপর তিনি আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, হে আবু উসাইদ ! তাকে দু’খানা কাতান কাপড় পরিয়ে দাও এবং তাকে পরিবারের নিকট পৌঁছিয়ে দাও।

হুসাইন ইবনে ওয়ালীদ নিশাপুরী রহ………সাহল ইবনে সাদ ও আবু উসায়দ রা. থেকে বর্ণনা করেন। তাঁরা বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমাইয়া বিনতে শারাহীলকে বিবাহ করেন।

পরে তাকে তার কাছে আনা হলে তিনি তার দিকে হাত বাড়ালেন। সে এটি অপছন্দ করল। এরপর তিনি আবু উসাইদ নির্দেশ দিলেন। তার জিনিস গুটিয়ে এবং দু’খানা কাতান বস্ত্র পরিয়ে তাকে তার পরিবারে পৌঁছে দিতে।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৭৯

হাদীস নং ৪৮৭৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আবু উসাইদ ও সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮০

হাদীস নং ৪৮৮০

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……….আবু গাল্লাব ইউনুস ইবনে জুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি ইবনে উমরকে বললাম, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছে।

তিনি বললেন, তুমি ইবনে উমরকে চেন। ইবনে উমর রা. তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছিল। তখন উমর রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বিষয়টি তাকে অবহিত করলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আদেশ দিলেন। পরে তার স্ত্রী পবিত্র হলে, সে যদি চায় তবে তাকে তালাক দেবে। আমি বললাম, এতে কি তালাক গণনা করা হয়েছিল? তিনি বললেন, তুমি কি মনে কর? যদি সে অক্ষম হয় এবং স্বেচ্ছায় বোকামী করে।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮১ – যারা তিন তালাক কে জায়েয মনে করেন।

হাদীস নং ৪৮৮১ – যারা তিন তালাক কে জায়েয মনে করেন।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত যে, উওয়াইমির আজলানী রা. আসেম ইবনে আদী আনসারী রা.-এর নিকট এসে তাকে বললেন, হে আসিম! যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অপর কোন পুরুষকে (ব্যভিচার-রত) দেখতে পায় তবে সে তাকে হত্যা করে ফেলে, তবে কি তোমরা তাকে হত্যা করবে?

(আর যদি হত্যা না করে) তবে সে কি করবে? হে আসিম! আমার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদকে অপছন্দনীয় এবং দূষণীয় মনে করলেন।

এমন কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি শুনে আসিম রা. ঘাবড়ে গেলেন। এরপর আসিম রা. স্বীয় গৃহে প্রত্যাবর্তন করলে উওয়াইমির রা. এসে বললেন, হে আসিম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে জিজ্ঞাসিত বিষয়কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না তুমি কল্যাণকর কিছু নিয়ে আমার কাছে আসনি।

তোমার জিজ্ঞাসিত বিষয়কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না পছন্দ করেছেন। উওয়াইমির রা. বললেন, আল্লাহর কসম! (উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত) এ বিষয়ে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতেই থাকব।

উওয়াইমির রা. এসে লোকদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ রাসূল ! যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে পরপুরুষকে (ব্যভিচার-রত) দেখতে পায়, আর তাকে হত্যা করে ফেলে, তবে আপনার কি তাকে হত্যা করবেন?

আর যদি সে (স্বামী) হত্যা না করে, তবে কি করবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তুমি গিয়ে তাকে (তোমার পত্নীকে) নিয়ে আস। সাহল রা. বলেন, এরপর তারা দু’জনে লিআন করল।

আমি সে সময (অন্যান্য) লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। উভয়ের লিআন করা হয়ে গেলে উওয়াইমির রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখন যদি আমি তাকে (স্ত্রীত্বে) রাখি তবে এটা তার উপর মিথ্যা আরোপ করা হবে।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদেশ দেওয়ার পূর্বেই তিনি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন। ইবনে শিহাব রহ. বলেন, পরবর্তীতে লিআনকারীদ্বয়ের পন্থা হল ঐ বিচ্ছিন্নতা।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮২

হাদীস নং ৪৮৮২

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! রিফাআ আমাকে পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদ তালাক (তিন তালাক) দিয়েছে।

পরে আমি আবদুর রহমান ইবনে যুবাইর কুরাযীকে বিবাহ করি। কিন্তু তার কাছে কাপড়ের কিনারা সদৃশ বৈ কিছু নেই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সম্ভবত তুমি রিফাআর নিকট ফিরে যেতে ইচ্ছা করছ। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সে তোমার স্বাদ গ্রহণ করে এবং তুমি তার স্বাদ গ্রহণ কর।

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮৩

হাদীস নং ৪৮৮৩

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে সে (স্ত্রী) অন্যত্র বিবাহ করল। পরে দ্বিতীয় স্বামীও তাকে তালাক দিল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল: মহিলাটি কি প্রথম স্বামীর জন্য বৈধ হবে? তিনি বললেন, না। যতক্ষণ না সে (দ্বিতীয় স্বামী) তার স্বাদ গ্রহণ করবে, যেমন করেছিল প্রথম স্বামী।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮৪ – যে ব্যক্তি তার স্ত্রীদেরকে ইখতিয়ার দিল।

হাদীস নং ৪৮৮৪ – যে ব্যক্তি তার স্ত্রীদেরকে ইখতিয়ার দিল।

আবুল ইয়ামান রহ………নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, স্বীয় স্ত্রীদেরকে ইখতিয়ার দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদিষ্ট হলে প্রথমে তিনি আমার নিকট এসে বলেন, আমি তোমার নিকট এমন একটি বিষয় উল্লেখ করছি, সে সম্পর্কে তুমি আপন মাতা-পিতার সাথে পরামর্শ ব্যতীত তড়িঘড়ি করে কোন সিদ্ধান্ত নিবে না।

আয়েশা রা. বলেন, আর তিনি তো জানেন যে, আমার মাতা-পিতা আমাকে তাঁর থেকে বিচ্ছেদের আদেশ দিবেন না। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে নবী ! আপনার সহধর্মিণীদেরকে বলুন –তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ চাও, তবে এস আমি তোমাদেরকে ভোগ সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই……..।

আয়েশা রা. বলেন, আমি বললাম, এই তুচ্ছ বিষয়ে আমাকে মাত-পিতার সাথে পরামর্শ করতে হবে? আমি তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকালের আবসই কামনা করছি। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য স্ত্রীও আমার ন্যায় উত্তর দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮৫

হাদীস নং ৪৮৮৫

উমর ইবনে হাফস রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইখতিয়ার দিলে আমরা ও তাঁর রাসূলকেই গ্রহণ করলাম। আর এতে আমাদের প্রতি তালাক সাব্যস্ত হয়নি।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮৬

হাদীস নং ৪৮৮৬

মুসাদ্দাদ রহ………..মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রা.-কে ইখতিয়ার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম (অর্থাৎ এতে তালাক হবে কিনা) তিনি উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন।

তাহলে সেটা কি তালাক ছিল? মাসরূক বলেন, তবে সে (স্ত্রী) আমাকে গ্রহণ করার পর আমি তাকে একবার ইখতিয়ার দিই বা শতবার দিই-(তাতে কিছু মনে করব না)।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮৭ – যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, “তুমি আমার জন্য হারাম”।

হাদীস নং ৪৮৮৭ – যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, “তুমি আমার জন্য হারাম”।

মুহাম্মদ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিলে সে (স্ত্রী) অন্য স্বামীকে বিবাহ করে। পরে সেও তাকে তালাক দেয়। তার লিঙ্গ ছিল কাপড়ের কিনারা সদৃশ।

সুতরাং মহিলা তার থেকে নিজের মনস্কামনা সিদ্ধ করতে পারল না। দ্বিতীয় স্বামী অবিলম্বে তালাক দিলে সে (মহিলা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার স্বামী আমাকে তালাক দিলে আমি অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।

এরপর সে আমার সাথে সংগত হয়। কিন্তু তার সাথে কাপড়ের কিনারা সদৃশ বৈ কিছুই নেই। তাই সে একবারের অধিক আমার নিকটস্থ হল না এবং আপন মনস্কামনা সিদ্ধ করতে সক্ষম হল না।

এরূপ অবস্থায় আমি আমার প্রথম স্বামীর জন্য বৈধ হব কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তোমার কিছু স্বাদ উপভোগ করে আর তুমিও তার কিছু স্বাদ আস্বাদন কর।

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮৮ – (মহান আল্লাহর বাণী) : এমন বস্তুকে আপনি কেন হারাম করছেন যা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করে দিয়েছেন?

হাদীস নং ৪৮৮৮ – (মহান আল্লাহর বাণী) : এমন বস্তুকে আপনি কেন হারাম করছেন যা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করে দিয়েছেন?

হাসান ইবনে সাব্বাহ রহ………..সাঈদ ইবনে যুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হারাম ঘোষণা করে তবে তাতে কিছু (তালাক) হয় না। তিনি আরও বলেন : নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৮৯

হাদীস নং ৪৮৮৯

হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাব বিনতে জাহাশের নিকট কিছু বিলম্ব করতে এবং সেখানে তিনি মধু পান করতেন।

আমি ও হাফসা পরামর্শক্রমে ঠিক করলাম যে, আমাদের মধ্যে যার কাছেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করবেন, সেই যেন বলি- আমি আপনার থেকে মাগফীর-এর গন্ধ পাচ্ছি। আপনিকি মাগাফীর খেয়েছেন। এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাকে অনুরূপ বললেন।

তিনি বললেন, বরং আমি যায়নাব বিনতে জাহাশের নিকট মধু পান করেছি। আমি পুনঃ এ কাজ করব না। এ প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হয় (মহান আল্লাহ বাণী): ‘হে নবী ! এমন বস্তুকে হারাম করছেন কেন, যা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করেছেন……..যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা কর’ পর্যন্ত।

এখানে আয়েশা ও হাফসা রা.-কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। আর আল্লাহর বাণী: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন-বরং আমি মধু পান করেছি- এ কথার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯০

হাদীস নং ৪৮৯০

ফারওয়া ইবনে আবুল মাগরা রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধু ও হালুয়া (মিষ্টি) পছন্দ করতেন।

আসরের সালাত শেষে তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের নিকট যেতেন। এরপর তাদের একজনের ঘনিষ্ঠ হতেন। একদা তিনি হাফসা বিনতে উমরের কাছে গেলেন এবং অন্যান্য দিন অপেক্ষা বেশী সময় অতিবাহিত করলেন।

এতে আমি ঈর্ষা করলাম। পরে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে অবগত হলাম যে, তাঁর (হাফসার) গোত্রের জনৈকা মহিলা তাকে এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তা থেকেই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু পান করিয়েছেন। আমি বললাম : আল্লাহর কসম, আমরা এজন্য একটি ফন্দি আটব।

এরপর আমি সাওদা বিনতে যামআকে বললাম তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তো এখনই তোমার কাছে আসছেন, তিনি তোমার নিকটবর্তী হলেই তুমি বলবে, আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? তিন বললেন: হাফসা আমাকে কিছু মধু পান করিয়েছে।

তুমি তখন বলবে, এর মৌমাছি মনে হয় উরফুত (এক জাতীয় গাছ) নামক বৃক্ষ থেকে মধু আহরণ করেছে। আমিও তাই বলব। সাফিয়্যা তুমিও তাই বলবে। আয়েশা রা. বলেন, সাওদা রা. বললেন, আল্লাহর কসম! তিনি দরজার নিকট আসতেই আমি তোমার ভয়ে তোমার আদিষ্ট কাজ পালনে প্রস্তুত হলাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর নিকটবর্তী হলেন, তখন সাওদা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন?

তিনি বললেন, হাফসা আমাকে কিছু মধু পান করিয়েছে। সাওদা বললেন, এর মধু মক্ষিকা উরফুত নামক বৃক্ষের মধু আহরণ করেছে। এরপর তিনি ঘুরে যখন আমার এলেন, তখন আমিও অনুরূপ বললাম।

তিনি সাফিয়্যার কাছে গেলে তিনিও এরূপ উক্তি করলেন। পরদিন যখন তিনি হাফসার কাছে গেলেন: তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে মধু পান করাব কি?

উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর আমার কোন প্রয়োজন নেই। আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, সাওদা বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা তাকে বিরত রেখেছি। আমি তাকে বললাম, চুপ কর।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯১ – বাধ্য হয়ে, মাতাল ও পাগল অবস্থায় তালাক দেওয়া এবং এতদুভয়ের বিধান সম্বন্ধে।

হাদীস নং ৪৮৯১ – বাধ্য হয়ে, মাতাল ও পাগল অবস্থায় তালাক দেওয়া এবং এতদুভয়ের বিধান সম্বন্ধে।

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে জাগ্রত ধারণা সমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে কার্যে পরিণত করে বা ব্যক্ত করে। কাতাদা রহ. বলেন, মনে মনে তালাক দিলে তাতে কিছুই হবে না।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯২

হাদীস নং ৪৮৯২

আসবাগ রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এল; তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। সে বলল, সে ব্যভিচার করেছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিকে মুখ ফিরিয়েছিলেন, সেদিকে এসে উক্ত ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে বারবার (ব্যভিচারের) সাক্ষ্য দিল।

তিনি লোকটিকে ডেকে বললেন, তুমি কি পাগল হয়েছ? তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ঈদগাহে নিয়ে রজম করার নির্দেশ দিলেন।

প্রস্তরাঘাত যখন তাকে অতিষ্ঠ করে তুলল, তখন সে পালিয়ে গেল। অবশেষে তাকে হাররা নামক স্থানে পাকড়াও করা হল এবং হত্যা করা হল।

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯৩

হাদীস নং ৪৮৯৩

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসলাম গোত্রের এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে এল, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। লোকটিতাকে ডেকে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! হতভাগ্য ব্যভিচার করেছে। সে একথা দিয়ে নিজেকে বোঝাতে চাইল।

রাসুলুল্লাহ ﷺ এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনি যে দিক ফিরলেন সে সেদিকে গিয়ে আবার বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! হতভাগ্য যিনা করেছে। তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

এরপর সেও সে দিকে গেল যে দিকে তিনি মুখ ফিরালেন এবং পুনরায় সে কথা বলল। তিনি চতুর্থবার মুখ ফিরিয়ে নিলে সেও সেদিকে গেল।

যখন সে নিজের সম্পর্কে চারবার সাক্ষী দিল, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি কি পাগল হয়েছ? সে বলল, না। নাবী ﷺ বললেনঃ তাকে নিয়ে যাও এবং রজম কর। (পাথর মেরে হত্যা কর) লোকটি ছিল বিবাহিত।

যুহরী (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে যিনি শুনেছেন, তিনি আমাকে বলেছেনঃ রজমকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম।

আমরা মদিনার মুসল্লায় (ঈদগাহে) তাকে রজম করলাম। পাথর যখন তাকে অতিষ্ঠ করে তুললো, সে তখন পালিয়েগেল। হাররা নামক স্থানে আমরা তাকে ধরলাম এবং রজম করলাম। অবশেষে সে মারা গেল।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯৪ – খোলার বর্ণনা এবং তালাক হওয়ার নিয়ম

হাদীস নং ৪৮৯৪ – খোলার বর্ণনা এবং তালাক হওয়ার নিয়ম

আযহার ইবনে জামীল রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, সাবিত ইবনে কায়েস এর স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! চারিত্রিক বা ধর্মীয় বিষয়ে সাবিত ইবনে কায়েসের উপর আমি কোন দোষারূপ করছি না।

তবে আমি ইসলামে থেকে কুফরী করা (অর্থাৎ স্বামীর সাথে অমিল) পছন্দ করছি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? মহিলা উত্তর দিল, হ্যাঁ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বাগানটি নিয়ে তাকে (মহিলাকে) তালাক দিয়ে দাও।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯৫

হাদীস নং ৪৮৯৫

ইসহাক ওয়াসিতী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উবায়ের ভগ্নী থেকেও উক্ত হাদীসটি বর্ণিত। তাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তুমি কি তায় বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? মহিলা বলল: হ্যা।

পরে সে বাগানটি ফেরত দিল, আর রাসুলুল্লাহ ﷺ , তাকে তালাক দেওয়ার জন্য তার স্বামীকে নির্দেশ দিলেন। ইবরাহীম ইবনু তাহমান খালিদ থেকে, তিনি ইকরামা থেকে তিনি নাবী ﷺ থেকে তাকে তালাক দাও কথাটিও বর্ননা করেছেন। অন্য বর্ননায় ইবনু আবূ তামীমা ইকরামা সুত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেছেনঃ সাবিত ইবনু কায়স- (রাঃ)-এর স্ত্রী রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর নিকট এসে বললঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ সাবিতের দ্বীনদারী ও চরিত্র সম্পর্কে আমি কোন দোষ দিচ্ছি না তবে আমি তার সাথে সংসার জীবন যাপন করতে পারছি না। রাসুলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? সে বললঃ হ্যা।

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯৬

হাদীস নং ৪৮৯৬

মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক মুখাররেমী (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস (রাঃ)-এর স্ত্রী নাবী ﷺ -এর কাছে এসে বললঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি সাবিতের ধর্ম ও-চরিত্র সম্পর্কে কোন দোষ দিচ্ছি না।

তষে আমি কুফরীর আশংকা করছি। রাসুসুল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফেরৎ দিতে প্রস্তুত আছ? সে বল (রহঃ) হ্যা। এরপর সে বাগানটি তাকে। (তার স্বামীকে) ফিরিয়ে দিল। আর রাসুলুল্লাহ ﷺ তার স্বামীকে নির্দেশ দিলে, সে মহিলাকে পৃথক করে দিল।

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪৮৯৭-৪৯৫৯

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৯৭

পরিচ্ছদঃ ২০৫১. খোলার বর্ণনা এবং তালাক হওয়ার নিয়ম। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমরা নারীদের যা দিয়েছ তা থেকে কিছু গ্রহণ করা তোমাদের জন্য হালাল হবে না ……. অত্যাচারী পর্যন্ত।’’ উমার (রা) কাযীর অনুমতি ছাড়া খুলা’কে বৈধ বলেছেন।‘উসমান (রা) মাথার বেনী ছাড়া অন্য সব কিছুর পরিবর্তে খুলা’ করার অনুমতি দিয়েছেন।

তাউস (র) বলেন, যদি তারা উভয় আল্লাহর সীমা ঠিক না রাখতে পারার আশংকা করে অর্থাৎ সংসার জীবনে তাদের প্রত্যেকের উপর যে দায়িত্ব আল্লাহ্ অর্পণ করেছেন সে ব্যপারে তিনি বোকাদের মাঝে একথা বলেননি যে, খুলা ততক্ষণ বৈধ হবে না, যতক্ষণ না মহিলা তাকে সহবাস থেকে বাধা দিবে।

৪৮৯৭। সুলায়মান (রহঃ) … ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, জামীলা (সাবিতের স্ত্রী) এরপর উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৯৮ | 4898 | ٤۸۹۸

পরিচ্ছদঃ ২০৫২. স্বামী-স্ত্রী দ্বন্দ ক্ষতির আশংকায় খুলা’র প্রতি ইঙ্গিত করতে পারে কি ? মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘ যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধের আশংকা কর, তবে উভয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে একজন করে সালিশ নিযুক্ত কর।

যদি তারা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ে সংশোধন হতে চায়, তবে আল্লাহ তাদের জন্য সে উপায় বের করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে অবহিত এবং তিনি সব কিছুর খবর রাখেন।’’ (৪ঃ৩৫)

৪৮৯৮। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … মিস্ওয়ার ইবনু মাখারামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ‘বনু মুগীরার লোকেরা তাদের মেয়েকে ‘আলীর সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য আমার অনুমতি প্রার্থনা করছে, আমি এর অনুমতি দিতে পারি না।

 

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৯৯ | 4899 | ٤۸۹۹

পরিচ্ছদঃ ২০৫৩. বিক্রয়ের কারণে দাসী তালাক হয় না
৪৮৯৯। ইসমাঈল ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার মাধ্যমে (শরীয়তের) তিনটি বিধান জানা গেছে। এক. তাকে আযাদ করা হল, এরপর তাকে তার স্বামীর সাথে থাকা বা না থাকার ইখ্তিয়ার দেওয়া হল।

দুই. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আযাদকারী আযাদকৃত গোলামের পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হবে। তিন. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন, দেখতে পেলেন ডেগে গোশত উথলিয়ে উঠছে। তাঁর কাছে রুটি ও ঘরের অন্য তরকারী উপস্থিত করা হল।

তখন তিনি বললেনঃ গোশতের পাত্র দেখছি না যে যার ভিতর গোশত ছিল? লোকেরা জবাব দিল, হাঁ, কিন্তু সে গোশত বারীরাকে সাদাকা হিসাবে দেওয়া হয়েছে। আর আপনি তো সাদাকা খান না? তিনি বললেনঃ তার জন্য সাদাকা, আর আমাদের জন্য এটা হাদিয়া।

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০০ | 4900 | ٤۹۰۰

পরিচ্ছদঃ ২০৫৪. দাসী স্ত্রী আযাদ হওয়ার পরে গোলাম স্বামীর সাথে থাকা বা না থাকার ইখ্তিয়ার
৪৯০০। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাকে অর্থাৎ বারীরার স্বামীকে ক্রীতদাস অবস্থায় দেখেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০১ | 4901 | ٤۹۰۱

পরিচ্ছদঃ ২০৫৪. দাসী স্ত্রী আযাদ হওয়ার পরে গোলাম স্বামীর সাথে থাকা বা না থাকার ইখ্তিয়ার
৪৯০১। আবদুল আলা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ অমুক গোত্রের গোলাম এই মুগীস অর্থাৎ বারীরার স্বামী; আমি যেন তাকে এখনও মদিনার অলিতে গলিতে ক্রন্দনরত অবস্থায় বারীরার পিছু পিছু ঘুরতে দেখতে পাচ্ছি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০২ | 4902 | ٤۹۰۲

পরিচ্ছদঃ ২০৫৪. দাসী স্ত্রী আযাদ হওয়ার পরে গোলাম স্বামীর সাথে থাকা বা না থাকার ইখ্তিয়ার
৪৯০২। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বারীরার স্বামী কালো গোলাম ছিল। তার নাম মুনাস। সে অমুক গোত্রের গোলাম ছিল। আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি সে মদিনার অলিতে গলিতে বারীরার পিছু পিছু ঘুরছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০৩ | 4903 | ٤۹۰۳

পরিচ্ছদঃ ২০৫৫. বারীরার স্বামীর ব্যাপারে নবী (সাঃ) এর সুপারিশ
৪৯০৩। মুহাম্মদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বারীরার স্বামী ক্রীতদাস ছিল। মুগীস বলে তাকে ডাকা হত। আমি যেন এখনও তাকে দেখছি সে বারীরার পিছনে কেঁদে কেঁদে ঘুরছে আর তার দাঁড়ি বেয়ে অশ্রু ঝরছে।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আব্বাস! বারীরার প্রতি মুগীসের ভালবাসা এবং মুগীসের প্রতি বারীরার অনাসক্তি দেখে তুমি কি আশ্চর্যান্বিত হও না?

এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (বারীরা) তুমি যদি তার কাছে আবার ফিরে যেতে? সে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমি সুপারিশ করছি মাত্র। সে বললঃ আমার তার কোন প্রয়োজন নেই।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০৪ | 4904 | ٤۹۰٤

পরিচ্ছদঃ ২০৫৬. পরিচ্ছেদ নাই
৪৯০৪। আবদুল্লাহ ইবনু রাজা (রহঃ) … আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়শা (রাঃ) বারীরাকে ক্রয় করতে চাইলেন। কিন্তু তার মালিকগণ ওলীর (অভিভাবকত্বের অধিকার) শর্ত ছাড়া বিক্রয় করতে সম্মত হল না।

তিনি বিষয়টি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তুলে ধরলে তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় কর এবং আযাদ করে দাও। কেননা, ওলীর অধিকার আযাদকারীর জন্যই সংরক্ষিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু গোশত আনা হল এবং বলা হল এ গোশত বারীরাকে সাদাকা করা হয়েছে। তিনি বললেনঃ তার জন্য সাদাকা বটে, তবে তা আমাদের জন্য হাদিয়া।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০৫ | 4905 | ٤۹۰۵

পরিচ্ছদঃ ২০৫৬. পরিচ্ছেদ নাই
৪৯০৫। আদম (রহঃ) বর্ণনা করেন শোবা আমাদের কাছে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাতে আরও বলা হয়েছে স্বামীর সাথে থাকা না থাকার ব্যপারে তাকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০৬ | 4906 | ٤۹۰٦

পরিচ্ছদঃ ২০৫৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে বিয়ে করো না যে পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে। নিঃসন্দেহে একজন ঈমানদার দাসী একজন মুশরিক মহিলা অপেক্ষা উত্তম।

যদি সে তোমাদের কাছে ভালও মনে হয়।
৪৯০৬। কুতায়বা (রহঃ) … নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমরকে কোন খৃস্টান বা ইয়াহুদী নারীর বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা আলা মুমিনদের উপর মুশরিক নারীদের বিবাহ হারাম করে দিয়েছেন।

আর এর চেয়ে মারাত্তক শিরক কি হতে পারে যে মহিলা বলে, আমার প্রভু ঈসা (আলাইহিস সালাম)। অথচ তিনিও আল্লাহর একজন বান্দাহ।

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০৭ | 4907 | ٤۹۰۷

পরিচ্ছদঃ ২০৫৮. মুশরিক নারী মুসলমান হলে তার বিবাহ ও ইদ্দত
৪৯০৭। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের বিষয়ে মুশরিকরা দুটি দলে বিভক্ত ছিল।

একদল ছিল হরবী মুশরিক, তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন এবং তারাও তার বিরাদ্ধে যুদ্ধ করত। অন্যদল ছিল চুক্তিবদ্ধ মুশরিক। তিনি তাদের সঙ্গে লড়তেন না এবং তারাও তার সাথে লড়ত না।

হরবীদের কোন মহিলা যদি হিজরত করে (মুসলমানদের) কাছে চলে আসত! তাহলে সে ঋতুমতী হয়ে পূনরায় পবিত্র না-হওয়া পর্যন্ত তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হতো না।

পবিত্র হলে পরেই তার সাথে বিবাহ বৈধ হত। তবে যদি বিয়ের পূর্বেই তার স্বামী হিজরত করত তাহলে মহিলাকে তার কাছেই ফিরিয়ে দিতে হত। আর যদি তাদের কোন দাস বা দাসী হিজরত করত তবে তারা মুক্ত হয়ে যেত এবং মুহাজিরদের সমান অধিকার লাভ করত।

এরপর বর্ননাকারী (আতা) চুক্তিবদ্ধ মুশরিকদের প্রসঙ্গে মুজাহিদের অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যদি চুক্তিবদ্ধ মুশরিকদের কোন দাস বা দাসী হিজরত করে আসত, তাহলে তাদেরকে পূনরায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো না।

তবে তাদের মুল্য ফিরিয়ে দেওয়া হতো। আতা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, আবূ উমাইয়্যার কন্যা কুরায়বা উমর ইবনু খাত্তাবের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিল। তিনি তাকে তালাক দিলে মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান তাকে বিবাহ করেন।

আর আবূ সুফিয়ানের কন্যা উম্মুল হাকাম ইয়ায ইবনু গানম ফিহরীর বিবাহে আবদ্ধ ছিল। তিনি তাকে তালাক দিলে আবদুল্লাহ ইবনু উসমান সাকাফী (রাঃ) তাকে বিয়ে করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০৮ | 4908 | ٤۹۰۸

পরিচ্ছদঃ ২০৫৯. যিম্মি বা হরবীর কোন মুশরিক বা খৃস্টান স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে। ‘আবদুল ওয়ারি (র)…. ইব্ন ‘আববাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, যদি কোন খৃস্টান নারী তার স্বামীর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে উক্ত মহিলা তার জন্য হারাম হয়ে যায়।

দাউদ (র) ইব্রাহীম সায়েগ (র) থেকে বর্ণনা করেন, আতা (র) কে জিজ্ঞাসা করা হল, চুক্তিবদ্ধ কোন হরবীর স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে এবং ইদ্দতের মধ্যেই তার স্বামী ইসলাম গ্রহণ করে, তবে কি মহিলা তার স্ত্রী থাকবে ? তিনি উত্তর দিলেন, না তবে সে মহিলা যদি নতুনভাবে বিবাহ ও মোহ্রে সম্মত হয়।

মুজাহিদ (র) বলেন, মহিলার ইদ্দতের মধ্যে স্বামী মুসলমান হলে সে তাকে বিবাহ করে নিবে। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ না তারা কাফিরদের জন্য হালাল, আর না কাফিরেরা তাদের জন্য হালাল। অগ্নি উপাসক স্বামী-স্ত্রী মুসলমান হলে কাতাদা ও হাসান তাদের সমবন্ধে বলেন, তাদের পূর্ব বিবাহ বলবৎ থাকবে।

আর যদি তাদের কেউ আগে ইসলাম কবূল করে, আর অন্যজন অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, তবে মহিলা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। স্বামীর জন্য তাকে গ্রহণ করার কোন পথই থাকবে না।

ইব্ন জুরায়জ (র) বলেন, আমি ‘আতা’ (র) কে জিজ্ঞসা করলামঃ মুশরিকদের কোন মহিলা যদি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের নিকট চলে আসে, তাহলে তার স্বামী কি তার নিকট থেকে বিনিময় গ্রহণ করতে পারবে ? আল্লাহ্ তা’আলা তো বলেছেনঃ ‘‘তারা যা ব্যয় করেছে তোমরা তাদেরকে তা দিয়ে দাও।’’

তিনি উত্তর দিলেনঃ না। এ আদেশ কেবল নবী (সাঃ) ও জিম্মীদের মধ্যে ছিল। (মুশরিকদের বেলায় এটা প্রযোজ্য নয়)। মুজাহিদ (র) বলেনঃ এ সব ছিল সে সন্ধির ক্ষেত্রে যা নবী (সাঃ) ও কুরায়শদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

৪৯০৮। ইবনু বুকায়র (রহঃ) … ‘উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) বলেন, ঈমানদার মহিলারা যখন হিজরত করে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসত, তখন তিনি আল্লাহর নির্দেশ “হে ঈমানদারগণ! কোন ঈমানদার মহিলা হিজরত করে তোমাদের কাছে আসলে তোমরা তাদেরকে যাচাই কর” অনুসারে তাদেরকে যাচাই করতেন

। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ ঈমানদার মহিলাদের মধ্যে যারা (আয়াতে উল্লেখিত) শর্তাবলী মেনে নিত, তারা পরীক্ষায় কৃতকার্য হত। তাই যখনই তারা এ ব্যাপারে মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রকাশ করত তখনই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বলতেন যাও, আমি তোমাদের বায়’আর গ্রহণ করেছি।

আল্লাহর কসম! কথার মাধ্যমে বায়’আত গ্রহণ ছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত কখনো কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি। আল্লাহর শপথ।

তিনি শুধুমাত্র সেইসব বিষয়েই বায়’আত গ্রহণ করতেন, যে সব বিষয়ে বায়’আত গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ্ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। বায়’আত গ্রহণ শেষে তিনি বলতেনঃ আমি কথায় তোমাদের বায়’আত গ্রহণ করলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯০৯ | 4909 | ٤۹۰۹

পরিচ্ছদঃ ২০৬০. মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘যারা স্বীয় স্ত্রীদের সাথে ‘সংগত না হওয়ার শপথ’ করে, তারা চার মাস অপেক্ষা করবে। এরপর যদি তারা প্রত্যাগত হয় তবে আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আর যদি তারা তালাক দেওয়ার সংকল্প করে, তবেও আল্লাহ্ সব কিছু শুনেন ও জানেন। فَاءُوا শব্দের অর্থ رَجَعُوا প্রত্যাবর্তন করে (২ঃ২৬৬ ও ২৭৭)

৪৯০৯। ইসমাঈল ইবনু আবূ উওয়ায়স (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর সহধর্মিনাদের থেকে ঈলা (কাছে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা) করলেন। সে সময় তার পা মচকে গিয়েছিল।

তিনি তার কামরার মাচানে উনত্রিশ দিন অবস্থান করেন। এরপর সেখান থেকে নেমে আসেন। লোকেরা বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ আপনি তো এক মাসের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তিনি বললেনঃ মাস উনত্রিশ দিনেরও হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯১০ | 4910 | ٤۹۱۰

পরিচ্ছদঃ ২০৬০. মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘যারা স্বীয় স্ত্রীদের সাথে ‘সংগত না হওয়ার শপথ’ করে, তারা চার মাস অপেক্ষা করবে। এরপর যদি তারা প্রত্যাগত হয় তবে আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আর যদি তারা তালাক দেওয়ার সংকল্প করে, তবেও আল্লাহ্ সব কিছু শুনেন ও জানেন। فَاءُوا শব্দের অর্থ رَجَعُوا প্রত্যাবর্তন করে (২ঃ২৬৬ ও ২৭৭)

 

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড
৪৯১০। কুতায়বা (রহঃ) … নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাঃ) যে ঈলার কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন সে সস্বন্ধে বলতেন, সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরে প্রত্যেকেরই উচিৎ হয় স্ত্রীর সৌজন্যর সাথে গ্রহণ করবে, না হয় তালাক দেওয়ার সিধান্ত নিবে, যেমনভাবে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন।

ইসমাঈল আমাকে আরও বলেছেন, মালিক (রহঃ) নাফি এর সুত্রে ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ননা করেছেন যে, চার মাস অতীত হয়ে গেলে তালাক দেওয়া পর্যন্ত তাকে আটকিয়ে রাখ হবে।

আর তালাক না দেওয়া পর্যন্ত তালাক প্রযোজ্য হবে না। উসমান, আলী, আবূ জারদা আয়িশা (রাঃ) এবং আরও বার জন সাহাবী থেকেও উক্ত মতামত উল্লেখ করা হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯১১ | 4911 | ٤۹۱۱

পরিচ্ছদঃ ২০৬১. নিরুদ্দিষ্ট ব্যক্তির পরিবার ও তার সম্পদের বিধান। ইব্ন মুসাইয়্যাব (র) বলেন, যুদ্ধের ব্যূহ থেকে কোন ব্যক্তি নিখোঁজ হলে এক বছর অপেক্ষা করবে। ইব্ন মাসউদ (রা) একটি দাসী ক্রয় করে এক পর্যন্ত তার মালিককে খুঁজলেন (মূল পরিশোধ করার জন্য)। তিনি তাকে পেলেন না, সে নিখোঁজ হয়ে যায়।

অবশেষে তিনি এক দিরহাম, দুই দিরহাম করে দান করতেন এবং বলতেনঃ হে আল্লাহ্ ! এটা অমুকের পক্ষ থেকে দিচ্ছি। যদি মালিক এসে যায়, তবে এর সাওয়াব আমি পাব, আর তার টাকা পরিশোধ করার দায়িত্ব হবে আমার। তিনি বলেনঃ হারনো প্রাপ্তির ব্যাপারেও তোমরা এরূপ কাজ করবে।

ইব্ন মাসউদ (রা)-ও এরূপ মত ব্যক্ত করেছেন। ঠিকানা জানা আছে এরূপ কয়েদী সমবন্ধে যুহ্রী (র) বলেনঃ তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে বসতে পারবে না এবং তার সম্পদও বন্টন করা হবে না। তবে তার খবরাখবর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেলে, তাঁর ব্যাপারে নিখোঁজ ব্যক্তির বিধান কার্যকর হবে।

৪৯১১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … মুনবাইস এর আযাদ কৃত গোলাম ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হারানো বকরী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ ওটাকে ধরে নাও।

কেননা, ওটা হল তোমার জন্য, না হয় তোমার (অন্য) ভাইয়ের জন্য অথবা নেকড়ের জন্য। তাঁকে আবার হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি রেগে গেলেন এবং তার উভয় গণ্ডদেশ রক্তিম বর্ন ধারন করল।

এরপর তিনি বললেনঃ ওকে নিয়ে তোমার ভাবনা কিসের? তার সাথে (চলার জন্য) পায়ের তলায় ক্ষুর ও (পানাহারের জন্য) পেটে মশক আছে।

সে পানি পান করতে থাকবে এবং বৃক্ষ-লতা খেতে থাকবে আর এর মধ্যে মালিক তার সন্ধান লাভ করবে। তাকে লুকতা (হারানো প্রাপ্তি) সমন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ প্রাপ্ত বস্তুর থলে ও মাথার বন্ধনটা চিনে নাও এবং এক বছর পর্যন্ত এর ঘোষণা দিতে থাক। যদি এ শনাক্তকারী (মালিক) আসে, তবে ভালো কথা, অন্যথায় এটাকে তোমার মালের সাথে মিলিয়ে নাও।

সুফিয়ান বলেনঃ আমি রাবীআ ইবনু আবূ আবদুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে উল্লিখিত কথাগুলো ছাড়া কিছুই পাইনি। আমি বললামঃ হারান প্রানী সম্পর্কে মুনবাইস এর আযাদকৃত গোলাম ইয়াযীদের হাদীসটি কি যায়েদ ইবনু খালিদ থেকে বর্ণিত?

তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। ইয়াহইয়া বলেন, রাবীআ বলতেনঃ হাদীসটি মুনবাইস-এর আযাদকৃত গোলাম ইয়াযীদ-এর সূত্রে যায়েদ ইবনু খালিদ থেকে বর্ণিত। সুফিয়ান বললেনঃ আমি রাবীআর সাথে সাক্ষাৎ করে এ ব্যাপারে আলোচনা করলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৯১২ | 4912 | ٤۹۱۲

পরিচ্ছদঃ ২০৬৩. ইশারার মাধ্যমে তালাক ও অন্যান্য কাজ। ইব্ন ‘উমর (রা) বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ চোখের পানির জন্য শাস্তি দিবেন না; তবে শাস্তি দিবেন এটার জন্য এই বলে তিনি মুখের প্রতি ইংগিত করলেন।

কা’ব ইব্ন মালিক (রা) বলেন, নাবী (সাঃ) আমার প্রতি ইশারা করে বললেনঃ অর্ধেক লও। আস্মা (রা) বলেন, নবী (সাঃ) সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেন। ‘আয়েশা (রা) সালাত আদায় করছিলেন।

এমতাবস্থায় আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ব্যাপার কি ? তিনি তাঁর মাথা দ্বারা সূর্যের প্রতি ইশারা করলেন। আমি বললামঃ কোন নিদর্শন নাকি ? তিনি মাথা নেড়ে বললেনঃ জি হাঁ। আনাস (রা) বলেন, নবী (সাঃ) তাঁর হাত দ্বারা আবূ বক্র (রা)-এর প্রতি ইশারা করে সামনে যেতে বললেন।

ইবন ‘আব্বাস (রা) বলেন, নবী (সাঃ)হাত দ্বারা ইশারা করে বললেনঃ কোন দোষ নেই। আবূ কাতাদা (রা) নবী (সাঃ) মুহরিহম-এর (এহরামকার) শিকার সমবন্ধে বললেন, তোমদেরকে কেউ কি তাকে (মুহরিমকে) এ কাজে লিপ্ত হবার আদেশ করেছিল বা শিকারের প্রতি ইশারা করেছিলে ? লোকেরা বললঃ না। তিনি বললেন, তবে খাও।

২০৬২. পরিচ্ছেদঃ যিহার। (আল্লাহ্ বলেছেনঃ) “আল্লাহ্ শুনতে পেয়েছেন সেই মহিলাটির কথা যে, তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বিতর্ক করে থাকে আর যে ব্যক্তি এতে সক্ষম হবে না, সে যেন “ষাটজন মিসকীনকে খাবার দেয়া” পর্যন্ত।

(বুখারী (রহঃ) বলেনঃ) ইসমাঈল আমাকে বলেছেন, মালিক (রহঃ) তাঁর কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবন শিহাবকে গোলামের যিহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।

উত্তরে তিনি বললেনঃ আযাদ ব্যক্তির অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ গোলাম ব্যক্তি দু’মাস রোযা রাখবে। হাসান বলেনঃ আযাদ মহিলা বা বাঁদীর সাথে আযাদ পুরুষ বা গোলামের যিহার একই রকম।

ইকরামা বলেনঃ বাঁদীর সাথে যিহার করলে কিছু হবে না। যিহার তো কেবল আযাদ রমনীর সাথেই হতে পারে।

তালাক অধ্যায় পার্ট ১। সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

৪৯১২। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উটে চড়ে তাওয়াফ করলেন।

তিনি যখনই রুকনের কাছে আসতেন তখনই এর প্রতি ইশারা করতেন এবং আল্লাহু আকরার, বলতেন।

যায়নাব (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “ইয়াজুজ ও মাজুজ” এদের দরজা এভাবে খুলে গেছে; এই বলে তিনি (তার আঙ্গুলকে) নব্বই এর মত করলেন। (অর্থাৎ শাহাদাত আঙ্গুলীর মাথা বৃদ্ধাঙ্গুলীর গোড়ায় লাগালেন।)

আরও পড়ুনঃ

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

তালাক

 

মন্তব্য করুন