তাফসীর অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

তাফসীর অধ্যায়

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

তাফসীর অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

বুখারি হাদিস নং ৪১২৩-৪২০০

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫৪ | 4154 | ٤۱۵٤

পরিচ্ছদঃ ২২৭৯. মহান আল্লাহর বাণীঃ সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সওম পালন করে।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/১৮৫)
৪১৫৪। আইয়্যাশ ইবনুল ওয়ালিদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি পাঠ করতেন ‏فِدْيَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ রাবী বলে, এ আয়াত فمن شهد الخ আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫৫ | 4155 | ٤۱۵۵

পরিচ্ছদঃ ২২৭৯. মহান আল্লাহর বাণীঃ সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সওম পালন করে।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/১৮৫)
৪১৫৫। কুতায়বা (রহঃ) … সালাম ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল এবং যারা রোযা পালনের সামর্থ রাখে তারা একজন মিসকীনকে ফিদয়াস্বরূপ আহার্য দান করবে।

তখন যে ইচ্ছা রোযা ভঙ্গ করত এবং তার পরিবর্তে ফিদয়া প্রদান করত। এরপর পরবর্তী আয়াত নাযিল হয় এবং পূর্বোক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে দেয়। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইয়াযীদের পূর্বে বুকায়র মারা যান।

আবূ মামার মুজাহিদ (রহঃ) বর্ণিত, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত এভাবে তিলাওয়াত করতেন ‏وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ তিনি বলতেন, ‏وَعَلَى الَّذِينَ يحملونه যাদের প্রতি রোযার বোঝা চাপানো হয়েছে (আর সে হল অতিবৃদ্ধ যে রোযা পালনে অসমর্থ। তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সে প্রতিদিন একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে।

আর ومن تطوع خيرا স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতিরিক্ত নেক কাজ করবে তা তার জন্য উত্তম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে ব্যাক্তি অতিরিক্ত করে এবং নির্ধারিত সংখ্যক মিসকীনদের অধিক জনকে খাদ্যদান করে তা তার জন্য কল্যাণকর হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫৬ | 4156 | ٤۱۵٦

পরিচ্ছদঃ ২২৮০. মহান আল্লাহর বাণীঃ রোযার রাত্রে তোমাদের জন্য স্ত্রীসম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে।

এরপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হলেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করলেন। সুতরাং, এখন তোমরা তাদের সাথে সঙ্গত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৮৭)

৪১৫৬। উবায়দুল্লাহ ও আহমদ ইবনু উসমান (রহঃ) … বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, যখন রমযানের রোযার হুকুম নাযিল হল তখন মুসলিমরা গোটা রমযান মাস স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকতেন আর কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে নিজেদের উপরে (স্ত্রী-সম্ভোগ করে) অবিচার করে বসে তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন ‏عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ ‘‘আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে।

এরপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেন।

সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। (২ঃ ১৮৭)

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫৭ | 4157 | ٤۱۵۷

পরিচ্ছদঃ ২২৮১. মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। তারপর সওম পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।

আর তোমরা যখন মাসজিদে ই’তিকাফ করবে তখন স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না। এগুলো আল্লাহর বেঁধে দেয়া সীমারেখা। সুতরাং এর কাছেও যেও না।

এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৮৭)। আল-আকিফু (العاكف) অর্থ (المقيم) অবস্থানকারী
৪১৫৭। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … ‘আদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (আদী) একটি সাদা ও একটি কালো সুতা সঙ্গে রাখলেন।

কিছু রাত অতিবাহিত হলে খুলে দেখলেন কিন্তু তাঁর কাছে সাদা কালোর কোন ব্যবধান স্পষ্ট হল না। যখন সকাল হল তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার বালিশের নিচে (সাদা ও কালো রঙের দু’টি সুতা) রেখেছিলাম এবং তিনি রাতের ঘটনাটি উল্লেখ করলেন।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার বালিশ তাহলে বেশ চওড়া ছিল, যদি কালো ও সাদা সুতা তোমার বালিশের নিচে থেকে থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫৮ | 4158 | ٤۱۵۸

পরিচ্ছদঃ ২২৮১. মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। তারপর সওম পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।

আর তোমরা যখন মাসজিদে ই’তিকাফ করবে তখন স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না। এগুলো আল্লাহর বেঁধে দেয়া সীমারেখা। সুতরাং এর কাছেও যেও না।

এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৮৭)। আল-আকিফু (العاكف) অর্থ (المقيم) অবস্থানকারী

৪১৫৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আল্লাহর বাণীতে) الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ সাদা সুতা কালো সুতা বের হয়ে আসার অর্থ কি?

আসলে কি ঐ দুটি সুতা? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি অবশ্য চওড়া পিঠ ও পশ্চাৎ বিশিষ্ট দু’টি সুতা দেখতে। তারপর তিনি বললেন, তা নয় বরং এ হল রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫৯ | 4159 | ٤۱۵۹

পরিচ্ছদঃ ২২৮১. মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। তারপর সওম পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।

আর তোমরা যখন মাসজিদে ই’তিকাফ করবে তখন স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না। এগুলো আল্লাহর বেঁধে দেয়া সীমারেখা। সুতরাং এর কাছেও যেও না।

এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৮৭)। আল-আকিফু (العاكف) অর্থ (المقيم) অবস্থানকারী

৪১৫৯। ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) … সাহল ইবনু সা‘আদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‏وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ এ আয়াত যখন নাযিল হয় তখন مِنَ الْفَجْرِ ‘ফজর হতে’ কথাটি নাযিল হয়নি।

তাই লোকেরা রোযা পালনের ইচ্ছা করলে তখন তাদের কেউ কেউ দুই পায়ে সাদা ও কালো রঙের সুতা বেঁধে রাখতো। এরপর ঐ দুই সুতা পরিস্কারভাবে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত তারা পানাহার করতো। তখন আল্লাহ তা‘আলা পরে مِنَ الْفَجْرِ শব্দটি নাযিল করেন। এতে লোকেরা জানতে পারেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাত ও দিন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬০ | 4160 | ٤۱٦۰

পরিচ্ছদঃ ২২৮২. মহান আল্লাহর বাণীঃ পশ্চাতদিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করাতে কোন পুণ্য নেই, কিন্তু পুণ্য আছে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে। সুতরাং তোমরা সামনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৮৯)

৪১৬০। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলীযুগে যখন লোকেরা ইহরাম বাঁধতো, (এ সময় বাড়িতে আসার প্রয়োজন দেখা দিলে) তারা পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করত।

তখন আল্লাহ তা‘আলা وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا‏ আয়াত নাযিল করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬১ | 4161 | ٤۱٦۱

পরিচ্ছদঃ ২২৮৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যাবত ফিতনা দূরিভুত না হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না হয়। যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তবে জালিমদের ব্যতীত আর কাউকে আক্রমণ করা চলবে না।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৯৩)

৪১৬১। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁর কাছে দুই ব্যাক্তি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ফিতনার সময় আগমন করল এবং বলল, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর আপনি উমর (রাঃ) এর পুত্র এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী!

কি কারণে আপনি বের হন না? তিনি উত্তর দিলেন আমাকে নিষেধ করেছে এ কথা নিশ্চই আল্লাহ তা‘আলা আমার ভাইয়ের রক্ত হারাম করেছে। তারা দু’জন বললেন, আল্লাহ কি এ কথা বলেননি যে, তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর যাবত না ফিতনার অবসান ঘটে।

তখন ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি যাবত না ফিতনার অবসান ঘটেছে এবং দ্বীনও আল্লাহর জন্য হয়ে গেছে। আর তোমরা ফিতনা প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করার ইচ্ছা করছ আর যেন আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য দ্বীন হয়ে গেছে।

 

উসমান ইবনু সালিহ ইবনু ওহাব (রহঃ) সূত্রে নাফে (রহঃ) থেকে কিছু বাড়িয়ে বলেন যে, এক ব্যাক্তি ইবনু উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! কি করণে আপনি এক বছর হাজ্জ (হজ্জ) করেন এবং একবছর উমরা করেন অথচ আপনি আল্লাহর পথে জিহাদ পরিত্যাগ করেছেন?

আপনি পরিজ্ঞাত আছেন যে, আল্লাহ এ বিষয়ে জিহাদ সম্পর্কে কিভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা; ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে পাঁচটি বস্তুর উপরঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) প্রতিষ্ঠা, রমযানের রোযা পালন, যাকাত প্রদান এবং বায়তুল্লাহর হাজ্জ (হজ্জ) উদযাপন।

তখন সে ব্যাক্তি বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে কি বর্ণনা করেছেন তা কি আপনি শুনেননি? ‏‏وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا‏}‏ ‏{‏إِلَى أَمْرِ اللَّهِ‏}‏ ‏{‏قَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ‏ অর্থাৎ মু’মিনদের দু’দল দ্বন্ধে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংশা করে দিবে।

এরপর তাদের একদল অপর দলকে আক্রমণ করলে তোমরা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষন না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে-তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করবে এবং সুবিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালবাসেন। (৪৯: ৯)

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

‏قَاتِلُو الاية (এ আয়াতগুলো শ্রবণ করার পর) ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমরা এ কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে করেছি এবং তখন ইসলামের অনুসারীর দল স্বল্পসংখ্যক ছিল। যদি কোন লোক দ্বীন সম্পর্কে ফিতনায় নিপতিত হতো তখন হয় তাকে হত্যা করা হত অথবা শাস্তি প্রদান করা হত।

এভাবে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আর কোন ফিতনা রইল না। সে ব্যাক্তি বলল, আলী ও উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

তিনি বললেন, উসমান (রাঃ)-কে তো আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করেছেন অথচ তোমরা তাঁকে ক্ষমা করা পছন্দ করো না। আর আলী (রাঃ)-তিনি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই এবং তাঁর জামাতা।

তিনি নিজ হাত দ্বারা ইশারা করে বলেন, এই তো তাঁর ঘর [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরের কাছে] যেমন তোমরা দেখতে পাচ্ছ।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬২ | 4162 | ٤۱٦۲

পরিচ্ছদঃ ২২৮৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং নিজেদের হাতে নিজদেরকে তোমরা ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। আর তোমরা সৎকাজ কর।

নিশ্চয় আল্লাহ সতকর্মশীলদের ভালবাসেন” – (সূরা আল-বাক্বারা ২/১৯৫)। আয়াতে উল্লাখিত التَّهْلُكَةِ ও الْهَلأَك একই অর্থে ব্যবহৃত।

৪১৬২। ইসহাক (রহঃ) … হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এ আয়াত আল্লাহর পথে ব্যয় করা সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৩ | 4163 | ٤۱٦۳

পরিচ্ছদঃ ২২৮৫. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে তবে সওম কিংবা সদাকাহ অথবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদয়া দিবে (বাক্বারা ২ঃ ১৯৬)

৪১৬৩। আদম … আবদুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রাঃ) থেকে বর্ণত। তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু উজরা-এর নিকট এই কূফার মসজিদে বসা থাকাকালে রিাযার ফিদয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমার চেহারায় উকুন ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় আমাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আনা হয়।

তিনি তখন বললেন, আমি মনে করি যে, এতে তোমার কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী যোগাড় করতে পার? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন রোযা পালন কর অথবা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান কর।

প্রতিটি দরিদ্রকে অর্ধ সা‘ খাদ্য প্রদান করতে হবে এবং তোমার মাথার চুল কামিয়ে ফেল। তখন আমার সম্পর্কে বিশেষভাবে আয়াত নাযিল হয়। তবে তা তোমাদের সকলের জন্য প্রযোজ্য।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৪ | 4164 | ٤۱٦٤

পরিচ্ছদঃ ২২৮৬. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্জের প্রাক্কালে উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায়, সে সহজলভ্য কুরবানী করবে (২ঃ ১৯৬)
৪১৬৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামাত্তুর আয়াত আল্লাহর কিতাবে নাযিল হয়েছে। এরপর আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তা আদায় করেছি।

এবং একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কুরআনের কোন আয়াত নাযিল হয়নি। এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল পর্যন্ত তা থেকে নিষেধও করেনি। এখন যে তা নিষেধ করতে চায় তা হচ্ছে তার নিজস্ব অভিমত।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৫ | 4165 | ٤۱٦۵

পরিচ্ছদঃ ২২৮৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। (সূরা আল-বাক্বারা ২ঃ ১৯৮)
৪১৬৫। মুহাম্মদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উকায, মাজান্না এবং যুল-মাজায নামক তিনটি স্থানে জাহেলী যুগে বাজার ছিল। কুরাইশগণ তথায় হাজ্জের মওসুমে ব্যবসা করতে যেত। তাই মুসলিমগণ সেখানে যাওয়া দোষ মনে করত। তাই এ আয়াত নাযিল হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৬ | 4166 | ٤۱٦٦

পরিচ্ছদঃ ২২৮৮. আল্লাহর বাণীঃ এরপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সে স্থান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে (২ঃ ১৯৯)
৪১৬৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কুরাইশ এবং যারা তাদের দ্বীনের অনুসারী ছিল তারা (হাজ্জের সময়) মুযদালিফায় অবস্থান করত।

আর কুরাইশগণ নিজেদের সাহসী ধর্মে অটল বলে অভিহিত করত এবং অপরাপর আরবগণ আরাফাতে অবস্থান করত।

এরপর যখন ইসলামের আগমন হল, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরাফাতে ওকুফের এবং এরপর সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিলেন। ‏ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ আয়াতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৭ | 4167 | ٤۱٦۷

পরিচ্ছদঃ ২২৮৮. আল্লাহর বাণীঃ এরপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সে স্থান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে (২ঃ ১৯৯)
৪১৬৭। মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামাত্তু আদায়কারী ব্যাক্তি উমরা আদায়ের পরে যতদিন হালাল অবস্থায় থাকবে ততদিন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে।

তারপর হাজ্জের (হজ্জ) জন্য ইহরাম বাঁধবে। এরপর যখন আরাফাতে যাবে তখন উট, গরু, ছাগল প্রভৃতি যা মুহারিমের জন্য সহজলভ্য হয় তা মীনাতে কুরবানী করবে। আর যে কুরবানীর সঙ্গতি রাখে না সে হাজ্জের (হজ্জ) দিনসমূহের মধ্যে তিনটি রোযা পালন করবে।

আর তা আরাফার দিবসের পূর্বে হতে হবে। আর তিন দিনের শেষ দিন যদি আরাফার দিন হয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। তারপর আরাফাত ময়দানে যাবে এবং সেখানে সালাতে আসর হতে সূর্যাস্তের অন্ধকার পর্যন্ত ওকুফ (অবস্থান) করবে।

এরপর আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুযদালিফায় পৌঁছে সেখানে নেকী হাসিলের কাজ করতে থাকবে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকর করবে।

সেখানে ফজর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করবে। এরপর (মদিনার) দিকে প্রত্যাবর্তন করবে যেভাবে অন্যান্য লোক প্রর্ত্যাবর্তন করে।

যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “এরপর প্রত্যাবর্তন কর সেখান হতে, যেখান হতে লোকজন প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল, দয়াময়।” তারপর জমরাতুল উকাযার প্রস্তর নিক্ষেপ করবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৮ | 4168 | ٤۱٦۸

পরিচ্ছদঃ ২২৮৯. আল্লাহর বাণীঃ এবং তাদের মধ্যে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের অগ্নি যন্ত্রনা হতে রক্ষা করুন।’’ (বাকারাঃ ২: ২০১)

৪১৬৮। আবূ মা‘মার (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে দুআ করতেন, اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ “হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” (২ঃ ২০১)

হাদিস নম্বরঃ ৪১৬৯ | 4169 | ٤۱٦۹

পরিচ্ছদঃ ২২৯০. আল্লাহর বাণীঃ প্রকৃতপক্ষে সে কিন্তু ঘোর বিরোধী। (সূরা আল-বাক্বারা ২ঃ ২০৪) النسل অর্থ হল الحيوان জানোয়ার।
৪১৬৯। কাবীসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট ঘৃণিত মানুষ হচ্ছে অতিরিক্ত ঝগড়াটে ব্যাক্তি।

আবদুল্লাহ বলেন, আমার কাছে সুফিয়ান হাদীস বর্ণনা করেন, সুফিয়ান বলেন আমার কাছে ইবনু যুরায়জ ইবনু আবূ মূলায়কা হতে আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই মর্মে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭০ | 4170 | ٤۱۷۰

পরিচ্ছদঃ ২২৯১. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, যদিও এখনও তোমরা তাদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে?

তাদের উপর পতিত হয়েছিল অর্থ-সংকট ও দুঃখ-ক্লেশ। তারা এমনভাবে ভীত-শিহরিত হয়েছিল যে, রসূল এবং তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদের বলতে হয়েছিলঃ কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? হাঁ, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই। (সূরা আল-বাক্বারা ২/২১৪)
৪১৭০। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর বাণীঃ ‘‘অবশেষে রাসূলগণ যখন নিরাশ হলেন এবং লোকেরা ভাবলো যে, রাসূলগণকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে (১২: ১১০), তখন ইবনু আববাস (রাঃ) এই আয়াতসহ সূরা বাকারার আয়াতের শরনাপন্ন হন ও তিলাওয়াত করেন, যেমনঃ ‏حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلاَ إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيب এমন কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথে ঈমান আনয়নকারীগণ বলে উঠেছিল-আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? হ্যাঁ, হ্যাঁ, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই (২: ২১৪)

 

রাবী বলেন, এরপর আমি উরওয়া ইবনু যুবায়রের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করি, তখন তিনি বলেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আল্লাহর কসম, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের নিকট যেসব অঙ্গীকার করেছেন, তিনি জানতেন যে তা তাঁর মৃত্যুর পূর্বেই বাস্তবে পরিণত হবে।

কিন্তু রাসূলগণের প্রতি সমূহ বিপথ-আপদ নিপতিত হতে থাকবে। এমন কি তারা আশঙ্কা করবে যে, সঙ্গী-সাথীরা তাদেরকে মিথ্যুক প্রতিপন্ন করবে। এ প্রসঙ্গে আয়িশা (রাঃ) এ আয়াত পাঠ করতেন ‏وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِّبُوا‏ তারা ভাবল যে, তারা তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে।

 

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭১ | 4171 | ٤۱۷۱

পরিচ্ছদঃ ২২৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। পূর্বাহ্ণে তোমরা তোমাদের জন্য কিছু করো এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহর সম্মুখীন হতে যাচ্ছ এবং মুমিনগণকে সুসংবাদ দাও। (২ঃ ২৩৩)

৪১৭১। ইসহাক (রহঃ) … নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন কুরআন তিলাওয়াত হতে অবসর না হয়ে কোন কথা বলতেন না।

একদা আমি সূরা বাকারা পাঠ করা অবস্থায় তাঁকে পেলাম। পড়তে পড়তে তিনি এক স্থানে পৌঁছলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি জানো, কি উপলক্ষ্যে এ আয়াত নাযিল হয়েছে? আমি বললাম, না।

তিনি তখন বললেন, অমুক অমুক ব্যাপারে আয়াত নাযিল হয়েছে। তারপর আবার তিনি তিলাওয়াত করতে থাকেন।

আবদুস সামাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করে আইয়ুব, তিনি নাফি‘ থেকে আর নাফি‘ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে।

‏فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। (২: ২২৩)। রাবী বলেন, স্ত্রীলোকের পশ্চাৎ দিক দিয়ে সহবাস করতে পারে।

মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি‘ থেকে এবং তিনি ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭২ | 4172 | ٤۱۷۲

পরিচ্ছদঃ ২২৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। পূর্বাহ্ণে তোমরা তোমাদের জন্য কিছু করো এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহর সম্মুখীন হতে যাচ্ছ এবং মুমিনগণকে সুসংবাদ দাও। (২ঃ ২৩৩)

৪১৭২। আবূ নু‘আইম (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহুদীরা বলতো যে, যদি কেউ স্ত্রীর পেছন দিক থেকে সহবাস করে তাহলে সন্তান টেরা চোখের হয়। তখন (তাদের এ ধারণা রদ করে) سَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ আয়াত অবতীর্ণ হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭৩ | 4173 | ٤۱۷۳

পরিচ্ছদঃ ২২৯৩. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদের ত্বালাক্ব দিয়ে দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত্’কাল পূর্ণ করে তবে স্ত্রীগণ নিজেদের স্বামীদেরকে বিয়ে করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিও না (যদি তারা পরস্পর সম্মত হয়) (২ঃ ২৩২)
৪১৭৩।

উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) … মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার এক বোনের বিয়ের পয়গাম আমার নিকট পেশ করা হয়। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন যে, ইবরাহীম (রহঃ) ইউনুস (রহঃ) থেকে, তিনি হাসান বসরী (রহঃ) থেকে এবং তিনি মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবূ মা‘মার (রহঃ) হাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)-এর বোনকে তার স্বামী তালাক দিয়ে তারপর পৃথক করে রাখে।

যখন ‘ইদ্দত পালন পূর্ণ হয় তখন তার স্বামী তাকে আবার পয়গাম পাঠায়। মা‘কিল (রাঃ) অমত পোষণ করে তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। ‏فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ ‘‘তারা তাদের স্বামীর সাথে পুনরায় বিধিমত বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদের তোমরা বাঁধা দিওনা। (২: ২৩২)

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭৪ | 4174 | ٤۱۷٤

পরিচ্ছদঃ ২২৯৪. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশদিন প্রতীক্ষায় থাকবে। যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত (২ঃ ২৩৪)

৪১৭৪। উমাইয়া (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে বললাম যে, এ আয়াত তো অন্য আয়াত দ্বারা মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে।

অতএব উক্ত আয়াত আপনি মুসহাফে লিখেছেন (অথবা রাবী বলেন) কেন বর্জন করছেন না, তখন তিনি [উসমান (রাঃ)] বললেন, হে ভাতিজা আমি মুসহাফের স্থান থেকে কোন জিনিস পরিবর্তন করব না।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭৫ | 4175 | ٤۱۷۵

পরিচ্ছদঃ ২২৯৪. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশদিন প্রতীক্ষায় থাকবে। যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত (২ঃ ২৩৪)

৪১৭৫। ইসহাক (রহঃ) … মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا‏ এ আয়াতে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পরিবার থেকে ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব।

আয়াতে উল্লিখত يعفون শব্দের অর্থ يهبن দান করে। অনন্তর আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেনঃ وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَعْرُوفٍ ‘‘তোমাদের মধ্যে সপত্নীক অবস্থায় যাদের মৃত্যু আসন্ন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের গৃহ হতে বহিস্কার না করে তাদের এক বছরের ভরণ পোষণের ওসীয়ত করে।

কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়। (২: ২৪০)

 

রাবী বলেন, আল্লাহ তা‘আলা স্ত্রীর জন্য পূর্ণ বছর সতের মাস এবং বিশ রজনী নির্ধারিত করেছেন ওসীয়ত হিসেবে। সে ইচ্ছা করলে তার ওসয়ত থাকতে পারে, ইচ্ছা করলে বের হয়েও যেতে পারে।

এ কথারই ইঙ্গিত করে আল্লাহর বাণীঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ‏ মোট কথা যেভাবেই হোক স্ত্রীর উপর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। মুজাহিদ থেকে এরূপই জানা গেছে।

কিন্তু ইমাম আতা বলেন যে, ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর প্রতি তার স্বামীর বাড়িতে ‘ইদ্দত পালন করার হুকুম রহিত করে দিয়েছে। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ‘ইদ্দত পালন করতে পারে।

আল্লাহর এ বাণী দলীল বলেঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ইমাম আতা বলেন, স্ত্রী ইচ্ছা করলে স্বামীর পরিজনের নিকট ‘ইদ্দত পালন করতে পারে এবং তার ওসীয়ত থাকতে পারে অথবা তথা হতে চলেও যেতে পারে। ‏فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ‏ আয়াতের মর্মানুসারে।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

ইমাম আতা (রহঃ) বলেন, তারপর মিরাস বা উত্তরাধিকারের হুকুম ولهن الربع مما تركتم আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হল। সুতরাং ঘর ও বাসস্থানের নির্দেশ রহিত হয়ে যায়। কাজেই যথেচ্ছা স্ত্রী ‘ইদ্দত পালন করতে পারে। আর তার জন্য ঘরের বা বাসস্থানের দাবি আগ্রহ্য।

মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ হতে বর্ণিত, হাদীস বর্ণনা করেন আমার নিকট ওয়াকা’ ইবনুু আবি নাজীহ থেকে আর তিনি মুজাহিদ থেকে এ সম্পর্কে।

এবং আরো আবী নাজীহ আতা থেকে এবং তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর ‘ইদ্দত পালন স্বামীর বাড়িতে ইদ্দত পালন করার হুকুম রহিত করে দেয়। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহর এই বাণীঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ‏ এবং তদনুরূপ আয়াত এর দলীল মুতাবিক।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭৬ | 4176 | ٤۱۷٦

পরিচ্ছদঃ ২২৯৪. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশদিন প্রতীক্ষায় থাকবে। যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত (২ঃ ২৩৪)

৪১৭৬। হিব্বান (রহঃ) … মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন একটি জলসায় (সভায়) উপবিষ্ট ছিলাম যেখানে নেতৃস্থানীয় আনসারদের কতেক ছিলেন, এবং তাদের মাঝে আবদুর রহমান বিন আবূ লায়লা (রহঃ)-ও ছিলেন।

এরপর সুবাইয়া বিনতে হারিস (রহঃ) প্রসঙ্গে বর্ণিত আবদুল্লাহ বিন উতবা (রহঃ) হাদীসটি উত্থাপন করলাম, এরপর আবদুর রহমান (রহঃ) বললেন, ‘‘পক্ষান্তরে তাঁর চাচা এ রকম বলতেন না’’ অনন্ত আমি বললাম, কূফায় বসবাসরত ব্যাক্তিটি সম্পর্কে যদি আমি মিথ্যা বলি তবে আমি হব চরম ধৃষ্ট এবং তিনি তার স্বর উচু করলেন, তিনি বললেন,

তারপর আমি বের হলাম এবং মালিক বিন আমির (রাঃ) মালিক ইবনু আউফ (রহঃ)-এর সাথে আমি বললাম, গর্ভাবস্থায় বিধবা রমণীর ব্যাপারে ইবনু মাসঊদ (রাঃ) এর মন্তব্য কি ছিল, বললেন যে ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন, তোমরা কি তার উপর কঠোরতা অবলম্বন করছ আর তার জন্য সহজ বিধানটি অবলম্বন করছ না, সংক্ষিপ্ত ‘‘সূরা নিসাটি (সূরা ত্বালাক) দীর্ঘটির পরে অবতীর্ণ হয়েছে। আইয়ুব (রহঃ) মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, আবূ আতিয়হ মালিক বিন আমির (রহঃ)-এর সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছিলাম।

 

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭৭ | 4177 | ٤۱۷۷

পরিচ্ছদঃ ২২৯৫. তোমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হবে বিশেষত মধ্যবর্তী নামাযের।

(সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৩৮)
৪১৭৭। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আবদুর রহমান … আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন কাফিরগণ আমাদের মধ্যবর্তী সালাত (নামায/নামাজ) থেকে বিরত রাখে এমনকি এ অবস্থায় সূর্য অস্তে চলে যায়।

আল্লাহ তাদের কবর ও তাদের ঘরকে অথবা পেটকে আগুন দ্বারা পূর্ণ করুক। এখানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর না পেট বলেছেন তাতে ইয়াহইয়া রাবীর সন্দেহ রয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭৮ | 4178 | ٤۱۷۸

পরিচ্ছদঃ ২২৯৬. আল্লাহর বাণীঃ এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৩৮) قانتين অর্থ مطيعين অনুগত, বিনীত
৪১৭৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … যায়িদ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাত (নামায/নামাজ) এর মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতাম আর আমাদের কেউ তার ভাইয়ের প্রসঙ্গে কথা বলতেন।

তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ তখন আমাদেরকে চুপ থাকার ও সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে কথা না বলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৭৯ | 4179 | ٤۱۷۹

পরিচ্ছদঃ ২২৯৭. আল্লাহর বাণীঃ তবে যদি তোমরা আশঙ্কা কর তবে পদচারী অথবা আরোহী অবস্থায়; যখন তোমরা নিরাপদ বোধ কর তখন আল্লাহকে স্মরণ করবে, যেভাবে তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যা তোমরা জানতে না।

ইবন যুবায়র বলেন, كرسيه আল্লাহর কুরসীর অর্থ হলঃ علمه তার জ্ঞান। আর بسطة অর্থ হল অতিরিক্ত ও বেশী। أفرغ অর্থ নাযিল কর। ولا يئوده অর্থ ভারী ও বোঝা বোধ হয় না তার। যেমন آدني অর্থ أثقلني শক্ত ও ভারী করেছে আমাকে। الآد والأيد শব্দের অর্থ হলঃ القوة শক্ত ও শক্তি। فبهت শব্দের অর্থ হলঃ তার দলীল-প্রমান শেষ হয়ে গেছে।

৪১৭৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … নাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-কে যখন সালাতুল খাওফ (যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুভয়ের মধে সালাত (নামায/নামাজ) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হত তখন তিনি বলতেন, ইমাম সাহেব সামনে যাবেন এবং একদল লোকও জামাতে শামিল হবে।

তিনি তাদের সঙ্গে এক রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবেন এবং তাদের আর একদল জামাতে শামিল না হয়ে তাদের ও শত্রুর মাঝখানে থেকে যারা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেনি তাদের পাহারা দিবে।

ইমামের সাথে যারা এক রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে তারা পেছনে গিয়ে যারা এখনও নামায় আদায় করেনি তাদের স্থানে দাঁড়াবে কিন্তু সালাম ফিরাবে না।

যারা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেনি তারা আগে বাড়বে এবং ইমামের সাথে এক রাকাআত আদায় করবে। তারপর ইমাম সালাত (নামায/নামাজ) হতে অবসর গ্রহণ করবে। কেননা তিনি দু’রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন।

এরপর উভয় দল দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বাকি এক রাকাআত ইমামের সালাত (নামায/নামাজ)-এর শেষে আদায় করে নিবে। তাহলে প্রত্যেক জনেরই দু’রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় হয়ে যাবে।

আর যদি ভয়-ভীতি ভীষণতর হয় নিজে নিজে দাঁড়িয়ে অথবা যানবাহনে আরোহিত অবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করে অসুবিধা হলে যেদিকে সম্ভব মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।

ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ইমাম নাফি‘ (রহঃ) বলেন, আমি অবশ্য মনে করি ইবনু উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেই এ হাদীস বর্ণণা করেছেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮০ | 4180 | ٤۱۸۰

পরিচ্ছদঃ ২২৯৮. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের সপতীক অবস্থায় যাদের মৃত্যু আসন্ন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের গৃহ হতে বহিস্কার না করে তাদের ভরন পোষণের ওসীয়ত করে। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তারা যা করে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় (২ঃ ২৪০)

৪১৮০। আবদুল্লাহ ইবনু আবূল আসওয়াদ (রহঃ) … ইবনু আবূ মূলায়কা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি উসমান (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সূরা বাকারার এ আয়াতটি ‏وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏غَيْرَ إِخْرَاجٍ কে তো অন্য একটি আয়াত রহিত করে দিয়েছে।

তারপরও আপনি এভাবে লিখছেন কেন? জবাবে উসমান (রাঃ) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র। আমরা তা যথাস্থানে রেখে দিয়েছি। আপন স্থান থেকে কোন কিছুই আমরা পরিবর্তন করিনি। হুমাইদ (রহঃ) বললেন, ‘‘অথবা প্রায় এরকমই উত্তর দিয়ে দিলেন।’’

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮১ | 4181 | ٤۱۸۱

পরিচ্ছদঃ ২২৯৯. আল্লাহর বাণীঃ আর যখন ইবরাহীম (আঃ) বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা! কীভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর তা আমাকে দেখাও । (বাক্বারা ২ঃ ২৬০)
৪১৮১। আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) যখন ‏رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى প্রভু! তুমি আমাকে দেখাও কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত কর? তখন তাঁর তুলনায় আমার সন্দেহ পোষণের ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য ছিলাম। فصرهن শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘সেগুলোকে টুকরো টুকরো করুন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮২ | 4182 | ٤۱۸۲

পরিচ্ছদঃ ২৩০০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের কেউ কি চায় যে, তার একটি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান থাকবে, যার পাদদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হবে এবং যাতে সর্বপ্রকার ফলমূল বিরাজ করে। যখন সে ব্যক্তি বার্ধক্যে উপনীত হয় এবং তার সন্তান-সন্তুতি দুর্বল, তারপর উক্ত বাগানের উপর এক অগ্নিক্ষরা ঘূর্ণিঝড় আপতিত হয় এবং তা জলে পুড়ে যায়।

এভাবে আল্লাহ তা’আলা তার নিদর্শন তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার। (২ঃ ২৬৬)

৪১৮২। ইবরাহীম … উবায়দ ইবনু ইমায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, ‏أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌএ আয়াতটি যে উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে, সে ব্যাপারে আপনাদের মতামত কি? তখন তারা বললেন, আল্লাহই জানেন।

উমর (রাঃ) এতে রেগে গিয়ে বললেন, আমরা জানি অথবা জানিনা এদুটোর একটি বল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ব্যাপারে আমার অন্তরে কিছুটা ধারণা আছে।

উমর (রাঃ) বলেন, বৎস! বলে ফেল এবং নিজেকে তুচ্ছ ভেবো না। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা কর্মে দৃষ্টান্ত হিসাবে পেশ করা হয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন, কোন কর্মের?

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, একটি কর্মের। উমর (রাঃ) বললেন, এটি উদাহরণ হচ্ছে সেই ধনবান ব্যাক্তির, যে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকে, এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রতি শয়তানকে প্রেরণ করেন। অনন্তর সে পাপ কার্যে লিপ্ত হয় এবং তার সকল সৎকর্ম নষ্ট করে দেয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮৩ | 4183 | ٤۱۸۳

পরিচ্ছদঃ ২৩০১. আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের নিকট নাছোড় হয়ে যাঞ্চা করে না। ألحف علي وألح علي এবং أحفاني بالمسألة সবই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। فيحفكم অর্থ জোর প্রচেষ্টা চালায়।

৪১৮৩। ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) … আতা ইবনু ইয়াসার এবং আবূ আমরা আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে বলেন যে, আমরা আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি খেজুর কি দু’টি খেজুর আর এক গ্রাস খাদ্য কি দু’ গ্রাস খাদ্য যাকে দ্বারে দ্বারে ঘোরাতে থাকে সে প্রকৃত মিসকীন নয়।

মিসকীন সে ব্যাক্তই, যে ভিক্ষা করা থেকে বেঁচে থাকে। তোমরা ইচ্ছা করলে আল্লাহর বাণী পাঠ করতে পার ‏لاَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا‏

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮৪ | 4184 | ٤۱۸٤

পরিচ্ছদঃ ২৩০২. আল্লাহর বাণীঃ অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ এবং সুদকে অবৈধ করেছেন- (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৭৩) المس অর্থ পাগলামী।
৪১৮৪। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুদ সম্পর্কিত সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিকট তা পাঠ করে শোনালেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮৫ | 4185 | ٤۱۸۵

পরিচ্ছদঃ ২৩০৩. আল্লাহর বাণী: আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৭৬) ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, বিদূরিত করেন।
৪১৮৫। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হলেন এবং মসজিদে গিয়ে লোকদের নিকট পাঠ করে শোনালেন। এরপর মদের ব্যবসা নিসিদ্ধ ঘোষণা করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮৬ | 4186 | ٤۱۸٦

পরিচ্ছদঃ ২৩০৪. আল্লাহর বাণীঃ যদি তোমরা না ছাড় তবে জেনে রাখ যে, এটা আল্লাহ ও তার রাসুলের সাথে যুদ্ধ। (২ঃ ২৭৯) [ইমাম বুঝারী (রহঃ) বলেন] فَأْذَنُوا অর্থ জেনে রাখ
৪১৮৬। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে তা পাঠ করে আমাদের শোনান এবং মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮৭ | 4187 | ٤۱۸۷

পরিচ্ছদঃ ২৩০৫. আল্লাহর বাণীঃ যদি খাতক অভবগ্রস্থ হয়, তবে সচ্ছলতা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেয়া বিধেয়। আর যদি তোমরা ছেড়ে দাও তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে (২ঃ ২৮০)

৪১৮৭। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা বাকারার শেষ দিকের আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আমাদের সম্মুখে তা পাঠ করলেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮৮ | 4188 | ٤۱۸۸

পরিচ্ছদঃ ২৩০৬. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা সেদিনকে ভয় কর, যেদিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৮১)
৪১৮৮। কাবীসা ইবনু উকবা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতারিত শেষ আয়াতটি হচ্ছে সুদ সম্পর্কিত।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৮৯ | 4189 | ٤۱۸۹

পরিচ্ছদঃ ২৩০৭. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মনে যা আছে তা তোমরা প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ আল্লাহ তোমাদের নিকট হতে তার হিসাব নেবেন। এরপর যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন।

আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান (২ঃ ২৮৪)
৪১৮৯। মুহাম্মদ (রহঃ) … মারওয়ান আল আসফার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন একজন সাহাবীদরে থেকে বর্ণনা করেন, আর তিনি হচ্ছেন ইবন উমর (রাঃ) যে وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ আয়াতটি রহিত হয়ে গেছে।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৯০ | 4190 | ٤۱۹۰

পরিচ্ছদঃ ২৩০৮. আল্লাহর বাণীঃ রাসুল তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতারিত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছেন এবং মু’মিনগনও (২ঃ ২৮৫) ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, غفرانك অর্থ مغفرتك আর مغفرتك অর্থ فاغفر لنا আমাদের মার্জনা করুন (২ঃ ২৮৫)
৪১৯০। ইসহাক (রহঃ) … মারওয়ানুল আসফার (রাঃ) একজন সাহাবী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন আর তিনি ধারণা করেন যে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ) হবেন। إِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ আয়াতটি রহিত হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

 

মন্তব্য করুন