তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ

তাফসীর অধ্যায় - অবশিষ্ট অংশ - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

তাফসীর অধ্যায় – অবশিষ্ট অংশ – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

বুখারি হাদিস নং ৪৩০১-৪৪০০

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩১ | 4331 | ٤۳۳۱

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ সে (ইউসুফ (আঃ) যে স্ত্রী লোকের ঘরে ছিল সে তার থেকে অসৎ কর্ম কামনা করল এবং দরজা গুলো বন্ধ করে দিল ও বলল, এসো।

ইকরিমা বলেন, هيت আইস হুরানের ভাষা, ইবন জুবায়র বলেন, تعاله এসো।
৪৩৩১। আহমাদ ইবনু সাইদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, هَيْتَ لَكَ আমরা সেভাবেই পড়তাম যেভাবে আমাদের শিখানো হয়েছে।

مَثْوَاهُ অর্থ স্থান এবং أَلْفَيَا‏ অর্থ সে পেয়েছে। এ থেকে ‏أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ হয়েছে। এমনিভাবে ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ এর মধ্যে ‏‏ ت কে পেশ যুক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি এভাবে পড়তেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩২ | 4332 | ٤۳۳۲

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ সে (ইউসুফ (আঃ) যে স্ত্রী লোকের ঘরে ছিল সে তার থেকে অসৎ কর্ম কামনা করল এবং দরজা গুলো বন্ধ করে দিল ও বলল, এসো।

ইকরিমা বলেন, هيت আইস হুরানের ভাষা, ইবন জুবায়র বলেন, تعاله এসো।
৪৩৩২।

হুমায়দি (রহঃ) … আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, যখন কুরাইশগন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইসলাম এর দাওয়াত অস্বীকার করল, তখন তিনি আল্লাহর নিকটে আরজ করলেন, ইয়া আল্লাহ! যেমনি ভাবে আপনি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সময় সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন, তেমনি ভাবে ওদের উপর দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন।

তারপর কুরাইশগন এক বছর পর্যন্ত এমন দুর্ভিক্ষের মধ্যে আপতিত হল যে সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল। এমনকি তারা হাড় পর্যন্ত খেতে শুরু করল; যখন কোন ব্যাক্তি আকাশের দিকে নজর করত, তখন আকাশ ও তার মধ্যে শুধু ধোঁয়া দেখত।

আল্লাহ বলেন فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ‏ “সেদিনের অপেক্ষায় থাক যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আশবে”।

আল্লাহ আরও বলেন, ‏إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلاً إِنَّكُمْ عَائِدُونَ “আমি শাস্তি কিছুটা সরিয়ে নিব; নিশ্চয়ই তোমরা (পূর্বাবস্থায়) প্রত্যাবর্তন করবে”। কিয়ামত এর দিন তাদের থেকে আযাব দূর করা হবে কি? এবং دخَان ও بَطْشَةُ এর ব্যাখ্যা আগে বলা হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩৩ | 4333 | ٤۳۳۳

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ فلما جاءه الرسول قال ارجع إلى ربك “যখন দূত ইয়ুসুফ (আ) এর নিকট উপস্থিত হল তখন সে বলল, তুমি তোমার প্রভুর নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, যে সকল নারী হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কি! আমার প্রতিপালক তো তাদের অবস্থা সম্যক অবগত।

বাদশাহ নারীদের বলল, যখন তোমরা ইয়ুসুফ থেকে অসৎ কর্ম কামনা করেছিলে তখন তোমাদের কি অবস্থা হয়েছিল? তারা বলল, অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম্য! আমাদের ও তার মধ্যে কোন দোষ দেখিনি। حاش وحاشى এটা تنزيه এবং استثناء এর জন্য। حصحص অর্থ প্রকাশ হয়ে গেল।

৪৩৩৩। সাইদ ইবনু তালিদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা লুত (আলাইহিস সালাম) এর উপর রহম করুন। তিনি তার সম্প্রদায়ের চরম শত্রুতায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন।

যতদিন পর্যন্ত ইয়ুসুফ (আলাইহিস সালাম) বন্দীখানায় ছিলেন, আমি যদি তদ্রূপ (বন্দীখানায়) থাকতাম, তবে পরিত্রানের জন্য অবশ্যই সাড়া দিতাম।

আমরা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) থেকে সর্বাগ্রে থাকতাম যখন আল্লাহ তাকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস করনা? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩৪ | 4334 | ٤۳۳٤

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ حتى إذا استيأس الرسل “এমনকি যখন রাসুলগন নিরাশ হয়ে গেলেন”।

৪৩৩৪। আবদুল আযিয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়শা (রাঃ) কে আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ‏حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ‏ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে এই আয়াতে শব্দটা أَكُذِبُوا না كُذِّبُوا আয়শা (রাঃ) বললেন,

أَكُذِبُوا আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আম্বিয়ায়ে কিরাম পূর্ণ বিশ্বাস করে নিলেন, এখন তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, তখন الظَّن ব্যাবহারের উদ্দেশ্য কি? আয়শা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ আমার জীবনের কসম! তারা পূর্ণ বিশ্বাস করেই নিয়েছিলেন।

আমি তাঁকে বললাম, ظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا অর্থ কি দাঁড়ায়? আয়শা (রাঃ) বললেন, মা’আযাল্লাহ! রাসুলগন কখনও আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা ধারনা করতে পারেন না।

আমি বললাম, তবে আয়াতের অর্থ কি হবে? তিনি বললেন, তারা রাসুলদের অনুসারী যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছে। এবং রাসুলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে।

তারপর তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে (কাফেরদের) নির্যাতন চলেছে এবং আল্লাহর সাহায্য আসতেও অনেক বিলম্ব হয়েছে, এমনকি যখন রাসুলগন তাদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তাদের প্রতি মিথ্যরোপ কারীদের ঈমান আনা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং রাসুলদের এ ধারনা হল যে এখন তাদের অনুসারীরাও তাদের প্রতি মিথ্যরোপ করতে শুরু করবে, এমতাবস্থায় তাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩৫ | 4335 | ٤۳۳۵

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ حتى إذا استيأس الرسل “এমনকি যখন রাসুলগন নিরাশ হয়ে গেলেন”।
৪৩৩৫। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, আমি আয়শা (রাঃ) কে বললাম, সম্ভবত كُذِبُوا (তাখফিফ সহ)। তিনি বললেন, মা’আযাল্লাহ! ঐরূপ (‏كُذِبُوا)।

তাফসীর অধ্যায় - অবশিষ্ট অংশ - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩৬ | 4336 | ٤۳۳٦

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ الله يعلم ما تحمل كل أنثى প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারন করে এবং জরায়ু তে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ তা জানেন। غيض হ্রাস পেল ।
সুরা রা’দ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ যেমন, কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়। এটি মুশরিকের দৃষ্টান্ত যারা ‘ইবাদাতে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে শরীক করে। যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তি যে দূর থেকে পানি পাওয়ার আশা করে, অথচ পানি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় না।

অন্যেরা বলেন, سَخَّرَ সে অনুগত হল।’’ مُتَجَاوِرَاتٌ পরস্পর নিকটবর্তী হল। الْمَثُلَاتُ (উপমা, দৃষ্টান্ত) مَثُلَةٌ-এর বহুবচন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘ওরা কি ওদের পূর্বে যা ঘটেছে তারই অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? بِمِقْدَارٍ নির্দিষ্ট পরিমাণ। مُعَقِّبَاتٌ ফেরেশতা, যারা একের পর এক সকাল-সন্ধ্যায় বদলি হয়ে থাকে।

যেমন عَقِيْبُ পিছনে (বদলি)। যেমন বলা হয় عَقَّبْتُ فِيْٓ إِثْرِهِ আমি তার পরে (বদলি) এসেছি। الْمِحَالِ শাস্তি كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ সে তৃষ্ণার্তের মত, যে নিজের দুই হাত পানির দিকে বাড়িয়ে দেয়, পানি পাওয়ার জন্য। رَابِيًا (বর্ধনশীল) رَبَايَرْبُوْ থেকে গঠিত। زَبَدٌ ফেনা, সর। الْمَتَاعُ যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, যা উপভোগ করা হয়।

جُفَاءً বলা হয়, গোশতের পাতিল যখন উত্তপ্ত করা হয়, তখন তার ওপরে ফেনা জমে। এরপর ঠান্ডা হয় এবং ফেনার বিলুপ্তি ঘটে। সেরূপ সত্য, বাতিল (মিথ্যা) থেকে আলাদা হয়ে থাকে।’’ الْمِهَادُ বিছানা يَدْرَءُوْنَ তারা প্রতিহত করে। دَرَأْتُهُ ও دَفَعْتُهُ আমি তাকে দূরে হটিয়ে দিলাম।

মালায়িকাহ বলবেন, سَلَامٌعَلَيْكُمْ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। وَإِلَيْهِ مَتَابِ আমি তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করছি। أَفَلَمْيَيْئَسْ এটা কি তাদের কাছে প্রকাশ পায়নি, قَارِعَةٌ আকস্মিক বিপদ فَأَمْلَيْتُ আমি অবকাশ দিয়েছি। مَلِيِّ ও مِلَاوَةٌ হতে পঠিত। সে অর্থে مَلِيًّا ব্যবহৃত। প্রশস্ত ও দীর্ঘ যমীনকে مَلًى مِنَ الْأَرْضِ বলা হয়।

أَشَقُّ (অধিক কঠিন) اِسْمِ تَفْضِيْلَ-مَشَقَّةِ থেকে গঠিত। مُعَقِّبَ পরিবর্তনশীল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ, কিছু জমি কৃষি উপযোগী এবং কিছু জমি কৃষির অনুপযোগী।

আর তাতে একটা থেকে দুই বা ততোধিক খেজুর গাছ উৎপন্ন হয় এবং কতিপয় যমীনে পৃথক পৃথকভাবে উৎপন্ন হয়। সেরূপ অবস্থা আদম (আঃ)-এর সন্তানদের।

কেউ নেক্কার আর কেউ বদকার, অথচ সকলেই আদমের সন্তান। السَّحَابُ الثِّقَالُ পানিতে পূর্ণ মেঘমালা। كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে পানি চায় এবং হাত দিয়ে পানির দিকে ইশারা করে।

তারপর সে সর্বদা তা থেকে বঞ্চিত থাকে। سَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا নানাসমূহ তার পরিমাণ মাফিক প্রবাহিত হয়ে ‘‘বাতনে ওয়াদী’’ কে ভরে দেয়। زَبَدًا رَابِيًا প্রবাহিত ফেনা। লোহা ও অলংকার উত্তপ্ত করা হলে যেমন ময়লা বের হয়ে আসে।

৪৩৩৬। ইব্রাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইল্‌ম গায়েব এর চাবি কাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা। তা হল, আগামী দিন কি হবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা।

মাতৃগর্ভে কি আছে তা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা। বৃষ্টি কখন আসবে তা আল্লাহ ব্যতিত আর কেউ জানেনা। কোন ব্যাক্তি জানেনা তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে তা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩৭ | 4337 | ٤۳۳۷

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, كشجرة طيبة أصلها “সে উৎকৃষ্ট বৃক্ষের ন্যায় যার মূল সুদৃঢ় ও যার শাখা প্রশাখা ঊর্ধ্বাকাশে বিস্তৃত , যা প্রতি মৌসুমে ফল দান করে”।
সুরা ইবরাহীম

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَادٍ আহবানকারী। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَدِيْدٌ পুঁজ ও রক্ত। ইবনু ‘উয়াইনাহ বলেন, اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ আল্লাহর যেসব নিয়ামত তোমাদের উপর আছে এবং যা কিছু ঘটছে (তা স্মরণ কর)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ তোমরা যা কিছু আল্লাহর কাছে চেয়েছিলে যাতে তোমাদের আগ্রহ ছিল।

يَبْغُوْنَهَاعِوَجًا তারা এর অপব্যাখ্যা তালাশ করছে। إِذْ تَأَذَّنَرَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জানিয়েছেন, তোমাদের অবহিত করেছেন। رَدُّوْا أَيْدِيَهُمْ فِيْأَفْوَاهِهِمْ এটা একটা প্রবাদ বাক্য, যার অর্থ, তাদের যে বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়েছিল তা থেকে তারা বিরত রয়েছে।

مَقَامِيْ সে স্থান তাকে যেখানে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন। مِنْوَرَآئِهٰ তার সম্মুখে لَكُمْ تَبَعًا এর একবচন تَابِعٌ যেমন غَائِبٌ -এর বহুবচন غَائِبٍ। اسْتَصْرَخَنِيْ সে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে। يَسْتَصْرِخُهُ এটা الصُّرَاخِ থেকে গঠিত। وَلَاخِلَالَ আর কোন বন্ধুত্ব নয়। এটা خَالَلْتُهُخِلَالًا এর মাসদার আর خُلَّةٍ-خِلَالٍ এর বহুবচনও হতে পারে। اجْتُثَّتْ মূলোচ্ছেদ করা হয়েছে।

তাফসীর অধ্যায় - অবশিষ্ট অংশ - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

৪৩৩৭। উবায়দ ইবনু ইসমাইল (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম।

তিনি বললেন, বলতো সেটা কোন বৃক্ষ, যা কোন মুসলিম ব্যাক্তির মতো যার পাতা ঝরেনা, এরুপ নয়, এরুপ নয় এবং এরূপও নয় যা সর্বদা খাদ্য প্রদান করে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমার মনে হল এটা খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি দেখলাম আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) কোন কথা বলছেন না।

তাই আমি এ ব্যাপারে কিছু বলা পছন্দ করিনি। অবশেষে যখন কেউ কিছু বললেন না তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটা খেজুর গাছ।

পরে যখন আমরা উঠে গেলাম, তখন আমি ওমর (রাঃ) কে বললাম, হে আব্বা! আল্লাহর কসম! আমার মনেও হয়েছিল খেজুর বৃক্ষ। উমর (রাঃ) বললেন, একথা বলতে তোমার কিসে বাধা দিল?

বললাম, আমি আপনাদের বলতে দেখিনি, তাই আমি কিছু বলতে এবং আমার মত ব্যক্ত করতে পছন্দ করিনি। উমর (রাঃ) বললেন, অবশ্য যদি তুমি বলতে তবে তা আমার নিকট এত এত থেকে বেশি প্রিয় হত।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩৮ | 4338 | ٤۳۳۸

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, يثبت الله الذين آمنوا بالقول الثابت “যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী , তাদের আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”।

৪৩৩৮। আবূ ওয়ালিদ (রহঃ) … বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবরে মুসলমান ব্যাক্তিকে যখন প্রশ্ন করা হবে তখন সে সাক্ষ্য দিবে, “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ” আল্লাহর বাণীতে এর প্রতই ইংগিত করা হয়েছে। বানীটি হল এইঃ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ‏

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩৯ | 4339 | ٤۳۳۹

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ألم تر إلى الذين بدلوا نعمة الله كفرا “আপনি কি তাদের লক্ষ্য করেন না যারা আল্লাহর অনুগ্রহের বদলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ألم تر আপনি কি জানেন না ألم تعلم এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন ألم تر كيف অথবা ألم تر إلى الذين خرجوا আয়াতে এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। البوار ধ্বংস ।

এটা بار يبور بورا থেকে গঠিত । قوما بورا অর্থ ধ্বংসশীল সম্প্রদায় ।
৪৩৩৯। আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন, أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَةَ اللَّهِ كُفْرًا‏ এ আয়াত দ্বারা মক্কার কাফেরদেরকে বোঝানো হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪০ | 4340 | ٤۳٤۰

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বানী, إلا من استرق السمع فأتبعه شهاب مبين “আর কেউ চুপিসারে সংবাদ শুনতে চাইলে তার পশ্চাৎ ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা”।
সুরা হিজ্‌র

মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ সঠিক পথ যা আল্লাহ্ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এবং তাঁর দিকে রয়েছে এ রাস্তা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَعَمْرُكَ তোমার জীবনের কসম।

قَوْمٌ مُنْكَرُوْنَ এমন সম্প্রদায়, যাদের লূত (আঃ) চিনেননি। অন্যেরা বলেন, كِتَابٌ مَعْلُوْمٌ নির্দিষ্ট সময়। لَوْ مَا تَأْتِيْنَا কেন আমার কাছে আসে না। شِيَعٌ বহু সম্প্রদায়। বন্ধুবর্গকেও شِيَعٌ বলা হয়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُهْرَعُوْنَ তারা দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে। لِلْمُتَوَسِّمِيْنَ প্রত্যক্ষকারীদেরকে জন্য سُكِّرَتْ ঢেকে দেয়া হয়েছে।

চন্দ্র-সূর্যের মনযিল। بُرُوْجًا অর্থাৎ (ভার-গর্ভ মেঘমালা), এটার একবচন مُلْقَحَةً حَمَإٍ جَمَاعَةُ এর বহুবচন পচা কাদামাটি। وَالْمَسْنُوْنُ ঢেলে দেয়া হয়েছে। تَوْجَلْ ভীত হও। دَابِرَ অর্থ-শেষাংশ। الْإِمَامُ যার তুমি অনুসরণ করেছ, এবং যার দ্বারা সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছ। الصَّيْحَةُ ধ্বংস।

৪৩৪০। আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ তা’আলা আকাশের কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ফেরেশতারা তার কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সাথে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জীরের শব্দের মত।

আলি (রাঃ) বলেন, صَفْوَانٍ এর মধ্যে فا সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, فا ফাতাহ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ তা’আলা তার বাণী ফেরেশতাদের পৌঁছান। যখন ফেরেশতাদের অন্তর থেকে ভয় দূরীভূত হয় তখন তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কি বলেছেন? তখন তারা বলে, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন এবং তিনি সর্বোচ্চ, মহান।

চুরি করে কান লাগিয়ে (শয়তানরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শয়তানগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফিয়ান ডান হাতের আঙ্গুল এর উপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যপারটা প্রকাশ করলেন। তারপর কখনো আগুনের ফুলকি শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়।

আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শয়তান পর্যন্ত পোঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

কখনও সুফিয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পোঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেওয়া হয় এবং সে তার সাথে শত মিথ্যা মিলিয়ে প্রচার করে।

তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে যে, দেখ এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল, আমরা তা সঠিক পেয়েছি। বস্তুত আসমান থেকে শোনা কথার কারনেই তা সত্যে পরিনত হয়েছে।

তাফসীর অধ্যায় - অবশিষ্ট অংশ - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪১ | 4341 | ٤۳٤۱

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বানী, إلا من استرق السمع فأتبعه شهاب مبين “আর কেউ চুপিসারে সংবাদ শুনতে চাইলে তার পশ্চাৎ ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা”।
৪৩৪১। আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যখন আল্লাহ তা’আলা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন এ বর্ণনায় – كَاهِن (জ্যোতির্বিদ কথাটি) অতিরিক্ত।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা’আলা কোন ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এ বর্ণনায় عَلَى فَمِ السَّاحِرِ (জাদুকরের মুখের উপর) উল্লেখ করেছেন। আলি ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, আমি সুফিয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আমর থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইকরামা থেকে শুনেছি এবং (ইকরামা) বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে শুনেছি।

সুফিয়ান বলেন, হ্যাঁ। আলি বলেন, আমি সুফিয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম, এক ব্যাক্তি আপনার থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, আমর ইকরামা থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فُزِّعَ পাঠ করেছেন। সুফিয়ান বললেন, আমি আমর কে এভাবে পড়তে শুনেছি। তবে আমি জানিনা, তিনি এভাবেই শুনেছেন কিনা তবে এ-ই আমাদের পাঠ।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪২ | 4342 | ٤۳٤۲

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, ولقد كذب أصحاب الحجر المرسلين নিশ্চয়ই হিজর বাসীগন রাসুলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল”।
৪৩৪২।

ইব্রাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরবাসীগন* সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থায় ছাড়া এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না।

যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবেনা। আশংকা আছে, তাদের উপর যা আপতিত হয়েছিল তা তোমাদের উপরও আপতিত হয়ে যায়।

* হিজর একটি উপত্যকার নাম। সেখানে সামুদ সম্প্রদায় বাস করত।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৩ | 4343 | ٤۳٤۳

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ولقد آتيناك سبعا من المثاني والقرآن العظيم “আমি তো তোমাকে দিয়েছি সাত আয়াত যা পুনঃপুন আবৃত্ত হয় এবং দিয়েছি মহা কুরআন।
৪৩৪৩। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ সাইদ ইবনু মুয়াল্লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গেলেন, তখন আমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম।

তিনি আমাকে ডাক দিলেন, তখন আমি সালাত (নামায/নামাজ) শেষ না করে আসিনি। এরপর আমি আসলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল? আমি বললাম, আমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম।

তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা কি একথা বলেননি, “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ এবং রাসুলের ডাকে সাড়া দাও”? তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দিবনা?

তারপর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হতে লাগলেন , আমি তাঁকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, “আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন”। এটি হল [১] পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন [২] যা আমাকে দান করা হয়েছে।

[১] সাত আয়াতের অর্থ – সূরা ফাতিহার সাত আয়াত, যে আয়াতগুলো প্রত্যহ সালাত (নামায/নামাজ) আমরা বারবার পাঠ করে থাকি।

[২] সুরা ফাতিহাকে মহা কুরআন বলা হয়েছে। কারন কুরআনের সকল বিষয়বস্তুর মূলকথা এর মধ্যে রয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৪ | 4344 | ٤۳٤٤

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ولقد آتيناك سبعا من المثاني والقرآن العظيم “আমি তো তোমাকে দিয়েছি সাত আয়াত যা পুনঃপুন আবৃত্ত হয় এবং দিয়েছি মহা কুরআন।
৪৩৪৪। আদম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উম্মুল কুরআন* (সূরা ফাতিহা) হচ্ছে পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন।

* উম্মুল কুরআন বলা হয় সুরা ফাতিহাকে। কুরআন শরীফের সকল বিষয়বস্তু এর মধ্যে সংক্ষেপে রয়েছে বলে উম্মুল কুরআন অর্থাৎ কুরআনের মা বলা হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৫ | 4345 | ٤۳٤۵

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা”আলার বাণী, الذين جعلوا القرآن عضين যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে। المقتسمين যারা শপথ করেছিল এবং এ অর্থে لا أقسم অর্থাৎ أقسم আমি শপথ করছি এবং لأقسم ও পড়া হয় قاسمهما (ইবলিস) শপথ করেছিল দুজনার কাছে। তারা দুজন (আদম য় হাওয়া ) তার জন্য শপথ করেনি।

মুজাহিদ (র) বলেন, تقاسموا তারা শপথ করেছিল।
৪৩৪৫। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, “যারা কুরআন কে বিভক্ত করে দিয়েছে” এরা হল আহলে কিতাব (ইহুদী )। তারা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে দিয়েছে। এরা কোন অংশের উপর ঈমান এনেছে এবং কোন অংশকে অস্বীকার করেছে।

তাফসীর অধ্যায় - অবশিষ্ট অংশ - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৬ | 4346 | ٤۳٤٦

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা”আলার বাণী, الذين جعلوا القرآن عضين যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে। المقتسمين যারা শপথ করেছিল এবং এ অর্থে لا أقسم অর্থাৎ أقسم আমি শপথ করছি এবং لأقسم ও পড়া হয় قاسمهما (ইবলিস) শপথ করেছিল দুজনার কাছে। তারা দুজন (আদম য় হাওয়া ) তার জন্য শপথ করেনি।

মুজাহিদ (র) বলেন, تقاسموا তারা শপথ করেছিল।
৪৩৪৬। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) ‏كَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى الْمُقْتَسِمِينَ এর ব্যখ্যায় বলেন, তারা কিছু অংশের উপর ঈমান আনে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে। এরা হল ইহুদী ও নাসারা।

باب قوله وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتّٰى يَأْتِيَكَ الْيَقِيْنُ قَالَ سَالِمٌ {الْيَقِيْنُ} الْمَوْتُ

অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتّٰى يَأْتِيَكَ الْيَقِيْنُ ইয়াকীন তোমার কাছে উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার রবের ইবাদত কর।

সালিম বলেন, يَقِيْنُ এখানে মৃত্যু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৭ | 4347 | ٤۳٤۷

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, ومنكم من يرد إلى أرذل العمر “এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে উপনীত করা হবে নিকৃষ্ট বয়সে”।
সুরা নাহল

رُوْحُ الْقُدُسِ অর্থাৎ জিবরীল (আঃ)। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْأَمِيْنُ অর্থাৎ রূহুল আমীন (জিবরীল) ওয়াহী নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। فِيْ ضَيْقٍ সংকটে কিংবা সংকুচিত হৃদয়।

বলা হয়, أَمْرٌ ضَيْقٌ وَضَيِّقٌ (يا মুশাদ্দাদ অথবা সাকিন) যেমন- هَيْنٌ-و-هَيِّنٌ-وَ-لَيْنٌ-لَيِّنٌ-وَ-مَيْتٌ-مَيِّتٌ এবং ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, فِيْ تَقَلُّبِهِمْ তাদের সর্বত্র গমনাগমনে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَمِيْدُ আন্দোলিত হয়। مُفْرَطُوْنَ বিস্মৃত অবস্থায় রাখা হবে।

অন্যের মতে, فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ এ বাক্যটি আগ-পিছু রয়েছে। কেননা কুরআন পাঠের আগে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। অর্থাৎ আল্লাহ্কে অাঁকড়িয়ে ধরা شَاكِلَتِهِ নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী। قَصْدُالسَّبِيْلِ (আল্লাহর যিম্মায়) সরল পথ প্রদর্শন الدِّفْءُ যা দ্বারা তুমি শীত নিবারণ কর। تُرِيْحُوْنَ বিকেল বেলা (পশুগুলিকে চারণ ভূমি থেকে গৃহে) নিয়ে আস।

تَسْرَحُوْنَ সকাল বেলায় নিয়ে যাও। بِشِقِّ কষ্টের সঙ্গে। عَلٰى تَخَوُّفٍ কম করার মাধ্যমে الْأَنْعَامِلَعِبْرَةً (আন‘আমের মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে) أَنْعَامِ শব্দটি পুং বাচক ও স্ত্রীবাচক দুইই ব্যবহার হয়।

এরূপ أَنْعَام- শব্দটি نَعَامِ এর বহুবচন। سَرَابِيْلَ জামাগুলো। تَقِيْكُمْ الْحَرَّ (তাপ থেকে তোমাদের রক্ষা করে) এবং سَرَابِيْلَ تَقِيْكُمْ بَأْسَكُمْ এ سَرَابِيْلَ মানে বর্ম (যা তোমাদের যুদ্ধ-আঘাত থেকে রক্ষা করে) دَخَلًا بَيْنَكُمْ যে কোন কাজ অযথার্থ হয় তাকে ‘দাখাল’ বলে।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, حَفَدَةً পৌত্র অর্থাৎ এরাও নিজ সন্তান বলে গণ্য। السَّكَرُ মাদক, যা ফল থেকে তৈরি করা হয়, তা হারাম করা হয়েছে। الرِّزْقُالْحَسَنُ (উত্তম খাদ্য) যা আল্লাহ্ হালাল করেছেন।

ইবনু ‘উয়াইনাহ সদাকাহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, أَنْكَاثًا (টুকরো টুকরো করা) মক্কা্য় এক নির্বোধ মহিলা যে মজবুত করে সূতা পাকানোর পর তা টুকরো টুকরো করে ফেলত। ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) বলেন, الْأُمَّةُ কল্যাণের শিক্ষাদানকারী। الْقَانِتُ অনুগত।

৪৩৪৭। মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করতেন, (হে আল্লাহ!) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, অলসতা থেকে, নিকৃষ্ট বয়স থেকে* কবরের আযাব থেকে, দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।

[৩] বার্ধক্যজনিত জরা।

সালাতের শেষভাগে তিনি এই দুয়া করতেন [সালাম ফেরানোর আগে]

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৮ | 4348 | ٤۳٤۸

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৪৩৪৮। আদম (রহঃ) … ইবনু মাসুদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেছেন, সূরা বনী ইসরাইল, কাহফ এবং মরিয়ম প্রথমে অবতীর্ণ অতি উত্তম সূরা।

এগুলো আমার পুরানো রক্ষিত সম্পদ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, فسينغضون তারা তাদের মাথা নাড়াবে। অন্য থেকে বর্ণিত, نغضت سنك তোমার দাঁত নড়ে গেছে। وَقَضَيْنَآ إِلٰى بَنِيْٓ إِسْرَائِيْلَ আমি বানী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তারা শীঘ্রই বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। وَقَضٰى رَبُّكَ বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়।

যেমন الْقَضَا তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন। ‘ফয়সালা’ অর্থে, যেমন বলা হয়েছে- إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِيْ بَيْنَهُمْ নিশ্চয় তোমার রব তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন’, এবং ‘সৃষ্টি করা’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন- فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوٰتٍ সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান। نَفِيْرًا দল। যারা তার সঙ্গে চলে।

وَلِيُتَبِّرُوْا তাদের প্রাধান্য সম্পূর্ণ খতম করার জন্য। حَصِيْرًا বন্দীখানা। فَحَقَّ অনিবার্য হয়েছে। مَيْسُوْرًا নম্র। خِطْئًا পাপ। এটা خَطِئْتُ থেকে اسْمٌ এবং وَالْخَطَأُ (জবর সহকারে) তার মাসদার গুনাহের অর্থে। خَطِئْتُ আমি পাপ করেছি। لَنْتَخْرِقَ কখনও বিদীর্ণ করতে পারবে না। وَإِذْ هُمْ نَجْوٰى এটি نَاجَيْتُ থেকে مَصْدَرٌ এর দ্বারা তাদের (জালিমদের) অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থ পরস্পর কানাঘুষা করছে। رُفَاتًا চূর্ণ-বিচূর্ণ। وَاسْتَفْزِزْ উত্তেজিত কর। بِخَيْلِكَ তোমার অশ্বারোহী দ্বারা وَالرِّجَالُ الرَّجَّالَةُ (পদাতিক বাহিনী) এর একবচন رَاجِلٌ যেমন صَاحِبٌ এর বহুবচন صَحْبٍ এবং تَاجِرٍ এর বহুবচন حَاصِبًا،تَجْرٌ প্রবাহিত প্রচন্ড বাতাস এবং حَاصِبُ যা ঝঞঝা-বায়ু প্রবাহিত করে।

এর থেকেই حَصَبُجَهَنَّمَ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অর্থাৎ তারা হচ্ছে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত বস্তু। حَصَبَ فِيالْأَرْضِ যমীনে চলে গেছে। الْحَصْبَاءِالْحَصْبُ থেকে গঠিত। অর্থ পাথরগুলো। تَارَةً একবার। তার বহুবচন لَأَحْتَنِكَنَّ-تَارَاتُ- وَتِيَرْةَ طَاَئِرَهُ তাদের সমূলে উৎপাটিত করব। বলা হয় احْتَنَكَ فُلَانٌ مَا عِنْدَ فُلَانٍ مِنْ عِلْمٍ অর্থাৎ অন্যের যে ইল্ম ছিল তা সে সবটুকু হাসিল করে নিয়েছে। طَائِرَهُ তার ভাগ্য।

ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, কুরআন মাজীদে যত জায়গায় سُلْطَانٍ শব্দ রয়েছে, তার অর্থ প্রমাণ। وَلِيٌّ مِنْ الذُّلِّ অর্থাৎ দুঃখ-দুর্দশার কারণে কারো সঙ্গে তার বন্ধুত্ব করতে পারে না। (১৫;৬)।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৯ | 4349 | ٤۳٤۹

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, أسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام তিনি তার বান্দাকে রজনীতে ভ্রমন করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে।
৪৩৪৯। আবদান … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বায়তুল মুকাদ্দাস সফর করানো হয়, সে রাতে তাঁর সামনে দুটি পেয়ালা পেশ করা হয়েছিল।

তার একটিতে ছিল শরাব, আরেকটিতে ছিল দুধ। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন এবং দুধ গ্রহন করলেন। তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বললেন, সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি আপনাকে ফিতরাতের পথ দেখিয়েছেন। যদি আপনি শরাব গ্রহন করতেন, তাহলে আপনার উম্মত অবাধ্য হয়ে যেত।

তাফসীর অধ্যায় - অবশিষ্ট অংশ - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫০ | 4350 | ٤۳۵۰

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, أسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام তিনি তার বান্দাকে রজনীতে ভ্রমন করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে।
৪৩৫০। আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন কুরাইশরা মিরাজের ঘটনায় আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগলো, তখন আমি হিজরে* দাঁড়ালাম।

আল্লাহ তা’আলা বায়তুল মুকাদ্দাস কে আমার সামনে উম্মুক্ত করে দিলেন। আমি তা দেখে দেখে তার সকল চিহ্ন তাদের বলে দিতে লাগলাম।

ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম ইবনু শিহাব সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। যখন কুরাইশরা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগল , সেই ঘটনার ব্যাপারে যখন আমাকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফর করানো হয়েছিল।

পরবর্তী অনুরূপ। এমন যা সবকিছু চুরমার করে দেয়। আমাকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফর করানোর ঘটনাটি যখন কুরাইশরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগল।

* হিজর – বায়তুল্লাহ শরিফের মিযাবে রহমতের নিচে যে অংশটি পাথর দিয়ে ঘেরা তাকে হিজর বলা হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫১ | 4351 | ٤۳۵۱

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, وإذا أردنا أن نهلك قرية أمرنا مترفيها “আমি যখন কোন জনপদ ধ্বংস করতে চাই তখন তার সমৃদ্ধশালী ব্যক্তিদেরকে আদেশ করি”।

অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্‌ তা’আলার বাণীঃ وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِيْٓاٰدَمَ এবং আমি মর্যাদা দান করেছি বনী আদমকে। এবং أَكْرَمْنَا উভয় একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। ضِعْفَ الْحَيَاةِ দুনিয়ার জীবনের শাস্তি, মৃত্যুর শাস্তি خِلَافَكَ এবং خَلْفَكَ উভয় একই অর্থে। (অর্থাৎ-তোমার পিছনে) نَأَى দূরীভূত হল। شَاكِلَةِ নিজ প্রকৃতি মুতাবিক।

এটি شَكْلُتُه থেকে উপন্ন। صَرَّفْنَا আমরা অভিমুখী করেছি। قَبِيْلًا চাক্ষুষ এবং সম্মুখে। বলা হয় قَابِلَةُ (ধাত্রী যেহেতু প্রসূতির সামনে থাকে এবং সন্তান ধারণ করে। خَشْيَةَ الإِنْفَاقِ খরচের ভয় أَنْفَقَ الرَّجُلُ লোকটি অভাবী হয়ে গেল।

نَفِقَ الشَّيْءُ জিনিসটি চলে গেল। قَتُوْرًا অতি কৃপণ। ذَقَنٌ أَذْقَانٌ এর বহুবচন, যার অর্থ হল, উভয় চোয়ালের সংযোগস্থল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন مَوْفُوْرًا পূর্ণ। تَبِيْعًا প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ সাহায্যকারী। خَبَتْ নিভিয়ে যায়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَا تُبَذِّرْ অপব্যয় করো না। ابْتِغَاءَ رَحْمَةٍ রুজির আশায়। مَثْبُوْرًا অভিশপ্ত। لَا تَقْفُবলো না। فَجَاسُوْا প্রতিজ্ঞা করেছে। يُزْجِي الْفُلْكَ নৌকা চালনা করছে। لِلْأَذْقَانِ মুখমন্ডল (ভূমিতে লুটিয়ে দেয়)।

৪৩৫১। আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়াতের যুগে কোন গোত্রের লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আমরা বলতাম أَمِرَ بَنُو فُلاَنٍ অমুক গোত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫২ | 4352 | ٤۳۵۲

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, وإذا أردنا أن نهلك قرية أمرنا مترفيها “আমি যখন কোন জনপদ ধ্বংস করতে চাই তখন তার সমৃদ্ধশালী ব্যক্তিদেরকে আদেশ করি”।
৪৩৫২। হুমায়দি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করে বলেন, أَمِرَ (মীম কাসরাহ যুক্ত)।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫৩ | 4353 | ٤۳۵۳

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণী, ذرية من حملنا مع نوح إنه كان عبدا شكورا “যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম, এরা হচ্ছে তাদের বংশধর। তারা ছিল পরম কৃতজ্ঞ বান্দা”।

৪৩৫৩। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে গোশত আনা হল এবং তাকে সামনের রান পরিবেশন করা হল। তিনি এটা পছন্দ করতেন। তিনি তার থেকে কামড় দিয়ে খেলেন।

এরপর বললেন, আমি হব কিয়ামতের দিন মানবকুলের সরদার। তোমাদের কি জানা আছে তা কেন? কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ এমন এক ময়দানে সমবেত হবে, যেখানে একজন আহ্বানকারীর আহবান সকলে শুনতে পাবে।

এবং সকলেই একসঙ্গে দৃষ্টিগোচর হবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট ক্লেশের সম্মুখিন হবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে।

তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কি বিপদের সম্মুখীন হয়েছ তা কি দেখতে পাচ্ছনা? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবেনা যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারি হবেন?

কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদমের কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাকে বলবে, আপনি আবূল বাশার। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে স্বীয় হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তার রুহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন, এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলে তারা আপনাকে সিজদা করেন।

আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কি অবস্থায় পৌঁছেছি?

তখন আদম (আলাইহিস সালাম) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না।

তিনি আমাকে একটি বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি। নফসি, নফসি, নফসি (আমি নিজেই সুপারিশ প্রার্থী ), তোমরা অন্যের কাছে যাও। তোমরা নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও।

তাফসীর অধ্যায় - অবশিষ্ট অংশ - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

তখন সকলে নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে এসে বলবে, হে নূহ (আলাইহিস সালাম)! নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রাসুল।

আর আল্লাহ তা’আলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন।

আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না।

আমার একটি গ্রহণীয় দোয়া ছিল যা আমি আমার কওমের ব্যপারে করে ফেলেছি। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে।

তখন তারা ইব্রাহিম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বলবে, হে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)! আপনি আল্লাহর নাবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহর বন্ধু।

আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমিতো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম।

রাবি আবূ হাইয়ান তার বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে।

তারা মূসা র কাছে এসে বলবে, হে মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি আল্লাহর রাসুল। আল্লাহ আপনাকে রিসালাত এর সম্মান দান করেন এবং আপনার সাথে কথা বলে সমগ্র মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন।

আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমিতো এক ব্যাক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম।

যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে।

তারা ঈসার কাছে এসে বলবে, হে ঈসা (আলাইহিস সালাম)! আপনি আল্লাহর রাসুল এবং কালেমা যা তিনি মরিয়ম (আলাইহিস সালাম) এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন।

আপনি রূহ আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সাথে কথা বলেছেন। আজ আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না।

তিনি নিজের কন গুনাহের কথা বলবেন না। নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে।

তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রাসুল শেষ নাবী। আল্লাহ তা’আলা আপনার আগের, পরের সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি?

তখন আমি আরশের নীচে এসে আমার রবের সামনে সিজদা দিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ তা’আলা তার প্রশংসা এবং গুণগানের এমন সুন্দর পদ্ধতি আমার সামনে খুলে দিবেন যা এর আগে অন্য কারও জন্য খুলেন নি। এরপর বলা হবে, হে মুহাম্মদ! তোমার মাথা উঠাও। তুমি যা চাও তোমাকে দেওয়া হবে।

তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে। এরপর আমি মাথা উঠিয়ে বলব, “হে আমার রব! আমার উম্মত! হে আমার রব! আমার উম্মত! হে আমার রব! আমার উম্মত! তখন বলা হবে, হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পাশের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন।

এ দরজা ছাড়া অন্যদের সাথে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন, যার হাতে আমার প্রান সে সত্তার শপথ! বেহেশতের এক দরজার দুই পাশের মধ্যবর্তী প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামিরের মধ্যবর্তী দূরত্ব, অথবা মক্কা ও বসরার মাঝখানের দূরত্ব।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫৪ | 4354 | ٤۳۵٤

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وآتينا داود زبورا আর আমি দাউদকে যাবুর দান করেছি”।

৪৩৫৪। ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর উপর (যাবুর) পড়া এত সহজ করে দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি তার সওয়ারির উপর জ্বীন বাঁধার জন্য নির্দেশ দিতেন, জ্বীন বাঁধা শেষ হওয়ার আগেই তিনি পড়ে ফেলতেন তার উপর অবতীর্ণ কিতাব।

তাফসীর অধ্যায় - অবশিষ্ট অংশ - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৮ম খণ্ড (ইফা) । পার্ট-১।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫৫ | 4355 | ٤۳۵۵

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ قل ادعوا الذين زعمتم من دونه فلا يملكون كشف الضر عنكم ولا تحويلا “বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর যাদের ইলাহ মনে কর, তাদের আহবান কর; তমদের দুঃখ দৈন্য দূর করার অথবা পরিবর্তন করার শক্তি ওদের নেই”।
৪৩৫৫।

আমর ইবনু আলি (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , ‏إِلَى رَبِّهِمِ الْوَسِيلَةَ তিনি আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু মানুষ কিছু জ্বীনকে ইবাদত করত।

সেই জ্বীনেরা তো ইসলাম গ্রহন করে ফেলল। আর ঐ লোকজন তাদের (বাতিল) ধর্ম আঁকড়িয়ে রইল। আশজায়ী সুফয়ান সূত্রে আমাশ (রহঃ) থেকে ‏قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ‏ আয়াতটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫৬ | 4356 | ٤۳۵٦

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ أولئك الذين يدعون يبتغون إلى ربهم الوسيلة “তারা যাদের আহবান করে, তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে”।

৪৩৫৬। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمِ الْوَسِيلَةَ এ আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু লোক জ্বীনের পূজা করত। পরে জ্বীনগুলো ইসলাম ধর্ম গ্রহন করল। তাদের সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫৭ | 4357 | ٤۳۵۷

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وما جعلنا الرؤيا التي أريناك إلا فتنة للناس (হে রাসুল!) “আমি যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি, তা কেবলমাত্র মানুষের পরীক্ষার জন্য”।

৪৩৫৭। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلاَّ فِتْنَةً لِلنَّاسِ এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, এ আয়াতে رُؤْيَا (স্বপ্নে দেখা নয়, বরং) চোখ দ্বারা প্রত্যক্ষ ভাবে দেখা বোঝানো হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিরাজের রাতে প্রত্যক্ষ ভাবে দেখানো হয়েছিল। আর এখানে الشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ‏ (অভিশপ্ত বৃক্ষ) বলতে যাক্কুম বৃক্ষ কে বোঝানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

 

 

মন্তব্য করুন