তাফসীর অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

তাফসীর অধ্যায়

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

তাফসীর অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

বুখারি হাদিস নং ৪৩০১-৪৩৩০

হাদিস নম্বরঃ ৪৩২৭ | 4327 | ٤۳۲۷

পরিচ্ছদঃ ২৪১৪. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ এবং তাঁর ‘আরশ ছিল পানির ওপরে
৪৩২৭। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তুমি খরচ কর।

আমি তোমাকে দান করব এবং [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহ তা‘আলার হাত পরিপূর্ণ। (তোমার) রাতদিন অবিরাম খরচেও তা কমবে না।

তিনি বলেন, তোমরা দেখ না, যখন থেকে (আল্লাহ) আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে কি পরিমাণ খরচ করেছেন? কিন্তু এত খরচ করার পরও তাঁর হতে সম্পদের কোন কমতি হয়নি। আর আল্লাহ তা‘আলার ‘আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে পাল্লা। তিনি ঝুকান, তিনি উপরে উঠান।

اعْتَرَاكَ افْتَعَلَتَ-এর বাব থেকে। عَرَوْتُه এ অর্থে বলা হয়, তাকে পেয়েছি। তা থেকে يَعْرُوْهُ (তার উপর ঘটেছে) ও اعْتَرَانِيْ (আমার উপর ঘটেছে) ব্যবহার হয়। اٰخِذٌمبِنَاصِيَتِهَا অর্থাৎ তাঁর রাজত্ব এবং عَنِيْدٌ-عَنُوْدٌ-عَانِدٌ সবগুলোর একই অর্থ- স্বেচ্ছাচারী।

ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْ তোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى আমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম।

نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيْلٌ مَجِبْدٌ حَمِيْدٌ -مَجِيْدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيْدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيْلٌ অতি কঠিন বা শক্ত।

سِجِّيْلٌ এবং سِجِّيْنٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لَامُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, ‘‘বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।

والى مدين اخاهم شعيبا মাদইয়ান-এর নিকট অর্থাৎ মাদইয়ানবাসীর নিকট, কেননা মাদইয়ান তো একটি শহর। এর অনুরূপ وَاسْأَلْ الْقَرْيَةَ وَاسْأَلْ الْعِيْرَ অর্থাৎ গ্রামবাসীদের কাছে এবং কাফেলার লোকদের কাছে জিজ্ঞেস কর।

وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا অর্থাৎ তারা তার প্রতি দৃষ্টি দেয়নি। যখন কেউ কারও উদ্দেশ্য পূর্ণ না করে, তখন বলা হয় ظَهَرْتَ بِحَاجَتِيْ এবং وَجَعَلْتَنِيْ ظِهْرِيًّا এখানে ظِهْرِيُّ দ্বারা এ ধরনের জানোয়ার বা পাত্র বোঝায় যা কাজের প্রয়োজনে তুমি তার দ্বারা নিজেকে আড়াল করবে। أَرَاذِلُنَا-আমাদের মধ্যে অধম, إِجْرَامِيْ এটা أَجْرَمْتُ -এর মাসদার।

কেউ বলেন, جَرَمْتُ হতে উদ্গত الْفَلَكَ، والْفُلْكُ একবচন, বহুবচন উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নৌকা এবং নৌকাগুলো। مُجْرَاهَا (নৌকার গতি) এটা أَجْرَيْتُ -এর মাসদার এবং أَرْسَيْتُ-নৌকা আমি থামিয়েছি।

কেউ কেউ পড়েনঃ مَرْسَاَهَا অর্থাৎ তার স্থিতি এবং مَجْرَاهَا অর্থাৎ তার গতি। مُجْرِيْهَا এবং مُرْسِيْهَا অর্থাৎ যার সঙ্গে এরূপ (চালিত, স্থগিত) করা হয়েছে لرَّاسِيَاتُ অর্থাৎ স্থিত।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

হাদিস নম্বরঃ ৪৩২৭ | 4327 | ٤۳۲۷

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ويتم نعمته عليك وعلى آل يعقوب كما أتمها على أبويك من قبل إبراهيم وإسحاق আর আল্লাহ তোমার প্রতি এবং ইয়াকুব পরিবার-পরিজনের প্রতি তার অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন, যেভাবে তিন তা করেছিলেন তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি।
সুরা ইউসুফ

ফুযায়ল (রহ.) হুসায়ন (র.) মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتْكَاءً (এক জাতীয়) লেবু এবং ফুযায়ল (রহ.) বলেন যে, مُتْكًا হাবশী ভাষায় (এক জাতীয়) লেবুকে বলা হয়।

ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.) …… মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, مُتْكًا ঐ সব, যা চাকু দিয়ে কাটা হয়। ক্বাদাতাহ (রহ.) বলেন, لَذُوْعِلْمٍ সে ‘আলিম, যে তার ‘ইল্মের উপর ‘আমাল করে। ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেন, صُوَاعٌ ফারসী মাপ-পাত্র, যার উভয় পাশ মিলানো থাকে; আজমীগণ এটা দিয়ে পানি পান করে।

ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, تُفَنِّدُوْنِ আমাকে মূর্খ মনে কর। অন্য হতে বর্ণিতঃ غَيَابَةٌ যেসব বস্তু তোমা হতে গোপন রয়েছে। وَالْجُبُّ ঐ কূপকে বলে যার মুখ বাঁধা হয়নি।

بِمُؤْمِنٍلَنَا তুমি আমার কথায় বিশ্বাসী। بِمُؤْمِنٍلَنَا অধোগতি শুরু হওয়ার আগের বয়স। বলা হয় بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغُوْا أَشُدَّهُمْ অর্থাৎ সে বা তারা পূর্ণ বয়সে উপনীত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এর একবচন شَدٌّ (কারো কারো মতে) الْمُتَّكَأُ যে জিনিসের উপর পানাহার করার বা কথাবার্তা বলার সময় হেলান দেয়া হয়।

যাঁরা مَتَكًا অর্থ লেবু বলেছেন এতে তা রদ হল। আরবদের ভাষায় ‘উতরুঞ্জ’ শব্দের ব্যবহার নেই। যখন তাদের প্রতি এই অভিযোগ দ্বারা প্রমাণ করা হয় যে, ‘মুত্তাকা’ অর্থ বিছানা, তখন তাঁরা আরো খারাপ অর্থ গ্রহণ করল এবং বলল যে, এখানে مُتْكٌ এর ت সাকিন। এর অর্থ স্ত্রীলোকের লজ্জাস্থানের পার্শ্ব।

এ থেকে ব্যবহার হয় مَتْكَاءِ (যে নারীর সে অংশ কাটা হয়নি) এবং ابْنُ الْمَتْكَاءِ (মাত্কার পুত্র)। সে ঘটনায় লেবু হলেও তা তাকিয়া দেয়ার পরই হবে। شَعَفَهَا তার অন্তরকে আচ্ছন্ন করল। مَشْعُوْفٌ যার অন্তর প্রেমে জ্বালিয়ে দিয়েছে। أَصْبُ আমি আসক্ত হয়ে যাব। أَحْلَامٍ অনর্থক স্বপ্ন যার কোন ব্যাখ্যা নেই।

أَضْغَاثُ ঘাসের মুঠা এবং যা এ জাতীয়। যেমন পূর্বের আয়াতে আছে خُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا এক মুঠো ঘাস লও। একবচনে ضِغْثٌ থেকে গঠিত نَمِيْرُ আমরা খাদ্যদ্রব্য এনে দিব। نَزْدَادُكَيْلَبَعِيْرٍ আমরা আরো এক উট বোঝাই পণ্য আনব।

أَوَىإِلَيْهِ নিজের কাছে রাখল। السِّقَايَةُ পান পাত্র, পরিমাপ-পাত্র। সারাক্ষণ থাকবে حَرَضًامُحْرَضًا খুব দুর্বল হওয়া) يُذِيْبُكَ الْهَمُّ দুশ্চিন্তা-তোমাকে শেষ করে দিবে, تَحَسَّسُوْا তোমরা খোঁজ লও। مُزْجاةٌ স্বল্প, غَاشِيَةٌمِنْ عَذابِ الله عَامَّةٌ مُجَلِّلَةٌ আল্লাহর শাস্তি সকলকে বেষ্টন করে নিয়েছে।

৪৩২৭ আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বনিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সন্মানিত ব্যাক্তি, সন্মানিত ব্যাক্তির পুত্র, সন্মানিত ব্যাক্তির পুত্র, সন্মানিত ব্যাক্তির পুত্র, সন্মানিত ব্যাক্তি হলেন, ইউসুফ (আলাইহিস সালাম), তাঁর পিতা ইসহাক (আলাইহিস সালাম), তাঁর পিতা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম), তাঁর পিতা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

হাদিস নম্বরঃ ৪৩২৮ | 4328 | ٤۳۲۸

পরিচ্ছদঃ ২৪১৫. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ সাক্ষীগণ বলবেঃ এরাই হলো সেসব লোক যারা তাদের প্রতিপালকের বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করেছিল। সাবধান! আল্লাহর লা’নত জালিমদের ওপর (১১ঃ ১৮) أَشْهَادُ-এর একবচন হল, شَاهِدٌ যেমন, أَصْحَابٌ -এর এক বচন صَاحِبٌ
৪৩২৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … সাফওয়ান ইবনু মুহরিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা উমর ইবনু (রাঃ) তাওয়াফ করছিলেন।

হঠাৎ এক ব্যাক্তি তাঁর সম্মুখে এসে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান অথবা বলল, হে ইবনু উমর (রাঃ) আপনি কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা এবং মু’মিনদের মধ্যকার) গোপন আলোচনা সম্পর্কে কিছু শুনেছে?

তিনি বললেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, (কিয়ামতের দিন) মু’মিনকে তাঁর নিকটবর্তী করা হবে। হিশাম বলেন, মু’মিন নিকটবর্তী হবে, এমনকি আল্লাহ তা‘আলা তাকে নিজ পর্দায় আবৃত করে নেবেন এবং তার কাছ থেকে তার গুনাহসমূহের স্বীকারোক্তি নেবেন।

(আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন) অমুক গুনাহ সম্পর্কে তুমি জান কি? বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি জানি, আমি জানি। এভাবে দু’বার বলবে।

তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার গুনাহ গোপন রেখেছি। আজ তোমার সে গুনাহ মাফ করে দিচ্ছি। তারপর তার নেক আমল নামা গুটিয়ে নেয়া হবে।

পক্ষান্তরে অন্যদলকে অথবা (রাবী বলেছেন) কাফিরদের সকলের সামনে ডেকে বলা হবে, এরাই সে লোক যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল এবং শায়বান حَدَّثَنَا قَتَادَةُ এর পরিবর্তে قَتَادَةُعَنْ এবং عَنْ صَفْوَانُ এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا صَفْوَانُ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩২৮ | 4328 | ٤۳۲۸

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ لقد كان في يوسف وإخوته آيات للسائلين “ইউসুফ ও তার ভাইদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।“ (১২:৭)।
৪৩২৮। মুহাম্মদ … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন ব্যাক্তি অধিক সন্মানিত?

তিনি বললেন, তাদের মধ্যে সেই আল্লাহ্’র নিকট বেশি সন্মানিত যে তাদের মধ্যে সবচে বেশি পরহেজগার। লোকেরা বলল, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি।

তিনি বললেন, সর্বাধিক সন্মানিত ব্যাক্তি আল্লাহ্’র নাবী ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)। তিনি তো নাবী’র পুত্র, নাবী’র পুত্র, নাবী’র পুত্র এবং খলিলুল্লাহ্ (আলাইহিস সালাম) এর পুত্র। লোকেরা বলল, আমাদের প্রশ্ন এ ব্যপারে ছিলনা। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা আরব বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছ।

তারা বলল, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা জাহেলিয়াতে তোমাদের মাঝে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হয়। আবূ উসামা (রাঃ) উবায়দুল্লা’র সুত্রে এটাকে সমর্থন ব্যক্ত করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩২৯ | 4329 | ٤۳۲۹

পরিচ্ছদঃ ২৪১৬. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ এবং এরূপই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি। তিনি শাস্তি দান করেন জনপদসমূহকে, যখন তারা জুলুম করে থাকে।

তার শাস্তি মর্মন্তুদ কঠিন (১১ঃ ১০২) الرِّفْدُ الْمَرْفُوْدُ অর্থাৎ সাহায্য, যে সাহায্য করা হয় (বলা হয়) رَفَدْتُهُ আমি তাকে সাহায্য করলাম। تَرْكَنُوْا ঝুঁকে পড়। فَلَوْلَا كَانَ কেন হয়নি। أُتْرِفُوْا তাদের ধ্বংস করে দেয়া হল। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, زَفِيْرٌ وَشَهِيْقٌ বিকট আওয়াজ এবং ক্ষীণ আওয়াজ।
৪৩২৯। সাদাকা ইবনু ফাযল (রহঃ) … আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা জালিমদের অবকাশ দিয়ে থাকেন।

অবশেষে যখন তাকে পাকড়াও করেন, তখন আর ছাড়েন না। (বর্ণনাকারী বলেন) এরপর তিনি [নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ আয়াত পাঠ করেন। “এবং এরূপই তোমার রবের শাস্তি।” তিনি শাস্তি দান করেন জনপদসমূকে যখন তারা জুলুম করে থাকে। তার শাস্তি মর্মন্তুদ, কঠিন। (১১: ১০২)

হাদিস নম্বরঃ ৪৩২৯ | 4329 | ٤۳۲۹

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ “সে (ইয়াকুব (আঃ) বলল, না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে।“ (১২ঃ ১৮)। سولت সুন্দর করে সাজিয়ে শোভনীয় করে দেখান।

৪৩২৯। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … যুহরী (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবাইর, সাইদ ইবনু মূসাইয়্যিব, আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস এবং উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়শা (রাঃ) এর ইফক সম্পর্কে أَهْلُ الإِفْكِ যা বলেছেন তা শুনেছি।

আল্লাহ এটা নির্দোষ প্রমানিত করেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়শা (রাঃ) কে বললেন, যদি তুমি নির্দোষ হয়ে থাক তবে অতি শীঘ্র আল্লাহ তোমার নির্দোষিতা প্রমান করে দিবেন।

আর যদি তোমার দ্বারা এ গুনাহ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তওবা কর। আয়শা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ সময় আমি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর পিতা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) এর উদাহরন ছাড়া বলার মত আর কিছু জবাব দেয়ার মত খুজে পাচ্ছিনা।

(তিনি যা বলেছিলেন) সুতরাং পূর্ণ ধৈর্য ই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ ই আমার সাহায্য স্থল। অবশেষে আল্লাহ আমার (নির্দোষিতা ঘোষণা করে) ‏إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ‏ দশটি আয়াত নাযিল করেছেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩০ | 4330 | ٤۳۳۰

পরিচ্ছদঃ ২৪১৭. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ নামায কায়েম করবে দিবসের দু’প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। নেক কাজ অবশ্যই পাপ মিটিয়ে দেয়।

যারা উপদেশ গ্রহন করে এটি তাদের জন্য এক উপদেশ (১১ঃ ১১৪) زُلَفًا সময়ের পর সময় এবং এসব থেকেই مُزْدَلِفَةُ এর নামকরণ করা হয়েছে। মনযিলের পর মনযিল এবং زُلْفَى মাসদার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া। ازْدَلَفُوْا একত্রিত হয়েছে। أَزْلَفْنَا আমরা একত্রিত হয়েছি।

৪৩৩০ মুসাদ্দাদ (রহঃ) … ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার কোন এক ব্যাক্তি জনৈক মহিলাকে চুমু দিলেন।

তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে এ ঘটনা বললেন, তখন (এ ঘটনার প্রেক্ষিতে) এ আয়াত অবতীর্ণ হয় وَأَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ ‘‘সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে দিবসের দু’প্রান্ত ভাগে ও রাত্রির প্রথমাংশে নেক কার্য অবশ্যই পাপকে মিটিয়ে দেয়।

যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য এ এক উপদেশ। (১১: ১১৪) তখন লোকটি বলল, এ হুকুম কি শুধু আমার জন্য? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারাই এ অনুসারে করবে, তাদের জন্য।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩৩০ | 4330 | ٤۳۳۰

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ “সে (ইয়াকুব (আঃ) বলল, না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে।“ (১২ঃ ১৮)। سولت সুন্দর করে সাজিয়ে শোভনীয় করে দেখান।

৪৩৩০। মূসা (রহঃ) … আয়শা (রাঃ) এর মাতা উম্মে রুমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, (অপবাদ রটনার সময়) আয়শা (রাঃ) আমাদের ঘরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সম্ভবত এ অপবাদের কারনে জ্বর হয়েছে। আয়শা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ।

তিনি উঠে বসলেন এবং বললেন, আমার এবং আপনার উদাহরন ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) এবং তার পুত্র ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর ন্যায়। তার ভাইয়েরা কাহিনী সাজাল।

তখন ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন, পূর্ণ ধৈর্য্যই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ ই আমার সাহায্য স্থল।

বুখারি হাদিস নং ৪৬০১-৪৬১৩

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০১ | 4601 | ٤٦۰۱

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৪৬০১। খালিদ ইবনু ইয়াযীদ কাহিলী (রহঃ) … আবূ উবায়দা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে আল্লাহ তা’আলার বাণী إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, কাউছার একটি নহর যা তোমাদের নাবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রদান করা হয়েছে।

এর দু’টো পাড় রয়েছে। উভয় পাড়ে বিছানো রয়েছে খোখলা মোতি। এর পাত্রের সংখ্যা তারকারাজির অনুরূপ। (অন্য সনদে) যাকারিয়া (রহঃ) … আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০২ | 4602 | ٤٦۰۲

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৪৬০২। ইয়াকূব ইবনু ইব্‌রাহীম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কাউছার সম্পর্কে বলেছেন যে, এ এমন একটি কল্যাণ যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন্।

বর্ণনাকারী আবূ বিশর (রহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) কে বললাম, লোকেরা মনে করে যে, কাউছার হচ্ছে জান্নাতের একটি নহর। এ কথা শুনে সাঈদ (রহঃ) বললেন, জান্নাতের নহরটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেয়া কল্যানের একটি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০৩ | 4603 | ٤٦۰۳

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা কাফিরুন

বলা হয় لَكُمْ دِيْنُكُمْ তোমাদের দ্বীন তোমাদের, অর্থাৎ কুফর। আর وَلِيَ دِيْنِ আমাদের দ্বীন ইসলাম। এখানে دِيْنِيْ বলা হয়নি। পূর্বের আয়াতগুলো نঅক্ষরের উপর যেহেতু শেষ করা হয়েছে, তাই পূর্বের আয়াতগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করার জন্য ياঅক্ষরটিকে মুছে ফেলে এ আয়াতটিকেও ن অক্ষরের ওপর সমাপ্ত করা হয়েছে।

যেমন অন্য স্থানে আল্লাহ্ তা‘আলা يَهْدِيْنِ এবং يَشْفِيْنِ ব্যবহার করেছেন। (মুজাহিদ ব্যতীত) অপরাপর মুফাসসির বলেছেন, لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ -এর মর্মার্থ হচ্ছেঃ তোমরা বর্তমানে যার ‘ইবাদাত কর, আমি তার ‘ইবাদাত করি না এবং অবশিষ্ট জীবনেও আমি তোমাদের এ আহবানে সাড়া দেব না।

وَلَآ أَنْتُمْ عَابِدُوْنَ مَآ أَعْبُدُ এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও- ‘যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি।’ তারা ঐ সমস্ত লোক, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা অন্যত্র ইরশাদ করেছেনঃ ‘‘তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা তাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও অবিশ্বাসই বর্ধিত করবে।’’

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

৪৬০৩। হাসান ইবনু রাবী (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ সূরা নাযিল হবার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন তখনই তিনি সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করেছেনঃ سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي “হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব। সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্ধারিত। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর”।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০৪ | 4604 | ٤٦۰٤

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৪৬০৪। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা নাস্‌র নাযিল হাবার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي (হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব, সমস্ত প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও)। দোয়াটি রুকু-সিজদার মধ্যে বেশী বেশী পাঠ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০৫ | 4605 | ٤٦۰۵

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ ورأيت الناس يدخلون في دين الله أفواجا “এবং তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহ্‌র দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবে” (১১০ঃ ২)
৪৬০৫। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) লোকদেরকে আল্লাহর বাণী إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ এর ব্যাখ্যা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার পর তারা বললেন, এ আয়াতে শহর এবং প্রাসাদসমূহের বিজয়ের কথা বলা হয়েছে।

এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেন, হে ইবনু আব্বাস! তুমি কি বল? তিনি বললেন, এ আয়াতে ওফাত অথবা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৃষ্টান্ত এবং তাঁর শান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০৬ | 4606 | ٤٦۰٦

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا “অতঃপর তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।

তিনি তো তওবা কবুলকারী (১১০ঃ ৩)
تَوَّابٌ মানে تَوَّابٌ عَلَى الْعِبَادِ বান্দাদের তওবা কবূলকারী। التَّوَّابُ مِنَ النَّاسِ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে গুনাহ থেকে তওবা করে।

৪৬০৬। মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ সাহাবীদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করতেন। এ কারণে কারো কারো মনে প্রশ্ন দেখা দিল। একজন বললেন, আপনি তাঁকে আমাদের সাথে কেন শামিল করছেন।

আমাদের তো তাঁর মত সন্তানই রয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন, এর কারণ তো আপনারাও জানেন। সুতরাং একদিন তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং তাঁদের সাথে বসলেন।

ইবনু আব্বাস (রহঃ) বলেন, আমি বুঝতে পারলাম, আজকে তিনি আমাকে ডেকেছেন এজন্য যে, তিনি আমার প্রজ্ঞা তাঁদেরকে দেখবেন। তিনি তাদেরকে বললেন। আল্লাহর বাণীঃ ‏إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে আপনারা কি বলেন, তখন তাঁদের কেউ বললেন, আমরা সাহায্য প্রাপ্ত হলে এবং আমরা বিজয় লাভ করলে।

এ আয়াতে আমাদেরকে আল্লাহর প্রশংসা এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবার কেউ কিছু না বলে চুপ করে থাকলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন, হে ইবনু আব্বাস! তুমিও কি তাই বল? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কি বলতে চাও?

উত্তরে আমি বললাম, “এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ জানিয়েছেন।

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসলে’ এটই হবে তোমার মৃত্যুর আলামত। তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা কর এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি তো তওবা কবুলকারী”। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেন, তুমি যা বলছ, এ আয়াতের ব্যাখ্যা আমিও তা-ই জানি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০৭ | 4607 | ٤٦۰۷

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৪৬০৭। ইউসুফ ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‏وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ “তুমি তোমার কাছে আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করে দাও” আয়াতটি নাযিল হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে সাফা পাহাড়ে গিয়ে উঠলেন এবং (সকাল বেলার বিপদ সাবধান) বলে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন।

আওয়াজ শুনে তারা বলল, এ কে? তারপর সবাই তাঁর কাছে গিয়ে সমবেত হল। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, আশি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী ও পাহাড়ের পেছনে তোমাদের উপর হামলা করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে?

সকলেই বলল, আপনার মিথ্যা বলার ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি।

এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্র করেছ। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন।

তারপর নাযিল হলঃ ‏تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দু’গাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও”। আমাশ (রহঃ) আয়াতটিতে تَبَّ শব্দের পূর্বে قَدْ সংযোগ করে وَقَدْ تَبَّ পড়েছেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০৮ | 4608 | ٤٦۰۸

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ وتب ما أغنى عنه ماله وما كسب এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ ও উপার্জন কোন কাজে আসেনি (১১১ঃ ১-২)
৪৬০৮। মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাত্‌হা প্রান্তরের দিকে চলে গেলেন এবং পাহাড়ে আরোহণ করে বলে উচ্চস্বরে ডাকলেন। কুরাইশরা তাঁর কাছে এসে সমবেত হল।

তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, শত্রু সৈন্যরা সকালে বা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে? তারা সকলেই বলল, হাঁ, আমরা বিশ্বাস করব। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি।

এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তুমি কে এজন্যই আমাদেরকে একত্রিত করেছ? তোমাদের ধ্বংস হোক। তখন আল্লাহ তা’আলা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সূরা লাহাব নাযিল করলেন, ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হস্ত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও।

তার ধন-সম্পদ এবং উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি। অচিরে সে দগ্ধ হবে লেলিহান অগ্নিতে এবং তার স্ত্রীও, যে ইন্ধন বহন করে তার গলদেশে পাকান রজ্জু।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬০৯ | 4609 | ٤٦۰۹

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ سيصلى نارا ذات لهب “অচিরে সে দগ্ধ হবে লেলিহান অগ্নিতে।” (১১১ঃ ৩)
৪৬০৯। উমর ইবনু হাফ্‌স (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ লাহাব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললো, তোমার ধ্বংস হোক, তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্রিত করেছ? তখন ‏تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ‏ সূরাটি নাযিল হল।

অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ “এবং তার স্ত্রীও যে ইন্ধন বহন করবে” (১১১ঃ ৪) মুজাহিদ (রহ.) বলেন, حَمَّالَةَ الْحَطَبِ এমন মহিলা যে পরের নিন্দা করে বেড়ায়। فِيْ جِيْدِهَا حَبْلٌ مِّنْ مَّسَدٍ তার গলদেশে থাকবে পাকানো রশি। বলা হয় مَسَدٍপাকানো মোটা শক্ত দড়ি। (কারো কারো মতে) এর দ্বারা জাহান্নামের ঐ শৃঙ্খলকে বোঝানো হয়েছে, যা তার গলদেশে লাগানো হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬১০ | 4610 | ٤٦۱۰

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা ইখলাস

বলা হয়, أَحَدٌ শব্দটি (যখন তৎপরবর্তী শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া হবে তখন) تنوين পড়া হয় না। أَحَدٌ ও وَاحِدٌ সমার্থবোধক।

৪৬১০। আবূল ইয়ামন (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “বনী আদম আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে; অথচ এরূপ করা তার জন্য সমীচীন হয়নি। বণী আদম আমাকে গালি দিয়েছে; অথচ এমন করা তার জন্য উচিত হয়নি।

আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করার অর্থ হচ্ছে এই যে, সে বলে, আল্লাহ আমাকে যেমনিভাবে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, অনুরূপভাবে তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জীবিত করবেন না।

অথচ তাকে পুনরায় জীবিত করা অপেক্ষা প্রথম সৃষ্টি করা আমার জন্য সহজ ছিল না। আমাকে তার গালি দেয়ার অর্থ হচ্ছে এই যে, সে বলে, আল্লাহ্ তা’আলা সন্তান গ্রহণ করেছেন; অথচ আমি একক, কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আমাকেও জন্ম হয়নি এবং কেউ আমার সমতুল্য নয়”।

হাদিস নম্বরঃ ৪৬১১ | 4611 | ٤٦۱۱

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ الله الصمد “আল্লাহ্‌ কারো মুখপেক্ষী নন” (১১২ঃ ২) আরবীয় লোকেরা তাদের নেতাদেরকে صمد বলে থাকেন।

আবু ওয়াইল (রহঃ) বলেন, এমন নেতাকে বলা হয় যার নেতৃত্ব চুড়ান্ত বা যার উপর নেতৃত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে।
৪৬১১। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেন, আদম সন্তান আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছেন; অথচ এরূপ করা তার জন্য উচিত হয়নি।

সে আমাকে গালি দিয়েছে; অথচ এমন করা তার পক্ষে সমীচীন হয়নি। আমার প্রতি তার মিথ্যা আরোপ করার মানে হচ্ছে এই যে, সে বলে, আমি পুনর্জীবিত করতে সক্ষম নই যেমনিভাবে আমি তাকে প্রথমে সৃষ্টি করেছি।

আমাকে তার গালি দেয়া হচ্ছে এই যে, সে বলে, আল্লাহ্ তা’আলা সন্তান গ্রহণ করেছেন; অথচ আমি কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি এমন এক সত্তা যে, আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আমাকেও জন্ম দেয়নি এবং আমার সমতুম্য কেউ নেই। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলনেঃ كَفِيئًا – كفوا এবং كِفَاءً এবং সম অর্থবোধক শব্দ।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-৮ |

হাদিস নম্বরঃ ৪৬১২ | 4612 | ٤٦۱۲

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা ফালাক

মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْفَلَقُ রাত। غَاسِقٍ সূর্য অস্তমিত হওয়া। আরবীতে فَلَقِ ও فَرَقِ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই বলা হয়, أَبْيَنُ مِنْ فَرَقِ وَفَلَقِ الصُّبْحِ ভোরের আলো প্রকাশিত হওয়ার চেয়েও তা স্পষ্ট। وَقَبَ অন্ধকার সব জায়গায় প্রবেশ করে এবং আচ্ছন্ন করে ফেলে।

৪৬১২। কুতায়রা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … যির ইবনু হুবাইশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উবায় ইবনু কা’বকে مُعَوِّذَتَيْنِ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, এ বিষয়ে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেছিলাম।

তিনি বলেছেন, আমাকে বলা হয়েছে, তাই আমি বলছি। উবায় ইবনু কা’ব (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছেন, আমরাও ঠিক তেমনি বলছি।

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা নাস
ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, الْوَسْوَاسِ এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, শিশু ভূমিষ্ঠ হলে শায়ত্বন এসে তাকে স্পর্শ করে। তারপর সেখানে আল্লাহর নাম নিলে শায়ত্বন পালিয়ে যায়। আর আল্লাহর নাম না নিলে সে তার অন্তরে জায়গা করে নেয়।

৪৬১৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … যির ইবনু হুবাইশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উবায় ইবনু কা’ব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, বললাম, হে আবূল মুনযির! আপনার ভাই ইবনু মাসউদ (রাঃ) তো এ ধরনের কথা বলে থাকেন।

তখন উবায় (রাঃ) বললেন, আমি এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বললেন, আমাকে বলা হয়েছে। তাই আমি বেলেছি। উবায় ইবনু কা’ব (রাঃ) বলেন, সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন আমরাও তাই বলি।

আরও পড়ুনঃ

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

মন্তব্য করুন