তাফসীর অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড । পার্ট-৫।

তাফসীর অধ্যায়

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

তাফসীর অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড । পার্ট-৫।

বুখারি হাদিস নং ৪২০১-৪৩০০

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩৪ | 4234 | ٤۲۳٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৪০. আল্লাহর বাণীঃ “তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দু’দল হয়ে গেলে! যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন (৪ঃ ৮৮) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, بَدَّدَهُمْ-তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করেছেন, فِئَةٌ-দল।
৪২৩৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‏فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ উহুদের যুদ্ধ থেকে একদল লোক দল ত্যাগ করে ফিরে এসেছিল, এরপর তাদের ব্যাপারে লোকেরা দু’দল হয়ে গেল, একদল বলেছে তাদেরকে হত্যা করে ফেল;

অপর দল বলছিল তাদেরকে হত্যা করো না, তখন নাযিল হলঃ ‏فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই মদিনা হচ্ছে পবিত্র স্থান, আগুন যেভাবে রোপ্যের কালিমা বিদূরিত করে এটাও খবিস ও অসৎদেরকে বিদূরিত করে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩৫ | 4235 | ٤۲۳۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৪২. আল্লাহর বাণীঃ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনগণকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম (৪ঃ ৯৩)
২৩৪১. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ যখন শাস্তি অথবা শঙ্কার কোন সংবাদ তাদের কাছে আসে তখন তারা তা প্রচার করে থাকে (৪ঃ ৮৩) أذاعوا به তা প্রচার করে দেয়, يستنبطونه খুজে বের করে, حسيبا যথেষ্ট, إناثا মৃত, পাথর হোক কিংবা মাটি অথবা এ রকম কিছু مريدا বিদ্রোহী, قيلا আর قولا একই অর্থাৎ বলা, طبع সীলকৃত।

৪২৩৫। আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) … সাঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, এই আয়াত সম্পর্কে কূফাবাসীগণ ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করল।

(কেউ বলেন তা মনসূখ, কেউ বলেন মনসূখ নয়, এরপর এর সমাধানের জন্য) আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, উত্তরে তিনি বললেন, ‏وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ আয়াতটি অবতীর্ন হয়েছে এবং এটি শেষের দিকে অবতীর্ন আয়াত; এটাকে কোন কিছু মনসূখ করেনি।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩৬ | 4236 | ٤۲۳٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৩. আল্লাহর বাণীঃ কেউ তোমাদেরকে সালাম করলে তাকে বলো না ‘তুমি মু’মিন নও’ (৪ঃ ৯৪)
৪২৩৬।

আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, وَلاَ تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلاَمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا‏ আয়াতের ঘটনা হচ্ছে এই যে, এক ব্যাক্তির কিছু সংখ্যক ছাগল ছিল, মুসলিমদের সাথে তাদের সাক্ষাত ঘটায় সে তাদেরকে বলল “আসসালামু আলাইকুম”, মুসলিমরা তাকে হত্যা করল এবং তার ছাগলগুলো হস্তগত করে ফেলল, এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত নায়িল করলেন عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا تِلْكَ الْغُنَيْمَةُ

”হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর কর, তখন যাচাই করে নিও এবং যে, তোমাদেরকে সালাম করে তাকে বলো না যে, তুমি মুসলমান নও।

তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অন্বেষণ কর, বস্তুতঃ আল্লাহর কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। তোমরা ও তো এমনি ছিলে ইতিপূর্বে; অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন।

অতএব, এখন অনুসন্ধান করে নিও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খবর রাখেন। ইহজীবনের সম্পদের আকাঙ্খায়-আর সে সম্পদ হচ্ছে এ ছাগল পাল।” (৪ঃ ৯৪)

আতা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) السَّلاَمَ‏ পড়েছেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩৭ | 4237 | ٤۲۳۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৪. আল্লাহর বাণীঃ মু’মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয় (৪ঃ ৯৫)
৪২৩৭। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ আয়াতটি লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তিনি আমাকে বলে যাচ্ছিলেন এমতাবস্থায় উম্মে মাকতুম (রাঃ) তাঁর কাছে আগমন করলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ যদি আমি জিহাতে সক্ষম হতাম তা হলে অবশ্যই জিহাদ করতাম।

তিনি অন্ধ ছিলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের উপর ওহী অবতীর্ন করলেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল আর তা আমার কাছে এতই ভারী অনুভুত হচ্ছিল যে, আমি আমার উরু থেতলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলাম।

তারপর তাঁর থেকে এই অবস্থা কেটে গেল, আর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ غَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ‏ অক্ষমদের ব্যতীত। (৪ঃ ৯৫)

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩৮ | 4238 | ٤۲۳۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৪. আল্লাহর বাণীঃ মু’মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয় (৪ঃ ৯৫)
৪২৩৮। হাফস ইবনু ‘উমর (রহঃ) … বারা‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেলেন, যখন ‏لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ‏ আয়াতটি নাযিল হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ (রাঃ) কে ডাকলেন।

তিনি তা লিখে নিলেন। ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ) এসে তাঁর দৃষ্টিহীনতার ‘ওযর পেশ করলেন, আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ غَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ অক্ষমদের ব্যতীত। (৪ঃ ৯৫)

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩৯ | 4239 | ٤۲۳۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৪. আল্লাহর বাণীঃ মু’মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয় (৪ঃ ৯৫)
৪২৩৯। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … বারা‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ আয়াতটি যখন নাযিল হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন অমুককে ডেকে আন।

এরপর দোয়াত, কাঠ অথবা হাড় খন্ড নিয়ে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, লিখে নাওঃ لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে ছিলেন ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ)।

তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি দৃষ্টিহীন। এরপর তখনই অবতীর্ন হলঃ ‏لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪০ | 4240 | ٤۲٤۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৪. আল্লাহর বাণীঃ মু’মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয় (৪ঃ ৯৫)
৪২৪০। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আর বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত মু’মিনগণ সমান নয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪১ | 4241 | ٤۲٤۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৫. আল্লাহর বাণীঃ যারা নিজেদের উপর জুলুম করে তাদের প্রাণ গ্রহণের সময় ফেরেশতাগণ বলে, তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, দুনিয়ায় আমরা অসহায় ছিলাম; তারা বলে, দুনিয়া কি এমন প্রশস্ত ছিল না যেথায় তোমরা হিজরত করতে? (৪ঃ ৯৭)
৪২৪১। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) … আবূল আসওয়াদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, একদল সৈন্য পাঠানোর জন্য মদিনাবাসীদের উপর নির্দেশ জারি করা হল, এরপর আমাকেও তাতে অন্তর্ভূক্ত করা হল।

আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর মুক্ত গোলাম ইকরামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করলাম।

তিনি আমাকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন, তারপর বললেন, কিছুসংখ্যক মুসলিম মুশরিকদের সাথে থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের দল ভারী করেছিল, তীর এসে তাদের কারো উপর পতিত হতো এবং তাকে মেরে ফেলত অথবা তাদের কেউ মার খেত এবং নিহত হত তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ন করলেনঃ ‏إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلاَئِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ‏ আবূল আসওয়াদ থেকে লাইস এটা বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪২ | 4242 | ٤۲٤۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৬. আল্লাহর বাণীঃ তবে সেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু কোন উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোন পথও পায় না (৪ঃ ৯৮)
৪২৪২। আবূ নু‘মান (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‏إِلاَّ الْمُسْتَضْعَفِينَ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, আল্লাহর তা‘আলা যাদের অক্ষমতা কবূল করেছেন আমার মাতা তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪৩ | 4243 | ٤۲٤۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৭. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ অচিরেই তাদের পাপ মোচন করব্রেন, আল্লাহ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল (৪ঃ ৯৯)
৪২৪৩।

আবূ নু‘আইম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত (নামায/নামাজ) পড়েছিলেন, তিনি সামি আল্লাহলিমান হামিদা বললেন, তারপর সিজদা করার পূর্বে বললেন, হে আল্লাহ! আয়্যাশ ইবনু আবূ রাবিয়াকে মুক্ত করুন, হে আল্লাহ! সালামা ইবনু হিশামকে মুক্ত করুন, হে আল্লাহ, ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদকে মুক্ত করুন, হে আল্লাহ! অসহায় মু’মিনদেরকে মুক্ত করুন, হে আল্লাহ, মুযার গোত্রের উপর কঠিন শাস্তি নাযিল করুন, হে আল্লাহ! এটাকে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর যুগের দূর্ভিক্ষে রূপান্তরিত করুন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪৪ | 4244 | ٤۲٤٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৮. আল্লাহর বাণীঃ যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্ট পাও অথবা পীড়িত থাক তবে তোমরা অস্র রেখে দিলে তোমাদের কোন দোষ নেই (৪ঃ ১০২)
৪২৪৪। আবূল হাসান ইবনু মুহাম্মদ মুকাতিল (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضَى তিনি বলেছেন যে আবদুর রাহমান ইবনু ‘আউফ (রাঃ) আহত ছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪৫ | 4245 | ٤۲٤۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৯. আল্লাহর বাণীঃ লোকে আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায় আপনি বলুন আল্লাহই তাদের সম্বন্ধে তোমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন, এবং ইয়াতীম নারীদের সম্পর্কে (যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান কর না অথচ তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে চাও, অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায় বিচার সম্পর্কে) যা কিতাবে শোনানো হয় (৪ঃ ১২৭)
৪২৪৫। ‘উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‏وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, সে হচ্ছে ঐ ব্যাক্তি যার নিকট ইয়াতীম বালিকা থাকে সে তার অভিভাবক এবং তার মুরুব্বি এরপর সেই বালিকা সেই অভিভাবকের অংশিদার হয়ে যায়, এমনকি খেজুর বৃক্ষেও।

সে ব্যাক্তি তাকে বিবাহ করা থেকে বিরত থাকে এবং অন্য কারো নিকট বিয়ে দিতেও অপছন্দ করে এ আশংকায় যে, তার সেই সম্পত্তিতে বালিকা অংশীদার সেই সম্পত্তিতে তৃতীয় ব্যাক্তি অংশীদার হয়ে যাবে।

এভাবে সেই ব্যাক্তি ঐ বালিকাকে আবদ্ধ করে রাখে। তাই এই আয়াত অবতীর্ন হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪৬ | 4246 | ٤۲٤٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৫০. কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশংকা করে (৪ঃ ১২৮) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেছেন, شِقَاقٌ পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ, وَأُحْضِرَتْ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ কোন বস্তুর প্রতি অত্যধিক আশঙ্কা বা লোভ করা, كَالْمُعَلَّقَةِ সধবাও নয়, বিধবাও নয়। نُشُوْزًا হিংসা।
৪২৪৬। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‏وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا‏ আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন, যে কোন ব্যাক্তির যাওযিয়তে কোন মহিলা থাকে কিন্তু স্বামী তার প্রতি আকৃষ্ট নয় বরং তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চায়, তখন স্ত্রী বলে আমার এই এই পাওনা আমি তোমাকে অব্যাহতি দিচ্ছি, এতদুপলক্ষে এ আয়াত নাযিল হল।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪৭ | 4247 | ٤۲٤۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৫১. আল্লাহর বাণীঃ মুনাফিকগণ তো জাহান্নামের নিন্মতম স্তরে থাকবে (৪ঃ ১৪৫) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) أَسْفَلَ النَّارِ সম্বন্ধে পদের সঙ্গে পড়েছেন। نَفَقًا ভূগর্ভ, সুড়ঙ্গ।

৪২৪৭। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … আসওয়াদ (রহঃ) বলেছেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর মজলিশে ছিলাম, সেখানে হুযায়ফা আসলেন এবং আমাদের সম্মুখে দন্ডায়মান হয়ে সালাম দিলেন। এরপর বললেন, তোমাদের চেয়ে উত্তম গোত্রের উপরও মুনাফিকী এসেছিল পরীক্ষাসরূপ।

আসওয়াদ বললেন, সুবহানাল্লাহ! অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘মুনাফিকগণ জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকবে’’ হুযায়ফা (রাঃ) এর সত্য প্রকাশে আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হেসে উঠলেন। হুযায়ফা (রাঃ) মসজিদের এক কোনে গিয়ে বসলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) উঠে গেল তাঁর শাগরিদরাও চলে গেলেন।

এরপর হুযায়ফা (রাঃ) আমার দিকে একটি পাথর টুকরো নিক্ষেপ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তার নিকট গেলে তিনি বললেন, তাঁর নিছক হাশিতে আমি আশ্চর্য হলাম অথচ আমি যা বলেছি তা তিনি বুঝেছেন।

এমন গোত্র যারা তোমাদের চেয়ে উত্তম তাদের উপর মুনাফিকী অবতরণ করা হয়েছিল। তারপর তারা তওবা করেছে এবং আল্লাহ তা‘আলা তাদের তওবা কবূল করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪৮ | 4248 | ٤۲٤۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৫২. আল্লাহর বাণীঃ তোমার নিকট ওহী প্রেরণ করেছি যেমন ইউনুস, হারুন এবং সুলাইমান (আঃ) এর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করেছিলাম। (নিসা ৪ঃ ১৬৩)
৪২৪৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ‘‘আমি ইউনুছ ইবনু মাত্তা (আলাইহিস সালাম) থেকে উত্তম’’ এটা বলা কারো উচিত নয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৪৯ | 4249 | ٤۲٤۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৫২. আল্লাহর বাণীঃ তোমার নিকট ওহী প্রেরণ করেছি যেমন ইউনুস, হারুন এবং সুলাইমান (আঃ) এর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করেছিলাম। (নিসা ৪ঃ ১৬৩)
৪২৪৯। মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যে ব্যাক্তি বলে “আমি ইউনুছ ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম” সে মিথ্যা বলে।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫০ | 4250 | ٤۲۵۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৫৩. আল্লাহর বাণীঃ লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বল, পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন – কোন পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তার এক ভগ্নি থাকে তবে তার জন্য পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ, এবং সে যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে (৪ঃ ১৭৬) كَلَالَةِ যার পিতা কিংবা পুত্র উত্তরাধিকারী না থাকে مُكَلَّةُ النَّسَبِ বাক্য থেকে এটা ক্রিয়াপদ।

৪২৫০। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি ‘বারা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, সর্বশেষ অবতীর্ন সূরা হচ্ছে ‘‘বারাআ’ত’’ এবং সর্বশেষ অবতীর্ন আয়াত হচ্ছে- ‏يَسْتَفْتُونَكَ قل الله يفتيكم فى الكلالة

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫১ | 4251 | ٤۲۵۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৫৪. আল্লাহর বাণীঃ আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। (৫ঃ ৩)
সুরা আল-মায়িদা

حُرُمٌ একবচনে حَرَامٌ নিষিদ্ধ অবস্থায় (৫ঃ ১), فَبِمَا نَقْضِهِمْ তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ (আল-মায়িদাহ ৫/১৩), الَّتِيْ كَتَبَ اللهُ যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, تَبُوْءُ বহন করবে, অন্য একজন বলেছেন الإِغْرَاءُ শক্তিশালী করে দেয়া, دَائِرَةٌ ওলট-পালট, أُجُوْرَهُنَّ তাদের মাহর, مَخْمَصَةٍ ক্ষুধার তাড়নায় (৫ঃ ৩)।

(হে কিতাবীগণ) তাওরাত, ইনজিল ও যাহা তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত তোমাদের কোন ভিত্তিই নেই (৫ঃ ৬৮)

সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) বলেন, আমার দৃষ্টিতে কুরআন মাজীদে لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتّٰى تُقِيْمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيْلَ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مَّخْمَصَةٍ আয়াতটির চেয়ে কঠোর অন্য কোন আয়াত নেই। مَنْ أَحْيَاهَا আর যে কেউ কারো জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমস্ত মানুষের জীবন রক্ষা করল- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩২)। شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا আইন ও স্পষ্ট পথ, নিয়ম- (৫ঃ ৪৮) مُهَيْمِنُ আমানতদার, কুরআন তার পূর্বের কিতাবসমূহের আমানতদার। (৫ঃ ৪৮)

৪২৫১। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … তারিক ইবনু শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ইহুদীগণ ‘উমর ফারুক (রাঃ) কে বলল যে, আপনারা এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন তা যদি আমাদের মধ্যে অবতীর্ন হত, তবে আমরা সেটাকে “ঈদ” করে রাখতাম।

উমর (রাঃ) বললেন, এটা কখন অবতীর্ন হয়েছে, কোথায় অবতীর্ন হয়েছে এবং নাযিলের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় ছিলেন, আল্লাহর শপথ আমরা সবাই ‘আরাফাতে ছিলা, সেই আয়াতটি হল- ‏الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ‏

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫২ | 4252 | ٤۲۵۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৫৫. আল্লাহর বাণীঃ এবং যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে (৫ঃ ৬)
تَيَمَّمُوْا তোমরা ইচ্ছে করবে, آمِّيْنَ উদ্দেশ্য করে, أَمَّمْتُ আর تَيَمَّمْتُ একই, আমি ইচ্ছে করেছি, ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন- وَ اللَّاتِيْ دَخَلْتُمْ بِهِنَّ، تَمَسُّوْهُنَّ، لَمَسْتُمْ এবং وَالإِفْضَاءُ এই চারটিরই অর্থ সহবাস করা।

৪২৫২। ইসমাঈল (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্নী আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে, আমরা সবাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক সফরে বের হলাম, বায়দা কিংবা বায়তুল জায়শ নামক স্থানে পৌছার পর আমর গলার হার হারিয়ে গেল।

তা খোজার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় অবস্থান করলেন এবং অন্যান্যলোকও তাঁর সাথে অবস্থান করল। সেখানেও কোন পানি ছিল না এবং তাদের সাথেও পানি ছিল না। এরপর লোকেরা আবূ বকর (রাঃ) এর কাছে আসল এবং বলল, আয়িশা (রাঃ) যা করেছেন আপনি তা দেখেছেন কি?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল লোককে আটকিয়ে রেখেছেন, অথচ তাদের কাছেও পানি নেই আবার সেখানেও পানি নেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঊরুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় আবূ বকর (রাঃ) এলেন এবং বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল লোককে আটকে রেখেচ অথচ সেখানেও পানি নেই আবার তাদের সাথেও পানি নেই।

আয়িশা (রাঃ) বললেন যে, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে দোষারূপ করলেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন তা বলেছেন এবং তাঁর অঙ্গুলি দিয়ে আমার কোমরে ঠুসি দিতে লাগলেন, আমার কোলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবস্থানই আমাকে পালিয়ে যেতে বাধা দিয়েছে।

পানিবিহীন অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠলেন। এরপর فتيمموا বলে আল্লাহ তা‘আলা তায়াম্মুমোর আয়াত নাযিল করলেন, তখন উসায়দ ইবনু হুযায়র বলেছেন, হে আবূ বকর এর বংশধর! এটা আপনাদের প্রথম মাত্র বরকত নয়।

আয়িশা (রাঃ) বললেন, যে উটের উপর আমি ছিলাম, তাকে আমরা উঠালাম তখন দেখি হারটি তার নিচে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৩ | 4253 | ٤۲۵۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৫৫. আল্লাহর বাণীঃ এবং যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে (৫ঃ ৬)
৪২৫৩। ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, মদিনায় প্রবেশের পথে বায়দা নামক স্থানে আমার গলার হারটি পড়ে গেল।

এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উট বসিয়ে অবস্থান করলেন। তিনি আমার কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) এসে আমাকে কঠোরভাবে থাপ্পর লাগালেন এবং বললেন একটি হার হারিয়ে তুমি সকল লোককে আটকে রেখেছ।

এদিকে তিনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন, অপর দিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় আছেন, এতে আমি মৃত্যু যাতনা ভোগ করছিলাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন, ফজর সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হল এবং পানি খোজ করে পাওয়া গেল না, তখন নাযিল হলঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ‏‏ الآيَةَ‏ হে মু’মিনগণ, যখন তোমরা সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত কণুই পর্যন্ত ধৌত করবে। (৫ঃ ৬)

এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, হে আবূ বকরের বংশধর! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কারণে মানুষের জন্য বরকত নাযিল করেছেন। তোমাদের আপাদ মস্তক তাদের জন্য বরকতই বরকত।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৪ | 4254 | ٤۲۵٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৫৬. আল্লাহর বাণীঃ সুতরাং তুমি ও তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর, আমরা এখানে বসে থাকব (৫ঃ ২৪)
৪২৫৪।

আবূ নু‘আঈম (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন যে, বদর যুদ্ধের দিন মিকদাদ (রাঃ) বলেীছলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইসরাঈলীরা মূসা (আলাইহিস সালাম) কে যে রকম বলেছিল, ‘‘যাও তুমি ও তোমার প্রতিপালক যুদ্ধ কর, আমরা এখানে বসে থাকব’’ আমরা আপনাকে সে রকম বলব না বরং আপনি অগ্রসর হোন, আমরা সবাই আপনার সাথেই আছি, তখন যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল।

এই হাদীসটি ওয়াকা-সুফিয়ান থেকে, তিনি মুখারিক থেকে এবং তিনি (মুখারিক) তারিক থেকে বর্ণণা করেছেন যে, মিকদাদ এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৫ | 4255 | ٤۲۵۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৫৭. আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কার্য করে বেড়ায় তাদের শাস্তি এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক হতে তাদের হাত পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে (দুনিয়ায় এটাই তাদের লাঞ্চনা ও আখিরাতে তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে) (৫ঃ ৩৩) [ الْمُحَارَبَتُ لِلَّهِ الْكُفْرُبِهِ ]-আল্লাহর সাথে কুফরী করা।

৪২৫৫। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ কিলাবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন।

তাঁরা কিসামাত দন্ড সম্পর্কিত হাদীসটি আলোচনা করলেন এবং এর অবস্থা সম্পর্কে আলাপ করলেন, তারা মৃত্যুদন্ডের পক্ষে বললেন এবং এও বললেন যে, খুলাফায়ে রাশেদীন এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছেন। এরপর তিনি আবূ কিলাবার প্রতি তাকালেন, আবূ কিলাবা তাঁর পেছনে ছিলেন।

তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ নামে কিংবা আবূ কিলাবা নামে ডেকে বললেন, এই ব্যাপারে তোমার মতামত কি?

আমি বললাম বিয়ের পর ব্যভিচার, কিসাসবিহীন খুন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার কোন একটি ব্যতীত অন্য কোন কারণে কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া ইসলামে বৈধ বলে আমার জানা নেই।

আনবাসা বললেন, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ হাদীসে আরনিন।) আমি (আবূ কিলাবা) বললাম, আমাকেও আনাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণণা করেছেন।

তিনি বলেছেন, একদল লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এসে তাঁর সাথে আলাপ করল, তারা বলল, (প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে) আমরা এদেশের সাথে মিলতে পারছি না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো আমার উট, ঘাস খাওয়ানোর জন্য বের হচ্ছে, তোমরা এগুলোর সাথে যাও এবং এদের দুধ ও পস্রাব পান কর।

তারা ওগুলোর সাথে বেরিয়ে গেল এবং দুধ ও প্রসাব পান করে সুস্থ হয়ে উঠল, এরপর রাখালের উপর আক্রমন করে তাকে হত্যা করে পশুগুলো লুট করে নিয়ে গেল।

মৃত্যুদন্ড ভোগ করার অপরাধসমূহ তাদের থেকে কতটুকু দূরে ছিল? তারা নর হত্যা করেছে,আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভয় দেখিয়েছে।

আনবাসা আশ্চর্য হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, আমার এ হাদীস সম্পর্কে তুমি কি আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেবে? আনবাসা বলল, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ কিলাবা বললেন, তখন ‘আনবাসা বলল, হে দেশবাসী (অর্থাৎ সিরিয়াবাসী) এ রকম ব্যাক্তিবর্গ যতদিন তোমাদের মধ্যে থাকবে ততদিন তোমরা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৬ | 4256 | ٤۲۵٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৫৮. আল্লাহর বাণীঃ এবং যখমের বদল অনুরূপ যখম (৫ঃ ৪৫)
৪২৫৬। মুহাম্মদ ইবনু সাল্লাম (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রুবাই যিনি আনাস (রাঃ) এর ফুফু, এক আনসার মহিলার সামনের একটি বড় দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল।

এরপর আহত মহিলার গোত্র এর কিসাস দাবি করে। তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন, আনাস ইবনু মালিক এর চাচা আনাস ইবনু নযর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ রুবাই এর দাত ভাঙ্গা হবে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাব তো ‘বদলা’র বিধান দেয়। পরবর্তীতে বিরোধী পক্ষ রাযী হয়ে মুক্তিপণ বা দিয়ত গ্রহণ করল। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছে যারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের শপথ সত্যে পরিণত করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৭ | 4257 | ٤۲۵۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৫৯. আল্লাহর বাণীঃ হে রাসুল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার কর (৫ঃ ৬৭)
৪২৫৭। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, যদি কেউ তোমাকে বলে যে, তাঁর অবতীর্ণ বিষয়ের যৎসামান্য কিছুও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোপন করেছেন তা হলে নিশ্চিত যে, সে মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ বলেছেন, হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তুমি প্রচার কর।’

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৮ | 4258 | ٤۲۵۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৬০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে দায়ী করবেন না (৫ঃ ৮৯)
৪২৫৮। আলী (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ‏لاَ يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ‏ আয়াতটি নাযিল হয়েছে মানুষের উদ্দেশ্যবিহীন উক্তি لاَ وَاللَّهِ আল্লাহর শপথ, بَلَى وَاللَّهِ‏ হ্যাঁ আল্লাহর শপথ ইত্যাদি উপলক্ষে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৫৯ | 4259 | ٤۲۵۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৬০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে দায়ী করবেন না (৫ঃ ৮৯)
৪২৫৯। আহমদ ইবনু আবূ রাযা’ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা কোন শপথই ভঙ্গ করতেন না।

শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা শপথ ভঙ্গের কাফফারার বিধান নাযিল করলেন। আবূ বকর (রাঃ) বলেছেন, শপথকৃত কার্যের বিপরীতটি যদি আমি উত্তম ধারণা করি তবে আমি আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগটি গ্রহণ করি এবং উত্তম কাজটি সম্পাদন করি।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬০ | 4260 | ٤۲٦۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৬১. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ ! আল্লাহ তোমাদের জন্যে উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করেছেন সেগুলোকে তোমরা হারাম করো না। (এবং সীমালঙ্ঘন করে না। আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না) (৫ঃ ৮৭)
৪২৬০।

আমর ইবনু আউন (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুদ্ধে বের হতাম, তখন আমাদের সাথে স্ত্রীগণ থাকত না, তখন আমরা বলতাম আমরা খাসি হয়ে যাব না?

তিনি আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করলেন এং কাপড়ের বিনিময়ে হলেও মহিলাদেরকে বিয়ে করার অর্থাৎ নিকাহে মু‘আর অনুমতি দিলেন এবং পাঠ করলেনঃ ‏يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬১ | 4261 | ٤۲٦۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৬২. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা, বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কার্য (সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার) (৫ঃ ৯০) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেছেন, الْأَزْلَامُ সে সকল তীর যেগুলো দ্বারা তারা কর্মসমূহের ভাগ্য পরীক্ষা করে।

النُّصُبُ বেদী, সেগুলো তারা প্রতিষ্ঠা করে এবং সেখানে পশু যবহ করে। অন্য কেউ বলেছেন الزَّلَمُ তীর, الْأَزْلَامُ এর একবচন, ভাগ্য পরীক্ষার পদ্ধতি এই যে, তীরটাকে ঘুরাতে থাকবে। তীর যদি নিষেধ করে তো বিরত থাকবে আর যদি তাকে কর্মের নির্দেশ দেয় তাহলে সে নির্দেশিত কাজ করে যাবে।

তীরগুলোকে বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন দ্বারা চি‎‎হ্নত করা হয় এবং তা দ্বারা তথাকথিত ভাগ্য পরীক্ষা করা হয়। এতদসম্পর্কে فَعَلْتُ-এর কাঠামোতে قَسَمْتُ ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ আমি ভাগ্য যাচাই করেছি, এর ক্রিয়া হচ্ছে الْقُسُوْمُ

৪২৬১। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন মদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান যখন নাযিল হল, তখন মদিনাতে পাঁচ প্রকারে মদের প্রচলন ছিল, আঙ্গুরের পানিগুলো এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬২ | 4262 | ٤۲٦۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৬২. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা, বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কার্য (সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার) (৫ঃ ৯০) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেছেন, الْأَزْلَامُ সে সকল তীর যেগুলো দ্বারা তারা কর্মসমূহের ভাগ্য পরীক্ষা করে।

النُّصُبُ বেদী, সেগুলো তারা প্রতিষ্ঠা করে এবং সেখানে পশু যবহ করে। অন্য কেউ বলেছেন الزَّلَمُ তীর, الْأَزْلَامُ এর একবচন, ভাগ্য পরীক্ষার পদ্ধতি এই যে, তীরটাকে ঘুরাতে থাকবে। তীর যদি নিষেধ করে তো বিরত থাকবে আর যদি তাকে কর্মের নির্দেশ দেয় তাহলে সে নির্দেশিত কাজ করে যাবে।

তীরগুলোকে বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন দ্বারা চি‎‎হ্নত করা হয় এবং তা দ্বারা তথাকথিত ভাগ্য পরীক্ষা করা হয়। এতদসম্পর্কে فَعَلْتُ-এর কাঠামোতে قَسَمْتُ ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ আমি ভাগ্য যাচাই করেছি, এর ক্রিয়া হচ্ছে الْقُسُوْمُ

৪২৬২। ইয়াকূব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তোমরা যেটাকে ফাযীক অর্থাৎ কাঁচা খুরমা ভিজানো পানি নাম রেখেছ সেই ফাযিখ ব্যতীত আমাদের অন্য কোন মদ ছিল না। একদিন আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আবূ তালহা, অমুক এবং অমুককে তা পান করাচ্ছিলাম।

তখনই এক ব্যাক্তি এসে বলল, আপনাদের কাছে এ সংবাদ এসেছে কি? তাঁরা বললেন, ঐ কি সংবাদ?

সে বললঃ মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে, তাঁরা বললেন, হে আনাস! এই পাত্রগুলো ঢেলে দাও। আনাস (রাঃ) বললেন যে, তাঁরা এতদ প্রসঙ্গে কিছু জিজ্ঞাসাও করলেন না এবং এই ব্যাক্তির সংবাদের পর তাঁরা দ্বিতীয়বার পান করেন নি।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬৩ | 4263 | ٤۲٦۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৬২. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা, বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কার্য (সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার) (৫ঃ ৯০) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেছেন, الْأَزْلَامُ সে সকল তীর যেগুলো দ্বারা তারা কর্মসমূহের ভাগ্য পরীক্ষা করে।

النُّصُبُ বেদী, সেগুলো তারা প্রতিষ্ঠা করে এবং সেখানে পশু যবহ করে। অন্য কেউ বলেছেন الزَّلَمُ তীর, الْأَزْلَامُ এর একবচন, ভাগ্য পরীক্ষার পদ্ধতি এই যে, তীরটাকে ঘুরাতে থাকবে।

তীর যদি নিষেধ করে তো বিরত থাকবে আর যদি তাকে কর্মের নির্দেশ দেয় তাহলে সে নির্দেশিত কাজ করে যাবে। তীরগুলোকে বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন দ্বারা চি‎‎হ্নত করা হয় এবং তা দ্বারা তথাকথিত ভাগ্য পরীক্ষা করা হয়। এতদসম্পর্কে فَعَلْتُ-এর কাঠামোতে قَسَمْتُ ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ আমি ভাগ্য যাচাই করেছি, এর ক্রিয়া হচ্ছে الْقُسُوْمُ

৪২৬৩। সাদকা ইবনু ফাযল (রহঃ) … জাবির (রাঃ) বলেছেন যে, উহুদের যুদ্ধের দিন ভোরে কিছু লোক মদ পান করেছিলেন এবং সেদিন তারা সবাই শহীদ হয়েছেন। এই মদ্যপান ছিল তা হারাম হওয়ার পূর্বেকার ঘটনা।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬৪ | 4264 | ٤۲٦٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৬২. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা, বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কার্য (সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার) (৫ঃ ৯০) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেছেন, الْأَزْلَامُ সে সকল তীর যেগুলো দ্বারা তারা কর্মসমূহের ভাগ্য পরীক্ষা করে।

النُّصُبُ বেদী, সেগুলো তারা প্রতিষ্ঠা করে এবং সেখানে পশু যবহ করে। অন্য কেউ বলেছেন الزَّلَمُ তীর, الْأَزْلَامُ এর একবচন, ভাগ্য পরীক্ষার পদ্ধতি এই যে, তীরটাকে ঘুরাতে থাকবে।

তীর যদি নিষেধ করে তো বিরত থাকবে আর যদি তাকে কর্মের নির্দেশ দেয় তাহলে সে নির্দেশিত কাজ করে যাবে। তীরগুলোকে বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন দ্বারা চি‎‎হ্নত করা হয় এবং তা দ্বারা তথাকথিত ভাগ্য পরীক্ষা করা হয়। এতদসম্পর্কে فَعَلْتُ-এর কাঠামোতে قَسَمْتُ ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ আমি ভাগ্য যাচাই করেছি, এর ক্রিয়া হচ্ছে الْقُسُوْمُ

৪২৬৪। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানজালী (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, আমি ‘উমর (রাঃ) কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, এরপর হে লোকসকল! মদপানের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়েছে আর তা হচ্ছে পাঁচ প্রকার, খুরমা থেকে, আঙ্গুর, খেজুর থেকে, মধু থেকে, গম থেকে এবং যা থেকে আর মদ হচ্ছে যব সুস্থ ও জ্ঞানকে আচ্ছাদিত করে রাখে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬৫ | 4265 | ٤۲٦۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৩. আল্লাহর বাণীঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা পূর্বে যা ভক্ষন করেছে তজ্জন্য তাদের কোন পাপ নেই, যদি তারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, সাবধান হয় ও বিশ্বাস করে, পুনরায় সাবধান হয় এবং সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালবাসেন (৫ঃ ৯৩)
৪২৬৫। আবূ নু‘মান (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ঢেলে দেয়া মদগুলো ছিল ফাযীখ। আবূ নু‘মান থেকে মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, আনাস (রাঃ) বলেছেন, আমি আবূ তালহা (রাঃ) এর ঘরে লোকদেরকে মদ পরিবেশন করছিলাম, তখনই মদের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ঘোষককে তা প্রচারের নির্দেশ দিলেন। এরপর সে ঘোষণা দিল। আবূ তালহা বলল, বেরিয়ে দেখ তো ঘোষণা কিসের?

আনাস (রাঃ) বললেন, আমি বেরুলাম এবং বললাম যে, একজন ঘোষক ঘোষণা দিচ্ছেযে, যেনে রাখ মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে।

এরপর তিনি আমাকে বললেন যাও, এগুলো সব ঢেলে দাও। আনাস (রাঃ) বললেন, সেদিন মদিনার রাস্তায় রাস্তায় মদের স্রোত প্রবাহিত হয়েছিল। তিনি বলেন, সে যুগে তাদের মদ ছিল ফাযীখ, তখন একজন বললেন, যারা মদপান করে শহীদ হয়েছেন তাঁদের কি অবস্থা হবে? তিনি বলেন, এরপর আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন- ‏لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا‏

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬৬ | 4266 | ٤۲٦٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৪. আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ ! তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে (৫ঃ ১০১)
৪২৬৬। মুনযির ইবনু ওয়ালিদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি খুতবা দিলেন যেরূপ আমি আর কখনো শুনিনি।

তিনি বলেছেন, ‘‘আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে তোমরা হাসতে খুব কমই এবং বেশী বেশী করে কাঁদতে’’। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) আপন আপন চেহারা আবৃত করে গুনগুন করে কান্না জুড়ে দিলেন এরপর এক ব্যাক্তি (আবদুল্লাহ ইবনু হুযায়ফা বা অন্য কেউ) বলল, আমার পিতা কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘অমুক’’।

তখন এই আয়াত নাযিল হলঃ ‏لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ‏

এই হাদীসটি শুবা থেকে নযর এবং রাওহ ইবনু উবাদা বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬৭ | 4267 | ٤۲٦۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৪. আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ ! তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে (৫ঃ ১০১)
৪২৬৭। ফাযল ইবনু সাহল (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, কিছু লোক ছিল তারা ঠাট্টা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করত, কেউ বলত আমার পিতা কে? আবার কেউ বলত আমার উষ্ট্রী হারিয়ে গেছে তা কোথায়? তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত নাযিল করেছেন – ‏يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ‏

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬৮ | 4268 | ٤۲٦۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৫. আল্লাহর বাণীঃ বাহীরা, সাইবা, ওয়াসীলা ও হাম আল্লাহ স্থির করেন নি (৫ঃ ১০১)
وَإِذْ قَالَ اللهُ বাক্যে قَالَ اللهُ মানে يَقُوْلُ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামাতের দিবসে বলবেন আর إِذْ শব্দটি অতিরিক্ত।

الْمَائِدَةُ মূলে مَفْعُوْلَةٌ এর কাঠামোতে مَمْيُوْدَة ছিল, যেমন عِيْشَةٍ رَاضِيَةٍ এর মধ্যে رَاضِيَةٍ অর্থ مَرْضِيَةٌٍ এবং تَطْلِيْقَةٍ بَائِنَةٍ এর মধ্যে بَائِنَةٍ অর্থ مُبَائِنَةٍ, সুতরাং অর্থ হবে مِيْدَ بِهَا صَاحِبُهَا مِنْ خَيْرٍ ‘‘তার মালিক কল্যাণ বিছিয়েছেন’’ যেমন مَادَنِي-يَمِيْدُنِيْ বলা হয়।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, مُتَوَفِّيْكَ আমি তোমার মৃত্যু ঘটাব। (৩ঃ ৫৫)

৪২৬৮। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … সাঈদ ইবনু মূসায়্যাব (রহঃ) বলেছেন, الْبَحِيرَةُ বাহীরা যে জন্তুর স্তন প্রতিমার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত থাকে কেউ তা দোহন করে না।

السَّائِبَةُ সায়িবা, যে জন্তু তারা তার উপাস্যের নামে ছেড়ে দিত এবং তা বহন কার্যে ব্যবহার করে না। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমি আমর ইবনু আমির খুযায়ীকে দোযখের মধ্যে দেখেছি সে তার নাড়িভুড়ি টানছে, সে-ই প্রথম ব্যাক্তি যে সায়ীবা প্রথা প্রথম চালু করে।

الْوَصِيلَةُ ওয়াসীলাহ, যে উষ্ট্রী প্রথম বারে মাদী বাচ্চা প্রসব করে এবং দ্বীতীয়বারেও মাদী বাচ্চা প্রসব করে, (যেহেতু নর বাচ্চার ব্যবধান ব্যতীত একটা অন্যটার সাথে সংযুক্ত হয়েছে সেহেতু) ঐ উষ্ট্রীকে তারা তাদের তাগুতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিত।

الْحَامِ হাম, নর উট যা দ্বারা কয়েকবার প্রজনন কার্য নেয়া হয়, প্রজনন কার্য সমাপ্ত হলে সেটাকে তারা তাদের প্রতিমার জন্য ছেড়ে দেয়, এবং বোঝা বহন থেকে ওটাকে মুক্তি দেয়। সেটির উপর কিছু বহন করা হয় না। এটাকে তারা ‘হাম’ নামে অভিহিত করত।

আমাকে আবূল ইয়ামান বলেছেন যে, শুয়াইব, ইমাম যুহরী (রহঃ) থেকে আমাদের অবিহিত করেছেন, যুহরী বলেন, আমি সাঈদ ইবনু মূসাইয়্যিব (রহঃ) থেকে শুনেছি, তিনি তাকে এ ব্যাপারে অবিহিত করেছেন।

সাঈদ ইবনু মূসাইয়্যিব বলেছেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকম শুনেছি। ইবনু হাদ এটা বর্ণনা করেছেন ইবনু শিহাব থেকে। আর তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৬৯ | 4269 | ٤۲٦۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৫. আল্লাহর বাণীঃ বাহীরা, সাইবা, ওয়াসীলা ও হাম আল্লাহ স্থির করেন নি (৫ঃ ১০১)
৪২৬৯। মুহাম্মদ ইবনু আবূ ইয়াকূব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জাহান্নামকে দেখেছি তার একাংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে বা প্রবলভাবে জড়িয়ে রয়েছে, ‘আমরকে দেখেছি সে তার নাড়িভুড়ি টানছে, সে-ই প্রথম ব্যাক্তি যে, ‘‘সায়ীবা’’ প্রথা চালু করে।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭০ | 4270 | ٤۲۷۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৬. আল্লাহর বাণীঃ যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমি তো ছিলে তাদের কর্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক এবং তুমিই সর্ববিষয়ে সাক্ষী (৫ঃ ১১৭)
৪২৭০।

আবূ ওয়ালিদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন খুতবা দিলেন, বললেন, হে লোক সকল! তোমরা খালি পা, উলঙ্গ এবং খতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর নিকট একত্রিত হবে, তারপর তিনি পড়লেন, كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ‏ যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব, প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি তা পালন করবই। আয়াতের শেষ পর্যন্ত (২১: ১০৪)

তারপর তিনি বললেন, কিয়ামত দিবসে সর্ব প্রথম যাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)।

তোমরা জেনে রাখ, আমার উম্মতের কতগুলো লোককে উপস্থিত করা হবে এবং তাদেরকে বাম দিকে অর্থাৎ দোযখের দিকে নেয়া হবে। আমি তখন বলব, প্রভু হে! এগুলো তো আমার গুটি কয়েক সাহাবী, তখন বলা হবে যে, আপনার পর তারা কি জঘন্য কাজ করেছে তা আপানি জানেন না।

এরপর পুণ্যবান বান্দা যেমন বলেছিলেন আম তেমন বলবঃ ‏وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ‏

এরপর বলা হবে আপনি তাদের ছেড়ে আসার পর থেকে তারা তাদের গোড়ালির উপর ফিরে গিয়ে অর্থাৎ পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে ধর্মত্যাগী হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

মন্তব্য করুন