তাফসীর অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড | পার্ট-৪ |

তাফসীর অধ্যায়

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-১ |

তাফসীর অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড | পার্ট-৪ |

বুখারি হাদিস নং ৪২০১-৪৩০০

হাদিস নম্বরঃ ৪২০১ | 4201 | ٤۲۰۱

পরিচ্ছদঃ ২৩১৪. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মাত, মানব জাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে (৩ঃ ১১০)
৪২০১। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) ‏كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ আয়াত সম্পর্কে বলেন, মানুষের জন্যে মানুষ কল্যাণজনক তখনই হয় যখন তাদের গ্রীবাদেশে শিকল লাগিয়ে নিয়ে আসে। এরপর তারা ইসলামে প্রবেশ করে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২০২ | 4202 | ٤۲۰۲

পরিচ্ছদঃ ২৩১৫. আল্লাহর বাণীঃ যখন তোমাদের মধ্যের দু’দলের সাহস হারানোর উপক্রম হয়েছিল এবং আল্লাহ তাদের অভিভাবক (৩ঃ ১২২)
৪২০২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلاَ وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا আয়াতটি আমাদেরকে উপলক্ষ করেই অবতীর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‏ আমরা দু’দল বনী হারিছা আর বনী ছালিমা। যেহেতু এ আয়াতে ‏وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا “আল্লাহ উভয়ের সহায়ক” উল্লেখ আছে, সেহেতু এটা অবতীর্ণ না হোক তা আমরা পছন্দ করতাম না। সুফিয়ান (রাঃ)-এর এক বর্ণনায় وما يسرني ‘আমাকে ভাল লাগেনি’ আছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২০৩ | 4203 | ٤۲۰۳

পরিচ্ছদঃ ২৩১৬. আল্লাহর বাণীঃ এই বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই।(সূরাহ আলে-‘ইমরান ৩ঃ ১২৮)
৪২০৩।

হিব্বান (রহঃ) … সালিম (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন যে, তিনি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) এর শেষ রাকাআতে রুকু থেকে মাথা তুলে ‘সামিআল্লাহ লিমান হামিদা, রাব্বানা ওলাকাল হামদ’ বলার পর এটা বলতেনঃ হে আল্লাহ! অমুক, অমুক, এবং অমুককে লানত দিন।

তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন। ‏لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন, এবিষয়ে তোমার করনীয় কিছুই নেই। কারণ তারা জালিম। (৩: ১২৮) ইসহাক ইবনু রাশিদ (রহঃ) ইমাম যুহরী (রহঃ) থেকে এটা বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২০৪ | 4204 | ٤۲۰٤

পরিচ্ছদঃ ২৩১৬. আল্লাহর বাণীঃ এই বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই।(সূরাহ আলে-‘ইমরান ৩ঃ ১২৮)
৪২০৪।

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো জন্য বদদোয়া অথবা দোয়া করার মনস্থ করতেন, তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর রুকুর পরেই কুনূতে নাযিলা পড়তেন।

কখনো কখনো সামি আল্লাহ লিমান হামিদা, আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ বলার পর বলতেন, হে আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদ, সালমা ইবনু হিশাম এবং আইয়াশ ইবনু আবূ রাবিয়াকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর শাস্তি কঠোর করুন।

এ শাস্তিকে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর যুগের দূর্ভক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষে রূপান্তরিত করে দিন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা গুলোকে উচ্চস্বরে বলতেন।

কখনো কখনো তিনি কয়েকটি আরব গোত্রের নাম উল্লেখ করে ফজরের সালাতে বলতেন, হে আল্লাহ! অমুক এবং অমুককে লানত দিন।

অবশেষ আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ ‏لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ‏ “হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদেরকে আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোন করণীয় নাই। কারণ তারা রয়েছে অন্যায়ের উপর।” (৩ঃ ১২৮)

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-১ |

হাদিস নম্বরঃ ৪২০৫ | 4205 | ٤۲۰۵

পরিচ্ছদঃ ২৩১৭. আল্লাহর বাণীঃ রসূল (সাঃ) তোমাদের পেছনের দিক থেকে আহবান করছিলেন। آخركم এর স্ত্রীলিঙ্গ أخراكم ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, দু’কল্যাণের একটি এর অর্থ হল বিজয় অথবা শহীদ হওয়া
৪২০৫।

আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) … বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদাতিক বাহিনীর উপর আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) কে সেনাপতি নির্ধারণ করেন।

এরপর তাদের কতক পরাজিত হলে পালাতে লাগল, এটাই হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তোমাদের পেছন দিক থেকে ডাকছিলেন। মাত্র বারজন ছাড়া আর কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৪২০৬ | 4206 | ٤۲۰٦

পরিচ্ছদঃ ২৩১৮. আল্লাহর বাণীঃ প্রশান্তি তন্দ্রারূপে
৪২০৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ তালহা (রাঃ) বলেন, আমরা উহুদ যুদ্ধের দিন আপন আপন সারিতে ছিলাম। তন্দ্রা আমাদের আচ্ছাদিত করে ফেলেছিল।

তিনি বলেছিলেন, আমার তরবারী আমার হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল, আর আমি তা উঠাচ্ছিলাম, আবার পড়ে যাচ্ছিল, আবার আমি উঠাচ্ছিলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৪২০৭ | 4207 | ٤۲۰۷

পরিচ্ছদঃ ২৩২০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে (৩ঃ ১৭৩)
باب قوله الذين استجابوا لله والرسول من بعد ما أصابهم القرح للذين أحسنوا منهم واتقوا أجر عظيم القرح الجراح استجابوا أجابوا يستجيب يجيب

২৩১৯. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ যখম হওয়ার পরও যারা আল্লাহ ও রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছে তাদের মধ্যে যারা সৎকার্য করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে চলে, তাদের জন্য মহাপুরস্কার রয়েছে (৩ঃ ১৭২) القرح যখম। استجابوا ডাকে সাড়া দিন। يستجيب সাড়া দেয়।

৪২০৭। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ বাক্যটি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন, যখন তিনি অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন।

আর মুহাম্মদ বলেছিলেন যখন লোকেরা বলল, ‘‘তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় কর কিন্তু এটি তাদের ঈমান দৃঢ়তর করেছিল এবং তারা বলেছিল ‘‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্ম বিধায়ক’’ (৩: ১৭৩)

হাদিস নম্বরঃ ৪২০৮ | 4208 | ٤۲۰۸

পরিচ্ছদঃ ২৩২০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে (৩ঃ ১৭৩)
৪২০৮। মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) যখন অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তখন তাঁর শেষ বক্তব্য ছিল حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ‘‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’’ তিনি কত উত্তম কর্ম বিধায়ক।

হাদিস নম্বরঃ ৪২০৯ | 4209 | ٤۲۰۹

পরিচ্ছদঃ ২৩২১. আল্লাহর বাণীঃ এবং আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে।

বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে।

আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। سَؤُطَوَّقُوْنَ এটা আরবী বাক্য طوقته بطوق (তাকে বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছি) এর ন্যায়।
৪২০৯।

আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যাকে আল্লাহ তাআলা ধন-সম্পদ দেন, তারপর সে তার যাকাত পরিশোধ করে না- কিয়ামত দিবসে তার ধন-সম্পদকে তার জন্য লোমবিহীন কালো-চিহৃ বিশিষ্ট সর্পে রূপান্তরিত করা হবে এবং তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।

মুখের দু’ধার দিয়ে সে তাকে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়।’ এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন وَلاَ يَحْسِبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ

অর্থ আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে।

যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। (৩ঃ ১৮০)

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-১ |

হাদিস নম্বরঃ ৪২১০ | 4210 | ٤۲۱۰

পরিচ্ছদঃ ২৩২২. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের এবং মুশরীকদের কাছ থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে (৩ঃ ১৮৬)
৪২১০। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার পিঠে আরোহন করেছিলেন, একটি ফদকী চাঁদর তাঁর পরনে ছিল। উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) কে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন।

তিনি বনী হারিস ইবনু খাযরায গোত্রে অসুস্থ সা’দ ইবনু উবায়দা (রাঃ) কে দেখতে যাচ্ছিলেন। এটা ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। বর্ণনাকারী বলেন যে, যেতে যেতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি মজলিশের সামনে গিয়ে পৌছলেন, যেখানে আবদুল্লাহ ইবনু উবায় বিন সালুলও ছিল, সে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি।

সে মজলিসে মুসলিম, মুশরিক, প্রতিমা পূজারী এবং ইহুদী সকল প্রকারের লোক ছিল এবং তথায় আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন।

জন্তুর পদধূলি যখন মজলিস ছেয়ে ফেলল, তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবায় আপন চাঁদরে নাক ঢেকে ফেলল। তারপর বলল, আমাদের এখানে ধুলো উড়িয়ো না।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদরকে সালাম করলেন। তারপর বাহন থেকে অবতরণ করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিলেন এবং তাদেরকে কুরআন মজীদ পাঠ করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উবায় বলল, এই লোকটি! তুমি যা বলছ তা যদি সত্যি হয় তাহলে এর চেয়ে উত্তম কিছুই নেই।

তবে আমাদের মজলিসে আমাদেরকে জ্বালাতন করবে না। তুমি তোমার তাবুতে যাও। যে তোমার কাছে যাবে তুমি তাকে তোমার কথা বলবে।

অনন্তর আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের মজলিসে এগুলো আমাদের কাছে বলবেন, কারণ আমরা তা পছন্দ করি।

এতে মুসলমান, মুশরিক এবং ইহুদীরা পরস্পর গালাগালি শুরু করল। এমনকি তারা মারামারিতে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে থামাচ্ছিলেন। অবশেষে তারা থামলো।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্তুর পিঠে আরোহণ করে রওয়ানা দিলেন এবং সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) এর কাছে গেলেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে সা’দ! আবূ হুবাব অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু উবায় কি বলেছে, তুমি শুনেছ কি! সে এমন বলেছে। সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দিন। তার দিকে ভ্রক্ষেপ করবেন না।

যিনি আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ আপনার উপর যা নাযিল করেছেন তা সত্য। এতদঞ্চলের অধিবাসীগণ চুক্তি সম্পাদন করেছিল যে, তাকে শাহী টুপি পরাবে এবং নেতৃত্বের শিরস্ত্রানে ভুষিত করবে।

যখন আল্লাহ তাআলা সত্য প্রদানের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা অস্বীকার করলেন তখন সে ক্রদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং আপনার সাথে যে ব্যবহার করেছে যা আপনি দেখেছেন।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাঃ) মুশরিক এবং কিতাবীদেরতে ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের জ্বালাতনে ধৈর্যধারণ করতেন।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘‘তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের এবং মুশরিকদের নিকট থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে (৩ঃ ১৮৬)।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন, ‘‘তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও কিতাবীদরে মধ্যে অনেকই তোমাদের ঈমান আনার পর ঈর্ষামূলক মনোভাববশত আবার তোমাদেরকে সত্য প্রত্যাখানকারীরূপে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা করে।

তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর, যতক্ষণ না আল্লাহ কোন নির্দেশ দেন। আল্লাহর সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’’ (২: ১০৯)

আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মোতাবেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন। শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা অনুমতি দিলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদরের যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কাফের কুরাইশ নেতাদেরকে হত্যা করলেন তখন ইবনু উবায় ইবনু সালুল তার সঙ্গী মুশরিক ও প্রতিমা পূজারীরা বলল, এটাতো এমন একটি ব্যাপার যা বিজয় লাভ করেছে।

এরপর তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ইসলামের বায়আত করে জাহেরীভাবে ইসলাম গ্রহণ করল।

হাদিস নম্বরঃ ৪২১১ | 4211 | ٤۲۱۱

পরিচ্ছদঃ ২৩২৩. আল্লাহর বাণীঃ যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নিজেরা যা করেনি এমন কার্যের জন্যে প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, এরূপ আপনি কখনো মনে করবেন না। তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে (৩ঃ ১৮৮)
৪২১১। সাঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তিনি যখন যুদ্ধে বের হতেন তখন কিছু সংখ্যক মুনাফিক ঘরে বসে থাকত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে যাওয়ার পর বসে থাকতে পারার আনন্দ প্রকাশ করত।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করলে তাঁর কাছে শপথ সহকারে অক্ষমতা প্রকাশ করত এবং যা করেনি তার জণ্যে প্রশংসিত হওয়াকে ভালবাসত। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ لاَ يَحْسِبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ‏

হাদিস নম্বরঃ ৪২১২ | 4212 | ٤۲۱۲

পরিচ্ছদঃ ২৩২৩. আল্লাহর বাণীঃ যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নিজেরা যা করেনি এমন কার্যের জন্যে প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, এরূপ আপনি কখনো মনে করবেন না। তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে (৩ঃ ১৮৮)
৪২১২। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস অবহিত করেছেন যে, মারওয়ান (রাঃ) তাঁর দারোয়ানকে বললেন, হে নাফি! তুমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে গিয়ে বল, যদি প্রাপ্ত বস্তুতে আনন্দিত এবং করেনি এমন কাজ সম্পর্কে প্রশংসিত হতে আশাবাদী প্রত্যেক ব্যাক্তই শাস্তি প্রাপ্ত হয় তাহলে তাবৎ মানুষই শাস্তি প্রাপ্ত হবে।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামানো হচ্ছে একটা অবান্তর ব্যাপার। একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদেরকে ডেকে একটা বিষয় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাতে তারা সত্য গোপন করে বিপরীত তথ্য দিয়েছিল।

এতদসত্বেও তারা প্রদত্ত উত্তরের বিনিময়ে প্রশংসা লাভের আশা করেছির এবং তাদের সত্য গোপনের জন্য উল্লাসিত হয়েছিল।

তারপর ইবনু আব্বাস (রাঃ) পাঠ করলেন- وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ‏}‏ … ‏{‏يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا‏ ‘‘স্মরণ কর, যদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, তোমরা এটা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না।

এরপরও তারা তা অগ্রহ্য করে এবং তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে। অতএব তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট! যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্ত প্রকাশ করে এবং যা করেনি এমন কাজের জণ্যে প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে এরূপ তুমি কখনো মনে করো না, তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে (৩ঃ ১৮৭-১৮৮)।

বর্ণনাকারী আবদুর রাযযাক (রহঃ) ইবনু জুরায়য (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-১ |

হাদিস নম্বরঃ ৪২১৩ | 4213 | ٤۲۱۳

পরিচ্ছদঃ ২৩২৩. আল্লাহর বাণীঃ যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নিজেরা যা করেনি এমন কার্যের জন্যে প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, এরূপ আপনি কখনো মনে করবেন না। তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে (৩ঃ ১৮৮)
৪২১৩। ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … হুমাইদ ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) অবহিত করেছেনযে, মারওয়ান এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২১৪ | 4214 | ٤۲۱٤

পরিচ্ছদঃ ২৩২৪. আল্লাহর বাণীঃ আকশমন্ডল এবং পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকের জন্য (৩ঃ ১৯০)
৪২১৪। সাঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি আমার খালাম্মা মায়মুনা (রাঃ) এর কাছে রাত্রি যাপন করেছিলাম।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ তাঁর পরিবারবর্গের সাখে আলাপ-আলোচনা করে শুয়ে পড়লেন। তারপর রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে তিনি উঠলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে পাঠ করলেন إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ এরপর দাঁড়ালেন এবং ওযু করে মিসওয়াক করে এগার রাকায়াত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলে তিনি দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

তারপর বের হয়ে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২১৫ | 4215 | ٤۲۱۵

পরিচ্ছদঃ ২৩২৫. আল্লাহর বাণীঃ যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে (৩ঃ ১৯১)
৪২১৫। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালাম্মা মায়মুনা (রাঃ) এর কাছে রাত্রি যাপন করি। আমি মনে স্থির করলাম যে, অবশ্যই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা দেখব।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটা বিছানা বিছিয়ে দেয়া হল। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটার লম্বালম্বি দিকে নিদ্রামগ্ন হলেন।

এরপর জাগ্রত হয়ে মুখমন্ডল থেকে ঘুমের রেশ মুছতে লাগলেন এবং সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করে তা সমাপ্ত করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের পানি পাত্রের নিকট এসে তা নিলেন এবং ওযু করে সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ালেন, আমি দাঁড়িয়ে তিনি যা যা করছিলেন তা তা করলাম।

তারপর আমি এসে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন, তারপর আমার কান ধরে মলতে লাগলেন। তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২১৬ | 4216 | ٤۲۱٦

পরিচ্ছদঃ ২৩২৬. আল্লাহর বাণীঃ হে আমাদের রব! কাউকে আপনি অগ্নিতে নিক্ষেপ করলে তাকে তো আপনি নিশ্চয় হেয় করলেন এবং জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই (৩ঃ ১৯২)
৪২১৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে তিনি মায়মুনা (রাঃ)-এর কাছে রাত্রি যাপন করেন, তিনি হলেন তার খালাম্মা।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়েছিলাম আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ লম্বালম্বি দিকে শুয়েছিলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য পূর্ব অথবা সামান্য পর পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হলেন।

এরপর দু’হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের কাছে গেলেন এবং তা থেকে পরিপাটিভাবে উজু করলেন। এরপর সালাতে দাঁড়ালেন। তিনি যা যা করেছিলেন আমিও ঠিক তা করলাম। তারপর গিয়ে তার পার্শ্বে দাঁড়ালাম।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান ধরে মলতে লাগলেন। এরপর তিনি দু’রাকাত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

তারপর তিনি একটু শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াজ্জ্বীন আসল, তিনি হালকাভাবে দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর বের হলেন এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২১৭ | 4217 | ٤۲۱۷

পরিচ্ছদঃ ২৩২৭. আল্লাহর বাণীঃ হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় আমরা এক আহবানকারীকে ঈমানের প্রতি আহবান করতে শুনেছি, ‘তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনয়ন কর’ অতএব আমরা ঈমান এনেছি (৩ঃ ১৯৩)
৪২১৭।

কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী মায়মূনা (রাঃ) এর নিকট রাত্রি যাপন করেছিলেন। মায়মূনা (রাঃ) হলেন তাঁর খালাম্মা।

তিনি বলেন, আমি বিছানার প্রস্থের দিকে শুয়েছিলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ দৈর্ঘ্যের দিকে শুয়েছিলেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রামগ্ন হয়েছিলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্যাগে কিংবা সামান্য পরক্ষনে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন।

এবং মুখ থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে মুছতে বসলেন। তারপর সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। এরপর সালাতে দাঁড়ালেন।

তারপর ঝুলন্ত একটি পরাতন মশকের দিকে গিয়ে ভালভাবে ওযু করলেন। এরপর সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা করেছেন আমিও তা করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান মলতে শুরু করলেন।

তারপর তিনি দু’ রাকাআত ছয়বারে বারো রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তারপর তিনি বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

শেষে মুয়াযযিন ফজরের আযান দিলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত কিরাআতে দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর হুজরা থেকে বের হলেন এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-১ |

হাদিস নম্বরঃ ৪২১৮ | 4218 | ٤۲۱۸

পরিচ্ছদঃ ২৩২৮. আল্লাহর বাণীঃ আর যদি আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে (নিসা ৪ঃ ৩)
সুরা নিসা

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : {يَسْتَنْكِفُ} يَسْتَكْبِرُ. {قِوَامًا} : قِوَامُكُمْ مِنْ مَعَايِشِكُمْ. {لَهُنَّ سَبِيْلًا} يَعْنِي الرَّجْمَ لِلثَّيِّبِ، وَالْجَلْدَ لِلْبِكْرِ. وَقَالَ غَيْرُهُ : {مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاع} يَعْنِي اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثًا وَأَرْبَعًا وَلَا تُجَاوِزُ الْعَرَبُ رُبَاعَ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يَسْتَنْكِفُ অহঙ্কার করে, قِوَامًا -তোমাদের জীবিকার্জনের মাধ্যম। لَهُنَّ سَبِيْلًا -সাইয়েবা বা বিবাহিতার জন্য প্রস্তর নিক্ষেপ (রজম) আর কুমারীর জন্য বেত্রাঘাত। তিনি ব্যতীত অন্যান্য তাফসীরকারক বলেন, مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاع অর্থাৎ দুই, তিন এবং চার; আরবগণ رُبَاعَ শব্দকে غير منصرف বা অপরিবর্তনশীল শব্দ মনে করে।

৪২১৮। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তির তত্ত্বাবধানে এক ইয়াতীম বালিকা ছিল। এরপর সে তাকে বিয়ে করল, সে বালিকার একটি বাগান ছিল।

তার অন্তরে ঐ বালিকার প্রতি কোন আকর্ষণ না থাকা সত্ত্বেও বাগানের কারণে সে ঐ বালিকাটিকে সে বিবাহ করে রেখে দিতে চায়। এ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয়।

আর যদি আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। আমার ধারণা যে, উরওয়া বলেন, ইয়াতীম বালিকাটি সে বাগান ও মালের মধ্যে শরীক ছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৪২১৯ | 4219 | ٤۲۱۹

পরিচ্ছদঃ ২৩২৮. আল্লাহর বাণীঃ আর যদি আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে (নিসা ৪ঃ ৩)

৪২১৯। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ‘উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন মহান আল্লাহ বাণী وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى‏ সম্পর্কে। তিনি উত্তরে বললেন, হে ভাগ্নে! সে হচ্ছে পিতৃহীন বালিকা, অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তার সম্পত্তিতে অংশীদার হয় এবং তার রূপ ও সম্পদ তাকে (অভিভাবককে) আকৃষ্ট করে।

এরপর সে অভিভাবক উপযুক্ত মোহরানা না দিয়ে তাকে বিবাহ করতে চায়। তদুপরি অন্য ব্যাক্তি যে পরিমাণ মোহর দেয় তা না দিয়ে এবং তার প্রতি ন্যায় বিচার না করে তাকে বিয়ে করতে চায়।

এরপর তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মোহর এবং ন্যায় ও সমুচিত মোহর প্রদান ব্যতীত তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং তদ্ব্যতীত যে সকল মহিলা পছন্দ হয় তাদেরকে বিয়ে করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

‘উরওয়া (রহঃ) বলেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন, ‏وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ৈ জানতে চায়।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী অন্য এক আয়াতে— তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ কর। ইয়াতীম বালিকার ধন-সম্পদ কম হলে এবং সুন্দরী না হলে তাকে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করো না।

আয়েশো (রাঃ) বলেন, তাই ইয়াতীম বালিকাদের মাল ও সৌন্দর্যের আকর্ষনে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ন্যায় বিচার করলে ভিন্ন কথা। কেননা তারা সম্পদের অধিকারী না হলে তাদেরকেও বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪২২০ | 4220 | ٤۲۲۰

পরিচ্ছদঃ ২৩২৯. আল্লাহর বাণীঃ এবং যে বিত্তহীন সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। তোমরা যখন তাদেরকে তাদের সম্পদ সমর্পণ করবে তখন সাক্ষী রাখবে (৪ঃ ৬) بِدَارًا অর্থ مبادرة তাড়াতাড়ি। أعددنا অর্থ أعتدنا অর্থাৎ প্রস্তুত করে রেখেছি। আর أعددنا – عتاد থেকে أفعلنا এর ওযনে।
৪২২০। ইসহাক (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর বাণী وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ বিত্তশালী গ্রহণ করবে না।

অবতীর্ণ হয়েছে ইয়াতীমের সম্পদ উপলক্ষ্যে, যদি তত্ত্বাবধায়ক বিত্তহীন হয় তাহলে রক্ষনাবেক্ষণের বিনিময়ে সংগত পরিমাণে তা থেকে ভোগ করবে।

পরিচ্ছদঃ ২৩৩০. আল্লাহর বাণীঃ সম্পত্তি বণ্টনকালে আত্মীয়, ইয়াতীম এবং অভাবগ্রস্থ লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে তা হতে কিছু দেবে এবং তাদের সাথে সদালাপ করবে (৪ঃ ৮)
৪২২১। আহমদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়াতটি সুস্পষ্ট, রহিত বা মানসুখ নয়। সাঈদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে ইকরামা (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর বাণী ‏يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ‏ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন। (৪ঃ ১১)

হাদিস নম্বরঃ ৪২২২ | 4222 | ٤۲۲۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৩০. আল্লাহর বাণীঃ সম্পত্তি বণ্টনকালে আত্মীয়, ইয়াতীম এবং অভাবগ্রস্থ লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে তা হতে কিছু দেবে এবং তাদের সাথে সদালাপ করবে (৪ঃ ৮)
৪২২২। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) বনী সালমা গোত্রে পদব্রজে আমার রোগ সম্পর্কে খোজ খবর নিতে গিয়েছিলেন।

অনন্তর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেলেন। কাজেই তিনি পানি আনালেন এবং ওযু করে ওযুর পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন।

তখন আমি হুশ ফিরে পেলাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পত্তিতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনি আমাকে নির্দেশ দেবেন? তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ

হাদিস নম্বরঃ ৪২২৩ | 4223 | ٤۲۲۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৩১. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ তোমাদের জন্য (৪ঃ ১২)
৪২২৩। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যাক্তির সম্পদ ছিল সন্তানের জন্য, আর ওসীয়ত ছিল পিতামাতার জন্য।

এরপর তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর পছন্দ অনুযায়ী কিছু রহিত করলেন এবং পুরুষদের জন্য মহিলার দ্বিগুন নির্ধারণ করলেন।

পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য ৬ ভাগের ১ অংশ ও ৩ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন, স্ত্রীদের জন্য ৮ ভাগের ১ ও ৪ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন এবং স্বামীর জন্য ২ ভাগের ১ ও ৪ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২২৪ | 4224 | ٤۲۲٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৩২. আল্লাহর বাণীঃ হে ঈমানদারগণ! নারীদেরকে যবরদস্তি তোমাদের উত্তরাধিকারী গণ্য করা বৈধ নহে (৪ঃ ১৯) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত لَا تَعْضُلُوْهُنَّ তাদের উপর বল প্রয়োগ করো না।

حُوْبًا -গুনাহ, تَعُوْلُوْا ঝুঁকে পড়। نِحْلَةً মোহর।
৪২২৪। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‏يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا وَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে অবস্থা এরূপ ছিল যে, কোন ব্যাক্তি মারা গেলে তার অভিভাবকগণ তার স্ত্রীর উপর দাবিদার হত। তারা ইচ্ছা করলে ঐ মহিলাকে বিয়ে করত।

ইচ্ছে করলে অন্যের কাছে বিয়ে দিত। আর নতুবা তাকে আমরণ আটকে রাখত। কারো কাছে বিয়ে দিত না। মহিলার পরিবারের তুলনায় এরা অধিক দাবিদার ছিল। এরপর এ আয়াত নাযিল হল।

হাদিস নম্বরঃ ৪২২৫ | 4225 | ٤۲۲۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৩. আল্লাহর বাণীঃ পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যাক্ত সম্পত্তির প্রত্যেকটির জন্য আমি উত্তরাধিকারী করেছি এবং যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারবদ্ধ তাদেরকে তাদের অংশ দেবে।

আল্লাহ সর্ববিষয়ের দ্রষ্টা (৪ঃ ৩৩)
مَوَالِيْ এক প্রকার হচ্ছে সে সকল আত্মীয়, যারা রক্ত সম্বন্ধের উত্তরাধিকারী। অপরপক্ষ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ অর্থাৎ চুক্তিবদ্ধ উত্তরাধিকারী। আবার مَوْلَى চাচাত ভাই, مَوْلَى الْمُنْعِمُ যে দাস মুক্ত করে, مَوْلَى আযাদকৃত দাস, مَوْلَى বাদশাহ, مَوْلَى মহাজন।

৪২২৫। সালত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‏وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ‏ হচ্ছে বংশীয় উত্তরাধিকারী, وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ হচ্ছে মুহাজিরগণ যখন মদিনায় এসেছিলেন তখন তারা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতেন।

আত্মীয়তার কারণে নয় বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের স্থাপনের কারণে। যখন وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ‏ নাযিল হল, তখন এ হুকুম রহিত হয়ে গেল।

তারপর বললেন, যাদের সাথে তোমরা চুক্তি করে থাক সাহায্য সহযোগীতা ও পরস্পরের উপকার করার। পূর্বতন উত্তরাধিকার বিলুপ্ত হল এবং এদের জন্য ওসীয়ত বৈধ।

হাদীসটি আবূ উসামা ইদ্রিসের কাছে এবং ইদ্রিস তালহার কাছে থেকে শুনেছেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-১ |

হাদিস নম্বরঃ ৪২২৬ | 4226 | ٤۲۲٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৪. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না। مثقال ذرة এর অর্থ অনু পরিমান
৪২২৬। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একদল লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের প্রভুকে দেখব?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। গ্রীষ্মকালের মেঘবিহীন ভর দুপুরের প্রখর কিরণ বিশিষ্ট সূর্য দেখতে তোমরা কি পরস্পর ভিড় করে থাক? তারা বলল, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্ণিমার রাতে মেঘবিহীন আলো বিশিষ্ট চন্দ্র দেখতে গিয়ে তোমরা কি ভিড় কর?

আবার তারা বলল, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদের কোনটিকে দেখতে যেমন ভিড় করো না; কিয়ামতের দিনও আল্লাহকে দেখতেও তোমরা পরস্পর ভিড় করবে না।

কিয়ামত যখন আসবে তখন এক ঘোষক ঘোসণা দেবে। তখন প্রত্যেকেই আপন আপন উপাস্যের অনুসরণ করবে। আল্লাহ ব্যতীত প্রতিমা ও পাথর ইত্যাদির যারা পূজা করেছে, তারা সবাই দোযখে গিয়ে পড়বে, একজনও অবশিষ্ট থাকবে না।

পুণ্যবান হোক চাই পাপী, এরা এবং আল্লাহ অবশিষ্ট বিশ্বাসীরা ব্যতীত যখন আর কেউ থাকবে না, তখন ইহুদীদেরকে ডেকে বলা হবে, তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র উযাইরের ইবাদত করতাম। তাদেরকে বলা হবে যে, তোমরা মিথ্যা বলছ।

আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি পুত্রও গ্রহণ করেননি। তোমরা কি চাও? তারা বলবে, হে প্রভু! আমরা তৃষ্ণার্ত, আমাদেরকে পানি পান করান। এরপর তাদেরকে ইঙ্গিত করা হবে যে, তোমরা পানির ধারে যাওনা কেন?

এরপর তাদেরকে দোযখের দিকে একত্র করা হবে তা যেন মরুভূমির মরিচীকা, এক এক অংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে। অনন্তর তারা সবাই দোযখে পতিত হবে।

তারপর খ্রিষ্টানদেরকে ডাকা হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র মসীহের ইবাদত করতাম। তাদেরকে বলা হবে তোমরা মিথ্যা বলছ।

আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি এবং পুত্রও নয়। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কি চাও? তারা প্রথম পক্ষের মত বলবে, এবং তাদের মত দোযখে নিপতিত হবে।

অবশেষে পুণ্যবান হোক কিংবা পাপী হোক আল্লাহর উপাসকগণ ব্যতীত আর কেউ যখন বাকি থাকবে না, তখন তাদের কাছে পরিচিত রূপের নিকটতম একটি রূপ নিয়ে রাববুল আলামীন তাদের কাছে আবির্ভূত হবেন। এরপর বলা হবে, প্রত্যেক দল নিজ নিজ উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে।

তোমরা কিসের অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, দুনিয়াতে এ সকল লোকের প্রতিামাদের চরম প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমরা সেখানে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছি এবং তাদের সাথে মেলামেশা করিনি।

এখন আমরা আমাদের প্রতিপালকের অপেক্ষায় আছি, আমরা তাঁর ইবাদত করতাম। এরপর তিনি বলবেন, আমিই তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করব না। এ কথাটি দু’বার কি তিনবার বলবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২২৭ | 4227 | ٤۲۲۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৫. আল্লাহর বাণীঃ যখন প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে ওদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব তখন কী অবস্থা হবে (৪ ঃ ৪১) الْخَتَّالُ الْمُخْتَالُ একই অর্থে ব্যবহৃত, দাম্ভিক। نَطْمِسَ সমান করে দেব। শেষ পর্যন্ত তাদের গর্দানের পশ্চাৎদিকের মতো হয়ে যাবে।

طَمَسَ الْكِتَابَ কিতাবের লেখা মুছে ফেলা। سَعِيْرًا জ্বলন্ত।
৪২২৭। সাদকাহ (রহঃ) … আমর ইবনু মুররা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ কর।

আমি বললাম, আমি আপনার কাছে পাঠ করব? অথছ তা আপনার কাছেই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, অন্যের মুখে শ্রবণ করাকে আমি পছন্দ করি।

এরপর আমি তাঁর নিকপ ‘সূরা নিসা’ পড়লাম, যখন আমি فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا পর্যন্ত পাঠ করলাম, তিনি বললেন, থাম, থাম, তখন তাঁর দুচোখ থেকে টপ টপ করে অশ্রু নির্গত হচ্ছিল।

আল্লাহর বাণীঃ وإن كنتم مرضى أو على سفر أو جاء أحد منكم من الغائط আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচ স্থান থেকে আসে ’’(৪: ৪৩)। صَعِيْدًا মাটির উপরি ভাগ।

জাবির (রাঃ) বলেন যে সকল তাগুদের কাছে তারা বিচারের জন্য যেত তাদের একজন ছিল বুহাইনা গোত্রের, একজন আসলাম গোত্রের এবং এভাবে প্রত্যেক গোত্রে এক-একজন করে তাগুত ছিল। তারা হচ্ছে গণক। তাদের কাছে শয়তান আসত।

‘উমার (রাঃ) বলেন, الْجِبْتُ জাদু, وَالطَّاغُوْتُ শায়তান। ‘ইকরামাহ (রাঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় শায়ত্বনকে الْجِبْتُ বলা হয়। আর গণককে طَّاغُوْتُ বলা হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪২২৮ | 4228 | ٤۲۲۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৫. আল্লাহর বাণীঃ যখন প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে ওদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব তখন কী অবস্থা হবে (৪ ঃ ৪১) الْخَتَّالُ الْمُخْتَالُ একই অর্থে ব্যবহৃত, দাম্ভিক। نَطْمِسَ সমান করে দেব। শেষ পর্যন্ত তাদের গর্দানের পশ্চাৎদিকের মতো হয়ে যাবে।

طَمَسَ الْكِتَابَ কিতাবের লেখা মুছে ফেলা। سَعِيْرًا জ্বলন্ত।
৪২২৮। মুহাম্মদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট থেকে আসমা (রাঃ) এর একটি হার হারিয়ে গিয়েছিল।

তা খোজতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন লোক পাঠিয়েছিলেন। তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হল, তাদের কাছে পানি ছিল না।

আবার ওযুর পানিও পেলেন না। এরপর বিনা ওযুতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ফেললেন। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের বিধান নাযিল করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২২৯ | 4229 | ٤۲۲۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৬. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসুলের এবং তাদের, যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী।

কোন বিষয়ে তোমাদের মতভেদ থাকলে তা উপস্থিত কর, আল্লাহ ও রাসুলের কাছে তা-ই উত্তম এবং পরিনামে প্রকৃষ্টতর (৪ঃ ৫৯) وَأُولِي الأَمْرِ – দায়িত্বশীল।
৪২২৯। সাদাকাহ ইবনু ফাযল (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ‏ আয়াতটি নাযিল হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা ইবনু কায়স ইবনু আদী সম্পর্কে যখন তাঁকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্য দলের প্রধান করে প্রেরণ করেছিলেন।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-১ |

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩০ | 4230 | ٤۲۳۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৭. আল্লাহর বাণীঃ কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারাভার আপনার উপর অর্পণ না করে; এরপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরনে তা মেনে না নেয় (৪ঃ ৬৫)

৪২৩০। ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) … উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হারব বা মদিনার কঙ্করময় ভূমিতে একটি পানির নালা নিয়ে একজন আনসার যুবায়র (রাঃ) এর সাথে ঝগড়া করছিলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে যুবায়র! প্রথমত তুমি তোমার জমিতে পানি দাও, তারপর তুমি প্রতিবেশীর জমিতে পানি ছেড়ে দিবে।

আনসারী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আপনার ফুফাত ভাই, তাই এই ফয়সালা দিলেন। এতে অসন্তুষ্টিবশত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল।

তারপর তিনি বললেন, হে যুবায়র! তুমি পানি চালাবে তারপর আইল পর্যন্ত ফিরে না আসা পর্যন্ত তা আটকে রাখবে তারপর প্রতিবেশীর জমির দিকে ছাড়বে।

আনসারী যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাগিয়ে তুললেন তখন তিনি তার হক পুরোপুরি যুবায়র (রাঃ) কে প্রদানের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে প্রথমে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে উদারতা ছিল।

যুবায়র (রাঃ) বলেন, فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ আয়াতটি এই উপলক্ষে নাযিল হয়েছে বলে আমার ধারনা।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩১ | 4231 | ٤۲۳۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৮. আল্লাহর বাণীঃ কেউ আল্লাহএবং রসূলের আনুগত্য করে ……… যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। (সূরাহ আন-নিসা ৪ঃ ৬৯)
৪২৩১। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হাওশাব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক নাবী অন্তিম সময়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোন একটি নির্বাচন করার এখতিয়ার দেওয়া হয়।

যে অসুস্থতায় তাকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে সে অসুস্থতায় তাঁর ভিষণ শাসকষ্ট আরম্ভ হয়েছিল। সে সময় আমি তাঁকে ‏مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ [তাঁরা নাবীগণ, সত্যনিষ্ঠ শহীদ ও সৎকর্মপরায়ন যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, তাঁদের সঙ্গী হবেন (৪: ৬৯)] বলতে শুনেছি। এরপর আমি বুঝে নিয়েছি যে তাঁকে ইখতিয়ার (শাসকষ্ট) দেওয়া হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩২ | 4232 | ٤۲۳۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৯. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের কী হল যে, তোমরা যুদ্ধ করবে না আল্লাহর পথে এবং অসহায় নর-নারী ও শিশুগণের জন্য … যার অধিবাসী জালিম (৪ঃ ৭৫)

৪২৩২। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছিলেন যে, আমি এবং আমার আম্মা (আয়াতে উল্লিখিত) অসহায়দের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।

তাফসীর অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৭ম খণ্ড | পার্ট-১ |

হাদিস নম্বরঃ ৪২৩৩ | 4233 | ٤۲۳۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৯. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের কী হল যে, তোমরা যুদ্ধ করবে না আল্লাহর পথে এবং অসহায় নর-নারী ও শিশুগণের জন্য … যার অধিবাসী জালিম (৪ঃ ৭৫)
৪২৩৩।

সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … ইবনু আবূ মূলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) الاَّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ‏ ‘‘তবে যেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু (৪ঃ ৯৮) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন, আল্লাহ যাদের অক্ষমতা অনুমোদন করেছেন আমি এবং আমার আম্মা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।

ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত حَصِرَتْ‏ সংকুচিত হয়েছে। ‏تَلْوُوا‏ أَلْسِنَتَكُمْ بِالشَّهَادَةِ‏ সাক্ষ্য দিতে তাদের জিহবা বক্র হয়। الْمُرَاغَمُ الْمُهَاجَرُ হিজরতের স্থান, رَاغَمْتُ قَوْمِي আমার গোত্রকে ছেড়ে দিয়েছি, ‏مَوْقُوتًا এবং مُوَقَّتًا তাদের উপর সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

যুদ্ধাভিযান (অবশিষ্ট অংশ) – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৭ম খণ্ড

 

মন্তব্য করুন