তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪২০১-৪৩০০

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭১ | 4271 | ٤۲۷۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৭. আল্লাহর বাণীঃ তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তো তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে মাফ কর, তবে তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৫ঃ ১১৮)
৪২৭১। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমাদের হাশর করা হবে এবং কিছু সংখ্যক লোককে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন আমি পুণ্যবান বান্দার অর্থাৎ ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর মত বলব- ‏وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭২ | 4272 | ٤۲۷۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৮. আল্লাহর বাণীঃ অদৃশ্যের কুঞ্জি তারই কাছে রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না (৬ঃ ৫৯)
সুরা আল-আন‘আম

ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, فِتْنَتُهُمْ ওযর পেশ করা, অক্ষমতা পেশ করা, مَعْرُوْشَاتٍ আঙ্গুরলতা ইত্যাদি যেগুলোকে উঁচুতে তুলে দেয়া হয়, لاُنْذِرَكُمْبِهِ তোমাদেরকে কথা দ্বারা সতর্ক করার জন্য, অর্থাৎ মক্কাবাসীকে, حَمُوْلَةً বহনকারী, لَلَبَسْنَ আমি তাদেরকে বিভ্রমে ফেলতাম,َيَنْأَوْنَ তারা দূরে থাকে, تُبْسَلُ অপমানিত হওয়া, أُبْسِلُوْا তারা অপমানিত হয়েছে, الْبَسْطُ-بَاسِطُوْأَيْدِيْهِمْ আঘাত করা, اسْتَكْثَرْتُمْ অনেককেই বিপথগামী করেছ, ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ তাদের ফল-মূল ও ধন-সম্পদ থেকে এক অংশ আল্লাহর জন্যে নির্ধারণ করেছে আর একাংশ শায়ত্বন ও দেব-দেবীর জন্য।

أَمَّا اشْتَمَلَتْ অর্থাৎ জরায়ুতে নর কিংবা মাদী ব্যতীত অন্য কিছু থাকে কি? সূতরাং কেন তোমরা কতক হারাম আবার কতক হালাল কর? مَسْفُوْحًا প্রবাহিত, صَدَفَ মুখ ফিরিয়েছে, أُبْلِسُوْا তারা নিরাশ হয়েছে, أُبْلِسُوْا সমর্পণ করা হয়েছে, سَرْمَدًا অনন্তকাল, اسْتَهْوَتْهُ তাকে বিপথগামী করেছে, تَمْتَرُوْنَ তোমরা সন্দেহ পোষণ করছ, وَقْرٌ বধিরতা, তবে الْوِقْرُ মানে বোঝা, أَسَاطِيْرُ বহুবচন, এক বচনে أُسْطُوْرَةٌ এবং إِسْطَارَةٌ মিথ্যা গল্প, الْبَأْسَاءُ কঠোরতা بَأْسٌ থেকে উৎপন্ন কখনো কখনো بُأْسٌ থেকে আসে, جَهْرَةً সরাসরি, الصُّوَرُ হচ্ছে صُوْرَةٍ-এর বহু বচন, যেমন سَوْرَةٌ এর বহু বচন سَوَر।مُلْك-مَلَكُوْتٌ রাজত্ব যেমন رَحْمَةٌ থেকে رَحْمُوْةٌ থেকে رَهْبُ থেকে رَهْبُوْتٌ আরবে প্রবাদ আছে جَنَّ ارَهْبُوْتٌ خَيْرٌ مِنْ رَحْمُوْتٌ – تُرْهَبُ خَيْرٌ مِنْ اَنْ تُرْحَمَ অন্ধকার হল, عَلَى اللهِ حُسْبَانُهُ মানে তার হিসাব আল্লাহর কাছে কখনো কখনো বা হয়, حُسْبَانًا মানে শায়ত্বনের জন্যে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ উৎক্ষেপণ এবং উল্কাপিন্ড।

مُسْتَقِرٌ পৃষ্ঠে অবস্থান, مُسْتَوْدَعٌ জরায়ুতে অবস্থান, الْقِنْوُ কাঁদি, দ্বিবচনে قِنْوَانُ বহুবচনেরও قِنْوَانُ যেমন صِنْوَانِ-صِنْوٍ

৪২৭২। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অদৃশ্যের কুঞ্জি পাঁচটি – ‘‘কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছে রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে, কেউ জাননা আগামীকাল সে কি অর্জন করবে এবং কেউ জাননা কোন স্থানে তাঁর মৃত্যু ঘটবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত। (৩১ঃ ৩৪)

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭৩ | 4273 | ٤۲۷۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৬৯. আল্লাহর বাণীঃ বল, তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে শাস্তি প্রেরণ করতে কিংবা তলদেশ থেকে (তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং একদল অপর দলের সংঘর্ষের আস্বাদ গ্রহন করাতে তিনি সক্ষম।

দেখ, কী রূপ বিভিন্ন প্রকারের আয়াত বিবৃত করি যাতে তারা অনুধাবন করে (৬ঃ ৬৫) )
يَلْبِسَكُمْ শব্দটিالْتِبَاسٌ থেকে উৎসারিত, তোমাদেরকে মিশ্রিত করে দিবেন,يَلْبِسُوْا তারা মিশ্রিত হয়,شِيَعًا বিভিন্ন দল।

৪২৭৩। আবূ নূ‘মান (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, যখনই এই আয়াত ‏قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ নাযিল হল তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আবার যখন ‏أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ‏ অবতীর্ণ হল তখনও বললেন আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

এবং যখন ‏أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ নাযিল হল তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তুলনামূলকভাবে হালকা, তিনি هَذَا أَهْوَنُ কিংবা هَذَا أَيْسَرُ বলেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭৪ | 4274 | ٤۲۷٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৭০. আল্লাহর বাণীঃ এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করে নি (৬ঃ ৮২)
৪২৭৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, যখন ‏وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ‏ আয়াত নাযিল হল, তখন তাঁর সাহাবাগণ বললেন, ‘‘জুলুম করেনি আমাদের মধ্যে এমন কে আছে?’’ এরপর নাযিল হল ‏إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ‏ নিশ্চয় শিরক চরম জুলুম।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭৫ | 4275 | ٤۲۷۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৭১. আল্লাহর বাণীঃ ইউনুস ও লুতকে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্বজগতের উপর প্রত্যেককে (৬ঃ ৮৬)
৪২৭৫। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ‘‘আমি ইউনুস এবং মাত্তা থেকে উত্তম’’ এ উক্তি করা কারো জন্য উচিত নয়।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭৬ | 4276 | ٤۲۷٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৭১. আল্লাহর বাণীঃ ইউনুস ও লুতকে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্বজগতের উপর প্রত্যেককে (৬ঃ ৮৬)
৪২৭৬। আদম ইবনু আবূ আয়াস (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ‘‘আমি ই্নুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম’’ এ উক্তি করা কারো জন্য উচিত নয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭৭ | 4277 | ٤۲۷۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৭২. আল্লাহর বাণীঃ তাদেরকে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেছেন সুতরাং তুমি তাদের পথ অনুসরণ কর (৬ঃ ৯০)
৪২৭৭। ইবরাহীম ইবনু মূসা … মুজাহিদ ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, সূরা “ص” এ সিজদা আছে কি না। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ আছে।

এরপর এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন- وَوَهَبْنَا‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ তারপর বললেন যে তিনি অর্থাৎ দাউদ (আলাইহিস সালাম) তাদের অন্তর্ভুক্ত ইয়াযিদ ইবনু হারূন, মুহাম্মদ ইবনু উবায়দ এবং সাহল ইবনু ইউসুফ আওয়াম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ বললেন যে, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এরপর তিনি বললেন, যাদের অনুসরণ করতে নির্দেশ করা হয়েছে তোমাদের নাবী তাদের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭৮ | 4278 | ٤۲۷۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৭৩. আল্লাহর বাণীঃ ইহুদীদিগের জন্নে নখরযুক্ত সমস্ত পশু নিষিদ্ধ করেছিলাম এবং গরু ও ছাগলের চর্বিও তাদের জন্নে নিষিদ্ধ করেছিলাম। তবে এগুলোর পৃষ্ঠের অথবা অস্রের কিংবা অগ্নিসংলগ্ন চর্বি ব্যতীত, তাদের অবাধ্যতার দরুন তাদেরকে এই প্রতিফল দিয়েছিলাম, আমি তো সত্যবাদী (৬ঃ ১৪৬)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, كُلَّ ذِيْ ظُفُرٍ উট, উটপাখী, الْحَوَايَا অন্ত্রসমূহ। অন্যজন বলেছেন هَادُوْا ইয়াহুদী হয়ে গেছে, তবে আল্লাহর বাণী هُدْنَا মানে تُبْنَا অর্থাৎ আমরা তাওবাহ করেছি, هَائِدٌ تَائِبٌ তাওবাহ্কারী।

৪২৭৮। ‘আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা ইহুদীদেরকে লানত করেছেন, যখন তিনি তাদের উপর চর্বি হারাম করেছেন তখন তারা ওটাকে তরল করে জমা করেছে, তারপর বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করেছে।

আবূ আসিম (রহঃ) … হাদীস বর্ণনা করেছেন জাবির (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৭৯ | 4279 | ٤۲۷۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৭৪. আল্লাহর বাণীঃ প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন হোক অশ্লীল আচরণের নিকটও যাবে না (৬ঃ ১৫১)
৪২৭৯।

হাফস ইবনু উমর (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হারাম কাজে মু’মিনদেরকে বাধা দানকারী আল্লাহর চেয়ে অধিক কেউ নেই, এই জন্যই প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সকল অশ্লীলতা হারাম করেছেন, আল্লাহর স্তুতি প্রকাশ করার চেয়ে প্রিয় তাঁর কাছে অন্য কিছু নেই, সেজন্যই আল্লাহ আপন প্রশংসা নিজেই করেছেন।

আমর ইবনু মুররাহ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ ওয়ায়েলকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি তা আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, এটাকে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হিসাবে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, وَكِيْلٌ রক্ষক ও বেষ্টনকারী, قُبُلًا একবচনে قَبِيْلٌ অর্থাৎ শাস্তি বহু প্রকারের, এগুলোর এক একটি এক এক قَبِيْلٌ বা প্রকার। زُخْرُفٌ বাতিল ও অসার কথাকে শোভনীয় ও অলঙ্কৃত করে প্রকাশ করলে তাকে বলা হয় زُخْرُفٌ। حَرْثٌ حِجْرٌ নিষিদ্ধ, প্রত্যেক নিষিদ্ধ বস্তুকে مَحْجُوْرٌ حِجْرٌ বলা হয়, আবার নির্মিত ঘরও حِجْرٌ, মাদী ঘোড়াকেও حِجْرٌ বলা হয়, عَقْلٌ বা বুদ্ধি-বিবেচনাকেও حِجْى حِجْرٌ বলা হয়।

আবার حِجْرٌ নামক স্থানে হচ্ছে সামূদ গোত্রের স্থান, ভূমির যে অংশকে তুমি নিষিদ্ধ ও সংরক্ষিত ঘোষণা করেছ তার নাম حِجْرٌ। এই জন্যে বাইতুল্লাহ শরীফের হাতীম নামক অংশকে حِجْرٌ বলা হয়, مَقْتُوْلٌ থেকে, যেমন قَتِيْلٌ তেমনি مَحْطُوْمٌথেকে গৃহীত, حَطِيْمٌ ইয়ামামার حِجْرٌ হচ্ছে একটি মনজিল বা ছোট্ট ঘর।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮০ | 4280 | ٤۲۸۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৭৬. আল্লাহর বাণীঃ যেদিন তোমর প্রতিপালকের কোন নির্দেশ আসবে সেদিন তার ঈমান কাজে আসবে না (যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি) (৬ঃ ১৫৮)
২৩৭৫. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ সাক্ষীদেরকে হাযির কর। (৬ঃ ১৫০)

হিজাযীদের পরিভাষায় একবচন, দ্বিবচন এবং বহুবচনের জন্যে هَلُمَّ ব্যবহৃত হয়।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

৪২৮০ মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘পশ্চিম দিক থেকে সূর্যদয়ের পূর্ব পর্যন্ত কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে না।

লোকেরা যখন তা দেখবে, তখন পৃথিবীর সকলে ঈমান আনবে, এবং সেটি হচ্ছে এমন সময় ‘‘পূর্ব ঈমান আনেনি এমন ব্যাক্তির ঈমান তার কাজে আসবে না।’’

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮১ | 4281 | ٤۲۸۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৭৬. আল্লাহর বাণীঃ যেদিন তোমর প্রতিপালকের কোন নির্দেশ আসবে সেদিন তার ঈমান কাজে আসবে না (যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি) (৬ঃ ১৫৮)
৪২৮১।

ইসহাক (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতক্ষন না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যদয় ঘটবে ততক্ষন কিয়ামত হবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করবে, এটাই সেই সময় যখন কোন ব্যাক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ সাধন করবে না।

তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮২ | 4282 | ٤۲۸۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৭৭. আল্লাহর বাণীঃ বল, আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা (৭ঃ ৩৩)
সুরা আ’রাফ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন; وَرِيَاشًا সম্পদ, إِنَّه لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِيْنَ- তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালবাসতেন না, দু‘আ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে, عَفَوْا- তারা সংখ্যাধিক্য হয় এবং তাদের সম্পত্তি প্রাচুর্য লাভ করে, الْفَتَّاحُ বিচারক, افْتَحْ بَيْنَنَا আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দিন। نَتَقْنَا الْجَبَلَ উপরে তুলেছি পর্বত, انْبَجَسَتْ প্রবাহিত হয়েছে,مُتَبَّرٌ ক্ষতিগ্রস্ত, آسَى আমি আক্ষেপ করি, تَأْسَ- আক্ষেপ করবে, অন্যজন বলেছেন أَنْ لَّا تَسْجُدَ সাজদাহ করতে, يَخْصِفَانِ তাঁরা উভয়ে সেলাই করে জোড়া লাগাচ্ছিলেন, مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ বেহেশতের পাতা, উভয়ে সংগ্রহ করেছিলেন এবং পাতা একটা অন্যটার সঙ্গে সেলাই করে জোড়া লাগাচ্ছিলেন, سَوْآتِهِمْ তাঁদের যৌনাঙ্গ, وَمَتَاعٌ إِلٰى حِيْنٍ এখন থেকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত, আরবদের ভাষায় حِيْنُ বলা হয় একটি নির্দিষ্ট সময় থেকে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, الرِّيَاشُوَالرِّيْشُ একই অর্থাৎ পোশাকের বহিরাংশ, قَبِيْلُهُ তার দল সে যে দলের অন্তর্ভুক্ত।

ادَّارَكُوْا একত্রিত হল। মানুষ এবং অন্যান্য জন্তুর ছিদ্রসমূহকে سُمُوْمٌ বলা হয়, এর একবচন سُمُمٌّ সেগুলো চক্ষুদ্বয়, নাসারন্ধ্র, মুখ, দু’টি কান, বাহ্য পথ স্রাবনালী, غَوَاشٌ আচ্ছাদন, نُشُرًا বিক্ষিপ্ত, نَكِدًا স্বল্প পরিমাণ, يَغْنَوْا জীবন যাপন করেন, حَقِيْقٌ হক ও উপযুক্ত, যোগ্য, اسْتَرْهَبُوْهُمْ তাদেরকে আতংকিত করল, رَهْبَةٌ থেকে উৎপন্ন, تَلَقَّفُ গো গ্রাসে গিলে ফেলা, طَآئِرُهُمْ-তাদের ভাগ্য, বন্যা, طُوْفَانٌ-বন্যা অধিক হারে মৃত্যুকে ও طُوْفَانٌ বলা হয়, الْقُمَّلُ উকুন, عُرُوْشٌ-عَرِيْشٌ অট্টালিকা, سُقِطَ যারা অপমানিত হয় তাদেরকে বলা হয় سُقِطَ فِيْيَدِهِ। أَلَاسْبَاطُ বনী ইসরাঈলের গোত্রসমূহ, يَعْدُوْنَও يَتَعَدَّوْنَ সীমালঙ্ঘন করে; تَعَدَّوْ সীমালঙ্ঘন করেছে, شُرَّعًا প্রকাশ্যভাবে, بَئِيْسٍ কঠোর, أَخْلَدَ বসে থাকল এবং পেছনে পড়ল, سَنَسْتَدْرِجُهُمْ তাদের নিরাপদ স্থান থেকে তাদেরকে এসে ক্রমে বের করে আনবে, যেমন فَأَتَاهُمُاللهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوْا তাদেরকে আল্লাহ এমন শাস্তি দিলেন যা তারা ধারণা করেনি।

مِنْجِنَّةٍ উন্মাদনা, কখন তাদেরকে পুনরায় বের করা হবে? فَمَرَّتْ بِهِ তাঁর গর্ভ অটুটু থাকল এরপর সেটাকে পূর্ণতা দান করলে, يَنْزَغَنَّكَ يَسْتَخِفَّنَّكَ তোমাকে কু-মন্ত্রণা দেয়া, طَيْفٌ আগত সংযোগযোগ্য, طَيْفٌ এবং طَائِفٌ এক রকম, يَمُدُّوْنَهُمْ অলংকৃত করে, خِيْفَةٌ ভয়, خُفْيَةٌ শব্দটি إِخْفَاءٌ থেকে নির্গত অর্থ গোপন করা, وَالْآصَالُ একবচনে أَصِيْلٌ আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়, যেমন আল্লাহর বাণী بُكْرَةً وَّأَصِيْلًا সকাল-সন্ধ্যা।

৪২৮২। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আমর ইবনু মুররাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়েলকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এটা আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তিনি এটাকে মারফু‘ হাদীস হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অন্যায়কে ঘৃণাকরী আল্লাহর তুলনায় অন্য কেউ নেই, এজন্যই তিনি প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে অশ্লীলতা হারাম করে দিয়েছেন, আবার আল্লাহর চেয়ে প্রশংসা প্রিয় কেউ নেই, এজন্যই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮৩ | 4283 | ٤۲۸۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৭৮. আল্লাহর বাণীঃ মুসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হল এবং তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দর্শন দাও, আমি তোমাকে দেখব, তিনি বললেন, তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না।

তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি লক্ষ কর, তা যদি স্ব-স্থানে স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখবে, যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করল আর মুসা (আঃ) সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন।

যখকন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন বললেন, মহিমময় তুমি, আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমাতেই প্রত্যাবর্তন করলাম এবং মুমিনদের মধ্যে আমিই প্রথম (৭ঃ ১৪৩) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَرِنِيْ আমাকে দেখা দাও।

৪২৮৩। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেছেন যে এক ইহুদী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এসে হাজির হল। তার মুখমন্ডলে চপেটাঘাত খেয়ে বলল, হে মুহাম্মদ! আপনার এক আনসারী সাহাবী আমার মুখমন্ডলে চপেটাঘাত করেছে।

তিনি বললেন, তাকে ডেকোন। তারা ওকে ডেকে আনল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘একে চপেটাঘাত করেছ কেন?’’ সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এই ইহুদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন শুনলাম যে, সে বলছে তারই শপথ যিনি মূসা (আলাইহিস সালাম) কে মানবজাতির উপর মনোনীত করেছেন, আমি বললাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরও মনোনীত করেছেন কি?

এরপর আমার রাগ এসে গিয়েছিল, তাই তাকে চপেটাঘাত করেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (অন্যের মানহানি হতে পারে কিংবা নিজেদের খেয়াল খুশী মত) তোমরা আমাকে অন্যান্য নাবী থেকে উত্তম বলো না’’ (বরং আল্লাহর ঘোষণায় আমি তো উত্তম আছিই বরং থাকবোই), কারণ কিয়ামত দিবসে সব মানুষই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে, সর্বপ্রথম আমিই সচেতন হয়ে পড়ব, সর্বপ্রথম আমিই সচেতন হব।

তিনি বলেন, তখন আমি দেখব যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) আরশের খুটি ধরে রেখেছেন, আমার বোধগম্য হবে না যে, তিনি কি আমার পূর্বে সচেতন হবেন নাকি তুর পাহাড়ের সংজ্ঞাহীনতাকে এর বিনিময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮৪ | 4284 | ٤۲۸٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৭৯. আল্লাহর বাণীঃ মান্না এবং সালওয়া (৭ঃ ১৬০)
৪২৮৪। মুসলিম (রহঃ) … সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الْكَمْأَةُ জাতীয় উদ্ভিদ মান্না-এর মত এবং এর পানি চোখের রোগমুক্তি।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮৫ | 4285 | ٤۲۸۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৮০. আল্লাহর বাণীঃ বল, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্যে আল্লাহর রাসুল। যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী; তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান, সুতরাং তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি ও তার বার্তাবাহক উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তার বাণীতে ঈমান আনে এবং তোমরা তার অনুসরণ কর যাতে তোমরা পথ পাও। (৭ঃ ১৫৮)

৪২৮৫। আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূদ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এর মধ্যে বিতর্ক হয়েছিল, আবূ বকর (রাঃ) উমর (রাঃ) কে চটিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর রাগান্বিত অবস্থায় উমর (রাঃ) সেখান থেকে প্রস্থান করলেন, আবূ বকর (রাঃ) তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে তাঁর পিছু ছুটলেন কিন্তু উমর (রাঃ) ক্ষমা করলেন না, বরং তাঁর সম্মুখের দরজা বন্ধ করে দিলেন।

এরপর আবূ বকর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে আসলেন। আবূদ দারদা (রাঃ) বলেন, আমরা তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, ঘটনা শোনার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের এই সাথী আবূ বকর (রাঃ) অগ্রে কল্যাণ লাভ করেছে।

তিনি বলেন, এতে উমর লজ্জাবোধ করলেন এবং সালাম করে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে বসে পড়লেন ও ইতিবৃত্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সব বর্ণনা করলেন।

আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন। সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) বারবার বলছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অধিক দোষী ছিলাম।

অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার জন্য আমার সাথীটাকে রাখবে কি? তোমরা আমার জন্য আমার সাথীটাকে রাখবে কি?

এমন একদিন ছিল যখন আমি বলেছিলাম, ‘‘হে লোক সকল! আমি তোমাদের সকলের জন্য রাসূল, তখন তোমরা বলেছিলেন, ‘‘তুমি মিথ্যা বলেছ’’ আর আবূ বকর (রাঃ) বলেছিল, ‘‘আপনি সত্য বলেছেন। ’’ ইমাম আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন غَامَرَ অগ্রে কল্যাণ লাভ করেছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮৬ | 4286 | ٤۲۸٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৮২. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা বল ক্ষমা চাই (৭ঃ ১৬১)
২৩৮১. আল্লাহ্‌র বাণীঃ এবং সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ল (৭ঃ ১৪৩) এ অধ্যায়ে আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (রাঃ) এর হাদীস বর্ণিত আছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।

৪২৮৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসরাঈলীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, “নতশিরে প্রবেশ কর এবং বল, ক্ষমা চাই, আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব।” (৭: ১৬১) এরপর তারা তার বিপরীত করল, তারা নিজেদের নিতম্বে ভর দিয়ে মাটিতে বসে বসে প্রবেশ করল এবং বলল حَبَّةٌ فِي شَعَرَةٍ যবের মধ্যে বিচি চাই।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮৭ | 4287 | ٤۲۸۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৩. আল্লাহর বাণীঃ তুমি ক্ষমাপরায়নতা অবলম্বন কর, সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের উপেক্ষা কর (৭ঃ ১৯৯)
৪২৮৭। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ‘উয়াইনা ইবনু হিসন ইবনু হুযাইফা এসে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র হুর ইবনু কায়সের কাছে অবস্থান করলেন।

উমর (রাঃ) যাদেরকে পার্শ্বে রাখতেন হুর হলেন তাদের মধ্যে একজন। কারীবৃন্দ, যুবক-বৃদ্ধ সকলেই উমর ফারূক (রাঃ) এর মজলিশের সদস্য এবং উপদেষ্টা ছিলেন।

এরপর ‘উয়াইনা তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রকে ডেকে বললেন, এই আমীরের কাছে তো তোমার একটা মর্যাদা আছে, সুতরাং তুমি আমার জন্য তাঁর কাছে প্রবেশের একটা অনুমতি নিয়ে দাও। তিনি বললেন হ্যাঁ, তাঁর কাছে আমি আপনার প্রবেশের প্রার্থনা করব।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরপর হুর অনুমতি প্রার্থনা করলেন ‘‘উয়াইনার জন্য এবং উমর (রাঃ) অনুমতি দিলেন। ‘উয়াইনা উমরের কাছে গিয়ে বললেন, হ্যাঁ আপনি তো আমাদেরকে বেশী বেশী দানও করেন না এবং আমাদের মাঝে ন্যায় বিচারও করেন না।

উমর (রাঃ) ক্রোধান্বিত হলেন এবং তাকে কিছু একটা করাতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেন, আমিরুল মু’মিনীন! আল্লাহ তা‘আলা তো তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছেন, ‘‘ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন কর’ সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞ দিগকে উপেক্ষা কর’’ আর এই ব্যাক্তি তো নিঃসন্দেহে অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।

(হুর যখন তাঁর নিকট এটা তিলাওয়াত করলেন তখন আল্লাহর কসম তখন উমর (রাঃ) আয়াতের অমান্য করেননি। উমর আল্লাহর কিতাবের বিধানের সামনে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন, অর্থাৎ তা অতিক্রম করতেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮৮ | 4288 | ٤۲۸۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৩. আল্লাহর বাণীঃ তুমি ক্ষমাপরায়নতা অবলম্বন কর, সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের উপেক্ষা কর (৭ঃ ১৯৯)
৪২৮৮। ইয়াহইয়া (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ আয়াতটি আল্লাহ তা‘আলা মানুষের চরিত্র সম্পর্কেই নাযিল করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ বলেন, আবূ উসামা আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মানুষের আচরণ সম্পর্কে ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৮৯ | 4289 | ٤۲۸۹

পরিচ্ছদঃ আল্লাহর বাণীঃ লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে, বল, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং রাসুলের, সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজদিগের মধ্যে সদভাব স্থাপন কর (৮ঃ ১) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْأَنْفَالُ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, কাতাদাহ বলেন, رِيْحُكُمْ যুদ্ধ, نَافِلَةٌ দান।
৪২৮৯। মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) … সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম সূরা আনফাল সম্পর্কে, তিনি বললেন, বদরের যুদ্ধে নাযিল হয়েছে।

الشَّوْكَةُ-الْحَدُّ শক্তি, مُرْدَفِيْنَ একদল সৈন্যের পর আরেক দল, رَدِفَنِيْ এবং أَرْدَفَنِيْ আমার পেছন পেছন এসেছে, ذُوْقُوْا সরাসরি জড়িয়ে পড় এবং অভিজ্ঞতা অর্জন কর, মুখে আস্বাদন করা হয়, فَيَرْكُمَهُ এরপর তাকে একত্রিত করবেন,شَرِّدْ বিচ্ছিন্ন করে দাও, وَإِنْ جَنَحُوْا যদি তারা চায়, السِّلْمُ، السِّلْمُ এবং السَّلَامُ একই অর্থ সন্ধি, يُثْخِنَ জয়ী হওয়া, মুফাসসির মুজাহিদ বলেন, مُكَاءً তাদের অঙ্গুলিসমূহ মুখে ঢুকিয়ে দেয়া, শিস দেয়া, تَصْدِيَةً করতালি, لِيُثْبِتُوْكَ তোমাকে আটকে রাখার জন্যে।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯০ | 4290 | ٤۲۹۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৪. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম জীব সেই বধির ও মূক যারা কিছুই বুঝে না (৮ঃ ২২) قال هم نفر من بني عبد الدار ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন তারা বনী আবদুদ দার গোষ্ঠীর একদল লোক।

৪২৯০। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‏إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لاَ يَعْقِلُونَ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, তারা হচ্ছে বনী আবদুদদার গোষ্ঠীর একদল লোক।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯১ | 4291 | ٤۲۹۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৫. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! রাসুল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহবান করেন যা তোমাদেরকে প্রানবন্ত করে, তখন আল্লাহ ও রাসুলের আহবানে সাড়া দেবে এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের অন্তরালে থাকেন এবং তারই কাছে তোমাদের একত্র করা হবে (৮ঃ ২৪) اسْتَجِيْبُوْا তোমরা সাড়া দাও, لِمَا يُحْيِيْكُمْ তোমাদেরকে সংশোধন করার জন্যে।
৪২৯১। ইসহাক (রহঃ) … আবূ সাঈদ ইবনু মুয়াল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা নামাযে ছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গেলেন এবং আমাকে ডাকলেন, সালাত (নামায/নামাজ) শেষ না করা পর্যন্ত আমি তাঁর কাছে যাইনি, তারপর গেলাম, তিনি বললেন, তোমাকে আসতে বাধা দিল কিসে?

আল্লাহ কি বলেননি, ‘‘রাসূল তোমাদেরকে ডাক দিলে, আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দেবে?’’ তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বে তোমাকে একটি বড় সওয়াবযুক্ত সূরা শিক্ষা দেব।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম।

মু‘আয বলেন হাফস শুনেছেন, একজন সাহাবী আবূ সাঈদ ইবনুল মু‘আল্লাকে এ হাদীস বর্ণনা করতে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সেই সূরাটি হচ্ছে ‏الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ সাত আয়াত বিশিষ্ট ও পুনঃ পুনঃ উল্লেখ্য আবৃত।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯২ | 4292 | ٤۲۹۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৬. আল্লাহর বাণীঃ স্মরণ কর, তারা বলেছিল, হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দাও (৮ঃ ৩২)

৪২৯২। আহমদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আবূ জাহেল বলেছিল, ‘‘হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দাও।

তখনই নাযিল হল- وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ * وَمَا لَهُمْ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ‏}‏ الآيَةَ আল্লাহ এমন নহেন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন এবং আল্লাহ এমনও নহেন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন, এবং তাদের কি-বা বলবার আছে যে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না যখন তারা লোকদের মসজিদুল হারাম থেকে নিবৃত করে?

(যদিও তারা এর তত্ত্বাবধায়ক নয়, মুত্তাকীগণই এর তত্ত্বাবধায়ক; কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা অবগত নয়) (৮: ৩৩-৩৪)

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯৩ | 4293 | ٤۲۹۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৭. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ এমন নহেন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন এবং আল্লাহ এমনও নহেন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন (৮ঃ ৩৩)
৪২৯৩। মুহাম্মদ ইবনু নযর (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেছেন, আবূ জাহেল বলেছিল। এরপর নাযিল হল-

وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ * وَمَا لَهُمْ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ‏}‏ الآيَةَ‏

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯৪ | 4294 | ٤۲۹٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৮. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষন না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা (৮ঃ ৩৯)
৪২৯৪।

হাসান ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন আপনি কি তা শোনেন না?

‏وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا মু’মিনদের দু’দল দন্ধে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মিমাংশা করে দেবে সুতরাং আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী যুদ্ধ করতে কোন বস্তু আপনাকে নিষেধ করছে? এরপর তিনি বললেন, হে ভাতিজা! এই আয়াতের তাবিল বা ব্যাখ্যা করে যুদ্ধ না করা আমার কাছে অধিক প্রিয় وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا‏}‏ إِلَى آخِرِهَا ‘‘যে স্বেচ্ছায় মু’মিন খুন করে’’ আয়াতে তাবিল করার তুলনায়।

সে ব্যাক্তি বলল, আল্লাহ বলেছেন وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ ‘‘তোমরা ফিতনা নির্মূল না করা পর্যন্ত যুদ্ধ করবে’’ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা তা করেছি যখন ইসলাম দুর্বল ছিল।

ফলে লোক তার দ্বীন নিয়ে ফিতনায় পড়ত, হয়ত কাফেররা তাকে হত্যা করত নতুবা বেঁধে রাখত, ক্রমেক্রমে ইসলামের প্রসার ঘটল এবং ফিতনা থাকল না।

সে লোকটি যখন দেখল যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তার উদ্দেশ্যের অনুকুল হচ্ছেন না তখন সে বলল যে, ‘আলী (রাঃ) এবং ‘উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

ইবনু উমর (রাঃ) বললেন যে, ‘আলী (রাঃ) এবং ‘উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আমার কোন বক্তব্য নেই, তবে ‘উসমান (রাঃ) কে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু তোমরা তাঁকে ক্ষমা করতে রাযি নও, আর ‘আলী (রাঃ), তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই এবং জামাতা, তিনি অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, ঐ উনি হচ্ছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা, যেথায় তোমরা তাঁর ঘর দেখছ, هَذِهِ ابْنَتُهُ বলেছেন কিংবা هَذِهِ بِنْتُهُ বলেছেন।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯৫ | 4295 | ٤۲۹۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৮. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষন না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা (৮ঃ ৩৯)
৪২৯৫।

আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) আমাদের কাছে এলেন। বর্ণনাকারী إِلَيْنَا অথবা عَلَيْنَا শব্দ বলেছেন।

এরপর এক ব্যাক্তি বলল, ফিতনা সম্পর্কিত যুদ্ধের ব্যাপারে আপনার রায় কি? আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, ফিতনা কি তা তুমি জানো? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। সুতরাং তাদের কছে যাওয়া ছিল ফিতনা, তার সঙ্গে গিয়ে যুদ্ধ করা তোমাদের রাজত্বের জন্য যুদ্ধ করার সমতুল্য নয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯৬ | 4296 | ٤۲۹٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৮৯. আল্লাহর বাণীঃ হে নবী ! মুমিনদের জিহাদের জন্যে উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে বিশজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দু’শ জনের উপর বিজয়ী হবে এবং তোমাদের মধ্যে একশ’জন থাকলে এক সহস্র কাফেরের উপর বিজয়ী হবে। কারন তারা এমন এক সম্প্রদায় যার বোধশক্তি নেই (৮ঃ ৬৫)

৪২৯৬। ‘আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (আল্লাহর বাণীঃ) إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ যখন নাযিল হল। এরপর দশজন কাফেরের বিপরীত একজন মুসলিম থাকলেও পালায়ন না করা ফরয করে দেয়া হল। সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রহঃ) আবার বর্ণনা করেন, দু’শ জন কাফেরের বিপরীত ২০ জন মুসলিম থাকলেও পলায়ন করা যাবে না।

তারপর নাযিল হল- ‏الآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمُ‏}‏ الآيَةَ আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন। তিনি অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে, সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশ’জন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দু’শ জনের উপর বিজয়ী হবে।

আর তোমাদের মধ্যে এক সহস্র থাকলে আল্লাহ অনুজ্ঞাক্রমে তারা দু’সহস্রের উপর বিজয়ী হবে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন। (৮: ৬৬)

এরপর দু’শ কাফেরের বিপক্ষে এক’শ জন মুসলিম থাকলে পলায়ন না করা (আল্লাহ পাক) ফরয করে দিলেন। সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রহঃ) একবার বর্ণনা করেছেন যে, (তাতে কিছু অতিরিক্তাছে যেমন,) حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ নাযিল হল, সুফিয়ান বলেন, ইবনু শুবরুমা বলেছেন, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এর ব্যাপারটাও আমি এরকম মনে করি।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯৭ | 4297 | ٤۲۹۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৯০. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন। তিনি অবগত আছেন যে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে … আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন (৮ঃ ৬৬)

৪২৯৭। ইয়াহইয়া ইবনু আবদুল্লাহ সুলামী … ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যখন إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ আয়াতটি নাযিল হল তখন দশজনের বিপরীত একজনের পলায়নও নিষিদ্ধ করা হল, তখন এটা মুসলমানদের উপর দুৎসাধ্য মনে হলে পরে তা লাঘবের বিধান এলো الآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضُعْفًا فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ‏ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ এদেরকে যখন সংখ্যার দিক থেকে হাল্কা করে দিলেন, সেই নমনীয়তার সমপরিমাণ তাদের ধর্মও হ্রাস পেল।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯৮ | 4298 | ٤۲۹۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৯১. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ তোমরা মুশরিকদের সাথে যেসব চুক্তি করেছিলে আল্লাহ ও তার রাসুলের তরফ থেকে সেসব বিচ্ছেদ করা হল (৯ঃ ১) ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَذَنٌ কারো কথা শুনে তা সত্য বলে ধারণা করা। تُطَهِّرُهُمْ এবং تُزَكِّيْهِمْ এর একই অর্থ, এ ব্যবহার পদ্ধতি অধিক।

সে পবিত্র করে। زَكْوَةٌ ‘ইবাদাত ও নিষ্ঠা لَا يُؤْتُوْنَ الزَّكَاةَ (তারা যাকাত প্রদান করে না) (এবং) তারা এ সাক্ষ্যও প্রদান করে না যে, আর কোন উপাস্য নেই এক আল্লাহ ব্যতীত। يُضَاهُوْنَ তারা তুলনা দিচ্ছে।
সুরা বারাআত

وَلِيْجَةً এমন বস্তু যাকে তুমি আরেকটা বস্তুর মধ্যে ঢুকিয়ে দিলে। الشُّقَّةُ সফর, ভ্রমণ, الْخَبَالُ বিশৃঙ্খলা, বিপর্যয়, الْخَبَالُ মৃত্যু। وَلَاتَفْتِنِّيْ আমাকে হুমকি দিও না।

كَرْهًا-وَ- كُرْهًا বাধ্যবাধকতা, উভয়টা একই অর্থবোধক, مُدَّخَلًا প্রবেশস্থল, যেথায় তারা প্রবেশ করবে। يَجْمَحُوْنَ তারা ত্বরান্বিত করবে। وَالْمُؤْتَفِكَاتِ যাদের নিয়ে ভূমি উল্টে গেছে। أَهْوَى তাকে গর্তে নিক্ষেপ করল। عَدْنٍ স্থায়িত্ব অবস্থান, যেমন, عَدَنْتُبِأَرْضٍ আমি অবস্থান করলাম, এগুলো থেকে مَعْدِنٍ শব্দ আসছে এবং বলা হয় فِيْ مَعْدِنِ صِدْقٍ অর্থাৎ সত্যের উৎপত্তিস্থল। الْخَوَالِفُ-الْخَالِفُ শব্দের বহুবচন অর্থ, যে আমার পিছনে থাকল।

এবং আমার পরে বসে থাকল এবং এর অর্থ থেকে يُخْلِفُهُفِيالْغَابِرِيْنَ অর্থ, অবশিষ্টদের মধ্যে পিছনে রাখা হয় এবং الْخَالِفَةُ শব্দের বহুবচন হিসাবে الْخَوَالِفُ স্ত্রীলিঙ্গে ব্যবহার করা বৈধ আছে যদিও তা পুরুষ শব্দের বহুবচন, তা হলে তার এভাবে বহুবচন আরবী ভাষায় দু’টি শব্দ ব্যতীত পাওয়া যায় না, যথা فَارِسٌ এর বহুবচন فَوَارِسُ এবং هَالِكٌ এর বহুবচন هَوَالِكُالْخَيْرَاتُ শব্দের এক বচন خَيْرَةٌ অর্থ, কল্যাণ ও মর্যাদাসম্পন্ন বস্তু। مُرْجَئُوْنَ বিলম্বিত ব্যক্তিবর্গ।

الشَّفَا কিনারা বা পার্শ্ব। الْجُرُفُ যা উঁচু স্থান বা উপত্যকা থেকে প্রবাহিত হয়। هَائِرٍ-هَارٍ পতিত হওয়া। যেমন বলা হয়, কুয়া ভেঙ্গে পড়েছে যখন তা ধ্বংস হয়ে যায়, আর এরূপভাবে انْهَدَمَتْ শব্দের অর্থ হয়ে থাকে।

لَأَوَّاهٌ অধিক কোমল হৃদয়, ভয়-ভীতির কারণে। কবি বলেন, ‘‘যখন আমি রাতের বেলায় উষ্ট্রীর পিঠে আরোহণ করলাম, তখন সেটি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ব্যক্তির মত দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহ! করতে থাকে।’’

৪২৯৮। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বলেছেনঃ সর্বশেষে যে আয়াত অবতীর্ণ হয়, তা হল يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ লোকে আপনার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়; বলুন! পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যাক্তি সম্বন্ধে আল্লাহ তোমাদের ব্যবস্থা জানোাচ্ছেন। (৪: ১৭৬) এবং সর্বশেষে যে সূরাটি অবতীর্ণ হয়, তা হল সূরায়ে বারাআত।

হাদিস নম্বরঃ ৪২৯৯ | 4299 | ٤۲۹۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৯২. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ (হে মুশরিকদল) তোমরা তারপর দেশে চার মাস কাল পরিভ্রমন কর ও জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীনবল করতে পারবে না।

নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের লাঞ্চিত করে থাকেন (৯ঃ ২) سيحوا سيروا পরিভ্রমন করা।
৪২৯৯।

সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) নবম হিজরীর হাজ্জে (হজ্জ) আমাকে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়ে দেন যে, আমি কুরবানীর দিন ঘোষণাকারীদের সঙ্গে মিনায় (সমবেত লোকদের) এ ঘোষণা করে দেই যে, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ (হজ্জ) করার জন্য আসবে না। আল্লাহর ঘর উলঙ্গ অবস্থা তাওয়াফ করবে না।

হুমায়দ ইবনু আবদুর রাহমান (রাঃ) বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ) কে পুনরায় এ নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করলেন যে, তুমি সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করে দাও।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, মীনায় অবস্থানকারীদের মাঝে (কুরবানীর পর) আলী (রাঃ) আমাদের সাথে ছিলেন এবং সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করলেন, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ (হজ্জ) করার জন্য আসবে না।

কেউ উলঙ্গ অবস্থায় ঘর তাওয়াপ করবে না। আবূ আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ أَذَنهم অর্থ, তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩০০ | 4300 | ٤۳۰۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৯৩. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে হজ্জে আকবরের দিনে আল্লাহর পক্ষ হতে মানুষের প্রতি এটা এক ঘোষণা যে, আল্লাহর সাথে মশরিকদের কোন সম্পর্ক রইল না এবং তার রাসুলেরও নয়। যদি তোমরা তওবা কর তাহলে তা (তোমাদের জন্য) মঙ্গলকর।

আর যদি বিমুখ হও, তবে জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীনবল করতে পারবে না। আর হে নবী! কাফেরদের যন্ত্রনাময় শাস্তির সংবাদ দিন (৯ঃ ৩)
৪৩০০। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে সেই কুরবানীর দিন ঘোষণাকারীদের সাথে মীনায় এ (কথা) ঘোষণা করার জন্য পাঠালেন যে, এ বছরের পর আর কোন মুশরিক (মক্কায়) হাজ্জ (হজ্জ) করতে পারবে না।

আল্লাহর ঘর উলঙ্গ অবস্থায় কাউকে তাওয়াফ করতে দেওয়া হবে না। হুমায়দ (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরে আলী ইবনু আবূ তালিবকে পাঠালেন এবং বললেনঃ সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করে দাও।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আলী (রাঃ) আমাদের সাথেই মীনাবাসীদের মধ্যে সূরায়ে বারাআত কুরবানীর দিন ঘোষণা করলেন। বললেন, এ বছরের পরে কেউ হাজ্জ (হজ্জ) (মক্কা) করতে আসতে পারবে না। এবং উলঙ্গ অবস্থায় আল্লাহর ঘরকে তাওয়াফ করবে না।

বুখারি হাদিস নং ৪৩০১-৪৩৩০

হাদিস নম্বরঃ ৪৩০১ | 4301 | ٤۳۰۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৯৪. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ তবে মুশরীকদের মধ্যে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ রয়েছ (৯ঃ৪)
৪৩০১।

ইসহাক (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) পূর্বের বছর আবূ বকর (রাঃ) কে যে হাজ্জের (হজ্জ) আমীর বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন, সেই হাজ্জে (হজ্জ) তিনি যেন লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেন, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ (হজ্জ) করতে আসতে পারবে না এবং উলঙ্গ অবস্থায় কেউ আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করতে পারবে না।

হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান বলেন [আবূ হুরায়রা (রাঃ)] হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হাজ্জে (হজ্জ) আকবেরর দিন হল কুরবানীর দিন।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪৩০২ | 4302 | ٤۳۰۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৯৫. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ তবে কাফের নেতৃবৃন্দের সাথে যুদ্ধ করবে। এরা এমন লোক যাদের প্রতিশ্রুতিই নয় (৯ঃ ১২)
৪৩০২। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) … যায়িদ ইবনু ওয়াহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা হুযায়ফা (রাঃ) এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি বলেন, এ আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের মধ্যে শুধু তিনজন মুসলমান ও চারজন মুনাফিক বেঁচে আছে।

ইত্যবসরে একজর বেদুঈন বলল, আপনারা সকলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী। আমাদের এমন লোকদের অবস্থা সম্পর্কে খবর দিন যারা আমাদের ঘরে সিদ কেটে ঘরের অতি মূল্যবান জিনিসগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, কেননা তাদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত নই।

হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, তারা সবাই ফাসীক ও অন্যায়কারী। হ্যাঁ, তাদের মধ্যে হতে চার ব্যাক্তি এখনও জীবতি-তাদের মধ্যে একজন এত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছে যে, শীতল পানি পান করার পর তার শীতলতাটুকুর অনুভূতি সে উপলব্ধি করতে পারে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৩০৩ | 4303 | ٤۳۰۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৯৬. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ যারা স্বর্ণ, রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে তা ব্যয় করে বা, তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন (৯ঃ ৩৪)
৪৩০৩। হাকাম ইবনু নাফি (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, তোমাদের মধ্যে অনেকের পুঞ্জিভূত সম্পদ (যার যাকাত আদায় করা হয় না) কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সর্পে পরিণত হবে।

আরও পড়ুনঃ

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৮ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ১ম পার্ট – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় ২য় পার্ট – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সহিহ বুখারী

মন্তব্য করুন