তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৪১২২ – সূরা ফাতিহা প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ৪১২২ – সূরা ফাতিহা প্রসঙ্গে।

মুসাদ্দাদ রহ…………….আবু সাঈদ ইবনে মুআল্লা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে নববীতে নামায আদায় করছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকেন।

কিন্তু সে ডাকে আমি সাড়া দেইনি। পরে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি নামাযে রত ছিলাম (এ কারণে জবাব দিতে পারিনি) তখন তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেননি যে, হে মুমিনগণ ! তোমরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিবে এবং রাসূলের ডাকেও যখন তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন।

(৮: ২৪)। তারপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই তোমাকে আমি কুরআনের এক মহান সূরা শিক্ষা দিব। তারপর তিনি আমার হাত ধরেন।

এরপর যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন আমি তাকে বললাম, আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরা শিক্ষা দিবেন বলে বলেছিলেন?

তিনি বললেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক, এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকেই প্রদান করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৪১২৩-৪২০০

হাদিস নম্বরঃ ৪১২৩

পরিচ্ছদঃ ২২৫৫. যারা ক্রোধে নিপতিত নয়
৪১২৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন ইমাম বলবে غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ তখন তোমরা বলবে آمِينَ‏ অর্থ আল্লাহ আপনি কবূল করুন।

যার পড়া ফেরেশতাদের পড়ার সময়ে হবে, তার পূর্বে গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১২৪ | 4124 | ٤۱۲٤

পরিচ্ছদঃ وعلم ادم الاسماء كلها এবং তিনি আদম (আঃ) কে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন (২ঃ ৩১)
৪১২৪। মুসলিম ও খলীফা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন মু’মিনগণ একত্রিত হবে এবং তারা বলবে, আমরা যদি আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য একজন সুপারিশকারী পেতাম।

এরপর তারা আদম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে এবং তাঁকে বলবে আপনি মানব জাতির পিতা। আপনাকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন।

আর ফেরেশতা দ্বারা আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং যাবতীয় বস্তুর নাম আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতএব আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, যেন আমাদের কঠিন স্থান থেকে আরাম দিতে পারেন।

তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের আমার সাহস হচ্ছে না। তিনি নিজ ভুলের কথা স্মরণ করে লজ্জাবোধ করবেন। (তিনি বলবেন) তোমরা নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনই প্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ জগতবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন।

তখন তারা তাঁর শরণাপন্ন হবে। তিনিও বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তিনি তাঁর রবের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন এমন বিষয় যা তাঁর জানা ছিল না।

সেকথা স্মরণ করে তিনি লজ্জাবোধ করবেন। এবং বলবেন বরং তোমরা আল্লাহর খলীল (ইবরাহীম) (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তারা তখন তাঁর কাছে আসবে, তখন তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তোমরা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও।

তিনি এমন বান্দা যে তাঁর সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং তাঁকে তাওরাত গ্রন্থ দান করেছেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না।

এবং তিনি এক কিবতীকে বিনা দোষে হত্যা করার কথা স্মরণ করে তাঁর রবের নিকট লজ্জাবোধ করবেন।

তিনি বলবেন, তোমরা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর বাণী ও রূহ্। (তারা সেখানে যাবে) তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না।

তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যার পূর্ব ও পরের ভুলত্রটি আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। তখন তারা আমার কাছে আসবে। তখন আমি আমার রবের কাছে যাব এবং অনুমতি চাব, আমাকে অনুমতি প্রদান করা হবে।

আর আমি যখন আমার রবকে দেখব, তখন আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চান আমাকে এ অবস্থায় রাখবেন। তারপর বলা হবে, আপনার মাথা উঠান এবং চান দেওয়া হবে, বলুন শোনা হবে, সুপারিশ করুন কবুল করা হবে।

তখন আমি আমার মাথা উঠাব এবং আমাকে যে প্রশংসাসূচক বাক্য শিক্ষা দিবেন তা দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপ সুপারিশ করব। আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। (সেই সীমিত সংখ্যায়) আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব।

আমি পুনরায় রবের সমীপে ফিরে আসব। যখন আমি আমার রবকে দেখব তখন পূর্বের ন্যায় সব কিছু করব। তারপর আমি সুপারিশ করব।

আবার আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। তদনুসারে আমি তাদের জান্নাতে দাখিল করাব। (তারপর তৃতীয়বার) আমি আবার রবের নিকটে উপস্থিত হয়ে অনুরূপ করব।

এরপর আমি চতুর্থবার ফিরে আসব এবং আরজ করব এখন কেবল তারাই জাহান্নামে অবশিষ্ট রয়ে গেছে যারা কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আটকে রয়েছে আর যাদের উপর চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকা অবধারিত রয়েছে।

আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, কুরআনের যে ঘোষণায় তারা জাহান্নামে আবদ্ধ রয়েছে তা হল মহান আল্লাহর বাণীঃ خَالِدِينَ فِيهَا অর্থাৎ তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪১২৫ | 4125 | ٤۱۲۵

পরিচ্ছদঃ ২২৫৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ কাজেই জেনেশুনে কাউকে তোমরা আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করবে না (২ঃ ২২)
২২৫৬. অনুচ্ছেদঃ মুজাহিদ (রহ.) বলেন, إِلَى شَيَاطِيْنِهِمْ তাদের সঙ্গী-সাথী মুনাফিক ও মুশরিক। مُحِيْطٌ بِالْكَافِرِيْنَ -আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন- (২ঃ ১৯)। অর্থাৎ আল্লাহ তাদের একত্রকারী। صِبْغَةَ অর্থাৎ দ্বীন।

عَلَى الْخَاشِعِيْنَ-প্রকৃত মু’মিনদের নিকট। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, بِقُوَّةٍ-তাতে যা আছে তা ‘আমাল করে। আবুল আলিয়া (রহ.) বলেন, مَرَضٌ-সন্দেহ। وَمَا خَلْفَهَا -পরবর্তীদের জন্য নাসীহাত। لَا شِيَةَ -দাগ বিহীন। অন্যরা বলেন, يَسُوْمُوْنَكُمْ-তারা তোমাদের কষ্ট দিত- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৪৯)। الْوَلَايَةُ আল ওয়াও মাফতুহ্ অবস্থায় الْوَلَاء আল-ওয়ালা এর ধাতু।

অর্থাৎ প্রভুত্ব, আর যখন ‘ওয়াও’-কে যের দেয়া হবে, তখন অর্থ দাঁড়াবে নেতৃত্ব। কেউ কেউ বলেন, যে সমস্ত বীজ খাওয়া হয় তাকে ফুম فُوْمٌ বলে। ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, فَبَاءُوْا তারা (আল্লাহর গযবের দিকে) ফিরে গেল।

يَسْتَفْتِحُوْنَ তারা সাহায্য চাইতো। شَرَوْا-তারা বিক্রি করল। رَاعِنَا নির্গত হয়েছে الرُّعُوْنَةِ মাসদার থেকে। যখন তারা লোককে বোকা বানাতে চাইত তখন বলত, রায়িনা رَاعِنَا

لَا يَجْزِيঅর্থাৎ কোন কাজে আসবে না। ابْتَلَى -পরীক্ষা করলেন। خُطُوَاتِ নির্গত (خطو) থেকে, অর্থ পদচিহ্ন।

৪১২৫। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, কোন গুনাহ আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড়? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য সমকক্ষ দাঁড়ান করান।

অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এতো সত্যি বড় গুনাহ। আমি বললাম, তারপর কোন গুনাহ? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করবে যে সে তোমার সাথে আহার করবে।

আমি আরয করলাম, এরপর কেনটি? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার ব্যভিচার করা।

হাদিস নম্বরঃ ৪১২৬ | 4126 | ٤۱۲٦

পরিচ্ছদঃ ২২৫৮. মহান আল্লহর বাণীঃ “আর আমি মেঘমালা দিয়ে তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া । তোমরা খাও সেসব পবিত্র বস্তু যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি । তারা আমার প্রতি কোন যুলম করেনি বরং তারা নিজেদের উপরই যুলম করেছিল ।

(সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ৫৭) মুজাহিদ (র) বলেন, মান্না শিশির জাতীয় সুস্বাদু খাদ্য (যা পাথর ও গাছের উপর অবতীর্ণ হত পরে জমে গিয়ে ব্যাঙের ছাতার মত হত) আর সাল্ওয়া-পাখি।

৪১২৬। আবূ নুআইম (রহঃ) … সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ الْكَمْأَةُ আল কামাআত (ব্যাঙের ছাতা) মান্ন জাতীয়। আর তার পানি চক্ষু রোগের শিফা।

হাদিস নম্বরঃ ৪১২৭ | 4127 | ٤۱۲۷

পরিচ্ছদঃ ২২৫৯. মহান আল্লাহর বাণীঃ “স্মরন করুন, যখন আমি বললাম, এই জনপদে প্রবেশ কর, যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দে খাও, অবনত মস্তকে প্রবেশ কর দার দিয়ে এবং বল حِطَّةٌ ‘ক্ষমা চাই’।

আমি তোমাদের ভূল-ত্রুটি ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করব”- (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/৫৮)। رَغَدَّا প্রভূত স্বাচ্ছন্দ্য।
৪১২৭। মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী ইসরাঈলকে বলা হয়েছিল যে, তোমরা সিজদা অবস্থায় শহর দ্বারে প্রবেশ কর এবং বল حِطَّةٌ (ক্ষমা চাই) কিন্তু তারা প্রবেশ করল নিতম্ব হেঁচড়িয়ে এবং নির্দেশিত শব্দকে পরিবর্তন করে তদস্থলে বলল, গম ও যবের দানা।

আল্লাহর বাণীঃ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ ‘যারা জিবরীলের শত্রুতা করবে। ‘ইকরিমা (রহঃ) বলেন, জবর, মীক, সারাফ অর্থ ‘আবদ-বান্দা, ঈল-আল্লাহ। (অর্থ দাঁড়াল আবদুল্লাহ-আল্লাহর বান্দা)

হাদিস নম্বরঃ ৪১২৮ | 4128 | ٤۱۲۸

পরিচ্ছদঃ ২২৫৯. মহান আল্লাহর বাণীঃ “স্মরন করুন, যখন আমি বললাম, এই জনপদে প্রবেশ কর, যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দে খাও, অবনত মস্তকে প্রবেশ কর দার দিয়ে এবং বল حِطَّةٌ ‘ক্ষমা চাই’। আমি তোমাদের ভূল-ত্রুটি ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করব”- (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/৫৮)। رَغَدَّا প্রভূত স্বাচ্ছন্দ্য।

৪১২৮। আবদুল্লাহ ইবন মুনীর (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শুভাগম বার্তা শুনতে পেলেন।

তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু সালাম) বাগানে ফল আহোরণ করছিলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে তিনটি বিষয় জিজ্ঞাসা করব যা নাবী বতীত অন্য কেউ জানেন না। তা হল কিয়ামতের প্রথম লক্ষণ কি? জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কি হবে?

এবং সন্তান কখন পিতার সদৃশ হয় আর কখন মাতার সদৃশ হয়? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এখনি এসব সম্পর্কে অবহিত করলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, জিবরীল?

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললে, হ্যাঁ। ইবনু সালাম বললেন, সে তো ফেরেশতাদের মধ্যে ইয়াদীদের শত্রু।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করলেন, যে ব্যাক্তি জিবরীলের শত্রু হবে, এ জন্য যে তিনি তো আপনার অন্তরে, (আল্লাহর হুকুমে) ওহী নাযিল করেন। (২ঃ ৯৭)।

কিয়ামতের প্রথম লক্ষণ হল, এক প্রকার আগুন বের হবে যা মানবকুলকে পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত একত্রিত করবে। আর জান্নাতীরা প্রথমে যা আহার করবে তা হল মাছের কলিজার টুকরা।

আর যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর উপর প্রাধান্য লাভ করবে তখন সন্তান পিতার সদৃশ হয় এবং যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের উপ প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান মাতার সদৃশ হয়।

তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দেই যে, আপনি নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসূল।

ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়াহুদিরা সাংঘাতিক মিথ্যারূপকারী। যদি তারা আপনাকে প্রশ্ন করার পূর্বেই আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জেনে যায় তবে তারা আমার প্রতি অপবাদ আনবে। ইতিমধ্যে ইহুদীরা এসে গেল।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের জিজ্ঞাসা করলেন, আবদুল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেমন লোক? তারা উত্তর দিল, তিনি আমাদের মধ্যে উত্তম এবং আমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তির পুত্র। তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার ছেলে।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আবদুল্লাহ ইবনু ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে তোমরা কেমন মনে করবে। তারা বলল, আল্লাহ তাকে এর থেকে পানাহ দিন।

তখন [আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)] বের হয়ে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।

তখন তারা বলল, সে আমাদের মধ্যে মন্দ ব্যাক্তি ও মন্দ ব্যাক্তির ছেলে। তারপর তারা ইবনু সালাম (রাঃ) কে দোষী সাব্যস্ত করে সমালোচনা করতে লাগল। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটাই আমি ভয় করছিলাম।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪১২৯ | 4129 | ٤۱۲۹

পরিচ্ছদঃ ২২৬০. মহান আল্লাহর বাণীঃ আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃতি হতে দিলে। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/১০৬)
৪১২৯। আমর ইবনু আলী (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেন, উবাই (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কারী, আর আলী (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক।

কিন্তু আমরা উবাই (রাঃ) এর সব কথাই গ্রহণ করি না। কারণ উবাই (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছি তা ছেড়ে দিতে পারি না। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলে, আমি যে আয়াত রহিত করি অথবা বিস্মৃত হতে দেই … (২ঃ ১০৬)।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩০ | 4130 | ٤۱۳۰

পরিচ্ছদঃ ২২৬১. মহান আল্লাহর বানীঃ আর তাঁরা বলেঃ ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি অতি পবিত্র। (সূরাহ আল –বাক্বারা ২/১১৬)
৪১৩০। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আদম সন্তান আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে। অথচ তার তা উচিত নয়।

আমাকে গালি দিয়েছে অথচ তার জন্য তা উচিত নয়। তার আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ হল, সে বলে যে, আমি তাকে পূর্বের ন্যায় পুনরুজ্জীবনে সক্ষম নই। আর আমাকে তার গালি প্রদন হল–তার বক্তব্য যে, আমার সন্তান আছে অথচ আমি স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩১ | 4131 | ٤۱۳۱

পরিচ্ছদঃ ২২৬২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান নির্ধারণ কর। (২ঃ ১২৫) مثابة প্রত্যাবর্তন স্থল। يثوبون অর্থ লোকজন প্রত্যাবর্তন করে।

৪১৩১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মতামত আল্লাহর ওহীর অনুরূপ হয়েছে অথবা (তিনি বলেছেন) তিনটি বিষয়ে আমার মতামতের অনুকুলে আল্লাহ ওহী নাযিল করেছেন।

তা হল, আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনি মাকামে ইবরাহীমকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্থান হিসাবে গ্রহণ করতেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন।

তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্থানে নির্ধারণ কর (২: ১২৫) আমি আরয করেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারে লোক আসে। কাজেই আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদেরকে (আপনার স্ত্রীদের) পর্দা করার নির্দেশ দিতেন।

তখন আল্লাহ তা‘আলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কতক বিবির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

তখন আমি তাদের কাছে উপস্থিত হই, এবং বলি যে, আপনারা এর থেকে বিরত হবেন অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে আপনাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী প্রদান করবেন।

এরপর আমি তাঁর কোন এক স্ত্রীর কাছে আসি, তখন তিনি বললেন, হে উমর! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণকে নসীহত করে থাকেন আর এখন তুমি তাদের উপদেশ দিতে আরম্ভ করেছ?

তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেনঃ عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبَدِّلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ নাবী যদি তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর রব সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাঁকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উত্তম স্ত্রী যারা হবে আত্মসমপর্ণকারী। (৬৬: ৫)

ইবনু আবী মারয়াম (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) আমার কাছে এরূপ বলেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩২ | 4132 | ٤۱۳۲

পরিচ্ছদঃ ২২৬৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ স্মরন করুন যখন ইব্রাহীম ও ইসমাইল কা‘বা ঘরের প্রাচীর তুলছিলেন তখন তারা বলছিলেনঃ হে আমাদের পালনকর্তা!

আমাদের এই কাজ গ্রহন করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা ।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১২৭)। القواعد অর্থ ভিত্তি, একবচনে قاعدة আল-কাওয়ায়িদ মহিলাদের সম্পর্কে বলা হলে এর অর্থ বৃদ্ধা নারী, তখন এর একবচন (قاعد) হবে।

৪১৩২। ইসমাঈল (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার কি জানা নেই যে তোমার সম্প্রদায় কুরাইশ কা’বা তৈরী করেছে এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির থেকে ছোট নির্মাণ করেছে?’

[আয়িশা (রাঃ) বলেন] আমি তখন বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির উপর কা’বাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার গ্রোত্রের কুফরীর যামানা অতীতে না হত।

এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, যদি আয়িশা (রাঃ) এ কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তবে আমার মনে হয় যে এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিমের দিকের দুই রোকনে (রোকনে ইরাকী ও রোকন শামী) চুম্বন বর্জন করেছেন, যেহেতু বায়তুল্লাহ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির উপর সম্পূর্ণভাবে নির্মিত নয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৩ | 4133 | ٤۱۳۳

পরিচ্ছদঃ ২২৬৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা বল, আমরা আল্লাহতে ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তার প্রতিও। (২ঃ১৩৬)
৪১৩৩। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহলে কিতাব (ইহুদী) ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের জন্য তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত।

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আহলে কিতাবকে বিশ্বস করো না আর অবিশ্বাসও কর না এবং (আল্লাহর বাণী) ‘তোমরা বল আমরা আল্লাহতে ঈমান এনেছি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তা।’

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৪ | 4134 | ٤۱۳٤

পরিচ্ছদঃ ২২৬৫. মহান আল্লাহর বাণীঃ নির্বোধ লোকেরা অচিরেই বলবে যে, তারা এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করে আসছিল তা থেকে তাদেরকে কিসে ফিরিয়ে দিল! বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করেন।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৪২)

৪১৩৪। আবূ নু‘আইম (রহঃ) … বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাতে ষোল অথবা সতের মাস যাবত বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। অথচ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর দিকে তাঁর কিবলা হওয়াকে পছন্দ করতেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) (কাবার দিকে মুখ করে) আদায় করেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন।

এরপর তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কারী একজন বের হন এবং তিনি একটি মসজিদের লোকদের কাছ দিয়ে গেলেন তখন তারা রুকু অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষি রেখে বলছি যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মক্কার দিকে মুখ করে নামায আদায় করেছি।

একথা শোনার পর তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন, সে অবস্থায় বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে গেলেন। আর যারা কিবলা বায়তুল্লাহর দিকে পরিবর্তের পূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় অবস্থায় মারা গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের সম্পর্কে আমরা কি বলব তা আমাদের জানা ছিল না।

তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন “আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমানকে তিনি ব্যর্থ করে দিবেন, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরমদয়ালু।” (২:১৪৩)

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৫ | 4135 | ٤۱۳۵

পরিচ্ছদঃ ২২৬৬. আল্লাহর বাণীঃ “আর এইভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধমপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ হবে এবং রাসুল (সাঃ) তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হবেন (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ৪৩)
৪১৩৫।

ইউসুফ ইবনু রাশিদ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন নূহ (আলাইহিস সালাম) কে ডাকা হবে।

তখন তিনি উত্তর দিবেন এ বলেঃ হে আমাদের রব! আমি আপনার পবিত্র নিকটে উপস্থিত (তখন আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন) তুমি কি (আল্লাহর পায়গাম লোকদের) পৌঁছে দিয়েছিলেন? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। এরূপ তাঁর উম্মাতকে জিজ্ঞাসা করা হবে, [নূহ্ (আলাইহিস সালাম) কি] তোমাদের নিকট (আল্লাহর পয়গাম) পৌঁছে দিয়েছে?

তারা তখন বলবে, আমাদের কাছে কোন সতর্কবাণী আগমন করেনি। তখন আল্লাহ তা‘আলা [নূহ (আলাইহিস সালাম) কে] বলবেন, তোমা দাবির প্রতি সাক্ষী কে?

তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মাতগণ। তখন তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর উম্মাতের নিকট আল্লাহর পয়গাম প্রচার করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের প্রতি সাক্ষ্য হবেন। এটাই মহান আল্লাহর বাণী وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ওয়াসাত শব্দের অর্থ ন্যায়নিষ্ঠ।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৬ | 4136 | ٤۱۳٦

পরিচ্ছদঃ ২২৬৭. আল্লাহর বাণীঃ আপনি এ যাবৎ যে কিবলার অনুসরণ করেছিলেন তাকে আমি এইজন্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যাতে জানতে পারি কে রসূলের অনুসরণ করে এবং কে ফিরে যায়?

আল্লাহ যাদের সৎপথ প্রদর্শন করেছেন তাদের ব্যতীত অন্যদের কাছে এটা নিশ্চিত কঠিন বিষয়। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান ব্যর্থ করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম মমতাময়, পরম দয়ালু। (সূরাহ-আল বাক্বারা্ ২ঃ ১৪৩)

৪১৩৬। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন লোকেরা কুবা মসজিদে ফযরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, আল্লাহ তা‘আলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি কুরআনের এ আয়াত নাযিল করেছেন যে, তিনি যেন কাবার দিকে (সালাত (নামায/নামাজ) মুখ করেন।

কাজেই আপনারাও কাবার দিকে মুখ করে নিন। সে মুতাবিক লোকেরা কাবার দিকে মুখ করে নেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৭ | 4137 | ٤۱۳۷

পরিচ্ছদঃ ২২৬৮. মহান আল্লাহর বাণীঃ “আকাশের দিকে বার বার আপনার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করেছি। তারা যা করে সে সম্বন্ধে আল্লাহ অনবহিত নন (সূরাহ-আল বাক্বারা ২ঃ ১৪৪)

৪১৩৭। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যারা উভয় কিবলার (কাবা ও বায়তুল মুকাদ্দাস) এর দিকে ফিরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন তাদের মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ জীবিত নেই।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৮ | 4138 | ٤۱۳۸

পরিচ্ছদঃ ২২৬৯. আল্লাহর বাণীঃ “যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের কাছে আপনি সকল দলীল পেশ করেন তবুও তারা আপনার কিবলার অনুসরণ করবে না, আর আপনিও তাদের কিবলার অনুসারী নন।

এবং তারা একে অন্যের অনুসরণ করে না। আপনি যদি আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয় আপনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।”(সূরাহ-আল বাক্বারা ২ঃ ১৪৫)

৪১৩৮। খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা লোকেরা মসজিদে কুবায় ফযরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন।

এমন সময় তাদের কাছে একজন লোক এসে বলল, এই রাত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে এবং তিনি নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছেন কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার জন্য।

অতএব আপনারা কাবার দিকে মুখ ফিরান। আর তখন লোকদের চেহারা শামের দিকে ছিল। এরপর তারা তাদের চেহারা কাবার দিকে ফিরিয়ে নিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৩৯ | 4139 | ٤۱۳۹

পরিচ্ছদঃ ২২৭০. আল্লাহর বাণীঃ “ যাদের আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে সেইরূপে জানে, যেরূপ তারা তাদের পুত্রদের জানে। এবং একদল জেনেশুনে সত্য গোপন করে থাকে। আর সত্য আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে। সুতরাং আপনি যেন সন্দেহ ও সংশয় পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হন।” (সূরাহ-আল বাক্বারা ২ঃ ১৪৬-১৪৭)

৪১৩৯। ইয়াহইয়া ইবনু কাযাআ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা লোকেরা কুবা মসজিদে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন, তখন তাদের নিকট একজন আগুন্তুক এসে বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এ রাতে কুরআনের আয়াত নাযিল করা হয়েছে, তাতে তাঁকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতএব আপনারা কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তার তখন তাদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল। এরপর তাদের মুখ কাবার দিকে ফিরে গেল।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪০ | 4140 | ٤۱٤۰

পরিচ্ছদঃ ২২৭১. আল্লাহর বাণীঃ আর তাদের প্রত্যেকেরেই রয়েছে একটি দিক, যেদিকে সে মুখ করে । সুতরাং তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকে একত্র করবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান (২ঃ ১৪৮)
৪১৪০। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) … বারা (ইবনু আযিব) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ষোল অথবা সতের মাস যাবত (মদিনাতে) বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। তারপর আল্লাহ তাঁকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪১ | 4141 | ٤۱٤۱

পরিচ্ছদঃ ২২৭২. আল্লাহর বাণীঃ “যেখান হতেই তুমি বের হও না কেন, মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও । নিশ্চয় এটা তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত সত্য। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ বেখবর নন। (সূরাহ-আল বাক্বারা ২ঃ ১৪৯) । شَطْرُهُ অর্থ সেই দিকে।
৪১৪১। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা কূবা মসজিদে সাহাবীগণ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন।

এমন সময় এক ব্যাক্তি এসে বলল, আজ রাতে [নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি] কুরআনের আযাত নাযিল হয়েছে, তাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে মুখ ফিরাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতএব আপনারা সে দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তখন তারা আপন আপন অবস্থায় মুখ ফিরিয়ে নেন এবং কাবার দিকে মুখ করেন। সে সময় তাদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪২ | 4142 | ٤۱٤۲

পরিচ্ছদঃ ২২৭৩. আল্লাহর বাণীঃ এবং তুমি যেখান হতেই বের হও না কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই তাহনা কেন তার দিকে মুখ ফিরাবে, যাতে তোমরা সৎ পথে পরিচালিত হতে পার। (২ঃ ১৫০)

৪১৪২। কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা কুবাতে সাহাবীগণ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন, এমতাবস্থায় জনৈক আগুন্তুক এসে বলল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আজ রাতে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতএব আপনারাও সে দিকে মুখ ফিরান। তাদের মুখ তখন সিরিয়ার দিকে ছিল। এরপর তারা কাবার দিকে ফিরে গেলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪৩ | 4143 | ٤۱٤۳

পরিচ্ছদঃ ২২৭৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া হল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত । অতএব যে কেউ কা‘বা ঘরে হাজ্জ বা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সায়ী (যাতায়াত) করলে কোন পাপ নেই ।

আর কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন নেক কাজ করলে আল্লাহ তার পুরস্কার দেবেন, তিনি সর্বজ্ঞ । (সূরাহ-আল বাক্বারা ২/১৫৮)। শা’আয়ির (شَعَائِرِ) শারাতুনের বহু বচন। অর্থ নিদর্শন।

ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাফওয়ান অর্থ পাথর; বলা হতো এমন পাথর যা কোন কিছু উৎপন্ন করে না। একবচনে صفوانة হয়ে থাকে। ব্যবহৃত হয় صفا বহুবচনে।

৪১৪৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম আর সে সময় আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম। মহান আল্লাহর বাণীঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভীমত কি? “সাফা এবং মারওয়া পর্বদ্বয় আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

কাজেই যে বায়তুল্লাহর হাজ্জ (হজ্জ) বা উমরা ইচ্ছা করে তার জন্য উভয় পর্বতের মধ্যে সায়ী করণে কোন দোষ নেই।” (২ঃ ১৫৮) আমি মনে করি উক্ত দুই পর্বত সায়ী নাকরণের কোন ব্যাক্তির উপর গুনাহ বর্তাবে না।

তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, কখনই এরূপ নয়। তুমি যা বলছ যদি তাই হতো তা হলে বলা হতো এভাবে فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا “উভয় পর্বত তাওয়াফ না করলে কোন গুনাহ বর্তাবে না। বস্ত্তত এই আয়াত নাযিল হয়েছে আনসারদের শানে।

তারা ‘মানাত’ এর পূজা করত। আর ‘মানাত’ ছিল কুদায়েদের পথে অবস্থিত। আনসারগণ সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করা মন্দ জানতো। ইসলামের আগমনের পর তারা এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করল। তখন আল্লাহ উক্ত আয়াত নাযিল করেন।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪৪ | 4144 | ٤۱٤٤

পরিচ্ছদঃ ২২৭৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া হল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত । অতএব যে কেউ কা‘বা ঘরে হাজ্জ বা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সায়ী (যাতায়াত) করলে কোন পাপ নেই ।

আর কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন নেক কাজ করলে আল্লাহ তার পুরস্কার দেবেন, তিনি সর্বজ্ঞ । (সূরাহ-আল বাক্বারা ২/১৫৮)। শা’আয়ির (شَعَائِرِ) শারাতুনের বহু বচন। অর্থ নিদর্শন।

ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাফওয়ান অর্থ পাথর; বলা হতো এমন পাথর যা কোন কিছু উৎপন্ন করে না। একবচনে صفوانة হয়ে থাকে। ব্যবহৃত হয় صفا বহুবচনে।

৪১৪৪। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আসিম ইবনু সুলাইমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমরা ঐ দু’টিকে জাহেলী যুগের প্রথা বলে বিবেচনা করতাম।

এরপর যখন ইসলাম আসলো, তখন আমরা উভয়ের মধ্যে সায়ী করা থেকে বিরত থাকি। তখন উক্ত আয়াত নাযিল হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪৫ | 4145 | ٤۱٤۵

পরিচ্ছদঃ ২২৭৫. মহান আল্লাহর বাণীঃ তথাপি কেউ কেউ আল্লাহ ছাড়া অপরকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহন করে (২ঃ ১৬৫) এখানে أندادا শব্দের অর্থ সমকক্ষ ও বরাবর। এর একবচন ند

৪১৪৫। আবদান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কথা বললেন, আর আমি আর একটি বললাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে তাঁর সমকক্ষে স্থাপন করতঃ মৃত্যুবরণ করে, সে জাহান্নামে যাবে।

আর আমি বললাম, যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ স্থাপন না করা অবস্থায় মারা যায়, (তখন তিনি বললেন) সে জান্নাতে যাবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪৬ | 4146 | ٤۱٤٦

পরিচ্ছদঃ ২২৭৬. হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যপারে কিসাসের বিধান দেয়া হল, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী।

তবে তার ভাইয়ের তরফ থেকে কাউকে কিছু ক্ষমা করে দেয়া হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করতে হবে এবং সততার সঙ্গে তা তাকে প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে ভার লাঘব ও বিশেষ রাহমাত।

এরপরও যে কেউ বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি । (সূরাহ-আল বাক্বারা ২/১৭৮) উফিয়ার (عفى) অর্থ পরিত্যাগ করে।

৪১৪৬। হুমায়দী (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ে কিসাস প্রথা চালু ছিল কিন্তু দিয়াত* তাদের মধ্যে চালু ছিল না। অনন্তর আল্লাহ তা‘আলা এ উম্মতের জন্য এ আয়াত নাযিল করেনঃ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ উল্লেখিত আয়াতে আলআফুব (الْعَفْوُ) এর অর্থ ইচ্ছাকৃত হত্যার বিনিময়ে দিয়াত গ্রহণ করে কিসাস ক্ষমা করে দেওয়া।

‘‘ফাত্তবাউন বিল মারুফি ওয়া আদাউন ইলাহি বি ইহসানিন’ অর্থাৎ এ ব্যাপারে যথাযথ বিধির অনুসরণ করবে এবং সততার সাথে দিয়াত আয়াত করে দেবে।

তোমাদের প্রতি অবধারিতভাবে আরোপিত কেবল কিসাস হতে তোমাদের প্রতি দিয়াত ব্যবস্থা আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও হ্রাস ও লঘু শাস্তির বিধান। দিয়াত কবুল করার পরও যদি হত্যা করে তাহলে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।

* হত্যার শাস্তি ক্ষমা করে দেওয়ার বিনিময়ে গৃহীত ক্ষতিপূরণের অর্থকে দিয়াত বলে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪৭ | 4147 | ٤۱٤۷

পরিচ্ছদঃ ২২৭৬. হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যপারে কিসাসের বিধান দেয়া হল, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী।

তবে তার ভাইয়ের তরফ থেকে কাউকে কিছু ক্ষমা করে দেয়া হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করতে হবে এবং সততার সঙ্গে তা তাকে প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে ভার লাঘব ও বিশেষ রাহমাত।

এরপরও যে কেউ বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি । (সূরাহ-আল বাক্বারা ২/১৭৮) উফিয়ার (عفى) অর্থ পরিত্যাগ করে।

৪১৪৭। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) তাদের কাছে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর কিতাবেই কিসাসের নির্দেশ রয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪৮ | 4148 | ٤۱٤۸

পরিচ্ছদঃ ২২৭৬. হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যপারে কিসাসের বিধান দেয়া হল, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী।

তবে তার ভাইয়ের তরফ থেকে কাউকে কিছু ক্ষমা করে দেয়া হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করতে হবে এবং সততার সঙ্গে তা তাকে প্রদান করতে হবে।

এটা তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে ভার লাঘব ও বিশেষ রাহমাত। এরপরও যে কেউ বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি । (সূরাহ-আল বাক্বারা ২/১৭৮) উফিয়ার (عفى) অর্থ পরিত্যাগ করে।

৪১৪৮। আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আনাসের ফুফু রুবাঈ জনৈক বাঁদির সামনের দাঁদ ভেঙ্গে ফেলে। এরপর বাঁদির কাছে রুবাঈয়ের লোকেরা ক্ষামাপ্রার্থী হলে বাঁদির লোকেরা অস্বীকার করে। তখন তাদের কাছে দীয়াত পেশ করা হল, তখন তা তারা গ্রহণ করল না।

অগত্যা তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে এসে ঘটনা জানাল। কিন্তু বাঁদির লোকেরা কিসাস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনু নযর (রাঃ) নিবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রুবাঈয়ের সামনে দাঁত ভেঙ্গে দেওয়া হবে? না যে সত্তা আপনাকে সত্য ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না।

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাবই কিসাসের নির্দেশ দেয়। এরপর বাঁদির সম্প্রদায় রাযী হয়ে যায় এবং রুবাঈকে ক্ষমা করে দেয়।

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যিনি আল্লাহর নামে শপথ করেন, আল্লাহ তা পূরণ করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৪৯ | 4149 | ٤۱٤۹

পরিচ্ছদঃ ২২৭৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার (২ঃ ১৮৩)

৪১৪৯। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগের লোকেরা আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) রোযা পালন করত।

এরপর যখন রমযানের রোযা বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার ইচ্ছা সে আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা পালন করতে পারে আর যে চায় সে পালন না-ও করতে পারে।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫০ | 4150 | ٤۱۵۰

পরিচ্ছদঃ ২২৭৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার (২ঃ ১৮৩)

৪১৫০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের রোযা অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা পালন করা হত।

এরপর যখন রমযানের রোযার বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ইচ্ছা করে সাওমে ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) পালন করবে, আর যে চায় সে রোযা পালন করবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫১ | 4151 | ٤۱۵۱

পরিচ্ছদঃ ২২৭৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার (২ঃ ১৮৩)

৪১৫১। মাহমুদ (ইবনু গায়লা) (রহঃ) … আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর নিকট ‘আশ‘আস (রাঃ) আসেন। এ সময় ইবনু মাসঊদ (রাঃ) পানাহার করছিলেন।

তখন আশ‘আস (রাঃ) বললেন, আজকে তো ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)। তিনি বললেন, রমযানের রোযার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা পালন করা হতো। যখন রমযানের রোযা নাযিল হল তখন তা পরিত্যাগ করা হয়েছে। এস, তুমিও খাও।

 

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫২ | 4152 | ٤۱۵۲

পরিচ্ছদঃ ২২৭৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার (২ঃ ১৮৩)

৪১৫২। মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে কুরাইশগণ আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন রোযা পালন করত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সে রোযা পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন তখনও তিনি সে রোযা পালন করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পালনের নির্দেশ দিতেন।

এরপর যখন রমযানের ফরয রোযার হুকুম নাযিল হল তখন আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা ছেড়ে দেওয়া হল। এরপর যে চাইত সে উক্ত রোযা পালন করত আর যে চাইত পালন করত না।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৭ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৪১৫৩ | 4153 | ٤۱۵۳

পরিচ্ছদঃ ২২৭৮. মহান আল্লাহর বাণীঃ (রোযা ফরয করা হয়েছে তা) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা সফরে থাকলে সে অন্য সময়ে সওমের সংখ্যা পূরণ করে নিবে।

আর সওম যাদের জন্য অতিশয় কষ্টদায়ক, তারা এর পরিবর্তে ফিদয়া দিবে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করে। কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর।

যদি তোমার উপলব্ধি করতে তবে বুঝতে যে রোযা পালন করাই তোমাদের জন্য অধিক ফলপ্রসু (২ঃ ১৮৪) ইমাম আতা (র) বলেন, সর্বপ্রকার রোগেই সওম ভঙ্গ করা যাবে। যেমন আল্লাহ বলেছেন।

পক্ষান্তরে ইমাম হাসান ও ইবরাহীম (র) বলেন, স্তন্যদাত্রী এবং গর্ভবতী স্ত্রীলোক যখন নিজ প্রাণ অথবা তাদের সম্মানের জীবনের প্রতি হুমকির আশংকা করে তখন তারা উভয়ে সওম ভঙ্গ করতে পারবে। পরে তা আদায় করে নিতে হতে।

অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি যখন সওম পালনে অক্ষম হয়ে পড়ে (তখন ফিদয়া আদায় করবে।) আনাস (রাঃ) বৃদ্ধ হওয়া পর এক বছর অথবা দু’বছর প্রতিদিন এক দরিদ্র ব্যক্তিকে রুটি ও গোশত খেতে দিতেন এবং সওম ছেড়ে দিতেন। অধিকাংশ লোকের কিরাআত হল- يُطِيْقُوْنَه অর্থাৎ যারা সওমর সামর্থ রাখে, এবং সাধারণত এরূপই পড়া হয়।

৪১৫৩। ইসহাক (রহঃ) … থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে পড়তে শুনেছেন وَعَلَى الَّذِينَ يُطَوَّقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ অর্থাৎ যাদের প্রতি রোযার বিধান আরোপ করা হয়েছে অথচ তারা এর সময় নয়।

তাদের প্রতি একজন মিসকিনকে খানা খাওয়ানোই ফিদয়া। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ আয়াত রহিত হয়নি। এর হুকুম সেই অতিবৃদ্ধ পুরুষ ও স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা রোযা পালনে সামর্থ্য রাখে না, তখন প্রত্যেকদিনের রোযার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে পেট ভরে আহার করাবে।

আরও পড়ুনঃ

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

মুসলিম বিশ্ব

মন্তব্য করুন