তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

বুখারি হাদিস নং ৪৫০১-৪৬০০

হাদিস নম্বরঃ ৪৫২২ | 4522 | ٤۵۲۲

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ ما آتاكم الرسول فخذوه “রাসুল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহন কর (এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক)” (৫৯ঃ ৭)
৪৫২২। আলী (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে নারী কৃত্রিম চুল লাগায়, তার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন।

রাবী বলেন, আমি উম্মে ইয়াকুব নামক মহিলার কাছ থেকে হাদিসটি শুনেছি, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, মানসুরের হাদীসের অনুরূপ।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫২৩ | 4523 | ٤۵۲۳

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ والذين تبوءوا الدار والإيمان “মুহাজীরদের যারা এ নগরীতে বসবাস করে আসছে ও ঈমান এনেছে, (তারা মুহাজিরদের ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তাঁর জন্য তারা অন্তরে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না)” (৫৯ঃ ৯)
৪৫২৩।

আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … আমর ইবনু মাইমুন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি আমার পরবর্তী খলীফাকে অসীয়ত করেছি, প্রথম যুগের মুহাজিরদের হক আদায় করার জন্য এবং আমার পরবর্তী খলীফাকে আনসারদের ব্যাপারে অসীয়ত করেছি, যারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিজরতের পূর্বে এ নগরীতে বসবাস করতেন এবং ঈমান এনেছিলেন যেন সে তাদের পুণ্যবানদের সৎকর্মকে গ্রহণ করে এবং দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমা করে দেয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫২৪ | 4524 | ٤۵۲٤

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ ويؤثرون على أنفسهم “এবং তারা তাদের নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় (নিজেদের অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও) … শেষ পর্যন্ত (৫৯ঃ ৯) الخصاصة অর্থ ক্ষুধা।

المفلحون অর্থ যারা (জান্নাতে) চিরকাল থাকার সফলতা অর্জন করেছেন। الفلاح অর্থ স্থায়িত্ব। حي على الفلاح অর্থ সফলতা ও চিরস্থায়ী জীবনের দিকে তাড়াতাড়ি আস। হাসান (রহঃ) বলেন, حاجة অর্থ হিংসা।

৪৫২৪। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম ইবনু কাসীর (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে পাঠালেন, কিন্তু তিনি তাদের কাছে কিছুই পেলেন না।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে এ লোকটিকে মেহমানদারী করতে পারে? আল্লাহ তার প্রতি রহমত করবেন।

তখন আনসারদের একজন দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আছি। এরপর তিনি তাকে সাথে নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং নিজ স্ত্রীকে বললেন, ইনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেহমান, কোন জিনিস জমা রাখবে না। মহিলা বলল, আল্লাহর কসম! আমার কাছে ছেলে-মেয়েদের খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই।

তিনি বললেন, ছেলে-মেয়েরা রাতের খাবার চাইলে তুমি তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিও এবং বাতি নিভিয়ে দিও। আজ রাতে আমরা অভুক্ত থাকব। সুতরাং মহিলা তা-ই করল।

পরদিন সকালে আনসার সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলে তিনি বললেন, অমুক ব্যাক্তি ও তার স্ত্রীর প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন। এরপর আল্লাহ নাযিল করলেন, “এবং তারা তাদের নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও” (সূরা ৫৯, আয়াত ০৯)।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫২৫ | 4525 | ٤۵۲۵

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ لا تتخذوا عدوي “(হে মু’মিনগণ) আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহন করো না” (৬০ঃ১)
সুরা মুম্‌তাহিনা

মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, لَا تَجْعَلْنَا আমাদেরকে কাফিরদের হাতে শাস্তি দিও না। তাহলে তারা বলবে, যদি মুসলিমরা হাকের ওপর থাকত, তাহলে তাদের ওপর এ মুসীবত আসত না।

بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহাবীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাঁরা যেন তাদের ঐ স্ত্রীদের বর্জন করে, যারা মক্কাতে কাফির অবস্থায় বিদ্যমান আছে।

৪৫২৫। হুমায়দী (রহঃ) … আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাঃ), মিকদাদ (রাঃ) ও আমাকে পাঠালেন এবং বললেন, তোমরা ‘রওদা খাখ’ নামক স্থানে যাও।

সেখানে এক উট-আরোহিণী মহিলা পাবে। তার কাছে একটি পত্র রয়েছে, তোমরা তার কাছ থেকে সেই চিঠিটি নিয়ে নিবে। এরপর আমরা রওনা হলাম। আমাদের ঘোড়া আমাদেরকে নিয়ে ছুটে চলল। যেতে যেতে আমরা রওদায় গিয়ে পৌঁছলাম।

সেখানে পৌঁছেই আমরা উট-আরোহিণীকে পেয়ে গেলাম। আমরা বললাম, পত্রখানা বের কর। সে বলল, আমার কাছে কোন পত্র নেই।

আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রখানা বের করবে, তা না হলে তোমাকে বিবস্ত্র করে ফেলা হবে। এরপর সে তার চুলের বেণী থেকে পত্রখানা বের করল। আমরা পত্রখানা নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম।

দেখা গেল, পত্রখানা হাতিব ইবনু আবূ বালতাআহ (রাঃ) এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে লিখা। এ চিঠিতে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিষয় তাদের কাছে ব্যক্ত করে দিয়েছেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, হাতিব কী ব্যাপার? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ব্যাপারে দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি কুরাইশ বংশীয় লোকদের সাথে বসবাসকারী এক ব্যাক্তি, কিন্ত বংশগতভাবে তাদের সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই।

আপনার সাথে যত মুহাজির আছেন, তাদের সবারই সেখানে আত্নীয়-স্বজন রয়েছে। এসব আত্নীয়-স্বজনের মক্কায় তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদ রক্ষা পাচ্ছে।

আমি চেয়েছিলাম, যেহেতু তাদের সাথে আমার বংশগত কোন সম্পর্ক নেই, তাই এবার যদি আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করি, তাহলে হয়তো তারাও আমার আত্মীয়স্বজনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। কুফর ও নিজ ধর্ম ত্যাগ করার মনোভাব নিয়ে আমি এ কাজ করিনি।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে। তখন উমার (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন এখনই আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জানো না, আল্লাহ অবশ্যই বদরে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ “তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি”।

আমর বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছেঃ “হে ঈমানদারগণ! আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না” (সূরা ৬০, আয়াত ০১)। সুফইয়ান বলেন, আয়াতটি হাদিসের অংশ নাকি আমর (রাঃ) এর কথা, তা আমি জানি না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫২৬ | 4526 | ٤۵۲٦

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ لا تتخذوا عدوي “(হে মু’মিনগণ) আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহন করো না” (৬০ঃ১)
৪৫২৬। আলী (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, সুফইয়ান ইবনু উয়াইনা (রহঃ) কে “হে মুমিনগণ! আমার শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না” আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মানুষ বর্ণনার মাঝে তো এমনই পাওয়া যায়।

আমি এ হাদিসটি আমর ইবনু দ্বীনার (রহঃ) থেকে মুখস্ত করেছি। এর মধ্য থেকে একটি অক্ষরও আমি বাদ দেইনি। আমার ধারণা, আমর ইবনু দ্বীনার (রহঃ) থেকে আমি ব্যতীত আর কেউ এ হাদিস মুখস্ত করেনি।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৫২৭ | 4527 | ٤۵۲۷

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ إذا جاءكم المؤمنات مهاجرات “(হে মু’মিনগণ!) যখন তোমাদের কাছে মু’মিন নারীরা দেশত্যাগী হয়ে আসেঃ (৬০ঃ ১০)
৪৫২৭। ইসহাক (রহঃ) … উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) তাঁকে বলেছেন, কোন মুমিন মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হিজরত করে এলে, তিনি তাকে আল্লাহর এই আয়াতের ভিত্তিতে যাচাই করতেন- “হে নাবী!

মুমিন নারীরা যখন আপনার কাছে এ মর্মে বায়’আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহর সাথে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজ সন্তানকে হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রটাবে না এবং সৎকাজে আপনাকে অমান্য করবে না, তখন তাদের বায়’আত গ্রহণ করবেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (৬০ঃ ১২)।

উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, যে মুমিন নারী এসব শর্ত মেনে নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলতেন, আমি কথার মাধ্যমে তোমাকে বায়’আত করে নিলাম।

আল্লাহর কসম! বায়’আত গ্রহণকালে কোন নারীর হাত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতকে স্পর্শ করেনি। নারীদেরকে তিনি শুধু এ কথার দ্বারাই বায়’আত করতেন- قَدْ بَايَعْتُكِ عَلَى ذَلِكَ “আমি তোমাকে এ কথার উপর বায়’আত করলাম”।

ইউনুস, মা’মার ও আবদুর রহমান ইবন ইসহাক (রহঃ) যুহরীর মাধ্যমে উক্ত বর্ণনার মুতাবআত (সমর্থন) করেছেন। ইসহাক ইবন রাশীদ যুহরী থেকে এবং যুহরী উরওয়া ও আমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫২৮ | 4528 | ٤۵۲۸

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ إذا جاءك المؤمنات يبايعنك “(হে নবী!) মু’মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এ মর্মে বায়’আত করতে আসে” (৬০ঃ ১২)
৪৫২৮। আবূ ম’মার (রহঃ) … উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়’আত গ্রহণ করেছি।

এরপর তিনি আমাদের সামনে পাঠ করলেন, “তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না”। এরপর তিনি আমাদেরকে মৃত ব্যাক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করলেন।

এ সময় এক মহিলা তার হাত টেনে নিয়ে বলল, অমুক মহিলা আমাকে বিলাপে সাহায্য করেছে, আমি তাকে এর বিনিময় দিতে চেয়েছি।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছুই বলেন নি। এরপর মহিলাটি উঠে চলে গেল এবং পুনরায় ফিরে আসলো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বায়’আত করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫২৯ | 4529 | ٤۵۲۹

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ إذا جاءك المؤمنات يبايعنك “(হে নবী!) মু’মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এ মর্মে বায়’আত করতে আসে” (৬০ঃ ১২)
৪৫২৯। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বানী وَلاَ يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ “এবং তারা সৎকাজে আপনাকে অমান্য করবে না” এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এটি একটি শর্ত, যা আল্লাহ নারীদের প্রতি আরোপ করেছেন (যারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়’আত করতে আসতেন)।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩০ | 4530 | ٤۵۳۰

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ إذا جاءك المؤمنات يبايعنك “(হে নবী!) মু’মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এ মর্মে বায়’আত করতে আসে” (৬০ঃ ১২)
৪৫৩০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি এসব শর্তে আমার কাছে বায়’আত করবে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না, যিনা করবে না এবং চুরি করবে না।

এরপর তিনি নারীদের শর্ত সম্পর্কিত আয়াত পাঠ করলেন। বর্ণনাকারী সুফইয়ান প্রায়ই বলতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি পাঠ করেছেন।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের যে ব্যাক্তি এসব শর্ত পূরণ করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান দিবেন। আর যে ব্যাক্তি এসবের কোন একটি করে ফেলবে এবং তাকে (দুনিয়াতে) শাস্তিও দেয়া হবে, তবে এ শাস্তি তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে।

আর যে ব্যাক্তি এসবের কোন একটি করে ফেলল এবং আল্লাহ তা গোপন রাখলেন, তাহলে এ বিষয়টি আল্লাহর কাছে রইল। তিনি চাইলে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন অথবা তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবদুর রহমান (রহঃ) মা’মার (রহঃ) এর সুত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩১ | 4531 | ٤۵۳۱

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ إذا جاءك المؤمنات يبايعنك “(হে নবী!) মু’মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এ মর্মে বায়’আত করতে আসে” (৬০ঃ ১২)
৪৫৩১। মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি ঈদুল-ফিতরের দিন ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত ছিলাম এবং আবূ বকর (রাঃ), উমার (রাঃ) এবং উসমান (রাঃ)ও সাথে ছিলেন।

তাঁরা সকলেই খুতবার আগে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর তিনি খুতবা দিয়েছেন। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে নামলেন।

তখন তিনি যে লোকজনকে হাতের ইশারায় বসাচ্ছিলেন, এ দৃশ্য আমি এখন ও যেন দেখতে পাচ্ছি। এরপর তিনি তাদের দুভাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং মহিলাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন।

তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ)ও ছিলেন। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “হে নাবী! মুমিন নারীরা যখন আপনার কাছে এ মর্মে বায়’আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহর সাথে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজ সন্তানকে হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রটাবে না এবং সৎকাজে আপনাকে অমান্য করবে না”।

তিনি পূর্ণ আয়াত তিলাওয়াত করে শেষ করলেন। এরপর তিনি বললেন, তোমরা কি এই শর্ত পূরণে রাজি আছো? একজন মহিলা বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! এ ছাড়া আর কোন মহিলা কোন উত্তর দেয়নি।

এ মহিলাটি কে ছিলেন, হাসান (রাঃ) তা জানতেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা দান করো। তখন বিলাল (রাঃ) তাঁর কাপড় বিছিয়ে দিলেন এবং মহিলারা তাদের রিং ও আংটি বিলাল (রাঃ) এর কাপড়ে ছুঁড়ে ছুঁড়ে দিতে লাগলেন।

 

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩২ | 4532 | ٤۵۳۲

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ من بعدي اسمه أحمد “যিনি আমার পরে আসবেন এবং যার নাম হবে আহমাদ” (৬১ঃ ৬)
সুরা সাফ্‌ফ

মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, مَنْ أَنْصَارِيْٓ إِلَى اللهِ অর্থ, আল্লাহর পথে কে আমার অনুসরণ করবে? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, مَرْصُوْصٌ ঐ বস্তু যার এক অংশ অপর অংশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সংযুক্ত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত অপরাপর তাফসীরকারের মধ্যে رَّصَاصِ (মানে শিলা) ধাতু থেকে مَرْصُوْصًا শব্দটির উৎপত্তি।

৪৫৩২। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … জুবাইর ইবনু মুত’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, “আমার অনেকগুলো নাম আছে।

আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ এবং আমি মাহী, যার দ্বারা আল্লাহ সকল কুফরী বিলুপ্ত করবেন। এবং আমি হাশির, আমার পিছনে সকল মানুষকে সমবেত করা হবে এবং আমি আকিব, সর্বশেষ আগমনকারী”।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩৩ | 4533 | ٤۵۳۳

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ وآخرين منهم لما يلحقوا بهم “এবং তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয় নি” (৬২ঃ৩) উমর (রাঃ) فاسعوا إلى ذكر الله এর স্থলে امضوا إلى ذكر الله (ধাবিত হও আল্লাহ্‌র দিকে) পড়তেন।

৪৫৩৩। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসেছিলাম। এই অবস্থায় তাঁর উপর নাযিল হল সূরা জুমু’আ, যার একটি আয়াত হল- “এবং তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি”।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। আমাদের মাঝে সালমান ফারসী (রাঃ)ও উপস্থিত ছিলেন।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান (রাঃ) এর উপর হাত রেখে বললেন, ঈমান সুরাইয়া নক্ষত্রের কাছে থাকলেও আমাদের কিছু লোক অথবা তাদের এক ব্যাক্তি তা অবশ্যই পেয়ে যাবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩৪ | 4534 | ٤۵۳٤

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ وآخرين منهم لما يلحقوا بهم “এবং তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয় নি” (৬২ঃ৩) উমর (রাঃ) فاسعوا إلى ذكر الله এর স্থলে امضوا إلى ذكر الله (ধাবিত হও আল্লাহ্‌র দিকে) পড়তেন।

৪৫৩৪। আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহাব (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের লোক অথবা তাদের কিছু লোক অবশ্যই তা পেয়ে যাবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩৫ | 4535 | ٤۵۳۵

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ وإذا رأوا تجارة “এবং যখন তারা ব্যবসা (পণ্য দ্রব্য) দেখল (৬২ঃ ১১)
৪৫৩৫। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার জুমু’আর দিন একটি বাণিজ্য দল আসল, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম।

বারজন লোক ছাড়া সকলেই সেদিকে ছুটে গেল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ নাযিল করলেন- “এবং যখন তারা দেখল ব্যবসা ও খেল-তামাশা, তখন তারা (আপনাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে) সেদিকে ছুটে গেল” (৬২ঃ ১১)।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩৬ | 4536 | ٤۵۳٦

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ إذا جاءك المنافقون قالوا نشهد إنك لرسول الله إلى لكاذبون “যখন মুনাফিকগণ তাদের কাছে আসে, তারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহ্‌র রাসুল। আল্লাহ্‌ জানেন যে, তুমি নিশ্চয়ই তাঁর রাসুল এবং আল্লাহ্‌ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী” (৬৩ঃ ১)

৪৫৩৬। আবদুল্লাহ ইবনু রাজা (রহঃ) … যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম।

তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে বলতে শুনলাম, আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল, আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই। এ কথা আমি আমার চাচা কিংবা উমার (রাঃ) এর কাছে বলে দিলাম।

তিনি তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন। ফলে তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁকে বিস্তারিত সব বললাম।

তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এবং তাঁর সাথীদের কাছে খবর পাঠালেন, তারা সকলেই কসম করে বলল, এই কথা তারা বলেনি। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথাকে মিথ্যা ও তার কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন।

এতে আমি এমন মনকষ্ট পেলাম যা আগে কখনো পাইনি। আমি (মনের দুঃখে) ঘরে বসে ছিলাম এবং আমার চাচা আমাকে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে তুমি কীভাবে ভাবলে।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ নাযিল করলেন- “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে” (৬৩ঃ ০১)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং এ সূরা পাঠ করলেন। এরপর বললেন, হে যাইদ! আল্লাহ তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩৭ | 4537 | ٤۵۳۷

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ اتخذوا أيمانهم جنة يجتنون بها “তারা তাদের শপথগুলোকে ঢালরূপে ব্যবহার করে” (৬৩ঃ ২)
৪৫৩৭।

আদম ইবনু ইয়াস (রহঃ) … যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সাথে ছিলাম।

তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে বলতে শুনলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল, আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই। এ কথা আমি আমার চাচার কাছে বলে দিলাম।

তিনি তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এবং তার সাথীদেরকে ডেকে পাঠালেন।

তারা সকলেই কসম করে বলল, এই কথা তারা বলেনি। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথাকে মিথ্যা ও তাদের কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন।

এতে আমি এমন মনকষ্ট পেলাম যা আগে কখনো পাইনি। এমনকি আমি (মনের দুঃখে) ঘরে বসে ছিলাম। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন- “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে” (৬৩ঃ ০১); “তারা বলে আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে” (৬৩ঃ ০৭); “তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই” (৬৩ঃ ০৭-০৮)।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং আমার সামনে এ সূরা পাঠ করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহ তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩৮ | 4538 | ٤۵۳۸

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ “এটা এই জন্য যে, তারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে, ফলে তাদের হৃদয় মোহর করে দেয়া হয়েছে, পরিনামে তারা বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছে” (৬৩ঃ ৩)

৪৫৩৮। আদম (রহঃ) … যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উবাই যখন বলল, “আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না” এবং এও বলল, “যদি আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করি …। তখন এ খবর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালাম।

এ কারণে আনসারগণ আমার নিন্দা করলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কসম করে বলল, এই কথা সে বলেনি। এরপর আমি বাড়ি ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।

এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার সত্যতা ঘোষণা করেছেন এবং নাযিল করেছেন- “তারা বলে তোমরা ব্যয় করবে না … শেষ পর্যন্ত।

ইবন আবু যায়িদ (রহঃ) উক্ত হাদিস যায়াদ ইবন আরকামের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৩৯ | 4539 | ٤۵۳۹

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ وإذا رأيتهم تعجبك أجسامهم الخ “এবং তুমি যখন তাদের দিকে তাকাও তখন তাদের দেহাকৃতি তোমাদের কাছে প্রীতিকর মনে হয় এবং তারা যখন কথা বলে, তুমি সাগ্রহে তাদের কথা শ্রবন কর, যেন তারা দেয়ালে ঠেকানো স্তম্ভ সদৃশ।

তারা যে কোন শোরগোলকে মনে করে তাদেরই বিরুদ্ধে। তারাই শত্রু, অতএব তাদের সম্পর্কে সতর্ক হও। আল্লাহ্‌ তাদেরকে ধ্বংস করুন। বিভ্রান্ত হয়ে তারা কোথায় চলেছে” (৬৩ঃ ৪)

৪৫৩৯। আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) … যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম।

সফরে এক কঠিন অবস্থা লোকদের গ্রাস করে নিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার সাথীদের বললেন, “আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে যারা তার পাশে আছে” এবং সে এও বলল, “আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই”।

(এ কথা শুনে) আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাঁকে এ সম্পর্কে খবর দিলাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে ডেকে পাঠালেন।

সে জোরালো কসম করে বলল, এই কথা সে বলেনি। তখন লোকেরা বলল, যাইদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিথ্যা বলেছে। তাদের এ কথায় আমি খুব মনকষ্ট পেলাম।

শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার সত্যতা সম্পর্কে এই আয়াত নাযিল করলেন- “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে”)। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডাকলেন, যাতে তারা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, কিন্তু তারা তাদের মাথা ফিরিয়ে নিল।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৪০ | 4540 | ٤۵٤۰

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ وإذا قيل لهم تعالوا يستغفر لكم رسول الله لووا رءوسهم ورأيتهم يصدون وهم مستكبرون “যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা এস, আল্লাহ্‌র রাসুল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। তখন তারা মাথা ফিরিয়ে নেয় এবং তুমি তাদেরকে দেখতে পাচ্ছ, তারা দম্ভ ভরে ফিরে যায়” (৬৩ঃ ৫)
আল্লাহ্‌র বাণীঃ خُشُبٌ مُّسَنَّدَةٌ “দেয়ালে ঠেকানো কাষ্ঠ স্তম্ভ” রাবী বলেন, তারা অত্যান্ত সুন্দর দেহের অধিকারী পুরুষ ছিল।

لَوَّوْا তারা মাথা নেড়ে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঠাট্টা করত। কেউ কেউ لَوَّوْا শব্দটিকে لَوَيْتُ (تَخْفِيْفِ সহকারে) পড়ে থাকেন।

৪৫৪০। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সাথে ছিলাম।

তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে বলতে শুনলাম, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে” এবং “আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই”।

এ কথা আমি আমার চাচার কাছে বলে দিলাম। তিনি তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন।

আমি তাঁকে বিস্তারিত সব বললাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এবং তার সাথীদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা সকলেই কসম করে বলল, এই কথা তারা বলেনি।

ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথাকে মিথ্যা ও তাদের কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন। এতে আমি এমন কষ্ট পেলাম যা আগে কখনো পাইনি। এরপর আমি ঘরে বসে ছিলাম।

তখন আমার চাচা আমাকে বললেন, এমন কাজের চিন্তা কেন করলে, যাতে নবী তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন? তখন আল্লাহ নাযিল করলেন- “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে তখন তারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল”।

এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং আমার সামনে এ সূরা পাঠ করলেন ও বললেন, আল্লাহ তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৪১ | 4541 | ٤۵٤۱

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃهم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ينفضوا يتفرقوا ولله خزائن السموات والأرض ولكن المنافقين لا يفقهون “তারাই বলে, আল্লাহ্‌র রাসুলের সহচরদের জন্য ব্যয় করবে না, যতক্ষন না তারা সরে পড়ে। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর ধনভান্ডার তো আল্লাহরই! কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না” (৬৩ঃ ৭)

৪৫৪১। আলী (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। বর্ণনাকারী সুফইয়ান (রহঃ) একবার غَزَاةٍ এর স্থলে جَيْشٍ বর্ণনা করেছেন।

এ সময় জনৈক মুহাজির এক আনসারের পাছায় লাথি মারেন। তখন আনসারী হে আনসারী ভাইয়েরা! বলে সাহায্য চাইলেন এবং মুহাজির সাহাবী হে মুহাজির ভাইয়েরা! বলে সাহায্য চাইলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন, কি হল, আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের মত ডাকাডাকি করছ কেন? তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এক মুহাজির এক আনসারীর পাছায় লাথি মেরেছে। তিনি বললেন, বাদ দাও, এটি খুবই বাজে কথা।

এরপর ঘটনাটি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর কানে পৌঁছল। সে বলল, আচ্ছা মুহাজির কি এ কাজ করেছে? আল্লাহর কসম! আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বলদের বহিষ্কার করবেই।

এ কথা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছল। তখন উমার (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন।

আমি এখনই এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। ভবিষ্যতে যেন কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথীদের হত্যা করেন।

মুহাজিররা পরবর্তীতে যখন মদিনায় হিজরত করে আসেন, তখন মুহাজিরদের তুলনায় আনসাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। অবশ্য পরে মুহাজিররা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যান।

সুফইয়ান (রহঃ) … বলেন, এ হাদিসটি আমি আমর (রহঃ) থেকে মুখস্ত করেছি। আমর (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৪২ | 4542 | ٤۵٤۲

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃهم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ينفضوا يتفرقوا ولله خزائن السموات والأرض ولكن المنافقين لا يفقهون “তারাই বলে, আল্লাহ্‌র রাসুলের সহচরদের জন্য ব্যয় করবে না, যতক্ষন না তারা সরে পড়ে। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর ধনভান্ডার তো আল্লাহরই! কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না” (৬৩ঃ ৭)

৪৫৪২। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাররায় যাদেরকে শহীদ করা হয়েছিল তাদের খবর শুনে শোকাহত হয়েছিলাম। আমার এ শোকের খবর যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) এর কাছে পৌঁছলে তিনি আমার কাছে চিঠি লিখেন।

এতে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, হে আল্লাহ! আনসার ও আনসারদের সন্তানদের তুমি ক্ষমা করে দাও।

এ দু’আর মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের তাদের সন্তানদের ও তাদের সন্তানদের জন্য দু’আ করেছেন কিনা এ ব্যাপারে ইবনু ফাযল (রাঃ) সন্দেহ করেছেন।

এ ব্যাপারে আনাস (রাঃ) তার কাছে উপস্থিত ব্যাক্তিদের কাউকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) ঐ ব্যাক্তি যার শ্রবণ করাকে আল্লাহ সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৪৩ | 4543 | ٤۵٤۳

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ يقولون لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ولله العزة ولرسوله وللمؤمنين ولكن المنافقين لا يعلمون “তারা বলে, আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিস্কৃত করবেই। কিন্তু শক্তি তো আল্লাহরই, আর তার রাসুল ও মু’মিনদের, তবে মুনাফকরা তা জানে না” (৬৩ঃ ৮)

৪৫৪৩। হুমায়দী (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। জনৈক মুহাজির এক আনসারের নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী সাহাবী, হে আনসারী ভাইগণ! এবং মুহাজির সাহাবী- হে মুহাজির ভাইগণ! বলে ডাক দিলেন।

আল্লাহ তার রাসূলের কানে এ কথা পৌছিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এ কি ধরণের ডাকাডাকি? তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে।

আনসারী হে আনসারী ভাইগণ! এবং মুহাজির সাহাবী হে মুহাজির ভাইগণ! বলে নিজ নিজ গোত্রকে ডাক দিলেন। এ কথা শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাদ দাও, এটি খুবই বাজে কথা। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় হিজরত করে আসেন তখন আনসাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন।

অবশ্য পরে মুহাজিররা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যান। এরপর ঘটনাটি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর কানে পৌঁছল। সে বলল, সত্যই তারা কি এ কাজ করেছে? আল্লাহর কসম! আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বলদের বহিষ্কার করবেই।

তখন উমার ইবনু খত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এখনই এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উমার! তাকে ছেড়ে দাও, যেন কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৪৪ | 4544 | ٤۵٤٤

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
সুরা তাগাবুন

‘আলক্বামাহ (রহ.) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর বাণীঃ وَمَنْ يُّؤْمِنْمبِاللهِ يَهْدِ قَلْبَه ‘‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন।’’

(৬৪ঃ ১১)-এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এর দ্বারা এমন লোককে বোঝানো হয়েছে, যখন বিপদগ্রস্ত হয় তখন আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং এ কথা বুঝতে পারে যে, এ বিপদ আল্লাহর পক্ষ হতেই এসেছে।

সুরা তালাক

মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, إِنْ ارْتَبْتُمْ যদি তোমরা অবগত না থাক যে তারা ঋতুমতী হবে কি না, যারা ঋতু হতে অবসর গ্রহণ করেছে আর যাদের এখনও তা শুরু হয়নি। فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ তাদের কৃতকর্মের শাস্তি।

৪৫৪৪। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর উমার (রাঃ) তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালেন।

এতে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই অসন্তুষ্ট হলেন। এরপর তিনি বললেন, সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর পবিত্রাবস্থা না আসা পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিক।

এরপর ঋতু এসে পুনরায় পবিত্র হলে তখন যদি তালাকের প্রয়োজন মনে করে তাহলে পবিত্রাবস্থায় স্পর্শ করার পূর্বে সে যেন তাকে তালাক দেয়। আল্লাহ যে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, এটি সেই ইদ্দত।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৪৫ | 4545 | ٤۵٤۵

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ “এবং গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আল্লাহকে যে ভয় করে, আল্লাহ্‌ তার সমস্যা সহজে সমাধান করে দিবেন” (৬৫ঃ ৪) وأولات الأحمال এর একবচন ذات حمل

৪৫৪৫। সা’দ ইবনু হাফস (রহঃ) … আবূ সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে আসল, যখন আবূ হুরাইরা (রাঃ) তাঁর সাথে বসে ছিলেন। লোকটি বলল, এক মহিলা তার স্বামীর মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর বাচ্চা প্রসব করেছে।

সে এখন কীভাবে ইদ্দত পালন করবে, এ বিষয়ে আপনার রায় দিন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, ইদ্দত সম্পর্কিত হুকুম দুটির যেটি দীর্ঘ, তাকে সেটি পালন করতে হবে।

আবূ সালামা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর হুকুম তো হল- গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমি আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের [আবূ সালামা (রাঃ)] এর সাথে একমত। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁর ক্রীতদাস কুরাইবকে বিষয়টি জিজ্ঞেসের জন্য উম্মে সালামা (রাঃ) এর কাছে পাঠালেন।

তিনি বললেন, সুবাই’আ আসলামিয়া (রাঃ) গর্ভবতী থাকাকালীন সময়ে তার স্বামী নিহত হন, এবং মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তিনি একটি সন্তান প্রসব করলেন।

এরপর তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হল, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিয়ে দিয়ে দিলেন। যারা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আবূ সানাবিল।

(অন্য এক সনদে) সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ও আবূন নু’মান, হাম্মাদ ইবনু যায়দ ও আইয়ুবের মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, তিনি বলেছেন, আমি ঐ মজলিশে ছিলাম, যেখানে আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন।

তার সঙ্গীরা তাকে খুব সম্মান করতেন। তিনি ইদ্দত সম্পর্কিত হুকুম দু’টি থেকে দীর্ঘ সময় সাপেক্ষে হুকুমটির কথা উল্লেখ করলে আমি আবদুল্লাহ ইবনু উতবার বরাত দিয়ে সুবায়আ বিনত হারিস আসলামিয়া (রহঃ) সম্পর্কিত হাদিসটি বর্ণনা করলাম।

মুহাম্মদ ইবনু সিরিন (রহঃ) বলেন, এতে তার কতিপয় সঙ্গী সাথী আমাকে থামিয়ে দিল। তিনি বলেন, আমি বুঝালাম তারা আমার হাদিসটি অস্বীকার করছে।

তাই আমি বললাম, আবদুল্লাহ ইবনু উতবা (রহঃ) কুফাতে এখনও জীবিত আছেন, এমতাবস্থায় যদি আমি তার নাম নিয়ে মিথ্যা কথা বলি, তাহলে এতে আমার চরম দুঃসাহসিকতা দেখান হবে। এ কথা শুনে আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা লজ্জিত হলেন এবং বললেন, কিন্তু তারা চাচা তো এ হাদিস বর্ণনা করেন নি।

তখন আমি আবূ আতিয়া মালিক ইবনু আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি সুবায়আ (রাঃ) এর হাদিসটি বর্ণনা করে আমাকে শোনাতে লাগলেন।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, (এ বিষয়ে) আপনি আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে কোন কথা শুনেছেন কি? তিনি বললেন আমরা আবদুল্লাহ (রাঃ) এর সঙ্গে ছিলাম।

তখন তিনি বললেন, তোমরা কি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি সহজ পন্থা অবলম্বন না করে কঠোরতা অবলম্বন করতে চাচ্ছ? সুরা নিসা আলকুসরা এরপর নাযিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন, গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত।

তাফসীর অধ্যায় পার্ট ১৭ । অবশিষ্ট অংশ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৮ম খণ্ড (ইফা)

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৪৬ | 4546 | ٤۵٤٦

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ يا أيها النبي لم تحرم ما أحل الله لك تبتغي مرضاة أزواجك والله غفور رحيم “হে নবী! আল্লাহ্‌ তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন তুমি তা নিষিদ্ধ করছ কেন? তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাচ্ছ; আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (৬৬ঃ ১)

৪৫৪৬। মু’আয ইবনু ফাযালা (রহঃ) … সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলে যে, “তুমি আমার জন্য অবৈধ” তাহলে তাকে অবশ্যই এর কাফফারা দিতে হবে।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) আরও বললেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ”।

হাদিস নম্বরঃ ৪৫৪৭ | 4547 | ٤۵٤۷

পরিচ্ছদঃ আল্লাহ্‌র বাণীঃ يا أيها النبي لم تحرم ما أحل الله لك تبتغي مرضاة أزواجك والله غفور رحيم “হে নবী! আল্লাহ্‌ তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন তুমি তা নিষিদ্ধ করছ কেন?

তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাচ্ছ; আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (৬৬ঃ ১)
৪৫৪৭। ইবরাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ) এর কাছে মধু পান করতেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ থাকতেন।

তাই আমি ও হাফসা একমত হলাম যে, আমাদের যার ঘরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবেন, সে তাঁকে বলবে, আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন?

আপনার মুখ থেকে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। (আমরা তাই করলাম) এবং তিনি বললেন, না, বরং আমি যয়নাব বিনতে জাহশ এর ঘরে মধু পান করেছি। তবে আমি কসম করলাম, আর কখনো মধু পান করব না। তুমি এ বিষয়টি আর কাউকে জানাবে না।

আরও পড়ুনঃ

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ই’তিকাফ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

জান্নাতুল মুয়াল্লা

মন্তব্য করুন