জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায়

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩১৩

হাদীস নং ২৩১৩

সাঈদ ইবনে উফায়র রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন ব্যভিচারী মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোন মদ্যপায়ী মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না।

কোন চোর মুমিন অবস্থায় চুরি করে না। কোন লুটতরাজকারী মুমিন অবস্থায় এরূপ লুটতরাজ করে না যে, যখন সে লুটতরাজ করে তখন তার প্রতি লোকজন চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে।

সাঈদ ও আবু সালামা রা. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত, তবে তাঁতে লুটতরাজের উল্লেখ নেই।

ফিরাবরী রহ. বলেন, আমি আবু জাফর রহ. -এর লেখা পাণ্ডুলিপিতে পেয়েছি যে, আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, এর অর্থ হল, তার থেকে ঈমানের নূর ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

বুখারি হাদিস নং ২২৭৮ – অপরাধের দণ্ড।

হাদীস নং ২২৭৮

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুমিনগণ যখন জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে তখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে এক পুলের উপর তাদের আটকে রাখা হবে।

তখন পৃথিবীতে একের প্রতি অন্যের যা যা জুলুম ও অন্যায় ছিল, তার প্রতিশোধ গ্রহণের পরে যখন তারা পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেকে পৃথিবীতে তার আবাসস্থল যেরূপ চিনত, তার চাইতে অধিক তার জান্নাতের আবাসস্থল চিনতে পারবে।

বুখারি হাদিস নং ২২৭৯ – আল্লাহ তা’আলার বাণী : সাবধান! জালিমদের উপর আল্লাহর লা’নত (১১:১৮)।

হাদীস নং ২২৭৯

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..সাফওয়ান ইবনে মুহরিয আল-মাযিনী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি ইবনে উমর রা.-এর সাথে তাঁর হাত ধরে চলছিলাম।

এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর মুমিন বান্দার একান্তে কথাবার্তা সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কি বলতে শুনেছেন ?

তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা মুমিন ব্যক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বললেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি জান?

তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক ! এভাবে তিনি তার কাছ থেকে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন। আর সে মনে করবে যে, তার ধ্বংস অনিবার্য।

তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন করে রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিব। তারপর তার নেকের আমলনামা তাকে দেওয়া হবে।

কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে সাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। সাবধান, জালিমদের উপর আল্লাহর লা’নত।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৮০ – মুসলমান মুসলমানের প্রতি জুলুম করবে না এবং তাকে অপমানিতও করবে না।

হাদীস নং ২২৮০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে না এবং তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না।

যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন । যে ব্যাক্তি (পৃথিবীতে) কোন মুসলমানের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন।

যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৮১ – তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে জালিম হোক বা মাজলুম।

হাদীস নং ২২৮১

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের ভাইকে সাহায্য কর, সে জালিম হোক বা মাজলুম।

(অর্থাৎ জালিম ভাইকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে এবং মাজলুম ভাইকে জালিমের হাত থেকে রক্ষা করবে)।

বুখারি হাদিস নং ২২৮২

হাদীস নং ২২৮২

মুসাদ্দাদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে জালিম হোক বা মাজলুম।

তিনি (আনাস) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! মাজলুমকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু জালিমকে কি করে সাহায্য করব? তিনি বললেন : তুমি তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে। (অর্থাৎ তাকে জুলুম করতে দিবে না)।

বুখারি হাদিস নং ২২৮৩ – মাজলুমকে সাহায্য করা।

হাদীস নং ২২৮৩

সাঈদ ইবনে রাবী রহ………বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন।

তারপর তিনি উল্লেখ করলেন, পীড়িতের খোঁজখবর নেওয়া, জানাযার অনুসরণ করা, হাঁচির জাবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা, সালামের জওয়াব দেওয়া, মাজলুমকে সাহায্য করা, আহবানকারীর প্রতি সাড়া দেওয়া, কসমকারীকে দায়িত্ব মুক্ত করা।

বুখারি হাদিস নং ২২৮৪

হাদীস নং ২২৮৪

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এক মুমিন আর এক মুমিনের জন্য ইমারত তুল্য যার এক অংশ আর এক অংশকে সুদৃঢ় করে। আর তিনি তাঁর এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙ্গুলে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৮৫ – জুলুম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকারের রূপ ধারণ করবে।

হাদীস নং ২২৮৫

আহমদ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জুলুম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকারের রূপ ধারণ করবে।

বুখারি হাদিস নং ২২৮৬ – মাজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করা এবং তা থেকে বেচে থাকা।

হাদীস নং ২২৮৬

ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআয রা.-কে ইয়ামানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।

বুখারি হাদিস নং ২২৮৭ – মাজলুম জালিমকে মাফ করে দিল ; এমতাবস্থায় সে জালিমের জুলুমের কথা প্রকাশ করতে পারবে কি?

হাদীস নং ২২৮৭

আদম ইবনে ইয়াস রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রম হানী বা অন্য কোন বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করায়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোন দীনার বা দিরহাম থাকবে না।

সে দিন তার কোন সৎকর্ম থাকলে তার জুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট থেকে নেওয়া হবে আর তার কোন সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ থেকে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।

আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইসমাঈল ইবনে উয়াইস রহ. বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী রহ. কবরস্থানের পার্শ্বে অবস্থান করতেন বলে তাকে আল-মাকবুরী বলা হত।

আবু আবদুল্লাহ রহ. এও বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী হলেন, বনূ লাইসের আযাদকৃত গোলাম। ইনি হলেন সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ। আর আবু সাঈদের নাম হল কায়সান।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৮৮ – যদি কেউ জুলুম মাফ করে দেয়, তবে সে জুলুমের জন্য পুনরায় তাকে দায়ী করা চলবে না।

হাদীস নং ২২৮৮

মুহাম্মদ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, কোন স্ত্রী যদি স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশংকা করে (৪ : ১২৮) আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি (আয়িশা) বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে বেশী যাওয়া-আসা করত না বরং তাকে আলাদা অর্থাৎ তালাক দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করত।

এ অবস্থায় স্ত্রী বলল, আমি তোমাকে আমার ব্যাপারে দায়মুক্ত করে দিলাম। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এই আয়াতটি নাযিল হয়।

বুখারি হাদিস নং ২২৮৯ – যদি কোন ব্যক্তি কাউকে কোন বিষয়ে অনুমতি প্রদান করে তাকে মাফ করে, কিন্তু কি পরিমাণ মাফ করল তা ব্যক্ত করেনি।

হাদীস নং ২২৮৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু পানীয় দ্রব্য আনা হল।

তিনি তার কিছুটা পান করলেন। তাঁর ডান দিকে বসা ছিল একটি বালক আর বাম দিকে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠরা। তিনি বালকটিকে বললেন, এ বয়োজ্যেষ্ঠদের কে দেওয়ার জন্য আমাকে অনুমতি দিবে কি ?

তখন বালকটি বলল, না ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কসম, আমি আপনার কাছ থেকে প্রাপ্য আমার অংশে কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির পেয়ালাটা তার হাতে ঠেলে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৯০ – যে ব্যক্তি কারো জমির কিছু অংশ জুলুম করে নিয়ে নেয় তার গুনাহ।

হাদীস নং ২২৯০

আবুল ইয়ামান রহ………সাঈদ ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কারো জমির অংশ জুলুম করে কেড়ে নেয়, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক জমিন তার গলায় লটকিয়ে দেওয়া হবে।

বুখারি হাদিস নং ২২৯১

হাদীস নং ২২৯১

আবু মামার রহ……….আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর এবং কয়েকজন লোকের মধ্যে একটি বিবাদ ছিল। আয়িশা রা.-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, হে আবু সালামা ! জমির ব্যাপারে সতর্ক থাক।

কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে নিয়ে নেয়, (কিয়ামতের দিন) এর সাত তবক জমি তার গলায় লটকিয়ে দেওয়া হবে।

বুখারি হাদিস নং ২২৯২

হাদীস নং ২২৯২

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………..সালিম রা.-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সামান্য পরিমাণ জমিও নিয়ে নিবে, কিয়ামতের দিন তাকে সাত তবক জমিনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেওয়া হবে।

আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. কর্তৃক খুরাসানে রচিত হাদীসগ্রন্থে এ হাদীসটি নেই। এ হাদীসটি বসরায় লোকজনকে শুনানো হয়েছে।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৯৩ – কোন ব্যক্তি যদি কাউকে কোন বিষয়ে অনুমতি প্রদান করে তবে তা তা জায়িয।

হাদীস নং ২২৯৩

হাফস ইবনে উমর রহ……..জাবালা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মদীনায় কিছু সংখ্যক ইরাক লোকের সঙ্গে ছিলাম। একবার আমরা দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হই, তখন ইবনে যুবাইর রা. আমাদেরকে খেজুর খেতে দিতেন।

ইবনে উমররা. আমাদের কাছ দিয়ে যেতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া এক সাথে দুটো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৯৪

হাদীস নং ২২৯৪

আবু নুমান রহ………আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত যে, আবু শুয়াইব রা. নামক এক আনাসারী গোশত বিক্রেতা একজন গোলাম ছিল। একদিন আবু শুয়াইব রা. তাকে বললেন , আমার জন্য পাঁচ জন্য লোকের খাবার তৈরী কর।

আমি আশা করছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দাওয়াত করব। আর তিনি হলেন পাঁচ জনের একজন । উক্ত আনসারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় ক্ষুধার চাপ লক্ষ্য করেছিলেন।

কাজেই তিনি তাকে দাওয়াত করলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে আরেকজন লোক আসলেন, যাকে দাওয়াত করা হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আনাসারীকে) বললেন : এ আমাদের পিছে পিছে চলে এসেছে। তুমি কি তাকে অনুমতি দিচ্ছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

বুখারি হাদিস নং ২২৯৫ – আল্লাহর তা’আলার বাণী : প্রকৃতপক্ষে সে কিন্তু অতি ঝগড়াটে (২ : ২০৪)

হাদীস নং ২২৯৫

আবু আসিম রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশী ঘৃণীত, যে অতি ঝগড়াটে।

বুখারি হাদিস নং ২২৯৬ – যে ব্যক্তি জেনে শুনে না হক বিষয়ে ঝগড়া করে, তার অপরাধ।

হাদীস নং ২২৯৬

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মু সালামা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তিনি তাঁর ঘরের দরজার নিকটে ঝগড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন।

(তাঁর কাছে বিচার চাওয়া হল) তিনি বললেন : আমি তো একজন মানুষ। আমার কাছে (কোন কোন সময়) ঝগড়াকারীরা আসে। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের চাইতে অধিক বাকপটু। তখন আমি মনে করি যে, সে সত্য বলেছে।

তাই আমি তার পক্ষে রায় দেই। বিচারে যদি আমি ভুলবশত অন্য কোন মুসলমানের হক তাকে দিয়ে থাকি, তবে তা দোযখের টুকরা। এখন সে তা গ্রহণ করুক বা ত্যাগ করুক।

বুখারি হাদিস নং ২২৯৭ – ঝগড়া করার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার।

হাদীস নং ২২৯৭

বিশর ইবনে খালিদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে, সে মুনাফিক অথবা যার মধ্যে, এ চারটি স্বভাবের কোন একটা থাকে, তার মধ্যেও মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে, যে পর্যন্ত সে তা পরিত্যাগ করে।

১. সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে ৩. যখন চুক্তি করে তা লংঘন করে ৪. যখন ঝগড়া করে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।

বুখারি হাদিস নং ২২৯৮ – অত্যাচারীর মাল যদি মাজলুমের হস্তগত হয়, তবে তা থেকে সে নিজের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারে।

হাদীস নং ২২৯৮

আবুল ইয়ামান রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উতবা ইবনে রবীআর কন্যা হিন্দা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

(আমার স্বামী) আবু সুফিয়ান কৃপণ লোক। তার সম্পদ থেকে যদি আমার সন্তানদের খেতে দেই, তাহলে আমার কোন গুনাহ হবে কি ? তখন তিনি বললেন : যদি তুমি তাদেরকে ন্যায়সংগতভাবে খেতে দাও তাহলে কোন তোমার গুনাহ হবে না।

বুখারি হাদিস নং ২২৯৯

হাদীস নং ২২৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, আপনি যখন আমাদের কোন অভিযানে পাঠান, আর আমরা এমন কওমের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না।

এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন ?

তিনি আমাদের বললেন, যদি তোমরা কোন কওমের কাছে অবতরণ কর এবং তোমাদের জন্য যদি উপযুক্ত মেহমানদারীর আয়োজন করা হয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, আর যদি তা না করে তবে তাদের কাছ থেকে মেহমানের হক আদায় করে নিবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩০০ – ছায়া-ছাউনী প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২৩০০

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিলেন, তখন আনসারগণ বনূ সাঈদা গোত্রের ছায়া ছাউনীতে গিয়ে সমবেত হলেন।

আমি আবু বকর রা. -কে বললাম, আমাদের সঙ্গে চলুন। এরপর আমরা তাদের নিকট সাকীফাহ বনূ সাঈদাতে গিয়ে পৌঁছলাম।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩০১ – কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুটি পুঁততে বাঁধা না দেয়।

হাদীস নং ২৩০১

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুটি পুঁততে নিষেধ না করে।

তারপর আবু হুরায়রা রা. বলেন, কি হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস থেকে উদাসীন দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস বলতে থাকব।

বুখারি হাদিস নং ২৩০২ – রাস্তায় মদ ঢেলে দেওয়া।

হাদীস নং ২৩০২

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম আবু ইয়াইয়া রহ……আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি আবু তালহার বাড়িতে লোকজনকে শরাব পান করাচ্ছিলাম।

সে সময় লোকেরা ফাযীখ শরাব ব্যবহার করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যেন সে মর্মে ঘোষণা দেয় যে, সাবধান ! শরাব এখন থেকে হারাম করে দেওয়া হয়েছে। আবু তালহা রা. আমাকে বললেন, বাইরে যাও এবং সমস্ত শরাব ঢেলে দাও।

আমি বাইরে গেলাম এবং সমস্ত শরাব রাস্তায় ঢেলে দিলাম। আনাস রা. বলেন, সেদিন মদীনার অলিগলিতে শরাবের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলল, একদল লোক নিহত হয়েছে, অথচ তাদের পেটে শরাব ছিল।

তখন এ আয়াত নাযিল হল: যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা পূর্বে যা কিছু পানাহার করেছে তার জন্য তাদের কোন গুনাহ হবে না (৫:৯৩)।

বুখারি হাদিস নং ২৩০৩ – ঘরের আঙিনা ও তাঁতে বসা এবং রাস্তার উপর বসা।

হাদীস নং ২৩০৩

মুআয ইবনে ফাযালা রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তোমরা রাস্তার উপর বসা ছেড়ে দাও। লোকজন বলল, এ ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।

কেননা, এটাই আমাদের উঠাবসার জায়গা এবং এখানেই আমরা কথাবার্তা বলে থাকি। তিনি বললেন : যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করবে।

তারা বলল, রাস্তার হক কি ? তিনি বললেন : দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকা, সালামের জওয়াব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করা।

বুখারি হাদিস নং ২৩০৪ – রাস্তায় কূপ খনন করা, যদি তাঁতে কারো কষ্ট না হয়।

হাদীস নং ২৩০৪

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : একদিন এক ব্যক্তি রাস্তায় চলার পথে অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত হল। তারপর একটি কূপ দেখতে পেয়ে তাতে সে নেমে পড়ল এবং পানি পান করল।

উপরে উঠে এসে সে দেখতে পেল, একটা কুকুর হাঁপাচ্ছে আর পিপাসার দরুন ভিজে মাটি চেটে খাচ্ছে। লোকটি (মনে মনে) বলল, এ কুকুরটির তেমনি পিপাসা পেয়েছে, যেমনি আমার পিপাসা পেয়েছিল।

তারপর সে কূপের মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা পানি ভর্তি করে এনে কুকুরটিকে পান করাল। আল্লাহ তার এ কাজ কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন।

সাহাবীগণ বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ !পশুদের ব্যাপারেও কি আমাদের জন্য সাওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন : প্রাণী মাত্রের সেবার মধ্যেই সাওয়াব রয়েছে।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩০৫ – ছাদ ইত্যাদির উপর উচু বা নীচু চিলেকোঠা ও কক্ষ নির্মাণ করা।

হাদীস নং ২৩০৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার এক টিলার উপর উঠে বললেন : আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ ? যে তোমাদের ঘরগুলোতে বৃষ্টি বর্ষণের মত ফিতনা বর্ষিত হচ্ছে।

বুখারি হাদিস নং ২৩০৬

হাদীস নং ২৩০৬

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীদের মধ্যে ঐ দু’ সহধর্মিণী সম্পর্কে উমর রা. কে কাছে জিজ্ঞাসা করতে সব সময় আগ্রহী ছিলাম, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন : যদি তোমরা দু’জনে তাওবা কর (তাহলে সেটাই হবে কল্যাণকর)।

কেননা তোমাদের অন্তর বাঁকা হয়ে গেছে। একবার আমি তাঁর (উমর রা.-এর) সঙ্গে হজ্জে রওয়ানা করলাম। তিনি রাস্তা থেকে সরে গেলেন। আমিও একটি পানির পাত্র নিয়ে তাঁর সঙ্গে গতি পরিবর্তন করলাম।

তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরে এলেন। আমি পানির পাত্র থেকে তাঁর দু’হাতে পানি ঢাললাম, তিনি উযূ করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আমীরুল মুমিনীন !

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীদের মধ্যে দু’সহধর্মিণী কারা ছিলেন, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন : যদি তোমরা দু’জনে তাওবা কর (তাহলে সেটাই হবে কল্যাণকর)।

কেননা তোমাদের অন্তর বাঁকা হয়ে গেছে। তিনি বললেন, হে ইবনে আব্বাস ! এটা তোমার জন্য তাজ্জাবের বিষয় যে, তুমি তা জান না।

তারা দু’জন হলেন আয়িশা ও হাফসা রা. (অতঃপর উমর রা. পুরো ঘটনা বলতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী মদীনার অদূরে বনূ উমাইয়া ইবনে যায়েদের মহল্লায় বসবাস করতাম। আমরা দু’জন পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হতাম।

একদিন তিনি যেতেন, আরেক দিন আমি যেতাম, আমি যেদিন যেতাম সেদিনের খবর (ওয়াহী) ইত্যাদি বিষয় তাকে অবহিত করতাম। আর তিনি যেদিন যেতেন, তিনিও অনুরূপ করতেন।

আর আমরা কুরাইশ গোত্রের লোকেরা মহিলাদের উপর কর্তৃত্ব করতাম। কিন্তু আমরা যখন মদীনায় আনসারদের কাছে আসলাম তখন তাদেরকে এমন পেলাম, যাদের নারীরা তাদের উপর কর্তৃত্ব করে থাকে।

ধীরে ধীরে আমাদের মহিলারাও আনসারী মহিলাদের রীতিনীতি গ্রহণ করতে লাগল। একদিন আমি আমার স্ত্রীকে ধমক দিলাম। সে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিউত্তর তুমি অসন্তুষ্ট হও কেন ?

আল্লাহর কসম ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীরাও তো তাঁর কথার প্রতিউত্তর করে থাকেন এবং তাঁল কোন কোন সহধর্মিণী রাত পর্যন্ত পুরো দিন তাঁর কাছ থেকে আলাদা থাকেন। এ কথা শুনে আমি ঘাবড়ে গেলাম। বললাম, যিনি এরূপ করেছেন তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তারপর আমি জামা-কাপড় পরে (আমার মেয়ে) হাফসা রা.-এর কাছে গিয়ে বললাম, হে হাফসা, তোমাদের কেউ কেউ নাকি রাত পর্যন্ত পুরো দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অসন্তুষ্টে রাখে। সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তবে তো সে বরবাদ এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

তোমার কি ভয় হয় না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তষ্ট হলে আল্লাহও অসন্তুষ্ট হবেন। এর ফলে তুমি বরবাদ হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করো না এবং তাঁর কোন কথার প্রতিউত্তর দিওনা এবং তাঁর থেকে পৃথক থেকো না।

তোমার কোন কিছুর দরকার হয়ে থাকলে আমাকে বলবে। আর তোমার প্রতিবেশী তোমার চাইতে অধিক সুন্দরী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিক প্রিয় এ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে।

তিনি উদ্দেশ্য করেছেন আয়িশা রা.-কে। সে সময় আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছিলো যে, গাসসানের লোকেরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ঘোড়াগুলিকে প্রস্তুত করছে।

একদিন আমার সাথী তার পালার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন এবং ঈশার সময় এসে আমার দরজায় খুব করাঘাত করলেন এবং বললেন, তিনি (উমর রা.) কি ঘুমিয়েছেন ?

তখন আমি ঘাবড়িয়ে তাঁর কাছে বেরিয়ে এলাম। তিনি বললেন, সাংঘাতিক ঘটনা ঘটে গেছে। আমি বললাম, সেটা কি ? গাসসানের লোকেরা কি এসে গেছে?

তিনি বললেন, না, বরং তার চাইতেও বড় ঘটনা ঘটতে পারে। আমি কাপড় পরে বেরিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে তিনি তাঁর কোঠায় প্রবেশ করে একাকী বসে থাকলেন। তখন আমি হাফসা রা.-এর কাছে গিয়ে দেখি সে কাঁদছে।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কাঁদছ কেন ? সে বলল, আমি জানি না। তিনি তাঁর ঐ কোঠায় আছেন। আমি বের হয়ে মিম্বরের কাছে আসলাম, দেখি যে লোকজন মিম্বরের চারপাশ জুড়ে বসে আছেন এবং কেউ কেউ কাঁদছেন। আমি তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসলাম।

তারপর আমার উদ্যেগ প্রবল হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোঠায় ছিলেন, আমি সে কোঠার কাছে আসলাম।

আমি তাঁর এক কালো গোলামকে বললাম, উমরের জন্য অনুমতি গ্রহণ কর। সে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আলাপ করে বেরিয়েএসে বলল, আমি আনার কথা তাঁর কাছে উল্লেখ করেছি , কিন্তু তিনি নীরব রইলেন। আমি ফিরে এলাম এবং মিম্বরের পাশে বসা লোকদের কাছে গিয়ে বসলাম।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কিছুক্ষণ পর আমর আবার উদ্বেগ প্রবল হল। তাই আমি আবার এসে গোলামকে বললাম। সে এসে আগের মতই বলল। আম আবার মিম্বরের কাছে উপবিষ্ট লোকরেদ সাথে গিয়ে বসলাম।

তারপর আমার উদ্বেগ আবার প্রবল হল আমি গোলামের কাছে এসে বললাম, (উমরের জন্য অনুমতি গ্রহণ কর) এবারও সে আগের মত বলল।

তারপর যখন আমি ফিরে আসছিলাম, গোলাম আমাকে ডেকে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। এখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করে দেখি, খেজুরের পাতায় তৈরী ছোবড়া ভর্তি একটা চামড়ার বালিশে হেলান দিয়ে খালি চাটাই এর উপর কাত হয়ে শুয়ে আছেন।

তাঁর শরীর ও চাটাই এর মাঝখানে কোন ফরাশ ছিল না। ফলে তাঁর শরীরের পার্শ্বে চাটাইয়ের দাগ পড়ে গিয়েছে। আমি তাকে সালাম করলাম এবং দাঁড়িয়েই আবার আরয করলাম আপনি কি আপনার সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়েছেন ?

তখন তিনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং বললেন, না। তারপর আমি (থমথমে ভাব কাটিয়ে) অনুকূলভাব সৃষ্টির জন্য দাঁড়িয়ে থেকেই বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

দেখুন, আমরা কুরাইশ গোত্রের নারীদের উপর কর্তৃত্ব করতাম। তারপর যখন আমরা এমন একটি সম্প্রদায়ের নিকট এলাম, যাদের উপর তাদের নারীরা কর্তৃত্ব করছে। তিনি এ ব্যাপারে আলোচনা করলেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাঁসলেন।

তারপর আমি বললাম, আপনি হয়ত লক্ষ্য করছেন যে, আমি হাফসার ঘরে গিয়েছে এবং তাকে বলেছি, তোমাকে এ কথা যেন ধোঁকায় না ফেলে যে, তোমার প্রতিবেশীণী (সতীন) তোমার চাইতে অধিক আকর্ষণীয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিক প্রিয়।

এ কথা দ্বারা তিনি আয়িশা রা.-কে বুঝিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার মুচকি হাঁসলেন। তাকে একা দেখে আমি বসে পড়লাম।

তারপর আমি তাঁর ঘরের ভিতর এদিক সেদিক দৃষ্টি করলাম। কিন্তু তাঁর ঘরে তিনটি কাঁচা চামড়া ব্যতীত দৃষ্টিপাত করার মত আর কিছুই দেখতে পেলাম না, তখন আমি আরয করলাম, আল্লাহ তা’আলার কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আপনার উম্মতকে পার্থিব স্বচ্ছলতা দান করেন।

কেননা, পারস্য ও রোমের অধিবাসীদেরকে স্বচ্ছলতা দান করা হয়েছে এবং তাদেরকে পার্থিব (অনেক প্রাচুর্য) দেওয়া হয়েছে, অথচ তারা আল্লাহর ইবাদত করে না। তিনি তখন হেলান দিয়ে ছিলেন।

তিনি বললেন :হে ইবনে খাত্তাব ! তোমার কি এতে সন্দেহ রয়েছে যে, তারা তো এমন এক জাতি, যাদেরকে তাদের ভাল কাজের প্রতিদান দুনিয়ার জীবনেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার জন্য ক্ষমার দু’আ করুন। হাফসা রা. আয়িশা রা.-এর কাছে এ কথা প্রকাশ করলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণীদের থেকে আলাদা হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর কসম ! আমি এক মাস তাদের কাছে যাব না।

তাদের উপর ­ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভীষণ রাগের কারণে তা হয়েছিল। যেহেতু আল্লাহ তা’আলা তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যখন ঊনত্রিশ দিন কেটে গেল, তিনি সর্বপ্রথম আয়িশা রা.-এর কাছে এলেন।

আয়িশা রা. তাকে বললেন, আপনি কসম করেছেন যে, এক মাসের মধ্যে আমাদের কাছে আসবেন না। আর এ পর্যন্ত আমরা ঊনত্রিশ রাত অতিবাহিত করেছি, যা আমি ঠিক ঠিক গণনা করে রেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়।

আর মূলত: এ মাসটি ঊনত্রিশ দিনেরই ছিল।

আয়িশা রা. বলেন, যখন ইখতিয়ারের আয়াত নাযিল হল, তখন তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমার কাছে আসলেন এবং বললেন : আমি তোমাকে একটি কথা বলতে চাই, তবে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে এর জওয়াবে তুমি তাড়াহুড়া করবে না।

আয়িশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা জানতেন যে, আমার পিতা-মাতা তাঁর থেকে আলাদা হওয়ার পরামর্শ আমাকে কখনো দিবেন না।

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন: হে নবী ! আপনি আপানার সহধর্মিণীদের বলুন।………মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।

(৩৩:২৮,২৯) আমি বললাম, এ ব্যাপারে আমি আমার পিতা-মাতার কাছে কি পরামর্শ নিব? আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি এবং পরকালীন (সাফল্য) পেতে চাই। তারপর তিনি তাঁর অন্য সহধর্মিণীদেরকেও ইখতিয়ার দিলেন এবং প্রত্যেক সে একই জবাব দিলেন, যা আয়িশা রা. দিয়েছিলেন।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩০৭

হাদীস নং ২৩০৭

ইবনে সালাম রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে যাবেন না বলে কসম করেন। এ সময় তাঁর পা মচকে গিয়েছিল।

তাই তিনি একটি চিলেকোঠায় অবস্থান করেন। একদিন উমর রা. এসে বললেন, আপনি কি আপনার সহধর্মিণীদের তালাক দিয়েছেন ? তিনি বললেন : না তবে আমি একমাস তাদের কাছে যাব না; বলে কসম করেছি।

তিন ঊনত্রিশ দিন সেখানে অবস্থান করেন এরপর তিনি অবতরণ করলেন এবং নিজের সহধর্মিণীদের কাছে আসেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩০৮ – যে তার উট মসজিদের আঙিনায় কিংবা মসজিদের দরজায় বেঁধে রাখে।

হাদীস নং ২৩০৮

মুসলিম রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন।

আমি উটটাকে মসজিদের আঙিনার পাশে বেঁধে রেখে তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম, এটা আপনার উট। তিনি বেরিয়ে এলেন এবং উটের পাশে ঘুরাফেরা করতে লাগলেন। তারপর বললেন, উট ও তার মূল্য দুটোই তোমার ।

বুখারি হাদিস নং ২৩০৯ – লোকজনের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে দাঁড়ানো ও পেশাব করা।

হাদীস নং ২৩০৯

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি।

(রাবী বলেন) অথবা তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন লোকদের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে এরপর তিনি দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন (বিশেষ কারণে)।

বুখারি হাদিস নং ২৩১০ – যে ব্যক্তি ডালপালা এবং মানুষকে কষ্ট দেয় এমন বস্তু রাস্তা থেকে তুলে তা অন্যত্র ফেলে দেয়।

হাদীস নং ২৩১০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় কাঁটাদার গাছের একটি ডাল রাস্তায় পেল, তখন সেটাকে রাস্তা থেকে অপসারণ করল, আল্লাহ তার এ কাজকে কবুল করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩১১ – লোকজনের চলাচলের প্রশস্ত রাস্তায় মালিকরা কোন কিছু নির্মাণ করতে চাইলে, এবং এতে মতানৈক্য করলে রাস্তার জন্য সাত হাত জায়গা ছেড়ে দিবে।

হাদীস নং ২৩১১

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মালিকেরা রাস্তার ব্যাপারে পরস্পরে বিবাদ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তার জন্য সাত হাত জমি ছেড়ে দেওয়ার ফয়সালা দেন।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩১২ – মালিকের অনুমতি ছাড়া ছিনিয়ে নেওয়া।

হাদীস নং ২৩১২

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………আদী ইবনে সাবিত রা. -এর নানা ইবনে ইয়াযীদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুটতারাজ করতে এবং জীবকে বিকলাঙ্গ করতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩১৪ – ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলা ও শূকর হত্যা করা।

হাদীস নং ২৩১৪

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন : ইবনে মারয়াম (ঈসা আ.) তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচারক হয়ে অবতরণ না করা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না।

তিনি এসে ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিযয়া কর তুলে দিবেন। তখন ধন-সম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, তা গ্রহণ করার মত কেউ থাকবে না।

বুখারি হাদিস নং ২৩১৫ – যে মটকায় মদ রয়েছে তা কি ভেঙ্গে ফেলা হবে অথবা মশকে ছিদ্র করা হবে কি?……..

হাদীস নং ২৩১৫

আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ…….সালামা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধে আগুন প্রজ্বলিত দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এ আগুন কেন জ্বালানো হচ্ছে ?

সাহাবীগণ বললেন, গৃহপালিত গাধার গোশত রান্না করার জন্য। তিনি বললেন : পাত্রটি ভেঙ্গে দাও এবং গোশত ফেলে দাও। তাঁরা বললেন, আমরা গোশত ফেলে দিয়ে পাত্রটা ধুয়ে নিব কি ?

তিনি বললেন : ধুয়ে নাও। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইবনে আবু উয়াইস বললেন যে, الإنسية শব্দটি আলিফ ও নুনে যবর হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩১৬

হাদীস নং ২৩১৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (বিজয়ের বেশে) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন কা’বা শরীফের চারপাশে তিনশত ষাটটি মূর্তি ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতের লাঠি দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত করতে থাকেন আর বলতে থাকেন : সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, (আয়াতের শেষ পর্যন্ত(১৭ : ৮১)।

বুখারি হাদিস নং ২৩১৭

হাদীস নং ২৩১৭

ইবরহামী ইবনে মুনযির রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার (কামরার) তাকের সম্মুখে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন, যাতে ছিল প্রাণীর ছবি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ছিড়ে ফেললেন। এরপর আয়িশা রা. তা দিয়ে দু’খানা গদি তৈরী করেন। এই গদি দু’খানা ঘরেই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর বসতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩১৮ – মাল রক্ষা করতে গিয়ে যে ব্যক্তি নিহত হয়।

হাদীস নং ২৩১৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শদীদ।

বুখারি হাদিস নং ২৩১৯ – যদি কেউ অন্য কারুর পিয়ালা বা কোন জিনিস ভেঙ্গে ফেলে।

হাদীস নং ২৩১৯

মুসাদ্দাদ রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক সহধর্মিণীর কাছে ছিলেন। উম্মুল মুমিনীনদের অপর একজন খাদিমের মারফত এক পাত্র খাবার পাঠালেন।

তিনি তার হাতের আঘাতে পাত্রটি ভেঙ্গে ফেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জোড়া লাগিয়ে তাঁতে খাবার রাখলেন এবং (সাথীদেরকে) বললেন, তোমরা খাও।

যে পর্যন্ত তাঁরা খাওয়া শেষ না করলেন, সে পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রটি ও প্রেরিত খাদেমকে আটকিয়ে রাখলেন।

তারপর তিনি ভাঙ্গা পাত্রটি রেখে দিয়ে একটি ভাল পাত্র ফেরত দিলেন। ইবনে আবু মারয়াম রহ……..আনাস রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে।

 জুলুম ও কিসাস অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩২০ – যদি কেউ দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে তাহলে সে অনুরূপ দেয়াল তৈরী করে দিবে।

হাদীস নং ২৩২০

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বনী ইসরাঈলের মধ্যে জুরাইজ নামক একজন লোক ছিলেন।

একদিন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাঁর মা তাকে ডাকলেন। কিন্তু তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন না। তিনি বললেন : সালাত আদায় করব, না কি তার জবাব দেব।

তারপর মা তাঁর কাছে এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ ! তাকে মৃত্যু দিও না যে পর্যন্ত তুমি তাকে কোন বেশ্যার মুখ না দেখাও। একদিন জুরাইজ তার ইবাদত খানায় ছিলেন।

এমন সময় এক মহিলা বললেন, আমি জুরাইজকে ফাঁসিয়ে ছাড়ব। তখন সে তার নিকট গেল এবং তার সাথে কথাবার্তা বলল। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। তারপর সে মহিলা এক রাখালের কাছে এসে স্বেচ্ছায় নিজেকে তার হাতে সপে দিল।

তার কিছুদিন পর সে একটি ছেলে প্রসব করল। তখন সে বলে বেড়াতে লাগল যে, এ ছেলে জুরাইজের । এ কথা শুনে লোকেরা জুরাইজের নিকট এল এবং তার ইবাদতখানা ভেঙ্গে তাকে বের করে দিল এবং তাকে গালিগালাজ করল।

এরপর তিনি উযূ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি ছেলেটির কাছে এসে বললেন, হে ছেলে, তোমার পিতা কে? সে জবাব দিল, রাখাল।

তখন লোকেরা বলল, আমরা তোমার ইবাদতখানাটি সোনা দিয়ে তৈরী করে দিব। জুরাইজ বললেন, না মাটি দিয়েই তৈরী করে দাও (যেমনটা পূর্বে ছিল)।

আরও পড়ুনঃ

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইজারা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সলম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন