জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

Table of Contents

জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী ২য় খণ্ড

জুমু'আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ৮৩৮

আবু নুআইম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, জুমুআর দিন উমর ইবনে খাত্তাব রা. খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করেন। উমর রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সালাতে সময় মত আসতে তোমরা কেন বাঁধাগ্রস্ত হও ? তিনি বললেন, আযান শোনার সাথে সাথেই তো আমি উযূ করেছি। তখন উমর রা. বললেন, তোমরা কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শোননি যে, যখন তোমাদের কেউ জুমুআর সালাতে রওয়ানা হয়, তখন সে যেন গোসল করে নেয়।

হাদীস নং ৮৩৯

আদম রহ………সালমান ফারিসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তৈল থেকে ব্যবহার হরে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে এরপর বের হয় এবং দুজন লোকের মাঝে ফাঁক না করে, তারপর তার নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় চুপ থাকে, তা হলে তার সে জুমুআ থেকে আরেক জুমুআ পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

হাদীস নং ৮৪০

আবুল ইয়ামান রহ……..তাউস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা. কে বললাম, সাহাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জুমুআর দিন গোসল কর এবং মাথা ধুয়ে ফেল যদিও তোমরা জুনুবী না হয়ে থাক এবং সুগন্ধি ব্যবহার কর। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, গোসল সম্পর্কে নির্দেশ ঠিকই আছে, কিন্তু সুগন্ধি সম্পর্কে আমার জানা নেই।

হাদীস নং ৮৪১

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………তাউস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি যখন জুমুআর দিন গোসল সংক্রান্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর উল্লেখ করেন তখন আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পরিবারবর্গের সঙ্গে অবস্থান করতেন তখনও কি তিনি সুগন্ধি বা তৈল ব্যবহার করতেন ? তিনি বললেন, আমি তা জানি না।

হাদীস নং ৮৪২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব রা. মসজিদে নববীর দরজার নিকটে এক জোড়া রেশমী পেষাক ( বিক্রি হতে) দেখে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যদি এটি আপনি খরিদ করতেন আর জুমুআর দিন এবং যখন আপনার কাছে প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করতেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এটা তো সে ব্যক্তিই পরিধান করে, আখিরাতে যার (মঙ্গলের) কোন অংশ নেই। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ ধরনের কয়েক জোড়া পোষাক আসে, তখন তার এক জোড়া তিনি উমর রা.-কে প্রদান করেন। উমর রা. আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি আমাকে এটি পরিধান করতে দিলেন অথচ আপনি উতারিদের (রেশম) পোষাক সম্পর্কে যা বলার তা তো বলেছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি তোমাকে এটি নিজের পরিধানের জন্য প্রদান করিনি। উমর ইবনে খাত্তাব রা. তখন এটি মক্কায় তাঁর এক ভাইকে দিয়ে দেন, যে তখন মুশরিক ছিল।

হাদীস নং ৮৪৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার উম্মতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তা হলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

হাদীস নং ৮৪৪

আবু মামার রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমি মিসওয়াক সম্পর্কে তোমাদের অনেক বলেছি।

হাদীস নং ৮৪৫

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ…………হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাতের জন্য উঠতেন তখন দাঁত মেজে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন।

হাদীস নং ৮৪৬

ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. একটি মিসওয়াক হাতে নিয়ে দাঁত মাজতে প্রবেশ করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন। আমি তাকে বললাম, হে আবদুর রহমান ! মিসওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিল। আমি ব্যবহৃত অংশ ভেঙ্গে ফেললাম এবং তা চিবিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তিনি আমার বুকে হেলান দিয়ে তা দিয়ে মিসওয়াক করলেন।

হাদীস নং ৮৪৭

আবু নুআইম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিন ফজরের সালাতে (কোন সময়) الم تنزيل السجدة এবং هل أتى على الإنسان এ দুটি সূরা তিলাওয়াত করতেন।

হাদীস নং ৮৪৮

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে জুমুআর সালাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম জুমুআর সালাত অনুষ্ঠিত হয় বাহরাইনে জুওয়াসা নামক স্থানে অবস্থিত আবদুল কায়স গোত্রের মসজিদে।

হাদীস নং ৮৪৯

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সকলেই রক্ষণাবেক্ষণকারী। লাইস (ইবনে সাদ রা. আরো অতিরিক্ত বলেন, (পরবর্তী রাবী) ইউনুস রহ. বলেছেন, আমি একদিন ইবনে শিহাব রহ.-এর সঙ্গে ওয়াদিইল কুরা নামক স্থানে ছিলাম। তখন রুযাইক (ইবনে হুকায়ম রহ. ইবনে শিহাব রহ.-এর নিকট লিখলেন, আপনি কি মনে করেন, আমি কি (এখানে) জুমুআর সালাত আদায় করব ? রুযাইক রহ. তখন সেখানে তাঁর জমির কৃষি কাজের তত্ত্বাবধান করতেন। সেখানে একদল সুদানী ও অন্যান্য লোক বাস করত। রুযাইক রহ. সে সময় আইলা শহরের (আমীর) ছিলেন। ইবনে শিহাব রহ. তাঁকে জুমুআ কায়িম করার নির্দেশ দিয়ে লিখেছিলেন এবং আমি তাকে এ নির্দেশ দিতে শুনলাম। সালিম রহ. তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সকলেই রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের (দায়িত্ব) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবার বর্গের অভিভাবক, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইবনে উমর রা. বলেন, আমার মনে হয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন : পুত্র তার পিতার ধন-সম্পদের রক্ষক এবং এগুলো সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তোমরা সবাই রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং সবাইকে তাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।

হাদীস নং ৮৫০

আবুল ইয়ামান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতে আসবে সে যেন গোসল করে।”

হাদীস নং ৮৫১

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য জুমুআর দিন গোসল করা কর্তব্য।

হাদীস নং ৮৫২

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষ। কিন্তু কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে সবার আগে। তবে তাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছে আমাদের আগে এবং আমাদের তা দেয় হয়েছে তাদের পরে। তারপর এই দিন (শুক্রবার নির্ধারণ) সম্বন্ধে তাদের মধ্যে মতানৈক্য হয়েছে। আল্লাহ আমাদের এ শুক্রবার সম্পর্কে হিদায়েত দান করেছেন। পরের দিন (শনিবার) ইয়াহুদীদের এবং তারপরের দিন (রবিবার) নাসারাদের। এরপর কিছুক্ষণ নীরব থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : প্রত্যেক মুসলিমের উপর হক রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনের এক দিন সে গোসল করবে, তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে। আবান ইবনে সালিহ রহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক মুসলিমের উপর হক রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনের এক দিন সে যেন গোসল করে।

হাদীস নং ৮৫৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা মহিলাগণকে রাতে (সালাতের জন্য) মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিবে।

জুমু'আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ৮৫৪

ইউসুফ ইবনে মূসা রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা.-এর স্ত্রী (আতিকাহ বিনতে যায়েদ) ফজর ও ইশার সালাতের জামাআতে মসজিদে হাজির হতেন। তাকে বলা হল, আপনি কেন (সালাতের জন্য) বের হন? অথচ আপনি জানেন যে, উমর রা. তা অপছন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন। তিনি জবাব দিলেন, তা হলে এমন কি বাধা রয়েছে রয়েছে যে, উমর রা স্বয়ং আমাকে নিষেধ করছেন না ? বলা হল, তাকে বাধা দেয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী : আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে নিষেধ করো না।

হাদীস নং ৮৫৫

মুসাদ্দাদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর মুআযযিনকে এক বর্ষণমুখর দিনে বললেন, যখন তুমি (আযানে) ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলবে, তখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ বলবে না, বলবে, ‘সাললু ফী বুয়ুতিকুম’ তোমরা নিজ নিজ বাসগৃহে সালাত আদায় কর। তা লোকেরা অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেন : আমার চাইতে উত্তম ব্যক্তিই (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করেছেন। জুমুআ নি:সন্দেহ জরুরী। আমি অপছন্দ করি যে, তোমাদেরকে মাটি ও কাদার মধ্য দিয়ে যাতায়ত করার অসুবিধায় ফেলি।

হাদীস নং ৮৫৬

আহমদ ইবনে সালিহ রহ……… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন তাদের বাড়ী ও উচু এলাকা থেকেও জুমআর সালাতের জন্য পালাক্রমে আসতেন। আর যেহেতু তারা ধুলো-বালির মধ্য দিয়ে আগমন করতেন, তাই তারা ধুলা মলিন ও ঘর্মাক্ত হয়ে যেতেন। তাদের দেহ থেকে ঘাম বের হত। একদিন তাদের একজন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট ছিলেন। তিনি তাকে বললেন : যদি তোমরা এ দিনটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে।

হাদীস নং ৮৫৭

আবদান রহ………ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আমরাহ রহ.-কে জুমুআর দিনে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। আমরাহ রহ. বলেন, আয়িশা রা. বলেছেন যে, লোকজন নিজেদের কাজকর্ম নিজেরাই করতেন। যখন তারা দুপুরের পরে জুমুআর জন্য যেতেন তখন সে অবস্থায়ই চলে যেতেন। তাই তাদের বলা হল, যদি তোমরা গোসল করে নিতে।

হাদীস নং ৮৫৮

সুরাইজ ইবনে নুমান রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর সালাত আদায় করতেন, যখন সূর্য হেলে যেতো।

হাদীস নং ৮৫৯

আবদান রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা প্রথম ওয়াক্তেই জুমুআর সালাতে যেতাম এবং জুমুআর পরে কাইলুলা (দুপুরের বিশ্রাম) করতাম।

হাদীস নং ৮৬০

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড শীতের সময় প্রথম ওয়াক্তেই সালাত আদায় করতেন। আর প্রখর গরমের সময় ঠান্ডা করে (বিলম্ব করে)) সালাত আদায় করতেন। অর্থাৎ জুমুআর সালাত। ইউনুস ইবনে বুকাইর রহ. আমাদের বলেছেন, আর তিনি সালাত শব্দের উল্লেখ করেছেন, জুমুআর শব্দের উল্লেখ করেন নি। আর বিশর ইবনে সাবিত রহ. বলেন, আমাদের কাছে আবু খালদা রহ. বর্ণনা করছেন যে, জুমুআর ইমাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি আনাস রা. কে বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত কি ভাবে আদায় করতেন ?

হাদীস নং ৮৬১

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবায়া ইবনে রিফাআ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জুমুআর সালাতে যাওয়ার সময় আবু আব্বাস রা.-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি যে, যার দু’পা আল্লাহর পথে ধুলি ধু সারিত হয়, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।

হাদীস নং ৮৬২

আদাম ও আবুল ইয়ামান রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন সালাত শুরু হয়, তখন দৌড়িয়ে গিয়ে সালাতে যোগদান করবে না, বরং হেটে গিয়ে সালাতে যোগদান করবে। সালাতে ধীর-স্থিরভাবে যাওয়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কাজেই জামাআতের সাথে সালাত যতটুকু পাও আদায় কর, আর যা ফাওত হয়ে গেছে পরে তা পুরো করে নাও।

হাদীস নং ৮৬৩

আমর ইবনে আলী রহ……..আবু কাতাদা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত সালাতে দাঁড়াবে না। তোমাদের জন্য ধীর-স্থির থাকা অপরিহার্য।

হাদীস নং ৮৬৪

আবদান ইবনে আবদুল্লাহ রহ………সালমান ফারিসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, এরপর তৈল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর (মসজিদে) যায়, আর দুজনের মধ্যে ফাক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ সালাত আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুমুআ এবং পরবর্তী জুমুআর মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

জুমুআর দিন সালাতে দু’জনের মধ্যে ফাক না করা।

৮৬৪ আবদান ইবনে আবদুল্লাহ রহ………সালমান ফারিসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পরিত্রতা অর্জন করে, এরপর তৈল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর (মসজিদে) যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ সালাত আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুমুআ এবং পরবর্তী জুমুআর মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

হাদীস নং ৮৬৫

মুহাম্মদ ইবনে সাল্লাম রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যেন কেউ তার ভাইকে তার বসার জায়গা থেকে দিয়ে নিজে সে জায়গায় না বসে। ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন, আমি নাফি রহ. কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কি শুধু জুমুআর ব্যাপারে ? তিনি বললেন, জুমুআ ও অন্যান্য (সালাতের) ব্যাপারেও (এ নির্দেশ প্রযোজ্য)।

হাদীস নং ৮৬৬

আদম রহ………সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রা. এবং উমর রা.-এর সময় জুমুআর দিন ইমাম যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেওয়া হত। পরে যখন উসমান রা. খলিফা হলেন এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি যাওয়া থেকে তৃতীয় আযান বৃদ্ধি করেন। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ‘যাওরা’ হল মদীনার অদূরে বাজারে একটি স্থান।

হাদীস নং ৮৬৭

আবু নুআইম রহ……..সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, মদীনার অধিবাসীদের সংখ্যা যখন বৃদ্ধি পেল, তখন জুমুআর দিন তৃতীয় আযান যিনি বৃদ্ধি করলেন, তিনি হলেন, উসমান ইবনে আফফান রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় (জুমুআর জন্য) একজন ব্যতীত মুআযযিন ছিল না এবং জুমুআর দিন আযান দেওয়া হত যখন ইমাম বসতেন অর্থাৎ মিম্বারের উপর খুতবার পূর্বে।

জুমু'আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ৮৬৮

ইবনে মুকাতিল রহ…………মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মিম্বরে বসা অবস্থায় মুয়াযযিন আযান দিলেন। মুয়াযযিন বললেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” মুআবিয়া রা. বললেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”। মুয়াযযিন বললেন, “আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” তিনি বললেন, এবং আমিও (বলছি “আশহাদু আল্লাহ আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু)। মুয়াযযিন বললেন, “আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” তিনি বললেন, এবং আমিও (বলছি……..। যখন (মুয়াযযিন) আযান শেষ করলেন, তখন মুআবিয়া রা. বললেন, হে লোক সকল ! তোমরা আমার থেকে যে বাক্যগুলো শুনেছ, তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুয়াযযিনের আযানের সময় এ মজলিসে বাক্যগুলো বলতে আমি শুনেছি।

হাদীস নং ৮৬৯

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, ইসমান রা. জুমুআর দিন দ্বিতীয় আযানের নির্দেশ দেন।

বুখারি হাদিস নং ৮৭০ – খুতবার সময় আযান

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর এবং উমর রা-এর যুগে জুমুআর দিন ইমাম যখন মিম্বারের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেওয়া হত। এরপর যখন উসমান রা. -এর খিলাফতের সময় এ এবং লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন উসমান রা. জুমুআর দিন তৃতীয় আযানের নির্দেশ দেন। ‘যাওয়া’ নামক স্থান থেকে এ আযান দেওয়া হয়, পরে এ আযান অব্যাহত থাকে।

বুখারি হাদিস নং ৮৭১ – মিম্বারের উপর খুতবা দেওয়া

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………আবু হাযিম ইবনে দীনার রা. থেকে বর্ণিত যে, (একদিন) কিছু লোক সাহল ইবনে সাদ সাঈদীর নিকট আগমন করে এবং মিম্বারটি কোন কাঠের তৈরী ছিল, এ নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন জেগে ছিল। তারা এ সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করল। এতে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ ! আমি সম্যকরূপে অবগত আছি যে, তা কিসের ছিল। প্রথম যে দিন তা স্থাপন করা হয় এবং প্রথম যে দিন এর উপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেন তা আমি দেখেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের অমুক মহিলার (বর্ণনাকারী বলেন, সাহল রা. তার নামও উল্লেখ করেছিলেন) নিকট লোক পাঠিয়ে বলেছিলেন, তোমার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে আমার জন্য কিছু কাঠ দিয়ে এমন জিনিস তৈরী করার নির্দেশ দাও, যার উপর বসে আমি লোকদের সাথে কথা বলতে পারি। এরপর সে মহিলা তাকে আদেশ করেন এবং সে (মদীনা থেকে নয় মাইল দূরবর্তী) গাবা নামক স্থানের ঝাউ কাঠ দিয়ে তা তৈরী করে নিয়ে আসে। মহিলাটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তা পাঠিয়েছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে এখানেই তা স্থাপন করা হয়। এরপর আমি দেখেছি, এর উপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন। এর উপর উঠে তাকবীর দিয়েছেন এবং এখানে (দাঁড়িয়ে) রুকু করেছেন। এরপর পিছনের দিকে নেমে এসে মিম্বারের গোড়ায় সিজদা করেছেন এবং (এ সিজদা) পুনরায় করেছেন, এরপর সালাত শেষ করে সমবেত লোদের দিকে ফিরে বলেছেন : হে লোক সকল ! আমি এটা এ জন্য করেছি যে, তোমরা যেন আমার ইক্তিদা করতে এবং আমার সালাত শিখে নিতে পার।

হাদীস নং ৮৭২

সাঈদ ইবনে আব মারয়াম রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মসজিদে নববীতে) এমন একটি (খেজুর গাছের) খুঁটি ছিল যার সাথে হেলান দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন। এরপর যখন তাঁর জন্য মিম্বর স্থাপন করা হল, আমরা তখন খুঁটি থেকে দশ মাসের গর্ভবতী উটনীর মত ক্রন্দন করার শব্দ শুনতে পেলাম। এমনকি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার থেকে নেমে এসে খুঁটির উপর হাত রাখলেন।

হাদীস নং ৮৭৩

আদম ইবনে ইয়াস রহ……..সালিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারের উপর থেকে খুতবা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতে আসে সে যেন গোসল কর নেয়।

বুখারি হাদিস নং ৮৭৪ – দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া

উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর কাওয়ারিরী রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। এরপর বসতেন এবং পুনরায় দাঁড়াতেন। যেমন তোমরা এখন করে থাক।

বুখারি হাদিস নং ৮৭৫ – খুতবার সময় মুসল্লীগণের ইমামের দিকে আর ইমাম মুসল্লীগণের দিকে মুখ করা

মুআয ইবনে ফাযালা রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মিম্বারের উপর বসলেন এবং আমরা তাঁর চারপাশে বসলাম।

বুখারি হাদিস নং ৮৭৬ – খুতবায় আল্লাহর প্রশংসার পর ‘আম্মা বা’দ বলা

মুহাম্মদ ইবনে মা’মার রহ……….আমর ইবনে তাগলিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু মাল বা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী উপস্থিত করা হলো তিনি তা বন্টন করে দিলেন। বন্টনের সময় কিছু লোককে দিলেন এবং কিছু লোককে বাদ দিলেন। তারপর তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, যাদের তিনি দেননি. তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন, তারপর বললেন : আম্ম বা’দ। আল্লাহর শপথ ! আমি কোন লোককে দেই আর কোন লোককে দেই না। যাকে আমি দেই না, সে যাকে আমি দেই, তার চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয়। তবে আমি এমন লোকদের দেই যাদের অন্তরে অধৈর্য ও মালের প্রতি লিপ্সা দেখতে পাই ; আর কিছু লোককে আল্লাহ যাদের অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন, তাদের সে অবস্থার উপর ন্যস্ত করি। তাদের মধ্যে আমর ইবনে তাগলিব একজন। বর্ণনাকারী আমর ইবনে তাগলিব রা. বলেন, আল্লাহর শপথ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ বাণীর পরিবর্তে আমি লাল উটও পছন্দ করি না।

হাদীস নং ৮৭৭

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক রাতের মধ্যভাগে বের হলেন এবং মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন। তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও সালাত আদায় করলেন, সকালে তাঁরা এ নিয়ে আলোচনা করলেন। ফলে (দ্বিতীয় রাতে) এর চাইতে অধিক সংখ্যক সাহাবী একত্রিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। পরের দিন সকালেও তাঁরা এ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ফলে তৃতীয় রাতে মসজিদে লোকসংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্বি পেল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে সালাত করলেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসল্লীগণের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। অবশেষে তিনি ফজরের সালাতের জন্য বের হলেন এবং ফজরের সালাত শেষ করে লোকদের দিকে ফিরলেন। তারপর আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করেন। এরপর বললেন : আম্মা বা’দ (তারপর বক্তব্য এই যে) এখানে তোমাদের উপস্থিতি আমার কাছে গোপন ছিল না, কিন্তু আমার আশংকা ছিল, তা তোমাদের জন্য ফরয করে দেওয়া হয় আর তোমরা তা আদায় করতে অসমর্থ হয়ে পড়।

হাদীস নং ৮৭৮

আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুমাইদ সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, এক সন্ধ্যায় সালাতের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং তৌহিদের সাক্ষ্য বাণী পাঠ করলেন। আর যথাযথভাবে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর বললেন, ‘আম্ম বা’দ’।

হাদীস নং ৮৭৯

আবুল ইয়ামান রহ……….মিসওয়াব ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। এরপর আমি তাকে সৌদিদের সাক্ষ্য বাণী পাঠ করার পর বলতে শুনলাম, ‘আম্মা বা’দ’।

হাদীস নং ৮৮০

ইসমাঈল ইবনে আবান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর আরোহণ করলেন। এ ছিল তাঁর জীবনের শেষ মজলিস। তিনি বসেছিলেন, তাঁর দুকাঁধের উপর বড় চাদর জড়ানো ছিল এবং মাথায় বাঁধা ছিল কালো পট্রি। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন, এরপর বললেন, হে লোক সকল ! তোমরা আমার নিকট আস। লোকজন তাঁর নিকট একত্র হলেন। এরপর তিনি বললেন : ‘আম্মা বা’দ’। শুনে রাখ, এ আনসার গোত্র সংখ্যায় কমতে থাকবে এবং অন্য লোকেরা সংখ্যায় বাড়তে থাকবে। কাজেই যে ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের কোন বিষয়ের কর্তৃত্ব লাভ করবে এবং সে এর সাহায্যে কারো ক্ষতি বা উপকার করার সুযোগ পাবে, সে যেন এই আনসারদের সৎ লোকদের ভাল কাজগুলো গ্রহণ করে এবং তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেয়।

জুমু'আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৮৮১ – জুমুআর দিন দু’খুতবার মাঝে বসা

মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’খুতবা দিতেন আর দু’খুতবার মাঝে বসতেন।

বুখারি হাদিস নং ৮৮২ – মনোযোগসহ খুতবা শোনা

আদম রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : জুমুআর দিন মসজিদের দরোয়াজায় ফেরেশতাগণ অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানী করে। এরপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগী দানকারীর ন্যায়। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহ খুতবা শোনাতে থাকেন।

বুখারি হাদিস নং ৮৮৩ – ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কাউকে আসতে দেখলে তাকে দু’রাকাআত সালাত আদায়ের আদেশ দেওয়া

আবু নুমান রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (কোন এক) জুমুআর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমনি সময় এক ব্যক্তি আগমন করল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে অমুক ! তুমি কি সালাত আদায় করেছ ? সে বলল, না, তিনি বললেন, উঠ, সালাত আদায় করে নাও।

বুখারি হাদিস নং ৮৮৪ – ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় যিনি মসজিদে আসবেন তার সংক্ষেপে দু’রাকাআত সালাত আদায় করা

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক জুমুআর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সালাত আদায় করেছ ? সে বলল, না, তিনি বললেন : উঠ, দু’রাকাআত সালাত আদায় করে নাও।

বুখারি হাদিস নং ৮৮৫ – খুতবায় দু’হাত উঠানো

মুসাদ্দাদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক জুমুআর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! (পানির অভাবে) ঘোড়া মরে যাচ্ছে, ছাগল বকরীও মরে যাচ্ছে। কাজেই আপনি দু’আ করুন, যেন আল্লাহ আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন। তখন তিনি দু’হাত প্রসারিত করলেন এবং দু’আ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৮৮৬ – জুমুআর দিন খুতবায় বৃষ্টির জন্য দু’আ

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় এক জুমুআর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুইন উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (বৃষ্টির অভাবে) সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজনও অনাহারে রয়েছে। তাই আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দু’আ করুন। তিনি দু’হাত তুললেন। সে সময় আমরা আকাশে এক খণ্ড মেঘও দেখিনি। যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ (করে বলছি)! (দু’আ শেষে) তিনি দু’হাত (এখনও) নামান নি, এমন সময় পাহাড়ের ন্যায় মেঘের বিরাট বিরাট খন্ড উঠে আসল। তারপর তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করেন নাই, এমন সময় দেখতে পেলাম তাঁর (পবিত্র) দাঁড়ির উপর ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছে। সে দিন আমাদের এখানে বৃষ্টি হল। এর পরে ক্রমাগত দু’দিন এবং পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত প্রত্যেক দিন। (পরবর্তী জুমুআর দিন) সে বেদুইন অথবা অন্য কেউ উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (বৃষ্টির কারণে) এখন আমাদের বাড়ী ঘর ধ্বসে পড়ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। তাই আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করুন। তখন তিনি দু’হাত তুললেন এবং বললেন : হে আল্লাহ আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বৃষ্টি দাও) আমাদের উপর নয়। (দু’আর সময়) তিনি মেঘের এক পরিবেষ্টিত অবস্থায় ঢালের ন্যায় মদীনার আকাশ মেঘমুক্ত হয়ে গেল এবং কানাত উপত্যকার পানি এক মাস ধরে প্রবাহিত হতে লাগল, তখন (মদীনার) চতুর পাশে যে কোন অঞ্চল হতে যে কেউ এসেছে, সে এ মুষলধারে বৃষ্টির কথা আলোচনা করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৮৮৭ – জুমুআর দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় অন্যকে চুপ করানো। যদি কেউ তার সাথীকে (মুসল্লীকে বলে) চুপ থাক, তাহলে সে একটি অনর্থক কথা বললো।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জুমুআর দিন যখন তোমার পাশের মুসল্লীকে বলবে চুপ থাক, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তা হলে তুমি একটি অনর্থক কথা বললে।

বুখারি হাদিস নং ৮৮৮ – জুমুআর দিনের সে মুহূর্তটি।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু চায়, তাহলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।

বুখারি হাদিস নং ৮৮৯ – জুমুআর সালাতে কিছু মুসল্লী যদি ইমামের নিকট থেকে চলে যান তাহলে ইমাম ও অবশিষ্ট মুসল্লীগণের সালাত জায়েয হবে।

মুআবিয়া ইবনে আমর রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (জুমুআর) সালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় খাদ্য দ্রব বহনকারী একটি উটের কাফেলা হাজির হল এবং তার (মুসল্লীগণ) সে দিকে এত বেশী মনোযোগী হলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাত্র বারোজন মুসল্লী অবশিষ্ট ছিলেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল : وإذا رأوا تجارة أو لهوا انفضوا إليها وتركوك قائما “এবং যখন তারা ব্যবসা বা খেল তামাশা দেখতে পেল। তখন সে দিকে দ্রুত চলে গেল এবং আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে গেল”। (সূরা জুমুআ)

বুখারি হাদিস নং ৮৯০ – জুমুআর (ফরয সালাতের) আগে ও পরে সালাত আদায় করা।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে দু’রাকাআত ও পরে দু’রাকাআত, মাগরিবের পর নিজের ঘরে দু’রাকআত এবং ইশার পর দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর জুমুআর দিন নিজের ঘরে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না। (ঘরে গিয়ে) দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ৮৯১ – মহান আল্লাহর বাণী : “ অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে”।

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ………..সাহল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে বসবাসকারীনী জনৈক মহিলা একটি ছোট নহরের পাশে ক্ষেতে বীটের চাষ করতেন। জুমুআর দিনে সে বীটের মূল তুলে এনে রান্নার জন্য ডেগে চড়াতেন এবং এর উপর এক মুঠো যবের আটা দিয়ে রান্না করতেন। তখন এ বীট মুলই এর গোশত (গোশতের বিকল্প) হয়ে যেত। আমরা জুমুআর সালাত থেকে ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিতাম। তিনি তখন খাদ্য আমাদের সামনে পেশ করতেন এবং আমরা তা খেতাম। আমরা সে খাদ্যের আশায় জুমুআ বারে উদগ্রীব থাকতাম।

জুমু'আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ৮৯২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………সাহল ইবনে সাদ রা থেকে এ হাদীস বর্ণিত, তিনি আরো বলেছেন, জুমুআর (সালাতের পরই আমরা কায়লূলা (দুপুরের শয়ন ও হালকা নিদ্রা) এবং দুপুরের আহার্য গ্রহণ করতাম।

বুখারি হাদিস নং ৮৯৩ – জুমুআর পরে কায়লূলা (দুপুরের শয়ন ও হালকা নিদ্রা)

মুহাম্মদ ইবনে উকবা শায়বানী রহ………হুমাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস রা. বলেছেন : আমরা জুমুআর দিন সকালে যেতাম তারপর (সালাত শেষে) কায়লূলা করতাম।

হাদীস নং ৮৯৪

সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম রহ………সাহল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায় করতাম। তারপর হতো কায়লূলা।

বুখারি হাদিস নং ৮৯৫ – খাওফের সালাত (শত্রুভীতি অবস্থায় সালাত)

আবু ইয়ামান রহ………শুআইব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহরী রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সালাত আদায় করতেন অর্থাৎ খাওফের সালাত ? তিনি বললেন, আমাকে সালিম রহ. জানিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেছেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে নাজদ এলাকায় যুদ্ধ করেছিলাম। সেখানে আমরা শত্রুর মুখোমুখি কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। একদল তাঁর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালেন এবং অন্য একটি দল শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে যাঁরা চিলেন তাদের নিয়ে রুকু ও দুটি সিজদা করলেন। এরপর এ দলটি যারা সালাত আদায় করেনি, তাদের স্থানে চলে গেলেন এবং তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে এগিয়ে এলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সঙ্গে এক রুকু ও দুটি সিজদা করলেন এবং পরে সালাম ফিরালেন। এরপর তাদের প্রত্যেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজে নিজে একটি রুকু ও দুটি সিজদা (সহ সালাতে) শেষ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৮৯৬ – পদাতিক বা আরোহী অবস্থায় খাওফের সালাত।

সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ………নাফি রহ. সূত্রে ইবনে উমর রা. থেকে মুজাহিদ রহ.-এর বর্ণনার মতো উল্লেখ করেছেন যে, সৈন্যরা যখন পরস্পর (শত্রুমিত্র) মিলিত হয়ে যায়, তখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বলেছেন যে, যদি সৈন্যদের অবস্থা এর চেয়ে গুরুতর হয়ে যায়, তাহলে দাঁড়ানো অবস্থায় এবং আরোহী অবস্থায় সালাত আদায় করবে।

বুখারি হাদিস নং ৮৯৭ – খাওফের সালাতে মুসল্লীগণের একাংশ অন্য অংশকে পাহারা দিবে।

হাইওয়া ইবনে শুরাইহ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ানোর এবং সাহাবীগণ তাঁর পিছনে (ইক্তিদা করে) দাঁড়ালেন। তিনি তাকবীর বললেন, তারাও তাকবীর বললেন, তিনি রুকু করলেন, তারাও তাঁর সঙ্গে রুকু করলেন। এরপর তিনি সিজদা করলেন এবং তারাও তাঁর সঙ্গে সিজদা করলেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়ালেন, তখন যারা তাঁর সঙ্গে সিজদা করছিলেন তারা উঠে দাঁড়ালেন এবং তাদের ভাইদের পাহারা দিতে লাগলেন। তখন অপর দলটি এসে তাঁর সঙ্গে রুকু করলেন। এভাবে সকলেই সালাত অংশগ্রহণ করলেন। অথচ একদল অপর দলকে পাহারাও দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৮৯৮ – দূর্গ অবরোধ ও শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায় সালাত।

ইয়াহইয়া (ইবনে জাফর) রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন উমর রা কুরাইশ গোত্রের কাফিরদের মন্দ বলতে বলতে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সূর্য প্রায় ডুবে যাচ্ছে, অথচ আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আল্লাহর শপথ ! আমিও তা এখনও আদায় করতে পারিনি। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি মদীনার বুতহান উপত্যকায় নেমে উযূ করলেন এবং সূর্য ডুবে যাওয়ার পর আসরের সালাত আদায় করলেন, এরপর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৮৯৯ – শত্রুর পশ্চাদ্বাবন ও শত্রুতাড়িত ব্যক্তির আরোহী অবস্থায় ও ইশারায় সালাত আদায় করা।

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পথে আমাদেরকে বললেন, বনু কুরাইযা এলাকায় পৌছার আগে কেউ যেন আসরের সালাত আদায় না করে। কিন্তু অনেকের পথিমধ্যেই আসরের সময় হয়ে গেল, তখন তাদের কেউ কেউ বললেন, আমরা সেখানে না পৌছে সালাত আদায় করব না। আবার কেউ কেউ বললেন, আমরা সালাত আদায় করে নেব, আমাদের নিষেধ করার ও উদ্দেশ্য ছিল না (বরং উদ্দেশ্য ছিল তাড়াতাড়ি যাওয়া) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ কথা উল্লেখ করা হলে, তিনি তাদের কারোর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৯০০ – তাকবীর বলা, ফজরের সালাত সময় হওয়া মাত্র আদায় করা এবং শত্রুর উপর অতর্কিত আক্রমণ ও যুদ্ধাবস্থায় সালাত।

মুসাদ্দাদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতে আদায় করলেন। এরপর সাওয়ারীতে আরোহণ করলেন এবং বললেন : আল্লাহ আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক ! যখন আমরা কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হয় কতই না মন্দ। তখন তারা (ইয়াহুদীরা) বের হয়ে গলির মধ্যে দৌড়াতে লাগল এবং বলতে লাগল, মুহাম্মদ ও তাঁর খামীস এসে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, খামীস হচ্ছে, সৈন্য-সামন্ত। পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উপর জয়লাভ করেন। তিনি যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং নারী-শিশুদের বন্দী করলেন। তখন সাফিয়্যা প্রথমত দিহইয়া কালবীর এবং পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অংশে পড়ল। তারপর তিনি তাকে বিয়ে করেন এবং তাঁর মুক্তি দানকে মহর রূপে গণ্য করেন। আবদুল আযীয রহ. সাবিত রা.-এর কাছে জানতে চাইলেন, তাকে কি মহর দেওয়া হয়েছিল ? তা কি আপনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ? তিনি বললেন, তাঁর মুক্তিই তাঁর মহর, আর মুচকি হাসলেন।

বুখারি হাদিস ৮৩২ – জুমুআ ফরয হওয়া

আবু ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষ, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা মর্যাদার দিক দিয়ে সবার আগে। পার্থক্য শুধু এই যে, তাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের আগে। তারপর তাদের সে দিন যে দিন তাদের জন্য ইবাদত ফরয করা হয়েছিল তারা এ বিষয়ে মতানৈক্য করেছে। কিন্তু সে বিষয়ে আল্লাহ আমাদের হিদায়েত করেছেন। কাজেই এ ব্যাপারে লোকেরা আমাদের পশ্চাদ্বর্তী। ইয়াহুদীদের (সম্মানিত দিন হল) আগামী কাল (শনিবার) এবং নাসারাদের আগামী পরশু (রবিবার)।

বুখারি হাদিস ৮৩৩ – জুমুআর দিন গোসল করার ফজিলত। শিশু কিংবা মহিলাদের জুমুআর দিনে (সালাতের জন্য) হাজির হওয়া কি প্রয়োজন ?

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের মধ্যে কেউ জুমুআর সালাতে আসলে (তার আগে) সে যেন গোসল করে।

হাদীস নং ৮৩৪

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, উমর ইবনে ইবনে খাত্তাব রা. জুমুআর দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথম যুগের একজন মুহাজির সাহাবী এলেন। উমর রা. তাকে ডেকে বললেন, এখন সময় কত? তিনি বললেন, আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই ঘরে ফিরে আসতে পারিনি। এমন সময় আযান শুনতে পেয়ে শুধু উযূ করে নিলাম। উমর রা. বললেন, কেবল উযূই ? অথচ আপনি জানেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের আদেশ দিতেন।

হাদীস ৮৩৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জুমুআর দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য।

বুখারি হাদিস ৮৩৬ – জুমুআর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আমর ইবনে সুলাইম আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন জুমুআর দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য। আর মিসওয়াক করবে এবং সুগন্ধি পাওয়অ গেলে তা ব্যবহার করবে। আমর (ইবনে সুলাইম) রহ. বলেন, গোসল সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তা কর্তব্য। কিন্তু মিসওয়াক ও সুগন্ধি কর্তব্য কিনা তা আল্লাহই ভাল জানেন। তবে হাদীসে এ রূপই আছে। আবু আবদুল্লাহ বুখারী রহ. বলেন, আবু বকর ইবনে মুনকাদির রহ. হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির-এর ভাই। কিন্তু তিনি আবু বকর হিসাবেই পরিচিত নন। বুকাইর ইবনে আশাজ্জ, সাঈদ ইবনে আবু হিলাল সহ অনেকে তাঁর থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির রহ.-এর কুনিয়াত (উপনাম) ছিল আবু বকর ও আবু আবদুল্লাহ।

বুখারি হাদিস ৮৩৭ – জুমুআর ফজিলত

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জুমুআর দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন, একটি উট কুরবানী করল।

জুমু'আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জুমু’আ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন