জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায়

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

Table of Contents

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯১৭

হাদীস নং ২৯১৭

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিয়রানা নামক স্থানে গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি বলল, (বণ্টন) ইনসাফ করুন। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যদি ইনসাফ না করি, তবে তুমি হবে হতভাগ্য।

বুখারি হাদিস নং ২৯১৮ – খুমুস পৃথক না করেই বন্দীদের প্রতি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগ্রহ ।

হাদীস নং ২৯১৮

ইসহাক ইবনে মানসুর রহ………..যুবাইর ইবনে মুতয়িম রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধ বন্দীদের প্রসঙ্গে বলেন, যদি মুতয়িম ইবনে আদী রা. জীবিত থাকতেন আর নিকট এ সকল নোংরা লোকের ব্যাপারে সুপারিশ করতেন, তবে আমি তাঁর খাতিরে এদের ছেড়ে দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৯১৯ – খুমুস ইমামের জন্য তাঁর ইখতিয়ার রয়েছে আত্মীয়গণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দিবেন, যাকে ইচ্ছা দিবেন না।

হাদীস নং ২৯১৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….যুবাইর ইবনে মুতয়িম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং উসমান ইবনে আফফান রা. রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি বানু মুত্তালিবকে দিয়েছেন, আমাদের বাদ দিয়েছেন।

অথচ আমরা এবং তারা আপনার সাথে একই পর্যায়ে সম্পর্কিত। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বানু মুত্তালিব ও বানু হাশিম একই পর্যায়ের।

লায়স রহ. বলেন, ইউনুস রহ. আমাকে এ হাদীসটিতে অতিরিক্ত বলেছেন যে, যুবাইর রা. বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু আবদ শামস ও বানু নাওফলকে অংশ দেননি।

ইবনে ইসহাক রহ. বলেন, আবদ শামস, হাশিম ও মুত্তালিব একই মায়ের গর্ভজাত সহোদর ভাই। তাদের মা আতিকা বিনতে মুররা আর নাওফল তাদের বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯২০ – নিহত ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত মাল সামানের খুমুস বের না করা; যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল, সেক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত মাল সামানের খুমুস বের না করেই তা তারই প্রাপ্য আর ইমাম কর্তৃক এরূপ আদেশ দান করা।

হাদীস নং ২৯২০

মুসাদ্দাদ রহ………..আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আমি বদর যুদ্ধে সারিতে দণ্ডায়মান, আমি আমার ডানে বামে তাকিয়ে দেখলাম, অল্প বয়স্ক দু’জন আনসার যুবকের মাঝখানে রয়েছি। আমার আকাংখা ছিল, তাদের অপেক্ষা শক্তিশালীদের মধ্যে থাকি।

তখন তাদের একজন আমাকে খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, চাচা! আপনি কি আবু জাহলকে চিনেন? আমি বললাম হ্যাঁ। তবে ভাতিজা তাতে তোমার কি প্রয়োজন? সে বলল, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে সে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালমন্দ করে। সে মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ।

আমি যদি তাকে দেখতে পাই, তবে আমার দেহ দেহ থেকে বিছিন্ন হবে না যতক্ষণ না আমাদের মধ্যে যার মৃত্যু আগে অবধারিত, সে মারা যায়। আমি তার কথায় বিস্মিত হলাম। তা শুনে দ্বিতীয়জন আমাকে খোঁচা দিয়ে অনুরূপ বলল। তৎক্ষণাৎ আমি আবু জাহালকে দেখলাম, সে মানুষের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তখন আমি বললাম, এই যে, তোমাদের সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলে। তারা তৎক্ষণাৎ নিজের তরবারী নিয়ে তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করল। এরপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে ফিরে এসে তাকে অবহিত করল।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে? তারা উভয়ে দাবী করল, আমি তাকে হত্যা করেছি। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের তরবারী তোমরা মুছে ফেলনি তো?

তারা উভয়ে বলল, না। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের তরবারী দেখলেন এবং বললেন, তোমরা উভয়ে তাকে হত্যা করেছো।

অবশ্য তার থেকে প্রাপ্ত মালামাল মুআয ইবনে আমর ইবনে জামুহের জন্য। তারা দু’জন হল, মুআয ইবনে আফরা ও মুআয ইবনে আমর ইবনে জামূহ।

 

বুখারি হাদিস নং ২৯২১

হাদীস নং ২৯২১

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের বছর আমরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন শত্রুর মুখোমুখি হলাম, তখন মুসলিম দলের মধ্যে ছুটোছুটি আরম্ভ হল। এমন সময় আমি মুশরিকদের এক ব্যক্তিকে দেখলাম, সে একজন মুসলমানের উপর চড়ে বসেছে।

আমি ঘুরে তার পেছনের দিক দিয়ে এসে তরবারী দ্বারা তার ঘাড়ের রগে আঘাত হানলাম। তখন সে আমার দিকে এগিয়ে এল এবং আমাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরল যে, আমি তাতে মৃত্যুর আশংকা করছিলাম।

মৃত্যু তাকেই পাকড়াও করল এবং আমাকে ছেড়ে দিল। তারপর আমি উমর রা.-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, লোকদের কি হয়েছে? লোকদের কি হয়েছে? উমর রা. বললেন, আল্লাহর হুকুম।

এরপর লোকজন ফিরে এলো এবং রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন, তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করেছে এবং তার নিকট এর সাক্ষ্য রয়েছে, তার নিকট থেকে প্রাপ্ত মাল-সামান তারই প্রাপ্ত। তখন আমি দাঁড়িয়ে বললাম, কে আছে যে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে?

তারপর আমি বসে পড়লাম। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, ব্যক্তি কাউকে হত্যা করেছে এবং তার নিকট এর সাক্ষ্য রয়েছে, তার নিকট থেকে প্রাপ্ত মাল-সামান তারই প্রাপ্য। আমি দাঁড়িয়ে বললাম, কে আছ যে, আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে? তারপর আমি বসে পড়লাম।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বার অনুরূপ বললেন, আমি আবার দাঁড়ালাম, তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবু কাতাদা ! তোমার কি হয়েছে? আমি তখন সম্পূর্ণ ঘটনা বললাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু কাতাদা রা. সত্য বলেছে।

সে ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত মাল-সামান আমার নিকট আছে। আপনি আমার পক্ষ থেকে একে সম্মত করিয়ে দিন। তখন আবু বকর ছিদ্দীক রা. বলে উঠলেন, কখনো না, আল্লাহর শপথ! রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এমন করবেন না যে,

আল্লাহর সিংহাদের মধ্যে থেকে কোন সিংহ আল্লাহ ও রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে যুদ্ধ করবে আর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত মাল-সামান তোমাকে দিবেন! তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকর রা. ঠিকই বলেছে।

ফলে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আমাকে দিলেন। আমি তা থেকে একটি বর্ম বিক্রি করে বানূ সালমায় একটি বাগান ক্রয় করি। এটাই ইসলাম গ্রহণের পর আমার প্রথম সম্পত্তি, যা আমি লাভ করি।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯২২ – রাসূল (সা.) ইসলামের প্রতি যাদের প্রতি যাদের মন আকৃষ্ট করার প্রয়োজন তাদেরকে ও অন্যদেরকে খুমুস ইত্যাদি থেকে দান করতেন।

হাদীস নং ২৯২২

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………..হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কিছু চাইলাম। তখন তিনি আমাকে দিলেন। আমি আবার চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন।

এরপর আমাকে বললেন, হে হাকীম, এ সকল মাল সবুজ শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা নির্লোভ অন্তরে গ্রহণ করে, তার তাতে বরকত দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি তা লোভনীয় অন্তরে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয় না। তার উদাহরণ সে ব্যক্তির ন্যায়, যে আহার করে কিন্তু উদর পূর্ণ হয় না।

আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। হাকীম রা. বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ সে মহান সত্তার কসম! যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন আপনার পর আমি দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত আর কারো মাল কামনা করব না।

পরে আবু বকর রা.(তাঁর খিলাফত কালে) হাকীম ইবনে হিযাম রা.-কে ভাতা নেওয়ার জন্য আহবান করতেন কিন্তু তিনি কোন কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। তারপর উমর রা. তাকে ভাতা দানের উদ্দেশ্যে আহবান করেন কিন্তু তিনি তাঁর নিকট থেকেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।

তখন উমর রা. বললেন, হে মুসলিমগণ! আমি হাকীম ইবনে হিযাম রা.-কে তার জন্য সে প্রাপ্য দিতে চেয়েছি। যা আল্লাহ তা’আলা তার জন্য সম্পদ থেকে হিসসা রেখেছেন।

আর সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। এভাবে হাকীম ইবনে হিযাম রা. রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে আর কারো নিকট থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কিছুই গ্রহণ করেন নি।

বুখারি হাদিস নং ২৯২৩

হাদীস নং ২৯২৩

আবুন নুমান রহ………..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব রা. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জাহেলী যুগে আমার উপর একদিনের ইতিকাফ (মান্নত) ছিল। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা পূরণ করার আদেশ করেন। নাফি রহ. বলেন, উমর রা. হুনাইনের যুদ্ধের বন্দী থেকে দুটি দাসী লাভ করেন। তখন তিনি তাদেরকে মক্কায় একটি গ্রহে রেখে দেন।

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের বন্দীদেরকে সৌজন্যমূলক ছেড়ে দেয়ার আদেশ দান করলেন। তারা মুক্ত হয়ে অলি-গলিতে ছুটাছুটি লাগল।

উমর রা. আবদুল্লাহ রা.-কে বললেন, দেখ তো ব্যাপার কি? তিনি বললেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্দীদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। উমর রা. বললেন, তবে তুমি গিয়ে সে দাসী দুজনকে ছেড়ে দাও।

নাফি রহ. বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিয়েররানা থেকে উমরা করেন নি। যদি তিনি উমরা করতেন তবে তা আবদুল্লাহ রা. থেকে গোপন থাকত না।

আর জারীর ইবনে হাযিম রহ. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করতেন যে, (উমর রা. দাসী দুটি) খুমুস থেকে পেয়েছিলেন। মাআমার রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে নযরের (মান্নতের) ব্যাপারটির উল্লেখ করেন, কিন্তু একদিনের কথা বলেনি।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯২৪

হাদীস নং ২৯২৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আমর ইবনে তাগলিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দলকে দিলেন আর অন্য দলকে দিলেন না।

তারা যেন এতে মনক্ষুণ্ন হলেন। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন লোকদের দেই, যাদের সম্পর্কে বিগড়ে যাওয়া কিংবা ধৈর্যহারা হওয়ার আশংকা করি। আর অন্যদল যাদের অন্তরে আল্লাহ তা’আলা যে কল্যাণ ও অমুখাপেক্ষিতা দান করেছেন, তার উপর ছেড়ে দেই।

আর আমর ইবনে ইবনে তাগলিব রা. তাদের অন্তর্ভূক্ত। আমর ইবনে তাগলিব রা. বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সম্পর্কে যা বলেছেন, তার পরিবর্তে যদি আমাকে লাল বর্ণের উট দেওয়া হত তাতে আমি এতখানি খুশী হতাম না।

আর আবু আসিম রহ. জারীর রহ. থেকে হাদীসটি এতটুকু অতিরিক্তসহ বর্ণনা করেছেন যে, হাসান রহ. বলেন, আমাকে আমর ইবনে তাগলিব রা. বলেছেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু মাল অথবা বন্দী আনীত হয়, তখন তিনি তা বণ্টন করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯২৫

হাদীস নং ২৯২৫

আবুল ওয়ালীদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কুরাইশদের দিয়ে থাকি তাদের মন রক্ষা করার জন্য। কেননা তারা জাহেলী যুগের কাছাকাছি।

বুখারি হাদিস নং ২৯২৬

হাদীস নং ২৯২৬

আবুল ইয়ামান রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, যখন আল্লাহ তা’আলা গোত্রের লোকদের একশ করে উট দিতে লাগলেন। তখন আনসারদের থেকে কিছু সংখ্যক লোক বলতে লাগল, আল্লাহ রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন।

তিনি কুরাইশদেরকে দিচ্ছেন, আমাদেরকে দিচ্ছেন না। অথচ আমাদের তরবারী থেকে রক্ত এখনও ঝরছে। আনাস রা. বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাদের উক্তি পৌঁছান হল। তখন তিনি আনসারদের ডেকে পাঠালেন এবং চর্ম নির্মিত একটি তাবুতে তাদের একত্রিত করলেন আর তাদের সঙ্গে তাদের ছাড়া আর কাউকে ডাকলেন না।

যখন তারা সকলে একত্রিত হলেন, তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, আমার নিকট তোমাদের সম্পর্কে যে কথা পৌঁছেছে তা কি? তাদের মধ্যে সমঝদার লোকেরা তাকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্য থেকে মুরুব্বীরা কিছুই বলেননি।

আমাদের কতিপয় তরুণরা বলেছে। আল্লাহ রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন। তিনি আনসারদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন; অথচ আমাদের তরবারী থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন লোকদের দিচ্ছি , যাদের কুফরীর যুগ সদ্য সমাপ্ত হয়েছে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা পার্থিব সম্পদ নিয়ে ফিরবে, আর তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে নিয়ে মানযিলে ফিরবে আর আল্লাহর কসম! তোমরা যা নিয়ে মানযিলে ফিরবে, তা তারা যা নিয়ে ফিরবে, তার চাইতে উত্তম।

তখন আনসারগণ বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এতে সন্তুষ্ট। তারপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার পরে তোমরা তোমাদের উপর অন্যদের প্রাধান্য দেখতে পাবে।

তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করে থাকবে, যে পর্যন্ত না তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হাউযে (কাওসারে) মিলিত হবে। আনাস রা. বলেন, কিন্তু আমরা (আনসারগণ) ধৈর্যধারণ করতে পারিনি।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯২৭

হাদীস নং ২৯২৭

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ উয়াইসী রহ……….যুবাইর ইবনে মুতইম রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন, আর তখন তাঁর সঙ্গে আরো লোক ছিল। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন থেকে আসছিলেন।

বেদুঈন লোকেরা তাঁর কাছে গনীমতের মাল চাইতে এসে তাকে আকড়িয়ে ধরল। এমনকি তারা তাকে একটি বাবলা গাছের সাথে ঠেকিয়ে দিল এবং কাঁটা তাঁর চাদরে আটকে ধরল।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থামলেন। তারপর বললেন, আমার চাদরখানা দাও। আমার নিকট যদি এ সকল কাঁটাদার বন্য বৃক্ষের সমপরিমাণ পশু থাকত, তবে সেগুলো তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম। এরপরও আমাকে তোমরা কখনো কৃপণ, মিথ্যাবাদী এবং দুর্বল চিত্ত পাবে না।

বুখারি হাদিস নং ২৯২৮

হাদীস নং ২৯২৮

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রাস্তায় চলছিলাম।

তখন তিনি মোটা পাড়ের নাজরানে প্রস্তুত চাদর পরিহিত ছিলেন। এক বেদুঈন তাকে পেয়ে খুব জোরে টেনে ধরল। অবশেষে আমি লক্ষ্য করলাম, তার জোরে টানার কারণে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে।

তারপর বেদুঈন বলল, আল্লাহর যে সম্পদ আপনার কাছে রয়েছে তা থেকে আমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিন। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি তাকিয়ে একটি মুচকি হাসি দিলেন, আর তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯২৯

হাদীস নং ২৯২৯

উসমান ইবনে আবু শাইবা রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিনে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন লোককে বণ্টনে অন্যদের উপর প্রাধান্য দেন। তিনি আকরা ইবনে হাবিছকে একশ উট দিলেন। উয়াইনাকেও এ পরিমাণ দেন।

সম্ভ্রান্ত আরব ব্যক্তিদের দিলেন এবং বণ্টনে তাদের অতিরিক্ত দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! এখানে সুবিচার করা হয়নি। অতবা সে বলল, এতে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়নি। (রাবী বলেন) তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবশ্যই জানিয়ে দিব।

তখন আমি তাঁর কাছে এলাম এবং তাকে একথা জানিয়ে দিলাম। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ সুবিচার না করেন, তবে কে সুবিচার করবে?

আল্লাহ তা’আলা মূসা আ.-এর প্রতি রহমত করুন, তাকে এর চাইতেও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি সবর করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯৩০

হাদীস নং ২৯৩০

মাহমুদ ইবনে গায়লান রহ……….আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিজ মাথায় করে সে জমীন থেকে খেজুর দানা বহন করে আনতাম, যা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর রা.-কে দান করেছিলেন।

যে জমীনটি আমার ঘর থেকে এক ফারসাখের দু’তৃতীয়াংশ ব্যবধানে অবস্থিত ছিল।

আর আবু যামরাহ রহ……….হিশামের পিতা উরওয়া রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর রা.-কে বানূ নাযীর গোত্রের সম্পত্তি থেকে একখণ্ড জমি দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯৩১

হাদীস নং ২৯৩১

আহমদ ইবনে মিকদাম রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব রা. ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদেরকে হিজায ভূখণ্ড থেকে নির্বাসিত করেন। আর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার জয় করেন, তখন তিনিও ইয়াহুদীদের সেখান থেকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন।

আর সে জমীন বিজিত হওয়ার পর তা আল্লাহ, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমগণের অধিকারে এসে গিয়েছিল। তখন ইয়াহুদীরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আবেদন করল, যেন তিনি তাদের এখানে এ শর্তে থাকার অনুমতি দেন যে, তারা কৃষি কাজ করবে এবং তাদের জন্য অর্ধেক ফসল থাকবে।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যতদিন আমরা চাই তোমাদের এ শর্তে থাকার অনুমতি দিচ্ছি। তারা এভাবে রয়ে গেল। অবশেষে উমর রা. তাঁর শাসনামলে তাদের তায়মা আরীহা নামক স্থানের দিকে নির্বাসিত করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯৩২ – দারুল হরবে যে সব খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায়।

হাদীস নং ২৯৩২

আবুল ওয়ালীদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খায়বারের দুর্গ অবরোধ করেছিলাম। কোন এক ব্যক্তি একটি থলে দিল; তাঁতে ছিল চর্বি।

আমি তা নেয়ার জন্য উদ্যত হলাম। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আছেন। তখন আমি তা নেয়ার ব্যাপারে লজ্জিত হয়ে পড়লাম।

বুখারি হাদিস নং ২৯৩৩

হাদীস নং ২৯৩৩

মুসাদ্দাদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধকালে মধু ও আঙ্গুর পেতাম। আমরা তা খেয়ে নিতাম এবং জমা রাখতাম না।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯৩৪

হাদীস নং ২৯৩৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….(আদুল্লাহ) ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধের সময় আমরা ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছিলাম।

খায়বার বিজয়ের দিন আমরা পালিত গাধার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তা যবেহ করলাম। যখন তা হাঁড়িতে বলক আসছিল তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঘোষণা দানকারী ঘোষণা দিল : তোমরা হাঁড়িগুলো উপুর করে ফেল। গাধার গোশত থেকে তোমরা কিছুই খাবে না।

আবদুল্লাহ (ইবনে আবু আওফা) রা. বলেন, আমরা (কেউ কেউ) বললাম, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্য নিষেধ করেছেন, যেহেতু তা থেকে খুমুস বের করা হয়নি।

(রাবী বলেন) আর অন্যরা বললেন, বরং তিনি এটাকে নিশ্চিতভাবে হারাম করেছেন। (শাইবানী বলেন) আমি এ ব্যাপারে সাঈদ ইবনে যুবাইর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নিশ্চিতভাবে তিনি তা হারাম করেছেন।

আরও পড়ুনঃ

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মন্তব্য করুন