জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায়

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

Table of Contents

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৪৯ – রমযান মাসে সফর করা।

হাদীস নং ২৭৪৯

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে সফরে বের হন এবং সিয়াম পালন করেন।

যখন তিনি কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন সিয়াম ছেড়ে দেন। সুফিয়ান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, এটা যুহরী রহ.-এর উক্তি এবং রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ কার্যই গ্রহণযোগ্য।

বুখারি হাদিস নং ২৭৫০ – ইমামের কথা শুনা ও আনুগত্য করা যতক্ষণ সে গুনাহর কাজের নির্দেশ না দেয়।

হাদীস নং ২৭৫০

মুসাদ্দাদ এবং মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাপ কার্যের আদেশ না করা পর্যন্ত ইমামের কথা শোনা ও তার আদেশ মান্য করা অপরিহার্য। তবে পাপ কার্যের আদেশ করা হলে তা শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না।

বুখারি হাদিস নং ২৭৫১ – ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধ করা ও তাঁর মাধ্যমে নিরাপত্তা অর্জন করা।

হাদীস নং ২৭৫১

আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমরা সর্বশেষে আগমনকারী (পৃথিবীতে) সর্বাগ্রে প্রবেশকারী (জান্নাতে)।

আর এ সনদেই বর্ণিত হয়েছে যে, (রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন) যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল,

সে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলারই আনুগত্য করল আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানী করল, সে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলারই নাফরমানী করল আর যে ব্যক্তি (শরীআত স্বীকৃত) আমীরের আনুগত্য করল, সে ব্যক্তি আমারই আনুগত্য করল আর যে ব্যক্তি আমীরের নাফরমানী করল সে ব্যক্তি আমারই নাফরমানী করল। ইমাম তো ঢাল স্বরূপ।

তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ এবং তাঁরই মাধ্যমে নিরাপত্তা অর্জন করা হয়। অনন্তর যদি সে আল্লাহর তাকওয়ার নির্দেশ দেয় এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে, তবে তার জন্য এর প্রতিদান রয়েছে আর যদি সে এর বিপরীত করে তবে এর মন্দ পরিণতি তার উপরই বর্তাবে।

বুখারি হাদিস নং ২৭৫২ – যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন না করার উপর বায়আত করা। আর কেউ বলেছেন, মৃত্যুর উপর বায়আত করা।

হাদীস নং ২৭৫২

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন হুদায়বিয়া সন্ধির পরবর্তী বছর প্রত্যাবর্তন করলাম, তখন আমাদের মধ্য হতে দু’জন লোকও যে বৃক্ষের নীচে আমরা বায়আত করেছিলাম সেটি চিহ্নিত করার ব্যাপরে একমত হতে সক্ষম হয়নি।

তা ছিল আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নাফি রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তাদের নিকট হতে কিসের বায়আত গ্রহণ করা হয়েছিল? তা কি মৃত্যুর উপর ?

তিনি বললেন, না, বরং রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট হতে অটল থাকার উপর বায়আত গ্রহণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৫৩

হাদীস নং ২৭৫৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাররা নামক যুদ্ধের সময়ে তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, ইবনে হানযালা রা. মানুষের নিকট থেকে মৃত্যুর উপর বায়আত গ্রহণ করছেন। তিনি বললেন, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আমি তো কারো নিকট এরূপ বায়আত করব না।

বুখারি হাদিস নং ২৭৫৪

হাদীস নং ২৭৫৪

মাক্কী ইবনে ইরবাহীম রহ……….সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়আত করলাম। তারপর আমি একটি বৃক্ষের ছায়াতলে গেলাম।

মানুষের ভীড় কমে গেলে, (তাঁর নিকট উপস্থিত হলে) রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ইবনে আকওয়া! তুমি কি বায়আত করবে না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বায়আত করেছি। রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আরেকবার হোক না।

তখন আমি দ্বিতীয়বার রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়আত করলাম। (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু মুসলিম! সেদিন তোমরা কোন্ বিষয়ের উপর বায়আত করেছিলে? তিনি বললেন, মৃত্যুর উপর।

বুখারি হাদিস নং ২৭৫৫

হাদীস নং ২৭৫৫

হাফস ইবনে উমর রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারগণ খন্দকের যুদ্ধের দিন আবৃত্তি করছিলেন: “আমরাই হচ্ছি সে সকল লোক, যারা রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হস্তে জিহাদ করার উপর বায়আত গ্রহণ করেছি, যতদিন আমরা বেচে থাকব”।

রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তদুত্তরে ইরশাদ করেন, হে আল্লাহ ! আখিরাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ হচ্ছে প্রকৃত সুখ; সুতরাং আপনি আনসার ও মুহাজিরদেরকে সম্মানিত করুন।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৫৬

হাদীস নং ২৭৫৬

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ…….মুজাশি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার ভাতিজাকে নিয়ে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলাম।

তারপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! আমাদেরকে হিজরতের উপর বায়আত নিন। তখন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, হিজরত তো হিজরতকারীগণের জন্য অতীত হয়ে গেছে।

আমি বললাম, তাহলে আপনি আমাদের কিসের উপর বায়আত নিবেন? তদুত্তরে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, ইসলাম ও জিহাদের উপর।

বুখারি হাদিস নং ২৭৫৭ – জনসাধারণের জন্য যথাসাধ্য ইমামের নির্দেশ পালন।

হাদীস নং ২৭৫৭

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আজ আমার নিকট জনৈক ব্যক্তি আগমন করে। সে আমাকে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করে, যার উত্তর কি দিব, তা আমার বুঝে আসছিল না। লোকটি বলল, বলুন তো, এক ব্যক্তি সশস্ত্র অবস্থায় সন্তুষ্টচিত্তে আমাদের আমীরের সঙ্গে যুদ্ধে বের হল।

কিন্তু সেই আমীর এমন সব নির্দেশ দেন যা পালন করা সম্ভব নয়। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি বুঝতে পারছি না যে, তোমাদের এ প্রশ্নের কি উত্তর দিব? হ্যাঁ, তবে এতটুক বলতে পারি যে, আমরা রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি সাধারণত আমাদেরকে কোন বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিতেন না।

কিন্তু একবার মাত্র এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর আমরা তা পালন করেছিলাম। আর তোমাদের যে কেউ ততক্ষণ ভাল থাকবে, যতক্ষণ সে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাকবে। আর যখন সে কোন বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়বে, তখন সে এমন ব্যক্তির নিকট প্রশ্ন করে নিবে, যে তাকে সন্দেহ মুক্ত করে দেবে।

আর সে যুগ অত্যাসন্ন যে, তোমরা এমন লোক পাবে না। শপথ সেই সত্তার যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। দুনিয়ায় যা অবশিষ্ট রয়েছে, তার উদাহরণ এরূপ যেমন একটি পুকুরের মধ্যে পানি সঞ্চিত হয়েছে। এর স্বচ্ছ পানি তো পান করা হয়েছে, আর নীচের ঘোলা পানি অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৭৫৮ – রাসূল (সা.) যদি দিনের শুরুতে যুদ্ধ আরম্ভ না করতেন, তবে সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ আরম্ভ বিলম্ব করতেন।

হাদীস নং ২৭৫৮

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………উমর ইবনে উবাইদুল্লাহর আযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব সালিম আবু নাযর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. তার মনিবের নিকট পত্র লিখেন যা আমি পাঠ করলাম, তাঁতে ছিল যে, শত্রুদের সাথে কোন এক মুখোমুখি যুদ্ধে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন।

এরপর তিনি তাঁর সাহাবীদের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন : হে লোক সকল! শত্রুর সাথে মোকাবেলায় অবর্তীর্ণ হওয়ার কামনা করবে না এবং আল্লাহ তা’আলার নিকট নিরাপত্তার দু’আ করবে।

তারপর যখন তোমরা শত্রুর সম্মুখীন হবে তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে। জেনে রাখবে, জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে অবস্থিত।

তারপর রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করলেন, হে আল্লাহ ! কুরআন অবতীর্ণ কারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী, সৈন্যদলকে পরাজয় দানকারী, আপনি কাফির সম্প্রদায়কে পরাজিত করুন এবং আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করুন।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৫৯ – কোন ব্যক্তির ইমামের অনুমতি গ্রহণ।

হাদীস নং ২৭৫৯

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিন বলেন, আমি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে অংশগ্রহন করি।

তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ পরে এসে আমার সঙ্গে মিলিত হন; আমি তখন আমার পানি সেচের উটনীর উপর আরোহী ছিলাম। উটনী ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল ; এটি মোটেই চলতে পারছিল না। রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার উটের কি হয়েছে?

আমি বললাম, ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তখন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটনীটির পেছন দিক থেকে গিয়ে উটনীটিকে হাঁকালেন এবং এটির জন্য দু’আ করলেন।

এরপর এটি সবকটি উটের আগে আগে চলতে থাকে। রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এখন তোমার উটনীটির কিরূপ মনে হচ্ছে? আমি বললাম, ভালই। এটি আপনার বরকত লাভ করেছে। রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এটি আমার নিকট বিক্রয় করবে?

তিনি বলেন, আমি মনে মনে লজ্জাবোধ করলাম। (কারণ) আমার নিকট এ উটটি ব্যতীত পানি বহনকারী অন্য কোন উটনী ছিলনা। আমি বললাম, হ্যাঁ। রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আমার নিকট বিক্রয় কর। অনন্তর আমি উটনীটি তাঁর নিকট এ শর্তে বিক্রয় করলাম যে, মদীনায় পৌঁছা পর্যন্ত এর উপর আরোহণ করব।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সদ্য বিবাহিত একজন পুরুষ। তারপর আমি তাঁর নিকট অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি লোকদের আগে আগে চললাম এবং মদীনায় পৌঁছে গেলাম। তখন আমার মামা আমার সঙ্গে সাক্ষাত করলেন।

তিনি আমাকে উটনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আম তাকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম যা আমি করেছিলাম। তিনি আমাকে তিরস্কার করলেন। তিনি (রাবী) বলেন, আর যখন আমি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইলাম, তখন তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তুমি কি কুমারী বিবাহ করেছ, না এমন মহিলাকে করেছ যার পূর্বে বিবাহ হয়েছিল?

আমি বললাম, এমন মহিলাকে বিবাহ করেছি যার পূর্বে বিবাহ হয়েছে। তিনি বললেন, তুমি কুমারী বিবাহ করলে না কেন? তুমি তার সঙ্গে খেলাধুলা করতে এবং সেও তোমার সঙ্গে খেলাধুলা করত। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা শহীদ হয়েছেন। আমার কয়েকজন ছোট ছোট বোন রয়েছে।

তাই আমি তাদের সমবয়সের কোন মেয়ে বিবাহ করা পছন্দ করিনি; যে তাদেরকে আদব-আখলাক শিক্ষা দিতে পারবে না এবং তাদের দেখাশোনা করতে পারবে না। তাই আমি একজন পূর্বে বিবাহ হয়েছে এমন মহিলাকে বিবাহ করেছ; যাতে সে তাদের দেখাশোনা করতে পারে এবং তাদেরকে আদব-কায়দা শিক্ষা দিতে পারে।

তিনি বলেন, যখন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসেন, পরদিন আমি তাঁর নিকট উটনীটি নিয়ে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে এর মূল্য দিলেন এবং উটটিও ফেরত দিলেন। মুগীরা রা. বলেন, আমাদের বিবেচনায় এটি উত্তম। আমরা এত কোন দোষ মনে করি না।

বুখারি হাদিস নং ২৭৬০ – ভয়-ভীতির সময় ইমামের (সকলের আগে) অগ্রসর হওয়া।

হাদীস নং ২৭৬০

মুসাদ্দাদ রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবর মদীনায় ভীতির সঞ্চার হল। তখন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহা রা.-এর ঘোড়ায় আরোহণ করেন এবং বলেন যে, আমি তো ভয়ের কিছু দেখতে পেলাম না। তবে আমি এ ঘোড়াটিকে দ্রুতগামী পেয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ২৭৬১ – ভয়-ভীতির সময় তাড়াতাড়ি করা ও দ্রুত চালনা করা।

হাদীস নং ২৭৬১

ফাযল ইবনে সাহল রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সময় লোকেরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়েছিল। তখন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহা রা.-এর মন্থরগতি সম্পন্ন একটি ঘোড়ার উপর আরোহণ করেন এবং ঘোড়াটি হাঁকিয়ে বেরিয়ে পড়লেন।

লোকেরা তখন তাঁর পিছু পিছু ঘোড়ায় চড়ে ছুটে চলল। (ফিরে এসে) রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিছুই না, তোমরা ভয় করো না। এ ঘোড়াটি তো দ্রুতগামী। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন হতে আর কখনো সে ঘোড়াটি কারো পেছনে পড়েনি।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৬২ – কাউকে পারিশ্রমিক দান পূর্বক নিজের পক্ষ হতে যুদ্ধ করানো এবং আল্লাহর রাস্তায় সাওয়ারী দান করা।

হাদীস নং ২৭৬২

হুমায়দী রহ……….উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাহে একটি অশ্ব আরোহণের জন্য দান করেছিলাম। তারপর আমি তা বিক্রয় হতে দেখতে পাই।

আমি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি তা ক্রয় করে নিব? রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার (প্রদত্ত) সাদকা ফেরত নিও না।

বুখারি হাদিস নং ২৭৬৩

হাদীস নং ২৭৬৩

ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব রা. জনৈক অশ্বারোহীকে আল্লাহর রাহে একটি অশ্ব দান করেন। এরপর তিনি দেখতে পান যে, তা বিক্রয় করা হচ্ছে।

তখন তিনি তা ক্রয় করার ইচ্ছা করলেন এবং রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি (রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার প্রদত্ত সাদকা ফেরত নিও না।

বুখারি হাদিস নং ২৭৬৪

হাদীস নং ২৭৬৪

মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি কোন সেনা অভিযান থেকে পিছিয়ে থাকতাম না।

কিন্তু আমি তো (সকলের জন্য) সাওয়ারী সংগ্রহ করতে পারছি না এবং আমি এতগুলো সাওয়ারী পাচ্ছি না যার উপর আমি তাদের আরোহণ করাতে পারি। আর আমার জন্য এটা কষ্টদায়ক হবে যে, তারা আমার থেকে পেছনে পড়ে থাকবে ।

আমি তো এটাই কামনা করি যে, আমি আল্লাহর রাহে জিহাদ করব এবং শহীদ হয়ে যাব, এরপর আমাকে পুনরায় জীবিত করা হবে এবং আমি পুনরায় শহীদ হব। এরপর আমাকে পুনরায় জীবিত করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৭৬৫ – মজুরী গ্রহণ করে জিহাদে অংশগ্রহণ করা।

হাদীস নং ২৭৬৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইয়ালা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহন করি। আমি একটি জওয়ান উট (জিহাদে) আরোহণের জন্য (জনৈক ব্যক্তিকে) দেই। আমার সঙ্গে এটিই ছিল আমার অধিক নির্ভরযোগ্য কাজ।

আমি এক ব্যক্তিকে মজুরীর বিনিময়ে নিয়োগ করলাম। তখন সে এক ব্যক্তির সহিত ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, একজন অপরজনের হাত কামড়িয়ে ধরে সে তার হাত কামড়দাতার মুখ হতে সজোরে বের করে আনে।

ফলে তার সামনের দাত উপড়ে আসে। উক্ত ব্যক্তি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হল। তখন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দাতের কোন প্রতিশোধ গ্রহণের ব্যবস্থা করেননি।

আর তিনি বললেন, সে কি তার হাতটিকে তোমার মুখে রেখে দিবে, আমি তুমি তাকে উটের ন্যায় কামড়াতে থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ২৭৬৬ – নবী (সা.) এর পতাকা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে।

হাদীস নং ২৭৬৬

সাঈদ ইবনে আবু মারিয়ম রহ……..কায়েস ইবনে সাদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, আর তিনি ছিলেন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পতাকা বহনকারী, তিনি হজ্জের সংকল্প করেন, তখন তিনি মাথার চুল আঁচড়িয়ে নিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৬৭

হাদীস নং ২৭৬৭

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..সালামা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে আলী রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পেছনে থেকে যান, (কারণ) তাঁর চোখে অসুখ হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, আমি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পিছিয়ে থাকব?

এরপর আলী রা. বেরিয়ে পড়লেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এসে মিলিত হলেন। যখন সে রাত এল, যে রাত শেষে সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার জয় করেছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

আগমীকাল আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা অর্পণ করব, কিংবা (বলেন) আগমীকাল এমন এক ব্যক্তি পতাকা গ্রহণ করবে যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালবাসেন।

অথবা তিনি বলেছিলেন, যে আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসে। আল্লাহ তা’আলা তারই হাতে খায়বার বিজয় দান করবেন।

হঠাৎ আমরা দেখতে পেলাম যে, আলী রা. এসে উপস্থিত, অথচ আমরা তাঁর আগমন প্রত্যশা করিনি। তারা বললেন, এই যে আলী রা. এসে গিয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পতাকা অর্পণ করলেন। আর আল্লাহ তা’আলা তারই হাতে খায়বারের বিজয় দান করলেন।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৬৮

হাদীস নং ২৭৬৮

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি যুবাইর রা.কে বলেছিলেন, এখানেই কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে পতাকা পুঁতে রাখতে আদেশ করেছিলেন?

বুখারি হাদিস নং ২৭৬৯ – রাসূল (সা.) এর উক্তি: এক মাসের পথের দূরত্ব থেকে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।

হাদীস নং ২৭৬৯

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।

একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভাণ্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

বুখারি হাদিস নং ২৭৭০

হাদীস নং ২৭৭০

আবুল ইয়ামান রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তাকে আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন, (রোম সম্রাট) হিরাকল আমাকে ডেকে পাঠান। তখন তিনি ইলিয়া (বর্তমান ফিলিস্তিন) নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন।

তারপর সম্রাট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্রখানি আনতে আদেশ করেন, যখন পত্র পাঠ সমাপ্ত হল, তখন বেশ হৈ চৈ ও শোরগোল পড়ে গেল।

এরপর আমাদেরকে (দরবার হতে) বাইরে নিয়ে আসা হল। তখন আমি আমার সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে করে বললাম, যখন আমরা বহিষ্কৃত হচ্ছিলাম, আবু কাবশার পুত্রের বিষয়ের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেল। রোমের বাদশাও তাকে ভয় করে।

বুখারি হাদিস নং ২৭৭১ – যুদ্ধে পাথেয় বহন করা।

হাদীস নং ২৭৭১

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর গৃহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাথেয় গুছিয়ে দিয়েছিলাম, যখন তিনি মদীনায় হিজরত করার সংকল্প করেছিলেন। আসমা রা. বলেন, আমি তখন মালপত্র কিংবা পানির মশক বাঁধার জন্য কিছুই পাচ্ছিলাম না।

তখন আবু বকর রা.-কে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি আমার কোমর বন্ধনী ব্যতীত বাঁধার কিছুই পাচ্ছি না। আবু বকর রা. বললেন, একে দ্বিখণ্ডিত কর।

এক খণ্ড দ্বারা মশক এবং অপর খণ্ড দ্বারা মালপত্র বেধে দাও। আমি তাই করলাম। এজন্যই আমাকে বলা হত দু’ কোমর বন্ধনীর অধিকারিণী।

বুখারি হাদিস নং ২৭৭২

হাদীস নং ২৭৭২

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের কুরবানীর গোশত মদীনা পর্যন্ত পাথেয় রূপে গ্রহণ করতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৭৭৩

হাদীস নং ২৭৭৩

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….সুয়াইদ ইবনে নুমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, খায়বার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তিনি জিহাদে অংশগ্রহণ করেন।

তাঁরা যখন খায়বারের উপকণ্ঠে অবস্থিত খাবার নিয়ে আসতে বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যবের ছাতু ব্যতীত কিছুই উপস্থিত করা হয়নি।

আমরা তা পানির সাথে মিশিয়ে আহার করলাম ও পান করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং কুলি করলেন, আমরাও কুলি করলাম ও সালাত আদায় করলাম।

 

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৭৪

হাদীস নং ২৭৭৪

বিশর ইবনে মারহুম রহ………..সালাম (ইবনে আকওয়া) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে লোকদের পাথেয় কমে যায় এবং তারা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাজির হয়ে তাদের উট যবেহ করার অনুমতি চাইলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অনুমতি দিলেন। সে সময় উমর রা.-এর সাথে তাদের সাক্ষাত হল। তারা তাকে বিষয়টি অবহিত করল। তিনি বললেন, উট যবেহ করে তারপর তোমরা কিরূপে টিকে থাকবে?

উমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ সকল লোক উট যবেহ করে খেয়ে ফেলার পর কিরূপে বাঁচবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিজ নিজ অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাদের মধ্যে ঘোষণা দাও।

তারপর রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খবারের জন্য বরকতের দু’আ করলেন। তারপর তাদেরকে নিজ নিজ পাত্র নিয়ে উপস্থিত হতে আদেশ করলেন।

তারা তাদের পাত্র ভরে নিতে লাগল অবশেষে সকলই নিয়ে নিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আর আমি আল্লাহর রাসূল।

বুখারি হাদিস নং ২৭৭৫ – কাঁধে পাথেয় বহন করা।

হাদীস নং ২৭৭৫

সাদকা ইবনে ফাযল রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক জিহাদে বের হলাম এবং আমরা সংখ্যায় তিনশত ছিলাম। প্রত্যেকে নিজ নিজ পাথেয় নিজেদের কাঁধে বহন করছিলাম।

পথে আমাদের পাথেয় নিঃশেষ হয়ে গেল। এমনকি আমরা দৈনিক একটি মাত্র খেজুর খেতে থাকলাম। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, হে আবু আবদুল্লাহ ! একটি মাত্র খেজুর একজন লোকের কি করে যথেষ্ট হত? তিনি বললেন, যখন আমরা তাও হারালাম তখন এর হারানোটা অনুভব করলাম।

অবশেষে আমরা সমুদ্র তীরে এসে উপস্থিত হলাম। হঠাৎ সমুদ্র একটি বিরাট মাছ তীরে নিক্ষেপ করল। আমরা সে মাছটি তৃপ্তি সহকারে আঠার দিন পর্যন্ত খেলাম।

বুখারি হাদিস নং ২৭৭৬ – আপন ভাইয়ের পেছনে একই উটের পিঠে মহিলাকে বসানা।

হাদীস নং ২৭৭৬

আমর ইবনে আলী রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার সাহাবীগণ তো হজ্জ ও উমরার সাওয়াব নিয়ে প্রত্যাবর্তন করছেন, আর আমি তো হজ্জ থেকে অতিরিক্ত কিছুই করতে পারলাম না।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি যাও, আবদুর রাহমান তোমাকে তার পেছনে সাওয়ারীতে বসিয়ে নিবে।

তিনি আবদুর রাহমানকে আদেশ করলেন, তাকে তানয়ীম থেকে উমরার ইহরাম করিয়ে আনতে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় উচু ভূমিতে তাঁর জন্য অপেক্ষায় থাকলেন।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

 

বুখারি হাদিস নং ২৭৭৭

হাদীস নং ২৭৭৭

আবদুল্লাহ রহ…………আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রা. কে আমার পেছনে বসিয়ে তানয়ীম থেকে উমরার ইহরাম করিয়ে আনতে আমাকে আদেশ দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৭৮ – যুদ্ধ ও হজ্জে একই সাওয়ারীতে একে অপরের পেছনে বসা।

হাদীস নং ২৭৭৮

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু তালহা রা.-এর পেছনে একই সাওয়ারীতে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন লোকেরা হজ্জ ও উমরা পালনার্থে লাব্বাইক ধ্বনি উচ্চারণ করছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৭৭৯ – গাধার পিঠে একে অপরের পেছনে বসা।

হাদীস নং ২৭৭৯

কুতাইবা রহ……….উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধার পিঠে পালান লাগিয়ে তার উপর চাদর বিছিয়ে তাঁতে আরোহণ করেন। আর উসামা-রা.কে তাঁর পেছনে বসালেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৮০

হাদীস নং ২৭৮০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন আপন সাওয়ারীর পিঠে নিজের পেছনে উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে বসিয়ে মক্কার উচু ভূমির দিক থেকে আগমন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল রা. এবং চাবি সংরক্ষক উসমান ইবনে তালহা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের পার্শ্বে উটটিকে বসালেন। তারপর উসমান রা.-কে কাবা গৃহের চাবি নিয়ে আসতে আদেশ করলেন। কাবার (দ্বার) খুলে হল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিতরে প্রবেশ করলেন।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন উসামা, বিলাল ও উসমান রা.। দিনের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করলেন। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে এলেন। এ সময়ে লোকেরা প্রবেশ করার জন্য দৌঁড়িয়ে আসল।

সকলের আগে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং বিলাল রা.-কে দরজার পেছনে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন স্থানে সালাত আদায় করেছিলেন?

আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি তাকে একথা জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গিয়েছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাকআত সালাত আদায় করেছিলেন?

বুখারি হাদিস নং ২৭৮১ – রিকাব বা অন্য কিছু ধরে আরোহণে সাহায্য করা।

হাদীস নং ২৭৮১

ইসহাক রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, প্রত্যেক দিন যাতে সূর্য উদিত হয়, তাঁতে মানুষের দেহের প্রতিটি জোড়া হতে একটি মানুষের প্রত্যেক জোড়ার প্রতি সদকা রয়েছে।

প্রতি দিন যাতে সূর্য উদিত হয়। দুজন লোকের মধ্যে সুবিচার করাও সাদকা। কাউকে সাহায্য করে সাওয়ারীতে আরোহণ করিয়ে দেওয়া বা তার উপর তার মালপত্র তুলে দেওয়াও সাদকা।

ভাল কথাও সাদকা। সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে পথে চলায় প্রতিটি কদমেও সাদকা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও সাদকা।

বুখারি হাদিস নং ২৭৮২ – কুরআন শরীফ সহ শত্রু ভূখণ্ডে সফর করা অপছন্দনীয়।

হাদীস নং ২৭৮২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন সঙ্গে নিয়ে শত্রুর ভূখণ্ডে সফর করতে নিষেধ করেছেন।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৮৩ – যুদ্ধের সময় তাকবীর বলা।

হাদীস নং ২৭৮৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি প্রত্যুষে খায়বার প্রান্তরে প্রবেশ করেন। সে সময় ইয়াহুদীগণ কাঁধে কোদাল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে।

তারা যখন তাকে দেখতে পেল, তখন বলতে লাগল, মুহাম্মদ সেনাদল সহ আগমন করেছে, মুহাম্মদ সেনাদল সহ আগমন করেছে। ফলে তারা দুর্গে ঢুকে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত তুলে বললেন, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক।

আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের অঞ্চলে অবতরণ করি, তখন ভয় প্রদর্শিতদের সকাল মন্দ হয় এবং আমরা সেখানে কিছু গাধা পেয়ে গেলাম। তারপর আমরা এগুলোর (গোশত) রান্না করলাম।

এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষ হতে ঘোষণা দানকারী ঘোষণা দিল, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গাধার গোশত (আহার করা) হতে নিষেধ করেছেন।

(এতদশ্রবণে) ডেকগুলো উল্টিয়ে দেওয়া হল তাঁতে যা ছিল তা সহ। আলী রা. সুফিয়ান রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু’হাত উপরে উঠান বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৮৪ – তাকবীর জোরে জোরে বলা অপছন্দনীয়।

হাদীস নং ২৭৮৪

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন কোন উপত্যকায় আরোহণ করতাম, তখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এবং আকবার বলতাম।

আর আমাদের আওয়াজ অতি উচু হয়ে যেত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের উপর রহম কর।

কেননা, তোমরা তো বধির বা দূরবর্তী সত্তাকে ডাকছ না। বরং তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই আছেন, তিনি তো শ্রবণকারী ও নিকটবর্তী।

বুখারি হাদিস নং ২৭৮৫ – কোন উপত্যকায় আক্রমন করাকালে তাসবীহ পড়া।

হাদীস নং ২৭৮৫

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন কোন উচু স্থানে আরোহণ করতাম, তখন আল্লাহু আকবার বলতাম আর যখন কোন উপত্যকায় অবতরণ করতাম, তখন সুবহানাল্লাহ বলতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৭৮৬ – উচু স্থানে আরোহণ কালে তাকবীর বলা।

হাদীস নং ২৭৮৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন উঁচুস্থানে আরোহণ করতাম, তখন আল্লাহু আকবার বলতাম আর যখন কোন উপত্যকায় অবতরণ করতাম, তখন সুবহানাল্লাহ বলতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৭৮৭

হাদীস নং ২৭৮৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হজ্জ কিংবা উমরা থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, নাকি এরূপ বলেছেন যে, যখন জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন তিনি ঘাঁটি অথবা প্রস্তরময় ভূমিতে পৌঁছে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন।

তারপর এ দু’আ পাঠ করতেন, “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই; তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, কর্তৃত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই; তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

আমরা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ থেকে তাওবাকারী, ইবাদত পালনকারী, সিজদাকারী, আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী।

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, কাফির সৈন্যদলকে তিনি একাই পরাভূত করেছেন”। সালেহ রহ. বলেন, আমি তাকে বললাম, আবদুল্লাহ কি ইনশাআল্লাহ বলেননি? তিনি বললেন, না।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

 

বুখারি হাদিস নং ২৭৮৮ – মুসাফিরের জন্য তা-ই লিখিত হবে, যা সে আমল করত ইকামত (আবাস) অবস্থায়।

হাদীস নং ২৭৮৮

মাতার ইবনে ফাযল রহ……..আবু বুরদা ইবনে আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি এবং ইয়াযিদ ইবনে আবু কাবশা রা. সফরে ছিলেন। আর ইয়াযিদ রা. মুসাফির অবস্থায় রোযা রাখতেন ।

আবু বুরদা রা. তাকে বললেন, আমি আবু মূসা (আশআরী) রা.-কে একাধিকবার বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন বান্দা রোগাক্রান্ত হয় কিংবা সফর করে, তখন তার জন্য তা-ই লিখিত হয়, যা সে মুকীম অবস্থায় বা সুস্থ অবস্থায় আমল করত।

বুখারি হাদিস নং ২৭৮৯ – একাকী ভ্রমণ করা।

হাদীস নং ২৭৮৯

হুমাইদী রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন লোকদেরকে আহবান করেন। যুবাইর রা. সে আহবানে সাড়া দিলেন, পুনরায় তিনি লোকদের আহবান করলেন, আবারও যুবাইর রা. সে আহবানে সাড়া দিলেন।

পুনরায় তিনি লোকদের আহবান করলেন, এবারও যুবাইর রা. সে আহবানে সাড়া দিলেন। এরূপ তিনবার বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক নবীর জন্য একজন বিশেষ মদদগার থাকে আর বিশেষ মদদগার হচ্ছে যুবাইর। সুফিয়ান রহ. বলেন, হাওয়ারী সাহায্যকারীকে বলা হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৭৯০

হাদীস নং ২৭৯০

আবুল ওয়ালীদ ও আবু নুআইম রহ………..ইবনে উমর রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি লোকেরা একা সফর করতে কি অনিষ্ট রয়েছে তা জানত, যা আমি জানি, তবে কোন আরোহী রাতে একাকী ভ্রমণ করত না।

বুখারি হাদিস নং ২৭৯১ – ভ্রমণকালে তাড়াতাড়ি করা।

হাদীস নং ২৭৯১

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………হিশাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিরূপ গতিতে পথ চলেছিলেন।

রাবী ইয়াহয়া রহ. বলতেন, উরওয়া রহ. বলেন, আমি শুনতে ছিলাম, তবে আমার বর্ণনায় তা বাদ পড়েছে। উসামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহজ দ্রুতগতিতে চলতেন আর যখন প্রশস্ত খালি জায়গা পেতেন, তখন দ্রুত চলতেন। নাস হচ্ছে সহজ গতির চাইতে দ্রুত গতিতে চলা।

বুখারি হাদিস নং ২৭৯২

হাদীস নং ২৭৯২

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ………আসলাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সঙ্গে ছিলাম। পথে তাঁর নিকট সাফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ রা.-এর ভীষণ অসুস্থতার সংবাদ পৌঁছে।

তখন তিনি দ্রুতগতিতে চলতে থাকেন। এমনকি যখন সূর্যাস্তের পরে লালিমা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন তিনি উট থেকে অবতরণ করে মাগরিব ও এশার সালাত একত্রে আদায় করেন।

আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা .বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, যখন তাঁর দ্রুত চলার প্রয়োজন হত, তখন তিনি মাগরিবকে বিলম্বিত করে মাগরিব ও এশার উভয় সালাত পরপর এক সাথে আদায় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৯৩

হাদীস নং ২৭৯৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সফর যেন আযাবের একটি অংশ। যা তোমাদেরকে নিদ্রা, আহার ও পান করা থেকে বিরত রাখে।

কাজেই তোমাদের কেই যখন সফরে নিজ কাজ সম্পন্ন করে ফেলে, সে যেন তারপর নিজ পরিবার পরিজনের কাছে দ্রুত চলে আসে।

বুখারি হাদিস নং ২৭৯৪ – আরোহণের জন্য ঘোড়া দান করার পর তা বিক্রয় হতে দেখলে।

হাদীস নং ২৭৯৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব রা. আল্লাহর রাহে আরোহণের জন্য একটি ঘোড়া দান করেন। তারপর তিনি সে ঘোড়াটিকে বিক্রি হতে দেখতে পান।

তিনি তা ক্রয় করে নিতে ইচ্ছা করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তা ক্রয় কর না এবং তোমার দেওয়া সাদকা ফেরত নিও না।

বুখারি হাদিস নং ২৭৯৫

হাদীস নং ২৭৯৫

ইসমাঈল রহ…………উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাহে একটি ঘোড়া দান করি। সে তা বিক্রি করতে চেয়েছিল কিংবা যার নিকট সেটা সে তাকে বিনষ্ট করার উপক্রম করেছিল। আমি ঘোড়াটি ক্রয় করতে ইচ্ছা করলাম। আর আমি ধারণা করেছিলাম যে, সে তাকে সস্তায় বিক্রি করে দিবে।

আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, তুমি তা ক্রয় কর না, যদিও তা একটি মাত্র দিরহামের বিনিময়ে হয়। কেননা সাদকা দান করত ফেরত গ্রহণকারী এমন কুকুরের তুল্য, যে বমি করে পুনরায় তা খায়।

বুখারি হাদিস নং ২৭৯৬ – পিতামাতার অনুমতি নিয়ে জিহাদে যাওয়া।

হাদীস নং ২৭৯৬

আদম রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এস জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইল।

তখন তিনি বললেন, তোমার পিতামাতা জীবিত আছেন কি ? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তাদের খেদমত করতে চেষ্টা কর।

 

বুখারি হাদিস নং ২৭৯৭ – উটের গলায় ঘন্টা ইত্যাদি বাঁধা প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২৭৯৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু বাশীর আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন।

(রাবী) আবদুল্লাহ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (আবু বাশীর আনসারী) বলেছেন যে, মানুষ শয্যায় ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সংবাদ বাহককে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন যে, কোন উটের গলায় যেন ধনুকের রশির মালা কিংবা মালা না থাকে, থাকলে তা যেন কেটে ফেলা হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৭৯৮ – যার নাম জিহাদে যাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে আর তার স্ত্রী হজ্জে বের হওয়ার ইচ্ছা করলে অথবা তার কোন ওযর দেখা দিলে, তবে তাকে (জিহাদ থেকে বিরত থাকার) অনুমতি দেওয়া হবে কি?

হাদীস নং ২৭৯৮

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন পুরুষ যেন অপর কোন মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান না করে, কোন স্ত্রীলোক যেন কোন মাহরাম সঙ্গী ব্যতীত সফর না করে।

এব ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী হজ্জে যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে যাও নিজ স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৯৯ – গোয়েন্দাগিরি করা।

হাদীস নং ২৭৯৯

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং যুবাইর ও মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রা.-কে পাঠিয়ে বললেন, তোমরা খাখ বাগানে যাও। সেখানে তোমরা এক মহিলাকে দেখতে পাবে।

তার নিকট একটি পত্র আছে, তোমরা তার কাছ থেকে তা নিয়ে আসবে। তখন আমরা রওনা করলাম। আমাদের ঘোড়া আমাদের নিয়ে দ্রুতবেগে চলছিল। অবশেষে আমরা উক্ত খাখ নামক বাগানে পৌঁছলাম এবং সেখানে আমরা মহিলাটিকে দেখতে পেলাম। আমরা বললাম, পত্র বাহির কর। সে বলল, আমার কাছে তো কোন পত্র নেই।

আমরা বললাম, তুমি অবশ্যই পত্র বের করে দিবে, নচেৎ তোমার কাপড় খুলতে হবে। তখন সে তার চুলের খোপা থেকে পত্রটি বের করে দিল। আমরা তখন সে পত্রটি নিয়ে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলাম।

দেখা গেল, তা হাতিব ইবন আবু বালতাআ রা.-এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিক ব্যক্তির নিকট লেখা হয়েছে। যাতে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন পদক্ষেপ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হাতিব! একি ব্যাপার? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ব্যাপারে কোন তড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। মূলত আমি কুরাইশ বংশীয় লোক ছিলাম না।

তবে তাদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। আর যারা আপনার সঙ্গে মুহাজিরগণ রয়েছেন, তাদের সকলেরই মক্কাবাসীদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।

যার কারণে তাদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপদ। তাই আমি চেয়েছি, যেহেতু আমার বংশগতভাবে এ সম্পর্ক নেই, কাজেই আমি তাদের প্রতি এমন কিছু অনুগ্রহ প্রদর্শন করি, যদ্বারা অন্তত তারা আমার আপনজনদের রক্ষা করবে।

আর আমি তো কুফরী কিংবা মুরতাদ হওয়ার উদ্দেশ্যে করিনি এবং ইসলাম গ্রহণের পর পুনঃ কুফরীতে প্রত্যাবর্তন করার প্রতি আকৃষ্ট হবার কারণেও নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাতিব তোমাদের নিকট সত্য কথা বলেছে।

তখন উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে।

সম্ভবত তোমার হয়ত জানা নেই, আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের ব্যাপারে অবহিত আছেন। তাই তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা যা ইচ্ছা আমল কর। আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি’। সুফিয়ান রহ. বলেন, এ সনদটি কতই না উত্তম।

আরও পড়ুনঃ

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইজারা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সলম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ই’তিকাফ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মন্তব্য করুন