জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায়

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

Table of Contents

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭০৪

হাদীস নং ২৭০৪

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনূ নযীরের সম্পদ আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফায় হিসেবে দান করেছিলেন। এত মুসলমানগণ অশ্ব বা সাওয়ারী চালনা করেনি।

এ কারণে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। এই সম্পদ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারকে এক বছরের খরচ দিয়ে দিতেন এবং অবশিষ্ট আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের প্রস্তুতি স্বরূপ হাতিয়ার ও ঘোড়া ইত্যাদিতে ব্যয় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭০৫ – পরিচ্ছেদ ১৮২১

হাদীস নং ২৭০৫

কাবীসা রহ……..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাদ রা. ব্যতীত আর কারো জন্যও তাঁর পিতা-মাতাকে উৎসর্গ করার কথা বলতে দেখিনি। আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, তুমি তীর নিক্ষেপ কর, তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ (ফিদা) হোক।

বুখারি হাদিস নং ২৭০৬ – চামড়ার ঢাল প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২৭০৬

ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন। সে সময় দুটি বালিকা বুআস যুদ্ধ সম্পর্কীয় গৌরবগাঁথা গাইছিল। তিনি এসেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন এবং তাঁর মুখ ফিরিয়ে রাখলেন।

এমন সময় আবু বকর রা. এলেন এবং আমাকে ধমক দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর রাসূলের কাছে শয়তানের বাদ্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে ফিরে বললেন, ওদের ছেড়ে দাও। তারপর যখন তিনি অন্য দিকে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমি বালিকা দুটিকে (হাত দিয়ে) খোঁচা দিলাম।

আর তারা বেরিয়ে গেল। আয়িশা রা. বলেন, ঈদের দিনে হাবশী লোকেরা ঢাল ও বর্শা নিয়ে খেলা করত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলাম কিংবা তিনিই আমাকে বলেছিলেন, তুমি কি দেখতে আগ্রহী?

আমি বললাম হ্যাঁ। তারপর তিনি আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন। আমার গাল তাঁর গালের উপর ছিল। তিনি বলছিলেন, হে বানূ আরফিদা, চালিয়ে যাও।

যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তিনি আমাকে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে? বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এখন যাও। আহমদ রহ. ইবনে ওয়াহব রহ. সূত্রে বলেন, তিনি যখন অন্য মনস্ক হলেন।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭০৭ – খাপ এবং কাঁধে তরবারি ঝুলান।

হাদীস নং ২৭০৭

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল লোকের চাইতে সুন্দর ও সাহসী ছিলেন। একরাতে মদীনার লোকেরা আতংকিত হয়ে উত্থিত শব্দের দিকে বের হল।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সামনে এলেন এমন অবস্থায় যে, তিনি শব্দের যথার্থতা অন্বেষণ করে ফেলেছেন। তিনি আবু তালহার জিনবিহীন ঘোড়ার পিঠে সাওয়ার ছিলেন এবং তার কাঁধে তরবারি ঝুলান ছিল।

তিনি বলছিলেন, তোমরা ভীত হয়ো না। তারপর তিনি বললেন, আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্রের ন্যায় গতিশীল পেয়েছি। অথবা তিনি বললেন, এটি সমুদ্র অর্থাৎ বেগবান।

বুখারি হাদিস নং ২৭০৮ – তলোয়ারে সোনা রূপার কাজ।

হাদীস নং ২৭০৮

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এই সব বিজয় এমন সব লোকদের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছিল, যাদের তলোয়ার স্বর্ণ বা রৌপ্য খচিত ছিল না, বরং তাদের তলোয়ার ছিল উটের গর্দানের চামড়া এবং লৌহ কারুকার্য মণ্ডিত।

 

বুখারি হাদিস নং ২৭০৯ – সফরে দুপুরের বিশ্রামের সময় তলোয়ার গাছে ঝুলিয়ে রাখা।

হাদীস নং ২৭০৯

আবুল ইয়ামান রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে নাজদের দিকে কোন এক যুদ্ধে বের হয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করলে তিনিও তাঁর সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করেন।

তারা যখন কন্টকাকীর্ণ বৃক্ষরাজীতে ঢাকা এক উপত্যকায় উপস্থিত হলেন তখন তাদের দিবা বিশ্রামের সময় এল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবতরণ করেন।

লোকেরা ছায়ার আশ্রয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাবলা গাছের নীচে অবতরণ করেন এবং তাতে তাঁর তরবারি ঝুলিয়ে রাখলেন। তারপর আমরা সকলেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

হঠাৎ এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ডাকতে লাগলেন। দেখলাম তাঁর পার্শ্বে একজন গ্রাম্য আরব। তিনি বললেন, আমার নিদ্রাবস্থায় এই ব্যক্তি আমারই তরবারি আমারই উপর বের করে ধরেছে।

জেগে উঠে দেখতে পেলাম যে, তার হাতে খোলা তরবারি। সে বলল, আমার থেকে তোমাকে কে রক্ষা করবে, আমি বললাম, আল্লাহ! আল্লাহ! তিনবার। এবং তার উপর তিনি কোন প্রতিশোধ নেননি, অথচ সে সেখানে বসে আছে।

বুখারি হাদিস নং ২৭১০ – শিরস্ত্রাণ পরিধান করা।

হাদীস নং ২৭১০

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….সাহল রা. থেকে বর্ণিত যে, তাকে উহুদের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঘাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল।

তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল আহত হল এবং তাঁর সামনের দুটি দাঁত ভেঙ্গে গেল, তাঁর মাথার শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে গেল।

ফাতিমা রা. রক্ত ধুইতে ছিলেন আর আলী রা. পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। তিনি যখন দেখতে পেলেন যে, রক্তক্ষরণ বাড়ছেই, তখন একটি চাটাই নিয়ে তা পুড়িয়ে ছাই করলেন এবং তা ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন। তারপর রক্তক্ষরণ বন্ধ হল।

বুখারি হাদিস নং ২৭১১ – কারো মৃত্যুর সময় তার অস্ত্র ধ্বংস করা যারা পছন্দ করে না।

হাদীস নং ২৭১১

আমর ইবনে আব্বাস রহ………..আমর ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুই রেখে যাননি, শুধু তাঁর অস্ত্র, একটি সাদা খচ্চর ও একখণ্ড জমি, যা তিনি সাদকা করে গিয়েছিলেন।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭১২ – দুপুরের বিশ্রামের সময় লোকজনের ইমাম থেকে পৃথক হওয়া এবং বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণ করা।

হাদীস নং ২৭১২

আবুল ইয়ামান ও মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

তাদের দুপুরের বিশ্রামের সময় হল এমন একটি উপত্যকায় যাতে কাঁটাযুক্ত প্রচুর বৃক্ষ ছিল। লোকেরা কাঁটাযুক্ত বৃক্ষরাজির ছায়ায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বৃক্ষের নীচে অবতরণ করেন এবং একটি বৃক্ষে তাঁর তরবারি ঝুলিয়ে সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন।

তিনি জেগে উঠলেন এবং হঠাৎ তাঁর পার্শ্বে দেখতে পেলেন যে, একজন লোক, অথচ তিনি তার সম্পর্কে টের পাননি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই লোকটি হঠাৎ আমার তরবারিটা উচিয়ে বলল, কে তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে?

আমি বললাম, আল্লাহ! তখন সে লোক তলোয়ারটি কোষবদ্ধ করল। আর এই সে লোক, এখানে বসা, কিন্তু তিনি তাকে কোন শাস্তি দেননি।

বুখারি হাদিস নং ২৭১৩ – তীর নিক্ষেপ প্রসঙ্গে ইবনে উমর রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লেখ রয়েছে যে, তীরের ছায়াতলে আমার রিযক রাখা হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার নির্দেশের বিরোধিতা করে, তার জন্য অপমান ও লাঞ্ছনা নির্ধারিত।

হাদীস নং ২৭১৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, একবার তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। মক্কার পথে কোন এক স্থানে পৌঁছার পর আবু কাতাদা রা. কতিপয় সঙ্গীসহ তাঁর পেছনে রয়ে গেলেন।

সঙ্গীরা ছিলেন ইহরাম অবস্থায় আর তিনি ছিলেন ইহরাম বিহীন। এ সময় তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পান এবং (তা শিকারের উদ্দেশ্যে) তাঁর ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন।

তিনি তাঁর সঙ্গীদের তাঁর চাবুকটি উঠিয়ে দিতে বলেন ; কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকার করলেন। আবার তিনি তাঁর বর্শাটি উঠিয়ে দিতে বলেন। তারা তাও দিতে অস্বীকার করলেন। তখন তিনি নিজেই তা উঠিয়ে নিলেন। এরপর গাধাটির উপর আক্রমণ চালালেন এবং তাকে হত্যা করলেন।

সাথীরা কেউ কেউ এর গোশত খেলেন এবং কেউ কেউ তা খেতে অস্বীকার করলেন। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছে এ সম্পর্কে তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন।

তিনি বললেন, এটি একটি আহার্য বস্তু, যা আল্লাহ তা’আলা তোমাদের আহারের জন্য দিয়েছেন। যায়িদ ইবনে আসলাম রহ. আবু কাতাদা রা. থেকে আবু নাযর রা.-এর অনুরূপ বন্য গাধা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

এতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের সাথে তার কিছু গোশত আছে কি?

বুখারি হাদিস নং ২৭১৪ – রাসূল (সা.) এর বর্ম এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তাঁর জামা সম্পর্কিত।

হাদীস নং ২৭১৪

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন একটি গুম্বুজ রাজি তাঁবুতে অবস্থান কালে দুআ করছিলেন, ইয়া আল্লাহ!

আমি আপনার প্রতিজ্ঞা ও ওয়াদার দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি যদি চান, তাহলে আজকের পরে আর আপনার ইবাদাত করা হবে না। এ সময় আবু বকর রা. তাঁর হাত ধরে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যথেষ্ট হয়েছে।

আপনি বার বার মিনতির সঙ্গে আপনার রবের কাছে দু’আ করেছেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ম পরিহিত ছিলেন।

এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করতে বেরিয়ে এলেন: শীঘ্রই দুশমনরা পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে অধিকন্তু কিয়ামত শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর। (৫৪: ৪৫. ৪৬) ওহাইব রহ. বলেন, খালিদ রহ. বলেছেন, ‘বদরের দিন’।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭১৫

হাদীস নং ২৭১৫

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের সময় তাঁর বর্মটি ত্রিশ সা’-এর বিনিময়ে এক ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক ছিল।

মুআল্লা আবদুল ওয়াহিদ রহ. সূত্রে আমাশ রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লৌহবর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আর ইয়ালা রহ. আমাশ রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, বর্মটি ছিল লোহার।

বুখারি হাদিস নং ২৭১৬

হাদীস নং ২৭১৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উদাহরণ এমন দু’ ব্যক্তির ন্যায়, যারা লৌহবর্ম পরিহিত।

বর্ম দু’টি এত আঁটসাট যে, তাদের উভয়ের হাত কব্জায় আবদ্ধ রয়েছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে, তখন বর্মটি তার শরীরের উপর প্রসারিত হয়, এমনকি তা তার পদচিহ্ন মুছে ফেলে।

আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মের কড়াগুলো পরস্পর গলে গিয়ে তার শরীরকে আকড়ে ধরে এবং তার উভয় হাত কণ্ঠের সাথে লেগে যায়।

তারপর আবু হুরায়রা রা. বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, সে হাত দুটিকে প্রসারিত করতে চেষ্টা করে; কিন্তু প্রসারিত করতে পারে না।

বুখারি হাদিস নং ২৭১৭ – সফর এবং যুদ্ধে জোব্বা পরিধান করা।

হাদীস নং ২৭১৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……… মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন (প্রাকৃতিক) হাজত পূরণের জন্য গেলেন।

সেখান থেকে ফিরে এলে আমি তাঁর কাছে পানি নিয়ে গেলাম। তিনি তা দিয়ে উযূ করেন। তাঁর পরিধানে ছিল শামী জোব্বা। তিনি কুলি করেন, নাকে পানি দেন ও মুখমণ্ডল ধৌত করেন।

এরপর তিনি জামার আস্তিন গুটিয়ে দুটি হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন দুটি ছিল খুবই আঁটসাট। তাই তিনি ভেতর দিক দিয়ে হাত বের করে উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মসেহ করলেন এবং উভয় মোজার উপর মসেহ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭১৮ – যুদ্ধে রেশমী কাপড় পরিধান করা।

হাদীস নং ২৭১৮

আহমদ ইবনে মিকদাম রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনে আওফা রা. ও যুবাইর রা.-কে তাদের শরীরে চুলকানি থাকার কারণে রেশমী জামা পরিধান করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭১৯

হাদীস নং ২৭১৯

আবুল ওয়ালিদ ও মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রাহমান ও যুবাইর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদের রেশমী পোষাক পরিধানের অনুমতি দেন। আনাস রা. বলেন, আমি যুদ্ধে তাদের শরীরে তা দেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ২৭২০

হাদীস নং ২৭২০

মুসাদ্দাদ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনে আওফ ও যুবাইর ইবনুল আওয়ামকে রেশমী বস্ত্র পরিধানের অনুমতি দেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭২১

হাদীস নং ২৭২১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, শরীরে চুলকানির জন্য তাদের দু’জনকে (আবদুর রাহমান ও যুবাইর) রেশমী বস্ত্র পরিধানের অনুমতি দিয়েছিলেন বা দেয়া হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৭২২ – ছুরি সম্পর্কে বর্ণনা।

হাদীস নং ২৭২২

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আমর ইবনে উমায়্যা যামরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (বকরীর) বাহু থেকে কেটে কেটে খেতে দেখেছি।

তারপর তাকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি সালাত আদায় করলেন; কিন্তু তিনি উযূ করেননি। আবুল ইয়ামান রহ. শুয়াইব সূত্রে যুহরী রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি রেখে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭২৩ – রোমদের সাথে যুদ্ধ সম্পর্কে।

হাদীস নং ২৭২৩

ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ দিমাশকী রহ………উমাইর ইবনে আসওয়াদ আনসী রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি উবাদা ইবনে সামিত রা.-এর কাছে আসলেন। তখন উবাদা রা. হিমস উপকূলে তাঁর একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উম্মে হারাম।

উমাইর রহ. বলেন, উম্মে হারাম রা. আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে প্রথম যে দলটি নৌ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে তারা যেন জান্নাত অনিবার্য করে ফেলল।

উম্মে হারাম রা. বলেন, আমি কি তাদের মধ্যে হবে? তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে হবে। উম্মে হারাম রা. বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মাতের প্রথম যে দলটি কায়সার (রোম সম্রাট) এর রাজধানী আক্রমণ করবে, তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত।

তারপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি তাদের মধ্যে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না।

বুখারি হাদিস নং ২৭২৪ – ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

হাদীস নং ২৭২৪

ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ফারবী রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

এমনকি তাদের কেউ যদি পাথরের আড়ালে আত্মগোপন করে তাহলে পাথরেও বলবে, হে আল্লাহর বান্দা! আমার পেছনে ইয়াহুদী রয়েছে, তাকে হত্যা কর।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭২৫

হাদীস নং ২৭২৫

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

এমনকি কোন ইয়াহুদী পাথরের আড়ালে আত্মগোপন করে থাকলে, পাথর বলবে, হে মুসলিম, আমার পেছনে ইয়াহুদী রয়েছে, তাকে হত্যা কর।

বুখারি হাদিস নং ২৭২৬ – তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

হাদীস নং ২৭২৬

আবু নুমান রহ………আমর ইবনে তাগলিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের আলামত সমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে করবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করবে।

কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখ হবে চাওড়া, যেন তাদের মুখমণ্ডল পিটানো চামড়ার ঢাল।

বুখারি হাদিস নং ২৭২৭

হাদীস নং ২৭২৭

সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, তোমরা এমন তুর্ক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চেপটা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়।

আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের।

বুখারি হাদিস নং ২৭২৮ – পশমের জুতা পরিধানকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

হাদীস নং ২৭২৮

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের।

আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে পিটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়।

সুফিয়ান রহ. বলেন, আরাজ সূত্রে আবু হুরায়রা রা. থেকে আবু যযিনাদ এই রেওয়ায়তে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; তাদের চোখ হবে ছোট, নাক হবে চেপ্টা, তাদের চেহারা যেন পিটানো ঢালের ন্যায়।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭২৯ – পরাজয়ের সময় সঙ্গীদের সারিবদ্ধ করা, নিজে সাওয়ারী থেকে অবতরণ করা ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করা।

হাদীস নং ২৭২৯

আমর ইবনে খালিদ রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, হে আবু উমারা! হুনায়নের যুদ্ধে আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি।

বরং তাঁর কিছু সংখ্যক নওয়াজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার বিহীন অবস্থায় অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বানূ হাওয়াযিন ও বানূ নাসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজের সম্মুখীন হন।

তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করলে যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয়নি। সেখান থেকে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এস উপস্থিত হলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর শ্বেত খচ্চরটা পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন।

তখন তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি বলেন, আমি নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র। এরপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৩০ – মুশরিকদের পরাজয় ও পর্যুদস্ত করার দু’আ।

হাদীস নং ২৭৩০

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করেন, আল্লাহ তাদের (মুশরিকদের) ঘর ও কবর আগুনে পূর্ণ করুন। কেননা তারা আসরের সালাত থেকে আমাদের ব্যতিব্যস্ত রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়।

 

বুখারি হাদিস নং ২৭৩১

হাদীস নং ২৭৩১

কাবীসা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূতে নাযিলায় এই দু’আ করতেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি সালামা ইবনে হিশামকে নাজাত দিন। ইয়া আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনে ওয়ালীদকে নাজাত দিন।

ইয়া আল্লাহ! আয়্যাশ ইবনে আবী রাবী-কে নাজাত দিন। ইয়া আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদের নাজাত দিন। ইয়া আল্লাহ মুযার গোত্রকে সমূলে ধ্বংস করুন। ইয়া আল্লাহ! (মুশরিকদের উপর) ইউসুফ আ.-এর সময়কালের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৩২

হাদীস নং ২৭৩২

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাবের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে মুশরিকদের বিরুদ্ধে দু’আ করেছিলেন যে, হে কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ! তাদের সকল দলকে পরাজিত কর।

ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের পরাভূত করুন এবং পর্যুদস্ত করুন।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৩৩

হাদীস নং ২৭৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার ছায়ায় সালাত আদায় করছিলেন। তখন আবু জাহল ও কুরাইশদের কিছু লোক পরামর্শ করে। সেই সময় মক্কার বাইরে, একটি উট যবেহ হয়েছিল।

কুরাইশরা একজন পাঠিয়ে সেখান থেকে এর গর্ভথলি নিয়ে এল এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিঠে ঢেলে দিল। তারপর ফাতিমা রা. এসে এটি তাঁর থেকে সরিয়ে দিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে দু’আ করেন, ইয়া আল্লাহ!

আপনি কুরাইশদের ধ্বংস করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের ধ্বংস করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের ধ্বংস করুন। অর্থাৎ আবু জাহল, ইবনে হিশাম, উতবা ইবনে রবীআ, শায়বা ইবনে রবীআ, ওয়ালীদ ইবনে উতবা, উবাই ইবনে খালফ এবং উকবা ইবনে আবী মুআইত (তাদের ধ্বংস করুন)।

আবদুল্লাহ রহ.বলেন, এরপর আমি তাদের সকলকে বদরের একটি পরিত্যক্ত কূপে নিহত দেখেছি। আবু ইসহাক রহ. বলেন, আমি সপ্তম ব্যক্তির নাম ভূলে গিয়েছি।

শুবা রহ. বলেন, উমাইয়া অথবা উবাই। তবে সহীহ হল উমাইয়া। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইউসুফ ইবনে আবু ইসহাক রহ. আবু ইসহাক রহ. সূত্রে উমাইয়া ইবনে খালফ।

বুখারি হাদিস নং ২৭৩৪

হাদীস নং ২৭৩৪

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, একদিন কয়েকজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসল এবং বলল, তোমার মৃত্যু ঘটুক।

(তা শুনে) আয়িশা রা. তাদের অভিশাপ দিলেন। তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কী হল? আয়িশা রা. বললেন, তারা কী বলেছে, আপনি কি তা শুনেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যে বলেছি, তোমাদের উপর, তা কি তুমি শোননি?

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৩৫ – মুসলিম ব্যক্তি কি আহলে কিতাব কে পথপ্রদর্শন করবে কিংবা তাদের কুরআন শিক্ষা দিবে?

হাদীস নং ২৭৩৫

ইসহাক রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সারের কাছে চিঠি লিখেছিলেন এবং এতে বলেছিলেন, যদি তুমি সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখ তাহলে প্রজাদের পাপের বোঝা তোমারই উপর বর্তাবে।

বুখারি হাদিস নং ২৭৩৬ – মুশরিকদের জন্য হিদায়াতের দু’আ, যাতে তাদের মনে আকৃষ্ট হয়।

হাদীস নং ২৭৩৬

আবুল ইয়ামান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তুফাইল ইবনে আমর দাওসী ও তাঁর সঙ্গীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দাওস গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণে অবাধ্য হয়েছে ও অস্বীকার করেছে।

আপনি তাদের বিরুদ্ধে দু’আ করুন। তারপর বলা হল, দাওস গোত্র ধ্বংস হোক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইয়া আল্লাহ ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত করুন এবং তাদের (ইসলাম) নিয়ে আসুন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৩৭ – ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদেরকে (ইসলামের প্রতি) আহবান করা এবং কি অবস্থায় তাদের সাথে যুদ্ধ করা যায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সার ও কিসরা-এর কাছে যা লিখেছিলেন এবং যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া।

হাদীস নং ২৭৩৭

আলী ইবনে জাদ রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোমের (সম্রাটের) প্রতি লেখার ইচ্ছা করেন।

তখন তাকে বলা হল যে, তারা মোহরকৃত পত্র ছাড়া পাঠ করে না। তারপর তিনি রূপার একটি মোহর নির্মাণ করেন। আমি এখনো যেন তাঁর হাতে এর শুভ্রতা দেখছি। তিনি তাঁতে খোদাই করেছিলেন, “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লা”।

বুখারি হাদিস নং ২৭৩৯ – ইসলাম ও নবুওয়াতের দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহবান আর মানুষ যেন আল্লাহ ছাড়া তাদের পরস্পরকে রব হিসেবে গ্রহণ না করে।

হাদীস নং ২৭৩৯

ইবরাহীম ইবনে হামযা রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সারকে ইসলামের প্রতি আহবান সম্বলিত চিঠি লেখেন এবং দেহইয়া কালবীর রা.-এর মারফত সে চিঠি পাঠান এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দেন যেন তা বুসরার গভর্নরের কাছে অর্পণ করেন, যাতে তিনি তা কায়সারের কাছে পৌঁছিয়ে দেন।

আল্লাহ যখন পারস্যের সৈন্যবাহিনীকে কায়সারের এলাকা থেকে হটিয়ে দেন, তখন আল্লাহর অনুগ্রহের এই শুকরিয়া হিসাবে কায়সার হিমস থেকে পায়ে হেটে বায়তুল মুকাদ্দাস সফর করেন।

এ সময় তাঁর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিঠি এসে পৌঁছলে তা পাঠ করে তিনি বললেন যে, তাঁর গোত্রের কাউকে খোঁজ কর যাতে আম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারি।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আবু সুফিয়ান রা. আমাকে জানিয়েছেন যে, সে সময় আবু সুফিয়ান রা. কুরাইশদের মধ্যে সন্ধির বাণিজ্য উপলক্ষে সিরিয়ায় ছিলেন। এ সময়টি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কাফির কুরাইশদের কিছু লোকের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে সিরিয়ায় ছিলেন।

এ সময়টি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কাফির কুরাইশদের মধ্যে সন্ধির যুগ। আবু সুফিয়ান রা. বর্ণনা করেন যে, কায়সারের সেই দূতের সঙ্গে সিরিয়ার কোন স্থানে আমাদের দেখা হলে সে আমাকে আমার সঙ্গী-সাথীসহ বায়তুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেল। তারপর আমাদের কায়সারের দরবারে হাজির করা হল।

তখন কায়সার মুকুট পরিধান করে রাজ সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন। রোমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর পার্শ্বে ছিলেন। তারপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন, তাদের জিজ্ঞাসা কর, যিনি নিজেকে নবী বলিয়া দাবী করেন, এদের মধ্যে তাঁর নিকটাত্মীয় কে? আবু সুফিয়ান রা. বললেন, আমি বললাম, বংশের দিক দিয়ে আমি তাঁর সর্বাধিক নিকটতম।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার ও তাঁর মধ্যে কি ধরনের আত্মীয়তা রয়েছে? আমি বললাম, তিনি আমার চাচাতো ভাই। সে সময় উক্ত কাফেলায় আমি ছাড়া আবদ মানাফ গোত্রের আর কেউ ছিল না।

কায়সার বললেন, তাকে আমার কাছে নিয়ে এস। তারপর বাদশাহর নির্দেশে আমার সকল সঙ্গীকে আমার পেছনে কাঁধের কাছে সমবেত করা হল। এরপর কায়সার দোভাষীকে বললেন, লোকটির সাথীদের জানিয়ে দাও, আমি তার কাছে সেই লোকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই, যিনি নবী বলিয়া দাবী করেন।

যদি সে মিথ্যা বলে, তবে তোমরা তার প্রতিবাদ করবে। আবু সুফিয়ান রা. বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ ব্যপারে লজ্জাবোধ না করতাম যে, আমার সাথীরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করবে, তাহলে তাঁর প্রশ্নের জবাবে নবী সম্পর্কিত কিছু (মিথ্যা) কথা বলতাম।

কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করলাম যে, আমার সঙ্গীরা আমি মিথ্যা বলছি বলে প্রচার করবে। ফলে আমি সত্যই বললাম। তারপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন, জিজ্ঞাসা কর, তোমাদের মধ্যে নবীর বংশ মর্যাদা কিরূপ? আমি বললাম, আমাদের মধ্যে তিনি উচ্চ বংশীয়। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁর বংশের অন্য কোন লোক কি ইতিপূর্বে এরূপ দাবী করেছে?

জবাব দিলাম, না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁর এ নুবওয়াতের আগে কোন সময় কি তাকে মিথ্যার অভিযোগে তোমরা অভিযুক্ত করেছ? আমি বললাম, না।

তিনি বললেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ কি বাদশাহ ছিল ? আমি বললাম, না। প্রভাবশালী লোকেরা তাঁর অনুসারী হচ্ছে, না দুর্বল (শ্রেণীর) লোকেরা? আমি বললাম, বরং দুর্বলরাই। তিনি বললেন, এদের সংখ্যা কি বৃদ্ধি পাচ্ছে না কমছে? আমি বললাম, বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বললেন, তাঁর দীনে প্রবেশ করার পর কেউ কি সে দীনের প্রতি অপছন্দ করে তা পরিত্যাগ করেছে? আমি বললাম, না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কি কখনো চুক্তি ভঙ্গ করেছেন? আমি বললাম, না। তবে আমরা বর্তমানে তাঁর সঙ্গে একটি চুক্তির মেয়াদে আছি এবং আশঙ্খা করছি যে, তিনি তা ভঙ্গ করতে পারেন।

আবু সুফিয়ান রা. বলেন, আমার বক্তব্যে এই কথা ব্যতীত এমন কোন কথা লুকানো সম্ভব হয়নি। যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাট করা হয় আর আমার প্রতি অপপ্রচারের আশংকা না হয়।

কায়সার জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি তাঁর বিরুদ্ধে এবং তিনি কি তোমাদের বিরুদ্ধে কখনো যুদ্ধ করেছেন ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাঁর ও তোমাদের মধ্যে যুদ্ধের ফলাফল কি ?

আমি বললাম, যুদ্ধ কুয়ার বালতির মত। কখনো তিনি আমাদের উপর বিজয়ী হন, কখনো আমরা তাঁর উপর বিজয়ী হই। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কি বিষয়ে আদেশ করেন?

আমি বললাম, তিনি আমাদের আদেশ করেন, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তাঁর সঙ্গে কিছুই শরীক না করতে। আমাদের পিতৃপুরুষেরা যে সবের ইবাদত করত, তিনি সে সবের ইবাদত করতে আমাদের নিষেধ করেন। আর তিনি আমাদের আদেশ করেন সালাত আদায় করতে; সাদকা দিতে, পূত পবিত্র থাকতে, চুক্তি পালন করতে এবং আমানত আদায় করতে।

আমি তাকে এসব জানালে তিনি দোভাষীকে আদেশ দিলেন, তাকে বল, আমি তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশ মর্যাদা সম্পর্কে জানতে চাইলে তুমি বলেছ যে, তিনি উচ্চ বংশীয়।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

সেরূপই রাসূলগণ, তাদের কাওমের উচ্চ বংশেই প্রেরিত হন। আমি তোমাদের নিকট জানতে চেয়েছিলাম যে, তোমাদের কেউ কি ইতিপূর্বে এ ধরনের দাবী করেছে? তুমি বললে, না। তোমাদের মধ্যে ইতিপূর্বে যদি কোন ব্যক্তি এরূপ কথা বলে থাকত, তাহলে আমি বলতাম, লোকটি পূর্ব কথিত একটি কথারই কথারই অনুসরণ করছে।

আমি জানতে চেয়েছি, তাঁর এ দাবীর পূর্বে কি তোমরা তাকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলে? তুমি বলেছ, না। এতে আমি বুঝতে পেরেছি যে, যে ব্যক্তি মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা বলেননি, তিনি আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলবেন, এমন হতে পারে না।

আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তাঁর পিতৃ পুরুষদের কেউ কি বাদশাহ ছিলেন? তুমি বলেছ, না। আমি বলছি, যদি তাঁর পিতৃ পুরুষদের কেউ বাদশাহ থাকত, তাহলে আমি বলতাম, সে পিতৃ পুরুষদের রাজত্ব উদ্ধার করতে ইচ্ছুক। আম তোমার কাছে জানতে চেয়েছি যে, প্রভাবশালী লোকেরাই তাঁর অনুসরণ করছে, না দুর্বল লোকেরা?

তুমি বলেছ, দুর্বলরাই। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের লোকেরাই রাসূলগণের অনুসারী হয়ে থাকে। আমি তোমার কাছে জানতে চেয়েছি, তাদের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে? তুমি বলেছ, বাড়ছে। ঈমান এভাবেই পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তাঁর দীন গ্রহণ করার পর কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে তা পরিত্যাগ করেছে?

তুমি বলেছ, না। ঈমান এরূপই হয়ে থাকে, যখন তা হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে, তখন কেউ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় না। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি যে, তিনি কি চুক্তি ভঙ্গ করেন? তুমি বলেছ, না।

ঠিকই রাসূলগণ কখনো চুক্তি ভঙ্গ করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তোমরা কি কখনো তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছ এবঙ তিনি কি কখনো তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছন? তুমি বলেছ? করেছেন। তোমাদের ও তাঁর মধ্যকার লড়াই কূপের বালতির মত। কখনো তোমরা তাঁর উপর জয়ী হয়েছ, আবার কখনো তিনি তোমাদের উপর জয়ী হয়েছেন।

এভাবেই রাসূলগণ পরীক্ষিত হন এবং পরিণাম তাদেরই অনুকূল হয়। আমি আরো জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি তোমাদের কি কি বিষয়ে আদেশ করে থাকেন? তুমি বলেছ, তিনি তোমাদের আদেশ করেন যেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কিছুই শরীক না কর।

আর তিনি তোমাদের পিতৃপুরুষেরা যে সবের ইবাদত করত তা থেকে নিষেধ করেন আর তোমাদের নির্দেশ দেন, সালাত আদায় করতে, সাদকা দিতে, পূত পবিত্র থাকতে, চুক্তি পালন করতে, আমানত আদায় করতে। এসব নবীগণের গুণাবলী। আমি জানতাম, তাঁর আগমন ঘটবে।

কিন্তু তিনি তোমাদের মধ্যে আগমন করবেন, সে ধারণা আমার ছিল না। তুমি যা যা বললে, তা যদি সত্য হয়, তবে অচিরেই তিনি আমার এই পায়ের নীচের জায়গার মালিক হয়ে যাবেন।

আমি যদি আশা করতে পারতাম যে, তাঁর কাছে পৌছতে পারব, তবে কষ্ট করে তাঁর সাক্ষাতের চেষ্টা করতাম। যদি আমি তাঁর নিকট থাকতাম, তবে তাঁর পদযুগল ধুইয়ে দিতাম। আবু সুফিয়ান রা. বলেন, তারপর তিনি তাঁর পত্রখানি চেয়ে নিলেন। তা পাঠ করে শুনানো হল। তাঁতে ছিল:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি……..যারা হিদায়াতের অনুসরণ করে তাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক। আম আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আপনি ইসলাম গ্রহণ করলে আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিফল দান করবেন।

আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেন তাহলে রোমের সমস্ত প্রজার পাপ আপনার উপর বর্তাবে। হে কিতাবীগণ ! এস এমন একটি কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, যেন আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে রব হিসাবে গ্রহণ না করে।

আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বল: তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা মুসলিম। আবু সুফিয়ান রা. বলেন, তার কথা শেষ হলে তার পার্শ্বের রোমের পদস্থ ব্যক্তিরা চিৎকার করতে লাগল এবং হৈ চৈ করতে লাগল। তারা কি বলছিল তা আমি বুঝতে পারিনি এবং নির্দেশক্রমে আমাদের বের করে দেয়া হল।

আমি সঙ্গীদের নিয়ে বেরিয়ে এসে তাদের সাথে একান্তে মিলিত হয়ে, তাদের বললাম, নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে তো বিরাট আকার ধারণ করেছে।

এই যে রোমের বাদশাহ তাকে ভয় করছে। আবু সুফিয়ান রা. বললেন, আল্লাহর কসম! এরপর থেকে আমি অপমানবোধ করতে লাগলাম এবং এ ব্যাপারে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গেল যে, মুহাম্মদের দাওয়াত অচিরেই বিজয় লাভ করবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করিয়ে দিলেন, অথচ তখনও আমি তা অপছন্দ করছিলাম।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৪০

হাদীস নং ২৭৪০

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি খায়বারের যুদ্ধের সময় রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দিব যার হাতে বিজয় অর্জিত হবে। এরপর কাকে পতাকা দেয়া হবে, সেজন্য সকলেই আশা করতে লাগলেন।

পরদিন সকালে প্রত্যেকেই এ আশায় অপেক্ষা করতে লাগলেন যে, হয়ত তাকে পতাকা দেয়া হবে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আলী কোথায়? তাকে জানানো হল যে, তিনি চক্ষুরোগে আক্রান্ত। তখন তিনি আলীকে ডেকে আনতে বললেন। তাকে ডেকে আনা হল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখের লালা তাঁর চোখে লাগিয়ে দিলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেলেন যে, তাঁর কোন অসুখই ছিল না। তখন আলী রা. বললেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না তারা আমাদের মত হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সোজা এগিয়ে যাও। তুমি তাদের প্রান্তরে উপস্থিত হলে প্রথমে তাদেরকে ইসলামের দিকে আহবান কর এবং তাদের করণীয় সম্বন্ধে তাদের অবহিত কর।

আল্লাহর কসম, যদি একটি লোকও তোমার দ্বারা হিদায়াত প্রাপ্ত হয়, তবে তা তোমার জন্য লাল রংয়ের উটের চাইতেও শ্রেয়।

বুখারি হাদিস নং ২৭৪১

হাদীস নং ২৭৪১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কাওমের বিরুদ্ধে গেলে সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক্রমণ করতেন না।

যদি আযান শুনতে পেতেন, তাহলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তাহলে সকাল হওয়ার সাথে সাথে আক্রমণ করতেন। আমরা খায়বারে রাত্রিকালে পৌঁছলাম।

বুখারি হাদিস নং ২৭৪২

হাদীস নং ২৭৪২

কুতইবা ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে রাতে সেখানে পৌঁছলেন। তিনি জিহাদের উদেশ্যে রাত্রিকালে কোন জনপদে গেলে সকাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর আক্রমণ করেন না।

যখন সকাল হল ইয়াহুদীরা কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে বের হল এবং রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেল, তখন তারা বলে উঠল, মুহাম্মদ, আল্লাহ কসম! মুহাম্মদ তাঁর পুরো সেনাবাহিনী নিয়ে উপস্থিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আল্লাহ আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করেন এবং বললেন, খায়বার ধ্বংস হল, নিশ্চয়ই আমরা যখন কোন জনপদের আঙ্গিনায় উপস্থিত হই, তখন সতর্ককৃতদের সকাল কত মন্দ।

বুখারি হাদিস নং ২৭৪৩

হাদীস নং ২৭৪৩

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত লোকদের সাথে লড়াইয়ের আদেশ হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে আর যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলবে সে তার জান ও মাল আমার হাত থেকে হিফাজত করে নিল। অবশ্য ইসলামের বিধান আলাদা, আর তার (প্রকৃত) হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।

বুখারি হাদিস নং ২৭৪৪ – যে ব্যক্তি কোন যুদ্ধের ইচ্ছা করে এবং অন্যদিকে দৃষ্টি করে তা গোপন করে রাখে আর যে বৃহস্পতিবার সফরে বের হতে পছন্দ করে।

হাদীস নং ২৭৪৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন কাবের পুত্রদের মধ্যে পথপ্রদর্শক, তিনি বলেন, আমি কাব ইবনে মালিক রা. থেকে শুনেছি, যখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন।

রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোথাও যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি অন্য দিকে দৃষ্টি আকৃষ্ট করে তা গোপন রাখতেন।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৪৫

হাদীস নং ২৭৪৫

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নির্দিষ্ট জায়গায় যুদ্ধের ইচ্ছা করলে অন্য দিকে দৃষ্টি আকৃষ্ট করে তা গোপন রাখতেন কিন্তু যখন তাবুক যুদ্ধ এল,

যে যুদ্ধে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা দিলেন, প্রচণ্ড গরম এবং সম্মুখীন হলেন দীর্ঘ সফরের ও মরুময় পথের আর অধিক সংখ্যক সৈন্যের মোকাবিলায় অগ্রসর হলেন।

তাই তিনি মুসলমানদের সামনে বিষয়টি প্রকাশ করলেন, যাতে তারা শত্রুর মোকাবিলার উপযোগী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে এবং যুদ্ধের লক্ষ্যস্থল সবাইকে জানিয়ে দিলেন।

আর ইউনুস রহ. যুহরী রহ. সূত্রে কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন সফরে যাবার ইচ্ছা করতেন তখন বেশীর ভাগ সময় বৃহস্পতিবারেই রওয়ানা করতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৪৬

হাদীস নং ২৭৪৬

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে বৃহস্পতিবার বের হন আর বৃহস্পতিবার রওয়ানা হওয়াই তিনি পছন্দ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭৪৭ – যুহরের পর সফরে বের হওয়া।

হাদীস নং ২৭৪৭

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে যুহরের সালাত চার রাকআত আদায় করেন এবং যুল-হুলাইফাতে পৌঁছে দু’রাকআত আসরেরর সালাত আদায় করেন। আমি তাদের হজ্জ ও উমরা উভয়টির তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি।

জিহাদ অধ্যায়  - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭৪৮ – মাসের শেষভাগে সফরে রওয়ানা হওয়া।

হাদীস নং ২৭৪৮

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যুল-কাদার পাঁচ রাত থাকতে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা হলাম। হজ্জ আদায় ব্যতীত আমাদের আর কোন উদেশ্যে ছিল না ।

মক্কার নিকটবর্তী হলে রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ দিলেন যাদের নিকট কুরবানীর জন্তু নেই, তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়ার সাঈ কররার পর ইহরাম খুলে ফেলবে। আয়িশা রা. বলেন, কুরবানীর দিন আমাদের নিকট গুরুর গোশত পৌঁছানো হল।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এগুলো কিসের ? বলা হল, রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধমিণীগণের পক্ষ থেকে কুরবানী আদায় করেছেন।

ইয়াহইয়া রহ. বলেন, আমি হাদীসটি কাসেম ইবনে মুহাম্মদ রহ.-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! বর্ণনাকরিণী এ হাদীসটি আপনার নিকট যথাযথ বর্ণনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কলহ-বিবাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন