জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায়

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

Table of Contents

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৪৬ – যে ব্যক্তি কোন সৈনিককে আসবাবপত্র দিয়ে সাহায্য করে অথবা যুদ্ধে গমনকারী সৈনিকের পরিবার-পরিজনকে সাহায্য করে তার ফজিলত।

হাদীস নং ২৬৪৬

আবু মামার রহ………যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ কারীর আসবাবপত্র সরবরাহ করে সে যেন জিহাদ করল।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন জিহাদ কারীর পরিবার-পরিজনকে উত্তমরূপে দেখাশোনা করে, সেও যেন জিহাদ করল।

বুখারি হাদিস নং ২৬৪৭

হাদীস নং ২৬৪৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় উম্মে সুলাইম ব্যতীত কারো ঘরে যাতায়াত করতেন না কিন্ত তার সহধর্মিণীদের কথা ভিন্ন ।

এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, উম্মে সুলাইম ভাই আমার সাথে জিহাদে শরীক হয়ে সে শহীদ হয়েছে, তাই আমি তার প্রতি সহানুভূতি জানাই।

বুখারি হাদিস নং ২৬৪৮ – যুদ্ধের সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা।

হাদীস নং ২৬৪৮

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………মূসা ইবনে আনাস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ইয়ামামার যুদ্ধ সম্পর্কে বলেন, তিনি সাবিত ইবনে কায়সের নিকট গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি তার উভয় উরু থেকে কাপড় সরিয়ে সুগন্ধি ব্যবহার করছেন।

আনাস রা. জিজ্ঞাসা করলেন, হে চাচা! যুদ্ধে যাওয়া থেকে আপনাকে কিসে বিরত রাখল? তিনি বললেন, ভাতিজা, এখনই যাব। এরপরও তিনি সুগন্ধি মালিশ করতে লাগলেন।

তারপর তিনি বসলেন এবং যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে লোকদের পালিয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা আমাদের সম্মুখ থেকে সরে পড়।

যাতে আমরা শত্রুর সাথে মুখোমুখি লড়তে পারি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমরা কখনো এরূপ করিনি। কত খারাপ তা যা তোমারা তোমাদের শত্রুদেরকে অভ্যস্ত করেছ। হাম্মাদ রহ. সাবিত রহ. সূত্রে আনাস রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৪৯ – শত্রুদের তথ্য সংগ্রহকারী দলের ফযীলত।

হাদীস নং ২৬৪৯

আবু নুআইম রহ……..জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আমাকে শত্রু শিবিরের খবরাখবর এনে দিবে? যুবাইর রা. বললেন, আমি আনব।

তিনি আবার বললেন, আমাকে শত্রু শিবিরের খবরাখবর কে এনে দিবে? যুবাইর রা. আবারও বললেন, আমি আনব। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক নবীরই সাহায্যকারী থাকে আর আমার সাহায্যকারী যুবাইর।

শত্রুদের তথ্য সংগ্রহকারী দলের ফযীলত।

২৬৪৯ আবু নুআইম রহ……..জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আমাকে শত্রুশিবিরের খবরাখবর এনে দিবে?

যুবাইর রা. বললেন, আমি আনব। তিনি আবার বললেন, আমাকে শত্রুশিবিরের খবরাখবর কে এনে দিবে? যুবাইর রা. আবারও বললেন, আমি আনব। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক নবীরই সাহায্যকারী থাকে আর আমার সাহায্যকারী যুবাইর।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৫০ – একজন তথ্য সংগ্রহকারী পাঠানো যায় কি?

হাদীস নং ২৬৫০

সাদকা রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের আহবান জানালেন। সাদাকা রহ. বলেন, আমার মনে হয় এটি খন্দকের যুদ্ধের সময়ের ঘটনা। যুবাইর রা. তার আহবানে সাড়া দিলেন।

তিনি আবার লোকদের আহবান করলেন, এবারও কেবল যুবাইর রা. সাড়া দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক নবীরই সাহায্যকারী থাকে আর আমার সাহায্যকারী যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫১ – দুজনের ভ্রমণ।

হাদীস নং ২৬৫১

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……….মালিক ইবনে হুয়ায়রিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছ থেকে ফিরে এলাম।

তিনি আমাকে ও আমার একজন সঙ্গীকে বললেন, তোমরা আযান দিবে ও ইকামত দিব এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে ইমামতি করবে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫২ – ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছ কল্যাণ নিবন্ধ রয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত।

হাদীস নং ২৬৫২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়ার কপালের কেশ গুচ্ছে কল্যাণ রয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫৩

হাদীস নং ২৬৫৩

হাফস ইবনে উমর রহ………উরওয়া ইবসে জাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঘোড়ার ক লের কেশগুচ্ছে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ রয়েছে। সুলাইমান রহ. শুবা রহ. সূত্রে উরওয়া ইবনে আবুল জাদ রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীস বর্ণনায় সুলাইমান রহ. এর অনুসরণ করেছেন মুসাদ্দাদ রহ……উরওয়া ইবনে আবুল জাদ থেকে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫৪

হাদীস নং ২৬৫৪

মুসাদ্দাদ রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেরন ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছে বরকত রয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫৫ – জিহাদ অব্যহত থাকবে নেতৃত্বদানকারীরা সৎ হোক অথবা সীমালংঘনকারী।

হাদীস নং ২৬৫৫

আবু নুআইম রহ………উরওয়া বারিকী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছে কল্যাণ রয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত। অর্থাৎ (আখিরাতের) পুরস্কার এবং গনীমতের মাল।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫৬ – যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে ঘোড়া প্রস্তুত রাখে।

হাদীস নং ২৬৫৬

আলী ইবনে হাফস রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান তাঁর যত প্রতিশ্রুতির বিশ্বাস রাখে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত রাখে কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির পাল্লায় ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাব ওজন করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫৭ – ঘোড়া ও গাধার নামকরণ।

হাদীস নং ২৬৫৭

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হন। কিন্তু তিনি কয়েকজন সঙ্গী সহ পেছনে পড়ে গেলেন।

আবু কাতাদা রা. ব্যতীত তার সঙ্গীরা সকলেই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আবু কাতাদা রা. দেখার পূর্বে তার সঙ্গীর একটি বন্য গাধা দেখতে পান এবং তাকে চলে যেতে দেন; আবু কাতাদা রা. গাধাটি দেখা মাত্রই জারাদা নামক তার ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন এবং ঘোড়ার চাবুকটি তুলে নেন এবং গাধাটি শিকার করে সঙ্গীদের নিয়ে এর গোশত আহার করেন।

এতে তারা লজ্জিত হন। তারপর তারা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলেন তখন তিনি বলেন, গাধাটির কোন অংশ তোমাদের কাছে অবশিষ্ট আছে কি?

তারা বললেন, আমাদের সাথে একটি পায়া আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে আহার করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫৮

হাদীস নং ২৬৫৮

আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রহ………সাহল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের বাগানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি ঘোড়া থাকত, যাকে লুহাইফ বলা হত। আর কেউ কেউ বলেছেন লুখাইফ খা আমর দিয়ে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৫৯

হাদীস নং ২৬৫৯

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….মুআয রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উফারই নামক একটি গাধার পিঠে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে আরোহী ছিলাম।

তিনি আমাকে বললেন, হে মুআয, তুমি কি জান বান্দার উপর আল্লাহর হক কি? এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কি? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।

তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হল, বান্দা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হল, তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক না করলে আল্লাহ তাকে শাস্তি দিবেন না।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি কি লোকদের এ সুসংবাদ দিব না? তিনি বললেন, তুমি তাদের সুসংবাদটি দিও না, তাহলে লোকেরা (এর উপর) নির্ভর করবে।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৬০

হাদীস নং ২৬৬০

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, এক সময় মদীনায় ভীতি ছড়িয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মানদূব নামক ঘোড়াটি চেয়ে নিলেন। পরে তিনি বললেন, ভীতির কোন কারণ তো আমি দেখতে পেলাম না। আমি ঘোড়াটিকে সমুদ সেচাতের ন্যায় পেয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ২৬৬১

হাদীস নং ২৬৬১

আবুল ইয়ামান রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনটি জিনিসে অকল্যাণ রয়েছে : ঘোড়া, নারী ও বাড়ীতে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৬২

হাদীস নং ২৬৬২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন কিছুতে অকল্যাণ থাকে, তবে তা নারী, ঘোড়া ও বাড়ীতে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৬৩ – ঘোড়া তিন প্রকার লোকের জন্য । আর আল্লাহ্ তাআলার বাণী : তোমাদের আরোহণের জন্য ও শুভার জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া , খচ্চর ও গাদা । (১৬:৬৮)

হাদীস নং ২৬৬৩

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা র……… আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়া তিন শ্রেণীর লোকের জন্য।

একজনের জন্য পুরস্কার ;একজনের জন্য আবরণ এবং একজনের জন্য (পাপের) বোঝা। আর যার জন্য পুরস্কার সে হলো , ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের জন্য) ঘোড়া বেঁধে রাখে এবং রশি কোন চারণভূমি বা বাগানে লম্বা করে দেয়, আর ঘোড়াটি যদি রশি ছিড়ে এক বা দুটি টিলা অতিক্রম করে তাহলেও তার গোবর ও পদক্ষেপ সমূহের বিনিময়ে তার জন্য নেকী রয়েছে।

এমনকি ঐ ঘোড়া যদি কোন নহরে গিয়ে তা থেকে পানি পান করে, অথচ তার মালিক পানি পান করানোর ইচ্ছা করেনি, তবে এর ফলেও তার জন্য নেকী রয়েছে। আর যে ব্যক্তি অহংকার, লৌকিকতা প্রদর্শন এবং মুসলমানদের সাথে শত্রুতা করার জন্য ঘোড়া বেঁধে রাখে তবে তার জন্য তা বোঝা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমার উপর আর কিছু অবতীর্ণ হয়নি, ব্যাপক অর্থবোধক এই একটি আয়াত ছাড়া।

(আল্লাহর বাণী) কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখবে। (৯৯:৭-৮)

বুখারি হাদিস নং ২৬৬৪ – জিহাদে যে ব্যক্তি অপরের জানোয়ারকে চাবুক মারে।

হাদীস নং ২৬৬৪

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………আবুল মুতাওয়াককিল নাজী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনম আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী রা.-এর নিকট গিয়ে তাকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে যা শুনেছেন, তা থেকে আমার কাছে কিছু বর্ণনা করুন।

তখন জাবির রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন এক সফরে তার সঙ্গে ছিলাম। আবু আকীল বললেন, সেটি কি জিহাদের সফর না উমরা পালনের তোমাদের মধ্যে যারা পরিজনদের কাছে তাড়াতাড়ি যেতে আগ্রহী, তারা তাড়াতাড়ি যাও।

জাবির রা. বলেন, তারপর আমি একটি উটের পিঠে চড়ে বেরিয়ে পড়লাম, সেটির দেহে কোন দাগ ছিল না এবং বর্ণ ছিল লাল-কালো মিশ্রিত। লোকেরা আমার পেছনে পেছনে চলছিল।

পথিমধ্যে আমার উটটি ক্লান্ত হয়ে থেমে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে জারিব ! তুমি থাম। তারপর তিনি চাবুক দিয়ে উটটিকে একটি আঘাত করলেন, আর উটটি অকস্মাৎ দ্রুত চলতে লাগল। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি উটটি বিক্রি করবে?

আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর মদীনায় পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের একদল সহ মসজিদে প্রবেশ করলেন।

আমি আমার উটটিকে মসজিদের বালাত -এর পার্শ্বে বেঁধে রেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এগিয়ে গেলাম এবং বললাম, এই আপনার উট।

তখন তিনি বেরিয়ে এসে উটটি ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, হ্যাঁ, উটটিতো আমারই। তারপর তিনি কয়েক উকিয়া স্বর্ণসহ এই বলে পাঠালেন যে, এগুলো জাবিরকে দাও।

তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি উটের পুরা মূল্য পেয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, মূল্য এবং উট তোমারই।

বুখারি হাদিস নং ২৬৬৫ – অবাধ্য পশু এবং তেজস্বী অশ্বে আরোহণ করা।

হাদীস নং ২৬৬৫

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে বলতে শুনেছি যে, এক সময় মদীনাতে ভীতি দেখা দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহার মানদূব নামক ঘোড়াটি চেয়ে নিলেন এবং এর উপর আরোহণ করলেন আর বললেন, আমি কোন ভীতি দেখিনি। কিন্তু ঘোড়াটি সমুদ্রের স্রোতের ন্যায় পেয়েছি।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৬৬ – গনীমতে ঘোড়ার অংশ।

হাদীস নং ২৬৬৬

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল থেকে ঘোড়ার জন্য দু’অংশ এবং আরোহীর জন্য এক অংশ করে দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৬৭ – জিহাদে যে ব্যক্তি অন্যের বাহন পরিচালনা করে।

হাদীস নং ২৬৬৭

কুতাইবা রহ………আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বারা ইবনে আযিব রা.কে বলল, আপনার কি হুনায়নের যুদ্ধ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ময়দানে রেখে পলায়ন করেছিলেন।

বারা ইবনে আযিব রা. বলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। হাওয়াযিনরা ছিল সুদক্ষ তীরন্দাজ। আমরা সামনা-সামনি যুদ্ধে তাদের পরাস্ত করলে তারা পালিয়ে যেতে লাগল।

এমতাবস্থায় মুসলমানরা তাদের পিছু ধাওয়া না করে গনীমতের মাল সংগ্রহে মনোনিবেশ করল। এই সুযোগ শত্রুরা তীর বর্ষণের মাধ্যমে আমাদের আক্রমণ করে বসল।

তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থান ত্যাগ করেননি। আমি তাকে তাঁর বাহনের লাগাম ধরে টানছেন; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, আমি নবী তা মিথ্যা নয়, আমি আবদুল মুত্তালিবের বংশধর।

বুখারি হাদিস নং ২৬৬৮ – সাওয়ারীর রিকাব ও পা-দানী প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২৬৬৮

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ার হয়ে পা-দানীতে কদম মুবারক রাখার পর উটটি দাঁড়িয়ে গেলে যুল-হুলাইফা মসজিদের নিকট তিনি ইহরাম বেঁধে নিতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৬৯ – গদিবিহীন ঘোড়ার পিঠে আরোহণ।

হাদীস নং ২৬৬৯

আমর ইবনে আওন রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম গদিবিহীন ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করে লোকদের সম্মুখে উপস্থিত হলেন, তাঁর কাঁধে ছিল ঝুলন্ত তলোয়ার।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭০ – ধীরগতি সম্পন্ন ঘোড়া।

হাদীস নং ২৬৭০

আবদূর আলা ইবনে হাম্মাদ রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, একবার মদীনাবাসীগণ ভীত হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহা রা.-এর ধীরগতি সম্পন্ন ঘোড়ার আরোহণ করেন।

তিনি (শহরে প্রদক্ষিণ করে) ফিরে এসে বললেন, আমি তোমার সমুদ্র স্রোতের ন্যায় (দ্রুতগতি সম্পন্ন) পেয়েছি। পরবর্তীকালে ঘোড়াটিকে আর কখনো পেছনে ফেলা যেতো না।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭১ – ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

হাদীস নং ২৬৭১

কাবীসা রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়ার জন্য হাফয়া থেকে সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত এবং প্রশিক্ষণবিহীন ঘোড়ার জন্য সানিয়্যা থেকে বানূ যুরায়কের মসজিদ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন।

ইবনে উমর রা. বলেন, আমি উক্ত প্রতিযোগিতার একজন অংশগ্রহণকারী ছিলাম। সুফিয়ান রহ. বলেন, হাফয়া থেকে সানিয়্যাতুল বিদার দূরত্ব পাঁচ কিংবা ছয় মাইল এবং সানিয়্যা থেকে বানূ যুরায়কের মসজিদের দূরত্ব এক মাইল।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭২ – প্রতিযোগিতার জন্য ঘোড়ার প্রশিক্ষণ দান।

হাদীস নং ২৬৭২

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশিক্ষণবিহীন ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন এবং এই দৌড়ের সীমান ছিল সানিয়্যা থেকে বানূ যুরায়কের মসজিদ পর্যন্ত।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ‘আমাদান’ এর অর্থ সীমা।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭৩ – প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতার সীমা।

হাদীস নং ২৬৭৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছেন। এই প্রতিযোগিতা হাফয়া থেকে শুরু হয়েছে এবং সানিয়্যাতুল বিদায় শেষ হয়েছে।

(রাবী আবু ইসহাক রহ. বলেন) আমি মূসা রহ.-কে বললাম, এর দূরত্ব কী পরিমাণ হবে? তিনি বললেন, ছয় বা সাত মাইল। প্রশিক্ষণবিহীন ঘোড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হতো সানিয়্যাতুল বিদা থেকে এবং শেষ হতো বানূ যুরাইকের মসজিদে।

আমি বললাম, এর মধ্যকার দূরত্ব কত ? তিনি বললেন, এক মাইল বা তার অনুরূপ। ইবনে উমর রা. এতে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭৪ – রাসূল (সা.) এর উষ্ট্রী প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ২৬৭৪

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আনাস রহ. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একটি উষ্ট্রী ছিল যাকে আযবা বলা হত।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৭৫

হাদীস নং ২৬৭৫

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আযবা নামক একটি উষ্ট্রী ছিল। কোন উষ্ট্রী তার আগে যেতে পারত না।

হুমাইদ রহ. বলেন, কোন উষ্ট্রী তার আগে যেতে সক্ষম হতো না। একদিন এক বেদুঈন একটি জাওয়ান উটে চড়ে আসল এবং আযবা এর আগে চলে গেল। এতে মুসলমাগণের মনে কষ্ট হল।

এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম- ও তা বুঝতে পারলেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর বিধান এই যে, দুনিয়ার সবকিছুরই উত্থানের পর পতন রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭৬ – রাসূল (সা.) এর খচ্চর।

হাদীস নং ২৬৭৬

আমর ইবনে আলী রহ………..আমর ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর (ইন্তিকালের সময়) তাঁর সাদা খচ্চর, কিছু যুদ্ধ সরঞ্জাম ও সামান্য ভূমি ব্যতীত আর কিছুই রেখে যাননি। এগুলোও তিনি সাদকা স্বরূপ ছেড়ে যান।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭৭

হাদীস নং ২৬৭৭

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্ন রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত যে, কোন এক ব্যক্তি তাকে বললেন, হে আবু উমারা। আপনারা হুনায়নের যুদ্ধে পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো পলায়ন করেননি।

বরং অতি উৎসাহী অগ্রবর্তী কিছু লোক হাওয়াযিনদের তীর নিক্ষেপের ফলে পালিয়ে ছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাদা খচ্চরটির উপর উপবিষ্ট ছিলেন এবং আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস রা. এর লাগাম ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আমি যে নবী তা মিথ্যা নয়, আমি আবদুল মুত্তালিবের বংশধর।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭৮ – মহিলাদের জিহাদ।

হাদীস নং ২৬৭৮

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে জিহাদের অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, তোমাদের জিহাদ হল হজ্জ।

বুখারি হাদিস নং ২৬৭৯

হাদীস নং ২৬৭৯

কাবীসা রহ………উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে তাঁর সহধর্মিনীগণ জিহাদের অনুমতি চাইলে তিনি বললেন, (মহিলাদের জন্য) উত্তম জিহাদ হল হজ্জ।

বুখারি হাদিস নং ২৬৮০ – সামুদ্রিক যুদ্ধে মহিলাদের অংশগ্রহণ।

হাদীস নং ২৬৮০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম মিলহানের কন্যার কাছে গেলেন এবং সেখানে তিনি বিশ্রাম করলেন।

তারপর তিনি হেসে উঠলেন। মিলহান রা.-এর কন্যা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কেন হাসছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে এই সবুজ সমুদ্রে সফর করবে। তাদের দৃষ্টান্ত সিংহাসনের উপবিষ্ট বাদশাহদের ন্যায়।

মিলহান রা.-এর কন্যা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কাছে আমার জন্য দু’আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন, ইয়া আল্লাহ ! আপনি মিলহানের কন্যাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করুন। আবার তিনি বিশ্রাম নিলেন, এরপর হেসে উঠলেন।

মিলহান রা.-এর কন্যা তাকে অনুরূপ জিজ্ঞাসা করলেন অথবা বললেন, এ কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম ও পূর্বের ন্যায় জবাব দিলেন।

মিলহান রা.-এর কন্যা বললেন, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন, তুমি তাদের প্রথম দলে আছ। পেছনের দলেন নয়।

বর্ণনাকারী বলেন, আনাস রা. বলেছেন, তারপর তিনি উবাদা ইবনে সামিতের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং কারাযার কন্যার সঙ্গে সমুদ্র সফর করেন। তারপর ফেরার সময় নিজের সাওয়ারীতে আরোহণ করলেন, তখন তা থেকে পড়ে গিয়ে ঘাড় মটকে ইন্তিকাল করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৮১ – কয়েক স্ত্রীর মধ্যে একজনকে নিয়ে জিহাদে যাওয়া।

হাদীস নং ২৬৮১

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা করলে তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের মধ্যে কুরআর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং এতে যার নাম আসত তাকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে নিয়ে যেতেন।

কোন এক যুদ্ধে এভাবে তিনি আমাদের মধ্যে কুরআর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। তাঁতে আমার নাম আসল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হলাম। এ ছিল পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পরের ঘটনা।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৮২ – মহিলাদের যুদ্ধে গমন এবং পুরুষদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ।

হাদীস নং ২৬৮২

আবু মামার রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন আমি দেখলাম আয়িশা বিনতে আবু বকর ও উম্মে সুলাইম রা. তাদের আচল এতটুকু উঠিয়ে নিয়েছেন যে, আমি তাদের উভয় পায়ের অলংকার দেখছিলাম।

তারা উভয়েই মশক পিঠে বহন করে সাহাবীগণের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। আবার ফিরে গিয়ে মশক ভর্তি করে নিয়ে এসে সাহাবীগণের মুখে পানি ঢেলে ঢেলে দিচ্ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৮৩ – যুদ্ধে মহিলাদের মশক নিয়ে লোকদের কাছে যাওয়া।

হাদীস নং ২৬৮৩

আবদান রহ……….সালাবা ইবনে আবু মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. মদীনায় কিছু সংখ্যক মহিলার মধ্যে কয়েকখানা চাঁদর বণ্টন করেন।

তারপর একটি ভাল চাঁদর অবশিষ্ট রয়ে গেল। তাঁর কাছে উপস্থিত একজন তাকে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এ চাঁদরটি আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নাতিন উম্মে কুলসুম বিনতে আলী রা. যিনি আপনার কাছে আছেন, তাকে দিয়ে দিন। উমর রা. বলেন, উম্মে সালীত রা. এই চাঁদরটির অধিক হকদার ।

উম্মে সালীত রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাতে বায়আত গ্রহণকারিণী আনসার মহিলাদের একজন।

উমর রা. বলেন, কেননা উম্মে সালীত রা. উহুদের যুদ্ধে আমাদের কাছে মশক (ভর্তি পানি) বহন করে নিয়ে আসতেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ‘তাযফিরু’ অর্থ তিনি সেলাই করতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৮৪ – মহিলা কর্তৃক যুদ্ধাহতদের পরিচর্যা।

হাদীস নং ২৬৮৪

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..রুবাইয়ি বিনতে মুআববিয রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা লোকদের পানি পান করাতাম, আহতদের পরিচর্যা করতাম এবং নিহতদের মদীনায় পাঠাতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৬৮৫ – মহিলা কর্তৃক আহত ও নিহতদের ফেরত পাঠান।

হাদীস নং ২৬৮৫

মুসাদ্দাদ রহ………রুবাইয়ি বিনতে মুআববিয রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে লোকদের পানি পান করাতাম ও তাদের পরিচর্যা করতাম এবং আহত ও নিহত লোকদের মদীনায় ফেরত পাঠাতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৬৮৬ – শরীর থেকে তীর বের করা।

হাদীস নং ২৬৮৬

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (এক যুদ্ধে) আবু আমিরের হাটুতে তীর বিদ্ধ হলো, আমি তাঁর কাছে গেলাম। আবু আমির রা. বললেন, এই তীরটি বের কর।

তখন আমি তীরটি টেনে বের করলাম। ফলে সে স্থান থেকে পানি প্রবাহিত হতে লাগল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গেলাম এবং তাকে ঘটনাটি জানালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইয়া আল্লাহ ! আবু আমির উবাদাকে ক্ষমা করুন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৮৭ – মহান আল্লাহর পথে যুদ্ধে পাহারাদারী করা।

হাদীস নং ২৬৮৭

ইসমাঈল ইবনে খলীল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (এক রাতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে কাটান।

তারপর তিনি যখন মদীনায় এলেন এই আকাঙ্খা প্রকাশ করলেন যে, আমার সাহাবীদের মধ্যে কোন যোগ্য ব্যক্তি যদি রাতে আমার পাহারায় থাকত। এমন সময় আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে? লোকটি বলল, আমি সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস , আপনার পাহারার জন্য এসেছি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৮৮

হাদীস নং ২৬৮৮

ইয়াহইয়া ইবনে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লাঞ্ছিত হোক দীনার ও দিরহামের গোলাম এবং চাঁদর ও শালের গোলাম। তাকে দেয়া হলে সন্তুষ্ট হয়, না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়।

এই হাদীসটির সনদ ইসরাঈল এবং ইসমাঈল এবং মুহাম্মদ ইবনে জুহাদা, আবু হুসাইনের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাননি।

আর আমর, আবদূর রাহমান ইবনে আবদুল্লাহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে আমাদেরকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লাঞ্ছিত হেক দীনারের গোলাম, দিরহামের গোলাম এবং শালের গোলাম। তাকে দেওয়া হলে সন্তুষ্ট হয়, না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়।

এরা লাঞ্ছিত হোক, অপমানিত হোক। (তাদের পায়ে) কাটা বিদ্ধ হলে তা কেউ তুলে দিবে না। ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যে ঘোড়ার লাগাম ধরে জিহাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যার মাথার চুল এলামেলো এবং পা ধূলিধূসরিত।

তাকে পাহারায় নিয়োজিত করলে পাহারায় থাকে আর (সৈন্য দলের) পেছনে পেছনে রাখলে পেছনেই থাকে। সে কারো সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেওয়া হয় না এবং কোন বিষয়ে সুপারিশ করলে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হয় না।

‘ফাতা’সান’ বলা হয় ‘ফাআতআসাহুমূল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ তাদের অপমানিত করুক। ‘তুবা’ অর্থ উত্তম। ‘ফুলা’ এর কাঠামোতে গঠিত। মূলত ‘তুবইয়া’ ছিল। ‘ইয়া’ কে ‘ওয়াও’ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৮৯ – যুদ্ধে খেদমতের ফযীলত।

হাদীস নং ২৬৮৯

মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ…….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (কোন এক) সফরে আমি জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমার খেদমত করতেন।

অথচ তিনি আনাস রা. এর চাইতে বয়সে বড় ছিলেন। জারীর রা. বলেন, আমি আনসারদের এমন কিছু কাজ দেখেছি, যার ফলে তাদের কাউকে পেলেই সম্মান করি।

বুখারি হাদিস নং ২৬৯০

হাদীস নং ২৬৯০

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে গিয়েছিলাম আর আমি তাঁর খেদমত করছিলাম।

যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে ফিরলেন এবং উহুদ পাহাড় তাঁর দৃষ্টিগোচর হল, তিনি বললেন, এই পাহাড় আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। তারপর তিনি হাত দ্বারা মদীনার দিকে ইঙ্গিত করলেন, ইয়া আল্লাহ!

ইবরাহীম আ. যেমন মক্কাকে হারাম বানিয়েছিলেন, তেমনি আমিও এ দুই কংকরময় ময়দানের মধ্যবর্তী স্থান (মদীনা)-কে হারাম বরে ঘোষণা করছি। ইয়া আল্লাহ ! আপনি আমাদের সা’ ও মুদে বরকত দান করুন।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৯১

হাদীস নং ২৬৯১

সুলাইমান ইবনে দাউদ আবু রাবী রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (কোন এক সফরে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম।

আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তির ছায়াই ছিল সর্বাধিক যে তার চাঁদর দ্বারা ছায়া গ্রহণ করছিল। তাই যারা সিয়াম পালন করছিল তারা কোন কাজই করতে পারছিল না।

যারা সিয়াম রত ছিল না, তারা উটের তত্ত্বাবধান করছিল, খেদমতের দায়িত্ব পালন করছিল এবং পরিশ্রমের কাজ করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা সাওম পালন করেনি তারাই আজ অধিক সাওয়াব হাসিল করল।

বুখারি হাদিস নং ২৬৯২ – সফর-সঙ্গীর আসবাবপত্র বহনকারীর ফযীলত।

হাদীস নং ২৬৯২

ইসহাক ইবনে নাসর রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শরীরের প্রতিটি জোড়ার উপর প্রতিদিন একটি করে সাদকা রয়েছে।

কোন লোককে তার সাওয়ারীর উপর উঠার ব্যাপারে সাহায্য করা, অথবা তার মাল-সরাঞ্জাম তুলে দেওয়া সাদকা। উত্তম কথা বলা ও সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের প্রতিটি পদক্ষেপ সাদকা এবং রাস্তা বাতলিয়ে দেওয়া সাদকা।

বুখারি হাদিস নং ২৬৯৩ – আল্লাহর পথে একদিন প্রহরারত থাকার ফযীলত।

হাদীস নং ২৬৯৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুনীর রহ………সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া দুনিয়া ও এর উপর যা কিছু আছে তার চাইতে উত্তম।

জান্নাতে তোমাদের কারো চিবুক পরিমাণ জায়গা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত কিছুর চাইতে উত্তম। আল্লাহর পথে বান্দার একটি সকাল বা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সব কিছুর চাইতে উত্তম।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৯৪ – যুদ্ধে যে ব্যক্তি খেদমতের জন্য কিশোর নিয়ে যায়।

হাদীস নং ২৬৯৪

কুতাইবা রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহাকে বলেন, তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুজে আন, যে আমার খেদমত করতে পারে। এমনকি তাকে আমি খায়বারেও নিয়ে যেতে পারি।

তারপর আবু তালহা রা. আমাকে তার সাওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে চললেন। আমি তখন প্রায় সাবালক। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমত করতে লাগলাম।

তিনি যখন অবতরণ করতেন, তখন প্রায়ই তাকে এই দু’আ পড়তে শুনতাম: ইয়া আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অসলতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে ঋণভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার কাছে পানাহ চাচ্ছি। পরে আমরা খায়বারে গিয়ে উপস্থিত হলাম।

তারপর যখন আল্লাহ তা’আলা তাকে দুর্গের উপর বিজয়ী করলেন, তখন তার কাছে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হল, তিনি ছিলেন সদ্য বিবাহিতা; তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্য মনোনীত করলেন।

তারপর তাকে নিয়ে রওয়ানা দিলেন। আমরা যখন সাদ্দুস সাহবা নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন সাফিয়্যা রা. হায়েয থেকে পবিত্র হন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে তার সাথে বাসর যাপন করেন। এরপর তিনি চামড়ার ছোট দস্তরখানে হায়সা (এক প্রকার খাদ্য) প্রস্তুত করে আমাকে আশেপাশের লোকজনকে ডাকার নির্দেশ দিলেন।

এই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সাফিয়্যার বিয়ের ওয়ালিমা । তারপর আমরা মদীনার দিকে রওয়ানা দিলাম। আনাস রা. বলেন, আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটের কাছে হাটু বাড়িয়ে বসতেন, আর সাফিয়্যা রা. তাঁর উপর পা রেখে উটে সাওয়ার হতেন। এভাবে আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের দিকে তাকিয়ে বললেন, এটি এমন এক পাহাড় যা আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি।

তারপর মদীনার দিকে তাকিয়ে বললেন, ইয়া আল্লাহ ! এই কংকরময় দুটি ময়দানের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম বলে ঘোষণা করছি, যেমন ইবরাহীম আ. মক্কাকে হারাম ঘোষাণা করেছিলেন। ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের মুদ এবং সা’ তে বরকত দান করুন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৯৫ – সমুদ্র সফর।

হাদীস নং ২৬৯৫

আবু নামান রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বলেন, উম্মে হারাম রা. আমাকে বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাড়ীতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে তিনি হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। উম্মে হারাম রা. জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে?

তিনি বললেন, আমি আমার উম্মতের একদলের ব্যাপারে বিস্মিত হয়েছি, তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজা-বাদশাহদের মত সমুদ্র সফর করবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূল্লাহ ! আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে।

তারপর তিনি আবার ঘুমালেন এবং হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। আর তিনি দু’বার অথবা তিনবার অনরূপ বললেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাদের অগ্রগামীদের মধ্যে রয়েছ। পরে উবাদা ইবনে সামিত রা. তাকে বিয়ে করেন এবং তাকে নিয়ে জিহাদে বের হন।

যখন তিনি তাঁর আরোহণের জন্য একটি সাওয়ারীর জানোয়ারের নিকটবর্তী করা হল। কিন্তু তিনি তা থেকে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায়।

বুখারি হাদিস নং ২৬৯৬ – দুর্বল ও সৎ লোকদের উসিলায় যুদ্ধে সাহায্য চাওয়া।

হাদীস নং ২৬৯৬

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………মুসআব ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদ রা.-এর ধারণা ছিল অন্যদের চাইতে তাঁর মর্যাদা বেশী। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা দুর্বলদের উসিলায়ই সাহায্য ও রিযক প্রাপ্ত হচ্ছো।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৯৭

হাদীস নং ২৬৯৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন এক সময় আসবে যখন একদল লোক আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের সাথে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীদের কেউ আছেন?

বলা হবে, হ্যাঁ। তারপর বিজয় দান করা হবে। তারপর এমন এক সময় আসবে যখন জিজ্ঞাসা করা হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সহচরদের মধ্যে কেউ কি তোমাদের মধ্যে আছেন ?

বলা হবে হ্যাঁ, তারপর তাদের বিজয় দান করা হবে। তারপর এক যুগ এমন আসবে যে, জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সহচরদের সাহচর্য লাভ করেছে, বলা হবে, হ্যাঁ। তখন তাদেরও বিজয় দান করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৯৮ – অমুক ব্যক্তি শহীদ তা বলবে না।

হাদীস নং ২৬৯৮

কুতাইবা রহ……..সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুশরিকাদের মধ্যে মুকাবিলা হয় এবং উভয়পক্ষ তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সৈন্যদলের কাছে ফিরে এলেন, মুশরিকরাও নিজ সৈন্যদলে ফিরে গেল। সেই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গীদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে কোন মুশরিককে একাকী দেখলেই তার পশ্চাদ্বাবন করত এবং তাকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করত।

বর্ণনাকারী (সাহল ইবনে সাদ রা) বলেন, আজ আমাদের কেউ অমুকের মত যুদ্ধ করতে পারেনি। তা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তো জাহান্নামের বাসিন্দা হবে। একজন সাহাবী বলে উঠলেন, আমি তার সঙ্গী হব।

তারপর তিনি তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন সে দাঁড়ালে তিনিও দাঁড়াতেন এবং সে দ্রুত চললে তিনিও দ্রুত চলতেন। তিনি বললেন, এক সময় সে মারাত্মকভাবে আহত হল এবং সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করতে লাগল। এক সময় তলোয়ারের বাট মাটিতে রাখল এবং এর তীক্ষè দিকে বুকে চেপে ধরে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করল।

অনুসরণকারী লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসলেন এবং বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলেন যে, সে জাহান্নামী হবে।

তা শুনে সাহাবীগণ বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করলেন। আমি তাদের বললাম যে, আমি লোকটির সম্পর্কে খবর তোমাদের জানাব। তারপর আমি তার পিছু পিছু বের হলাম এক সময় লোকটি মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং সে শীঘ্রই মৃত্যু কামনা করতে খাবে।

তারপর তার তলোয়ারের বাট মাটিতে রেখে এর তীক্ষ্ণ ধার বুকে চেপে ধরল এবং তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, মানুষের বাহ্যিক বিচারে অনেক সময় কোন ব্যক্তি জান্নাতবাসীর মত আমল করতে থাকে, প্রকৃতপক্ষে সে জাহান্নামী হয় এবং অনুরূপভাবে মানুষের বাহ্যিক কোন ব্যক্তি জাহান্নামীর মত আমল করলেও প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতবাসী হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৬৯৯ – তীরন্দাজির প্রতি উৎসাহিত করা।

হাদীস নং ২৬৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………সালামা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তীর নিক্ষেপ করতে থাক। কেননা তোমাদের পূর্বপুরুষ দক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন এবং আমি অমুক গোত্রের সঙ্গে আছি।

রাবী বলেন, এ কথা শুনে দু’দলের একদল তীর নিক্ষেপ বন্ধ করে দিলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কি হল যে, তোমরা তীর নিক্ষেপ করছ না?

তারা জবাব দিল, আমরা কেমন করে তীর নিক্ষেপ করতে পারি, অথচ আপনি তাদের সঙ্গে রয়েছেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ করতে থাকে আমি তোমাদের সকলের সঙ্গে আছি।

বুখারি হাদিস নং ২৭০০

হাদীস নং ২৭০০

আবু নুআইম রহ……….আবু উসাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন বলেছেন, আমরা যখন কুরাইশদের বিরুদ্ধে সারিবদ্ধ হয়েছিলাম এবং কুরাইশরা আমাদের বিরুদ্ধে সারিবদ্ধ হয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন, যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হবে, তখন তোমরা তীর নিক্ষেপ করবে।

জিহাদ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৭০১ – বর্শা বা অনুরূপ সরঞ্জাম দ্বারা খেলা করা।

হাদীস নং ২৭০১

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা একদল হাবশী লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্শা নিয়ে খেলা করছিলেন।

এমন সময় উমর রা. সেখানে এলেন এবং হাতে কংকর তুলে নিয়ে তাদের দিকে নিক্ষেপ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমর! তাদের করতে দাও। আলী ……….মামার রহ. সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন (এ ঘটনা) মসজিদে ঘটেছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৭০২ – ঢালের বর্ণনা এবং যে ব্যক্তি তার সঙ্গীর ঢাল ব্যবহার করে।

হাদীস নং ২৭০২

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু তালহা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একই ঢাল ব্যবহার করেছেন।

আর আবু তালহা রা. ছিলেন একজন ভাল তীরন্দাজ। তিনি যখন তীর নিক্ষেপ করতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উচু করে তীর যে স্থানে পড়ত তা লক্ষ্য রাখতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৭০৩

হাদীস নং ২৭০৩

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুদ্ধের ময়দানে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথার শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে গেল ও তাঁর মুখমণ্ডল রক্তাক্ত হয়ে গেল এবং তাঁর সামনের দাঁত ভেঙ্গে গেল, তখন আলী রা. ঢালে করে ভরে ভরে পানি আনতেন এবং ফাতিমা রা. ক্ষতস্থান ধুতে ছিলেন।

যখন ফাতিমা রা. দেখলেন যে, পানির চাইতে রক্তক্ষরণ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন একখানা চাটাই নিয়ে তা পোড়ালেন এবং তার ছাই ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন, তাঁতে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল।

আরও পড়ুনঃ

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন