জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

Table of Contents

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৭৬ – খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) আদায় করা দীনের অংশ।

হাদীস নং ২৮৭৬

আবু নুমান রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লহ! আমরা রাবীআ গোত্রের একটি উপদল। আপনার ও আমাদের মাঝে মুযার (কাফির) গোত্রের বসবাস।

তাই আমরা আপনার নিকট নিষিদ্ধ মাসসমূহ ব্যতীত অন্য সময় আসাতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদের এমন কাজের আদেশ করুন, যার উপর আমরা আমল করব এবং আমাদের পশ্চাতে যারা রয়ে গেছে, তাদেরকেও তা আমল করতে আহবান জানাব।

তিনি (রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি কাজের আদেশ করছি এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করছি।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের আঙ্গুলীতে তা গণনা করে বলেন, আল্লাহ তা’আলার প্রতি ঈমান আন। আর তা হচ্ছে এ সাক্ষ্য দান করা যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই আর সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত দান করা, রমযান মাসে সিয়াম পালন করা এবং আল্লাহর জন্য গনীমত লব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ আদায় করা।

আর আমি তোমাদের শুস্ক লাউয়ের খোলে তৈরী পাত্র, খেজুর গাছের মূল দ্বারা তৈরী পাত্র, সবুজ মটকা, আলকাতরা প্রলিপ্ত মটকা ব্যবহার করতে নিষেধ করছি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৭৭ – রাসূল (সা.) এর ওফাতের পর তাঁর সহধর্মিণীগণের ভরণ-পোষণ।

হাদীস নং ২৮৭৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (আমার ওফাতের পর) আমার উত্তরাধিকারীগণ একটি দীনারও ভাগ বণ্টন করে নিবে না। আমি যা রেখে যাব, তা থেকে আমার সহধর্মিণীগণের ব্যয়ভার ও আমার কর্মচারীদের ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট যা থাকবে, তা সাদকারূপে গণ্য হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৮৭৮

হাদীস নং ২৮৭৮

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হল, তখন আমার ঘরে এমন কোন বস্তু ছিলনা, যা খেয়ে কোন প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে। শুধুমাত্র তাকের উপর আধা ওয়াসাক আটা পড়ে রয়েছিল। আমি তা থেকে খেতে থাকলাম এবং বেশ কিছুদিন কেটে গেল। এরপর আমি তা মেপে দেখালাম, ফলে তা নিঃশেষ হয়ে গেল।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৭৯

হাদীস নং ২৮৭৯

মুসাদ্দাদ রহ………আমর ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যুদ্ধাস্ত্র, সাদা খচ্চর ও কিছু যমীন ব্যতীত কিছুই রেখে যান নি এবং তাও তিনি সাদকারূপে রেখে গেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮০ – রাসূল (সা.) এর সহধর্মিণীগণের ঘর এবং যে সব ঘর তাদের সাথে সম্পর্কিত যে সবের বর্ণনা….

হাদীস নং ২৮৮০

হিব্বান ইবনে মূসা ও মুহাম্মদ রহ……….উবাইদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. বলেছেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রেগ যখন অত্যাধিক বেড়ে গেল তখন তিনি আমার ঘরে অবস্থান করে রোগের পরিচর্যা বিষয়ে তাঁর অপর সহধর্মিণীগণের নিকট অনুমতি চান। তাঁরা তাকে অনুমতি প্রদান করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮১

হাদীস নং ২৮৮১

ইবনে আবু মারইয়াম রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার ঘরে আমার পালার দিন আমার কণ্ঠ ও বুকের মধ্য বরাবর মাথা রাখা অবস্থায় রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা (মৃত্যুকালেও) তাঁর ও আমার মুখের লালাকে একত্রিত করেছেন।

তিনি বলেন, আবদুর রাহমান রা. একটি মিসওয়াক নিয়ে প্রবেশ করে। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা চিবুতে অপরাগ হন। তখন আমি সে মিসওয়াকটি নিয়ে নিজে চিবিয়ে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাঁত মেজে দেই।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮২

হাদীস নং ২৮৮২

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……..আলী ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা রা. তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আসেন। তখন তিনি রমযানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ রত ছিলেন।

এরপর যখন তিনি ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান, তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর সহধর্মিণী উম্মে সালামা রা.-এর দরজার নিকটবর্তী মসজিদের দরজার নিকট পৌঁছলেন তখন দুজন আনসার তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, একটু থাম, (এ মহিলা আমার স্ত্রী) তারা বলল, সুবহানাল্লাহ! ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এরূপ বলাটা তাদের নিকট কষ্টদায়ক মনে হল।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শয়তান মানুষের রক্ত কণিকার ন্যায় সর্বত্র বিচরণ করে। আমার আশংকা হয়েছিল, না জানি সে তোমাদের মনে কোন সন্দেহের উদ্রেক করে দেয়।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮৩

হাদীস নং ২৮৮৩

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (আমার বোন) হাফসা রা.-এর ঘরের উপর (ছাদে) আরোহণ করি। তখন আমি দেখতে পেলাম, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলাকে পিছনে রেখে শাম মুখী হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে নিচ্ছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮৪

হাদীস নং ২৮৮৪

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত তখন আদায় করতেন, যখন সূর্যের আলো তার আঙ্গিনা থেকে বেরিয়ে যায়নি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮৫

হাদীস নং ২৮৮৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তিনি আয়িশা রা.-এর ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনবার বললেন, এ দিক থেকেই ফিতনা, যে দিক থেকে সূর্য উদয়ের সময় শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৮৬

হাদীস নং ২৮৮৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আমরা বিনতে আবদুর রাহমান রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা তাঁর নিকট ছিলেন।

তখন আয়িশা রা. আওয়াজ শুনতে পেলেন যে, জনৈক ব্যক্তি হাফসা রা.-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি আপনার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছে।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার মনে হয়, সে অমুক, হাফসা রা.-এর দুধ চাচা। (নবীজী বললেন) দুধপান তা-ই হারাম করে, যা জন্মগত সম্পর্কের কারণে হারাম হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮৭ – রাসূল (সা.) এর বর্ম, তরবারী, পেয়ালা ও মহর এবং তাঁর পরবর্তী খলীফাগণ সে সব থেকে যা ব্যবহার করেছেন

হাদীস নং ২৮৮৭

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, যখন আবু বকর রা. খলীফা হন, তখন তিনি তাকে বাহরাইনে প্রেরণ করেন এবং তাঁর এ বিষয়ে একটি নিয়োগপত্র লিখে দেন।

আর তাতে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুহর দ্বারা মোহরাঙ্কিত করে দেন। উক্ত মোহরে তিনটি লাইন খোদিত ছিল। এক লাইনে মুহাম্মদ, এক লাইনে রাসূল ও এক লাইনে আল্লাহ।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮৮

হাদীস নং ২৮৮৮

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..ঈসা ইবনে তাহমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস রা. দুটি পশম বিহীন পুরাতন চপ্পল বের করলেন, যাতে দুটি ফিতা লাগানো ছিল।

সাবিত বুনানী রহ. পরে আনাস রা. থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, এ দুটি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাদুকা (মুবারক) ছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৮৮৯

হাদীস নং ২৮৮৯

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আবু বুরদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা রা. একটি মোটা তালী বিশিষ্ট কম্বল বের করলেন আর বললেন, এ কম্বল জড়ানো অবস্থায়ই রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর ওফাত হয়েছে।

আর সুলাইমান রহ. হুমাইদ রহ. সূত্রে আবু বুরদা রা. থেকে বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা রা. ইয়ামানে তৈরী একটি মোটা তহবন্দ এবং কম্বল যাকে তোমরা জোড়া লাগানো বলে থাক, আমাদের কাছে বের করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৯০

হাদীস নং ২৮৯০

আবদান রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেয়ালা ভেঙ্গে যায়। তখন তিনি ভাঙ্গার স্থানে রূপার পাত দিয়ে জোড়া লাগালেন। আসিম রহ. বলেন, আমি সে পেয়ালাটা দেখেছি এবং তাঁতে আমি পান করেছি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৯১

হাদীস নং ২৮৯১

সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ জারমী রহ…………আলী ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, যখন তাঁরা ইয়াযীদ ইবনে মুআবিয়ার নিকট থেকে হুসাইন রা.-এর শাহাদাতের পর মদীনায় আসলেন, তখন তাঁর সঙ্গে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. মিলিত হলেন এবং বললেন, আপনার কি আমার কাছে কোন প্রয়োজন আছে? তবে তা বলুন।

তখন আমি তাকে বললাম, না। তখন মিসওয়ার রা. বললেন, আপনি কি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরবারীটি দিবেন? আমার আশংকা হয়, লোকেরা আপনাকে কাবু করে তা ছিনিয়ে নিবে। আল্লাহর কসম! আপনি যদি আমাকে এটি দেন, তবে আমার জীবন থাকা পর্যন্ত কেউ আমার নিকট থেকে তা নিতে পারবে না।

একবার আলী ইবনে আবু তালিব রা ফাতিমা রা. থাকা অবস্থায় আবু জাহেল কন্যাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেন। আমি তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মিম্বারে দাঁড়িয়ে লোকদের এ খুতবা দিতে শুনেছি, আর তখন আমি সাবালক।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উক্ত ভাষণে) বললেন, ফাতিমা আমার থেকে (অতি আদরের)। আমি আশংকা করছি সে দীনের ব্যাপারে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে পড়ে। তারপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু আবদে শামস গোত্রের এক জামাতার প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

তিনি তাঁর জামাতা সম্পর্কে প্রশংসা করেন এবং বলেন, সে আমার সঙ্গে যা বলেছে, তা সত্য বলেছে, আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছে, তা পূরণ করেছে। আমি হালালকে হারামকারী নই এবং হারামকে হালালকারী নই। কিন্তু আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা একত্রিত হতে পারে না।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৯২

হাদীস নং ২৮৯২

কুতাইবা রহ…………ইবনে হানাফিয়্যা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ,আলী রা. যাদি উসমান রা.-এর সমালোচনা করতেন, তবে সেদিনই করতেন, যেদিন তাঁর নিকট কিছু লোক এসে উসমান রা. কর্তৃক নিযুক্ত যাকাত উসূলকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল।

আলী রা. আমাকে জানিয়েছেন, উসমান রা.-এর নিকট যাও এবং তাকে সংবাদ দাও যে, এটি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফরমান। কাজেই আপনার কর্মচারীদের কাজ করার আদেশ দিন। তারা যেন সে অনুসারে কাজ করে। তা নিয়ে আমি তাঁর কাছে গেলাম।

তখন তিনি বললেন, আমার এটির দরকার নেই । তারপর আমি তা নিয়ে আলী রা.-এর নিকট ফিরে এসে তাকে এ সম্পর্কে অবহিত করি। তখন তিনি বললেন, এটি যেখান থেকে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও।

হুমাইদী রহ……….ইবনে হানাফিয়্যাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেন, আমাকে পাঠিয়ে বলেন, এ ফরমানটি নাও এটি উসমান রা.-এর নিয়ে যাও, এতে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকা (যাকাত) সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৯৩ – রাসূল (সা.) এর সময়ে আকস্মিক প্রয়োজনাদি ও অভাবগ্রস্তদের জন্য গনীমতের এক পঞ্চমাংশ।

হাদীস নং ২৮৯৩

বদল ইবনে মুহব্বার রহ………..আলী রা. থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা রা. আটা পিষার কষ্টের কথা জানান। তখন তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কয়েকজন বন্দী আনা হয়েছে। ফাতিমা রা. রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে একজন খাদিম চাইলেন।

তিনি তাকে পেলেন না। তখন তিনি আয়িশা রা.-এর কাছে তা উল্লেখ করেন। তারপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলে আয়িশা রা. তাঁর কাছে বিষয়টি বললেন।

(রাবী বলেন) রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। তখন আমরা শয্যা গ্রহণ করেছিলাম। আমরা উঠতে হলাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাক। আমি তাঁর পায়ের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তখন তিনি বললেন, তোমরা যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের তার চাইতে উত্তম বস্তুর সন্ধান দিব না?

(তিনি বললেন) যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করবে, তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহ আকবার’, তেত্রিশবার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ এবং তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, এই তোমাদের জন্য তার চাইতে উত্তম, যা তোমরা চেয়েছ।

বুখারি হাদিস নং ২৮৯৪ – আল্লাহর বাণী: নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের। (৮ : ৪১) তা বণ্টনের ইখতিয়ার রাসূলেরই।

হাদীস নং ২৮৯৪

আবুল ওয়ালীদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের আনসারীর এক ব্যক্তির একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সে তার নাম মুহাম্মদ রাখার ইচ্ছা করল।

মানসুর রহ. সূত্রে বর্ণিত হাদীসে শুবা বলেন, সে আনসারী বলল, আমি তাকে আমার ঘাড়ে তুলে নিয়ে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম।

আর সুলাইমান রহ. হাদীসে রয়েছে যে, তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তখন সে তার নাম মুহাম্মদ রাখার ইচ্ছা করে। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুনীয়াতের অনুরূপ কুনীয়াত রেখ না। আমাকে বণ্টনকারী করা হয়েছে।

আমি তোমাদের মাঝে বণ্টন করি। আর হুসাইন রহ. বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি বণ্টনকারী রূপে প্রেরিত হয়েছি।

আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করি। আর আমর রা. জাবির রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, সে ব্যক্তি তার সন্তানের নাম কাসিম রাখতে চেয়েছিল, তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ, আমার কুনীয়াতের অনুরূপ কুনীয়াত রেখ না।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৯৫

হাদীস নং ২৮৯৫

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে এক জনের পুত্র সন্তান জন্ম হয়। সে তার নাম রাখল কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনীয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না।

সে ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে। আমি তার নাম রেখেছি কাসিম।

তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনীয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আনসারগণ ভালই করেছে। তোমরা আমার নামে নাম রাখ, কিন্তু কিন্তু কুনীয়াত ব্যবহার করো না। কেননা, আমি তো কাসিম (বণ্টনকারী)।

বুখারি হাদিস নং ২৮৯৬

হাদীস নং ২৮৯৬

হিব্বান ইবনে মূসা রহ………মুআবিয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা যার মঙ্গল চান, তাকে দীনের প্রজ্ঞা দান করেন।

আল্লাহই দানকারী আর আমি বণ্টনকারী। এ উম্মত সর্বদা তাদের প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী, আল্লাহর আদেশ (কিয়ামত) আসা পর্যন্ত আর তারা থাকবে বিজয়ী।

বুখারি হাদিস নং ২৮৯৭

হাদীস নং ২৮৯৭

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদের দানও করি না এবং তোমাদের বঞ্চিত করি না। আমি তো কেবল বণ্টনকারী, যেভাবে আদিষ্ট হই, সেভাবে ব্যয় করি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৯৮

হাদীস নং ২৮৯৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ……….খাওলাহ আনসারীয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিছু লোক আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত।

বুখারি হাদিস নং ২৮৯৯ – রাসূল (সা.) এর বাণী : তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে।

হাদীস নং ২৮৯৯

মুসাদ্দাদ রহ………..উরওয়া আল-বারেকী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়ার কপালের উপরিভাগের কেশগুচ্ছে বাঁধা রয়েছে কল্যাণ, সাওয়াব ও গনীমত কিয়ামত পর্যন্ত।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯০০

হাদীস নং ২৯০০

আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপরে আর কোন কিসরা হবে না।

আর যখন কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপর আর কোন কায়সার হবে না। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই ব্যয় করবে উভয় সম্রাজ্যের ধন ভাণ্ডার আল্লাহর পথে।

বুখারি হাদিস নং ২৯০১

হাদীস নং ২৯০১

ইসহাক রহ……….জাবির ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবে তারপর আর কোন কিসরা হবে না।

আর যখন কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপর আর কোন কায়সার হবে না। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই ব্যয় করবে উভয় সম্রাজ্যের ধন ভাণ্ডার আল্লাহর পথে।

বুখারি হাদিস নং ২৯০২

হাদীস নং ২৯০২

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ…….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৯০৩

হাদীস নং ২৯০৩

ইসমাঈল রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং তাঁরই প্রতি দৃঢ় আস্থায় তাঁরই পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়, আল্লাহর তার জিম্মা গ্রহণ করেছেন, হয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা সে যে সাওয়াব ও গনীমত অর্জন করেছে তা সহ তাকে ঘরে ফিরাবেন, যেখান থেকে সে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৯০৪

হাদীস নং ২৯০৪

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন একজন নবী জিহাদ করেছিলেন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, এমন কোন ব্যক্তি আমার অনসরণ করবে না, যে কোন মহিলাকে মহিলাকে বিবাহ করেছে এবং তার সঙ্গে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা রাখে, কিন্তু সে এখনো মিলিত হয়নি।

এমন ব্যক্তিও না যে ঘর তৈরী করেছে কিন্তু তার ছাদ তোলেনি। আর এমন ব্যক্তিও না যে গর্ভবতী ছাগল বা উটনী কিনেছে এবং সে তার প্রসবের অপেক্ষা করছে। তারপর তিনি জিহাদে গেলেন এবং আসরের সালাতের সময় কিংবা এর কাছাকাছি সময়ে একটি জনপদের নিকটবর্তী হলেন।

তখন তিনি সূর্যকে বললেন, তুমিও আদিষ্ট আর আমিও আদিষ্ট। ইয়া আল্লাহ! সূর্যকে থামিয়ে দিন। তখন তাকে থামিয়ে দেওয়া হল। অবশেষে আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন। এরপর তিনি গনীমত একত্রিত করলেন। তখন সেগুলো জ্বালিয়ে দিতে আগুন এল কিন্তু আগুন তা জ্বালাল না।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে (গনীমতের) আত্মসাৎকারী রয়েছে। প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন যেন আমার কাছে বাইআত করে।

সে সময় একজনের হাত নবীর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎ রয়েছে। কাজেই তোমার গোত্রের লোকেরা যেন আমার কাছে বাইআত করে। এ সময় দুব্যক্তির বা তিন ব্যক্তির হাত তাঁর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎ রয়েছে।

অবশেষে তারা একটি গাভীর মস্তক সমতুল্য স্বর্ণ উপস্থিত করল এবং তা রেখে দিল। তারপর আগুন এসে তা জ্বালিয়ে ফেলল। এরপর আল্লাহ আমাদের জন্য গনীমত হালাল করে দিলেন এবং আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা লক্ষ্য করে তা আমাদের জন্য হালাল করে দিলেন।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯০৫ – গনীমত তাদের জন্য, যারা অভিযানে হাযির হয়েছে।

হাদীস নং ২৯০৫

সাদকা রহ……….যায়েদ ইবনে আসলাম রহ.-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. বলেছেন, যদি পরবর্তী মুসলিমদের ব্যাপার না হতো, তবে যে জনপদই বিজিত হতো, তাই আমি সেই জনপদবাসীদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম, যেমন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এলাকা বণ্টন করে দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯০৬ – যে ব্যক্তি গনীমতের উদ্দেশ্যে জিহাদ করে তার সাওয়াব কি কম হবে?

হাদীস নং ২৯০৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বেদুঈন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করল যে,

কেউ যুদ্ধ করে গনীমতের জন্য, কেউ যুদ্ধ করে জনসাধারণ্যে খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্যে আর যুদ্ধ করে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য, এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করল? তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে জিহাদ করে, সেই আল্লাহর রাহে জিহাদকারী ।

বুখারি হাদিস নং ২৯০৭ – ইমামের নিকট যা আসে তা বণ্টন করা এবং যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়নি কিংবা যে দূরে আছে তার জন্য রেখে দেওয়া।

হাদীস নং ২৯০৭

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওহহাব রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আবু মুলায়কা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সোনালী কারুকার্য খচিত রেশমী কাবা জাতীয় পোষাক হাদীয়া দেয়া হল।

তিনি তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে কয়েকজনকে তা বণ্টন করে দেন এবং তা থেকে একটি কাবা মাখরামা ইবনে নাওফল রা.-এর জন্য আলাদা করে রাখেন।

তারপর মাখরামা রা. তাঁর পুত্র মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা.-কে সাথে নিয়ে এসে দরজায় দাঁড়ালেন আর (পুত্রকে) বললেন, তাকে আমার জন্য আহবান কর। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি একটি কাবা নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

আর এক কারুকার্য খচিত অংশ তার সামনে তুলে ধরে বললেন, হে আবুল মিসওয়ার! আমি এটি তোমার জন্য রেখে দিয়েছি। আমি এটি তোমার জন্য রেখে দিয়েছি।

আর মাখরামা রা.-এর স্বভাবে কিছুটা রূঢ়তা ছিল। এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনে উলাইয়া রহ. ও আইউব রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাতিম ইবনে ওয়ারদান রহ. বলেন, আইউব রহ. ইবনে আবু মুলাইকা রহ. সুত্রে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কয়েকটি কাবা জাতীয় পোষাক এসেছিল। (বাকী অংশ আগের মত)। লাইস রহ. ইবনে মুলাইকা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় আইয়ূব রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯০৮ – রাসূল (সা.) কিরূপে কুরায়যা ও নাযীরের ধন-সম্পদ বণ্টন করেছেন এবং প্রয়োজনে কিভাবে ব্যয় করেছেন?

হাদীস নং ২৯০৮

আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু খেজুর গাছ নির্দিষ্ট করতেন কুরায়যা ও নাযীরের উপর বিজয় লাভ করা পর্যন্ত । তারপর তিনি সে গাছগুলো তাদের ফেরত দিয়ে দেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯০৯ – রাসূল (সা.) ও ইসলামী শাসকদের সঙ্গী হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী যোদ্ধাদের সম্পদে তাদের জীবনে ও মৃত্যুর পরে যে বরকত সৃষ্টি হয়েছে।

হাদীস নং ২৯০৯

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উষ্ট্র যুদ্ধের দিন যুবাইর রা. যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান গ্রহণ করে আমাকে ডাকলেন।

আমি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে বললেন, হে পুত্র! আজকের দিন জালিম অথবা মাজলুম ব্যতীত কেউ নিহত হবে না। আমার মনে হয়, আমি আজ মাজলুম হিসেবে নিহত হব। আর আমি আমার ঋণ সম্পর্কে বেশী চিন্তিত। তুমি কি মনে কর যে, আমার ঋণ আদায় করার পর আমার সম্পদের কিছু অবশিষ্ট থাকবে?

তারপর তিনি বললেন, হে পুত্র! আমার সম্পদ বিক্রয় করে আমার ঋণ পরিশোধ করে দাও। তিনি এক তৃতীয়াংশের ওসীয়্যাত করেন।

আর সেই এক তৃতীয়াংশের এক তৃতীয়াংশ ওয়াসিয়্যাত করেন তাঁর পুত্রদের জন্য তার অর্থাৎ আবদুল্লাহ, তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশকে তিন ভাগে বিভক্ত করবে ঋণ পরিশোধ করার পর যদি আমার সম্পদের কিছু উদ্বৃত্ত থাকে, তবে তার এক তৃতীয়াংশ তোমার পুত্রদের জন্য।

হিশাম রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-এর কোন কোন পুত্র যুবাইর রা.-এর পুত্রদের সমবয়সী ছিলেন। যেমন, খুবায়েব ও আব্বাদ। আর মৃত্যুকালে তাঁর নয় কন্যা ছিল।

আবদুল্লাহ রা. বলেন, তিনি আমাকে তাঁর ঋণ সম্পর্কে ওসীয়্যাত করছিলেন এবং বলছিলেন, হে পুত্র! যদি এ সবের কোন বিষয়ে তুমি অক্ষম হও, তবে এ ব্যাপারে আমার মাওলার সাহায্য চাইবে।

তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি বুঝে উঠতে পারিনি যে, তিনি মাওলা দ্বারা কাকে উদ্দেশ্য করেছেন। অবশেষে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে পিতা ! আপনার মাওলা কে? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ। আব্দুল্লাহ রা. বলেন, আল্লাহর কসম!

আমি যখনই তাঁর ঋণ আদায়ে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তখনই বলেছি, হে যুবাইরের মাওলা! তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর ঋণ আদায় করে দিন। আর তাঁর করয শোধ হয়ে যেত। এরপর যুবাইর রা. শহীদ হলেন এবং তিনি নগদ কোন দীনার রেখে যাননি আর না কোন দিরহাম। তিনি কিছু জমি রেখে যান যার মধ্যে একটি হল গাবা।

আরো রেখে যান মদীনায় এগারোটি বাড়ী, বসরায় দুটি, কূফায় একটি ও মিসরে একটি। আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. বলেন, যুবাইর রা.-এর ঋণ থাকার কারণ এই ছিল যে, তাঁর একটি কেউ যখন কোন মাল আমানত রাখতে আসত তখন যুবাইর রা. বলতেন, না, এভাবে নয় ; তুমি তা আমার কাছে ঋণ হিসাবে রেখে যাও।

কেননা আমি ভয় করছি যে, তোমার মাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যুবাইর রা. কখনও কোন প্রশাসনিক ক্ষমতা বা কর আদায়কারী অথবা অন্য কোন কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। অবশ্য তিনি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গী হয়ে অথবা আবু বকর, উমর ও উসমান রা.-এর সঙ্গী হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. বলেন, তারপর আমি তাঁর ঋণের পরিমাণ হিসাব করলাম এবং দেখলাম তাঁর ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ পেলাম। রাবী বলেন, সাহাবী হাকীম ইবনে হিযাম রা. আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-এর সঙ্গে সাক্ষাত করে বলেন, হে ভাতিজা! বল তো আমার ভাইয়ের কত ঋণ আছে?

তিনি তা প্রকাশ না করে বললেন, এক লাখ। তখন হাকীম বিনে হিযাম রা. বললেন, আল্লাহর কসম! এ সম্পদ দ্বারা এ পরিমাণ ঋণ শোধ হতে পারে, আমি এরূপ মনে করি না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. তাকে বললেন, যদি ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ হয়, তবে কী ধারণা করেন?

হাকীম ইবনে হিযাম রা. বললেন, আমি মনে করি না যে, তোমরা এর সামর্থ রাখ। যদি তোমরা এ বিষয়ে অক্ষম হও, তবে আমার সহযোগিতা গ্রহণ করবে। আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. বলেন, যুবাইর রা. গাবাস্থিত ভূমিটি এক লাখ সত্তর হাজারে কিনেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. তা ষোল লাখের বিনিময়ে বিক্রয় করেন।

আর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, যুবাইর রা.-এর নিকট কারা পাওনাদার রয়েছে, তারা আমার সঙ্গে গাবায় এসে মিলিত হবে। তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-কে বললেন, তোমরা চাইলে আমি তা তোমাদের জন্য ছেড়ে দিব। আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. -কে বললেন, না।

আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. বললেন, যদি তোমরা তা পরে দিতে চাও, তবে তা পরে পরিশোধের অন্তর্ভূক্ত করতে পার। আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. বললেন, না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. বললেন, তবে আমাকে এক টুকরা ভূমি দাও। আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. বললেন, এখান থেকে ওখান পর্যন্ত জমি আপনার।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

রাবী বলেন, তারপর আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. গাবার জমি থেকে বিক্রয় করে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করেন। তখনও তাঁর নিকট গাবার জমির সাড়ে চার অংশ অবশিষ্ট থেকে যায়। তারপর তিনি মুআবিয়া রা.-এর কাছে এলেন। সে সময় তাঁর কাছে আমর ইবনে উসমান, মুনযির ইবনে যুবাইর ও আবদুল্লাহ ইবনে যামআ রা. উপস্থিত ছিলেন।

মুআবিয়া রা. তাকে বললেন, গাবার মূল্য কত নির্ধারিত হয়েছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক অংশ এক লাখ হারে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কত অবশিষ্ট আছে ? আবদুল্লাহ রা. বললেন, সাড়ে চার অংশ। তখন মুনযির ইবনে যুবাইর রা. বললেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম।

আমর ইবনে উসমান রা. বলেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। আর আবদুল্লাহ ইবনে যামআ রা. বললেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। তখন মুআবিয়া রা. বললেন, আর কি পরিমাণ অবশিষ্ট আছে? আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. বললেন, দেড় অংশ অবশিষ্ট রয়েছে।

মুআবিয়া রা. বললেন, আমি তা দেড় লাখে নিলাম। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. তাঁর অংশ মুআবিয়া রা.-এর নিকট ছয় লাখে বিক্রয় করেন। তারপর যখন ইবনে যুবাইর রা. তাঁর পিতার ঋণ পরিশোধ করে সারলেন তখন যুবাইর রা.-এর পুত্ররা বললেন, আমাদের মীরাস ভাগ করে দিন।

তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. বললেন, না, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মাঝে ভাগ করব না, যতক্ষণ আমি চারটি হজ্জ মৌসুমে এ ঘোষণা প্রচার না করি যে, যদি কেউ যুবাইর রা.-এর কাছে ঋণ পাওনা থাকে, সে যেন আমাদের কাছে আসে, আমরা তা পরিশোধ করব।

রাবী বলেন, তিনি প্রতি হজ্জের মৌসুমে ঘোষণা প্রচার করেন। তারপর যখন চার বছর অতিবাহিত হল, তখন তিনি তা তাদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন।

রাবী বলেন, যুবাইর রা.-এর চার স্ত্রী ছিলেন। এক তৃতীয়াংশ পৃথক করে রাখা হল। প্রত্যেক স্ত্রী বার লাখ করে পেলেন। আর যুবাইর রা.-এর মোট সম্পত্তি পাঁচ কোটি দু’লাখ ছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৯১০ – ইমাম যদি কোন দূতকে কোন কাজে পাঠান কিংবা তাকে অবস্থান করার নির্দেশ দেন; তবে তার জন্য অংশ নির্ধারিত হবে কিনা?

হাদীস নং ২৯১০

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসমান রা. বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। কেননা, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী আর তিনি ছিলেন পীড়িত।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব ও (গনীমতের) অংশ তুমি পাবে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯১১ – যিনি বলেন, এক পঞ্চমাংশ মুসলিমগণের প্রয়োজন মিটানোর জন্য।

হাদীস নং ২৯১১

সাঈদ উফাইর রহ…………..উরওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাকে মারওয়ান ইবনে হাকাম ও মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. বর্ণনা করেছেন যে, যখন হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল মুসলমান হয়ে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল যে, তাদের মাল ও বন্দী উভয়ই ফেরত দেওয়া হোক।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, আমার নিটক সত্য কথা অধিক প্রিয়। তোমরা দুয়ের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ কর। হয় বন্দী, নয় মাল।

আর আমি তো তাদের (হাওয়াযিন গোত্রের) প্রতীক্ষা করেছিলাম আর তায়েফ থেকে ফেরার সময় রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ দিন থেকে বেশী সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।

অবশেষে যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হল যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দুটোর মধ্যে যে কোন একটিই ফেরত দিবেন, তখন তারা বলল, আমরা আমাদের বন্দীদের ফেরত লাভই পছন্দ করি।

তারপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তা’আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। তারপর বললেন, তোমাদের এ সকল ভাই তাওবা করে আমার নিকট এসেছে। আর আমি সমীচীন মনে করছি যে, তাদের বন্দীদের ফেরত দিব।

যে ব্যক্তি সন্তুষ্টচিত্তে তা করতে চায়, সে যেন তা করে আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি চায় যে, তার অংশ বহাল থাকুক সে যেন অপেক্ষা করে (কিংবা) আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে প্রথম যে গনীমতের মাল দান করবেন, আমি তাকে তা দিয়ে দিব, তাও করতে পারে।

সমবেত লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা সন্তুষ্টচিত্তে সেটি গ্রহণ করলাম। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সঠিক জানতে পারিনি, তোমাদের মধ্যে কে এতে সম্মতি দিয়েছে, আর কে দেয়নি। কাজেই তোমরা ফিরে যাও এবং নিজ নিজ প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাকে তোমাদের সিদ্ধান্ত জানাও।

লোকেরা চলে গেল। আর তাদের প্রতিনিধিরা নিজেদের লোকের সঙ্গে আলোচনা করে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফেরত এল এবং তাকে জানাল যে, তারা সন্তুষ্টচিত্তে (বন্দী ফেরত দানের ব্যাপারে) সম্মতি দিয়েছে। (ইবনে শিহাব বলেন) হাওয়াযিনের বন্দীগণ সম্পর্কিত বিবরণ আমাদের নিকট এরূপই পৌঁছেছে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯১২

হাদীস নং ২৯১২

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ……….যাহদাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবু মূসা রা.-এর কাছে ছিলাম, এ সময় মুরগীর (গোশত) সম্বন্ধে আলোচনা উঠল। তথায় তাইমুল্লাহ গোত্রের এমন লাল বর্ণের এক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিল, যেন সে মাওয়ালী (রোমক ক্রীতদাস)-দের একজন।

তাকে খাওয়ার জন্য ডাকলেন। তখন সে বলে উঠল, আমি মুরগীকে এমন বস্তু খেতে দেখেছি যাতে আমার ঘৃণা জন্মেছে। তাই আমি শপথ করেছি যে, তা খাব না। আবু মূসা রা. বললেন, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে হাদীস শুনাচ্ছি। আমি কয়েকজন আশআরী ব্যক্তির পক্ষে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সাওয়ারী চাইতে যাই।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাওয়ারী দিব না এবং আমার কাছে তোমাদের দেয়ার মত কোন সাওয়ারীও নেই। এ সময় রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গনীমতের কয়েকটি উট আনা হল।

তখন তিনি আমাদের খোঁজ নিলেন এবং বললেন, সেই আশআরী লোকেরা কোথায়? তারপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁচু সাদা চুলওয়ালা পাঁচটি উট আমাদের দিতে বললেন।

যখন আমরা উট নিয়ে রওয়ানা হলাম বললাম, আমরা আপনার নিকট সাওয়ারীর জন্য আবেদন করেছিলাম, তখন আপনি শপথ করে বলেছিলেন, আমাদের সাওয়ারী দিবেন না। আপনি কি তা ভুলে গিয়েছেন?

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের সাওয়ারী দেইনি বরং আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সাওয়ারী দান করেছেন।

আর আল্লাহর কসম, আমার অবস্থা এই যে, ইনশাআল্লাহ কোন বিষয়ে আমি কসম করি এবং তার বিপরীতটি মঙ্গলজনক মনে করি, তখন সেই মঙ্গলজনকটি আমি করি এবং কাফফারা দিয়ে কসম থেকে মুক্ত হই।

বুখারি হাদিস নং ২৯১৩

হাদীস নং ২৯১৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সেনাদল পাঠালেন, যাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন উমর রা.ও ছিলেন। এ যুদ্ধে গনীমত স্বরূপ তাঁরা বহুসংখ্যক উট লাভ করেন। তাদের প্রত্যেকের ভাগে এগারোটি কিংবা বারটি কের উট পড়েছিল এবং তাদেরকে পুরস্কারস্বরূপ আরো একটি করে উট দেয়া হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৯১৪

হাদীস নং ২৯১৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রেরিত কোন কোন সেনাদলে কোন কোন ব্যক্তিকে সাধারণ সেনাদের প্রাপ্য অংশের অতিরিক্ত দান করতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৯১৫

হাদীস নং ২৯১৫

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইয়ামানে থাকতেই আমাদের নিকট রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরত করার সংবাদ পৌঁছে। তখন আমরাও তাঁর নিকট হিজরত করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। আমি এবং আমার আরো দুই ভাই এর মধ্যে ছিলাম।

আমি ছিলাম সর্বকনিষ্ঠ। তাদের একজন হলেন আবু বুরদাহ, অপরজন আবু রুহম। রাবী হয়ত বলেছেন, আমার গোত্রের আরোও কতিপয় লোকের মধ্যে; কিংবা বলেছেন, আমার গোত্রের তিপ্পান্ন বা বায়ান্ন জন লোকের মধ্যে। তারপর আমরা একটি নৌযানে আরোহণ করলাম।

ঘটনাক্রমের আমাদেরকে নৌযানটি হাবশার নাজ্জাশী বাদশাহর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আমরা জাফর ইবেন আবু তালিব রা. ও তাঁর সঙ্গীদের সাথে মিলিত হই। জাফর রা. বললেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন এবং এখানে অবস্থান করার নির্দেশে দিয়েছেন।

তাই আপনারাও আমাদের সঙ্গে এখানে অবস্থান করুন। তখন আমরা তাঁর সঙ্গে থেকে গেলাম। অবশেষে আমরা সকলে একত্রে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। এমন সময় আমরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য অংশ নির্ধারণ করলেন।

(বর্ণনাকারী বলেন) কিংবা তিনি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরও তা থেকে দিয়েছেন। আমাদের ব্যতীত খায়বার বিজয়ে অনুপস্থিত কাউকেই তা থেকে অংশ দেননি, জাফর রা. ও তাঁর সঙ্গীগণের সাথে আমাদের এ নৌযানে আরোহীদের মধ্যে বণ্টন করেছেন।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৯১৬

হাদীস নং ২৯১৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে, তবে আমি তোমাকে (দুই হাত মিলিয়ে) এ পরিমাণ ও এ পরিমাণ দান করব।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল অবধি তা এলো না। তারপর যখন বাহরাইনের মাল এল, তখন আবু বকর রা. ঘোষণা দানকারীকে এ ঘোষণা দেয়ার আদেশ করলেন যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যার কোন ঋণ বা প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে যেন আমার নিকট আসে।

এরপর আমি তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এত এত ও এত দেয়ার কথা বলেছেন। তখন আবু বকর রা. তিনবার অঞ্জলী ভরে দান করেন।

সুফিয়ান রা. তাঁর দুই হাত একত্র করে অঞ্জলী করে আমাদের বললেন, ইবনে মুনকাদির এরূপই বলেছেন। জাবির রা. বলেন, তারপর আমি আবু বকর রা.-এর নিকট এলাম এবং তাঁর কাছে চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন না। আবার আমি তাঁর কাছে এলাম। তখনও তিনি আমাকে দিলেন না।

আবার আমি তাঁর কাছে তৃতীয়বার এসে বললাম, আমি আমি আপনার নিকট চেয়েছি, আপনি আমাকে দেননি। আবার আমি তাঁর কাছে চেয়েছি, তখনও আপনি আমাকে দেননি।

পুনরায় আমি আপনার নিকট চেয়েছি, আপনি আমাকে দেননি। এখন আমাকে আপনি দেবেন, না হয় আমার সঙ্গে কার্পণ্য করবেন। আবু বকর রা. বললেন, তুমি আমাকে বলছ, কার্পণ্য করবেন? আমি যতবারই তোমাকে দিতে অস্বীকার করি না কেন, আমার ইচ্ছা যে, আমি তোমাকে দেই।

সুফিয়ান রহ. বলেন, আমর রহ. মুহাম্মদ ইবনে আলী রহ. সুত্রে জাবির রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আবু বকর রা. আমকে এক অঞ্জলী দিয়ে বললেন, এটা গুণে নাও।

আমি গণনা করে দেখলাম, পাঁচশত। তখন তিনি বললেন, এরূপ আরও দুবার নিয়ে নাও। আর ইবনুল মুনকাদিরের বর্ণনায় আছে যে, (আবু বকর রা.) কার্পণ্য অপেক্ষা বড় রোগ কী হতে পারে?

আরও পড়ুনঃ

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

ইতিকাফ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হাদিসশাস্ত্র (উলুমুল হাদিস)

মন্তব্য করুন