জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

Table of Contents

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৩৯ – প্রতিনিধিদলের আগমন উপলক্ষে সুসজ্জিত হওয়া।

হাদীস নং ২৮৩৯

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. একজোড়া রেশমী কাপড় বাজারে বিক্রি হতে দেখতে পেলেন। তিনি তা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রতিনিধিদল আগমন উপলক্ষে এর দ্বারা আপনি সুসজ্জিত হবেন।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ লেবাস তো তার (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই। অথবা (বলেন, রাবীর সন্দেহ) এরূপ লেবাস সে-ই পরিধান করে (আখিরাতে) যার কোন অংশ নাই।

এ অবস্থায় উমর রা. কিছুদিন অবস্থান করেন, যে পরিমাণ সময় আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছে ছিল। এরপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রেশমী জুব্বা উমর রা.-এর নিকট পাঠিয়ে দেন।

তিনি তা নিয়ে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এস আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আপনি বলেছিলেন যে, এ তো তারই লেবাস (আখিরাতে) যার কোন অংশ নাই, কিংবা (রাবীর সন্দেহ) এ লেবাস তো সে-ই পরিধান করে, যার (আখিরাতে) কোন অংশ নাই।

এরপরও আপনি তা আমার জন্য প্রেরণ করলেন। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এজন্য প্রেরণ করেছি যে,) তুমি তা বিক্রয় করে ফেলবে অথবা (রাবীর সন্দেহ) বলেছেন, (এজন্য প্রেরণ করেছি যে) তুমি তা তোমার কোন কাজে লাগবে।

বুখারি হাদিস নং ২৮৪০ – কিভাবে শিশু-কিশোরদের নিকট ইসলাম পেশ করা হবে?

হাদীস নং ২৮৪০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. কয়েকজন সাহাবীসহ রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ইবনে সাইয়াদের কাছে যান।

তাঁরা তাকে বনী মাগালার টিলার উপর ছেলে-পেলেদের সঙ্গেদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে দেখতে পান। আর এ সময় ইবনে সাইয়াদ বালিগ হওয়ার নিকটবর্তী হয়েছিল। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (আগমন সম্পর্কে) সে কোন কিছু টের না পেতেই রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিঠে হাত দিয়ে দৃদু আঘাত করলেন।

এরপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (হে ইবনে সাইয়াদ) তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল? তখন ইবনে সাইয়াদ তাঁর প্রতি তাকিয়ে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মী লোকদের রাসূল।

ইবনে সাইয়াদ রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আমি আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর সকল রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি দেখ?

ইবনে সাইয়াদ বলল, আমার নিকট সত্য সংবাদ ও মিথ্যা সবাদ সবই আসে। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রকৃত অবস্থা তোমার নিকট সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত হয়ে আছে। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, আচ্ছা! আমি আমার অন্তরে তোমার জন্য কিছু কথা গোপন রেখেছি (বলতো তা কি ?)

ইবনে সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছে ধুয়া। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আরে থাম, তুমি তোমার সীমার বাইরে যেতে পার না। উমর রা. বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সে প্রকৃত দাজ্জাল হয়, তবে তুমি তাকে কাবু করতে পারবে না আর যদি সে দাজ্জাল না হয়, তবে তাকে হত্যা করে তোমার কোন লাভ নেই।

ইবনে উমর রা. বললেন, রাসূলূল্লাহ ও উবাই ইবনে কাব রা. উভয়ে সে খেজুর বৃক্ষের নিকট গমন করেন, যেখানে ইবনে সাইয়াদ অবস্থান করছিল। যখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি খেজুর ডালের আড়ালে চলতে লাগলেন।

তাঁর ইচ্ছা ছিল, ইবনে সাইয়াদের অজ্ঞাতসারে তিনি তার কিছু কথা শুনে নিবেন। ইবনে সাইয়াদ নিজ বিছানা পেতে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল এবং কি কি যেন গুণগুণ করছিল। তার মা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে ফেলেছিল যে, তিনি খেজুর বৃক্ষ ডালের আড়ালে আসছেন।

তখন সে ইবনে সাইয়াদকে বলে উঠল, হে সাফ! আর এ ছিল তার নাম। সে দ্রুত উঠে দাঁড়াল। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহিলাটি যদি তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিত, তবে তার ব্যাপারটা প্রকাশ পেয়ে যেত।

আর সালিম রহ. বলেন, ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেছেন যে, এরপর নবী লোকদের মাঝে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর তা’আলার যথাযথ প্রশংসা করলেন।

তারপর দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। আর বললেন, আমি তোমাদের দাজ্জাল থেকে সতর্ক করে দিচ্ছি। প্রতোক নবীই তাঁর সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

নূহ আ. তাঁর সম্প্রদায়কেও দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার সম্পর্কে এমন একটি কথা জানিয়ে দিব, যা কোন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে জানন নি।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৪১ – যদি কোন সম্প্রদায় দারুল হারবে ইসলাম গ্রহণ করে, আর তাদের ধন-সম্পদ ও জমিজমা থাকলে তা তাদেরই থাকবে।

হাদীস নং ২৮৪১

মাহমুদ রহ………..উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আগামীকাল আপনি মক্কায় পৌঁছে কোথায় অবতরণ করবেন? তিনি বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন ঘরবাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে?

এরপর বললেন, আমরা আগামীকাল খায়ফে বানু কানানার মুহাসসাব নামক স্থানে অবতরণ করবে। যেখানে কুরায়েশ লোকেরা কুফরীর উপর শপথ করেছিল।

আর তা হচ্ছে এই যে, বানু কানানা ও কুরায়েশগণ একত্রে এ শপথ করেছিল যে, তারা বানু হাশেমের সহিত ক্রয়-বিক্রয় করবে না এবং তাদের নিজগৃহে আশ্রয়ও দিবে না। যুহরী রহ. বলেন, খায়ফ হচ্ছে একটি উপত্যকা।

বুখারি হাদিস নং ২৮৪২ – যদি কোন সম্প্রদায় দারুল হারবে ইসলাম গ্রহণ করে, আর তাদের ধন-সম্পদ ও জমিজমা থাকলে তা তাদেরই থাকবে।

হাদীস নং ২৮৪২

ইসমাঈল রহ………..আসলামা রা. থেকে বর্ণিত, উমর রা. হুনাইয়া নামক তাঁর এক আযাদকৃত গোলামকে সরকারী চারণভূমির তত্বাবধানে নিয়োগ করেন। আর তাকে আদেশ করেন, হে হুনাইয়া! মুসলমানদের সাথে অত্যন্ত বিনয়ী থাকবে, মজলুমের বদ দু’আ থেকে বেঁচে থাকবে।

কারণ, মজলুমেরে দু’আ কবূল হয়। আর স্বল্প সংখ্যক উট ও স্বল্প সংখ্যক বকরীর মালিককে এ (চারণভূমিতে) প্রবেশ করতে দিবে। আর আবদুর রহমান ইবনে আউফ ও উসমান ইবনে আফফান রা.-এর পশু ব্যাপারে সতর্ক থাকবে (প্রবেশ করতে দিবেনা)।

কেননা যদি তাদের পশুগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তাঁরা তাদের কৃষি ক্ষেত ও খেজুর বাগানের প্রতি মনোনিবেশ করবেন। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক উট-বকরীর মালিকদের পশু ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের পরিবার-পরিজনন নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হবে।

আর বলবে, হে আমীরুল মুমিনীন! হে আমীরুল মুমিনীন! আমি কি তাদের বঞ্চিত করতে পারব? হে অবুঝ! সুতরাং পানি ও ঘাস দেওয়া আমার পক্ষে সহজ, স্বর্ণ-রৌপ্য দেওয়ার চাইতে। আল্লাহর শপথ! এ সব লোকেরা মনে করবে, আমি তাদের প্রতি জুলুম করেছি।

এটা তাদেরই শহর, জাহেলী যুগে তারা এতে যুদ্ধ করেছে, ইসলামের যুগে তারা এতেই ইসলাম গ্রহণ করেছে।

সে মহান আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, যে সব ঘোড়ার উপর আমি যোদ্ধাগণকে আল্লাহর রাস্তায় আরোহণ করিয়ে থাকি যদি সেগুলো না হতো তবে আমি তাদের দেশের এক বিঘত পরিমাণ জমিও সংরক্ষণ করতাম না।

বুখারি হাদিস নং ২৮৪৩ – ইমাম কর্তৃক লোকদের নাম তালিকাভুক্ত করা।

হাদীস নং ২৮৪৩

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……..হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কালেমা উচ্চারণ করেছে, তাদের নাম তালিকাভুক্ত করে আমাকে দাও।

হুযাইফা রা. বলেন, তখন আমরা একহাজার পাঁচশ লোকের নাম তালিকাভুক্ত করে তাঁর নিকট পেশ করি।

তখন আমরা বলতে লাগলাম, আমরা একহাজার পাঁচশত লোক, এক্ষণে আমাদের ভয় কিসের? (রাবী) হুযাইফা রা. বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনায় পতিত হয়েছি যাতে লোকেরা ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় একা একা সালাত আদায় করছে।

বুখারি হাদিস নং ২৮৪৪

হাদীস নং ২৮৪৪

আবদান রহ………আমাশ রহ. থেকে এ বর্ণনা করেছেন, তাঁতে উল্লেখ হয়েছে, আমরা তাদের পাঁচশ পেয়েছি। আবু মুয়াবিয়ার বর্ণনায় উল্লেখিত হয়েছে ছয়শ ছয়শ হতে সাতশ এর মাঝামাঝি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৪৫

হাদীস নং ২৮৪৫

আবু নুআইম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ অমুক অমুক যুদ্ধে আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে আর আমার স্ত্রী হজ্জ আদায়ের সংকল্প করেছে। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ করে নাও।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৪৬ – আল্লাহ তা’আলা মন্দ লোকের দ্বারা কখনো দীনের সাহায্য করেন।

হাদীস নং ২৮৪৬

আবুল ইয়ামান ও মাহমুদ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম।

তখন তিনি ইসলামের দাবীদার এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বললেন, এ ব্যক্তি জাহান্নামী অথচ যখন যুদ্ধ শুরু হল, তখন সে লোকটি ভীষণ যুদ্ধ করল এবং আহত হল। তখন বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে লোকটি সম্পর্কে আপনি বলেছিলেন, সে লোকটি জাহান্নামী। আজ সে ভীষণ যুদ্ধ করেছে এবং মারা গেছে।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামে গেছে। রাবী বলেন, এ কথার উপর কারো কারো অন্তরে এ বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টির উপক্রম হয় এবং তাঁরা এ সম্পর্কিত কথাবার্তায় রয়েছেন, এ সময় সংবাদ এল যে, লোকটি মরে যায়নি বরং মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।

যখন রাত্রি হল, সে আঘাতের কষ্টে ধৈর্যধারণ করতে পারল না এবং আত্মহত্যা করল। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছানো হল, তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহু আকবার! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি অবশ্যই আল্লাহর তা’আলার বান্দা এবং তাঁর রাসূল।

এরপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রা.-কে আদেশ করলেন, তখন তিনি লোকদের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, মুসলমান ব্যতীত কেউ বেহেশতে প্রবেশ করবে না। আর আল্লাহ তা’আলা (কখনো কখনো) এই দীনকে মন্দ লোকের দ্বারা সাহায্য করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৪৭ – শত্রুর আশংকা দেখা দিলে আমীরের অনুমতি ব্যতীত নিজেই সেনাদলের অধিনায়কত্ব গ্রহণ করা।

হাদীস নং ২৮৪৭

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, (মোতার যুদ্ধে) যায়েদ (ইবনে সাবিত রা.) পতাকা ধারণ করেছেন এবং শাহাদাত বরণ করেছেন, এরপর জাফর (ইবনে আবু তালিব রা.) পতাকা ধারণ করেছেন এবং শাহাদাত বরণ করেছেন।

তারপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. পতাকা ধারণ করেছেন এবং শাহাদাত বরণ করেছেন। এরপর খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা. মনোনয়ন ছাড়াই পতাকা ধারণ করেছেন , আল্লাহ তা’আলা তাঁর মাধ্যমে বিজয় দান করেছেন আর বললেন, এ আমার নিকট পছন্দনীয় নয় অথবা রাবী বলেন, তাদের কাছে পছন্দনীয় নয় যে, তারা দুনিয়ায় আমার নিকট অবস্থান করত।

রাবী বলেন, (রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছিলেন) আর তাঁর চক্ষু যুগল হতে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৮৪৮ – সাহায্যকারী দল প্রেরণ করা।

হাদীস নং ২৮৪৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রিল, যাকওয়ান, উসাইয়া ও বানু লাহইয়ান গোত্রের কিছু লোক এসে বলল, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি। এবং তারা তাঁর নিকট তাদের সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় সাহায্য প্রার্থনা করল।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্তর জন আনসার পাঠিয়ে তাদের সাহায্য করলেন। আনাস রা. বলেন, আমরা তাদের ক্বারী নামে আখ্যায়িত করতাম। তাঁরা দিনের বেলায় লাকড়ী সংগ্রহ করতেন, আর রাত্রিকালে সালাতে মগ্ন থাকতেন। তারা তাদের নিযে রওয়ানা হয়ে গেল।

যখন তাঁরা বীরে মাউনা নামক স্থানে পৌঁছল, তখন তারা বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং তাদের হত্যা করে ফেলল। এ সংবাদ শোনার পর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিল, যাকওয়ান ও বানু লাহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে দু’আ করে একমাস যাবত কুনূতে নাযিলা পাঠ করেন।

কাতাদা রহ. বলেন, আনাস রা. আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা তাদের সম্পর্কে কিছুকাল যাবৎ কুরআনের এ আয়াতটি পড়তে থাকেন: “আমাদের সংবাদ আমাদের কাওমের নিকট পৌঁছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাক্ষাত পেয়েছি।

তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তিনি আমাদের সন্তুষ্ট করেছেন”। এরপর এ আয়াত পাঠ করা বন্ধ করে দেওয়া হয় অর্থাৎ মানসূখ হয়ে যায়।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৪৯ – শত্রুর উপর বিজয় লাভ করে তাদের বহিরাঙ্গনে তিন দিন অবস্থান করা।

হাদীস নং ২৮৪৯

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ……….আবু তালহা রা. সূত্রে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সম্প্রদায়ের উপর বিজয় লাভ করতেন, তখন তিনি তাদের বহিরাঙ্গনে তিন রাত অবস্থান করতেন।

মুআয ও আবদুল আ’লা আবু তালহা রা. সূত্রে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনায় রাওহা ইবনে উবাদা রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৫০ – সফর ও যুদ্ধক্ষেত্রে গনীমতের মাল বণ্টন করা।

হাদীস নং ২৮৫০

হুদবা ইবনে খালিদ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিরানা নামক স্থান থেকে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলেন, যেখানে তিনি হুনাইন যুদ্ধের গনীমত বণ্টন করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৫১ – যদি মুশরিকরা মুসলমানের মাল লুট করে নেয়, তারপর মুসলমানগণ (বিজয় লাভের) মাধ্যমে তা প্রাপ্ত হয়।

হাদীস নং ২৮৫১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা.-এর একটি গোলাম পলায়ন করে রোমের মুশরিকদের সাথে মিলিত হয়। এরপর খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা. রোম জয় করেন। তখন তিনি সে গোলামটি আবদুল্লাহ (ইবনে উমর রা.)-কে ফেরত দিয়ে দেন।

আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর একটি ঘোড়া ছুটে গিয়ে রোমে পৌঁছে যায়। এরপর উক্ত এলাকা মুসলমানদের করতলগত হলে তারা ঘোড়াটি ইবনে উমর রা.-কে ফেরত দিয়ে দেন।

আবু আবদুল্লাহ রা. বলেন,عار শব্দটি عير থেকে উদগত। আর তা হল বন্য গাধা। عار এর অর্থ هرب অর্থাৎ পলায়ন করেছে।

বুখারি হাদিস নং ২৮৫২

হাদীস নং ২৮৫২

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি একটি ঘোড়ার উপর আরোহী ছিলেন, যখন মুসলমানগণ রোমীদের সাথে যুদ্ধ করছিলেন, সে সময় মুসলমানদের অধিনায়ক হিসেবে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে আবু বকর সিদ্দীক রা. নিয়োগ করেছিলেন।

সে সময় শত্রুরা তাঁর ঘোড়াটিকে নিয়ে যায়। এরপর যখন শত্রু দল পরাজিত হল তখন খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা. তাঁর ঘোড়াটি তাকে ফেরত দেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৫৩ – যে ব্যক্তি ফার্সি অথবা অন্য কোন অনারবী ভাষায় কথা বলে।

হাদীস নং ২৮৫৩

আমর ইবনে আলী রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার একটি ছানা যবেহ করেছি এবং আমার স্ত্রী এক সা যবের আটা পাকিয়েছে।

আপনি কয়েকজন সঙ্গীসহ আসুন। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে বলে উঠলেন, হে আহলে খন্দক! তোমাদের জন্য খাবার আয়োজন করেছে, তাই তোমরা চল।

বুখারি হাদিস নং ২৮৫৪

হাদীস নং ২৮৫৪

হিব্বান ইবনে মূসা রহ……..উম্মে খালিদ ইবনে সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে হলুদ বর্ণের জামা পরে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সান্না-সান্না। (রাবী আবদুল্লাহ রহ.) বলেন, হাবশী ভাষায় তা সুন্দর অর্থে ব্যবহৃত ।

উম্মে খালিদ রা. বলেন, এরপর আমি তাঁর মহরে নবুয়্যতের স্থান নিয়ে কৌতুক করতে লাগলাম। আমার পিতা আমাকে ধমক দিলেন। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ছোট মেয়ে তাকে করতে দাও।

এরপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, এ কাপড় পরিধান কর আর পুরানো কর, আবার পরিধান কর, পুরানো কর, আবার পরিধান কর, পুরানো কর।

(অর্থাৎ দীর্ঘদিন পরিধান কর) আবদুল্লাহ (ইবনে মুবারক) রহ. বলেন, উম্মে খালিদ রা. এতদিন জীবিত থাকেন যে, তাঁর আলোচনা চলতে থাকে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৫৫

হাদীস নং ২৮৫৫

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, হাসান ইবনে আলী রা. সাদকার খেজুর থেকে একটি খেজুর নিয়ে তা তাঁর মুখে রাখেন।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাখ-কাখ (ফেলে দাও, ফেলে দাও) বললেন, তুমি কি জাননা যে, আমরা (বানু হাশিম) সাদকা খাই না।

ইকরিমা রহ. বলেন, সান্নাহ হাবশী ভাষায় সুন্দর অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, উম্মে খালিদের মত কোন মহিলা এত দীর্ঘজীবী হয়নি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৫৬ – গনীমতের মাল আত্মসাত করা।

হাদীস নং ২৮৫৬

মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং গনীমতের মাল আত্মসাত প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। আর তিনি তা মারাত্মক অপরাধ হওয়া ও তার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাউকে যেন এ অবস্থায় কিয়ামতের দিন না পাই যে, তার কাঁধে বকরী বয়ে বেড়াচ্ছে আর তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে চিৎকার দিচ্ছে।

অথবা তাঁর কাঁধে রয়েছে ঘোড়া আর তা হি হি করে আওয়াজ দিচ্ছে। ঐ ব্যক্তি আমাকে বলবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট (আল্লাহর বিধান) পৌঁছে দিয়েছি।

অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে উট যা চিৎকার করছে, সে আমাকে বলবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট (আল্লাহর বিধান) পৌঁছে দিয়েছি।

অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে কাপড়ের টুকরা সমূহ যা দুলতে থাকবে। সে আমাকে বলবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট (আল্লাহর বিধান) পৌঁছে দিয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৫৭ – গনীমতের সামান্য পরিমাণ মাল আত্মসাৎ করা।

হাদীস নং ২৮৫৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাহারা দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তি নিযুক্ত ছিল।

তাকে কারকারা নামে ডাকা হত। সে মারা গেল। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামী ! লোকেরা তার অবস্থা দেখতে গেল তারা একটি আবা পেল যা সে আত্মসাত করেছিল। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইবনে সালাম রহ. বলেছেন, কারকারা।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৫৮ – গনীমতের উট ও বকরী (বণ্টনের পূর্বে) যবেহ করা মাকরূহ।

হাদীস নং ২৮৫৮

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………রাফি ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুল-হুলাইফায় অবস্থান করছিলাম। লোকেরা ক্ষুধার্ত হয়েছিল। আর আমরা গনীমত স্বরূপ কিছু উট ও বকরী লাভ করেছিলাম।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের পেছন সারিতে ছিলেন। লোকেরা তাড়াতাড়ি করে (জন্তু যবেহ করে) ডেগ চড়িয়ে দিয়েছিল। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডেগগুলো (উপুড় করে ফেলার) নির্দেশ দিলেন এবং উপুড় করে ফেলে দেওয়া হল।

এরপর তিনি দশটি বকরীকে একটি ঘোড়া কম ছিল। তাঁরা তা অনুসন্ধানে বেরিয়ে গেল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। এরপর এক ব্যক্তি উটটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করল, আল্লাহ তা’আলা তার গতিরোধ করে দিলেন।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ সকল গৃহপালিত জন্তুর মধ্যেও কতক বন্য জন্তুর মত অবাধ্য হয়ে যায়। সুতরাং যা তোমাদের নিকট হতে পলায়ন করে তার সঙ্গে এরূপ আচরণ করবে।

রাবী বলেন, আমার দাদা রাফি ইবনে খাদীজ রা. বলেছেন, আমরা আশা করি কিংবা বলেছেন আশংকা করি যে, আমরা আগামীকাল শত্রুর মুখোমুখি হব।

আর আমাদের সঙ্গে ছুরি নেই। আমরা কি বাঁশের ধারালো চোকলা দ্বারা যবেহ করব? রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং (যার যবেহকালে) আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে (বিসমিল্লাহ পাঠ করা হয়েছে) তা আহার কর।

কিন্তু দাঁত ও নখ দিয়ে নয়। কারণ আমি বলে দিচ্ছি : তা এই যে, দাঁত হল হাঁড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৫৯ – বিজয়ের সুসংবাদ দান করা।

হাদীস নং ২৮৫৯

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্ন রহ……..জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কি যুলখালাসা মন্দিরটিকে ধ্বংস করে আমাকে সান্ত্বনা দিবে না?

এ ঘরটি খাসআম গোত্রের একটি মন্দির ছিল। যাকে ইয়ামানের কাবা বলা হত। এরপর আমি আহমাস গোত্রের দেড়শ লোক নিয়ে রওয়ানা হলাম। তাঁরা সবাই নিপুণ অশ্বারোহী ছিলেন। আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালাম যে, আমি ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারি না।

তখন তিনি আমার বুকে হাত দ্বারা আঘাত করলেন। এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর আঙ্গুলের ছাপ দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য দু’আ করে বললেন, হে আল্লাহ! তাকে ঘোড়ার পিঠে স্থির রাখ এবং তাকে পথপ্রদর্শক ও সুপথ প্রাপ্ত করুন। অবশেষে জারীর রা. তথায় গমন করলেন।

ঐ মন্দিরটি ভেঙ্গে দিলেন ও জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুসংবাদ প্রদানের জন্য দূত প্রেরণ করলেন।

জারীর রা.-এর দূত রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, সে সত্তার কসম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার নিকট আসিনি, যতক্ষণ না আমি তাকে জ্বালিয়ে কাল উটের ন্যায় করে ছেড়েছি।

(অর্থাৎ তা জ্বালিয়ে ছাই করে দিয়েছি) তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক লোকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দু’আ করলেন। মুসাদ্দাদ রহ. বলেন, হাদীসে উল্লেখিত যুলখালাসা অর্থ গোত্রের একটি ঘর।

 

বুখারি হাদিস নং ২৮৬০ – (মক্কা) বিজয়ের পর হিজরতের প্রয়োজন নেই।

হাদীস নং ২৮৬০

আদম আবু ইয়াস রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন, মক্কা বিজয়ের পর থেকে (মক্কা থেকে) হিজরতের প্রয়োজন নেই। তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৬১

হাদীস নং ২৮৬১

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….মুজাশি ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুজাশি তাঁর মুজালিদ ইবনে মাসউদ রা.-কে নিয়ে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, এ মুজালিদ আপনার কাছে হিজরত করার জন্য বাইয়াত করতে চায়।

তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরতেরে প্রয়োজন নেই। কাজেই আমি তার কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে বায়আত নিচ্ছি।

বুখারি হাদিস নং ২৮৬২

হাদীস নং ২৮৬২

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আতা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাইদ ইবনে উমাইর রা. সহ আয়িশা রা.-এর নিকট গমন করি। তখন তিনি সাবীর পাহাড়ের উপর অবস্থান করছিলেন।

তিনি আমাদের বললেন, যখন থেকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা বিজয় দান করেছেন, তখন হিজরত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৮৬৩ – প্রয়োজনবোধে জিম্মি মুসলিম মহিলার চুল দেখা এবং তাদের বিবস্ত্র করা, যখন তারা আল্লাহ তা’আলার নাফরমানী করে।

হাদীস নং ২৮৬৩

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাওশাব তায়িফী রহ……….আবু আবদুর রহমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন উসমান রা.-এর সমর্থক। তিনি ইবনে আতিয়্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যিনি আলী রা.-এর সমর্থক ছিলেন, কোন বস্তু তোমাদের সাথী (আলী রা.-কে রক্তপাতে সাহস যুগিয়েছে, তা আমি জানি।

আমি তাঁর কাছে শুনেছি, তিনি বলতেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং যুবাইর (ইবনে আওয়াম) রা.কে প্রেরণ করেছেন, আর বলেছেন, তোমরা খাক বাগান অভিমুখে চলে যাও, সেখানে তোমরা একজন মহিলাকে পাবে, হাতিব তাকে একটি পত্র দিয়েছি।

আমরা সে বাগানে পৌঁছলাম এবং মহিলাটিকে বললাম, পত্রখানি দাও সে বলল, সে বলল, (হাতিব) আমাকে কোন পত্র দেয়নি। তখন আমরা বললাম, হয় তুমি পত্র বের করে দিল।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদের পত্রসহ প্রত্যাবর্তনের পর) হাতিবকে ডেকে পাঠান। তখন সে বলল, আমার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না।

আল্লাহর কসম! আমি কুফরী করিনি, আমার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুরাগই বর্ধিত হয়েছে। আপনার সাহাবীগণের মধ্যে কেউই এমন নেই, মক্কায় যার সাহায্যকারী আত্মীয়-স্বজন না আছে। যদ্বারা আল্লাহ তা’আলা তাঁর পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ রক্ষা করেছেন। আর আমার এমন কেউ নেই।

তাই আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চেয়েছি। (যার বিনিময়ে তারা আমার মাল-আওয়াদ হিফাজত করবে) তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সত্যবাদী রূপে স্বীকার করে নিলেন।

উমর রা. বললেন, লোকটিকে আমার আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই, সে তো মুনাফিকী করেছে। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি জান কি ?

অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা আহলে বদর সম্পর্কে ভালভাবে অবহিত রয়েছেন এবং তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, তোমরা যেমন ইচ্ছা আমল কর। একথাই তাকে (আলী রা. দুঃসাহসী করেছে।

বুখারি হাদিস নং ২৮৬৪ – বিজয়ী যোদ্ধাগণকে অভ্যর্থনা জানানো।

হাদীস নং ২৮৬৪

আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ……….ইবনে আবু মুলাইকা রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে যুবাইর রা. ইবনে জাফর রা.-কে বললেন, তোমার কি স্মরণ আছে, যখন আমি ও তুমি এবং ইবনে আব্বাস রা. রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম? ইবনে জাফর রা. বললেন, হ্যাঁ, স্মরণ আছে। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বাহনে তুলে নিলেন আর তোমাকে ছেড়ে আসেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৬৫

হাদীস নং ২৮৬৫

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ……….সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে আমারাও রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত গিয়েছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ২৮৬৬ – জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যা বলবে।

হাদীস নং ২৮৬৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, যে, যখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন তিনবার তাকবীর বলতেন।

এরপর বলতেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ থেকে তাওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, আমাদের প্রতিপালক কে সিজদাকারী। আল্লাহ তা’আলা তাঁর অঙ্গীকার সত্য প্রমাণিত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু দলকে পরাস্ত করেছেন।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৬৭

হাদীস নং ২৮৬৭

আবু মামার রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসফান থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম, আর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাওয়ারীর উপর আরোহী ছিলেন।

তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রা.-কে তাঁর পেছনে সাওয়ারীর উপর বসিয়েছিলেন। এ সময় উট পিছলিয়ে গেল এবং তাঁরা উভয়ে ছিটকে পড়েন।

এ দেখে আবু তালহা রা. দ্রুত এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগে মহিলার খোঁজ নাও। আবু তালহা রা. তখন একখানি কাপড় দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট আসলেন এবং উক্ত কাপড়খানি দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন।

এরপর তাদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীকে ঠিক করলেন। তাঁরা উভয়ে আরোহণ করলেন, আর আমরা সবাই রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারপাশে বেষ্টন করে চললাম।

যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ পড়লেন أيبون تائبون عابدون لربنا حامدون আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা ইবাদতকারী আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আর মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু’আ পড়তে থাকলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৬৮

হাদীস নং ২৮৬৮

আলী রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি ও আবু তালহা রা. রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে চলছিলাম। আর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাফিয়্যা রা.-ও ছিলেন।

তিনি তাকে নিজ সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসিয়ে ছিলেন পথিমধ্যে এক জায়গায় উটনীটির পা পিছলিয়ে গেল। এতে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যা রা. ছিটকে পড়ে গেলেন।

আর আবু তালহা রা. তার উট থেকে তাড়াতাড়ি নেমে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বললেন, ইয়া নবী আল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আপানার কি কোন আঘাত লেগেছে? রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না।

তবে তুমি মহিলাটির খোঁজ নাও। আবু তালহা রা. তখন একখানি কাপড় দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে তাঁর নিকট আসলেন এবং উক্ত কাপড়খানা দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন। তখন সাফিয়্যা রা. উঠে দাঁড়ালেন। এরপর তাদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীকে উত্তমরূপে বাঁধলেন।

তাঁরা উভয়ে আরোহণ করে চলতে শুরু করেন। অবশেষে যখন তাঁরা মদীনার উপকণ্ঠে পৌঁছলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ পড়লেন “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা ইবাদতকারী আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আর মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু’আ পড়তে থাকলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৬৯ – সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর সালাত আদায় করা।

হাদীস নং ২৮৬৯

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম।

আমরা যখন মদীনায় পৌঁছলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, (হে জাবির!) মসজিদে প্রবেশ কর এবং দু’রাকআত সালাত আদায় কর।

বুখারি হাদিস নং ২৮৭০

হাদীস নং ২৮৭০

আবু আসিম রহ……….কাব (ইবনে মালিক) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চাশতের সময় সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’রাকআত সালাত আদায় করে নিতেন।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৭১ – সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করে আহার করা।

হাদীস নং ২৮৭১

মুহাম্মদ (ইবনে সালাম) রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় প্রত্যাবর্তন করতেন, তখন তিনি একটি উট অথবা একটি গাভী যবেহ করতেন।

আর মুআয রা…………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, (জাবির রা. বলেন) রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট থেকে একটি উট দু’ উকিয়া ও এক দিরহাম কিংবা দু’দিরহাম দ্বারা ক্রয় করেন এবং তিনি যখন সিরার নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন একটি গাভী যবেহ করার নির্দেশ দেন।

এরপর তা যবেহ করা হয় এবং সকলে তার গোশত আহার করে। আর যখন তিনি মদীনায় পৌঁছলেন তখন আমাকে মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাকআত সালাত আদায় করার আদেশ দিলেন এবং আমাকে উটের মূল্য পরিশোধ করে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৮৭২

হাদীস নং ২৮৭২

আবুল ওয়ালীদ রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, দু’রাকআত সালাত আদায় করে নাও। সিরার হচ্ছে মদীনার উপকণ্ঠে একটি স্থানের নাম।

বুখারি হাদিস নং ২৮৭৩ – খুমুস (গনীমতের মাল) (এক পঞ্চমাংশ) নির্ধারিত হওয়া।

হাদীস নং ২৮৭৩

আবদান রহ………..আলী রা. বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের গনীমতের মালের মধ্য থেকে যে অংশ আমি পেয়েছিলাম তাতে একটি জাওয়ান উটনীও ছিল। আর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুমুসের মধ্য থেকে আমাকে একটি জওয়ান উটনী দান করেন।

আর আমি যখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা রা.-এর সাথে বাসর যাপন করব, তখন আম বানূ কায়নুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকারের সাথে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হলাম যে, সে আমার সঙ্গে যাবে এবং আমরা উভয়ে মিলে ইযখির ঘাস (জঙ্গল হতে) সংগ্রহ করে আনব।

ইতিমধ্যে আমি যখন আমার জওয়ান উটনী দুটির জন্য আসবাপত্র যেমন পালান (বসার আসন) থলে ও রশি ইত্যাদি একত্রিত করছিলাম, আর আমার উটনী দুটি জনৈক আনসারীর হুজরার পার্শ্বে বসা ছিলে।

আম আসবাবপত্র যোগাড় করে এসে দেখি উট দুটির কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে এবং কোমরের দিকে পেট কেটে কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। উটনী দুটির এ দৃশ্য দেখে আমি অশ্রু সম্বরণ করতে পারলাম না। আমি বললাম, কে এমনটি করেছে? লোকেরা বলল, হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিব এমনটি করেছে।

সে এ ঘরে আছে এবং শরাব পানকারী কতিপয় আনসারীর সাথে আছে। আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চলেন গেলাম। তখন তাঁর নিকট যায়েদ ইবনে হারিসা রা. উপস্থিত ছিলেন।

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চেহারা দেখে আমার মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করতে পারলেন। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আজকের মত দুঃখজনক অবস্থা দেখিনি।

হামযা আমার উট দুটির উপর অত্যাচার করেছে। সে দুটর কুঁজ কেটে ফেলেছে এবং পাঁজর ফেড়ে ফেলেছে। আর সে এখন অমুক ঘরে শরাব পানকারী দলের সাথে আছ। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদরখানা আনতে আদেশ করলেন এবং চাদরখানা চড়ায়ে পায়ে হেঁটে চললেন।

আমি এবং যায়েদ ইবনে হারিসা রা. তাঁর অনুসরণ করলাম। হামযা যে ঘরে ছিল সেখানে পৌঁছে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তারা অনুমতি দিল। তখন তারা শরাব পানে মত্ত ছিল। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাকে তার কাজের জন্য তিরস্কার করতে লাগলেন।

হামযা তখন পূর্ণ নেশাগ্রস্ত। তার চক্ষু দুটি ছিল রক্তলাল। হামযা তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তাকাল। আবার সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল এবং তাঁর হাঁটু পানে তাকাল।

পুনরায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁর নাভীর দিকে তাকাল। আবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁর মুখমণ্ডলের প্রতি তাকাল। এরপর হামযা বলল, তোমরাই তো আমার পিতার গোলাম।

এ অবস্থা দেখে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন, সে এখন পূর্ণ নেশাগ্রস্ত আছে। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনে হেঁটে সরে আসলেন। আর আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে আসলাম। (এ ছিল মদ হারাম হওয়ার পূর্বেকার ঘটনা)।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৮৭৪

হাদীস নং ২৮৭৪

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর ছিদ্দীক রা.-এর নিকট রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর তাঁর মিরাস বণ্টনের দাবী করেন।

যা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায় (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসাবে আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক তাকে প্রদত্ত সম্পদ থেকে রেখে গেছেন।

তখন আবু বকর রা. তাকে বললেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টিত হবে না আমরা যা ছেড়ে যাই, তা সাদকা রূপে গণ্য হয়। এতে ফাতিমা বিনতে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন এবং আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর সঙ্গে কথাবার্তা বলা ছেড়ে দিলেন।

এ অবস্থা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বহাল ছিল। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর ফাতিমা রা. ছয় মাস জীবিত ছিলেন। আয়িশা রা. বলেন, ফাতিমা রা. আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর নিকট রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ত্যাজ্য খায়বার ও ফাদাকের ভূমি এবং মদীনার সাদকাতে তাঁর অংশ দাবী করেছিলেন।

আবু বকর রা. তাকে তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আমল করতেন, আমি তাই আমল করব। আমি তার কোন কিছুই ছেড়ে দিতে পারি না। কেননা আমি আশংকা করি যে, তাঁর কোন কথা ছেড়ে দিয়ে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে না যাই।

অবশ্য রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদীনার সাদকাকে উমর রা. তা আলী ও আব্বাস রা.-কে হস্তান্তর করেন। আর খায়বার ও ফাদাকের ভূমিকে পূর্ববৎ রেখে দেন।

উমর রা. এ প্রসঙ্গে বলেন, এ সম্পত্তি দুটিকে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জরুরী প্রয়োজন পূরণ ও বিপত্কালীন সময়ে ব্যয়ের জন্য রেখেছিলেন।

সুতরাং এ সম্পত্তি দুটি তারই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে, যিনি মুসলমানদের শাসন ক্ষমতার অধিকারী খলীফা হবেন। যুহরী রহ. বলেন, এ সম্পত্তি দুটির ব্যবস্থাপনা অদ্যাবধি সেরূপই রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৮৭৫

হাদীস নং ২৮৭৫

ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ফারবী রহ………মালিক ইবনে আউস ইবনে হাদাসান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আমার পরিবার-পরিজনের সাথে বসা ছিলাম, যখন রোদ প্রখর হল তখন উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর দূত আমার নিকট এসে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।

আমি তার সঙ্গে রওয়ানা হয়ে উমর রা. -এর নিকট পৌঁছলাম। দেখতে পেলাম, তিনি একটি চাটাইয়ের উপর বসা ছিলেন। যাতে কোন বিছানা ছিলনা।

আর তিনি চামড়ার একটি বালিশে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমি তাকে সালাম করে বসে পড়লাম। তিনি বললেন, হে মালিক! তোমার গোত্রের কতিপয় লোক আমার নিকট এসেছেন। আমি তাদের জন্য স্বল্প পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী প্রদানের আদেশ দিয়েছি। তুমি তা বুঝে নিয়ে তাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও।

আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! এ কাজটির জন্য আমাকে ছাড়া যদি অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন। তিনি বললেন, ওহে তুমি তা গ্রহণ কর। আমি তাঁর কাছেই বসা ছিলাম।

এমন সময় তাঁর দারোয়ান ইয়ারফা এসে বলল, উসমান ইবনে আফফান, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, যুবাইর (ইবনে আওয়াম) ও সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. আপনার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। উমর রা. বললেন, হ্যাঁ, তাদের আসতে দাও। তাঁরা এসে সালাম করে বসে পড়লেন।

ইয়ারফা ক্ষণিক সময় পরে এসে বলল, আলী ও আব্বাস রা. আপনার সাক্ষাতের জন্য অনুমতির অপেক্ষায় আছেন। উমর রা. বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে দাও।

এরপর তাঁরা উভয়ে প্রবেশ করে সালাম করলেন এবং বসে পড়লেন। আব্বাস রা. বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমার ও এ ব্যক্তির মধ্যে মিমাংসা করে দিন। বানূ নাযীরের সম্পদ থেকে আল্লাহ তা’আলা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা দান করেছিলেন, তা নিয়ে তাঁরা উভয়ে বিরোধ করছিলেন।

উসমান রা. এবং তাঁর সাথীগণ বললেন, হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন! এদের মধ্যে মিমাংসা করে দিন এবং তাদের একজনকে অপরজন থেকে নিরুদ্বেগ করে দিন। উমর রা. বললেন, একটু থামুন। আমি আপনাদেরকে সে মহান সত্তার শপথ দিয়ে বলছি, যার আদেশে আসমান ও যমীন স্থির রয়েছে।

আপনার কি জানেন যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের (নবীগণ) মীরাস বণ্টিত হয় না। আমরা যা রেখে যাই তা সাদকারূপে গণ্য হয়?

এর দ্বারা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকেই উদ্দেশ্য করেছেন। উসমান রা. ও তাঁর সাথীগণ বললেন, হ্যাঁ, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইরূপ বলেছেন। এরপর উমর রা. আলী এবং আব্বাস রা.-এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি।

আপনারা কি জানেন যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ বলেছেন? তাঁরা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ, তিনি এরূপ বলেছেন।উমর রা. বললেন, এখন এ বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের বুঝিয়ে বলছি। ব্যাপার হল এই যে, আল্লাহ তা’আলা ফায়ের সম্পদ থেকে স্বীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিশেষভাবে দান করেছেন যা তিনি ছাড়া কাউকেই দান করেননি।

এরপর উমর রা. নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন: “আর আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের অর্থাৎ ইহুদীদের নিকট থেকে যে ফায় দিয়েছেন , তজ্জন্য তোমরা ঘোড়া কিংবা উটে আরোহণ করে যুদ্ধ করনি। আল্লাহ তা’আলাই তো যাদের উপর ইচ্ছা তাঁর রাসূলগণকে কর্তৃত্ব দান করেন।

আল্লাহ তা’আলা সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান” (৫৯ : ৬)। সুতারাং এ সকল সম্পত্তি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখেননি এবং আপনাদের বাদ দিয়ে অন্য কাউকে দেননি। বরং আপনাদেরকেও দিয়েছেন এবং আপনাদের কাজই ব্যয় করেছেন।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

এ সম্পত্তি থেকে যা উদ্ধৃত্ত রয়েছে, তা থেকে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পরিবার-পরিজনের বাৎসরিক খরচ নির্বাহ করতেন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকত, তা আল্লাহর সম্পদে (বায়তুলমালে) জমা করে দিতেন। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজীবন এরূপই করেছেন।

আপনাদেরকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি, আপনারা কি এ বিষয় অবগত আছেন? এরপর উমর রা. বললেন, এরপর আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওফাত দিলেন তখন আবু বকর রা. বললেন,

আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত একথা বলে তিনি এ সকল সম্পত্তি নিজ দায়িত্বে নিয়ে নেন এবং রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসবের আয়-উৎপাদন যে সব কাজে ব্যয় করতেন, সে সকল কাজে ব্যয় করেন। আল্লাহ তা’আলা জানেন যে, তিনি এক্ষেত্রে সত্যবাদী, পুণ্যবান, সুপথপ্রাপ্ত ও সত্যাশ্রয়ী ছিলেন।

এরপর আল্লাহ তা’আলা আবু বকর রা.কে ওফাত দেন। এখন আম বকর রা.-এর পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমি আমার খেলাফতকালের প্রথম দু’বছর এ সম্পত্তি আমার দায়িত্বে রেখেছি এবং এর দ্বারা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রা. যা যা করতেন, তা করেছি।

আল্লাহ তা’আলা জানেন যে, তিনি এক্ষেত্রে সত্যবাদী, পুণ্যবান, সুপথ প্রাপ্ত ও সত্যাশ্রয়ী রয়েছি। এরপর এখন আপনারা উভয়ে আমার নিকট এসেছেন। আর আমার সঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করছেন এবং আপনাদের উভয়ের কথা একই । আর আপনাদের ব্যাপারে একই।

হে আব্বাস রা.! আপনি আমার নিকট আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের সম্পত্তির অংশের দাবী নিয়ে এসেছেন আর আলী রা.-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, ইনি আমার নিকট তাঁর স্ত্রী কর্তৃক পিতার সম্পত্তিতে প্রাপ্য অংশ নিতে এসেছেন।

আমি আপনাদের উভয়কেই বলছি যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা নবীগণের সম্পদ বণ্টিত হয় না আমরা যা ছেড়ে যাই তা সাদকা রূপে গণ্য হয়। এরপর আমি সঙ্গত মনে করেছি যে, এ সম্পত্তিকে আপনাদের নিকট দায়িত্বে অর্পণ করব।

এখন আমি আপনাদের বলছি যে, আপনারা যদি চান, তবে আমি এ সম্পত্তি আপনাদের নিকট সমর্পণ করে দিব।

এ শর্তে যে, আপনাদের উপর আল্লাহ তা’আলার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার থাকবে, আপনারা এ সম্পত্তির আয় আমদানী সে সকল কাজে ব্যয় করবেন, যে সকল কাজে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রা. ও আমি আমার খেলাফতকালে এযাবৎ ব্যয় করে এসেছি।

তদুত্তরে আপনারা বলেছেন, এ সম্পত্তিকে আমাদের নিকট সমর্পণ করুন। আমি উক্ত শর্তের উপর আপনাদের প্রতি সমর্পণ করেছি। আপনাদেরকে (উসমান রা. ও তাঁর সাথীগণকে) উদ্দেশ্য করে আমি আল্লাহর কসম দিচ্ছি যে, বলুন তো আমি কি তাদেরকে এ শর্তে এ সম্পত্তি সমর্পণ করেছি? তাঁরা বললেন, হ্যা।

এরপর উমর রা. আলী ও আব্বাস রা.-এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর নামে কসম দিচ্ছি, বলুন তো আমি কি তা শর্তে আপনাদের প্রতি এ সম্পত্তি সমর্পণ করেছি? তাঁরা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ। এরপর উমর রা. বললেন, আপনারা কি আমার নিকট এ ছাড়া অন্য কোন মিমাংসা চান?

আল্লাহর কসম! যার আদেশে আকাশ ও পৃথিবী আপন স্থানে প্রতিষ্ঠিত আছে, আমি এক্ষেত্রে এর বিপরীত কোন মিমাংসা করব না। যদি আপনারা এ শর্ত পালনে অপারগ হন, তবে এ সম্পত্তি আমার দায়িত্বে অর্পণ করুন। আপনাদের উভয়ের পক্ষ থেকে এ সম্পত্তির তত্ত্বাবধানে আমিই যথেষ্ট।

আরও পড়ুনঃ

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইজারা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হাদিসশাস্ত্র (উলুমুল হাদিস)

মন্তব্য করুন