জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

Table of Contents

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৯১ – জিহাদ ও যুদ্ধের ফযীলত।

হাদীস নং ২৫৯১

হাসান ইবনে সাব্বাহ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা .থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কোন কাজ সর্বোত্তম ?

তিনি বললেন, সময়মত সালাত আদায় করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেন, এরপর পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি ?

তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আর কিছু জিজ্ঞাসা না করে আমি চুপ রইলাম। আমি যদি (কথা) বাড়াতাম, তবে তিনি আরও অধিক বলতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৯২

হাদীস নং ২৫৯২

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মক্কা) বিজয়ের পর আর হিজরত নেই। বরং রয়েছে কেবল জিহাদ ও নিয়্যাত। যদি তোমাদের জিহাদের ডাক দেওয়া হয় , তাহলে বেরিয়ে পড়।

বুখারি হাদিস নং ২৫৯৩

হাদীস নং ২৫৯৩

মুসাদ্দাদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা জিহাদকে সর্বোত্তম আমল মনে করি, তবে কি আমরা জিহাদ করব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের জন্য উত্তম জিহাদ হচ্ছে মকবুল হজ্জ।

বুখারি হাদিস নং ২৫৯৪

হাদীস নং ২৫৯৪

ইসহাক ইবনে মানসুর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমাকে এমন কাজের কথা বলে দিন, যা জিহাদের সমতুল্য হয়।

তিনি বলেন, আমি তা পাচ্ছি না। (এরপর বললেন) তুমি কি এতে সক্ষম হবে যে, মুজাহিদ যখন বেরিয়ে যায়, তখন থেকে তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে এবং দাঁড়িয়ে ইবাদত করবে এবং আলস্য করবে না, আর সিয়াম পালন করতে থাকবে এবং সিয়াম ভাঙ্গবে না।

লোকটি বলল, তা করা সাধ্য? আবু হুরায়রা রা. বলেন, মুজাহিদের ঘোড়া রশিতে বাঁধা অবস্থায় ঘোরাফেরা করে, এতেও তার জন্য নেকী লেখা হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৫৯৫ – মানুষের মধ্যে সে মুমিন মুজাহিদই উত্তম, যে স্বীয় জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে।

হাদীস নং ২৫৯৫

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! মানুষের মধ্যে কে উত্তম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেই মুমিন যে নিজ জাল ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে।

সাহাবীগণ বললেন, তারপর কে? তিনি বললেন, সেই মুমিন যে পাহাড়ের কোন গুহায় অবস্থান করে আল্লাহকে ভয় করে এবং নিজ অনিষ্ট থেকে লোকদেরকে নিরাপদ রাখে?

বুখারি হাদিস নং ২৫৯৬

হাদীস নং ২৫৯৬

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর পথের মুজাহিদ, অবশ্য আল্লাহই অধিক জ্ঞাত কে তাঁর পথে জিহাদ করছে, সর্বদা সিয়াম পালনকারী ও সালাত আদায়কারীর ন্যায়।

আল্লাহ তা’আলা তার পথের মুজাহিদের জন্য এই দায়িত্ব নিয়েছেন, যদি তাকে মৃত্যু দেন তবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা পুরস্কার বা গনীমতসহ নিরাপদে ফিরিয়ে আনবেন।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৯৭ – পুরুষ এবং নারীর জন্য জিহাদ ও শাহাদাতের দু’আ।

হাদীস নং ২৫৯৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রা.-এর কাছে যাতায়াত করতেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খেতে দিতেন।

উম্মে হারাম রা. ছিলেন, উবাদা ইবনে সামিত রা.-এর স্ত্রী। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে তাশরীফ নিয়ে গেলে তিনি তাকে আহার করান এবং তাঁর মাথার উকুন বাচতে থাকেন।

এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি হাসতে হাসতে ঘুম থেকে জাগলেন। উম্মে হারাম রা. বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! হাসির কারণ কি? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের কিছু লোককে আল্লাহর পথে জিহাদরত অবস্থায় আমার সামনে পেশ করা হয়।

তারা এ সমুদ্রের মাঝে এমনভাবে আরোহী যেমন বাদশাহ তখতের উপর, অথবা বলেছেন, বাদশাহর মত তখতে উপবিষ্ট। এ শব্দ বর্ণনায় ইসহাক রহ. সন্দেহ করেছেন। উম্মে হারাম রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন যেন আমাকে তিনি তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দু’আ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার মাথা রাখেন (ঘুমিয়ে পড়েন) তারপর হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার হাসার কারণ কি? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের মধ্য থেকে আল্লাহর পথে জিহাদরত কিছু লোককে আমার সামনে পেশ করা হয়।

পরবর্তী অংশ প্রথম উক্তির মত। উম্মে হারাম রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, যেন আমাকে তিনি তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন।

তিনি বললেন, তুমি তো প্রথম দলের মধ্যেই আছ। তারপর মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রা.-এর সময় উম্মে হারাম রা. জিহাদের উদ্দেশ্যে সামুদ্রিক সফরে যান এবং সমুদ্র থেকে যখন অবতরণ করেন তখন তিনি তাঁর সওয়ারী থেকে ছিটকে পড়েন। আর এতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৯৮ – আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের মর্যাদা।

হাদীস নং ২৫৯৮

ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যে ঈমান আনল, সালাত আদায় করল ও রমযানের সিয়াম পালন করল সে আল্লাহর পথে জিহাদ করুক কিংবা স্বীয় জন্মভূমিতে বসে থাকুক, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়।

সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমারা কি লোকদের এ সুসংবাদ পৌঁছে দিব না? তিনি বলেন, আল্লাহর পথে মুজাহিরদের জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে একশটি মর্যাদার স্তর প্রস্তুত রেখেছেন।

দুটি স্তরের ব্যবধান আসমান ও যমীনের দূরত্বের ন্যায়। তোমরা আল্লাহর কাছে চাইলে ফেরদাউস চাইবে। কেননা এটাই হল সবচাইতে উত্তম ও সর্বোচচ জান্নাত ।

আমার মনে হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ-ও বলেছেন, এর উপরে রয়েছে আরশে রহমান। আর সেখান থেকে জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত হচ্ছে। মুহাম্মদ ইবনে ফুলাইহ রহ. তাঁর পিতার সূত্রে বলেন, এর উপর রয়েছে আরশে রহমান।

বুখারি হাদিস নং ২৫৯৯

হাদীস নং ২৫৯৯

মূসা রহ……….সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি আজ রাতে (স্বপ্নে) দেখতে পেলাম যে, দু’ব্যক্তি আমার নিকট এল এবং আমাকে নিয়ে একটি গাছে উঠল।

তারপর আমাকে এমন সুন্দর উৎকৃষ্ট একটি ঘরে প্রবেশ করিয়ে দিল ; এর আগে আমি কখনো এর চাইতে সুন্দর ঘর দেখিনি। সে দু’ব্যক্তি আমাকে বলল, এই ঘরটি হচ্ছে শহীদদের ঘর।

 

বুখারি হাদিস নং ২৬০০ – আল্লাহর রাস্তায় সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত করা। জান্নাতে তোমাদের কারোর একটি ধনুক পরিমাণ স্থান।

হাদীস নং ২৬০০

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল কিংবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তাঁতে যা কিছু আছে, তা থেকে উত্তম।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬০১

হাদীস নং ২৬০১

ইবরাহমীম ইবনে মুনযির রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জান্নাতে ধনুক পরিমাণ স্থান, তা (পৃথিবী) থেকে উত্তম যার উপর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল কিংবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা সূর্যের উদয়াস্তের স্থান (পৃথিবী)-এর চাইতে উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ২৬০২

হাদীস নং ২৬০২

কাবীসা রহ………..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল কিংবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তাঁতে যা কিছু আছে, তা থেকে উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ২৬০৩ – ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুর ও তাদের গুণাবলী।

হাদীস নং ২৬০৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কোন বান্দা এমতাবস্থায় মারা যায় যে, আল্লাহর কাছে তার সাওয়াব রয়েছে তাকে দুনিয়াতে এর সব কিছু দিলেও দুনিয়ায় ফিরে আসতে আগ্রহী হবে না।

একমাত্র শহীদ ব্যতীত। সে শাহাদাতের ফযীলত দেখার কারণে আবার দুনিয়ায় ফিরে এসে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার প্রতি আগ্রহী হবে।

রাবী হুমাইদ রহ. বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে এ কথাও বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল কিংবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তাঁতে যা কিছু আছে, তা থেকে উত্তম।

তোমাদের কারোর ধনুকের কিংবা চাবুক রাখার মত জান্নাতের জায়গাটুকু দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম।

জান্নাতী কোন মহিলা যদি দুনিয়াবাসীদের প্রতি উকি দেয় তাহলে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী সব কিছু আলোকিত এবং সুরভিত হয়ে যাবে। আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও তার সব কিছু থেকে উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ২৬০৪ – শাহাদাতের আকাঙ্খা করা।

হাদীস নং ২৬০৪

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, সেই সত্তার কসম!

যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের এমন একটি দল না থাকত, যারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে পছন্দ করে না এবং যাদের সকলকে সওয়ারী দিতে পারব না বলে আশংকা করতাম, তাহলে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করছে, আমি সেই ক্ষুদ্র দলটির সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতাম না।

সেই সত্তার কসম ! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি পছন্দ করি আমাকে যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, এরপর শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়। তারপর জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৬০৫

হাদীস নং ২৬০৫

ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আস সাফফার রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মুতার যুদ্ধে সৈন্য প্রেরণের পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, যায়েদ রা. পতাকা ধারণ করল এবং শহীদ হল, তারপর জাফর রা. পতাকা ধারণ করল, সেও শহীদ হল।

তারপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. পতাকা ধারণ করল এবং সেও শহীদ হল। এরপর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা. বিনা নির্দেশেই পতাকা ধারণ করল এবং সে বিজয় লাভ করল।

তিনি আরো বলেন, তারা আমাদের মাঝে জীবিত থাকুক তা আমাদের নিকট আনন্দদায়ক নয়।

আইয়্যূব রহ. বলেন, অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তারা আমাদের মাঝে জীবিত থাকুক তা তাদের নিকট আদৌ আনন্দদায়ক নয়, এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬০৬ – যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় সওয়ারী থেকে পড়ে মারা যায়, সে জিহাদকারীদের অন্তর্ভূক্ত।

হাদীস নং ২৬০৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকটবর্তী একস্থানে শুয়েছিলেন, এরপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম, আপনি হাসলেন কেন ?

তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হল যারা এই নীল সমুদ্রে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে।

উম্মে হারাম রা. বললেন, আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি তার জন্য দু’আ করলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এব আগের মত আচরণ করলেন। উম্মে হারাম রা. আগের মতই বললেন, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগের মতই জবাব দিলেন।

উম্মে হারাম রা. বললেন, আল্লাহর কাছে দু’আ করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

মুআবিয়া রা.-এর সাথে মুসলমানরা যখন প্রথম সমুদ্র পথে অভিযানে বের হয়, তখন তিনি তাঁর স্বামী উবাদা ইবনে সামিতের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিলেন।

যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাদের কাফেলা সিরিয়ায় থামে। আরোহণের জন্য উম্মে হারামকে একটি সওয়ারী দেয়া হল, তিনি সওয়ারীর উপর থেকে পড়ে মারা গেলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬০৭ – যে আল্লাহর রাস্তায় আহত হল কিংবা বর্শা বিদ্ধ হল।

হাদীস নং ২৬০৭

হাফস ইবনে উমর রা………. আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানূ সুলাইমের সত্তর জন্য লোকের একটি দলকে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বানূ আমিরের কাছে পাঠান। দলটি সেখানে পৌঁছলে আমার মামা তাদেরকে বললেন, আমি সর্বাগ্রে বনূ আমিরের কাছে যাব।

যদি তারা আমাকে নিরাপত্তা দেয় আর আমি তাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী পৌঁছাতে পারি, (তবে তো ভাল) অন্যথায় তোমরা আমার কাছেই থাকবে।তারপর তিনি এগিয়ে গেলেন।

কাফিররা তাকে নিরাপত্তা দিল, কিন্তু তিনি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী শুনাতে লাগলেন, সেই সময় আমির গোত্রীয়রা এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করল। আর সেই ব্যক্তি তার প্রতি তীর মারল এবং তীর শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেল।

তখন তিনি বললেন, আল্লাহ আকবার, কাবার রবের কসম! আমি সফলকাম হয়েছি। তারপর কাফিররা তার অন্যান্য সঙ্গীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং সকলকে শহীদ করল, কিন্তু একজন খোঁড়া ব্যক্তি বেঁচে গেলেন, তিনি পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন। হাম্মাম রহ. অতিরিক্ত উল্লেখ করেন, আমার মনে হয় তার সাথে অন্য একজন ছিলেন।

তারপর জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খবর দিলেন যে, প্রেরিত দলটি তাদের রবের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরও সন্তুষ্ট করেছেন।

পরে এ আয়াতটি মানসুখ হয়ে যায়। তারপর আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি অবাধ্যতার দরুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রমাগত চল্লিশ দিন রিল, যাকওয়ান, বানূ লিহয়ান ও বানূ উসাইয়্যার বিরুদ্ধে দু’আ করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬০৮

হাদীস নং ২৬০৮

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….জুনদুব ইবনে সুফিয়ান রা. থেকে বর্ণিত, কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি আঙ্গুল রক্তাক্ত হলে তিনি পড়েছিলেন : তুমি তো একটি আঙ্গুল মাত্র ; তুমি তো রক্তাক্ত হয়েছ আল্লাহরই পথে।

বুখারি হাদিস নং ২৬০৯ – যে মহান আল্লাহর পথে আহত হয়।

হাদীস নং ২৬০৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, কোন ব্যক্তি আল্লাহর পথে আহত হলে কিয়ামতের দিন সে তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়ে আসবে এবং তা থেকে মিশকের ছড়াবে এবং আল্লাহই ভাল জানেন কে তার পথে আহত হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৬১০ – আল্লাহর বাণী : হে নবী ! আপনি বলে দিন, তোমরা কি আমাদের ব্যাপারে দুটি কল্যাণের যে কোন একটির অপেক্ষা করছ? (৯:৫২) যুদ্ধ হচ্ছে বড় পানি পাত্রের ন্যায়।

হাদীস নং ২৬১০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব রা. তাকে জানিয়েছেন যে, হিরাকল তাকে বলেছিলেন, আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তাঁর সঙ্গে তোমাদের যুদ্ধের ফলাফল কিরূপ ছিল?

তুমি চলেছ যে, যুদ্ধ বড় পানির পাত্র এবং ধন সম্পদের মত। রাসূলগণ এভাবেই পরীক্ষিত হয়ে থাকেন। তারপর ভাল পরিণতি তাদেরই হয়।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬১১ – আল্লাহর বাণী: মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে দেখিয়েছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি।

হাদীস নং ২৬১১

মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ খুযায়ী রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনে নাযার রা. বদরের যুদ্ধের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! মুশরিকদের সঙ্গে আপনি প্রথম যে যুদ্ধ করেছেন, আমি সে সময় অনুপস্থিত ছিলাম।

আল্লাহ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধে শরীক মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে আনাস ইবনে নাযার রা. বলেছিলেন, ইয়া আল্লাহ ! এরা অর্থাৎ তাঁর সাহাবীরা যা করেছেন, তার সম্বন্ধে আপনার কাছে ওযর পেশ করছি এবং এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করেছে তা থেকে আমি নিজেকে সম্পর্কহীন বলে ঘোষণা করছি।

তারপর তিনি এগিয়ে গেলেন, এবং সাদ ইবনে মুআযের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হল। তিনি বললেন, হে সাদ ইবনে মুআয, নাযারের রবের কসম, উহুদের দিক থেকে আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি। সাদ রা. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি যা করেছেন, আমি তা করতে পারিনি।

আনাস রা. বলেন, আমরা তাকে এমতাবস্থায় পেয়েছি যে, তার দেহে আশিটিরও অধিক তলোয়ার, বর্শা ও তীরের যখম রয়েছে। আমরা তাকে নিহত অবস্থায় পেলাম।

মুশরিকরা তার দেহ বিকৃত করে ফেলেছিল। তার বোন ছাড়া কেউ তাকে চিনতে পারেনি এবং বোন তার আঙ্গুলের ডগা দেখে চিনতে পেরেছিল। আনাস রা. বলেন, আমাদের ধারণা, কুরআনের এই আয়াতটি: من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه الآية তাঁর এবং তাদের মত মুমিনদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।

আনাস রা. আরো বলেন, রুবিয়্যা নামক তার এক বোন কোন এক মহিলার সামনের দাঁত ভেঙ্গে দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কিসাসের নির্দেশ দেন।

আনাস রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে হকসহ পাঠিয়েছেন, তার দাঁত ভাঙ্গা হবে না। পরবর্তীতে তার বাদীপক্ষ কিসাসের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ নিতে রাযী হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছেন, যারা কসম করলে আল্লাহ তা পূরণ করে দেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬১২

হাদীস নং ২৬১২

আবুল ইয়ামান ও ইসমাঈল রহ………যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কুরআনের আয়াতসমূহ একত্রিত করে একটি মুসহাফে লিপিবদ্ধ করলাম, তখন সূরা আহযাবের একটি আয়াত আমি পেলাম না।

যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পড়তে শুনেছি। একমাত্র খুযাইমা আনসারী রা.-এর কাছে পেলাম। যার সাক্ষ্যকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ব্যক্তির সাক্ষ্যের সমান সাব্যস্ত করেছিলেন। সে আয়াতটি : من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه الآية (৩৩: ২৩)।

বুখারি হাদিস নং ২৬১৩ – যুদ্ধের আগে নেক আমল।

হাদীস নং ২৬১৩

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লৌহবর্মে আবৃত এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যুদ্ধে শরীক হব, না ইসলাম গ্রহণ করব?

তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণ কর, তারপর যুদ্ধে যাও। তারপর সে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে যুদ্ধে গেল এবং শাহাদাত বরণ করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে অল্প আমল করে বেশী পুরস্কার পেল।

বুখারি হাদিস নং ২৬১৪ – অজ্ঞাত তীর এসে যাকে হত্যা করে।

হাদীস নং ২৬১৪

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, উম্মে রুবায়্যি বিনতে বারা, যিনি হারিসা ইবনে সুরাকার মা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেন, ইয়া নবীয়াল্লাহ ! আপনি হারিসা রা. সম্পর্কে আমাকে কিছু বলবেন কি?

হারিসা রা. বদরের যুদ্ধে অজ্ঞাত তীরের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। সে যদি জান্নাতবাসী হয়ে থাকে তবে আমি সবর করব, তা না হলে আম তার জন্য অবিরত কাঁদতে থাকব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হারিসার মা! জান্নাতে অসংখ্য বাগান আছে, আর তোমার ছেলে সর্বোচচ জান্নাতুল ফেরদাউস লাভ করেছে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬১৫ – যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা (দীন) বুলন্দ থাকার উদ্দেশ্যে জিহাদ করে।

হাদীস নং ২৬১৫

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, এক ব্যক্তি গনীমতের জন্য, এক ব্যক্তি প্রসিদ্ধির জন্য এবং এক ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য জিহাদে শরীক হল।

তাদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে জিহাদ করল, তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা বুলন্দ থাকার জন্য যুদ্ধ করল, সে-ই আল্লাহর পথে জিহাদ করল।

বুখারি হাদিস নং ২৬১৬ – যার দু’পা আল্লাহর পথে ধুলি ধূসরিত হয়।

হাদীস নং ২৬১৬

ইসহাক রহ………আবদুর রাহমান ইবনে জাবর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর পথে যে বান্দার দু’পা ধূলিধূসরিত হয়, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে এরূপ হয় না।

বুখারি হাদিস নং ২৬১৭ – আল্লাহর পথে মাথায় লাগা ধুলি মুছে ফেলা।

হাদীস নং ২৬১৭

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………ইকরিমা রহ. বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস রা. তাকে ও আলী ইবনে আবদুল্লাহকে বলেছিলেন যে, তোমরা আবু সাঈদ রা.-এর কাছে যাও এবং তার কিছু বর্ণনা শোনা ।

তারপর আমরা তার কাছে গেলাম। সে সময় তিনি ও তার ভাই বাগানে পানি সেচের কাজে ছিলেন। আমাদের দেখে তিনি আসলেন এবং দু’হাটু বুকের সাথে লাগিয়ে বসে বললেন, মসজিদে নববীর জন্য আমরা এক একটি করে ইট বহন করছিলাম।

আর আম্মার রা. দু’দুটি করে বহন করছিল। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাশ দিয়ে গেলেন এবং তার মাথা থেকে ধুলাবালি মুছে ফেললেন এবং বললেন, আম্মারের জন্য বড় দুঃখ হয়, বিদ্রোহী দল তাকে হত্যা করবে। সে তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহবান করবে এবং তারা আম্মারকে জান্নামের পথে ডাকবে।

বুখারি হাদিস নং ২৬১৮ – যুদ্ধের পর ও ধুলাবালি লাগার পর গোসল করা।

হাদীস নং ২৬১৮

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, খন্দকের যুদ্ধ থেকে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে অস্ত্র রাখলেন এবং গোসল করলেন ,তখন জিবরীল আ.তাঁর কাছে এলেন, আর তাঁর মাথায় পট্রির ন্যায় ধূলি জমেছিল।

তিনি বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিলেন অথচ আল্লাহর কসম, আমি এখনো অস্ত্র রাখিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোথায় যেতে হবে?

তনি বানূ কুরায়যার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, এদিকে। আয়িশা রা. বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিকে বেরিয়ে গেলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬১৯ – আল্লাহর এ বাণী যাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, তাদের মর্যদা: যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে……….(৩:১৬৯-১৭১)।

হাদীস নং ২৬১৯

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যারা বীরে মাউনায় শরীক সাহাবীদেরকে শহীদ করেছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রিল ও যাকওয়ানের বিরুদ্ধে ত্রিশ দিন পর্যন্ত ফজরে দু’আ করেছিলেন এবং উসাইয়্যা গোত্রের বিরুদ্ধেও যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করেছিল।

আনাস রা. বলেন , বীরে মাউনার কাছে শহীদ সাহাবীদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা আমরা পাঠ করেছি। পরে তা, মানসুখ হয়ে যায়।

আয়াতটি হল: “তোমরা আমাদের কওমের কাছে এ সংবাদ পৌঁছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের রবের সাক্ষাত লাভ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট”।

বুখারি হাদিস নং ২৬২০

হাদীস নং ২৬২০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন কিছু সংখ্যক সাহাবী সকাল বেলায় শরাব পান করেন, এরপর যুদ্ধে তারা শাহাদাত বরণ করেন।

সুফিয়ান রহ.-কে প্রশ্ন করা হল: সেই দিনের শেষ বেলায়? তিনি বললেন, এ কথাটি তাঁতে নেই।

বুখারি হাদিস নং ২৬২১ – শহীদের উপর ফেরেশতাদের ছায়া দান।

হাদীস নং ২৬২১

সাদাকা ইবনে ফাযল রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধ শেষে আমার পিতাকে (তার লাশ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অংগ-প্রত্যঙ্গ কাটা অবস্থায় আনা হল এবং তাঁর সামনে রাখা হল।

আমি তাঁর চেহারা খুলতে চাইলাম, আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে নিষেধ করল। এমন সময় তিনি কোন বিলাপকারিণীর বিলাপ ধ্বনি শুনতে পেলেন। বলা হল: সে আমার কন্যা বা ভগ্নি।

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কাঁদছে কেন? অথবা বলেছিলেন, সে যেন না কাঁদে। ফেরেশতারা তাকে ডানা দ্বারা ছায়া দান করছেন।

আমি (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) সাদকা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এও কি বর্ণিত আছে যে, তাকে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত ? তিনি বললেন, (জাবির রা.) কখনো তাও বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬২২ – মুজাহিদের দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্খা।

হাদীস নং ২৬২২

মুহাম্মদ ইবনে বাশ্শার রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জান্নাতে প্রবেশের পর একমাত্র শহীদ ছাড়া আর কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্খা পোষণ করবে না, যদিও দুনিয়ার সকল জিনিস তার কাছে বিদ্যমান থাকবে।

সে দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্খা করবে যেন দশবার শহীদ হয়। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।

বুখারি হাদিস নং ২৬২৩ – তরবারীর ঝলকের নীচে জান্নাত।

হাদীস নং ২৬২৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..উমর ইবনে উবায়দুল্লাহ রা. এর আযাদকৃত গোলাম তার কাতিব সালিম আবুন নাযর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. তাকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমারা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ায় নীচেই জান্নাত।

উয়াইসী রহ. ইবনে আবুয যিনাদ রহ.-এর মাধ্যমে মূসা ইবনে উকবা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় মুআবিয়া ইবনে আমর রহ. আবু ইসহাক রহ.-এর মাধ্যমে মূসা ইবনে উকবা রহ. থেকে বর্ণিত, হাদীসের অনুসরণ করেছেন।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬২৪ – যুদ্ধে বীরত্ব ও ভীরুতা।

হাদীস নং ২৬২৪

আহমদ ইবনে আবদুল মালেক রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাপেক্ষা সুশ্রী, সাহসী ও দানশীল ছিলেন।

মদীনাবাসীগণ একবার ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় চড়ে সবার আগে আগে অগ্রসর হয়ে বললেন, আমরা একটি সমুদ্রের ন্যায় দ্রুত-সম্পন্ন পেয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ২৬২৫

হাদীস নং ২৬২৫

আবুল ইয়ামান রহ……….যুবাইর ইবনে মুতঈম রা. থেকে বর্ণিত, হুনাইন থেকে ফেরার পথে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে চলছিলেন।

তাঁর সঙ্গে আরো অনেক সাহাবী ছিলেন। এমন সময় কিছু গ্রাম্য লোক এসে তাকে জড়িয়ে ধরল এবং তাদের কিছু দেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করল। এমনকি তারা তাকে একটি গাছের কাছে নিয়ে গেল এবং তাঁর চাদর আটকে গেল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, আমার চাদরটি ফিরিয়ে দাও। আমার কাছে যদি এই সব কাঁটাযুক্ত গাছের সমপরিমাণ বকরী থাকত, তাহলে এর সবই তোমাদের ভাগ করে দিতেন। আর তোমরা আমাকে কৃপণ, মিথ্যাবাদী ও কাপুরুষ দেখতে পেতে না।

বুখারি হাদিস নং ২৬২৬ – কাপুরুষতা থেকে পানাহ চাওয়া।

হাদীস নং ২৬২৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..আমর ইবনে মায়মূন আউদী রহ. থেকে বর্ণিত, শিক্ষক যেমন ছাত্রদের লেখা শিক্ষা দেন, সাদ রা. তেমনি তাঁর সন্তানদের এ বাক্যগুলো শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের পর এগুলো থেকে পানাহ চাইতেন, হে আল্লাহ!

আমি ভীরুতা, অতি বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই। রাবী বলেন, আমি মুসআব রা.-এর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬২৭

হাদীস নং ২৬২৭

মুসাদ্দাদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ করতেন, হে আল্লাহ! আমি অক্ষমতা, ভীরুতা ও বার্ধক্য থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি।

বুখারি হাদিস নং ২৬২৮ – যে ব্যক্তি যুদ্ধকালীন তার নিজের ঘটনাবলী বর্ণনা করে। আবু উসমান রহ. তা সাদ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদীস নং ২৬২৮

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ সাদ, মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ এবং আবদুর রাহমান ইবনে আওফা রা.-এর সঙ্গ লাভ করেছি।

আমি তাদের কাউকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি। তবে তালহা রা.-কে উহুদ যুদ্ধের ঘটনাবলী বর্ণনা করতে শুনেছি।

 

বুখারি হাদিস নং ২৬২৯ – জিহাদে বের হওয়া ওয়াজিব এবং জিহাদ ও তার নিয়্যাতের আবশ্যকতা।

হাদীস নং ২৬২৯

আমর ইবনে আলী রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছিলেন, এই বিজয়ের পর আর হিজরতের প্রয়োজন নেই।

এখন কেবল জিহাদ ও নিয়্যাত। যখনই তোমাদের বের হওয়ার আহবান জানানো হবে, তখনই তোমরা বেরিয়ে পড়বে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৩০ – কোন কাফির যদি কোন মুসলমানকে হত্যা করার পর ইসলাম গ্রহণ করে এবং দীনের উপর অবিচল থেকে আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়।

হাদীস নং ২৬৩০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দু’ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকবেন।

তারা একে অপরকে হত্যা করে উভয়েই জান্নাতবাসী হবে। একজন তো এ কারণে জান্নাতবাসী হবে যে, সে আল্লাহর পথে জিহাদ করে শহীদ হয়েছে। তারপর আল্লাহ তা’আলা হত্যাকারীর তাওবা কবুল করেছেন। ফলে সেও আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৬৩১

হাদীস নং ২৬৩১

হুমাইদী রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সেখানে অবস্থানকালেই আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকেও (গনীমতের) অংশ দিন। তখন সাঈদ ইবনে আসের কোন এক পুত্র বলে উঠল, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

তাকে অংশ দিবেন না।আবু হুরায়রা রা. বললেন, সে তো ইবনে কাউকালের হত্যাকারী।

তা শুনে সাঈদ ইবনে আসের পুত্র বললেন, দান পাহাড়ের পাদদেশ থেকে আমাদের কাছে আগত বিড়াল মাশি জন্তুটি, (সেই ব্যক্তির) কথায় আশ্চর্যবোধ করছি, সে আমাকে এমন একজন মুসলিমকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছে যাকে আল্লাহ তা’আলা আমার হাতে সম্মানিত করেছেন এবং যার দ্বারা আমাকে লাঞ্চিত করেননি।

আব্বাস রা. বলেন ,পরে তাকে অংশ দিয়েছেন কি দেননি, তা আমাদের জানা নেই। সুফাইয়ান রহ. বলেন, আমাকে সাঈদী রহ. তার দাদার মাধ্যমে আবু হুরায়রা রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) রহ. বলেন, সাঈদী হলেন, আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ ইবনে আস।

বুখারি হাদিস নং ২৬৩২ – যে ব্যক্তি জিহাদকে সিয়ামের উপর অগ্রাধিকার দেয়।

হাদীস নং ২৬৩২

আদম রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকালে আবু তালহা রা. জিহাদের কারণে সিয়াম পালন করতেন না।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ব্যতীত তাকে আর কখনো সিয়াম ছেড়ে দিতে দেখিনি।

বুখারি হাদিস নং ২৬৩৩ – নিহত হওয়া ছাড়াও সাত প্রকারের শাহাদত রয়েছে।

হাদীস নং ২৬৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পাঁচ প্রকার মৃত ব্যক্তি শহীদ : মহামারীতে মৃত ব্যক্তি, পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং যে আল্লাহর পথে শহীদ হল, সে ব্যক্তি।

বুখারি হাদিস নং ২৬৩৪

হাদীস নং ২৬৩৪

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মহামারীতে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শাহাদত।

বুখারি হাদিস নং ২৬৩৫ – আল্লাহ তা’আলার বাণী: মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়……..আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

হাদীস নং ২৬৩৫

আবুল ওয়ালীদ রহ……..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, لايستوى القاعدون من المؤمنين আয়াতটি নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ রা.-কে ডেকে আনলেন।

তিনি কোন জন্তুর একটি চওড়া হাঁড় নিয়ে আসনে এবং তাতে উক্ত আয়াতটি লিখে রাখেন। ইবনে উম্মে মাকতুম জিহাদে অংশ গ্রহণের ব্যাপারে তাঁর অক্ষমতা প্রকাশ করলে لايستوى القاعدون من المؤمنين غير أولى الضرر আয়াতটি নাযিল হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৬৩৬

হাদীস নং ২৬৩৬

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আমি মারওয়ান ইবনে হাকামকে মসজিদে বসা অবস্থায় দেখলাম। তারপর আমি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম।

তিনি আমাকে বর্ণনা করেন যে, যায়েদ ইবনে সাবিত রা. তাকে জানিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর অবতীর্ণ আয়াত, لا يستوى القاعدون من المؤمنين والمجاهدون في سبيل الله যখন তাকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন, ঠিক সে সময় অন্ধ ইবনে উম্মে মাকতুম রা. সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ !

আমি যদি জিহাদে যেতে সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই অংশগ্রহণ করতাম। সে সময় আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলের উপর ওহী নাযিল করেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উরু আমার উরুর উপর রাখা ছিল এবং তা আমার কাছে এতই ভারী মনে হচ্ছিল যে, আমি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা করছিলাম। এরপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা কেটে গেল, এ সময় الضرر غير أولى আয়াতটি নাযিল হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৬৩৭ – যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণ।

হাদীস নং ২৬৩৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………সালিম আবু নাযর রহ. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. লিখে পাঠালেন, আর আমি এতে পড়লাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা তাদের মুখোমুখি হবে তখন ধৈর্যধারণ করবে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৩৮ – জিহাদে উদ্বুদ্ধকরণ।

হাদীস নং ২৬৩৮

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের দিকে বের হলেন, হীম শীতল সকালে আনসার ও মুহাজিররা পরীখা খনন করছেন, আর তাদের এ কাজ করার জন্য তাদের কোন গোলাম ছিল না।

যখন তিনি তাদের দেখতে পেলেন যে, তারা কষ্ট এবং ক্ষুধায় আক্রান্ত, তখন বললেন, হে আল্লাহ ! সুখের জীবন আখিরাতের জীবন। তুমি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করে দাও।

প্রত্যুত্তরে তারা বলে উঠেন: আমরা সেই লোক যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে জিহাদের বায়আত গ্রহণ করেছি, যতদিন আমরা বেঁচে আছি।

বুখারি হাদিস নং ২৬৩৯ – পরিখা খনন।

হাদীস নং ২৬৩৯

আবু মামার রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসার ও মুহাজিরগণ মদীনার পাশে পরীখা খনন করেছিলেন এবং তারা পিঠে করে মাটি বহন করছিলেন।

আর তারা এই কবিতা আবৃত্তি করতেছিলেন: আমরা ইসলামের উপর মুহাম্মদের হাতে বায়আত নিয়েছি, ততদিন পর্যন্ত যতদিন আমরা বেঁচে থাকি।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উত্তরে বলেছিলেন: হে আল্লাহ ! আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই। তাই আনসার ও মুহাজিরদের প্রতি বরকত নাযিল করুন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৪০

হাদীস নং ২৬৪০

আবু ওয়ালীদ রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটি উঠাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, যদি আপনি না হতেন তাহলে আমরা হিদায়েত পেতাম না।

বুখারি হাদিস নং ২৬৪১

হাদীস নং ২৬৪১

হাফস ইবনে উমর রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাবের দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি মাটি বহন করছেন। আর তাঁর পেটের শুভ্রতা মাটি ঢেকে ফেলেছে।

সে সময় তিনি আবৃত্তি করছিলেন, (ইয়া আল্লাহ) আপনি না হলে আমরা হিদায়েত পেতাম না; সাদকা দিতাম না এবং সালাত আদায় করতাম না। তাই আমাদের উপর প্রশান্তি বর্ষণ করুন।

যখন আমরা শত্রু সম্মুখীন হই তখন আমাদের পা সুদৃঢ় করুন। ওরা (মুশরিকরা) আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তারা যখনই কোন ফিতনা সৃষ্টি করতে চায় তখনই আমরা তা থেকে বিরত থাকি।

বুখারি হাদিস নং ২৬৪২ – ওযর যাকে জিহাদে যেতে বাঁধা দেয়।

হাদীস নং ২৬৪২

আহমদ ইবনে ইউনুস ও সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক যুদ্ধে ছিলেন, তখন তিনি বললেন, কিছু লোক মদীনায় আমাদের পেছনে রয়েছে।

আমরা কোন ঘাটি বা কোন উপত্যকায় চলিনি, কিন্তু তারাও এতে আমাদের সঙ্গে আছে। ওযরই তাদের বাঁধা দিয়েছে। মূসা রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, প্রথম সনদটি আমার নিকট অধিক সহীহ।

বুখারি হাদিস নং ২৬৪৩ – আল্লাহর পথে জিহাদের অবস্থায় সিয়াম পালনের ফযীলত।

হাদীস নং ২৬৪৩

ইসহাক ইবনে নাসর রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও সিয়াম পালন করে, আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে (তাকে) দোযখের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরে সরিয়ে নেন।

বুখারি হাদিস নং ২৬৪৪ – আল্লাহর পথে খরচ করার ফযীলত।

হাদীস নং ২৬৪৪

সাদ ইবনে হাফস রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় দুটি করে কোন জিনিস ব্যয় করবে, জান্নাতের প্রত্যেক দরজার প্রহরী তাকে আহবান করবে।

(তারা বলবে) হে অমুক! এদিকে আস। আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে তো তার জন্য কোন ক্ষতি নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আশা করি যে, তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৬৪৫

হাদীস নং ২৬৪৫

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ……..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়ালেন এবং বললেন, আমি আমার পর তোমাদের জন্য ভয় করি এবং এ ব্যাপারে যে, তোমাদের জন্য দুনিয়ার কল্যাণের দরজা খুলে দেয়া হবে।

তারপর তিনি দুনিয়ার নিয়ামতের উল্লেখ করেন এতে তিনি প্রথমে একটির কথঅ বলেন, পরে দ্বিতীয়টির বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

কল্যাণও কি অকল্যাণ বয়ে আনবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব রইলেন, আমরা বললাম তাঁর উপর ওহী নাযিল হচ্ছে। সম¯ত লোকও এমনভাবে নীরবতা অবলম্বন করল, যেন তাদের মাথঅর উপর পাখী বসে আছে।

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখের ঘাম মুছে বললেন, এখনকার সেই প্রশ্নকারী কোথায়? তাকে কল্যাণকর ? তিনি তিনবার এ কথাটি বললেন।

কল্যাণ কল্যাণই বনে আনে। কিন্তু যে পশু সেই ঘাস এ পরিমাণ খায় যাতে তার ক্ষুধা মিটে তারপর রোদ পোহায় এবং মলমূত্র ত্যাগ করে, এরপর আবার ঘাস খায়।

নিশ্চয়ই এ মাল সবুজ শ্যামল সুস্বাদু। সেই মুসলিমের সম্পদই উত্তম যে ন্যায়ত তা উপার্জন করেছে এবং আল্লাহর পথে, ইয়াতীম ও মিসকীন ও মুসাফির জন্য খরচ করেছে।

আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অর্জন করে তার দৃষ্টান্ত এমন ভক্ষণ কারীর ন্যায় যার ক্ষুধা মিটে না এবং তা কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।

আরও পড়ুনঃ

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

জিহাদ

মন্তব্য করুন