জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

Table of Contents

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী ২য় খণ্ড

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১১৬৫ – জানাযা সম্পর্কিত বুখারি হাদিস এবং যার শেষ কালাম ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’।

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবু যার (গিফারী) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : একজন আগন্তুক (হযরত জিবরীল আ. আমার রবের কাছ থেকে এসে আমাকে খবর দিলেন অথবা তিনি বলেছিলেন, আমাকে সুসংবাদ দিলেন, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে দাখিল হবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে ? তিনি বললেন, যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে।

হাদীস নং ১১৬৬

উমর ইবনে হাফস রহ………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে আল্লাহর সংগে শিরক রা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যে আল্লাহর সংগে কোন কিছুর শিরক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

বুখারি হাদিস নং ১১৬৭ – জানাযার অনুগমনের নির্দেশ।

আবুল ওয়ালীদ রহ………বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি বিষয়ে আমাদের আদেশ করেছেন এবং সাতটি বিষয়ে আমাদের নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের আদেশ করেছেন – ১. জানাযার অনুগমন করতে, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খববর নিতে, ৩. দাওয়াত দাতার দাওয়াত কবুল করতে, ৪. মাজলুমকে সাহায্য করতে, ৫. কসম থেকে দায়মুক্ত করতে, ৬. সালামের জওয়াব দিতে এবং ৭. হাঁচিদাতাকে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে) খুশী করতে। আর তিনি নিষেধ করেছেন – ১. রূপার পাত্র, ২. সোনার আংটি, ৩. রেশম, ৪. দীবাজ, ৫. কাসসী (কেস রেশম), ৬. ইসতিবরাক (তসর জাতীয় রেশম) ব্যবহার করতে।

হাদীস নং ১১৬৮

মুহাম্মদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি : ১. সালামের জওয়াব দেওয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেওয়া, ৩. জানাযার অনুগমন করা, ৪. দাওয়াত কবুল করা এবং ৫. হাঁচিদাতাকে খুশী করা। আবদুর রাজ্জাক রহ. আমর ইবনে আবু সালামা রহ এর অনুসরণ করেছেন। আবদুর রাজ্জাক রহ. বলেন, আমাকে মামার রহ. -এরূপ অবহিত করেছেন এবং এ হাদীস সালামা রহ. উকাইল রহ. থেকে রিওয়ায়েত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৬৯ – কাফন পরানোর পর মৃত ব্যক্তির কাছে যাওয়া ।

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ…………আবু সালামা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. আমাকে বলেছেন, (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর খবর পেয়ে) আবু বকর রা. ‘সুনহ’-এ অবস্থিত তাঁর বাড়ী থেকে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকদের সাথে কোন কথা না বলে আয়িশা রা. -এর ঘরে প্রবেশ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি ‘হিবারহ’ ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। আবু বকর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল উম্মুক্ত করে তাঁর উপর ঝুঁকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, তারপর কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া নাবী আল্লাহ ! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্রিত করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা তো আপনি কবুল করেছেন। আবু সালামা রা. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আমাকে খবর দিয়েছেন যে, (তারপর) আবু বকর রা. বেরিয়ে এলেন। তখন উমর রা. লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। আবু বকর রা. তাকে বললেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবু বকর রা. তাকে বললেন, বসে পড়ুন, তিনি তা মানলেন না। তখন আবু বকর রা. কালিমায়ে শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করলেন। লোকেরা উমর রা.-কে ছেড়ে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হন। আবু বকর রা. বললেন……..আম্মা বাদু, তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত করতে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই ইন্তিকাল করেছেন। আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করতে, নিশ্চয় আল্লাহ চিরঞ্জীব, অমর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন “মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র……….শাকিরীন পর্যন্ত। (৩ : ১১৪) আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবু বকর রা.-এর তিলাওয়াত করার পূর্ব পর্যন্ত লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহ পাক এ আয়াত নাযিল করেছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াত খানা তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলাওয়াত করতে শোনা গেল।

হাদীস নং ১১৭০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আনসারী মহিলা ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়আতকারী উম্মুল আলা রা. থেকে বর্ণিত, (হিজরতের পর) কোরআর মাধ্যমে মুহাজিরদের বন্টন করা হচ্ছিল। তাঁতে উসমান ইবনে মাযউন রা. আমাদের ভাগে পড়লেন, আমরা (সাদরে) তাকে আমাদের বাড়ীতে স্থান দিলাম। এক সময় তিনি সেই রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তাঁর মৃত্যু হল। যখন তাঁর মৃত্যু হল এবং তাকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হল, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবুস-সায়িব, আপনার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক ! আপনার সম্বন্ধে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করেছেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন ? আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তাহলে আল্লাহ আর কাকে সম্মানিত করবেন ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাঁর ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চয় তাঁর মৃত্যু হচ্ছে এবং আল্লাহর কসম ! আমি তাঁর জন্য মঙ্গল কামনা করি। আল্লাহর কসম ! আমি জানি না আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে, অথচ আমি আল্লাহর রাসূল । সেই আনসারী মহিলা বলেন, আল্লাহ কসম ! এরপর আর কোন দিন আমি কোন ব্যক্তি সম্পর্কে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না।

হাদীস নং ১১৭১

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……….লায়স রহ. সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। আর নাফি ইবনে ইয়াযীদ রহ উকাইল রহ. সূত্রে বলেন ‘তার সঙ্গে কি ব্যবহার করা হবে?’ শুয়াইব, আমর ইবনে দীনার ও মামার রহ. উকাইল রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

হাদীস নং ১১৭২

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (উহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা (আবদুল্লাহ রা.) শহীদ হয়ে গেলে আমি তাঁর মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। লোকেরা আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেন নি। আমার ফুফী ফাতিমা রা.ও কাঁদতে লাগলেন। এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান) তোমরা তাকে তুলে নেওয়া পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তাদের ডানা দিয়ে ছায়া বিস্তার করে রেখেছেন। ইবনে জুরাইজ রহ. মুহাম্মদ ইবেন মুনকাদির রহ. সূত্রে জাবির রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় শুবা রা. -এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৭৩ – মৃত ব্যক্তির পরিজনের কাছে তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছানো।

ইসমাঈল রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নাজাশী যে দিন মারা যান সেদিন-ই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যু সংবাদ দেন এবং জানাযার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবদ্ধ করে চার তাকবীর আদায় করলেন।

হাদীস নং ১১৭৪

আবু মামার রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মূতা যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনায়) বললেন : যায়েদ রা. পতাকা বহন করেছে তারপর শহীদ হয়েছে। তারপর জাফর রা. (পতাকা) হাতে নিয়েছে, সেও শহীদ হয়। তারপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. (পতাকা) ধারণ করে এবং সেও শহীদ হয়। এ সংবাদ বলছিলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। এরপর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা. পরামর্শ ছাড়াই (পতাকা) হাতে তুলে নেয় এবং তাঁর দ্বারা বিজয় সূচিত হয়।

বুখারি হাদিস নং ১১৭৫ – জানাযার সংবাদ দেওয়া।

মুহাম্মদ রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মারা গেল। যার অসুস্থতার সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোঁজ-খবর নিতেন। তার মৃত্যু হয় এবং রাতেই লোকেরা তাকে দাফন করেন। সকাল হলে তাঁরা (এ বিষয়ে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে অবহিত করেন। তিনি বললেন : আমাকে সংবাদ দিতে তোমাদের কিসে বাঁধা দিল ? তারা বলল, তখন ছিল রাত এবং ঘোর অন্ধকার। তাই আপনাকে কষ্ট দেওয়া আমরা পছন্দ করিনি। তিনি ঐ ব্যক্তির কবরের কাছে গেলেন এবং তাঁর উপর সালাতে জানাযা আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৭৬ – সন্তানের মৃত্যুতে সাওয়াবের আশায় সবর করার ফজিলত।

আবু মামার রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান সাবালিগ হওয়ার আগে মারা গেলে তাদের প্রতি তাঁর রহমত স্বরূপ অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে দাখিল করাবেন।

হাদীস নং ১১৭৭

মুসলিম রহ………আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহিলাগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আরয করলেন, আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারিত করে দিন। তারপর তিনি একদিন তাদের ওয়াজ-নসীহত করলেন এবং বললেন : যে স্ত্রীলোকের তিনটি সন্তান মারা যায়, তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে। তখন এক মহিলা প্রশ্ন করলেন, দু’ সন্তান মারা গেলে ? তিনি বললেন, দু’ সন্তান মারা গেলেও। শরীক রহ………আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা রা. সুত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা রা. বলেন, যারা বালিগ হয়নি।

হাদীস নং ১১৭৮

আলী রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালিগ) সন্তান মারা গেল, তারপরও সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে-এমন হবে না। তবে শুধু কসম পূর্ণ হওয়ার পরিমাণ পর্যন্ত। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বহ. বলেন, আল্লাহ তা’আলার ইরশাদ : “তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে”।

বুখারি হাদিস নং ১১৭৯ – কবরের কাছে কোন মহিলাকে বলা, সবর কর।

আদম রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের কাছে উপস্থিত এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন কাঁদছিল। তখন তিনি বললেন : আল্লাহকে ভয় কর এবং সবর কর।

বুখারি হাদিস নং ১১৮০ – বরই পাতার পানি দ্বারা মৃতকে গোসল ও উযূ করানো।

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..উম্মে আতিয়্যা আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা (যায়নাব রা.-এর ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের কাছে এসে বললেন : তোমরা তাকে তিন, পাঁচ প্রয়োজন মনে করলে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবার কর্পূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদরখানা আমাদের দিয়ে বললেন : এটি তাঁর গায়ের সাথে জড়িয়ে দাও।

বুখারি হাদিস নং ১১৮১ – বেজোড় সংখ্যায় গোসল দেওয়া মুসতাহাব।

মুহাম্মদ রহ………উম্মে আতিয়্যা আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা (যায়নাব রা. এর ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের কাছে এসে বললেন : তোমরা তাকে তিন, পাঁচ প্রয়োজন মনে করলে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবার কর্পূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদরখানা আমাদের দিয়ে বললেন : এটি তাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরাও। আইয়ূব রহ. বলেছেন, হাফসা রহ. আমাকে মুহাম্মদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন। তবে তাঁর হাদীসে রয়েছে যে, তাকে বেজোড় সংখ্যায় গোসল দিবে। আরও রয়েছে, তিনবার, পাঁচবার অথবা সাতবার করে আরো তাঁতে রয়েছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “তোমরা তার ডান দিক থেকে এবং তার উযূর স্থানসমূহ থেকে শুরু করবে”। তাঁতে একথাও রয়েছে (বর্ণনাকারিণী) উম্মে আতিয়্যা রা. বলেছেন, আমরা তার চুলগুলি আচড়ে তিনটি বেণী করে দিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১১৮২ – মৃত ব্যক্তির (গোসল) ডান দিক থেকে শুরু করা।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যার গোসলের ব্যাপারে ইরশাদ করেন : তোমরা তাঁর ডান দিক থেকে এবং উযূর স্থানসমূহ থেকে শুরু কর।

বুখারি হাদিস নং ১১৮৩ – মৃত ব্যক্তির উযূর স্থানসমূহ।

ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ………উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা (যায়নাব রা.)-কে গোসল দিতে যাচ্ছিলাম, গোসল দেওয়ার সময় তিনি আমাদের বলেন : তোমরা তাঁর ডান দিক থেকে এবং উযূর স্থানসমূহ থেকে শুরু করবে।

বুখারি হাদিস নং ১১৮৪ – পুরুষের ইযার দিয়ে মহিলার কাফন দেওয়া যায় কি ?

আবদুর রহমান ইবনে হাম্মাদ রহ………..উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের বললেন : তোমরা তাকে তিনবার পাঁচবার অথবা যদি তোমরা প্রয়োজনীয় মনে কর, তবে তার চাইতে অধিকবার গোসল দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর কোমর থেকে তাঁর চাদর (খুলে দিয়ে) বললেন : এটি তাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও।

বুখারি হাদিস নং ১১৮৫ – গোসলে কর্পূর ব্যবহার করবে শেষবারে।

হামিদ ইবনে উমর রহ………..উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যাগণের মধ্যে একজনের ইন্তিকাল হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং বললেন : তোমরা তাকে তিনবার পাঁচবার অথবা যদি তোমরা প্রয়োজনীয় মনে কর, তবে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবার কর্পূর (অথবা তিনি বলেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। উম্মে আতিয়্যাহ রা. বলেন, আমরা শেষ করে তাকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন : এটি তাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও। আইয়ূব রহ. হাফসা রহ. সূত্রে উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং তাঁতে তিনি (উম্মে আতিয়্যাহ রা. বলেছেন, তিনি ইরশাদ করেছিলেন : তাকে তিন, পাঁচ, সাত বা প্রয়োজনবোধে তার চাইতে অধিকবার গোসল দাও। হাফসা রহ. বলেন, আতিয়্যাহ রা. বলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলকে তিনটি বেণী বানিয়ে দেই।

বুখারি হাদিস নং ১১৮৬ – মহিলাদের চুল খুলে দেওয়া।

আহমদ রহ………উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার মাথার চুল তিনটি বেণী করে দেন। তাঁরা তা খুলেছেন, এরপর তা ধুয়ে তিনটি বেণী করে দেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৮৭ – মৃতের গায়ে কিভাবে কাপড় জড়ানো হবে।

আহমদ রহ……..আইয়্যূব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে সীরীন র.-কে বলতে শুনেছি যে, আনসারী মহিলা উম্মে আতিয়্যাহ রা. আসলেন, যিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বায়আতকারীদের অন্যতম। তিনি তাঁর এক ছেলে দেখার জন্য দ্রুততার সাথে বসরায় এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তাকে পাননি। তখন তিনি আমাদের হাদীস শুনালেন। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে তাশরীফ নিয়ে আসেন, তখন আমরা তাঁর কন্যাকে গোসল দিচ্ছিলাম। তিনি বললেন : তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার, অথবা প্রয়োজনবোধে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। আর শেষবারে কর্পুর দিও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। তিনি বলেন, আমরা যখন শেষ করলাম, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন : এটাকে তাঁর গায়ের সাথে জড়িয়ে দাও। উম্মে আতিয়্যাহ রা. -এর বেশী বর্ণনা করেন নি। (আইয়্যূব রহ. বলেন) আমি জানিনা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন কন্যা ছিলেন ? তিনি বলেন, ‘ইশআর’ অর্থ গায়ের সাথে জড়িয়ে দাও। ইবনে সীরীন রহ. মহিলা সম্পর্কে এই রূপই আদেশ করতেন যে, ভিতরের কাপড় (চাদরের মত পূর্ণ শরীরে) জড়িয়ে দিবে ইযারের মত ব্যবহার করবে না।

বুখারি হাদিস নং ১১৮৮ – মহিলাদের চুলকে তিনটি বেণী করা।

কাবীসা রহ……..উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার কেশগুচ্ছ বেণী পাকিয়ে দিয়েছিলাম, অর্থাৎ তিনটি বেণী। ওয়াকী রহ. বলেন, সুফিয়ান রহ. বলেছেন, মাথার সামনের অংশে একটি বেণী এবং দু’পাশে দুটি বেণী।

বুখারি হাদিস নং ১১৮৯ – মহিলার চুল তিনটি বেণী করে তার পিছনে রাখা।

মুসাদ্দাদ রহ……….উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যাদের মধ্যে একজনের ইন্তিকাল হলে। তিনি আমাদের নিকট এসে বললেন : তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দিয়ে বেজোড় সংখ্যক তিনবার পাঁচবার অথবা প্রয়োজনবোধে ততোধিকবার গোসল দাও। শেষবার কর্পূর অথবা তিনি বলেছিলেন কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলগুলো তিনটি বেণী করে পিছনে রেখে দিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১১৯০ – কাফনের জন্য সাদা কাপড়।

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনখানা ইয়ামানী সাহুলী সাদা সূতী কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়। তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।

বুখারি হাদিস নং ১১৯১ – দু’ কাপড়ে কাফন দেওয়া।

আবু নুমান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতে ওয়াকুফ অবস্থায় হঠাৎ তার উটনী থেকে পড়ে যায়। এতে তাঁর ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেছেন, তাঁর ঘাড় মটকিয়ে দিল। (এতে সে মারা যায়)। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তাঁর মাথা ঢাকবে না। কেননা, কিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠ করতে করতে উত্থিত হবে।

বুখারি হাদিস নং ১১৯২ – মৃত ব্যক্তির জন্য সুগন্ধি ব্যবহার।

কুতাইবা রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে আরাফাতে ওয়াকুফ (অবস্থান) কালে হঠাৎ তার সাওয়ারী থেকে পড়ে যায়। ফলে তার ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেন, দ্রুত মৃত্যুমুখে ফেলে দিল। (ফলে তিনি মারা গেলেন)। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও ; তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা আবৃত করবে না। কেননা, আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত করবেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৯৩ – মুহরিম ব্যক্তিকে কিভাবে কাফন দেওয়া হবে।

আবু নামান রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তির উট তার ঘাড় মটকে দিল। (ফলে সে মারা গেল)। আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে ছিলাম। সে ছিল ইহরাম অবস্থায় । তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা আবৃত করো না। কেননা, আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন তাকে মুলাব্বিদ অবস্থায় উঠাবেন।

হাদীস নং ১১৯৪

মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে আরফাতে অবস্থান করছিল। সে তার সাওয়ারী থেকে পড়ে গেল। (পরবর্তী অংশের বর্ণনায়) আইয়্যূব রহ. বলেন, তার ঘাড় মটকে দিল। আর আমর রহ. বলেন, তাকে দ্রুত মৃত্যুমুখে ঠেলে দিল। ফলে সে মারা গেল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথাও আবৃত করবে না। কেননা, তাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করা হবে এ অবস্থায় যে, আইয়্যূব রহ. বলেছেন, সে তালবিয়া পাঠ করছে আর আমর রহ. বলেন, সে তালবিয়া পাঠরত।

বুখারি হাদিস নং ১১৯৫ – সেলাইকৃত বা সেলাইবিহীন কামীস দিয়ে কাফন দেওয়া এবং কামীস ব্যতীত কাফন দেওয়া।

মুসাদ্দাদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই (মুনাফিক সর্দার) এর মৃত্যু হলে তার পুত্র (যিনি সাহাবী ছিলেন) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আপনার জামাটি আমাকে দান করুন। আমি তা দিয়ে আমার পিতার কাফন পরাতে ইচ্ছা করি। আর আপনি তার জানাযা পড়বেন এবং তার জন্য মাগফিরাত কামনা করবেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জামাটি তাকে দিয়ে দিলেন এবং বললেন : আমাকে সংবাদ দিও, আমি তার জানাযা আদায় করব। তিনি তাকে সংবাদ দিলেন। যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা আদায়ের ইচ্ছা করলেন, তখন উমর রা. তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন : আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের জানাযা আদায় করতে নিষেধ করেন নি ? তিনি বললেন : আমাকে তো দু’টির মধ্যে কোন একটি করার ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। (আল্লাহ তা’আলা বলেছেন) আপনি তাদের (মুনাফিকদের) জন্য মাগফিরাত কামনা করুন বা মাগফিরাত কামনা না-ই করুন (একই কথা) আপনি যদি সত্তর বারও তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন; কখনো আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না। কাজেই তিনি তার জানাযা পড়লেন, তারপর নাযিল হল : “তাদের কেউ মারা গেলে কখনও আপনি তাদের জানাযা আদায় করবেন না”।

হাদীস নং ১১৯৬

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে দাফন করার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (কবরের) কাছে এলেন এবং তাকে বের করলেন। তারপর তার উপর থুথু দিলেন, আর নিজের জামাটি তাকে পরিয়ে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৯৭ – কামীস ব্যতীত কাফন।

আবু নুআইম রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনখানা সূতী সাদা সাহুলী (ইয়ামানী) কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ১১৯৮

মুসাদ্দাদ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনখানা কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়েছে, তাতে কামীস ও পাগড়ী ছিল না। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আবু নুআইম রহ. ‘সালাসাতুন’ শব্দটি বলেন নি। আর আবদুল্লাহ ইবনে ওয়ালীদ রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় ‘সালাসাতুন’ শব্দটি বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১১৯৯ – পাগড়ী ব্যতীত কাফন।

ইসমাঈল রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনখানা সাদা সাহুলী কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কোন কামীস ও পাগড়ী ছিল না।

বুখারি হাদিস নং ১২০০ – মৃত ব্যক্তির সমস্ত সম্পদ থেকে কাফন দেওয়া।

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ মাক্কী রহ………সাদ রহ.-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. -কে খাবার দেওয়া হল। তখন তিনি বললেন, মুসআব ইবনে উমাইর রা. শহীদ হন আর তিনি আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ ছিলেন অথচ তাঁর কাফনের জন্য একখানা চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় নি। হামযা রা. বা অপর এক ব্যক্তি শহীদ হন, তিনিও ছিলেন আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ, অথচ তাঁর কাফনের জন্যও একখানা চাদর ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই আমার আশংকা হয়, আমাদের নেক আমলের বিনিময় আমাদের এ পার্থিব জীবনে আগেই দেয়া হল। তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২০১ – একখানা কাপড় ব্যতীত আর কোন কাপড় পাওয়া না গেলে।

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………ইবরাহীম রহ. থেকে বর্ণিত, একদা আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা.-কে খাদ্য পরিবেশন করা হল, তখন তিনি সিয়াম পালন করছিলেন। তিনি বললেন, মুসআব ইবনে উমাইর রা. শহীদ হন। তিনি ছিলেন, আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ। (অথচ) তাকে এমন একখানা চাদর দিয়ে কাফন দেয়া হল যে, তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর দু’ পা ঢাকলে মাথা বাইরে থাকে । (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে পড়ে, তিনি আরও বলেছিলেন, হামযা রা. শহীদ হন। তিনিও ছিলেন আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ। তারপর আমাদের জন্য পৃথিবীতে অত্যাধিক প্রাচুর্য দেওয়া হয়েছে। আশংকা হয় যে, আমাদের নেক আমলগুলো (এর বিনিময়ে) আমাদের আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাদ্যও পরিহার করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২০২ – মাথা বা পা আবৃত করা যায় এতটুকু ব্যতীত অন্য কোন কাফন না পাওয়া গেলে, তা দিয়ে কেবল মাথা ঢাকা হবে।

আমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……….খাব্বাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মদীনা হিজরত করেছিলাম, এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি চেয়েছিলাম। আমাদের প্রতিদান আল্লাহর দরবারে নির্ধারিত হয়ে আছে। তারপর আমাদের মধ্যে অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা তাদের বিনিময়ের কিছুই ভোগ করে যান নি। তাদেরই একজন মুসআব ইবনে উমাইর রা. আর আমাদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছেন যাদের অবদানের ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর তাঁরা তা ভোগ করছেন। মুসআব রা. উহুদের দিন শহীদ হলেন। আমরা তাকে কাফন দেওয়ার জন্য এমন একখানা চাদর ব্যতীত আর কিছুই পেলাম না; যা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর তাঁর দু’ খানা পায়ের উপর ইযখির দিয়ে দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২০৩ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় যে নিজের কাফন তৈরী করে রাখল, অথচ তাকে এতে নিষেধ করা হয়নি।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………সাহল রা. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একখানা বুরদাহ (চাদর) নিয়ে এলেন যার সাথে ঝালর যুক্ত ছিল। সাহল রা. বললেন, তোমরা জান, বুরদাহ কি ? তারা বলল, চাদর। সাহল রা. বললেন, ঠিকই। মহিলা বললেন, চাদরখানা আমি নিজ হাতে বুনছি এবং তা আপনার পরিধানের জন্য নিয়ে এসেছি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর চাদরের প্রয়োজনও ছিল। তারপর তিনি তা ইযাররূপে পরিধান করে আমাদের সামনে তাশরীফ আনেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করে বললেন, বাহ ! এ যে কত সুন্দর। আমাকে তা পড়ার জন্য দান করুন। সহাবীগণ বললেন, তুমি ভাল করনি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর প্রয়োজনে পরেছেন : তবুও তুমি তা চেয়ে বসলে। অথচ তুমি জান যে, তিনি কাউকে বিমুখ করেন না। ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম ! আমি তা পরার উদ্দেশ্যে চাইনি। আমার চাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য যেন তা আমার কাফন হয়। সাহল রা. বলেন, শেষ পর্যন্ত তা তাঁর কাফনই হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ১২০৪ – জানাযার পিছনে মহিলাদের অনুগমন।

কাবীসা ইবনে উকবা রহ ………..উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জানাযার অনুগমন করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি করা হয়নি।

বুখারি হাদিস নং ১২০৫ – স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য স্ত্রীলোকের শোক প্রকাশ।

মুসাদ্দাদ রহ………..মুহাম্মদ ইবনে সীরীন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মে আতিয়্যাহ রা. -এর এক পুত্রের ইন্তিকাল হল। তৃতীয় দিনে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনিয়ে ব্যবহার করলেন, আর বললেন, স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্য তিন দিনের বেশী শোক করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে।

হাদীস নং ১২০৬

হুমাইদী রহ………যায়নাব বিনতে আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন শাম থেকে আবু সুফিয়ান রা. -এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, তার তৃতীয় দিন উম্মে হাবীবা রা. হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনলেন এবং তাঁর উভয় গাল ও বাহুতে মাখলেন। তারপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না, যদি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে স্ত্রীলোক আল্লাহ এবং কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।

হাদীস নং ১২০৭

ইসমাঈল রহ……….যায়নাব বিনতে আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা রা.-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে স্ত্রীলোক আল্লাহ এবং কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (হালাল)। তারপর যায়নাব বিনতে জাহাশ রা.-এর ভাইয়ের মৃত্যু হলে আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি কিছু সুগন্ধি আনিয়ে তা ব্যবহার করলেন। এরপর বললেন, সুগন্ধি ব্যবহারে আমার কোন প্রয়োজন নেই, তবে যেহেতু আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোন স্ত্রীলোকের পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (পালন করবে)।

বুখারি হাদিস নং ১২০৮ – কবর যিয়ারত

আদম রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি কবরের পাশে কাঁদছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং সবর কর। মহিলাটি বললেন, আমার কাছ থেকে চলে যান। আপনার উপর তো আমার মত মসিবত আসেনি। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চিনতে পারেন নি। পরে তাকে বলা হল, তিনি তো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুয়ারে হাজির হলেন, তাঁর কাছে কোন পাহারাদার পেলেন না। তিনি আরয করলেন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেন : সবর তো বিপদের প্রথম অবস্থাতেই।

বুখারি হাদিস নং ১২০৯ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী : পরিজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে আযাব দেওয়া হয়, যদি বিলাপ করা তার অভ্যাস হয়ে থাকে।

আবদান ও মুহাম্মদ রহ………..উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা (যায়নাব) তাঁর খিদমতে লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মুমুর্ষ অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাকে) সালাম দিবে এবং বলবে : আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাঁর কাছে সবকিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কাজেই সে যেন সবর করে এবং সাওয়াবের আশায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আসেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সাদ ইবনে উবাদা, মুআয ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কাব, যায়েদ ইবনে সাবিত রা. এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে তুলে দেওয়া হল । তখন তার জান ছটফট করছিল। রাবী বলেন, আমার ধারনা যে, তিনি এ বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (আওয়াজ হচ্ছিল)। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’ চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সাদ রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! একি ? তিনি বললেন : এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ পাক তাঁর বান্দার অন্তরে আমানত রেখেছেন। আর আল্লাহ পাক তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।

হাদীস নং ১২১০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক কন্যা (উম্মে কুলসুম রা.) এর জানাযায় উপস্থিত হলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশে বসেছিলেন। আনাস রা. বলেন, তখন আমি তাঁর চোখ থেকে পানি ঝরতে দেখলাম। রাবী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে আজ রাতে স্ত্রী সহবাস করেনি ? আবু তালহা রা. বললেন, আমি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাহলে তুমি (কবরে) অবতরণ কর। রাবী বলেন, তখন তিনি তাঁর কবরে অবতরণ করলেন।

হাদীস নং ১২১১

আবদান রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু মুলাইকা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কায় উসমান রা.-এর এক কন্যার ওফাত হল। আমরা সেখানে (জানাযায়) শরীক হওয়ার জন্য গেলাম। ইবনে উমর রা. এবং ইবনে আব্বাস রা.ও সেখানে হাজির হলেন। আমি তাদের দু’ জনের মাঝে বসা ছিলাম, অথবা তিনি বলেছেন, আমি তাদের একজনের পাশে গিয়ে বসলাম, পরে অন্যজন এসে আমার পাশে বসলেন। (কান্নার আওয়ায শুনে) ইবনে উমর রা. আমর ইবনে উসমানকে বললেন, তুমি কেন কাঁদতে নিষেধ করছ না ? কেননা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনদের কান্নার কারণে আযাব দেওয়া হয়। তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, উমর রা.ও এ রকম কিছু বলতেন। এরপর ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করলেন, উমর রা.-এর সাথে মক্কা থেকে ফিরছিলাম। আমরা বায়দা (নামক স্থানে) পৌঁছলে উমর রা. বাবলা গাছের ছায়ায় একটি কাফেলা দেখতে পেয়ে আমাকে বললেন, গিয়ে দেখো তো এ কাফেলা কারা ? ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি গিয়ে দেখলাম সেখানে সুহাইব রা. রয়েছেন। আমি তাকে তা জানালাম। তিনি বললেন, আমার কাছে ডেকে নিয়ে আস। আমি সুহাইব রা. -এর নিকটে আবার গেলাম এবং বললাম, চলুন আমীরুল মুমিনীনের সংগে সাক্ষাত করুন । এরপর যখন উমর রা. (ঘাতকের আঘাতে) আহত হলেন, তখন সুহাইব রা. তাঁর কাছে এসে এ বলে কাঁদতে লাগলেন, হায় আমার ভাই ! হায় আমার বন্ধু ! এতে উমর রা. তাকে বললেন, তুমি আমার জন্য কাঁদছো ? অথচ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মৃত ব্যক্তির জন্য তার আপন জনের কোন কোন কান্নার কারণে অবশ্যই তাকে আযাব দেওয়া হয় । ইবনে আব্বাস রা. বলেন, উমর রা. -এর ওফাতের পর আয়িশা রা. -এর কাছে আমি উমর রা. -এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ উমর রা.-কে রহম করুন। আল্লাহর কসম ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা বলেননি যে, আল্লাহ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে, তার জন্য তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দেবেন। তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তা’আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন, তার জন্য তার পরিজনের কান্নার কারণে। এরপর আয়িশা রা. বললেন, আল্লাহর কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট (ইরশাদ হয়েছে) : ‘বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না। তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, আল্লাহই (বান্দাকে) হাসান এবং কাঁদান। রাবী ইবনে আবু মুলাইকা রহ. বলেন, আল্লাহর কসম ! (একথা শুনে) ইবনে উমর রা. কোন মন্তব্য করলেন না।

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ১২১২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী মেয়েলোকের (কবরের) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার পরিবারের লোকেরা তার জন্য কান্নাকাটি করছিল। তখন তিনি বললেন : তারা তো তার জন্য কান্নাকাটি করছে। অথচ তাকে কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে।

হাদীস নং ১২১৩

ইসমাঈল ইবনে খলীল রহ……….আবু বুরদাহ পিতা (আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উমর রা. আহত হলেন, তখন সুহাইব রা. হায় ! আমার ভাই ! বলতে লাগলেন। উমর রা. বললেন, তুমি কি জান না, যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের আযাব দেওয়া হয় ?

বুখারি হাদিস নং ১২১৪ – মৃতের জন্য বিলাপ অপছন্দনীয় ।

আবু নুআইম রহ……….মুগীরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যা আরোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। (মুগীরা রা. আরও বলেছেন) আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপ কৃত বিষয়ের উপর আযাব দেওয়া হবে।

হাদীস নং ১২১৫

আবদান রহ………উমর রা. সূত্রে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য কৃত বিলাপের বিষয়ের উপর কবরে আযাব দেওয়া হয়। আবদুল আলা রহ……..কাতাদা রহ. থেকে বর্ণনায় আবদান রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। আদম রহ. শুবা রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য জীবিতদের কান্নার কারণে আযাব দেওয়া হয়।

বুখারি হাদিস নং ১২১৬ – পরিচ্ছেদ ৮১৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের দিন আমার পিতাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত অবস্থায় নিয়ে এসে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে রাখা হল। তখন একখানা কাপড় দিয়ে তাকে ঢেকে রাখা হয়েছিল। আমি তাঁর উপর থেকে আবরণ উম্মোচন করতে আসলে, আমার কওমের লোকেরা (আবার) আমাকে নিষেধ করল। পরে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে তাকে উঠিয়ে নেওয়া হল। তখন তিনি এক রোদনকারীনীর আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, কাদো কেন ? অথবা বলেছেন, কেঁদো না। কেননা, তাকে উঠিয়ে নেওয়া পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তাদের পাখা বিস্তার করে তাকে ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২১৭ – যারা জামার বুক ছিড়ে ফেলে তারা আমাদের তরীকাভূক্ত নয়।

আবু নুআইম রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যারা (মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে) গাল চাপড়ায়, জামার বুক ছিড়ে ফেলে এবং জাহিলীয়াত যুগের মত চীৎকার দেয়, তারা আমাদের তরীকাভূক্ত নয়।

বুখারি হাদিস নং ১২১৮ – সা’দ ইবনে খাওলা রা. এর প্রতি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর শোক প্রকাশ ।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জে একটি কঠিন রোগে আমি আক্রান্ত হলে, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য আসতেন। একদিন আমি তাঁর কাছে আরয করলাম, আমার রোগ চরমে পৌছেছে আর আমি সম্পদশালী। একটি মাত্র কন্যা ছাড়া কেউ আমার ওয়ারিস নেই। তবে আমি কি আমার সম্পদের দু’ তৃতীয়াংশ সাদকা করতে পারি ? তিনি বললেন, না । আমি আবার আরয করলাম, তাহলে অর্ধেক। তিনি বললেন, না। তারপর তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও বিরাট পরিমাণ অথবা অধিক। তোমার ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদের অভাবগ্রস্ত রেখে যাওয়া মানুষের কাছে হাত পাতার চাইতে উত্তম। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যে কোন ব্যয় কর না কেন, তোমাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে। এমন কি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে (তারও প্রতিদান পাবে) আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (আফসোস) আমি আমার সাথীদের থেকে পিছনে থেকে যাব ? তিনি বললেন, তুমি যদি পিছনে থেকে নেক আমাল করতে থাক, তাহলে তাঁতে তোমার মর্যাদা ও উন্নতি বৃদ্ধিই পেতে থাকবে । তা ছাড়া, সম্ভবত, তুমি পিছনে (থেকে যাবে) যার ফলে তোমার দ্বারা অনেক কওম উপকার লাভ করবে। আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ ! আমার সাহাবীগণের হিজরত বলবৎ রাখুন। পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু আফসোস ! সা’দ ইবনে খাওলার জন্য (এ বলে) আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছিলেন, যেহেতু মক্কায় তাঁর ইন্তিকাল হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ১২১৯ – যারা গাল চাপড়ায় তারা আমাদের তরীকাভূক্ত নয়।

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যারা শোকে গালে চাপড়ায়, জামার বুক ছিড়ে ফেলে ও জাহিলীয়াত যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের তরীকাভূক্ত নয়।

বুখারি হাদিস নং ১২২০ – বিপদ কালে হায়, ধ্বংস বলা ও জাহিলীয়াত যুগের মত চিৎকার করা নিষেধ ।

উমর ইবনে হাফস রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যারা (শোকে) গালে চাপড়ায়, জামার বুক ছিড়ে ফেলে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয় তারা আমাদের তরীকাভূক্ত নয়।

বুখারি হাদিস নং ১২২১ – যে ব্যক্তি মুসীবতকালে এমনভাবে বসে পড়ে যে, তার মধ্যে দুঃখবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন (মুতার যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে (যায়েদ) ইবেন হারিসা, জাফর ও ইবনে রাওয়াহা রা.-এর শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছল, তখন তিনি (এমনভাবে) বসে পড়লেন যে, তাঁর মধ্যে দুঃখের চিহ্ন ফুটে উঠেছিল। আমি (আয়িশা রা. দরওয়াযার ফাঁক দিয়ে তা দেখছিলাম। এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে জাফর রা. -এর পরিবারের মহিলাদের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন তাদেরকে (কাঁদতে) নিষেধ করেন, লোকটি চলে গেল এবং দ্বিতীয়বার এসে (বলল) তারা তাঁর কথা মানেনি। তিনি ইরশাদ করলেন : তাদেরকে নিষেধ করে। ঐ ব্যক্তি তৃতীয়বার এসে বললেন, আল্লাহর কসম ! ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তাঁরা আমাদের হার মানিয়েছে। আয়িশা রা. বলেন, আমার মনে হয়, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিরক্তির সাথে) বললেন : তাহলে তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। আয়িশা রা. বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাকে ধূলি মিলিয়ে দেন। তুমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ পালন করতে পারনি। অথচ তুমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিরক্ত করতেও কসুর করনি।

হাদীস নং ১২২২

আমর ইবনে আলী রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (বীর-ই-মাউনার ঘটনায়) ক্বারী (সাহাবীগণের) শাহাদতের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সালাতে) একমাস যাবত কুনুত-ই-নাযিলা পড়েছিলেন। (রাবী বলেন) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি আর কখনো এর চাইতে অধিক শোকাভিভূক্ত হতে দেখিনি।

বুখারি হাদিস নং ১২২৩ – মুসীবতের সময় দুঃখ প্রকাশ না করা।

বিশর ইবনে হাকাম রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু তালহা রা.-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। রাবী বলেন সে মারা গেল। তখন আবু হালহা রা. বাড়ীর বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন। এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে রেখে দিলেন। আবু তালহা রা. বাড়ীতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন ? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবু তালহা রা. ভাবলেন, তাঁর স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রাত যাপন করলেন এবং ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাকে জানালেন, ছেলেটি মারা গেছে। এরপর তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাদের রাতের ঘটনা জানালেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : আশা করা যায়, আল্লাহ পাক তোমাদের এ রাতে বরকত দিবেন। সুফিয়ান রা. বলেন, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি (আবু তালহা রা. দম্পতির নয়জন সন্তান দেখেছি, তাঁরা সবাই কুরআন সম্পর্কে দক্ষ ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২২৪ – বিপদের প্রথম অবস্থায়ই প্রকৃত সবর ।

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আনাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন বিপদের প্রথম অবস্থায়ই প্রকৃত সবর।

বুখারি হাদিস নং ১২২৫ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী : তোমাদের কারণে আমরা অবশ্যই শোকাভিভূত।

হাসান ইবনে আবদুল আযীয রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে আবু সায়ফ কর্মকারের কাছে গেলাম। তিনি ছিলেন (নবী-তনয়) ইবরাহীম রা.-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং তাকে নাকে-মুখে লাগালেন। এরপর (আর একদিন) আমরা তার (আবু সায়ফ-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইবরাহীম মুমূর্ষ অবস্থায়। এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উভয় চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আর আপনিও ? (কাঁদছেন ?) তখন তিনি বললেন : অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন। আর হে ইবরাহীম ! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকাভিভূত । মূসা রহ………আনাস রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ১২২৬ – পীড়িত ব্যক্তির কাছে কান্নাকাটি করা।

আসবাগ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে সাথে নিয়ে তাকে দেখতে আসলেন। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাকে পরিজন-বেষ্টিত দেখতে পেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা বললেন, না । ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেদে ফেললেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেন : শুনে রাখ ! নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে আযাব দিবেন না। তিনি আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহবার দিকে ইশারা করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যক্তির জন্য তার পরিজনের বিলাপের কারণে তাকে আযাব দেওয়া হয় । উমর রা. এ (ধরণের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা প্রহার করতেন, কংকর নিক্ষেপ করতেন বা মাটি ছুড়ে মারতেন।

বুখারি হাদিস নং ১২২৭ – কান্না ও বিলাপ নিষিদ্ধ হওয়া এবং তাঁতে বাঁধা প্রদান করা।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাওশাব রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মুতার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে) যায়েদ ইবনে হারিসা, জাফর এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.-এর শাহাদাত লাভের খবর পৌঁছলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পড়লেন; তাঁর মধ্যে শোকের চিহ্ন প্রকাশ পেল। আমি (আয়িশা রা. দরওয়াযার ফাঁক দিয়ে ঝুঁকে তা দেখছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে সম্বোধন করেন, (ইয়া রাসূলাল্লাহ! জাফর রা.-এর (পরিবারের) মহিলাগণের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য তাকে আদেশ করলেন। সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। পরে এসে বললেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তারা তাকে মানেনি। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য দ্বিতীয়বার তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চলে গেলেন এবং আবার এসে বললেন, আল্লাহর কসম ! অবশ্যই তাঁরা আমাকে (বা বলেছেন আমাদেরকে) হার মানিয়েছে। আয়িশা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তাদের মুখে মাটি ছুড়ে মারো। (আয়িশা রা. বলেন) আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাক ধুলি মিশ্রিত করুন। আল্লাহ কসম ! তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা করতে পারছো না আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিরক্ত করতেও কসুর করনি।

হাদীস নং ১২২৮

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ……….উম্মে আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ থেকে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। আমাদের মধ্যে হতে পাঁচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল আলা, আবু সাবরাহর কন্যা মুআযের স্ত্রী, আরো দু’ জন মহিলা বা মুআযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।

বুখারি হাদিস নং ১২২৯ – জানাযার জন্য দাঁড়ানো।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আমির ইবনে রাবীআ রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা জানাযা (যেতে) দেখলে তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে। হুমাইদী আরও উল্লেখ করেছেন, তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া বা মাটিতে নামিয়ে রাখা পর্যন্ত

বুখারি হাদিস নং ১২৩০ – জানাযার জন্য দাঁড়ানো হলে কখন বসবে।

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা জানাযা যেতে দেখলে দাঁড়িয়ে পড়বে, এরপর যারা তার অনুগামী হবে, তারা তা নামিয়ে না রাখা পর্যন্ত বসবে না।

হাদীস নং ১২৩১

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………সাঈদ মাকবুরী রহ. এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একটি জানাযায় শরীক হলাম । (সেখানে) আবু হুরায়রা রা. মারওয়ানের হাত ধরলেন এবং তাঁরা জানাযা নামিয়ে রাখার আগেই বসে পড়লেন। তখন আবু সাঈদ রা. এগিয়ে এসে মারওয়ানের হাত ধরে বললেন, দাঁড়িয়ে পড়ুন। আল্লাহর কসম ! ইনি (আবু হুরায়রা রা. তো জানেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কাজ করতে (জানাযা নামিয়ে রাখার আগে বসতে) নিষেধ করেছেন। তখন আবু হুরায়রা রা. বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৩২ – যে ব্যক্তি জানাযার অনুগমন করবে, সে লোকদের কাঁধ থেকে তা নামিয়ে না রাখা পর্যন্ত বসবে না আর বসে পড়লে তাকে দাঁড়াবার আদেশ করা হবে।

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আমির ইবনে রাবীআ রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের কেউ জানাযা যেতে দেখলে সে তার সহযাত্রী না হয়, তবে ততক্ষণ সে দাঁড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি জানাযা পিছনে ফেলে বা জানাযা তাকে পিছনে ফেলে যায়, অথবা পিছনে ফেলে যাওয়ার পূর্বে তা (মাটিতে) নামিয়ে রাখা হয়।

বুখারি হাদিস নং ১২৩৩ – যে ব্যক্তি ইয়াহুদীর জানাযা দেখে দাঁড়ায়।

মুআয ইবনে ফাযালা রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও দাঁড়িয়ে পড়লাম এবং আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ তো এক ইয়াহুদীর জানাযা। তিনি বললেন : তোমরা যে কোন জানাযা দেখলে দাঁড়িয়ে পড়বে।

হাদীস নং ১২৩৪

আদম রহ………আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহল ইবনে হুনাইফ ও কায়স ইবনে সা’দ রা. কাদেসিয়াতে বসাছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাচ্ছিল। (তা দেখে) তাঁরা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটাতো এ দেশীয় জিম্মী ব্যক্তির জানাযা।। তখন তাঁরা বললেন, (একবার) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হল, এটা তো এক ইয়াহুদীর জানাযা। তিনি এরশাদ করলেন : সে কি মানুষ নয় ? আবু হামযা রহ………ইবনে আবু লায়লা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাহল এবং কায়স রা.-এর সাথে ছিলাম। তখন তাঁরা দু’জন বললেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে ছিলাম। যাকারিয়া রহ. সূত্রে ইবনে আবু লায়লা রহ. থেকে বর্ণনা করেন, আবু আবু মাসউদ ও কায়স রা. জানাযা যেতে দেখলে দাঁড়িয়ে যেতেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৩৫ – পুরুষরা জানাযা বহন করবে মহিলারা নয়।

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং পুরুষরা তা কাধে বহন করে নেয়, তখন সে নেককার হলে বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও। আর নেককার না হলে সে বলতে থাকে হায় আফসুস ! তোমরা এটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ ? মানব জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষেরা তা শুনলে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলত।

বুখারি হাদিস নং ১২৩৬ – জানাযার কাজ দ্রুত সম্পাদন করা।

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা জানাযা নিয়ে দ্রুতগতিতে চলবে। কেননা, সে যদি পূণ্যবান হয়, তবে এটা উত্তম, যার দিকে তোমরা তাকে এগিয়ে দিচ্ছ আর যদি সে অন্য কিছু হয়, তবে সে একটি অকল্যাণ, যাকে তোমরা তোমাদের ঘাড় থেকে দ্রুত নামিয়ে ফেলছ।

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১২৩৭ – খাটিয়ায় থাকাকালে মৃত ব্যক্তির উক্তি : আমাকে নিয়ে এগিয়ে চল।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন : যখন জানাযা (খাটিয়ায়) রাখা হয় এবং পুরুষ লোকেরা তা তাদের কাধে তুলে নেয়, সে নেককার হলে, তখন বলতে থাকে আমাকে সামনে এগিয়ে দাও। আর নেককার না হলে সে আপন পরিজনকে বলতে থাকে, হায় আফসুস ! এটা নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ ? মানুষ জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ যদি তা শুনতে পেত তবে অবশ্য সজ্ঞা হারিয়ে ফেলত।

বুখারি হাদিস নং ১২৩৮ – জানাযার সালাতের ইমামের পিছনে দু’ বা তিন কাতারে দাঁড়ানো।

মুসাদ্দাদ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবিসিনিয়ার বাদশাহ) নাজাশীর জানাযা আদায় করেন। আমি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় কাতারে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১২৩৯ – জানাযার সালাতের কাতার।

মুসাদ্দাদ রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ শোনালেন, পরে তিনি সামনে অগ্রসর হলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হলে তিনি চার তাকবীরে (জানাযার সালাত) আদায় করলেন।

হাদীস নং ১২৪০

মুসলিম রহ………..শাবী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন এক সাহাবী যিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে উপস্থিত ছিলেন, তিনি আমাকে খবর দিয়েছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পৃথক কবরের কাছে গমন করলেন এবং লোকদের কাতারবদ্ধ করে চার তাকবীরের সংগে (জানাযার সালাত) আদায় করলেন। (শায়বানী রহ. বলন) আমি শা’বী রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ হাদীস আপনাকে কে বর্ণনা করেছেন ? তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস রা. ।

হাদীস নং ১২৪১

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হাবশা দেশের একজন নেককার লোকের ওফাত হয়েছে, তোমরা এসো তাঁর জন্য (জানাযার) সালাত আদায় কর। রাবী বলেন, আমরা তখন কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জানাযার) সালাত আদায় করলেন, আমরা ছিলাম কয়েক কাতার। আবু যুবাইর রহ. জাবির রা. থেকে বর্ণনা করেন, জাবির রা. বলেছেন, আমি দ্বিতীয় কাতারে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১২৪২ – জানাযার সালাতে পুরুষদের সাথে বালকদের কাতার।

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক (ব্যক্তির) কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যাকে রাতের বেলা দাফন করা হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, একে কখন দাফন করা হল ? সাহাবীগণ বললেন, গত রাতে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে অবহিত করলে না কেন ? তাঁরা বললেন, আমরা তাকে রাতের আধাঁরে দাফন করেছিলাম, তাই আপনাকে জাগানো পছন্দ করিনি। তখন তিনি (সেখানে) দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি তাঁর (জানাযার) সালাত আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৪৩ – জানাযার সালাতের নিয়ম।

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….শা’বী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন এক সাহাবী আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি তোমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে একটি পৃথক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইমামতি করলেন, আমরা তাঁর পিছনে কাতার করলাম এবং সালাত আদায় করলাম। (শায়বানী রহ. বলেন) আমরা (শা’বীকে) জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু আমর ! আপনাকে এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন ? তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস রা.।

বুখারি হাদিস নং ১২৪৪ – জানাযার অনুগমন করার ফজিলত।

আবু নুমান রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা.-এর নিকট বর্ণনা করা হল যে, আবু হুরায়রা রা. বলে থাকেন, যিনি জানাযার অনুগমন করবেন তিনি এক কীরাত (পরিমাণ) সওয়াব পাবেন । তিনি বললেন, আবু হুরায়রা রা. আমাদের বেশী বেশী হাদীস শোনান। তবে আয়িশা রা. এ বিষয়ে আবু হুরায়রা রা.-কে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমিও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ হাদীস বলতে শুনেছি। ইবনে উমর রা. বললেন, তাহলে তো আমরা অনেক কীরাত (সওয়াব) হারিয়ে ফেলেছি। ‘ফাররাত্তু’ এর অর্থ আল্লাহর আদেশ আমি খুইয়ে ফেলেছি।

বুখারি হাদিস নং ১২৪৫ – মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ও আহমদ ইবনে শাবীব ইবনে সাঈদ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মৃতের জন্য সালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কীরাত (সওয়াব) । আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দু’ কীরাত (সওয়াব) জিজ্ঞাসা করা হল দু’ কীরাত কি ? তিনি বললেন, দুটি বিশাল পর্বত সমতুল্য।

বুখারি হাদিস নং ১২৪৬ – জানাযার সালাতে বয়স্কদের সাথে বালকদেরও শরীক হওয়া।

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের কাছে তাশরীফ আনেন। সাহাবাগণ বললেন, একে গত রাতে দাফন করা হয়েছে। তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৪৭ – মুসাল্লা এবং মসজিদে জানাযার সালাত আদায় করা।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবিসিনিয়ার বাদশাহ) নাজাশীর মৃত্যুর দিনই আমাদের তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানান এবং ইরশাদ করেন : তোমরা তোমাদের ভাইয়ের (নাজাশীর) জন্য ইসতিগফার কর। আর ইবনে শিহাব সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব রহ. সূত্রে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে মুসাল্লায় কাতার করলেন, এরপর চার তাকবীর আদায় করেন।

হাদীস নং ১২৪৮

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে (খায়বারের) ইয়াহুদীরা তাদের এক পুরুষ ও এক স্ত্রীলোককে হাজির করল, যারা যিনা করেছিল। তখন তিনি তাদের উভয়কে (রজম করার) নির্দেশ দেন। মসজিদের পাশে জানাযার স্থানের কাছে তাদের দু’ জনকে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করা হল।

বুখারি হাদিস নং ১২৪৯ – কবরের উপরে মসজিদ বানানো অপছন্দনীয়।

উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে ইন্তিকাল করেছিলেন, সে রোগাবস্থায় তিনি বলেছিলেন : ইয়াহুদী ও নাসারা সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর লা’নত, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। আয়িশা রা. বলেন, সে আশংকা না থাকলে তাঁর (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কবরকে উম্মুক্ত রাখা হত, কিন্তু আমার আশংকা যে, (খুলে দেয়া হলে) একে মসজিদে পরিণত করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ১২৫১ – নারী ও পুরুষের (জানাযার সালাতে) ইমাম কোথায় দাঁড়াবেন ?

ইমরান ইবনে মায়সারা রহ………..সামুরা ইবনে জুনদাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আমি এমন এক মহিলার জানাযার সালাত আদায় করেছিলাম, যে নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি তার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৫২ – জানাযার সালাতে চার তাকবীর বলা।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবিসিনিয়ার বাদশাহ) নাজাশীর মৃত্যুর দিন তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানালেন এবং সাহাবীগণকে নিয়ে জানাযার সালাতের স্থানে চার তাকবীর আদায় করলেন।

হাদীস নং ১২৫৩

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ………….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবিসিনিয়ার বাদশাহ) আসহামা-নাজশীর জানাযা সালাত আদায় করলেন, তাঁতে তিনি চার তাকবীর বললেন। ইয়াযীদ ইবনে হারুন ও আবদুস সামাদ রহ. সালীম রহ. থেকে ‘আসহামা’ শব্দ বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৫৪ – জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা।

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার ও মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……..তালহা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আউফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস রা.-এর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করলাম। তাঁতে তিনি সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করলেন এবং (সালাত শেষে) বললেন, (আমি এমন করলাম) যাতে সবাই জানতে পারে যে, তা (সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা) জানাযার সালাতে সুন্নাত ( একটি পদ্ধতি)।

বুখারি হাদিস নং ১২৫৫ – দাফনের পর সামনে রেখে (জানাযার) সালাত আদায়।

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……..শাবী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে এমন এক সাহাবী বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে একটি পৃথক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদের ইমামতি করলেন এবং তাঁরা তাঁর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করলেন। (রাবী বলেন) আমি শা’বী কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু আমর ! আপনার কাছে এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন ? তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস রা.।

হাদীস নং ১২৫৬

মুহাম্মদ ইবনে ফাযল রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, কাল বর্ণের এক পুরুষ বা এক মহিলা মসজিদে ঝাড়ু দিত। সে মারা গেল। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যু সংবাদ জানতে পারেননি। একদিন তার কথা উল্লেখ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ লোকটির কি হল ? সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে তো মারা গিয়েছে। তিনি বললেন : তোমরা আমাকে অবহিত করলে না কেন ? তাঁরা বললেন, সে ছিল এমন এমন (তার) ঘটনা উল্লেখ করলেন। রাবী বলেন, তাঁরা (যেন) তাকে খাট করে দেখলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। রাবী বলেন, তখন তিনি তার কবরের কাছে তাশরীফ এনে তার জন্য জানাযার সালাত আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৫৭ – মৃত ব্যক্তি (দাফনকারীদের) জুতার শব্দ শুনতে পায়।

আয়্যাশ ও খলীফা রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তাকে পিছনে রেখে তার সাথীরা চলে যায় (এতটুকু দূরে যে) তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, এমন সময় তার কাছে দু’ জন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে দেন। এরপর তাঁরা প্রশ্ন করেন, এই যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে তুমি কি বলতে ? তখন সে বলবে, আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গাটি দেখে নাও, যার পরিবর্তে আল্লাহ পাক তোমার জন্য জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারিত করেছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তখন সে দুটি স্থান একই সময় দেখতে পাবে। আর যারা কাফির বা মুনাফিক, তারা বলবে, তুমি নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। এরপর তার দু’ কানের মধ্যবর্তী স্থানে লোহার মুগুর দিয়ে এমন জোরে আঘাত করা হবে, এতে সে চিৎকার করে উঠবে, মানুষ ও জীন ব্যতীত তার আশেপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।

বুখারি হাদিস নং ১২৫৮ – যে ব্যক্তি বায়তুল মুকাদ্দাস বা অনুরূপ কোন স্থানে দাফন হওয়া পছন্দ করেন।

মাহমুদ রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন মালাকুল মাওতকে মূসা আ.-এর কাছে পাঠানো হল। তিনি তাঁর কাছে আসলে, মূসা আ. তাকে চপেটাঘাত করলেন। (এতে তাঁর চোখ বেরিয়ে গেল)। তখন মালাকুল মাওত তাঁর প্রতিপালক এর দরবারে ফিরে গিয়ে বললেন, আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন , যে মরতে চায় না। তখন আল্লাহ তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিয়ে হুকুম করলেন, আবার গিয়ে তাকে বল, তিনি একটি ষাঁড়ের পিঠে তাঁর হাত রাখবেন, তখন তাঁর হাত যতটুকু আবৃত করবে, তার সম্পূর্ণ অংশের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে তাকে এক বছর করে আয়ু দান করা হবে। মূসা আ. এ শুনে বললেন, হে আমার রব ! তারপর কি হবে ? আল্লাহ বললেন : তারপর মৃত্যু। মূসা আ. বললেন, তাহলে এখনই আমি প্রস্তুত। তখন তিনি একটি পাথর নিক্ষেপ করলে যতদূর যায় বাইতুল মুকাদ্দাসের ততটুকু নিকটবর্তী স্থানে তাকে পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তা’আলার কাছে আরয করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এখন আমি সেখানে থাকলে অবশ্যই পাথরের পাশে লাল বালুর টিলার নিকটে তাঁর কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ১২৫৯ – রাতের বেলা দাফন করা।

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাত্রিকালে দাফন করার পর তার (জানাযার) সালাত আদায় করার জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ (দাফনকৃত ব্যক্তির কবরের পাশে) গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন তিনি লোকটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন, এ লোকটি কে ? তাঁরা জবাব দিলেন, অমুক গত রাতে তাকে দাফন করা হয়েছে। তখন তাঁরা সকলে তার (জানাযার) সালাত আদায় করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৬০ – কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা।

ইসমাঈল রহ…………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুস্থতাকালে তাঁর এক সহধর্মিণী হাবশা দেশে তাঁর দেখা ‘মারিয়া’ নামক একটি গীর্জার কথা আলোচনা করলেন। (উম্মাহাতুল মু’মিনীনের মধ্যে) উম্মে সালামা এবং উম্মে হাবীবা রা. হাবশায় গিয়েছিলেন। তাঁরা ঐ গীর্জাটির সৌন্দর্য এবং তাঁতে রক্ষিত চিত্রসমূহের বিবরণ দিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা তুলে বললেন : সে সব দেশের লোকেরা তাদের কোন পূণ্যবান ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর সমাধিতে মসজিদ নির্মাণ করত এবং তাঁতে সে সব চিত্র অংকন করত। তারা হল, আল্লাহর দরবারে নিকৃষ্ট মাখলুক।

বুখারি হাদিস নং ১২৬১ – মেয়েলোকের কবরে যে অবতরণ করে।

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক কন্যার দাফনে হাজির ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশেই বসেছিলেন। আমি দেখলাম, তাঁর দু’ চোখে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলনে লিপ্ত হয়নি ? আবু তালহা রা. বলেন, আমি । তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাঁর কবরে নেমে পড়, তিনি তাঁর কবরে নেমে গেলেন এবং তাকে দাফন করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৬২ – শহীদের জন্য জানাযার সালাত ।

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’দু’ জনকে একই কাপড়ে (কবরে) একত্র করতেন। এরপর জিজ্ঞাসা করতেন, তাদের উভয়ের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জানত ? দু’ জনের মধ্যে এক জনের দিকে ইশারা করা হলে তাকে কবরে আগে রাখতেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন এদের ব্যাপারে সাক্ষী হব। তিনি রক্তমাখা অবস্থায় তাদের দাফন করার নির্দেশ দিলেন, তাদের গোসল দেওয়া হয়নি এবং তাদের (জানাযার) সালাতও আদায় করা হয়নি।

হাদীস নং ১২৬৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বের হলেন এবং উহুদে পৌছে মৃতের জন্য যেরূপ (জানাযার) সালাত আদায় করা হয় উহুদের শহীদানের জন্য অনুরূপ সালাত আদায় করলেন। এরপর ফিরে এসে মিম্বরে তাশরীফ রেখে বললেন : আমি হব তোমাদের জন্য অগ্রে প্রেরিত এবং আমি তোমাদের জন্য সাক্ষী। আল্লাহর কসম ! এ মুহূর্তে আমি অবশ্যই আমার হাউয (হাউয-ই কাউসার) দেখছি। আর অবশ্যই আমাকে পৃথিবীর ঝান্ডার সমূহের চাবি গুচ্ছ প্রদান করা হয়েছে। অথবা (রাবী বলেন ) পৃথিবীর চাবি গুচ্ছ আর আল্লাহর কসম ! তোমরা আমার পরে শিরক করবে এ আশংকা করি না। তবে তোমাদের ব্যাপারে আমার আশংকা যে, তোমরা পার্থিব সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে।

বুখারি হাদিস নং ১২৬৪ – একই কবরে দু’ বা তিনজনকে দাফন করা।

সাঈদ ইবনে সুলাইমান রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি খবর দিয়েছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’ জনকে একত্র করে দাফন করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১২৬৫ – যারা শহীদগণকে গোসল দেওয়ার অভিমত পোষণ করেন না।

আবুল ওয়ালীদ রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তাদেরকে তাদের রক্ত সহ দাফন কর। অর্থাৎ উহুদের যুদ্ধের দিন শহীদগণের সম্পর্কে আর তিনি তাদের গোসলও দেননি।

বুখারি হাদিস নং ১২৬৬ – কবরে প্রথমে কাকে রাখা হবে।

ইবনে মুকাতিল রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’ জনকে একই কাপড়ে (কবরে) একত্রে দাফন করার ব্যবস্থা করে জিজ্ঞাসা করলেন। তাদের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জানত ? দু’ জনের মধ্যে এক জনের দিকে ইশারা করা হলে তাকে কবরে আগে রাখতেন এবং বলতেন, আমি কিয়ামতের দিন এদের ব্যাপারে সাক্ষী হব। তিনি রক্তমাখা অবস্থায় তাদের দাফন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাদের জানাযার সালাতও আদায় করা হয়নি। তাদের গোসলও দেননি। রাবী আওযায়ী রহ. যুহরী রহ. সূত্রে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, তাদের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জানত ? দু’ জনের মধ্যে এক জনের দিকে ইশারা করা হলে তাকে কবরে আগে রাখতেন । জাবির রা. বলেন, আমার পিতা ও চাচাকে একখানা পশমের তৈরী নকশা করা কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল (আর সুলাইমান ইবনে কাসীর রহ. সূত্রে যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির রা. থেকে শুনেছেন।

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১২৬৭ – কবরের উপরে ইযখির বা অন্য কোন ঘাস দেওয়া।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাওশাব রহ………ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক মক্কাকে হারাম (সম্মানিত বা নিষিদ্ধ এলাকা) সাব্যস্ত করেছেন। আমার পূর্বে তা, কারো জন্য হালাল (বৈধ ও উন্মক্ত এলাকা) ছিল না এবং আমার পরেও কারো জন্য তা হালাল হবে না। আমার জন্য একটি দিনের (মক্কা বিজয়ের দিন) কিছু সময় হালাল করা হয়েছিল। কাজেই তার ঘাস উৎপাটন করা যাবে না, তার গাছ কাটা যাবে না, শিকারকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সেখানে পড়ে থাকা (হারানো) বস্তু উঠিয়ে নেওয়া যাবে না, তবে হারানো প্রাপ্তির ঘোষণা প্রদানকারীর জন্য (অনুমতি থাকবে)। তখন আব্বাস রা. বললেন, তবে ইযখির ঘাস, আমাদের স্বর্ণকারদের জন্য এবং আমাদের কবরগুলির জন্য প্রয়োজন। তখন তিনি বললেন : ইযখির ব্যতীত। আবু হুরায়রা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, আমাদের কবর ও বাড়ী ঘরের জন্য। আর আবান ইবনে সালিহ রহ. সাফিয়্যা বিনত শায়বা রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি অনুরূপ বলতে শুনেছি আর মুজাহিদ রহ. ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে বলেন, তাদের কর্মকার ও ঘর-বাড়ীর জন্য।

বুখারি হাদিস নং ১২৬৮ – কোন কারণে মৃত ব্যক্তিকে (লাশ) কবর বা লাহদ থেকে বের করা যাবে কি ?

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই (মুনাফিক সরদাকে) কবর দেওয়ার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (কবরের) কাছে আসলেন এবং তিনি তাকে বের করার নির্দেশ দিলে তাকে বের করা হল। তখন তিনি তাকে তাঁর (নিজের) দু’ হাটুর উপরে রাখলেন, নিজের (মুখের) লালা (তার উপরে ফুকে) দিলেন এবং নিজের জামা তাকে পরিয়ে দিলেন। আল্লাহ সমধিক অবগত। সে আব্বাস রা. -কে একটি জামা পরতে দিয়েছিল। আর সুফিয়ান রহ. বলেন, আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিধানে তখন দুটি জামা ছিল। আবদুল্লাহ (ইবনে উবাই)-এর পুত্র (আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রহ.) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার (পবিত্র) দেহের সাথে জড়িয়ে থাকা জামাটি আমার পিতাকে পরিয়ে দিন। সুফিয়ান রহ. বলেন, তারা মনে করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জামা আবদুল্লাহ (ইবনে উবাই)-কে পরিয়ে দিয়েছিলেন, তার কৃত (ইহসানের) বিনিময় স্বরূপ।

হাদীস নং ১২৬৯

মুসাদ্দাদ রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উহুদ যুদ্ধের সময় উপস্থিত হল, তখন রাতের বেলা আমার পিতা আমাকে ডেকে বললেন, আমার এমনই মনে হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে যারা প্রথমে শহীদ হবেন, আমি তাদের মধ্যে একজন হব। আর আমি আমার (মৃত্যুর) পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত তোমার চাইতে অধিকতর প্রিয় কাউকে রেখে যাচ্ছি না। আমার জিম্মায় করয রয়েছে। তুমি তা পরিশোধ করবে। তোমার বোনদের ব্যাপারে সদুপদেশ গ্রহণ করবে। (জাবির রা. বলেন) পরদিন সকাল হলে (আমরা দেখলাম যে,) তিনিই প্রথম শহীদ । তাঁর কবরে আর একজন সাহাবীকে তাঁর সাথে দাফন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে অন্য একজনের সাথে (একই) কবরে তাকে রাখা আমার মনে ভাল লাগল না। তাই ছয় মাস পর আমি তাকে (কবর থেকে) বের করলাম এবং দেখলাম যে, তাঁর কানে সামান্য চিহ্ন ব্যতীত তিনি সেই দিনের মতই (অক্ষত ও অবিকৃত) রয়েছেন, যে দিন তাকে (কবরে) রেখেছিলাম।

হাদীস নং ১২৭০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতার সাথে আরেকজন শহীদকে দাফন করা হলে আমার মন তাঁতে তুষ্ট হতে পারল না। অবশেষে আমি তাকে (কবর থেকে) বের করলাম এবং একটি পৃথক কবরে তাকে দাফন করলাম।

বুখারি হাদিস নং ১২৭১ – কবরকে লাহদ (বগলী) ও শাকক (সিন্দুক) বানানো।

আবদান রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’জনকে একত্র করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত ? দু’জনের কোন একজনের দিকে ইশারা করা হলে প্রথমে তাকে লাহদ কবরে রাখতেন। তারপর ইরশাদ করেন : কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য সাক্ষী হব। তিনি রক্তমাখা অবস্থায়ই তাদের দাফন করার আদেশ করলেন এবং তাদের গোসলও দেননি।

বুখারি হাদিস নং ১২৭২ – বালক (অপ্রাপ্ত বয়স্ক) ইসলাম গ্রহণ করে মারা গেলে তার জন্য জানাযার সালাত আদায় করা হবে কি?

আবদান রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে একটি দলের অন্তর্ভূক্ত হয়ে ইবনে সাইয়াদ-এর (বাড়ীর) দিকে গেলেন। তাঁরা তাকে (ইবনে সাইয়াদকে) বনূ মাগালা দূর্গের পাশে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলাধূলারত পেলেন। তখন ইবনে সাইয়াদ বালিগ হওয়ার নিকটবর্তী হয়েছিল। সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আগমন অনুভব করার আগেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল ? ইবনে সাইয়াদ তাঁর দিকে দৃষ্টি করে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। এরপর সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল ? তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন : আমি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। তারপর তিনি তাকে (ইবনে সাইয়াদকে) জিজ্ঞাসা করলেন ? তুমি কি দেখে থাক ? ইবনে সাইয়াদ বলল, আমার কাছে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী আগমন করে থাকে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেলেন : ব্যাপারটি তোমার কাছে বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : আমি একটি বিষয়ে তোমার থেকে (আমার মনের মধ্যে) গোপন রেখেছি। (বলতো সেটি কি ?) ইবনে সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছে ‘আদ-দুখখু’। তখন তিনি ইরশাদ করলেন : তুমি লাঞ্চিত হও ! তুমি কখনো তোমার (জন্য নির্ধারিত) সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। তখন উমর রা. বললেন : যদি সে সেই (অর্থাৎ মাসীহ দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তাহলে তাকে কাবু করার ক্ষমতা তোমাকে দেওয়া হবে না। আর যদি সে সেই (দাজ্জাল) না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমার তোমার কোন কল্যাণ নেই। রাবী সালিম রহ. বলেন, আমি ইবনে উমর রা. -কে বলতে শুনেছি, এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উবাই ইবনে কা’ব রা. ঐ খেজুর বাগানের দিকে গমন করলেন। যেখানে ইবনে সাইয়াদ ছিল। ইবনে সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার আগেই ইবনে সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর থেকে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ইবনে সাইয়াদের মা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কান্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলছেন। সে তখন ইবনে সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ ! (এটি ইবনে সাইয়াদের ডাক) নাম। এই যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইবনে সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : সে (ইবনে সাইয়াদের মা) তাকে (যথাস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেত। শুআইব রহ. তাঁর হাদীসে فرفضه বলেন. এবং সন্দেহের সাথে বলেন, رمرمة অথবা زمزمة এবং উকাইল রহ. বলেছেন, رمرمة আর মামার বলেছেন رمزة ।

হাদীস নং ১২৭৩

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী বালক, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমত করত, সে একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখার জন্য আসলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসে তাকে বললেন : তুমি ইসলাম গ্রহণ কর, সে তখন তার পিতার দিকে তাকাল, সে তার কাছেই ছিল, পিতা তাকে বলল, আবুল কাসিম (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুনিয়াত) এর কথা মেনে নাও, তখন সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ইরশাদ করলেন। যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন।

হাদীস নং ১২৭৪

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার মা (লুবাবাহ বিনতে হারিস) মুসতায আফীন (দুর্বল, অসহায়) এর অন্তর্ভূক্ত ছিলাম। আমি ছিলাম নাবালিগ শিশুদের মধ্যে আর আমার মা ছিলেন মহিলাদের মধ্যে।

হাদীস নং ১২৭৫

আবুল ইয়ামান রহ……..শুআইব রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে শিহাব রহ. বলেছেন , নবজাত শিশু মারা গেলে তাদের প্রত্যেকের জানাযার সালাত আদায় করা হবে। যদিও সে কোন ভ্রষ্টা মায়ের সন্তানও হয়। এ কারণে যে, সে সন্তানটি ইসলামী ফিতরাত (তাওহীদ) এর উপর জন্মলাভ করেছে। তার পিতামাতা ইসলামের দাবীদার হোক বা বিশেষভাবে তার পিতা। যদিও তার মা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের অনুসারী হয়। নবজাত শিশু স্বরবে কেদে থাকলে তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে। আর যে শিশু না কাঁদবে, তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে না। কেননা, সে অপূর্ণাংগ সন্তান। কারণ, আবু হুরায়রা রা. হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তার মা-বাবা তাকে ইয়াহুদী বা খ্রীষ্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কানকাটা দেখতে পাও ? (বরং মানুষেরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাতে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাবা তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবু হুরায়রা রা. তিলাওয়াত করলেন فطرة الله التي فطر الناس عليها الآية আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন……..। (সূরা রূম : ৩০)।

হাদীস নং ১২৭৬

আবদান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের উপর জন্মলাভ করে। এরপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী, নাসারা বা মাজূসী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাংগ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে কোন (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও ? এরপর আবু হুরায়রা রা. তিলাওয়াত করেলন : فطرة الله التي فطر الناس عليها لا تبديل لخلق الله ذلك الدين القيم আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর, সে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, এটাই সরল সুদৃঢ় দীন। (সূরা রূম : ৩০)।

বুখারি হাদিস নং ১২৭৭ – মুশরিক ব্যক্তি মৃত্যুকালে (কালিমায়ে তাওহীদ) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ উচ্চারণ করলে।

ইসহাক রহ……সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবু জাহল ইবনে হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমায়্যা ইবনে মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (রাবী বলেন) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালিবকে লক্ষ্য করে বললেন : চাচাজান ! ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালিমা পাঠ করুন, তাহলে এর অসীলায় আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব। আবু জাহল ও আবু আবদুল্লাহ ইবনে আবু উমায়্যা বলে উঠল, ওহে আবু তালিব ! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমুখ হবে ? এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে কালিমা পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু’জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবু তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে অস্বীকার করল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ নাযিল করেন : ما كان للنبي الآية নবীর জন্য সংগত নয়…….(সূরা তাওবা : ১১৩)।

বুখারি হাদিস নং ১২৭৮ – কবরের উপরে খেজুরের ডাল পুঁতে দেওয়া।

ইয়াহইয়া রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এমন দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কবর দুটির বাসিন্দাদের আযাব দেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন : এদের বিরত থাকা) দুরূহ ছিল। তাদের একজন পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না আর অপরজন চুগলখুরী করে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু’ভাগ করলেন। তারপর প্রতিটি কবরে একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি কেন এরূপ করলেন ? তিনি বললেন : ডাল দুটি না শুকান পর্যন্ত আশা করি তাদের আযাব হালকা করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ১২৭৯ – কবরের পাশে কোন মুহাদ্দিস এর ওয়াজ করা আর তার সংগীদের তার আশেপাশে বসা।

উসমান রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বাকীউল গারফাদ (কবরস্থানে) এক জানাযানায় উপস্থিত ছিলাম ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আগমন করলেন। তিনি উপবেশন করলে আমরাও তাঁর চারদিকে বসে পড়লাম। তাঁর হাতে একটি ছুড়ি ছিল। তিনি নীচের দিকে তাকিয়ে তাঁর ছুড়িটি দ্বারা মাটি খুদতে লাগলেন। এরপর বললেন : তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, অথবা বললেন : এমন কোন সৃষ্ট প্রাণী নেই, যার জন্য জান্নাত ও জাহান্নমে জায়গা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়নি আর এ কথা লিখে দেওয়া হয়নি যে, সে দুর্ভাগা হবে কিংবা ভাগ্যবান। তখন এক ব্যক্তি আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তাহলে কি আমরা আমাদের ভাগ্যলিপির উপর ভরসা করে আমল করা ছেড়ে দিব না ? কেননা, আমাদের মধ্যে যারা ভাগ্যবান তারা অচিরেই ভাগ্যবানদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। আর যারা দুর্ভাগা তারা অচিরেই দুর্ভাগাদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। তিনি বললেন :যারা ভাগ্যবান, তাদের জন্য সৌভাগ্যেরও আমল সহজ করে দেওয়া হয় আর ভাগ্যাহতদের জন্য দুর্ভাগ্যের আমল সহজ করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন: “কাজেই যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে………।(সূরা লাইল : ৫-১০)।

বুখারি হাদিস নং ১২৮০ – আত্মহত্যাকারী প্রসঙ্গে।

মুসাদ্দাদ রহ……….সাবিত ইবনে যাহহাক রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের (অনুসারী হওয়ার) ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা হলফ করে সে যেমন বলল, তেমনই হবে আর যে ব্যক্তি কোন ধারলো লোহা দিয়ে আত্মহত্যা করে তাকে তা দিয়েই জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে। হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ. বলেন, জারীর ইবনে হাযিম রহ. আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাই নি এবং আমরা এ আশংকাও করিনি যে, জুনদাব রহ. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির (দেহে) যখন ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ পাক বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।

হাদীস নং ১২৮১

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) বর্শা বিঁধতে থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ১২৮২ – মুনাফিকদের জানাযার সালাত আদায় করা এবং মুশরিকদের জন্য মাগফিরাত কামনা করা মাকরূহ হওয়া।

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মুনাফিক সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আহবান করা হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি ইবনে উবাই-র জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন ? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার শানে এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে। এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুনেগুনে পুনরাবৃত্তি করলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, উমর, সরে যাও। আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তর বারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে তাহলে আমি অবশ্যই তার চাইতে অধিক বার মাফ চাইতাম । উমর রা. বলেন, এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেন এবং ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের এ দুটি আয়াত নাযিল হল: “ তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে তারা ফাসিক। (আয়াত : ৮৪) রাবী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সমধিক অবগত।

বুখারি হাদিস নং ১২৮৩ – মৃত ব্যক্তির সম্পর্কে লোকদের সদগুণ আলোচনা।

আদম রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাহাবী একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাঁরা তার প্রশংসা করলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ওয়াজিব হয়ে গেল। একটু পরে তাঁরা অপর একটি জানাযা অতিক্রম করলেন। তখন তাঁরা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করলেন। (এবারও) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ওয়াজিব হয়ে গেল। তখন উমর ইবনে খাত্তাব রা. আরয করলেন, (ইয়া রাসূলাল্লাহ) কি ওয়াজিব হয়ে গেল ? তিনি বললেন : এ (প্রথম ) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর এ (দ্বিতীয়) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরা তো পৃথিবীর বুকে আল্লাহর সাক্ষী।

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ১২৮৪

আফফান ইবনে মুসলিম রহ……..আবুল আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনায় আসলাম, তখন সেখানে একটি রোগ (মহামারী আকারে) ছড়িয়ে পড়েছিল। আমি উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করল। তখন জানাযার লোকটি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। উমর রা. বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। এরপর অপর একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তখন সে লোকটি সম্পর্কেও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। (এবারও) তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। এরপর তৃতীয় একটি (জানাযা) অতিক্রম করলে, লোকটি সম্বন্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্য করা হল। তিনি বলেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। আবুল আসওয়াদ রা. বলেন, আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন ! কি ওয়াজিব হয়ে গেল ? তিনি বললেন, আমি তেমনই বলেছি, যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যে কোন মুসলমান সম্পর্কে চার ব্যক্তি ভাল হওয়ার সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। উমর রা. বলেন ) তখন আমরা বলেছিলাম, তিন জন হলে ? তিনি বললেন, তিনজন হলেও। আমরা বললাম, দু’জন হলে ? তিনি বললেন, দু’জন হলেও। তারপর আমরা একজন সম্পর্কে আর তাকে জিজ্ঞাসা করিনি।

বুখারি হাদিস নং ১২৮৫ – কবর আযাব প্রসঙ্গে।

হাফস ইবনে উমর রহ………বারা ইবনে আযিব রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু’মিন ব্যক্তিকে যখন তার কবরে বসানো হয় তখন তার কাছে উপস্থিত করা হেব ফেরেশতাগণকে। তারপর (ফেরেশতাগণের জিজ্ঞাসার জওয়াবে) সে সাক্ষ্য প্রদান করে যে “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। ঐ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছে আল্লাহর কালাম :আল্লাহ পার্থিব জীবনে ও আখিরাতে অবিচল রাখবেন সে সকল লোককে যারা ঈমান এনেছে, শাশ্বত বাণীতে (কালিমায়ে তায়্যিবা) । ( ১৪ : ২৭ )

হাদীস নং ১২৮৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বদরে নিহত) গর্তবাসীদের দিকে ঝুঁকে দেখে বললেন : তোমাদের সাথে তোমাদের রব যে ওয়াদা করেছিলেন, তা তোমরা বাস্তব পেয়েছো তো ? তখন তাকে বলা হল, আপনি মৃতদের ডেকে কথা বলছেন ? (ও কি শুনতে পায় ?) তিনি বললেন :তোমরা তাদের চাইতে বেশী শুনতে পাও না, তবে তারা সাড়া দিতে পারছে না।

হাদীস নং ১২৮৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে , নিশ্চয়ই তারা এখন ভালভাবে জানতে (ও বুঝতে) পেরেছে যে, (কবর আযাব প্রসঙ্গে) আমি তাদের যা বলতাম তা বাস্তব। আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন : “আপনি (হে নবী !) নিশ্চিতই মৃতদের (কোন কথা) শোনাতে পারেন না”।

হাদীস নং ১২৮৮

আবদান রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোক আয়িশা রা.-এর কাছে এসে কবর আযাব সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে (দু’আ করে) বলল, আল্লাহ আপনাকে কবর আযাব থেকে রক্ষা করুন। পরে আয়িশা রা. কবর আযাব সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন : হ্যাঁ, কবর আযাব (সত্য)। আয়িশা রা. বলেন, এরপর থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এমন কোন সালাত আদায় করতে আমি দেখিনি, যাতে তিনি কবর আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। (এ হাদীসের বর্ণনায়) গুনদার অধিক উল্লেখ করেছেন যে, কবর আযাব বাস্তব সত্য।

হাদীস নং ১২৮৯

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি আসমা বিনতে আবু বকর রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, তাঁতে তিনি কবরে মানুষ যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তার বর্ণনা দিলে মুসলমানগণ ভয়ার্ত চিৎকার করতে লাগলেন।

হাদীস নং ১২৯০

আইয়াশ ইবনে ওয়ালীদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (মৃত) বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথী এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে সে (মৃত ব্যক্তি) তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এ সময় দু’জন ফেরেশতা তার কাছে এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তুমি কি বলতে ? তখন মু’মিন ব্যক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানস্থলটির দিকে নযর কর, আল্লাহ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থান স্থল দান করেছেন। তখন সে দুটি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে দেখবে। কাতাদা রহ. বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি পুনরায় আনাস রা. এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি (আনাস) রা. বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যক্তি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে কি বলতে ? সে উত্তরে বলবে, আমি জানি না। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফরে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’ জাতি (মানব ও জিন) ব্যতীত তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।

হাদীস নং ১২৯১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..শু’বা সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন যে, “আল্লাহ অবিচল রাখবেন যারা ঈমান এনেছে……..১৪ : ২৭ ) এ আয়াত কবরের আযাব সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ১২৯২ – কবরে আযাব থেকে পানাহ চাওয়া।

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..আবু আইয়ূব (আনসারী) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) সূর্য ডুবে যাওয়ার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তখন তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন : ইয়াহুদীদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে। (এটা আযাব দেওয়ার বা আযাবের ফেরেশতাগণের বা ইয়াহুদীদের আওয়াজ)। (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) নযর রহ………..আবু আইয়ূব রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (অনুরূপ) বর্ণনা করেছেন।

হাদীস নং ১২৯৩

মুআল্লা রহ………বিনতে খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবর আযাব থেকে পানাহ চাইতে শুনেছেন।

হাদীস নং ১২৯৪

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেন, ইয়া আল্লাহ ! আমি আপনার সমীপে পানাহ চাচ্ছি কবর আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে।

বুখারি হাদিস নং ১২৯৫ – গীবত এবং পেশাবে (অসতর্কতা)-এর কারণে কবর আযাব।

কুতাইবা রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন : ঐ দু’জনকে আযাব দেওয়া হচ্ছে আর কোন কঠিন কাজের কারণে তাদের আযাব দেওয়া হচ্ছে না। এরপর তিনি বললেন : হ্যাঁ (আযাব দেওয়া হচ্ছে) তবে তাদের একজন পরনিন্দা করে বেড়াত, অন্যজন তার পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। (রাবী বলেন) এরপর তিনি একটি তাজা ডাল নিয়ে দু’খণ্ডে ভেঙ্গে ফেললেন। তারপর সে দু’খণ্ডের প্রতিটি এক এক কবরে পুঁতে দিলেন। এরপর বললেন : আশা করা যায় যে এ দুটি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের আযাব লঘু করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ১২৯৬ – মৃত ব্যক্তির সামনে সকালে ও সন্ধ্যায় (জান্নাত ও জাহান্নামে তার অবস্থান স্থল) উপস্থাপন করা হয়।

ইসমাঈল রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ মারা গেলে অবশ্যই তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার অবস্থান স্থল উপস্থাপন করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে (অবস্থান স্থল) জান্নাতীদের মধ্যে দেখানো হয়। আর সে জাহান্নামী হলে, তাকে জাহান্নামীদের (অবস্থান স্থল দেখানো হয়) আর তাকে বলা হয় , এ হচ্ছে তোমার অবস্থান স্থল, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ পাক তোমাকে উত্থিত করা পর্যন্ত।

বুখারি হাদিস নং ১২৯৭ – খাটিয়ার উপর থাকাবস্থায় মৃত ব্যক্তির কথা বলা।

কুতাইবা রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মৃত ব্যক্তিকে খাটিয়ায় রেখে লোকেরা যখন কাঁধে বহন করে নিয়ে যায় তখন সে নেককার হলে বলতে থাকে, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল, আর সে নেককার না হলে বলতে থাকে হায় আফসুস ! এটাকে নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ ? মানুষ ব্যতীত সব কিছুই তার এ আওয়াজ শুনতে পায়। মানুষেরা তা শুনতে পেলে অবশ্যই বেহুঁশ হয়ে যেত।

বুখারি হাদিস নং ১২৯৮ – মুসলমানদের (নাবালিগ) সন্তানদের বিষয়ে যা বলা হয়েছে।

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে কোন মুসলিম ব্যক্তির এমন তিনটি (সন্তান) মারা যাবে, যারা বালিগ হয়নি, আল্লাহ পাক তাদের প্রতি তাঁর রহমতের ফযলে সে ব্যক্তিকে (মা-বাবাকে) জান্নাতে দাখিল করবেন।

হাদীস নং ১২৯৯

আবুল ওয়ালীদ রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (নবী তনয়) ইবরাহীম রা.-এর ওফাত হলে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাঁর জন্য তো জান্নাতে একজন দুধ-মা রয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩০০ – মুশরিকদের শিশু সন্তান প্রসঙ্গে।

হিব্বান ইবনে মূসা রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিকদের শিশু সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন : আল্লাহ তাদের সৃষ্টি লগ্নেই তাদের ভবিষৎ আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।

হাদীস নং ১৩০১

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিকদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন : আল্লাহ তাদের ভবিষৎ আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ১৩০২

আদম রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহুদী বা খৃষ্টান অথবা অগ্নি উপাসকরূপে রূপান্তরিত করে, যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে (জন্মগত) কানকাটা দেখেছ।

বুখারি হাদিস নং ১৩০৩ – পরিচ্ছেদ ৮৭৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………সামুরা ইবনে জুনদাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজর) সালাত শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন এবং জিজ্ঞাসা করতেন, তোমাদের কেউ গত রাতে কোন স্বপ্ন দেখেছ কি ? (বর্ণনাকারী) বলেন, কেউ স্বপ্ন দেখে থাকলে তিনি তা বিবৃত করতেন। তিনি তখন আল্লাহর মর্জি মুতাবিক তাবীর বলতেন। একদিন আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তোমাদের কেউ কি কোন স্বপ্ন দেখেছ ? আমরা বললাম, জী না । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : গত রাতে আমি দেখলাম, দু’জন লোক এসে আমার দু’হাত ধরে আমাকে পবিত্র ভূমির দিকে নিয়ে চললো। হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি বসে আছে আর এক ব্যক্তি লোহার আকড়া হাতে দাঁড়িয়ে আছে। (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) আমাদের এক সাথী মূসা রহ. বর্ণনা করেছেন যে, দণ্ডায়মান ব্যক্তি উপবিষ্ট ব্যক্তির (এক পাশের) চোয়ালটা এমনভাবে আখড়াধারী বিদ্ধ করছিল যে, তা (চোয়াল বিদীর্ণ করে) মস্তকের পশ্চাদ্ভাগ পর্যন্ত পৌছে যাচ্ছিল। তারপর অপর চোয়ালটিও পূর্ববৎ বিদীর্ণ করল। ততক্ষণ প্রথম চোয়ালটা জোড়া লেগে যাচ্ছিল। আখড়াধারী ব্যক্তি পুনরায় সেরূপ করছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কি হচ্ছে ? সাথী দ্বয় বললেন, (পরে বলা হবে এখন) চলুন। আমরা চলতে চলতে চিৎ হয়ে শায়িত এক ব্যক্তির পাশে এসে উপস্থিত হলাম, তার শিয়রে পাথর হাতে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পাথর দিয়ে তার মাথা চূর্ণ করে দিচ্ছিল।

নিক্ষিপ্ত পাথর দূরে গড়িয়ে যাওয়ার ফলে তা তুলে নিয়ে শায়িত ব্যক্তির নিকট ফিরে আসার পূর্বেই বিচূর্ণ মাথা পূর্ববৎ জোড়া লেগে যাচ্ছিল। সে পুনরায় মাথার উপরে পাথ র নিক্ষেপ করছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, লোকটি কে ? তাঁরা বললেন চলুন। আমরা অগ্রসর হয়ে চুলার ন্যায় এক গর্তের নিকট উপস্থিত হলাম। গর্তের উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ ও নীচের অংশ প্রশস্ত এবং এর নীচ দেশ থেকে আগুন জ্বলছিল। আগুন গর্ত মুখের নিকটবর্তী হলে সেখানের লোকগুলোও উপরে চলে আসত যেন তার গর্ত থেকে বের হয়ে যাবে। আগুন ক্ষীণ হয়ে গেলে তারাও (তলদেশে) ফিরে যায়। গর্তের মধ্যে বহুসংখ্যক উলঙ্গ নারী-পুরুষ ছিল। জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা ? তাঁরা বললেন, চলুন। আমরা চলতে চলতে একটি রক্ত প্রবাহিত নদীর নিকট উপস্থিত হলাম। নদীর মাঝখানে এক ব্যক্তি দাঁড়ানো ছিল, (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) ইয়াযীদ ইবনে হারূন ও ওহাব ইবনে জারীর ইবনে হাযিম রহ. বর্ণনায় وعلى شط النهر رجر بين يديه حجارة রয়েছে। নদীর তীরে অপর এক ব্যক্তি যার সামনে ছিল পাথর । নদীর মাঝখানের লোকটি নদী থেকে বের হয়ে আসার জন্য অগ্রসর হলেই তীরে দাঁড়ানো লোকটি সে ব্যক্তির মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করত, এতে সে পূর্ব স্থানে ফিরিয়ে দিত। এমনভাবে যতবার সে তীরে উঠে আসতে চেষ্টা করে ততবার সে ব্যক্তি তার মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করে পূর্ব স্থানে ফিরে যেতে বাধ্য করে। আমি জানতে চাইলাম এ ঘটনার কারণ কি ? তাঁরা বললেন, চলতে থাকুন। আমরা চলতে চলতে একটি সবুজ বাগানে উপস্থিত হলাম। এতে একটি বড় গাছ ছিল। গাছটির গোড়ায় একজন বয়ঃবৃদ্ধ লোক ও বেশ কিছু বালক-বালিকা ছিল। হঠাৎ দেখি যে, গাছটির সন্নিকটে এক ব্যক্তি সামনে আগুন রেখে তা প্রজ্ব্বলিত করছিল। সাথী দ্বয় আমাকে নিয়ে গাছে আরোহণ করে এমন একটি বাড়ীতে প্রবেশ করালেন যে, এর চেয়ে সুদৃশ্য বাড়ী পূর্বে আমি কখনো দেখিনি। বাড়ীতে বহ সংখ্যক বৃদ্ধ, যুবক, নারী এবং বালক-বালিকা ছিল।

এরপর তাঁরা আমাকে সেখান হতে বের করে নিয়ে গাছে আরো উপরে আরোহণ করে অপর একটি বাড়ীতে প্রবেশ করালেন। এটা পূর্বাপেক্ষা অধিক সুদৃশ্য ও সুন্দর । বাড়িটিতে কতিপয় বৃদ্ধ ও যুবক অবস্থান করছিলেন। আমি বললাম, আজ রাতে আপনারা আমাকে (বহুদূর পর্যন্ত) ভ্রমণ করালেন। এখন বলুন, যা দেখলাম তার তাৎপর্য কি ? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, আপনি যে ব্যক্তির চোয়াল বিদীর্ণ করার দৃশ্য দেখলেন সে মিথ্যাবাদী ; মিথ্যা কথা বলে বেড়াত, তার বিবৃত মিথ্যা বর্ণনা ক্রমাগত বর্ণিত হয়ে দূর দূরান্তে পৌছে যেত। কিয়ামত পর্যন্ত তার সাথে এ ব্যবহার করা হবে। আপনি যার মাথা চূর্ণ করতে দেখলেন, সে এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরাআনের শিক্ষা দান করেছিলেন, কিন্তু রাতের বেলায় সে কুরআন থেকে বিরত হয়ে নিদ্রা যেত এবং দিনের বেলায় কুরআন আনুযায়ী আমল করত না। তার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত এরূপই করা হবে। গর্তের মধ্যে যাদেরকে আপনি দেখলেন, তারা ব্যভিচারী। (রক্ত প্রবাহিত) নদীতে আপনি যাকে দেখলেন, সে সুদখোর। গাছের গোড়ায় যে বৃদ্ধ ছিলেন তিনি ইবরাহীম আ. এবং তাঁর চারপাশের বালক-বালিকারা মানুষের সন্তান। যিনি আগুন জ্বালাচ্ছিলেন তিনি হলেন, জাহান্নামের খাযিন-মালিক নামক ফেরেশতা। প্রথম যে বাড়ীতে আপনি প্রবেশ করলেন তা সাধারণ মুমিনদের বাসস্থান। আর এ বাড়িটি হল শহীদগণের আবাস । আমি (হলাম) জিবরাঈল আর ইনি হলেন মীকাঈল। (এরপর জিবরাঈল আমাকে বললেন) আপনার মাথা উপরে উঠান। আমি উঠিয়ে মেঘমালার ন্যায় কিছু দেখতে পেলাম। তাঁরা বললেন, এটাই হল আপনার আবাসস্থল। আমি বললাম, আমাকে ছেড়ে দিন আমি আমার আবাসস্থলে প্রবেশ করি। তাঁরা বললেন, এখনো আপনার হায়াতের কিছু সময় অবশিষ্ট রয়ে গেছে যা পূর্ণ হয়নি। অবশিষ্ট সময় পূর্ণ হলে অবশ্যই আপনি নিজ আবাসে চলে আসবেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩০৪ – সোমবারে মৃত্যু।

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কয় খণ্ড কাপড়ে তোমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাফন দিয়েছেলেন ? আয়িশা রা. বললেন, তিন খণ্ড সাদা সাহুলী কাপড়ে, এগুলোতে (সেলাই কৃত) জামা ও পাগড়ি ছিল না। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, কোন দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন ? আয়িশা রা. বলেন, সোমবার। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আজ কি বার ? তিনি (আয়িশা রা. বললেন, আজ সোমবার। তিনি (আবু বকর রা. বললেন, আমি আশা করি এখন থেকে আগত রাতের মধ্যে (আমার মৃত্যু হবে) এরপর অসুস্থ কালীন আপন পরিধেয় কাপড়ের প্রতি লক্ষ্য করে তাঁতে জাফরানী রং এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, আমার এ কাপড়টি ধুয়ে তার সাথে আরো দু’খণ্ড কাপড় বৃদ্ধি করে আমার কাফন দিবে। আমি (আয়িশা) বললাম, এটা (পরিধেয় কাপড়টি) পুরাতন। তিনি বললেন, মৃত ব্যক্তির চেয়ে জীবিতদের নতুন কাপড়ের প্রয়োজন অধিক। আর কাফন হল বিগলিত শবদেহের জন্য। তিনি মঙ্গলবার রাতের সন্ধ্যায় ইন্তিকাল করেন, প্রভাতের পূর্বেই তাকে দাফন করা হয়।

বুখারি হাদিস নং ১৩০৫ – আকস্মিক মৃত্যু

সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমার জননীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সাদাকা করে যেতেন। এখন আমি তাঁর পক্ষ হতে সাদকা করলে তিনি এর সওয়াব পাবেন কি ? তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : হ্যাঁ (অবশ্যই পাবে)।

বুখারি হাদিস নং ১৩০৬ – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও উমর রা. এর কবরের বর্ণনা ।

ইসমাঈল ও মুহাম্মদ ইবনে হারব রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগশয্যায় (স্ত্রীগণের নিকট অবস্থানের) পালার সময় কাল জানতে চাইতেন। আমার অবস্থান আজ কোথায় হবে ? আগামি কাল কোথায় হবে ? আয়িশা রা. এর পালা বিলম্বিত হচ্ছে বলে ধারণা করেই এ প্রশ্ন করতেন। (আয়িশা রা. বলেন) যে দিন আমার পালা আসল, সেদিন আল্লাহ তাকে আমার কণ্ঠদেশ ও বক্ষের মাঝে (হেলান দেওয়া অবস্থায়) রূহ কবয করলেন এবং ঘরে তাকে দাফন করা হয়।

হাদীস নং ১৩০৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগশয্যায় বলেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা’নত হোক। কারণ, তারা নিজেদের নবীগণের কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। (রাবী উরওয়া বলেন) এরূপ আশংকা না থাকলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরকে (ঘরের বেষ্টনীতে না রেখে) খোলা রাখা হত। কিন্তু তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশংকা করেন বা আশংকা করা হয় যে, পরবর্তীতে একে মসজিদে পরিণত করা হবে । রাবী হিলাল রহ. বলেন, উরওয়া আমাকে (আবু আমর) কুনিয়াতে ভূষিত করেন আর তখন পর্যন্ত আমি কোন সন্তানের পিতা হইনি।

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদীস নং ১৩০৮

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………..সুফিয়ান তাম্মার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাওযা উটের কুঁচের ন্যায় (উচু) দেখেছেন।

হাদীস নং ১৩০৯

ফারওয়া রহ…………উরওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওয়ালীদ ইবনে আবদুল মালিক এর শাসনামলে যখন (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওযার) বেষ্টনী দেওয়াল ধসে পড়ে, তখন তাঁরা সংস্কার করতে আরম্ভ করলে একটি পা প্রকাশ পায়, তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কদম মুবারক বলে ধারণা করার কারণে লোকেরা খুব ঘাবড়ে যায়। সনাক্ত করার মত কাউকে তারা পায় নি। অবশেষে উরওয়া রহ. তাদের বললেন, আল্লাহর কসম ! এ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা-এর কদম মুবারক নয় বরং এতো উমর রা.-এর পা। (ইমাম বুখারী রা. বলেন) হিশাম রহ. তার পিতা সূত্রে……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা.-কে অসিয়্যত করেছিলেন, আমাকে তাদের (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দু’ সাহাবী) পাশে দাফন করবে না। বরং আমাকে আমার সঙ্গিনী (অন্যান্য উম্মুল মু’মিনীন)-দের সাথে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করবে। (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর পাশে সমাহিত হওয়ার কারণে আমি যেন বিশেষ প্রসংশিত না হই)।

হাদীস নং ১৩১০

কুতাইবা রহ………..আমর ইবনে মায়মুন আওদী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রা. কে দেখেছি, তিনি আপন পুত্র আবদুল্লাহ রা.-কে ডেকে বললেন, তুমি উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রা.-এর নিকট গিয়ে বল, উমর ইবনে খাত্তাব রা. আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এরপর আমাকে আপন সাথীদ্বয় (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রা.)-এর পাশে দাফন করতে তিনি রাযী আছেন কি না ? আয়িশা রা. বললেন, আমি পূর্ব থেকেই নিজের জন্য এর আশা পোষণ করতাম, কিন্তু আজ উমর রা.-কে নিজের উপর প্রাধান্য দিচ্ছি। আবদুল্লাহ রা. ফিরে এলে উমর রা. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কি বার্তা নিয়ে এলে ? তিনি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন ! তিনি আপনার জন্য অনুমতি প্রদান করেছেন। উমর রা. বললেন, সেখানে শয্যা লাভ করাই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মৃত্যুর পর আমার শবদেহ বহন করে (আয়িশা রা. এর নিকট উপস্থিত করে) তাকে সালাম জানিয়ে বলবে, উমর ইবনে খাত্তাব (পুনরায়) আপনার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। তিনি অনুমতি দিলে, সেখানে আমাকে দাফন করবে। অন্যথায় আমাকে মুসলমানদের সাধারণ কবরস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। তারপর উর রা. বলেন, এ কয়েকজন ব্যক্তি যাদের সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন, তাদের অপেক্ষা অন্য কাউকে আমি এ খিলাফতের (দায়িত্বপালনে) অধিক যোগ্য বলে মনে করি না। তাই আমার পর তাঁরা (তাদের মধ্য থেকে) যাকে খলীফা মনোনীত করবেন তিনি খলীফা হবেন।

তোমরা সকলেই তাঁর আদেশ মেনে চলবে, তাঁর আনুগত্য করবে। এ বলে তিনি উসমান, আলী, তালহা , যুবাইর, আবদুর রহমান ইবনে আওফ ও সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-এর নাম উল্লেখ করলেন। এ সময়ে এক আনসারী যুবক উমর রা. এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন ! আল্লাহ প্রদত্ত সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি ইসলামের ছায়াতলে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার সৌভাগ্য লাভ করেছেন যা আপনিও জানেন। এরপর আপনাকে খলীফা নিযুক্ত করা হয় এবং আপনি ন্যায়বিচার করেছেন। সর্বোপরি আপনি শাহাদাত লাভ করছেন। উমর রা. বললেন, হে ভাতিজা ! যদি তা আমার জন্য লাভ লোকসানের না হয়ে বরাবর হয়, তবে কতই না ভাল হবে। (তিনি বললেন) আমার পরবর্তী খলীফাকে ওয়াসিয়্যাত করে যাচ্ছি, তিনি যেন প্রথম দিকের মুহাজিরদের ব্যাপারে যত্নবান হন, তাদের হক আদায় করে চলেন, যেন তাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন। আমি তাকে আনসারদের সাথেও সদাচারের উপদেশ দেই, যারা ঈমান ও মদীনাকে আকড়ে ধরে রয়েছেন, যেন তাদের মধ্যকার সৎকর্মশীলদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং তাদের মধ্যকার (লঘু) অপরাধীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সর্বশেষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্বভুক্ত (সর্বস্তরের মু’মিনদের সম্পর্কে) সতর্ক করে দিচ্ছি যেন মুমিনদের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা হয়, তাদের রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা হয় এবং সাধ্যাতীত কোন দায়িত্ব তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়।

বুখারি হাদিস নং ১৩১১ – মৃতদেরকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ।

আদম রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : তোমরা মৃতদের গালমন্দ কর না। কেননা, তারা আপন কৃত কর্মের ফলাফল পর্যন্ত পৌছে গেছে। (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল কুদ্দুস ও মুহাম্মদ ইবনে আনাস রহ. আমাশ রহ. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনে জা’দ, ইবনে আরআরা ও ইবনে আবু আদী রহ. শু’বা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় আদম রহ. এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৩১২ – দুষ্ট প্রকৃতির মৃতদের আলোচনা।

উমর ইবনে হাফস রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু লাহাব লানাতুল্লাহি আলাইহি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লক্ষ্য করে বলল, সারা দিনের জন্য তোমার ক্ষতি হোক ! (তার এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে) অবতীর্ণ হয় : আবু লাহাবের হস্ত দ্বয় ধ্বংস হোক এবং সেও ধ্বংস হোক।

বুখারি হাদিস নং ১‌২৫০ – নিফাস অবস্থায় মারা গেলে তার জানাযার সালাত।

মুসাদ্দাদ রহ………..সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে আমি এমন এক মহিলার জানাযার সালাত আদায় করেছিলাম, যে নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি তার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে ছিলেন।

জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
জানাযা অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

মন্তব্য করুন