গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

Table of Contents

গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী ১

গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হাদিস ২৪৬

‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ (র)… ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাঃ) যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন প্রথমে তাঁর হাত দু’টো ধুয়ে নিতেন। তারপর সালাতের উযূর মত উযূ করতেন। তারপর তাঁর আঙ্গুলগুলো পানিতে ডুবিয়ে নিয়ে চুলের গোড়া খিলাল করতেন। তারপর তার উভয় হাতের তিন আঁজলা পানি মাথায় ঢালতেন। তারপর তাঁর সারা দেহের উপর পানি পৌঁছিয়ে দিতেন।

হাদিস ২৪৭

মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন, অবশ্য পা দুটো ছাড়া এবং তাঁর লজ্জাস্থান ও যে যে স্থানে নাপাক লেগেছে তা ধুয়ে নিলেন। তারপর নিজের উপর পানি ঢেলে দেন। তারপর থেকে সরে গিয়ে পা দুটো ধুয়ে নেন। এই ছিল তাঁর জানাবাতের গোসল।

হাদিস ২৪৮

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও নবী (সাঃ) একই পাত্র (কাদাহ) থেকে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো।

হাদিস ২৪৯

আবু সালমা (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও ‘আয়িশা (রাঃ) এর ভাই ‘আয়িশা (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তাঁর ভাই তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি প্রায় এক সা’ (তিন কেজির চেয়ে কিছু পরিমাণ বেশি) এর সমপরিমাণ এক পাত্র আনলেন। তারপর তিনি গোসল করলেন এবং নিজের মাথার উপর পানি ঢাললেন। তখন আমাদের ও তাঁর মাঝে পর্দা ছিল।

হাদিস ২৫০

আবু জাফর (রঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ও তাঁর পিতা জাবির ইবনে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) এর কাছে ছিলেন। সেখানে আরো কিছু লোক ছিলেন। তাঁরা তাঁকে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, এক সা’ তোমার জন্য যথেষ্ট। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমার জন্য তা যথেষ্ট নয়। জাবির (রাঃ) বললেনঃ যাঁরা মাথায় তোমার চাইতে বেশি চুল ছিল এবং তোমার চাইতে যিনি উত্তম ছিলেন [রাসূলুল্লাহ সাঃ)] তাঁর জন্য তো এ পরিমাণই যথেষ্ট ছিল। তারপর তিনি এক কাপড়ে আমাদের ইমামতি করেন।

হাদিস ২৫১

ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী (সাঃ) ও মায়মূনা (রাঃ) একই পাত্রের পানি দ্বারা গোসল করতেন। আবু আবদুল্লাহ (রঃ) বলেন, ইবনে ‘উয়ায়না (রঃ) তাঁর শেষ জীবনে ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) এর মাধ্যমে মায়মূনা (রাঃ) থেকে ইহা বর্ণনা করতেন। তবে আবু নু’আয়ম (রাঃ) এর বর্ণনাই ঠিক।

হাদিস ২৫২

জুবায়র ইবনে মুত’ইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আমি আমার মাথায় তিনবার পানি ঢেলে থাকি। এই বলে তিনি উভয় হাতের দ্বারা ইশারা করেন।

হাদিস ২৫৩

জাবির ইবনে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী (সাঃ) নিজের মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন।

হাদিস ২৫৪

আবু জা’ফর (রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাকে জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমার কাছে তোমার চাচাত ভাই অর্থাৎ হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যা এসেছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, জানাবাতের গোসল কীভাবে করতে হয়? আমি বললাম, নবী (সাঃ) তিন আঁজলা পানি নিতেন এবং নিজের মাথার উপর ঢেলে দিতেন। তারপর নিজের সারা দেহে পানি পৌঁছিয়ে দিতেন। তখন হাসান আমাকে বললেন, আমার মাথার চুল খুব বেশি। আমি তাঁকে বললাম, নবী (সাঃ) এর চুল তোমার চেয়ে অধিক ছিল।

গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হাদিস ২৫৫

ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মায়মূনা (রাঃ) বলেনঃ আমি নবী (সাঃ) এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর হাত দু’বার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে তাঁর বাম হাতে পানি নিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন আর তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুয়ে নিলেন। এরপর তাঁর সারা দেহে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’ পা ধুয়ে নিলেন।

হাদিস ২৫৬

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জনাবাতের গোসল করতেন, তখন হিলাবের অনুরূপ পাত্র চেয়ে নিতেন। তারপর এক আজলা পানি নিয়ে প্রথমে মাথার ডান পাশ এবং পরে বাম পাশ ধুয়ে ফেলতেন। দু’হাতে মাথার মাঝখানে পানি ঢালতেন।

হাদিস ২৫৭

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, মায়মূনা রা. বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য গোসলের পানি ঢেলে রাখলাম। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বা হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত ধুইলেন। এরপর তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে নিলেন এবং মাটিতে তাঁর হাত ঘষে নিলেন। পরে তা ধুয়ে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর তাঁর চেহারা ধুইলেন এবং মাথার উপর পানি ঢাললেন। পরে ঐ স্থান থেকে সরে গিয়ে দুই পা ধুইলেন। অবশেষে তাকে একটি রুমাল দেওয়া হল, কিন্তু তিনি তা দিয়ে শরীর মুছলেন না।

হাদিস ২৫৮

আবদুল্লাহ্ ইবনে যুবাইর হুমায়দী রহ……..মায়মূনা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসল করলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেওয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুইলেন। তারপর সালাতের উযূর মত উযূ করলেন। গোসল শেষ করে তিনি দু’পা ধুইলেন।

হাদিস ২৬০

মুসাদ্দাদ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসল করার সময় প্রথমে হাত ধুয়ে নিতেন।

হাদিস ২৬১

আবুল ওয়ালীদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম।আবদুর রহমান ইবনে কাসিম রহ. তাঁর পিতার সূত্রে আয়িশা রা. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

হাদিস ২৬২

আবুল ওয়ালীদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের কেউ কেউ একই পাত্রের পানি নিয়ে গোসল করতেন। মুসলিম রহ. এবং ওয়াহব ইবনে জারীর রহ. শু’বা রা. থেকে তা ফরয গোসল ছিল বলে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ২৬৩

মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব রহ…….মায়মূনা রা. বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি উভয় হাতে পানি ঢেলে দু’বার করে বা তিনবার করে তা ধুইলেন। এরপর তিনি ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢাললেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান ধুইলেন। পরে তাঁর হাত মাটিতে ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। আর তাঁর চেহারা ও হাত দু’টো ধুইলেন। তারপর তাঁর মাথা তিনবার ধুইলেন এবং তাঁর সারা শরীরে পানি ঢাললেন। অবশেষে সেখান থেকে সরে গিয়ে তাঁর দু’পা ধুয়ে ফেললেন।

হাদিস ২৬৪

মূসা ইবনে ইসমা’ঈল রহ…….মায়মূনা বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য গোসলের পানি রেখে পর্দা করে দিলাম। তিনি পানি দিয়ে দু’বার কিংবা তিনবার হাত ধুইলেন। সুলায়মান রা. বলেন, তৃতীয়বারের কথা বলেছেন কিনা আমার মনে পড়ে না। তখন তিনি ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢাললেন এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে নিলেন। তারপর তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুইলেন এবং মাথা ধুয়ে ফেললেন। তারপর তাঁর শরীরে পানি ঢেলে দিলেন। পরে সেখান থেকে সরে গিয়ে তাঁর দু’পা ধুইলেন। অবশেষে আমি তাকে একখন্ড কাপড় দিলাম; কিন্তু তিনি হাতের ইশারায় নিষেধ করলেন এবং তা নিলেন না।

গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হাদিস ২৬৫

মুহাম্মদ ইবনে বাশ্শার রহ……মুহাম্মদ ইবনে মুনতাশির রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি আয়িশা রা. এর কাছে (আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর রা.)এর উক্তিটি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন : আল্লাহ্ আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুশবু লাগাতাম, তারপর তিনি তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। তারপর ভোরবেলায় এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধতেন যে, তাঁর দেহ থেকে খুশবু ছড়িয়ে পড়তো।

হাদিস ২৬৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশ্শার রহ…….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী গণের কাছে দিনের বা রাতের কোন এক সময়ে পর্যায়ক্রমে মিলিত হতেন। তাঁরা ছিলেন এগারজন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি এত শক্তি রাখতেন ? তিনি বললেন, আমরা পরস্পর বলাবলি করতাম যে, তাকে ত্রিশ জনের শক্তি দেওয়া হয়েছে। সাঈদ রা. কাতাদা রা. থেকে বর্ণনা করেন, আনাস রা. তাদের কাছে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে (এগার জনের স্থলে) নয়জন স্ত্রীর কথা বলেছেন।

হাদিস ২৬৭

আবুল ওয়ালীদ রহ……..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমার অধিক মযী বের হতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা আমার স্ত্রী হওয়ার কারণে আমি একজনকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালাম। তিনি প্রশ্ন করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : উযূ কর এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেল।

হাদিস ২৬৮

আবু নু’মান রহ………মুহাম্মদ ইবনে মুনতাশির রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, আমি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর রা.-এর উক্তি উল্লেখ করলাম, -“আমি এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধা পসন্দ করি না, যাতে সকালে আমার দেহ থেকে খুশবু ছড়িয়ে পড়ে। আয়িশা রা. বললেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুগন্ধি লাগিয়েছি, তারপর তিনি পর্যায়ক্রমে তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন এবং তাঁর ইহরাম অবস্থায় প্রভাত হয়েছে।

হাদিস ২৬৯

আদম ইবনে ইয়াস রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি যেন এখনো দেখছি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইহরাম অবস্থায় তাঁর খুশবুর ঔজ্জ্বল্য রয়েছে।

বুখারি হাদিস ২৭০

চুল খিলাল করা এবং চামড়া ভিজেছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাতে পানি ঢালা

হাদিস ২৭১

ইউসুফ ইবনে ঈসা রহ…….মায়মূনা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসলের জন্য পানি রাখলেন। তারপর দু’বার বা তিনবার ডান হাতে বাম হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান ধুইলেন। তারপর তাঁর হাত মাটিতে বা দেওয়ালে দু’বার বা তিনবার ঘষলেন। পরে তিনি কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং চেহারা ও দু’হাত ধুইলেন। তারপর তাঁর মাথায় পানি ঢাললেন এবং তাঁর শরীর ধুইলেন। একটু সরে গিয়ে তাঁর দুই পা ধুইলেন। মায়মূনা রা. বলেন : এরপর আমি একখন্ড কাপড় দিলে তিনি তা নিলেন না, বরং নিজ হাতে পানি ঝেড়ে ফেলতে থাকলেন।

হাদিস ২৭২

আবদুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : একবার সালাতের ইকামত দেওয়া হলে সবাই দাড়িয়ে কাতার সোজা করছিলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন। তিনি মুসাল্লায় দাঁড়ালে তাঁর মনে হলো যে, তিনি জানাবাত অবস্থায় আছেন। তখন তিনি আমাদের বললেন : স্ব স্ব স্থানে দাঁড়িয়ে থাক। তিনি ফিরে গিয়ে গোসল করে আবার আমাদের সামনে আসলেন এবং তাঁর মাথা থেকে পানি ঝরছিল। তিনি তাকবীর (তাহরীমা) বাঁধলেন, আর আমরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম।

আবুল আ’লা রহ. যহরী রহ. থেকে এবং আওযাঈ রহ. ও যহরী রহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ২৭৩

আবদান রহ…..মায়মূনা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম এবং কাপড় দিয়ে পর্দা করে দিলাম। তিনি দু’হাতের উপর পানি ঢেলে উভয় হাত ধুয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধুইলেন। পরে হাতে মাটি লাগিয়ে ঘষে নিলেন এবং ধুয়ে ফেললেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, চেহারা ও দু’হাত (কনুই পর্যন্ত) ধুইলেন। তারপর মাথায় পানি ঢাললেন ও সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করলেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। এরপর আমি তাকে একটা কাপড় দিলাম কিন্তু তিনি তা নিলেন না। তিনি দু’হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন।

গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হাদিস ২৭৪

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমাদের কারও জানাবাতের গোসলের প্রয়োজন হলে সে দু’হাতে পানি নিয়ে তিনবার মাথায় ঢালত।

বুখারি হাদিস ২৭৫

নির্জনে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা এবং পর্দা করে গোসল করা । পর্দা করে গোসল করাই উত্তম

হাদিস ২৭৬

আবদুল্লাহ ইব্‌ন মুসলিম (র.)……উম্মে হানি বিনত আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে গোসলরত অবস্থায় দেখলাম, ফাতিমা (রা) তাঁকে পর্দা করে রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইনি কে? আমি বললামঃ আমি উম্মে হানি।

হাদিস ২৭৭

আবাদন রহ…….মায়মূনা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য পর্দা করেছিলাম আর তিনি জানাবাতের গোসল করছিলেন। তিনি দু’হাত ধুইলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি নিয়ে লজ্জাস্থান এবং যেখানে কিছু লেগেছিল তা ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে বা দেওয়ালে হাত ঘষলেন এবং দু’পা ছাড়া সালাতের উযূর মতই উযূ করলেন। তারপর তাঁর সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করলেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুইলেন। আবু আওয়ান রহ. ও ইবনে ফুযাইল রহ ‘পর্দা করা’ এর ব্যাপারটি এই হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ২৭৮

আবদুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ রহ………উম্মুল মু’মিনীন উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আবু তালহা রা. এর স্ত্রী উম্মে সুলায়ম রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে এসে বললেন : ইয়া রাসূলুল্লাহ্ ! আল্লাহ্ তা’আলা হকের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। স্ত্রীলোকের ইহতিলাম (স্বপ্নদোষ) হলে কি গোসল ফরয হবে ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হাঁ, যদি তারা বীর্য দেখে।

হাদিস ২৭৯

জুনুবী ব্যক্তির ঘাম, মুসলিম অপবিত্র নয়

আলী ইবনে আবদুল্লাহ্ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : তাঁর সঙ্গে মদীনার কোন এক পথে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখা হলো। আবু হুরায়রা রা. তখন জানাবাতের অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, আমি নিজেকে নাপাক মনে করে সরে পড়লাম। পরে আবু হুরায়রা রা. গোসল করে এলেন। পুনরায় সাক্ষাত হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন : হে আবু হুরায়রা ! কোথায় ছিলে ? আবু হুরায়রা রা. বললেন , আমি জানাবাতের অবস্থায় আপনার সঙ্গে বসা সমীচীন মনে করিনি। তিনি বললেন : সুবহানাল্লাহ্ ! মু’মিন নাপাক হয় না।

হাদিস ২৮০

আবদুল আ’লা রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই রাতে পর্যায়ক্রমে তাঁর স্ত্রীদের সাঙ্গে মিলিত হতেন। তখন তাঁর নয়জন স্ত্রী ছিলেন।

হাদিস ২৮১

আয়্যাশ রহ……. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাত হলো, তখন আমি জুনুবী ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন, আমি তাঁর সঙ্গে চললাম। এক স্থানে তিনি বলে পড়লেন। তখন আমি সরে পড়ে বাসস্থানে এসে গোসল করলাম। আবার তাঁর কাছে গিয়ে তাকে বসা অবস্থায় পেলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : আবু হুরায়রা ! কোথায় ছিলে ? আমি তাকে (ঘটনা) বললাম।

হাদিস ২৮২

জুনুবী ব্যক্তির গোসলের আগে উযূ করে ঘরে অবস্থান করা

আবু নু’আয়ম রহ. আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি আয়িশা রা.কে জিজ্ঞাসা করলাম : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতেন ? তিনি বললেন : হাঁ, তবে তিনি উযূ করে নিতেন।

হাদিস ২৮৩

জুনুবীর নিদ্রা

কুতাইবা ইবনে সা’ঈদ রহ……..উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমাদের কেউ জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি ? তিনি বললেন : হাঁ, উযূ করে নিলে জানাবাতের অবস্থায়ও ঘুমাতে পারে।

হাদিস ২৮৪ – জুনুবী উযূ করে ঘুমাবে

ইয়াহইয়া ইবনে বুকায়র রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে ইচ্ছা করতেন তখন তিনি লজ্জাস্থান ধুয়ে সালাতের মত উযূ করতেন।

হাদিস ২৮৫

মূসা ইবনে ইসমা’ঈল রহ……….আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমাদের কেউ জুনুবী অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি ? তিনি বললেন : হাঁ, যদি উযূ করে নেয়।

 

হাদিস ২৮৬

আবদুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ রহ…….আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : উমর ইবনুল খাত্তাব রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, রাত্রে কোন সময় তাঁর জানাবাতের গোসল ফরয হয় (তখন কি করতে হবে ?) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : উযূ করবে, লজ্জাস্থান ধুয়ে নিবে, তারপর ঘুমাবে।

হাদিস ২৮৭ – দু’লজ্জাস্থান পরস্পর মিলিত হলে

মু’আয ইবনে ফাযালা রহ. ও আবু নু’আয়ম রহ……আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে তার সাথে সংগত হলে, গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। আমর রহ. শু’বার সূত্রে এই হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর মূসা রহ. হাসান (বসরী রা.) সূত্রেও অনুরূপ বলেছেন।

আবু আবদুল্লাহ্ রহ. বলেন : এটা উত্তম ও অধিকতর মজবুত। মতভেদের কারণে আমরা অন্য হাদীসটিও বর্ণনা করেছি, গোসল করাই অধিকতর সাবধানতা।

হাদিস ২৮৮ – স্ত্রীর অঙ্গ থেকে কিছু লাগলে ধুয়ে ফেলা

আবু মা’মার রহ……..যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি উসমান ইবনে আফফান রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন : স্বামী-স্ত্রী সংগত হলে যদি মনি বের না হয় (তখন কি করবে)? উসমান রা. বললেন : সালাতের উযূর মত উযূ করবে এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান রা. বলেন : আমি এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। এরপর আলী ইবনে আবু তালিব, যুবাইর ইবনে আওয়াম, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ্ ও উবাই ইবনে কা’ব রা.-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তাঁরা সবাই ঐ একই জবাব দিয়েছেন। আবু সালামা রা. আবু আয়্যূব রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আবু আয়্যূব রা.) এ কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন।

হাদিস ২৮৯

মুসাদ্দাদ রহ………উবাই ইবনে কা’ব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : ইয়া রাসূলুল্লাহ্ ! স্ত্রীর সাথে সংগত হলে যদি বীর্য বের না হয় (তার হুকুম কি)? তিনি বললেন : স্ত্রীর থেকে যা লেগেছে তা ধুয়ে উযূ করবে ও সালাত আদায় করবে। আবু আবদুল্লাহ্ (বুখারী রহ.) বলেন :গোসল করাই শ্রেয় । আর তাই সর্বশেষ হুকুম। আমি এই শেষের হাদীসটি বর্ণনা করেছি মতভেদ থাকার কারণে। কিন্তু পানি (গোসল) অধিক পবিত্রকারী।

গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড
গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

আরও দেখুনঃ

মন্তব্য করুন