গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

গোলাম আযাদ করা অধ্যায়

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৫১ – গোলাম আযাদ করা ও তার ফযীলত এবং আল্লাহ তা’আলার এ বাণী : গোলাম আযাদ অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান ইয়াতীম আত্মীয়কে।

হাদীস নং ২৩৫১

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ কোন মুসলিম গোলাম আযাদ করলে আল্লাহ সেই গোলামের প্রত্যেক অংগের বিনিময়ে তার একেকটি অংগ (জাহান্নামের) আগুন থেকে মুক্ত করবেন।

সাঈদ ইবনে মারজানা রা. বলেন, এ হাদীসটি আমি আলী ইবনে হুসায়নের খিদমতে পেশ করলাম। তখন আলী ইবনে হুসায়ন রা. তার এক গোলামের কাছে উঠে গেলেন যার বিনিময়ে আবদুল্লাহ ইবনে জাফার রা. তাকে দশ হাজার দিরহাম কিংবা এক হাজার দীনার দিতে চেয়েছিলেন এবং তিনি তাকে আযাদ করে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৫২ – কোন ধরনের গোলাম আযাদ করা উত্তম ?

হাদীস নং ২৩৫২

উবাদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ……….আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল উত্তম ?

তিনি বললেন : আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ধরনের গোলাম আযাদ করা উত্তম? তিনি বললেন : যে গোলামের মূল্য অধিক এবং যে গোলাম তার মনিবের কাছে অধিক আকর্ষনীয়।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ যদি আমি করতে না পারি ? তিনি বললেন, তাহলে কাজের লোককে (তার কাজে) সাহায্য করবে কিংবা বেকারকে কাজ দিবে। আমি (আবারও) বললাম, এ-ও যদি না পারি ?

তিনি বললেন: মানুষকে তোমার অনিষ্টতা থেকে মুক্ত রাখবে। বস্তুত : এটা তোমার নিজের জন্য তোমার পক্ষ থেকে সাদকা।

বুখারি হাদিস নং ২৩৫৩ – সূর্যগ্রহণ ও (আল্লাহর কুদরতের) বিভিন্ন নিদর্শন প্রকাশকালে গোলাম আযাদ করা মুস্তাহাব।

হাদীস নং ২৩৫৩

মূসা ইবনে মাসউদ রহ……..আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আলী রহ. দরাওয়ারদী রহ. সূত্রে হিশাম রহ. হাদীস বর্ণনায় মূসা ইবনে মাসউদ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৫৪

হাদীস নং ২৩৫৪

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ……….আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় আমাদেরকে গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দেওয়া হত।

বুখারি হাদিস নং ২৩৫৫ – দু’ব্যক্তির মালিকানাধীন গোলাম বা কয়েকজন অংশীদারের বাদী আযাদ করা।

হাদীস নং ২৩৫৫

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….সালিমের পিতা (ইবনে উমর রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি দু’জনের মালিকানাধীন গোলাম আযাদ করে, সে সচ্ছল হলে প্রথমে গোলামের মূল্য নির্ধারণ করা হবে, তারপর আযাদ করবে।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৫৬

হাদীস নং ২৩৫৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ যদি কোন গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করে আর গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে গোলামের ন্যয্যমূল্য নির্ণয় করা।

তারপর সে শরীকদের কে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং গোলামটি তার পক্ষ থেকে আযাদ হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ থেকে ততটুকুই আযাদ হবে। যতটুকু সে আযাদ করেছে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৫৭

হাদীস নং ২৩৫৭

উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ কোন (শরীকী) গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করলে ঐ গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ কার তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়বে, যদি তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে।

আর যদি তার কাছে কোন অর্থ না থাকে তাহলে তার দায়িত্ব হবে আযাদ কৃত (গোলামের) ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা এতে আযাদকারীর পক্ষ থেকে ততটুকুই আযাদ হবে, যতটুকু সে আযাদ করেছে। মুসাদ্দাদ রহ. বিশর ইবনে মুফাদ্দাল রহ. সূত্রে উবায়দুল্লাহ রহ. উক্ত হাদীসটি সংক্ষিপ্ত বর্ণিত আছে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৫৮

হাদীস নং ২৩৫৮

আবু নুমান রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ কোন (শরীকী) গোলাম থেকে নিজের অংশ বা হিসসা আযাদ করে দিলে এবং তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে তাহলে ঐ গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ হবে যাবে।

নাফি রহ. বলেন, আর যদি তার কাছে কোন অর্থ না থাকে তাহলে তার দায়িত্ব হবে আযাদ কৃত (গোলামের) ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা এতে আযাদকারীর পক্ষ থেকে ততটুকুই আযাদ হবে, রাবী আইউব রহ. বলেন, আমি জানি না, এটা কি নাফি রহ. নিজ থেকে বলেছেন না এটাও হাদীসের অন্তর্ভূক্ত।

বুখারি হাদিস নং ২৩৫৯

হাদীস নং ২৩৫৯

আমহদ ইবনে মিকদাম রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি শরীকী গোলাম বা বাঁদী সম্পর্কে ফাতওয়া দিতেন যে, শরীকী গোলাম শরীকদের কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে তিনি বলতেন, সম্পূর্ণ গোলামটাই আযাদ করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে।

যদি আযাদকারীর কাছে গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে, তাহলে সে অর্থ থেকে গোলামের ন্যায্যমূল্য নির্ণয় করা হবে এবং শরীকদের কে তাদের প্রাপ্য হিসসা পরিশোধ করা হবে, আর আযাদকৃত গোলাম পূর্ণ আযাদ হয়ে যাবে।

বক্তব্যটি ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনাক করেন, এবং লায়ছ, ইবনে আবু যিব, ইবনে ইসহাক জওয়াইরিয়া, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া রহ. নাফি রহ.-এর মাধ্যমে ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৬০

হাদীস নং ২৩৬০

আহমদ ইবনে আবু রাজা রহ. ও মুসাদ্দাদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কেউ শরীকী গোলাম থেকে নিজের ভাগ বা অংশ (রাবীর দ্বিধা) আযাদ করে দিলে নিজ অর্থ ব্যয়ে সেই গোলামাকে রেহাই করা তার উপর কর্তব্য, যদি তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ থাকে।

অন্যথায় তার ন্যায্যমূল্য নির্ধারন করা হবে এবং তাকে অতিরিক্ত কষ্ট না দিয়ে উপার্জন করতে বলা হবে।

হাজ্জাজ ইবনে হাজ্জাজ, আবান ও মূসা ইবনে খালাফ রহ. কাতাদা রহ. থেকে হাদীস সাঈদ ইবনে আবু আরুবা রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। হাদীসটি শুবা রহ. সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

বুখারি হাদিস নং ২৩৬১ – ভুলবশত অথবা অনিচ্ছায় গোলাম আযাদ করা ও স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ইত্যাদি।

হাদীস নং ২৩৬১

হুমাইদী রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (আমার বরকতে) আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উদিত ওয়াসওয়াসা (পাপের ভাব ও চেতনা) মাফ করে দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে বলে।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৬২

হাদীস নং ২৩৬২

মুহাম্মদ ইবনে কাছীর রহ……….উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমলসমূহ নিয়্যতের সাথে সম্পৃক্ত। আর মানুষ তাই পাবে, যা সে নিয়্যত করবে।

কাজেই কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করে থাকলে তার সে হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে বলেই গণ্য হবে।

আর যার হিজরত হবে দুনিয়া হাসিলের উদ্দেশ্য অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার মতলবে; তার হিজরত সে উদ্দেশ্যে বলেই গণ্য হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৬৩ – আযাদ করার নিয়্যতে কোন ব্যক্তি নিজের গোলাম সম্পর্কে সে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট বলা এবং আযাদ করার ক্ষেত্রে সাক্ষী রাখা।

হাদীস নং ২৩৬৩

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছায় আপন গোলামকে সাথে নিয়ে (মদীনায়) আসছিলেন। পথে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন।

পরে গোলামটি এসে পৌছলো। আবু হুরায়রা রা. সে সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে বসা ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু হুরায়রা ! দেখো, তোমার গোলাম এসে গেছে।

তখন তিনি বললেন, শুনুন; আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, সে আযাদ। রাবী বলেন, (মদীনায়) পৌঁছে তিনি বলতেন : কত দীর্ঘ আর কষ্টদায়কই না ছিল হিজরতের সে রাত তবুও আমাকে দারুল কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৬৪

হাদীস নং ২৩৬৪

উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজীর খিদমতে আগমনকালে আমি পথে পথে (কবিতা) বলতাম : হিজরতের সে রাত কতনা দীর্ঘ আর কষ্টদায়ক ছিল- তবুও তা আমাকে দারুল কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছে।

তিনি বলেন, পথে আমার এক গোলাম পালিয়ে গিয়েছিলো। যখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে এসে তাঁর (হাতে) বায়আত হলাম।

আমি তাঁর খিদমতেই ছিলাম, এ সময় গোলামটি এসে হাযির হল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু হুরায়রা! এই যে, তোমার গোলাম !

আমি বললাম, সে আল্লাহর ওয়াস্তে আযাদ। এই বলে তাকে আযাদ করে দিলাম। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আবু কুরায়ব রহ. আবু উসামা রহ. থেকে বর্ণিত রিওয়ায়েতে حر শব্দটি বলেন নি।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৬৫

হাদীস নং ২৩৬৫

শিহাব ইবনে আব্বাদ রহ………কায়স রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আবু হুরায়রা রা. তাঁর গোলামকে সাথে করে ইসলামের উদ্দেশ্যে (মদীনা) আগমন কালে পথিমধ্যে তারা একে অপরকে হারিয়ে ফেললেন এবং তিনি (আবু হুরায়রা) বললেন, শুনন ! আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, সে আল্লাহর জন্য।

বুখারি হাদিস নং ২৩৬৬ – উম্মু ওয়ালাদ প্রসংগে।

হাদীস নং ২৩৬৬

আবুল ইয়ামান রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাস আপন ভাই সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাসকে ওসীয়্যত করেছিলেন, তিনি যেন যামআর দাসীর গর্ভজাত পুত্রকে গ্রহণ করেন। (কারণ স্বরূপ) উতবা বলেছিলেন; সে আমার (ঔরসজাত) পুত্র।

মক্কা বিজয়কালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় তাশরীফ আনলেন ; তখন সাদ যামআর দাসীর পুত্রকে নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে আসলেন এবং তার সাথে আবদ ইবনে যামআকে নিয়ে আসলেন।

সাদ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এতো আমার ভাতিজা। আমার ভাই বলেছেন যে, সে তার ছেলে আবদ ইবনে যামআর বলেলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ আমার ভাই যামআর পুত্র।

তার শয্যাতেই এ জন্ম নিয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন যামআর দাসীর পুত্রের দিকে তাকালেন। দেখলেন, উতবার সাথেই তার (আদলের) সর্বাধিক মিল। তবু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবদ ইবনে যামআ এ -তোমারই (ভাই) কেননা, এ তার (আবদ ইবনে যামআর) শয্যাতে জন্মগ্রহণ করেছে।

তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে সাওদা বিনতে যামআ ! তুমি এ থেকে পর্দা করবে। কেননা তিনি উতবার সাথেই তার মিল দেখতে পেয়েছিলেন। সাওদা ছিলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী।

বুখারি হাদিস নং ২৩৬৭ – মুদাববার বিক্রি করা।

হাদীস নং ২৩৬৭

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের একজন তার এক গোলামকে মুদাববাররূপে আযাদ ঘোষণা করল।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই গোলামকে ডেকে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিলেন। জাবির রা. বলেন, গোলামটি সে বছরই মারা গিয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ২৩৬৮ – গোলামের অভিভাবকত্ব বিক্রি বা দান করা।

হাদীস নং ২৩৬৮

আবুল ওয়ালীদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোলামের অভিভাবকত্ব বিক্রি করতে এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৬৯

হাদীস নং ২৩৬৯

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারীরাকে আমি (আযাদ করার নিয়্যতে) খরিদ করলাম, তখন তার (পূর্বতন) মালিক অভিভাবকত্বের শর্তারোপ করল।

প্রসংগটি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উত্থাপন করলাম। তিনি বললেন, তুমি তাকে আযাদ করে দাও। অভিভাবকত্ব সেই লাভ করবে, যে অর্থ ব্যয় করবে।

তখন আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে তার স্বামীর ব্যাপারে ইখতিয়ার দিলেন। বারীরা রা. বললেন, যদি সে আমাকে এতো এতো সম্পদও দেয় তবু আমি তার কাছে থাকব না।

অবশেষে তিনি তার ইখতিয়ার প্রয়োগ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৭০ – কারো মুশরিক ভাই বা চাচা বন্দী হলে কি তাদের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে?

হাদীস নং ২৩৭০

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার কিছু লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে বলল, আপনি অনুমতি দিলে আমরা আমাদের বোনপো আব্বাসের মুক্তিপণ ছেড়ে দিব। কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা তার (মুক্তিপণের) একটি দিরহামও ছাড়তে পার না।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৭১ – মুশরিক কর্তৃক গোলাম আযাদ করা।

হাদীস নং ২৩৭১

উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ………হিশাম রহ. থেকে বর্ণিত, আমার পিতা অবগত করলেন যে, হাকীম ইব হিযাম রা. জাহিলী যুগে একশ গোলাম করছিলেন এবং আরোহণের জন্য একশ উট দিয়েছিলেন।

যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখনও একশ উট বাহন হিসাবে দান করেন এবং একশ গোলাম আযাদ করলেন। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

জাহেলী যুগে কল্যাণের উদ্দেশ্য যে কাজগুলো আমি করতাম, সেগুলো সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার পিছনের আমলগুলোর কল্যাণেই তো তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ।

বুখারি হাদিস নং ২৩৭২ – কোন ব্যক্তি আরবী গোলাম-বাদীর মালিক হয়ে তা দান করলে বা বিক্রি করলেন, বা বাদীর সাথে সহবাস করলে বা মুক্তিপণ হিসাবে দিলে এবং সন্তানদের বন্দী করলে (তার হুকুম কি হবে)।

হাদীস নং ২৩৭২

ইবনে আবু মারয়াম রহ………..মারওয়ান ও মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে হাযির হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এরপর তার অর্থ-সম্পদ ও বন্দীদের ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাল।

তখন তিনি বললেন, তোমরা দেখছো, আমার সাথে আরো, সাহাবী আছেন। আর সত্য ভাষণই আমার নিকট প্রিয়। কাজেই অর্থ-সম্পদ ও বন্দী এ দুটির যে কোন একটি তোমরা বেছে নাও।

বন্দীদের বন্টনের ব্যাপারে আমি বিলম্বও করেছিলাম। (রাবী বলেন) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ থেকে ফিরে প্রায় দশ রাত তাদেরকে সুযোগ দিয়েছিলেন। যখন প্রতিনিধি দলের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দুটির যে কোন একটি ফেরত দিবেন, তখন তারা বলল, তবে আমরা আমাদের বন্দীদেরই পছন্দ করছি।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহ পাকের যথাযোগ্য প্রশংসা করার পর বললেন, তোমাদের ভাইয়েরা তাওবা করে আমাদের কাছে এসেছে।

এমতাবস্থায় আমি তাদেরকে তাদের বন্দীদের ফেরত দিতে মনস্থ করেছি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে তা পছন্দ করে, তারা যেন তাই করে।

আর যারা তাদের নিজেদের হিসসা পেতে পছন্দ করে। তা এভাবে যে, প্রথম যে ফায় আল্লাহ পাক আমাকে দান করবেন, সেখান থেকে আমি তাদের সে হিসসা আদায় করে দিব।

সে যেন তা করে। তখন সবাই বলল, আমরা আপনার জন্য সন্তুষ্টচিত্তে তা করতে রাযি আছি। তিনি বললেন, আমি বুঝতে পারছি না, তোমাদের মধ্যে কারা সম্মত আর কারা সম্মত নও।

কাজেই তোমরা ফিরে যাও। আর তোমাদের মুখপাত্ররা তোমাদের মতামত আমার কাছে উত্থাপন করুক। তারপর সবাই ফিরে গেলো আর তোমাদের মুখপাত্ররা তাদের সাথে আলোচনা সেরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফিরে এসে জানালেন যে তারা সকলেই সন্তুষ্টচিত্তে সম্মতি প্রকাশ করেছে।

(ইবনে শিহাব যুহরী রহ. বলেন) হাওয়াযিন গোত্রের যুদ্ধ বন্দী সম্পর্কে এতটুকুই আমাদের কাছে পৌছেছে। আনাস রা. বলেন, আব্বাস রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, (বদর যুদ্ধে) আমি (একাই) নিজের ও আকীলের মুক্তিপণ আদায় করেছি।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৭৩

হাদীস নং ২৩৭৩

আলী ইবনে হাসান ইবনে শাকীক রহ……..ইবনে আউন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাফি রহ.-কে পত্রে লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিত ভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।

তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিলো। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মুমিনীন)-কে লাভ করেন।

(নাফি রহ. বলেন) আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৭৪

হাদীস নং ২৩৭৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….ইবনে মুহারিয রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ রা.-কে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা বনী মুস্তালিক যুদ্ধে কিছু আরব যুদ্ধ বন্দী আমাদের হস্তগত হল।

তখন আমাদের স্ত্রীদের কথা মনে পড়ে (কেননা) দূর-নিঃসংগ জীবন আমাদের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে পড়েছিল। (সে সময়) আমরা আযল করতে চাইলাম (বাদী ব্যবহার করে)।

এ সম্পর্কে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এরূপ না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি হবে না। কেননা কিয়ামত পর্যন্ত যাদের জন্ম নির্ধারিত রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৭৫

হাদীস নং ২৩৭৫

যুহায়র ইবনে হারব ও ইবনে সালাম রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিনটি কথা শোনার পর থেকে বনী তামীম গোত্রকে আমি ভালোবেসে আসছি।

আমি তাকে বলতে শুনেছি, দাজ্জালের মুকাবিলায় আমার উম্মতের মধ্যে এরাই হবে অধিকতর কঠোর। আবু হুরায়রা রা. বলেন, একবার তাদের পক্ষ থেকে সাদকার মাল আসল।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ যে আমার কওমের সাদকা। আয়িশা রা.-এর হাতে তাদের এক বন্দিনী ছিল। তা দেখে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একে আযাদ করে দাও। কেননা, সে ইসমাঈলের বংশধর ।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৭৬ – আপন বাদীকে জ্ঞান ও শিষ্টাচার শিখানোর ফজিলত।

হাদীস নং ২৩৭৬

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো যদি একটি বাদী থাকে আর সে তাকে প্রতিপালন করে, তার সাথে ভাল আচরণ করে এবং তাকে মুক্তি দিয়ে বিয়ে করে, তাহলে সে দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৭৭ – হুজুরে আকরাম (সা.) এর ইরশাদ, তোমাদের গোলামেরা তোমাদেরই ভাই। কাজেই তোমরা যা খাবে তা থেকে তাদেরও খাওয়াবে।

হাদীস নং ২৩৭৭

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ……….মারূর ইবনে সুওয়াইদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি আবু যার গিফারী রা.-এর দেখা পেলাম। তার গায়ে তখন একজোড়া কাপড় আর তার গোলামের গায়েও (অনুরূপ) এক জোড়া কাপড় ছিল।

তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, একবার এক ব্যক্তিকে আমি গালি দিয়েছিলাম। সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি তার মার প্রতি কটাক্ষ করে তাকে লজ্জা দিলে? তারপর তিনি বললেন, তোমাদের গোলামেরা তোমাদেরই ভাই।

আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করেছেন, কাজেই কারো ভাই যদি তার অধীনে থাকে তবে সে যা খায়, তা থেকে যেন তাকে খেতে দেয় এবং সে যা পরিধান করে, তা থেকে যেন পরিধান করায়।

এবং তাদের সাধ্যাতীত কোন কাজে বাধ্য কর না। তোমরা যদি তাদের শক্তির উর্ধ্বে কোন কাজ তাদের দাও তবে তাদের সহযোগিতা কর।

বুখারি হাদিস নং ২৩৭৮ – গোলাম যদি উত্তমরূপে তার প্রতিপালকের ইবাদত করে আর তার মালিকের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়।

হাদীস নং ২৩৭৮

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গোলাম যদি তার মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয় এবং তার প্রতিপালকের উত্তম ইবাদত করে, তাহলে তার সাওয়াব হবে দ্বিগুণ।

বুখারি হাদিস নং ২৩৭৯

হাদীস নং ২৩৭৯

মুহাম্মদ ইবনে কাছীর রহ……….আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, লোক তার দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে। আর যে গোলাম আল্লাহর হক আদায় করে এবং মনিবের হকও আদায় করে, সেও দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৮০

হাদীস নং ২৩৮০

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৎ ক্রীতদাসের সাওয়াব হবে দ্বিগুণ।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ্জ এবং আমার মায়ের সেবার মত উত্তম কাজ যদি না থাকত তাহলে ক্রীতদাস রূপে মৃত্যুবরণ করাই আমি পছন্দ করতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৩৮১

হাদীস নং ২৩৮১

ইসহাক ইবনে নাসর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কত ভাগ্যবান সে, যে উত্তমরূপে আপন প্রতিপালকের ইবাদত করে এবং নিজ মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়।

বুখারি হাদিস নং ২৩৮২ – গোলামের উপর নির্যাতন করা এবং আমার গোলাম ও আমার বাদী এরূপ বলা অপছন্দনীয়।

হাদীস নং ২৩৮২

মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গোলাম যদি আপন মনিবের হিতাকাঙ্ক্ষী হয় এবং আপন প্রতিপালকের উত্তম ইবাদত করে তাহলে তার সাওয়াব হবে দ্বিগুণ।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৮৩

হাদীস নং ২৩৮৩

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে গোলাম আপন প্রতিপালকের উত্তম রূপে ইবাদত করে এবং আপন মনিবের যে হক আছে তা আদায় করে, তার কল্যাণ কামনা করে আর তার আনুগত্য করে, সে দ্বিগুণ সাওয়াব লাভ করবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৮৪

হাদীস নং ২৩৮৪

মুহাম্মদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এমন কথা না বলে তোমার প্রভুকে আহার করাও তোমার প্রভুকে উযূ করাও, তোমার প্রভুকে পান করাও আর যেন (গোলাম বাদীরা) এরূপ বলে, আমার মনিব আমার অভিভাবক তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে আমার দাস, আমার দাসী।

বরং বলবে আমার বালক আমার বালিকা। আমার খাদিম।

বুখারি হাদিস নং ২৩৮৫

হাদীস নং ২৩৮৫

আবু নুমান রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যেন (শরীকী) গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করে দিলে এবং তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তার সম্পদ থেকেই সেই গোলাম সম্পূর্ণ আযাদ হয়ে যাবে, অন্যথায় সে যতটুকু আযাদ করেছে ততটুকুই আযাদ হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৮৬

হাদীস নং ২৩৮৬

মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল।

কাজেই প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। যেমন- জনগণের শাসক তাদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার পরিজনদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।অ স্ত্রী স্বামীর ঘরের এবং তার সন্তানের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

আর গোলাম আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। শোন ! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৮৭

হাদীস নং ২৩৮৭

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ……….আবু হুরায়রা রা. ও যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বাদী যিনায় লিপ্ত হলে তাকে চাবুক লাগাবে।

আবার যিনা করলে আবারও চাবুক লাগবে। তৃতীয়বার বা চতুর্থবার বলেছেন, একগাছি রশির বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রি করে ফেলবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৮৮ – খাদিম যখন খাবার পরিবেশন করে।

হাদীস নং ২৩৮৮

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কারো খাদিম খাবার নিয়ে হাযির হলে তাকেও নিজের সাথে বসানো উচিত। তাকে সাথে না বসালে দু’ এক লোকমা কিংবা দু’ এক গ্রাস তাকে দেওয়া উচিত। কেননা সে এর জন্য পরিশ্রম করেছে।

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

 

বুখারি হাদিস নং ২৩৮৯ – গোলাম আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। নবী করীম (সা.) সম্পদকে মনিবের সাথে সম্পর্কিত করেছেন।

হাদীস নং ২৩৮৯

আবুল ইয়ামান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

ইমাম (শাসক) একজন দায়িত্বশীল, কাজেই সে আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার পরিজনদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল, কাজেই সে আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

আর গোলাম আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.) বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এদের সম্পর্কে (নিশ্চিতভাবেই) শুনেছি।

তবে আমার ধারণা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, আর সন্তান তার পিতার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী।

কাজেই তার দায়িত্বাধীন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মোটকথা তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৯০ – গোলামের মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না।

হাদীস নং ২৩৯০

মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের মধ্যে কেউ যখন লড়াই করবে, তখন সে যেন মুখমণ্ডলে আঘাত করা থেকে বিরত থাকে।

আবু ইসহাক রহ. বলেন, ইবনে হারব রহ. বলেছেন, ইবনে ফুলান কথাটি ইবনে ওয়াহব রহ. বলেছেন এবং ইবনে ফুলান হলেন ইবনে সামআন রহ.।

আরও পড়ুনঃ

ই’তিকাফ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মন্তব্য করুন