ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৭১ – আতর বিক্রেতা ও মিসক বিক্রি করা।

হাদীস নং ১৯৭১

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবু মূসা রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মিসক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের ন্যায়।

আতর বিক্রেতাদের থেকে তুমি রেহাই পাবে না। হয় তুমি আতর খরিদ করবে, না হয় তার সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের হাপর হয় তোমার ঘর অথবা তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৭২ – শিংগা লাগানো।

হাদীস নং ১৯৭২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু তায়বা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিংগা লাগলেন তখন তিনি তাকে এক সা’ পরিমাণ খেজুর দিতে আদেশ করলেন এবং তার মালিককে তার দৈনিক পারশ্রমিকের হার কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৭৩

হাদীস নং ১৯৭৩

মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিংগা লাগালেন এবং যে তাকে শিংগা লাগিয়েছে, তাকে তিনি মজুরী দিলেন। যদি না হারাম হত তবে তিনি তা দিতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৯৭৪ – পুরুষ এবং মহিলার জন্য যা পরিধান করা নিষিদ্ধ তার ব্যবসা করা।

হাদীস নং ১৯৭৪

আদম রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর রা.-এর নিকট রেশমী চাদর পাঠিয়ে দেন, পরে তিনি তা তাঁর গায়ে দেখতে পেয়ে বলেন, আমি তো তোমাকে এ জন্য দেইনি যে, তুমি তা পরিধান করবে।

অবশ্য তা তারাই পরিধান করে, যার (আখিরাতে) কোন অংশ নেই। আমি তো তা তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি তা দিয়ে উপকৃত হবে অর্থাৎ বিক্রি করবে।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৭৫ – মহিলা এবং পুরুষের জন্য যা পরিধান করা নিষিদ্ধ তার ব্যবসা করা।

হাদীস নং ১৯৭৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি ছবিযুক্ত বালিশ খরিদ করেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি তাঁর চেহারায় অসন্তুটির ভাব দেখতে পেলাম। তখন বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে তাওবা করছি। আমি কী অপরাধ করেছি? তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বালিশের কী সমাচার?

আয়িশা রা. বলেন, আমি বললাম, আমি এটি আপনার জন্য খরিদ করেছি, যাতে আপনি হেলান দিয়ে বসতে পারেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবিওয়ালাদেরকে কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে।

তাদের বলা হবে, তোমরা যা বানিয়েছিলে, তা জীবিব কর। তিনি আরো বলেন, যে ঘরে এ সব ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৯৭৬ – পণ্যের মালিক মূল্য বলার অধিক হকদার।

হাদীস নং ১৯৭৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বনূ নাজ্জার ! আমাকে তোমাদের বাগানের মূল্য বল। বাগানটিতে ঘরের ভাঙ্গা চুরা অংশ ও খেজুর গাছ ছিল।

বুখারি হাদিস নং ১৯৭৭ – (ক্রেতা-বিক্রেতার) খিয়ার কতক্ষণ পর্যন্ত থাকবে?

হাদীস নং ১৯৭৭

সাদাকা রহ……….ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে, ততক্ষণ তাদের বেচা-কেনার ব্যাপারে উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে।

আর যদি খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হয় (তাহলে পরেও ইখতিয়ার থাকবে) নাফি রহ. বলেন, ইবনে উমররা. কোন পণ্য ক্রয়ের পর তা পছন্দ হলে মালিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৭৮

হাদীস নং ১৯৭৮

হাফস ইবনে উমর রহ………হাকীম ইবন হিযাম রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যতক্ষণ ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষণ তাদের খিয়ারের অধিকার থাকবে।

আহমদ রহ. বাহয রহ. সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে হাম্মাম রহ. বলেন, আমি আবু তাইয়্যাহ রহ.-কে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে হারিস যখন এই হাদীসটি আবু খলীলকে বর্ণনা করেন, তখন আমি তার সঙ্গে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১৯৭৯ – খিয়ারের সময়-সীমা নির্ধারণ না করলে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হবে কি?

হাদীস নং ১৯৭৯

আবু নুমান রহ…….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের খিয়ার থাকবে অথবা এক পক্ষ অপর পক্ষকে বলবে, গ্রহণ করে নাও। রাবী অনেক সময় বলেছেন, অথবা খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হলে।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৮০ – ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে।

হাদীস নং ১৯৮০

ইসহাক রহ…….হাকীম ইবনে হিযাম রা. সূত্রে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে।

যদি তারা উভয়ে সত্য কথা বলে ও (পণ্যের দোষত্রুটি) যথাযথ বর্ণনা করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে, আর যদি তার মিথ্যা বলে এ (দোষ) গোপন করে, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত বিনষ্ট হয়ে যাবে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৮১

হাদীস নং ১৯৮১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেকের একে অপরের উপর ইখতিয়ার থাকবে, যতক্ষণ তারা বিচ্ছিন্ন না হবে। তবে খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয়ে (বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও ইখতিয়ার থাকবে)।

বুখারি হাদিস নং ১৯৮২ – ক্রয়-বিক্রয় শেষে একে অপরকে ইখতিয়ার প্রদান করলে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয়ে যাবে।

হাদীস নং ১৯৮২

কুতাইবা রহ……….ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন দু’ ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করে, তখন তাদের উভয়ে যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে অথবা একে অপরকে ইখতিয়ার প্রদান না করবে, ততক্ষণ তাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে।

এভাবে তারা উভয়ে যদি ক্রয়-বিক্রয় করে তবে তা সাব্যস্ত হয়ে যাবে। আর যদি তারা উভয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তাদের কেউ যদি তা পরিত্যাগ না করে তবে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয়ে যাবে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৮৩ – বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকলে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হবে কি?

হাদীস নং ১৯৮৩

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে, ততক্ষণ তাদের মাঝে কোন ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হবে না। অবশ্য ইখতিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হলে তা সাব্যস্ত হবে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৮৪

হাদীস নং ১৯৮৪

ইসহাক রহ………হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে উভয়ের বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত।

যদি তারা উভয়ে সত্য কথা বলে ও (পণ্যের দোষত্রুটি) যথাযথ বর্ণনা করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে, আর যদি তার মিথ্যা বলে এ (দোষ) গোপন করে, তবে হয়ত খুব লাভ করবে কিন্তু তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত বিনষ্ট হয়ে যাবে।

অপর সনদে হাম্মাম ……..আবদুল্লাহ ইবনে হারিস রহ. হাকীম ইবনে হিযাম রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৮৫ – ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতারণা করা দোষণীয়।

হাদীস নং ১৯৮৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, এক সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলেন যে, তাকে ক্রয়-বিক্রয়ে ধোঁকা দেওয়া হয়। তখন তিনি বললেন, যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে তখন বলে নিবে কোন প্রকার ধোঁকা নেই।

বুখারি হাদিস নং ১৯৮৬ – বাজার সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদীস নং ১৯৮৬

মুহাম্মদ ইবনে সাববাহ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (পরবর্তী যামানায়) একদল সৈন্য কাবা (ধ্বংসের উদ্দেশ্যে) অভিযান চালাবে।

যখন তারা বায়দা নামক স্থানে পৌঁছবে তখন তাদের আগের পিছের সকলকে যমীনে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। আয়িশা রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

তাদের অগ্রবাহিনী ও পশ্চাৎবাহিনী সকলকে কীভাবে ধ্বসে দেওয়া হবে, অথচ সে সেনাবাহিনীতে তাদের বাজারের (পণ্য-সামগ্রী বহনকারী) লোকও থাকবে এবং এমন লোকও থাকবে যারা তাদের দলভূক্ত নয়, তিনি বললেন : তাদের আগের পিছনের সকলকে ধ্বসে দেওয়া হবে। তারপরে (কিয়ামতের দিবসে) তাদের নিজদের নিয়্যাত অনুযায়ী উত্থান করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৮৭

হাদীস নং ১৯৮৭

কুতাইবা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কারো জামাআতে সালাত আদায় নিজ ঘরের সালাতের চাইতে বিশ গুণেরও অধিক মর্তবা রয়েছে।

কারণ সে যখন উত্তমরূপে উযূ করে মসজিদে আসে, সালাত আদায় ছাড়া অন্য কোন অভিপ্রায়ে আসে না, সালাত ছাড়া অন্য কিছুই তাকে উদ্বুদ্ধ করে না।

এমতাবস্থায় তার প্রতি কদমে এক মর্তবা বৃদ্ধি করা হবে এবং একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর ফেরেশতাগণ তোমাদের সে ব্যক্তির জন্য (এমর্মে) দু’আ করতে থাকবেন, যতক্ষণ সে যেখানে সালাত আদায় করেছে, সেখানে থাকবে: আয় আল্লাহ আপনি তার প্রতি অনুগ্রহ করুন, তার প্রতি রহম করুন।

যতক্ষণ না সে তথায় উযূ ভঙ্গ করে, যতক্ষণ না সে তথায় কাউকে কষ্ট দেয়। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের সে ব্যক্তি সালাতরত গণ্য হবে, যতক্ষণ সে সালাতের অপেক্ষায় থাকে।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৮৮

হাদীস নং ১৯৮৮

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় বাজারে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আবুল কাসিম !

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালে তিনি বললেন, আমি তো তাকে ডেকেছি। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ কিন্তু আমার কুনিয়াতে কুনিয়াত রেখো না।

বুখারি হাদিস নং ১৯৮৯

হাদীস নং ১৯৮৯

মালিক ইবনে ইসমাঈল রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী বাকী নামক স্থানে আবুল কাসিম বলে (কাউকে) ডাক দিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন।

তিনি বললেন, আমি আপনাকে উদ্দেশ্যে করিনি। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ কিন্তু আমার কুনিয়াতে কারো কুনিয়াত রেখোনা।

বুখারি হাদিস নং ১৯৯০

হাদীস নং ১৯৯০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা দাওসী রা. থেকে থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের এক অংশে বের হলেন, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সাথে কথা বলিনি।

অবশেষে তিনি বনূ কায়নুকা বাজারে এলেন (সেখান থেকে ফিরে এসে) ফাতিমা রা.-এর ঘরের আঙিনায় বসে পড়লেন। তারপর বললেন, এখানে খোকা (হাসান রা.) আছে কি? এখানে খোকা আছে কি ?

ফাতিমা রা. তাকে কিছুক্ষণ দেরী করালেন। আমার ধারণা হল তিনি তাকে পুতির মালা সোনা-রূপা ছাড়া যা বাচ্চাদের পরানো হত, পরাচ্ছিলেন বা তাকে গোসল করালেন। তারপর তিনি দৌড়িয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুমু খেলেন। তখন তিনি বললেন, আয় আল্লাহ !

তুমি তাকেও (হাসানকে) মুহাব্বত কর এবং তাকে যে ভালবাসবে তাকেও মুহাব্বত কর। সুফিয়ান রহ. বলেন, আমার কাছে উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নাফি ইবনে জুবায়রকে এক রাকআত মিলিয়ে বিতর আদায় করতে দেখেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৯১

হাদীস নং ১৯৯১

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ…….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে বাণিজ্যিক দলের কাছ থেকে (পথিমধ্যে) খাদ্য খরিদ করতেন।

সে কারণে খাদ্য-দ্রব্য বিক্রয়ের স্থানে তা স্থানান্তর করার আগে, বণিক দলের কাছ থেকে ক্রয়ের স্থলে বেচা-কেনা করতে নিষেধ করার জন্য তিনি তাদের কাছে লোক পাঠাতেন।

রাবী বলেন, ইবনে উমর রা. আরো বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণভাবে অধিকারে আনার আগে খরিদ করা পণ্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৯২ – বাজারে চীৎকার করা অপছন্দনীয়।

হাদীস নং ১৯৯২

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ…….আতা ইবনে ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা.-কে বললাম, আপনি আমাদের কাছে তাওরাতে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী বর্ণনা করেন।

তিনি বললেন : আচ্ছা। আল্লাহ কসম ! কুরআনে বর্ণিত তাঁর কিছু গুণাবলী তাওরাতে ও উল্লেখ করা হয়েছে : হে নবী ! আমি আপনাকে সাক্ষীরূপে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রূপে প্রেরণ করেছি এবং উম্মীদের রক্ষক হিসাবেও। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহর উপর ভরসাকারী) রেখেছি।

তিনি মন্দ স্বভাবের নন, কঠোর হৃদয়ের নন বরং বাজারে চীৎকারীও নন। তিনি অন্যায়কে অন্যায় দ্বারা প্রতিহত করেন না বরং মাফ করে দেন, ক্ষমা করে দেন।

আল্লাহ তা’আলা তাকে ততক্ষণ মৃত্যু দিবেন না যতক্ষণ না, তাঁর দ্বারা বিকৃত মিল্লাতকে সঠিকপথে আনেন অর্থাৎ যতক্ষণ না তারা (আরববাসীরা) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর ঘোষণা দিবে।

আর এ কালিমার মাধ্যমে অন্ধ-চক্ষু, বধির-কর্ণ ও আচ্ছাদিত হৃদয় খুলে যাবে। আবদুল আযীয ইবনে আবু সালামা রহ হিলাল রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় ফুলাইহ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

সাঈদ রহ……….ইবনে সালাম রহ. থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ বুখারী রহ. বলেন, যে সকল বস্তু আবরণের মধ্যে থাকে তাকে غلف বলে। তার একবচন أغلف যেমন, বলা হয়, سيف أغلف কোষাবদ্ধ তরবারি। قوس غلفاء কোষবদ্ধ ধনুক । رجل أغلف খাতনা না করা পুরুষ।

বুখারি হাদিস নং ১৯৯৩ – মেপে দেওয়ার দায়িত্ব বিক্রেতা ও দাতার উপর।

হাদীস নং ১৯৯৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি খাদ্য খরিদ করবে, সে তা পুরাপুরী আয়ত্ত্বে না এনে বিক্রি করবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৯৯৪

হাদীস নং ১৯৯৪

আবদান রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আমার পিতা) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রা. ঋণী অবস্থায় মারা যান। পাওনাদারেরা যেন তাঁর কিছু ঋণ ছেড়ে দেয়, এজন্য আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাহায্য চাইলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে কিছু ঋণ ছেড়ে দিতে বললে, তারা তা করল না। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : যাও তোমার প্রত্যেক ধরনের খেজুরকে আলাদা আলাদা করে রাখ, আজওয়া আলাদা এবং আযকা যায়েদ আলাদা করে রাখ।

পরে আমাকে খবর দিও। (জাবির রা. বলেন) আমি তা করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খবর দিলাম। তিনি এসে খেজুরের (স্তপের) উপরে বা তার মাঝখানে বসলেন।

তারপর বললেন, পাওনাদারদের মেপে দাও। আমি তাদের মেপে দিতে লাগলাম, এমনকি তাদের পাওনা পুরোপুরী দিয়ে দিলাম। আর আমার খেজুর এরূপ থেকে গেল, যেন এ থেকে কিছুই কমেনি।

ফিরাস রহ. শাবী রহ. সূত্রে জাবির রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ পর্যন্ত মেপে দিতে থাকলেন যে তাদের ঋণ পরিশোধ করে দিলেন।

হিশাম রহ. ওহাব রহ. সূত্রে জাবির রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন গাছ থেকে খেজুর কেটে নাও এবং পুরোপুরী আদায় করে দাও।

বুখারি হাদিস নং ১৯৯৫ – মেপে দেওয়া মুস্তাহাব।

হাদীস নং ১৯৯৫

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………মিকদাদ ইবনে মাদীকারিব রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের খাদ্য মেপে নিবে, তাঁতে তোমাদের জন্য বরকত হবে।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৯৬ – রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সা’ ও মুদ এর বরকত।

হাদীস নং ১৯৯৬

মূসা রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইবরাহীম আ. মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন ও তার জন্য দু’আ করেছেন।

আমি মদীনাকে হারাম ঘোষণা করেছি, যেমন ইবরাহীম আ. মক্কাকে হারম ঘোষণা করেছেন এবং আমি মদীনার এক মুদ ও সা’ এর জন্য দু’আ করেছি। যেমন ইবরাহীম আ. মক্কার জন্য দু’আ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৯৭

হাদীস নং ১৯৯৭

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইয়া আল্লাহ ! আপনি তাদের মাপের পাত্রে বরকত দিন এবং তাদের সা’ও মুদ-এ বরকত দিন অর্থাৎ মদীনাবাসীদের।

বুখারি হাদিস নং ১৯৯৮ – খাদ্য বিক্রয় ও মজুতদারী সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়।

হাদীস নং ১৯৯৮

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ…….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যারা অনুমানে (না মেপে) খাদ্য খরিদ করে নিজের স্থানে পৌঁছানোর আগেই তা বিক্রি করত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে আমি দেখেছি যে, তাদেরকে মারা হত।

বুখারি হাদিস নং ১৯৯৯

হাদীস নং ১৯৯৯

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য (খরিদ করে) পুরাপুরী আয়ত্ত্বে না এনে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

(রাবী তাইস রহ. বলেন) আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কিভাবে হয়ে থাকে ? তিনি বললেন, এ এভাবে হয়ে থাকে যে, দিরহাম এর বিনিময়ে দিরহাম আদান-প্রদান হয় অথচ পণ্যদ্রব্য অনুপস্থিত থাকে। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আয়াতে বর্ণিত ‘মারজুন’ অর্থ যারা নির্দেশ পালনে বিলম্বিত করে।

বুখারি হাদিস নং ২০০০

হাদীস নং ২০০০

আবুল ওয়ালীদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : খাদ্য খরিদ করে কেউ যেন তা হস্তগত করার পূর্বে বিক্রি না করে।

বুখারি হাদিস নং ২০০১

হাদীস নং ২০০১

আলী রহ…….মালিক ইবনে আওস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ঘোষণা দিলেন যে, কে সারফ এর বেচা-কেনা করবে ? তালহা রা. বললেন, আমি করব।

অবশ্য আমার পক্ষের বিনিময়ে প্রদানে আমার হিসাব রক্ষক গাবা (এলাকা) থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত দেরী করে। (বর্ণনাকারী) সুফিয়ান রহ. বলেন, আমি যুহরী রহ. থেকে এটুকু মনে রেখেছি, এর থেকে বেশী নয়।

এরপর যুহরী রহ. বলেন, মালিক ইবনে আওস রা. আমাকে বলেছেন যে, তিনি উমর ইবনে খাত্তাব রা.-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন : নগদ হাতে হাতে বিনিময় ছাড়া সোনার বদলে সোনা বিক্রি, গমের বদলে গম বিক্রি, খেজুরের বদলে খেজুর বিক্রি, যবের বদলে যব বিক্রি করা সূদ হিসাবে গণ্য।

বুখারি হাদিস নং ২০০২ – অধিকার আনার পূর্বে খাদ্য বিক্রি করা এবং যে পণ্য নিজের নিকট নেই তা বিক্রি করা।

হাদীস নং ২০০২

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিষেধ করেছেন, তা হল অধিকারে আনার পূর্বে খাদ্য বিক্রয় করা। ইবনে ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি মনে করি, প্রত্যেক পণ্যের ব্যাপারে অনুরূপ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।

বুখারি হাদিস নং ২০০৩

হাদীস নং ২০০৩

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খাদ্য খরিদ করে পুরোপুরী মেপে না নিয়ে। রাবী ইসমাঈল রহ. আরো বলেন খাদ্যদ্রব্য খরিদ করে নিজের অধিকারে না এনে কেউ যেন তা বিক্রি না করে।

বুখারি হাদিস নং ২০০৪ – ধারণা করে পরিমাণ ঠিক করে খাদ্যদ্রব্য খরিদ করে নিজের ঘরে না এনে তা বিক্রয় করা যিনি বৈধ মনে করেন না এবং এরূপ করা শাস্তিযোগ্য।

হাদীস নং ২০০৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকারই রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে দেখেছি যে, লোকেরা খাদ্য আনুমানিক পরিমাণের ভিত্তিতে বেচা-কেনা করত, পরে তা সেখানেই নিজেদের ঘরে তুলে নেওয়ার আগেই বিক্রি করলে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হত।

বুখারি হাদিস নং ২০০৫ – যদি কোন ব্যক্তি দ্রব্য সামগ্রী বা জানোয়ার খরিদ করে হস্তগত করার পূর্বে তা বিক্রেতার নিকটেই রেখে দেয়, এরপর বিক্রেতা সে পণ্য বিক্রি করে দেয় বা বিক্রেতা মারা যায়।

হাদীস নং ২০০৫

ফারওয়া ইবনে আবুল মাগরা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন দিন খুব কমই গিয়েছে, যে দিন সকালে বা বিকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার পিতা)) আব বকর রা.-এর ঘরে আসেননি।

যখন তাকে (আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে) মদীনার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হল, তখন তিনি একদিন দুপুরের সময় আগমন করায় আমরা শংকিত হয়ে পড়লাম।

আবু বকর রা.-কে এ সংবাদ জানানো হলে তিনি বলে উঠলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ কোন ঘটনার কারণেই অসময়ে আগমন করেছেন।

যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন তখন তিনি আবু বকর রা.-কে বললেন : যারা তোমার কাছে আছে তাদের সরিয়ে দাও। আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এরা তো আমার দুই কন্যা আয়িশা ও আসমা। তিনি বললেন : তুমি কি জান আমাকে তো বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ?

আপনার সঙ্গে সফর হওয়া আমার কাম্য ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন : হ্যাঁ, তুমি আমার সফর সঙ্গী হবে। আবু বকর রা. বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার কাছে দুটি উটণী রয়েছে, যা আমি হিজরতের জন্য প্রস্তুত রেখেছি। এর একটি আপনি গ্রহণ করুন। তিনি বললেন : আমি মূল্যের বিনিময়ে তা গ্রহণ করলাম।

বুখারি হাদিস নং ২০০৬ – কেন যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে, দর-দাম করার উপর দর-দাম না করে যতক্ষণ সে তাকে অনুমতি না দেয় বা ত্যাগ না করে।

হাদীস নং ২০০৬

ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০০৭

হাদীস নং ২০০৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী কর্তৃক বিক্রয় করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না।

কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। কোন মহিলা যেন তার বোনের (সতীনের) তালাকের দাবী না করে, যাতে সে তার পাত্রে যা কিছু আছে, তা নিজেই নিয়ে নেয়।

বুখারি হাদিস নং ২০০৮ – নিলামের মাধ্যমে বিক্রি।

হাদীস নং ২০০৮

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার গোলাম আযাদ হবে বলে ঘোষণা দিল। তারপর সে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোলামটিকে নিয়ে নিলেন এবং বললেন, কে একে আমার নিকট থেকে খরিদ করবে? নুআঈশ ইবনে আবদুল্লাহ রা. (তাঁর কাছ থেকে) সেটি এত এত মূল্যে খরিদ করলেন। তিনি গোলামটি তার হাওলা করে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২০০৯ – প্রতারণামূলক দালালী এবং ক্রয়-বিক্রয় জায়িয নয় বলে যিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

হাদীস নং ২০০৯

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতারণামূলক দালালী থেকে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০১০ – প্রতারণামূলক বিক্রি এবং গর্ভস্থিত বাচ্চা গর্ভ থেকে খালাস হওয়ার পর তা গর্ভবতী হয়ে বাচ্চা প্রসব করা পর্যন্ত মেয়াদে বিক্রি।

হাদীস নং ২০১০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভস্থিত বাচ্চার গর্ভের প্রসবের মেয়াদের উপর বিক্রি নিষেধ করেছেন।

এ এক ধরনের বিক্রয়, যা জাহিলিয়াতের যুগে প্রচলিত ছিল। কেউ এ শর্তে উটণী ক্রয় করতে যে, এই উটণীটি প্রসব করবে পরে ঐ শাবক তার গর্ভ প্রসব করার পর তার মূল্য দেওয়া হবে।

বুখারি হাদিস নং ২০১১ – স্পর্শ করার মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়।

হাদীস নং ২০১১

সাঈদ ইবনে উফায়র রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাবাযা পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন।

তা হল, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতা কাপড়টি উল্টানো পাল্টানো অথবা দেখে নেওয়ার আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করা। আর তিনি মুলামাসা পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতেও নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হল কাপড়টি না দেখে স্পর্শ করা (এতেই বেচা-কেনা সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হত)।

বুখারি হাদিস নং ২০১২

হাদীস নং ২০১২

কুতাইবা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুই ধরনের পোশাক পরিধান করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তা হল একটি কাপড় শরীরে জড়িয়ে তার এক পার্শ্ব কাঁধের উপর তুলে দেওয়া এবং দুই ধরনের বেচা-কেনা হতে নিষেধ করা হয়েছে; স্পর্শের এবং নিক্ষেপের বেচা-কেনা।

বুখারি হাদিস নং ২০১৩ – পারস্পারিক নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করা।

হাদীস নং ২০১৩

ইসমাঈল রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পর্শ ও নিক্ষেপের পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০১৪

হাদীস নং ২০১৪

আইয়্যাশ ইবনে ওয়ালীদ রহ………আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ধরনের পোশাক পরিধান এবং স্পর্শ ও নিক্ষেপ এরূপ দু’ ধরনের বেচা-কেনা নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০১৫ – বিক্রেতার প্রতি নিষেধ যে, উটণী, গাভী ও বকরী এবং প্রত্যেক দুগ্ধবতী জন্তুর দুধ সে যেন জমা করে না রাখে।

হাদীস নং ২০১৫

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবু হুরায়রা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তোমরা উটণী ও বকরীর দুধ (স্তনে) আটকিয়ে রেখো না। যে ব্যক্তি এরূপ পশু খরিদ করবে, সে দুধ দোহনের পরে দুটি অধিকারের একটি যেটি তার পক্ষে ভাল মনে করবে, তাই করতে পারবে।

যদি সে ইচ্ছা করে তবে ক্রীত পশুটি রেখে দিবে আর যদি ইচ্ছা করে তবে তা ফেরৎ দিবে এবং এর সাথে এক সা’ পরিমাণ খেজুর দিবে।

আবু সালিহ মুজাহিদ, ওয়ালীদ ইবনে রাবাহ ও মূসা ইবনে ইয়াসার রহ. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এক সা’ খেজুরের কথা উল্লেখ রয়েছে।

কেউ কেউ ইবনে সীরীন রহ. সূত্রে এক সা’ খাদ্যের কথা বলেছেন। এবং ক্রেতার জন্য তিন দিনের ইখতিয়ার থাকবে । আর কেউ কেউ ইবনে সীরীন রহ. সূত্রে এক সা’ খেজুরের কথা বলেছেন, তবে তিন দিনের ইখতিয়ারের কথা উল্লেখ করেননি। ( ইমাম বুখারী রহ. বলেন অধিকাংশের বর্ণনায় খেজুরের উল্লেখ রয়েছে)।

বুখারি হাদিস নং ২০১৬

হাদীস নং ২০১৬

মুসাদ্দাদ রহ…….আবদুল্লাহ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (স্তনে) দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী খরিদ করে তা ফেরৎ দিতে চায় সে যেন এর সঙ্গে এক সা’ পরিমাণ খেজুরও দেয়।

আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পণ্য খরিদ করার জন্য) বণিক দলের সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে পথিমধ্যে) সাক্ষাত করতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০১৭

হাদীস নং ২০১৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (পণ্যবাহী) কাফেলার সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে) সাক্ষাত করবে না তোমাদের কেউ যেন কারো ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না।

শহরবাসী তোমাদের কেউ যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে। তোমরা বকরীর দুধ আটকিয়ে রাখবে না। যে এ রূপ বকরী খরিদ করবে, সে দুধ দোহনের পরে এ দুটির মধ্যে যেটি ভাল মনে করবে, তা করতে পারে।

সে যদি এতে সন্তুষ্ট হয় তবে বকরী রেখে দিবে, আর যদি সে তা অপছন্দ করে তবে ফেরৎ দিবে এবং এক সা’ পরিমাণ খেজুর দিবে।

বুখারি হাদিস নং ২০১৮ – দুধ আটকিয়ে রাখা পশুর ক্রেতা ইচ্ছা করলে ফেরত দিতে পারে এবং দুহিত দুধের বিনিময়ে এক সা’ পরিমাণ খেজুর দিবে।

হাদীস নং ২০১৮

মুহাম্মদ ইবনে আমর রা. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি (স্তনে) দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী খরিদ করে, তবে দোহনের পরে যদি ইচ্ছা করে তবে সেটি রেখে দেবে আর যদি অপছন্দ করে তবে দুহিত দুধের বিনিময়ে এক সা’ খেজুর দিবে।

বুখারি হাদিস নং ২০১৯ – ব্যভিচারী গোলামের বিক্রয়।

হাদীস নং ২০১৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি বাঁদী ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয়, তবে তাকে বেত্রাঘাত করবে।

আর তিরস্কার করবে না। তারপর যদি আবার ব্যভিচার করে তাকে বেত্রাঘাত করবে, তিরস্কার করবে না। এরপর যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে তবে তাকে বিক্রি করে দিবে ; যদিও পশমের রশির (ন্যায় সামান্য বস্তুর) বিনিময়ে হয়।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০২০

হাদীস নং ২০২০

ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. ও যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবিবাহিতা দাসী যদি ব্যভিচার করে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যদি বাঁদী ব্যভিচার করে ব্যভিচার তবে তাকে বেত্রাঘাত কর।

তারপর যদি আবার ব্যভিচার করে তাকে বেত্রাঘাত কর। এরপর যদি ব্যভিচার করে তবে তাকে বিক্রি করে দিবে ; যদিও রশির বিনিময়ে হয়।

বুখারি হাদিস নং ২০২১ – মহিলার সাথে ক্রয়-বিক্রয় ।

হাদীস নং ২০২১

আবুল ইয়ামান রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন তখন আমি তাঁর নিকট (বারীরা নাম্নী দাসীর খরিদ সংক্রান্ত ঘটনা) উল্লেখ করলাম।

তিনি বললেন, তুমি খরিদ কর এবং আযাদ করে দাও। কেননা, যে আযাদ করবে ওয়ালা (আযাদ সূত্রে উত্তরাধিকার) তারই। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিকালের দিকে (মসজিদে নববীতে) দাঁড়িয়ে আল্লাহ তা’আলার যথাযথ প্রশংসা বর্ণনা করে তারপর বললেন, লোকদের কী হল যে, তারা এরূপ শর্তারোপ করে, যা আল্লাহ কিতাবে নেই।

কোন ব্যক্তি যদি এমন শর্তারোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল, যদিও সে শত শত শর্তারোপ করে। আল্লাহর শর্তই সঠিক ও সুদৃঢ়।

বুখারি হাদিস নং ২০২২

হাদীস নং ২০২২

হাসসান ইবনে আবু আববাদ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা রা. বারীরার দরদাম করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয় যান।

যখন ফিরে আসেন তখন আয়িশা রা. তাকে বললেন যে, তারা (মালিক পক্ষ) ওয়ালা এর শর্ত ছাড়া বিক্রি করতে রাযী নয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ওয়ালা তো তারই, যে আযাদ করে।

(রাবী বলেন, আমি নাফি রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, বারীরার স্বামী আযাদ ছিল, না দাস ? তিনি বললেন, আমি কি করে জানব?

বুখারি হাদিস নং ২০২৩ – পারিশ্রমিক ছাড়া শহরবাসী কি গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় করতে পারে ? সে কি তার সাহায্য এবং উপকার করতে পারে?

হাদীস নং ২০২৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জারীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসূল্লাহ-এ কথা সাক্ষ্য দেওয়ার,

সালাত কায়েম করার, যাকাত দেওয়ার আমীরের কথা শুনার ও মেনে চলার এবং প্রত্যেক মুসলমানের হিত কামনা করার উপর বায়আত করেছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ২০২৫ – পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রয় করা যারা নিষিদ্ধ মনে করেন।

হাদীস নং ২০২৫

আবদুল্লাহ ইবনে সাববাহ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস রা. ও এ মত পোষণ করেছেন।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০২৬ – দালালীর মাধ্যমে শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে।

হাদীস নং ২০২৬

মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের কেনা-বেচার উপর খরিদ না করে। আর তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না এবং শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রি না করে।

বুখারি হাদিস নং ২০২৭

হাদীস নং ২০২৭

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রয় করা থেকে আমাদের কে নিষেধ করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২০২৮ – (শহরে প্রবেশের পূর্বে কমমূল্যে খরিদের আশায়) বণিক দলের সাথে সাক্ষাৎ করা নিষেধ।

হাদীস নং ২০২৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শহরে প্রবেশের পূর্বে বণিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রয় করা থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০২৯

হাদীস নং ২০২৯

আইয়্যাশ ইবনে ওয়ালীদ রহ………তাউস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা. -কে গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী বিক্রয় করবে না, এ উক্তির অর্থ কি, তা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তার পক্ষে দালালী করবে না।

বুখারি হাদিস নং ২০৩০

হাদীস নং ২০৩০

মুসাদ্দাদ রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি স্তনে দুধ আটকিয়ে রাখা (বকরী-গাভী) উটনী খরিদ করে (তা ফেরৎ দিলে) সে যেন তার সাথে এক সা’ পরিমাণ (খেজুরও) ফেরৎ দেয়।

তিনি আরো বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বণিক দলের সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে) সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৩১

হাদীস নং ২০৩১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তোমাদের কেউ ক্রয়-বিক্রয়ের উপর যেন ক্রয়-বিক্রয় না করে এবং তোমরা পণ্য ক্রয় কর না তা বাজারে উপস্থিত না করা পর্যন্ত।

বুখারি হাদিস নং ২০৩২ – (বণিক দলের সাথে) সাক্ষাতের সীমা।

হাদীস নং ২০৩২

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বণিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের থেকে খাদ্য খরিদ করতাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যের বাজারে পৌছানোর পূর্বে আমাদের তা খরিদ নিষেধ করেছেন । আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, তা হল বাজারের প্রান্ত সীমা। উবায়দুল্লাহ রহ.-এর হাদীসে এ বর্ণনা রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২০৩৩

হাদীস নং ২০৩৩

মুসাদ্দাদ রহ…….আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা বাজারের প্রান্ত সীমায় খাদ্য খরিদ করে সেখানেই বিক্রি করে দিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থানান্তর না করে সেখানেই বিক্রি করতে তাদের নিষেধ করলেন।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৩৪ – ক্রয়-বিক্রয়ে এমন শর্ত করা যা অবৈধ।

হাদীস নং ২০৩৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারীরা রা. আমার কাছে এসে বলল, আমি আমার মালিক পক্ষের সাথে নয় উকিয়া দেওয়ার শর্তে মুকতাবা করেছি-প্রতি বছর যা থেকে এক উকিয়া করে দেওয়া হবে। আপনি (এ ব্যাপারে) আমাকে সাহায্য করান।

আমি বললাম, যদি তোমরা মালিক পক্ষ পছন্দ করে যে, আমি তাদের একবারেই তা পরিশোধ করব এবং তোমার ওয়ালা-এর অধিকার আমার হবে, তবে আমি তা করব। তখন বারীরা রা. তার মালিকদের নিকট গেল এবং তাদের তা বলল। তারা তা অস্বীকার করল। বারীরা রা. তাদের নিকট থেকে (আমার কাছে) এল।

আর তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সে বলল, আমি (আপনার) সে কথা তাদের কাছে পেশ করেছিলাম।

কিন্তু তার নিজেদের জন্য ওয়ালার অধিকার সংরক্ষণ ছাড়া রাযী হয়নি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শোনলেন, আয়িশা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা সবিস্তারে জানালেন।

তিনি বললেন : তুমি তাকে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত মেনে নাও। কেননা, ওয়ালা এর হক তারই, যে আযাদ করে। আয়িশা রা. তাই করলেন।

তারপর বললেন, লোকদের কী হল যে, তারা এমন শর্ত আরোপ করে যা আল্লাহর বিধানে নেই। আল্লাহর বিধানে যে শর্তের উল্লেখ নেই, তা বাতিল বলে গণ্য হবে, শত শর্ত হলেও। আল্লাহর ফায়সালাই সঠিক, আল্লাহর শর্তই সুদৃঢ়। ওয়ালার হক তে তারই, যে আযাদ করে।

বুখারি হাদিস নং ২০৩৫

হাদীস নং ২০৩৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. একটি দাসী খরিদ করে তাকে আযাদ করার ইচ্ছা করেন।

দাসীটির মালিক পক্ষ বলল, দাসীটি এ শর্তে বিক্রি করব যে, তার ওয়ালার হক আমাদের থাকবে।তিনি একথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, এতে তোমার বাঁধা হবে না। কেননা, ওয়ালা তারই, যে আযাদ করে।

বুখারি হাদিস নং ২০৩৬ – খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রি করা।

হাদীস নং ২০৩৬

আবুল ওয়ালীদ রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাতে হাতে (নগদ নগদ) ছাড়া গমের বদলে গম বিক্রি করা সূদ, নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যব বিক্রয় সূদ, নগদ নগদ ব্যতীত খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রয় সূদ।

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৩৭ – কিসমিসের বিনিময়ে কিসমিস ও খাদ্য দ্রব্যের বিনিময়ে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৩৭

ইসমাঈল রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবান নিষেধ করেছেন । তিনি (ইবনে উমর) বলেন, মুযাবানা হল তাজা খেজুর শুকনো খেজুরের বদলে ওযন করে বিক্রয় করা এবং কিসমিস তাজা আঙ্গুরের বদলে ওযন করে বিক্রি করা।

আরও পড়ুনঃ

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মন্তব্য করুন