ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৩৮

হাদীস নং ২০৩৮

আবুন নুমান রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, মুযাবানা হল-শুকনা খেজুর তাজা খেজুরের বিনিময়ে ওযন করে বিক্রি করা, বেশি হলে আমার তা আমার প্রাপ্য, কম হলে তা পূরণ করা আমার দায়িত্ব।

রাবী বলেন, আমাকে যায়েদ ইবনে সাবিত রা. বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমান করে আরায়া এর অনুমতি দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৩৯ – যবের বিনিময়ে যব বিক্রি করা।

হাদীস নং ২০৩৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………মালিক ইবনে আওস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার এক দীনারের বিনিময়ে সারফ-এর জন্য লোক সন্ধান করছিলেন। তখন তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা. আমাকে ডাক দিলেন। আমরা বিনিময় দ্রব্যের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা করতে থাকলাম।

অবশেষে তিনি আমার সঙ্গে সারফ করতে রাযী হলেন এবং আমার থেকে স্বর্ণ নিয়ে তার হাতে নাড়া-চাড়া করতে করতে বললেন, আমার খাযাঞ্জী গাবা (নামক স্থান) হতে আসা পর্যন্ত (আমার জিনিস পেতে) দেরী করতে হবে। ঐ সময়ে উমর রা. আমাদের কথা-বার্তা শুনছিলেন। তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম!

তার জিনিস গ্রহণ না করা পর্যন্ত তুমি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না। কারণ, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নগদ নগদ না হলে স্বর্ণের বদলে স্বর্ণের বিক্রয় রিবা (সূদ) হবে।

নগদ নগদ ছাড়া গমের বদলে গমের বিক্রয় রিবা হবে। নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যবের বিক্রয় রিবা হবে। নগদ নগদ না হলে খেজুরের বদলে খেজুরের বিক্রয় রিবা হবে।

বুখারি হাদিস নং ২০৪০ – স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৪০

সাদাকা ইবনে ফযল রহ………আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমান সমান ছাড়া তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রয় করবে না।

অনুরূপ রূপার বদলে রূপা সমান সমান ছাড়া (বিক্রি করবে না)। রূপার বদলে সোনা এবং সোনার বদলে রূপা তোমরা যেরূপ দাও, ক্রয়-বিক্রয় করতে পার।

বুখারি হাদিস নং ২০৪১ – রৌপের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রয়।

হাদীস নং ২০৪১

উবায়দুল্লাহ ইবনে সাদ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, আবু সাঈদ খুদরী রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (আবু বাকরার হাদীসের)-অনুরূপ একটি হাদীস তাঁর কাছে বর্ণনা করেন।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তাঁর (আবু সাঈদ রা.-এর) সঙ্গে দেখা বললেন, হে আবু সাঈদ ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আপনি কী হাদীস বর্ণনা করে থাকেন ?

আবু সাঈদ রা. সারফ (মুদ্রার বিনিময়ে) সম্পর্কে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, সোনার বদলে সোনার বিক্রয় সমান পরিমাণ হতে হবে। রূপার বদলে রূপার বিক্রয় সমান হতে হবে।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৪২

বুখারি হাদিস নং ২০৪৩ – দীনারের বিনিময়ে দীনার বাকিতে ক্রয়-বিক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৪৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবু সালিহ যায়য়াত রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী রা.-কে বলতে শুনলাম, দীনারের বদলে এবং দিরহামের বদলে দিরহাম (সমান সমান বিক্রি করবে) এতে আমি তাকে বললাম, ইবনে আব্বাস রা. তো তা বলেন না?

উত্তরে আবু সাঈদ রা. বলেন, আমি তাকে (ইবনে আব্বাস রা.) জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আপনি তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন, না আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন ?

তিনি বললেন, এর কোনটি বলিনি। আপনারাই তো আমার চাইতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বেশী জানেন।

অবশ্য আমাকে উসামা (ইবনে যায়েদ রা. জানিয়েছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাকি বিক্রয় ব্যতীত রিবা হয় না।

আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আমি সুলাইমান ইবনে হারব রহ.কে বলতে শুনেছি, বাকি বিক্রয় ব্যতীত রিবা হয় না, এ কথার অর্থ আমাদের মতে এই যে, সোনা-রূপার বিনিময়ে, গম যবের বিনিময়ে কম-বেশী বেচাকেনা করাতে দোষ নেই নগদ নগদ হয়, কিন্তু বাকি বেচাকেনাতে কোন মঙ্গল নেই।

বুখারি হাদিস নং ২০৪৪ – বাকীতে স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্যের ক্রয়-বিক্রয়।

হাদীস নং ২০৪৪

হাফস ইবনে উমর রহ…….আবু মিনহাল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা ইবনে আযিব ও যায়েদ ইবনে আরকাম রা.-কে সারফ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁরা উভয়ে (একে অপরের সম্পর্কে) বললেন, ইনি আমার চাইতে উত্তম।

এরপর উভয়েই বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকিতে রূপার বিনিময়ে সোনার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছন।

বুখারি হাদিস নং ২০৪৫ – নগদ নগদ রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয়।

হাদীস নং ২০৪৫

ইমরান ইবনে মায়সারা রহ………আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমান সমান রূপার বদলে রূপার ক্রয়-বিক্রয় এবং সোনার বদলে সোনার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি রূপার বিনিময়ে সোনার বিক্রয়ে এবং সোনার বিনিময়ে রূপার বিক্রয়ে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী অনুমতি দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৪৬ – মুযাবান ক্রয়-বিক্রয়।

হাদীস নং ২০৪৬

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : উপযোগিতা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তোমরা ফল বিক্রি করবে না এবং শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করবে না।

রাবী সালিম রহ. বলেন, আবদুল্লাহ রা. যায়েদ ইবনে সাবিত রা. সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে তাজা বা শুকনা খেজুরের বিনিময়ে আরিয়্যা বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। আরিয়্যা ব্যতীত অন্য কিছুতে এরূপ বিক্রির অনুমতি দেননি।

বুখারি হাদিস নং ২০৪৭

হাদীস নং ২০৪৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন। মুযাবানা অর্থ হল মেপে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর এবং মেপে কিসমিসের বিনিময়ে আঙ্গুর ক্রয় করা।

বুখারি হাদিস নং ২০৪৮

হাদীস নং ২০৪৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা ও মুহাকালা নিষেধ করেছেন। মুযাবানা অর্থ হল খেজুরের বিনিময়ে গাছের মাথায় অবস্থিত তাজা খেজুর ক্রয় করা।

 

বুখারি হাদিস নং ২০৪৯

হাদীস নং ২০৪৯

মুসাদ্দাদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা ও মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৫০

হাদীস নং ২০৫০

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা এর মালিককে তা অনুমানে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৫১ – সোনা ও রূপার বিনিময়ে গাছের মাথায় ফল বিক্রি করা।

হাদীস নং ২০৫১

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপযোগী হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (এবং এ-ও বলেছেন যে,) এর কিছুই দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে ব্যতীত বিক্রি করা যাবে না, তবে আরায়্যার হুকুম এর ব্যতিক্রম।

বুখারি হাদিস নং ২০৫২

হাদীস নং ২০৫২

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওহহাব রহ. বলেন যে, আমি মালিকের কাছে শুনেছি, উবায়দুল্লাহ ইবনে রাবী রহ. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু সুফিয়ান রা. সূত্রে আবু হুরায়রা রা. থেকে দাউদ রহ. এই হাদীস কি আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন,

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ ওসাক অথবা পাঁচ ওসাকের কম পরিমাণে আরিয়্যা বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

বুখারি হাদিস নং ২০৫৩

হাদীস নং ২০৫৩

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….সাহল ইবনে আবু হাসমা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং আরিয়্যা-এর অনুমতি দিয়েছেন।

তা হল তাজা ফল অনুমানে বিক্রি করা, যাতে (ক্রেতা) তাজা খেজুর খাওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারে। রাবী সুফিয়ান রহ. আর একবার এভাবে বর্ণনা করেছেন, অবশ্য তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরিয়্যা এর ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, ফলের মালিক অনুমানে তাজা খেজুর বিক্রয় করে, যাতে তারা (ক্রেতাগণ) তাজা খেতে পারে।

রাবী বলেন, এ কথা পূর্বের কথা একই এবং সুফিয়ান রহ. বলেন, আমি তরুণ বয়সে (আমার উস্তাদ) ইয়াহইয়া (ইবনে সাঈদ রহ.) কে বললাম, মক্কাবাসীগণ তো বলে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা-এর ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন।

তিনি বললেন, মক্কাবাসীদের তা কিসে অবহিত করল ? আমি বললাম, তারা জাবির রা. থেকে বর্ণনা করে থাকেন। এতে তিনি নীরব হয়ে গেলেন। সুফিয়ান রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল , এ হাদীসে এ কথাটুকু নাই যে, উপযোগিতা প্রকাশের আগে ফল বিক্রি নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, না।

বুখারি হাদিস নং ২০৫৪ – আরিয়্যা-এর ব্যাখ্যা।

হাদীস নং ২০৫৪

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যার ব্যপারে অনুমতি দিয়েছেন যে, ওযন করে খেজুরের বদলে গাছের অনুমান কৃত খেজুর বিক্রি করা যেতে পারে।

মূসা ইবনে উকবা রহ. বলেন, আরিয়্যা বলা হয়, বাগানে এসে কতগুলো নির্দিষ্ট গাছের খেজুর (শুকনা খেজুরের বদলে) খরিদ করে নেওয়া।

বুখারি হাদিস নং ২০৫৫ – ফলের উপযোগিতা প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে তা বিক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৫৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে ক্রেতা বিক্রেতাকে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৫৬

হাদীস নং ২০৫৬

ইবনে মুকাতিল রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ফল পোখতা হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আবু আবদুল্লাহ বলেন, অর্থাৎ লালচে হওয়ার আগে।

বুখারি হাদিস নং ২০৫৭

হাদীস নং ২০৫৭

মুসাদ্দাদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের রং পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। রাবী বলেন, অর্থাৎ লালচে বর্ণের বা হলুদ বর্ণের না হওয়া পর্যন্ত এবং তা খাওয়ার যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত ।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৫৮ – খেজুর উপযোগী হওয়ার আগে তা বিক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৫৮

আলী ইবনে হায়সাম রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

এবং খেজুরের রং ধরার আগে (বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন)। জিজ্ঞাসা করা হল, রং ধরার অর্থ কী ? তিনি বলেন, লাল বর্ণ বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা। আবু আবদুল্লাহ বলেন, আমি মুআল্লা ইবনে মানসুর রহ. থেকে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছি। কিন্তু এ হাদীস তার থেকে লিখিনি।

বুখারি হাদিস নং ২০৫৯ – ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার পূর্বে বিক্রি করার পরে যদি তাতে মড়ক দেখা দেয় তবে বিক্রেতার হবে।

হাদীস নং ২০৫৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধরার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞাসা করা হল, রং ধারণ করার অর্থ কী ? তিনি বললেন, লাল বর্ণ ধারণ করা।

পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : দেখ, যদি আল্লাহ তা’আলা ফল ধরা বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) নিবে?

লাইস রহ………ইবনে শিহাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যদি ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার পূর্বে তা খরিদ করে, পরে তাঁতে মড়ক দেখা দেয়, তবে যা নষ্ট হবে তা মালিকের উপর বর্তাবে।(যুহরী রহ.) বলেন,

আমার কাছে সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তোমরা ফল খরিদ করবে না এবং শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করবে না।

বুখারি হাদিস নং ২০৬০ – নির্ধারিত মেয়াদে বাকিতে খাদ্য ক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৬০

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……..আমাশ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম রহ.-এর কাছে বন্ধক রেখে বাকিতে ক্রয় করার ব্যাপারে আলোচনা করলাম।

তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। এরপর তিনি আসওয়াদ রহ. সূত্রে আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট মেয়াদে (মূল্য বাকি রেখে) জনৈক ইয়াহুদীর নিকট থেকে খাদ্য খরিদ করেন এবং তাঁর বর্ম বন্ধক রাখেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৬১ – উৎকৃষ্ট খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রি করতে চাইলে।

হাদীস নং ২০৬১

কুতাইবা রহ……..আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে খায়বারে তহসীলদার নিযুক্ত করেন।

সে জানীব নামক (উত্তম) খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, খায়বারের সব খেজুর কি এ রকমের? সে বলল, না আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

এরূপ নয়, বরং আমরা দু’ সা’ এর পরিবর্তে এ ধরনের এক সা’ খেজুর নিয়ে থাকি এবং তিন সা’ এর পরিবর্তে এর দু’ সা’। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এরূপ করবে না। বরং মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিরহাম দিয়ে জানাবী খেজুর খরিদ করবে।

বুখারি হাদিস নং ২০৬২ – তাবীরকৃত খেজুর গাছ অথবা ফসলকৃত জমি বিক্রয় করলে বা ভাড়ায় নিলে।

হাদীস নং ২০৬২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ তাবীর করার পরে খেজুর গাছ বিক্রি করলে বিক্রেতা সে ফলের মালিক থাকবে, অবশ্য ক্রেতা যদি (ফল লাভের) শর্ত করে, তবে সে পাবে।

বুখারি হাদিস নং ২০৬৩ – মাপে খাদ্যের বদলে ফসল বিক্রি করা।

হাদীস নং ২০৬৩

কুতাইবা রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা নিষেধ করেছেন, আর তা হল বাগানের ফল বিক্রি করা।

খেজুর হলে মেপে শুকনা খেজুরের বদলে, আঙ্গুর হলে মেপে কিসমিসের বদলে, আর ফসল হলে মেপে খাদ্যের বদলে বিক্রি করা। তিনি এসব বিক্রি নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৬৪ – মূল খেজুর গাছ বিক্রি করা।

হাদীস নং ২০৬৪

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি খেজুর গাছ তাবীর করার পরে মূল গাছ বিক্রি করল, সে গাছের ফল যে তাবীর করেছে তারই থাকবে, অবশ্য ক্রেতা যদি ফলের শর্ত করে (তবে সে খাবে)।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৬৫ – কাঁচা ফল ও শস্য বিক্রি করা।

হাদীস নং ২০৬৫

ইসহাক ইবনে ওহাব রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা, মুখাদারা, মুলামাসা, মুনাবাযা ও মুযাবানা নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৬৬

হাদীস নং ২০৬৬

কুতাইবা রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাকার পূর্বে ফল বিক্রি নিষেধ করেছেন। (রাবী বলেন) আমরা আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ফল পাকার অর্থ কি? তিনি বললেন, লালচে বা হলদে হওয়া।

(নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) বলত, আল্লাহ তা’আলা যদি ফল নষ্ট করে দেন, তবে কিসের বদলে তোমরা ভাইয়ের মাল গ্রহণ করবে?

বুখারি হাদিস নং ২০৬৭ – খেজুরের মাথি বিক্রয় করা এবং খাওয়া।

হাদীস নং ২০৬৭

আবুল ওয়ালীদ হিশাম ইবনে আবদুল মালিক রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম, তিনি সে সময়ে খেজুরের মাথি খাচ্ছিলেন।

তখন তিনি বললেন, গাছের মধ্যে এমনও গাছ আছে, যা মুমিন ব্যক্তির সদৃশ। আমি বলতে ইচ্ছা করলাম যে, তা হল খেজুর গাছ। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে, আমি সকলের মাঝে বয়ঃকনিষ্ঠ (তাই লজ্জায় বলি নাই। কেউ উত্তর না দেওয়ায়) তিনি বললেন, তা খেজুর গাছ।

বুখারি হাদিস নং ২০৬৮ – ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, মাপ ও ওযন ইত্যাদির ব্যাপারে বিভিন্ন শহরে প্রচলিত রিওয়াজ ও নিয়ম গ্রহণীয়। এ বিষয়ে তাদের নিয়্যত ও প্রসিদ্ধ পন্থাই অবলম্বন করা হবে।

হাদীস নং ২০৬৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু তায়বা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিংগা লাগালেন। তিনি এক সা’ খেজুর দিতে বললেন এবং তার উপর থেকে দৈনিক আয়কর কমানোর জন্য তার মালিককে আদেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৬৯

হাদীস নং ২০৬৯

আবু নুআইম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, মুআবিয়া রা.-এর মা হিন্দ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আবু সুফিয়ান রা. একজন কৃপণ ব্যক্তি।

এমতাবস্থায় আমি যদি তার মাল থেকে গোপনে কিছু গ্রহণ করি, তাঁতে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজনানুসারে যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পার।

বুখারি হাদিস নং ২০৭০

হাদীস নং ২০৭০

ইসহাক ও মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরআনের আয়াত : যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে (৪ : ৬)।

ইয়াতীমের ঐ অবিভাবক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়, যে তার তত্ত্বাবধান করে ও তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে, সে যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তা থেকে নিয়মমাফিক খেতে পারবে।

বুখারি হাদিস নং ২০৭১ – এক শরীকের অপর শরীক থেকে ক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৭১

মাহমুদ রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা হয়নি, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে শুফআ এর অধিকার প্রদান করেছেন।

যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যাবে এবং রাস্তা ভিন্ন করা হয়, তখন আর শুফআ এর অধিকার থাকবে না।

বুখারি হাদিস নং ২০৭২ – এজমালী সম্পত্তি, বাড়িঘর ও আসবাবপত্রের বিক্রয় ।

হাদীস নং ২০৭২

মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়নি, তার মধ্যে শুফআ লাভের ফায়সালা প্রদান করেছেন।

তারপর যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং স্বতন্ত্র করা হয় তখন আর শুফআ এর অধিকার থাকবে না।

বুখারি হাদিস নং ২০৭৩

হাদীস নং ২০৭৩

মুসাদ্দাদ রহ……….আবদুল ওয়াহিদ রহ. থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, যে সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি (তাতে শুফআ)। হিশাম রহ. মামার রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদের অনুসরণ করেছেন।

আবদুর রাযযাক রহ. বলেছেন, যে সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি, সে সব সম্পদেই (শুফআ রয়েছে)। হাদীসটি আবদুর রাহমান ইবনে ইসহাক রা. যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৭৪ – বিনা অনুমতিতে অন্যের কিছু খরিদ করার পরে সে রাযী হলে।

হাদীস নং ২০৭৪

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………ইবনে উমর রা থেকে সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি হেঁটে চলছিল।এমন সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়।

তাদের একজন আরেক জনকে বলল; তোমরা যে সব আমল করেছ, তরি মধ্যে উত্তম আমলে ওয়াসীলা করে আল্লাহর কাছে দু’আ কর। তাদের একজন বলল, ইয়া আল্লাহ ! আমার অতিবৃদ্ধ পিতামাতা ছিলেন, আমি (প্রত্যহ সকালে) মেষ চরাতে বের হতাম। তারপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম।

এবং এ দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হতাম ও তাঁরা তা পান করতেন। তারপরে আমি শিশুদের, পরিজনদের এবং আমার স্ত্রীকে পান করতে দিতাম। একরাত্রে আটকা পড়ে যাই। তারপর আমি যখন এলাম তখন তাঁরা দু’জনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে বলল, আমি তাদের জাগানো পছন্দ করলাম না।

আর তখন শিশুরা আমার পায়ের কাছে (ক্ষুধায়) চীৎকার করছিল। এ অবস্থায়ই আমার এবং পিতামাতার ফজর হয়ে গেল। ইয়া আল্লাহ ! তুমি যদি জান তা আমি শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় করেছিলাম। তাহলে তুমি আমাদের গুহার মুখ এতটুকু ফাঁক করে দাও, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পারি।

বর্ণনাকারী বলেন, তখন একটু ফাঁকা হয়ে গেল। আরেকজন বলল, ইয়া আল্লাহ ! তুমি জান যে, আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এত চরম ভালবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালবাসে থাকে। সে বলল, তুমি আমার থেকে সে মনস্কামনা সিদ্ধ করতে পারবে না, যতক্ষণ আমাকে একশত দীনার না দেবে।

আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি। তারপর যখন আমি তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলে আল্লাহকে ভয় কর। বৈধ অধিকার ছাড়া মাহরকৃত বস্তুর সীল ভাঙবে না।

এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি। (হে আল্লাহ) তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের থেকে আরো একটু ফাঁক করে দাও। তখন তাদের থেকে (গুহার মুখের) দুই-তৃতীয়াংশ ফাঁক হয়ে গেল। অপরজন বলল, হে আল্লাহ !

তুমি জান যে, এক ফারাক (পরিমাণ) শস্য দানার বিনিময়ে আমি একজন মজুর রেখেছিলাম। আমি যখন তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারপর আমি সে এক ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু খরিদ করি ও রাখাল নিযুক্ত করি।

কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলল, হে আল্লাহর বান্দা ! আমাকে আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি বললাম, এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও।

সে বলল, তুমি কি আমার সাথে উপহাস করছ ? আমি বললাম, আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না বরং এসব তোমার। হে আল্লাহ ! তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করছি, তবে আমাদের থেকে (গুহার মুখ) খুলে দাও। তখন তাদের থেকে গুহার মুখ খুলে গেল।

বুখারি হাদিস নং ২০৭৫ – মুশরিক ও শত্রুপক্ষের সাথে বেচা-কেনা।

হাদীস নং ২০৭৫

আবুন নুমান রহ………আবদুর রাহমান ইবনে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছিলাম।

এ সময়ে এলোমেলো লম্বা চুল বিশিষ্ট এক মুশরিক ব্যক্তি তার বকরী হাঁকিয়ে উপস্থিত হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এটা কি বিক্রির জন্য, না দান হিসাবে, অথবা তিনি বললেন, না হেবা হিসাবে? সে বলল, বরং বিক্রির জন্য। তখন তিনি তার কাছ থেকে একটি বকরী খরিদ করলেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৭৬ – শত্রুপক্ষ থেকে গোলাম খরিদ করা, হেবা করা এবং আযাদ করা।

হাদীস নং ২০৭৬

আবুল ইয়ামান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (হযরত) ইবরাহীম আ. সারাকে সাথে নিয়ে হিজরত করলেন এবং এমন এক জনপদে প্রবেশ করলেন, যেখানে এক বাদশাহ ছিল, অথবা বললেন, এক অত্যাচারী শাসক ছিল।

তাকে বলা হল যে, ইবরাহীম (নামক এক ব্যক্তি) এক পরমা সুন্দরী নারীকে নিয়ে (আমাদের এখানে প্রবেশ করেছে। সে তখন তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করল যে, হে ইবরাহীম !

তোমার সাথে এ নারী কে ? তিনি বললেন, আমার বোন। তারপর তিনি সারার কাছে ফিরে এসে বললেন, তুমি আমার কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা না। আমি তাদেরকে বলেছি যে, তুমি আমার বোন। আল্লাহর কসম ! দুনিয়াতে (এখন) তুমি আর আমি ছাড়া আর কেউ মুমিন নেই।

সুতরাং আমি ও তুমি দীনী ভাই বোন। এরপর ইবরাহীম আ. (বাদশাহর নির্দেশে) সারাকে বাদশাহর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। বাদশাহ তাঁর দিকে অগ্রসর হল। সারা উযূ করে সালাত আদায়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং এ দু’আ করলেন হে আল্লাহ ! আমিও তোমার উপর এবং তোমার রাসূলের উপর ঈমান এনেছি এবং আমার স্বামী ছাড়া সকল থেকে আমার লজ্জা স্থানের সংরক্ষণ করেছি।

তুমি এই কাফিরকে আমার উপর ক্ষমতা দিও না। তখন বাদশাহ বেহুঁশ হয়ে পড়ে মাটিতে পায়ের আঘাত করতে লাগল। তখন সারা বললেন, আয় আল্লাহ !

এ যদি মারা যায় তবে লোকে বলবে, স্ত্রীলোকটি একে হত্যা করেছে। তখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেল। এভাবে দুইবার বা তিনবারের পর বাদশাহ বলল, আল্লাহর কসম ! তোমরা তো আমার নিকট এক শয়তানকে পাঠিয়েছ।

একে ইবরাহীমের কাছে ফিরিয়ে দাও এবং তার জন্য হাজিরাকে হাদিয়া স্বরূপ দান কর। সারা রা. ইবরাহীম আ.-এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আপনি জানেন কি, আল্লাহ তা’আলা কাফিরকে লজ্জিত ও নিরাশ করেছেন এবং সে এক বাঁদী হাদিয়া হিসাবে দেয়।

বুখারি হাদিস নং ২০৭৭

হাদীস নং ২০৭৭

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদ ইবনে আবু ওয়াক্বাস ও আবদ ইবনে যামআ উভয়ে এক বালকের ব্যাপারে বিতর্ক করেন।

সাদ রা. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এতো আমার ভাই উৎবা ইবনে আবী ওয়াক্বাসের পুত্র। সে তার পুত্র হিসাবে আমাকে ওয়াসিয়্যাত করে গেছে। আপনি ওর সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য করুন।

আবদ ইবনে যামআ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে, উতবার সাথে তার পরিষ্কার সাদৃশ্য রয়েছে।

তিনি বললেন, এ ছেলেটি তুমি পাবে, হে আবদ ইবনে যামআ ! বিছানা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে বঞ্চনা। হে সাওদা বিনতে যামআ ! তুমি এর থেকে পর্দা কর। ফলে সাওদা রা. কখনও তাকে দেখেননি।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৭৮

হাদীস নং ২০৭৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবদুর রাহমান ইবনে আওফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি সুহায়ব রা. কে বলেন, আল্লাহকে ভয় কর। তুমি নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করো না।

এর উত্তরে সুহায়ব রা. বলেন, আমি এতে আনন্দবোধ করব না যে, এত এত সম্পদ হোক আর আমি আমার পিতৃত্বের দাবী অন্যের প্রতি আরোপ করি, বরং (আসল ব্যাপার) আমাকে শিশুকালে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ২০৭৯

হাদীস নং ২০৭৯

আবুল ইয়ামান রহ………হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি বলুন, আমি জাহিলিয়্যা যুগে দান, খায়রাত, গোলাম আযাদ ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার ইত্যাদি যে সব নেকীর কাজ করেছি, এতে কি আমি সাওয়াব পাব?

হাকীম রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : অতীতের সৎ কর্মসহ তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ অর্থাৎ তুমি যে সব নেকী করছ, তার পুরোপুরি সাওয়াব লাভ করবে।

বুখারি হাদিস নং ২০৮০ – পাকা করার পূর্বে মৃত জন্তুর চামড়ার ব্যবহার।

হাদীস নং ২০৮০

যুহায়ব ইবনে হারব রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মৃত বকরীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা এর চামড়া কাজে লাগাও না কেন? তারা বললেন, এ তো মৃত। তিনি বললেন, শুধু তার গোশত খাওয়া হারাম করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২০৮১ – শূকর হত্যা করা।

হাদীস নং ২০৮১

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শপথ সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ।

অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায় বিচারক রূপে মারয়াম তনয় (ঈসা আ.) অবতরণ করবেন। তারপর তিনি ক্রুশ ভেংগে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযয়া রহিত করবেন এবং ধন-সম্পদের এরূপ প্রাচুর্য হবে যে, কেউ তা গ্রহণ করবে না।

বুখারি হাদিস নং ২০৮২ – মৃত জন্তুর চর্বি গলানো বৈধ নয় এবং তার তেল বিক্রি করাও বৈধ নয়।

হাদীস নং ২০৮২

হুমাইদী রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে খাত্তাব রা.-এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, অমুক ব্যক্তি শরাব বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা অমুকের বিনাশ করুন।

সে কি জানে না যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তা’আলা ইয়াহুদীদের সর্বনাশ করুন, তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল : কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে।

বুখারি হাদিস নং ২০৮৩

হাদীস নং ২০৮৩

আবদান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ ইয়াহুদীদের বিনাশ করুন। তাদের জন্য চর্বি হারাম হয়েছে।

তারা তা (গলিয়ে) বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন,قاتلهم الله এর অর্থ আল্লাহ তাদের বিনাশ করুন قتل অর্থ বিনাশ করা গেল الخرمون এর অর্থ মিথ্যাবাদী।

বুখারি হাদিস নং ২০৮৪ – প্রাণী ব্যতীত অন্য বস্তুর ছবি বিক্রয় এবং এ সম্পর্কে যা নিষিদ্ধ।

হাদীস নং ২০৮৪

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………সাঈদ ইবনে আবুল হাসান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা.-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময়ে তার কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আবু আব্বাস ! আমি এমন ব্যক্তি যে, আমার জীবিকা হস্তশিল্পে। আমি এ সব ছবি তৈরী করি।

ইবনে আব্বাস রা. তাকে বলেন, (এ বিষয়ে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি যা বলতে শুনেছি, তাই তোমাকে শোনাব। তাকে আমি বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন ছবি তৈরী করে আল্লাহ তা’আলা তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষণ না সে তাঁতে প্রাণ সঞ্চার করে। আর সে তাঁতে কখনো প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না।

(এ কথা শুনে) লোকটি ভীষণভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। এতে ইবনে আব্বাস রা. বললেন, আক্ষেপ তোমার জন্য, তুমি যদি এ কাজ নাই ছাড়তে পার, তবে এ গাছ-পালা এবং যে সকল জিনিসে প্রাণ নেই, তা তৈরী করতে পার।

আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, সাঈদ রা. বলেছেন আমি নযর ইবনে আনাস রা. থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, ইবনে আব্বাস রা. হাদীস বর্ণনা করার সময় আমি তার কাছে ছিলাম।

ইমাম বুখারী রহ. আরো বলেন, সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ রহ. একমাত্র এ হাদীসটি নযর ইবনে আনাস রা. থেকে শুনেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৮৫ – শরাবের ব্যবসা হারাম।

হাদীস নং ২০৮৫

মুসলিম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাযিল হলো, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেন, শরাবের ব্যবসা হারাম করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২০৮৬ – আযাদ মানুষ বিক্রেতার পাপ।

হাদীস নং ২০৮৬

বিশর ইবনে মারহুম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বাদী হব।

এক ব্যক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করল। আরেক ব্যক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার থেকে পুরা কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয় না।

বুখারি হাদিস নং ২০৮৭ – গোলামের বিনিময়ে গোলাম এবং জানোয়ারের বিনিময়ে জানোয়ার বাকীতে বিক্রয়।

হাদীস নং ২০৮৭

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাফিয়্যা রা. বন্দীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন তিনি দিহয়া কালবী রা.-এর ভাগে পড়েন, এর পরে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধীনে এসে যান।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৮৮ – গোলাম বিক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৮৮

আবুল ইয়ামান রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, একদা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমরা বন্দী দাসীর সাথে সংগত হই। কিন্তু আমরা তাদের (বিক্রয় করে) মূল্য হাসিল করতে চাই। এমতাবস্থায় আযল-(নিরুদ্ধ সংগম করা) সম্পর্কে আপনি কি বলেন ?

তিনি বললেন, আরে তোমরা কি এরূপ করে থাক! তোমরা যদি তা (আযল) না কর তাঁতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ আল্লাহ তা’আলা যে সন্তান জন্ম হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই জন্মগ্রহণ করবে।

বুখারি হাদিস নং ২০৮৯ – মুদাব্বার গোলাম বিক্রয় করা।

হাদীস নং ২০৮৯

ইবনে নুমাইর রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদাব্বার গোলাম বিক্রি করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৯০

হাদীস নং ২০৯০

কুতাইবা রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদাব্বার বিক্রি করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৯১

হাদীস নং ২০৯১

যুহাইর ইবনে হারব রহ………..যায়েদ ইবনে খালিদ ও আবু হুরায়রা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবিবাহিত ব্যভিচারিণী দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তাকে বলতে শুনেছেন যে, ব্যভিচারিণী কে বেত্রাঘাত কর। সে আবার ব্যভিচার করলে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর বিক্রি করে দাও তৃতীয় বা চতুর্থ বারের পরে।

বুখারি হাদিস নং ২০৯২

হাদীস নং ২০৯২

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি, তোমাদের কোন দাসী ব্যভিচার করলে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হলে তাকে ‘হদ’ স্বরূপ বেত্রাঘাত করবে এবং তাকে ভৎর্সনা করবে না।

এরপর যদি সে আবার ব্যভিচার করে তাকে ‘হদ’ হিসাবে বেত্রাঘাত করবে কিন্তু তাকে ভৎর্সনা করবে না। তারপর সে যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয় তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, যদিও তা চুলের রশির (তুচ্ছ মূল্যের) বিনিময়ে হয়।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৯৩ – ইসতিবরা অর্থাৎ জরায়ু গর্ভ মুক্ত কিনা তা জানার পূর্বে বাদীকে নিয়ে সফর করা।

হাদীস নং ২০৯৩

আবদুল গাফফার ইবনে দাউদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খঅয়বার গমন করেন। যখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর পক্ষে দুর্গের বিজয় দান করেন, তখন তাঁর সামনে সাফিয়্যা রা. বিনতে হুয়ায়্যি ইবনে আখতাব এর সৌন্দর্যের আলোচনা করা হয়।

তাঁর স্বামী নিহত হয় এবং তিনি তখন ছিলেন নব-বিবাহিতা। অবশেষে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্য গ্রহণ করে নেন। তিনি তাকে নিয়ে রওয়ানা হন।

যখন আমরা সাদ্দা রাওহা নামক স্থানে উপনীত হলাম, তখন সাফিয়্যা রা. পবিত্র হলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে মিলিত হন। তারপর চামড়ার ছোট দস্তরখানে হায়েজ (খেজুরের ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আশেপাশের লোকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য খবর দিয়ে দাও।

এই ছিল সাফিয়্যা রা.-এর বিবাহে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ওলীমা। এরপর আমরা মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়অনা হই।

আনাস রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলাম যে, তাকে নিজের আবা দিয়ে ঘেরাও করে দিচ্ছেন। তারপর তিনি তাঁর উটের পাশে বসে হাঁটু সোজা করে রাখলেন, পরে সাফিয়্যা রা. তাঁর হাঁটুর উপর পা দিয়ে ভর করে আরোহণ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২০৯৪ – মৃত জন্তু ও মূর্তি বিক্রয় ।

হাদীস নং ২০৯৪

কুতাইবা রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন : আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল শরাব, মৃত জন্তু, শুকর ও মূর্তি কেনা-বেচা হারাম করে দিয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কি বলেন ? তা দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেওয়া হয় এবং চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকে তা দ্বারা জ্বালিয়ে থাকে। তিনি বললেন, না, তাও হারাম।

তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’আলা ইয়াহুদীদের বিনাশ করুন। আল্লাহ যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করে।

আবু আসিম রহ…….আতা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাবির রা.-কে (হাদীসটি) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ২০৯৫ – কুকুরের মূল্য।

হাদীস নং ২০৯৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক (গ্রহণ করা) থেকে নিষেধ করেছেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২০৯৬

হাদীস নং ২০৯৬

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……..আউন ইবনে আবু জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি যে, তিনি একটি শিংগা লাগানেওয়া গোলাম কিনলেন।

তিনি তার শিংগা লাগানোর যন্ত্র ভেঙ্গে ফেলতে নির্দেশ দিলে তা ভেঙ্গে ফেলা হল। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য, দাসীর (ব্যভিচারের মাধ্যমে) উপার্জন করা থেকে নিষেধ করেছেন।

আর তিনি শরীরে উলকি অংকনকারী ও উলকি গ্রহণকারী, সূদখোর ও সূদ দাতার উপর এবং (জীবের) ছবি অংকনকারীর উপর লা’নত করেছেন।

বুখারি হাদিস ২০২৪

হাদীস ২০২৪

সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা পণ্যবাহী কাফেলার সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে সস্তায় পণ্য খরিদের উদ্দেশ্যে) সাক্ষাৎ করবে না এবং শহরবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে।

রাবী তাউস রহ. বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে, তাঁর একথার অর্থ কি? তিনি বললেন, তার হয়ে যেন সে প্রতারণামূলক দালালী না করে।

আরও পড়ুনঃ

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হাদিসশাস্ত্র (উলুমুল হাদিস)

 

মন্তব্য করুন