ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯১৯ – আল্লাহ তা’আলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে : সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং অনুগ্রহ সন্ধান করবে……….(৬ : ১০-১১)। আল্লাহ তা’আলার বাণী : তোমরা নিজেদের মধ্যে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো ন। কিন্তু তোমাদের পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ।

হাদীস নং ১৯১৯

আবুল ইয়ামান রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আপনারা বলে থাকেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবু হুরায়রা রা. বেশী বেশী হাদীস বর্ণনা করে থাকে এবং আরো বলেন, মহাজির ও আনসারদের কি হল যে, তারা তো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেন না ?

আমার মুহাজির ভাইগণ বাজারে কেনা-বেচায় ব্যস্ত থাকতেন আর আমি কোন প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে (খেয়ে না খেয়ে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে পড়ে থাকতাম।

তাঁরা যখন (কাজের ব্যস্ততায়) অনুপস্থিত থাকতেন আমি তখন উপস্থিত থাকতাম। তাঁরা যা ভুলে যেতেন আমি তা সংরক্ষণ করতাম। আর আমার আনসার ভায়েরা নিজেদের খেত-খামারের কাজে ব্যাপৃত থাকতেন।

আমি ছিলাম সুফফার মিসকীনদের একজন মিসকীন। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা সংরক্ষণ করতাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক বর্ণনায় বললেন : আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তার কাপড় জরিয়ে নেবে, আমি যা বলছি সে তা স্মরণ রাখতে পারবে।

(আবু হুরায়রা রা. বলেন) আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম, যতক্ষণ না নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শেষ করলেন, পরে আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম।

ফলে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সে কথার কিছুই ভুলিনি।

বুখারি হাদিস নং ১৯২০

হাদীস নং ১৯২০

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবদুর রাহমান ইবনে আওফা রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন মদীনায় আসি, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এবং সাদ ইবনে রাবী রা.-এর মাজে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি করে দেন।

পরে সাদ ইবনে রাবী বললেন, আমি আনসারদের মাঝে অধিক ধন-সম্পত্তির অধিকারী। আমার অর্ধেক সম্পত্তি তোমাকে ভাগ করে দিচ্ছি এবং আমার উভয় স্ত্রীকে দেখে যাকে তোমার পছন্দ হয়, বল আমি তাকে তোমার জন্য পরিত্যাগ করব।যখন সে (ইদ্দত পূর্ণ করবে) তখন তুমি তাকে বিবাহ করে নিবে। আবদুর রাহমান রা. বললেন, এ সবে আমার কোন প্রয়োজন নেই ।

বরং (আপনি বলুন) ব্যবসা-বাণিজ্য করার মত কোন বাজার আছে কি ? তিনি বললেন, কায়নুকার বাজার আছে। পরের দিন আবদুর রাহমান রা. সে বাজারে গিয়ে পনীর ও ঘি (খরিদ করে) নিয়ে আসলেন।

এরপর ক্রমাগত যাওয়া-আসা করতে থাকেন। কিছুকাল পরে আবদুর রাহমান রা.-এর কাপড়ে বিয়ের মেহেদী দেখা গেল। এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কে ? তিনি বললেন, জনৈকা আনাসারী মহিলা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কী পরিমাণ মহর দিয়েছ ?

আবদুর রাহমান আ. বললেন, খেজুরের এক আটি পরিমাণ স্বর্ণ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯২১

হাদীস নং ১৯২১

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ…….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনে আওফা রা. মদীনায় আগমন করলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সাদ ইবনে রাবী আনসারীর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। সাদ রা. ধনী ব্যক্তি ছিলেন।

তিনি আবদুর রাহমান রা.-কে বললেন, আমি তোমার উদ্দেশ্যে আমার সম্পত্তি অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করে নিতে চাই এবং তোমাকে বিবাহ করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। আমাকে বাজার দেখিয়ে দাও। তিনি বাজার হতে মুনাফা করে নিয়ে আসলেন পনীর ও ঘি।

এভাবে কিছু কাল কাটালেন। একদিন তিনি এভাবে আসলেন যে, তাঁর গায়ে বিয়ের মেহেদীর রংয়ের চিহ্ন লেগে আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার ?

তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কে ? তিনি বললেন, জনৈকা আনাসারী মহিলা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কী পরিমাণ মহর দিয়েছ ?

আবদুর রাহমান আ. বললেন, খেজুরের এক আটি পরিমাণ স্বর্ণ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।

বুখারি হাদিস নং ১৯২২

হাদীস নং ১৯২২

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উকায মাজিন্না ও যুল-মাজায (নামক স্থানে) জাহিলিয়্যাতের যুগে বাজার ছিল।

ইসলামের আবির্ভাবের পরে লোকেরা ঐ সকল বাজারে যেতে গুনাহ মনে করতে লাগল। ফলে (কুরআন মজিদের আয়ত) নাযিল হল : তোমাদের রবের অনুগ্রহ সন্ধানে তোমাদের কোন পাপ নেই।

(২ : ১৯৮) ইবনে আব্বাস রা. (আয়াতের সংগে) হজ্জের মওসুমে কথাটুকুও পড়লেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯২৩ – হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, উভয়ের মাঝে অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে।

হাদীস নং ১৯২৩

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না, আলী ইবনে আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ও মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……..নুমান ইবনে বাশীর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, উভয়ের মাঝে অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে।

যে ব্যক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ পরিত্যাগ করে, সে ব্যক্তি যে বিষয়ে গুনাহ হওয়া সুস্পষ্ট, সে বিষয়ে অধিকতর পরিত্যাগকারী হবে।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ করতে দুঃসাহস করে, সে ব্যক্তির সুস্পষ্ট গুনাহের কাজে পতিত হবার যথেষ্ট আশংকা রয়েছে।

গুনাহসমূহ আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা, যে জানোয়ার সংরক্ষিত এলাকার চার পাশে চরতে থাকে, তার ঐ সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করার সম্ভবনা রয়েছে।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯২৪ – সন্দেহজনক কাজের ব্যাখ্যা।

হাদীস নং ১৯২৪

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……..উকবা ইবনে হারিছ রা. থেকে বর্ণিত যে, একজন মেয়েলোক এসে দাবী করল যে, সে তাদের (উকবা ও তার স্ত্রী) উভয়কে দুধপান করিয়েছে।

তিনি এ কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং মুচকি হেঁসে বললেন, কিভাবে ?

অথচ এমনটি বলা হয়ে গেছে। তাঁর স্ত্রী ছিলেন আবু ইহাব তামীমীর কন্যা।

বুখারি হাদিস নং ১৯২৫

হাদীস নং ১৯২৫

ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাস তার ভাই সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-কে ওয়াসীয়াত করে যান যে, যামআর বাদীর গর্ভস্থিত পুত্র আমার ঔরসজাত; তুমি তাকে তোমার অধীনে নিয়ে আসবে।

আয়িশা রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের কালে ঐ ছেলেটিকে সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. নিয়ে নিলেন এবং বললেন, এ আমার ভাইয়ের পুত্র। তিনি আমাকে এর সম্পর্কে ওয়াসীয়াত করে গেছেন ।

এদিকে যামআর পুত্র আবদ দাবী করে যে, এ আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পুত্র। তার শয্যা সঙ্গিনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তারপর উভয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন।

সাদ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ আমার ভাইয়ের পুত্র, সে এর ব্যাপারে আমাকে ওয়াসীয়াত করে গেছে। এবং আবদ ইবনে যামআ বললেন, আমার ভাই।

আমার পিতার দাসীর পুত্র, তাঁর সঙ্গে শায়িনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে আবদ ইবনে যামআ ! এ ছেলেটি তোমার প্রাপ্য।

তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : শয্যা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারী যে, বঞ্চিত সে। এরপর তিনি নবী সহধর্মিণী সাওদা বিনতে যামআ রা.-কে বললেন, তুমি ঐ ছেলেটি থেকে পর্দা করবে।

কারণ তিনি ঐ ছেলেটির মধ্যে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পান। ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ছেলেটি আর সাওদা রা.-কে দেখেনি।

বুখারি হাদিস নং ১৯২৬

হাদীস নং ১৯২৬

আবুল ওয়ালীদ রহ………আদী ইবনে হাতিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পার্শ্বফলা বিহীন তীর (দ্বারা শিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, যদি তীরের ধারালো পার্শ্ব আঘাত করে, তবে সে খাবে, আর যদি এর ধারহীন পার্শ্বের আঘাতে মারা যায়, তবে তা খাবেনা। কেননা তা প্রহারে মৃত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আমি বিসমিল্লাহ পড়ে আমার কুকুর ছেড়ে দিয়ে থাকি । পরে তার সাথে শিকারের কাছে অন্য কুকুর দেখতে পাই যার উপর আমি বিসমিল্লাহ পড়িনি এবং জানি না যে, উভয়ের মধ্যে কে শিকার ধরেছে। তিনি বললেন : তুমি তা খাবে না।

তুমি তো তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্যটির উপর পড় নাই।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯২৭ – সন্দেহযুক্ত থেকে বাঁচা।

হাদীস নং ১৯২৭

কাবীসা রহ…….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) পথ অতিক্রমকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়ে থাকা একটি খেজুর দেখে বললেন, যদি এটা সাদকার খেজুর বলে সন্দেহ না হতো, তবে আমি তা খেতাম।

আবু হাম্মাদ রহ. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমার বিছানায় পড়ে থাকা খেজুর আমি পাই।

বুখারি হাদিস নং ১৯২৮ – ওয়াসওয়াসা ইত্যাদিকে যে সন্দেহ বলে গণ্য করে না।

হাদীস নং ১৯২৮

আবু নুআইম রহ………আববাদ ইবনে তামীমের চাচা (আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসিম) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, সালাত আদায়কালে তার উযূ ভঙ্গের কিছু হয়েছে বলে মনে হয়, এতে কি সে সালাত ছেড়ে দেবে ?

তিনি বলেন, না, যতক্ষণ না সে আওয়াজ শোনে বা দুর্গন্ধ টের পায় অর্থাৎ নিশ্চিত না হয়। ইবনে আবু হাফসা রা. যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তুমি গন্ধ না পেলে অথবা আওয়াজ না শোনলে উযূ করবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৯২৯

হাদীস নং ১৯২৯

আহমদ ইবনে মিকদাম ইজলী রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, কিছু সংখ্যক লোক বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! বহু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে আমরা জানিনা, তারা বিসমিল্লাহ পড়ে যবেহ করেছিল কিনা ?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এই উপর আল্লাহর নাম লও এবং তা খাও (ওয়াসওয়াসা শিকার হয়ো না)।

বুখারি হাদিস নং ১৯৩০

হাদীস নং ১৯৩০

তালক ইবনে গান্নাম রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম।

তখন সিরিয়া হতে একটি ব্যবসায়ী কাফেলা খাদ্য নিয়ে আগমন করল। লোকজন সকলেই সে দিকে চলে গেলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাত্র বারোজন থেকে গেলেন ।

এ প্রসংগে নাযিল হল : যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক তখন তারা সে দিকে ছুটে গেল।

বুখারি হাদিস নং ১৯৩১ – যে ব্যক্তি কোথা থেকে সম্পদ উপার্জন করল, তার পরোয়া করে না।

হাদীস নং ১৯৩১

আদম রহ……..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে, সে কোথা থেকে অর্জন করল, হালাল থেকে না হারাম থেকে।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৩২ – কাপড় ও অন্যান্য দ্রব্যের ব্যবসা।

হাদীস নং ১৯৩২

আবু আসিম রহ…….আবুল মিনহাল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সোনা-রূপার ব্যবসা করতাম।

এ সম্পর্কে আমি যায়েদ ইবনে আরকাম রা.-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ফাযল ইবনে ইয়াকুব রহ. অন্য সনদে…….আবুল মিনহাল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা ইবনে আযিব ও যায়েদ ইবনে আরকাম রা.-কে সোনা-রূপার ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা উভয়ে বললেন,

আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ব্যবসায়ী ছিলাম। আমরা তাকে সোনা-রূপার ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, যদি হাতে হাতে (নগদ) হয়, তবে কোন দোষ নেই, আর যদি বাকী হয় তবে দুরস্ত নয়।

 

বুখারি হাদিস নং ১৯৩৩ – ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বের হওয়া।

হাদীস নং ১৯৩৩

মুহাম্মদ রহ………উবায়দুল্লাহ ইবনে উমায়র রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবু মূসা আশআরী রা. উমর ইবনে খাত্তাব রা.-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি; সম্ভবত: তিনি কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই আবু মূসা রা. ফিরে আসেন। পরে উমর রা. পেরেশান তাকে আসতে বল।

কেউ বলল, তিনি তো ফিরে চলে গেছেন। উমর রা. তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি (উপস্থিত হয়ে) বললেন, আমাদের এরূপই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উমর রা. বললেন, তোমাকে এর উপর সাক্ষী পেশ করতে হবে। আবু মূসা রা. ফিরে গিয়ে আনসারদের এক মজলিসে পৌছে তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।

তাঁরা বললেন, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ আবু সাঈদ খুদরী রা.-ই সাক্ষ্য দেবে। তিনি আবু সাঈদ খুদরী রা.-কে নিয়ে গেলেন।

উমর রা. (তার কাছ থেকে সে হাদীসটি শুনে) বললেন, (কি আশ্চর্য) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ কি আমার কাছ থেকে গোপন রয়ে গেল ? (আসল ব্যাপার হল) বাজারের ক্রয়-বিক্রয় অর্থাৎ ব্যবসায়ের জন্য বের হওয়া আমাকে অনবহিত রেখেছে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৩৪ – আল্লাহর বাণী: যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক তখন তারা আপনাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল। এবং আল্লাহর বাণী : সে সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল রাখে না।

হাদীস নং ১৯৩৪

মুহাম্মদ রহ……..জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জুমুআর দিন সালাত আদায় করছিলাম।

এমন সময় এক বাণিজ্যিক কাফেলা এসে হাযির হয়, তখন বারজন লোক ছাড়া সকলেই কাফেলার দিক ছুটে যান। তখন এ আয়াত নাযিল হয় : যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক তখন তারা আপনাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল। (৬২ : ১০)।

বুখারি হাদিস নং ১৯৩৫ – মহান আল্লাহর বাণী : তোমরা যা উপার্জন কর, তন্মধ্যে উৎকৃষ্ট থেকে ব্যয় কর। (২ : ২৬৭)

হাদীস নং ১৯৩৫

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন মহিলা তার ঘরের খাদ্য থেকে ফাসাদের উদ্দেশ্য ছাড়া ব্যয় করে তখন তার জন্য সাওয়াব রয়েছে তার খরচ করার,

তার স্বামীর জন্য সাওয়াব রয়েছে তার উপার্জনের এবং সংরক্ষণকারীর জন্যও অনুরূপ রয়েছে। তাদের কারো কারণে সাওয়াব কিছুই কম হবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৯৩৬

হাদীস নং ১৯৩৬

ইয়াহইয়া ইবনে জাফর রহ…..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কোন মহিলা তার স্বামীর উপার্জন থেকে তার অনুমতি ছাড়াই ব্যয় করবে, তখন তার জন্য অর্ধেক সাওয়াব রয়েছে।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৩৭ – যে ব্যক্তি জীবিকায় বৃদ্ধি কামনা করে।

হাদীস নং ১৯৩৭

মুহাম্মদ ইবনে আবু ইয়াকুব কিরমানী রহ……আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তার মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৩৮ – হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বাকিতে খরিদ করা।

হাদীস নং ১৯৩৮

মুয়াল্লা ইবনে আসাদ রহ………আমাশ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ইবরাহীম রহ.-এর কাছে বাকিতে ক্রয়ের জন্য বন্ধক রাখা সম্পর্কে আমরা আলোচনা করছিলাম।

তখন তিনি বলেন, আসওয়াদ রহ. আয়িশা রা. থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদীর নিকট থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে মূল্য পরিশোধের শর্তে খাদ্য ক্রয় করেন এবং তার নিকট নিজের লোহার বর্ম বন্ধক রাখেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৩৯

হাদীস নং ১৯৩৯

মুসলিম ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাওশাব রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, একবার তিনি যবের আটা ও পুরোনো গন্ধযুক্ত চর্বি নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলেন।

রাবী বলেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি যে , মদীনায় অবস্থায় কালে তাঁর বর্ম জনৈক ইয়াহুদীর নিকট বন্ধক রেখে তিনি নিজ পরিবারের জন্য তার থেকে যব খরিদ করেন।

(রাবী কাতাদা রহ বলেন) আমি তাকে (আনাস রা.-কে) বলতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের কাছে এক সা’ পরিমাণ গম বা এক সা’ পরিমাণ আটাও থাকত না, অথচ সে সময় তাঁরা নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৪০ – লোকেরা উপার্জন এবং নিজ হাতে কাজ করা।

হাদীস নং ১৯৪০

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবু বকর সিদ্দীক রা.-কে খলীফা বানানো হল, তখন তিনি বললেন, আমার কওম জানে যে, আমার উপার্জন আমার পরিবারের ভরণ পোষণে অপর্যাপ্ত ছিলনা।

কিন্তু এখন আমি মুসলিম জনগণের কাজে সার্বক্ষণিক ব্যাপৃত হয়ে গেছি। অতএব আবু বকরের পরিবার এই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খাদ্য গ্রহণ করবে এবং আবু বকর রা. মুসলিম জনগণের সম্পদের তত্ত্বাবধান করবে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৪১

হাদীস নং ১৯৪১

মুহাম্মদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর সাহাবীগণ নিজেদের কাজ-কর্ম নিজেরা করতেন। ফলে তাদের শরীর থেকে ঘামের গন্ধ বের হত।

সেজন্য তাদের বলা হল, যদি তোমরা গোসল করে নাও (তবে ভাল হয়) হাম্মাম রহ………আয়িশা রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৪২

হাদীস নং ১৯৪২

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……..মিকদাম রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিজ হাতে উপার্জিত জীবিকার খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায় না। আল্লাহর নবী দাউদ আ. নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৪৩

হাদীস নং ১৯৪৩

ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ……..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী দাউদ আ. নিজের হাতের উপার্জন থেকেই খেতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৪৪

হাদীস নং ১৯৪৪

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো পক্ষে এক বোঝা লাকড়ী সংগ্রহ করে পিঠে বহন করে নেওয়া উত্তম কারো কাছে সাওয়াল করার চাইতে। (যার কাছে যাবে) সে দিতেও পারে অথবা নাও দিতে পারে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৪৫

হাদীস নং ১৯৪৫

ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ………যুবাইর ইবনে আওয়াম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কারো পক্ষে তার রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করতে বের হওয়া তার সাওয়াল করা থেকে উত্তম।

আবু নুআইম রহ. বলেন, মুহাম্মদ ইবনে সওযয়াব ও ইবনে নুমাইর রহ. হিশাম রহ.-এর মাধ্যমে তার পিতা থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৪৬ – ক্রয়-বিক্রয়ে নম্রতা ও সদ্ব্যবহার । আর যে ব্যক্তি তার পাওনার তাগাদা করে সে যেন অন্যায় বর্জন করে তাগাদা করে।

হাদীস নং ১৯৪৬

আলী ইবনে আইয়্যাশ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং পাওনা তাগাদায় নম্র ব্যবহার করে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর রহম করুন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৪৭ – সচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেওয়া ।

হাদীস নং ১৯৪৭

আহমদ ইউনুস রহ………..হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের পূর্ববর্তীগণের মধ্যে এক ব্যক্তির রূহের সাথে সাথে সাক্ষাত করে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, আমি আমার পীড়াপীড়ি না করে।

রাবী বলেন, তিনি বলেছেন, ফেরেশতারাও তাকে ক্ষমা করে দেন। আবু মালিক রহ. রিবঈ ইবনে হিরাশ রহ. সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তির ব্যাপারে সহজ করতাম এবং অভাবগ্রস্ত কে অবকাশ দিতাম।

শুবা রহ. আবদুল মালিক রহ. থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

আবু আওয়ানা রহ. আবদুল মালিক রহ. সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছল কে অবকাশ দিতাম এবং অভাবগ্রস্ত কে মাফ করে দিতাম এবং নুআইম ইবনে আবু হিনদ রহ. রিবঈ রহ. সূত্রে বলেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তি থেকে গ্রহণ করতাম এবং অভাবগ্রস্ত কে ক্ষমা করে দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৯৪৮ – অভাবগ্রস্তকে অবকাশ প্রদান করা।

হাদীস নং ১৯৪৮

হিশাম ইবনে আম্মার রহ……….আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যবসায়ী লোকদের ঋণ দিত।

কোন অভাবগ্রস্তকে দেখল সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে মাফ করে দাও, হয়তো আল্লাহ তা’আলা আমাদের মাফ করে দিবেন। এর ফলে আল্লাহ তা’আলা তাকে মাফ করে দেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৪৯ – ক্রেতা-বিক্রেতা কর্তৃক কোন কিছু গোপন না করে পণ্যের পূর্ণ অবস্থা বর্ণনা করা এবং একে অন্যের কল্যাণ কামনা করা।

হাদীস নং ১৯৪৯

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার থাকবে।

যদি তারা সত্য বলে এবং অবস্থা ব্যক্ত করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে আর যদি মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত চলে যাবে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫০ – মিশ্রিত খেজুর বিক্রি করা।

হাদীস নং ১৯৫০

আবু নুআঈম রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মিশ্রিত খেজুর দেওয়া হত, আমরা তার দু’ সা এক সা’-এর বিনিময়ে বিক্রি করতাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এক সা’ এর পরিবর্তে দু’ সা এবং এক দিরহামের পরিবর্তে দু’ দিরহাম বিক্রি করবে না।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫১ – গোশত বিক্রেতা ও কসাই প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ১৯৫১

উমর ইবনে হাফস রহ………আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু শুআইব নামক জনৈক আনসারী এসে তার কসাই গোলামকে বললেন, পাঁচ জনের উপযোগী খাবার তৈরী কর।

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-সহ পাঁচ জনকে দাওয়াত দিলেন। তাদের সঙ্গে আরেকজন অতিরিক্ত এলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ আমাদের সঙ্গে এসেছে, তুমি ইচ্ছা করলে একে অনুমতি দিতে পার আর তুমি যদি চাও সে ফিরে যাক, তবে সে ফিরে যাবে। সাহাবী বললেন, না, এবং আমি তাকে অনুমতি দিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫২ – মিথ্যা বলা ও দোষ গোপন করায় ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত নষ্ট হওয়া।

হাদীস নং ১৯৫২

বদল ইবনে মুহাববার রহ……..হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষণ ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে ।

যদি তারা সত্য বলে ও যথাযথ অবস্থা বর্ণনা করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে, আর যদি পণ্যের প্রকৃত অবস্থা গোপন করে ও মিথ্যা বলে তবে ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত চলে যাবে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫৩ – আল্লাহ তা’আলার বাণী : হে মু’মিনগণ ! তোমরা চক্র বৃদ্ধি হারে সূদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার (৩ : ১৩০)।

হাদীস নং ১৯৫৩

আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল হালাল থেকে না হারাম থেকে।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫৪ – সূদ গ্রহণকারী তার সাক্ষী ও লেখক।

হাদীস নং ১৯৫৪

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাযিল হল, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মসজিদে পড়ে শোনালেন। তারপর মদের ব্যবসা হারাম বলে ঘোষণা করেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৫৫

হাদীস নং ১৯৫৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..সামুরা ইবনে জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আজ রাতে আমি স্বপ্নে দেখিছি যে, দু’ ব্যক্তি আমার নিকট এসে আমাকে পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল।

আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে।

নদীর মাঝখানের লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায় তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খণ্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে।

এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কে ? সে বলল, যাকে আপনি (রক্তের) নদীতে দেখেছেন, সে হল সুদখোর।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫৬ – সূদদাতা। এ সঙ্গে আল্লাহ তা’আলার বাণী : হে মু’মিনগণ ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর………

হাদীস নং ১৯৫৬

আবুল ওয়ালীদ রহ………আওন ইবনে আবু জুহাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতাকে দেখেছি, তিনি এক গোলাম খরিদ করেন যে শিঙ্গা লাগানোর কাজ করত।

তিনি তার শিঙ্গার যন্ত্রপাতি সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন এবং তা ভেঙ্গে ফেলা হল।

আমি এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য এবং রক্তের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, আর দেহে দাগ দেওয়া ও লওয়া থেকে নিষেধ করেছেন। সূদ খাওয়া ও খায়ানো নিষেধ করেছেন আর ছবি অংকনকারীর উপর লা’নত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫৭ – (আল্লাহ তা’আলার বাণী) : আল্লাহ সূদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালবাসেন না।

হাদীস নং ১৯৫৭

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মিথ্যা কসম পণ্য চালু করে দেয় বটে, কিন্তু বকরত নিশ্চিহ্ন করে দেয়।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫৮ – ক্রয়-বিক্রয় কসম খাওয়া নিষিদ্ধ।

হাদীস নং ১৯৫৮

আমর ইবনে মুহাম্মদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বাজারে পণ্য আমদানী করে আল্লাহর নামে কসম খেল যে, এর এত দাম লাগান হয়েছে ; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কেউ বলেনি।

এতে তার উদ্দেশ্য সে যেন কোন মুসলিমকে পণ্যের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে আয়াত নাযিল হয়, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছমূল্যে বিক্রি করে (৩ : ৭৭) ।

বুখারি হাদিস নং ১৯৫৯ – স্বর্ণকার প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ১৯৫৯

আবদান রহ………হুসাইন ইবনে আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন, আলী রা. বলেছেন, (বদর যুদ্ধের) গনীমতের মাল থেকে আমার অংশের একটি উটনী ছিল এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুমস থেকে একটি উটনী আমাকে দান করলেন।

যখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা রা. এর সঙ্গে বাসর রাত যাপনের ইচ্ছা করলাম সে সময় আমি কায়নুকা গোত্রের একজন স্বর্ণকারের সাথে এই চুক্তি করেছিলাম যে,

সে আমার সঙ্গে (জংগলে) যাবে এবং ইযখির ঘাস বহন করে আনবে এবং তা স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রি করে তার মূল্য দ্বারা আমার বিবাহের ওয়ালীমার ব্যবস্থা করব।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৬০

হাদীস নং ১৯৬০

ইসহাক রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা বিজয়ের দিন) বলেন, আল্লাহ তা’আলা মক্কায় (রক্তপাত) হারাম করে দিয়েছেন।

আমার আগেও কারো জন্য মক্কা হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল করা হবে না। আমার জন্য শুধুমাত্র দিনের কিছু অংশে মক্কায় (রক্তপাত) হালাল হয়েছিল। মক্কার কোন ঘাস কাটা যাবে না, কোন গাছ কাটা যাবে না। কোন শিকারকে তাড়ানো যাবে না।

ঘোষণাকারী ব্যতীত কেউ মক্কার যমীনে পড়ে থাকা মাল উঠাতে পারবে না। তখন আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস, যা আমাদের স্বর্ণকারদের ও আমাদের ঘরের ছাদের জন্য ব্যবহৃত তা ব্যতীত।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত। রাবী ইকরামা রহ. বলেন, তুমি জানো শিকার তাড়ানোর অর্থ কি ?

তা হল, ছায়ায় অবস্থিত শিকারকে তাড়িয়ে তার স্থানে নিজে বসা। আবদুল ওহাব রহ. খালিদ রহ .সূত্রে বলেছেন, আমাদের স্বর্ণকারদের জন্য ও আমাদের কবরের জন্য।

বুখারি হাদিস নং ১৯৬১ – তীরের ফলক প্রস্তুতকারী ও কর্মকার প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ১৯৬১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…….খাব্বাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে আমি কর্মকারের পেশায় ছিলাম। আস ইবনে ওয়াইলের কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল আমি তার কাছে তাগাদা করতে গেলে সে বলল, যতক্ষণ তুমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ আমি তোমাকে তোমার পাওনা দিব না।

আমি বললাম, আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিয়ে তারপর তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আমি তাকে অস্বীকার করব না। সে বলল, আমি মরে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে অব্যাহতি দাও।

শীগ্রীরই আমাকে সম্পদ ও সন্তান দেওয়া হবে, তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাযিল হল : তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াত সমূহ প্রত্যাখান করে এবং বলে আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবেই (১৯ : ৭৭)।

বুখারি হাদিস নং ১৯৬২ – দরজী প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ১৯৬২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক দরজী খাবার তৈরী করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত করলেন।

আনাস ইবেন মালিক রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে রুটি এবং সুরুয়া যাতে কদু ও গোশতের টুকরা ছিল, পেশ করলেন।

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলাম যে, পেয়ালার পার্শ্ব থেকে তিনি কদুর টুকরা খোঁজ করে নিচ্ছেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৬৩ – তাঁতী প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ১৯৬৩

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা একটি বুরদা আনলেন (সাহল রা.) বললেন, তোমরা জান বুরদা কি?

তাকে বলা হয়, হ্যাঁ, তা হল এমন চাদর, যা পাড় বুনানো। মহিলা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনাকে পরিধান করানোর জন্য আমি এটি নিজ হাতে বুনে নিয়ে এসেছি।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর এর প্রয়োজন ছিল। তারপর তিনি তা তহবন্দরূপে পরিধান করে আমাদের সামনে এলেন।

উপস্থিত লোকজনের মধ্যে একজন বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তা আমাকে পরিধান করতে দিন। তিনি বললেন, আচ্ছা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ মজলিসে বসে পরে ফিরে গেলেন।

তারপর চাদরটি ভাঁজ করে সে লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। লোকজন সে ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ভাল করনি, তুমি তাঁর কাছে চাদরটি চেয়ে ফেললে, অথচ তুমি জান যে, তিনি কোন সাওয়ালকারীকে ফিরিয়ে দেন না।

সে লোকটি বললেন, আল্লাহর কসম, আমি চাদরটি এ জন্যই সাওয়াল করেছি যে, তা যাতে আমার মৃত্যুর পর আমার কাফন হয়। রাবী সাহল রা. বলেন, সেটি তার কাফন হয়েছিল।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৬৪ – সূত্রধর প্রসঙ্গে।

হাদীস নং ১৯৬৪

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……..আবু হাযিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছু লোক সাহল ইবনে সাদ রা.-এর কাছে এসে মিম্বরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।

তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন (আনসারী) মহিলা সাহল রা. যার নাম উল্লেখ করেছিলেন, তার কাছে তিনি সংবাদ পাঠালেন যে, তোমার সূত্রধর গোলামকে বল, সে যেন আমার জন্য কাঠ দিয়ে একটি (মিম্বর) তৈরী করে দেয়।

লোকদের সাথে কথা বলার সময় যার উপর আমি বসতে পারি।

সে মহিলা তাকে গাবা নামক স্থানের কাঠ দিয়ে মিম্বর বানানোর নির্দেশ দিলেন। তারপর গোলামটি তা নিয়ে এল এবং সে মহিলা এটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন।

তার নির্দেশক্রমে তা স্থাপন করা হল, পরে তার উপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবেশন করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯৬৫

হাদীস নং ১৯৬৫

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, একজন আনসারী মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিস তৈরী কের দিব ন, যার উপর আপনি উপবেশন করবেন ?

কেননা, আমার একজন সূত্রধর গোলাম আছে। তিনি বললেন, যদি তুমি ইচ্ছা কর। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে মহিলা তাঁর জন্য মিম্বর বানিয়ে দিলেন।

যখন জুমুআর দিন হল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই তৈরী মিম্বরের উপরে বসলেন। সে সময় যে খেজুর গাছের উপর ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেটি এমনভাবে চীৎকার করে উঠল, যেন তা ফেটে পড়েব।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে এসে তাকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন। তখন সেটি ফোপাতে লাগল, যেমন ছোট শিশুকে চুপ করানোর সময় ফোপায়। অবশেষে তা স্থির হয়ে গেল। (রাবী বলেন) খেজুর কাণ্ডটি যে যিকির-নসীহত শুনত তা হারানোর কারণে কেঁদেছিল।

বুখারি হাদিস নং ১৯৬৬ – ইমাম কর্তৃক নিজেই প্রয়োজনীয় বস্তু খরিদ করা।

হাদীস নং ১৯৬৬

ইউসুফ ইবনে ঈসা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদী থেকে বাকিতে খাদ্য ক্রয় করেন এবং নিজের লৌহবর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৬৭ – জন্তু ও গাধা খরিদ করা।

হাদীস নং ১৯৬৭

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমর উটটি অত্যন্ত ধীরে চলছিল বরং চলতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল । এমতাবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং বললেন, জাবির ?

আমি বললাম, জী । তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার অবস্থা কী ? আমি বললাম, আমার উট আমাকে নিয়ে অত্যন্ত ধীরে চলছে এবং অক্ষম হয়ে পড়ছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গেছি। তখন তিনি নেমে চাবুক দিয়ে উটটিকে আঘাত করতে লাগলেন। তারপর বললেন, এবার আরোহণ কর। আমি আরোহণ করলাম।

এরপর অবশ্য আমি উটটিকে এমন পেলাম যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অগ্রসর হওয়ায় বাঁধা দিতে হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ ?

আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কুমারী না বিবাহিতা ? আমি বললাম, বিবাহিতা। তিনি বললেন, তরুনী বিবাহ করলে না কেন? তুমি তার সাথে হাসি-তামসা এবং সে তোমার সাথে পূর্ণভাবে হাসি-তামসা করত।

আমি বললাম, আমার কয়েকটি বোন রয়েছে, ফলে আমি এমন এক মহিলাকে বিবাহ করতে পছন্দ করলাম, যে তাদেরকে মিল-মুহাব্বতে রাখতে, তাদের পরিচর্যা করতে এবং তাদের উপর উত্তমরূপে কর্তৃত্ব করতে সক্ষম হয়।

তিনি বললেন, শোন ! তুমি তো বাড়ীতে পৌঁছবে ? যখন তুমি পৌঁছবে তখন তুমি বৃদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে।

তিনি বললেন, তোমার উটটি বিক্রি করবে ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তা এক উকীয়ার বিনিময়ে আমার নিকট থেকে কিনে নিলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার আগে (মদীনায়) পৌঁছলেন এবং আমি (পরের দিন) ভোরে পৌঁছলাম।

আমি মসজিদে নববীতে গিয়ে তাকে দরজার নামনে পেলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এখন এলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার উটটি রাখ এবং মসজিদে প্রবেশ করে দু’ রাকআত সালাত আদায় কর।

আমি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলাম। তারপর তিনি বিলাল রা.-কে উকীয়া ওযন করে আমাকে দিতে বললেন। বিলাল রা. ওযন করে দিলেন এবং আমার পক্ষে ঝুঁকিয়ে দিলেন।

আমি রওয়ানা হলাম। যখন আমি পিছন ফিরছি তখন তিনি বললেন, জাবিরকে আমার কাছে ডাক । আমি ভাবলাম, এখন হয়ত উটটি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন।

আর আমার কাছে এর চাইতে অপছন্দনীয় আর কিছুই ছিলনা। তিনি বললেন, তোমার উটটি নিয়ে যাও এবং তার মূল্যও তোমার।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৬৮ – জাহিলী যুগে যে সকল বাজার ছিল এরপর ইসলামী যুগে সেগুলোতে লোকদের বেচা-কেনা করা।

হাদীস নং ১৯৬৮

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, উকায, মাজান্না ও যুল-মাজায জাহিলী যুগের বাজার ছিল, ইসলামের আবির্ভাবের পরে লোকেরা তথায় ব্যবসা করা গুনাহের কাজ মনে করল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: তোমাদের উপর কোন গুনাহ নাই…… (অর্থাৎ হজ্জের মওসুমে। ইবনে আব্বাস রা. এরূপ পড়েছেন।

 

বুখারি হাদিস নং ১৯৬৯ – অতি পিপাসাকাতর অথবা চর্মরোগে আক্রান্ত উট ক্রয় করা। হায়িম অর্থ সকল বিষয়ে মধ্যপন্থা বিরোধী।

হাদীস নং ১৯৬৯

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আমর (ইবনে দীনার) বলেন, এখানে নাওওয়াস নামক এক ব্যক্তি ছিল। তার নিকট অতি পিপাসা রোগে আক্রান্ত একটি উট ছিল।

ইবনে উমর রা. তার শরীকের কাছ থেকে সে উটটি কিনে নেন। পরে তার শরীক তার নিকট উপস্থিত হলে বলল, সে উটটি বিক্রি করে দিয়েছি। নাওওয়াস জিজ্ঞাসা করলেন, কার কাছে বিক্রি করেছ? সে বলল, এমন আকৃতির এক বৃদ্ধের কাছে । নাওওয়াস বলে উঠলেন, আরে কি সর্বনাশ ! তিনি তো আল্লাহর কসম ইবনে উমর রা. ছিলেন।

এরপর নাওওয়াস তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন, আমার শরীক আপনাকে চিনতে না পেরে আপনার কাছে একটি পিপাসাক্রান্ত উট বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, তবে উটটি নিয়ে যাও।

সে যখন উটটি নিয়ে যেতে উদ্যত হল, তখন তিনি বললেন, রেখে দাও। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফায়সালায় সন্তুষ্ট যে, রোগে কোন সংক্রামন নেই। সুফিয়ান রহ. আমর রহ. থেকে উক্ত হাদীসটি শুনেছেন।

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯৭০ – ফিতনার সময় বা অন্য সময়ে অস্ত্র বিক্রয় করা।

হাদীস নং ১৯৭০

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হুনায়নের যুদ্ধে গেলাম।

তখন তিনি আমাকে একটি বর্ম দিয়েছিলেন। আমি সেটি বিক্রি করে তার মূল্য দ্বারা বনূ সালিমা গোত্রের এলাকায় অবস্থিত একটি বাগান খরিদ করি। এ ছিল ইসলাম গ্রহণের পর আমার প্রথম স্থাবর সম্পত্তি অর্জন।

আরও পড়ুনঃ

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হজ্জ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৩য় খণ্ড

হাদিসশাস্ত্র (উলুমুল হাদিস)

মন্তব্য করুন