কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

কলহ বিবাদ অধ্যায়

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৫০ – ঋণগ্রস্তকে স্থানান্তরিত করা এবং মুসলিম ও ইয়াহুদীর মধ্যে কলহ-বিবাদ।

হাদীস নং ২২৫০

আবুল ওয়ালীদ রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিকে একটি আয়াত পড়তে শুনলাম। অথচ আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (আয়াতটি) অনুরূপ পড়তে শুনছি।

আমি তার হাত ধরে তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এলাম। তিনি বললেন, তোমরা উভয়েই ঠিক পড়েছ।

শুবা রহ. বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, তোমরা বাদানুবাদ করো না। কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তীরা বাদানুবাদ করে ধ্বংস হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২২৫১

হাদীস নং ২২৫১

ইয়াহইয়া ইবনে কাযআ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’ব্যক্তি একে অপরকে গালি দিয়েছিল। তাদের একজন ছিল মুসলিম, অন্যজন ইয়াহুদী।

মুসলিম লোকটি বলল, তাঁর কসম, যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমস্ত জগতের মধ্যে ফযীলত প্রদান করেছেন। আর ইয়াহুদী লোকটি বলল, সে সত্তার কসম, যিনি মূসা আ.-কে সমস্ত জগতের মধ্যে ফযীলত দান করেছেন।

এ সময় মুসলিম ব্যক্তি নিজের হাত উঠিয়ে ইয়াহুদীর মুখে চড় মারল। এতে ইয়াহুদী ব্যক্তিটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তার এবং মুসলিম ব্যক্তিটির মধ্যে যা ঘটে ছিল, তা তাকে অবহিত করল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম ব্যক্তিটিকে ডেকে আনলেন এবং এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। সে ঘটনা বলল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা আমাকে মূসা আ.-এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না।

কারণ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তাদের সাথে আমিও বেহুঁশ হয়ে পড়ব। তারপর সকলের আগে আমার হুশ আসবে, তখন (দেখতে পাবে) মূসা আ. আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন।

আমি জানি না, তিনি বেহুঁশ হয়ে আমার আগে হুশে এসেছেন অথবা আল্লাহ তা’আলা যাদেরকে বেহুঁশ হওয়া থেকে রেহাই দিয়েছেন, তিনি তাদের মধ্যে ছিলেন।

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৫২

হাদীস নং ২২৫২

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন, এমন সময় এক ইয়াহুদী এসে বলল, হে আবুল কাসিম ! আপনার এক সাহাবী আমার মুখে আঘাত করেছে।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে? সে বলল, একজন আনসারী। তিনি বললেন : তাকে ডাক। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন : তুমি ওকে মেরেছ ?

সে বলল, আমি তাকে বাজারে শপথ করে বলতে শুনেছি : শপথ তাঁর, যিনি মূসা আ.-কে সকল মানুষের উপর ফযীলত দিয়েছেন। আমি বললাম, হে খবীস বল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপরও কি?

এতে আমার রাগ এসে গিয়েছিল, তাই আমি তার মুখের উপর আঘাত করি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা নবীদের একজনকে অপরজনের উপর ফযীলত দিওনা।

কারণ, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তারপর যমীন ফাটবে এবং যারাই উঠবে, আমিই হব তাদের মধ্যে প্রথম। তখন দেখতে পাব মূসা আ. আরশের একটি পায়া ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।

আমি জানি না, তিনিও বেহুঁশ লোকদের মধ্যে ছিলেন, না তাঁর পুর্বেকার (তুর পাহাড়ের) বেহুঁশীই তাঁর জন্য যথেষ্ট হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২২৫৩

হাদীস নং ২২৫৩

মূসা রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী একটি দাসীর মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে থেঁতলিয়ে দিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কে তোমাকে এরূপ করেছে?

অমুক ব্যক্তি, অমুক ব্যক্তি? যখন জনৈক ইয়াহুদীর নাম বলা হল-তখন সে দাসী মাথার দ্বারা হ্যাঁ সূচক ইশারা করল। ইয়াহুদীকে ধরে আনা হল। সে অপরাধ স্বীকার করল।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। তখন তার মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে থেঁতলিয়ে দেওয়া হল।

বুখারি হাদিস নং ২২৫৪ – যিনি বোকা ও নির্বোধ ব্যক্তির লেন-দেন করা প্রত্যাখান করেছেন।

হাদীস নং ২২৫৪

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে এক ব্যক্তিকে ধোঁকা দেওয়া হত। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন বেচা-কেনা কর তখন বলে দেবে যে, ধোঁকা দিবে না। এরপর সে এ কথাই বলত।

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৫৫

হাদীস নং ২২৫৫

আসিম রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার গোলাম আযাদ করে দিয়েছিল। তার কাছে এ ছাড়া অন্য কিছু ছিল না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গোলাম আযাদ করে দেয়া রদ করে দিলেন।পরে সে গোলামটি তার থেকে নুআইম নাহহাম ক্রয় করে নিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৫৬ – বিবাদমানদের পরস্পরের কথাবার্তা।

হাদীস নং ২২৫৬

মুহাম্মদ রহ………..আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করে, তাহলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন।

আশআস রা. বলেন, আল্লাহর কসম ! এটা আমার সম্পর্কেই ছিল, আমার ও এক ইয়াহুদী ব্যক্তির সাথে যৌথ মালিকানায় এ খণ্ড জমি ছিল। সে আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল।

আমি তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : তোমার কোন সাক্ষী আছে কি ?

আমি বললাম, না। তখন তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়াহুদীকে বললেন, তুমি কসম কর। আমি তখন বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

সে তো কসম করবে এবং আমার সম্পত্তি নিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ তা’আলা (এ আয়াত) নাযিল করেন : “যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে……….আয়াতের শেষ পর্যন্ত (ত :৭৭)।

বুখারি হাদিস নং ২২৫৭

হাদীস নং ২২৫৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মসজিদের মধ্যে ইবনে আবু হাদরাদের কাছে তার প্রাপ্য কর্জের তাগাদা করেন।

তাদের আওয়াজ বুলন্দ হয়ে গিয়েছিল, এমন কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘর থেকে তা শুনতে পেলেন। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুজরার পর্দা তুলে বাইরে এলেন এবং হে কাব ! বলে ডাকলেন।

কাব রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাযির । তিনি ইশারায় তাকে কর্জের অর্ধেক মাফ করে দিতে বললেন।

কাব রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি মাফ করে দিলাম, তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে আবু হাদরাদকে বললেন, উঠ, কর্জ পরিশোধ করে দাও।

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৫৮

হাদীস নং ২২৫৮

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………….উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযামকে সূরা ফুরকান আমি যেভাবে পড়ি তা থেকে ভিন্ন পড়তে শুনলাম।

আর যেভাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ সূরা পড়িয়েছেন। আমি তাড়াতাড়ি তাকে বাঁধা দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তার সালাত শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম।

এরপর তার গলায় চাদর পেঁচিয়ে তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে যা পড়তে শিখিয়েছেন, আমি তাকে তা থেকে ভিন্ন পড়তে শুনেছি।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ছেড়ে দিতে আমাকে বললেন। তারপর তাকে পড়তে বললেন, সে পড়ল।

তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। কুরআন সাত হরফে নাযিল হয়েছে। তাই যেরূপ সহজ হয় তোমরা সেরূপেই তা পড়।

বুখারি হাদিস নং ২২৫৯ – গুনাহ ও বিবাদে লিপ্ত লোকদের অবস্থা জানার পর ঘর থেকে বের করে দেওয়া।

হাদীস নং ২২৫৯

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, সালাত আদায় করার আদেশ করব। সালাত দাঁড়িয়ে গেলে পরে যে সম্প্রদায় সালাতে উপস্থিত হয় না, আমি তাদের বাড়ি গিয়ে তা জ্বালিয়ে দেই।

বুখারি হাদিস নং ২২৬০ – মৃত ব্যক্তির ওসী হওয়ার দাবী।

হাদীস নং ২২৬০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, আবদ ইবনে যামআ ও সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. যামআর দাসীর পুত্র সংক্রান্ত বিবাদ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পেশ করলেন।

সাদ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার ভাই আমাকে ওসীয়াত করে গেছেন যে, আমি (মক্কায়) পৌঁছলে যেন যামআর দাসীর পুত্রের প্রতি লক্ষ্য রাখি। দেখতে পেলে যেন তাকে হস্তগত করে নেই।

কেননা সে তার পুত্র । আবদ ইবনে যামআ রা. বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। আমার পিতার ঔরসে তার জন্ম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উতবার সাথে তার চেহারা-সুরতের স্পষ্ট মিল দেখতে পেলেন, তখন তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : তুমিই তার হকদার।

হে আবদ ইবনে যামআ ! সন্তান যার ঔরসে জন্মগ্রহণ করে তারই হয়। হে সাওদা, তুমি তার থেকে পর্দা কর।

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৬১ – কারো দ্বারা অনিষ্ট হওয়ার আশংকা থাকলে তাকে বন্দী করা।

হাদীস নং ২২৬১

কুতাইবা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে এক অশ্বারোহী সেনাদল পাঠালেন।

তারা ইয়ামামাবাসীদের সরদার বনূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনে উসাল নামের একজন লোককে গ্রেফতার করে এনে মসজিদের একটি খুটির সাথে বেঁধে রাখলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, সুমামা তোমার কি খবর ? সে বলল, হে মুহাম্মদ ! আমার কাছে ভাল খবর আছে।

সে (বর্ণনাকারী) সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সুমামাকে ছেড়ে দাও।

বুখারি হাদিস নং ২২৬২ – হারাম শরীফে (কাউকে) বেঁধে রাখা এবং বন্দী করা।

হাদীস নং ২২৬২

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদে একদল অশ্বারোহী সেনাদল পাঠালেন।

তারা বনূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনে উসাল নামের একজন লোককে গ্রেফতার করে এনে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৬৩ – (ঋণদাতা ঋণী ব্যক্তির) পিছনে লেগে থাকা।

হাদীস নং ২২৬৩

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে আবু হাদরাদ আসলামী রা.-এর কাছে তাঁর কিছু পাওনা ছিল। তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন এবং পিছনে লেগে থাকলেন।

তাঁরা উভয় কথা বলতে লাগলেন, এমনকি এক পর্যায়ে তাদের উভয়ের আওয়াজ উচু হল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং বললেন, হে কাব, উভয় হাত দিয়ে তিনি ইশারা করলেন, যেন অর্ধেক (গ্রহণ করার কথা) বুঝিয়েছিলেন। তাই তিনি (কাব) তার ঋণের অর্ধেক গ্রহণ করলেন এবং অর্ধেক ছেড়ে দিলেন।

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৬৪ – ঋণের তাগাদা করা।

হাদীস নং ২২৬৪

ইসহাক রহ………খাব্বাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে আমি ছিলাম একজন কর্মকার। আস ইবনে ওয়ায়লের কাছে আমার কিছু দিরহাম পাওনা ছিল।

আমি তাঁর কাছে তাগাদা করতে গেলাম। সে আমাকে বলল, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মদকে অস্বীকার করছ ততক্ষণ আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব না।

আমি বললাম, তা হতে পারে না, আল্লাহর কসম, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তোমার মৃত্যু ঘটায় এবং তোমার পুনরুত্থান না হয় সে পর্যন্ত আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অস্বীকার করব না।

সে বলল, ঠিক আছে, যতক্ষণ না আমার মৃত্যু হয় এবং পুনরুত্থান না হয় আমাকে অব্যহতি দাও। তখন আমাকে মাল ও সন্তান দেয়া হবে এরপর তোমার পাওনা পরিশোধ করে দেব।

এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাযিল হয় : তুমি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছ, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে (১৯ : ৭৭)।

আরও পড়ুনঃ

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়বিক্রয় অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সহিহ বুখারী

মন্তব্য করুন