ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ওয়াকালাত অধ্যায়

ওয়াকালাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৫২ – বন্টন ইত্যাদির ক্ষেত্রে এক শরীক অন্য শরীকের ওয়াকিল হওয়া।

হাদীস নং ২১৫২

কাবীসা রহ……..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কুরবানীকৃত উটের গলার মালা ও তার চামড়া দান করার হুকুম দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৫৩

হাদীস নং ২১৫৩

আমর ইবনে খালিদ রহ……….উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছু বকরী (ভেড়া) সাহাবীদের মধ্যে বন্টন করতে দিলেন।

বন্টন করার পর একটি বকরীর বাচ্চা বাকী থেকে যায়। তিনি তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করেন। তখন তিনি বললেন, তুমি নিজে এটাকে কুরবানী করে দাও।

বুখারি হাদিস নং ২১৫৪ – দারুল হারব বা দারুল ইসলামে কোন মুসলিম কর্তৃক দারুল হারবে বসবাসকারী অমুসলিমকে ওয়াকিল বানানো বৈধ।

হাদীস নং ২১৫৪

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..আবদুর রহমান ইবেন আওফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমাইয়া ইবনে খালফের সঙ্গে এ মর্মে একটা চুক্তিনামা করলাম যে, সে মক্কায় আমার মাল-সামানা হিফাযত করবে আর আমি মদীনায় তার মাল-সামানা হিফাযত করব।

যখন আমি চুক্তিনামায় আমার নামের শেষে ‘রাহমান’ শব্দটি উল্লেখ করলাম তখন সে বলল, আমি রাহমাকে চিনি না। জাহিলী যুগে তোমার যে নাম ছিল সেটা লিখ।

তখন আমি তাতে আবদু আমর লিখে দিলাম। বদর যুদ্ধের দিন যখন লোকজন ঘুমিয়ে পড়ল তখন আমি উমাইয়াকে রক্ষা করার জন্য একটি পাহাড়ের দিকে গেলাম। বিলাল রা. তাকে দেখে ফেললেন।

তিনি দৌড়ে গিয়ে আনসারীদের এক মজলিসে বললেন, এই যে উমাইয়া ইবনে খালফ। যদি উমাইয়া বেঁচে যায়, তবে আমার বেঁচে থাকায় লাভ নেই।তখন আনসারীদের এক দল তার সাথে আমাদের পিছে পিছে ছুটল।

যখন আমার আশংকা হল যে, তারা আমাদের নিকট এসে পড়বে, তখন আমি উমাইয়ার পুত্রকে তাদের জন্য পেছনে রেখে এলাম, যাতে তাদের দৃষ্টি তার উপর পড়ে। তারা তাকে হত্যা করল। তারপরও তারা ক্ষান্ত হল না, তারা আমাদের পিছু ধাওয়া করল। উমাইয়া ছিল স্থুলদেহী।

যখন আনসারীরা আমাদের কাছে পৌছে গেল, তখন আমি তাকে বললাম, বসে পড়। সে বসে পড়ল। আমি তাকে বাঁচানোর জন্য আমার দেহখানা তাকে আড়াল করে রাখলাম।

কিন্তু তারা আমার নীচে দিয়ে তরবারি ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলল। তাদের একজনের তরবারির আঘাত আমার পায়েও লাগল।

রাবী বলেন, ইবনে আওফ রা. তাঁর পায়ের সে আঘাত আমাদেরকে দেখাতেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইউসুফ রহ. সালিহ রহ. থেকে এবং ইবরাহীম রহ. তার পিতা থেকে রিওয়ায়েত শুনেছেন।

ওয়াকালাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৫৫ – সোনা-রূপার ক্রয়-বিক্রয়ে ও ওযনে বিক্রয়যোগ্য বস্তুসমূহের ওয়াকিল নিয়োগ।

হাদীস নং ২১৫৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবীকে খায়বারের শাসক নিয়োগ করলেন।

তিনি বেশ কিছু উন্নতমানের খেজুর তাঁর নিকটে নিয়ে আসলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খায়বারের সব খেজুরই কি এরকম ? তিনি বললেন, আমরা দু’ সা’র বদলে এর এক সা’ কিনে থাকি কিংবা তিন সা’র বদলে দু’সা’ কিনে থাকি।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এরূপ করা না। মিশ্রিত খেজুর দিরহাম নিয়ে বিক্রি কর। তারপর এ দিরহাম দিয়েই উন্নতমানের খেজুর ক্রয় কর। ওযনে বিক্রয়যোগ্য বস্তুসমূহের ব্যাপারেও তিনি অনুরূপ বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৫৬ – যখন রাখাল অথবা ওয়াকিল দেখে যে, কোন বকরী মারা যাচ্ছে অথবা কোন জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তখন সে তা যবেহ করে দিবে এবং যে জিনিসটা নষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, সে জিনিসটাকে ঠিক করে দেবে।

হাদীস নং ২১৫৬

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……..ইবনে কা’ব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার কতকগুলো ছাগল-ভেড়া ছিল, যা সাল নামক স্থানে চরে বেড়াত।

একদিন আমাদের এক দাসী দেখল যে, আমাদের ছাগল ভেড়ার মধ্যে একটি ছাগল মারা যাচ্ছে। তখন সে একটি পাথর ভেঙ্গে তা দিয়ে ছাগলটাকে যবেহ করে দিল।

কা’ব তাদেরকে বললেন, তোমরা এটা খেয়োনা যে পর্যন্ত না আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করে আসি অথবা কাউকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে পাঠাই।

তিনি নিজেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন অথবা কাউকে পাঠিয়েছিলেন।

তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা খাওয়ার হুকুম দিয়েছিলেন। উবায়দুল্লাহ বলেন, এ কথাটা আমার কাছে খুব ভালো লাগলো যে, দাসী হয়েও সে ছাগলটাকে যবেহ করল।

বুখারি হাদিস নং ২১৫৭ – উপস্থিত ও অনুপস্থিত ব্যক্তিকে ওয়াকিল নিয়োগ করা জায়িয।

হাদীস নং ২১৫৭

আবু নুআইম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কোন এক ব্যক্তির একটি বিশেষ বয়সের উট পাওনা ছিল।

সে পাওনার জন্য আসলে তিনি সাহাবীদেরকে বললেন, তার পাওনা দিয়ে দাও। তারা সে উটের সমবয়সী উট অনেক খোঁজাখুঁজি করলেন। কিন্তু তা পেলেন না।

কিন্তু তার থেকে বেশী বয়সের উট পেলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাই দিয়ে দাও। তখন লোকটি বলল, আপনি আমার প্রাপ্য পুরোপুরি আদায় করেছেন, আল্লাহ আপনাকেও পুরোপুরি প্রতিদান দিন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে ঠিক মত ঋণ পরিশোধ করে সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি।

ওয়াকালাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৫৮ – ঋণ পরিশোধ করার জন্য ওয়াকিল নিয়োগ।

হাদীস নং ২১৫৮

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাওনার জন্য তাগাদা দিতে এসে রূঢ় ভাষায় কথা বলতে লাগল।

এতে সাহাবীগণ তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারদের কড়া কথা বলার অধিকার রয়েছে।

তারপর তিনি বললেন, তার উটের সমবয়সী একটি উট তাকে দিয়ে দাও। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এটা নেই। এর চাইতে উত্তম উট রয়েছে। তিনি বললেন, তাই দিয়ে দাও। তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোৎকৃষ্ট যে ঋণ পরিশোধের বেলায় উত্তম।

বুখারি হাদিস নং ২১৫৯ – কোন ওয়াকিল কে অথবা কোন সম্প্রদায়ের সুপারিশকারী কে কোন বস্তু হেবা করা জায়িয।

হাদীস নং ২১৫৯

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ………মারওয়ান ইবনে হাকাম ও মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন ইসলাম গ্রহণ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন।

প্রতিনিধি দল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের ধন-সম্পদ ও বন্দী ফেরত চাইলেন। তখন তিনি বললেন, আমার নিকট সত্য কথাই অধিকতর পছন্দনীয়।

কাজেই তোমরা দু’টোর মধ্যে একটা বেছে নাও- হয় বন্দী, নয় ধন-সম্পদ। আমি তো এদের আগমনের অপেক্ষায়ই প্রতীক্ষমাণ ছিলাম। (বর্ণনাকারী বলেন) তায়িফ থেকে প্রত্যাবর্তন করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ রাতেও বেশী তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।

যখন (প্রতিনিধি দল) বুঝতে পারলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটোর মধ্যে একটি ফেরত দেবেন, তখন তারা বললেন, আমরা আমাদের বন্দীদেরকে গ্রহণ করছি।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমগণের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহ পাকের যথাযথ প্রশংসা করে বললেন : তোমাদের এই ভাইয়েরা তাওবা করে আমার কাছে এসেছে এবং আমার অভিপ্রায় এই যে, আমি তাদের বন্দীদের ফেরত দেই।

কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজ খুশিতে স্বেচ্ছা-প্রণোদিত হয়ে ফেরত দিতে চায়, সে দিক। আর তোমাদের মধ্যে যে এর বিনিময় গ্রহণ পছন্দ করে, আমরা সেই গনীমতের মাল থেকে তা দেবো যা আল্লাহ প্রথম আমাদের দান করবেন। সে তা করুক অর্থাৎ বিনিময় নিয়ে ফেরত দিক।

সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা স্বেচ্ছায় তাদেরকে ফেরত দিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের মধ্যে কে কে অনুমতি দিল আর কে কে অনুমতি দিল না, তা আমরা বুঝতে পারছি না।

কাজেই তোমরা ফিরে যাও এবং তোমাদের নেতাগণ তোমাদের মতামত আমাদের নিকট পেশ করুক। সাহাবীগণ ফিরে গেলেন।

তাদের নেতা তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করলেন। তারপর তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জানালেন যে, সাহাবীগণ সন্তুষ্টচিত্তে অনুমতি দিয়েছেন।

ওয়াকালাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৬০ – যদি কোন ব্যক্তি কোন লোককে কিছু প্রদানের জন্য ওয়াকিল নিয়োগ করে, কিন্তু কত দিবে তা উল্লেখ করেনি, তবে সে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দিবে।

হাদীস নং ২১৬০

মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক সফরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম।

আমি ধীরগতি সম্পন্ন উটের উপর সওয়ার ছিলাম, যার ফলে উটটা দলের পেছনে পড়ে গেল। এমতাবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছ দিয়ে গেলেন এবং বললেন : এ কে ? আমি বললাম, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ। তিনি বললেন : তোমার কি হল (পেছনে কেন)? আমি বললাম, আমি ধীরগতি সম্পন্ন উটে সাওয়ার হয়েছি।

তিনি বললেন : তোমার কাছে কি কোন লাঠি আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন : এটা আমাকে দাও। আমি তখন সেটা তাকে দিলাম। তিনি উটটাকে চাবুক মেরে হাঁকালেন।

এতে উটটা (দ্রুত চলে) সে স্থান থেকে দলের অগ্রভাগে চলে গেল। তিনি বললেন, এটা আমার কাছে বিক্রি করে দাও। আমি বললাম, নিশ্চয়ই ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এটা আপনারই ।

তিনি বললেন : (না) বরং এটা আমার কাছে বিক্রি কর। তিনি বললেন, চার দীনার মূল্যে আমি এটা কিনে নিলাম। তবে মদীনা পর্যন্ত এর পিঠে তুমিই সাওয়ার থাকবে। আমরা যখন মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন আমি আমার বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় যাচ্ছ ?

আমি বললাম, আমি একজন বিধবা মেয়েকে বিয়ে করেছি। তিনি বললেন : কুমারী কেন বিয়ে করলে না ? সে তোমার সাথে কৌতুক করত এবং তুমি তার সাথে কৌতুক করতে ?

আমি বললাম, আমার আব্বা মারা গেছেন এবং কয়েকজন কন্যা রেখে গেছেন। আমি চাইলাম এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করতে, যে হবে অভিজ্ঞতা সম্পন্না এবং বিধবা। তিনি বললেন : তাহলে ঠিক আছে।

আমরা মদীনায় পৌঁছলে তিনি বললেন, হে বিলাল ! জাবিরকে তার দাম দিয়ে দাও এবং কিছু বেশীও দিয়ে দিও। কাজেই বিলাল রা. তাকে চার দীনার এবং অতিরিক্ত এক কীরাত সোনা দিলেন।

জাবির রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দেওয়া অতিরিক্ত এক কীরাত সোনা কখনো আমার কাছ থেকে বিচ্ছন্ন হত না। তাই তা জাবির রা.-এর থলেতে সব সময় থাকত কখনো বিচ্ছিন্ন হত না।

বুখারি হাদিস নং ২১৬১ – মহিলা কর্তৃক বিয়ের ব্যাপারে ইমামকে ওয়াকিল নিয়োগ করা।

হাদীস নং ২১৬১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি আমাকে আপনার প্রতি হেবা করে দিয়েছি।

তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! একে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন। তিনি বললেন : কুরআনের যে অংশটুকু তোমার মুখস্থ রয়েছে তার বিনিময়ে আমি এর সঙ্গে বিয়ে দিলাম।

ওয়াকালাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৬২ – যদি ওয়াকিল কোন দ্রব্য এভাবে বিক্রি করে যে, তা বিক্রি শরীআতের দৃষ্টিতে ফাসিদ, তবে তার বিক্রি গ্রহণযোগ্য নয়।

হাদীস নং ২১৬২

ইসহাক রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল রা. কিছু বরনী খেজুর নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন : এগুলো কোথায় পেলে ?

বিলাল রা. বললেন, আমাদের নিকট কিছু নিকৃষ্ট মানের খেজুর ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে তা দু’ সা’ বিনিময়ে এক সা’ কিনেছি। একথা শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হায় ! হায় !

এটাতো একেবারে সূদ ! এটাতো একেবারে সূদ ! এরূপ করো না। যখন তুমি উৎকৃষ্ট খেজুর কিনতে চাও, তখন নিকৃষ্ট খেজুর ভিন্নভাবে বিক্রি করে দাও। তারপর সেই মূল্যের বিনিময়ে উৎকৃষ্ট খেজুর কিনে নাও।

বুখারি হাদিস নং ২১৬৩ – ওয়াকফকৃত সম্পদে ওয়াকিল নিয়োগ ও তার ব্যয়ভার বহন এবং তার বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানো আর নিজেও শরীআত সম্মতভাবে খাওয়া।

হাদীস নং ২১৬৩

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. -এর সাদকা সম্পর্কিত লিপিতে ছিল যে, মুতাওয়াল্লী নিজে ভোগ করলে এবং তার বন্ধু-বান্ধবকে আপ্যায়ন করালে কোন গুনাহ নেই : যদি মাল সঞ্চয় করার উদ্দেশ্যে না থাকে।

ইবনে উমর রা. উমর রা.-এর সাদকার মুতাওয়াল্লী ছিলেন। তিনি যখন মক্কাবাসী লোকদের নিকট অবতরণ করতেন, তখন তাদেরকে সেখান থেকে উপঢৌকন দিতেন।

বুখারি হাদিস নং ২১৬৪ – (শরীআত নির্ধারিত) দণ্ড প্রয়োগের জন্য ওয়াকিল নিয়োগ।

হাদীস নং ২১৬৪

আবুল ওয়ালিদ হর……….যায়েদ ইবনে খালিদ ও আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে উনাইস (ইবনে যিহাক আসলামী) সে মহিলার কাছে যাও । যদি সে (অপরাধ) স্বীকার করে তবে তাকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা কর।

বুখারি হাদিস নং ২১৬৫

হাদীস নং ২১৬৫

ইবনে সালাম রহ……….উকবা ইবনে হারিছ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নুআইমানকে অথবা ইবনে নুআইমানকে নেশাগ্রস্ত্র অবস্থায় আনা হল।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে উপস্থিত লোকদেরকে তাকে প্রহার করতে আদেশ দিলেন। রাবী বলেন, যারা তাকে প্রহার করেছিল, তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। আমরা তাকে জুতা দিয়ে এবং খেজুরের ডাল দিয়ে প্রহার করেছি।

বুখারি হাদিস নং ২১৬৬ – কুরবানীর উট ও তার দেখাশোনার জন্য ওয়াকিল নিয়োগ।

হাদীস নং ২১৬৬

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আমরা বিনতে আবদুর রাহমান রা. থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা রা. বলেন, আমি নিজ হাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর জন্তুর জন্য হার পাকিয়েছি।

তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজি হাতে তাকে হার পরিয়ে (আমার পিতা) আবু বকর রা.-এর সঙ্গে পাঠিয়েছেন।

কুরবানীর জন্তু যবেহ করার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর কোন কিছু হারাম থাকেনি, যা আল্লাহ তাঁর জন্য হালাল করেছেন।

ওয়াকালাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৬৭ – যখন কোন লোক তার ওয়াকিলকে বলল, এ মাল আপনি যেখানে ভাল মনে করেন খরচ করেন এবং ওয়াকিল বলল, আপনি যা বলেছেন, তা আমি শুনেছি।

হাদীস নং ২১৬৭

ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনায় আনসারদের মধ্যে আবু তালহাই সবচেয়ে বেশী ধনী ছিলেন এবং তাঁর সম্পদের মধ্যে বায়রুহা তাঁর সবচাইতে প্রিয় সম্পদ ছিল, এটা মসজিদের (নববীর) সম্মুখে অবস্থিত ছিল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় যেতেন এবং এতে যে উৎকৃষ্ট পানি ছিল তা পান করতেন। যখন এ আয়াত নাযিল হল : “তোমরা যা ভালোবাস, তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না”(৩ : ৯২) তখন আবু তালহা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং বললন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন : “তোমরা যা ভালোবাস, তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না”। আর আমার সম্পদের মধ্যে বায়রুহা আমার কাছে সবচাইতে প্রিয় সম্পদ।

আমি ওটা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে দিলাম। এর সাওয়াব ও প্রতিদান আমি আল্লাহ নিকট প্রত্যাশা করছি। কাজেই ইয়া রাসূলাল্লাহ !

আপনি ওটাকে যেখানে ভালো মনে করেন, খরচ করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : বেশ। এটাতো চলে যাবার মত সম্পদ, এটা তো চলে যাওয়ার মত সম্পদ।

তুমি এ ব্যাপারে যা বললে, আমি তা শুনলাম এবং আমি এটাই সংগত মনে করি যে, এটা তুমি তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বন্টন করে দিবে। আবু তালহা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তাই করবো।

তারপর আবু তালহা রা. তার নিকটাত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন।

ইসমাঈল রহ. মালিক রহ. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনায় ইয়াহইয়া রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। রাওহা মালিক রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, এতে তিনি ‘রায়িহুন’ স্থলে ‘রাবিহুন’ বলেছেন। এর অর্থ হল, লাভজনক।

ওয়াকালাত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২১৬৮ – কোষাগার ইত্যাদিতে বিশ্বস্ত ওয়াকিল নিয়োগ করা।

হাদীস নং ২১৬৮

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বিশ্বস্ত কোষাধ্যক্ষ যে ঠিকমত ব্যয় করে, অনেক সময় বলেছেন : যাকে দান করতে বলা হয় তাকে তা পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্টচিত্তে দিয়ে দেয়। সেও (কোষাধ্যক্ষ) দানকারীদের একজন।

আরও পড়ুনঃ

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

 

মন্তব্য করুন