ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ঋণ গ্রহণ অধ্যায়

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৪৯ – গোলাম তার মালিকের সম্পদের রক্ষক। সে তার মালিকের অনুমতি ব্যতীত তা ব্যয় করবে না।

হাদীস নং ২২৪৯

আবুল ইয়ামান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক।

আর প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। নেতা একজন রক্ষক, সে তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।

পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে তার পরিবারের লোকজন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক, তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

ইবনে উমর রা. বলেন, আমি এ সকলেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, ছেলে তার পিতার সম্পত্তির রক্ষক এবং সে জিজ্ঞাসিত হবে তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্বন্ধে।

অতএব, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৪২ – ধনী ব্যক্তির (ঋণ আদায়ে) টালবাহানা করা জুলুম।

হাদীস নং ২২৪২

মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ধনী ব্যক্তির (ঋণ আদায়ে) টালবাহানা করা জুলুম।

বুখারি হাদিস নং ২২৪৬ – ঋণ থেকে কমিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ।

হাদীস নং ২২৪৬

মূসা রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ রা. উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন এবং পরিবার-পরিজন ও ঋণ রেখে যান। আমি পাওনাদারের নিকট কিছু ঋণ মাফ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি।

কিন্তু তারা তা অস্বীকার করে। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তাঁর দ্বারা তাদের কাছে সুপারিশ করাই। তবুও তারা অস্বীকার করল।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : প্রত্যেক শ্রেণীর খেজুর আলাদা আলাদা করে রাখ। আযক ইবনে যায়েদ এক জায়গায়, লীন আরেক জায়গায় এবং আজওয়াহ অন্য জায়গায় রাখবে। তারপর পাওনাদারদের হাযির করবে।

তখন আমি তেমার নিকট আসব। আমি তাই করলাম। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তার উপর বসলেন। আর প্রত্যেককে মেপে মেপে দিলেন।

শেষ পর্যন্ত পুরাপুরি আদায় করলেন। কিছু খেজুর যেমন ছিল তেমনি রয়ে গেল, যেন কেউ স্পর্শ করেনি।আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একবার আমাদের একটি উটে চড়ে জিহাদে গিয়েছিলাম।

উটটি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং আমাকে নিয়ে পেছেনে পড়ে যায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছন থেকে উটটিকে চাবুক মারেন এবং বলেন, এটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও। তবে মদীনা পর্যন্ত তুমি এর উপর সাওয়ার হতে পারবে।

আমরা যখন মদীনার নিকটে আসলাম তখন আমি তাঁর কাছে জলদি বাড়ী যাওয়ার অনুমতি চাইলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি নব বিবাহিত।

তিনি বললেন, কুমারী বিয়ে করেছে, না বিবাহিতা? আমি বললাম, বিবাহিতা। কেননা (আমার পিতা) আবদুল্লাহ রা. ছোট ছোট মেয়ে রেখে শহীদ হয়েছেন। তাই আমি বিবাহিতা বিয়ে করেছি, যাতে সে তাদের জ্ঞান ও আদব শিক্ষা দিতে পারে।

তিনি বললেন, তবে তোমার পরিবারের নিকট যাও। আমি গেলাম এবং উট বিক্রির কথা আমার মামার কাছে বললাম। তিনি আমাকে তিরস্কার করলেন।

আমি তার নিকট উটটি ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এটিকে আঘাত করার ও তার (মুজিযার) কথা উল্লেখ করলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় পৌঁছলে আমি উটটি নিয়ে তাঁর কাছে হাযির হলাম। তিনি আমাকে উটটির মূল্য এবং উটটিও দিয়ে দিলেন। আর লোকদের সঙ্গে আমার অংশ দিলেন।

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২২৮

হাদীস নং ২২২৮

মুয়াল্লা ইবনে আসাদ রহ……..আবদুল ওয়াহিদ সূত্রে আমাশ রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমরা ইবরাহীম নাখয়ীর কাছে ধার (বাকীতে) ক্রয় করা সম্পর্কে আলোচনা করলাম।

তখন তিনি বললেন, আসওয়াদ রা. বর্ণনা করেন যে, আয়িশা রা. থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়হুদীর কাছ থেকে এক নির্দিষ্ট মেয়াদে (বাকীতে) খাদ্য ক্রয় করেন এবং তার নিকট নিজের লোহার বর্মটি বন্ধক রাখেন।

বুখারি হাদিস নং ২২২৯ – যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে অথবা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে।

হাদীস নং ২২২৯

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ উয়ায়সী রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মানুষের মাল (ধার) নেয় পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা’আলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন।

আর যে তা নেয় বিনষ্ট করার নিয়্যাতে আল্লাহ তা’আলা তাকে ধ্বংস করেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৩০ – ঋণ পরিশোধ করা।

হাদীস নং ২২৩০

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………..আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম।

যখন তিনি উহুদ পাহাড় দেখলেন, তখন বললেন, আমি পছন্দ করি না যে, এই পাহাড়টি আমার জন্য সোনার পরিণত করা হোক এবং এর মধ্য থেকে একটি দিনার ও (স্বর্ণমুদ্রা) আমার নিকট তিন দিনের বেশী থাকুক, সেই দীনার ব্যতীত যা আমি ঋণ আদায়ের জন্য রেখে দেই।

তারপর তিনি বললেন, যারা অধিক সম্পদশালী তারাই স্বল্পের অধিকারী । কিন্তু যারা এভাবে ওভাবে ব্যয় করেন (তারা ব্যতীত)। (বর্ণনাকারী) আবু শিহাব তার সামনের দিকে এবং ডান ও বাম দিকে ইশারা করেন এবং বলেন, এইরূপ লোক খুব কম আছে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এখানেই অবস্থান কর। তিনি একটু দূরে গেলেন। আমি কিছু শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমি তার কাছে আসতে চাইলাম।

এরপর আমি ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি এখানে অবস্থান কর তার এ কথাটি আমার মনে পড়ল। তিনি যখন আসলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যা আমি শুনলাম অথবা বললেন যে আওয়াযটি আমি শুনতে পেলাম তা কি?

তিনি বললেন, তুমি কি শুনেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার কাছে জিবরীল আ. এসেছিলেন এবং তিনি বললেন, আপনার কোন উম্মত আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছু শরীক না করে মারা গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আমি বললাম, যদিও সে এরূপ, এরূপ কাজ করে ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

বুখারি হাদিস নং ২২৩১

হাদীস নং ২২৩১

আহমদ ইবন শাবীব ইবনে সাঈদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার কাছে যদি উহুদ পাহাড়ের সমান সোনা থাকত, তাহলেও আমার পছন্দ নয় যে, তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তার কিছু অংশ আমার কাছে থাকুক।

তবে এতটুকু পরিমাণ ব্যতীত, যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দেই। ছালিহ ও উকাইল রহ. যুহরী রহ. থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৩২ – উট ধার নেওয়া।

হাদীস নং ২২৩২

আবু ওয়ালীদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার পাওনা আদায়ের কড়া তাগাদা দিল।

সাহাবায়ে কিরাম তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলেন। তিনি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারের কথা বলার অধিকার রয়েছে।

তার জন্য একটি কিনে আন এবং তাকে তা দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, তার উটের চাইতে বেশী বয়সের উট ছাড়া আমরা পাচ্ছি না। তিনি বললেন, সেটিই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কারণ, তোমাদের উত্তম লোক সেই, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৩৩ – সুন্দরভাবে তাগাদা করা।

হাদীস নং ২২৩৩

মুসলিম রহ………হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, একজন লোক মারা গেল, তাকে জিজ্ঞাসা করা হল তুমি কি বলতে ?

সে বলল, আমি লোকজনের সাথে বেচা-কেনা করতাম। ধনীদেরকে অবকাশ দিতাম এবং গরীবদেরকে হ্রাস করে দিতাম। কাজেই তাকে মাফ করে দেওয়া হল।

আবু মাসউদ রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে এ হাদীস শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ২২৩৪ – কম বয়সের উটের বদলে বেশী বয়সের উট দেয়া যায় কি?

হাদীস নং ২২৩৪

মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, একজন লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার (প্রাপ্য) উটের তাগাদা দিতে আসে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের বললেন : তাকে একটি উট দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, তার চাইতে উত্তম বয়সের উটই পাচ্ছি।

লোকটি বলল, আপনি আমাকে পূর্ণ হক দিয়েছেন, আল্লাহ আপনাকে যেন পূর্ণ হক দেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে সেটি দিয়ে দাও। কেননা মানুষের মধ্যে সেই উত্তম, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।

বুখারি হাদিস নং ২২৩৫

হাদীস নং ২২৩৫

আবু নুআইম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যিম্মায় একজন লোকের এক নির্দিষ্ট বয়সের উট ঋণ ছিল।

লোকটি তাঁর নিকট সেটির তাদাগা করতে আসল। তিনি সাহাবীদের বললেন : তাকে একটি উট দিয়ে দাও। তাঁরা সে বয়সের তালাশ করলেন। কিন্তু তার চাইতে উত্তম বয়সের উট ছাড়া পাওয়া গেলনা।

তিনি বললেন: সেটি তাকে দিয়ে দাও। লোকটি বলল, আপনি আমাকে পূর্ণ হক দিয়েছেন, আল্লাহ আপনাকে যেন পূর্ণ হক দেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।

বুখারি হাদিস নং ২২৩৬

হাদীস নং ২২৩৬

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ…….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন।

মিসআর রহ. বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেন, তা ছিল চাশতের ওয়াক্ত। তিনি বললেন, দু’রাকআত সালাত আদায় কর। তাঁর কাছে আমার কিছু ঋণ প্রাপ্য ছিল। তিনি আমার ঋণ আদায় করলেন এবং পাওনার চাইতেও বেশী দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৩৭ – ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি পাওনাদাদের প্রাপ্য থেকে কম পরিশোধ করে অথবা পাওনাদার তার প্রাপ্য মাফ করে দেয় তবে তা বৈধ।

হাদীস নং ২২৩৭

আবদান রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন এবং তাঁর উপর কিছু ঋণ ছিল। পাওনাদাররা তাদের পাওনা সম্পর্কে কড়াকড়ি শুরু করে দিল।

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে আসলাম। তিনি তাদেরকে আমার বাগানের ফল নিয়ে নিতে এবং আমার পিতার অবশিষ্ট ঋণ মাফ করে দিতে বললেন।

কিন্তু তারা তা মানল না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আমার বাগানটি দিলেন না। আর তিনি (আমাকে) বলেন, আমরা সকালে তোমার কাছে আসব।

তিনি সকাল বেলায় আমাদের কাছে আসলেন এবং বাগানের চারদিকে ঘুরে বরকতের জন্য দু’আ করলেন। আমি ফল পেড়ে তাদের সমস্ত ঋণ আদায় করে দিলাম এবং আমার কাছে কিছু অতিরিক্ত খেজুর রয়ে গেল।

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৩৮ – ঋণদাতার সঙ্গে কথা বলা এবং ঋণ খেজুর অথবা অন্য কিছুর বিনিময়ে অনুমান করে আদায় করা জায়িয।

হাদীস নং ২২৩৮

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা একজন ইয়াহুদীর কাছ থেকে নেওয়া ত্রিশ ওসাক ঋণ রেখে ইন্তিকাল করেন।

জাবির রা. তার নিকট (ঋণ পরিশোধেল জন্য) সময় চান। কিন্তু সে সময় দিতে অস্বীকার করে। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কথা বললেন, যেন তিনি তার জন্য ইয়াহুদীর কাছে সুপারিশ করেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং ইয়াদীর সাথে কথা বললেন, ঋণের বদলে সে যেন তার খেজুর গাছের ফল নিয়ে নেয়।

কিন্তু সে তা অস্বীকার করল। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগানে প্রবেশ করে সেখানে গাছের (চারদিক) হাঁটাচলা করলেন।

তারপর তিনি জাবির রা.-কে বললেন, ফল পেড়ে তার সম্পূর্ণ প্রাপ্য আদায় করে দাও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসার পর তিনি ফল পাড়লেন এবং তাকে এরপর পূর্ণ ত্রিশ ওসাক (খেজুর) দিয়ে দিলেন এবং সতর ওসাক (খেজুর) অতিরিক্ত রয়ে গেল।

জাবির রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি অবহিত করার জন্য আসলেন। তিনি তাকে আসরের সালাত আদায় করা অবস্থায় পেলেন।

তিনি সালাত শেষ করলে তাকে অতিরিক্ত খেজুরের কথা অবহিত করলেন। তিনি বললেন, খবরটি ইবনে খাত্তাব রা.কে পৌঁছাও। জাবির রা. উমর রা.-এর কাছে গিয়ে খবরটি পৌঁছালেন।

উমর রা. তাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাগানে প্রবেশ করে হাঁটাচলা করলেন, তখনই আমি বুঝতে পারছিলাম যে, নিশ্চয় এতে বরকত দান করা হবে।

বুখারি হাদিস নং ২২৩৯ – ঋণ থেকে পানাহ চাওয়া।

হাদীস নং ২২৩৯

ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এই বলে দু’আ করতেন, হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে গুনাহ এবং ঋণ থেকে পানাহ চাচ্ছি।

একজন প্রশ্নকারী বলল, (ইয়া রাসূলাল্লাহ) ! আপনি ঋণ থেকে এত বেশী বেশী পানাহ চান কেন? তিনি জবাব দিলেন, মানুষ ঋণগ্রস্ত হলে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা খেলাফ করে।

বুখারি হাদিস নং ২২৪০ – ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির উপর সালাতে জানাযা।

হাদীস নং ২২৪০

আবুল ওয়ালীদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মাল রেখে গেল, তা তার ওয়ারিসদের আর যে দায়-দায়িত্বের বোঝা রেখে গেল, তা আমার যিম্মায়।

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৪১

হাদীস নং ২২৪১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : দুনিয়া ও আখিরাতে আমি প্রত্যেক মুমিনেরই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠতর।

যদি তোমরা ইচ্ছা কর তাহলে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করে দেখ : النبى أولى بالمؤمنين من أنفسهم নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদের নিকট তাদের নিজদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর।

তাই যখন কোন মুমিন মারা যায় এবং মাল রেখে যায়, তাহলে তার যে আত্মীয়-স্বজন থাকে তারা তার ওয়ারিস হবে; আর যদি সে ঋণ কিংবা অসহায় পরিজন রেখে যায়, তবে তারা যেন আমার নিকট আসে; আমিই তাদের অভিভাবক।

বুখারি হাদিস নং ২২৪৩ – হকদারের বলার অধিকার রয়েছে।

হাদীস নং ২২৪৩

মুসাদ্দাদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক লোক (ঋণ পরিশোধের) তাগাদা দিতে আসল এবং কড়া কথা বলল।

সাহাবীগণ তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। হকদারের (কড়া) কথা বলার অধিকার রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ২২৪৪ – ক্রয়-বিক্রয়, ঋণ ও আমানত এর ব্যাপারে কেউ যদি তার মাল নিঃসম্বলের নিকট পায়, তবে সে-ই হকদার।

হাদীস নং ২২৪৪

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কিংবা তিনি বলেছেন যে, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন কেউ তার মাল এমন লোকের কাছে পায়, যে নিঃসম্বল হয়ে গেছে, তবে অন্যের চাইতে সে-ই তার বেশী হকদার।

আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, এ সনদে উল্লেখিত রাবীগণ বিচারকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

তারা হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ, উমর ইবনে আবদুল আযীয, আবু বকর ইবনে আবদুর রাহমান রহ. ও আবু বকর রহ. তারা সকলেই মীনায় বিচারক ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৪৫ – যে ব্যক্তি পাওনাদারকে আগামীকাল বা দু’তিন দিনের জন্য সময় পিছিয়ে দেয় আর একে টালবাহানা মনে করে না।

হাদীস নং ২২৪৫

মুসাদ্দাদ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ তার গোলামকে মরণোত্তর শর্তে আযাদ করল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আমার থেকে এই গোলামটি খরিদ করবে? তখন নুআইম ইবনে আবদুল্লাহ রা. সেটি ক্রয় করলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দাম গ্রহণ করে গোলামের মালিককে দিয়ে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ২২৪৭ – ধন-সম্পত্তি বিনষ্ট করা নিষিদ্ধ।

হাদীস নং ২২৪৭

আবু নুআইম রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আমাকে ক্রয়-বিক্রয়ে ধোঁকা দেয়া হয়। তিনি বলেন, ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তুমি বলবে, ধোঁকা দিবে না। এরপর লোকটি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এই কথা বলত।

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২২৪৮

হাদীস নং ২২৪৮

উসমান রহ……….মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন :

আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মায়ের নাফরমানী, কন্যা সন্তানদেরকে জীবন্ত কবর দেওয়া কারো প্রাপ্য না দেওয়া এবং অন্যায়ভাবে কিছু নেওয়া আর অপছন্দ করেছেন অনর্থক বাক্য ব্যয়, অতিরিক্ত প্রশ্ন করা, আর মাল বিনষ্ট করা।

আরও পড়ুনঃ

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইজারা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সলম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন