ই’তিকাফ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

ই’তিকাফ অধ্যায়

ই'তিকাফ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

Table of Contents

ই’তিকাফ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৮৯৮ – রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ এবং ইতিকাফ সব মসজিদেই হয়।

হাদীস নং ১৮৯৮

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশক ইতিকাফ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৮৯৯

হাদীস নং ১৮৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………নবী সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশক ইতিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর সহধর্মিণীগণও (সে দিনগুলোতে) ইতিকাফ করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯০০

হাদীস নং ১৯০০

ইসমাঈল রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ হতে বের হবেন, তখন তিনি বললেন : যারা আমার সংগে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশক ইতিকাফ করে।

আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল কাদর) দেখানো হয়েছিল, পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি।

তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কপালে কাদা-পানির চিহ্ন আমার এ দু’চোখ দেখতে পায়।

ই'তিকাফ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯০১ – ঋতুবতী নারী কর্তৃক ইতিকাফকারীর চুল আঁচড়িয়ে দেওয়া।

হাদীস নং ১৯০১

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না রহ……….নবী সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় তাঁর চুল আঁচড়িয়ে দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৯০২ – প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফকারী ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না।

হাদীস নং ১৯০২

কুতাইবা রহ……..নবী সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ইতিকাফে থাকতেন তখন (প্রাকৃতিক) প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না।

বুখারি হাদিস নং ১৯০৩

হাদীস নং ১৯০৩

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঋতুবতী অবস্থায় আমার সঙ্গে কাটাতেন এবং তিনি ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদ হতে তাঁর মাথা বের করে দিতেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ১৯০৪ – রাতে ইতিকাফ করা।

হাদীস নং ১৯০৪

মুসাদ্দাদ রহ…….ইবনে উমর রা. সূত্রে বর্ণিত যে, উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করেন যে, আমি জাহিলিয়্যা যুগে মসজিদুল হারামে এক রাত ইতিকাফ করার মানত করেছিলাম। তিনি (উত্তরে) বললেন : তোমরা মানত পুরা কর।

বুখারি হাদিস নং ১৯০৫ – নারীদের ইতিকাফ করা।

হাদীস নং ১৯০৫

আবুন নুমান রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন। আমি তাঁর তাবু তৈরী করে দিতাম। তিনি ফজরের সালাত আদায় করে তাঁতে প্রবেশ করতেন।

হাফসা রা. তাবু খাটাবার জন্য আয়িশা রা.-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলে হাফসা রা. তাবু খাটালেন। যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. তা দেখে আরেকটি তাবু তৈরী করলেন। সকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুগুলো দেখলেন।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : এগুলো কী ? তাকে জানানো হলে তিনি বললেন : তোমরা কি মনে কর এগুলো দিয়ে নেকী হাসিল হবে ? এ মাসে তিনি ইতিকাফ ত্যাগ করলেন এবং পরে শাওয়াল মাসে দশ দিন ইতিকাফ করেন।

ই'তিকাফ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯০৬ – মসজিদের অভ্যন্তরে তাবু খাটানো।

হাদীস নং ১৯০৬

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করার ইচ্ছা করলেন।

এরপর যে স্থানে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করেছিলেন সেখানে এসে কয়েকটি তাবু দেখতে পেলেন। আয়িশা রা. , হাফসা রা. ও যায়বান রা.-এর তাবু। তখন তিনি বললেন : তোমরা কি এগুলো দিয়ে নেকী হাসিলের ধারণা কর ?

এরপর তিনি চলে গেলেন আর ইতিকাফ করলেন না । পরে শাওয়াল মাসে দশ দিনের ইতিকাফ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯০৭ – কোন প্রয়োজনে ইতিকাফকারী কি মসজিদের দরজা পর্যন্ত বের হতে পারেন?

হাদীস নং ১৯০৭

আবুল ইয়ামান রহ………নবী সহধর্মিণী সাফিয়্যা রা. বর্ণনা করেন যে, একবার তিনি রমযানের শেষ দশকে মসজিদে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে হাজির হন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফরত ছিলেন।

তিনি তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। তারপর ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ান। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌছলেন, তখন দু’জন আনসারী সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন।

তাঁরা উভয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলেন। তাদের দু’জনকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা দু’জন থাম।

ইনি তো (আমার স্ত্রী) সাফিয়্যা বিনতে হুয়ায়্যী। এতে তাঁরা দু’জনে সুবহানাল্লাহ ইয়া রাসূলাল্লাহ বলে উঠলেন এবং তাঁরা বিব্রত বোধ করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : শয়তান মানুষের রক্ত শিরায় চলাচল করে। আমি আশংকা করলাম যে, যেস তোমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে।

বুখারি হাদিস নং ১৯০৮ – ইতিকাফ এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বিশ তারিখ সকালে বেরিয়ে আসা।

হাদীস নং ১৯০৮

আবদুল্লাহ ইবনে মুনীর রহ………আবু সালামা ইবনে আবদুর রাহমান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে লাইলাতুল কাদর প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে শুনেছেন ?

তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমরা রমযানের মধ্যম দশকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ইতিকাফ করেছিলাম। রাবী বলেন, এরপর আমরা বিশ তারিখের সকালে বের হতে চাইলাম। তিনি বিশ তারিখের সকালে আমাদেরকে সম্বোধন করে ভাষণ দিলেন।

তিনি বললেন : আমাকে (স্বপ্নযোগে) লাইলাতুল কাদরের (নির্দিষ্ট তারিখ) দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় তারিখে তা তালাশ কর।

আমি দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। অতএব যে ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ইতিকাফ করেছে সে যেন ফিরে আসে ।

লোকেরা মসজিদে ফিরে এল। আমরা তখন আকাশে এক খণ্ড মেঘও দেখতে পাইনি । একটু পরে এক খণ্ড মেঘ দেখা দিল ও বর্ষণ হল এবং সালাত শুরু হল।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদা-পানির মাঝে সিজদা করলেন। এমনকি আমি তাঁর কপালে ও নাকে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম।

ই'তিকাফ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯০৯ – মুস্তাহাযা নারীর ইতিকাফ করা।

হাদীস নং ১৯০৯

কুতাইবা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে তাঁর এক মুস্তাহাযা সহধর্মিণী ইতিকাফ করেন।

তিনি লাল ও হলুদ রংয়ের স্রাব নির্গত হতে দেখতে পেতেন। অনেক সময় আমরা তাঁর নীচে একটি গামলা রেখে দিতাম আর তিনি উপর সালাত আদায় করতেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯১০ – ইতিকাফ অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাত করা।

হাদীস নং ১৯১০

সাঈদ ইবনে উফায়র রহ. ও আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..আলী ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী সাফিয়্যা রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইতিকাফ অবস্থায়) মসজিদে অবস্থান করছিলেন, ঐ সময় তাঁর নিকট তাঁর সহধর্মিণীগণ উপস্থিত ছিলেন।

তাঁরা যাওয়ার জন্য রহওয়ানা হন। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাফিয়্যা বিনতে হুয়ায়্যীকে বললেন : তুমি তাড়াতাড়ি করো না। আমি তোমার সাথে যাব। তাঁর ঘর ছিল উসামার বাড়িতে।

এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সঙ্গে করে বের হলেন। এমতাবস্থায় দু’জন আনসার ব্যক্তির সাক্ষাত ঘটলে তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেয়ে আগে বেড়ে গেলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনকে বললেন : তোমরা এদিকে আস। এ তো সাফিয়্যা বিনতে হুয়ায়্যী।

তাঁরা দু’জন বলে উঠলেন, সুবহানাল্লাহ ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন : শয়তান মানব দেহে রক্তের মত চলাচল করে। আমি আশংকা বোধ করলাম যে, সে তোমাদের মনে কিছু সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়।

বুখারি হাদিস নং ১৯১১ – ইতিকাফকারীর নিজের উপর সৃষ্ট সন্দেহ অপনোদন করা।

হাদীস নং ১৯১১

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ. এবং ইবনে আবদুল্লাহ রহ………সাফিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইতিকাফ অবস্থায় একবার তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন।

তিনি যখন ফিরে যান তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কিছু দূর হেঁটে আসেন। ঐ সময়ে এক আনসার ব্যক্তি তাকে দেখতে পায়।

তিনি যখন তাকে দেখতে পেলেন তখন তাকে ডাক দিলেন ও বললেন : এসো, এ তো সাফিয়্যা বিনতে হুয়ায়্যী শয়তান মানব দেহে রক্তের মত চলাচল করে থাকে। রাবী বলেন, আমি সুফিয়ান রা.-কে বললাম, তিনি রাতে এসেছিলেন ? তিনি বললেন, রাতে ছাড়া আর কি?

ই'তিকাফ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯১২ – ইতিকাফ হতে সকাল বেলা বের হওয়া।

হাদীস নং ১৯১২

আবদুর রহামান ইবনে বিশর রহ…… আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রমযানের মধ্যম দশকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ইতিকাফ করেছিলাম। বিশ তারিখের সকালে (ইতিকাফ শেষ করে চলে আসার উদ্দেশ্যে) আমরা আমাদের আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলি।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে এসে বললেন :যে ব্যক্তি ইতিকাফ করেছে সে যেন তার ইতিকাফস্থলে ফিরে যায়।

কারণ আমি এই রাতে দেখতে পেয়েছি এবং আমি আরো দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। এরপর যখন তিনি তাঁর ইতিকাফের স্থানে ফিরে গেলেন ও আকাশে মেঘ দেখা দিল, তখন আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল।

সেই সত্তার কসম ! যিনি তাকে যথাযথই প্রেরণ করেছেন, ঐ দিনের শেষভাগে আকাশে মেঘ দেখা দিল। মসজিদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনীর। আমি তাঁর নাকে অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখেছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ১৯১৩ – শাওয়াল মাসে ইতিকাফ করা।

হাদীস নং ১৯১৩

মুহাম্মদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমযানে ইতিকাফ করতেন। ফজরের সালাত শেষে ইতিকাফের নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করতেন।

আয়িশা রা. তাঁর কাছে ইতিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন। আয়িশা রা. মসজিদে একটি তাবু করে নিলেন। হাফসা রা. তা শুনে একটি তাবু তৈরী করে নিলেন এবং যায়নাব রা.-ও তা শুনে আর একটি তাবু তৈরী করে নিলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত শেষে এসে চারটি তাবু দেখতে পেয়ে বললেন : একি ? তাকে তাদের ব্যাপারে জানানো হলে, তিনি বললেন : নেক আমলের প্রেরণা তাদেরকে এ কাজে উদ্ধুদ্ধ করেনি।

সব খুলে ফেলা হল। তিনি সেই রমযানে আর ইতিকাফ করলেন না। পরে শাওয়াল মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করেন।

ই'তিকাফ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯১৪ – যিনি ইতিকাফকারীর জন্য সাওম পালন জরুরী মনে করেন না।

হাদীস নং ১৯১৪

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি জাহিলিয়্যাতের যুগে মসজিদে হারামে এক রাত ইতিকাফ করার মানত করেছিলাম।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : তোমার মানত পুরা কর। তিনি এক রাতের ইতিকাফ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯১৫ – জাহিলিয়্যাতের যুগে ইতিকাফ করার মানত করে পরে ইসলাম কবুল করা ।

হাদীস নং ১৯১৫

উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. জাহিলিয়্যাতের যুগে মসজিদে ইতিকাফ করার মানত করেছিলেন। (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার মনে হয় তিনি এক রাতের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : তোমার মানত পুরা কর।

বুখারি হাদিস নং ১৯১৬ – রমযানের মাঝের দশকে ইতিকাফ করা।

হাদীস নং ১৯১৬

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমযানে দশ দিনের ইতিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর তিনি বিশ দিনের ইতিকাফ করেছিলেন।

ই'তিকাফ অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৩য় খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ১৯১৭ – ইতিকাফ করার ইচ্ছা করে পরে কোন কারণে তা থেকে বেরিয়ে যাওয়া ভাল মনে করা।

হাদীস নং ১৯১৭

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশক ইতিকাফ করার অভিপ্রায় প্রকাশ করলে আয়িশা রা. তাঁর কাছে ইতিকাফ করার অনুমতি প্রার্থনা করায় তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।

এরপর হাফসা রা. আয়িশা রা. -এর নিকট অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। তা দেখে যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. নিজের জন্য তাবু লাগানোর নির্দেশ দিলে তা পালন করা হল।

আয়িশা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করে নিজের তাবুতে ফিরে এসে কয়েকটি তাবু দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন : এ কি ব্যাপার ?

লোকেরা বলল, আয়িশা, হাফসা ও যায়নাব রা.-এর তাবু। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাঁরা কি নেকী পেতে চায় ? আমি আর ইতিকাফ করবো না। এরপর তিনি ফিরে আসলেন। পরে সাওম শেষ করে শাওয়াল মাসের দশ দিন ইতিকাফ করেন।

বুখারি হাদিস নং ১৯১৮ – ইতিকাফকারী মাথা ধোয়ার উদ্দেশ্যে তার মাথা ঘরে প্রবেশ করানো।

হাদীস নং ১৯১৮

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ঋতুবতী অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল আঁচড়িয়ে দিতেন।

ঐ সময়ে তিনি মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকতেন আর আয়িশা রা. তাঁর হুজরায় অবস্থান করতেন। তিনি আয়িশা রা.-এর দিকে তাঁর মাথা বাড়িয়ে দিতেন।

আরও পড়ুনঃ

হজ্জ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মদীনার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

সাওম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

তারাবীহর সালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৩য় খণ্ড

মন্তব্য করুন