আহার সংক্রান্ত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায়

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

বুখারি হাদিস নং ৪৯৮২-৫০৭০

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩২ | 5032 | ۵۰۳۲

পরিচ্ছদঃ ২১৩৩. রৌপ্য খচিত পাত্রে আহার করা
৫০৩২। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তারা হুযায়ফা (রাঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তার হাতে রাখলো, তিনি সেটা ছুড়ে মারলেন এবং বললেন, আমি যদি একবার বা দু’বারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো।

অর্থাৎ তিনি যেন বলতে চান, তা হলেও আমি এরুপ করতাম না। কিন্তু আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো না এবং সোনা ও রুপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না। কেননা তিনি এগুলো কাফিরদের জন্য আর পরকালে তোমাদের জন্য।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৩ | 5033 | ۵۰۳۳

পরিচ্ছদঃ ২১৩৪. খাদ্যদ্রব্যের আলোচনা
৫০৩৩। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত নারাঙ্গির ন্যায়, যার ঘ্রানও উত্তম স্বাদও উত্তম।

যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের ন্যায়, যার কোন ঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ আছে। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার দৃটান্ত রায়হানার ন্যায় যার ঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ ভিজা আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার দৃষ্টান্ত হানযালা ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রানও নাই, স্বাদও তিতা।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৪ | 5034 | ۵۰۳٤

পরিচ্ছদঃ ২১৩৪. খাদ্যদ্রব্যের আলোচনা
৫০৩৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত খাদ্যের মধ্যে সারীদের, যেমন মর্যাদা রয়েছে, তেমনি নারীদের মধ্যে আয়িশার (রাঃ) মর্যাদা রয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৫ | 5035 | ۵۰۳۵

পরিচ্ছদঃ ২১৩৪. খাদ্যদ্রব্যের আলোচনা
৫০৩৫। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফর হলো আযাবের একটা টুকরা, যা তোমাদের সফরকারীকে নিদ্রা ও আহার থেকে বিরত রাখে। তাই তোমাদের কেউ যখন তার প্রয়োজন পূরণ করে তখন সে যেন অবিলম্বে তার পরিবারের কাছে ফিরে যায়।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৬ | 5036 | ۵۰۳٦

পরিচ্ছদঃ ২১৩৫. সালন প্রসঙ্গে
৫০৩৬। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ বারীরার ঘটনায় শরীয়তের তিনটি বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। আয়িশা (রাঃ) তাকে ক্রয় করে মুক্ত করতে চাইলে তার মালিকেরা ওলা, (বিক্রয় এ শর্তে করবে যে,) ওায়ালা (উররাধিকার) আমাদের থাকবে।

আয়িশা (রাঃ) বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্মুক্ষে উল্লেখ করলে বললেনঃ তুমি চাইলে তাদের জন্য ওলীর শর্ত মেনে নাও।

কারন, প্রকৃকতপক্ষে ওলীর অধিকার লাভ করবে মুক্তিদাতা। তাকে আযাদ করে এখতিয়ার দেওয়া হলো চাইলে পুর্ব স্বামীর সংসারে থাকতে কিংবা চাইলে তার থেকে হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আয়িশার গৃহে প্রবেশ করলেন।

যে সময় চুলার উপর (গোশতের) ডেগচি বলকাচ্ছিল। তিনি সকালের খাবার আনতে বললে তার কাছে রুটি ও ঘরের কিছু তরকারী পেশ করা হলো। তিনি বললেনঃ আমি কি গোশত দেখছি না?

তারা বললেনঃ হ্যাঁ (গোশত রয়েছে) ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিন্তু তা ঐ গোশত যা বারীরাকে সদকা করা হয়েছিল। এরপর সে তা আমাদের হাদিয়া দিয়েছে। তিনি বললেনঃ এটা তার জন্য সদকা, কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৭ | 5037 | ۵۰۳۷

পরিচ্ছদঃ ২১৩৬. হালুয়া ও মধু
৫০৩৭। ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালুয়া ও মধু পছন্দ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৮ | 5038 | ۵۰۳۸

পরিচ্ছদঃ ২১৩৬. হালুয়া ও মধু
৫০৩৮। আবদুর রহমান ইবনু শায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উদর পূর্তির জন্যই যা পেতাম তাতে সন্তুষ্ট হয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সর্বদা লেগে থাকতাম।

সে সময় রুটি খেতে পেতাম না। রেশমী কাপড় পরিধান করতাম না কোন চাকর-চাকরানাও আমার খিদমতে নিয়োজিত থাকত না। আমি পাথরের সাথে পেট লাগিয়ে রাখতাম।

আয়াত জানাসত্তেও কোন ব্যাক্তিকে তা পাঠ করার জনা বলতাম যাতে সে আমাকে ঘরে নিয়ে যায় এবং আহার করায়। মিসকীনদের প্রতি অত্যন্ত দরদী ব্যাক্তি ছিলেন জাফর ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)। তিনি আমাদের নিয়ে খেতেন এবং ঘরে যা থাকতো তাই আমাদের খাওয়াতেন।

এমনকি তিনি আমাদের কাচের পাত্রটিও বের কসে আনতেন, যাতে ঘি থাকতো না। আমরা সেটাই ফেড়ে ফেলতাম এবং এর গায়ে যা লেগে থাকতো তাই চেটে খেতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৯ | 5039 | ۵۰۳۹

পরিচ্ছদঃ ২১৩৭. কদূ প্রসঙ্গে
৫০৩৯। আমর ইবনু আলী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক দর্জি গোলামের বাড়ীতে আসলেন।

(আহার কালে) তাঁর সামনে কদু উপস্থিত করা হলে তিনি (বেছে বেছে) কদু খেতে লাগলেন। সে দিন থেকে আমিও কদু খেতে ভালবাসি, যেদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কদু খেতে দেখলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪০ | 5040 | ۵۰٤۰

পরিচ্ছদঃ ২১৩৮. ভাইদের জন্য আহারের ব্যবস্থা করা
৫০৪০। মুহাম্মদ ইবনু ইউসূফ (রহঃ) … আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ শুআয়ব নামক আনসার গোত্রের এক ব্যাক্তির এক কসাই গোলাম ছিল।

সে তাকে বললো আমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত কর, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করতে চাই। পাঁচজনের মধ্যে তিনি হবেন একজন। তারপর সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করল। তিনি ছিলেন পাঁচ জনের অন্যতম।

তখন এক ব্যাক্তি তাদের পিছে পিছে আসতে লাগল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তো আমাকে আমাদের পাঁচ জনের পঞ্চম ব্যাক্তি হিসাবে দাওয়াত দিয়েছ।

এ লোকটা আমাদের পিছে পিছে এসেছে। তুমি ইচ্ছা করলে তাকে অনুমতি দিতে পার আর ইচ্ছা করলে বাদও দিতে পার। সে বললো আমি বরং তাকে অনুমতি দিচ্ছি।

 

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪১ | 5041 | ۵۰٤۱

পরিচ্ছদঃ ২১৩৯. কাউকে খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে নিজে অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া
৫০৪১। আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (তখন) ছোট ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে চলাফেরা করতাম।

একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক গোলামের কাছে গেলেন সে ছিল দর্জি। সে তার সামনে একটি পাত্র হাযির করল যাতে খাবার ছিল। আর তাতে কদুও ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেছে বেছে কদু খেতে লাগলেন।

এ দেখে আমি কদূর টুকরাগুলো তার সামনে জমা করতে লাগলাম। তিনি বললেনঃ গোলাম তার কাজে ব্যস্ত হল। আনাস (রাঃ) বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যেদিন এরূপ করতে দেখলাম তারপর থেকে আমিও কদু খাওয়া পছন্দ করতে লাগলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪২ | 5042 | ۵۰٤۲

পরিচ্ছদঃ ২১৪০. শুরুয়া প্রসঙ্গে
৫০৪২। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক দর্জি কিছু খাবার প্রস্তুত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করলো।

আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে গেলাম। সে যবের রুটি আর কিছু শুরুয়া, যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল, পরিবেশন করল।

আমি দেখলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালার চারদিক থেকে কদু বেচে বেছে খাচ্ছেন। সে দিনের পর থেকে আমিও কদু পছন্দ করতে লাগলাম।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৩ | 5043 | ۵۰٤۳

পরিচ্ছদঃ ২১৪১. শুকনা গোশত প্রসঙ্গে
৫০৪৩। আবূ নু’আয়ম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি দেখলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু শুরুয়া উপস্থিত করা হল, যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল। আমি তাকে কদূ বেছে বেছে খেতে দেখলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৪ | 5044 | ۵۰٤٤

পরিচ্ছদঃ ২১৪১. শুকনা গোশত প্রসঙ্গে
৫০৪৪। কাবীসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (তিন দিনের বেশী কুরবানীর গোশত রাখার) নিষেধাজ্ঞা কেবল সে বছরেরই জন্যই ছিল যে বছর লোক দুর্ভিক্ষে পড়েছিল।

তিনি চেয়েছিলেন ধনীরা যেন গরীবদের খাওয়ায়। নইলে আমরা তো পরবর্তী সময় পায়াগুলো পনের দিন রেখে দিতাম। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার উপর্যপরি তিন দিন পর্যন্ত সালন-সহ যবের রুটি পেট ভরে খাননি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৫ | 5045 | ۵۰٤۵

পরিচ্ছদঃ ২১৪২. একই দস্তরখানে সাথীকে কিছু এগিয়ে দেওয়া বা তার কাছ থেকে কিছু নেওয়া। ইব্‌ন মুবারক বলেনঃ একজন অপরজনকে কিছু দেওয়ায় কোন দোষ নেই।

তবে এক দস্তরখান থেকে অন্য দস্তরখানে দিবে না
৫০৪৫। ইসমাঈল (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একজন দর্জি কিছু খাবার রান্না করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করল।

আনাস (রাঃ) বলেন, আমি সে দাওয়াতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে গেলাম। লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে যবের রুটি এবং কিছু শুরুয়া, যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল, পেশ করল।

আনাস (রাঃ) বলেন আমি দেখলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালার চারপাশ থেকে কদু খুঁজে খাচ্ছেন। সেদিন থেকে আমি কদু ভালবাসতে লাগলাম। সুলামা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি কদুর টুকরাগুলো তাঁর সামনে একত্রিত করে দিতে লাগলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৬ | 5046 | ۵۰٤٦

পরিচ্ছদঃ ২১৪৩. তাজা খেজুর ও কাঁকুড় প্রসঙ্গে
৫০৪৬। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর ইবন আবূ তালিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাজা খেজুর কাঁকুড়ের সাথে মিশিয়ে খেতে দেখেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৭ | 5047 | ۵۰٤۷

পরিচ্ছদঃ ২১৪৪. রদ্দি খেজুর প্রসঙ্গে
৫০৪৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ উসমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার আমি সাত দিন পর্যন্ত আবূ হুরায়রার মেহমান ছিলাম। (আমি লক্ষ্য করলাম) তিনি, তার স্ত্রী ও খাদেম পালাক্রমে রাতকে তিনভাগে বিভক্ত করে নিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে একজন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে আরেক জনকে জাগিয়ে দিলেন। আর আমি তাকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গীদের মাঝে কিছু খেজুর বন্টন করলেন। আমি ভাগে সাতটি পেলাম, তার মধ্যে একটি ছিল রদ্দি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৮ | 5048 | ۵۰٤۸

পরিচ্ছদঃ ২১৪৪. রদ্দি খেজুর প্রসঙ্গে
৫০৪৮। মুহাম্মদ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে কিছু খেজুর বণ্টন করলেন। আমি ভাগে পেলাম পাঁচটি। চারটি খেজুর (উৎকৃষ্ট) আর একটি রদ্দি। এই রদ্দি খেজুরটই আমার দাতে খুব শক্তবোধ হল।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৯ | 5049 | ۵۰٤۹

পরিচ্ছদঃ ২১৪৫. তাজা ও শুকনা খেজুর প্রসঙ্গে। আর মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ তুমি তোমার দিকে খেজুন বৃক্ষের কান্ডে নাড়া দাও, তা তোমার জন্য সুপক্ক তাজা খেজুর ঝরাবে।

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (র)… আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইন্তিকাল করেন, তখন আমরা দুই কালো বস্তু দ্বারা পরিতৃপ্ত হতাম- খেজুর এবং পানি দ্বারা।

৫০৪৯। সাঈদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনায় এক ইয়াহুদী ছিল। সে আমাকে কর্জ দিত, আমার খেজুর পাড়ার মিয়াদ পর্যন্ত। রামা নামক স্থানের পথের ধারে জাবির (রাঃ) এর এক খন্ড জমি ছিল। আমি কর্জ পরিশোধে এক বছর বিলম্ব করলাম।

এরপর খেজুর পাড়ার মৌসুমে ইয়াহুদী আমার কাছে আসলো, আমি তখনো খেজুর পাড়তে পারিনি। আমি তার কাছে আগামী বছর পর্যন্ত অবকাশ চাইলাম। সে অস্বীকার করছেন।

এ খবর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানোান হলো। তিনি সাহাবীদের বললেনঃ চলো জাবিরের জন্য ইয়াহুদী থেকে অবকাশ নেই। তারপর তারা আমার বাগানে আসলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীর সাথে এ নিয়ে কথাবার্তা বললেন। সে বললোঃ হে আবূল কাসিম। আমি তাকে আর অবকাশ দেব না।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ কথা শুনে উঠলেন এবং বাগানটি প্রদক্ষিন করে তার কাছে এসে আবার আলাপ করলেন। সে এবারও অস্বীকার করল।

এরপর আমি উঠে পিঠে সামান্য কিছু তাজা খেজুর নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রাখলাম। তিনি কিছু খেলেন। তারপর বললেনঃ হে জাবির! তোমার ছাপড়াটা কোথায়?

আমি তাকে জানিয়ে দিলাম। তিনি বললেনঃ সেখানে আমার জন্য বিছানা দাও। আমি বিছানা বিছিয়ে দিলে তিনি এতে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুম থেকে জাগ্রত হলে আমি তার কাছে আরেক মুষ্টি খেজুর নিয়ে আসলাম। তিনি তা থেকে খেলেন। তারপর উঠে আবার ইয়াহুদীর সাথে কথা বললেন।

সে অস্বীকার করলো। তখন তিনি দ্বিতীয়বার খেজুর বাগানে গেলেন এবং বললেনঃ হে জাবির তুমি খেজুর কাটতে থাক এবং কর্জ পরিশেধি কর।

এই বলে, তিনি খেজুর পাড়ার স্থানে বললেনঃ আমি খেজুর পেড়ে ইয়াহুদীর পাওনা শোধ করলাম। এরপর আরও সে পরিমাণ খেজুর উদ্বৃত্ত রইল। আমি বেরিয়ে এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সুসংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি সাক্ষ্য থাক যে, আমি আল্লাহর রাসুল।

 

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫০ | 5050 | ۵۰۵۰

পরিচ্ছদঃ ২১৪৬. খেজুর গাছের মাথী খাওয়া প্রসঙ্গে
৫০৫০। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম।

এমন সময় তাঁর কাছে কিছু খেজুর বৃক্ষের মাথী আনা হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এমন একটি বৃক্ষ আছে যার বরকত মুসলমানের বরকতের ন্যায়। আমি ভাবলাম তিনি খেজুর বৃক্ষ উদ্দেশ্য করেছেন।

আমি বলতে চাইলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেটি কি খেজুর বৃক্ষ? কিন্তু এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম আমি উপস্থিত দশ জনের দশম ব্যাক্তি এবং সকলের ছোট, তাই আমি চুপ রইলাম। পরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সেটা খেজুর গাছ।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫১ | 5051 | ۵۰۵۱

পরিচ্ছদঃ ২১৪৭. আজওয়া খেজুর প্রসঙ্গে
৫০৫১। জুম্‌আ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … সা’দ (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি প্রত্যহ সকালে সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোন বিষ ও যাদু ক্ষতি করবে না।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

 

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫২ | 5052 | ۵۰۵۲

পরিচ্ছদঃ ২১৪৮. একসঙ্গে মিলিয়ে একাধিক খেজুর খাওয়া
৫০৫২। আদম (রহঃ) … জাবাল ইবনু সুহায়ম (রহঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ইবনু যুবায়র এর আমলে আমাদের উপর দুর্ভিক্ষ পতিত হল।

তখন তিনি খাদ্য হিসাবে আমাদের কিছু খেজুর দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় আমরা খাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ একত্রে একাধিক খেজুর খেয়ো না।

কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একত্রে একাধিক খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, তবে কেউ যদি তার ভাইকে অনুমতি দেয় তাহলে এতে কোন দোষ নেই। শুবা বলেন, অনুমতির বিষয়টি ইবনু উমরের নিজের কথা।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৩ | 5053 | ۵۰۵۳

পরিচ্ছদঃ ২১৪৯. কাঁকুড় প্রসঙ্গে
৫০৫৩। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাকুড় (ক্ষীরা বা শসা জাতীয় ফল) এর সাথে খেজুর খেতে দেখেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৪ | 5054 | ۵۰۵٤

পরিচ্ছদঃ ২১৫০. খেজুর বৃক্ষের বরকত
৫০৫৪। আবূ নু’আয়ম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বৃক্ষসমূহের মধ্যে একটি বৃক্ষ আছে, যা (বরকত ও উপকারিতায়) মুসলমানের সদৃশ আর তা হলো- খেজুর গাছ।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৫ | 5055 | ۵۰۵۵

পরিচ্ছদঃ ২১৫১. একই সঙ্গে দু’রকম খাদ্য বা সু-স্বাদের খাদ্য খাওয়া
৫০৫৫। ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাঁকুড়ের সাথে খেজুর খেতে দেখেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৬ | 5056 | ۵۰۵٦

পরিচ্ছদঃ ২১৫২. দশজন দশজন করে মেহমান ভিতরে ডাকা এবং দশজন দশজন করে আহারে বসা
৫০৫৬।

সালত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার মা উম্মে সুলায়ম (রাঃ) এক মুদ যব নিয়ে তা পিষলেন এবং এ দিয়ে ‘খতীফা’ (দুধ ও আটা মিশ্রিত) তৈরী করলেন এবং ঘি এর পাত্র নিংড়িয়ে দিলেন। তারপর তিনি আমাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠালেন। তিনি সাহাবাদের মাঝে ছিলেন।

এ সময় আমি তার কাছে এসে তাকে দাওয়াত করলাম। তিনি বললেনঃ আমার সঙ্গে যারা আছে? আমি বাড়ীতে এসে বললাম। সে জিজ্ঞেস করছেন আমার সঙ্গে যারা আছে? তারপর আবূ তালহা (রাঃ) তার কাছে গিয়ে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! এতো অতি সামান্য খাবার যা উম্মে সুলায়ম তৈরী করেছে।

এরপর তিনি আসলেন। তার কাছে সেগুলো আনা হল। তিনি বললেনঃ দশ জনকে আমার কাছে প্রবেশ করতে দাও। তারা এসে তৃপ্তি সহকারে খেলেন।

তিনি পুনরায় বললেনঃ আরো দশজনকে আমার কাছে প্রবেশ করতে দাও। তারা এসে পরিতৃপ্ত হয়ে খেলেন। তিনি আবার বলেনঃ আরো দশজনকে আমার কাছে আসতে দাও।

এভাবে তিনি শেষ সংখ্যা পর্যন্ত উল্লেখ করলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেলেন এবং চলে গেলেন। আমি দেখতে লাগলাম, তা থেকে কিছু কমেছে কিনা? অর্থাৎ কিছুমাত্র কমেনি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৭ | 5057 | ۵۰۵۷

পরিচ্ছদঃ ২১৫৩. রসূন ও (দুর্গন্ধ যুক্ত) তরকারী মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে। এ ব্যাপারে ইব্‌ন উমার (রা) থেকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর হাদীস বর্ণিত হয়েছে
৫০৫৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবদূল আযীয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল আপনি রসুনের ব্যাপারে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে কী শুনেছেন? তিনি বললেনঃ যে ব্যাক্তি তা খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের কাছেও না আসে (এ উক্তি)।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৮ | 5058 | ۵۰۵۸

পরিচ্ছদঃ ২১৫৩. রসূন ও (দুর্গন্ধ যুক্ত) তরকারী মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে। এ ব্যাপারে ইব্‌ন উমার (রা) থেকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর হাদীস বর্ণিত হয়েছে
৫০৫৮। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) মনে করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি রসূন বা পেঁয়াজ খাবে সে যেন আমাদের থেকে দুরে থাকে। অথবা তিনি বলেছেনঃ সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দুরে থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৯ | 5059 | ۵۰۵۹

পরিচ্ছদঃ ২১৫৪. কাবাছ-পিলু গাছের পাতা প্রসঙ্গে
৫০৫৯। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মক্কার যাহরান নামক স্থানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম এবং পিলু ফল পাড়ছিলাম।

তিনি বললেনঃ কালোটা নিও। কেননা, সেটা সুস্বাদু। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ আপনি কি বকরী চরিয়েছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এমন নাবী নেই যিনি বকরী চরান নি।

 

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬০ | 5060 | ۵۰٦۰

পরিচ্ছদঃ ২১৫৫. আহারের পর কুলি করা
৫০৬০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … সুওয়ায়দ ইবনু নূমান (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে রওয়ানা হলাম।

সাহবা নামক স্থানে পৌছলে তিনি খাবার আনতে বললেন। কিন্তু ছাতু ছাড়া আর কিছু আনা হল না। আমরা তা-ই খেলাম। তারপর সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য উঠে কুলি করলেন। আমরাও কুলি করলাম।

ইয়াহইয়া বলেনঃ আমি বুশায়রকে সুওয়ায়েদ সুত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বরের দিকে রওয়ানা হলাম। আমরা যখন সাহবা নামক স্থানে পৌহুলাম, ইয়াহইয়া বলেন, এ স্থানটি খায়বর থেকে এক মনযিলের পথে, তিনি খাবার নিয়ে আসতে বললেন।

কিন্তু ছাতু ছাড়া অন্য কিছু আনা হলো না। আমরা তাই মুখে দিয়ে নাড়াচাড়া করে খেয়ে ফেললাম। তিনি পানি আনতে বললেন এবং কুলি করলেন, আমরাও কুলি করলাম। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬১ | 5061 | ۵۰٦۱

পরিচ্ছদঃ ২১৫৬. রুমাল দিয়ে মুছে ফেলার আগে আঙ্গুল চেটে ও চুষে খাওয়া
৫০৬১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন আহার করে সে যেন তার হাত না মোছে, যতক্ষন না সে তা নিজে চেটে খায় কিংবা অন্যকে দিয়ে চাটিয়ে নেয়।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬২ | 5062 | ۵۰٦۲

পরিচ্ছদঃ ২১৫৭. রুমাল প্রসঙ্গে
৫০৬২। ইবরাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আগুনে স্পর্শ বস্তু খাওয়ার পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা সম্বন্ধে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ না, উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে না।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তো আমরা এরুপ খাদ্য কমই পেতাম। যখন আমরা তা পেতাম তখন আমাদের তো হাতের তার, হাত ও পা ছাড়া কোন রুমাল ছিল না (আমরা এগুলোতে মুছে ফেলতাম)।

তারপর (নতুন) উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করেই আমরা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৩ | 5063 | ۵۰٦۳

পরিচ্ছদঃ ২১৫৮. আহারের পর কি পড়বে?
৫০৬৩। আবূ নূআয়ম (রহঃ) … আবূ উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দস্তর খান তুলে নেয়া হল। তিনি বলতেনঃ পবিত্র বরকতময় অনেক অনেক প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

হে আমাদের রব, এ থেকে কখনো বিমুখ হতে পারবো না, বিদায় নিতে পারবো না এবং এ থেকে অমুখাপেক্ষী হতেও পারবো না।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৪ | 5064 | ۵۰٦٤

পরিচ্ছদঃ ২১৫৮. আহারের পর কি পড়বে?
৫০৬৪। আবূ আসিম (রহঃ) … আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আহার শেষ করতেন, রাবী আরো বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দস্তরখান যখন তুলে নেয়া হতো তখন তিনি বলতেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি যথেষ্ট খাইয়েছেন এবং পরিতৃপ্ত করেছেন।

তার থেকে বিমুখ হওয়া যায় না এবং তার প্রতি অকৃজ্ঞতা প্রকাশ করা যায় না। রাবী কখনো বলেনঃ হে আমাদের রব, তোমার জন্যই সকল প্রশংসা, এর থেকে বিমুখ হওয়া যাবে না, একে পরিত্যাগ করাও যাবে না এবং এর থেকে অমুখাপেক্ষীও হওয়া যাবে না; হে, আমাদের রব।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৫ | 5065 | ۵۰٦۵

পরিচ্ছদঃ ২১৫৯. খাদেমের সাথে আহার করা
৫০৬৫। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো খাদেম যখন তার খাবার নিয়ে আসে তখন তাকে সাথে বসিয়ে না খাওয়ালেও সে যেন তাকে এক লুকমা বা দু’ লুকমা খাবার দেয়, কেননা সে তার গরম ও ক্লেশ সহ্য করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৬ | 5066 | ۵۰٦٦

পরিচ্ছদঃ ২১৬১. কাউকে আহারের দাওয়াত দিলে একথা বলা যে, এ ব্যক্তি আমার সঙ্গের। আনাস (রাঃ) বলেন, তুমি কোন মুসলমানের কাছে গেলে তার আহার থেকে খাও এবং তার পানীয় থেকে পান কর।
بَابُ الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ مِثْلُ الصَّائِمِ الصَّابِرِ
فِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

২১৬০. পরিচ্ছেদঃ কৃতজ্ঞ আহারকারী ধৈর্যশীল সিয়াম পালনকারীর মতো। এ ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হাদীস বর্ণিত আছে।

৫০৬৬। আবদুল্লাহ ইবনু আবুল আসওয়াদ (রহঃ) … আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার গোত্রের এক ব্যাক্তি যার কুনিয়াত (ডাক নাম) ছিল আবূ শুআয়ব তার একটি কসাই গোলাম ছিল।

সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো, তখন তিনি সাহাবীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। তখন সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারায় ধরন লক্ষ্য করলো, লোকটি তার কসাই গোলামের কাছে গিয়ে বললঃ আমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত কর যা পাঁচজনের জন্য যথেষ্ট হয়।

আমি রাতে পাঁচ জনকে দাওয়াত করব, যার পঞ্চম ব্যাক্তি হবেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। গোলামটি তার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত করলো। লোকটি তার কাছে এসে তাকে দাওয়াত করলো।

এক ব্যাক্তি তাদের সঙ্গে গেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে শুআয়ব! এক ব্যাক্তি আমাদের সঙ্গে এসেছে। তুমি চাইলে তাকে অনুমতি দিতে পার, আর চাইলে তাকে বিদায়ও করতে পার। সে বললঃ না। আমি তাকে অনুমতি দিলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৭ | 5067 | ۵۰٦۷

পরিচ্ছদঃ ২১৬২. রাতের খাবার পরিবেশন করা হলে তা রেখে অন্য কাজে ত্বরা করবে না
৫০৬৭। আবূল ইয়ামান ও লায়স (রহঃ) … আমর ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজ হাতে বকরীর স্কন্ধ থেকে কেটে খেতে দেথেছেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ)-এর প্রতি আহবান করা হলে তিনি তা রেখে দিলেন এবং সে ছুরিটিও যা দিয়ে কেটে খাচ্ছিলেন।

তারপর উঠে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তিনি (নতুন) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

 

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৮ | 5068 | ۵۰٦۸

পরিচ্ছদঃ ২১৬২. রাতের খাবার পরিবেশন করা হলে তা রেখে অন্য কাজে ত্বরা করবে না
৫০৬৮। মুআল্লা ইবনু আসাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি রাতের খাবার পরিবেশিত হয় এবং সালাত (নামায/নামাজ) এর আযান দেয়া হয়, তাহলে তোমরা আগে আহার করে নিবে।

অন্য সনদে আইয়্যুব, নাফি (রহঃ) এর সুত্রে ইবনু উমর (রাঃ) থেকেও অনুরুপ হাদীস নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে।

আইয়্যুব নাফি (রহঃ) এর সুত্রে ইবনু উমর (রাঃ) থেকে আরো বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, এ অবস্থায় ইমামের কিরআতও শুনছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৯ | 5069 | ۵۰٦۹

পরিচ্ছদঃ ২১৬২. রাতের খাবার পরিবেশন করা হলে তা রেখে অন্য কাজে ত্বরা করবে না
৫০৬৯। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাত (নামায/নামাজ) এর ইকামাত দেয়া হয় এবং রাতের খাবারও উপস্থিত হয়ে যায়, তাহলে তোমরা আগে আহার করে নেবে।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৭০ | 5070 | ۵۰۷۰

পরিচ্ছদঃ ২১৬৩. মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ খাওয়া শেষ হলে তোমরা চলে যাবে
৫০৭০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পর্দা (আয়াত নাযিল হওয়া) সম্পর্কে সর্বাধিক অবহিত।

এ ব্যাপারে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করতেন। যায়নাব বিনত জাহশের সঙ্গে নববিবাহিত হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভোর হল।

তিনি মদিনায় তাকে বিবাহ করেছিলেন। ওঠার পর তিনি লোকজনকে খাওয়ার জন্য দাওয়াত করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে ছিলেন। (আহারের পর) অনেক লোক চলে যাওয়ার পরও কিছু লোক তাঁর সাথে বসে থাকলো।

অবশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গেলেন আমিও তার সাথে সাথে গেলাম। তিনি আয়িশা (রাঃ) এর হুজরার দরজায় পৌছলেন।

তারপর ভাবলেন লোকেরা হয়তো চলে গেছে। আমিও তার সাথে ফিরে আসলাম। (এসে দেখলাম) তারা স্বস্থানে বসেই রয়েছে। তিনি পুনরায় ফিরে গেলেন।

আমিও তার সঙ্গে পুনয়রায় ফিরে গেলাম। এমন কি তিনি আয়িশা (রাঃ) এর গৃহের দরজা পর্যন্ত পৌছে আবার ফিরে আসলেন। আমিও তার সঙ্গে ফিরে আসলাম। এবার (দেখলাম) তারা উঠে গেছে। তারপর তিনি আমার ও তার মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হলো।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩২ | 5032 | ۵۰۳۲

পরিচ্ছদঃ ২১৩৩. রৌপ্য খচিত পাত্রে আহার করা
৫০৩২। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তারা হুযায়ফা (রাঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তার হাতে রাখলো, তিনি সেটা ছুড়ে মারলেন এবং বললেন, আমি যদি একবার বা দু’বারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো।

অর্থাৎ তিনি যেন বলতে চান, তা হলেও আমি এরুপ করতাম না। কিন্তু আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো না এবং সোনা ও রুপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না। কেননা তিনি এগুলো কাফিরদের জন্য আর পরকালে তোমাদের জন্য।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৩ | 5033 | ۵۰۳۳

পরিচ্ছদঃ ২১৩৪. খাদ্যদ্রব্যের আলোচনা
৫০৩৩। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত নারাঙ্গির ন্যায়, যার ঘ্রানও উত্তম স্বাদও উত্তম।

যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের ন্যায়, যার কোন ঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ আছে। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার দৃটান্ত রায়হানার ন্যায় যার ঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ ভিজা আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার দৃষ্টান্ত হানযালা ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রানও নাই, স্বাদও তিতা।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৪ | 5034 | ۵۰۳٤

পরিচ্ছদঃ ২১৩৪. খাদ্যদ্রব্যের আলোচনা
৫০৩৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত খাদ্যের মধ্যে সারীদের, যেমন মর্যাদা রয়েছে, তেমনি নারীদের মধ্যে আয়িশার (রাঃ) মর্যাদা রয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৫ | 5035 | ۵۰۳۵

পরিচ্ছদঃ ২১৩৪. খাদ্যদ্রব্যের আলোচনা
৫০৩৫। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফর হলো আযাবের একটা টুকরা, যা তোমাদের সফরকারীকে নিদ্রা ও আহার থেকে বিরত রাখে।

তাই তোমাদের কেউ যখন তার প্রয়োজন পূরণ করে তখন সে যেন অবিলম্বে তার পরিবারের কাছে ফিরে যায়।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৬ | 5036 | ۵۰۳٦

পরিচ্ছদঃ ২১৩৫. সালন প্রসঙ্গে
৫০৩৬। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ বারীরার ঘটনায় শরীয়তের তিনটি বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়।

আয়িশা (রাঃ) তাকে ক্রয় করে মুক্ত করতে চাইলে তার মালিকেরা ওলা, (বিক্রয় এ শর্তে করবে যে,) ওায়ালা (উররাধিকার) আমাদের থাকবে। আয়িশা (রাঃ) বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্মুক্ষে উল্লেখ করলে বললেনঃ তুমি চাইলে তাদের জন্য ওলীর শর্ত মেনে নাও।

কারন, প্রকৃকতপক্ষে ওলীর অধিকার লাভ করবে মুক্তিদাতা। তাকে আযাদ করে এখতিয়ার দেওয়া হলো চাইলে পুর্ব স্বামীর সংসারে থাকতে কিংবা চাইলে তার থেকে হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আয়িশার গৃহে প্রবেশ করলেন। যে সময় চুলার উপর (গোশতের) ডেগচি বলকাচ্ছিল।

তিনি সকালের খাবার আনতে বললে তার কাছে রুটি ও ঘরের কিছু তরকারী পেশ করা হলো। তিনি বললেনঃ আমি কি গোশত দেখছি না? তারা বললেনঃ হ্যাঁ (গোশত রয়েছে) ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিন্তু তা ঐ গোশত যা বারীরাকে সদকা করা হয়েছিল।

এরপর সে তা আমাদের হাদিয়া দিয়েছে। তিনি বললেনঃ এটা তার জন্য সদকা, কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৭ | 5037 | ۵۰۳۷

পরিচ্ছদঃ ২১৩৬. হালুয়া ও মধু
৫০৩৭। ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালুয়া ও মধু পছন্দ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৮ | 5038 | ۵۰۳۸

পরিচ্ছদঃ ২১৩৬. হালুয়া ও মধু
৫০৩৮। আবদুর রহমান ইবনু শায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উদর পূর্তির জন্যই যা পেতাম তাতে সন্তুষ্ট হয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সর্বদা লেগে থাকতাম।

সে সময় রুটি খেতে পেতাম না। রেশমী কাপড় পরিধান করতাম না কোন চাকর-চাকরানাও আমার খিদমতে নিয়োজিত থাকত না। আমি পাথরের সাথে পেট লাগিয়ে রাখতাম। আয়াত জানাসত্তেও কোন ব্যাক্তিকে তা পাঠ করার জনা বলতাম যাতে সে আমাকে ঘরে নিয়ে যায় এবং আহার করায়।

মিসকীনদের প্রতি অত্যন্ত দরদী ব্যাক্তি ছিলেন জাফর ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)। তিনি আমাদের নিয়ে খেতেন এবং ঘরে যা থাকতো তাই আমাদের খাওয়াতেন।

এমনকি তিনি আমাদের কাচের পাত্রটিও বের কসে আনতেন, যাতে ঘি থাকতো না। আমরা সেটাই ফেড়ে ফেলতাম এবং এর গায়ে যা লেগে থাকতো তাই চেটে খেতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৩৯ | 5039 | ۵۰۳۹

পরিচ্ছদঃ ২১৩৭. কদূ প্রসঙ্গে
৫০৩৯। আমর ইবনু আলী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক দর্জি গোলামের বাড়ীতে আসলেন।

(আহার কালে) তাঁর সামনে কদু উপস্থিত করা হলে তিনি (বেছে বেছে) কদু খেতে লাগলেন। সে দিন থেকে আমিও কদু খেতে ভালবাসি, যেদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কদু খেতে দেখলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪০ | 5040 | ۵۰٤۰

পরিচ্ছদঃ ২১৩৮. ভাইদের জন্য আহারের ব্যবস্থা করা
৫০৪০। মুহাম্মদ ইবনু ইউসূফ (রহঃ) … আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ শুআয়ব নামক আনসার গোত্রের এক ব্যাক্তির এক কসাই গোলাম ছিল।

সে তাকে বললো আমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত কর, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করতে চাই। পাঁচজনের মধ্যে তিনি হবেন একজন।

তারপর সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করল। তিনি ছিলেন পাঁচ জনের অন্যতম। তখন এক ব্যাক্তি তাদের পিছে পিছে আসতে লাগল।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তো আমাকে আমাদের পাঁচ জনের পঞ্চম ব্যাক্তি হিসাবে দাওয়াত দিয়েছ। এ লোকটা আমাদের পিছে পিছে এসেছে। তুমি ইচ্ছা করলে তাকে অনুমতি দিতে পার আর ইচ্ছা করলে বাদও দিতে পার। সে বললো আমি বরং তাকে অনুমতি দিচ্ছি।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪১ | 5041 | ۵۰٤۱

পরিচ্ছদঃ ২১৩৯. কাউকে খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে নিজে অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া
৫০৪১। আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (তখন) ছোট ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে চলাফেরা করতাম।

একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক গোলামের কাছে গেলেন সে ছিল দর্জি। সে তার সামনে একটি পাত্র হাযির করল যাতে খাবার ছিল। আর তাতে কদুও ছিল।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেছে বেছে কদু খেতে লাগলেন। এ দেখে আমি কদূর টুকরাগুলো তার সামনে জমা করতে লাগলাম।

তিনি বললেনঃ গোলাম তার কাজে ব্যস্ত হল। আনাস (রাঃ) বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যেদিন এরূপ করতে দেখলাম তারপর থেকে আমিও কদু খাওয়া পছন্দ করতে লাগলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪২ | 5042 | ۵۰٤۲

পরিচ্ছদঃ ২১৪০. শুরুয়া প্রসঙ্গে
৫০৪২। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক দর্জি কিছু খাবার প্রস্তুত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করলো। আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে গেলাম।

সে যবের রুটি আর কিছু শুরুয়া, যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল, পরিবেশন করল। আমি দেখলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালার চারদিক থেকে কদু বেচে বেছে খাচ্ছেন। সে দিনের পর থেকে আমিও কদু পছন্দ করতে লাগলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৩ | 5043 | ۵۰٤۳

পরিচ্ছদঃ ২১৪১. শুকনা গোশত প্রসঙ্গে
৫০৪৩। আবূ নু’আয়ম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি দেখলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু শুরুয়া উপস্থিত করা হল, যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল। আমি তাকে কদূ বেছে বেছে খেতে দেখলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৪ | 5044 | ۵۰٤٤

পরিচ্ছদঃ ২১৪১. শুকনা গোশত প্রসঙ্গে
৫০৪৪। কাবীসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (তিন দিনের বেশী কুরবানীর গোশত রাখার) নিষেধাজ্ঞা কেবল সে বছরেরই জন্যই ছিল যে বছর লোক দুর্ভিক্ষে পড়েছিল।

তিনি চেয়েছিলেন ধনীরা যেন গরীবদের খাওয়ায়। নইলে আমরা তো পরবর্তী সময় পায়াগুলো পনের দিন রেখে দিতাম। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার উপর্যপরি তিন দিন পর্যন্ত সালন-সহ যবের রুটি পেট ভরে খাননি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৫ | 5045 | ۵۰٤۵

পরিচ্ছদঃ ২১৪২. একই দস্তরখানে সাথীকে কিছু এগিয়ে দেওয়া বা তার কাছ থেকে কিছু নেওয়া। ইব্‌ন মুবারক বলেনঃ একজন অপরজনকে কিছু দেওয়ায় কোন দোষ নেই। তবে এক দস্তরখান থেকে অন্য দস্তরখানে দিবে না
৫০৪৫।

ইসমাঈল (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একজন দর্জি কিছু খাবার রান্না করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি সে দাওয়াতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে গেলাম।

লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে যবের রুটি এবং কিছু শুরুয়া, যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল, পেশ করল। আনাস (রাঃ) বলেন আমি দেখলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালার চারপাশ থেকে কদু খুঁজে খাচ্ছেন।

সেদিন থেকে আমি কদু ভালবাসতে লাগলাম। সুলামা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি কদুর টুকরাগুলো তাঁর সামনে একত্রিত করে দিতে লাগলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৬ | 5046 | ۵۰٤٦

পরিচ্ছদঃ ২১৪৩. তাজা খেজুর ও কাঁকুড় প্রসঙ্গে
৫০৪৬। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর ইবন আবূ তালিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাজা খেজুর কাঁকুড়ের সাথে মিশিয়ে খেতে দেখেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৭ | 5047 | ۵۰٤۷

পরিচ্ছদঃ ২১৪৪. রদ্দি খেজুর প্রসঙ্গে
৫০৪৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ উসমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার আমি সাত দিন পর্যন্ত আবূ হুরায়রার মেহমান ছিলাম। (আমি লক্ষ্য করলাম) তিনি, তার স্ত্রী ও খাদেম পালাক্রমে রাতকে তিনভাগে বিভক্ত করে নিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে একজন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে আরেক জনকে জাগিয়ে দিলেন। আর আমি তাকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গীদের মাঝে কিছু খেজুর বন্টন করলেন। আমি ভাগে সাতটি পেলাম, তার মধ্যে একটি ছিল রদ্দি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৮ | 5048 | ۵۰٤۸

পরিচ্ছদঃ ২১৪৪. রদ্দি খেজুর প্রসঙ্গে
৫০৪৮। মুহাম্মদ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে কিছু খেজুর বণ্টন করলেন। আমি ভাগে পেলাম পাঁচটি। চারটি খেজুর (উৎকৃষ্ট) আর একটি রদ্দি। এই রদ্দি খেজুরটই আমার দাতে খুব শক্তবোধ হল।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৪৯ | 5049 | ۵۰٤۹

পরিচ্ছদঃ ২১৪৫. তাজা ও শুকনা খেজুর প্রসঙ্গে। আর মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ তুমি তোমার দিকে খেজুন বৃক্ষের কান্ডে নাড়া দাও, তা তোমার জন্য সুপক্ক তাজা খেজুর ঝরাবে।

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (র)… আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইন্তিকাল করেন, তখন আমরা দুই কালো বস্তু দ্বারা পরিতৃপ্ত হতাম- খেজুর এবং পানি দ্বারা।

৫০৪৯। সাঈদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনায় এক ইয়াহুদী ছিল। সে আমাকে কর্জ দিত, আমার খেজুর পাড়ার মিয়াদ পর্যন্ত।

রামা নামক স্থানের পথের ধারে জাবির (রাঃ) এর এক খন্ড জমি ছিল। আমি কর্জ পরিশোধে এক বছর বিলম্ব করলাম। এরপর খেজুর পাড়ার মৌসুমে ইয়াহুদী আমার কাছে আসলো, আমি তখনো খেজুর পাড়তে পারিনি। আমি তার কাছে আগামী বছর পর্যন্ত অবকাশ চাইলাম।

সে অস্বীকার করছেন। এ খবর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানোান হলো। তিনি সাহাবীদের বললেনঃ চলো জাবিরের জন্য ইয়াহুদী থেকে অবকাশ নেই। তারপর তারা আমার বাগানে আসলেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীর সাথে এ নিয়ে কথাবার্তা বললেন। সে বললোঃ হে আবূল কাসিম। আমি তাকে আর অবকাশ দেব না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ কথা শুনে উঠলেন এবং বাগানটি প্রদক্ষিন করে তার কাছে এসে আবার আলাপ করলেন। সে এবারও অস্বীকার করল।

এরপর আমি উঠে পিঠে সামান্য কিছু তাজা খেজুর নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রাখলাম। তিনি কিছু খেলেন। তারপর বললেনঃ হে জাবির! তোমার ছাপড়াটা কোথায়?

আমি তাকে জানিয়ে দিলাম। তিনি বললেনঃ সেখানে আমার জন্য বিছানা দাও। আমি বিছানা বিছিয়ে দিলে তিনি এতে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুম থেকে জাগ্রত হলে আমি তার কাছে আরেক মুষ্টি খেজুর নিয়ে আসলাম। তিনি তা থেকে খেলেন। তারপর উঠে আবার ইয়াহুদীর সাথে কথা বললেন।

সে অস্বীকার করলো। তখন তিনি দ্বিতীয়বার খেজুর বাগানে গেলেন এবং বললেনঃ হে জাবির তুমি খেজুর কাটতে থাক এবং কর্জ পরিশেধি কর।

এই বলে, তিনি খেজুর পাড়ার স্থানে বললেনঃ আমি খেজুর পেড়ে ইয়াহুদীর পাওনা শোধ করলাম। এরপর আরও সে পরিমাণ খেজুর উদ্বৃত্ত রইল। আমি বেরিয়ে এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সুসংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি সাক্ষ্য থাক যে, আমি আল্লাহর রাসুল।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫০ | 5050 | ۵۰۵۰

পরিচ্ছদঃ ২১৪৬. খেজুর গাছের মাথী খাওয়া প্রসঙ্গে
৫০৫০। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম।

এমন সময় তাঁর কাছে কিছু খেজুর বৃক্ষের মাথী আনা হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এমন একটি বৃক্ষ আছে যার বরকত মুসলমানের বরকতের ন্যায়। আমি ভাবলাম তিনি খেজুর বৃক্ষ উদ্দেশ্য করেছেন।

আমি বলতে চাইলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেটি কি খেজুর বৃক্ষ? কিন্তু এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম আমি উপস্থিত দশ জনের দশম ব্যাক্তি এবং সকলের ছোট, তাই আমি চুপ রইলাম। পরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সেটা খেজুর গাছ।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫১ | 5051 | ۵۰۵۱

পরিচ্ছদঃ ২১৪৭. আজওয়া খেজুর প্রসঙ্গে
৫০৫১। জুম্‌আ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … সা’দ (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি প্রত্যহ সকালে সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোন বিষ ও যাদু ক্ষতি করবে না।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫২ | 5052 | ۵۰۵۲

পরিচ্ছদঃ ২১৪৮. একসঙ্গে মিলিয়ে একাধিক খেজুর খাওয়া
৫০৫২। আদম (রহঃ) … জাবাল ইবনু সুহায়ম (রহঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ইবনু যুবায়র এর আমলে আমাদের উপর দুর্ভিক্ষ পতিত হল। তখন তিনি খাদ্য হিসাবে আমাদের কিছু খেজুর দিলেন।

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় আমরা খাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ একত্রে একাধিক খেজুর খেয়ো না।

কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একত্রে একাধিক খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, তবে কেউ যদি তার ভাইকে অনুমতি দেয় তাহলে এতে কোন দোষ নেই। শুবা বলেন, অনুমতির বিষয়টি ইবনু উমরের নিজের কথা।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৩ | 5053 | ۵۰۵۳

পরিচ্ছদঃ ২১৪৯. কাঁকুড় প্রসঙ্গে
৫০৫৩। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাকুড় (ক্ষীরা বা শসা জাতীয় ফল) এর সাথে খেজুর খেতে দেখেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৪ | 5054 | ۵۰۵٤

পরিচ্ছদঃ ২১৫০. খেজুর বৃক্ষের বরকত
৫০৫৪। আবূ নু’আয়ম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বৃক্ষসমূহের মধ্যে একটি বৃক্ষ আছে, যা (বরকত ও উপকারিতায়) মুসলমানের সদৃশ আর তা হলো- খেজুর গাছ।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৫ | 5055 | ۵۰۵۵

পরিচ্ছদঃ ২১৫১. একই সঙ্গে দু’রকম খাদ্য বা সু-স্বাদের খাদ্য খাওয়া
৫০৫৫। ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাঁকুড়ের সাথে খেজুর খেতে দেখেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৬ | 5056 | ۵۰۵٦

পরিচ্ছদঃ ২১৫২. দশজন দশজন করে মেহমান ভিতরে ডাকা এবং দশজন দশজন করে আহারে বসা
৫০৫৬। সালত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার মা উম্মে সুলায়ম (রাঃ) এক মুদ যব নিয়ে তা পিষলেন এবং এ দিয়ে ‘খতীফা’ (দুধ ও আটা মিশ্রিত) তৈরী করলেন এবং ঘি এর পাত্র নিংড়িয়ে দিলেন।

তারপর তিনি আমাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠালেন। তিনি সাহাবাদের মাঝে ছিলেন। এ সময় আমি তার কাছে এসে তাকে দাওয়াত করলাম।

তিনি বললেনঃ আমার সঙ্গে যারা আছে? আমি বাড়ীতে এসে বললাম। সে জিজ্ঞেস করছেন আমার সঙ্গে যারা আছে? তারপর আবূ তালহা (রাঃ) তার কাছে গিয়ে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! এতো অতি সামান্য খাবার যা উম্মে সুলায়ম তৈরী করেছে। এরপর তিনি আসলেন। তার কাছে সেগুলো আনা হল।

তিনি বললেনঃ দশ জনকে আমার কাছে প্রবেশ করতে দাও। তারা এসে তৃপ্তি সহকারে খেলেন। তিনি পুনরায় বললেনঃ আরো দশজনকে আমার কাছে প্রবেশ করতে দাও।

তারা এসে পরিতৃপ্ত হয়ে খেলেন। তিনি আবার বলেনঃ আরো দশজনকে আমার কাছে আসতে দাও। এভাবে তিনি শেষ সংখ্যা পর্যন্ত উল্লেখ করলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেলেন এবং চলে গেলেন। আমি দেখতে লাগলাম, তা থেকে কিছু কমেছে কিনা? অর্থাৎ কিছুমাত্র কমেনি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৭ | 5057 | ۵۰۵۷

পরিচ্ছদঃ ২১৫৩. রসূন ও (দুর্গন্ধ যুক্ত) তরকারী মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে। এ ব্যাপারে ইব্‌ন উমার (রা) থেকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর হাদীস বর্ণিত হয়েছে
৫০৫৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবদূল আযীয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল আপনি রসুনের ব্যাপারে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে কী শুনেছেন?

তিনি বললেনঃ যে ব্যাক্তি তা খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের কাছেও না আসে (এ উক্তি)।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৮ | 5058 | ۵۰۵۸

পরিচ্ছদঃ ২১৫৩. রসূন ও (দুর্গন্ধ যুক্ত) তরকারী মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে। এ ব্যাপারে ইব্‌ন উমার (রা) থেকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর হাদীস বর্ণিত হয়েছে
৫০৫৮। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) মনে করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি রসূন বা পেঁয়াজ খাবে সে যেন আমাদের থেকে দুরে থাকে। অথবা তিনি বলেছেনঃ সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দুরে থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৯ | 5059 | ۵۰۵۹

পরিচ্ছদঃ ২১৫৪. কাবাছ-পিলু গাছের পাতা প্রসঙ্গে
৫০৫৯। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মক্কার যাহরান নামক স্থানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম এবং পিলু ফল পাড়ছিলাম।

তিনি বললেনঃ কালোটা নিও। কেননা, সেটা সুস্বাদু। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ আপনি কি বকরী চরিয়েছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এমন নাবী নেই যিনি বকরী চরান নি।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬০ | 5060 | ۵۰٦۰

পরিচ্ছদঃ ২১৫৫. আহারের পর কুলি করা
৫০৬০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … সুওয়ায়দ ইবনু নূমান (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে রওয়ানা হলাম।

সাহবা নামক স্থানে পৌছলে তিনি খাবার আনতে বললেন। কিন্তু ছাতু ছাড়া আর কিছু আনা হল না। আমরা তা-ই খেলাম। তারপর সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য উঠে কুলি করলেন। আমরাও কুলি করলাম।

ইয়াহইয়া বলেনঃ আমি বুশায়রকে সুওয়ায়েদ সুত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বরের দিকে রওয়ানা হলাম। আমরা যখন সাহবা নামক স্থানে পৌহুলাম, ইয়াহইয়া বলেন, এ স্থানটি খায়বর থেকে এক মনযিলের পথে, তিনি খাবার নিয়ে আসতে বললেন।

কিন্তু ছাতু ছাড়া অন্য কিছু আনা হলো না। আমরা তাই মুখে দিয়ে নাড়াচাড়া করে খেয়ে ফেললাম। তিনি পানি আনতে বললেন এবং কুলি করলেন, আমরাও কুলি করলাম। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬১ | 5061 | ۵۰٦۱

পরিচ্ছদঃ ২১৫৬. রুমাল দিয়ে মুছে ফেলার আগে আঙ্গুল চেটে ও চুষে খাওয়া
৫০৬১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন আহার করে সে যেন তার হাত না মোছে, যতক্ষন না সে তা নিজে চেটে খায় কিংবা অন্যকে দিয়ে চাটিয়ে নেয়।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬২ | 5062 | ۵۰٦۲

পরিচ্ছদঃ ২১৫৭. রুমাল প্রসঙ্গে
৫০৬২। ইবরাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আগুনে স্পর্শ বস্তু খাওয়ার পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা সম্বন্ধে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ না, উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে না।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তো আমরা এরুপ খাদ্য কমই পেতাম। যখন আমরা তা পেতাম তখন আমাদের তো হাতের তার, হাত ও পা ছাড়া কোন রুমাল ছিল না (আমরা এগুলোতে মুছে ফেলতাম)।

তারপর (নতুন) উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করেই আমরা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৩ | 5063 | ۵۰٦۳

পরিচ্ছদঃ ২১৫৮. আহারের পর কি পড়বে?
৫০৬৩। আবূ নূআয়ম (রহঃ) … আবূ উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দস্তর খান তুলে নেয়া হল। তিনি বলতেনঃ পবিত্র বরকতময় অনেক অনেক প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

হে আমাদের রব, এ থেকে কখনো বিমুখ হতে পারবো না, বিদায় নিতে পারবো না এবং এ থেকে অমুখাপেক্ষী হতেও পারবো না।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৪ | 5064 | ۵۰٦٤

পরিচ্ছদঃ ২১৫৮. আহারের পর কি পড়বে?
৫০৬৪। আবূ আসিম (রহঃ) … আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আহার শেষ করতেন, রাবী আরো বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দস্তরখান যখন তুলে নেয়া হতো তখন তিনি বলতেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি যথেষ্ট খাইয়েছেন এবং পরিতৃপ্ত করেছেন।

তার থেকে বিমুখ হওয়া যায় না এবং তার প্রতি অকৃজ্ঞতা প্রকাশ করা যায় না। রাবী কখনো বলেনঃ হে আমাদের রব, তোমার জন্যই সকল প্রশংসা, এর থেকে বিমুখ হওয়া যাবে না, একে পরিত্যাগ করাও যাবে না এবং এর থেকে অমুখাপেক্ষীও হওয়া যাবে না; হে, আমাদের রব।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৫ | 5065 | ۵۰٦۵

পরিচ্ছদঃ ২১৫৯. খাদেমের সাথে আহার করা
৫০৬৫। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো খাদেম যখন তার খাবার নিয়ে আসে তখন তাকে সাথে বসিয়ে না খাওয়ালেও সে যেন তাকে এক লুকমা বা দু’ লুকমা খাবার দেয়, কেননা সে তার গরম ও ক্লেশ সহ্য করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৬ | 5066 | ۵۰٦٦

পরিচ্ছদঃ ২১৬১. কাউকে আহারের দাওয়াত দিলে একথা বলা যে, এ ব্যক্তি আমার সঙ্গের। আনাস (রাঃ) বলেন, তুমি কোন মুসলমানের কাছে গেলে তার আহার থেকে খাও এবং তার পানীয় থেকে পান কর।
بَابُ الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ مِثْلُ الصَّائِمِ الصَّابِرِ
فِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

২১৬০. পরিচ্ছেদঃ কৃতজ্ঞ আহারকারী ধৈর্যশীল সিয়াম পালনকারীর মতো। এ ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হাদীস বর্ণিত আছে।

৫০৬৬। আবদুল্লাহ ইবনু আবুল আসওয়াদ (রহঃ) … আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার গোত্রের এক ব্যাক্তি যার কুনিয়াত (ডাক নাম) ছিল আবূ শুআয়ব তার একটি কসাই গোলাম ছিল। সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো, তখন তিনি সাহাবীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন।

তখন সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারায় ধরন লক্ষ্য করলো, লোকটি তার কসাই গোলামের কাছে গিয়ে বললঃ আমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত কর যা পাঁচজনের জন্য যথেষ্ট হয়। আমি রাতে পাঁচ জনকে দাওয়াত করব, যার পঞ্চম ব্যাক্তি হবেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

গোলামটি তার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত করলো। লোকটি তার কাছে এসে তাকে দাওয়াত করলো। এক ব্যাক্তি তাদের সঙ্গে গেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে শুআয়ব! এক ব্যাক্তি আমাদের সঙ্গে এসেছে।

তুমি চাইলে তাকে অনুমতি দিতে পার, আর চাইলে তাকে বিদায়ও করতে পার। সে বললঃ না। আমি তাকে অনুমতি দিলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৭ | 5067 | ۵۰٦۷

পরিচ্ছদঃ ২১৬২. রাতের খাবার পরিবেশন করা হলে তা রেখে অন্য কাজে ত্বরা করবে না
৫০৬৭। আবূল ইয়ামান ও লায়স (রহঃ) … আমর ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজ হাতে বকরীর স্কন্ধ থেকে কেটে খেতে দেথেছেন।

তারপর সালাত (নামায/নামাজ)-এর প্রতি আহবান করা হলে তিনি তা রেখে দিলেন এবং সে ছুরিটিও যা দিয়ে কেটে খাচ্ছিলেন। তারপর উঠে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তিনি (নতুন) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।

আহার সংক্রান্ত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৯ম খণ্ড । পার্ট-২।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৮ | 5068 | ۵۰٦۸

পরিচ্ছদঃ ২১৬২. রাতের খাবার পরিবেশন করা হলে তা রেখে অন্য কাজে ত্বরা করবে না
৫০৬৮।

মুআল্লা ইবনু আসাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি রাতের খাবার পরিবেশিত হয় এবং সালাত (নামায/নামাজ) এর আযান দেয়া হয়, তাহলে তোমরা আগে আহার করে নিবে।

অন্য সনদে আইয়্যুব, নাফি (রহঃ) এর সুত্রে ইবনু উমর (রাঃ) থেকেও অনুরুপ হাদীস নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। আইয়্যুব নাফি (রহঃ) এর সুত্রে ইবনু উমর (রাঃ) থেকে আরো বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, এ অবস্থায় ইমামের কিরআতও শুনছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৯ | 5069 | ۵۰٦۹

পরিচ্ছদঃ ২১৬২. রাতের খাবার পরিবেশন করা হলে তা রেখে অন্য কাজে ত্বরা করবে না
৫০৬৯। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাত (নামায/নামাজ) এর ইকামাত দেয়া হয় এবং রাতের খাবারও উপস্থিত হয়ে যায়, তাহলে তোমরা আগে আহার করে নেবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫০৭০ | 5070 | ۵۰۷۰

পরিচ্ছদঃ ২১৬৩. মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ খাওয়া শেষ হলে তোমরা চলে যাবে
৫০৭০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পর্দা (আয়াত নাযিল হওয়া) সম্পর্কে সর্বাধিক অবহিত।

এ ব্যাপারে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করতেন। যায়নাব বিনত জাহশের সঙ্গে নববিবাহিত হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভোর হল। তিনি মদিনায় তাকে বিবাহ করেছিলেন। ওঠার পর তিনি লোকজনকে খাওয়ার জন্য দাওয়াত করলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে ছিলেন। (আহারের পর) অনেক লোক চলে যাওয়ার পরও কিছু লোক তাঁর সাথে বসে থাকলো। অবশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গেলেন আমিও তার সাথে সাথে গেলাম। তিনি আয়িশা (রাঃ) এর হুজরার দরজায় পৌছলেন।

তারপর ভাবলেন লোকেরা হয়তো চলে গেছে। আমিও তার সাথে ফিরে আসলাম। (এসে দেখলাম) তারা স্বস্থানে বসেই রয়েছে। তিনি পুনরায় ফিরে গেলেন।

আমিও তার সঙ্গে পুনয়রায় ফিরে গেলাম। এমন কি তিনি আয়িশা (রাঃ) এর গৃহের দরজা পর্যন্ত পৌছে আবার ফিরে আসলেন।

আমিও তার সঙ্গে ফিরে আসলাম। এবার (দেখলাম) তারা উঠে গেছে। তারপর তিনি আমার ও তার মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হলো।

আরও পড়ুনঃ

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

মন্তব্য করুন