আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

Table of Contents

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী ২য় খণ্ড

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৫৭৬

ইমরান ইর্বন মাইসারা (র.)……আনাস (রা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (সালাতে সমবেত হওয়ার জন্য) সাহাবা-ই কিরাম (রা.) আগুন জ্বালানো অথবা নাকূস বাজানোর কথা আলোচনা করেন। আবার এগুলোকে (যথাক্রমে) ইয়াহূদী ও নাসারাদের প্রথা বলে উল্লেখ করা হয়। তারপর বেলাল (রা.)- কে আযানের বাক্য দু’বার করে ও ইকামতের বাক্য বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাদিস ৫৭৭

মাহমূদ ইর্বন গায়লান (র.)……নাফি (র.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইব্‌ন উমর (রা.) বলতেন যে, মুসলমানগন যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন তাঁরা সালাতের সময় অনুমান করে সমবেত হতেন। এর জন্য কোন ঘোষণা দেওয়া হতো না। একদিন তাঁরা এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। কয়েকজন সাহাবী বললেন, নাসারাদের ন্যায় নাকূস বাজানোর ব্যবস্থা করা হোক। আর কয়েকজন বললেন, ইয়াহূদীদের শিঙ্গার ন্যায় শিঙ্গা ফোকানোর ব্যবস্থা করা হোক। উমর(রা.) বললেন, সালাতের ঘোষণা দেওয়ার জন্য তোমরা কি একজন লোক পঠাতে পার না? তখন রাসূলুল্লাহ্(সা.) বললেনঃ হে বেলাল, উঠ এবং সালাতের জন্য ঘোষণা দাও।

হাদিস ৫৭৮

সুলাইমান ইব্‌ন হারব্(র.)……আনাস (রা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল (রা.)- কে আযানের শব্দ দু’বার এবং ব্যতীত ইকামাতের শব্দগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

হাদিস ৫৭৯

মুহাম্মদ(র.)……আনাস ইব্‌ন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুসলিমগণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাঁরা সালাতের সময়ের জন্য এমন কোন সংকেত নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিলেন, যার সাহায্যে সালাতের সময় উপস্থিত এ কথা বুঝা যায়। কেউ কেউ বললেন, আগুন জ্বালানো হোক, কিংবা ঘণ্টা বাজানো হোক। তখন বিলাল (রা.) – কে আযানের শব্দগুলো দু দু’বার এবং ইকামতের শব্দগুলো বেজোড় বলার নির্দেশ দেওয়া হলো।

হাদিস ৫৮০

আলী ইব্‌ন আবদুল্লাহ্(র.)……আনাস (রা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল (রা.)-কে আযানের বাক্যগুলো দু’ দু’বার এবং ইকামতের শব্দগুলো বেজোড় বলার নির্দেশ দেওয়া হলো। ইসমায়ীল (র.) বলেন, আমি এ হাদীস আইয়্যূবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, তবে ‘কাদ্কামাতিস্সালাতু’ ব্যতীত।

হাদিস ৫৮১

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……আবূ হুরায়রা (রা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ণ করে, যাতে সে আযানের শব্দ না শোনে। যখন আযান শেষ হয়ে যায়, তখন সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন সালাতের জন্য ইকামত বলা হয়, তখন আবার দূরে সরে যায়। ইকামত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে স্মরণ করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পৌছে যে, সে কয় রাকাআত সালাত আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না।

হাদিস ৫৮২

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……আবদুল্লাহ্ইব্‌ন আবদুর রহমান আনসারী মাযিনী (র.) থকে বর্ণিত, যে আবূ সায়ীদ খুদ্রী (রা.) তাঁকে বললেন, আমি দেখছি তুমি বক্রী চরানো এবং বন-জঙ্গলকে ভালবাস। তাই তুমি যখন বক্রী নিয়ে থাক, বা বন-জঙ্গলে থাক এবং সালাতের জন্য আযান দাও, তখন উচ্ছকণ্ঠে আযান দাও। কেননা, জিন্, ইনসান বা যে কোন বস্তুই যতদূর পর্যন্ত মুয়াযযিনের আওয়ায শুনবে, সে কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আবূ সায়ীদ (রা.) বলেন, একথা আমি রাসূলুল্লাহ্(সা.)-এর কাছে শুনেছি।

হাদিস ৫৮৩

কুতাইবা ইব্‌ন সায়ীদ (র.) আনাস (রা.) থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) যখনই আমাদের নিয়ে কোন গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেতেন, ভোর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করতেন না বরং লক্ষ্য রাখতেন, যদি তিনি তখন আযান শুনতে পেতেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তাহলে অভিযান চালাতেন। আনাস (রা.) বলেন, আমারা খায়বারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং রাতের বেলায় তাদের সেখানে পৌছলাম। যখন প্রভাত হল এবং তিনি আযান শুনতে পেলেন না; তখন রাসূলুল্লাহ্(সা.) সাওয়ার হলেন। আমি আবূ তালহা (রা.)-এর পিছনে সাওয়ার হলাম। আমার পা, নবী (সা.) –এর কদম মুবারকের সাথে লেগে যাচ্ছিল। আনাস (রা.) বলেন, তারা তাদের থলে ও কোদাল নিয়ে বেরিয়ে আমাদের দিকে আসল। হঠাৎ তারা যখন নবী (সা.) কে দেখতে পেল, তখন বলে উঠল, ‘এ যে মুহাম্মদ (সা.), আল্লাহর শপথ! মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পঞ্চ বাহিনী সহ!’ আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) তাদের দেখে বলে উঠলেনঃ ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, খায়বার ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় অবতরণ করি, তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হবে কত মন্দ!’

হাদিস ৫৮৪

আব্দুল্লহাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……আবূ সায়ীদ খুদরী (রা.) থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুয়ায্যিন যা বলে তোমরাও তার অনুরূপ বলবে।

হাদিস ৫৮৫

মু’আয ইব্‌ন ফাযালা (র.)……। ঈসা ইব্‌ন তালহা (রা.) থকে বর্ণিত, একদিন তিনি মু’আবিয়া (রা.)-কে (আযানের জবাব দিতে) শুনেছেন যে, তিনি ‘আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্’ পর্যন্ত মুয়ায্যিনের অনুরূপ বলেছেন।

হাদিস ৫৮৬

ইসহাক ইব্‌ন রাহওয়াই (র.)……ইয়াহ্ইয়া (র.) থকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইয়াহ্ইয়া (র.) বলেছেন। আমার কোন ভাই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুয়ায্যিন যখন বলল, তখন তিনি (মু’আবিয়া (রা.)) বললেন। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের নবী (সা.)-কে আমরা এরূপ বলতে শুনেছি।

হাদিস ৫৮৭

আলী ইব্‌ন আইয়্যাশ (র.)……জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্(রা.) থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে দু’আ করেঃ ‘হে আল্লাহ্এ পরিপূর্ণ আহবান ও সালাতের প্রতিষ্ঠিত মালিক, মুহাম্মাদ (সা.) –কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকেমে মাহমূদে পৌছিয়ে দিন যার অঙ্গিকার আপনি করেছেন’-কিয়ামতের দিন সে আমার শাফা’আত লাভের অধিকারী হবে।

হাদিস ৫৮৮

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……আবূ হুরায়রা (রা.) থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ আযানে ও প্রথম কাতারে কী (ফযীলত) রয়েছে, তা যদি লোকেরা জানত, কুরআহর মাধ্যমে নির্বাচন ব্যতীত এ সুযোগ লাভ করা যদি সম্ভব না হত, তাহলে অবশ্যই তারা কুরআহর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিত। যুহরে সালাত আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করার মধ্যে কী (ফযীলত) রয়েছে, যদি তারা জানত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করত। আর ইশা ও ফজরের সালাত (জামা’আতে) আদায়ের কী ফযীলত তা যদি তারা জানত, তাহলে নিঃসন্দেহে হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হত।

হাদিস ৫৮৯

মুসাদ্দাদ (র.)…… আবদুল্লাহ্ইব্‌ন হারিস (রা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার বর্ষণ সিক্ত দিনে ইব্‌ন আব্বাস (রা.) আমাদের উদ্দেশ্যে খুত্বা দিচ্ছিলেন। এ দিকে মুয়আয্যিন আযান দিতে গিয়ে যখন -এ পৌছল, তখন তিনি তাকে এ ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন যে, ‘লোকেরা যেন আব্বাসে সালাত আদায় করে নেয়।’ এতে লোকেরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। তখন ইব্‌ন আব্বাস (রা.) বললেন, তাঁর চাইতে যিনি অধিক উত্তম ছিলেন (রাসূলুল্লাহ্(সা.)) তিনিই এরূপ করেছেন। অবশ্য জুমু’আর সালাত ওয়াজিব। (তবে ওযরের কারণে নিজ আবাসে সালাত আদায় করার অনুমতি রয়েছে)।

হাদিস ৫৯০

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন মাসলামা (র.)……আবদুল্লাহ্ইব্‌ন উমর (রা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ বিলাল (রা.) রাত থাকতেই আযান দেন। কাজেই ইব্‌ন উম্মে মাকতূম (রা.) আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা (সাহ্রীর) পানাহার করতে পার। আবদুল্লাহ্(রা.) বলেন, ইব্‌ন উম্মে মাকতূম (রা.) ছিলেন অন্ধ। যতক্ষন না তাঁকে বলে দেওয়া হত যে, ‘ভোর হয়েছে, ভোর হয়েছে’-ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না।

হাদিস ৫৯১

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)……হাফসা (রা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মুআয্যিন সুব্হে সাদিকের প্রতীক্ষায় থাকত (ও আযান দিত) এবং ভোর স্পষ্ট হতো- জামা’আত দাঁড়ানোর আগে রাসূলুল্লাহ্(সা.) সংক্ষেপে দু’রাকাআত সালাত আদায় করে নিতেন।

হাদিস ৫৯২

আবূ নু’আইম (র.)…… আযিশা (রা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(সা.) ফজরের আযান ও ইকামতের মাঝে দু’রাকাত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন।

হাদিস ৫৯৩

আবদুল্লাহ্ইব্‌ন ইউসুফ (র.)…… আবদুল্লাহ্ইব্‌ন উমর(রা..) থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(সা.) বলেছেনঃ বিলাল (রা.) রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই তোমরা (সাহ্রী) পানাহার করতে থাক; যতক্ষণ না ইব্‌ন উম্মে মাক্তূম (রা.) আযান দেন।

হাদিস ৫৯৪

আহ্মদ ইব্‌ন ইউনুস (র.)…… আবদুল্লাহ্ইব্‌ন মাসঊদ (রা.) থকে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরাশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহ্রী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয়-যেন তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের সালাতে রত তারা ফিরে যায় আর যারা ঘুমন্ত তাদেরকে জাগিয়ে দেয়। তারপর তিনি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ ফজর বা সুবহে সাদিক বলা যায় না, যখন এরূপ হয়-তিনি একবার আঙ্গুল উপরের দিকে উঠিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে ইশারা করলেন, যতক্ষন না এরূপ হয়ে যায়। বর্ণনাকারী যুহাইর (র.) তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলদ্বয় একটি আপরটির উপর রাখার পর তাঁর ডানে ও বামে প্রসারিত করে দেখালেন।

হাদিস ৫৯৫

ইসহাক ইউসুফ ইব্‌ন ঈসা (র.)……আয়িশা (রা.) সূএে নবী (সা.) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল (রা.) রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই, ইব্‌ন উম্মে মাকতূম (রা.) যতক্ষণ আযান না দেয়, ততক্ষন তোমরা পানাহার করতে পার।

হাদিস ৫৯৬

ইসহাক ওয়াসিতী (র.)……আবদুল্লাহ্ইব্‌ন মুগাফ্ফাল মুযানী (রা.)থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্(রা.) বলেছেনঃ প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যে সালাত রয়েছে। একথা তিনি তিনবার বলেন। (তারপর বলেন) যে চায় তার জন্য।

হাদিস ৫৯৭

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ…….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআযযিন যখন আযান দিত, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী গণের মধ্যে কয়েকজন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি -এর বের হওয়া পর্যন্ত (মসজিদের) স্তম্ভের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেন এবং এ অবস্থায় মাগরিবের আগে দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন। অথচ মাগরিবের আযান ও ইকামতের মধ্যে কিছু (সময়) থাকত না। উসমান ইবনে জাবালা ও আবু দাউদ রহ. শু’বা রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, এ দুয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান খুবই সামান্য হত।

হাদিস ৫৯৮

আবুল ইয়ামান রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মুআযযিন ফজরের সালাতের প্রথম আযান শেষ করতেন তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সুবহে সাদিকের পর ফজরের সালাতের আগে দু’রাকাআত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন, তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়তেন এবং ইকামতের জন্য মুআযযিন তাঁর কাছে না আসা পর্যন্ত শুয়ে থাকতেন।

হাদিস ৫৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা যায় । প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা যায়। তৃতীয়বার একথা বলার পর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে।

হাদিস ৬০০

মু’আল্লা ইবনে আসাদ রহ……….মালিক ইবনে হুয়াইরিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রের কয়েকজন লোকের সঙ্গে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম এবং আমরা তাঁর নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধু ছিলেন। তিনি যখন আমাদের মধ্যে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদের বললেন : তোমরা পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর, আর তাদের দীন শিক্ষা দিবে এবং সালাত আদায় করবে। যখন সালাতের সময় উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে ইমামতি করবে।

হাদিস ৬০১

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (র.)…… আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে ছিলাম। মুয়াজ্জিন আযান দিতে চাইলে তিনি বললেনঃ ঠাণ্ডা হতে দাও। কিছুক্ষন পর মুয়াজ্জিন আবার আযান দিতে চাইলে তিনি বললেন, ঠাণ্ডা হতে দাও। তারপর সে আবার আযান দিতে চাইলে তিনি বললেন, ঠাণ্ডা হতে দাও। এভাবে বিলম্ব করতে করতে টিলাগুলোর ছায়া তার সমান হয়ে গেল। পরে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ উত্তাপের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের ফল।

হাদিস ৬০২

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ (র.)……… মালিক ইবনে হুওয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’জন লোক সফরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করার জন্য নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এল। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেনঃ তোমরা উভয় যখন সফরে বেরুবে (সালাতের সময় হলে) তখন আযান দিবে, এরপর ইকামত দিবে এবং তোমাদের উভয়ের মধ্যে যে বয়সে বড় সে ইমামতি করবে।

হাদিস ৬০৩

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না (র.)……… মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সমবয়সী একদল যুবক নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে হাযির হলাম। বিশ দিন ও বিশ রাত আমরা তাঁর নিকট অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র স্বভাবের লোক ছিলেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিজনের কাছে ফিরে যেতে চাই বা ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে পড়েছি। যখন তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা আমাদের পিছনে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাঁকে জানালাম। তারপর তিনি বল্লেনঃ তোমরা তোমাদের পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর। আর তাদের (দীন) শিক্ষা দাও এবং (সৎ কাজের) নির্দেশ দাও। (বর্ণনাকারী বলেন) মালিক (রাঃ) আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন যা আমার মনে আছে বা মনে নেই। তারপর নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেনঃ তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় করবে। সালাতের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের একজন যেন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে যেন তোমাদের ইমামতি করে।

হাদিস ৬০৪

মুসাজ্জাদ (র.)……… নাফি’ (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রচন্ড এক শীতের রাতে ইবন উমর (রাঃ) যাজনান নামক স্থানে আযান দিলেন। এরপর তিনি ঘোষণা করলেনঃ তোমরা আবাস স্থলেই সালাত আদায় করে নাও। পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা প্রচন্ড শীতের রাতে মুয়াজ্জিনকে আযান দিতে বললেন এওং সাথে সাথে একথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা আবাসে সালাত আদায় করে নাও।

হাদিস ৬০৫

ইসহাক (র.) ………… আবু জুহায়ফা (রাঃ)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আবতাহ নামক স্থানে দেখলাম, বিলাল (রাঃ) একটি বর্শা নিয়ে বেরুলেন। অবশেষ আবতাহে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সামনে তা পূতে দিলেন, এরপর সালাতের ইকামত দিলেন।

হাদিস ৬০৬

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ (র.)……… আবু জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বিলাল (রাঃ) কে আযান দিতে দেখেছেন। (এরপর তিনি বলেন) তাই আমি তাঁর (বিলালের) ন্যায় আযানের মাঝে মুখ এদিক সেদিক (ডানে-বামে) ফিরাই।

হাদিস ৬০৭

আব নু’আইম (র.)……… আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। হঠাত তিনি লোকদের (আগমনের) আওয়াজ শুনতে পেলেন। সাতাল শেষে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমাদের কি হয়েছিল? তারা বললেন, আমরা সালাতের জন্য তাড়াহুড়া করে আসছিলাম। (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এরুপ করবে না। যখন সালাতে আসবে ধীরস্থিরভাবে আসবে (ইমামের সাথে) যতটুকু পাও আদায় করবে, আর যতটুকু ফাওত হয়ে যায় তা (ইমামের সালাম ফেরানোর পর) পূরা করে নিবে।

হাদিস ৬০৮

আদম (র.) …………… আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন তোমরা ইকামত শুনতে পাবে, তখন সালাতের দিকে চলে আসবে, তোমাদের উচিত ধীরস্থীরতা ও গাম্ভীর্যতা বজায় রাখা। তাড়াহুড়া করবেনা। ইমামের সাথে যতটুকু পাও তা আদায় করবে, আর ছুটে যায় তা পূরা করে নিবে।

হাদিস ৬০৯

মুসলিম ইবন ইব্রাহীম (র.) ………… আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ সালাতের ইকামাত হলে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না।

হাদিস ৬১০

আবু নু’আইম (র.)…………… আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ সালাতের ইকামাত হলে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না। ধীরস্থিরতার প্রতি লক্ষ রাখা তোমাদের জন্য একান্ত আবশ্যক। আলী ইবন মুবারাক (র.) হাদীস বর্ণনায় শায়বান (র.) এর অনুসরণ করেছেন।

হাদিস ৬১১

আবদুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপন হুজরা থেকে সালাতের জন্য তাশরীফ নিয়ে আসলেন। এদিকে সালাতের ইকামাত দেওয়া হয়েছে এবং কাতার সোজা করে নেওয়া হয়েছে, এমন কি তিনি মুসাল্লায় দাঁড়ালেন, আমরা তাকবীরের অপেক্ষা করছি, এমন সময় তিনি ফিরে গেলেন এবং বলে গেলেন তোমরা নিজ নিজ স্থলে অপেক্ষা কর। আমরা নিজ নিজ স্থানে অপেক্ষা করতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত তিনি তাশরিফ নিয়ে আসলেন, তাঁর মাথা মুবারক থেকে পানি টপকে পড়ছিলো এবং তিনি গোসল করে এসেছিলেন।

হাদিস ৬১২

ইসহাক (র.)…………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) সালাতের ইকামাত দেয়া হয়ে গেছে, লোকেরা তাদের কাতার সোজা করে নিয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে আসলেনএবং সামনে এগিয়ে গেলেন, তখন তাঁর উপর গোসল ফরজ ছিল। তিনি বল্লেনঃ তোমরা নিজ নিজ এলাকায় অপেক্ষা কর। এরপর তিনি ফিরে গেলেন এবং গোসল করলেন, তারপর ফিরে আসলেন, তখন তাঁর মাথা মুবারক থেকে টপটপ করে পানি পড়ছিল। এরপর সবাইকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

হাদিস ৬১৩

আবু নু’আইম (র.)…………… জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সুর্য ডুবতে লাগলো, (জাবির (রাঃ) বলেন,) যখন কথা হচ্ছিল তখন এমন সময়, যে সাওম পালনকারী ইফতার করে ফেলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমিও সে সালাত আদায় করিনি। তারপর নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘বুহতান’ নামক উপত্যকায় গেলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। সেখানে তিনি উযু করলেন এবং সূর্য ডুবে যাওয়ার পরে তিনি (প্রথমে) আসরের সালাত আদায় করলেন, এরপর তিনি মাগ্রিবের সালাত আদায় করলেন।

হাদিস ৬১৪

আবু মা’মার আবদুল্লাহ ইবন আমর (র.)………… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালাতের ইকামাত হয়ে গেছে তখনও নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদের একপাশে একব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলছিলেন, অবশেষে যখন লোকদের ঘুম আসছিল তখন তিনি সালাতে দাঁড়ালেন।

হাদিস ৬১৫

আইয়্যাশ ইবন ওয়ালিদ (র.) ………… হুমাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালাতের ইকামাত হয়ে যাওয়ার পর কোন ব্যক্তির কথা বলা সম্পর্কে আমি সাবিত বুনানীকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদীস শুনালেন। তিনি বলেন, সালাতের ইকামাত দেওয়া হয় এমন সময় এক ব্যক্তি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এলো এবং সালাতের ইকামাতের পর তাঁকে ব্যস্ত রাখল। আর হাসান বাসরী (র.) বলেন, কোন মা যদি তার সন্তানের প্রতি স্নেহবশত ইশার সালাত জামা’আতে আদায় করতে নিষেধ করে, তবে এ ব্যাপারে সন্তান তাঁর মায়ের আনুগত্য করবে না।

হাদিস ৬১৬

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র.)…………… হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, তারপর সালাত কায়েমের নির্দেশ দেই, এরপর সালাতের আযান দেওয়া হোক, তারপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামতি করার নির্দেশ দেই। এরপর আমি লোকদের কাছে যাই এবং তাদের (যারা সালাতে শামিল হয় নাই) ঘর জ্বালিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশতহীন মোটা হাঁড় বা ছাগলের ভালো দুটি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ইশার জামা’য়াতে হাযির হত।

হাদিস ৬১৭

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র.)………… আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ জামা’আতে সালাতের ফযিলত একাকীএ আদায়কৃত সালাতের থেকে সাতাশ’ গুণ বেশি।

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৬১৮

মুসা ইবন ইসমাইল (র.) …………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জামা’আতের সাথে সালাতের সাওয়াব, তাঁর নিজের ঘরে বাজারে আদায়কৃত সালাতের সাওয়াব দ্বিগুণ করে ২৫ গুন বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণে এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযু করল, তারপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তাঁর প্রতি কদমের বিনিময়ে একটী মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, ফিরিশতাগণ তার জন্য এ বলে দু’আ করতে থাকেন- “হে আল্লাহ্! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুণ এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুণ। “আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়।

হাদিস ৬১৯

আবুল ইয়ামান (র.) ………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, জামা’আতের সালাত তোমাদের কারো একাকি সালাত থেকে পঁচিশ গুণ বেশি মর্তবা রাখে। আর ফজরের সালাতে রাতের ও দিনের ফিরিশতারা সম্মিলিত হয়। তারপর আবু হুরায়রা (রাঃ) বলতেন, তোমরা চাইলে (এর প্রমান স্বরূপ) ফজরের সালাতে উপস্থিত হয় (ফিরিশতাগণ) এ আয়াত পাঠ কর। শুয়াইব (র.) বলেন, আমাকে নাফি (র.) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ননা করে শুনিয়েছেন যে, জামা’আতের সালাত একাকী সালাতের থেকে সাতাশ গুণ বেশি মর্তবা রাখে।

হাদিস ৬২০

উমর ইবন হাফস (র.)……… উম্মে দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবু দারদা (রাঃ) রাগান্বিত অবস্থায় আমার নিকট আসলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কিসে তোমাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতের মধ্যে জামা’আতে সালাত আদায় করা ব্যতিত তাঁর তরীকার আর কিছুই দেখছি না। (এখন এতেও ত্রুটি দেখছি)

হাদিস ৬২১

মুহাম্মদ ইবন আলা (র.)…………… আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন (মসজিদ থেকে) যে যত বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত বেশি সাওয়াব হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার সাওয়াব সে ব্যক্তির চাইতে বেশি, যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।

হাদিস ৬২২

কুতাইবা (র.)…………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় একটি কাটাযুক্ত ডাল দেখে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ্তা’লা তার এ কাজ সাদরে কবুল করে তার গুনাহ মাফ করে দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ শহীদ পাঁচ প্রকার –
১. প্লেগে মৃত ব্যক্তি
২. কলেরায় মৃত ব্যক্তি
৩. নিমজ্জিত ব্যক্তি
৪. চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি
৫. আল্লাহর পথে (জিহাদে) শহীদ।
তিনি আরো বলেছেনঃ মানুষ যদি আযান দেওয়া, প্রথম কাতারে সালাত আদায় করার কী ফযিলত তা জানত, কুরআহর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া সে সুযোগ না পেত, তাহলে কুরআহর মাধ্যমে হলেও তারা সে সুযোগ গ্রহণ করত আর আওয়াল ওয়াক্ত (যোহরের সালাতে যাওয়ার) কী ফযিলত তা যদি মানুষ জানত, তাহলে এর জন্য তারা অবশ্যই সর্বাগ্রে যেত। আর ইশা ও ফজরের সালাত (জামা’আতে) আদায়ে কী ফযিলত, তা যদি তারা জানত তা হলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা (জামা’আতে) উপস্থিত হতো।

হাদিস ৬২৩

মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাওশাব (র.)…………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ হে বনী সালিমা! তোমরা কি (স্বীয় আবাস স্থল থেকে মসজিদে আসার পথে) তোমাদের পদচিহ্নগুলোর সাওয়াবের কামনা কর না? ইবন মারিয়াম (র.) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বনী সালিমা গোত্রের লোকেরা নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়ে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু মদীনার কোন এলাকা একেবারে শূন্য হওয়াটা নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পছন্দ করেন নাই। তাই তিনি বললেনঃ তোমরা কি (মসজিদে আসা যাওয়ায়) তোমাদের পদচিহ্নগুলোর সাওয়াব কামনা কর না? কুরআনে উল্লেখিত ‘আসার’ শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে মুজাহিদ (র.) বলেন, ‘আসার’ অর্থ পদক্ষেপ। অর্থাৎ যমীনে পায়ে চলার চিহ্নসমূহ।

হাদিস ৬২৪

উমর ইবন হাফস (র.)…………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মুনাফিকদের উপস ফজর ও ইশার সালাতের চাইতে অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কি ফযিলত, তা যদি তারা জানত, তা হলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা (জামা’আতে) উপস্থিত হতো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আমি সংকল্প করছিলাম যে, মুয়াজ্জিন কে ইকামত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামতি করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে এরপর ও যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই।

হাদিস ৬২৫

মুসাদ্দাদ (র.)…………… মালিক ইবন হুওয়াইরিস (রাঃ) সূত্রে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সালাতের সময় হয়, তখন তোমাদের দু’জনের একজন আযান দিবে ও ইকামত বলবে। তারপর তোমাদের দু’জনের মধ্যে যে অধিক বয়স্ক সে ইমামতি করবে।

হাদিস ৬২৬

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (র.)…………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে তার উজু ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ফিরিশতা গণ এ বলে দোয়া করতে থাকে যে, ইয়া আল্লাহ্! আপনি তাঁকে মাফ করে দিন, ইয়া আল্লাহ্! আপনি তার উপর রহম করুণ। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সালাতই তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখে, সে সালাতে রত আছে বলে গণ্য হবে।

হাদিস ৬২৭

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (র.)…………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে দিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ্তা’লা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবেন।
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক,
২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার রবের ইবাদাতের মধ্যে,
৩. সে ব্যক্তি যার কলব মসজিদের সাথে লাগা রয়েছে,
৪. সে দু’ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালোবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য,
৫. সে ব্যক্তি যাকে কোন উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহ্বান জানায়, কিন্তু সে এ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহ্কে ভয় করি’,
৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না,
৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে, ফলে তার দু’চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।

হাদিস ৬২৮

কুতাইবা (র.)…………… হুমাইদ (র.)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি আংটি বুবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। একরাতে তিনি ইশার সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করলেন। সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ সালাতে রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে। আনাস (রাঃ) বলেন। এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আংটির চমক দেখতে পাচ্ছিলাম।

হাদিস ৬২৯

আলী ইবন আবদুল্লাহ (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সকাল বা বিকালে যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ্তা’লা তার জন্য ততবার মেহমানদারীর আয়োজন করেন।

হাদিস ৬৩০

আবদুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ (র.)………… আবদুল্লাহ ইবন মালিক ইবন বুহাইনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন। (অন্য সুত্রে ইমাম বুখারী (র.) বলেন, আব্দুর রাহমান(র.)…………. হাফস ইবন আসিম (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মালিক ইবন বুহাইনা নামক আযদ গোত্রীয় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে দু’রাকাআত সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন ইকামত হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাত শেষ করলেন, লোকেরা সে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, ফজরের সালাত কি চার রাকাআত? ফজরের সালাত কি চার রাকাআত? গুনদার ও মুয়াজ (র.) শু’বা (র.) থেকে হাদিসটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (এ বর্ণনাটিই সঠিক) তবে হাম্মাদ (র.) ও সাদ (র.) এর মধ্যে সে হাফস (র.) থেকে হাদীসটি বর্ননা করতে গিয়ে মালিক ইবন বুহাইনা (র.) থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন।

হাদিস ৬৩১

উমর ইবন হাফস ইবন গিয়াস (র.)………… আসওয়াদ (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আয়িশা (রাঃ) এর কাছে নিলাম এবং সালাতের পাবন্দী ও উহার তা’যীম সম্বন্ধে আলোচনা করছিলাম। আয়েশা (রাঃ) বললেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন সালাতের সময় হলে আযান দেওয়া হল। তখন তিনি বললেন, আবু বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তাঁকে বলা হল যে, আবু বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবারো সে কথা বললেন এবং তারা আবারো তা-ই বললেন। তৃতীয়বারও তিনি সে কথা বললেন। তিনি আরো বললেনঃ তোমরা ইউসুফ (আঃ) এর সাথী মহিলাদের মত। আবু বকরকেই বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আবু বকর (রাঃ) এগিয়ে গিয়ে সালাত আদায় শুরু করলেন। এদিকে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেকে একটু হালকাবোধ করলেন। দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে বেরিয়ে এলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার চোখে এখনও স্পষ্ট ভাসছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর দু’পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। তখন আবু বকর (রাঃ) পেছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে স্বস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে একটু সামনে আনা হলো, তিনি আবু বকর (রাঃ) এর পাশে বসলেন। আ’মাশকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ তাহলে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইমামতি করছিলেন। আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসরণে সালাত আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবু বকর (রাঃ) এর সালাতের অনুকরন করছিল। আ’মাশ (রাঃ) মাথার ইশারায় বললেন, হ্যাঁ। আবু দাউদ (র.) শু’বা (র.) সূত্রে আ’মাশ (রাঃ) থেকে হাদীসের কতকাংশ উল্লেখ করেছেন। আবু মু’আবিয়া (র.) অতিরিক্ত বলেছেন, তিনি আবু বকর (রাঃ) এর বাঁ দিকে বসেছিলেন এবং আবু বকর (রাঃ) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছিলেন।

হাদিস ৬৩২

ইব্রাহীম ইবন মূসা (র.)………… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন একেবারে কাতর হয়ে গেলেন এবং তাঁর রোগ বেড়ে গেল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষার জন্য তাঁর অন্যান্য স্ত্রীগণের কাছে সম্মতি চাইলেন। তাঁরা সম্মতি দিলেন। সে সময় দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে (সালাতের জন্য) তিনি বের হলেন, তাঁর দু’পা মাটিতে হেঁচড়িয়ে যাচ্ছিলো। তিনি ছিলেন আব্বাসা (রাঃ) ও অপর এক সাহাবীর মাঝখানে। (বর্ননাকারী) উবায়দুল্লাহ (র.) বলেন, আয়িশা (রাঃ) এর বর্ণিত এ ঘটনা ইবন আব্বাস (রাঃ) এর নিকট ব্যক্ত করি। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জান, তিনি কে ছিলেন, যার নাম আয়েশা (রাঃ) বলেন নি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ)।

হাদিস ৬৩৩

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র.)………… নাফি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবন উমর (রাঃ) একবার প্রচন্ড শীত ও বাতাসের রাতে সালাতের আযান দিলেন। তারপর ঘোষণা দিলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসে সালাত আদায় করে নাও, এরপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রচণ্ড শীত ও বৃষ্টির রাত হলে মুয়াজ্জিনকে এ কথা বলার নির্দেশ দিতেন – প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসে সালাত আদায় করে নাও।

হাদিস ৬৩৪

ইসমাইল (র.)………… মাহমুদ ইবন রাবী’ আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইতবান ইবন মালিক (রাঃ) তাঁর নিজ গোত্রের ইমামতি করতেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। একদিন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললেন। ইয়া রাসূলুল্লাহ ! কখনো কখনো ঘোর অন্ধকার ও বর্ষণ প্রবাহ হয়ে পড়ে। অথচ আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আপনি আমার ঘরে কোন একস্থানে সালাত আদায় করুণ, যে স্থানটিকে আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্ধারন করবো। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ঘরে এলেন এবং বললেনঃ আমার সালাত আদায়ের জন্য কোন জায়গাটি তুমি ভালো মনে কর? তিনি ইশারা করে ঘরের জায়গা দেখিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে সালার আদায় করলেন।

হাদিস ৬৩৫

আবদুল্লাহ ইবন আবদুল ওয়াহহাব (র.)………… আবদুল্লাহ ইবন হারিস (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বৃষ্টির দিনে ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিচ্ছিলেন। মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ পর্যন্ত পৌছলো, তখন তিনি তাঁকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে, সালাত যার যার আবাসে। এ শুনে লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগল – যেন তারা বিষয়টিকে অপছন্দ করল। তিনি তাদের লক্ষ করে বললেন, মনে হয় তোমরা বিষয়টি অপছন্দ করছ। তবে, আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনিই এরূপ করেছেন। একথা সত্য যে জুমু’আর সালাত ওয়াজিব। তবে তোমাদের অসুবিধায় ফেলা আমি পছন্দ করি না। হাম্মাদ (র.)………… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ সূত্রে এরূপ উল্লেখ আছে, আমি তোমাদের গুনাহর অভিযোগে ফেলতে পছন্দ করি না যে, তোমরা হাঁটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসবে।

হাদিস ৬৩৬

মুসলিম ইবন ইব্রাহীম (র.)………… আবু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) কে (শবে-কদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা) করলাম, তিনি বললেন, একখন্ড মেঘ এসে এমন ভাবে বর্ষণ শুরু করল যে, যার ফলে (মসজিদে নববীর) ছাদ দিয়ে পানি পড়া শুরু হল। কেননা, (তখন মসজিদের) ছাদ ছিল খেজুরের ডালের তৈরী। এমন সময় সালাতের ইকামত দেওয়া হল, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে পানি ও কাদার উপর সিজদা করতে দেখলাম, এমন কি আমি তাঁর কপালেও কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম।

হাদিস ৬৩৭

আদম (র.) …………… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, এক আনসারী (সাহাবী) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললেন আমি আপনার সাথে মসজিদে এসে সালাত আদায় করতে অক্ষম। তিনি ছিলেন মোটা। তিনি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করলেন এবং তাঁকে বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে গেলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এর জন্য এর জন্য একটি চাটাই পেতে দিলেন এবং চাটাইয়ের একপ্রান্তে কিছু পানি ছিটিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে চাটাইয়ের উপর দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। জারুদ গোত্রীয় একব্যক্তি আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করল, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি চাশতের সালাত আদায় করতেন নাকি? তিনি বললেন, সে দিন ব্যতীত আর কোন দিন তাঁকে তা আদায় করতে দেখিনি।

হাদিস ৬৩৮

মুসাদ্দাদ (র.)………… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর সে সময় সালাতের ইকামত হয়ে যায়, তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নাও।

হাদিস ৬৩৯

ইয়াহইয়া ইবন বুকাইর (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ বিকেলের খাবার পরিবেশন করা হলে মাগরিবের সালাতের আগে তা খেয়ে নিবে। খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না।

হাদিস ৬৪০

উবায়দুল্লাহ ইবন ইসমাইল (র.)………… ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, অপর দিকে সালাতের ইকামত হয়ে যায়, তখন আগে খাবার খেয়ে নিবে। খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না। (নাফি’ (র.) বলেন) ইবন উমর (রাঃ) এর জন্য খাবার পরিবেশন করা হত, সে সময় সালাতের ইকামত দেয়া হত, তিনি খাবার শেষ না করে সালাতে আসতেন না। অথচ তিনি ইমামের কিরাআত শুনতে পেতেন। যুহাইর (র.) ও ওয়াহব ইবন উসমান (র.) মুসা ইবন ওকবা (র.) সূত্রে ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খেতে থাক, তখন সালাতের ইকামত হয়ে গেলেও খাওয়া শেষ না করে তাড়াহুড়া করবে না। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী (র.) বলেন, আমাকে ইব্রাহীম ইবন মুনযির (র.) এ হাদিসটি ওয়াহাব ইবন উসমান (র.) থেকে বর্ননা করেছেন এবং ওয়াহাব হলেন মদীনাবাসী।

হাদিস ৬৪১

যুহাইর (র.) ও ওয়াহব ইবন উসমান (র.) মুসা ইবন ওকবা (র.) সূত্রে ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খেতে থাক, তখন সালাতের ইকামত হয়ে গেলেও খাওয়া শেষ না করে তাড়াহুড়া করবে না। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী (র.) বলেন, আমাকে ইব্রাহীম ইবন মুনযির (র.) এ হাদিসটি ওয়াহাব ইবন উসমান (র.) থেকে বর্ননা করেছেন এবং ওয়াহাব হলেন মদীনাবাসী।

হাদিস ৬৪২

আব্দুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ (র.)………… আমর ইবন উমাইয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দেখলাম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (বকরির) সামনের রানের গোশত কেটে খাচ্ছেন, এমন সময় তাঁকে সালাতের জন্য ডাকা হল। তিনি তখনই ছুরি রেখে দিয়ে উঠে গেলেন ও সালাত আদায় করলেন, কিন্তু এজন্য নতুন উযু করেন নি।

হাদিস ৬৪৪

ইসহাক ইবন নাসর (র.)………… আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থ হয়ে পড়লেন, ক্রমে তাঁর অসুস্থতা বেড়ে যায়। তখন তিনি বললেন, আবু বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আয়িশা (রাঃ) বললেন তিনি তো কোমল হৃদয়ের লোক। যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবারো বললেন, আবু বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আয়িশা (রাঃ) আবার সে কথা বললেন। তখন তিনি আবার বললেন, আবু বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তোমরা ইউসুফের (আঃ) সাথী রমণীদেরই মত। তারপর একজন সংবাদ দাতা আবু বকর (রাঃ) এর নিকট সংবাদ নিয়ে আসলেন এবং তিনি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবদ্দশায়ই লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

হাদিস ৬৪৫

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র.)………… উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেন, আবু বকর (রাঃ) কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আবু বকর (রাঃ) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তাঁর কান্নার দরুন লোকেরা তাঁর কিছুই শুনতে পাবেনা। কাজেই উমর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি হাফসা (রাঃ) কে বললাম, তুমিও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বল যে,আবু বকর (রাঃ) আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নার দরুন লোকেরা তাঁর কিছুই শুনতে পাবেনা। তাই উমর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিন। হাফসা (রাঃ)ও তাই করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, থাম, তোমরা তোমরা ইউসুফের (আঃ) সাথী রমণীদেরই ন্যায়। আবু বকর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। হাফসা (রাঃ) তখন আয়িশা (রাঃ) কে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কল্যাণকর কিছু পাইনি।

হাদিস ৬৪৬

আবু ইয়ামান (র.)………… আনাস ইবন মালিক আনসারী (রাঃ) যিনি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসারী, খাদিম ও সাহাবী ছিলেন। তিনি বর্ননা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আবু বকর (রাঃ) সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। অবশেষে যখন সোমবার এবং লোকেরা সালাতের জন্য কাতারে দাঁড়ালো, তখন নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুজরা শরীফের পর্দা উঠিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর চেহারা যেন কোরআনে করীমের পৃষ্ঠা (এর ন্যায় ঝলমল করছিল)। তিনি মুচকি হাসলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে দেখতে পেয়ে আমরা খুশিতে প্রায় আত্মহারা হয়ে গিয়ে ছিলাম এবং আবু বকর (রাঃ) কাতারে দাঁড়ানোর জন্য পিছন দিকে সরে আসছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হয়তো সালাতে আসবেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে ইশারায় বললেন যে, তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করে নাও। এরপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। সে দিনই তিনি ইনতিকাল করেন।

হাদিস ৬৪৭

আবু মা’মার (র.)………… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (রোগশয্যায় থাকার কারণে) তিনি দিন পর্যন্ত নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাইরে আসেন নি। এ সময় একবার সালাতের ইকামত দেওয়া হল। আবু বকর (রাঃ) ইমামতি করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ঘরের পর্দা ধরে উঠালেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চেহারা যখন আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তখন নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতের ইশারায় আবু বকর (রাঃ) কে (ইমামতির জন্য) এগিয়ে যেতে বললেন এবং পর্দা ফেলে দেন। তারপর মৃত্যুর পূর্বে তাঁকে আর দেখার সৌভাগ্য হয়নি।

হাদিস ৬৪৮

ইয়াহিয়া ইবন সুলাইমান (র.)………… আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন তাঁকে সালাতের জামা’আত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, আবু বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আবু বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল মনের লোক। কিরা’আতের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন। তিনি বললেন, তাকেই সালাত আদায় করতে বল। আয়িশা (রাঃ) সে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি আবারো বললেন, তাঁকেও সালাত আদায় করতে বল। তোমরা ইউসুফ (আঃ) এর সাথী রমণীদের মত। এ হাদীসটি যুহরীর (র.) থেকে বর্ণনা করার ব্যাপারে যুবাইদী যুহরীর ভাতিজা ও ইসহাক ইবন ইয়াহইয়া কালবী (র.) ইউনুস (র.) এর অনুসরণ করেছেন এবং মা’মার ও উকায়ল (র.) যুহরী (র.) এর মাধ্যমে হামযা (র.) সূত্রে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিসটি (মুরসাল হিসাবে) বর্ণনা করেন।

হাদিস ৬৪৯

যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (র.)………… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। উরওয়া (রাঃ) বর্ননা করেন, ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটু সুস্থতা বোধ করলেন এবং সালাতের জন্য বেরিয়ে আসলেন। তখন আবু বকর (রাঃ) লোকদের ইমামতি করছিলেন। তিনি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে দেখে পিছিয়ে আসতে চাইলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ইশারা করলেন যে, যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর (রাঃ) এর বরাবর তাঁর পাশে বসে গেলেন। তখন আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিলেন আর লোকেরা আবু বকর (রাঃ) কে অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিল।

হাদিস ৬৫০

আবুদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র.)………… সাহল ইবন সা’দ সায়িদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমর ইবন আওফ গোত্রের এক বিবাদ মীমাংসার জন্য সেখানে যান। ইতিমধ্যে (আসরের) সালাতের সময় হয়ে গেলে, মুয়াজ্জিন আবু বকর (রাঃ) এর কাছে এসে বললেন, আপনি কি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেবেন? তা হলে ইকামত দেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আবু বকর (রাঃ) সালাত আরম্ভ করলেন। লোকেরা সালাতে থাকতে থাকতেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাশরীফ আনলেন এবং তিনি সারিগুলো ভেদ করে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে গেলেন।১ তখন সাহাবীগন হাতে তালি দিতে লাগলেন। আবু বকর (রাঃ) সালাতে আর কোন দিকে তাকাতেন না। কিন্তু সাহাবীগন বেশী করে হাতে তালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি তাকালেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতি ইশারা করলেন – নিজের জায়গায় থাক। তখন আবু বকর (রাঃ) দু’হাত উঠিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে পিছিয়ে গেলেন এবং কাতারের বরাবর দাঁড়ালেন। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সামনে এগিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবু বকর! আমি তোমাকে নির্দেশ দেয়ার পর কি সে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? আবু বকর (রাঃ) বললেন, আবু কুহাফার পুত্রের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা শোভা পায় না। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাদের এত হাতে তালি দিতে দেখলাম। ব্যাপার কি? শোন! সালাতে কারো কিছু ঘটলে সুবহানাল্লাহ বলবে। সুবহানাল্লাহ বললেই তাঁর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হবে। আর হাতে তালি দেওয়া তো মহিলাদের জন্য।

হাদিস ৬৫১

সুলাইমান ইবন হারব (র.)………… মালিক ইবন হুওয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদল যুবক একবার নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে হাযির হলাম এবং প্রায় বিশ দিন আমরা সেখানে থাকলাম। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তাই তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা যখন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে লোকদের দীন শিক্ষা দিবে, তখন তাদের এ সময়ে অমুক সালাত আদায় করতে বলবে। এবং ওই সময়ে অমুক সালাত আদায় করতে বলবে। তারপর যখন সালাতের সময় হয় তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ইমামতি করবে।

হাদিস ৬৫২

মু’আয ইবন আসাদ (র.)………… ইতবান ইবন মালিক আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আমার ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি বল্লেনঃ তোমার ঘরের কোন জায়গাটি আমার সালাত আদায়ের জন্য তুমি পছন্দ কর? আমি আমার পছন্দ মত একটি স্থান ইশারা করে দেখালাম। তিনি সেখানে সালাতের জন্য দাঁড়ালেন, আমরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। এরপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং আমরা সালাম ফিরালাম।

হাদিস ৬৫৩

আহমদ ইবন ইউনুস (র.)………… উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর (অন্তিম কালের) অসুস্থতা সম্পর্কে কি আপনি আমাকে কিছু শুনাবেন? তিনি বললেন, অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মারাত্মক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গসলের পাত্রে পানি দাও। আয়িশা (রাঃ) বলেন আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। তারপর একটু উঠতে চাইলেন। কিন্তু বেহুঁশ পয়ে পড়লেন। কিছুক্ষন পর একটু হুঁশ ফিরে পেলে আবার তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি নিয়ে রাখ। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। আবার উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষন পর আবার হুঁশ ফিরে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি নিয়ে রাখ।

তারপর তিনি উঠে বসলেন, এবং গোসল করলেন এবং উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষন পর আবার হুঁশ ফিরে পেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! তারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। ওদিকে সাহাবীগণ ইশার সালাতের জন্য নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অপেক্ষায় মসজিদে বসে ছিলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকরের নিকট এ মর্মে লোক পাঠান যে, তিনি যেন লোকদের হিয়ে সালাত আদায় করে নেন। সংবাদ বাহক আবু বকর (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবু বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল মনের লোক ছিলেন, তাই তিনি উমর (রাঃ) কে বললেন, হে উমর! আপনি সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করে নিন। উমর (রাঃ) বললেন, আপনিই এর জন্য বেশি হকদার। তাই আবু বকর সে কদিন সালাত আদায় করলেন।

তারপর নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটু নিজে হালকাবোধ করলেন এবং দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে যোহরের সালাতের জন্য বের হলেন। সে দু’জনের একজন ছিলেন আব্বাস (রাঃ) আবু বকর (রাঃ) তখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি যখন নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে দেখতে পেলেন, পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে পিছিয়ে না আসার জন্য ইশারা করলেন এবং বললেন তোমরা আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দাও। তারা তাঁকে আবু বকর (রাঃ) এর পাশে বসিয়ে দিলেন। বর্ননাকারী বলেন, তারপর আবু বকর (রাঃ) নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সালাতের ইক্তিদা করে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর সাহাবীগণ আবু বকর (রাঃ) এর সালাতের ইক্তিদা করতে লাগলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন উপবিষ্ট ছিলেন। উবায়দুল্লাহ বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অন্তিম কালের অসুস্থতা সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) আমাকে যে হাদীস বর্ননা করেছেন, তা কি আমি আপনার নিকট বর্ননা করব না? তিনি বললেন, করুণ। তাই আমি তাঁকে সে হাদীস শুনালাম। তিনি এ বর্ণনার কোন অংশেই আপত্তি করলেন না, তবে তাঁকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, আব্বাস (রাঃ) এর সাথে যে অপর সাহাবী ছিলেন, আয়িশা (রাঃ) কি আপনার নিকট তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি হলেন, আলী (রাঃ)।

হাদিস ৬৫৪

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র.)………… উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা অসুস্থতার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ গৃহে সালাত আদায় করেন এবং বসে সালাত আদায় করেছিলেন, একদল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইশারা করলেন যে, বসে যাও। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই সে যখন রুকু করে তোমরা ও তখন রুকু করবে, এবং সে যখন রুকু থেকে মাথা উঠায় তখন তোমরাও মাথা উঠাবে, আর সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরা সকলেই বসে সালাত আদায় করবে।১

————

১. এ হুকুমের পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মৃত্যু রোগের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রহিত হয়ে গেছে। কাজেই ইমাম বসে সালাত আদায় করলে সক্ষম মুক্তাদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবেন।

হাদিস ৬৫৫

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়ায় সাওয়ার হন এরপর তিনি তা থেকে পড়ে যান, এতে তাঁর ডান পাশে একটু আঘাত লাগে। তিনি কোন এক ওয়াক্তের সালাত বসে আদায় করেছিলেন, আমরাও তাঁর পেছনে বসে সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণই করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই ইমাম যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, সে যখন রুকু করে তখন তোমরাও রুকু করবে, সে যখন উঠে, তখন তোমরাও উঠবে, আরা সে যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে তোমরাও তখন ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলবে। আর সে যখন বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে। আবু আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (র.) বলেন, হুমাইদী (র.) বলেছেন যে, যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ ছিল পূর্বে অসুস্থকালীন। এরপর তিনি বসে সালাত আদায় করেন এবং সাহাবীগণ তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের বসতে নির্দেশ দেননি। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আমলের মধ্যে সর্বশেষ আমলই গ্রহণীয়।

হাদিস ৬৫৬

মুসাদ্দার (র.)………… বারা’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি মিথ্যাবাদী নন১ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার পর যতক্ষণ পর্যন্ত সিজদায় না যেতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ বাঁকা করতেন না। তিনি সিজদায় যাওয়ার পর আমরা সিজদায় যেতাম।

হাদিস ৬৫৭

আব নু’আইম (র.)………… সুফিয়ান (র.) সূত্রে আবু ইসহাক (র.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৬৫৮

হাজ্জাজ ইবন মিনহাল (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ যখন ইমামের আগে মাথা উঠিয়ে ফেলে, তহন সে কি ভয় করে না যে, আল্লাহ্তা’লা তাঁর মাথা গাধার মাথায় পরিণত করে দিবেন, তাঁর আকৃতি গাধার আকৃতি করে দেবেন।

হাদিস ৬৫৯

ইব্রাহীম ইবন মুনযির (র.)………… আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মদিনায় আগমনের পূর্বে মুহাজিরগণের প্রথম দল যখন কুবা এলাকার কোন এক স্থানে এলেন, তখন আবু হুযাইফা (রাঃ) এর আযাদকৃত গোলাম সালিম (রাঃ) তাঁদের ইমামতি করতেন। তাঁদের মধ্যে তিনি কোরআন সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন।

হাদিস ৬৬০

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা শোন ও আনুগত্য প্রকাশ কর, যদিও তোমাদের উপর এমন কোন হাবশীকে আমীর নিযুক্ত করা হয় – যার মাথা কিসমিসের মতো।

হাদিস ৬৬১

ফাযল ইবন সাহল (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তারা তোমাদের ইমামতি করে। যদি তারা সঠিকভাবে আদায় করে তা হলে তার সাওয়াব তোমরা পাবে। আর যদি তারা ত্রুটি করে, তাহলে তোমাদের জন্য সাওয়াব রয়েছে, আর ত্রুটি তাদের (ইমামের) উপরই বর্তাবে।

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৬৬২

 

মুহাম্মদ ইবন আবান (র.)………… আনাস (ইব্‌ন মালিক) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু যার্ব (রাঃ) কে বলেন, শোন এবং আনুগত্য কর, যদিও কোন হাবশী আমীর হয়-যার মাথা কিসমিসের মতো।

আবু আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (র.) বলেন, আমাকে মোহাম্মদ ইবন ইউসুফ (র.) উবাইদুল্লাহ ইবন আদী ইবন খিয়ার (র.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উসমান ইবন আফফান (রাঃ) অবরুদ্ধ থাকাকালে তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, প্রকৃতপক্ষে আপনিই জনগনের ইমাম। আর আপনার বিপদ তো নিজেই বুঝতে পারছেন। আর আমাদের ইমামতি করছে কখনো বিদ্রোহীদের ইমাম। ফলে আমরা গুনাহগার হওয়ার আশঙ্কা করছি। তিনি বলেন, মানুষের আমলের মধ্যে সালাতই সর্বোত্তম। কাজেই লোকেরা যখন উত্তম কাজ করে, তখন তুমিও তাদের সাথে উত্তম কাজে শরীক হবে, আর যখন তারা মন্দ কাজে লিপ্ত হয়, তখন তাঁদের অপকর্ম থেকে বেঁচে থাকবে। যুবাইদী (র.) বর্ণনা করেন যে, যুহরী (র.) বলেছেন, যারা স্বেচ্ছায় নপুংসক সাজে, তাদের পেছনে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সালাত আদায় করা সঙ্গত বলে মনে করি না।

হাদিস ৬৬৩

সুলাইমান ইবন হারব (র.)………… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আমার খালা মায়মুনা (রাঃ) এর ঘরে রাত যাপন করলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশার সালাত আদায় করে আসলেন এবং চার রাকাআত সালাত আদায় করে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর উঠে সালাতে দাঁড়ালেন। তখন আমিও তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে তাঁর ডানপাশে নিয়ে নিলেন এবং পাঁচ রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর আরো দু’রাকাত সালাত আদায় করে নিদ্রায় গেলেন। এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার আওয়াজ শুনলাম। তারপর তিনি (উঠে ফজরের) সালাতের জন্য বেরিয়ে গেলেন।

হাদিস ৬৬৪

আহমদ (র.)………… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনা (রাঃ) এর ঘরে ঘুমালাম। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে রাতে তাঁর কেছে ছিলেন। তিনি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উযু করলেন। তারপর সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে ধরে তাঁর ডানপাশে নিয়ে আসলেন। আর তিনি তের রাকআত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকতে শুরু করল। এবং তিনি যখন ঘুমাতেন তাঁর নাক ডাকত। তারপর তাঁর কাছে মুয়াজ্জিন এলেন, তিনি বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং নতুন উজু করেননি। আমর (রাঃ) বলেন, এ হাদিস আমি বুকাইর (রাঃ) কে শুনালে তিনি বলেন, কুরাইব (র.) ও এ হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৬৬৫

মুসাদ্দাদ (র.)………… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি আমার খালার (মায়মুনা) (রাঃ) এর কাছে রাত যাপন করলাম। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতের সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালাম। আমি তাঁর বামপাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তিনি আমার মাথা ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করালেন।

হাদিস ৬৬৬

মুসলিম (র.)………… জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ) নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে সালাত আদায় করার পর ফিরে গিয়ে আপন গোত্রের ইমামতি করতেন। এই হাদিস মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রা.) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, মুয়ায ইবন জাবাল (রাঃ) নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে সালাত আদায় করার পর ফিরে গিয়ে নিজ গোত্রের ইমামতি করতেন। একদিন তিনি ইশার সালাতে সুরা বাকারা পাঠ করেন, এতে এক ব্যক্তি জামা’আত থেকে বেরিয়ে যায়। এ জন্য মু’আয (রাঃ) তার সমালোচনা করেন, এ খবর নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট পৌছালে তিনি তিনবার ‘ফুতান’ অথবা ‘ফাতিনান’ (বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী) শব্দটি বললেন। এবং তিনি তাকে আওসাতে মুফাসসালের দুটি সুরা পাঠের নির্দেশ দেন। আমর (রাঃ) বলেন, কোন দুটি সুরার কথা বলেছিলেন, তা আমার স্মরণ নেই।

এই হাদিস মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রা.) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, মুয়ায ইবন জাবাল (রাঃ) নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে সালাত আদায় করার পর ফিরে গিয়ে নিজ গোত্রের ইমামতি করতেন। একদিন তিনি ইশার সালাতে সুরা বাকারা পাঠ করেন, এতে এক ব্যক্তি জামা’আত থেকে বেরিয়ে যায়। এ জন্য মু’আয (রাঃ) তার সমালোচনা করেন, এ খবর নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট পৌছালে তিনি তিনবার ‘ফুতান’ অথবা ‘ফাতিনান’ (বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী) শব্দটি বললেন। এবং তিনি তাকে আওসাতে মুফাসসালের দুটি সুরা পাঠের নির্দেশ দেন। আমর (রাঃ) বলেন, কোন দুটি সুরার কথা বলেছিলেন, তা আমার স্মরণ নেই।

হাদিস ৬৬৭

আহমদ ইবন ইউনুস (র.)………… আবু মাসউদ(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর শপথ! আমি অমুকের কারণে ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। তিনি জামা’আতে সালাতকে খুব দীর্ঘ করেন। আবু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে নসীহত করতে গিয়ে সেদিনের ন্যায় এত বেশি রাগান্বিত আর কোন দিন দেখিনি। তিনি বলেন, তোমাদের মাঝে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ অন্য লোক নিয়ে সালাত আদায় করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তাঁদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতমন্দ লোকও থাকে।

হাদিস ৬৬৮

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা তাঁদের মাঝে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী সালাত আদায় করে তখন ইচ্ছামত দীর্ঘ করতে পারে।

হাদিস ৬৬৯

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (র.)………… আবু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বলল ইয়া রাসূলুল্লাহ! অমুক ব্যক্তির জন্য আমি ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। কেননা তিনি আমাদের সালাত খুব দীর্ঘ করেন। এ শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত হলেন। আবু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে নসীহত করতে গিয়ে সেদিনের ন্যায় এত বেশি রাগান্বিত আর কোন দিন দেখিনি। তারপর তিনি বলেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের মাঝে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদের ইমামতি করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তাঁদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতমন্দ লোকও থাকে।

হাদিস ৬৭০

আদম ইবন আবু ইয়াস (র.)………… জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবী দু’টি পানি বহনকারী উট নিয়ে আসছিলেন। রাতের অন্ধকার তখন ঘনীভূত হয়ে এসেছে। এ সময় তিনি মু’আয (রাঃ) কে সালাত আদায়রত পান, তিনি তার উট দুটি বসিয়ে দিয়ে মু’আয (রাঃ) এর দিকে (সালাত আদায় করতে) এগিয়ে এলেন, মু’আয (রাঃ) সুরা বাকারা বাঁ সুরা নিসা পড়তে শুরু করেন। এতে সাহাবী (জামা’আত ছেড়ে) চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মু’আয (রাঃ) এর জন্য তার সমালোচনা করেছেন। তিনি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে মু’আয (রাঃ) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে মু’আয! তুমি কি লোকদের ফিতনায় ফেলতে চাও? বা তিনি বলেছিলেন তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তিনি একথা তিনবার বলেন। তারপর তিনি বললেন, তুমি ‘সাব্বিহিস্মি রাব্বিকা, ওয়াশশামসি ওয়াদুহা হা’ এবং ওয়াল্লাইলি ইজা ইয়াগশা (সুরা) দ্বারা সালাত আদায় করলেনা কেন? কারন তোমার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতমন্দ লোক সালাত আদায় করে। (শু’বা (র.) বলেন) আমার ধারণা শেষোক্ত বাক্যটি হাদিসের অংশ। সায়ীদ ইবন মাসরুক, মিসওয়ার এবং শাইবানী (র.) – ও অনুরূপ রেওয়ায়াত করেছেন। আমর, উবাইদুল্লাহ ইবন মিকসাম আবু যুবাইর (র.) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মু’আয (রাঃ) ইশার সালাতে সুরা বাকারা পাঠ করেছিলেন। আ’মাশ (র.) ও মুহারিব (র.) সূত্রে অনুরূপ রিওয়ায়েত করেন।

হাদিস ৬৭১

আবু মা’মার (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত সংক্ষেপে এবং পুর্ণভাবে আদায় করতেন।

হাদিস ৬৭২

ইব্রাহীম ইবন মুসা (র.)………… আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি অনেক সময় দীর্ঘ করে সালাত আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়াই। পরে শিশুর কান্নাকাটি শুনে সালাত সংক্ষেপ করি। কারন আমি পছন্দ করি না যে, শিশুর মাকে কষ্টে ফেলি। বিশর ইবন বাকর, বাকিয়্যা ও ইবন মোবারক আওযারী (র.) থেকে হাদীস বর্ণনায় ওয়ালীদ ইবন মুসলিম (র.) এর অনুসরণ করেছেন।

হাদিস ৬৭৩

খালিদ ইবন মাখলাদ (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পুর্ণাঙ্গ সালাত কোন ইমামের পেছনে কখনো পড়িনি। আর তা এ জন্য যে, তিনি শিশুর কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কায় সংক্ষেপ করতেন।

হাদিস ৬৭৪

আলী ইবন আবদুল্লাহ (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে তা আমি জানি।

হাদিস ৬৭৫

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি এবং শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে তা আমি জানি। মুসা (র.)………… আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

হাদিস ৬৭৬

সুলাইমান ইবন হারব ও আবু নু’মান (র.)………… জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু’আয (রাঃ) নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে সালাত আদায় করে নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তাঁদের ইমামতি করতেন।

হাদিস ৬৭৭

মুসাদ্দাদ (র.)………… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্তিম রোগে আক্রান্ত থাকা কালে একবার বিলাল (রাঃ) তাঁর নিকট এসে সালাতের (সময় হয়েছে বলে) সংবাদ দিলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আবু বকরকে বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। (আয়িশা (রাঃ) বললেন), আমি বললাম, আবু বকর (রাঃ) কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি আপনার স্থানে দাঁড়ালে কেঁদে ফেলবেন এবং কিরাআত পড়তে পারবেন না। তিনি আবার বললেনঃ আবু বকরকে বল, সালাত আদায় করতে। আমি আবারও সে কথা বললাম। তখন তৃতীয় বা চতুর্থবারে তিনি বললেন, তোমরা তো ইউসুফের (আঃ) সাথী রমণীদেরই মত। আবু বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আবু বকর (রাঃ) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’জনের কাঁধে ভর করে বের হলেন। (আয়িশা (রাঃ) বললেন) আমি যেন এখনও সে দৃশ্য দেখতে পাই। তিনি দু’পা মুবারাক মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়িয়ে যান। আবু বকর (রাঃ) তাঁকে দেখতে পেয়ে পেছনে সরে আসতে লাগলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশারায় তাঁকে সালাত আদায় করতে বললেন, (তবুও) আবু বকর (রাঃ) পেছনে সরে আসলেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পাশে বসলেন, আবু বকর (রাঃ) তাকবীর শুনাতে লাগলেন। মুহাযির (র.) আমাশ (র.) থেকে হাদীস বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবন দাউদ (র.) এর অনুসরণ করেছেন।

হাদিস ৬৭৮

কুতাইবা ইবন সায়ীদ (র.)………… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন, বিলাল (রাঃ) এসে সালাতের কথা বললেন। নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আবু বকরকে বল, লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আবু বকর অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের ব্যক্তি। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। যদি আপনি উমর (রাঃ) কে নির্দেশ দেন (তাহলে ভালো হয়)। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেনঃ লোকদের নিয়ে আবু বকরকে সালাত আদায় করতে বল। আমি হাফসা (রাঃ) কে বললাম, তুমি তাঁকে একটু বল যে, আবু বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের ব্যক্তি। তিনি যখন আপনার পরিবর্তে সে স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। যদি আপনি উমর (রাঃ) কে নির্দেশ দেন (তাহলে ভালো হত)। এ শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা ইউসুফের সাথী রমণীদেরই মত। আবু বকর (রাঃ) কে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আবু বকর (রাঃ) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় শুরু করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে একটু সুস্থ বোধ করলেন এবং দু’জন সাহাবীর কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে মসজিদে গেলেন। তাঁর দু’পা মুবারক মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। আবু বকর (রাঃ) যখন তাঁর আগমন আঁচ করলেন, পেছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতি ইশারা করলেন (পিছিয়ে না যাওয়ার জন্য)। তারপর তিনি এসে আবু বকর (রাঃ) এর বাম পাশে গেলেন। অবশেষে আবু বকর (রাঃ) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর সাহাবীগণ হযরত আবু বকর (রাঃ) এর সালাতের অনুসরণ করছিল।

হাদিস ৬৭৯

আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’রাকাআত আদায় করে সালাত শেষ করে ফেললেন। যুল-ইয়াদাইন তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সালাত কি কম করা হয়েছে? না আপনি ভুলে গেছেন? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (অন্যদের লক্ষ করে) বল্লেনঃ যুল-ইয়াদাইন কি ঠিকই বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং আরও দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন, তারপর সালাম ফিরালেন এবং তাকবীর বলে স্বাভাবিক সিজদার মত অথবা তার চাইতে দীর্ঘ সিজদা করলেন।

হাদিস ৬৮০

আবুল ওয়ালীদ (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত দু’রাকাআত পড়লেন। তাঁকে বলা হল আপনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি আরও দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফেরানোর পর দুটি সিজদা করলেন।

হাদিস ৬৮১

ইসমাইল (র.)………… উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেনঃ আবু বকর কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আবু বকর (রাঃ) যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণ কিছুই শুনতে পারবেন না। কাজেই উমর (রাঃ) কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেনঃ আবু বকরকে বল লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নিতে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন আমি হাফসা (রাঃ) কে বললাম, তুমি তাঁকে বল যে, আবু বকর (রাঃ) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই উমর (রাঃ) কে বলুন তিনি যেন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। হাফসা (রাঃ) তাই করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ চুপ কর! তোমরা ইউসুফের সাথি নারীদেরই মত। আবু বকরকে বল সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। এতে হাফসা (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) কে (অভিমান করে) বললেন, তোমার কাছ থেকে আমি কখনো আমার জন্য হিতকর কিছু পাইনি।

হাদিস ৬৮২

আবদুল ওয়ালীদ হিশাম ইবন আবদুল মালিক (র.)………… নু’মান ইবন বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নিবে, তা না হলে আল্লাহ্তা’লা তোমাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করে দেবেন।

হাদিস ৬৮৩

আবু মা’মার (র.) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তোমরা কাতার সোজা করে নেবে। আমি আমার পেছনের দিক থেকেও তোমাদের দেখতে পাই।

হাদিস ৬৮৪

আহমদ ইবন আবু রাজা (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালাতের ইকামত হচ্ছে, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের দিকে মুখ করে তাকালেন এবং বললেনঃ তোমরা কাতার গুলো সোজা করে নাও আর মিলে দাড়াও। কেননা, আমি আমার পেছনের দিক থেকেও তোমাদের দেখতে পাই।

হাদিস ৬৮৫

আবু আসিমের (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ পানিতে ডুবে, কলেরায়, প্লেগে এবং ভুমিধসে বা চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তিরা শহীদ। যদি লোকেরা জানত যে, প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায়ে কি ফযিলত, তা হলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করে আগেভাগে আসার চেষ্টা করত। আর ইশা ও ফজরের জামা’আতের কি মর্তবা তা যদি তারা জানত তাহলে হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত এবং সামনের কাতারের কী ফযিলত তা যদি জানত, তাহলে এর জন্য তারা কুরআন ব্যবহার করত।

হাদিস ৬৮৬

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ অনুসরণ করার জন্যই উমাম নির্ধারণ করা হয়। কাজেই তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করবে না। তিনি যখন রুকু করেন তোমরাও রুকু করবে। তিনি যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেন তখন তোমরা রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবে। তিনি যখন সিজদা করবেন তোমরাও তখন সিজদা করবে। তিনি যখন বসে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে। আর তোমরা সালাতে কাতার সোজা করে নিবে, কেননা কাতার সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিস ৬৮৭

আবুল ওয়ালীদ (র.)………… থেকে বর্ণিত যে, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমরা তোমাদের কাতার গুলো সোজা করে নেবে। কেননা কাতার সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিস ৬৮৮

মু’আয ইবন আসাদ (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার তিনি (আনাস) মদিনায় আসলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগের তুলনায় আপনি আমাদের সময়ের অপছন্দনীয় কী দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন, অন্য কোন কাজ তেমন অপছন্দনীয় মনে হচ্ছে না। তবে তোমরা (সালাতে) কাতার ঠিকমত সোজা কর না। উকবা ইবন উবাইদ (র.) বুশাইর ইবন ইয়াসার (র.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবন মালিক (রাঃ) আমাদের কাছে মদিনায় এলেন……… বাকী অংশ অনুরূপ।

হাদিস ৬৮৯

আমর ইবন খালিদ (র.)………… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করে নাও। কেননা, আমি আমার পেছনের দিক থেকেও তোমাদের দেখতে পাই। (আনাস (রাঃ) বলেন) আমাদের প্রত্যেকেরই তার পাশ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম।

হাদিস ৬৯০

কুতাইবা ইবন সায়ীদ (র.)………… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একরাতে আমি নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে সালাত আদায় করতে গিয়ে তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথার পেছনের দিক ধরে তাঁর ডানপাশে নিয়ে এলেন্তারপর সালাত আদায় করে শুয়ে পড়লেন। পড়ে তার কাছে মুয়াজ্জিন এলো। তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন, কিন্তু (নতুনভাবে) উযু করেন নি।

হাদিস ৬৯১

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমাদের ঘরে আমি ও একটি ইয়াতিম ছেলে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। আর আমার মা উম্মে সুলাইম (রাঃ) আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

হাদিস ৬৯২

মুসা (র.)………… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একরাতে আমি সালাত আদায়ের জন্য নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত বা বাহু ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করালেন এবং তিনি তাঁর হাতের ইশারায় বললেন, আমার পেছনের দিক দিয়ে।

হাদিস ৬৯৩

মুহাম্মদ (ইবন সালাম) (র.)………… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতের সালাত তাঁর নিজ কামরায় আদায় করতেন। কামরার দেয়ালটি ছিল নিচু। ফলে একদিন সাহাবীগণ নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শরীর মুবারক দেখতে পেলেন এবং (দেয়ালের অপর পার্শ্বে) সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাঁর সহিত সালাত আদায় করলেন। সকালে তারা একথা বলাবলি করছিলেন। দ্বিতীয় রাতে তিনি (সালাতে) দাঁড়ালেন। সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে সালাত আদায় করলেন। দু’ বা তিন রাত তারা এরূপ করলেন। এরপর (রাতে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে থাকলেন, আর বের হলেন না। ভোরে সাহাবীগণ এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে, রাতের সালাত তোমাদের উপর ফরয করে দেয়া হতে পারে।

হাদিস ৬৯৪

ইব্রাহীম ইবন মুনযির (র.)………… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একটি চাটাই ছিল। তিনি তা দিনের বেলায় বিছিয়ে রাখতেন এবং রাতের বেলায় তা দিয়ে কামরা বানিয়ে নিতেন। সাহাবীগণ তাঁর পেছনে কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়ান এবং পেছনে সালাত আদায় করেন।

হাদিস ৬৯৫

আবদুল আলা ইবন হাম্মদ (র.)………… যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমযান মাসে একটি ছোট কামরা বানালেন। তিনি (বুসর ইবন সায়ীদ (রা.) বলেন, মনে হয়, (যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) কাম্রাটি চাটাইর তৈরী ছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি সেখানে কয়েক রাত সালাত আদায় করেন। আর তাঁর সাহাবীগনের মধ্যে কিছু সাহাবীও তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন তাঁদের সম্বন্ধে জানতে পারলেন, তখন তিনি বসে থাকলেন। পড়ে তিনি তাঁদের কাছে এসে বললেন, তোমাদের কার্যকলাপ দেখে আমি বুঝতে পেরেছি। হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঘরেই সালাত আদায় কর। কেননা, ফজর সালাত ব্যতীত লোকেরা ঘরে যে সালাত আদায় করে তা-ই উত্তম। আফফান (র.)………… যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) সূত্রে নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বলেছেন।

হাদিস ৬৯৬

আবুল ইয়ামান (র.)………… আনাস ইবন মালিক আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়ায় চড়েন। ফলে তাঁর ডান পাঁজরে আঁচড় লাগে। আনাস (রাঃ) বলেন, এ সময় কোন এক সালাত আমাদের নিয়ে তিনি বসে আদায় করলেন। আমরাও তাঁর পেছনে বসে সালাত আদায় করি। সালাম ফেরানোর পর তিনি বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্যই। তাই তিনি যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর তিনি যখন রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করবে। তিনি যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে। তিনি যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে তখন তোমরা রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবে।

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৬৯৭

কুতাইবা ইবন সায়ীদ (র.)………… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। তাই তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে বসে সালাত আদায় করি। তারপর তিনি ফিরে বললেনঃ ইমাম অনুসরণের জন্যই বা তিনি বলেছিলেন, ইমাম নির্ধারন করা হয় তাঁর অনুসরনের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করবে। যখন তিনি উঠেন তখন তোমরাও উঠবে। তিনি যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে তখন তোমরা রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবে এবং তিনি যখন সিজদাহ করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে।

হাদিস ৬৯৮

আবুল ইয়ামান (র.)………… আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ইমাম নির্ধারন করা হয় তাঁর অনুসরণের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন তিনি রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করবে। তিনি যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে তখন তোমরা রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবে। আর তিনি যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে। যখন তিনি বসে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।

হাদিস ৬৯৯

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ…….সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রা. তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর রুকুতে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও অনুরূপভাবে দুহাত উঠাতেন এবং سمع الله لمن حمده ও ربنا لك الحمد বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় এরূপ করতেন না।

হাদিস ৭০০

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ…….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রুকুর জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এরূপ করতেন। আবার যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করতেন এবং سمع الله لمن حمده বলতেন। তবে সিজদার সময় এরূপ করতেন না।

হাদিস ৭০১

ইসহাক ওয়াসিতী রহ………আবু কিলাবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি মালিক ইবনে হুওয়ায়রিস রা.-কে দেখেছেন, তিনি যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু’হাত উঠাতেন। আর যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, আবার যখন রুককু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং তিনি বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন।

হাদিস ৭০২

আবুল ইয়ামান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু করতে দেখেছি, তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকুর তাকবীর বলতেন তখনও এরূপ করতেন। আবার যখনন سمع الله لمن حمده বলতেন, তখনও এরূপ করতেন এবং ربنا لك الحمد বলতেন। কিন্তু সিজদায় যেতে এরূপ করতেন না। আর সিজদা থেকে মাথা উঠাবার সময়ও এরূপ করতেন না।

হাদিস ৭০৩

আইয়্যাশ রহ………নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং দু’হাত উঠাতেন আর যখন রুকু করতেন তখনও দু’হাত উঠাতেন। এরপর যখন سمع الله لمن حمده বলতেন তখনও দু’হাত উঠাতেন এবং দু’রাকাআত আদায়ের পর যখন দাঁড়াতেন তখনও দু’হাত উঠাতেন। এ সমস্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বলে ইবনে উমর রা. বলেছেন। এ হাদীসটি হাম্মাদ ইবনে সালামা ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে তাহমান, আইউব ও মূসা ইবনে উকবা রহ. থেকে এ হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৭০৪

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেওয়া হত যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রাখবে। আবু হাযিম রহ. বলেন, সাহল রহ. এ হাদীসটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন বলেই জানি। ইসমাঈল রহ. বলেন, এ হাদীসটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই বর্ণনা করা হত। তবে তিনি এরূপ বলেন নি যে, সাহল রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন।

হাদিস ৭০৫

ইসমাঈল রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা কি মনে কিছুই আমার কাছে গোপন থাকে না। আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদের দেখি আমার পিছনে দিক থেকেও।

হাদিস ৭০৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা রুকু ও সিজদাগুলো যথাযথভাবে আদায় করবে। আল্লাহর শপথ! আমি আমার পিছনে থেকে বা রাবী বলেন, আমার পিঠের পিছনে থেকে তোমাদের দেখতে পাই, যখন তোমরা রুকু ও সিজদা কর।

হাদিস ৭০৭

হাফস ইবনে উমর রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রা. এবং উমর রা. ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ দিয়ে সালাত শুরু করতেন।

হাদিস ৭০৮

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কি পাঠ করে থাকেন ? তিনি বললেন : এ সময় আমি বলি ইয়া আল্লাহ ! আপনি মাশরিক ও মাগরিবের মধ্যে যেরূপ দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন, আমার ও আমার ত্রুটি-বিচ্যুতির মধ্যে ঠিক তদ্রুপ দুরত্ব সৃষ্টি করে দিন। ইয়া আল্লাহ ! শুভ্র বস্ত্রকে যেরূপ নির্মল করা হয় আমাকেও সেরূপ পাক-সাফ করুন। আমার অপরাধসমূহ পানি, বরফ ও হিমশিলা দ্বারা বিধৌত করে দিন।

হাদিস ৭০৯

ইবনে আবু মারইয়াম রহ……..আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাতুল কুসুফ (সূর্য গ্রহণের সালাত) আদায় করলেন। তিনি সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর রুকুতে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। তারপর দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর আবার রুকুতে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকুতে থাকলে। এরপর উঠলেন, পরে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। আবার সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। এরপর আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকুতে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকুতে থাকলেন। এরপর রুকু থেকে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকুতে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। এরপর রুকু থেকে উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। তারপর উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। এরপর সালাত শেষ করে ফিরে দাঁড়িয়ে বললেন : জান্নাত আমার খুবই নিকটে এসে গিয়েছির এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তা হলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, ইয়া রব! আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ স্ত্রী লোকটির এমন অবস্থা কেন ? ফেরেশতাগণ জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রী লোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে। নাফি রহ. বলেন, আমার মনে হয়, (ইবনে আবু মুলায়কা রা. বর্ণনা করেছিলেন, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারে।

হাদিস ৭১০

মূসা রহ…….আবু মামার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনারা কি করে বুঝতে পারতেন ? তিনি বলনে, তাঁর দাঁড়িয়ে নড়াচড়া দেখে।

হাদিস ৭১১

হাজ্জাজ রহ…….বারা রা. থেকে বর্ণিত, আর তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তাঁরা যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন, তখন রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় গেছেন।

হাদিস ৭১২

ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন তিনি এজন্য সালাত আদায় করেন। সাহাবায়ে কিরাম রা. জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আপনাকে দেখলাম যেন কিছু একটা ধরতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পরে দেখলাম, আবার পিছিয়ে এলেন। তিনি বললেন, আমাকে জান্নাত দেখানো হয় এবং তারই একটি আঙ্গুরের ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। আমি যদি তা নিয়ে আসতাম, তাহলে দুনিয়ার স্থায়িত্বকাল পর্যন্ত তোমরা তা থেকে খেতে পারতে।

হাদিস ৭১৩

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ…….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং মসজিদের কিবলার দিকে ইশারা করে বললেন, এইমাত্র আমি যখন তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলাম তখন এ দেওয়ালের সামনের দিকে আমি জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম। আজকের মত এত মঙ্গল ও অমঙ্গল আমি আর দেখিনি, একথা তিনি তিনবার বললেন।

হাদিস ৭১৪

আলী ইবেন আবদুল্লাহ রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : লোকদের কি হল যে, তারা সালাতে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায় ? এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন ; এমনকি তিনি বললেন : যেন তারা অবশ্যই এ থেকে বিরত থাকে, অন্যথায় অবশ্যই তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়া হবে।

হাদিস ৭১৫

মুসাদ্দাদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন : এটা এক ধরণের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত ও কে অংশ বিশেষ কেড়ে নেয়।

হাদিস ৭১৬

কুতাইবা রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি নকশা করা চাদর পরে সালাত আদায় করলেন। সালাতের পর তিনি বললেন : এ চাদরের কারুকার্য আমার মনকে নিবিষ্ট করে রেখেছিল। এটি আবু জাহমের কাছে নিয়ে যাও এবং এর পরিবর্তে একটি ‘আম্বজানিয়্যাহ’ নিয়ে এস।

হাদিস ৭১৭

কুতাইবা রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় মসজিদে কিবলার দিকে থুথু দেখতে পেয়ে তা পরিষ্কার করে ফেললেন। তারপর তিনি সালাত শেষ করে বললেন : তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন। কাজেই সালাতে থাকা অবস্থায় কেউ সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। মূসা ইবনে উকবা ও ইবনে আবু রাওয়াদ রহ. নাফি রহ. থেকেও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৭১৮

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুসলমানগণ ফযরের সালাতে রত এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রা.-এর হুজরার পর্দা উঠালে তাঁরা চমকে উঠলেন। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তারা কাতারবদ্ধ হয়ে আছেন। তা দেখে তিনি মুচকী হাসলেন। আবু বকর রা. তাঁর ইমামতির স্থান ছেড়ে দিয়ে কাতারে শামিল হওয়ার জন্য পিছিয়ে আসতে চাইলেন। তিনি মনে করেছিলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হতে চান। মুসলিম গণ সালাত ছেড়ে দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। তিনি ইশারায় তাদের বললেন, তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ কর। তারপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। সে দিনেরই শেষভাগে তাঁর ইনতিকাল হয়।

হাদিস ৭১৯

মূসা রহ…..জাবির ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুফাবাসীরা সাদ রা.-এ বিরুদ্ধে উমর রা.-এর নিকট অভিযোগ করেন। কুফার লোকেরা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং আম্মার রা.-কে তাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কুফার লোকেরা সাদ রা.-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে এ-ও বলে যে, তিনি ভালোরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। উমর রা. তাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, হে আবু ইসহাক! তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, আপনি নাকি ভালোরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। সাদ রা. বললেন, আল্লাহর শপথ ! আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের অনুরূপই সালাত আদায় করে থাকি। তাঁতে কোন ত্রুটি করি না। আমি ইশার সালাত আদায় করতে প্রথম দু’রাকাআতে একটু দীর্ঘ ও শেষের দু’রাকাআতে সংক্ষেপ করতা। উমর রা. বললেন, হে আবু ইসহাক! আপনার সম্পর্কে আমরা এ-ই ধারণা। তারপর উমর রা. কুফার অধিবাসীদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সাদ রা. -এর সঙ্গে কুফায় পাঠান। সে ব্যক্তি প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সাদ রা. সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল এবং তারা সকলেই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন। অবশেষে সে ব্যক্তি বনু আবস গোত্রের মসজিদে উপস্থিত হয়। এখানে উসামা ইবনে কাতাদাহ নামে এক ব্যক্তি যাকে আবু সাদাহ বলে ডাকা হত-দাঁড়িয়ে বলল, যেহেতু তুমি আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করেছ, সাদ রা. কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গনীমতের মাল সবভাবে বন্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সাদ রা. বললেন, মনে রেখো, আল্লাহর শপথ! আমি তিনটি দুআ করছি : ইয়া আল্লাহ ! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং আত্মপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে-১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, ২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন এবং ৩. তাকে ফিতার সম্মুখীন করুন। পরবর্তীকালে লোকটিকে (তার অবস্থা সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলত, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিতনায় লিপ্ত। সাদ রা. -এর দুআ আমার উপর লেগে আছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক রহ. বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতিবৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার উভয় ভ্রু চোখের উপর ঝুলে পড়েছে এবং সে পথে মেয়েদের উত্যক্ত করত এবং তাদের চিমটি কাটতো।

হাদিস ৭২০

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ…….উবাদা ইবনে সামিত রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ল না তার নামায হল না।

হাদিস ৭২১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন একজন সাহাবী এসে সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, আবার গিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলেন। তিনি বললেন : ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার বললেন। সাহাবী বললেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন-আমি তো এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন : যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। তারপর কুরআন থেকে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। তারপর রুকতে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকু আদায় করবে। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর সিজদায় যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। তারপর সিজদা থেকে উঠে স্থির হয়ে বসবে। আর এভাবেই পুরো সালাত আদায় করবে।

হাদিস ৭২২

আবু নুমান রহ………জাবির ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত যে, সাদ রা. বলেন, আমি তাদেরকে নিয়ে বিকালের দু’ সালাত (যুহর ও আসর) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালতের ন্যায় সালাত আদায় করতাম। এতে কোন ত্রুটি করতাম না। প্রথম দু’রাকাআতে কিরাআত দীর্ঘয়িত এবং শেষে দু’রাকাআতে তা সংক্ষিপ্ত করতাম। উমর রা. বলেন, তোমার সম্পর্কে এরূপই ধারণা।

হাদিস ৭২৩

আবু নুআইম রহ……আবু কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দু’রাকাআতে সূরা ফাতিহার সহিত আরও দুটি সূরা পাঠ করতেন। প্রথম রাকাআতে দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সংক্ষেপ করতেন। কখনো কোন আদায় শুনিয়ে পড়তেন। আসরের সালাতেও তিনি সূরা ফাতিহার সাথে দুটি সূরা পড়তেন। প্রথম রাকাআতে দীর্ঘ করতেন। ফজরের প্রথম রাকাআতেও তিনি দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সংক্ষেপ করতেন।

হাদিস ৭২৪

উমর ইবনে হাফস রহ……আবু মামার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব রা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা প্রশ্ন করলাম, আপনারা কি করে তা বুঝতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাঁড়ির (মুবারকের) নড়াচড়ায়।

হাদিস ৭২৫

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…….. আবু মামার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব ইবনে আরত রা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কি করে তা বুঝতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাঁড়ির (মুবারকের) নড়াচড়ায়।

হাদিস ৭২৬

মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের প্রথম দু’রাকাআতে সূরা ফাতিহার সাথে একটি সূরা পড়তেন। আর কখনো কখনো কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন।

হাদিস ৭২৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মুল ফাযল রা. তাকে “ওয়াল মুরসালাত” সূরাটি তিলাওয়াত করতে শুনে বললেন, বেটা। তুমি এ সূরা তিলাওয়াত করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের সালাতে এ সূরাটি পড়তে শেষবারের মত শুনেছিলাম।

হাদিস ৭২৮

আবু আসিম রহ……….মারওয়অন ইবনে হাকাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা যায়েদ ইবনে সাবিত রা. আমাকে বললেন, কি ব্যাপার, মাগরিবের সালাতে তুমি যে কেবল ছোট ছোট সূরা তিলাওয়াত কর? অথচ আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুটি দীর্ঘ সূরার মধ্যে দীর্ঘতমটি থেকে পাঠ করতে শুনেছি।

হাদিস ৭২৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..জুবাইর ইবনে মুতইম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের সালাতে সূরা তূর থেকে পড়তে শুনেছি।

হাদিস ৭৩০

আবু নুমান রহ……..আবু রাফি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আবু হুরায়রা রা.-এর সঙ্গে ইশার সালাত আদায় করলাম। সেদিন তিনি إذا السماء انشفت সূরাটি তিলাওয়াত করে সিজদা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি আবু কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে এ সিজদা করেছি, তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ সূরায় সিজদা করব।

হাদিস ৭৩১

আবুল ওয়ালীদ রহ…….আদী (ইবনে সাবিত) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা রা. থেকে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ইশার সালাতের প্রথম দু’রাকাআতের এক রাকাআতে সূরা والتين الزيتون পাঠ করতেন।

হাদিস ৭৩২

মুসাদ্দাদ রহ……..আবু রাফি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা রা.-এর সঙ্গে ইশার সালাত আদায় করলাম। তিনি إذا السماء انشقت সূরাটি তিলাওয়াত করে সিজদা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এ সিজদা কেন ? তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে এ সূরায় সিজদা করেছি, তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমি এতে সিজদা করব।

হাদিস ৭৩৩

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ…….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইশার সালাতে والتين الزيتون পড়তে শুনেছি। আমি কাউকে তাঁর চাইতে সুন্দর কণ্ঠ অথবা কিরাআত শুনিনি।

হাদিস ৭৩৪

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..জাবির ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. সাদ রা.-কে বললেন আপনার বিরুদ্ধে তারা (কুফাবাসীরা) সর্ব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, এমনকি সালাত সম্পর্কেও। সাদ রা. বললেন, আমি প্রথম দু’রাকাআতে কিরাআত দীর্ঘ করে থাকি এবং শেষের দু’রাকাআতে তা সংক্ষেপ করি। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে যেরূপ সালাত আদায় করেছি, অনুরূপই সালাত আদায়ের ব্যাপারে আমি ত্র“টি করিনি। উমর রা. বললেন, আপনি ঠিকই বলছেন, আপনার ব্যাপারে ধারনা তো এ রূপই ছিল, কিংবা (তিনি বলেছিলেন) আপনার সম্পর্কে আমার এ রূপই ধারণা।

হাদিস ৭৩৫

আদম রহ……..সাইয়ার ইবনে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আমার পিতা আবু বারযা আসলামী রা.-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সালাত সমূহের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত সূর্য সজীব থাকতে থাকতেই মদীনার প্রান্ত সীমায় ফিরে আসতে পারত। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন, তা আমি ভুলে গেছি। আর তিনি ইশা রাতের তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করতে কোন দ্বিধা করতেন না। এবং ইশার আগে ঘুমানো ও পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। আর তিনি ফজর আদায় করতেন এমন সময় যে, সালাত শেষে ফিরে যেতে লোকেরা তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারত। এর দু’রাকাআতে অথবা রাবী বলেছেন, এক রাকাআতে তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত পড়তেন।

হাদিস ৭৩৬

মুসাদ্দাদ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পড়া হয়। তবে যে সব সালাত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও আমরাও তোমাদের শুনিয়ে পড়ব। আর যে সব সালাতে আমাদের না শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের না শুনিয়ে পড়ব। যদি তোমরা সূরা ফাতিহার চাইতে বেশী না পড়, সালাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি বেশী পড় তা উত্তম।

হাদিস ৭৩৭

মুসাদ্দাদ রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। আর দুষ্ট জিনদের উর্ধলোকের সংবাদ সংগ্রহের পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় এবং তাদের দিকে অগ্নিপিন্ড নিক্ষিপ্ত হয়। কাজেই শয়তানরা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসে। তারা জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের কি হয়েছে ? তারা বলল, আমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের দিকে অগ্নিপিন্ড ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটেছে বলেই তোমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই, পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চল পর্যন্ত বিচরণ করে দেখ, কী কারণে তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে ? তাই তাদের যে দলটি তিহামার দিকে গিয়েছিল, তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে অগ্রসর হল। তিনি তখন উকায বাজারের পথে নাখলা নামক স্থানে সাহাবীগণ কে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন সেদিকে মনোনিবেশ করল। তারপর তারা বলে উঠল, আল্লাহর শপথ! এটিই তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এমন সময় যখন তারা সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাইকে শরীক স্থির করব না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি قل أوحى إلى…………. সূরা নাযিল করেন। মূলত তাঁর নিকট জিনদের বক্তব্যই ওহী রূপে নাযিল করা হয়েছে।

হাদিস ৭৩৮

মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে কিরাআত পড়ার জন্য নির্দেশ পেয়েছেন, সেখানে পড়েছেন। আর যেখানে চুপ করে থাকতে নির্দেশ পেয়েছেন সেখানে চুপ করে থেকেছেন। (আল্লাহ তাআলার বাণী) “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”

হাদিস ৭৩৯

আদম রহ………আবু ওয়াইল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে মাসউদ রা.-এর নিকট এসে বলল, গতরাতে আমি মুফসসাল সূরাগুলো এক রাকাআতেই তিলাওয়াত করেছি। তিনি বললেন, তাহলে নিশ্চয়ই কবিতার ন্যায় দ্রুত পড়েছ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পর সমতূল্য যে সব সূরা মিলিয়ে পড়তেন, সেগুলো সম্পর্কে আমি জানি। এ বলে তিনি মুফাসসাল সূরা সমূহের বিশটি সূরার কথা উল্লেখ করে বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাকাআতে এর দুটি করে সূরা পড়তেন।

হাদিস ৭৪০

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…….আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দু’রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও দুটি সুরা পড়তেন এবং শেষ দু’রাকাআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং তিনি কোন কোন আয়াত আমাদের শোনাতেন, আর তিনি প্রথম রাকাআতে যতটুকু দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাকাআতে ততটুকু দীর্ঘ করতেন না। এরূপ করতেন আসরে এবং ফজরেও।

হাদিস ৭৪১

কুতাইবা রহ………আবু মামার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, কি করে বুঝলেন ? তিনি বললেন, তাঁর দাঁড়ি মুবারকের নড়াচড়া দেখে।

হাদিস ৭৪২

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাতের প্রথম দু’রাকাআতে সূরা ফাতিহার সাথে আরেকটি সূরা পড়তেন। কখনো কোন কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন এবং তিনি প্রথম রাকাআতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন।

হাদিস ৭৪৩

আবু নুআইম রহ……….আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাতের প্রথম রাকাআতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন ও দ্বিতীয় রাকাআতে সংক্ষিপ্ত করতেন এবং এরূপ করতেন ফযরের সালাতেও।

হাদিস ৭৪৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইমাম যখন ‘আমীন’ বলেন, তখন তোমরাও ‘আমীন’ বল। কেননা, যার ‘আমীন’ (বলা) ও ফেরেশতাদের ‘আমীন’ (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। ইবনে শিহাব রহ. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আমীন’ বলতেন।

হাদিস ৭৪৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) ‘আমীন’ বলে, আর আসমানে ফেরেশতাগণ ‘আমীন’ বলেন এবং উভয়ের ‘আমীন’ একই সময় হলে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

হাদিস ৭৪৬

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইমাম غير المغضوب عليهم ولا الضالين পড়লে তোমরা ‘আমীন’ বল। কেননা, যার এ (আমীন) বলা ফেরেশতাদের (আমীন) বলার সাথে একই সময় হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। মুহাম্মদ ইবনে আমর রহ. আবু সালামা রহ. সূত্রে আবু হুরায়রা রা. -এর মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এবং নুআইম-মুজমির রহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় সুমাই রহ. এর অনুসরণ করেছেন।

হাদিস ৭৪৭

মুসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এমন অবস্থায় পৌছলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রুকতে ছিলেন। তখন কাতার পর্যন্ত পৌছার আগেই তিনি রুকুতে চলে যান। এ ঘটনা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ব্যক্ত করা হলে, তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিন। তবে এরূপ আর করবে না।

হাদিস ৭৪৮

ইসহাক ওয়াসিতী রহ……….ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বসরায় আলী রা.-এর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন, ইনি (আলী রা. আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আদায়কৃত সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আর তিনি উল্লেখ করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবার (মাথা) উঠাতে ও নামাতে তাকবীব বলতেন।

হাদিস ৭৪৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাদের সঙ্গে সালাত আদায় করতেন এবং প্রতিবার উঠা বসার তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার সালাতই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের সাথে বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ।

হাদিস ৭৫০

আবু নুমান রহ………..মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং ইমরান ইবনে হুসাইন রা. আলী ইবনে আবি তালিব রা.-বর পিছনে সালাত আদায করলাম। তিনি যখন সিজদায় গেলেন তখন তাকবীর বললেন, সিজদা থেকে যখন মাথা উঠালেন তখনও তাকবীর বললেন, আবার দু’রাকাআতের পর যখন দাঁড়ালেন তখনও তাকবীর বললেন। তিনি যখন সালাত শেষ করলেন তখন ইমরান ইবনে হুসাইন রা. আমার হাত ধরে বললেন, ইনি (আলী রা.) আমাকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বা তিনি বলেছিলেন, আমাদের নিয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করেছেন।

হাদিস ৭৫১

আমর ইবনে আওন রহ……..ইকরিমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মাকামে (ইবরাহীমের নিকট) এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে, প্রতিবার উঠা ও ঝুকার সময় দাঁড়ানো ও বসার সময় তাকবীর বলছেন। আমি ইবনে আব্বাস রা. কে জানালে তিনি বললেন, তুমি মাতৃহীন হও, একি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত নয় ?

হাদিস ৭৫২

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……… ইকরিমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কা শরীফে এক বৃদ্ধের পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি বাইশবার তাকবীর বললেন। আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে বললাম, লোকটি তো আহমক। তিনি বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। এ যে আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত। মূসা রহ. বলেন, আবান রহ. কাতাদা রহ. সূত্রেও ইকরিমা রা. থেকে এ হাদীসটি সরাসরি বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৭৫৩

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। এরপর রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকু থেকে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন سمع الله لمن حمده বলতেন, তারপর দাঁড়িয়ে ربنا لك الحمد বলতেন। এরপর সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতে তাকবীর বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ করতেন। আর দ্বিতীয় রাকাআতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাকাআতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ রহ. লাইস রহ. সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতেولك الحمد উল্লেখ করেছেন।

হাদিস ৭৫৪

আবুল ওয়ালীদ রহ…….. মুসআব ইবেন সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। এবং (রুকুর সময়) দু’হাত জোড় করে উভয় উরুর মাঝে রাখলাম। আমার পিতা আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, পূর্বে আমরা এরূপ করতাম; পরে আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাত হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাদিস ৭৫৫

হাফস ইবনে উমর রহ………যায়েদ ইবনে ওয়াহব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযাইফা রা. এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে রুকু ও সিজদা ঠিকমত আদায় করছে ননা। তিনি তাকে বললেন, তোমার সালাত হয়নি। যদি তুমি (এই অবস্থায়) মারা যাও, তাহলে আল্লাহ কর্তৃক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রদত্ত আদর্শ হতে বিচ্যুত অবস্থায় তুমি মারা যাবে।

হাদিস ৭৫৬

বাদাল ইবনে মুহাব্বার রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালাতে দাঁড়ানো ও বসা অবস্থা ব্যতীত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রুকু এবং সিজদার মধ্যবর্তী সময় এবং রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো, এগুলো প্রায় সমপরিমাণ ছিল।

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৭৫৭

মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, একসময়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাশরীফ আনলেন, তখন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো। তারপর সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বললেন : তুমি ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি আবার সালাত আদায় করল এবং পুনরায় এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিল। তিনি বললেন : আবার গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার ঘটনার পূনরাবৃত্তি। তারপর লোকটি বলল, সে মহান সত্তার শপথ ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে সুন্দর সালাত আদায় করতে জানিনা। কাজেই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন : যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। তারপর কুরআন থেকে যতটুকু তোমার পক্ষে সহজ পড়বে। এরপর রুকুতে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকু আদায় করবে। তারপর রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। এরপর সিজদা থেকে উঠে স্থিরভাবে বসবে এবং পুনরায় সিজদায় গিয়ে স্থিরভাবে সিজদা করবে। তারপর পূর্ণ সালাত এভাবে আদায় করবে।

হাদিস ৭৫৮

হাফস ইবনে উমর রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু ও সিজদায় এ দুআ পড়তেন سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفرلي ‘হে আমাদের রব আল্লাহ ! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।

হাদিস ৭৫৯

আদম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম سمع الله لمن حمده বলে (রুকু থেকে উঠতেন) তখন اللهم ربنا ولك الحمد বলতেন, আর তিনি যখন রুকুতে যেতেন এবং রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন তাকবীর বলতেন এবং সিজদা থেকে যখন দাঁড়াতেন, তখনالله أكبر বলতেন।

হাদিস ৭৬০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসূফ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইমাম যখন سمع الله لمن حمده বলেন, তখন তোমার اللهم ربنا ولك الحمد বলবে। কেননা, যার এ উক্তি ফেরেশতাগণের উক্তির সঙ্গে একই সময়ে উচ্চারিত হয়, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

হাদিস ৭৬১

মুআয ইবনে ফাযালা রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি অবশ্যই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করব। আবু হুরায়রা রা. যুহর, ইশা ও ফজরের সালাতের শেষ রাকাআতে سمع الله لمن حمده বলার পর কুনুত পড়তেন। এতে তিনি মুমিন গণের জন্য দুআ করতেন এবং কাফিরদের প্রতি লানত করতেন।

হাদিস ৭৬২

আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে) কুনুত ও মাগরিবের সালাতে পড়া হত।

হাদিস ৭৬৩

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..রিফাআ ইবনে রাফি যুহকী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠিয়েسمع الله لمن حمده বললেন, তখন পিছন থেকে এক সাহাবীربنا ولك الحمد حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه বললেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে এরূপ বলেছিল ? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেন, আমি দেখলাম ত্রিশ জনের বেশী ফেরেশতা এর সওয়াব কে আগে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।

হাদিস ৭৬৪

আবুল ওয়ালীদ রহ………সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবেন মালিক রা. আমাদেরকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের বর্ণনা দিলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করে দেখালেন। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন (এতক্ষণ) দাঁড়িয়ে রইলেন, যে, আমরা মনে করলাম, তিনি (সিজদার কথা) ভুলে গেছেন।

হাদিস ৭৬৫

আবুল ওয়ালীদ রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রুকু ও সিজদা এবং তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, এবং দু’সিজদার মধ্যবর্তী সময় সবই প্রায় সমান হত।

হাদিস ৭৬৬

সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আবু কিলাবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মালিক ইবনে হুওয়াইরিস রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কেমন ছিল তা আমাদের দেখালেন। তারপর রুকুতে গেলেন এবং ধীরস্থিভাবে রুকু আদায় করলেন, তারপর তাঁর মাথা উঠালেন এবং কিছুক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর তিনি আমাদের নিয়ে আমাদের এই শায়খ আবু বুরাইদ রহ.-এর ন্যায় সালাত আদায় করলেন। আর আবু বুরাইদ রহ. দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসতেন, তারপর দাঁড়াতেন।

হাদিস ৭৬৭

আবুল ইয়ামান রহ………আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান রহ. ও আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা রা. রমযান মাসের সালাত বা অন্য কোন সময়ের সালাত ফরয হোক বা অন্য কোন সালাত হোক, দাঁড়িয়ে শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন, আবার রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। তারপর (রুকু থেকে উঠার সময়) سمع الله لمن حمده বলতেন, সিজদায় যাওয়ার পূর্বে ربنا ولك الحمد বলতেন। তারপর সিজদার জন্য অবনত হওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। আবার সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। এরপর (দ্বিতীয়) সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন এবং সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। দু’রাকাআত আদায় করে দাঁড়ানের সময় আবার তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রতি রাকাআতে এইরূপ করতেন। সালাত শেষে তিনি বলতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ ! তোমাদের মধ্য থেকে আমার সালাত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত এ রূপই ছিল। উভয় বর্ণনাকারী (আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ও আবু সালাম রহ. বলেন, আবু হুরায়রা রা. বলেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد বলতেন। আর কতিপয় লোকের নাম উল্লেখ করে তাদের জন্য দুআ করতেন। দুআয় তিনি বলতেন, ইয়া আল্লাহ ! ওয়ালীদ ইবনে ওয়ালীদ, সালামা ইবনে হিশাম, আইয়্যাস ইবনে আবু রাবীআ এবং অপরাপর দুর্বল মুসলমানদেরকে রক্ষা করুন। ইয়া আল্লাহ ! মুদার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন, ইউসুফ আ.-এর যুগে যেমন খাদ্য সংকট ছিল তাদের জন্যও অনুরূপ খাদ্য সংকট সৃষ্টি করে দিন। (রাবী বলেন) এ যুগে পূর্বাঞ্চলের অধিবাসী মুদার গোত্রের লোকেরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিরোধী ছিল।

হাদিস ৭৬৮

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে যান। কোন কোন সময় সুফিয়ান রহ. হাদীস বর্ণনা করার সময় عن فرس শব্দের স্থলে من فرس শব্দ বলতেন। ফলে তার ডান পাজর আহত হয়ে পড়ে। আমরা তার শুশ্রূষা করার জন্য সেখানে গেলাম। এ সময় সালাতের ওয়াক্ত হল। তিনি আমাদের নিযে বসে সালাত আদায় করলেন, আমরাও বসেই আদায় করলাম। সুফিয়ান রহ. আর একবার বলেছেন, আমরা বসে সালাত আদায় করলাম। সালাতের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে ইকতিদা করার জন্য। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি যখন রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করবে। তিনি যখন রুকু থেকে উঠেন তখন তোমরাও উঠবে, তিনি যখন سمع الله لمن حمده বলবে, তখন তোমরা ربنا ولك الحمد বলবে। তিনি যখন সিজদা করেন, তখন তোমরাও সিজদা করবে। সুফিয়ান রহ. বলেন, তিনি ঠিকই স্মরণ রেখেছেন, এ রূপই যুহরী রহ. ولك الحمد বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান রহ. বলেন, (যুহরীর কাছ থেকে) ডান পাজর যখন হওয়ার কথা মুখস্থ করেছিলাম। কিন্তু যখন তাঁর কাছ থেকে বেরিয়ে আসলাম, তখন ইবনে জুরায়জ রহ. বললেন, আমিও তাঁর কাছে ছিলাম। (তিনি বলেছেন,) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ডান পায়ের নল যখম হয়েছিল।

হাদিস ৭৬৯

আবুল ইয়ামান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, সাহাবীগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা কি কিয়ামতের দিনি আমাদের রবকে দেখতে পাব ? তিনি বললেন : মেঘমুক্ত পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কি সন্দেহ পোষণ কর ? তারা বললেন, না ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোন সন্দেহ আছে ? সবাই বললেন, না। তখন তিনি বললেন : নি:সন্দেহে তোমরাও আল্লাহকে অনুরূপভাবে দেখতে পাবেব। কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে। তারপর আল্লাহ তা’আলা বলবেল, যে যার উপাসনা করত সে যেন তার অনুসরণ করে। তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করবে। আর অবশিষ্ট থাকবে শুধুমাত্র এ উম্মাহ, তবে তাদের সাথে মুনাফিকরাও থাকবে। তাদের মাঝে এ সময় আল্লাহ তা’আলা শুভাগমন করবেন এবং বলবেন : আমি তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের শুভাগমন না হবে, ততক্ষণ আমরা এখানেই থাকব। আর তার যখন শুভাগমন হবে তখন আমরা অবশ্যই তাকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তা’আলা শুভাগমন করবেন এবং তাকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তা’আলা শুভাগমন করবেন এবং বলবেন, আমি তোমাদের রব। তারা বলবে, হাঁ, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ তা’আলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের উপর একটি সেতু পথ ((পুলসিরাত) স্থাপন করা হবে। রাসূলগণের মধ্যে আমিই সবার আগে আমার উম্মাত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসূলগণের কথা হবে : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম) ইয়া আল্লাহ, রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আর জাহান্নামে বাঁকা লোহার বহু শলাকা থাকবে, সেগুলো হবে সাদান কাটার মতো। তোমরা কি সাদান কাটা দেখেছ ? তারা বলবে, হাঁ, দেখেছি। তিনি বলবেন, সেগুলো দেখতে সাদান কাটার মতোই। তবে সেগুলো কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না।

সে কাটা লোকের আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হবে আমালের কারণে। আর কারোর পায়ে যখম হবে, কিন্তু লোক কাটায় আক্রান্ত হবে, তারপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের থেকে যাদের প্রতি আল্লাহ পাক রহমত করতে ইচ্ছা করবেন, তাদের ব্যাপারে ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দেবেন যে, যারা আল্লাহর ইবাদত করত, তাদের যেন জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হয়। ফেরেশতাগণ তাদের বের করে আনবেন এবং সিজদার চিহ্ন দেখে তাঁরা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা, আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেওয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। কাজেই সিজদার চিহ্ন ছাড়া আগুন বনী আদমের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তাদের উপর আবে-হায়াত ঢেলে দেওয়া হবে ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার উপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। এরপর আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন। কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল তখনও জাহান্নামের দিকে ফেরানো থাকবে। জাহান্নামিদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি। সে তখন নিবেদন করবে, হে আমার রব ! জাহান্নাম থেকে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন। এর দূষিত হাওয়া আমাকে বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রনা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এ ছাড়া আর কিছুই চাইবে না তো ? সে বলবে, না, আপনার ইজ্জতের শপথ ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ তা’আলাকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে।

কাজেই আল্লাহ তা’আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দিবেন। এরপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সে চুপ করে থাকবে। তারপর সে বলবে, হে আমার রব ! আপনি জান্নাতের দরজার কাছে পৌছে দিন। তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি ? তখন সে বলবে, হে আমার রব ! তোমার সৃষ্টির সবচাইতে হতভাগ্য আমি হতে চাই না। আল্লাহ তাৎক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পুরন করা হলে তুমি এ ছাড়া চাইবে না তো ? সে বলবে, না, আপনার ইজ্জতের কসম ! এছাড়া আমি আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় পৌছবে তখন জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য্য ও তার আভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করবেন, সে চুপ করে থাকবে। এরপর সে বলবে, হে আমার রব ! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেন : হে আদম সন্তান, কি আশ্চর্য ! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী ! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গীকার করনি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না ? তখন সে বলবে, হে আমার রব ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আমাকে সবচাইতে হতভাগ্য করবেন না। এতে আল্লাহ হেসে দেবেন। এরপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। সে তখন চাইবে, এমন কি তার চাওয়ার আকাঙ্খা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেন : এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবেন। অবশেষে যখন তার আকাংখা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন : এ সবই তোমার, এ সাথে আরো সমপরিমাণ (তোমাকে দেওয়া হল) । আবু সাঈদ খুদরী রা. আবু হুরায়রা রা. কে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন যে, আল্লাহ তা’আলা বলবেন : এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেওয়া হল)। আবু হুরায়রা রা. বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ।

হাদিস ৭৭০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে বুহাইনা রা. তাঁর থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন, তখন উভয় হাত এরূপ করতেন যে, তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। লাইস রহ. বলেন, জাফর ইবনে রাবীআ রহ. আমার কাছে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৭৭১

সালত ইবনে মুহাম্মদ রহ………হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে রুকু ও সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করছে না। সে যখন তার সালাত শেষ করল, তখন হুযায়ফা রা. তাকে বললেন, তুমি তো সালাত আদায় করনি। আবু ওয়াইল রহ. বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছিলেন যে, এভাবে সালাত আদায় করে তুমি যদি মারা যাও, তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তরীকা থেকে বিচ্যুত হয়ে মারা যাবে।

হাদিস ৭৭২

কাবীসা রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে আদিষ্ট হয়েছিলেন। (অঙ্গ সাতটি হল) কপাল, দু’হাত, দু’হাটু ও দু’পা।

হাদিস ৭৭৩

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমরা সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে আদিষ্ট হয়েছি।

হাদিস ৭৭৪

আদম রহ……..বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, যিনি অবশ্যই মিথ্যাবাদী ছিলেন না। তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে সালাত আদায় করতাম। তিনি سمع الله لمن حمده বলার পর যতক্ষণ না কপাল মাটিতে স্থাপন করতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ সিজদার জন্য পিঠ ঝুকাত না।

হাদিস ৭৭৫

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভূক্ত করেন, আর দু’হাত দু’হাটু এবং দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় না গুটাই।

হাদিস ৭৭৬

মূসা রহ……….আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের সঙ্গে খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবু সালামা রা. বলেন, আমি তাকে বললাম, লাইলাতুল কাদর সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা আমার কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করলেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করলাম। জিবরাঈল আ. এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর তিনি মধ্যবর্তী দশ দিন ইতিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সাথে ইতিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরাঈল আ. এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর রমযানের বিশ তারিখ সকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ইতিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ইতিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদর অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নি:সন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি। তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাঁদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে পরিণত হলো।

হাদিস ৭৭৭

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবীগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করতেন। কিন্তু ইযার বা লুঙ্গী ছোট হওয়ার কারণে তা গলার সাথে বেঁধে নিতেন। আর মহিলাগণকে বলে দেওয়া হয়েছিল, তোমরা সিজদা থেকে মাথা উঠাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত পুরুষগণ ঠিকমত না বসবে।

হাদিস ৭৭৮

আবু নুমান রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করতে এবং সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে আদিষ্ট হয়েছিলেন।

হাদিস ৭৭৯

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমি সাত অঙ্গে সিজদা করার, সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করার এবং কাপড় টেনে না ধরার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।

হাদিস ৭৮০

মুসাদ্দাদ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু ও সিজদায় অধিক পরিমাণে سبحانك اللهم ربن اوبحمدك اللهم اغفرلي “হে আল্লাহ ! হে আমাদের রব ! আপনার প্রশংসা সহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন” পাঠ করতেন। এতে তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশ পালন করতেন।

হাদিস ৭৮১

আবু নুমান রহ………আবু কিলাবা রহ. থেকে বর্ণিত যে মালিক ইবনে হুয়াইরিস রা. তাঁর সাথীদের বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করব না ? (রাবী) আবু কিলাবা রা. বলেন, এ ছিল সালাতের সময় ছাড়া অন্য সময়। তারপর তিনি (সালাতে) দাঁড়ালেন, তারপর রুকু করলেন, এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর সিজদায় গেলেন এবং সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ বসে পুনরায় সিজদা করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষ করলেন। এভাবে তিনি আমাদের এ শায়খ আমর ইবনে সালিমার সালাতের মত সালাত আদায় করলেন। আইয়ুব রহ. বলেন, আমর ইবনে সালিমা রহ. এমন কিছু করতেন যা অন্যদের করতে দেখিনি। তা হল তিনি তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাকাআতে বসতেন। মালিক ইবনে হুয়াইরিস রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে কিছু দিন অবস্থান করলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা তোমাদের পরিবার পরিজনদের মধ্যে ফিরে যাওয়ার পর অমুক সালাত অমুক সময়, অমুক সালাত অমুক সময় আদায় করবে। সময় হলে তোমাদের একজন আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ইমামতি করবে।

হাদিস ৭৮২

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ………বারা রা. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সিজদা ও রুকু এবং দু’সিজদার মধ্যে বসা প্রায় সমান হতো।

হাদিস ৭৮৩

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যে ভাবে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি, কম বেশী না করে আমি তোমাদের সে ভাবেই সালাত আদায় করে দেখাব। সাবিত রহ. বলেন, আনাস ইবনে মালিক রা. এমন কিছু করতেন যা তোমাদের করতে দেখিনি। তিনি রুকু হতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এত বিলম্ব করতেন যে, কেউ বলত, তিনি (সিজদার কথা) ভুলে গেছেন।

হাদিস ৭৮৪

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সিজদায় (অঙ্গ প্রত্যঙ্গার) সামঞ্জস্যতা রক্ষা কর এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দু’হাত বিছিয়ে না দেয় যেমন কুকুর বিছিয়ে দেয়।

হাদিস ৭৮৫

মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ রহ…….মালিক ইবনে হুয়াইরিস লাইসী রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর সালাতের বেজোড় রাকাআতে (সিজদা থেকে) উঠে না বসে দাঁড়াতেন না।

হাদিস ৭৮৬

মুআল্লা ইবনে আসাদ রহ………আবু কিলাবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে হুয়াইরিস রা. এসে আমাদের এ মসজিদে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। এখন আমার সালাত আদায়ের কোন ইচ্ছা ছিল না, তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে ভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি তা তোমাদের দেখাতে চাই। আইয়ূব রহ. বলেন, আমি আবু কিলাবা রা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁর (মালিক ইবনে হুয়াইরিস রা.-এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি (আবু কিলাবা রা.) বলেন, আমাদের এ শায়খ অর্থাৎ আমর ইবনে সালিমা রা.-এর সালাতের মত। আইয়ূব রহ. বললেন, শায়খ তাকবীর পূর্ণ বলতেন এবং যখন দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন বসতেন, তারপর মাটিতে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।

হাদিস ৭৮৭

ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ রহ……..সাঈদ ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আবু সাঈদ রা. সালাতে আমাদের ইমামতি করেন। তিনি প্রথম সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সময়, দ্বিতীয় সিজদা করার সময়, দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সময় দু’রাকাআত শেষে (তাশাহুদের বৈঠকের পর) দাঁড়ানোর সময় স্বশদ্ধে তাকবীর বলেন। তিনি বলেন, আমি এভাবেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (সালাত আদায় করতে) দেখেছি।

হাদিস ৭৮৮

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….মুতাররিফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও ইমরান রা. একবার আলী ইবনে আবু তালিব রা. এর পিছনে সালাত আদায় করি। তিনি সিজদা করার সময় তাকবীর বলেছেন। উঠার সময় তাকবীর বলেন এবং দু’রাকাআত শেষে দাঁড়ানোর সময় তাকবীর বলেছেন। সালাম ফিরানোর পর ইমরান রহ. আমার হত ধরে বললেন, ইনি তো (আলী) আমাকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিলেন।

হাদিস ৭৮৯

আবদুল্লা ইবনে মাসলামা রহ…….আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে সালাতে আসন পিড়ি করে বসতে দেখেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি সে সময় অল্প বয়স্ক ছিলাম। আমিও সেরূপ করলাম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা আমাকে নিষেধ করলেন এবং তিনি বললেন, সালাতে (বসার) সুন্নাত তরীকা হল তুমি ডান পা খাড়া করবে এবং বাঁ পা বিছিয়ে রাখবে। তখন আমি বললাম, আপনি এরূপ করেন ? তিনি বললেন, আমার দু’পা আমার ভার বহণ করতে পারে না।

হাদিস ৭৯০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর এবং লায়স রহ……….মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আতা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবীর সঙ্গে বসা ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন আবু হুমাইদ সাঈদী রা. বলেন, আমিই তোমাদের মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে বেশী স্মরণ রেখেছি। আমি তাকে দেখেছি (সালাত শুরু করার সময়) তিনি তাকবীর বলে দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন তখন দু’হাত দিয়ে হাটু শক্ত করে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন। তারপর রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যাতে মেরুদণ্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে আসত। এরপর যখন সিজদা করতেন তখন দু’হাত সম্পূর্ণভাবে মাটির উপর বিছিয়ে দিতেন না, আবার গুটিয়েও রাখতেন না। এবং তাঁর উভয় পায়ের আঙ্গুলীর মাথা কেবলামুখী করে দিতেন। যখন দু’রাকাআতের পর বসতেন তখন বাঁ পার-এর উপর বসে ডান পা খাড়া করে দিতেন এবং যখন শেষ রাকাআতে বসতেন তখন বাঁ পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন।

হাদিস ৭৯১

আবুল ইয়ামান রহ………বনূ আবদুল মুত্তালিবের আযাদকৃত দাস এবং রাবী কোন সময়ে বলেছেন রাবীআ ইবনে হারিসের আযাদকৃত দাস, আবদুর রহমান ইবনে হুরমুয রা. থেকে বর্ণিত যে বনূ আবদে মানাফের বন্ধু গোত্র আযদ শানআর লোক আবদুল্লাহ ইবনে বুহাইনা রা. যিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী গণের অন্যতম। তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথম দু’রাকআত পড়ার পর না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুক্তাদীগণ তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। এ ভাবে সালাতের শেষভাগে মুকতাদীগণ সালামের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায় তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে দু’বার সিজদা করলেন, পরে সালাম ফিরালেন।

হাদিস ৭৯২

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে মালিক রা. যিনি ইবনে বুহাইনা, তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। দু’রাকাআত পড়ার পর তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন অথচ তাঁর বসা জরুরী ছিল। তারপর সালাতের শেষভাগে বসে তিনি দুটো সিজদা করলেন।

হাদিস ৭৯৩

আবু নুআইম রহ……..শাকীক ইবনে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. বলেন, আমরা যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন আমরা বলতাম, “আসসালামু আলা জিবরীল ওয়া মিকাইল এবং আসসালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান”। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন : আল্লাহ নিজেই তো সালাম, তাই যখন তোমরা কেউ সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন বলে – التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين কেননা, যখন তোমরা এ বলবে তখন আসমান ও যমীনের আল্লাহর সকল নেক বান্দার কাছে পৌছে যাবে। এর সঙ্গে أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله ও পড়বে।

হাদিস ৭৯৪

আবুল ইয়ামান রহ……উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. তাকে বলেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এ বলে দু’আ করতেন اللهم إني أعوذبك من عذاب الفبر وأعوذبك من فتنة المسيح الدجال وأعوذبك من فتنة المحيا وفتنة الممات “কবরের আযাব থেকে, মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে ইয়া আল্লাহ ! আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ইয়া আল্লাহ ! গুনাহ ও ঋণগ্রস্ততা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি কতই না ঋণগ্রস্ততা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যখন কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বলার সময় মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে। মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ. বলেন, খালফ ইবনে আমির রহ.-কে বলতে আমি শুনেছি যে مَسِيح ও مَسّيح এর মধ্যে পার্থক্য নেই। উভয় শব্দই সমার্থ বোধক তবে একজন হলেন ঈসা আ. অপর ব্যক্তি হলো দাজ্জাল। যুহরী রহ. বলেছেন, উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. আয়িশা রা. থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা রা. বলেছেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাতে মধ্যে মধ্যে দাজ্জালের ফিতনা থেকে (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি।

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

হাদিস ৭৯৫

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………আবু বকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত,একদিন তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দু’আ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দু’আটি বলবে- اللهم إني ظلمت نفسي ظلما كثيرا ولا يغفر الذنوب إلا أنت فاغفرلي مغفرة من عندك وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم “ইয়া আল্লাহ ! আমি নিজের উপর অধিক যুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

হাদিস ৭৯৬

মুসাদ্দাদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা এ ছিল যে, যখন আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাতে থাকতাম, তখন আমরা বলতাম বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহর প্রতি সালাম। সালাম অমুকের প্রতি, সালাম অমুকের প্রতি। এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আল্লাহর প্রতি সালাম, তোমরা এরূপ বল না। কারণ আল্লাহ নিজেই সালাম। বরং তোমরা বল- التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين (সমস্ত মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী ! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি)। তোমরা যখন তা বলবে তখন আসমান বা আসমান ও যমীনের মধ্যে আল্লাহর প্রত্যেক বান্দার কাছে তা পৌছে যাবে। (এরূপ বলবে – أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله “আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।” তারপর যে দু’আ তার পছন্দ হয় তা সে বেছে নিবে এবং পড়বে।

হাদিস ৭৯৭

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু সালাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী রা.-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। এমন কি তাঁর (মুবারক) কপালে কাদামাটির চিহ্ন লেগে থাকতে দেখেছি।

হাদিস ৭৯৮

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম ফিরাতেন, তখন সালাম শেষ হলেই মহিলাগণ দাঁড়িয়ে পড়তেন। তিনি দাঁড়ানোর পূর্বে কিছুক্ষণ বসে অপেক্ষা করতেন। ইবনে শিহাব রহ. বলেন, আমার মনে হয়, তাঁর এ অপেক্ষা এ কারণে যাতে মুসল্লীগণ থেকে যে সব পুরুষ ফিরে যান তাদের পূর্বেই মহিলাগণ নিজ অবস্থানে পৌছে যান।

হাদিস ৭৯৯

হিব্বান ইবনে মূসা রহ……..ইতবান ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করছি। তিনি যখন সালাম ফিরান তখন আমরাও সালাম ফিরাই।

হাদিস ৮০০

আবদান রহ……..মাহমুদ ইবনে রাবী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা তাঁর স্পষ্ট মনে আছে, যে তাদের বাড়ীতে রাখা একটি বালতির (পানি নিয়ে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুলি করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি ইতবান ইবনে মালিক আনসারী রা. যিনি বনূ সালিম গোত্রের একজন, তাকে বলতে শুনেছি, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললাম, আমার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীন হয়ে গিয়েছে এবং আমার বাড়ী থেকে আমার কাওমের মসজিদ পর্যন্ত পানি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। আমার একান্ত ইচ্ছা আপনি আমার বাড়িতে এসে এক জায়গায় সালাত আদায় করবেন সে জায়গাটুকু আমি সালাত আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট করে নিব। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ইনশা আল্লাহ, আমি তা করব। পরদিন রোদের তেজ বৃদ্ধি পাওয়ার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রা. আমার বাড়িতে এলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশের অনুমতি চাইলে আমি তাকে দিলাম। তিনি না বসেই বললেন : তোমার ঘরের কোন স্থানে তুমি আমার সালাত আদায় পছন্দ কর। তিনি পছন্দ মত একটি জায়গা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত আদায়ের ইশারা করে দেখালেন। তারপর তিনি দাঁড়ালেন আমরাও তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হলাম। অবশেষে তিনি সালাম ফিরালেন, আমরাও তাঁর সালামের সময় সালাম ফিরালাম।

হাদিস ৮০১

ইসহাক ইবনে নাসর রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় মুসল্লীগণ ফরয শেষ হলে উচ্চস্বরে যিকির করতেন। আব্বাস রা. বলেন, আমি এরূপ শুনে বুঝলাম, মুসল্লীগণ সালাত শেষ করে ফিরছেন।

হাদিস ৮০২

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাকবীর শুনে আমি বুঝতে পারতাম সালাত শেষ হয়েছে।

হাদিস ৮০৩

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দরিদ্রলোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী আবাস লাভ করছেন, তারা আমাদের মত সালাত আদায় করছেন, আমাদের মত সিয়াম পালন করছেন এবং অর্থের দ্বারা হজ্জ, উমরা, জিহাদ ও সাদকা করার মর্যাদাও লাভ করছেন। এ শুনে তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা বলব, যা তোমরা করলে, যারা নেক কাজে তোমাদের চাইতে অগ্রগামী হয়ে গিয়েছে, তাদের সমপর্যায়ে পৌছতে পারবে। তবে যারা পুনরায় এ ধরণের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার করে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে। (এ বিষয়টি নিয়ে) আমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হলো। কেউ বলল, আমরা তেত্রিশ বার তাসবীহ পড়ব। তেত্রিশ বার তাহমীদ আর চৌত্রিশ বার তাকবীর পড়ব। এরপর আমি তাঁর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি বললেন,سبحان الله والحمد لله والله أكبر বলবে, যাতে সবগুলোই তেত্রিশ বার করে হয়ে যায়।

হাদিস ৮০৪

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……..মুগীরা ইবনে শুবা রা.-এর কাতিব ওয়াররাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুগীরা ইবনে শুবা রা. আমাকে দিয়ে মুআবিয়া রা.-কে (এ মর্মে) একখানা পত্র লিখালেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের পর বলতেন لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير اللهم لا منع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد “এক আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। ইয়া আল্লাহ ! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করব কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার কাছে (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।” শুবা রহ. আবদুল মালিক রহ. থেকে অনুরূপ বলেছেন, আপনার কাছে (সৎকাজ ছাড়া) এবং হাসান রহ. বলেন,جد অর্থ সম্পদ এবং শুবা রহ……..ওয়াররাদ রহ. থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৮০৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….সামুরা ইবনে জুনদব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন, তখন আমাদের দিকে মুখ ফিরাতেন।

হাদিস ৮০৬

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………যায়েদ ইবনে খালিদ জুহানী রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বৃষ্টি হওয়অর পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন : তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কি বলেছেন ? তাঁরা বললেন : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই উত্তম জানেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : (রব) বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি মু’মিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়েছে।

হাদিস ৮০৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুনীর রহ…….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করলেন। এরপর তিনি আমাদের সামনে বের হয়ে এলেন। সালাত শেষে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরায়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকবে ততক্ষণ তোমরা যেন সালাতে রত থাকবে।

হাদিস ৮০৮

আবুল ওয়ালীদ হিশাম ইবনে আবদুল মালিক রহ………উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর নিজ জায়গায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। ইবনে শিহাব রহ. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বসে থাকার কারণ আমার মনে হয় সালাতের পর মহিলাগণ যাতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে আল্লাহই তা অধিক জ্ঞাত। ইবনে আবু মারইয়াম রহ…….হিন্দ বিনতে হারিস ফিরাসিয়াহ রা. যিনি উম্মে সালামা রা.-এর বান্ধবী তাঁর সূত্রে নবী পতœী উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরাতেন, তারপর মহিলাগণ ফিরে গিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফিরবার আগেই। ইবনে ওহাব রহ. ইউনুস রহ. সূত্রে শিহাব রহ. থেকে বলেন যে, আমকে হিন্দ ফিরাসিয়াহ রা. বর্ণনা করেছেন এবং উসমান ইবনে উমর রহ. বলেন, আমাকে ইউনুস রহ. যুহরী রহ. থেকে বলেন যে, আমাকে হিন্দ ফিরাসিয়াহ রা. বর্ণনা করেছেন, আর যুবাইদী রহ. বলেন, আমাকে যুহরী রহ. বর্ণনা করেছেন যে, হিন্দ বিনতে হারিস কুরাশিয়াহ রা. তাকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি মাবাদ ইবনে মিকদাদ রহ.-এর স্ত্রী। আর মাবাদ বনূ যুহরার সাথে সন্ধি চুক্ততি আবদ্ধ ছিলেন এবং তিনি (হিন্দ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনীগণের নিকট যাতায়ত করতেন। শুআইব রহ. যুহরী রহ. থেকে বলেন যে, আমাকে হিন্দ কুরাশিয়াহ রহ. বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আবু আতীক রহ. যুহরী রহ. সূত্রে হিন্দ ফিরাসিয়াহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন। রাইস রহ. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহ. সূত্রে ইবনে শিহাব রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশের এক মহিলা তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ৮০৯

মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ রহ……….উকবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরানোর পর তিনি তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে যান এবং মুসল্লীগণকে ডিঙ্গিয়ে তাঁর সহধর্মিনীগণের কোন একজনের কক্ষে গেলেন। তাঁর এই দ্রুততায় মুসল্লীগণ ঘাবড়িয়ে গেলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে ফিরে এলেন এবং দেখলেন যে, তাঁর দ্রুততার কারণে তাঁরা বিস্মিত হয়ে পড়েছেন। তাই তিনি বললেন : আমাদের কাছে রক্ষিত কিছু স্বর্ণের কথা মনে পড়ে যায়। তা আমার প্রতিবন্ধক হোক, তা আমি পছন্দ করি না। তাই তা বন্টন করার নির্দেশ দিয়ে দিলাম।

হাদিস ৮১০

আবুল ওয়ালীদ রহ………..আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তার সালাতের কোন কিছু শয়তানের জন্য না করে। তা হল, শুধুমাত্র ডান দিকে ফিরানো জরুরী মনে করা। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অধিকাংশ সময়ই বাম দিকে ফিরতে দেখেছি।

হাদিস ৮১১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ যদি এ জাতীয় গাছ খায়, তিনি এ দ্বারা রসুন বুঝিয়েছেন, সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে। (রাবী আত রহ. বলেন) আমি জাবির রা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বারা কি বুঝিয়েছেন (জাবির রা বলেন, আমার ধারণা যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বারা কাচা রসুন বুঝিয়েছেন এবং মাখলাদ ইবনে ইয়াযীদ রহ. ইবনে জুরায়জ রহ. থেকে দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

হাদিস ৮১২

মুসাদ্দাদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের সময় বলেন, যে ব্যক্তি এই জাতীয় বৃক্ষ থেকে অর্থাৎ কাচা রসুন ভক্ষণ করবে সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের কাছে না আসে।

হাদিস ৮১৩

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি রসুন অথবা পিয়াজ খায় সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে। (উক্ত সনদে আরো বর্ণিত আছে যে,) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে একটি পাত্র যার মধ্যে শাক-সব্জী ছিল আনা হলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গন্ধ পেলেন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাকে সে পাত্রে রক্ষিত শাক-সব্জী সম্পর্কে অবহিত করা হলো, তখন একজন সাহাবী (আবু আইয়ূব রা.) কে উদ্দেশ্য করে বললেন, তাঁর কাছে এগুলো পৌঁছিয়ে দাও। কিন্তু তিনি তা খেতে অপছন্দ মনে করলেন, এ দেখে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি খাও। আমি যার সাথে গোপনে আলাপ করি তাঁর সাথে তুমি আলাপ করি তাঁর সাথে তুমি আলাপ কর না (ফেরেশতার সাথে আমার আলাপ হয় তাঁরা দুর্গন্ধকে অপছন্দ করেন) আহমাদ ইবনে সালিহ রহ. ইবনে ওয়াহাব রহ. থেকে বলেছেন أتي ببدر ইবনে ওয়াহব-এর অর্থ বলেছেন, খাঞ্চা যার মধ্যে শাক-সব্জী ছিল। আর লায়স ও আবু সাফওয়া রহ. ইউনুস রহ. থেকে রিওয়ায়েত বর্ণনায় قدر এর বর্ণনা উল্লেখ করেন নি। (ইমাম বুখারী রহ. বলেন) قدر এর বর্ণনা যুহরী রহ.-এর উক্তি, না হাদীসের অংশ তা আমি বলতে পারছি না।

হাদিস ৮১৪

আবু মামার রহ………আবদুল আযীয রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আনাস ইবনে মালিক রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রসুন খাওয়া সম্পর্কে কি বলতে শুনেছেন ? তখন আনাস রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি এ জাতীয় গাছ থেকে খায় সে যেন, অবশ্যই আমদের কাছে না আসে এবং আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় না করে।

হাদিস ৮১৫

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….শাবী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের কাছে গেলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে লোকদের ইমামতি করেন। লোকজন কাতারবন্দী হয়ে তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু আমর ! কে আপনাকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ? তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস রা.।

হাদিস ৮১৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুমুআর দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক (মুসলমানের) গোসল করা কর্তব্য।

হাদিস ৮১৭

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা (উম্মুল মু’মিনীন) মায়মূনা রা. এর কাছে রাত্র কাটালাম। সে রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সেখানে নিদ্রা যান। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তিনি উঠলেন এবং একটি ঝুলন্ত মশক থেকে পানি নিয়ে হালকা উযূ করলেন। আমর (বর্ণনাকারী) এটাকে হালকা এবং অতি কম বুঝালেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি উঠে তাঁর মতই সংক্ষিপ্ত উযূ করলাম, এরপর এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বামপাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডানপাশে করে দিলেন। এরপর যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সালাত আদায় করলেন, এরপর বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ হতে লাগল, এরপর মুআযযিন এসে সালাতের কথা জানালে তিনি উঠে তাঁর সালাতের জন্য চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। কিন্তু (নতুন) উযূ করলেন না। সুফিয়ান রহ. বলেন, আমি আমর রা. কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, লোকজন বলে থাকেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখ নিদ্রায় যেত কিন্তু তাঁর কালব (হৃদয়) জাগ্রত থাকত। আমর রহ. বললেন, উবাইদ ইবনে উমাইর রহ. কে আমি বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই নবীগণের স্বপ্ন অহী। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন إني أرى في المنام أني أذبحك (ইবরাহীম আ. ইসমাঈল আ.কে বললেন) আমি স্বপ্নে দেখলাম, তোমাকে কুরবানী করছি…………(৩৭ : ১০২)।

হাদিস ৮১৮

ইসমাঈল রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, ইসহাক রহ.এর দাদী মুলাইকা রা. খাদ্য তৈরী করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত করলেন। তিনি তার তৈরী খাবার খেলেন। এরপর তিনি বললেন : তোমরা উঠে দাঁড়াও, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস রা. বলেন, আমি একটি চাটাইয়ে দাঁড়ালাম যা অধিক ব্যবহারের কারণে কালো হয়ে গিয়েছিল। আমি এতে পানি ছিটিয়ে দিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন, আমার সঙ্গে একটি ইয়াতিম বাচ্চাও দাঁড়াল এবং বৃদ্ধা আমাদের পিছনে দাঁড়ালেন। আমাদের নিয়ে তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন।

হাদিস ৮১৯

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বেলন, আমি একটি গাধার উপর আরোপহণ করে অগ্রসর হলাম। তখন আমি প্রায় সাবালক। এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় প্রাচীর ব্যতীত অন্য কিছু সামনে রেখে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। আমি কোন এক কাতারের সম্মুখ দিয়ে অগ্রসর হয়ে এর জায়গায় নেমে পড়লাম এবং গাধাটিকে চরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দিলাম। এরপর আমি কাতারে প্রবেশ করলাম। আমার এ কাজে কেউ আপত্তি করলেন না।

হাদিস ৮২০

আবুল ইয়ামান ও আইয়াশ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করতে অনেক বিলম্ব করলেন। অবশেষে উমর রা. তাঁকে আহবান করে বললেন, নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। আয়িশা রা. বলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেন : তোমরা ব্যতীত পৃথিবীর আর কেউ এ সালাত আদায় করে না। (রাবী বলেন) মদীনাবাসী ব্যতীত আর কেউ সে সময় সালাত আদায় করতেন না।

হাদিস ৮২১

আমর ইবনে আলী রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কখনো ঈদের মাঠে গমন করেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, গিয়েছি। তবে তাঁর কাছে আমার যে মর্যাদা ছিল তা না থাকলে আমি অল্প বয়স্ক হওয়ার কারণে সেখানে যেতে পারতাম না। তিনি কাসীর ইবনে সালাতের বাড়ীর কাছে যে নিশানা ছিল সেখানে আসলেন (নামাযান্তে) পরে খুতবা দিলেন। এরপর মহিলাদের নিকট গিয়ে তিনি তাদের ওয়াজ ও নসীহত করেন। এবং তাদের সাদকা করতে নির্দেশ দেন। ফলে মহিলারা তাদের হাতের আংটি খুলে বিলাল রা.-এর কাপড়ের মধ্যে ফেলতে লাগলেন। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও বিলাল রা. বাড়ী চলে এলেন।

হাদিস ৮২২

আবুল ইয়ামান রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করতে অনেক বিলম্ব করলেন। ফলে উমর রা. তাকে আহবান করে বললেন, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এসে বললেন : এ সালাতের জন্য পৃথিবীতে অন্য কেউ অপেক্ষারত নেই। সে সময় মদীনাবাসী ব্যতীত অন্য কোথাও সালাত আদায় করা হত না। মদীনাবাসীরা সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের দৃশ্যমান লালিমা অদৃশ্য হওয়ার সময় থেকে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ সময় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ইশার সালাত আদায় করতেন।

হাদিস ৮২৩

উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যদি তোমাদের স্ত্রী গণ রাতে মসজিদে আসার জন্য তোমাদের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে, তাহলে তাদের অনুমতি দিবে। শুবা রহ……….ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনায় উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ. এর অনুসরণ করেছেন।

হাদিস ৮২৪

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..হিন্দ বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী সালামা রা. তাকে জানিয়েছেন, মহিলাগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় ফরয সালাতের সালাম ফিরানোর সাথে সাথে উঠে যেতেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাঁর সঙ্গে সালাত আদায়কারী পুরুষগণ, আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছা করেন, (তথায়) অবস্থান করতেন। তারপর যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠতেন, তখন পুরুষগণও উঠে যেতেন।

হাদিস ৮২৫

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা ও আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের সালাত শেষ করতেন তখন মহিলাগণ চাদরে সর্বাঙ্গ আচ্ছাদিত করে ঘরে ফিরতেন। অন্ধকারের কারণে তখন তাদেরকে চিনা যেতো না।

হাদিস ৮২৬

মুহাম্মদ ইবনে মিসকীন রহ………আবু কাতাদা আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি সালাতে দাঁড়িয়ে তা দীর্ঘায়িত করব বলে ইচ্ছা করি, এরপর শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে আমি সালাত সংক্ষিপ্ত করি এ আশংকায় যে, তার মায়ের কষ্ট হবে।

হাদিস ৮২৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, মহিলারা কি অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তা হলে বনী ইসরাঈলের মহিলাদের যেমন নিষেধ করা হয়েছিল, তেমনি এদেরও মসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন। (রাবী) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহ. বলেন) আমি আমরাহ রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের কি নিষেধ করা হয়েছিল ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

হাদিস ৮২৮

ইয়াহইয়া ইবনে কাযআ রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম ফিরাতেন, তখন মহিলাগণ তাঁর সালাম শেষ করার পর উঠে যেতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ানোর আগে নিজ জায়গায় কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। রাবী (যুহরী রহ.) বলেন, আমাদের মনে হয়, তিনি এজন্য যে, অবশ্য আল্লাহ ভাল জানেন, যাতে মহিলাগণ চলে যেতে পারেন, পুরুষগণ তাদের যাওয়ার আগেই।

হাদিস ৮২৯

আবু নুআইম রহ……….আনাস (ইবনে মালিক) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইম রা.-এর ঘরে সালাত আদায় করেন। আমি এবং একটি ইয়াতীম তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম আর উম্মে সুলাইম রা. আমাদের পিছনে দাঁড়ালেন।

বুখারি হাদিস ৮৩০

ফজরের সালাত শেষে মহিলাগণের দ্রুত চলে যাওয়া এবং মসজিদে তাদের অল্পক্ষণ অবস্থান করা

হাদিস ৮৩১

মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের কারো স্ত্রী যদি (সালাতের জন্য মসজিদে যাওয়ার) অনুমতি চায় তা হলে স্বামী যেন তাকে বাঁধা না দেয়।

আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড
আযান অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -২য় খণ্ড

আরও দেখুনঃ

তায়াম্মুম অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

হায়য অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

গোসল অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -১ম খণ্ড

উযূ অধ্যায় -সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)-১ম খণ্ড

আযান

মন্তব্য করুন