আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৮৭ – আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আমি লুকমানকে হিকমত দান করেছি। আর আমি তাকে বলেছি। শিরক এক মহা যুলুম।

হাদীস নং ৩১৮৭

আবুল ওয়ালীদ রহ………..আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হল : যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুমের দ্বারা কলুষিত করেনি।

(৬ : ৮২) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবাগণ বললেন, আমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে, নিজের ঈমানকে যুলমের দ্বারা কলুষিত করেনি? তখন এ আয়াত নাযিল হয়: আল্লাহর সাথে শরীক করো না। কেননা শিরক হচ্ছে এক মহা যুলুম। (৩১ : ১৮)

বুখারি হাদিস নং ৩১৮৮

হাদীস নং ৩১৮৮

ইসহাক রহ…….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হল : যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুমের দ্বারা কলুষিত করেনি।

তখন তা মুসলমানদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেল। তারা আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে নিজের উপর যুলুম করেনি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখানে অর্থ তা নয় বরং এখানে যুলুমের অর্থ হল শিরক।

তোমরা কি কুরআনে শুননি? লুকমান তাঁর ছেলেকে উপদেশ প্রদানকালে কি বলেছিলেন ? তিনি বলেছিলেন, “হে আমার প্রিয় ছেলে ! তুমি আল্লাহর সাথে শিরক করো না। কেননা, নিশ্চয়ই শিরক এক মহা যুলুম।

বুখারি হাদিস নং ৩১৮৯ – আল্লাহর বাণী: এ বর্ণনা হল তাঁর বিশেষ বান্দা যাকারিয়ার প্রতি তোমার রবের রহমত দানের। পূর্বে আমি এ নামে কারো নামকরণ করিনি। (১৯:২-৭)

হাদীস নং ৩১৮৯

হুদবা ইবনে খালিদ রহ……….মালিক ইবনে সাসাআ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণের কাছে মিরাজের রাত্রি সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, অনন্তর তিনি ( জিবরাঈল) আমাকে নিয়ে উপরে চললেন, এমনকি দ্বিতীয় আকাশে এসে পৌঁছলেন এবং দরজা খুলতে বললেন, জিজ্ঞাসা করা হল কে?

উত্তর দিলেন, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল। আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জিজ্ঞাসা করা হল।

তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, এরপর আমরা যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন সেখানে ইয়াহইয়া ও ঈসা আ.-কে দেখলাম। তাঁরা উভয়ে খালাত ভাই ছিলেন।

জিবরাঈল বললেন, এরা হলেন, ইয়াহইয়া এবং ঈসা আ.। তাদেরকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তাঁরাও সালামের জবাব দিলেন। তারপর তাঁরা বললেন, নেক ভাই এবং নেক নবীর প্রতি মারহাবা।

বুখারি হাদিস নং ৩১৯০ – আল্লাহ তা’আলার বাণী: আর স্মরণ কর, কিতাবে মারিয়ামের ঘটনা । যখন তিনি আপন পরিজন থেকে পৃথক হলেন………

হাদীস নং ৩১৯০

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, এমন কোন আদম সন্তান নেই যাকে জন্মের সময় শয়তান স্পর্শ করে না।

জন্মের সময় শয়তানের স্পর্শের কারণেই সে চিৎকার করে কাঁদে। তবে মারিয়াম এবং তাঁর ছেলে (ঈসা) আ.-এর ব্যতিক্রম।

তারপর আবু হুরায়রা রা. বলেন, (এর কারণ হল মারিয়ামের মায়ের এ দু’আ “হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আম আপনার নিকট তাঁর এবং তাঁর বংশধরদের জন্য বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

বুখারি হাদিস নং ৩১৯১ – আল্লাহ তা’আলার বাণী: আর স্মরণ কর, যখন ফেরেশতাগণ বলল, হে মারিয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন। মারিয়ামের লালন-পালনের দায়িত্ব তাদের মধ্যে কে গ্রহণ করবে।

হাদীস নং ৩১৯১

আহমদ ইবনে আবু রাজা রহ……….আলী রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, (ঐ সময়ের) সমগ্র নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারিয়াম হলেন সর্বোত্তম আর (এ সময়ে) নারীদের সেরা হলেন খাদীজা রা.।

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৯২ – আল্লাহর বাণী: আর স্মরণ কর, যখন ফেরেশতাগণ বলল, হে মারিয়াম! আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালিমা দ্বারা সুসংবাদ দান করেছেন। যার নাম হবে মাসীহ ঈসা ইবনে মারিয়াম। ……….

হাদীস নং ৩১৯২

আদম রহ……….আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সকল নারীর উপর আয়েশার মর্যাদা এমন, যেমন সকল খাদ্য সামগ্রীর উপর সারীদের মর্যাদা ।

পুরুষদের মধ্যে অনেকেই কামালিয়াত অর্জন করেছেন। (অতীত যুগে) কিন্তু নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারিয়াম এবং ফিরাউনের স্ত্রী আছিয়া ব্যতীত কেউ কামালিয়াত অর্জন করতে পারেনি।

ইবনে ওহাব রা………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কুরাইশ বংশীয়া নারীরা উটে আরোহণকারী সকল নারীদের তুলনায় উত্তম।

এরা শিশু সন্তানের উপর অধিক স্নেহময়ী হয়ে থাকে আর স্বামীর সম্পদের প্রতি খুব যত্নবান হয়ে থাকে। তারপর আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, ইমরানের কন্যা মারিয়াম কখনও উটে আরোহণ করেননি।

ইবনে আখী যুহরী ও ইসহাক কালবী রা. যুহরী রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় ইউনুস রহ.-এর অনুসরণ করেছন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৯৩ – মহান আল্লাহর বাণী: “হে আহলে কিতাব তোমরা তোমাদের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না………….অভিভাবক হিসাবে। (৪:১৭১)

হাদীস নং ৩১৯৩

সাদাকা ইবনে ফাযল রহ……….উবাদা রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই,

তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল আর নিশ্চয়ই ঈসা আ. আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর সেই কালিমা যা তিনি মারিয়ামকে পৌঁছিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ মাত্র, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন।

ওলীদ রহ………জুনাদা রহ. থেকে বর্ণিত, হাদীসে জুনাদা বাড়িয়ে বলেছেন যে, জান্নাতের আট দরজার যেখান দিয়েই সে চাইবে। (আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন)।

বুখারি হাদিস নং ৩১৯৪ – মহান আল্লাহর বাণী: স্মরণ কর, এ কিতাবে মারিয়ামের কথা। যখন সে তাঁর পরিজন থেকে পৃথক হল। (১৯: ১৬)

হাদীস নং ৩১৯৪

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন জন শিশু ব্যতীত আর কেউ দোলনায় থেকে কথা বলেনি।

বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি যাকে ‘জুরাইজ’ বলে ডাকা হল। একদা ইবাদতে রত থাকা অবস্থায় তার মা এসে তাকে ডাকল। সে ভাবল আমি কি তার ডাকে সাড়া দেব, না সালাত আদায় করতে থাকব। (জবাব না পেয়ে) তার মা বলল, ইয়া আল্লাহ! ব্যভিচারিণীর চেহারা না দেখা পর্যন্ত তুমি তাকে মৃত্যু দিও না।

জুরাইজ তার ইবাদত খানায় থাকত। একবার তার কাছে একটি মহিলা আসল। সে (অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য) তার সাথে কথা বলল। কিন্তু জুরাইজ তা অস্বীকার করল।

তারপর মহিলাটি একজন রাখলের নিকট গেল এবং তাকে দিয়ে মনোবাসনা পূরণ করল। পরে সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞাসা হল। এটি কাঁর থেকে ? স্ত্রী লোকটি বলল, জুরাইজ থেকে। লোকেরা তার কাছে আসল এবং তার ইবাদতখানা ভেঙ্গে দিল। আর তাকে নীচে নামিয়ে আনল ও তাকে গালি গালাজ করল।

তখন জুরাইজ অজু সেরে ইবাদত করল। এরপর নবজাত শিশুটির নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করল। হে শিশু ! তোমার পিতা কে? সে জবাব দিল সেই রাখাল।

তারা (বনী ইসরাঈলেরা) বলল, আমরা আপনার ইবাদতখানাটি সোনা দিয়ে তৈরী করে দিচ্ছি। সে বলল, না। তবে মাটি দিয়ে (করতে পার)। বনী ইসরাঈলের একজন মহিলা তার শিশুকে দুধ পান করচ্ছিল। তার কাছ দিয়ে একজন সুদর্শন পুরুষ আরোহী চলে গেল।

মহিলাটি দু’আ করল, ইয়া আল্লাহ আমার ছেলেটি তার মত বানাও। শিশুটি তখনই তার মায়ের স্তন ছেড়ে দিল। এবং আরোহীটির দিকে মুখ ফিরালো।

আর বলল, ইয়া আল্লাহ! আমাকে তার মত করনা। এরপর মুখ ফিরিয়ে দুধ পান করতে লাগল। আবু হুরায়রা রা. বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পাচ্ছি তিনি আঙ্গুল চুষছেন।

এরপর সেই মহিলাটির পাশ দিয়ে একটি দাসী চলে গেল। মহিলাটি বলল, ইয়া আল্লাহ! আমার শিশুটিকে এর মত করো না, শিশুটি তৎক্ষণাৎ তার মায়ের দুধ ছেড়ে দিল।

আর বলল, ইয়া আল্লাহ! আমাকে তার মত কর। তার মা জিজ্ঞাসা করল, তা কেন? শিশুটি জবাব দিল সেই আরোহীটি ছিল যালিমদের একজন। আর এ দাসীটি লোকে বলছে তুমি চুরি করেছ, যিনা করেছ। অথচ কিছুই করেনি।

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৯৫

হাদীস নং ৩১৯৫

ইবরাহীম ইবনে মূসা ও মাহমুদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মিরাজ রজনীতে আমি মূসা আ.-এর দেখা পেয়েছি। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা আ.-এর আকৃতি বর্ণনা করেছেন।

মূসা আ. একজন দীর্ঘদেহী, মাথায় কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট, যেন শানুআ গোত্রের একজন লোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঈসা আ.-এর দেখা পেয়েছি। এরপর তিনি তাঁর আকৃতি বর্ণনা করে বলেছেন, তিনি হলেন মাঝারি গড়নের গৌর বর্ণবিশিষ্ট, যেন তিনি এই মাত্র হাম্মামখানা হতে বেরিয়ে এসেছেন।

আর আমি ইবরাহীম আ.-কেও দেখেছি। তাঁর সন্তানদের মধ্যে আকৃতিতে আমিই তার বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর আমার সামনে দুটি পেয়ালা আনা হল।

একটিতে দুধ, অপরটিতে শরাব। আমাকে বল হল, আপনি যেটি ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম।

তখন আমাকে বলা হল, আপনি ফিতরাত বা স্বভাবকেই গ্রহণ করে নিয়েছেন। দেখুন! আপনি যদি শরাব গ্রহণ করতেন, তাহলে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

বুখারি হাদিস নং ৩১৯৬

হাদীস নং ৩১৯৬

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মিরাজের রাতে) আমি ঈসা আ., মূসা আ. ও ইবরাহীম আ.-কে দেখেছি।

ঈসা আ. গৌর বর্ণ, সোজা চুল এবং প্রশস্ত বক্ষ বিশিষ্ট লোক ছিলেন, মূসা আ. বাদামী রং বিশিষ্ট ছিলেন, তাঁর দেহ ছিল সুঠাম এবং মাথার চুল ছিল কোঁকড়ানো যেন ‘যুত’ গোত্রের একজন লোক।

বুখারি হাদিস নং ৩১৯৭

হাদীস নং ৩১৯৭

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনের সামনে মাসীহ দাজ্জালে কথা উল্লেখ করলেন।

তিনি বললেন, আল্লাহ টেড়া নন। সাবধান! মাসীহ দাজ্জালের ডাক চোখ টেড়া। তার চোখ যেন ফুলে যাওয়া আঙ্গুলের মত। আমি এক রাতে স্বপ্নে নিজেকে কাবার কাছে দেখলাম। হঠাৎ সেখানে বাদামী রং এর এক ব্যক্তিকে দেখলাম। তোমরা যেমন সুন্দর বাদামী রঙ্গের লোক দেখে থাক তার থেকেও বেশী সুন্দর ছিলেন তিনি।

তাঁর মাথার সোজা চুল, তার দু’কাধ পর্যন্ত ঝুলছিল। তার মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল। তিনি দুজন লোকের কাঁধে হাত রেখে কাবা শরীফ তাওয়াফ করছিলেন।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? তারা জবাব দিলেন ইনি হলেন, মসীহ ইবনে মারিয়াম। তারপর তাঁর পেছনে আর একজন লোককে দেখলাম।

তার মাথায় চুল ছিল বেশ কোঁকড়ানো, ডান চোখ টেড়া, আকৃতিতে সে আমার দেখা মত ইবনে কাতানের অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। সে একজন লোকেরা দু’কাধে ভর করে কাবার চারদিকে ঘুরছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হল মাসীহ দাজ্জাল।

 

বুখারি হাদিস নং ৩১৯৮

হাদীস নং ৩১৯৮

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ মাক্কী রহ……….সালিম রা.-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে ঈসা আ. রক্তিম বর্ণের ছিলেন।

বরং বলেছেন, একদা আমি স্বপ্নে কাবা ঘর তাওয়াফ করছিলাম। হঠাৎ সোজা চুল ও বাদামী রং বিশিষ্ট একজন লোক দেখলাম। পানি বেয়ে পড়ছে।

আমি বললাম, ইনি কে? তারা বললেন, ইনি মারিয়ামের পুত্র। তখন আমি এদিক সেদিক তাকালাম। হঠাৎ দেখলাম, এক ব্যক্তি তার গায়ের রং লালবর্ণ, খুব মোটা, মাথার চুল কোঁকড়ানো এবং তার ডান চোখ টেড়া। তার চোখ যেন ফুলা আঙ্গুলের ন্যায়।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হল দাজ্জাল। মানুষের মধ্যে ইবনে কাতানের সাথে তার অধিক সাদৃশ্য রয়েছে। যুহরী রহ. তার বর্ণনায় বলেন, ইবনে কাতান খুযাআ গোত্রের একজন লোক, সে জাহেলী যুগেই মারা গেছে।

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৯৯

হাদীস নং ৩১৯৯

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি মারিয়ামের পুত্র ঈসার বেশী নিকটতম। আর নবীগণ পরস্পর আল্লাতী ভাই অর্থাৎ দীনের মূল বিষয়ে এক এবং বিধানে বিভিন্ন। আমার ও তার (ঈসার) মাঝখানে কোন নবী নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩২০০

হাদীস নং ৩২০০

মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি দুনিয়া ও আখিরাতে ঈসা ইবনে মারিয়ামের সবচেয়ে নিকটমত। নবীগণ একে অন্যের আল্লাতী ভাই।

তাদের মা ভিন্ন ভিন্ন, অর্থাৎ তাদের বিধান ভিন্ন।(কিন্তু তাদের মূল দীন এক (তাওহীদ)। ইবরাহীম ইবনে তাহমান রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২০১

হাদীস নং ৩২০১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঈসা আ. এক ব্যক্তিকে চুরি করতে দেখলেন, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি চুরি করেছ? সে বলল, কখনও নয়।

সেই সত্তার কসম! যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই । তখন ঈসা আ. বললেন, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি আর আমি আমার দু’নয়নকে বাহ্যত সমর্থন করলাম না।

বুখারি হাদিস নং ৩২০২

হাদীস নং ৩২০২

হুমাইদী রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি উমর রা.-কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে অতিরঞ্জিত কর না, যেমন ঈসা ইবনে মারিয়াম আ. সম্পর্কে খৃষ্টানরা অতিরঞ্জিত করেছিল।

আমি তাঁর (আল্লাহর) বান্দা, বরং তোমরা আমার সম্পর্কে বলবে, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

বুখারি হাদিস নং ৩২০৩

হাদীস নং ৩২০৩

মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……..আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন লোক তার দাসীকে আদব-কায়দা শিখায় এবং তা ভালভাবে শিখায় এবং তাকে দীন শিখায় আর তা উত্তমভাবে শিখায় তারপর তাকে আযাদ করে দেয় অতঃপর তাকে বিয়ে করে তবে সে দুটি করে সওয়াব পাবে।

আর যদি কেউ ঈসা আ.-এর প্রতি ঈমান আনয়ন করে তারপর আমার প্রতিও ঈমান আনে, তার জন্যও দুটি করে সওয়াব রয়েছে। আর গোলাম যদি তার প্রতিপালককে ভয় করে এবং তার মনীবদেরকে মেনে চলে তার জন্যও দুটি করে সাওয়াব রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩২০৪

হাদীস নং ৩২০৪

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা হাশরের মাঠে খালি পা খালি গা এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত হবে।

তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন, যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। এটা আমার ওয়াদা। আমি তা অবশ্যই পূর্ণ করব।

(২১: ১০৪) এরপর (হাশরে) সর্বপ্রথম যাকে কাপড় পরানো হবে, তিনি হলেন ইবরাহীম আ. তারপর আমার সাহাবীদের কিছু সংখ্যককে ডান দিকে (বেহেশতে) এবং বাম দিকে (দোযখে) নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী। তখন বলা হবে আপনি তাদের থেকে বিদায় নেয়ার পর তারা মুরতাদ হয়ে গেছে।

তখন আমি এমন কথা বলব, যেমন বলেছিল, পূণ্যবান বান্দা ঈসা ইবনে মারিয়াম আ.। তার উক্তিটি হল এ আয়াত: আর আমি যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি তাদের উপর সাক্ষী ছিলাম। এরপর আপনি যখন আমাকে উঠিয়ে নিলেন তখন আপনিই তাদের হেফাযতকারী ছিলেন।

আর আপনি তো সব কিছুর উপরই সাক্ষী। যদি আপনি তাদেরকে আযাব দেন, তবে এরা তো আপনারই বান্দা। আর যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে আপনি নিশ্চয়ই পরাক্রমশীল ও প্রজ্ঞাময়।

(৫: ১১৭) কাবীসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এর হল ঐ সব মুরতাদ যারা আবু বকর রা.-এর খিলাফতকালে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। তখন আবু বকর রা. তাদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন।

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২০৫ – ঈসা ইবনে মারিয়াম আ.-এর অবতরণের বর্ণনা।

হাদীস নং ৩২০৫

ইসহাক রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, অচিরেই তোমদের মাঝে মারিয়ামের পুত্র ঈসা আ. শাসক ও ন্যায় বিচারক হিসেবে অবতরণ করবেন।

তিনি ‘ক্রুশ’ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর মেরে ফেলবেন এবং তিনি যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটাবেন। তখন সম্পদের স্রোত বয়ে চলবে। এমনকি কেউ তা গ্রহণ করতে চাইবে না।

তখন আল্লাহকে একটি সিজদা করা সমগ্র দুনিয়া এবং তার মধ্যকার সমস্ত সম্পদ থেকে বেশী মূল্যবান বলে গণ্য হবে। এরপর আবু হুরায়রা রা. বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে এর সমর্থনে এ আয়াতটি পড়তে পার।

কিতাবীদের মধ্যে প্রত্যেকে তাঁর (ঈসা আ.-এর মৃত্যুর পূর্বে তাকে বিশ্বাস করবেই এবং কিয়ামতের দিন তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২০৬

হাদীস নং ৩২০৬

ইবনে বুকাইর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের অবস্থা কেমন (আনন্দের) হবে যখন তোমাদের মাঝে মারিয়াম তনয় ঈসা আ. অবতরণ করবেন আর তোমাদের ইমাম তোমাদের মধ্য থেকেই হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩২০৭ – বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলীর বিবরণ।

হাদীস নং ৩২০৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………উকবা ইবনে আমর রা. হুযায়ফা রা.-কে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা কি আমাদের কাছে বর্ণনা করবেন না? তিনি জবাব দিলেন, আম তাকে বলতে শুনেছি, যখন দাজ্জাল বের হবে তখন তার সাথে পানি ও আগুন থাকবে।

এরপর মানুষ যাকে আগুনের মত দেখবে তা হবে আসলে শীতল পানি। আর যাকে মানুষ শীতল পানি ন্যায় দেখবে, তা হবে প্রকৃতপক্ষে দহনকারী আগুন।

তখন তোমাদের মধ্যে যে তার দেখা পাবে, সে যেন অবশ্যই তাঁতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যাকে সে আগুনের ন্যায় দেখতে পাবে। কেননা, প্রকৃতপক্ষে তা সুস্বাদু শীতল পানি। হুযায়ফা রা. বলেন, আমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে একজন লোক ছিল।

তার কাছে ফেরেশতা তার জান কবয করার জন্য এসেছিলেন। (তার মৃত্যুর পর) তাকে জিজ্ঞাসা করা হল। তুমি কি কোন ভাল কাজ করেছ? সে জবাব দিল, আমার জন্য নই।

তাকে বলা হল, একটু চিন্তা করে দেখ। সে বলল, এ জিনিসটি ব্যতীত আমার আর কিছুই জানা নেই যে, দুনিয়াতে আমি মানুষের সাথে ব্যবসা করতাম। অর্থাৎ ঋণ দিতাম। আর তা আদায়ের জন্য তাদেরকে তাগাদা করতাম। আদায় না করতে পারলে আমি স্বচ্ছল ব্যক্তিকে সময় দিতাম আর অভাবী ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিতাম।

তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন। হুযায়ফা রা. বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এটাও বলতে শুনেছি যে, কোন এক ব্যক্তির মৃত্যুর সময় এসে হাজির হল। যখন সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেল।

তখন সে তার পরিজনকে ওসীয়াত করল, আমি যখন মরে যাব। তখন আমার জন্য অনেকগুলো কাঠ একত্র করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিও। (আর আমাকে তাতে ফেলে দিও) আগুন যখন আমার গোশত খেয়ে ফেলবে এবং আমার হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে আর আমার হাড়গুলো বেরিয়ে আসবে, তখন তোমরা তা নিয়ে গুড়ো করে ফেলবে।

তারপর যেদিন দেখবে খুব হাওয়া বইছে, তখন সেই ছাইগুলিকে উড়িয়ে দেবে। তার পরিজনেরা তাই করল। তারপর আল্লাহ সে সব একত্র করলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কাজ তুমি কেন করলে?

সে জবাব দিল, আপনার ভয়ে । তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। উকবা ইবনে আমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে ঐ ব্যক্তি ছিল কাফন চোর।

বুখারি হাদিস নং ৩২০৮

হাদীস নং ৩২০৮

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. ও আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের সময় হাযির হল।

তখন তিনি আপন চেহারার উপর তার একখানা চাদর দিয়ে রাখলেন। এরপর যখন খারাপ লাগল, তখন তাঁর চেহারা মোবারক হতে তা সরিয়ে দিলেন এবং তিনি এ অবস্থায়ই বললেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর লানত।

তারা তাদের নবীগণের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে রেখেছে। তারা যা করেছে তা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে সতর্ক করছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২০৯

হাদীস নং ৩২০৯

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু হাযিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পাঁচ বছর যাবত আবু হুরায়রা রা.-এর সাহচর্যে ছিলাম।

তখন আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বণী ইসরাঈলের নবীগণ তাদের উম্মতকে শাসন করতেন।

যখন কোন একজন নবী ইন্তেকাল করতেন, তখন অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিসিক্ত হতেন। আর আমার পরে কোন নবী নেই । তবে অনেক খলীফা হবে। সাহাবাগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদেরকে কি নির্দেশ করছেন?

তিনি বললেন, তোমরা একের পর এক করে তাদের বায়আতের হক আদায় করবে। তোমাদের উপর তাদের যে হক রয়েছে তা আদায় করবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন ঐ সকল বিষয় সমন্ধে যে সবের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিল।

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২১০

হাদীস নং ৩২১০

সাঈদ ইবনে আবু মারিয়াম রহ……….আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের তরীকাহ পুরোপুরি অনুসরণ করবে, প্রতি বিঘতে বিঘতে প্রবেশ করবে।

আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি ইয়হুদী ও নাসারার কথা বলেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে আর কার কথা?

বুখারি হাদিস নং ৩২১১

হাদীস নং ৩২১১

ইমরান ইবনে মাইসার রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবাগণ সালাতের জামাআতে শরীক হওয়ার জন্য) আগুন জ্বালানো এবং ঘণ্টা বাজানোর কথা উল্লেখ করলেন।

তখনই তাঁরা ইয়াহুদী ও নাসারার কথা উল্লেখ করলেন। এরপর বিলাল রা.-কে আযানের শব্দগুলো দু’দু বার করে এবং ইকামাতের শব্দগুলো বেজোর করে বলতে আদেশ করা হল।

বুখারি হাদিস নং ৩২১২

হাদীস নং ৩২১২

মুহাম্মদ বিনে ইউসুফ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি কোমরে হাত রাখাকে না পছন্দ করতেন। আর বলতেন, ইয়াহুদীরা এরূপ করে। শুবা রহ. আমাশ রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় সুফিয়ান রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২১৩

হাদীস নং ৩২১৩

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যেসব উম্মত অতীত হয়ে গেছে তাদের তুলনায় তোমাদের স্থিতিকাল হল আসরের সালাত এবং সূর্য ডুবার মধ্যবর্তী সময় টুকুর সমান।

আর তোমাদের ও ইয়াহুদী নাসারাদের দৃষ্টান্ত হল ঐ ব্যক্তির মত, যে কয়েকজন লোককে তার কাজে লাগালো এবং জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের মধ্যে কে আছে যে, আমার জন্য দুপুর পর্যন্ত এক কিরাতের বিনিময়ে কাজ করবে? তখন ইয়াহুদীরা এক এক কিরাতের বিনিময়ে দুপুর পর্যন্ত কাজ করল।

তারপর সে ব্যক্তি আবার বলল, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, সে দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত এক এক কিরাতের বিনিময়ে আমার কাজটুকু করে দেবে।

তখন নাসারারা এক কিরাতের বিনিময়ে দুপুর হতে আসর সালাত পর্যন্ত কাজ করল। সে ব্যক্তি পুনরায় বলল, কে এমন আছ, যে দু’ দু’ কিরাতের বদলায় আসর সালাত থেকে সূর্যাস্ত আমার কাজ করে দেবে?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, তোমরাই হলে সে সব লোক যারা আসর সালাত হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দু’ দু’ কিরাতের বিনিময়ে কাজ করলে।

দেখ, তোমাদের পারিশ্রমিক দ্বিগুণ। এতে ইয়াহুদী ও নাসারারা অসন্তুষ্ট হয়ে গেল এবং বলল, আমরা কাজ করলাম বেশী আর পারিশ্রমিক পেলাম কম। আল্লাহ বলেন, আমি কি তোমার পাওনা থেকে কিছু যুলুম বা কম করেছি? তারা উত্তরে বলল, না। তখন আল্লাহ বললেন, এই হল আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে ইচ্ছা, তা দান করে থাকি।

বুখারি হাদিস নং ৩২১৪

হাদীস নং ৩২১৪

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. বলেন, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ধ্বংস করুক।

সে কি জানেনা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ ইয়াহুদীদের উপর লানত করুন। তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল। তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করতে লাগল।

জাবির ও আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস বর্ণনায় ইবনে আব্বাস রা. -এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২১৫

হাদীস নং ৩২১৫

আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার কথা (অন্যদের নিকট) পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি আয়াতও হয়।

আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন দোযখকেই তার ঠিকানা নির্ধারিত করে নিল।

বুখারি হাদিস নং ৩২১৬

হাদীস নং ৩২১৬

আবদুল আযীয বিন আবদুল্লাহ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়াহুদী ও নাসারারা (দাঁড়ি ও চুলে) রং লাগায় না বা খেযাব দেয় না। অতএব তোমরা (রং বা খেযাব লাগিয়ে) তাদের বিপরীত কাজ কর।

বুখারি হাদিস নং ৩২১৭

হাদীস নং ৩২১৭

মুহাম্মদ রহ…………হাসান (বসরী) রহ. বলেন, জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ রা. বসরার এক মসজিদে আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেন। সে দিন থেকে আমরা না হাদীস ভুলেছি না আশংকা করেছি যে, জুনদুব রহ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছেন।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে একজন লোক আঘাত পেয়েছিল তাঁতে কাতর হয়ে পড়েছিল। এরপর সে একটি ছুরি হাতে নিল এবং তা দিয়ে সে তার হাতটি কেটে ফেলল। ফলে রক্ত আর বন্ধ হল না।

শেষ পর্যন্ত সে মারা গেল। মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাটি নিজেই প্রাণ দেয়ার ব্যাপারে আমার থেকে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করল (অর্থাৎ সে আত্মহত্যা করল)। কাজেই, আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম।

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২১৮ – একজন শ্বেতীরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধের বিবরণ সম্বলিত বুখারি হাদিস।

হাদীস নং ৩২১৮

আহমদ ইবনে ইসহাক ও মুহাম্মদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোক ছিল। একজন শ্বেতীরোগী, একজন মাথায় টাকওয়ালা আর একজন অন্ধ। মহান আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষা করতে চাইলেন।

কাজেই, তিনি তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা প্রথমে শ্বেতী রোগীটির নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে কোন জিনিস বেশী প্রিয় ?

সে জবাব দিল, সুন্দর রং ও সুন্দর চামড়া। কেননা, মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। ফেরেশতা তার শরীরের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে তার রোগ সেরে গেল। তাকে সুন্দর রং সুন্দর চামড়া দান করা হল। তারপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন ধরণের সম্পদ তোমার কাছে বেশী প্রিয়?

সে জবাব দিল, উট, অথবা সে বলল, ‘গরু’। এ ব্যাপারে বর্ণনাকারীর সন্দেহ রয়েছে যে শ্বেতীরোগী না টাকওয়ালা দু’জনের একজন বলেছিল উট আর অপরজন বলেছিল গরু। অতএব তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উটনী দেয়া হল।

তখন ফেরেশতা বললেন, এতে তোমার জন্য বরকত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, ফেরেশতা টাকওয়ালার কাছে গেলেন এবং যায়। মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। বর্ণনাকারী বলেন, ফেরেশতা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তৎক্ষণাৎ মাথার টাক চলে গেল। তাকে (তার মাথায়) সুন্দর চুল দেয়া হল।

ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল, গরু। তারপর তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করলেন।

এবং ফেরেশতা দু’আ করলেন, এতে তোমাকে বরকত দান করা হোক। তারপর ফেরেশতা অন্ধের নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন জিনিস তোমার কাছে বেশী প্রিয় ? সে বলল, আল্লাহ যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি মানুষকে দেখতে পারি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তখন ফেরেশতা তার চোখের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন, তৎক্ষণাৎ আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন।

ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন সম্পদ তোমার কাছে অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল ছাগল। তখন তিনি তাকে একটি গর্ভবতী ছাগী দিলেন। উপরে উল্লেখিত লোকদের পশুগুলো বাচ্চা দিল। ফলে একজনের উটে ময়দান ভরে গেল, অপরজনের গরুতে মাঠ পূর্ণ হয়ে গেল এবং আর একজনের ছাগলে উপত্যকা ভরে গেল।

এরপর ঐ ফেরেশতা তাঁর পূর্ববর্তী আকৃতি প্রকৃতি ধারণ করে শ্বেতরোগীর কাছে এসে বললেন, আমি একজন নিঃস্ব ব্যক্তি। আমার সফরের সকল (সম্বল) শেষ হয়ে গেছে।

আজ আমার গন্তব্য স্থানে পৌঁছার আল্লাহ ছাড়া কোন উপায় নেই । আমি তোমার কাছে ঐ সত্তার নামে একটি উট চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং কোমল চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন।

আমি এর উপর সাওয়ার হয়ে আমার গন্তব্যে পৌঁছাব। তখন লোকটি তাকে বলল, আমার উপর বহু দায় দায়িত্ব রয়েছে। (কাজেই আমার পক্ষে দান করা সম্ভব নয়)। তখন ফেরেশতা তাকে বললেন, সম্ভবত আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি এক সময় শ্বেতরোগী ছিলেনা? মানুষ তোমাকে ঘৃণা করত।

তুমি কি ফকীর ছিলে না? এরপর আল্লাহ তা’আলা তোমাকে (প্রচুর সম্পদ) দান করেছেন। তখন সে বলল, আমি তো এ সম্পদ আমার পূর্বপুরুষ থেকে ওয়ারিশ সুত্রে পেয়েছি।

ফেরেশতা বললেন, তুমি যদি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে সেরূপ করে দিন, যেমন তুমি ছিলে। তারপর ফেরেশতা মাথায় টাকওয়ালার কাছে তাঁর সেই বেশভূষা ও আকৃতিতে গেলেন এবং তাকে ঠিক তদ্রুপই বললেন, যেরূপ তিনি শ্বেতী রোগীকে বলেছিলেন।

এও তাকে ঠিক অনুরূপ জবাব দিল যেমন জবাব দিয়েছিল শ্বেতরোগী। তখন ফেরেশতা বললেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন অবস্থায় করে দিন, যেমন তুমি ছিলে।

শেষে ফেরেশতা অন্ধ লোকটির কাছে তাঁর আকৃতিতে আসলেন এবং বললেন, আমি একজন নিঃস্ব লোক, মুসাফির মানুষ ; আমার সফরের সকল সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আজ বাড়ী পৌঁছার ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া কোন গতি নেই। তাই আমি তোমার কাছে সেই সত্তার নামে একটি ছাগী প্রার্থনা করছি।

যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন আর আমি এ ছাগীটি নিয়ে আমার এ সফরে বাড়ী পৌঁছতে পারব। সে বলল, বাস্তবিকই আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

আমি ফকীর ছিলাম। আল্লাহ আমাকে ধনী করেছেন। এখন তুমি যা চাও নিয়ে যাও। আল্লাহর কসম! আল্লাহর ওয়াস্তে তুমি যা কিছু নিবে, তার জন্য আজ আমি তোমার নিকট কোন প্রশংসাই দাবী করব না।

তখন ফেরেশতা বললেন, তোমার মাল তুমি রেখে দাও। তোমাদের তিন জনকে পরীক্ষা করা হল মাত্র। আল্লাহ তোমাদের তিন জনকে পরীক্ষা করা হল মাত্র। আল্লাহ তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তোমার সাথী দু’জনের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২১৯ – গুহার ঘটনা।

হাদীস নং ৩২১৯

ইসমাঈল ইবনে খালীল রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগের লোকদের মধ্যে তিনজন লোক ছিল। তাঁরা পথ চলছিল। হঠাৎ তাদের বৃষ্টি পেয়ে গেল।

তখন তারা এক গুহায় আশ্রয় নিল। অমনি তাদের গুহার মুখ (একটি পাথর চাপা পড়ে) বন্ধ হয়ে গেল। তাদের একজন অন্যদেরকে বললেন, বন্ধুগণ আল্লাহ কসম! এখন সত্য ছাড়া কিছুই তোমাদেরকে মুক্ত করতে পারবে না।

কাজেই, এখন তোমাদের প্রত্যেকের সেই জিনিসের উসিলায় দু’আ করা উচিত,যে ব্যাপারে জানা রয়েছে যে, এ কাজটিতে সে সত্যতা বহাল রেখেছে। তখন তাদের একজন (এই বলে) দু’আ করলেন হে আল্লাহ ! আপনি জানেন যে, আমার একজন মযদুর ছিল।

আমি এক ফারাক (পরিমাণ) চাউলের বিনিময়ে একজন মজুর রেখেছিলাম। যখন সে তার কাজ শেষ করল আমাকে বলল, আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি যখন তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারপর আমি সে এক ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু খরিদ করি ।

সে মজুর এসে আমার মুজরী দাবী করল। আমি বললাম, এই গাভীটির দিকে তাকাও এবং তা হাঁকিয়ে নিয়ে যাও। সে বলল, আমার তো আপনার কাছে মাত্র এক ফারাক চাউলই প্রাপ্য।

আমি তাকে বললাম, গাভীটি নিয়ে যাও। কেননা, (তোমার) সেই এক ফারাক দ্বারা যা উৎপাদিত হয়েছে, তারই বিনিময়ে এটি খরীদ করা হয়েছে। তখন সে তা নিয়ে গেল। (হে আল্লাহ !) তুমি যদি জান আমি তা তোমারই ভয়েই করছি, তবে আমাদের (গুহার মুখ) থেকে (এই পাথরটি) সরিয়ে দাও।

তখন তাদের কাছ থেকে পাথরটি কিছুটা সরে গেল। তাদের আরেকজন দু’আ করল, হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার মা-বাপ খুব বৃদ্ধ ছিলেন। আমি প্রতি রাতে তাদের জন্য আমার বকরীর দুধ নিয়ে তাদের কাছে যেতাম। ঘটনাক্রমে একরাতে তাদের কাছে যেতে আমি দেরী করে ফেললাম।

তারপর এমন সময় গেলাম, যখন তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন। এদিকে আমার পরিবার পরিজন ক্ষুধার কারণে চিৎকার করছিল। আমার মাতা-পিতাকে দুধ পান করান পর্যন্ত ক্ষুধায় কাতর আমার সন্তানদেরকে দুধ পান করাইনি। কেননা, তাদেরকে ঘুম থেকে জাগানটা আমি পছন্দ করিনি।

অপরদিকে তাদেরকে বাদ দিতেও ভাল লাগেনি। কারণ, এ দুধটুকু পান না করলে তাঁরা উভয়েই দুর্বল হয়ে যাবেন। তাই (দুধ হাতে) আমি (সারারাত) ভোর হয়ে যাওয়া পর্যন্ত (তাদের জাগ্রত হবার) অপেক্ষা করছিলাম।

আপনি যে, একাজ আমি করেছি, একমাত্র আপানার ভয়ে তাই আমাদের থেকে (পাথরটি) সরিয়ে দিন। তারপর পাথরটি তাদের থেকে আরেকটু সরে গেল। এমনকি তার আসমান দেখতে পেল। অপর ব্যক্তি দু’আ করল, হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার একটি চাচাতো বোন ছিল।

সবার চেয়ে সে আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিল। আমি তার সাথে (মিলনের) বাসনা করছিলাম। কিন্তু সে একশ দীনার (স্বর্ণ মুদ্রার) প্রদান ব্যতিত ঐ কাজে রাযী হতে চাইল না।

আমি স্বর্ণমুদ্রা অর্জনের চেষ্টা আরম্ভ করলাম এবং তা অর্জনে সমর্থও হলাম। তারপর কথিত মুদ্রাসহ তার নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে তা অর্পণ করলাম।

সেও তার দেহ আমার ভোগে অর্পণ করল। আমি যখন তার দুই পায়ের মাঝে বসে পড়লাম। তখন সে বলল, আল্লাহকে ভয় কর, অন্যায় ও অবৈধভাবে পবিত্র ও রক্ষিত আবরুকে বিনষ্ট করো না।

আমি তৎক্ষণাৎ সরে পড়লাম ও স্বর্ণমুদ্রা ছেড়ে আসলাম। হে আল্লাহ ! আপনি জানেন যে, আমি প্রকৃতই আপনার ভয়ে তা করে ছিলাম। তাই আমাদের রাস্তা প্রশস্ত করে দাও। আল্লাহ (তাদের) সংকট দূরীভূত করলেন। তারা বের হয়ে আসল।

বুখারি হাদিস নং ৩২২০ – পরিচ্ছেদ : ২০৫০

হাদীস নং ৩২২০

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, একদা একজন মহিলা তার কোলের শিশুকে স্তন্য পান করাচ্ছিল। এমন সময় একজন অশ্বারোহী তাদের নিকট দিয়ে গমন করে।

মহিলাটি বলল, মহিলাটি দু’আ করল, ইয়া আল্লাহ আমার ছেলেটি তার মত না বানিয়ে মৃত্যু দান করো না। শিশুটি তখন বলে উঠল, ইয়া আল্লাহ! আমাকে তার মত করনা। এরপর মুখ ফিরিয়ে দুধ পান করতে লাগল। তারপর একজন মহিলাকে কতিপয় লোক অপমানজনক ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে করতে টেনে নিয়ে চলছিল।

ঐ মহিলাকে দেখে শিশুর মাতা বলে উঠল, ইয়া আল্লাহ! আমার শিশুটিকে এর মত করো না, শিশুটি তৎক্ষণাৎ বলে উঠল, ইয়া আল্লাহ! আমাকে তার মত কর।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ অশ্বারোহী ব্যক্তি কাফির ছিল আর ঐ মহিলাকে লক্ষ্য করে লোকজন বলছিল, তুই ব্যভিচারিণী, সে বলছিল হাসবি আল্লাহ- আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তারা বলছিল তুই চোর আর সে বলছিল হাসবি আল্লাহ- আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট।

বুখারি হাদিস নং ৩২২১

হাদীস নং ৩২২১

সাঈদ ইবনে তালীদ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, একদা একটি কুকুর এক কূপের চারদিকে ঘুরছিল এবং প্রবল পিপাসার কারণে সে মৃত্যুর নিকটে পৌঁছেছিল।

তখন বনী ইসরাঈলের ব্যাভিচারিণীদের একজন কুকুরটির অবস্থা লক্ষ্য করল, এবং তার পায়ের মোজার সাহায্য পানি সংগ্রহ করে কুকুরটিকে পান করল। এ কাজের প্রতিদানে আল্লাহ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

 আম্বিয়া কিরাম ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২২২

হাদীস নং ৩২২২

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….হুমাইদ ইবনে আবদুর রাহমান রহ. বর্ণিত, তিনি মুআবিয়া ইবনে আবু আবু সুফিয়ান রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, তার হজ্জ পালনের বছর মিম্বরে নববীতে উপবিষ্ট অবস্থায় তাঁর দেহরক্ষীদের নিকট হতে মহিলাদের একগুচ্ছ কেশ নিজ হাতে নিয়ে বলেন যে, হে মদিনাবাসী ! কোথায় তোমাদের আলিম সমাজ ?

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ জাতীয় পরচুলা ব্যবহার থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস প্রাপ্ত হয়, যখন তাদের মহিলাগণ এ জাতীয় পরচুলা ব্যবহার করতে আরম্ভ করে।

আরও পড়ুনঃ

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইজারা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হাদিসশাস্ত্র (উলুমুল হাদিস)

মন্তব্য করুন