আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায়

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২২৩

হাদীস নং ৩২২৩

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে মুহাদ্দাস (ইলহাম প্রেরণা প্রাপ্ত) ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে, তবে সে নিশ্চয় উমর ইবনুল খাত্তাব রা. হবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২২৪

হাদীস নং ৩২২৪

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈলের মাঝে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে নিরানব্বইটি নর হত্যা করেছিল।

তারপর (অনুশোচনা করত: নাজাতের পথের অনুসন্ধানে বাড়ী থেকে) বের হয়ে একজন পাদরীকে জিজ্ঞাসা করল, আমার তওবা কবুল হওয়ার আশা আছে কি? পাদরী বলল, না। তখন সে পাদরীকেও হত্যা করল। এরপর পুনরায় সে (লোকদের নিকট) জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল।

তখন এক ব্যক্তি বলল, তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সে রওয়ানা হল এবং পথিমধ্যে তার মৃত্যু এসে গেল। সে তার বক্ষদেশ দ্বারা সে স্থানটির দিকে ঘুরে গেল।

মৃত্যুর পর রহমত ও আযাবের ফেরেশতাগণ তার রূহকে নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেন। আল্লাহ সম্মুখের ভূমিকা (যেখানে সে তওবার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল) আদেশ করলেন, তুমি মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী হয়ে যাও। এবং পশ্চাতে ফেলে আসা স্থানকে (যেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল) আদেশ দিলেন, তুমি দূরে সরে যাও।

তারপর ফেরেশতাদের উভয় দলকে আদেশ দিলেন- তোমরা এখন থেকে উভয় দিকের দূরত্ব পরিমাপ কর। পরিমাপ করা হল, দেখা গেল যে, মৃত লোকটি সম্মুখের দিকে এক বিঘত অধিক অগ্রসরমান। আল্লাহর রহমতে সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হল।

বুখারি হাদিস নং ৩২২৫

হাদীস নং ৩২২৫

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত শেষে লোকজনের দিকে ঘুরে বসলেন এবং বললেন, একদা এক ব্যক্তি একটি গরু হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে এটির পিঠে চড়ে বসল এবং ওকে প্রহার করতে লাগল।

তখন গরুটি বলল, আমাদেরকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাদেরকে চাষাবাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। ইহা শুনে লোকজন বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ ! গরুও কথা বলে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এবং আবু বকর ও উমর ইহা বিশ্বাস করি।

অথচ তখন তাঁরা উভয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এবং জনৈক রাখাল একদিন তার ছাগল পালের মাঝে অবস্থান করছিল, এমন সময় একটি চিতা বাঘ পালে ঢুকে একটি ছাগল নিয়ে গেল।

রাখাল বাঘের পিছু ধাওয়া করে ছাগলটি উদ্ধার করে নিল। তখন বাঘটি বলল, তুমি ছাগলটি আমার হতে কেড়ে নিলে বটে তবে ঐদিন কে ছাগলকে রক্ষা করবে?

যেদিন হিংস্র জন্তু ওদের আক্রমন করবে এবং আমি ছাড়া তাদের অন্য কোন রাখাল থাকবে না। লোকেরা বলল, সুবহানাল্লাহ ! চিতা বাঘ কথা বলে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এবং আবু বকর ও উমর ইহা বিশ্বাস করি।

অথচ তখন তাঁরা উভয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আলী ইবনে আবদুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত………..আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২২৬

হাদীস নং ৩২২৬

ইসহাক ইবনে নাসর রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে) এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তি হতে একখণ্ড জমি ক্রয় করেছিল।

ক্রেতা খরীদকৃত জমিতে একটা স্বর্ণ ভর্তি ঘড়া পেল। ক্রেতা বিক্রেতাকে তা ফেরত নিতে অনুরোধ করে বলল, কারণ আমি জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। বিক্রেতা বলল, আমি জমি এবং এত যা কিছু আছে সবই বিক্রয় করে দিয়েছি।

তারপর তারা উভয়ই অপর এক ব্যক্তির নিকট এর মিমাংসা চাইল। তিনি বলল, আমার একটি মেয়ে আছে। মিমাংসাকারী বলেন, তোমার মেয়েকে তার ছেলের সাথে বিবাহ দিয়ে দাও আর প্রাপ্ত স্বর্ণের মধ্যে কিছু তাদের বিবাহে ব্যয় কর এবং অবশিষ্টাংশ তাদেরকে দিয়ে দাও।

বুখারি হাদিস নং ৩২২৭

হাদীস নং ৩২২৭

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. উসামাহ ইবনে যায়েদ রা.-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্লেগ সম্বন্ধে কি শুনেছেন?

উসামাহ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর আপতিত হয়েছিল। অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেওনা।

আর যখন প্লেগ এমন স্থানে দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছ, তখন সে স্থান থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়োনা। আবু নযর রহ. বলেন, পলায়নের উদ্দেশ্যে এলাকা ত্যাগ করো না। তবে অন্য প্রয়োজনে যেতে পার, তাঁতে বাঁধা নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩২২৮

হাদীস নং ৩২২৮

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….নবী সহধর্মিণী আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্লেগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, উত্তরে তিনি বলেন, তা একটি আযাব বিশেষ।

আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা করেন তাদের উপর তা প্রেরণ করেন। আর আল্লাহ তা’আলা তাঁর মুমিন বান্দাগণের উপর তা (আযাবের সুরতে) রহমত স্বরূপ করে দিয়েছেন।

কোন ব্যক্তি যখন প্লেগক্রান্ত স্থানে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে। তবে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২২৯

হাদীস নং ৩২২৯

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, মাখযূম গোত্রের জনৈকা চোর মহিলার ঘটনা কুরাইশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করে তুলল।

এ অবস্থায় তারা (পরস্পর) বলাবলি করতে লাগল এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কে আলাপ আলোচনা (সুপারিশ) করতে পারে? তারা বলল, একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয়তম ব্যক্তি ওসামা ইবনে যায়েদ রা. এ জটিল ব্যাপারে আলোচনা করার সাহস করতে পারেন।

(নবীজীর খেদমতে তাকে পাঠান হল তিনি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে) ক্ষমা করেও দেয়ার সুপারিশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লংঘনকারীণীর সাজা (হাত কাটা) মাওকুফের সুপারিশ করছ?

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবায় বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে এ কাজই ধ্বংস করেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত।

অপরদিকে যখন কোন সহায়হীন দরিদ্র সাধারণ লোক চুরি করত, তখন তার উপর হদ (হাতকাটা দণ্ডবিধি) প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা ফাতিমা চুরি করত (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) তবে আমি তার হাত অবশ্যই কেটে ফেলতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩২৩০

হাদীস নং ৩২৩০

আদম রহ……… ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে কুরআনের একটি আয়াত (এমনভাবে) পড়তে শুনলাম যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার শ্রুত তিলাওয়াতের বিপরীত।

আমি তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি বললাম তখন তাঁর চেহারায় অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করলাম।

তিনি বললেন, তোমরা উভয়ই ভাল ও সুন্দর পড়েছ। তবে তোমরা ইখতিলাফ (মতবিরোধ) করো না। তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ইখতিলাফ ও মতবিরোধের কারণেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৩১

হাদীস নং ৩২৩১

উমর ইবনে হাফস রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখছি যখন তিনি একজন নবী আ.-এর অবস্থা বর্ণনা করছিলেন যে, তাঁর স্বজাতিরা তাকে প্রহার করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে আর তিনি তাঁর চেহারা থেকে মুছে ফেলছেন এবং বলছেন, হে আল্লাহ ! আমার জাতিকে ক্ষমা করে দাও, যেহেতু তারা অজ্ঞ।

বুখারি হাদিস নং ৩২৩২

হাদীস নং ৩২৩২

আবুল ওয়ালীদ রহ………..আবু সাঈদ রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে এক ব্যক্তি, আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল তখন সে তার ছেলেদেরকে একত্রিত করে জিজ্ঞাসা করল।

আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা উত্তর দিল আপনি আমাদের উত্তম পিতা ছিলেন। সে বলল, আমি জীবনে কখনও কোন নেক আমল করতে পারিনি।

আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমার লাশকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে রেখে দিও এবং প্রচণ্ড ঝড়ের দিন ঐ ভস্ম বাতাসে উড়িয়ে দিও। সে মারা গেল। ছেলেরা ওসিয়াত অনুযায়ী কাজ করল। আল্লাহ তা’আলা তার ভস্ম একত্রিত করে জিজ্ঞাসা করলেন, এমন অদ্ভুত ওসিয়াত করতে কে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করল?

সে জবাব দিল হে, আল্লাহ! তোমার শাস্তির ভয়। ফলে আল্লাহ রহমত তাকে ঢেকে নিল। মুআয রহ…….আবু সাঈদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২৩৩

হাদীস নং ৩২৩৩

মুসাদ্দাদ রহ……….হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল এবং সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেল।

তখন সে তার পরিবার পরিজনকে ওসিয়াত করল, যখন আমি মরে যাব তখন তোমরা আমার জন্য অনেক লাকড়ি জমা করে (তার ভিতরে আমাকে রেখে) আগুন জ্বালিয়ে দিও।

আগুন যখন আমার গোস্ত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হাঁড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তখন (অদগ্ধ) হাড়গুলি পিষে ছাই করে নিও। তারপর সে ছাই গরমের দিন কিংবা প্রচণ্ড বাতাসের দিনে সাগরে ভাসিয়ে দিও।

(তারা তাই করল) আল্লাহ তা’আলা (তার ভস্মীভূত দেহ একত্রিত করে) জিজ্ঞাসা করলেন, এমন কেন করলে? সে বলল, আপনার ভয়ে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। উকবা রহ. বলেন, আর আমিও তাকে (হুযায়ফা রা.-কে বলতে শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩২৩৪

হাদীস নং ৩২৩৪

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পূর্বযুগে কোন এক ব্যক্তি ছিল, যে, মানুষকে ঋণ প্রদান করত। সে তার কর্মচারীকে বলে দিত, তুমি যখন কোন অভাবীর নিকট টাকা আদায় করতে যাও, তখন তাকে মাফ করে দিও।

হয়ত আল্লাহ তা’আলা এ কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মৃত্যুর পর) যখন সে আল্লাহ তা’আলার সাক্ষাৎ লাভ করল, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৩৫

হাদীস নং ৩২৩৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পূর্বযুগে এক ব্যক্তি তার নফসের উপর অনেক যুলুম করেছিল।

যখন তার মৃত্যুকাল ঘনিয়ে এল, সে তার পুত্রদেরকে বলল, মৃত্যুর পর আমার দেহ হাড় মাংসসহ পুড়িয়ে দিয়ে ভস্ম করে নিও এবং (ভস্ম) প্রবল বাতাসে উড়িয়ে দিও। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ আমাকে ধরে ফেলেন, তবে তিনি আমাকে এমন কঠোরতম শাস্তি দিবেন যা অন্য কাউকেও দেননি।

যখন তার মৃত্যু হল, তার সাথে সে ভাবেই করা হল। তারপর আল্লাহ যমিনকে আদেশ করলেন, তোমার মাঝে ঐ ব্যক্তির যা আছে একত্রিত করে দাও।

(যমীন তৎক্ষণাৎ তা করে দিল) এ ব্যক্তি তখনই (আল্লাহ সম্মুখে) দাঁড়িয়ে গেল। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিসে তোমাকে এ কাজ করতে উদ্বদ্ধ করল ? সে বলল, হে প্রতিপালক তোমার ভয়ে, অতঃপর তাকে ক্ষমা করা হল। অন্য রাবী مخافتك স্থলে خشيتك বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২৩৬

হাদীস নং ৩২৩৬

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়েছিল।

সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মরে যায়। মহিলা ঐ কারণে জাহান্নামে গেল। কেননা, সে বিড়ালটিকে দানা-পানি কিছুই দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজ খুশিমতো যমীনের পোক-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত।

বুখারি হাদিস নং ৩২৩৭

হাদীস নং ৩২৩৭

আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……….আবু মাসউদ উকবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আম্বিয়া-এ কিরামের সর্বসম্মত উক্তিসমূহ যা মানব জাতি লাভ করেছে, তন্মধ্যে একটি হল, “যখন তোমার লজ্জা-শরম না তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার”।

বুখারি হাদিস নং ৩২৩৮

হাদীস নং ৩২৩৮

আদম রহ………..আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম যুগের আম্বিয়া-এ কিরামের সর্বসম্মত উক্তিসমূহ যা মানব জাতি লাভ করেছে, তন্মধ্যে একটি হল, “যখন তোমার লজ্জা-শরম না তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার”।

বুখারি হাদিস নং ৩২৩৯

হাদীস নং ৩২৩৯

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি গর্ব ও অহংকারের সহিত লুঙ্গী টাখনোর নীচে ঝুলিয়ে পথ চলছিল।

এমতাবস্থায় তাকে যমীনে ধ্বসিয়ে দেওয়া হল এবং কিয়ামত পর্যন্ত সে এমনি অবস্থায় নীচের দিকেই যেতে থাকবে। আবদুর রাহমান ইবনে খালিদ রহ. ইমাম যুহরী রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় ইউনুস রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩২৪০

হাদীস নং ৩২৪০

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পৃথিবীতে আমাদের আগমন সর্বশেষে হলেও কিয়ামত দিবসে আমরা অগ্রগামী।

কিন্তু, অন্যান্য উম্মতগণকে কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আর আমাদিগকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের পর। তারপর এ (ইবাদতের) যে সম্পর্ক তারা মতবিরোধ করেছে।

তা ইয়াহুদীদের মনোনীত শনিবার, খৃষ্টানদের মনোনীত রবিবার। প্রত্যেক মুসলমানদের উপর সপ্তাহে অন্তত: একদিন (অর্থাৎ শুক্রবার) গোসল করা কর্তব্য।

বুখারি হাদিস নং ৩২৪১

হাদীস নং ৩২৪১

আদম রহ………….সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, যখন মুআবিয়া আবু সুফিয়ান রা. মদীনায় সর্বশেষ আগমন করেন, তখন তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে এক গুচ্ছ পরচুলা বের করে বলেন, ইয়াহুদীগণ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যবহার করে বলে আমার ধারণা ছিল না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কর্মকে মিথ্যা প্রতারণা বলে আখ্যায়িত করেছেন । অর্থাৎ পরচুলা। গুনদর রহ. শুবা রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় আদম রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩২৪২ – আল্লাহ তা’আলার বাণী: হে মানুষ ! আমি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে। এরপর তোমাদিকে বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত করেছি। (৪৯: ৩)……

হাদীস নং ৩২৪২

খালিদ ইবনে ইয়াযীদ কাহিলী রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়াতে বর্ণিত, الشعوب অর্থ বড় গোত্র এবং القبائل অর্থ ছোট গোত্র।

আরও পড়ুনঃ

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন