আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায়

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৫২

হাদীস নং ৩১৫২

আবদা রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সম্মানিত ব্যক্তি -যিনি সন্তান সম্মানিত ব্যক্তির, যিনি সন্তান সম্মানিত ব্যক্তির, যিনি সন্তান সম্মানিত ব্যক্তির, তিনি হলেন ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আ.।

বুখারি হাদিস নং ৩১৫৩ – আল্লাহর বাণী: (আর স্মরণ কর) আইয়ূবের কথা। যখন তিনি তাঁর রবকে ডাকলেন……….২১: ৮৩)

হাদীস নং ৩১৫৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আলী জুফী রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদা আইয়্যূব আ. নগ্ন দেহে গোসল করছিলেন।

এমন সময় তাঁর উপর স্বর্ণের এক ঝাঁক পঙ্গপাল পতিত হল। তিনি সেগুলো দুহাতে ধরে কাপড়ে রাখতে লাগলেন। তখন তাঁর রব তাকে ডেকে বললেন, হে আইয়্যূব! তুমি যা দেখতে পাচ্ছ, তা থেকে কি আমি তোমাকে মুখাপেক্ষীহীন করে দেইনি?

তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, হে রব! কিন্তু আমি আপনার বরকতের অমুখাপেক্ষী নই।

বুখারি হাদিস নং ৩১৫৪ – (আল্লাহর বাণী) আর স্মরণ কর কিভাবে মূসার কথা। নিশ্চয়ই তিনি বলেছেন, বিশেষ মনোনীত অন্তরঙ্গ আলাপে (১৯: ৫১:৫২)

হাদীস নং ৩১৫৪

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………উরওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হেরা পর্বতের গুহা থেকে) খাদীজা রা.-এর নিকট ফিরে আসলেন তাঁর হৃদয় কাঁপছিল।

তখন খাদীজা রা. তাকে নিয়ে ওয়ারকা ইবনে নাওফলের নিকট গেলেন। তিনি খৃষ্টান ধর্ম অবলম্বন করেছিলেন। তিনি আরবী ভাষায় (অনুবাদ করে) ইনযীল পাঠ করতেন। ওয়ারকা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি দেখেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সব ঘটনা জানালেন।

তখন ওয়ারকা বললেন, এত সেই নামুস (ফেরেশতা) যাকে আল্লাহ তা’আলা মূসা আ.-এর কাছে নাযিল করেছিলেন। আপনার সে সময় যদি আমি পাই, তবে সর্বশক্তি দিয়ে আমি আপনাকে সাহায্য করব। নামুস অর্থ গোপন তত্ত্ব ও তথাবাহী যাকে কেউ কোন বিষয়ে খবর দেয় আর সে তা অপর থেকে গোপন রাখে।

বুখারি হাদিস নং ৩১৫৫ – মহান আল্লাহর বাণী: আপনার কাছে কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? তিনি যখন আগুন দেখলেন……..তুমি ‘তুয়া’ নামক এক পবিত্র ময়দানে রয়েছ।

হাদীস নং ৩১৫৫

হুদবা ইবনে খালিদ রহ……….মালিক ইবনে সাসাআ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজ রাত্রির ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তাদের কাছে এও বলেন, তিনি যখন পঞ্চাশ আকাশে এসে পৌঁছলেন, তখন হঠাৎ সেখানে হারূন আ.-এর সাথে সাক্ষাত হল।

জিবরাঈল আ. বললেন, ইনি হলেন, হারূন আ. তাকে সালাম করুন। তখন আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, মারহাবা পূণ্যবান ভাই ও পূণ্যবান নবী।

সাবিত এবং আব্বাদ ইবনে আবু আলী রহ. আনাস রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনায় কাতাদা র.-এর অনুরসণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৫৬ – (আল্লাহর বাণী) ফিরআউন বংশের এক ব্যক্তি যে মুমিন ছিল এবং নিজ ঈমান গোপন রাখত………সীমা লঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদী।

হাদীস নং ৩১৫৬

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা আ.-কে দেখতে পেয়েছি।

তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহ বিশিষ্ট ব্যক্তি, তাঁর চুল কুঁকড়ানো ছিলনা। মনে হচ্ছিল তিনি যেন ইয়ামান দেশীয় শানুআ গোত্রের একজন লোক, আর আমি ঈসা আ.-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন মধ্যম দেহ বিশিষ্ট গায়ের রং ছিল লাল। যেন তিনি এইমাত্র হাম্মাম থেকে বের হলেন।

আর ইবরাহীম আ.-এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সাথে আমার চেহারায় মিল সবচেয়ে বেশী। তারপর আমার সামনে দুটি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব।

তখন জিবরাঈল আ. বললেন, এ দুটির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম।

তখন বলা হল, আপনি ফিতরাত বা স্বভাব ও প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

বুখারি হাদিস নং ৩১৫৭

হাদীস নং ৩১৫৭

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন ব্যক্তির একথা বলা উচিৎ হবেনা যে, আমি (নবী) ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে উত্তম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা বলতে গিয়ে ইউনুস আ.-এর পিতার নাম উল্লেখ করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রজনীর কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন মূসা আ. বাদামী রং বিশিষ্ট দীর্ঘদেহী ছিলেন।

যেন তিনি শানুআ গোত্রের একজন লোক। তিনি আরো বলেছেন যে, ঈসা আ. ছিলেন মধ্য দেহী, কোঁকড়ানো চুলওয়ালা ব্যক্তি। আর তিনি দোযখের দারোগা মালিক এবং দাজ্জালের কথাও উল্লেখ করেছেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৫৮

হাদীস নং ৩১৫৮

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (হিজরত করে) মদীনায় আগমন করেন, তখন তিনি মদীনাবাসীকে এমনভাবে পেলেন যে, তার একদিন সাওম পালন করে অর্থাৎ সে দিনটি হল আশুরার দিন।

(জিজ্ঞাসা করার পর) তারা বলল, এটি একটি মহান দিবস। এমন দিন যে দিনে আল্লাহ মূসা আ.-কে নাজাত দিয়েছেন এবং ফিরাউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এরপর মূসা আ. শুকরিয়া হিসাবে এদিন সাওম পালন করেছেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম। মূসা আ.-এর অধিক ঘনিষ্ঠ। কাজেই তিনি নিজেও এদিন সাওম পালন করেছেন এবং (সবাইকে) এদিন সাওম পালনের আদেশ দিয়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৫৯ – মহান আল্লাহর বাণী: আর আমি ওয়াদা করেছিলাম মূসার সাথে ত্রিশ রাতের………আর আমিই মুমিনদের মধ্যে সর্বপ্রথম।

হাদীস নং ৩১৫৯

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সব মানুষ বেহুঁশ হয়ে যাবে। এরপর সর্বপ্রথম আমারই হুশ ফিরে আসবে।

তখন আমি মূসা আ.-কে দেখতে পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলোর একটি খুঁটি ধরে রয়েছেন। আমি জানিনা, আমার আগেই কি তাঁর হুশ আসল, না কি তুর পাহাড়ে বেহুঁশ হওয়ার প্রতিদান তাকে দেয়া হল।

বুখারি হাদিস নং ৩১৬০

হাদীস নং ৩১৬০

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ জুফী রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি বনী ইসরাঈল না হত, তবে গোশত পচন ধরত না। আর যদি (মা) হাওয়া আ. না হতেন, তাহলে কোন সময় কোন নারী তার স্বামীর খেয়ানত করত না।

বুখারি হাদিস নং ৩১৬১ – খাযির আ. ও মূসা আ.-এর সম্পর্কিত ঘটনা।

হাদীস নং ৩১৬১

আমর ইবনে মুহাম্মদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এবং হুর ইবনে কায়েস ফাযারী মূসা আ.-এর সাথীর ব্যাপারে বিতর্ক করছিলেন।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তিনি হলেন, খাযির। এমনি সময় উবাই ইবনে কাব রা. তাদের উভয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন ইবনে আব্বাস রা. তাকে ডাকলেন এবং বললেন, আমি এবং আমার এ সাথী মূসা আ.-এর সাথী সম্পর্কে বিতর্ক করছি, যার সাথে সাক্ষাতের জন্য মূসা আ. পথের সন্ধান চেয়েছিলেন।

আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, মূসা আ. বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

তখন তাঁর কাছে একজন লোক আসল এবং জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি এমন কাউকে জানেন, যিনি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, না।

তখন মূসা আ.-এর প্রতি আল্লাহ ওহী পাঠায়ে জানায়ে দিলেন, হ্যাঁ, (তোমার চেয়েও অধিক জ্ঞানী) আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা আ. তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য পথের সন্ধান চেয়েছিলেন।

তখন তাঁর জন্য একটি মাছ নিদর্শন হিসাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হল এবং তাকে বলে দেওয়া হল, যখন তুমি মাছটি হারাবে, তখন তুমি পিছনে ফিরে আসবে, তাহলেই তুমি তাঁর সাক্ষাত পাবে। তারপর মূসা আ. নদীতে মাছের পিছে পিছে চলছিলেন, এমন সময় মূসা আ.-কে তাঁর খাদেম বলে উঠল, “আপনি কি লক্ষ্য করেছেন?

আমরা যখন ঐ পারটির কাছে অবস্থান করছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। বস্তুত: তার স্মরণ থেকে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল”।

(১৮ : ৬৩) মূসা আ. বললেন, আমরা তো সে স্থানেরই অনুসন্ধান করছিলাম। অতএব তাঁরা উভয়ে পিছনে ফিরে চললেন, এবং খাযিরের সাক্ষাত পেলেন। (১৮ :৬৪) তাদের উভয়েরই অবস্থার বর্ণনা ঠিক তাই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৬২

হাদীস নং ৩১৬২

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….সাঈদ ইবনে জুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা. -কে বললাম, নাওফল বিক্কালী ধারণা করছে যে, খাযিরের সঙ্গী মূসা বনী ইসরাঈলের নবী মূসা আ. নন; নিশ্চয়ই তিনি অপর কোন মূসা। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে।

উবাই ইবনে কাব রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একবার মূসা আ. বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে জ্ঞানী ? তিনি বললেন, আমি।

মূসা আ.-এর এ উত্তরে আল্লাহ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করেননি। আল্লাহ তাকে বললেন, বরং দুই নদীর সংযোগ স্থলে আমার একজন বান্দা আছে সে তোমার চেয়ে বেশী জ্ঞানী।

মূসা আ. আরয করলেন, হে আমার রব! তাঁর কাছে পৌঁছতে কে আমাকে সাহায্য করবে? কখন সুফিয়ান এভাবে বর্ণনা করেছেন, হে আমার রব! আমি তাঁর সাথে কিভাবে সাক্ষাত করব? আল্লাহ বললেন, তুমি একটি মাছ ধর এবং তা (ভাজা করে) একটি থলের মধ্যে ভরে রাখ।

যেখানে গিয়ে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন। তারপর মূসা আর একটি মাছ ধরলেন এবং (তা ভাজা করে) থলের মধ্যে ভরে রাখলেন। এরপর তিনি এবং তাঁর সাথী ইউশা ইবনে নূন চলতে লাগলেন অবশেষে তাঁরা উভয়ে (নদীর তীরে) একটি পাথরের নিকট এসে পৌঁছে তার উপরে উভয়ে মাথা রেখে বিশ্রাম করলেন।

এ সময় মূসা আ. ঘুমিয়ে পড়লেন আর মাছটি (জীবিত হয়ে) নড়াচড়া করতে করতে থলে থেকে বের হয়ে নদীতে নেমে গেল।

এরপর সে নদীতে সুড়ঙ্গ আকারে আপন পথ করে নিল আর আল্লাহ মাছটির চলার পথে পানির গতি থামিয়ে দিলেন। ফলে তার গমন পথটি সুড়ঙ্গের ন্যায় হয়ে গেল। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারা করে বললেন, এভাবে সুড়ঙ্গের মত হয়েছিল।

এরপর তাঁরা উভয়ে অবশিষ্ট রাত এবং পুরো দিন পথ চলবেন। অবশেষে যখন পরের দিন ভোর হল তখন মূসা আ. তাঁর যুবক সাথীকে বললেন, আমার ভোরের খাবার আন। আমি এ সফরে খুব ক্লান্তি অনুভব করছি। বস্তুত: মূসা আ. যে পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম না করছেন সে পর্যন্ত তিনি সফরে কোন ক্লান্তিই অনুভব করেননি।

তখন তাঁর সাথী তাকে বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন সেই পাথরটির কাছে বিশ্রাম নিয়েছিলাম (তখন মাছটি পানিতে চলে গেছে) মাছটি চলে যাওয়ার কথা বলতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। প্রকৃতপক্ষে আপনার কাছে তা উল্লেখ করতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে।

বস্তুত: মাছটি নদীতে আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করে নিয়েছে। (রাবী বলেন) পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাদের জন্য ছিল একটি আশ্চর্যজনক ব্যপার।

মূসা আ. তাকে বললেন, সে তাইতো সেই স্থান যা আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি। এরপর উভয়ে নিজ নিজ পদচিহ্ন অনুসরণ করতে করতে পিছনের দিকে ফিরে চললেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা উভয়ে সেই পাথরটির কাছে এসে পৌঁছলেন এবং দেখলেন সেখানে একজন লোক কাপড়ে আবৃত হয় আছেন। মূসা আ. তাকে সালাম করলেন।

তিনি সালামের জওয়াব দিয়ে বললেন, এখানে সালাম কি করে এল? তিনি বললেন, আমি মূসা (আমি এ দেশের লোক নই)। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি বনী ইসরাঈলের (নবী) মূসা? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আপনার নিকট এসেছি, সরল সঠিক জ্ঞানের ঐ সব কথাগুলো শিখার জন্য যা আপনাকে শিখানো হয়েছে।

তিনি বললেন, হে মূসা ! আমার আল্লাহর প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে, যা আল্লাহ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনি তা জানেন। আর আপনারও আল্লাহ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে, যা আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছে, আমি তা জানিনা।

মূসা আ. বললেন, আমি কি আপনার সঙ্গী হতে পারি? খাযির আ. বললেন, আপনি আমার সাথে থেকে ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হবেন না আর আপনি এমন বিষয়ে ধৈর্য রাখবেন কি করে, যার রহস্য অনুধাবন করা আপনার জানা নেই? (মূসা আ. বললেন, ইনশা আল্লাহ আপনি আমাকে একজন ধৈর্য ধারণকারী হিসেবে দেখতে পাবেন।

আমি আপনার কোন নির্দেশই অমান্য করব না। এরপর তাঁরা উভয়ে রওয়ানা হয়ে নদীর তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। এমন সময় একটি নৌকা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল।

তারা তাদেরকেও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন। তারা খাযির আ.-কে চিনে ফেললেন এবং তারা তাকে তাঁর সঙ্গীসহ পারিশ্রমিক ব্যতিরেকেই নৌকায় তুলে নিল।

তাঁরা দুজন যখন নৌকায় আরোহণ করলেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির এক পাশে বসল এবং একবার কি দু’বার নদীর পানিতে সে তার ঠোঁট ডুবাল। খাযির আ. বললেন, হে মূসা আ.! আমার এবং তোমার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহর জ্ঞান হতে ততটুকুও হ্রাস পায়নি যতটুকু এ পাখিটি তার ঠোঁটের সাহায্য নদীর পানি হ্রাস করেছে।

তারপর খাযির আ. হঠাৎ করে একটি কুঠার নিয়ে নৌকার একটি তক্তা খুলে ফেললেন, মূসা আ. অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেলেন তিনি কুঠার দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেন।

তখন তাকে তিনি বললেন, আপনি এ কি করলেন? লোকেরা আমাদের পারিশ্রমিক ছাড়া নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি তাদের নৌকার আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন?

এত আপনি একটি গুরুতর কাজ করলেন। খাযির আ. বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি কখনও আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবেন না? মূসা আ. বললেন, আমি যে বিষয়টি ভুলে গেছি, তার জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন না। আর আমার এ আচরণে আমার প্রতি কঠোর হবেন না।

মূসা আ.-এর পক্ষ থেকে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে। এরপর যখন তাঁরা উভয়ে নদী পার হয়ে আসলেন, তখন তাঁরা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন সে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলছিল। খাযির আ. তার মাথা ধরলেন এবং নিজ হাতে ছেলেটির ঘাড় পৃথক করে ফেললেন।

একথাটি বোঝানোর জন্য সুফিয়ান রহ. তাঁর একটি হাতের আঙ্গুল গুলোর অগ্রভাগ দ্বারা এমনভাবে ইশারা করলেন যেন তিনি কোন জিনিস ছিড়ে নিচ্ছিলেন। এতে মূসা আ. তাকে বললেন, আপনি কি একটি নিষ্পাপ ছেলেকে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি গর্হিত কাজ করলেন।

খাযির আ. বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না? মূসা আ. বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সঙ্গে রাখবেন না। কেননা আপনার উযর আপত্তি চুড়ান্ত হয়েছে।

এরপর তাঁরা চলতে লাগলেন শেষ পর্যন্ত তাঁরা এক লোকালয়ে এসে পৌঁছলেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল।

তারপর তাঁর সেখানেই একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তা একদিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। খাযির আ. তা নিজের হাতে সোজা করে দিলেন। রাবী আপন হাতে ইশারা করলেন। আর সুফিয়ান রহ. এমনিভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস উপরের দিকে উচিয়ে দিচ্ছেন।

‘ঝুকে পড়েছে’ একথাটি আমি সুফিয়ানকে মাত্র একবার বলতে শুনেছি। মূসা আ. বললেন, তারা এমন মানুষ যে, আমরা তাদের কাছে আসলাম, তারা আমাদেরকে না খাবার পরিবেশন করল, না আমাদের মেহমানদারি করল আপনি এদের প্রাচীর সোজা করতে গেলেন।

আপনি ইচ্ছা করলে এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন। খাযির আ. বললেন, এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হল। তবে এখনই আমি আপনাকে অবহিত করছি ওসব কথার গুঢ় রহস্য, যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারিনি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদেরতো ইচ্ছা যে, মূসা আ. ধৈর্যধারণ করলে আমাদের কাছে তাদের আরো অনেক বেশী খবর বর্ণিত হত। সুফিয়ান রহ. বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ মূসা আ.-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন।

তিনি যদি ধৈর্যধারণ করতেন, তাহলে তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের কাছে আরো অনেক ঘটনা বর্ণিত হত। রাবী (সাঈদ ইবনে জুবাইর) বলেন, ইবনে আব্বাস রা. এখানে পড়েছেন, তাদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, সে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা জবরদস্তিমূলক ছিনিয়ে নিত।

আর সে ছেলেটি ছিল কাফির, তার মা-বাবা ছিলেন মুমিন। তারপর সুফিয়ান রহ. আমাকে বলেছেন, আমি এ হাদীসটি তাঁর (আমর ইবনে দীনার) থেকে দুবার শুনেছি এবং তাঁর নিকট হতেই মুখস্থ করছি।

সুফিয়ান রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কি আমর ইবনে দীনার রহ. থেকে শুনার আগেই তা মুখস্থ করেছেন না অপর কোন লোকের নিকট শুনে তা মুখস্থ করেছেন?

তিনি বললেন, আমি কার নিকট থেকে তা মুখস্থ করতে পারি? আমি ছাড়া আর কেউ কি এ হাদীস আমরের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন?

আমি তাঁর কাছ থেকেই শুনেছি দুইবার কি তিনবার। আর তাঁর থেকেই তা মুখস্থ করেছি। আলী ইবন খুশরম রহ. সুফিয়ান রহ. সূত্রে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৬৩

হাদীস নং ৩১৬৩

মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে আসবাহানী রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খাযির আ.-কে খাযির নামে অভিহিত করার কারণ হল এই যে, একদা তিনি ঘাস-পাতা বিহীন শুষ্ক সাদা জায়গায় বসেছিলেন। সেখান থেকে তাঁর উঠে যাওয়ার পরই হঠাৎ ঐ স্থানটি সবুজ হয়ে গেল। (এ ঘটনা থেকেই তাঁর নাম খাযির হয়ে যায়)।

বুখারি হাদিস নং ৩১৬৪

হাদীস নং ৩১৬৪

ইসহাক ইবনে নাসর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তোমরা দ্বার দিয়ে অবনত মস্তকে প্রবেশ কর আর মুখে বল, ‘হিত্তাতুন’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দাও)।

কিন্তু তারা এ শব্দটি পরিবর্তন করে ফেলল এবং প্রবেশ দ্বার দিয়ে যেন জানুনত না করতে হয় সে জন্য তারা নিজ নিজ নিতম্বের উপর ভর দিয়ে শহরে প্রবেশ করল আর মুখে বলল, ‘হাব্বাতুন ফী শা’আরাতিন’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদেরকে যবের দানা দাও)।

বুখারি হাদিস নং ৩১৬৫

হাদীস নং ৩১৬৫

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা আ. অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন, সব সময় শরীর আবৃত রাখতেন। তাঁর দেহের কোন অংশ খোলা দেখা যেতনা তা থেকে তিনি লজ্জাবোধ করতেন।

বনী ইসরাঈলের কিছু সংখ্যক লোক তাকে খুব কষ্ট দিত। তারা বলত, তিনি যে শরীরকে এত বেশী ঢেকে রাখেন, তার একমাত্র কারণ হল, তাঁর শরীরে কোন দোষ আছে। হয়ত শ্বেত রোগ অথবা একশিরা বা অন্য কোন রোগ আছে। আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করলেন মূসা আ. সম্পর্কে তারা যে অপবাদ রটিয়েছে তা থেকে তাকে মুক্ত করবেন।

এরপর একদিন নির্জন স্থানে গিয়ে তিনি একাকী হলেন এবং তাঁর পরণের কাপড় খুলে একটি পাথরের উপর রাখলেন, তারপর গোসল করলেন, গোসল সেরে যখনই তিনি কাপড় নেয়ার জন্য সেদিকে এগিয়ে গেলেন তাঁর কাপড়সহ পাথরটি ছুটে চলল।

এরপর মূসা আ. তাঁর লাঠিটি হাতে নিয়ে পাথরটির পেছনে পেছনে ছুটলেন। তিনি বলতে লাগলেন, আমার কাপড় হে পাথর! হে পাথর! পরিশেষে পাথরটি বনী ইসরাঈলের একটি জন সমাবেশে গিয়ে পৌঁছল।

তখন তারা মূসা আ.-কে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখল যে তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এবং তারা তাকে যে অপবাদ দিয়েছিল সে সব দোষ থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত।

আর পাথরটি থামল, তখন মূসা আ. তাঁর কাপড় নিয়ে পরিধান করলেন এবং তাঁর হাতের লাঠি দ্বারা পাথরটিকে জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন।

আল্লাহর কসম! এতে পাথরটিতে তিন, চার, কিংবা পাঁচটি আঘাতের দাগ পড়ে গেল। আর এটিই হল আল্লাহর এ বাণীর মর্ম : হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের ন্যায় হয়োনা যারা মূসা আ.-কে কষ্ট দিয়েছিল। এরপর আল্লাহ তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন তা থেকে যা তারা রটনা করেছিল। আর তিনি ছিলেন আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান। (৩৩: ৬৯)

বুখারি হাদিস নং ৩১৬৬

হাদীস নং ৩১৬৬

আবুল ওয়ালীদ রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা কিছু জিনিস (লোকদের মধ্যে) বণ্টন করেন।

তখন এক ব্যক্তি বলল, এত এমন ধরনের বণ্টন যা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে আসলাম এবং তাকে বিষয়টি জানালাম। তিনি খুব অসন্তুষ্ট হলেন, এমনকি তাঁর চেহারায় আমি অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেলাম।

এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসা আ.-এর প্রতি রহম করুন তাকে এর চেয়ে অনেক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ধৈর্যধারণ করেছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৬৭ – মহান আল্লাহর বাণী: তারা প্রতিমা পূজায় রত এক জাতির নিকট উপস্থিত হয়। (৭: ১৩৮)।

হাদীস নং ৩১৬৭

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘কাবাস’ (পিসু গাছের পাকা ফল বেছে নিচ্ছিলাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর মধ্যে কালোগুলো নেওয়াই তোমাদের উচিৎ। কেননা এগুলোই বেশী সুস্বাদু। সাহাবাগণ বললেন, আপনি কি ছাগল চরিয়েছিলেন? তিনি জওয়াব দিলেন, প্রত্যেক নবীই তা চরিয়েছেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৬৮ – মূসা আ.-এর ওফাত ও পরবর্তী অবস্থার বর্ণনা।

হাদীস নং ৩১৬৮

ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মওতের ফেরেশতাকে মূসা আ.-এর নিকট তাঁর (জান কবযের) জন্য পাঠান হয়েছিল। ফেরেশতা যখন তাঁর নিকট আসলেন, তিনি তাঁর চোখে থাপ্পর মারলেন। তখন ফেরেশতা তাঁর রবের নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, আপনি আমাকে এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না।

আল্লাহ বললেন, তুমি তার কাছে যাও এবং তাকে বল সে যেন তার একটি হাত একটি গরুর পিঠে রাখে, তার হাত যতগুলো পশম ঢাকবে তার প্রতিটি পশমের পরিবর্তে তাকে এক বছর করে হায়াত দেওয়া হবে।

মূসা আ. বললেন, হে রব! তারপর কি হবে? আল্লাহ বললেন, তারপর মৃত্যু। মূসা আ. বললেন, তাহলে এখনই হউক (বারী আবু হুরায়রা রা. বলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট আরয করলেন, তাকে যেন আরদে মুকাদ্দাস বা পবিত্র ভূমি থেকে একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বের সমান স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যদি সেখানে থাকতাম তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে রাস্তার পার্শ্বে লাল টীলার নীচে তাঁর কবরটি দেখিয়ে দিতাম।

রাবী আবদুর রাযযাক বলেন, মামার রহ……….আবু হুরায়রা রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৬৯

হাদীস নং ৩১৬৯

আবুল ইয়ামান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মুসলিম আর একজন ইয়াহুদী পরস্পরকে গালি দিল। মুসলিম ব্যক্তি বললেন, সেই সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমগ্র জগতের উপর মনোনীত করেছেন।

কসম করার সময় তিনি একথাটি বলেছেন। তখন ইয়াহুদী লোকটিও বলল, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসা আ.-কে সমগ্র জগতের উপর মনোনীত করেছেন।

তখন সেই মুসলিম সাহাবী সে সময় তার হাত উঠিয়ে ইয়াহুদী লোকটিকে একটি চড় মারলেন। তখন সে ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেল এবং ঐ ঘটনাটি অবহিত করলো যা তার ও মুসলিম সাহাবীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমাকে মূসা আ.-এর উপর অধিক মর্যাদা দেখাতে যেওনা (কেননা কিয়ামতের দিন) সকল মানুষ বেহুঁশ হয়ে যাবে। আর আমিই সর্বপ্রথম হুশ ফিরে পাব। তখনই আমি মূসা আ.-কে দেখব, তিনি আরশের একপাশে ধরে রয়েছেন।

আমি জানিনা, যারা বেহুঁশ হয়েছিল, তিনিও কি তাদের মধ্যে ছিলেন? তারপর আমার আগে তাঁর হুশ এসে গেছে? অথবা তিনি তাদেরই একজন, যাদেরকে আল্লাহ বেহুঁশ হওয়া থেকে বাদ দিয়েছিলেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৭০

হাদীস নং ৩১৭০

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম আ. ও মূসা আ. (রূহানী জগতে) তর্ক-বিতর্ক করছিলেন। তখন মূসা আ. তাকে বলছিলেন, আপনি সেই আদম যে, আপনার ভুল আপনাকে বেহেশত থেকে বের করে দিয়েছিল।

আদম আ. তাকে বললেন, আপনি সেই মূসা যে, আপনাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত দান এবং বাক্যালাপ দ্বারা সম্মানিত করেছিলেন।

তারপরও আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ে দোষারোপ করছেন যা আমার সৃষ্টির আগেই আমার তাকদীরে নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার বলেছেন, এ বিতর্কে আদম আ. মূসা আ.-এর উপর জয়ী হন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৭১

হাদীস নং ৩১৭১

মুসাদ্দাদ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে তিনি বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে আসলেন এবং বললেন, আমার নিকট সকল নবীর উম্মতকে পেশ করা হয়েছিল।

তখন আমি এক বিরাট দল দেখতে পেলাম, যা দিগন্ত ঢেকে ফেলেছিল।তখন বলা হল, ইনি হলেন মূসা আ. তাঁর কওমের সাথে।

বুখারি হাদিস নং ৩১৭২ – মহান আল্লাহর বাণী: আর যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য আল্লাহ ফিরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। আর মূলত: সে অনুগত লোকদেরই একজন ছিল। (৬৬: ১১-১২)

হাদীস নং ৩১৭২

ইয়াহইয়া ইবনে জাফর রহ………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের মধ্যে অনেকেই কামালিয়াত অর্জন করেছেন।

কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ইমরানের কন্যা মারইয়াম ব্যতীত আর কেউ কামালিয়াত অর্জনে সক্ষম হয়নি। তবে আয়েশার মর্যাদা সব মহিলার উপর এমন, যেমন সারীদে (গোশতের ঝোলে ভিজা রুটির) মর্যাদা সর্ব প্রকার খাদ্যের উপর।

বুখারি হাদিস নং ৩১৭৩ – মহান আল্লাহর বাণী: মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শুআইবকে পাঠিয়েছিলাম। (১১ : ৪৮)

হাদীস নং ৩১৭৩

মুসাদ্দাদ রহ. এবং আবু নুআইম রহ………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইউনুস আ. থেকে উত্তম। মুসাদ্দাদ রহ. বাড়িয়ে বললেন, ইউনুস ইবনে মাত্তা।

বুখারি হাদিস নং ৩১৭৪

হাদীস নং ৩১৭৪

হাফস ইবনে উমর রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন বান্দার জন্য এমন কথা বলা শোভনীয় নয় যে, নিশ্চয়ই আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনে মাত্তা থেকে উত্তম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (ইউনুসকে) তাঁর পিতার দিকে সম্পর্কিত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৭৫

হাদীস নং ৩১৭৫

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক ইয়াহুদী তার কিছু দ্রব্য সামগ্রী বিক্রির জন্য পেশ করছিল, তার বিনিময়ে তাকে এমন কিছু দেওয়া হল যা সে পছন্দ করল না। তখন সে বলল, না ! সেই সত্তার কসম, যে মূসা আ.-কে মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন।

এ কথাটি একজন আনসারী (মুসলিম) শুনলেন, তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। আর তার (ইয়াহুদীর) মুখের উপর এক চড় মারলেন। আর বললেন, তুমি বলছো সেই সত্তার কসম! যিনি মূসাকে মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে বিদ্যমান।

তখন সে ইয়াহুদী লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেল এবং বলল, হে আবুল কাসিম! নিশ্চয়ই আমার জন্য নিরাপত্তা এবং আহাদ রয়েছে অর্থাৎ আমি একজন যিম্মী। অতএব অমুক ব্যক্তির কি হল, কি কারণে সে আমার মুখে চড় মারলো?

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কেন তুমি তার মুখে চড় মারলে? আনসারী ব্যক্তি ঘটনাটি বর্ণনা করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। এমনকি তাঁর চেহারায় তা প্রকাশ পেল।

তারপর তিনি বললেন, আল্লাহর নবীগণের মধ্যে কাউকে কারো উপর (অন্যকে হেয় করে) মর্যাদা দান করো না। কেননা কিয়ামতের দিন যখন শিঙ্গায় ফুক দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ যাকে চাইবেন সে ব্যতীত আসমান ও যমীনের বাকী সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে।

তারপর দ্বিতীয়বার তাঁতে ফুক দেওয়া হবে। তখন সর্বপ্রথম আমাকেই উঠানো হবে। তখনই আমি দেখতে পাব মূসা আ. আরশ ধরে রয়েছেন।

আমি জানি না, তূর পর্বতের ঘটনার দিন তিনি যে বেহুঁশ হয়েছিলেন, এটা কি তারই বিনিময়, না আমারই আগে তাকে উঠানো হয়েছে? আর আমি এ কথাও বলি না যে কোন ব্যক্তি ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান।

বুখারি হাদিস নং ৩১৭৬

হাদীস নং ৩১৭৬

আবুল ওয়ালীদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন বান্দার পক্ষেই এ কথা বলা শোভনীয় নয় যে, আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে উত্তম।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৭৭ – মহান আল্লাহর বাণী: আমি দাউদকে ‘যাবুর’ দিয়েছি।(১৭: ৫৫)

হাদীস নং ৩১৭৭

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাউদ আ.-এর পক্ষে কুরআন (যাবুর) তিলাওয়াত সহজ করে দেয়া হয়েছিল।

তিনি তাঁর যানবাহনের পশুর উপর গদি বাঁধার আদেশ করতেন, তখন তার উপর গদি বাঁধা হত। তারপর তার যানবাহনের পশুটির উপর গদি বাঁধার পূর্বেই তিনি যাবুর তিলাওয়াত করে শেষ করে ফেলতেন।

তিনি নিজ হাতে উপার্জন করেই খেতেন। মূসা ইবনে উকবা রহ……….আবু হুরায়রা সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি রিওয়ায়েত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৭৮

হাদীস নং ৩১৭৮

ইয়াহয়াই ইবনে বুকাইর রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জানান হল যে, আমি বলছি, আল্লাহর কসম! আমি যতদিন বেচে থাকব ততদিন অবশ্যই আমি বিরামহীনভাবে দিনে সাওম পালন করব আর রাতে ইবাদতে রত থাকব।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমিই কি বলেছ, আল্লাহর কসম, আমি যতদিন বাচবো, ততদিন দিনে সাওম পালন করবো এবং রাতে ইবাদতে রত থাকব। আমি আরয করলাম, আমিই তা বলছি। তিনি বললেন, সেই শক্তি তোমার নেই ।

কাজেই সাওম পালন কর, ইফতারও কর অর্থাৎ বিরতি দাও। রাতে ইবাদতেও দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায় আর এটা সারা বছর সাওম পালন করার সমান। তখন আমি আরয করলাম।

ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এর চেয়েও বেশী সাওম পালন ক্ষমতা রাখি। তখন তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সাওম পালন কর আর দু’দিন ইফতার কর অর্থাৎ বিরতি দাও। তখন আমি আরয করালাম।

ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এর চেয়েও অধিক পালন করার শক্তি রাখি। তখন তিনি বললেন, তাহলে একদিন সাওম পালন কর আর একদিন বিরতি দাও।

এটা দাউদ আ.-এর সাওম পালনের পদ্ধতি। আর এটাই সাওম পালনের উত্তম পদ্ধতি। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এর চেয়েও বেশী শক্তি রাখি। তিনি বললেন, এর চেয়ে অধিক কিচু নেই।

বুখারি হাদিস নং ৩১৭৯

হাদীস নং ৩১৭৯

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি অবহিত হইনি যে, তুমি রাত ভর ইবাদত কর এবং দিন ভর সাওম পালন করি!

আমি বললাম হ্যাঁ। (খবর সত্য) তিনি বললেন, যদি তুমি এরূপ কর; তবে তোমার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাবে এবং দেহ অবসন্ন হয়ে যাবে।

কাজেই প্রতি মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। তাহলে তা সারা বছরের সাওমের সমতুল্য হয়ে যাবে। আমি বললাম, আমি আমার মধ্যে আরো বেশী পাই।

মিসআর রা. বলেন, এখানে শক্তি বুঝানো হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি দাউদ আ.-এর পদ্ধতিতে সাওম পালন কর।

তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন বিরত থাকতেন। আর শত্রু র সম্মুখীন হলে তিনি কখনও পলায়ন করতেন না।

বুখারি হাদিস নং ৩১৮০ – দাউদ আ.-এর পদ্ধতিতে সালাত আদায় এবং তাঁর পদ্ধতিতে সাওম পালন আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয়।…….

হাদীস নং ৩১৮০

কুতাবাই ইবনে সাঈদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সাওম হল দাউদ আ.-এর পদ্ধতিতে সাওম পালন করা।

তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন বিরতি দিতেন। আল্লাহর কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় সালাত হল দাউদ আ.-এর পদ্ধতিতে (নফল) সালাত আদায় করা।

তিনি রাতের প্রথমার্ধে ঘুমাতেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ দাঁড়িয়ে (নফল) সালাত আদায় করতেন আর বাকী ষষ্ঠাংশ আবার ঘুমাতেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৮১ – আল্লাহর বাণী: এবং স্মরণ কর আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদ এর কথা, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী ছিলেন।………..ফায়সালাকারী বাগ্মিতা (৩৮: ১৭-২০)

হাদীস নং ৩১৮১

মুহাম্মদ রহ…………মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমরা কি সূরা ছোয়াদ পাঠ করে সিজদা করব? তখন তিনি ومن ذريته داود وسليمان থেকে فبهداهم اقتده পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন।

এরপর ইবনে আব্বাস রা. বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব মহান ব্যক্তিদের একজন, যাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।( ৬: ৮৪-৯০)।

বুখারি হাদিস নং ৩১৮২

হাদীস নং ৩১৮২

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা ছোয়াদের সিজদা অত্যাশ্যকীয় নয়। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ সূরায় সিজদা করতে দেখেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩১৮৩ – মহান আল্লাহর বাণী: এবং দাউদকে সুলাইমান দান করলাম (পুত্র হিসাবে) তিনি ছিলেন উত্তম বান্দা এবং অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী (৩৮: ৩০)

হাদীস নং ৩১৮৩

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি অবাধ্য জ্বিন এক রাতে আমার সালাতে বিঘ্ন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমার নিকট আসল। আল্লাহ আমাকে তার উপর ক্ষমতা প্রদান করলেন।

আমি তাকে পাকড়াও করলাম এবং মসজিদের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার মনস্থ করলাম, যাতে তোমরা সবাই সচক্ষে তাকে দেখতে পাও।

তখনই আমার ভাই সুলাইমান আ.-এর এ দুআটি আমার মনে পড়ল। হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে দান করুন এমন এক রাজ্য যার অধিকারী আমার পরে আমি ছাড়া কেউ না হয়।

(৩৮: ৩৫) এরপর আমি জ্বিনটিকে ব্যর্থ এবং অপমানিত করে ছেড়ে দিলাম। জ্বিন অথবা ইনসানের অত্যন্ত পিশাচ ব্যক্তিকে ইফরীত বলা হয় ইফরীত ও ইফরীয়াতুন যিবনীয়তুন-এর ন্যায় এক বচন, যার বহুবচন যাবানিয়াতুন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৮৪

হাদীস নং ৩১৮৪

খালীদ ইবনে মাখলাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সুলাইমান ইবনে দাউদ আ. বলেছিলেন, আজ রাতে আমি আমার সত্তর জন্য স্ত্রীর নিকট যাব। প্রত্যেক স্ত্রী একজন করে অশ্বারোহী যোদ্ধা গর্ভধারণ করবে। এরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে।

তখন তাঁর সাথী বললেন, ইনশা আল্লাহ (বলুন)। কিন্তু তিনি মুখে তা বলেননি। এরপর একজন স্ত্রী ব্যতীত কেউ গর্ভধারণ করলেন না। সে যাও এক (পুত্র) সন্তান প্রসব করলেন।

তাও তার এক অঙ্গ ছিলনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি যদি ইনশা আল্লাহ মুখে বলতেন, তাহলে (সবগুলো সন্তানই জন্ম নিত এবং) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত।

শুআইব এবং ইবনে আবু যিনাদ রহ. এখানে নব্বই জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন আর এটাই সঠিক বর্ণনা।

বুখারি হাদিস নং ৩১৮৫

হাদীস নং ৩১৮৫

উমর ইবনে হাফস রহ…………আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বললেন, মসজিদে হারাম।

আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আকসা। আমি বললাম, এ দু’য়ের নির্মাণের মাঝখানে কত ব্যবধান?

তিনি বললেন, চল্লিশ (বছরের) (তারপর বললেন,) যেখানেই তোমরা সালাতের সময় হবে, সেখানেই তুমি সালাত আদায় করে নিবে। কেননা, পৃথিবীটাই তোমার জন্য মসজিদ।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৮৬

হাদীস নং ৩১৮৬

আবুল ইয়ামান রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার ও অন্যান্য মানুষের উপমা হল এমন যেমন কোন এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাল এবং তাতে পতঙ্গ এবং কীটগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে পড়তে লাগল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দু’জন মহিলা ছিল। তাদের সঙ্গে দুটি সন্তানও ছিল। হঠাৎ একটি বাঘ এসে তাদের একজনের ছেলেন নিয়ে গেল।

সাথের একজন মহিলা বলল, ‘তোমার ছেলেটিই বাঘে নিয়ে গেছে’। অপর মহিলাটি বলল, না, বাঘে তোমার ছেলেটি নিয়ে গেছে। তারপর উভয় মহিলাই দাউদ আ.-এর নিকট এ বিরোধ মিমাংসার জন্য বিচারপ্রার্থী হল। তখন তিনি ছেলেটির বিষয়ে বয়স্কা মহিলাটির পক্ষে রায় দিলেন।

তারপর তারা উভয়ে (বিচারালয় থেকে) বেরিয়ে দাউদ আ.-এর পুত্র সুলাইমান আ.-এর কাছ দিয়ে যেতে লাগল এবং তারা উভয়ে তাকে ঘটনাটি জানালেন।

তখন তিনি লোকদেরকে বললেন, তোমরা আমার কাছে একখানা ছোরা আনয়ন কর। আমি ছেলেটিকে দু’টুকরা করে তাদের উভয়ের মধ্যে ভাগ করে দেই।

এ কথা শুনে অল্প বয়স্কা মহিলাটি বলে উঠল, তা করবেন না, আল্লাহ আপনার উপর করুন। ছেলেটি তারই। (এটা আমি মেনে নিচ্ছি)। তখন তিনি ছেলেটির ব্যাপারে অল্প বয়স্কা মহিলাটির পক্ষেই রায় দিয়ে দিলেন।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, আল্লাহর কসম! ছোরা অর্থে ‘ছিক্কিন’ শব্দটি আমি ঐ দিনই শুনেছি। আর না হয় আমরা তো ছোরাকে ‘মুদইয়াতুন’ ই বলতাম।

আরও পড়ুনঃ

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

মন্তব্য করুন