আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায়

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১২৫

হাদীস নং ৩১২৫

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………সাঈদ ইবনে জুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রা. বলেণ, নারী জাতি সর্বপ্রথম কোমরবন্ধ বানানো শিখেছে ইসমাঈল আ.-এর মায়ের নিকট থেকে।

হাযেরা আ. কোমরবন্দ লাগাতেন সারাহ আ. থেকে নিজের মর্যাদা গোপন রাখার জন্য। তারপর (আল্লাহর হুকুমে) ইবরাহীম আ. হাযেরা আ. এবং তাঁর শিশু ছেলে ইসমাঈল আ.-কে সাথে নিয়ে বের হলেন, এ অবস্থায় যে, হাযেরা আ. শিশুকে দুধ পান করাতেন।

অবশেষে যেখানে কাবা ঘর অবস্থিত একটি বিরাট গাছের নীচে তাদেরকে রাখলেন। তখন মক্কায় না চিল কোন মানুষ না ছিল কোনরূপ পানির ব্যবস্থা।

পরে তিনি তাদেরকে সেখানেই রেখে গেলেন। আর এছাড়া তিনি তাদের কাছে রেখে গেলেন একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর এবং একটি মশকে কিছু পরিমাণ পানি। এরপর ইবরাহীম আ. ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল আ.-এ মা পিছু পিছু ছুটে আসলেন এবং বলতে লাগলেন, হে ইবরাহীম ! আপনি কোথায় চলে যাচ্ছেন ?

আমাদেরকে এমন এক ময়দানে রেখে যাচ্ছেন, যেখানে না আছে কোন সাহায্যকারী আর না আছে কোন (পানাহারের) কোন ব্যবস্থা। তিনি একথা তাকে বারবার বললেন। কিন্তু ইবরাহীম আ. তাঁর দিকে তাকালেন না। তখন হাযেরা আ. তাকে বললেন, এ (নির্বাসনের) আদশে কি আপনাকে আল্লাহ দিয়েছেন?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। হাযেরা আ. বললেন, তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। আর ইবরাহীম আ. ও সামনে চললেন।

চলতে চলতে যখন ঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি দু’হাত তুলে এ দুআ করলেন, আর বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার পরিবারের কতকে আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট এক অনুর্বর উপত্যকায়………..যাতে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

(১৪: ৩৭) আর ইসমাঈলের মা ইসমাঈলকে স্বীয় স্তন্যের দুধ পান করাতেন এবং নিজে ঐ মশক থেকে পানি পান করতেন। অবশেষে মশকে যা পানি ছিল তা ফুরিয়ে গেল।

তিনি নিজে পিপাসিত হলেন, এবং তাঁর শিশু পুত্রটিও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়ল। তিনি শিশুটির প্রতি দেখতে লাগলেন। পিপাসায় তার বুক ধড়ফড় করছে অথবা রাবী বলেন, সে মাটিতে পড়ে ছটফট করছে।

শিশুপুত্রের এ করুন অবস্থার প্রতি তাকানো অসহনীয় হয়ে পড়ায় তিনি সরে গেলেন আর তাঁর অবস্থানের সংলগ্ন পর্বত ‘সাফা’ কে একমাত্র তাঁর নিকটতম পর্বত হিসেবে পেলেন। এরপর তিনি তার উপর উঠে দাঁড়ালেন আর ময়দানের দিকে তাকালেন।

এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন, কোথায়ও কাউকে দেখা যায় কিনা? কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন সাফা পর্বত থেকে নেমে পড়লেন। এমন কি যখন তিনি নিচু ময়দান পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন তিনি তাঁর কামিজের এক প্রান্ত তুলে ধরে একজন শ্রান্ত-ক্লান্ত মানুষের ন্যায় ছুটে চললেন।

অবশেষে ময়দান অতিক্রম করে মারওয়া পাহাড়ের নিকট এসে তার উপর উঠে দাঁড়ালেন। তারপর এদিকে সেদিকে তাকালেন, কাউকে দেখতে পান কিনা? কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলেন না।

এমনিভাবে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করলেন। ইবনে আব্বাস আ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এজন্যই মানুষ (হজ্জ বা উমরার সময়) এ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যে সায়ী করে থাকে।

এরপর তিনি যখন মারওয়া পাহাড়ে উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং তিনি নিজেকেই নিজে বললেন, একটু অপেক্ষা কর। তিনি একাগ্রচিত্তে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তো তোমার শব্দ শুনিয়েছ।

যদি তোমার কাছে কোন সাহায্যকারী থাকে (তাহলে আমাকে সাহায্য কর)। হঠাৎ যেখানে যমযম কূপ অবস্থিত সেখানে তিনি একজন ফেরেশতা দেখতে পেলেন। সেই ফেরেশতা আপন পায়ের গোড়ালি দ্বারা আঘাত করলেন অথবা তিনি বলেছেন, আপন ডানা দ্বারা আঘাত করলেন। ফলে পানি বের হতে লাগল।

তখন হাযেরা আ.-এর চারপাশে নিজ হাতে বাঁধা দিয়ে একে হাউযের ন্যায় করে দিলেন এবং হাতের কোষভরে তাঁর মশকটিতে পানি ভরতে লাগলেন। তখনো পানি উপছে উঠতে থাকলো। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসমাঈলের মাকে আল্লাহ রহম করুন।

যদি তনি বাঁধ না দিয়ে যমযমকে এভাবে ছেড়ে দিতেন কিংবা বলেছেন, যদি কোষে ভরে পানি মশকে জমা না করতেন, তাহলে যমযম একটি কূপ না হয়ে একটি প্রবহমান ঝর্ণায় পরিণত হতো। রাবী বলেন, তারপর হাযেরা আ. পানি পান করলেন, আর শিশু পুত্রকেও দুধ পান করালেন, তখন ফেরেশতা তাকে বললেন, আপনি ধ্বংসের কোন আশংকা করবেন না।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

কেননা এখানেই আল্লাহর ঘরে রয়েছে। এ শিশুটি এবং তাঁর পিতা দু’জনে মিলে এখানে ঘর নির্মাণ করবে এবং আল্লাহ তাঁর আপনজনকে কখনও ধ্বংস করেন না। ঐ সময় আল্লাহর ঘরের স্থানটি যমীন থেকে টিলার ন্যায় উঁচু ছিল। বন্যা আসার ফলে তার ডানে বামে ভেঙ্গে যাচ্ছিল।

এরপর হাযেরা আ. এভাবেই দিন যাপন করছিলেন। অবশেষে জুরহুম গোত্রের কিছু লোক কাদা নামক উঁচু ভূমির পথ ধরে এদিকে আসছিল। তারা মক্কার নীচু ভূমিতে অবতরণ করল এবং তারা দেখতে পেল একঝাঁক পাখি চক্রাকারে উড়ছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয় এ পাখিগুলো পানির উপর উড়ছে।

আমরা এ ময়দানের পথ হয়ে বহুবার অতিক্রম করেছি। কিন্তু এখানে কোন পানি ছিল না। তখন তারা একজন কি দু’জন লোক সেখানে পাঠালো। তারা সেখানে গিয়েই পানি দেখতে পেল। তারা সেখান থেকে ফিরে এসে সকলকে পানির সংবাদ দিল। সংবাদ শুনে সবাই সেদিকে অগ্রসর হল।

রাবী বলেন, ইসমাঈল আ.-এর মা পানির নিকট ছিলেন। তারা তাকে বলল, আমরা আপনার নিকটবর্তী স্থানে বসবাস করতে চাই। আপনি আমাদেরকে অনুমতি দিবেন কি? তিনি জবাব দিলেন হ্যাঁ। তবে, এ পানির উপর তোমাদের কোন অধিকার থাকবে না। তারা হ্যাঁ, বলে তাদের মত প্রকাশ করল।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ ঘটনা ইসমাঈলের মাকে একটি সুযোগ এনে দিল। আর তিনিও মানুষের সাহচর্য চেয়েছিলেন। এরপর তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং তাদের পরিবার-পরিজনের নিকটও সংবাদ পাঠাল।

তারপর তারাও এসে তাদের সাথে বসবাস করতে লাগল। পরিশেষে সেখান তাদের কয়েকটি পরিবারের বসতি স্থাপিত হল। আর ইসমাঈলও যৌবনে উপনীত হলেন এবং তাদের থেকে আরবী ভাষা শিখলেন। যৌবনে পৌঁছে তিনি তাদের কাছে অধিক আকর্ষনীয় ও প্রিয়পাত্র হয়ে উঠলেন।

এরপর যখন তিনি পূর্ণ যৌবন লাভ করলেন, তখন তারা তাঁর সঙ্গে তাদেরই একটি মেয়েকে বিবাহ দিল। এরই মধ্যে ইসমাঈলের মা হাযেরা আ. ইন্তিকাল করেন। ইসমাঈলের বিবাহের পর ইবরাহীম আ. তাঁর পরিত্যক্ত পরিজনের অবস্থা দেখার জন্য এখানে আসলেন। কিন্তু ইসমাঈলকে পেলেন না।

তিনি তাঁর স্ত্রীকে তাঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন, স্ত্রী বলল, তিনি আমাদের জীবিকার খোঁজে বেরিয়ে গেছেন। এরপর তিনি পুত্রবধূকে তাদের জীবন যাত্রা এবং অবস্থা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, আমরা অতি দুরবস্থায়, অতি টানাটানি ও খুব কষ্টে আছি। সে ইবরাহীম আ.-এর নিকট তাদের দুর্দশার অভিযোগ করল।

তিনি বললেন, তোমার স্বামী বাড়ী আসলে, তাকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, সে যেন তার ঘরে দরজায় চৌকাঠ বদলিয়ে নেয়। এরপর যখন ইসমাঈল বাড়ী আসলেন, তখন তিনি যেন (তাঁর পিতা ইবরাহীম আ.-এর আগমনের) কিছুটা আভাস পেলেন। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কাছে কেউ কি এসেছিল? স্ত্রী বলল, হ্যাঁ।

এমন এমন আকৃতির একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিল এবং আমাকে আপনার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাকে আপনার সংবাদ দিলাম। তিনি আমাকে আমাদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাকে জানালাম, আমরা খুব কষ্ট ও অভাবে আছি।

ইসমাঈল আ. জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কি তোমাকে কোন উপদেশ দিয়েছেন? স্ত্রী বলল, হ্যাঁ। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন আপনাকে তাঁর সালাম পৌঁছাই এবং তিনি আরো বলেছেন, আপনি যেন আপনার ঘরের দরজার চৌকাঠ বদলিয়ে ফেলেন। ইসমাঈল আ. বললেন, ইনি আমার পিতা ।

এ কথা দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, আমি যেন তোমাকে পৃথক করে দেই। অতএব তুমি তোমার আপন জনদের কাছে চলে যাও। এ কথা বলে, ইসমাঈল আ. তাকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং ঐ লোকদের থেকে অপর একটি মেয়েকে বিবাহ করলেন।

এরপর ইবরাহীম আ. এদের থেকে দূরে রইলেন, আল্লাহ যতদিন চাইলেন। তারপর তিনি আবার এদের দেখতে আসলেন। কিন্তু এবারও তিনি ইসমাঈল আ.-এর দেখা পেলেন না। তিনি ছেলের বউয়ের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাকে ইসমাঈল আ. সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।

সে বলল, তিনি আমাদের খাবারের খোঁজে বেরিয়ে গেছেন। ইবরাহীম আ. জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কেমন আছ? তিনি তাদের জীবনযাপন ও অবস্থা জানতে চাইলেন। তখন সে বলল, আমরা ভাল এবং স্বচ্ছলতার মধ্যেই আছি।

আর সে আল্লাহর প্রশংসাও করল। ইবরাহীম আ. জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের প্রধান খাদ্য কি? সে বলল, গোশত। তিনি আবার জানতে চাইলেন, তোমাদের পানীয় কি?

সে বলল, পানি। ইবরাহীম আ. দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তাদের গোশত ও পানিতে বরকত দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ সময় তাদের সেখানে খাদ্যশস্য উৎপাদন হতো না। যদি হতো তাহলে ইবরাহীম আ. সে বিষয়েও তাদের জন্য দু’আ করতেন।

বর্ণনাকারী বলেন, মক্কা ব্যতীত অন্য কোথাও কেউ শুধু গোশত ও পানি দ্বারা জীবন ধারণ করতে পারেনা। কেননা, শুধু গোশত ও পানি জীবনযাপনের অনুকূল হতে পারে না। ইবরাহীম আ. বললেন, যখন তোমার স্বামী ফিরে আসবে, তখন তাকে আমার সালাম বলবে, আর তাকে আমার পক্ষ থেকে হুকুম করবে যে, সে যেন তার ঘরের দরজার চৌকাঠ ঠিক রাখে।

এরপর ইসমাঈল আ. যখন ফিরে আসলেন, তখন তিনি বললেন, তোমাদের নিকট কেউ এসেছিলেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। একজন সুন্দর আকৃতির বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন এবং সে তার প্রশংসা করল, তিনি আমাকে আপনার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাকে আপনার সংবাদ জানিয়েছি।

এরপর তিনি আমার নিকট আমাদের জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমি তাকে জানিয়েছি যে, আমরা ভাল আছি। ইসমাঈল আ. বললেন, তিনি কি তোমাকে আর কোন কিছুর জন্য আদেশ করেছেন? সে বলল, হে হ্যাঁ।

তিনি আপনার প্রতি সালাম জানিয়ে আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার ঘরের দরজার চৌকাঠ ঠিক রাখেন।

ইসমাঈল আ. বললেন, ইনিই আমার পিতা। আর তুমি হলে আমার ঘরের দরজার চৌকাঠ। একথার দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন তোমাকে স্ত্রী হিসাবে বহাল রাখি। এরপর ইবরাহীম আ. এদের থেকে দূরে রইলেন, যদ্দিন আল্লাহ চাইলেন।

এরপর তিনি আবার আসলেন। (দেখতে পেলেন) যমযম কূপের নিকটস্থ একটি বিরাট বৃক্ষের নীচে বসে ইসমাঈল আ. তাঁর একটি তীর মেরামত করছেন।

যখন তিনি তাঁর পিতাকে দেখতে পেলেন, তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। এরপর একজন বাপ-বেটার সঙ্গে, একজন বেটা-বাপের সঙ্গে সাক্ষাত হলে যেরূপ করে থাকে তাঁরা উভয়ে তাই করলেন। এরপর ইবরাহীম আ. বললেন, হে ইসমাঈল ! আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসমাঈল বললেন, আপনার রব! আপনাকে যা আদেশ করেছেন, তা করুন। ইবরাহীম আ. বললেন, তুমি আমার সাহায্য করবে কি? ইসমাঈল আ. বললেন, আমি আপনার সাহায্য করব।

ইবরাহীম আ. বললেন, আল্লাহ আমাকে এখানে একটি ঘর বানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই বলে তিনি উঁচু টিলার দিকে ইশারা করলেন যে, এর চারপাশে ঘেরাও দিয়ে, তখনি তাঁরা উভয়ে কাবা ঘরের দেয়াল উঠাতে লেগে গেলেন। ইসমাঈল আ. পাথর আনতেন, আর ইবরাহীম আ. নির্মাণ করতেন।

পরিশেষে যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন ইসমাঈল আ. (মাকামে ইবরাহীম নামে খ্যাত) পাথরটি আনলেন এবং ইবরাহীম আ. এর জন্য তা যথাস্থানে রাখলেন।

ইবরাহীম আ. তার উপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ কাজ করতে লাগলেন। আর ইসমাঈল আ. তাকে পাথর যোগান দিতে থাকেন। তখন তারা উভয়ে এ দু’আ করতে লাগলেন। আর ইসমাঈল আ. তাকে পাথর যোগান দিতে থাকেন।

তখন তারা উভয়ে এ দু’আ করতে থাকলেন, হে আমাদের রব! আমাদের থেকে (একাজ) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছু শুনেন ও জানেন। তাঁরা উভয়ে আবার কাবা ঘর তৈরী করতে থাকেন।

এবং কাবা ঘরের চার দিকে ঘুরে ঘুরে এ দু’আ করতে থাকেন। হে আমাদের রব! আমাদের থেকে (এ শ্রম টুকু) কবুল করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছু শুনেন ও জানেন। (২:১২৭)

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১২৬

হাদীস নং ৩১২৬

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ইবরাহীম আ. ও তাঁর স্ত্রী (সারার) মাঝে যা হওয়ার হয়ে গেল, তখন ইবরাহীম আ. ইসমাঈল এবং তাঁর মাকে নিয়ে বের হলেন। তাদের সাথে একটি থলে ছিল, যাতে পানি ছিল। ইসমাঈল আ.-এর মা মশক থেকে পানি পান করতেন।

ফলে শিশুরা জন্য তাঁর স্তন্য দুধ বাড়তে থাকে। অবশেষে ইবরাহীম আ. মক্কায় পৌঁছে হাযেরাকে একটি বিরাট বৃক্ষের নীচে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। এরপর ইবরাহীম আ. আপন পরিবার নিকট ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল আ. -এর মা কিছু দূর পর্যন্ত তাঁর অনুসরণ করলেন।

অবশেষে যখন কাদা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি পিছন থেকে ডেকে বললেন, হে ইবরাহীম! আপনি আমাদেরকে কার কাছে রেখে যাচ্ছেন ? ইবরাহীম আ. বললেন, আল্লাহর কাছে। হাযেরা আ. বললেন, আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।

রাবী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, এরপর হাযেরা আ. ফিরে আসলেন, তিনি মশক থেকে পানি পান করতেন আর শিশুর জন্য (তাঁর স্তন্যের) দুধ বাড়ত। অবশেষে যখন পানি শেষ হয়ে গেল। তখন ইসমাঈল আ.-এর মা বললেন, আমি যদি গিয়ে এদিকে সেদিকে তাকাতাম তাহলে হয়ত কোন মানুষ দেখতে পেতাম।

রাবী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, এরপর ইসমাঈল আ.-এ মা গেলেন এবং সাফা পাহাড়ে উঠলেন আর এদিকে ওদিকে তাকালেন এবং কাউকে দেখেন কিনা এজন্য বিশেষভাবে তাকিয়ে দেখলেন।

কিন্তু কাউকেও দেখতে পেলেন না। তখন দ্রুত বেগে মারওয়া পাহাড়ে এসে গেলেন। এবং এভাবে তিনি কয়েক চক্কর দিলেন। পুনরায় তিনি বললেন, যদি গিয়ে দেখতাম যে শিশুটি কি করছে। এরপর তিনি গেলেন এবং দেখতে পেলেন যে সে তার অবস্থায়ই আছে। সে যেন মরণাপন্ন হয়ে গেছে।

এতে তাঁর মন স্বস্তি পাচ্ছিল না। তখন তিনি বললেন, যদি সেখানে (আবার) যেতাম এবং এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখতাম। সম্ভবত: কাউকে দেখতে পেতাম। এরপর তিনি গেলেন, সাফা পাহাড়ের উপর উঠলেন এবং এদিক সেদিক দেখলেন এবং গভীরভাবে তাকিয়ে দেখলেন।

কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। এমনকি তিনি সাতটি চক্কর পূর্ণ করলেন। এরপর তিনি মনে মনে বললেন, যদি যেতাম তখন দেখতাম যে সে কি করছে। হঠাৎ তিনি একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, যদি আপনার কোন সাহায্য করার থাকে তবে আমাকে সাহায্য করুন।

হঠাৎ তিনি জিবরাঈল আ.-কে দেখতে পেলেন। বারী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, তখন তিনি তাঁর পায়ের গোড়ালি দ্বারা এরূপ করলেন অর্থাৎ গোড়ালি দ্বারা যমীনের উপর আঘাত করলেন। বারী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, তখনই পানি বেরিয়ে আসল। এ দেখে ইসমাঈল আ.-এর মা অস্থির হয়ে গেলেন এবং গর্ত খনন করতে লাগলেন।

রাবী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, এ প্রসঙ্গে আবুল কাসিম (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, হাযেরা আ. যদি একে তার অবস্থার উপরে ছেড়ে দিতেন তাহলে পানি বিস্তৃত হযে যেত। রাবী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন তখন হাযেরা আ. পানি পান করতে লাগলেন এবং তাঁর সন্তানের জন্য তাঁর দুধ বাড়তে থাকে।

রাবী (ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এরপর জুরহুম গোত্রের (ইয়ামন দেশীয়) একদল লোক উপত্যকার নীচু ভূমি দিয়ে অতিক্রম করছিল। হঠাৎ তারা দেখল কিছু পাখি উড়ছে।

তারা যেন তা বিশ্বাসই করতে পারছিল না আর তারা বলতে লাগল এসব পানি তো পানি ছাড়া কোথাও থাকতে পারে না। তখন তার সেখানে তাদের একজন দূত পাঠাল। সে সেখানে গিয়ে দেখল, সেখানে পানি মাওজুদ আছে। তখন সে তার দলের লোকদের কাছে ফিরে আসল এবং তাদেরকে সংবাদ দিল।

এরপর তারা হাযেরা আ.-এর কাছে এসে বলল, হে ইসমাঈলের মা ! আপনি কি আমাদেরকে আপনার কাছে থাকা অথবা (রাবী বলেছেন) আপনার কাছে বসবাস করার অনুমতি দিবেন? (হাযেরা আ. তাদেরকে বসবাসের অনুমতি দিলেন এবং এভাবে অনেক দিন কেটে গেল)। এরপর তাঁর ছেলে বয়ঃপ্রাপ্ত হল।

তখন তিনি (ইসমাঈল) জুরহুম গোত্রেরই একটি মেয়ে বিয়ে করলেন। রাবী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, পুনরায় ইবরাহীম আ.-এর মনে জাগল (ইসমাঈল এবং তাঁর মা হাযেরা কথা) তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, আমি আমার পরিত্যক্ত পরিজনের অবস্থা সম্পর্কে খবর নিতে চাই।

রাবী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, এরপর তিনি (তাদের কাছে) আসলেন এবং সালাম দিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইসমাঈল কোথায়? ইসমাঈল আ.-এর স্ত্রী বলল, তিনি শিকারে গিয়েছেন।

ইবরাহীম আ. বললেন, সে যখন আসবে তখন তুমি তাকে আমার এ নির্দেশের কথা বলবে, তুমি তোমার চৌকাঠখানা বদলিয়ে ফেলবে। ইসমাঈল আ. যখন আসলেন, তখন স্ত্রী তাকে খবরটি জানালেন, তখন তিনি স্ত্রীকে বললেন, তুমি সেই চৌকাঠ। অতএব তুমি তোমার পিতামাতার কাছে চলে যাও।

রাবী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, অতঃপর (তাদের কথা) ইবরাহীম আ.-এর আবার মনে পড়ল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী কে বললেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিবারের খবর নিতে চাই। এরপর তিনি সেখানে আসলেন এবং (পুত্রবধূকে) জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আমাদের এখানে অবস্থান করবেন না?

কিছু পানাহার করবেন না? তখন ইবরাহীম আ. বললেন, তোমাদের খাদ্য এবং পানীয় কি? স্ত্রী বলল, আমাদের খাদ্য হল গোশত আর পানীয় হল পানি। তখন ইবরাহীম আ. দু’আ করলেন, ‘হে আল্লাহ! তাদের খাদ্য এবং পানীয় দ্রব্যের মাঝে বরকত দিন’।

রাবী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইবরাহীম আ.-এর দু’আর কারণেই (মক্কার খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যের মধ্যে) বরকত রয়েছে। বারী (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, আবার কিছুদিন পর ইবরাহীম আ.-এর মনে তাঁর নির্বাসিত পরিজনের কথা জাগল।

তখন তিনি স্ত্রী কে বললেন, আমি আমার পরিত্যক্ত পরিজনের খবর নিতে চাই। এরপর তিনি এলেন এবং ইসমাঈলের দেখা পেলেন, তিনি যমযম কূপের পিছনে বসে তাঁর একটি তীর মেরামত করছেন। তখন ইবরাহীম আ. ডেকে বললেন, হে ইসমাঈল! তোমার রব তাঁর জন্য একখানা ঘর নির্মাণ করতে আমাকে আদেশ দিয়েছেন।

ইসমাঈল আ. বললেন, আপনার রবর আদেশ পালন করুন। ইবরাহীম আ. বললেন, তিনি আমাকে এও নির্দেশ দিয়েছেন যে, তুমি যেন আমাকে এ বিষয়ে সহায়তা কর। ইসমাঈল আ. বললেন, তাহলে আমি তা করব অথবা তিনি অনুরূপ কিছু বলেছিলেন। এরপর উভয়ে উঠে দাঁড়ালেন।

ইবরাহীম আ. ইমারত বানাতে লাগলেন আর ইসমাঈল আ. তাকে পাথর এনে দিতে লাগলেন আর তাঁরা উভয়ে এ দু’আ করছিলেন, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এ কাজ কবুল করুন।

আপনি তো সব কিছু শুনেন এবং জানেন। রাবী বলেন, এরি মধ্যে প্রাচীর উঁচু হয়ে গেল আর বৃদ্ধ ইবরাহীম আ. এতটা উঠতে দুর্বল হয়ে পড়লেন। তখন তিনি (মাকামে ইবরাহীমের) পাথরের উপর দাঁড়ালেন।

ইসমাঈল তাকে পাথর এগিয়ে দিতে লাগলেন আর উভয়ে এ দু’আ পড়তে লাগলেন, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এ কাজটুকু কবুল করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সবকিছু শুনেন ও জানেন। (২:১২৭)

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১২৭

হাদীস নং ৩১২৭

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ তৈরী করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম।

আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আকসা। আমি বললাম, উভয় মসজিদের (তৈরীর) মাঝে কত ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর।

(তিনি আরো বললেন) এরপর তোমার যেখানেই সালাতের সময় হবে, সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কেননা এর মধ্যে ফযীলত নিহিত রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩১২৮

হাদীস নং ৩১২৮

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, উহুদ পাহাড় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৃষ্টিগোচর হল। তিনি বললেন, এ পাহাড় আমাদের ভালবাসে আর আমরাও তাকে ভালবাসি।

হে আল্লাহ! ইবরাহীম আ. মক্কাকে হরম ঘোষণা করেছে আর আমি হরম ঘোষণা করছি এ পাহাড়ের উভয় পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানকে (মদীনাকে)। এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ রা.-ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১২৯

হাদীস নং ৩১২৯

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আয়িশা আ.-কে বলেছেন, তুমি কি জান? তোমার কওম যখন কাবা ঘর নির্মাণ করেছে, তখন তারা ইবরাহীম আ.-এর ভিত্তি থেকে তা ছোট করেছে।

তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি তা ইবরাহীম আ.-এর ভিত্তির উপর পুন নির্মাণ করবেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার কওম কুফরী থেকে সদ্য আগত না হতো।

(তাহলে আমি তা করে দিতাম)। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বললেন, যদি আয়েশা রা. এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনে থাকেন, তবে আমি মনে করি যে, কাবা ঘর ইবরাহীম আ.-এর ভিত্তির উপর পুরোপুরি নির্মাণ করা হয়নি।

রাবী ইসমাঈল রহ. বলেন, ইবনে আবু বকর হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রা.।

বুখারি হাদিস নং ৩১৩০

হাদীস নং ৩১৩০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু হুমাইদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, সাহাবাগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পাঠ করব?

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবে পড়বে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর, তাঁর স্ত্রীগণের উপর এবং তাঁর বংশধরদের উপর রহমত নাযিল করুন, যেরূপ রহমত নাযিল করেছেন ইবরাহীম আ.-এর বংশধরদের উপর।

আর আপনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর, তাঁর স্ত্রীগণের উপর এবং তাঁর বংশধরদের উপর এমনিভাবে বরকত নাযিল করুন যেমনি আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম আ.-এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত এবং অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।

বুখারি হাদিস নং ৩১৩১

হাদীস নং ৩১৩১

কায়স ইবনে হাফস ও মূসা ইবন ইসমাঈল রহ……….আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কাব ইবনে উজরা রা. আমার সাথে দেখা করে বললেন, আমি কি আপনাকে এমন একটি হাদীয়া দেব না যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি?

আমি বললাম হ্যাঁ, আপনি আমাকে সে হাদীয়াটি দিন। তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনাদের উপর অর্থাৎ আহলে বায়তের উপর কিভাবে দরূদ পাঠ করতে হবে? কেননা, আল্লাহ তো (কেবল) আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাম করব।

তিনি বললেন, তোমরা এভাবে বল, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধরদের উপর রহমত নাযিল করুন, যেরূপ রহমত নাযিল করেছেন ইবরাহীম আ.-এর বংশধরদের উপর।

নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত এবং অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর বংশধরদের উপর এমনিভাবে বরকত নাযিল করুন যেমনি আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম আ.এবং তাঁর বংশধরদের উপর। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত এবং অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।

বুখারি হাদিস নং ৩১৩২

হাদীস নং ৩১৩২

উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান এবং হুসাইন রা.-এর জন্য নিম্নোক্ত দু’আ পড়ে পানাহ চাইতেন আর বলতেন, তোমাদের পিতা (ইবরাহীম আ. ইসমাঈল ও ইসহাক আ.-এর জন্য এ দু’আ পড়ে পানাহ চাইতেন।

(দু’আটি হল) আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাত দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৩৩ – মহান আল্লাহর বাণী : (হে মুহাম্মদ) আপনি তাদেরকে ইবরাহীম আ.-এর মেহমানগণের ঘটনা জানিয়ে দেন। যখন তারা তাঁর নিকট এসেছিলেন (১৫: ৫১-৫২)

হাদীস নং ৩১৩৩

আহমদ ইবনে সালিহ রহ…………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (ইবরাহীম আ. তাঁর চিত্ত প্রশান্তির জন্য কিভাবে জীবিত করা হবে, এ সম্পর্কে আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলেন, একে যদি ‘শক’ বলে অভিহিত করা হয় তবে এরূপ ‘শক’ এর ব্যাপারে আমরা ইবরাহীম আ. চাইতে অধিক উপযোগী।

যখন ইবরাহীম আ. বলেছিলেন, হে আমার রব! আমাকে দেখিয়ে দিন, আপনি কিভাবে মৃতকে জীবিত করেন।আল্লাহ বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না?

তিনি বললেন, হ্যাঁ, (অবশ্যই বিশ্বাস করি) তা সত্ত্বেও (এ জিজ্ঞাসা এজন্য যে) যাতে আমার চিত্ত প্রশান্তি লাভ করে। (২: ২৬০) এরপর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুত আ.-এর ঘটনা উল্লেখ করে বললেন) আল্লাহ লূত আ.-এর প্রতি রহম করুন।

তিনি (আল্লাহর দীন প্রচারের সহায়তার জন্য) একটি সুদৃঢ় খুঁটির (দলের) আশ্রয় চেয়েছিলেন আর আমি যদি কারাগারে এত দীর্ঘ সময় থাকতাম যত দীর্ঘ সময় ইউসুফ আ. কারাগারে ছিলেন তবে (বাদশাহর পক্ষ থেকে) তার ডাক সাড়া দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩১৩৪ – মহান আল্লাহর বাণী: এবং স্মরণ করুন এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা, নিঃসন্দেহে তিনি ছিলেন ওয়াদা পালনে সত্যনিষ্ঠ (১৯:৫৪)

হাদীস নং ৩১৩৪

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………সালামা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইয়ামানের) আসলাম গোত্রের একদল লোকের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তারা তীরন্দাজির প্রতিযোগিতা করছিল।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বনী ইসমাঈল‍‍‍! তোমরা তীরন্দাজি করে যাও। কেননা তোমাদের পূর্বপুরুষ (ইসমাঈল আ.) তীরন্দাজ ছিলেন।

সুতরাং তোমরাও তীরন্দাজি করে যাও আর আমি অমুক গোত্রের লোকদের সাথে আছি। রাবী বলেন, (এ কথা শুনে) তাদের এক পক্ষ হাত চালনা থেকে বিরত হয়ে গেল।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কি হল, তোমরা যে তীরন্দাজি করছ না? তখন তারা বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ !

আমরা কিভাবে তীর ছুড়তে পারি, অথচ আপনি তো তাদের সাথে রয়েছেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা তীর ছুড়তে থাক, আমি তোমাদের সাথে সাথেই আছি।

বুখারি হাদিস নং ৩১৩৫ – আল্লাহর তা’আলার বাণী: যখন ইয়াকুব আ.-এর মৃত্যুকাল এসে হাজির হয়েছিল, তোমরা কি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলে? যখন তিনি তাঁর সন্তানদের জিজ্ঞাসা করছিলেন(২: ১৩৩)

হাদীস নং ৩১৩৫

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, লোকদের মধ্যে অধিক সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহ ভীরু, সে সবচেয়ে অধিক সম্মানিত।

সাহাবা কিরাম বললেন, ইয়া নাবীয়াল্লাহ! আমরা আপনাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তাহলে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন, আল্লাহর নবী ইউসুফ ইবনে আল্লাহর নবী (ইয়াকুব) ইবনে আল্লাহর নবী (ইসহাক) ইবনে আল্লাহর খলীল ইবরাহীম আ.।

তাঁরা বললেন, আমরা এ সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তবে কি তোমরা আমাকে আরবদের উচ্চ বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? তারা বলল, হ্যাঁ।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাহেলিয়াতের যুগে তোমাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন ইসলাম গ্রহণের পরও তারাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, যদি তাঁরা ইসলামী জ্ঞান অর্জন করে থাকেন।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৩৬ – (মহান আল্লাহর বাণী: স্মরণ করুন, লুতের কথা) যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের বলেছিলেন; তোমরা কি অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকবে?……….এই সতর্ক কৃত লোকদের উপর বর্ষিত বৃষ্টি কতইনা নিকৃষ্ট ছিল (২৭: ৫৪-৫৮)

হাদীস নং ৩১৩৬

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ লূত আ.-কে ক্ষমা করুন। তিনি একটি সুদৃঢ় খুঁটির আশ্রয় চেয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৩৭ – আল্লাহর বাণী: এরপর যখন আল্লাহর ফেরেশতাগণ লূত পরিবারের নিকট আসলেন, তখন তিনি বললেন, তোমরা তো অপরিচিত লোক। (১৫: ৬১-৬২)

হাদীস নং ৩১৩৭

মাহমুদ রহ………..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فهل من مدكر (দাল সহ) পড়েছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৩৮ – আল্লাহর বাণী: আর সামুদ জাতির প্রতি তাদেরই ভাই সালিহকে (আমি নবী করে পাঠিয়েছিলাম)। (১১: ৬১)

হাদীস নং ৩১৩৮

হুমাইদী রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে যামআ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনেছি এবং তিনি যে লোক (সালিহ আ.-এর) উটনী যখম করেছিল তার উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেছেন, উটনীকে হত্যা করার জন্য এমন এক লোক (কিদার) তৈরী হয়েছিল যে তার গোত্রের মধ্যে প্রবল ও শক্তিশালী ছিল, যেমন ছিল আবু যামআ।

বুখারি হাদিস নং ৩১৩৯

হাদীস নং ৩১৩৯

মুহাম্মদ ইবনে মিসকীন আবুল হাসান রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধের সময় যখন হিজর নামক স্থানে অবতরণ করলেন, তখন তিনি সাহাবাগণকে নির্দেশ দিলেন, তাঁরা যেন এখানে কূপের পানি পান না করে, এবং মশকেও পানি ভরে না রাখে।

তখন সাহাবাগণ বললেন, আমরা তো এর পানি দ্বারা রুটির আটা গুলে ফেলেছি এবং পানিও ভরে রেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সেই আটা ফেলে দেয়ার এবং পানি ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিলেন।

সাবরা ইবনে মাবাদ এবং আবুশ শামূস রহ. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য ফেলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আর আবু যার রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, এর পানি দ্বারা যে আটা গুলেছে (সে যেন তা ফেলে দেয়)।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪০

হাদীস নং ৩১৪০

ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সামূদ জাতির আবসস্থল ‘হিজর’ নামক স্থানে অবতরণ করলেন আর তখন তারা এর কূপের পানি মশক ভরে রাখলেন এবং এ পানি দ্বারা আটা গুলে নিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে হুকুম দিলেন, তারা ঐ কূপ থেকে যে পানি ভরে রেখেছে, তা যেন ফেলে দেয় আর পানিতে গোলা আটা যেন উটগুলোকে খাওয়ায় আর তিনি তাদের হুকুম করলেন তারা যেন ঐ কূপ থেকে মশক ভরে নেয় যেখান থেকে (সালিহ আ.-এর উটনীটি পানি পান করত। উসামা রহ. নাফি রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় উবাইদুল্লাহ রহ. -এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪১

হাদীস নং ৩১৪১

মুহাম্মদ রহ………..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুকের পথে) যখন ‘হিজর’ নামক স্থান অতিক্রম করলেন, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন লোকদের আবাসস্থলে প্রবেশ কর না, যারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে।

তবে প্রবেশ করতে হলে, ক্রন্দনরত অবস্থায়, যেন তাদের প্রতি যে বিপদ এসেছিল তোমাদের প্রতি অনুরূপ বিপদ না আসে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনের উপর বসা অবস্থায় নিজ চাদর দিয়ে চেহারা মোবারক ঢেকে নিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪২

হাদীস নং ৩১৪২

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুকের পথে সাহাবাদেরকে) নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা একমাত্র ক্রন্দনরত অবস্থায়ই এমন লোকদের আবাসস্থলে প্রবেশ করবে যারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করেছে। তাদের উপর যে মুসিবত এসেছে তোমাদের উপরও যেন সে মুসিবত না আসে।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪৩ – মহান আল্লাহর বাণী: যখন ইয়াকুব -এর নিকট মৃত্যু এসেছিল, তখন কি তোমরা উপস্থিত ছিলে? (২: ১৩৩)

হাদীস নং ৩১৪৩

ইসহাক ইবনে মানসুর রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সম্মানী ব্যক্তি-যিনি সন্তান সম্মানী ব্যক্তির, যিনি সন্তান সম্মানী ব্যক্তির, যিনি সন্তান সম্মানী ব্যক্তির, তিনি হলেন, ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আ.।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪৪ – মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই ইউসুফ এবং তাঁর ভাইদের ঘটনায় জিজ্ঞাসাকারীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। (১২: ৭)

হাদীস নং ৩১৪৪

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি উত্তর দিলেন, তাদের মধ্যে যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় করে।

তারা বললেন, আমরা আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তাহলে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি হলেন, আল্লাহর নবী ইউসুফ ইবনে আল্লাহর নবী (ইয়াকুব) ইবনে আল্লাহর নবী (ইসহাক) ইবনে আল্লাহর নবী (ইবরাহীম আ.)।

তাঁরা বললেন, আমরা আপনাকে এ বিষয়েও জিজ্ঞাসা করিনি। তখন তিনি বললেন, তাহলে তোমরা আমার কাছে আরবের খনি অর্থাৎ গোত্রগুলোর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ? (তাহলে শুন) মানুষ খনি বিশেষ, জাহেলিয়াতের যুগে যারা তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি, যদি তারা ইসলামী জ্ঞান লাভ করে।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৪৫

হাদীস নং ৩১৪৫

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪৬

হাদীস নং ৩১৪৬

বাদল ইবনে মুহাব্বার রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, আবু বাকর র.-কে তিনি যেন লোকদের সালাত আদায় করিয়ে দেন।

আয়েশা রা. বললেন, তিনি একজন কোমল হৃদয়ের লোক। যখন আপনার জায়গায় তিনি দাঁড়াবেন, তখন বিনম্র অন্তর হয়ে পড়বেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় তাই বললেন, আয়েশা রা. আবারও সেই উত্তর দিলেন, শোবা রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয় অথবা চতুর্থবার বললেন, (হে আয়েশা রা.) তোমরা ইউসুফ আ.-এর ঘটনায় নিন্দুক নারীদের মত। আবু আবু বকরকে বল, (সালাত আদায় করিয়ে দিক)।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪৭

হাদীস নং ৩১৪৭

রাবী ইবনে ইয়াহইয়া রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন তিনি বললেন, আবু বকরকে বল, তিনি যেন লোকদের সালাত আদায় করিয়ে দেন।

তখন আয়েশা রা. বললেন, আবু বকর রা. তো একজন এমন (কোমল হৃদয়ের) লোক। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ বললেন, তখন আয়েশা রা.ও তদরূপই বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকরকে বল, (যেন সালাত আদায় করিয়ে দেন)।

হে আয়েশা! নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফ আ.-এর ঘটনার নিন্দুক নারীদের ন্যায় হয়ে পড়েছ। এরপর আবু বকর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকালে ইমামতী করলেন। রাবী হুসাইন রহ. যায়েদা রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন رجل এখানে এর স্থলে رجل رقيق আছে অর্থাৎ তিনি একজন কোমল হৃদয়ের লোক।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪৮

হাদীস নং ৩১৪৮

আবুল ইয়ামান রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করেছেন, হে আল্লাহ ! আয়্যাশ ইবনে আবু রবীআকে (কাফিরদের অত্যাচার হতে) মুক্তি দিন।

হে আল্লাহ ! সালাম ইবনে হিশামকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ ! ওয়ালীদ ইবনে ওয়ালীদকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ ! দুর্বল মুমিনদেরকেও মুক্তি দিন। হে আল্লাহ ! মুযার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াওকে মজবুত করুন।

হে আল্লাহ ! এ গোত্রের উপর এমন দুর্ভিক্ষ ও অভাব অনটন নাযিল করুন যেমন দুর্ভিক্ষ ইউসুফ আ.-এর যামানায় হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩১৪৯

হাদীস নং ৩১৪৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা রহ………..আবু হুরায়রা রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ লূত আ.-এর উপর রহম করুন।

তিনি একটি সুদৃঢ় খুঁটির আশ্রয় নিয়েছিলেন আর ইউসুফ আ. যত দীর্ঘ সময় জেলখানায় কাটিয়েছেন, আমি যদি অত দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতাম এবং পরে বাদশাহর দূত (মুক্তির আদেশ নিয়ে) আমার নিকট আসত তবে নিশ্চয়ই আমি তার ডাক সাড়া দিতাম।

বুখারি হাদিস নং ৩১৫০

হাদীস নং ৩১৫০

মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ……….মাসরূক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রা.-এর মা উম্মে রুমানার নিকট আয়েশার বিষয়ে যে সব মিথ্যা অপবাদের কথা বলাবলি হচ্ছিল সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি আয়েশার সাথে একত্রে বসা ছিলাম।

এমন সময় একজন আনসারী মহিলা একথা বলতে বলতে আমাদের নিকট প্রবেশ করল। আল্লাহ অমুককে শাস্তি দিক। আর শাস্তি তো দিয়েছেন একথা শুনে উম্মে রুমানা রা. বললেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম একথা বলার কারণ কি? সে মহিলাটি বলল, ঐ লোকটিই তো কথাটির চর্চা করছে।

তখন আয়েশা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন কথাটির? এরপর সে আয়েশা রা.-কে বিষয়টি জানিয়ে দিল। আয়েশা রা. জিজ্ঞাসা করলেন, বিষয়টি কি আবু বকর রা. এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও শুনেছেন? সে বলল, হ্যাঁ, এতে আয়েশা রা. বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন।

পরে তাঁর হুশ ফিরে আসল তবে তাঁর শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তার কি হল? আমি বললাম, তাঁর সম্পর্কে যা কিছু রটেছে তাঁতে সে (মনে) আঘাত পেয়েছে ফলে সে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

এ সময় আয়েশা রা. উঠে বসলেন, আর বলতে লাগলেন, আল্লাহর কসম, আমি যদি কসম খেয়ে বলি তবুও আপনারা আমায় বিশ্বাস করবেন না আর যদি উযর পেশ করি তাও আপনারা আমার উযর শুনবেন না।

অতএব এখন আমার ও আপনাদের অবস্থা হল ইয়াকুব আ. এবং তাঁর সন্তাদের মত। আপনারা যা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর নিকটেই চাওয়া হল।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে চলে গেলেন এবং আল্লাহ যা নাযিল করার তা নাযিল করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আয়েশা রা.-কে এ সংবাদ জানালেন। আয়েশা রা. বললেন, আমি একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা করব, অন্য কারো প্রশংসা নয়।

আম্বিয়া কিরাম (আ.) অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১৫১

হাদীস নং ৩১৫১

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহর বাণী حتى إذا استيأس الرسل وظنوا أنهم قد كذبوا আয়াতাংশের মধ্যে كذبوا হবে, না كذبوا হবে? (যাল হরফে তাশদীদ সহ পড়তে হবে না তাশদীদ ব্যতীত)?

হযরত আয়েশা রা. বলেন, (এখানে كذبوا নয়, كذبوا হবে) কেননা, তাদের কওম তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। (উরওয়া রহ. বলেন) আমি বললাম, মহান আল্লাহর কসম, রাসূলগণের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তাদের কওম তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে, আর তাতো সন্দেহের বিষয় ছিল না।

(কাজেই এখানে كذبوا হবে কিভাবে?) তখন হযরত আয়েশা রা. বলেন, হে উরাইয়্যাহ! এ ব্যাপারে তাদের তো দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। (অর্থাৎ এখানে তিনি ظن -কে يقين অর্থে নিয়েছেন)।

(উরওয়া রহ. বলেন) আমি বললাম, সম্ভবত: এখানে হবে। হযরত আয়েশা রা. বললেন, মাআযাল্লাহ (আল্লাহর পানাহ) রাসূলগণ কখনো আল্লাহ সম্পর্কে এরূপ ধারণা করতেন না।

(অর্থাৎ كذبوا হলে অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ পাক রাসূলগণের সাথে মিথ্যা বলেছেন। অথচ রাসূলগণ কখনো এরূপ ধারণা করতে পারে না) তবে এ আয়াত সম্পর্কে আয়েশা রা. বলেন, তারা রাসূলগণের অনুযায়ী যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন এবং রাসূলগণকে বিশ্বাস করেছেন।

তাদের উপর আযমায়েশ (ঈমানের পরীক্ষা) দীর্ঘায়িত হয়। তাদের প্রতি সাহায্য পৌঁছতে বিলম্ব হয়।

অবশেষে রাসূলগণ যখন তাদের কওমের লোকদের মধ্যে যারা তাদেরকে মিথ্যা মনে করেছে, তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলেন এবং তাঁরা এ ধারণা করতে লাগলেন যে তাদের অনুসারীগণও তাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করবেন, ঠিক এ সময়ই মহান আল্লাহর সাহায্য পৌঁছে গেল।

استيأسوا শব্দটি استفعلوا -এর ওযনে এসেছে। يئست منه থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ তারা ইউসুফ আ. থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। لاتيئسوا من روح الله -এর অর্থ- তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।

আরও পড়ুনঃ

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন