আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৯১ – আদম আ. ও তাঁর সন্তানদের সৃষ্টি

হাদীস নং ৩০৯১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’আলা আদম আ.-কে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর দেহের দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। এরপর তিনি (আল্লাহ) তাকে (আদমকে) বললেন, যাও।

ঐ ফেরেশতা দলের প্রতি সালাম কর। এবং তাঁরা তোমার সালামের জওয়াব কিরূপে দেয় তা মনোযোগ দিয়ে শোন। কেননা, এটাই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের রীতি।

তারপর আদম আ. (ফেরেশতাদের) বললেন, “আসসলামু আলাইকুম”। ফেরেশতাগণ তার উত্তরে “আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বললেন।

ফেরেশতারা সালামের জওয়াবে “ওয়া রাহমাতুল্লাহ” শব্দটি বাড়িয়ে বললেন। যারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন তারা আদম আ.-এর আকৃতি বিশিষ্ট হবেন। তবে আদম সন্তানের দেহের দৈর্ঘ্য সর্বদা কমতে কমতে বর্তমান পরিমাপ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৯২

হাদীস নং ৩০৯২

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল।

তারপর যে দল তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের সর্বাধিক দীপ্তিমান উজ্জ্বল তারকার মত। তারা না করবে পেশাব আর না করবে পায়খানা। তাদের থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না এবং তাদের নাক হতে শ্লেষ্মাও বের হবে না।

তাদের চিরুণি হবে স্বর্ণের তৈরী। তাদের ঘাম হবে মিসকের ন্যায় সুগন্ধ পূর্ণ। তাদের ধুনচি হবে চন্দন কাঠের। বড় চক্ষু বিশিষ্ট হুরগণ হবেন তাদের স্ত্রী।

তাদের সকলের দেহের গঠন হবে একই। সবাই তাদের আদি পিতা আদম আ.-এর আকৃতিতে হবেন। উচ্চতায় তাদের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত বিশিষ্ট।

বুখারি হাদিস নং ৩০৯৩

হাদীস নং ৩০৯৩

মুসাদ্দাদ রহ……….উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত যে, উম্মে সুলাইম রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ সত্য প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না।

মেয়েদের স্বপ্নদোষ হরে কি তাদের উপর গোসল ফরয হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যখন সে বীর্য দেখতে পাবে।

এ কথা শুনে উম্মে সালামা রা. হাসলেন এবং বললেন, মেয়েদের কি স্বপ্নদোষ হয়? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা না হলে সন্তান তার সদৃশ হয় কিভাবে।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৯৪

হাদীস নং ৩০৯৪

ইবনে সালাম রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালামের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদীনায় আগমনের খবর পৌঁছল, তখন তিনি তাঁর কাছে আসলেন।

এরপর তিনি বলেছেন, আমি আপনাকে এমন তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাই যার উত্তরে নবী ছাড়া আর কেউ অবগত নয়। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন কি? আর সর্বপ্রথম খাবার কি, যা জান্নাতবাসী খাবে? আর কি কারণে সন্তান তার পিতার সাদৃশ্য লাভ করে?

আর কিসের কারণে (কোন কোন সময়) তার মামাদের সাদৃশ্য হয়? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এইমাত্র জিবারাঈল আ. আমাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।

রাবী বলেন, তখন আবদুল্লাহ রা. বললেন, সে তো ফেরেশতাগণের মধ্যে ইয়াহুদীদের শত্রু । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন হল আগুন যা মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে নিয়ে একত্রিত করবে।আর প্রথম খাবার যা জান্নাতবাসীরা খাবেন খাবেন তা হল মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ।

আর সন্তান সদৃশ হওয়ার রহস্য এই যে পুরুষ যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন যদি পুরুষের বীর্য প্রথমে স্খলিত হয় তবে সন্তান তার সদৃশ হবে আর যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের পূর্বে স্খলিত হয় তখন সন্তান তার সাদৃশ্যতা লাভ করে। তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছ নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল।

এরপর তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়াহুদীরা অপবাদ ও কুৎসা রটনাকারী সম্প্রদায়। আপনি তাদেরকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার পূর্বে তারা যদি আমার ইসলাম গ্রহণের বিষয় জেনে ফেলে, তাহলে তারা আপনার কাছে আমার কুৎসা রটনা করবে।

তারপর ইয়াহুদীরা এল এবং আবদুল্লাহ রা. ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন লোক? তারা বলল, তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি এবং সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তির পুত্র।

তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং সর্বোত্তম ব্যক্তির পুত্র। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আবদুল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করে, এতে তোমাদের অভিমত কি হবে? তারা বলল, এর থেকে আল্লাহ তাকে রক্ষা করুক।

এমন সময় আবদুল্লাহ রা. তাদের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।

তখন তারা বলতে লাগল, সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তির সন্তান এবং তার তাঁর গীবত ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয়ে গেল।

বুখারি হাদিস নং ৩০৯৫

হাদীস নং ৩০৯৫

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………আবু হুরায়রা রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈল যদি না হত তবে গোশত দুর্গন্ধযুক্ত হতো না। আর যদি হাওয়া আ. না হতেন তবে নারীই তার স্বামীর খেয়ানত করত না।

বুখারি হাদিস নং ৩০৯৬

হাদীস নং ৩০৯৬

আবু কুরায়ব ও মূসা ইবনে হিযাম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নারীদেরকে উত্তম উপদেশ দিবে।

কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে।

আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি অধিক বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে আর যদি ছেড়ে দাও, তাহলে সব সময় তা বাঁকাই থেকে যাবে। কাজেই নারীদের সাথে উপদেশপূর্ণ কথাবার্তা বলবে।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩০৯৭

হাদীস নং ৩০৯৭

উমর ইবনে হাফস রহ………..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সত্যবাদী-সত্যনিষ্ঠ হিসাবে স্বীকৃত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান স্বীয় মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত জমা রাখা হয়।

এরপর অনরূপভাবে (চল্লিশ দিনে) তা আলাকারূপে পরিণত হয়। তারপর অনুরূপভাবে (চল্লিশ দিনে) তা গোশতের টুকরার রূপ লাভ করে। এরপর আল্লাহর তার কাছে চারটি বিষয়ের নির্দেশ নিয়ে একজন ফেরেশতা পাঠান। সে তার আমল, মৃত্যু, রিযক এবং সে কি পাপী হবে না পুণ্যবান হবে, এসন লিখে দেন।

তারপর তার মধ্যে রূহ ফুকে দেয়া হয়। এক ব্যক্তি একজন জাহান্নামীর আমলের ন্যায় আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে এক হাতের ব্যবধান থেকে যায়, এমন সময় তার ভাগ্যের লিখন এগিয়ে আসে।

তখন সে জান্নাতবাসীদের আমলের ন্যায় আমল করে থাকে। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যক্তি (প্রথম হতেই) জান্নাতবাসীদের আমলের অনুরূপ আমল করতে থাকে।

এমন কি শেষ পর্যন্ত তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থেকে যায়। এমন সময় তার ভাগ্যের লিখন এগিয়ে আসে। তখন সে জান্নামবাসীদের আমলের অনুরূপ আমল করে থাকে এবং পরিণতিতে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে।

বুখারি হাদিস নং ৩০৯৮

হাদীস নং ৩০৯৮

আবু নুমান রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন।

(সন্তান জন্মের সূচনায়) সে ফেরেশতা বলেন, হে রব! এ তো বীর্য। হে রব! এ তো আলাক। হে রব! এ তো গোশতের টুকরা। এরপর আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান।

তাহলে ফেরেশতা বলেন, হে রব! সন্তানটি ছেলে হবে, না মেয়ে হবে? হে রব! সে কি পাপীষ্ঠ হবে, না পুণ্যবান হবে? তার রিযক কি পরিমাণ হবে, তার আয়ু কত হবে? এভাবে তার মাতৃগর্ভে সবকিছুই লিখে দেয়া হয়।

বুখারি হাদিস নং ৩০৯৯

হাদীস নং ৩০৯৯

কায়স ইবনে হাফস রহ………..আনাস রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে সহজ আযাব ভোগকারীকে জিজ্ঞাসা করবেন, যদি পৃথিবীর সব ধন-সম্পদ তোমার হয়ে যায়, তবে তুমি কি আযাবের বিনিময়ে তা দিয়ে দিবে?

সে উত্তর দিবে, হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন, যখন তুমি আদম আ.-এর পৃষ্ঠদেশে ছিলে, তখন আমি তোমার কাছে এর চেয়েও সহজ একটি জিনিস চেয়েছিলাম। সেটা হল, তুমি আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১০০

হাদীস নং ৩১০০

উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে, তার এ খুনের পাপের একাংশ আদম আ.-এর প্রথম ছেলের (কাবিলের) উপর বর্তায়। কারণ সেই সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন করেছে।

বুখারি হাদিস নং ৩১০১ – আল্লাহর বাণী : ‘আর আমি নূহকে তার জাতির নিকট প্রেরণ করেছিলাম’।

হাদীস নং ৩১০১

আবদান রহ………….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা জনসমাবেশে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন, তারপর দাজ্জালের উল্লেখ করে বললেন, আমি তোমাদেরকে তার থেকে সতর্ক করছি আর প্রত্যেক নবীই নিজ নিজ সম্প্রদায়কে এ দাজ্জাল থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

নূহ আ.-ও নিজ সম্প্রদায়কে দাজ্জাল থেকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার সম্বন্ধে এমন একটা কথা বলছি, যা কোন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে বলেননি। তাহল তোমরা জেনে রেখ, নিশ্চয়ই দাজ্জাল কানা, আল্লাহর কানা নন।

বুখারি হাদিস নং ৩১০২

হাদীস নং ৩১০২

আবু নুআইম রহ…………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে এমন একটি কথা বলে দেব না, যা কোন নবীই তাঁর সম্প্রদায়কে বলেননি? তাহল, নিশ্চয়ই সে হবে কানা, সে সাথে করে জান্নাত এবং জাহান্নামের দুটি কৃত্রিম ছবি নিয়ে আসবে।

অতএব যাকে সে বলবে যে এটি জান্নাত প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে জাহান্নাম। আর আমি তার সম্পর্কে তোমাদের ঠিক তেমনি সতর্ক করছি, যেমনি নূহ আ. তার সম্প্রদায়কে যেন সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১০৩

হাদীস নং ৩১০৩

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (হাশরের দিন) নূহ এবং তাঁর উম্মত (আল্লাহর দরবারে) হাযির হবেন । তখন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কি (আমার বাণী) পৌঁছিয়েছ?

তিনি বলবেন, হ্যাঁ, হে আমার রব! তখন আল্লাহ তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞাসা করবেন, নূহ কি তোমাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছিয়েছেন।

তারা বলবে, না, আমাদের কাছে নবীই আসেননি। তখন আল্লাহ নূহকে বলবেন, তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে কে? তিনি বলবেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উম্মত। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) তখন আমরা সাক্ষ্য দিব।

নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়েছেন। আর এটিই হল আল্লাহর বাণী : আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যেন তোমরা মানব জাতির উপর সাক্ষী হও। (২: ১৪৩) ‘আল-ওয়াসাতু’ অর্থ ন্যায়বান।

বুখারি হাদিস নং ৩১০৪

হাদীস নং ৩১০৪

ইসহাক ইবনে নাসর রহ…………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক যিয়াফতে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সামনে (রান্না করা) ছাগলের বাহু পেশ করা হল, এটা তাঁর কাছে পছন্দীয় ছিল।

তিনি সেখান থেকে এক টুকরা খেলেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন সমগ্র মানব জাতির সরদার হব। তোমরা কি জান? আল্লাহ কিভাবে (কিয়ামতের দিন) একই সমতলে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একত্রিত করবেন।

যেন একজন দর্শক তাদের সবাইকে দেখতে পায় এবং একজন আহবানকারীর ডাক সবার কাছে পৌঁছায়। সূর্য তাদের অতি নিকটে এসে যাবে। তখন কোন কোন মানুষ বলবে, তোমরা কি লক্ষ্য করনি, তোমরা কি অবস্থায় আছ এবং কি পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছ।

তোমরা কি এমন ব্যক্তিকে খুজে বের করবে না, যিনি তোমাদের জন্য তোমাদের রবের নিকট সুপারিশ করবেন? তখন কিছু লোক বলবে, তোমাদের আদি পিতা আদম আ. আছেন। (চল তাঁর কাছে যাই)। তখন সকলে তাঁর কাছে যাবে এবং বলবে হে আদম! আপনি সমস্ত মানব জাতির পিতা।

আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার পক্ষ থেকে রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকেছেন। তিনি ফেরেশতাদেরকে (আপনার সম্মানের) নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সকলে আপনাকে সিজাদও করেছেন এবং তিনি আপনাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন।

আপনি কি আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করবেন না? আপনি দেখেন না, আমরা কি অবস্থায় আছি এবং কি কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি? তখন তিনি বলবেন, আমার রব আজ আমাকে রাগন্বিত হয়েছেন, এর পূর্বে এমন রাগান্বিত হননি আর পরেও এমন রাগান্বিত হবেন না।

আর তিনি আমাকে বৃক্ষটি থেকে (ফল খেতে) নিষেধ করেছিলেন। তখন আমি ভূল করেছি। এখন আমি নিজের চিন্তায়ই ব্যস্ত। তোমরা আমি ব্যতীত অন্যের কাছে যাও। তোমরা নূহের কাছে চলে যাও।

তখন তারা নূহ আ. এর কাছে আসবে এবং বলবে, হে নূহ ! পৃথিবীবাসীদের নিকট আপনিই প্রথম রাসূল এবং আল্লাহ আপনার নাম রেখেছেন কৃতজ্ঞ বান্দ। আপনি কি লক্ষ করছেন না, আমরা কি ভয়াবহ অবস্থায় পড়ে আছি? আপনি দেখছেন না আমরা কতইনা দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয়ে আছি?

আপনি কি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করবেন না? তখন তিনি বললেন, আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়ে আছেন, যা ইতিপূর্বে হন নাই এবং এমন রাগান্বিত পরেও হবেন না।

এখন আমি নিজের চিন্তায়ই ব্যস্ত। তোমরা নবী (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর কাছে চলে যাও। তখন তারা আমার কাছে আসবে আর আমি আরশের নীচে সিজদায় পড়ে যাব।

তখন বলা হবে, হে মুহাম্মদ! আপনার মাথা উঠান এবং সুপারিশ করুন। আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে আর আপনি যা চান, আপনাকে তাই দেওয়া হবে। মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ রহ. বলেন, হাদীসের সকল অংশ আমি মুখস্থ করতে পারিনি।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১০৫

হাদীস নং ৩১০৫

নাসর ইবনে আলী রহ……………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল ক্বারীদের ক্বিরাতের ন্যায় فهل من مدكر তিলাওয়াত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১০৬ – ইদরীস আ.-এর বর্ণনা।

হাদীস নং ৩১০৬

আবদান ও আহমাদ ইবনে সালিহ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু যার রা. হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (লাইলাতুল মিরাজে) আমার ঘরের ছাদ উন্মক্ত করা হয়েছিল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম।

তারপর জিবরাঈল আ. অবতরণ করলেন এবং আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। এরপর তিনি যমযমের পানি দ্বারা তা ধুইলেন। এরপর হিকমত ও ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ একখানা সোনার তশতরি নিয়ে আসেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিলেন। তারপর আমার বক্ষকে পূর্বের ন্যায় মিলিয়ে দিলেন।

এবার তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে আকাশের দিকে উঠিয়ে নিলেন। এরপর যখন দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে পৌঁছলেন, তখন জিবরাঈল আ. আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে জবাব দিলেন, আমি জিবরাঈল। দ্বাররক্ষী বললেন, আপনার সাথে কি আর কেউ আছেন? তিনি বললেন, আমার সাথে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন। দ্বাররক্ষী জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে কি ডাকা হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। তারপর দরজা খোলা হল।

যখন আমরা আকাশের উপরে আরোহণ করলাম, হঠাৎ দেখলাম এক ব্যক্তি যার ডানে একদল লোক আর তাঁর বামেও একদল লো। যখন তিনি তাঁর ডাক দিকে তাকান তখন হাসতে থাকেন আর যখন তাঁর বাম দিকে তাকান তখন কাঁদতে থাকেন।

(তিনি আমাকে দেখে) বললেন, মারহাবা! নেক নবী ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিবরাঈল ! ইনি কে তিনি জবাব দিলেন, ইনি আদম আ. আর তাঁর ডানের ও বামের এ লোকগুলো হল তাঁর সন্তান (আত্ম সমূহ) এদের মধ্যে ডানদিকের লোকগুলো হল জান্নাতী আর বামদিকের লোকগুলো হল জাহান্নামী।

অতএব যখন তিনি ডান দিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। এরপর আমাকে নিয়ে জিবরাঈল আ. আরো উপরে উঠলেন।

এমনকি দ্বিতীয় আকাশের দ্বারে এসে গেলেন। তখন তিনি এ আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন! দ্বাররক্ষী তাকে প্রথম আকাশের দ্বাররক্ষী যেরূপ বলেছিল, অনুরূপ বলল। তারপর তিনি দরজা খুলে দিলেন।

আনাস রা. বলেন, এরপর আবু যার রা. উল্লেখ করেছেন, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশসমূহে ইদরীস, মূসা, ঈসা ও ইবরাহীম আ.-এর সাক্ষাত পেয়েছেন।

তাদের কার অবস্থান কোন আকাশে আমার কাছে তা বর্ণনা করেননি। তবে তিনি এটা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে আদম আ.-কে এবং ষষ্ঠ আকাশে ইবরাহীম আ.-কে দেখতে পেয়েছেন।

আনাস রা. বলেন, জিবরাঈল আ. যখন (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ) ইদরীস আ.-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, তখন তিনি (ইদরীস আ.) বলেছিলেন, নেক নবী ও নেক ভাই। আপনাকে মারহাবা! আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে তিনি জবাব দিলেন, ইনি ইদরীস আ.।

এরপর মূসা আ.-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! নেক নবী ও নেক ভাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে তিনি জবাব দিলেন, ইনি মূসা আ.। তারপর ঈসা আ.-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! নেক নবী ও নেক ভাই।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে তিনি জবাব দিলেন, ইনি ঈসা আ.। তারপর ইবরাহীম আ.-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! নেক নবী ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে তিনি জবাব দিলেন, ইনি ইবরাহীম আ.।

ইবনে শিহাব রহ. বলেন, আমাকে ইবনে হাযম রহ. জানিয়েছেন যে, ইবনে আব্বাস ও আবু হাইয়্যা আনসারী রা. বলতেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরপর জিবরাঈল আ. বললেন, ঊর্ধ্বে নিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত আমি একটি সমতল স্থানে গিয়ে পৌঁছলাম।

সেখান থেকে কলমসমূহের খসখস শব্দ শুনছিলাম। ইবনে হাযম রহ. এবং আনাস ইবনে মালিক রা. বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তখন আল্লাহ আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। এরপর ইম এ নির্দেশ নিয়ে ফিরে চললাম।

যখন মূসা আ.-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের উপর কি ফরয করেছেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন, পুনরায় আপনার রবের কাছে ফিরে যান (এবং তা কমাবার জন্য আবেদন করুন) কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ্য থাকবে না।

তখন ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার জন্য আবেদন করলাম। তিনি তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা আ.-এর কাছে ফিরে আসলাম।

তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে গিয়ে পুনরায় কমাবার আবেদন করুন এবং তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্বের অনুরূপ কথা আবার উল্লেখ করলেন। এবার তিনি (আল্লাহ) তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আবার আমি মূসা আ.-এর কাছে আসলাম এবং তিনি পূর্বের মত বললেন।

আমি তা করলাম। তখন আল্লাহ তার এক অংশ মাফ করে দিলেন। আমি পুনরায় মূসা আ.-এর কাছে আসলাম এবং তাকে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট গিয়ে আরো কমাবার জন্য আরয করুন। কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ্য থাকবে না।

আমি আবার গিয়ে আমার রবের নিকট তা কমাবার আবেদন করলাম। তিনি বললেন, এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বাকী রইল। আর তা সাওয়াবের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমান হবে।

আমার কথার পরিবর্তন হয় না। তারপর আমি মূসা আ.-এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি এবারও বললেন, আপনার রবের কাছে গিয়ে আবেদন করুন। আমি বললাম, এবার আমার রবের সম্মুখীন হতে আমি লজ্জাবোধ করছি।

এরপর জিবরাঈল আ. চললেন এবং অবশেষে আমাকে সাথে করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। দেখলাম তা এমন অপরূপ রঙে পরিপূর্ণ, যা বর্ণনা করার ক্ষমতা আমার নেই।

এরপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল। দেখলাম এর ইট হচ্ছে মোতির তৈরী আর তার মাটি হচ্ছে মিসক বা কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধযুক্ত।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১০৭ – আল্লাহর বাণী: ‘আর আমি আদ জাতির নিকট তাদেরই ভাই হূদ কে পাঠিয়েছিলাম……….

হাদীস নং ৩১০৭

মুহাম্মদ ইবনে আরআর রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে ভোরের বায়ূ (পুবালী বাতাস) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। ইবনে কাসীর রহ. আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, আলী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠালেন।

তিনি তা চার ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দিলেন। (১) আল-আকরা ইবনে হাবেস হানযালী যিনি মাজাশেয়ী গোত্রের ছিলেন। (২) উআইন ইবনে বদর ফাযারী (৩) যায়েদ ত্বায়ী যিনি বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন।

(৪) আলকামা ইবনে উলাসা আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেণ এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং বলতে লাগলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তা তাদেরকে (ইসলামের দিকে) আকৃষ্ট করার জন্য মনোরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে আসল, যার চোখ দুটি কোটরাগত, গণ্ড দ্বয় ঝুলে পড়া কপাল উঁচু, ঘন দাঁড়ি এবং মাথা মোড়ানো ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মদ ! আল্লাহকে ভয় করুন।

তখন তিনি বললেন, আমিই যদি নাফরমানী করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না।

তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। (আবু সাঈদ রা. বলেন) আমি তাকে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রা. বলে ধারণা করছি।

কিন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিষেধ করলেন। তারপর অভিযোগকারী লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ব্যক্তির বংশ হতে বা এ ব্যক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবেনা।

দীন থেকে তারা এমনভাবে বেরিয়ে পড়বে যেমনি ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদিগকে হত্যা করবে আর মূর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা থেকে মুক্তি দেবে।

বুখারি হাদিস নং ৩১০৮

হাদীস নং ৩১০৮

খালিদ ইবনে ইয়াযীদ রহ………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (আদ জাতির ঘটনা বর্ণনায়) فهل من مدكر এ আয়াতটি পড়তে শুনেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩১০৯ – আল্লাহর বাণী: (হে নবী) তারা আপনাকে যুল-কারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে।

হাদীস নং ৩১০৯

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…………যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর কাছে আসলেন এবং বলতে লাগলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ।

আরবের লোকদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য। যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে (ছিদ্র হয়ে) গেছে।

এ কথার বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির অগ্রভাগকে তার সাথের শাহাদাত আঙ্গুলের অগ্রভাগের সাথে মিলিয়ে গোলাকৃতি করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান।

যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. বলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে নেক ও পূণ্যবান লোকজন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।

তিনি বললেন, হ্যাঁ যখন পাপাচার অধিক মাত্রায় বেড়ে যাবে। (তখন অল্প সংখ্যক নেক লোকের বিদ্যমানেই মানুষের ধ্বংস নেমে আসবে)।

বুখারি হাদিস নং ৩১১০

হাদীস নং ৩১১০

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু হুরায়রা র. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীরে আল্লাহ এ পরিমাণ ছিদ্র করে দিয়েছেন।

এই বলে, তিনি তাঁর হাতে নব্বই সংখ্যার আকৃতি ধারণ করে দেখালেন। (অর্থাৎ তিনি নিজ শাহাদাত আঙ্গুলের মাথা বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় লাগিয়ে ছিদ্রের পরিমাণ দেখালেন।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১১১

হাদীস নং ৩১১১

ইসহাক ইবনে নাসর রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ (হাশরের দিন) ডাকবেন হে আদম আ.! তখন তিনি জবাব দিবেন, আমি হাযির আমি সৌভাগ্যবান এবং সকল কল্যাণ আপনার হাতেই।

তখন আল্লাহ বললেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন। এ সময় (চরম ভয়ের কারণে) ছোটরা বুড়ো হয়ে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করে ফেলবে।

মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তত: আল্লাহর শাস্তি কঠিন (২২:২)। সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! (প্রতি হাজারের মধ্যে একজন) আমাদের মধ্যে সেই একজন কে?

তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা তোমাদের মধ্য থেকে একজন আর এক হাজারের অবশিষ্ট ইয়াজুজ মাজুজ হবে। তারপর তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম ! আমি আশা করি তোমরা (যারা আমার উম্ম) সমস্ত জান্নাতবাসীর এক চতুর্থাংশ হবে।

(আবু সাঈদ রা. বলেন) আমরা এ সুসংবাদ শুনে) আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। এরপর তিনি আবার বললেন, আমি আশা করি তোমরা সমস্ত জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে।

আমরা পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি আবার বললেন, আমি আশা করি তোমরা সমস্ত জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। একথা শুনে আমরা আবারও আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম।

তিনি বললেন, তোমরা তো অন্যান্য মানুষের তুলনায় এমন, যেমন সাদা ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি কাল পশম অথবা কালো ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি সাদা পশম।

বুখারি হাদিস নং ৩১১২ – মহান আল্লাহর বাণী : আর আল্লাহ ইবরাহীম আ.-কে বন্ধরূপে গ্রহণ করেছেন। (৪:১২৫)।

হাদীস নং ৩১১২

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের হাশর ময়দানে খালি পা, বিবস্ত্র এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে।

এরপর তিনি (এ কথার সমর্থনে) পবিত্র কুরআনের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: যে ভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব।

এটি আমার প্রতিশ্রুতি।এর বাস্তবায়ন আমি করবই। (২১ : ১০৪) আর কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাকে কাপড় পরানো হবে। তিনি হবেন ইবরাহীম আ.। আর (সে দিন) আমার অনুসারীদের মধ্য হতে কয়েকজনকে পাকড়াও করে বাম দিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী, এরা তো আমার অনুসারী। এ সময় আল্লাহ বললেন, যখন আপনি এদের থেকে বিদায় নেন, তখন তারা পূর্ব ধর্মে ফিরে যায়।

কাজেই তারা আপনার সাহাবী নয়। তখন আল্লাহর নেক বান্দা (ঈসা আ.) যেমন বলেছিলেন, তেমন আমি বলব, হে আল্লাহ ! আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন আম ছিলাম তাদের অবস্থার পর্যবেক্ষক । আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৫ : ১২৭-১২৮)

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১১৩

হাদীস নং ৩১১৩

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন ইবরাহীম আ. তার পিতা আযরের দেখা পাবেন। আযরের মুখমণ্ডলে কালিমা এবং ধূলাবালি থাকবে।

তখন ইবরাহীম আ. তাকে বললেন, আমি কি পৃথিবীতে আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্যতা করবেন না? তখন তাঁর পিতা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্যতা করব না।

এরপর ইবরাহীম আ. (আল্লাহর কাছে) আবেদন করবেন, হে আমার রব! আপনি আমার সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, হাশরের দিন আপনি আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমার পিতা রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার চাইতে অধিক অপমান আমার জন্য আর কি হতে পারে।

তখন আল্লাহ বললেন, আমি কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। পুনরায় বলা হবে, হে ইবরাহীম! তোমার পদতলে কি? তখন তিনি নীচের দিকে তাকাবেন।

হঠাৎ দেখতে পাবেন তাঁর পিতার স্থানে সর্ব শরীরে রক্তমাখা একটি জানোয়ার পড়ে রয়েছে। এর চার পা বেঁধে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩১১৪

হাদীস নং ৩১১৪

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন।

সেখানে তিনি ইবরাহীম আ. ও মারইয়ামেরে ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, তাদের কি হল? অথচ তারা তো শুনতে পেয়েছে, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকবে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।

এ যে ইবরাহীমের ছবি বানানো হয়েছে, (ভাগ্য নির্ধারক জুয়ার তীর নিক্ষেপরত অবস্থায়) তিনি কেন ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১১৫

হাদীস নং ৩১১৫

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাবা ঘরে ছবিসমূহ দেখতে পেলেন, তখন যে পর্যন্ত তাঁর নির্দেশে তা মিটিয়ে ফেলা না হল, সে পর্যন্ত তিনি তাঁতে প্রবেশ করলেন না।

আর তিনি দেখতে পেলেন, ইবরাহীম এবং ইসমাঈল আ.-এর হাতে ভাগ্য নির্ধারণের তীর। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তাদের (কুরাইশদের) উপর লানত বর্ষণ করুক। আল্লাহর কসম, তাঁরা দু’জন কখনও ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩১১৬

হাদীস নং ৩১১৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে?

তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী মুত্তাকী। তখন তারা বলল, আমরা তো আপনাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তাহলে (সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি) আল্লাহর নবী ইউসুফ, যিনি আল্লাহর নবী (ইয়াকুব)-এর পুত্র, আল্লাহর নবী (ইসহাক)-এর পৌত্র, এবং আল্লাহর খলীল (ইবরাহীম)-এর প্রপৌত্র।

তারা বলল, আমরা আপনাকে এ সম্বন্ধেও জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তাহলে কি তোমরা আরবের মূল্যবান গোত্রসমূহ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছ?

জাহিলী যুগে তাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন, ইসলামেও তাঁরা সর্বোত্তম ব্যক্তি যদি তাঁরা ইসলামী জ্ঞানার্জন করেন। আবু উসামা ও মুতামির রহ……..আবু হুরায়রা রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১১৭

হাদীস নং ৩১১৭

মুআম্মাল ইবনে হিশাম রহ………..সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজ রাতে (স্বপ্নে) আমার কাছে দু’জন লোক আসলেন।

তারপর আমরা এক দীর্ঘদেহী লোকের কাছে আসলাম। তাঁর দেহ দীর্ঘ হওয়ার কারণে আমি তাঁর মাথা দেখতে পাচ্ছিলাম না। মূলত: তিনি ইবরাহীম আ. ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১১৮

হাদীস নং ৩১১৮

বায়ান ইবনে আমর রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছেন। তার (দাজ্জালের) দু’ চোখের মাঝখানে অর্থাৎ কপালে লেখা থাকবে কাফির বা কাফ, ফা, রা। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শুনেনি।

বরং তিনি বলেছেন, যদি তোমরা ইবরাহীম আ.-কে দেখতে চাও তবে তোমাদের সাথীর (আমার) দিকে তাকাও মূসা আ. তিনি হলেন কুঁকড়ানো চুল, তামাটে রং-এর দেহ বিশিষ্ট।

তিনি এমন একটি লাল উটের উপর উপবিষ্ট, যার নাকের রশি হবে খেজুর গাছের ছালের তৈরী। আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি, তিনি আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে দিতে উপত্যকায় অবতরণ করছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১১৯

হাদীস নং ৩১১৯

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবী ইবরাহীম আ. সূত্রধরদের অস্ত্র দ্বারা নিজের খাতনা করেছিলেন এবং তখন তার বয়স ছিল আশি বছর।

আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক রহ. আবু যিনাদ রহ . থেকে হাদীস বর্ণনায় মুগীরা ইবনে আবদুর রাহমান রহ. -এর অনুসরণ করেছন।

আজলান রহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় আরজ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনে আমর রহ. আবু সালামা রর. থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩১২০

হাদীস নং ৩১২০

সাঈদ ইবনে তালীদ রুআইনী ও মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম আ. তিনবার ব্যতীত কখনও কথাকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলেননি।

তন্মধ্যে দু’বার ছিল আল্লাহ প্রসঙ্গে। তার উক্তি “আমি অসুস্থ” (৩৭:৮৯) এবং তাঁর আবার এক উক্তি “বরং এ কাজ করেছে, এই তো তাদের বড়টি” (২১:৬৩) বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি (ইবরাহীম আ. এবং তাঁর পত্নী) সারা অত্যাচারী শাসকগণের কোন এক শাসকের এলাকায় এসে পৌঁছলেন।

(তা ছিল মিসর) তখন তাকে (শাসককে) সংবাদ দেয়া হল যে, এ এলাকায় এসেছে। তার সাথে একজন সর্বাপেক্ষা সুন্দরী মহিলা রয়েছে। তখন সে (রাজা) তাঁর (ইবরাহীম) কাছে লোক পাঠাল। সে তাকে মহিলাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, এ মহিলাটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, মহিলাটি আমার বোন।

তারপর তিনি সারা কাছে আসলেন এবং বললেন, হে সারা, তুমি আর আমি ছাড়া পৃথিবীর উপর আর কোন মুমিন নেই। এ লোকটি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তখন আম তাকে জানিয়েছি যে, তুমি আমার বোন। কাজেই তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না।

এরপর (অত্যাচারী রাজা) সারাকে আনার জন্য লোক পাঠালো। তিনি (সারা) যখন তার (রাজার) কাছে প্রবেশ করলেন এবং রাজা তাঁর দিকে হাত বাড়ালো তখনই সে (আল্লাহর গযবে) পাকড়াও হল। তখন অত্যাচারী রাজা সারাকে বলল, আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ কর, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না।

তখন সারা আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। এরপর দ্বিতীয়বার তাকে ধরতে চাইল। এবার সে পূর্বের ন্যায় বা তার চেয়ে কঠিনভাবে (আল্লাহর গযবে) পাকড়াও হল। এবারও সে বলল, আল্লাহর কাছে আমার জন্য দু’আ কর। আমি তোমার কো ক্ষতি করব না।

আবারও তিনি দু’আ করলেন, ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। তারপর রাজা তার কোন এক দারোয়ানকে ডাকল। সে তাকে বলল, তুমি তো আমার কাছে কোন মানুষ আননি। বরং এনেছ এক শয়তান।

তারপর রাজা সারার খেদমতের জন্য হাজেরাকে দান করল। এরপর তিনি (সারা) তাঁর (ইবরাহীম) কাছে আসলেন, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।

তখন তিনি (সালাতরত অবস্থায়) হাত দ্বারা ইশারা করে সারাকে বললেন, কি ঘটেছে? তখন সারা বললেন, আল্লাহ কাফির বা ফাসিকের চক্রান্ত তারই বক্ষে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

(অর্থাৎ তার চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছেন)। আর সে (রাজা) হাজেরাকে খেদমতের জন্য দান করেছে। আবু হুরায়রা রা. বলেন, হে আকাশের পানির সন্তানগণ! এ হাজেরাই তোমাদের আদি মাতা।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১২১

হাদীস নং ৩১২১

উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা অথবা ইবনে সালাম রহ……….উম্মে শারীক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরগিট বা কাকলাশ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, ইবরাহীম আ. যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তাঁতে এ গিরগিট ফুঁ দিয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩১২২

হাদীস নং ৩১২২

উমর ইবনে হাফস গিয়াস রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়: যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি।

(৬: ৮২) তখন আমরা বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুলুম করেনি ? তিনি বললেন, তোমরা যা বল ব্যাপরটি তা নয়।

বরং তাদের ঈমানকে যুলুম অর্থাৎ শিরক দ্বারা কলুষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি ? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন হে বৎস! আল্লাহর সাথে কোনরূপ শিরক করো না। নিশ্চয় শিরক একটা চরম যুলুম। (৩১:১৩)।

বুখারি হাদিস নং ৩১২৩ – يزفون অর্থ দ্রুত চলা।

হাদীস নং ৩১২৩

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে নাসর রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে কিছু গোশত আনা হল। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একই সমতল ময়দানে সমবেত করবেন।

তখন আহবানকারী তাদের সকলকে তার আহবান সমভাবে শুনাতে পারবে। এবং তাদের সকলের উপর সমভাবে দর্শকের দৃষ্টি পড়বে আর সূর্য তাদের অতি নিকটবর্তী হবে।

তারপর তিনি শাফায়াতের হাদীস বর্ণনা করলেন যে, সকল মানুষ ইবরাহীম আ.-এর নিকট আসবে এবং বলবে, পৃথিবীতে আপনি আল্লাহর নবী এবং তাঁর খলীল।

অতএব আমাদের জন্য আপনি আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন। তখন তিনি ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলা উক্তির কথা স্মরণ করে বললেন, নাফসী ! নাফসী ! তোমরা মূসার কাছে যাও। অনুরূপ হাদীস আনাস রা. ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

আম্বিয়া কিরাম আ অধ্যায় ১ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩১২৪

হাদীস নং ৩১২৪

আহমদ ইবনে সাঈদ আবু আবদুল্লাহ রহ………….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসমাঈলের মায়ের প্রতি আল্লাহ রহম করুন।

যদি তিনি তাড়াতাড়ি না করতেন, তবে যমযম একটি প্রবহমান ঝর্ণায় পরিণত হত। আনসারী রহ. ইবনে জুরাইজ রহ. সূত্রে বলেন যে, কাসীর ইবনে কাসীর বলেছেন যে, আমি ও উসমান ইবনে আবু সুলাইমান রহ. সাঈদ ইবনে জুবাইর রহ.-এর নিকট বসা ছিলাম।

তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস রা. আমাকে এরূপ বলেন নি বরং তিনি বলেছেন, ইবরাহীম আ., ইসমাঈল আ. এবং তাঁর মাকে নিয়ে আসলেন। মা তখন তাকে দুধ পান করাতেন এবং তাঁর সাথে একটি মশক ছিল। এ অংশটি মারফুরূপে বর্ণনা করেননি।

আরও পড়ুনঃ

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

হাদিসশাস্ত্র (উলুমুল হাদিস)

 

মন্তব্য করুন