আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায়

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৪৩

হাদীস নং ৩৬৪৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…………উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী রহ. বলেন, আমি উসমান রা.-এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি আমার বক্তব্য শুনার পর তাশাহহুদ পাঠের পর বললেন, আম্মা বাদু। আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন।

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহবানে সাড়া দিয়েছিলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে সত্যসহ প্রেরণ করা হয়েছিল তৎপ্রতি ঈমান এনেছিলেন আমিও তাদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম।

উভয় হিজরতে (হাবশায় ও মদীনায়) অংশ গ্রহণ করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাতা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি।

আমি তাঁর হাতে বায়আত করেছি, আল্লাহর কসম আমি কখনো তাঁর নাফরমানী করিনি তাঁর সাথে প্রতারণামূলক কোন কিছু করিনি। এমতাবস্থায় তাঁর ওফাত হয়েছে। ইসহাক কালবী শুয়ায়বের অনুসরণ করতঃ যুহরী সুত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৪৪

হাদীস নং ৩৬৪৪

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, যে বছর উমর রা. শেষ হজ্জ আদায় করেন সে বছর আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. মিনায় তাঁর পরিবারে কাছে ফিরে আসেন এবং সেখানে আমার সাথে তাঁর সাক্ষাত ঘটে।

(উমর রা. লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে চাইলে) আবদুর রাহমান রা. বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, হজ্জ মওসুমে বুদ্ধিমান ও নির্বোধ সব রকমের মানুষ একত্রিত হয়।

তাই আমার বিবেচনায় আপনি ভাষণ দান থেকে বিরত থাকুন। এবং মদীনা গমন করে ভাষণ দান করুন। মদীনা হল দারুল হিজরত, (হিজরতের স্থান) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাতের পবিত্র ভূমি।

সেখানে আপনি অনেক জ্ঞানী, গুণী ও বুদ্ধিমান লোককে একান্তে পাবেন। উমর রা. বললেন, মদীনায় গিয়েই সর্বপ্রথম আমার ভাষণটি অবশ্যই প্রদান করব।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৪৫

হাদীস নং ৩৬৪৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………….খারিজা ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিত রা. বলেন, উম্মুল আলা রা. নামক জনৈক আনসারী মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাতে বায়আত করেন।

তিনি বর্ণনা করেন, যখন মুহাজিরদের অবস্থানের ব্যাপারে আনসারদের মধ্যে লটারী অনুষ্ঠিত হল তখন উসমান ইবনে মাযউনের বসবাস আমাদে ভাগে পড়ল। উম্মুল আলা রা. বলেন, এরপর তিনি আমাদের এখানে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমি তার সেবা শুশ্রূষা করলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ওফাত হয়ে গেল।

আমরা কাফনের কাপড় পরিয়ে দিলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে তাশরীফ আনলেন। ঐ সময় আমি উসমান রা.-কে লক্ষ্য করে বলছিলাম। হে আবু সায়িব ! তোমার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তোমার ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাকে সম্মানিত করেছেন।

তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কেমন করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, আমার মাত-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তো জানিনা। (তবে তাকে যদি সম্মানিত করা না হয়) তবে কাকে আল্লাহ সম্মানিত করবেন?

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম, উসমানের মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, আমি তার সম্বন্ধে কল্যাণের আশা পোষণ করছি। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানিনা আল্লাহর তাঁর সাথে কি ব্যবহার করবেন।

উম্মুল আলা রা. বলেন, আল্লাহর কসম, আমি এ কথা শুনার পর আর কাউকে (দৃঢ়তার সহিত) পূত-পবিত্র বলব না। উম্মুল আলা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ কথা আমাকে চিন্তিত করল।

এরপর আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, উসমান ইবনে মাযউন রা. এর জন্য একটি নহর প্রবাহিত রয়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে আমার স্বপ্নটি ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, এ হচ্ছে তার (নেক) আমল।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৪৬

হাদীস নং ৩৬৪৬

উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বুআস যুদ্ধ এমন একটি যুদ্ধ ছিল যা আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুকূলে তাঁর হিজরতের পূর্বেই সংঘটিত করিয়েছিলেন, যা তাদের (মদীনাবাসীদের) ইসলাম গ্রহণের পক্ষে সহায়ক হয়েছিল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন তাদের গোত্রগুলো ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে নানা দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল এবং তাদের অনেক নেতৃবৃন্দ নিহত হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৪৭

হাদীস নং ৩৬৪৭

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর রা. ঈদুল ফিতর অথবা ঈদুল আযহার দিনে তাকে দেখতে এলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রা.-এর গৃহে অবস্থান করছিলেন।

ঐ সময় দুজন অল্প বয়সী বালিকা এ কবিতাটি উচ্চস্বরে আবৃত্তি করছিল যা আনসারগণ বুআস যুদ্ধে আবৃত্তি করেছিল। তখন আবু বকর রা. দু’বার বললেন, এ হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবু বকর, তাদেরকে ছেড়ে দাও। কেননা প্রত্যেক সম্প্রদায়েই ঈদ রয়েছে আর আজকের দিন হল আমাদের ঈদের দিন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৪৮

হাদীস নং ৩৬৪৮

মুসাদ্দাদ ও ইসহাক ইবনে মানসুর রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন তখন মদীনার উচু এলাকার আমর ইবনে আউফ গোত্রে অবস্থান করলেন। আনাস রা. বলেন, সেখানে তিনি চৌদ্দ দিন অবস্থান করেন।

এরপর তিনি বানু নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিকট সংবাদ পাঠালেন। তারা সকলেই তরবারী ঝুলিয়ে উপস্থিত হলেন।

আনাস রা. বলেন, সেই দৃশ্য এখনো যেন আমি দেখতে পাচ্ছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রা. তাঁর পিছনে উপবিষ্ট রয়েছেন, আর বনু নাজ্জারের প্রধানগণ রয়েছেন তাদের পার্শ্বে। অবশেষে আবু আইয়্যূব রা.-এর বাড়ীর চত্বরে উটটি বসে পড়ল।

রাবী বলেন, ঐ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানেই সালাতরে সময় হত সেখানেই সালাত আদায় করে নিতেন। এবং তিনি কোন কোন সময় ছাগল-ভেড়ার খোয়াড়েও সালাত সালাত আদায় করতেন। রাবী বলেন, তারপর তিনি মসজিদ নির্মাণের আদেশ দিলেন।

তিনি বনী নাজ্জারের নেতাদের ডাকলেন এবং তারা এলে তিনি বললেন, তোমাদের এ বাগানটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও। তারা বলল, আল্লাহর কসম, আমরা বিক্রি করব না।

আল্লাহর কসম-এর বিনিময় আল্লাহর নিকট চাই। রাবী বলেন, এই স্থানে তখন ছিল মুশরিকদের পুরাতন কবর, বাড়ী ঘরের কিছু ভগ্নাবশেষ কয়েকটি খেজুরের গাছ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে মুশরিকদের কবরগুলি নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হল।

অগ্নাবশেষ সমতল করা হল, খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলা হল। রাবী বলে, কর্তিত খেজুর গাছের কাণ্ডগুলি মসজিদের কেবলার দিকে এর খুটি হিসাবে এক লাইনে স্থাপন করা হল এবং খুটির ফাঁকা স্থানে রাখা হল পাথর।

তখন সাহবায়ে কেরাম পাথর বহন করে আনছিলেন এবং ছন্দ যুক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করছিলেন: আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাদের সঙ্গে ছিলেন এবং বলছেন, হে আল্লাহ ! প্রকৃত কল্যাণ একমাত্র আখিরাতের কল্যাণই। হে আল্লাহ ! তুমি মুহাজির ও আনসারদের সাহয্য কর।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৪৯ – হজ্জ আদায়ের পর মুহাজিরগণের মক্কায় অবস্থান।

হাদীস নং ৩৬৪৯

ইবরাহীম ইবনে হামযা রহ………উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. হতে বর্ণিত, তিনি সাইব ইবনে উখতে নামর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি (মুহাজিরদের হজ্জ সম্পাদনান্তে) মক্কায় অবস্থান সম্পর্কে কি শুনেছেন?

তিনি বললেন, আমি আলা ইবনুল হাযরামী রা.-এর নিকট শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুহাজিরদের জন্য তাওয়াফে সদর আদায় করার পর তিন দিন মক্কায় অবস্থান করার অনুমতি রয়েছে।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫০ – পরিচ্ছেদ ২১৫৭

হাদীস নং ৩৬৫০

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..সাহল ইবনে সাদ রা. বর্ণনা করেন, লোকেরা বছর গণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত লাভের দিন থেকে করেনি এবং তাঁর ওফাত দিবস থেকেও করে দিন বরং তাঁর মদীনায় হিজরত থেকে বছর গণনা করা হয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫১

হাদীস নং ৩৬৫১

মুসাদ্দাদ রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় দু’দু রাকআত করে সালাত ফরয করা হয়েছিল।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করলেন, ঐ সময় সালাত চার রাকআত করে দেয়া হয়। এবং সফর কালে পূর্বাবস্থায় অর্থাৎ দু’রাকআত বহাল রাখা হয়। আবদুর রাজ্জাক রহ. মামর সূত্রে রেওয়ায়াত বর্ণনায় যাদীদ ইবনে যুবাইর-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫২ – নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি, হে আল্লাহ! সাহাবাদের হিজরতকে বহাল রাখুন এবং মক্কায় মৃত সাহাবীদের জন্য শোক প্রকাশ।

হাদীস নং ৩৬৫২

ইয়াহইয়া ইবনে কাযআ রহ……….সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. বলেন, বিদায় হজ্জের বছর আমি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর নিকটবর্তী হয়ে পড়ি তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন।

তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার রোগ কি পর্যায় পৌঁছেছে তা আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আমি একজন বিত্তবান লোক। আমার ওয়ারিশ হচ্ছে একটি মাত্র কন্যা।

আমি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ আল্লাহর রাস্তায় সাদকা করে দিব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে কি অর্ধেক? তিনি বললেন, হে সাদ, এক তৃতীয়াংশ দান কর। তৃতীয়াংশই অনেক বেশী।

তুমি তোমার সন্তান-সন্ততিদেরকে বিত্তবান রেখে যাও ইহাই উত্তম, এর চাইতে যে তুমি তাদেরকে নিঃস্ব রেখে গেলে যে তারা অন্যের নিকট হাত পেতে ভিক্ষা করে। আহমদ ইবনে ইউসুফ রহ………..ইবরাহীম রহ. থেকে এ কথাগুলোও বর্ণনা করেছেন।

তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সম্পদশালী রেখে যাবে আর তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা কিছু করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান তোমাকে দেবে। তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দিবে এর প্রতিদানও আল্লাহর তোমাকে দেবে।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আমার সাথী সঙ্গীদের থেকে পিছনে পড়ে থাকব? তিনি বললেন, তুমি কখনই পিছনে পড়ে থাকবে না আর এ অবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তুমি যে কোন নেক আমল করবে তাহলে তোমার সম্মান ও মর্যাদা আরো বেড়ে যাবে।

সম্ভবতঃ তুমি পিছনে থেকে যাবে এবং এর ফলে তোমার দ্বারা অনেক মানুষ উপকৃত এবং অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। হে আল্লাহ ! আমার সাহাবীদের হিজরতকে অক্ষুণ্ন রাখুন। তাদেরকে পশ্চাৎমুখী করে ফিরিয়ে নিবেন না।

কিন্তু অভাবগ্রস্ত সাদ ইবনে খাওলার মক্কায় মৃত্যুর কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন। আহমদ ইবনে ইউনুস রহ. ও মূসা রহ. ইব্রাহীম সুত্রে বর্ণনা করেছেন, أن تذر ورثتك তোমার উত্তরাধিকারীদের রেখে যাওয়া……।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫৩ – রাসূল (সা.) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাঁর সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করলেন।

হাদীস নং ৩৬৫৩

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রা. যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সাদ ইবনে রাবী আনসারী রা-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন।

সাদ রা. তার সম্পত্তি ভাগ করে অর্ধেক সম্পত্তি এবং দু’জন স্ত্রীর যে কোন একজন নিয়ে যাওয়ার জন্য আবদুর রাহমানকে অনুরোধ করলেন। তিনি উত্তরে বললেন, আল্লাহ আপনার পরিবাবর্গ ও ধন-সম্পদে বরকত দান করুন। আমাকে স্থানীয় বাজারের রাস্তাটি দেখিয়ে দিন।

তিনি (বাজারে গিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করলেন এবং) মুনাফা স্বরূপ কিছু ঘি ও পনীর লাভ করলেন। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাত হল।

তিনি তখন তার গায়ে ও কাপড়ে হলুদ রং-এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, হে আবদুর রাহমান ব্যাপার কি? তিনি বললেন,আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিবাহ করেছি।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে কি পরিমাণ মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, তাকে নাওয়াত (খেজুর বিচি) পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা করে নাও।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫৪ – পরিচ্ছেদ ২১৬০

হাদীস নং ৩৬৫৪

হামীদ ইবনে উমর রহ…………আনাস রা. বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা.-এর নিকট নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মদীনায় আগমনের সংবাদ পৌঁছলে তিনি এসে তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, আমি আপনাকে তিনটি প্রশ্ন করছি। এগুলোর সঠিক উত্তর নবী ব্যতীত অন্য কেউ জানেনা।

১. কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত ও লক্ষণ কি? ২. জান্নাতবাসীদের সর্বপ্রথম আহার্য কি? ৩. কি কারণে সন্তান আকৃতিতে কখনও পিতার অনুরূপ কখনো বা মায়ের অনুরূপ হয়? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে এই মাত্র জিবরাঈল আ. আমাকে জানিয়ে গেলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. এ কথা শুনে বললেন, তিনিই ফেরেশতাদের মধ্যে ইয়াহূদীদের শত্রু । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ১. কিয়ামতের নিকটবর্তী হওয়ার সর্বপ্রথম লক্ষণ হল লেলীহান আগুন যা মানুষকে পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে ধাওয়া করে নিয়ে যাবে এবং সবাইকে সমবেত করবে।

২. সর্বপ্রথম আহার্য যা জান্নাতবাসী ভক্ষণ করবে তা হল মাছের কলীজার অতিরিক্ত অংশ ৩. যদি নারীর আগে পুরুষের বীর্যপাত ঘটে তবে সন্তান পিতার অনুরূপ হয় আর যদি পুরুষের আগে নারীর বীর্যপাত ঘটে তবে সন্তান মায়ের অনুরূপ হয়। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই এবং নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল।

ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়াহূদীগণ এমন একটি সম্প্রদায় যারা অন্যের কুৎসা রটনায় অত্যন্ত পটু। আমার ইসলাম গ্রহণ প্রকাশ হওয়ার পূর্বে আমার অবস্থা সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ডাকলেন, তারা হাযির হল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মাঝে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন লোক? তারা বলল, তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং সর্বোত্তম ব্যক্তির পুত্র। তিনি আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির পুত্র।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা বলত, যদি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ইসলাম গ্রহণ করে তবে কেমন হবে? তোমরা তখন কি করবে?

তারা বলল, আল্লাহ তাকে একাজ থেকে রক্ষা করুন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার এ কথাটি বললেন, তারাও পূর্বরূপ উত্তর দিল।

তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বেরিয়ে আসলেন, এবং বললেন, أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ইহা শুনে ইয়াহূদীগণ বলতে লাগল, সে আমাদের মধ্যে মন্দ লোক এবং মন্দ লোকের ছেলে।

অতঃপর তারা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আরো অনেক কথাবার্তা বলল। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি ইহাই আশংকা করেছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫৫

হাদীস নং ৩৬৫৫

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবদুর রাহমান ইবনে মুতঈম রা. বলেন, আমার ব্যবসার একজন অংশীদার কিছু দেরহাম (রৌপ্য মুদ্রা) বাজারে নিয়ে বাকীতে বিক্রি করে। আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ।

এরূপ ক্রয়-বিক্রয় কি জায়েজ? তিনিও বললেন, সুবহানাল্লাহ ! আল্লাহর কসম, আমি ইহা খোলা বাজারে বিক্রি করেছি তাতে কেউ তা আপত্তি করেননি।

এরপর আমি বারা ইবনে আযিব রা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন তখন আমরা এরূপ বাকীতে ক্রয়-বিক্রয় করতাম; তখন তিনি বললেন, যদি নগদ হয় তবে তাকে কোন বাঁধা নেই। আর যদি ধারে হয় তবে জায়েয হবে না।

তুমি যায়েদ ইবনে আরকাম রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞাসা করে নাও। কেননা তিনি আমাদের মধ্যে একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। এরপর আমি যায়েদ ইবনে আরকামকে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনিও অনুরূপ বললেন। সুফিয়ান রহ. রাবী হাদীসটি কখনও এরূপ বর্ণনা করেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আমাদের নিকট আসনে, তখন আমরা হজ্জের মৌসুম পর্যন্ত মিয়াদে বাকীতে ক্রয়-বিক্রয় করতাম।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫৬ – রাসূল (সা.)-এর মদীনায় আগমনের পর তাঁর খেদমতে ইয়াহূদীদের উপস্থিতি।

হাদীস নং ৩৬৫৬

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………..আবু হুরায়রা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যদি আমার উপর দশজন ইয়াহূদী ঈমান আনত তবে সমগ্র ইয়াহূদী সম্প্রদায়ই ঈমান গ্রহণ করত।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫৭

হাদীস নং ৩৬৫৭

আহমদ অথবা মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-গুদনী রহ………..আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের কিছু লোক আশুরা দিবসকে অত্যন্ত সম্মান করত এবং সেদিন তারা সাওম পালন করত।

এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইয়াহূদীদের অপেক্ষা ঐ দিন সাওম পালন করার আমরা অধিক হকদার। তারপর তিনি সকলকে সাওম পালন করার আদেশ দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫৮

হাদীস নং ৩৬৫৮

যিয়াদ ইবনে আইয়্যূব রহ………..ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন দেখতে পেলেন ইয়াহূদীগণ আশুরা দিবসে সাওম দিবসে সাওম পালন করে।

তাদেরকে সাওম পালনের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলল, এদিনই আল্লাহ তায়ালা মূসা আ. ও বনী ইসরাঈলকে ফিরাউনের উপর বিজয় দান করেছিলেন।

তাই আমরা ঐ দিনের সম্মানার্থে সাওম পালন করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের চাইতে আমরা মূসা আ.-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি সাওম পালনের আদেশ দেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৫৯

হাদীস নং ৩৬৫৯

আবদান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুলে সিঁথি না কেটে সোজা পিছনের দিকে ছেড়ে দিতেন। আর মুশরিকগণ তাদের চুলে সিঁথি কাটত।

আহলে কিতাব সিঁথি কাত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন আদেশ না আসা পর্যন্ত আহলে কিতাবের অনুকরণকে পছন্দ করতেন। তারপর (আদেশ আসলে) তাঁর মাথায় সিঁথি কাটলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬০

হাদীস নং ৩৬৬০

যিয়াদ ইবনে আইয়্যূব রহ…………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এরাই তো সেই আহলে কিতাব যারা (তাওরাত ও কুরআনকে) ভাগাভাগি করে ফেলেছে, কিছু অংশের উপর ঈমান এনেছে এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করেছে।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৫ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬১ – সালমান ফারসী রা.-এর ইসলাম গ্রহণ।

হাদীস নং ৩৬৬১

হাসান ইবনে উমর ইবনে শাকীক রহ………..সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, আমি (অন্যায়ভাবে) দশজনের অধিক মালিকের হাত বদল হয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬২

হাদীস নং ৩৬৬২

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু উসমান রা. বলেন, তুমি সালমান রা.-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি (পারস্যের) রাম হুরমুয শহরের অধিবাসী।

বুখারি হাদিস নং ৩৬৬৩

হাদীস নং ৩৬৬৩

হাসান ইবনে মুদরিক রহ………..সালমান ফারসী রা. বলেন, ঈসা এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের মধ্যে ছয়শ বছরের ব্যবধান ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৭৭১

হাদীস নং ৩৭৭১

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগের কার্যাবলীর মধ্যে অন্যতম হল: কারো বংশ-কুল নিয়ে খুঁটা দেওয়া (কারো মৃত্যু উপলক্ষে শোক প্রকাশার্থে) বিলাপ করা।

তৃতীয় কথাটি (রাবী উবায়দুল্লাহ) ভুলে গেছেন। তবে সুফিয়ান রহ. বলেন, তৃতীয় কার্যটি হল, নক্ষত্রের সাহায্যে বৃষ্টি কামনা করা।

আরও পড়ুনঃ

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

সন্ধি অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সহিহ বুখারী

মন্তব্য করুন