আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায়

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯৪

হাদীস নং ৩৫৯৪

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উম্মে হাবীবা ও উম্মে সালামা রা. তাঁর সাথে আলোচনা করল যে তাঁরা হাবশায় (ইথিওপিয়া) খৃষ্টানদের একটি গির্জা দেখে এসেছেন।

সে গির্জায় নানা রকমের চিত্র অঙ্কিত রয়েছে। তাঁরা দু’জন এসব কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন।

তখন তিনি বললেন, (এদের অভ্যাস ছিল যে,) তাদের কোন নেককার লোক মারা গেলে তার কবরের উপর মসজিদ (উপাসনালয়) নির্মাণ করত এবং এসব ছবি অঙ্কিত করে রাখত, এরাই কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নিকট সর্বনিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসাবে পরিগণিত হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯৫

হাদীস নং ৩৫৯৫

হুমাইদী রহ……….উম্মে খালিদ (বিনতে খালিদ)রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন হাবশা থেকে মদীনায় আসলাম তখন আমি ছোট বালিকা ছিলাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি চাদর পরিয়ে দিলেন যাতে ডোরা কাটা ছিল।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ডোরাগুলির উপর হাত বুলাতে লাগলেন এবং বলতে ছিলেন সানাহ-সানাহঃ হুমাইদী রহ. বলেন, অর্থাৎ সুন্দর সুন্দর।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯৬

হাদীস নং ৩৫৯৬

ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (ইসলামের প্রাথমিক যুগে) সালাতে রত থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা সালাম করতাম, তিনিও আমাদের সালামের উত্তর দিতেন।

যখন আমরা নাজাশীর (হাবশা) কাছ থেকে ফিরে এলাম, তখন সালাতে রত অবস্থায় তাকে সালাম করলাম, কিন্তু তিনি সালামের জবাব দিলেন না। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা (সালাতের মধ্যে) আপনাকে সালাম করতাম এবং আপনিও সালামের উত্তর দিতেন।

কিন্তু আজ আপনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন না? তিনি বললেন, সালাতের মধ্যে আল্লাহর দিকে নিবিষ্টতা থাকে। রাবী বলেন, আমি ইবরাহীম নাখয়ীকে জিজ্ঞাসা করলাম, (সালাতের মধ্যে কেউ সালাম করলে) আপনি কি করেন? তিনি বললেন, আমি মনে মনে জবাব দিয়ে দেই।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯৭

হাদীস নং ৩৫৯৭

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আবির্ভাবের সংবাদ এসে পৌঁছল।

তখন আমরা ইয়ামানে অবস্থান করছিলাম। আমরা একটি নৌকায় আরোহণ করলাম। কিন্তু (প্রতিকূল বাতাসের কারণে) আমাদের নৌকা (গন্তব্য স্থানের দিকে না পৌঁছে) হাবশায় নাজাশীর নিকট নিয়ে গেল।

সেখানে জাফর ইবনে আবু তালিবের রা সাথে সাক্ষাৎ হল। আমরা তাঁর সাথে অবস্থান করতে লাগলাম কিছুদিন পর আমরা সেখান থেকে রওয়ানা হলাম।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বর বিজয় করলেন তখন আমরা তাঁর সাথে মিলিত হলাম। আমাদেরকে দেখে তিনি বললেন, হে নৌকারোহীগণ, তোমাদের জন্য দুটি হিজরতের মর্যাদা রয়েছে।

 

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯৮ – বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু।

হাদীস নং ৩৫৯৮

আবুর রাবী রহ………..জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নাজাশীর (আসহাম) মৃত্যু হল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আজ একজন সৎ ব্যক্তি মারা গেছেন। উঠ, এবং তোমাদের (ধর্মীয়) ভাই আসহামার জন্য জানাযার সালাত আদায় কর।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯৯

হাদীস নং ৩৫৯৯

আবদুল আলা ইবনে হাম্মাদ রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর উপর জানাযার সালাত আদায় করেন। আমরাও তাঁর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় কাতারে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০০

হাদীস নং ৩৬০০

আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ………….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসহাম নাজাশীর জানাযার সালাত আদায় করেন এবং চারবার তাকবীর বলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০১

হাদীস নং ৩৬০১

যুহাইর ইবনে হাবর রহ……….আবদুর রাহমান ও ইবনে মুসাইয়ার রহ. বলেন, আবু হুরায়রা রা. তাদেরকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে হাবশা (ইথিওপিয়া)-এর বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ সেদিন শোনালেন, যেদিন মারা গিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের (দীনী) ভাই এর জন্য মাগফিরাত কামনা কর।

আবু হুরায়রা রা. থেকে এরূপও বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবা কেরামকে নিয়ে ঈদগাহে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালেন এবং নাজাশীর উপর জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং তিনি চারবার তাকবীরও উচ্চারণ করলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০২ – রাসূল (সা.)-এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের শপথ গ্রহণ।

হাদীস নং ৩৬০২

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি বললেন, আমরা আগামীকাল খায়ফে বনী কেনানায় অবতরণ করব ইনশা আল্লাহ যেখানে তারা (কুরাইশ) সকলে কুফর ও শিরক এর উপর অটল থাকার শপথ গ্রহণ করেছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০৩ – আবু তালিবের ঘটনা।

হাদীস নং ৩৬০৩

মুসাদ্দাদ রহ………..আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রা. বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি আপনার চাচা আবু তালিবের কি উপকার করলেন অথচ তিনি (জীবিত থাকাবস্থায়) আপনাকে দুশমনের সকল আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে হিফাযত করেছেন।

(আপনাকে যারা কষ্ট দিয়েছে) তাদের বিরুদ্ধে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হতেন। তিনি বললেন, সে জাহান্নামে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত আগুনে আছে। যদি আমি না হতাম তবে সে জাহান্নামের সর্ব নিম্ন স্তরে অবস্থান করত।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০৪

হাদীস নং ৩৬০৪

মাহমূদ রহ………..ইবনে মুসাইয়্যাব তার পিতা মুসাইয়্যাব রহ. থেকে বর্ণনা করেন, যখন আবু তালিবের মুমুর্ষ অবস্থা তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট গেলেন। আবু জেহেলও তার নিকট বসা ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, চাচাজান, কালেমাটি একবার পড়ুন, তাহলে আপনি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট কথা বলতে পারব। তখন আবু জেহেল ও আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া বলল, হে আবু তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে ফিরে যাবে?

এরা দু’জন তার সাথে এ কথাটি বারবার বলতে লাগল। সর্বশেষ আবু তালিব তাদের সাথে যে কথাটি বলল, তাহল আমি আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরেই আছি।

এ কথার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব যে পর্যন্ত আপনার ব্যাপারে আমাকে নিষেধ করা না হয়।

এ প্রসঙ্গে এ আয়াতটি নাযিল হল: আত্মীয় স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের পক্ষে সংগত নয়- যখন তা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা জাহান্নামী।

(৯ : ১১৩) আরো নাযিল হল : আপনি যাকে ভালবাসেন ইচ্ছা করলেই সৎপথে আনতে পারবেন না। (২৮: ৫৬)।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬০৫

হাদীস নং ৩৬০৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যখন তাঁরই সামনে তাঁর চাচা আবু তালিবের আলোচনা করা হল, তিনিই বললেন, আশা করি কিয়ামতের দিনে আমার সুপারিশ তাঁর উপকারে আসবে।

অর্থাৎ আগুনের হালকা স্তরে তাকে নিক্ষেপ করা হবে, যা তার পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত পৌঁছবে এবং এতে তার মগয বলকাবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০৬

হাদীস নং ৩৬০৬

ইবরাহীম ইবনে হামযা রহ……….ইয়াযিদ রহ. ও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আরো বলেছেন, এর তাপে মস্তিস্কের কেন্দ্র পর্যন্ত বলকাতে থাকবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০৭ – ইসরার ঘটনা।

হাদীস নং ৩৬০৭

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যখন (মিরাজের ব্যাপারে) কুরাইশরা আমাকে অস্বীকার করল, তখন আমি কাবা শরীফের হিজর অংশে দাঁড়ালাম।

আল্লাহ তায়ালা তখন আমার সম্মুখে বায়তুল মুকাদ্দাসকে প্রকাশ করে দিলেন, যার ফলে আমি দেখে বায়তুল মুকাদ্দাসের সমূহ নিদর্শনগুলো তাদের কাছে বর্ণনা করছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০৮ – মিরাজের ঘটনা।

হাদীস নং ৩৬০৮

হুদবা ইবনে খালিদ রহ………..মালিক ইবনে সা’সা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাতে ভ্রমণ করানো হয়েছে সে রাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, একদা আমি কাবা ঘরের হাতিমের অংশে ছিলাম। কখনো কখনো রাবী (কাতাদা) বলেছেন, হিজরে শুয়েছিলাম।

হঠাৎ একজন আগন্তুক আমার নিকট এলেন এবং আমার এস্থান থেকে সে স্থানের মধ্যবর্তী অংশটি চিরে ফেললেন। রাবী কাতাদা বলেন, আনাস রা. কখনো কাদ্দা (চিরলেন) শব্দ আবার কখনো শাক্কা(বিদীর্ণ) শব্দ বলেছেন।

রাবী বলেন, আমি আমার পার্শ্বে বসা জারূদ রহ. কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ দ্বারা কী বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হলকূমের নিম্নদেশ থেকে নাভী পর্যন্ত। কাতাদা রহ. বলেন, আমি আনাস রা-কে এ-ও বলতে শুনেছি বুকের উপরিভাগ থেকে নাভির নীচ পর্যন্ত।

তারপর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) আগন্তুক আমার হৃদপিন্ড বের করলেন। তারপর আমার নিকট একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হল যা ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। তারপর আমার হৃদপিন্ডটি (যমযমের পানি দ্বারা) ধৌত করা হল এবং ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে যথাস্থানে পুনরায় রেখে দেয়া হল।

তারপর সাদা রং এর একটি জন্তু আমার নিকট আনা হল। যা আকারে খচ্চর থেকে ছোট ও গাধা থেকে বড় ছিল? জারুদ তাকে বলেন, হে আবু হামযা, ইহাই কি বুরাক? আনাস রা. বললেন, হ্যাঁ। সে একেক কদম রাখে দৃষ্টির শেষ প্রান্তে। আমাকে তার উপর সাওয়ার করানো হল।

তারপর আমাকে নিয়ে জিবরাঈল আ. চললেন, প্রথম আসমানে নিয়ে এসে দরজা খোলে দিতে বললেন, জিজ্ঞাসা করা হল ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল।

আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল।

আমি যখন পৌঁছলাম, তখন তথায় আদম আ. এর সাক্ষাত পেলাম। জিবরাঈল আ. বললেন, ইনি আপনার আদি পিতা আদম আ. তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ।

তারপর উপরের দিকে চলে দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছে দরজ খুলে দিতে বললেন, জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। যখন তথায় পৌঁছলাম।

তখন সেখানে ইয়াহইয়া ও ঈসা আ. এর সাক্ষাত পেলাম। তাঁরা দু’জন ছিলেন পরস্পরের খালাত ভাই। তিনি বললেন, এরা হলেন, ইয়াহইয়া ও ঈসা আ.। তাদের প্রতি সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তাঁরা জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ।

এরপর তিনি আমাকে নিয়ে তৃতীয় আসমানের দিকে চললেন, সেখানে গিয়ে জিবরাঈল বললেন, খুলে দাও। জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে।

তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। যখন তথায় পৌঁছলাম। তখন সেখানে ইউসুপ আ. কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল বললেন, ইনি ইউসুফ আ. আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ।

এরপর তিনি আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্ব-যাত্রা করলেন এবং চতুর্থ আসমানে পৌঁছলেন। সেখানে গিয়ে (ফেরেশতাদের) দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। আমি ইদ্রীস আ. এর কাছে পৌঁছলে জিবরাঈল বললেন, ইনি ইদ্রীস আ.।

আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্ব-যাত্রা করলেন এবং পঞ্চম আসমানে পৌঁছলেন। সেখানে গিয়ে (ফেরেশতাদের) দরজা খুলে দিতে বললেন।

জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। তথায় পৌঁছে হারূন আ. কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল আ. বললেন ইনি হারূন আ.। আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্ব-যাত্রা করলেন এবং ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলেন।

সেখানে গিয়ে (ফেরেশতাদের) দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে?

তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ফেরেশতারা বললেন, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তথায় পৌঁছে আমি মূসা আ. কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল আ. বললেন ইনি মূসা আ.।

আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। আমি যখন অগ্রসর হলাম তখন তিনি কেঁদে ফেললেন।তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনি কিসের জন্য কাঁদছেন?

তিনি বললেন, আমি এজন্য কাঁদছি যে, আমার পর একজন যুবককে নবী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে, যার উম্মত আমার উম্মত থেকে অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তারপর জিবরাঈল আ. আমাকে নিয়ে সপ্তম আকাশের দিকে গেলেন। সেখানে গিয়ে (ফেরেশতাদের) দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হল এ কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হল, তার জন্য খোশ-আমদেদ, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হল। তথায় পৌঁছে ইবরাহীম আ. কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল আ. বললেন ইনি আপনার পিতা।

আপনি তাকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তিনিও জবাব দিলেন, তারপর বললেন নেককার পুত্র ও নেককার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ।

তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উঠানো হল। দেখতে পেলাম, উহার ফল হাজর অঞ্চলের মটকার ন্যায় এবং তার পাতাগুলি এই হাতির কানের মত। আমাকে বলা হল, এ হল সিদরাতুল মুনতাহা (জড় জগতের শেষ প্রান্ত)। সেখানে আমি চারটি নহর দেখতে পেলাম, যাদের দুটি ছিল অপ্রকাশ্য দুটি ছিল প্রকাশ্য।

তখন আমি জিবরাঈল আ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ নহরগুলি কী? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য দুটি হল জান্নাতের দুইটি নহর। আর প্রকাশ্য দুটি হল নীল নদী ও ফুরাত নদী। তারপর আমার সামানে আল-বায়তুল মামুর প্রকাশ করা হল, এরপর আমার সামনে একটি শরাবের পাত্র, একটি দুধের পাত্র ও একটি মধুর পাত্র পরিবেশন করা হল।

আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তখন জিবরাঈল বললেন, এই হয়েছে ফিতরাত (দীন-ই-ইসলাম)। আপনি ও আপনার উম্মতগণ এর উপর প্রতিষ্ঠিত।

তারপর আমার উপর দৈনিক ৫০ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হল। এরপর আমি ফিরে আসলাম। মূসা আ. এর সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন।

আল্লাহ তায়ালা আপানাকে কী আদেশ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের আদেশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে সমর্থ হবে না।

আল্লাহর কসম। আমি আপনার আগে লোকদের পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলের হেদায়েতের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাই আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের (বোঝা) হালকা করার জন্য আবেদন করুন।

আমি ফিরে গেলাম। ফলে আমার উপর থেকে দশ (ওয়াক্ত সালাত) হ্রাস করে দিলেন। আমি আবার মূসা আ.-এর নিকট ফিরে এলাম তিনি আবার আগের মত বললেন, আমি আবার ফিরে গেলাম। ফলে আল্লাহ তায়ালা আরো দশ (ওয়াক্ত সালাত) কমিয়ে দিলেন।

ফিরার পথে মূসা আ. এর নিকট পৌঁছলে, তিনি আবার পূর্বোক্ত কথা বললেন, আমি আবার ফিরে গেলাম। আল্লাহ তায়ালা আরো দশ (ওয়াক্ত সালাত) হ্রাস করলেন। আমি মূসা রা. নিকট ফিরে এলাম।

তিনি আবার ঐ কথাই বললন, আমি আবার ফিরে গেলাম। তখন আমাকে প্রতিদিন দশ (ওয়াক্ত) সালাতের আদেশ দেওয়া হয়। আমি (তা নিয়ে) ফিরে এলাম। মূসা আ. ঐ কথাই আগের মত বললেন, আমি আবার ফিরে গেলাম, আমাকে পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাতের আদেশ করা হয়।

তারপর মূসার আ. নিকট ফিরে এলাম। তিনি বললেন, আপনাকে কী আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমি বললাম, আমাকে দৈনিক পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত আদায়ের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মূসা আ. বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত আদায় করতে সমর্থ হবে না।

আপনার পূর্বে আমি লোকদের পরীক্ষা করেছি। বনী ইসরাঈলের হেদায়েতের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজ করার আবেদন করুন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আমার রবের নিকট (অনেকবার) আবেদন করেছি, এতে আমি লজ্জাবোধ করছি।

আর আমি এতেই সন্তষ্ট হয়েছি এবং তা মেনে নিয়েছি। এরপর তিনি বললেন, আমি যখন (মূসা আ. কে অতিক্রম করে) অগ্রসর হলাম, তখন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন, আমি আমার অবশ্য পালনীয় আদেশটি জারি করে দিলাম এবং আমার বান্দাদের উপর লঘু করে দিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৬০৯

হাদীস নং ৩৬০৯

আল হুমাইদী রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তায়ালার বাণী: “আর আমি যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি তা কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য” এর তাফসীরে বলেন এটি হল চোখের দেখা চাক্ষুস যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে রাতে দেখানো হয়েছে।

যে রাতে তাকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণ করানো হয়েছিল। ইবনে আব্বাস রা. আরো বলেন, কুরআন শরীফে যে অভিশপ্ত বৃক্ষের কথা বলা হয়েছে, তাহল যাককুম বৃক্ষ।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬১০ – মক্কায় (থাকাকালীন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আনসারের প্রতিনিধি দল এবং আকাবার বায়আত।

হাদীস নং ৩৬১০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে কাব রহ. যিনি কাব এর পথ প্রদর্শক ছিলেন যখন কাব অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি বলেন, আমি কাব ইবনে মালিক রা.-কে তাবূক যুদ্ধকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর পশ্চাতে থেকে যাওয়ার ঘটনাটি সবিস্তারে বর্ণনা করতে শুনেছি।

ইবনে বুকাইর তাঁর বর্ণনায় এ কথাটিও বলেন যে, কাবরা. বলেছেন, আমি আকাবার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম।

যখন আমরা ইসলামের উপর অটল থাকার অঙ্গীকার করেছিলাম। সে রাত্রির পরিবর্তে বদর যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় নয়, যদিও বদর যুদ্ধ জনগণের মধ্যে আকাবার তুলনায় অধিক আলোচিত ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৬১১

হাদীস নং ৩৬১১

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আকাবা রাতে আমার দু’জন মামা আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইবনে উয়ায়না বলেন, দু’জন মামার একজন হলেন বারা ইবনে মারূর রা.।

বুখারি হাদিস নং ৩৬১২

হাদীস নং ৩৬১২

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….আতা রহ. থেকে বর্ণিত যে, জাবির রা. বলেন, আমি আমার পিতা আবদুল্লাহ এবং আমার মামা আকাবায় (বায়আতে) অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৬১৩

হাদীস নং ৩৬১৩

ইসহাক ইবনে মানসুর রহ…………আবু ইদরীস আইযুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত যে, উবাদা ইবনে সামিত রা. যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বদর যুদ্ধে এবং আকবার রাতে উপস্থিত সাহাবীদের মধ্যে ছিলেন তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে,

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের একটি দলকে লক্ষ্য করে বললেন, এস তোমরা আমার কাছে একথায় উপর বায়আত কর যে, তোমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে কোন কিছু কে শরীক করবে না, তোমরা চুরি করবে না, তোমরা ব্যাভিচার করবে না, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তোমরা (কারো প্রতি) অপবাদ আরোপ করবে না যা তোমরা নিজে থেকে বানিয়ে নাও , তোমরা নেক কাজে আমার নাফরমানী করবে না, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এসব শর্ত পূরণ করে চলবে তাকে এ কারণে দুনিয়াতে আইনানুগ শাস্তি দেয়া হয়, তবে এ শাস্তি তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে।

আর যে ব্যক্তি এ সবের কোনটিতে লিপ্ত হল আর আল্লাহ তা গোপন রাখেন, তবে তার ব্যাপারটি আল্লাহ পাকের উপর ন্যস্ত। তিনি ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন আর ইচ্ছা করলেন মাফ করবেন। উবাদা রা. বলেন, আমিও এসব শর্তের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বায়আত করেছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৬১৪

হাদীস নং ৩৬১৪

কুতাইবা রহ……….উবাদা ইবনে সামিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ঐ মনোনীত প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করছিলাম জান্নাত লাভের জন্য যদি আমরা এই কাজগুলো করি এই শর্তে যে, আমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকেই শরীক করব না, ব্যভিচারে লিপ্ত হব না, চুরি করব না।

আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, তাকে না হক হত্যা করব না, লুটতরাজ করব না এবং নাফরমানী করব না। আর যদি আমরা এর মধ্যে কোনটিতে লিপ্ত হই, তবে এর ফায়সালা আল্লাহ তায়ালার উপর ন্যস্ত।

 

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬১৫

হাদীস নং ৩৬১৫

ফারওয়া ইবনে আবু মাগরা রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে বিবাহ করেন, তখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর। তারপর আমরা মদীনায় এলাম এবং বনু হারিস গোত্রে অবস্থান করলাম। সেখানে আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম।

এতে আমার চুল পড়ে গেল। (সুস্থ হওয়ার) পরে যখন আমার মাথার সামনের চুল জমে উঠল। সে সময় আমি একদিন আমার বান্ধবীদের সাথে দোলনায় খেলা করছিলাম। তখন আমার মাতা উম্মে রূমান আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে এলাম। আমি বুঝতে পারিনি, তার উদ্দেশ্য কি?

তিনি আমার হাত ধরে ঘরের দরজায় এসে আমাকে দাঁড় করালেন। আর আমি হাঁপাচ্ছিলাম। অবশেষে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা স্থির হল। এরপর তিনি কিছু পানি নিলেন এবং এর দ্বারা আমার মুখমণ্ডল ও মাথা মাসেহ করে দিলেন। তারপর আমাকে ঘরের ভিতর প্রবেশ করালেন।

সেখানে কয়েকজন আনসারী মহিলা ছিলেন। তাঁরা বললেন, (তোমার আগমন) কল্যাণময়, বরকতময় এবং সৌভাগ্যময় হউক। আমাকে তাদের কাছে সোর্পদ করে দিলেন।

তাঁরা আমার অবস্থান ঠিকঠাক করে দিলেন, তখন ছিল পূর্বাহ্ন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন আমাকে সচকিত করে তুলল। তাঁরা আমাকে তাঁর কাছে সোপর্দ করে দিলেন। সে সময় আমি নয় বছরের বালিকা।

বুখারি হাদিস নং ৩৬১৬

হাদীস নং ৩৬১৬

মুআল্লা রহ……………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, দু’বার তোমাকে আমায় স্বপ্নে দেখানো হয়েছে।

আমি দেখলাম, তুমি একটি রেশমী বস্ত্রে বেষ্টিত এবং আমাকে বলছে ইনি আপনার স্ত্রী, আমি তার ঘুমটা সরিয়ে দেখলাম, সে মহিলা তুমিই। তখন আমি (মনে মনে) বলছিলাম, যদি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা কার্যকরী করবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬১৭

হাদীস নং ৩৬১৭

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….হিশাম এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদীনার দিকে বেরিয়ে আসার তিন বছর আগে খাদীজা রা.-এর ওফাত হয়।

তারপর দু’বছর অথবা এর কাছাকাছি সময় অপেক্ষা করে তিনি আয়েশা রা.-কে বিবাহ করেন। যখন তিনি ছিলেন ছয় বছরের বালিকা, তারপর নয় বছর বয়সে বাসর উদযাপন করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬১৮ – রাসূল (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের মদীনায় হিজরত।

হাদীস নং ৩৬১৮

হুমাইদী রহ………..আবু ওয়াইল রা. বলেন, আমরা পীড়িত খাব্বাব রা.-কে দেখতে গেলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হিজরত করেছিলাম- আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। আল্লাহর নিকট আমাদের সাওয়াব রয়েছে।

তবে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কোন প্রতিদানের কিছু না নিয়েই চলে গেছেন। এদের মধ্যে ছিলেন মুসআব ইবনে উমায়ের রা.। তিনি উহুদের দিন শহীদ হন। তিনি একখানা চাদর রেখে যান।

আমরা যখন (কাফন হিসাবে) এটি দিয়ে তাঁর মাথা ঢেকে দিতাম তখন তাঁর পা বেরিয়ে পড়ত, আর যখন আমরা পা ঢেকে দিতাম, তখন মাথা বেরিয়ে পড়ত।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিলেন যে, আমরা যেন তাঁর মাথা ঢেকে দিই এবং তাঁর পায়ের উপর কিছু ইযখির (ঘাস) রেখে দিই। আর আমাদের মধ্যে এমন কেউ কেউ রয়েছেন, যাদের ফল পরিপক্ক হয়েছে এবং তারা তা পেড়ে খাচ্ছেন।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬১৯

হাদীস নং ৩৬১৯

মুসাদ্দাদ রহ…………উমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমলের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যাতের উপর।

সুতরাং যার হিজরত হয় দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে তার।

আর যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলেরই জন্য।

বুখারি হাদিস নং ৩৬২০

হাদীস নং ৩৬২০

ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ দামেশকী রহ………..মুজাহিদ ইবনে জুবাইর মাক্কী রহ. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলতেন, (মক্কা) বিজয়ের পর হিজরতের কোন প্রয়োজন নেই।

আওযায়ী আতা রহ………..আতা ইবনে আবু রবাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাইদ ইবনে উমাইর লাইসী রা.-এর সঙ্গে আয়েশা রা. এর সাথে সাক্ষাত করলাম।

তারপর তাকে হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এখন হিজরতের কোন প্রয়োজন নেই। অতীতে মুমিনদের কেউ তার দীনের জন্য তার প্রতি ফিতনার ভয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি হিজরত করতেন আর আজ আল্লাহ ইসলামকে বিজয়ী করেছেন।

এখন কোন মুমিন তার রবের ইবাদত যেখানে ইচ্ছা করতে পারে। তবে জিহাদ ও নিয়্যাত (কল্যাণ ও ফযীলতের) রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৬২১

হাদীস নং ৩৬২১

যাকারিয়্যা ইবনে ইয়াহইয়া রহ……….. আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (খন্দকের যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর) সাদ রা. দু’আ করলেন, ইয়া আল্লাহ আপনি তো জানেন, আমার নিকট আপনার রাহে জিহাদ করা এত প্রিয় যতটুকু অন্য কারো বিরুদ্ধে নয়।

ইয়া আল্লাহ আমার ধারণা আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যকার লড়াই খতম করে দিয়েছেন।

আবান ইবনে ইয়াযীদ রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, সে কওম যারা তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবিশ্বাস করেছে এবং তাকে (স্বদেশ থেকে) বের করে দিয়েছে, তারা কুরাইশ গোত্রই।

বুখারি হাদিস নং ৩৬২২

হাদীস নং ৩৬২২

মাতার ইবনে ফাযল রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবুওয়াত দেওয়া হয় চল্লিশ বছর বয়সে, এরপর তিনি তের বছর মক্কায় অবস্থান করেন।

এ সময় তাঁর প্রতি ওহী নাযিল হচ্ছিল। তারপর হিজরতের নির্দেশ পান। এবং হিজরতের পর দশ বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন। আর তিনি তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৬২৩

হাদীস নং ৩৬২৩

মাতার ইবনে ফাযাল রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তের বছর অবস্থান করেন। আর তিনি তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ৩ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৬২৪

হাদীস নং ৩৬২৪

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং বললেন, আল্লাহ তার এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটির ইখতিয়ার দিয়েছেন।

তার একটি হল- দুনিয়ার ভোগ-সম্পদ আর একটি হল আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তাই পছন্দ করলেন।এ কথা শুনে, আবু বকর রা. কেঁদে ফেললেন, এবং বললেন, আমাদের পিতা-মাতাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম।

তাঁর অবস্থা দেখে আমরা বিস্মিত হলাম। লোকেরা বলতে লাগল এ বৃদ্ধের অবস্থা দেখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ পার্থিব ভোগ-সম্পদ দেওয়ার এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ দু’য়ের মধ্যে ইখতিয়ার দিলেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতা-পিতা উৎসর্গ করলাম।

(প্রকৃতপক্ষে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই হলেন সেই ইখতিয়ার প্রাপ্ত বান্দা। আর আবু বকর রা.-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচাইতে বিজ্ঞ ব্যক্তি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার সাহচর্য ও মাল দিয়ে আমার প্রতি সর্বাধিক ইহসান করেছেন তিনি হলেন আবু বকর রা.।

যদি আমি আমার উম্মতের কোন ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধরূপে গ্রহণ করতাম। তাহলে আবু বকরইকে করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বকর রা. এর দরজা ছাড়া অন্য কারো দরজা খোলা থাকবে না।

আরও পড়ুনঃ

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৩ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৪ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৫ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৬ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় পার্ট ৭ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৫ম খণ্ড

সহীহ বুখারী

মন্তব্য করুন