আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায়

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫০৫ – (আল্লাহর বাণী): আর যারা মুহাজিরগণের আগমনের পূর্বে হতেই এ নগরীতে বসবাস করেছে ও ঈমান এনেছে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে আকাঙ্খা পোষণ করে না।

হাদীস নং ৩৫০৫

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….গায়লান ইবনে জারীর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাদের আনসার নামকরণ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি? এ নাম কি আপনারা করেছেন না আল্লাহ আপনাদের এ নামকরণ করেছেন?

আনাস রা. বললেন, বরং আল্লাহ তা’আলা আমাদের এ নামকরণ করেছেন। (গায়লান রহ. বলেন) আমরা (বসরায়) যখন আনাস রা.-এর নিকট যেতাম, তখন তিনি আমাদেরকে আনসারদের গুণাবলী ও কীর্তি সমূহ বর্ণনা করে শুনাইতেন।

তিনি আমাকে অথবা আযদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলতেন, তোমার গোত্র অমুক দিন অমুক কাজ করেছেন, অমুক দিন অমুক (সাহসিকতা পূর্ণ) কাজ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫০৬

হাদীস নং ৩৫০৬

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……….আয়েশা র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বুআস যুদ্ধ (যা আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে সংঘটিত হয়ে দীর্ঘ একশ বিশ বছর স্থায়ী ছিল) এমন একটি যুদ্ধ ছিল, যা আল্লাহ তা’আলা (মদীনার পরিবেশকে) তাঁর (রাসূলের অনুকুল করার জন্য) মদীনা আগমনের পূর্বেই ঘটিয়ে ছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন সেখানকার সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নানা দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।

তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ এ যুদ্ধে নিহত ও আহত হয়েছিল। তাদের ইসলাম গ্রহণকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য অনুকূল করে দিয়েছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫০৭

হাদীস নং ৩৫০৭

আবুল ওয়ালীদ রহ………..আবু তাইয়্যাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস রা.-কে বলতে শুনেছি, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদেরকে মালে গনীমত দিলে কতিপয় আনসার বলেছিলেন যে, এ বড় আশ্চর্যের বিষয় যে, তিনি কুরাইশদের আমাদের গনীমতের মাল দিলেন অথচ আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত এখনও ঝরছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ কথা পৌঁছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে বললেন, আমি তোমাদের থেকে যে কথাটি শুনতে পেলাম সে কথাটি কি ছিল?

যেহেতু তাঁরা মিথ্যা কথা বলতেন না, সেহেতু তাঁরা বললেন, আপনার নিকট যা পৌঁছেছে তা সত্যই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে লোকজন গনীমতের মাল নিয়ে তাদের ঘরে প্রত্যাবর্তন করবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে নিজ ঘরে প্রত্যাবর্তন করবে।

যদি আনসারগণ উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে তবে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়েই চলবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫০৮ – রাসূল (সা.) এর উক্তি: যদি হিজরত না হত তবে আমি একজন আনসারই হতাম।

হাদীস নং ৩৫০৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা তিনি বলেছেন আবুল কাসিম বলেন, আনসারগণ যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে তবে আমি আনসারদের উপত্যকা দিয়েই চলব।

যদি হিজরত (এর বিধান) না হত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথায় কোন অত্যুক্তি করেন নাই।

আমার মাতা-পিতা তাঁর উপর কুরবান হউক তারা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন, সর্বোতভাবে সাহায্য-সহায়তা করেছেন। অথবা এরূপ কিছু বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫০৯ – রাসূল (রা.) কর্তৃক মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন।

হাদীস নং ৩৫০৯

ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ…………আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মুহাজিরগণ মদীনায় আগমন করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনে আওফ ও সাদ ইবনে রাবী রা. এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিলেন।

তখন তিনি (সাদ রা.) আবদুর রাহমান রা. কে বললেন, আনসারদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে অধিক সম্পদশালী ব্যক্তি। আপনি আমার সম্পদকে দু’ভাগ করে নিন।

আমার দু’জন স্ত্রী রয়েছে, আপনার যাকে পছন্দ হয় বলুন, আমি তাকে তালাক দিয়ে দিব। ইদ্দতান্তে আপনি তাকে বিয়ে করে নিবেন। আবদুর রাহমান রা. বললেন, আল্লাহ আপনার পরিবারে এবং সম্পদে বরকত দান করুন। (আমাকে দেখিয়ে দিন) আপনাদের (স্থানীয়) বাজার কোথায়?

তারা তাকে বনূ কায়নুকার বাজার দেখিয়ে দিলেন। (কয়েক দিন পর) যখন ঘরে ফিরলেন তখন (ব্যবসায় মুনাফা হিসেবে) কিছু পনীর ও কিছু ঘি সাথে নিয়ে ফিরলেন।

এরপর প্রত্যহ সকাল বেলা বাজার যেতে লাগলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর কাছে এমতাবস্থায় আসলেন যে, তাঁর শরীর ও কাপড়ে হলুদ রং এর চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যাপার কি ! তিনি (আবদুর রাহমান রা.) বললেন, আমি (একজন আনসারী মহিলাকে) বিয়ে করেছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে কি পরিমাণ মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আটির পরিমাণ অথবা খেজুরের এক আটির ওজন পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫১০

হাদীস নং ৩৫১০

কুতাইবা রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনে আওফ রা. হিজরত করে আমাদের কাছে এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সাদ ইবনে রাবী রা.-এর মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন করে দিলেন। তিনি (সাদ রা.) ছিলেন অধিক সম্পদশালী ব্যক্তি।

সাদ রা. বললেন, সকল আনসারগণ জানেন যে আমি তাদের মধ্যে অধিক বিত্তবান ব্যক্তি। আমি অচিরেই আমার ও তোমার মাঝে আমার সম্পত্তি ভাগাভাগি করে দিব দুই ভাগে। আমার দু’জন স্ত্রী রয়েছে ; আপনার যাকে পছন্দ হয় বলুন, আমি তাকে তালাক দিয়ে দিব। ইদ্দতকালীন আপনি তাকে বিয়ে করে নিবেন।

আবদুর রাহমান রা. বললেন, আল্লাহ আপনার পরিবারে এবং সম্পদে বরকত দান করুন। (এরপর তিনি বাজারে গিয়ে ব্যবসা আরাম্ভ করেন) বাজার থেকে ব্যবসায় মুনাফা হিসেবে পনীর ও ঘি সাথে নিয়ে ফিরলেন। অল্প কয়েকদিন পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে হাযির হলেন।

তখন তাঁর শরীর ও কাপড়ে হলুদ রং এর চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যাপার কি ! তিনি (আবদুর রাহমান রা.) বললেন, আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে কি পরিমাণ মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আটির ওজন পরিমাণ স্বর্ণ অথবা (বলেছেন) একটি আটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৫১১

হাদীস নং ৩৫১১

সালত ইবনে মুহাম্মদ আবু হাম্মাম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেক বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারগণ বললেন, (হে আল্লাহর রাসূল) আমাদের খেজুরের বাগনগুলি আমাদের এবং তাদের মাঝে বন্টন করে দিন।

তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না, (ভাগ করে দেয়ার প্রয়োজন নেই)। তখন আনসারগণ (মুহাজিরগণকে লক্ষ্য করে) বললেন, আপনারা বাগানগুলির রক্ষণাবেক্ষণে আমাদের সহায়ক হউন এবং উৎপাদিত ফসলের অংশীদার হয়ে যান। মুহাজিরগণ বললেন, আমরা ইহা (সর্বান্তকরণে) মেনে নিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৫১২ – আনসারদের প্রতি ভালবাসা।

হাদীস নং ৩৫১২

হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ……….বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মুমিন ছাড়া আনসারদেরকে কেউ ভালবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে না।

যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালবাসে আল্লাহ তা’আলা তাকে ভালবাসবেন আর যে ব্যক্তি তাদের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে আল্লাহ তা’আলা তাকে ঘৃণা করবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫১৩

হাদীস নং ৩৫১৩

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আনসারদের প্রতি মুহাব্বত ঈমানেরই নিদর্শন এবং তাদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষন করা মুনাফেকীর পরিচায়ক।

বুখারি হাদিস নং ৩৫১৪ – আনসারদের লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি: মানুষের মাঝে তোমরা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

হাদীস নং ৩৫১৪

আবু মামার রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আনসারের) কতিপয় বালক-বালিকা ও মহিলাকে রাবী বলেন, আমার মনে হয়-তিনি বলেছিলেন, কোন শাদীর অনুষ্ঠান শেষে ফিরে আসতে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে গেলেন।

এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, তোমরাই আমার সবচেয়ে প্রিয়জন। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫১৫

হাদীস নং ৩৫১৫

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম ইবনে কাসীর রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন আনসারী মহিলা তার শিশুসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে হাযির হলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গে আলাপ করলেন এবং বললেন, ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, লোকদের মধ্যে তোমরাই আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়জন। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫১৬ – আনসারদের অনুসারিগণ।

হাদীস নং ৩৫১৬

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..যায়েদ ইবনে আরকাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন কতিপয়) আনসার বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রত্যেক নবীরই অনুসারী ছিলেন। আমরাও আপনার অনুসারী।

আপনি আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য দু’আ করুন যেন তারা (সর্বোতভাবে) আপনার অনুসারী হয়। তিনি (আকাঙ্খা অনুযায়ী) দু’আ করলেন।

(আমর একজন রাবী বলেন) আমি এই হাদীসটি (আবদুর রাহমান) ইবনে আবু লায়লার নিকট বর্ণনা করলাম, তিনি বললেন, যায়েদ ইবনে আরকাম রা. এ ভাবেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫১৭

হাদীস নং ৩৫১৭

আদম রহ……….আমর ইবনে মুররাহ রা. থেকে বর্ণিত, আবু হামযা রা. নামক একজন আনসার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললেন, প্রত্যেক জাতির মধ্যে (তাদের রাসূলের) অনুসরণকারী একটি দল থাকে।

ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরাও আপনার অনুসরণ করছি। আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন আমাদের পরবর্তী গণ (সর্বক্ষেত্রে) আমাদের (মত আপনার একনিষ্ঠ) অনুসারী হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! তাদের পরবর্তীগণকে (সম্পূর্ণ) তাদের মত করে দাও।

আমর রহ. বলেন, আমি হাদীসটি আবদুর রাহমান ইবনে আবু লায়লা রা.-কে বললাম। তিনি বললেন, যায়েদও এইভাবে হাদীসটি বলেছেন। শুবা রহ. বলেন, আমার ধারণা, ইনি যায়েদ ইবনে আরকাম রা.-ই হবেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫১৮ – আনসার গোত্রগুলোর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫১৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আবু উসাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম গোত্র হল বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ আবদুল আশহাল তারপর বানূ হারিস ইবনে খাযরাজ তারপর বানূ সায়িদা এবং আনাসারদের সকল গোত্রের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।

এ শুনে সাদ রা. বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদেরকে আমাদের উপর প্রাধান্য দান করেছেন? তখন তাকে বলা হল; তোমাদেরকে তো অনেক গোত্রের উপর প্রাধান্য দান করেছেন।

আবদুস সামাদ রহ……….আবু উসাইদ রা. সুত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। সাদ ইবনে উবাদা রা. বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫১৯

হাদীস নং ৩৫১৯

সাদ ইবনে হাফস রহ……….আবু উসাইদ রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আনসারদের মধ্যে বা আনসার গোত্রগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম গোত্র হল বানূ নাজ্জার বানূ আবদুল আশহাল, বানূ হারিস ও বানূ সায়িদা।

বুখারি হাদিস নং ৩৫২০

হাদীস নং ৩৫২০

খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………..আবু হুমাইদ রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারদের মধ্যে সর্বোত্তম মধ্যে গোত্র হল বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ আবদুল আশহাল, তারপর হারিস এরূপ বানূ সায়িদা। আনসারদের সকল গোত্রে রয়েছে কল্যাণ।

(আবু হুমাইদ রহ. বলেন) আমরা সাদ ইবনে উবাদা রা.-এর নিকট গেলাম। তখন আবু উসাইদ রা. বললেন, আপনি কি শোনেননি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের পরষ্পরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আমাদেরকে সকলের শেষ পর্যায়ে স্থান দিয়েছেন?

তা শুনে সাদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাত করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আনসার গোত্রগুলোকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে এবং আমাদেরকে সকলের শেষ পর্যায়ে স্থান দেয়া হয়েছে।

তিনি বললেন, এটা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, তোমরাও শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভূক্ত হয়েছ?

বুখারি হাদিস নং ৩৫২১ – আনসারদের সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর উক্তি: তোমরা ধৈর্যধারণ করবে অবশেষে আমার সঙ্গে হাওযে কাউসারের নিকট সাক্ষাত করবে।

হাদীস নং ৩৫২১

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..উসাইদ ইবনে হুযায়র রা. থেকে বর্ণিত, একজন আনসারী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লা! আপনি কি আমাকে অমুকের ন্যায় দায়িত্বে নিয়োজিত করবেন না?

তিনি বললেন, তোমরা আমার ওফাতের পর অপরকে অগ্রাধিকার দেওয়া দেখতে পাবে, তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে অবশেষে আমার সাথে সাক্ষাত করবে এবং তোমাদের সাথে সাক্ষাতের স্থান হল হাউযে কাউসার।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫২২

হাদীস নং ৩৫২২

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………..ইয়াইয়া ইবনে সাঈদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি যখন ইবনে মালিক রা.-এর সঙ্গে ওয়ালীদ (ইবনে আবদুল মালিক)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাসরা থেকে দামেস্ক সফর করতে গিয়েছিলেন,

তখন তিনি আনাস রা.-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনের জমি তাদের জন্য (জায়গীর হিসাবে) বরাদ্দ করার উদ্দেশ্যে আনসারদিগকে আহবান করলে তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ!

আমাদের মুহাজির ভাইদের জন্য এরূপ জায়গীর বরাদ্দ না করা পর্যন্ত আমরা তা গ্রহণ করব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যদি তা গ্রহণ করতে নাও চাও, তবে (কিয়ামতর ময়দানে) হাউযে কাউসারের নিকট আমার সাথে সাক্ষাত না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে থাক।

কেননা অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে, আমার পরে তোমাদের উপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫২৩ – রাসূলে আকরাম (সা.)-এর দু’আ (হে আল্লাহ!) আনসার ও মুহাজিরদের মঙ্গল করুন।

হাদীস নং ৩৫২৩

আদম রহ…………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ ! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন।

হে আল্লাহ ! আনসার ও মুহাজিরদের মঙ্গল করুন। কাতাদা রা. আনাস রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন হে আল্লাহ ! আনসারকে ক্ষমা করে দিন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫২৪

হাদীস নং ৩৫২৪

আদম রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারগণ খন্দক যুদ্ধের পরিখা খননকালে বলছিলেন, আমরা হলাম ঐ সমস্ত লোক যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে জিহাদের জন্য বায়আত করেছি যতদিন আমরা বেঁচে থাকব।

এর উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ ! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। (হে আল্লাহ) আনসারও মুহাজিরদের বৃদ্ধি করে দিন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫২৫

হাদীস নং ৩৫২৫

মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ রহ………..সাহল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন পরিখা খনন করে আমাদের কাঁধে করে মাটি বহন করছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ ! প্রকৃত জীবন একমাত্র আখিরাতের জীবনই। মুহাজির ও আনসারদেরকে আপনি ক্ষমা করে দিন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫২৬ – (আল্লাহর বাণী) আর তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও অন্যদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয়।

হাদীস নং ৩৫২৬

মুসাদ্দ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক (ক্ষুধার্ত) ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এল। তিনি খাদ্য দ্রব্য কিছু আছে কিনা তা জানার জন্য) তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা জানালেন, আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কিছু নেই।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আছ যে এই (ক্ষুধার্ত) ব্যক্তিকে মেহমান হিসাবে নিয়ে নিজের সাথে খাওয়াতে পার?

তখন জনৈক আনসারী সাহাবী (আবু তালহা রা.) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমানকে সম্মান কর। স্ত্রী বললেন, (বাড়িতে) গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমানকে সম্মান কর। স্ত্রী বললেন, বাচ্চাদের আহার্য ব্যতীত আমাদের ঘরে কিছুই নেই।

আনসারী বললেন, তুমি আহার প্রস্তুত কর এবং বাতি জ্বালাও এবং বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। (স্বামীর কথা অনুযায়ী) সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরী ছিল তা উপস্থিত করল।

(তারপর মেহমান সহ তারা খেতে বসলেন) বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী উঠে গিয়ে বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অন্ধকারের মধ্যে আহার করার মত শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বুঝাতে লাগলেন যে তারাও সঙ্গে খাচ্ছেন। তাঁরা উভয়েই (বাচ্চারাসহ) সারারাত অভুক্ত অবস্থায় কাটালেন।

ভোরে যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন, তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কার্যকলাপ দেখে হেসে দিয়েছেন অথবা বলেছেন খুশী হয়েছেন এবং এ আয়াত নাযিল করেছেন।

(আনসারদের অন্যতম গুণ হল এই) তারা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম। (৫৯: ৯)।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫২৭ – রাসূল (সা.) এর উক্তি: তাদের (আনসারদের নেককারদের পক্ষ হতে (উত্তম কার্য) কবুল কর, এবং তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি কারীদের ক্ষমা করে দাও।

হাদীস নং ৩৫২৭

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আবু আলী রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত তখন আবু বকর ও আব্বাস রা. আনসারদের কোন একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার কালে দেখতে পেলেন যে, তারা (সকলেই বসে বসে) কাঁদছেন।

তাদের একজন জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কাঁদছেন কেন? তাঁরা বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমাদের মজলিস স্মরণ করে কাঁদছি।

তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আনসারদের অবস্থা বললেন, রাবী বললেন, (তা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদরের কিনারা দিয়ে মাথা বেঁধে (ঘর থেকে) বেরিয়ে আসলেন এবং মিম্বরে উঠে বসলেন। এ দিনের পর আর তিনি মিম্বরে আরোহণ করেননি।

তারপর হামদ ও সানা পাঠ করে সমবেত সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আনসারগণের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য তোমাদিগকে নির্দেশ দিচ্ছি ; কেননা তাঁরাই আমার অতি আপনজন, তাঁরাই আমার বিশ্বস্ত লোক।

তারা তাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিপূর্ণভাবে পালন করেছে। তাদের যা প্রাপ্য তা তাঁরা এখনো পায়নি। তাদের নেক লোকদের উত্তম কার্যকলাপ সাদরে গ্রহণ করবে এবং তাদের ত্রু টি বিচ্যুতি ক্ষমা করবে।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫২৮

হাদীস নং ৩৫২৮

আহমদ ইবনে ইয়াকুব রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্তিম পীড়ায় আক্রান্তকালে) একখানা চাদর গায়ে জড়িয়ে, চাদরের দু-প্রান্ত দু’কাধে পেঁচিয়ে এবং মাথার একটি কাল রঙের পাগড়ি বেঁধে (ঘর থেকে) বের হলেন এবং মিম্বরে উঠে বসলেন।

হামদ ও সানার পর বললেন, হে লোক সকল, জনসংখ্যা উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে আর আনসারগণের সংখ্যা ক্রমশ: হ্রাস পেয়ে যাবে! এমনকি তারা খাদ্য-দ্রব্যে লবণের মত (সামান্য পরিমাণে) পরিণত হবে।

তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এমন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভ করে সে ইচ্ছা করলে কারো উপকার বা অপকার করতে পারে, তখন সে যেন নেককার আনসারদের নেক কার্যাবলী কবুল করে এবং তাদের ত্রু টি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেয়।

বুখারি হাদিস নং ৩৫২৯

হাদীস নং ৩৫২৯

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আনসারগণ আমার অতি আপনজন ও বিশ্বস্ত লোক।

সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে আর তাদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। তাই তাদের নেককারদের উত্তম কার্যাবলী কবুল কর এবং তাদের ত্রু টি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দাও।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩০ – সাদ ইবনে মুআয রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫৩০

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক জোড়া রেশমী কাপড় হাদীয়া দেয়া হল।

সাহাবা কেরাম রা. তা স্পর্শ করে এর কোমলতায় অবাক হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর কোমলতায় তোমরা অবাক হচ্ছ ?

অথচ সাদ ইবনে মুআয রা.-এর (জান্নাতে প্রদত্ত) রুমাল এর চেয়ে অনেক উত্তম, অথবা বলেছেন অনেক মুলায়েম। হাদীসটি কাতাদা ও যুহরী রহ. আনাস রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩১

হাদীস নং ৩৫৩১

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….জাবির রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি সাদ ইবনে মুআয রা.-এর মৃত্যুতে আল্লাহ তায়ালার আরশ কেঁপে উঠে ছিল।

আমাশ রহ………. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, একব্যক্তি জাবির রা. বললেন, সাদ ও বারা রা.-এর গোত্রদ্বয়ের মধ্যে কিছুটা বিরোধ ছিল, (কিন্তু এটা ঠিক নয়) কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আল্লাহর আরশ’ সাদ ইবনে মুআযের (মৃত্যুতে) কেঁপে উঠল বলতে শুনেছি।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩২

হাদীস নং ৩৫৩২

মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, কতিপয় লোক (বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ) সাদ ইবনে মুআয রা.-কে সালিশ মেনে (দুর্গ থেকে) নেমে আসে (তিনি আহত ছিলেন) তাকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠানো হল। তিনি গাধায় সাওয়ার হয়ে আসলেন।

যখন (যুদ্ধকালীন অস্থায়ী) মসজিদের নিকটে আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি অথবা (বললেন) তোমাদের সরদার আসছেন তাঁর দিকে দাঁড়াও।

তারপর তিনি বললেন, হে সাদ! তারা (বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ) তোমাকে সালিশ মেনে (দুর্গ থেকে) বেরিয়ে এসেছে। সাদ রা. বললেন, আমি তাদের সম্পর্কে এ ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হোক এবং শিশু ও মহিলাদেরকে বন্দী করে রাখা হোক।

(তাঁর ফয়সালা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহ তায়ালার ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা দিয়েছ অথবা (বলে ছিলেন) তুমি বাদশাহর (আল্লাহর) ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা করেছ।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩৩ – উসাইদ ইবনে হুযায়র ও আব্বাদ ইবনে বিশর রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫৩৩

আলী ইবনে মুসলিম রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, দু’ব্যক্তি অন্ধকার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে বের হলেন।

হঠাৎ তারা তাদের সম্মুখে একটি উজ্জ্বল আলো দেখতে পেলেন। রাস্তায় তাঁরা যখন ভিন্ন হয়ে পড়লেন তখন আলোটিও তাদের উভয়ের সাথে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল।

মামার রহ. সাবিত রহ.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, এদের একজন উসাইদ ইবনে হুযায়র রা. এবং অপরজন এক আনসারী ব্যক্তি ছিলেন এবং হাম্মাদ রহ. সাবিত রহ.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, উসাইদ (ইবনে হুযায়র) ও আব্বাদ ইবনে বিশর রা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩৪ – মুআয ইবনে জাবাল রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫৩৪

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কুরআন পাঠ শিক্ষা কর চারজনের নিকট থেকে : ইবনে মাসউদ আবু হুযায়ফার আযাদকৃত গোলাম সালিম , উবাই (ইবনে কাব) ও মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩৫ – সাদ ইবনে উবাদা রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫৩৫

ইসহাক রহ……….আবু উসাইদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আনসার গোত্রগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম গোত্র হল, বানূ নাজ্জার তারপর বানূ আবদ-ই আশহাল, তারপর বানূ হারিস ইবনে খাযরাজ তারপর বানূ সায়িদা।

আনসারদের সকল গোত্রের মধ্যেই খায়র ও কল্যাণ রয়েছে। তখন সাদ ইবনে উবাদা রা. বললেন, তিনি ছিলেন প্রথম যুগের অন্যতম মুসলমান।

আমার ধারণা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদেরকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন (তদুত্তরে তাকে বলা হল, আপনাদেরকে বহু গোত্রের উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩৬ – উবাই ইবনে কাব রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫৩৬

আবুল ওয়ালিদ রহ…………মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর আলোচনা চলছিল। তখন তিনি বললেন, তিনি সে ব্যক্তি যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য শুনার পর থেকে আমি অত্যন্ত ভালবাসি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন শিক্ষা কর চারজনের নিকট থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (সর্বপ্রথম তিনি এ নামটি বললেন) সালিম আবু হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম, মুআয ইবনে জাবাল ও উবাই ইবনে কাব রা.।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩৭

হাদীস নং ৩৫৩৭

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাব রা.-কে বললেন, আল্লাহ সূরা لم يكن الذين كفروا তোমাকে পড়ে শুনানোর জন্য আমাকে আদেশ করেছেন।

উবাই ইবনে কাব রা. জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ আমার নাম উচ্চারণ করেছন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি (আনন্দের আতিশয্যে) কাঁদলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩৮ – যায়েদ ইবনে সাবিত রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫৩৮

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে (সর্বপ্রথম) যে চার ব্যক্তি সম্পূর্ণ কুরআনুল কারীম হিফয করছিলেন, তাঁরা সবাই ছিলেন আনসারী (তাঁরা হলেন) উবাই ইবনে কাব রা., মুআয ইবনে জাবাল রা., আবু যায়েদ রা. ও যায়েদ ইবনে সাবিত রা.।

কাতাদা রা. বলেন, আমি আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আবু যায়েদ কে? তিনি বললেন, উনি আমার চাচাদের মধ্যে একজন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৩৯ – আবু তালহা রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫৩৯

আবু মামার রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের এক পর্যায়ে সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন।

তখন আবু তালহা রা. ঢাল হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে প্রাচীরের ন্যায় অটল হয়ে দাঁড়ালেন। আবু তালহা রা. সুদক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। অনবরত তীর ছুড়তে থাকায় তাঁর হাতে ঐদিন দু’ বা তিনটি ধনুক ভেঙ্গে যায়।

ঐ সময় তীর ভর্তি শরাধার নিয়ে যে কেউ তাঁর নিকট দিয়ে যেত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই বলতেন, তোমরা তীরগুলি আবু তালহার জন্য রেখে দাও।

এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উচু করে শত্রু দের অবস্থা অবলোকন করতে চাইলে আবু তালহা রা. বললেন, হে আল্লাহর নবী ! আমার মাতা পিতা আপনার জন্য কুরআন হউক, আপনি মাথা উচু করবেন না। হয়ত শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর এসে আপনার গায়ে লাগতে পারে।

আমার বক্ষ আপনাকে রক্ষা করার জন্য ঢাল স্বরূপ। আনাস রা. বলেন, ঐদিন আমি আবু বকর রা.-এর কন্যা আয়েশা রা.-কে এবং (আমার মাতা) উম্মে সুলাইমকে দেখতে পেলাম যে, তাঁরা পরিধেয় কাপড় এতটুকু পরিমাণ তুলে ফেলেছেন যে, তাদের পায়ের খাড়ু আমি দেখতে পাচ্ছিলাম।

তাঁরা পানির মশক ভরে নিজেদের পিঠে বহন করে এনে আহতদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন।

পুনরায় ফিরে গিয়ে পানি ভরে নিয়ে আহতদের কে পান করাচ্ছিলেন। ঐ সময় আবু তালাহ রা.-এর হাত থেকে (তন্দ্রাবেশে) তাঁর তরবারীখানা দু’বার অথবা তিনবার পড়ে গিয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪০ – আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা.-এর মর্যাদা।

হাদীস নং ৩৫৪০

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. ব্যতীত ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কারো সম্পর্কে এ কথাটি বলতে শুনিনি যে, ‘নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতবাসী’।

সাদ রা. বলেন, তাঁরই সম্পর্কে সূরা আহকাফের এ আয়াত নাযিল হয়েছে: ‘এ বিষয়ে বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকেও একজন সাক্ষ্য প্রদান করেছে।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪১

হাদীস নং ৩৫৪১

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….কায়েস ইবনে উবাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনায় মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এমন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন যার চেহারায় বিনয় ও নম্রতার ছাপ ছিল। (তাকে দেখে) লোকজন বলতে লাগলেন, এই ব্যক্তি জান্নাতিগণের একজন।

তিনি, সংক্ষিপ্তাকারে দু’রাকআত সালাত আদায় করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলেন। আমি তাকে অনুসরণ করলাম এবং তাকে বললাম, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করছিলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল যে, ইনি জান্নাতবাসিগণের একজন।

তিনি বললেন, আল্লাহর কসম কারো জন্য এমন কথা বলা উচিত নয়, যা সে জানেনা। আমি তোমাকে প্রকৃত ঘটনাটি বলছি কেন ইহা বলা হয়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় একটি স্বপ্ন দেখে তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম।

আমি দেখলাম যে, আমি যেন একটি বাগানে মধ্যে একটি লোহার স্তম্ভ যার নিম্নভাগ মাটিতে এবং উর্ধ্বভাগ আকাশ স্পর্শ করেছে, স্তম্ভের উর্ধ্বে একটি শক্ত কড়া সংযুক্ত রয়েছে। আমাকে বলা হল, উর্ধ্বে আরোহণ কর। আমি বললাম, ইহা তো আমার সমর্থের বাইরে।

তখন একজন খাদিম এসে পিছন দিক থেকে আমার কাপড় সমেত চেপে ধরে আমাকে আরোহণে সাহায্য করলেন। আমি চড়তে লাগলাম এবং উপরে গিয়ে আংটাটি ধরিলাম। তখন আমাকে বলা হল, শক্তভাবে আংটাটি আকড়ে ধর। তারপর কাড়াটি আমার হাতের মেঠায় ধারণ অবস্থায় আমি জেগে গেলাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট স্বপ্নটি বললে, তিনি স্বপ্নটির (তাবীর হিসাবে) বললেন, এ বাগন হল ইসলাম, আর স্তম্ভটি হল ইসলামের খুটিসমূহ (করণীয় মৌলিক বিষয়াদি) কড়াটি হল (কুরআনে কারীম উল্লিখিত) ‘উরওয়াতুল উসকা’ (শক্ত ও অটুট কড়া) এবং তুমি আজীবন ইসলামের উপর অটল থাকবে। (রাবী বলেন) এই ব্যক্তি হলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. খলীফা রহ. منصف এর স্থলে وصيف বলেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪২

হাদীস নং ৩৫৪২

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আবু বুরদা রা. বলেন, আমি মদীনায় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনে সালামের সাথে আমার সাক্ষাত হল। তিনি আমাকে বললন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি (মর্যাদাপূর্ণ) ঘরে থাকতে দেব।

অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাকে) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার অত্যন্ত ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় নগণ্য বস্তুর হাদীয়া পেশ করে তার তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভূক্ত।

নযর রহ. আবু দাউদ রহ. ও ওয়াহাব রহ. শুবা রহ. থেকে بيت শব্দটি বর্ণনা করেননি।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪৩ – রাসূল (সা.)-এর সাথে খাদীজাহ রা.-এর বিবাহ এবং তাঁর ফযীলত।

হাদীস নং ৩৫৪৩

মুহাম্মদ ও সাদাকা রহ…………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মারিয়াম আ. ছিলেন (তৎকালীন) নারী সমাজের শ্রেষ্ঠতমা নারী। আর খাদীজা রা. (এ উম্মতের) নারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪৪

হাদীস নং ৩৫৪৪

সাঈদ ইবনে উফাইর রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু অভিমান প্রদর্শন করিনি ; যতটুকু খাদীজা রা.-এর প্রতি করেছি।

কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর কথা বারবার আলোচনা করতে শুনেছি, অথচ আমাকে বিবাহ করার পূর্বেই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন।

খাদীজা রা.-কে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত একটি প্রাসাদের সু-সংবাদ দেয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করেন।

কোন দিন বকরী যবাহ হলে খাদীজা রা.-এর বান্ধবীদের নিকট তাদের প্রত্যেকের আবশ্যক পরিমাণ গোশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীয়া স্বরূপ পাঠিয়ে দিতেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪৫

হাদীস নং ৩৫৪৫

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু ঈর্ষা প্রকাশ করিনি, যতটুকু খাদীজা রা.-এর প্রতি করেছি।

যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আলোচনা অধিক করতেন। তিনি (আরো) বলেন, খাদীজা রা.-এর (ইন্তিকালের) তিন বছর পর তিনি আমাকে বিবাহ করেন।

আল্লাহ স্বয়ং অথবা জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করলেন যে, খাদীজা রা.-কে জান্নাতে মণিমুক্তা খচিত একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দিন।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪৬

হাদীস নং ৩৫৪৬

উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান রহ…………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য অন্য কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু অভিমান করিনি যতটুকু খাদীজা রা.-এর প্রতি করেছি। অথচ আমি তাকে দেখিনি।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা অধিক সময় আলোচনা করতেন। কোন কোন সময় বকরী যবেহ করে গোশতের পরিমাণ বিবেচনায় হাড়-মাংসকে ছোট ছোট টুকরা করে হলেও খাদীজা রা.-এর বান্ধবীদের ঘরে পৌঁছে দিতেন।

আমি কোন সময় অভিমানের সূরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতাম, (আপনার অবস্থা দৃষ্টে) মনে হয়, খাদীজা রা. ব্যতীত পৃথিবীতে যেন আর কোন নারী নাই। প্রতি উত্তরে তিনি বলতেন, হ্যাঁ। তিনি এমন ছিলেন, এমন ছিলেন তাঁর গর্ভে আমার সন্তান জন্মেছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪৭

হাদীস নং ৩৫৪৭

মুসাদ্দাদ রহ……….ইসমাঈল রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা রা.-কে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন কি?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। এমন একটি সুরম্য প্রাসাদের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, যে প্রাসাদটি তৈরী করা হয়েছে এমন মুতী দ্বারা যার ভিতরদেশ ফাঁকা। আর সেখানে থাকবে না হৈ হুল্লোড়, কোন প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪৮

হাদীস নং ৩৫৪৮

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ যে খাদীজা রা. একটি পাত্র হাতে নিয়ে আসছেন।

ঐ পাত্রে তরকারী, অথবা খাবার দ্রব্য অথবা পানীয় ছিল। যখন তিনি পৌঁছে যাবেন তখন তাকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমর পক্ষ থেকেও সালাম জানাবেন আর তাকে জান্নাতের এমন একটি সুরম্য প্রাসাদের সুসংবাদ দিবেন যার ভিতরদেশ ফাঁকা-মুতি দ্বারা তৈরী করা হয়েছে।

সেখানে থাকবে না কোন প্রকার হট্টগোল; না কোন প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি।

ইসমাঈল ইবনে খলীল রহ……..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার খাদীজার বোন হালা বিনতে খুওয়ায়লিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে করলেন খাদীজার অনুমতি প্রার্থনার কথা। এজন্য তিনি খুশী হয়ে বললেন, ইয়া আল্লাহ ! হালা (এর কি খবর?)

আয়েশা রা. বললেন, এতে আমি অভিমান করে বললাম, আপনি কি কুরাইশ বংশের লাল গণ্ডধারী এক বৃদ্ধার স্মরণ করছেন, যে অনেক আগে মৃত্যুবরণ করেছে? আল্লাহ তো তার চেয়ে উত্তম মহিলা দান করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৪৯ – জারীর ইবনে আবদুল্লাহ বাজালী রা.-এর আলোচনা।

হাদীস নং ৩৫৪৯

ইসহাক আল ওয়াসিতী রহ……….জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গৃহে প্রবেশ করতে কোনদিন আমাকে বাঁধা প্রদান করেননি এবং যখনই আমাকে দেখেছেন মুচকি হাসি দিয়েছেন।

জারীর রা. আরো বলেন, জাহিলী যুগে (খাসআম গোত্রের একটি প্রতীমা রক্ষিত মন্দির) যুল-খালাসা নামে একটি ঘর ছিল। যাকে কাবায়ে ইয়ামানী ও কাবায়ে শামী বলা হত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসার ব্যাপারে আমাকে শান্তি পার?

জারীর রা. বলেন, আমি আহমাস গোত্রের একশ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে যাত্রা করলাম, এবং (প্রতীমা ঘরটি) বিধ্বস্ত করে দিলাম।

সেখানে যাদেরকে পেলাম হত্যা করে ফেললাম। ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সংবাদ শুনলাম। তিনি (অত্যন্ত খুশী হয়ে) আমাদের জন্য এবং আহমাস গোত্রের জন্য দু’আ করলেন।

আনসারদের মর্যাদা পার্ট ১ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫০ – হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান আব্বাসী রা.-এর আলোচনা।

হাদীস নং ৩৫৫০

ইসমাঈল ইবনে খালীল রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে (প্রথম দিকে) মুশরিকরা যখন চরমভাবে পরাজিত হয়ে পড়ল, তখন ইবলীস চীৎকার করে (মুসলমানগণকে) বলল, হে আল্লাহর বান্দাগণ ! পিছনের দিকে লক্ষ্য কর।

তখন অগ্রবর্তী দল পিছন দিকে ফিরে (শত্রু দল মনে করে) নিজদলের উপর আক্রমণ করে বসল এবং একে অন্যকে হত্যা করতে লাগল।

এমন সময় হুযায়ফা রা. পিছনের দলে তাঁর পিতাকে দেখতে পেয়ে চীৎকার করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ, এই যে আমার পিতা, এই যে আমার পিতা। আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর কসম, কিন্তু তারা কেহই বিরত থাকেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ফেলল। হুযায়ফা রা. বললেন, আল্লাহ তোমাদিগকে মাফ করে দিন।

আমার পিতা উরওয়া রহ. বলেন, আল্লাহর কসম, এ কথার কারণে হুযায়ফা রা.-এর মধ্যে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মঙ্গলের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫১ – যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল রা.-এর ঘটনা।

হাদীস নং ৩৫৫১

মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, ওহী নাযিল হওয়ার পূর্বে একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার নিম্নাঞ্চলে বালদা নামক স্থানে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েলের সাথে সাক্ষাত করলেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে আহার্য পূর্ণ একটি খানচা পেশ করা হল। তিনি তা থেকে কিছু খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর যায়েদ রা. বললেন, আমিও ঐ সব জন্তুর গোশত খাই না যা তোমরা তোমাদের দেব-দেবীর নামে জবাই কর।

আল্লাহর নামে জবাইকৃত অন্যের নামে যবাই করা জন্তুর গোশত আমি খাইনা। যায়েদ ইবনে আমর কুরাইশের যবাইকৃত জন্তু সম্পর্কে তাদের উপর দোষারোপ করতেন এবং বলতেন, বকরীকে সৃষ্টি করলেন আল্লাহ, তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করলেন।

ভূমি থেকে উৎপন্ন করলেন, তৃণ-লতা অথচ তোমরা আল্লাহ তায়ালার সমূহদান অস্বীকার করে প্রতিমার প্রতি সম্মান করে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করছ।

মূসা (সনদসহ) বলেন………. সালিম ইবনে আবদুল্লাহ রহ. আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। মূসা রহ. বলেন, আমার জানা মতে তিনি ইবনে উমর রা. থেকে এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যে, যায়েদ ইবনে আমর সফিক তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত দীনের তালাশে সিরিয়ায় গমন করলেন।

সে সময় একজন ইয়াহূদী আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাত হল। তিনি তার নিকট তাদের দীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন, হয়ত আমি তোমাদের দীনের অনুসারী হব, আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত কর।

তিনি বললেন, তুমি আমাদের দীন গ্রহণ করবেনা। গ্রহণ করলে যে পরিমাণ গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর গযব তোমার উপর আপতিত হবে। যায়েদ বললেন, আমি তো আল্লাহর গযব থেকে পালিয়ে আসছি। আমি যথাসাধ্য, আল্লাহর সামান্যতম গযবকেও আমি বহন করব না।

আর আমার কি ইহা বহনের শক্তি-সামর্থ্য আছে? তুমি কি আমাকে এ ছাড়া অন্য কোন পথের সন্ধান দিতে পার? সে বলল, আমি তা জানি না, তবে তুমি দীনে হানীফ গ্রহণ করে নাও। যায়েদ জিজ্ঞাসা করলেন। (দীনে) হানীফ কি? সে বলল, তাহল ইবরাহীম আ.-এর দীন। তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না নাসারাও ছিলেন না।

তিনি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করতেন না। তখন যায়েদ বের হলেন এবং তাঁর সাথে একজন খৃষ্টান আলিমের সাক্ষাত হল। ইয়াহূদী আলিমের নিকট ইতিপূর্বে তিনি যা যা বলেছিলেন তার কাছেও তা বললেন। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দীন গ্রহন করবেনা ।

গ্রহণ করলে যে পরিমাণ গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর লানত তোমার উপর আপতিত হবে। যায়েদ বললেন, আমি তো আল্লাহর লানত থেকে পালিয়ে আসছি। আর আমি যথাসাধ্য সামান্যতম আল্লাহর লানত ও গযবও বহন করব না। তিনি বললেন, আমাদের ধর্মের যে পরিমাণ তুমি গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর লানত তোমার উপর পড়বে।

যায়েদ রা. বললেন, আমি তো আল্লাহর লানত থেকে পালিয়ে এসেছি এবং আমি আল্লাহর লানত ও গযবের সামান্যতম অংশ বহন করতে রাযী নই, এবং আমি কি তা বহনের শক্তি রাখি? তুমি কি আমাকে এ ছাড়া অন্য কোন পথের সন্ধান দেবে সে বলল, আমি অন্য কিছু জানিনা।

শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, তুমি দীনে হানিফ গ্রহণ কর। তিনি বললেন, হানীফ কি? উত্তরে তিনি বললেন তাহল ইবরাহীম আ.-এর দীন, তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না এবং খৃষ্টানও ছিলেন না।

এবং আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না। যায়েদ যখন ইবরাহীম আ. সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে পারলেন, তখন তিনি বেরিয়ে পড়ে দু’হাত উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ ! আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি দীনে ইবরাহীম আ.-এর উপর আছি।

লায়স রহ. বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়লকে কাবা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দীনে ইবরাহীমের উপর নেই।

আর তিনি তো যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার জন্য নেওয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না আমি তার জীবিকার ব্যবস্থার ব্যয়ভার গ্রহণ করব।

এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে পরে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে ইচ্ছুক না হও, তবে আমিই-এর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে থাকব।

আরও পড়ুনঃ

ওয়াকালাত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

যামিন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইজারা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

সলম অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

সহিহ বুখারী

মন্তব্য করুন