আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায়

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

Table of Contents

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫২ – কাবা গৃহের নির্মাণ।

হাদীস নং ৩৫৫২

মাহমূদ রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কাবাগৃহ পুননির্মাণ করা হচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্বাস রা. (অন্যদের সাথে) পাথর বয়ে আনছিলেন।

আব্বাস রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, তোমার লুঙ্গি কাঁধের উপর রাখ, পাথরের ঘর্ষণ হতে তোমাকে রক্ষা করবে। (লুঙ্গিটি খোলার সাথে সাথে) তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।

তাঁর চোখ দুটি আকাশের দিকে নিবিষ্ট ছিল। (কিছুক্ষণ পর) তাঁর চেতনা ফিরে এল, তখন তিনি বলতে লাগলেন, আমার লুঙ্গি দাও। আমার লুঙ্গি দাও। তৎক্ষণাৎ তাঁর লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫৩

হাদীস নং ৩৫৫৩

আবু নুমান রহ……….আমর ইবনে দীনার ও উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু ইয়াযীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কাবা গৃহের চতুষ্পার্শ্বে কোন প্রাচীর ছিল না।

লোকজন কাবা গৃহকে কেন্দ্র করে তার চারপাশে সালাত আদায় করত। উমর রা. (তাঁর খিলাফত কালে) কাবার চতুষ্পার্শ্বে প্রাচীর নির্মাণ করেন। উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন, এ প্রাচীর ছিল নীচু, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. (তাঁর যুগে দীর্ঘ ও উচু) প্রাচীর নির্মাণ করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫৪ – জাহিলীয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ।

হাদীস নং ৩৫৫৪

মুসাদ্দাদ রহ……….আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আশুরার দিন কুরাইশরা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম পালন করতেন।

যখন হিজরত করে মদীনায় আগমন করলেন। তখন তিনি নিজেও আশুরার সাওম পালন করতেন এবং অন্যকেও তা পালনে আদেশ দিতেন।

যখন রমযানের সাওম ফরয করা হল, (তখন আশুরার সাওম ঐচ্ছিক করে দেয়া হল)। তখন যারা ইচ্ছা রোযা রাখতেন আর যার ইচ্ছা রোযা রাখতেন না।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫৫

হাদীস নং ৩৫৫৫

মুসলিম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজ্জের মাসগুলোতে উমরা পালন করাকে কুরাইশগণ পাপ কাজ বলে মনে করত।

তারা মুহাররম মাসের নামকে পরিবর্তন করে সফর মাস নামে আখ্যায়িত করত এবং বলত, (উটের) যখম যখন শুকিয়ে যাবে এবং পদচিহ্ন মুছে যাবে তখন উমরা পালন করা হালাল হবে যারা তা পালন করত চায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গী সাথীগণ যিলহাজ্ব মাসের চতুর্থ তারিখে হজ্জের তালবিয়া পড়তে পড়তে মক্কায় হাযির করে নেও।

সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের জন্য কোন কোন বিষয় হালাল হবে? তিনি বললেন, যাবতীয় বিষয় হালাল হয়ে যাবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫৬

হাদীস নং ৩৫৫৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রহ. তাঁর পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, জাহেলিয়্যাতের যুগে একটি মহা প্লাবন হয়েছিল।

যদ্বারা মক্কায় দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছিল। সুফিয়ান রা. বলেন, আমর ইবনে দীনার বলতেন, এ হাদীসটির একটি দীর্ঘ কাহিনী রয়েছে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫৭

হাদীস নং ৩৫৫৭

আবু নুমান রহ……….কায়েস ইবনে আবু হাযিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবু বকর রা. আহমাস গোত্রের যায়নাব নাম্নী জনৈক মহিলার নিকট গমন করলেন।

তিনি গিয়ে দেখতে গেলেন, মহিলাটি কথাবার্তা বলছেন। তিনি (লোকজনকে) জিজ্ঞাসা করলেন, মহিলাটির এ অবস্থা কেন, কথাবার্তা বলছে না কেন? তারা তাকে জানালেন, এ মহিলা নীরব থেকে থেকে হজ্জ পালন করে আসছেন। আবু বকর রা. তাকে বললেন, কথা বল কেন না ইহা হালাল নয়।

ইহা জাহেলিয়্যাত যুগের কাজ। তখন মহিলাটি কথাবার্তা বলল, জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে? আবু বকর রা. উত্তরে বললেন, আমি একজন মুহাজির ব্যক্তি। মহিলাটি জিজ্ঞাসা করলেন, কোন কুরাইশের কোন শাখার আপনি? আবু বকর রা. বললেন, তুমি তো অত্যাধিক উত্তম প্রশ্নকারী।

আমি আবু বকর রা.। তখন মহিলাটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, জাহিলীয়্যাত যুগের পর যে উত্তম দীন ও কল্যাণময় জীবন বিধান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন সে দীনের উপর আমরা কতদিন সঠিকভাবে টিকে থাকতে পারব?

আবু বকর রা. বললেন, যতদিন তোমাদের ইমামগণ তোমাদেরকে নিয়ে দীনের উপর অবিচল থাকবেন। মহিলা জিজ্ঞাসা করল, ইমামগণ কারা? আবু বকর রা. বললেন, তোমাদের গোত্রে ও সমাজে এমন সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কি দেখনি।

যারা আদেশ করলে সকলেই তা মেনে চলে। মহিলা উত্তর দিল, হ্যাঁ। আবু বকর রা. বললেন, এরাই হলেন জনগণের ইমাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫৮

হাদীস নং ৩৫৫৮

ফারওয়া ইবনে আবুল মাগলা রহ……….আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের কোন এক গোত্রের জনৈকা (মুক্তিপ্রাপ্ত)কৃষ্ণকায় মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেন।

(বসবাসের জন্য) মসজিদের পাশে ছির তার একটি ছোট ঘর। আয়েশা রা. বলেন, সে আমাদের নিকট আসত এবং আমাদের সাথে (নানা রকমের) কথাবার্তা বলত, যখন তার কথাবার্তা শেষ হত তখন প্রায়ই বলত, ইয়াওমুল বিশাহ (মণিমুক্তা খচিত হারের দিন) আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আশ্চর্যজনক ঘটনাবলীর একটি দিন জেনে রাখুন।

আমার প্রতিপালক আমাকে কুফর এর দেশ থেকে নাজাত দিয়েছেন। সে এ কথাটি প্রায়ই বলত। একদিন আয়েশা রা. ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়ামুল বিশাহ কি?

তখন সে বলল, যে আমার মুনীবের পরিবারের জনৈকা শিশু কন্যা ঘর থেকে বের হল। তার গলায় চামড়ায় (উপর মনিমুক্তা খচিত) একটি হার ছিল। হারটি (ছিড়ে) গলা থেকে পড়ে গেল। তখন একটি চিল একে গোশতের টুকরা মনে করে ছো মেরে নিয়ে গেল।

তারা আমাকে হার চুরির সন্দেহে শাস্তি ও নির্যাতন করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত তারা আমার লজ্জা স্থানে তল্লাশী চালাল। যখন তারা আমার চারপাশে ছিল এবং আমি চরম বিষাদে ছিলাম।

এমন সময় একটি চিল কোথা হতে উড়ে আসল এবং আমাদের মাথার উপরে এসে হারটি ফেলে দিল। তারা হারটি তুলে নিল। তখন আমি বললাম, এটা সেই হার যে হার চুরির অপরাধে আমার উপর অপবাদ দিয়েছ, অথচ এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

নৈতিক গুণাআনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ডবলী অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৫৯

হাদীস নং ৩৫৫৯

কুতাইবা রহ……..ইবনে উমর রা. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাবধান ! যদি তোমাদের শপথ করতে হয় হবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করো না।

লোকজন তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করত। তিনি বললেন, সাবধান ! বাপ-দাদার নামে শপথ করো না।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬০

হাদীস নং ৩৫৬০

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………আমর রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রাহমান ইবনে কাসিম রা. তার কাছে বলেছেন যে, কাসিম জানাযা বহনকালে আগে আগে চলতেন।

জানাযা দেখলে তিনি দাঁড়াতেন না এবং তিনি বর্ণনা করছেন যে, আয়েশা রা. বলতেন, জাহিলী যুগে মুশরিকগণ জানাযা দেখলে দাঁড়াত এবং মৃত ব্যক্তির রূহকে লক্ষ্য করে বলত, তুমি তোমার আপনজনদের সাথেই রয়েছ যেমন তোমার জীবদ্দশায় ছিলে। এ কথাটি তারা দু’বার বলত।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬১

হাদীস নং ৩৫৬১

আমর ইবনে আব্বাস রহ……..আমর ইবনে মায়মূন রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, মুশরিকগণ সাবীর পাহাড়ের উপর সূর্যকিরণ পতিত না হওয়া পর্যন্ত মুযদালিফা থেকে রাওয়ানা হত না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয়ের পূর্বে রাওয়ানা হয়ে তাদের প্রথার বিরোধিতা করেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬২

হাদীস নং ৩৫৬২

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………ইকরিমা রহ. বলেন, আল্লাহর বাণী: এর তাফসীর প্রসংগে বলেন, শরাব পরিপূর্ণ এবং একের পর এক পেয়ালা।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমার পিতা আব্বাস রা.-কে ইসলাম পূর্বে যুগে বলতে শুনেছি, আমাদেরকে পাত্র পূর্ণ শরাব একের পর এক পান করাও।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬৩

হাদীস নং ৩৫৬৩

আবু নুআইম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বাধিক সঠিক বাক্য যা কোন কবি বলেছেন তা হল লাবীদ এর এ পংক্তিটি – সাবধান, আল্লাহ ব্যতীত সকল জিনিসই বাতিল ও অসার।

এবং কবি উমাইয়্যা ইবনে আবু সালত (তার কথাবার্তার মধ্য দিয়ে) ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬৪

হাদীস নং ৩৫৬৪

ইসমাঈল রহ………..আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর রা.-এর একজন ক্রীতদাস ছিল। সে প্রত্যহ তার উপর নির্ধারিত কর আদায় করত। আর আবু বকর রা. তার দেওয়া কর থেকে আহার করতেন। একদিন সে কিছু খাবার জিনিস এনে দিল। তা থেকে তিনি আহার করলেন।

তারপর গোলাম বলল, আপনি জানেন কি ইহা কিভাবে উপার্জন করা হয়েছে যা আপনি খেয়েছেন? তিনি বললেন, বলত ইহা কি? গোলাম উত্তরে বলল, আমি জাহিলী যুগে এক ব্যক্তির ভবিষ্যৎ গণনা করে দিয়েছিলাম।

কিন্তু ভবিষ্যৎ গণনা করা আমার উত্তমরূপে জানা ছিল না। তথাপি প্রতারণামূলকভাবে ইহা করেছিলাম। (কিন্তু ভাগ্যচক্রে আমার গণনা সঠিক হল) আমার সাথে তার সাক্ষাত হলে গণনার বিনিময়ে এ দ্রব্যাদি সে আমাকে হাদীয়া দিল যা থেকে আপনি আহার করলেন।

আবু বকর রা. ইহা শুনামাত্র মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে দিলেন এবং পাকস্থলীর মধ্যে যা কিছু ছিল সবই বের করে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬৫

হাদীস নং ৩৫৬৫

মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসলাম পূর্ব যুগের মানুষ হাবালুল হাবালা রূপে উটের গোশত ক্রয়-বিক্রয় করত।

রাবী বলেন, হাবালুল হাবালার অর্থ হল- তারা উট ক্রয়-বিক্রয় করত এই শর্তে যে কোন নির্দিষ্ট গর্ভবতী উটনী বাচ্চা প্রসব করলে পর ঐ প্রসব কৃত বাচ্চা যখন গর্ভবতী হবে তখন উটের মূল্য পরিশোধ করা হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করে দিলেন।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬৬

হাদীস নং ৩৫৬৬

আবু নুমান রহ……….গায়লান ইবনে জারীর রহ. থেকে বর্ণিত, আমরা আনাস ইবনে মালিক রা. এর কাছ থেকে তিনি আমাদের কাছে আনসারদের ঘটনা বর্ণনা করতেন।

রাবী বলেন, আমাকে লক্ষ্য করে তিনি বলতেন, তোমার স্বজাতি অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কাজ করেছে, অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কাজ করেছে।

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬৭ – জাহিলী যুগের কাসামা (হত্যাকারীর গোত্রের পঞ্চাশ জনের শপথ গ্রহণ)।

হাদীস নং ৩৫৬৭

আবু মামার রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বপ্রথম কাসামা হত্যাকারী গোত্রের লোকের (শপথ গ্রহণ) জাহিলী যুগে অনুষ্ঠিত হয় আমাদের হাশেম গোত্রে। (এতদ সম্পর্কীয় ঘটনা হল এই) কুরাইশের কোন একটি শাখা গোত্রের একজন লোক বানূ হাশিমের একজন মানুষ (উমর ইবনে আলকামা) কে মজুর হিসাবে নিয়োগ করল।

ঐ মজুর তার সাথে উটগুলির নিকট গমন করল। ঘটনাক্রমে বনূ হাশিমের অপর এক ব্যক্তি তাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের নিকটবর্তী হওয়ার পর খাদ্য ভর্তি বস্তার বাঁধন ছিড়ে গেল।

তখন সে মজুর ব্যক্তিটিকে বলল, আমাকে একটি রশি দিয়ে সাহায্য কর, যেন তা দিয়ে আমার বস্তার মুখ বাঁধতে পারি এবং উটটিও যেন পালিয়ে যেতে না পারে। মজুর তাকে একটি রশি দিল। ঐ ব্যক্তি তার বস্তার মুখ বেঁধে নিল। যখন তারা অবতরণ করল তখন একটি ব্যতীত সকল উট বেঁধে রাখা হল।

মজুর নিযুক্তকারী ব্যক্তি মজুরকে জিজ্ঞাসা করল, সকল উট বাঁধা হল কিন্তু এ উটটি বাঁধা হল না কেন? মজুর উত্তরে বলল, এ উটটি বাঁধার কোন রশি নেই।

তখন সে বলল, এই উটটির রশি কোথায়? রাবী বলেন, এ কথা শুনে মালিক মজুরকে লাঠি দিয়ে এমনভাবে আঘাত করল যে শেষ পর্যন্ত এ আঘাতেই তার মৃত্যু হল। আহত মজুরটি যখন মমূর্ষ অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনছিল, তখন ইয়ামানের একজন লোক তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিল।

আহত মজুরটি বলল, আপনি কি এবার হজ্জে যাবেন? সে বলল, না, তবে অনেকবার গিয়েছি। আহত মজুরটি বলল, আপনি কি আমার সংবাদটি আপনার জীবনের যে কোন সময় পৌঁছে দিতে পারেন?

ইয়ামানী লোকটি উত্তরে বলল, হ্যা তা পারব। তারপর মজুরটি বলল, আপনি যখন হজ্জ উপলক্ষে মক্কায় উপস্থিত হবেন তখন হে কুরাইশের লোকজন বলে ঘোষণা দিবেন।

যখন তারা আপনার ডাকে সাড়া দিবে, তখন আপনি বনূ হাশিম গোত্রকে ডাক দিবেন, যদি তারা আপনার ডাকে সাড়া দেয়, তবে আপনি তাদেরকে আবু তালিব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং তাকে পেলে জানিয়ে দিবেন, অমুক ব্যক্তি (উটের মালিক) একটি রশির কারণে আমাকে হত্যা করেছে।

কিছুক্ষণ পর আহত মুজরটি মৃত্যুবরণ করল। মজুর নিয়োগকারী ব্যক্তিটি যখন মক্কায় ফিরে এল্ তখন আবু তালিব তার নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। আমাদের ভাইটি কোথায়?

তার কি হয়েছে? এখনও ফিরছেনা কে? সে বলল, আপনার ভাই হঠাৎ ভীষণ রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। আমি যথাসাধ্য সমাহিত সেব শুশ্রুষা করেছি।

(কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে মারাই গেল)। মারা যাওয়ার পর আমি তাকে যথারীতি সমাহিত করেছি। আবু তালিব বললেন, তুমি এরূপ করবে আমরা এ আশাই পোষণ করি। এভাবে কিছুদিন কেটে গেল।

তারপর ঐ ইয়ামানী ব্যক্তি যাকে সংবাদ পৌঁছে দেয়ার জন্য মজুর ব্যক্তিটি অসিয়অত করেছি, হজ্জব্রত পালনে মক্কায় উপস্থিত হল এবং (পূর্ব অঙ্গীকার অনুযায়ী) হে কুরাইশগণ বলে ডাক দিল। তখন তাকে বলা হল, এই যে, কুরাইশ। সে আবার বলল, হে বনূ হাশিম, বলা হল, এই যে, বনূ হাশিম।

সে জিজ্ঞাসা করল, আবু তালিব কোথায়? লোকজন আবু তালিবকে দেখিয়ে দিল। তখন ইয়ামানী লোকটি বলল, আপনাদের অমুক ব্যক্তি আপনার নিকট এ সংবাদটি পৌঁছে দেয়ার জন্য আমাকে অসিয়াত করেছিল যে, অমুক ব্যক্তি একটি রশির কারণে তাকে হত্যা করেছে।

(সে ঘটনাটিও সবিস্তারে বর্ণনা করল) এ কথা শুনে আবু তালিব মজুর নিয়োগকারী ব্যক্তির নিকট গমন করে বলল, (তুমি আমাদের ভাইকে হত্যা করেছ) কাজেই আমাদের তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি তোমাকে মেনে নিতে হবে।

তুমি হয়ত হত্যার বিনিময় স্বরূপ একশ উট দিবে অথবা তোমার গোত্রের বিশ্বাসযোগ্য পঞ্চাশ জন লোক হলফ করে বলবে যে তুমি তাকে করনি।যদি তুমি এসব করতে অস্বীকার কর তবে আমরা তোমাকে হত্যার বিনিময়ে হত্যা করব।

তখন হত্যাকারী ব্যক্তিটি স্ব-গোত্রীয় লোকদের নিকট গমন করলে মহিলা যার বিবাহ হত্যাকারীর গোত্রে হয়েছিল এবং তার একটি সন্তানও হয়েছিল, আবু তালিবের নিকট এসে বলল, হে আবু তালিব, আমি এ আশা নিয়ে এসেছি যে, আপনি পঞ্চাশজন হলফকারী থেকে আমার এ সন্তানটিকে রেহাই দিবেন এবং ঐ স্থানে তার হলফ নিবেননা যে স্থানে হলফ নেয়া হয়।

(অর্থাৎ রুকনে ইয়ামীনী ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থান) আবু তালিব তার আবদরটি মনজুর করলেন। তারপর হত্যাকারীর গোত্রের জনৈক পুরুষ আবু তালিবের নিকট এসে বলল, হে আবু তালিব, আপনি একশ উটের পরিবর্তে পঞ্চাশ জনের হলফ নিতে চাচ্ছেন, এ হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি হলফকারীর উপর দুটি উট পড়ে।

আমার দুটি উট গ্রহণ করুন এবং আমাকে অব্যাহতি দেন। অপর আট চল্লিশজন এসে যথাস্থানে হলফ করল। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহর কসম, হলফ করার পর একটি বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই ঐ আটচল্লিশ জনের একজনও বেঁচে ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬৮

হাদীস নং ৩৫৬৮

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বুআস যুদ্ধ এমন একটি যুদ্ধ ছিল যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকূলে (হিজরতের পূর্বেই সংঘটিত করেছিলেন।

এ যুদ্ধের কারণে তারা (মদীনাবাসীরা) বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছিল এবং এদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এই যুদ্ধে নিহিত ও আহত হয়েছিল।

আল্লাহ তায়ালা এ যুদ্ধ ঘটিয়ে ছিলেন এ কারণে যেন তারা ইসলাম গ্রহণ করে নেয়। ইবনে ওহাব রহ……….ইবনে আব্বাস রা. বলেন, সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী বাতনে ওয়াদী নামক স্থানে সাঈ (দৌড়ান) করা সুন্নত নয়।

জাহেলী যুগের লোকেরাই শুধু সেখানে সাঈ করতে এবং বলত, আমরা বাতহা নামক স্থানটি দ্রুত দৌঁড়িয়ে অতিক্রম করব।

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৬৯

হাদীস নং ৩৫৬৯

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-জুফী রহ………..আবুসসাফর রহ. বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে এ কথা বলতে শুনেছি, হে লোক সকল! আমি যা বলছি তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর এবং তোমরা যা বলতে চাও তাও আমাকে শুনাও এবং এমন যেন না হয় যে তোমরা এখান থেকে চলে গিয়ে বলবে ইবনে আব্বাস এরূপ বলেছেন।

(অতঃপর ইবনে আব্বাস রা. বললেন) যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করতে ইচ্ছা করে সে যেন হিজর এর বাহির থেকে তাওয়াফ করে এবং এ স্থানকে হাতীম বলবেনা কারণ, জাহেলীয়াতের যুগে কোন ব্যক্তি ঐ জায়গাটিতে তার চাবুক, জুতা তীর ধনু ইত্যাদি নিক্ষেপ করে হলফ করত।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭০

হাদীস নং ৩৫৭০

নুআইম ইবনে হাম্মাদ রহ………..আমর ইবনে মায়মূন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাহিলীয়্যাতের যুগে দেখেছি, একটি বানর ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে অনেকগুলো বানর একত্রিত হয়ে প্রস্তর নিক্ষেপে তাকে হত্যা করল। আমিও তাদের সাথে প্রস্তর নিক্ষেপ করলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭২

হাদীস নং ৩৫৭২

আহমদ ইবনে আবু রাজা রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যখন (ওহী) নাযিল করা হয় তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর।

এরপর তিনি মক্কায় তের বছর অবস্থান করেন। তারপর তাকে হিজরতের আদেশ দেওয়া হয়। তিনি হিজরত করে মদীনায় চলে গেলেন এবং তথায় দশ বছর অবস্থান করলেন, তারপর তাঁর ওফাত হয়।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭৩ – রাসূল (সা.) ও সাহাবীগণ মক্কাবাসী মুশরিকদের পক্ষ থেকে যে সব নির্যাতন ভোগ করেছেন তার বিবরণ।

হাদীস নং ৩৫৭৩

আল-হুমায়দী রহ………..খাব্বাব রা. বলেন, আমি (একবার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেদমতে হাযির হলাম। তখন তিনি তাঁর নিজের চাদরকে বালিশ বানিয়ে কাবা গৃহের ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণ করছিলেন। (যেহেতু) আমরা মুশরিকদের পক্ষ থেকে কঠিন নির্যাতন ভোগ করছিলাম।

তাই আমি বললাম, আপনি কি (আমাদের শান্তি ও নিরাপত্তার) জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করবেন না? তখন তিনি উঠে বসলেন এবং তাঁর চেহারা রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল।

তখন তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী ঈমানদারদের মধ্যে কারো কারো শরীরের হাড় পর্যন্ত সমস্ত মাংস ও শিরা উপশিরাগুলি লোহার চিরুনী দিয়ে আঁচড়ে বের করে ফেলা হত। কিন্তু এসব নির্যাতনও তাদেরকে দীন থেকে বিমুখ করতে পারত না।

তাদের মধ্যে কারো মাথার মধ্যবর্তী স্থানে করাত স্থাপন করে তাকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলা হত। কিন্তু এ নির্যাতনও তাদেরকে তাদের দীন থেকে ফিরাতে পারত না।

আল্লাহর কসম, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই দীনকে পরিপূর্ণ করবেন, ফলে একজন উষ্ট্রারোহী সানআ (শহর) থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত একাকী ভ্রমণ করবে।

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সে ভয় করবে না। রাবী আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেন এবং তার মেষ পালের উপর নেকড়ে বাঘের আক্রমণে সে ভয় করবে না।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭৪

হাদীস নং ৩৫৭৪

সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….আবদুল্লাহ রা. (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আন-নাজম তিলাওয়াত করে সিজদা করলেন।

তখন এক ব্যক্তি ব্যতীত (উপস্থিত) সকলেই সিজদা করলেন। ঐ ব্যক্তিকে আমি দেখলাম, সে এক মুষ্টি কংকর তুলে নিয়ে তার উপর সিজদা করল এবং সে বলল, আমার জন্য এরূপ সিজদা করাই যথেষ্ট। (আবদুল্লাহ রা. বলেন) পরবর্তীকালে আমি তাকে কাফির অবস্থায় (বদর যুদ্ধে) নিহত হতে দেখেছি।

 

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭৫

হাদীস নং ৩৫৭৫

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করলেন। তার আশেপাশে কুরাইশের কয়েকজন লোক বসেছিল।

এমন সময় উকবা ইবনে আবু মুয়াইত (যবাইকৃত) উটের নাড়ীভুঁড়ি নিয়ে উপস্থিত হল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিঠের উপর নিক্ষেপ করল।

ফলে তিনি তাঁর মাথা উঠাতে পারলেন না। (সংবাদ পেয়ে) ফাতিমা রা. এসে তাঁর পিঠের উপর থেকে তা সরিয়ে দিলেন এবং যে এ কাজটি করেছে তার জন্য বদ দু’আ করলেন।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাথা উঠিয়ে) বললেন, ইয়া আল্লাহ ! পাকড়াও কর কুরাইশ নেতৃবৃন্দকে–আবু জেহেল ইবনে হিশাম, উৎবা ইবনে রাবিয়া, শায়বা ইবনে রাবিয়া, উমাইয়া ইবনে খালফ অথবা উবাই ইবনে খালাফ।

উমাইয়া ইবনে খালফ না উবাই ইবনে খালফ এ বিষয়ে (শুবা রাবী সন্দেহ করেন) (ইবনে মাসউদ রা. বলেন) আমি এদের সবাইকে বদর যুদ্ধে নিহত অবস্থায় দেখেছি।

উমাইয়া অথবা উবাই ব্যতীত এদের সবাইকে সে দিন একটি কূপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তার গ্রন্থিগুলি এমনভাবে ছিন্নভিন্ন হয়েছিল যে তাকে কূপে নিক্ষেপ করা যায়নি।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭৬

হাদীস নং ৩৫৭৬

উসামান ইবনে আবু শায়বা রহ……..সাঈদ ইবনে জুবাইর রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনে আবযা রা. একদিন আমাকে আদেশ করলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. কে এ আয়াত দুটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর, এর অর্থ কি?

আয়াতটি হল এই : ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করবে না। এবং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করে’।

আমি ইবনে আব্বাস রা. কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন, যখন সূরা আল-ফুরকানের আয়াতটি নাযিল করা হল তখন মক্কার মুশরিকরা বলল, আমরা তো মানুষকে হত্যা করেছি যা আল্লাহ হারাম করেছেন এবং আল্লাহর সাথে অন্যকে মাবুদ হিসাবে শরীক করেছি। আরো নানা জাতীয় অশ্লীল কাজ কর্ম করেছি।

তখন আল্লাহ তায়ালা নাযিল করলেন, ‘কিন্তু যারা তাওবা করেছে এবং ঈমান এনেছে…………সুতরাং এ আয়াতটি তাদের প্রযোজ্য। আর সূরা নিসার যে আয়াতটি রয়েছে তা।

ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে ইসলাম ও তার বিধি-বিধানকে জেনে বুঝে কবুল করার পর কাউকে (ইচ্ছাকৃত) হত্যা করেছে। তখন তার শাস্তি, জাহান্নাম। তারপর মুজাহিদ রহ. কে আমি এ বিষয় জানালাম। তিনি বললেন, তবে যদি কেউ অনুতপ্ত হয়…….।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭৭

হাদীস নং ৩৫৭৭

আইয়্যাশ ইবনে ওয়ালিদ রহ………উরওয়া ইবনে যুবাইর রহ. বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. এর নিকট বললাম, মক্কার মুশরিক কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সর্বাপেক্ষা কঠোর আচরণের বর্ণনা দিন।

তিনি বললেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফের (পশ্চিম পার্শ্বস্থ) হিজর নামক স্থানে সালাত আদায় করছিলেন। তখন উকবা ইবনে আবু মুআইত এল এবং তার চাদর দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠনালী পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলল।

তখন আবু বকর রা. এগিয়ে এসে উকবাকে কাঁধে ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমরা এমন ব্যক্তিকে হত্যা করতে চাও যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই আমাদের প্রতিপালক।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭৮ – আবু বকর রা.-এর ইসলাম গ্রহণ।

হাদীস নং ৩৫৭৮

আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাদ আমুলী রহ………..আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এমন অবস্থায় (ইসলাম গ্রহণের জন্য) সাক্ষাত করলাম যে, তখন তাঁর সঙ্গে (ইসলাম গ্রহণ করেছেন) এমন পাঁচজন কৃতদাস, দুইজন মহিলা ও আবু বকর রা. ব্যতীত অন্য কেউ ছিলনা।

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৭৯ – সাদ (ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ।

হাদীস নং ৩৫৭৯

ইসহাক রহ……….সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. বলেন, যেদিন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম, সেদিনের পূর্বে অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। আর আমি সাতদিন পর্যন্ত বয়স্কদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণকারী হিসাবে তৃতীয় ব্যক্তি ছিলাম।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮০ – জ্বিনদের আলোচনা এবং আল্লাহর বাণী: (হে নবী) বলুন আমার নিকট ওহী এসেছে যে, একদল জ্বিন মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শ্রবণ করছে…….

হাদীস নং ৩৫৮০

উবায়দুল্লাহ ইবনে সাদ রহ……….মা’ন ইবনে আবদুর রাহমান রহ. আমি মাসরূক রহ. কে জিজ্ঞাসা করলা যে, রাতে জ্বিনরা মনোযোগের সাথে কুরআন শ্রবণ করেছিল ঐ রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে সংবাদটি কে দিয়েছিল?

তিনি বললেন, তোমার পিতা আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ রা.) আমাকে বলেছেন যে, তাদের উপস্থিতির সংবাদ একটি বৃক্ষ দিয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮১

হাদীস নং ৩৫৮১

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অজু ও ইস্তিনজার কাজে ব্যবহারের জন্য পানি ভর্তি একটি পাত্র বহন করে পিছনে পিছনে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনি তাকিয়ে বললেন, কে ? আমি বললাম, আমি আবু হুরায়রা।

তিনি বললেন, আমাকে কয়েকটি পাথর তালাশ করে দাও। আমি উহা দ্বারা ইস্তিনজা করব। তবে, হাঁড় এবং গোবর আনবে না। আমি আমার কাপড়ের কিনারায় করে কয়েকটি পাথর এনে তাঁর নিকটে রেখে দিলাম এবং আমি তথা হতে কিছুটা দূরে সরে গেলাম।

তিনি যখন ইস্তিনজা থেকে অবসর হলেন, তখন আমি অগ্রসর হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হাড় ও গোবর এর বিয়ষ কি? তিনি বললেন, এগুলো জ্বিনের খাদ্য।

আমার নিকট নাসীবীন নামক জায়গা থেকে জ্বিনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা উত্তম জ্বিন ছিল। তারা আমার কাছে খাদ্যদ্রব্যের প্রার্থনা জানাল।

তখন আমি আল্লাহর নিকট দু’আ করলাম যে, যখন কোন হাড় বা গোবর (তাদের) হস্তগত হয় তখন যেন উহাতে তাদের খাদ্যদ্রব্য পায়।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮২ – আবু যার রা.-এর ইসলাম গ্রহণ।

হাদীস নং ৩৫৮২

আমর ইবনে আব্বাস রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের সংবাদ যখন আবু যার রা.-এর নিকট পৌঁছল, তখন তিনি তাঁর ভাই (উনাইস) কে বললেন, তুমি এই উপত্যকায় যেয়ে ঐ ব্যক্তির সম্পর্কে জেনে আস যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন ও তাঁর কাছে আসমান থেকে সংবাদ আসে।

তাঁর কথাবার্তা মনোযোগ সহকারে শুন এবং ফিরে এসে আমাকে শুনাও। তাঁর ভাই (মক্কামুখী) রওয়ানা হয়ে ঐ ব্যক্তির নিকট পৌঁছে তাঁর কথাবার্তা শোনালেন।

এরপর তিনি আবু যারের নিকট প্রত্যাবর্তন করে বললেন, আমি তাকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম স্বভাব অবলম্বন করার জন্য (লোকদেরকে) নির্দেশ দান করছেন এবং এমন কালাম (পড়তে শুনলাম) যে পদ্য নয়। এতে আবু যার রা. বললেন, আমি যে উদ্দেশ্যে তোমাকে পাঠিয়েছিলাম সে বিষয়ে তুমি আমাকে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলেনা।

আবু যার রা. সফরের উদ্দেশ্যে যৎসামান্য পাথেয় সংগ্রহ করলেন এবং একটি ছোট্র পানির মশকসহ মক্কায় উপস্থিত হলেন। মসজিদে হারামে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তালাশ করতে লাগলেন। তিনি তাকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) চিনতেন না।

আবার কাউকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাও পছন্দ করলেন না। এমতাবস্থায় রাত হয়ে গেল। তিনি (মসজিদে) শুয়ে পড়লেন। আলী রা. তাকে দেখে বুঝতে পারলেন যে, লোকটি বিদেশী মুসাফির। যখন আবু যার আলী রা.-কে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পিছনে গেলেন।

কিন্তু সকাল পর্যন্ত একে অন্যকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না। আবু যার রা. পুনরায় তাঁর পাথেয় ও মশক নিয়ে মসজিদে হারামের দিকে চলে গেলেন। এ দিনটি এমনিভাবে কেটে গেল, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে পেলেন না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল।

তিনি (পূর্ব দিনের) শোয়ার জায়গায় ফিরে গেলেন। তখন আলী রা. তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এখন কি মুসাফির ব্যক্তির গন্তব্য স্থানের সন্ধান লাভের সময় হয়নি? সে এখনও এ জায়গায় অবস্থান করছে। তিনি তাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। (পথিমধ্যে) কেউ কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না।

এমতাবস্থায় তৃতীয় দিন হয়ে গেল। আলী রা. পূর্বের ন্যায় তাঁর পাশ দিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি তাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। তুমি কি আমাকে বলবেনা কি জিনিস এখানে আসতে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে?

আবু যার রা. বললেন, তুমি যদি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শনের পাকা পোক্তা অঙ্গীকার কর তবেই আমি তোমাকে বলতে পারি। আলী রা. অঙ্গীকার করলেন এবং আবু যার রা. ও তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করলেন। আলী রা. বললেন, তিনি সত্য, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ভোর হয়ে যাবে তখন তুমি আমার অনুসরণ করবে।

তোমার জন্য ভয়ের কারণ আছে এমন যদি কোন কিছু আমি দেখতে থাকি তবে তুমিও আমার অনুসরণ করতে থাকবে এবং যে ঘরে আমি প্রবেশ করি সে ঘরে তুমিও প্রবেশ করবে।

আবু যার রা. তাই করলেন আলী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তিনিও তাঁর (আলীর) সাথে প্রবেশ করলেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাবার্তা শোনালেন এবং ঐ স্থানেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমাদের স্বগোত্রে ফিরে যাও এবং আমার নির্দেশ না পৌঁছা পর্যন্ত আমার ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করবে। আবু যার রা.বললেন, ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, আমি আমার ইসলাম গ্রহণকে মুশরিকদের সম্মুখে উচ্চস্বরে ঘোষণা করব।

এই বলে তিনি বেরিয়ে পড়লেন ও মসজিদে হারামে গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেন, أشهد أن لآ إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله (ইহা শোনামাত্র মুশরিক) লোকজন (উত্তেজিত হয়ে) তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং প্রহার করতে করতে তাকে মাটিতে ফেলে দিল।

এমন সময় আব্বাস রা. এসে তাকে আগলিয়ে রাখলেন এবং বললেন, তোমাদের বিপদ অনিবার্য। তোমরা কি জাননা, এ লোকটি গিফার গোত্রের? আর তোমাদের ব্যবসায়ী দলগুলোকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়েই সিরিয়া যাতায়াতে করতে হয়।

একথা বলে তিনি তাদের হাত থেকে আবু যারকে রক্ষা করলেন। পরদিন ভোরে তিনি অনুরূপ বলতে লাগলেন। লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে বেদম প্রহার করতে লাগল। আব্বাস রা. এসে আজো তাকে রক্ষা করলেন।

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮৩ – সাঈদ ইবনে যায়েদ রা-এর ইসলাম গ্রহণ।

হাদীস নং ৩৫৮৩

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..কায়েস রহ. বলেন, আমি সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল রা.-কে কুফার মসজিদে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, উমরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমার ইসলাম গ্রহণের কারণে তাঁর হাতে আমাকে বন্দী অবস্থায় দেখেছি।

তোমরা উসমান রা.-এর সাথে যে ব্যবহার করলে এ কারণে যদি উহুদ পাহাড় দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে যায় তবে তা হওয়া সঙ্গতই হবে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮৪ – উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর ইসলাম গ্রহণ।

হাদীস নং ৩৫৮৪

মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. যেদিন ইসলাম গ্রহণ করলেন ঐ দিন থেকে আমরা সর্বদা প্রভাব প্রতিপত্তির আসনে সমাসীন রয়েছি।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮৫

হাদীস নং ৩৫৮৫

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর পিতা উমর রা. (ইসলাম গ্রহণের পর,) একদিন নিজ গ্রহে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। যখন আবু আমর আস ইবনে ওয়াইল সাহমী তাঁর কাছে আসলেন তার গায়ে ছিল ধারিদার চাদর ও রেশমী জরির জামা।

তিনি বানু সাহম গোত্রের লোক ছিলেন। জাহেলী যুগে তারা আমাদের হালীফ (বিপদ কালে সাহায্যের চুক্তি যাদের সাথে করা হয়) ছিল। আস উমর রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন আনার অবস্থা কেমন?

উমর রা. উত্তর দিলেন। তোমার গোত্রের লোকজন ইসলাম গ্রহণ করার কারণে অচিরেই আমাকে হত্যা করবে। ইহা শুনে আস রা. বললেন, তোমাকে কোন কিছু করার শক্তি ও ক্ষমতা তাদের নেই। তার কথা শুনে উমর রা. বললেন, তোমার কথা শুনে আমি শঙ্কাহীন হলাম।

আস বেরিয়ে পড়লেন এবং দেখতে পেলেন, মক্কা ভূমি লোকে লোকারণ্য। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তারা বলল, আমরা উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট যাচ্ছি, যে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে বিধর্মী হয়ে গেছে। আস বললেন, তার নিকট যাওয়া, তাকে কোন কিছু করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। এতে লোকজন ফিরে গেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮৬

হাদীস নং ৩৫৮৬

আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, যখন উমর রা. ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন লোকেরা তাঁর গ্রহের পাশে সমবেত হল এবং বলতে লাগল, উমর স্বধর্ম ত্যাগ করেছে। আমি তখন ছোট বালক। আমাদের ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখতে ছিলাম।

তখন একজন লোক এসে বলল, তার গায়ে রেশমী জুব্বা ছিল, উমর স্বধর্ম ত্যাগ করেছে, (তাতে কার কিছু হল?) তবে এ সমাবেশ কিসের আমি তাকে আশ্রয় দিচ্ছি।

ইবনে উমর রা. বলেন, তখন আমি দেখলাম, লোকজন চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে গেল। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ লোকটি কে? লোকেরা বলল, ইনি আস ইবনে ওয়াইল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮৭

হাদীস নং ৩৫৮৭

ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখনই উমর রা. কে কোন ব্যপারে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমার ধারণা হয় ব্যাপারটি হবে, তাকে তার ধারণা মত ব্যাপারটি সংঘটিত হয়েছে। একবার উমর রা. বসা ছিলেন, এমন সময় একজন সুদর্শন ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

উমর রা. বললেন, আমার ধারণা ভুলও হতে পারে তবে আমার মনে হয় লোকটি জাহিলী ধর্মাবলম্বী অথবা ভবিষ্যৎ গণনাকারীও হতে পারে। লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এস।

তাকে তাঁর কাছে ডেকে আনা হল। উমর রা. তার ধারণার কথা তাকে শোনালেন। তখন সে বলল, একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে বলা হল যা আজকার মত আর কোন দিন দেখেনি। উমর রা. বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি আমাকে তোমার ব্যাপারটা খুলে বল।

সে বলল, জাহিলী যুগে আমি তাদের ভবিষ্যৎ গণনাকারী ছিলাম। উমর রা. বললেন, জ্বিনেরা তোমাকে যে সব কথাবার্তা বলেছে, তন্মধ্যে কোন কথাটি তোমার নিকট সর্বাধিক বিস্ময়কর ছিল। সে বলল, আমি একদিন বাজারে অবস্থান করছিলাম। তখন একটি মহিলা জ্বিন আমার নিকট আসল।

আমি তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখতে পেলাম। তখন সে বলল, তুমি কি জ্বিন জাতির অবস্থা দেখছনা, তারা কেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে? তাদের মধ্যে হতাশা ও বিমুখ হওয়ার চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা ক্রমশ: উট ওয়ালাদের এবং চাদর জুব্বা পরিধানকারীদের (আরববাসী) অনুগত হয়ে পড়ছে।

উমর রা. বললেন, সে সত্য কথা বলেছে। আমি একদিন তাদের দেবতাদের কাছে ঘুমন্ত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি একটি গরুর বাছুর নিয়ে হাযির হল এবং সেটা যবাই করে দিল।

ঐ সময় এক ব্যক্তি এমন বিকট চীৎকার করে উঠল, যা আমি আর কখনও শুনিনি। সে চীৎকার করে বলছিল, হে জলীহ! একটি স্বাভাবিক কল্যাণময় ব্যাপারে অচিরেই প্রকাশ লাভ করবে। তা হল- একজন বিশুদ্ধভাষী লোক বলবেনা; لآ إله إلا أنت (এ ঘোষণা শুনে উপস্থিত) লোকজন ছুটাছুটি করে পলায়ন করল।

আমি বললাম, এ ঘোষণার রহস্য উদঘটন অবশ্যই করব। তারপর আবার ঘোষণা দেওয়া হল। হে জলীহ ! একটি স্বাভাবিক ও কল্যাণময় ব্যাপার অতি সত্বর প্রকাশ পাবে।

তাহল একজন বাগ্মী ব্যক্তি لآ إله الله এর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিবে। তারপর আমি উঠে দাঁড়ালাম। এর কিছুদিন পরেই বলা হল যে, তিনিই নবী।

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮৮

হাদীস নং ৩৫৮৮

মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ…………কায়েস রহ. বলেন, আমি সাঈদ ইবন যায়েদ রা.-কে তাঁর কওমকে লক্ষ্য করে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমি দেখেছি উমর রা. আমাকে এবং তার বোন ফাতিমাকে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে বেঁধে রেখেছেন।

তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। তোমরা উসমান রা.-এর সাথে যে অসদাচরণ করেছ তার কারণে যদি উহুদ ভেঙ্গে পড়ে তবে যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৮৯ – চন্দ্র দ্বি-খণ্ডিত হওয়া।

হাদীস নং ৩৫৮৯

আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহাব রহ………..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, মক্কাবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শন হিসাবে কোনরূপ মুজিযা দেখানোর দাবী জানাল। তিনি তাদেরকে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করে দেখালেন। এমনকি তারা চাঁদের দু’খণ্ডের মধ্যখানে হেরা পর্বতকে দেখতে পেল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯০

হাদীস নং ৩৫৯০

আবদান রহ………..আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় তখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিনায় অবস্থান করছিলাম।

তিনি আমাদিগকে বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক। তখন আমরা দেখলাম, চাদের একটি খণ্ড হেরা পর্বতের দিকে চলে গেল। আবু যুহা মাসরূকের বরাত দিয়ে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় মক্কা শরীফে।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯১

হাদীস নং ৩৫৯১

উসমান ইবনে সালিহ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯২

হাদীস নং ৩৫৯২

উমর ইবনে হাফস রহ………..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে) চাঁদ খণ্ডিত হয়েছিল।

বুখারি হাদিস নং ৩৫৯৩ – হাবশায় হিজরত।

হাদীস নং ৩৫৯৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-জুফী রহ………..উবায়দুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে খিয়ার রহ. উরওয়া ইবনে যুবাইরকে বলেন যে, মিসওয়ার ইবনে মাখরামা এবং আবদুর রাহমান ইবনে আসওয়াদ ইবন আবদ ইয়াগুস রা. উভয়ই তাকে বলেন, (হে উবায়দুল্লাহ) তুমি তোমার মামা উসমান রা. সাথে তার (বৈপিত্রেয়) ভাই ওয়ালীদ ইবনে উকবা সম্পর্কে কোন আলাপ-আলোচনা করছ না কেন?

জনগণ তার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করছে। উবায়দুল্লাহ বলেন, উসমান রা. যখন সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসছিলেন তখন আমি তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাকে উদ্দেশ্যে করে বললাম, আপনার সাথে আমার কথা বলার প্রয়োজন আছে এবং তা আপনার মঙ্গলার্থেই।

তিনি বললেন, ওহে, আমি তোমা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তখন ফিরে আসলাম এবং যখন সালাত সমাপ্ত করলাম, তখন মিসওয়ার ও ইবনে আবদ ইয়াগুস রা.-এর নিটক যেয়ে বললাম, এবং উসমান রা. কে আমি যা বলেছি এবং তিনি যে উত্তর দিয়েছেন তা উভয়কে শুনালাম।

তারা বললেন, তোমার উপর যে দায়িত্বও কর্তব্য ছিল তা তুমি আদায় করেছ। আমি তাদের নিকট বসাই আমি এ সময় উসমান র.-এর পক্ষ থেকে একজন দূত আমাকে ডেকে নেওয়ার জন্য আসলেন। তারা দু’জন আমাকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন।

আমি চললাম এবং উসমান রা.-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি উপদেশ যা তুমি কিছুক্ষণ পূর্বে বলতে চেয়েছিলে?

আনসারদের মর্যাদা অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৬ষ্ঠ খণ্ড

তখন আমি কালিমা শাহাদত পাঠ করে (তাকে উদ্দেশ্যে করে) বললাম, আল্লাহর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ তাঁর উপর ঈমান এনেছেন, এবং প্রথম দুহিজরাতে (মদীনা ও হাবশা) আপনি অংশ গ্রহণ করেছেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর স্বভাব-চরিত্র স্বচক্ষে দেখেছেন।

জনসাধারণ ওয়ালিদ ইবনে উকবার ব্যাপারে অনেক সমালোচনা করছে, আপনার কর্তব্য তাঁর উপর বিধান দণ্ড জারি করা। উসমান রা. আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ভাহিজা, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেয়েছ? আমি বললাম, না, পাইনি।

তবে তাঁর বিষয় আমার নিকট এমনভাবে নিরঙ্কুশ পৌঁছেছে যেমনভাবে কুমারী মেয়েদের নিকট পর্দার অন্তরালে সংবাদ পৌঁছে থাকে। উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন, উসমান রা. কালিমা শাহাদত পাঠ করলেন, এবং বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন।

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা সহ প্রেরণ করা হয়েছিল আমি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি। ইসলামের প্রথম যুগের দু’হিজরতে অংশগ্রহণ করেছি যেমন তুমি বলছ।

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছি, তাঁর হাতে বায়আত করেছি। আল্লাহর কসম, আমি তাঁর নাফরমানী করিনি।

তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। এমতাবস্থায় তাঁর ওফাত হয়ে যায়। তারপর আল্লাহ তায়ালা আবু বকর রা. কে খলীফা নিযুক্ত করলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাঁরও নাফরমানী করিনি, তাঁর সাতে প্রতারণা করিনি। তারপর উমর রা খলীফা মনোনীত হলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাঁরও অবাধ্য হইনি, তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি।

তিনিও ওফাত প্রাপ্ত হলেন। এবং তারপর আমাকে খলীফা নিযুক্ত করা হল। আমার উপর তাদের বাধ্য থাকার যে রূপ হক ছিল তোমাদের উপর তাদের ন্যায় আমার প্রতি বাধ্য থাকার কি কোন হক নাই?

উবায়দুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই হক আছে। উসমান রা. বললেন, তাহলে এসব কথাবার্তা কি, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার নিকট আসছে? আর ওয়ালীদ ইবনে উকবা সম্পর্কে তুমি যা বললে, সে ব্যাপারে আমি অতি সত্বর সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ।

অতঃপর তিনি ওয়ালীদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করার রায় প্রদান করলেন এবং ইহা কার্যকরী করার জন্য আলী রা. কে আদেশ করলেন। তৎকালে অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্বে আলী রা. নিযুক্ত ছিলেন।

ইউনুস এবং যুহরির ভাতিজা যুহরী সূত্রে যে বর্ণনা করেন তাতে রয়েছে; তোমাদের উপর আমার কি হক নেই যেমনটি হক ছিল তাদের জন্য।

আরও পড়ুনঃ

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

জিহাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

 

মন্তব্য করুন