আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৫৭০১-৫৭৯৩

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩৩ | 5733 | ۵۷۳۳

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭৩৩। আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো ধবংস হয়ে গেছি।

তিনি বললেনঃ ওয়ায়লাকা (আফসোস তোমার জন্য) এরপর সে বলল আমি রামযানের মধ্যেই দিনের বেলায় আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি।

তিনি বললেন একটা গোলাম আযাদ করে দাও সে বললঃ আমার কাছে তা নেই। তিনি বললেনঃ তা হলে তুমি লাগাতার দু’মাস সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর।

সে বলল আমি এতেও সক্ষম নই। তিনি বললেনঃ তবে তুমি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও। লোকটি বললঃ আমি এর সামর্থ রাখি না।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে এক ঝুড়ি খেজুর এলো। তখন তিনি বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং সাদাকা করে দাও। সে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তা কি আমার পরিবার ব্যতীত অন্যকে দেব?

সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রান। মদিনার উভয় প্রান্তের মধ্যে আমার চেয়ে অভাবী আর কেউ নেই। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তার পার্শ্বের দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ পেল। তিনি বললেনঃ তবে তুমিই নিয়ে যাও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩৪ | 5734 | ۵۷۳٤

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭৩৪। সুলায়মান ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একজন গ্রাম্য লোক এসে বললোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে হিজরত সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করুন।

তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার প্রতি হিজরত তো খুব কঠিন ব্যাপার। তোমার উট কি আছে? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি এর যাকাত দিয়ে থাক? লোকটি বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি সমুদ্রের ঐ পাশ থেকেই আমল করে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সাওয়াব একটুও কমাবেন না।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩৫ | 5735 | ۵۷۳۵

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭৩৫। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘ওয়ায়লাকুম’ অথবা ‘ওয়ায়হাকুম’ (তোমাদের জন্য আফসোস) আমার পরে তোমরা আবার কাফির হয়ে যেয়ো না। যাতে তোমরা একে অন্যের গর্দান মারবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩৬ | 5736 | ۵۷۳٦

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭৩৬। আমর ইবনু আসিম (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক গ্রাম্য লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে?

তিনি বললেনঃ তোমার জন্য আক্ষেপ তুমি এর জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছ? সে জবাব দিলঃ আমি তো তার জন্য কিছু প্রস্তুতি নেই নি, তবে আমি আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভালবাসি।

তিনি বললেনঃ তুমি যাকে ভালবাস, কিয়ামতের দিন তুমি তার সঙ্গেই থাকবে। তখন আমরা বললামঃ আমাদের জন্যও কি এরূপ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এতে আমরা সে দিন যারপরনাই আনন্দিত হলাম।

আনাস (রাঃ) বলেন এ সময় মুগীরা (রাঃ) এর একটি যুবক ছেলে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে ছিল আমার সমবয়সী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এ যুবকটি বেশী দিন বেঁচে থাকে, তবে সে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই কিয়ামত সংঘটিত হতে পারে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩৭ | 5737 | ۵۷۳۷

পরিচ্ছদঃ ২৫২৮. মহামহিম আল্লাহর প্রতি ভালবাসার নিদর্শন। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ (আপনি বলে দিন) যদি তোমরা আল্লাহকে সত্যই ভালবেসে থাকো, তা’হলে তোমরা আমার অনুসরণ কর।

তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালবাসবেন
৫৭৩৭। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ (দুনিয়াতে) যাকে ভালবাসবে (কিয়ামতে) সে তারই সঙ্গী হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩৮ | 5738 | ۵۷۳۸

পরিচ্ছদঃ ২৫২৮. মহামহিম আল্লাহর প্রতি ভালবাসার নিদর্শন। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ (আপনি বলে দিন) যদি তোমরা আল্লাহকে সত্যই ভালবেসে থাকো, তা’হলে তোমরা আমার অনুসরণ কর।

তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালবাসবেন
৫৭৩৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ!

এমন ব্যাক্তি সম্পর্কে আপনি কি বলেন, যে ব্যাক্তি কোন দলকে ভালবাসে, কিন্তু (আমলের দিক দিয়ে) তাদের সমান হতে পারে নি। তিনি বললেনঃ মানুষ যাকে ভালবাসে সে তারই সঙ্গী হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩৯ | 5739 | ۵۷۳۹

পরিচ্ছদঃ ২৫২৮. মহামহিম আল্লাহর প্রতি ভালবাসার নিদর্শন। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ (আপনি বলে দিন) যদি তোমরা আল্লাহকে সত্যই ভালবেসে থাকো, তা’হলে তোমরা আমার অনুসরণ কর।

তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালবাসবেন
৫৭৩৯। আবূ নুয়াইম (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ কোন ব্যাক্তি একদলকে ভালবাসে কিন্তু (আমলে) তাদের সমকক্ষ হতে পারেনি। তিনি বললেনঃ মানুষ যাকে ভালবাসে, সে তারই সঙ্গী হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪০ | 5740 | ۵۷٤۰

পরিচ্ছদঃ ২৫২৮. মহামহিম আল্লাহর প্রতি ভালবাসার নিদর্শন। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ (আপনি বলে দিন) যদি তোমরা আল্লাহকে সত্যই ভালবেসে থাকো, তা’হলে তোমরা আমার অনুসরণ কর।

তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালবাসবেন
৫৭৪০। আবদান (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিয়ামত কবে হবে?

তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি এর জন্য কি যোগাড় করেছ? সে বললঃ আমি এর জন্য তো বেশী কিছু সালাত (নামায/নামাজ), সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ও সাদাকা আদায় করতে পারি নি। কিন্তু আমি আল্লাহ ও তার রাসুলকে ভালবাসি। তিনি বললেনঃ তুমি যাকে ভালবাস তারই সঙ্গী হবে।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪১ | 5741 | ۵۷٤۱

পরিচ্ছদঃ ২৫২৯. কেউ কাউকে ‘দূর হও’ বলা
৫৭৪১। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাঈদকে বললেনঃ আমি তোমার জন্য একটি কথা গোপন রেখেছি, তুমি বলতো সেটা কি? সে বললঃ ‘দুখ’ তখন তিনি বললেনঃ দূর হও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪২ | 5742 | ۵۷٤۲

পরিচ্ছদঃ ২৫২৯. কেউ কাউকে ‘দূর হও’ বলা
৫৭৪২। আবুল ইয়ামান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন উমব ইবনু খাত্তাব (রাঃ) একদল সাহাবীসহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ইবনু সহিয়্যাদের নিকট গমন করেন।

তারা সেখানে গিয়ে তাকে বনূ মাগালাহের দূর্গের পাশে ছেলেদের সাথে খেলায় রত গেলেন। তখন সে বালেগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে পৌছেছেন। সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন টের পেল না যতক্ষন না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত দিয়ে তার পিঠে মারলেন।

তারপর তিনি বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমিই আল্লাহর রাসুল? তখন সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে তাকিয়ে বললোঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মি সম্প্রদায়ের রাসূল।

এরপর ইবনু সাইয়্যাদ বললোঃ আপনি কি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমিই আল্লাহর রাসূল? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ধাক্কা মেরে বললেন, আমি আল্লাহ ও তার রাসুলদের উপর ঈমান রাখি।

তারপর আবার তিনি ইরনে সাইয়্যেদকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কী দেখতে পাও? সে বললো আমার নিকট সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী উভয়ই আসেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিষয়টি তোমার উপর এলোমেলো করে দেয়া হয়েছে।

এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন আমি তোমার (পরীক্ষার) জন্য কিছু গোপন রাখছি। সে বলছেনঃ তা ‘দুখ’। তখন তিনি বললেনঃ দূর হও। তুমি কখনো তোমার ভাগ্যকে অতিক্রম করতে পারবে না।

উমর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি কি তার ব্যাপারে আমাকে অনুমতি দেন যে, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ যদি সেই (দাজ্জালই) হয়ে থাকে, তবে তার উপর তোমাকে ক্ষমতা দেওয়া হবে না। আর এ যদি সে না হয়ে থাকে, তবে তাকে হত্যা করা তোমার জন্যই ভাল হবে না।

সালিম (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, এ ঘটনার পর একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উবাই ইবনু কাব (রাঃ) সেই খেজুর বাগানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, যেখানে ইবনু সাইয়্যাদ ছিল।

অবশেষে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগানে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি খেজুরের কাণ্ডের আড়ালে আড়ালে চলতে লাগলেন। তার লক্ষ্য ছিল যে, ইবনু সাইয়্যাদ তাকে দেখার আগেই যেন তিনি তার কিছু কথাবার্তা শুনে নিতে পারেন।

এ সময় ইবনু সাইয়্যাদ তার বিছানায় একখানা চাঁদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল। আর তার চাদরের ভেতর থেকে বিড়বিড় শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

ইতিমধ্যে ইবনু সাইয়্যাদের মা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখল যে, তিনি খেজুরের কাণ্ডের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে আসছেন। তখন তার মা তাকে ডেকে বললোঃ ওহে সাফ! এটা তার ডাক নাম ছিলো।

এই যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন ইবনু সাইয়্যাদ (যে বিষয়ে মগ্ন ছিল তা থেকে) বিরত হন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তার মা তাকে সতর্ক না করতো তবে তার (রহস্য) প্রকাশ পেয়ে যেতো।

রাবী সালিম আরও বলেনঃ আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ননা করেছেন যে, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তা’আলার যথোপযুক্ত প্রশংসার পর দাজ্জালের উল্লেখ করে বললেনঃ আমি তোমাদের তার সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি।

প্রত্যেক নাবীই এর সম্পর্কে তার কওমকে সতর্ক করে গিয়েছেন। আমি এর সম্পর্কে এমন কথা বলছি যা অন্য কোন নাবী তার কাওমকে বলেন নি। তবে তোমরা জেনে রাখ সে কানা; কিন্তু আল্লাহ কানা নন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪৩ | 5743 | ۵۷٤۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৩০. কাউকে মারহাবা বলা। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) ফাতেমা (রাঃ) কে বলেছেনঃ আমার মেয়ের জন্য ‘মারহাবা’। উম্মু হানী (রাঃ) বলেন, আমি একবার নাবী (সাঃ) এর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ উম্মু হানী ‘মারহাবা’।
৫৭৪৩। ইমরান ইবনু মায়সারা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলে তিনি বললেনঃ এই প্রতিনিধি দলের প্রতি ‘মারহাবা’ যারা লাঞ্চিত ও লজ্জিত অবস্থায় আসে নি। তারা বললঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা রাবিয়া কাওমের লোক। আমরা ও আপনার মধ্যখানে অবস্থান করছে ‘মুযার’ কাওম।

এজন্য আমরা হারাম মাস ছাড়া আপনার খেদমতে পৌছতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু চুড়ান্ত বিধি নিষেধ বাতলিয়ে দেন যা অনুসরন করে আমরা জান্নাতে যেতে পারি এবং আমাদের পাচাতে যারা রয়েছে তাদের হেদায়েত দিতে পারি। তিনি বললেনঃ আমি চারটি (মেনে চলা) ও চারটি (হতে বিরত থাকার) নির্দেশ দিচ্ছি।

তোমরা সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, যাকাত দেবে। রামযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং গনীমতের মালের পঞ্চমাংশ দান করবে। আর কদুর খোলে, সবুজ রং করা কলসে, খেজুর মূলের পাত্রে এবং আলকাতরা মাখানো পাত্রে পান করবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪৪ | 5744 | ۵۷٤٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. ক্বিয়ামাতের দিন মানুষকে তাদের পিতার নামে ডাকা হবে
৫৭৪৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীর জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে যে, এ হল অমুকের পুত্র অমুকের নিদর্শন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪৫ | 5745 | ۵۷٤۵

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. ক্বিয়ামাতের দিন মানুষকে তাদের পিতার নামে ডাকা হবে
৫৭৪৫। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে একটা পতাকা স্থাপন করা হবে। আর বলা হবে যে, এটা অমুকের পুত্র অমুকের নিদর্শন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪৬ | 5746 | ۵۷٤٦

পরিচ্ছদঃ ২৫৩২. কেউ যেন না বলে, আমার আত্মা ‘খবীস’ হয়ে গেছে
৫৭৪৬। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমাদের কেউ যেন একথা না বলে যে, আমার আত্না খবীস হয়ে গেছে। তবে একথা বলতে পার যে আমার আত্মা কলুষিত হয়ে গেছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪৭ | 5747 | ۵۷٤۷

পরিচ্ছদঃ ২৫৩২. কেউ যেন না বলে, আমার আত্মা ‘খবীস’ হয়ে গেছে
৫৭৪৭। আবদান (রহঃ) … আবূ ইমামা ইবনু সাহল তার পিতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমাদের কেউ যেন একথা না বলে, আমার আত্মা খবীস হয়ে গেছে। বরং সে বলবেঃ আমার আত্মা কলুষিত হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪৮ | 5748 | ۵۷٤۸

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৩. যামানাকে গালি দেবে না
৫৭৪৮। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ বলেনঃ মানুষ যামানাকে গালি দেয়, অথচ আমিই যামানা, (এর নিয়ন্ত্রণের মালিক)। একমাত্র আমারই হাতে রাত ও দিনের পরিবর্তন হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৪৯ | 5749 | ۵۷٤۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৩. যামানাকে গালি দেবে না
৫৭৪৯। আইয়্যাশ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আংগুরকে ‘কারম’ বলো না। আর বলবে না বঞ্চিত যুগ। কারন আল্লাহ হলেন যুগ এর নিয়ন্তা।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫০ | 5750 | ۵۷۵۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৪. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ প্রকৃত ‘কারম’ হলো মু’মিনের কলব। তিনি বলেছেনঃ প্রকৃত সম্বলহীন হলো সে, যে লোক ক্বিয়ামাতের দিন সম্বলহীন। যেমন (অন্যত্র) তাঁরই বাণীঃ প্রকৃত বাহাদুর হলো সে লোক, যে রাগের সময় নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারে।

আরও যেমন তাঁরই বাণীঃ আল্লাহ একমাত্র বাদশাহ্। আবার তিনিই এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই সার্বভৌমত্বের মালিক। এরপর বাদশাহদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ “বাদশাহরা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে, তখন তারা তা ধ্বংস করে দেয়”

৫৭৫০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা (আঙ্গুরকে) ‘করম’ বলে, কিন্তু আসলে করম হলো মুমিনের অন্তর।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫১ | 5751 | ۵۷۵۱

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৫. কোন ব্যক্তির এ রকম কথা বলা আমার বাপ-মা আপনার প্রতি কুরবান। এ সম্পর্কে নবী (সাঃ) থেকে যুবায়র (রাঃ) এর একটি হাদিস আছে
৫৭৫১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আলী (রাঃ) বলেন, আমি সা’দ (রাঃ) ব্যতীত আর কারো সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একথা বলতে শুনি নাই যে, আমার মা-বাপ তোমার প্রতি কুরবান। আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ হে সা’দ! তুমি তীর চালাও। আমার মা ও বাপ তোমার প্রতি কুরবান। আমার ধারনা হচ্ছে যে, একথা তিনি ওহুদের যুদ্ধে বলেছেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫২ | 5752 | ۵۷۵۲

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৬. কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, আল্লাহ আমাকে তোমার প্রতি কুরবান করুন। আবু বকর (রাঃ) নবী (সাঃ) কে বললেনঃ আমরা আমাদের পিতা ও মাতাদের আপনার প্রতি কুরবান করলাম
৫৭৫২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তিনি ও আবূ তালহা (রাঃ) (মদিনায়) আসছিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাফিয়্যা (রাঃ) তার উটের পেছনে বসাছিলেন। পথে এক জায়গায় উটের পা পিছলে যায় এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার স্ত্রী পড়ে যান।

তখন আবূ তালহা (রাঃ) ও তার উট থেকে লাফ দিয়ে নামলেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া নাবী আল্লাহ! আপনার কি কোন আঘাত লেগেছে? আল্লাহ আমাকে আপনার প্রতি কুরবান করুন। তিনি বললেনঃ না। তবে স্ত্রী লোকটির খবর নাও।

তখন আবূ তালহা (রাঃ) তার কাপড় দিয়ে চেহারা ঢেকে তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার উপরও একখানা কাপড় ফেলে দিলেন। তখন স্ত্রীলোকটি উঠে দাঁড়ালেন।

এরপর আবূ তালহা (রাঃ) তাদের সাওদাটি উটের উপর কসে বেধে দিলেন। তারা উভয়ে সাওয়ার হলেন এবং সবাই আবার রওয়ানা হলেন।

অবশেষে যখন তারা মদিনার নিকটে পৌছলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেনঃ আমরা তাওবাকারী, ইবদিতকারী এবং একমাত্র স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। তিনি মদিনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত একথাগুলো বলছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫৩ | 5753 | ۵۷۵۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৭. আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় নাম
৫৭৫৩। সাদাকা ইবনু ফাযল (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের একজনের একটি ছেলে জন্মগ্রহণ করল। সে তার নাম রাখল কাসেম। আমরা বললামঃ আমরা তোমাকে আবূল কাসেম ডাকবো না এবং সেরূপ মর্যদাও করবো না।

তিনি একথা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালেন। তিনি বললেন তোমার ছেলের নাম আবদুর রাহমান রেখে দাও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫৪ | 5754 | ۵۷۵٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৮. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমার নামে নাম রাখতে পার, তবে আমার কুনিয়াত দিয়ে কারো কুনিয়াত (ডাক নাম) রেখো না। আনাস (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন
৫৭৫৪।

মুসাদ্দাদ (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের এক ব্যাক্তির একটি ছেলে জন্মগ্রহণ করল। সে তার নাম রাখলো ‘কাসেম’।

তখন সে বললঃ আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা না করে তাকে এ কুনিয়াতে ডাকবো না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রেখো, কিন্তু আমার কুনিয়াতে কেউ কুনিয়াত রেখো না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫৫ | 5755 | ۵۷۵۵

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৮. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমার নামে নাম রাখতে পার, তবে আমার কুনিয়াত দিয়ে কারো কুনিয়াত (ডাক নাম) রেখো না। আনাস (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন
৫৭৫৫।

আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রেখো, কিন্তু আমার কুনিয়াতে কুনিয়াত রেখো না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫৬ | 5756 | ۵۷۵٦

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৮. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমার নামে নাম রাখতে পার, তবে আমার কুনিয়াত দিয়ে কারো কুনিয়াত (ডাক নাম) রেখো না। আনাস (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন
৫৭৫৬।

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের একজনের একটি ছেলে হলে সে তার নাম রাখলো ‘কাসেম’। তখন আমরা বললাম আমরা তোমাকে ‘আবূল কাসেম’ কুনিয়াতে ডাকবো না।

আর এ দ্বারা তোমার চোখও শীতল করবো না। তখন সে ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে ঐ কথা উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তোমার ছেলের নাম রাখ আবদুর রহমান।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫৭ | 5757 | ۵۷۵۷

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৯. ‘হাযন’ নাম
৫৭৫৭। ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) … ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার নাম কি?

তিনি বললেনঃ হাযন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তোমার নাম ‘সাহল’। তিনি বলেনঃ আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন, তা অন্য কোন নাম দিয়ে আমি বদলাবো না। ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ এরপর থেকে আমাদের বংশের মধ্যে কঠিনতাই চলে এসেছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫৮ | 5758 | ۵۷۵۸

পরিচ্ছদঃ ২৫৪০. নাম বদলিয়ে পূর্বের নামের চাইতে উত্তম নাম রাখা
৫৭৫৮। সাঈদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) … সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন মুনযির ইবনু আবূ উসায়দ জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে নিয়ে আসা হল।

তিনি তাকে নিজের উরুর উপর রাখলেন। আবূ উসায়দ (রাঃ) পাশেই বসা ছিলেন। এ সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সামনেই কোন জরুরী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ইত্যবসরে আবূ উসায়দ (রাঃ) কারো দ্বারা তার উরুর থেকে তাকে উঠায়ে নিয়ে গেলেন।

পরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কাজ থেকে অবসর হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন শিশুটি কোথায়? আবূ উসায়দ বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তাকে ফেরৎ পাঠিয়ে দিয়েছি।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তার নাম কি? তিনি বললেনঃ অমুক। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তার নাম মুনযির। সে দিন থেকে তার নাম রাখলেন মুনযির।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৫৯ | 5759 | ۵۷۵۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৪০. নাম বদলিয়ে পূর্বের নামের চাইতে উত্তম নাম রাখা
৫৭৫৯। সাদাকা ইবনু ফাযল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে যায়নাব (রাঃ) এর নাম ছিলো ‘বাররাহ’ (নেককার)। তখন কেউ বললেন এতে তিনি নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রাখলেন ‘যায়নাব’।

 

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬০ | 5760 | ۵۷٦۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৪০. নাম বদলিয়ে পূর্বের নামের চাইতে উত্তম নাম রাখা
৫৭৬০। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … সাঈদ ইবনু মূসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তার দাদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে আসলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার নাম কি? তিনি উত্তর দিলেন আমার নাম হাযন।

তিনি বললেনঃ না বরং তোমার নাম “সাহল”। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আমার যে নাম রেখে গিয়েছেন তা আমি বদলাতে চাই না। ইবনু মূসাইয়্যাব বলেন, ফলে এরপর থেকে আমাদের বংশে কঠিনতাই চসে আসছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬১ | 5761 | ۵۷٦۱

পরিচ্ছদঃ ২৫৪১. নাবীদের (আঃ) নামে যারা নাম রাখেন। আনাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) ইব্রাহীম (রাঃ) কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে।
৫৭৬১। ইবনু নুমায়র (রহঃ) … ইসমাঈল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ আপনি কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুত্র ইবরাহীম (রাঃ) কে দেখেছেন?

তিনি বললেনঃ তিনি তো ছোট বেলায়ই মারা গিয়েছেন। যদি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে কোন নাবী হওয়ার বিধান থাকত তবে তার পুত্র বেঁচে থাকতেন। কিন্ত তার পরে কোন নাবী হবেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬২ | 5762 | ۵۷٦۲

পরিচ্ছদঃ ২৫৪১. নাবীদের (আঃ) নামে যারা নাম রাখেন। আনাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) ইব্রাহীম (রাঃ) কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে।
৫৭৬২। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আদী ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, আমি বারাআ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, যখন ইবরাহীম (রাঃ) মারা যান তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জান্নাতে তার জন্য ধাত্রী থাকবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৩ | 5763 | ۵۷٦۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৪১. নাবীদের (আঃ) নামে যারা নাম রাখেন। আনাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) ইব্রাহীম (রাঃ) কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে।
৫৭৬৩। আদম (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুনিয়াতে কারো কুনিয়াত রেখ না। কারণ আমিই কাসেম। আমি তোমাদের মধ্যে (আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত) বণ্টন করি। আনাস (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৪ | 5764 | ۵۷٦٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৪১. নাবীদের (আঃ) নামে যারা নাম রাখেন। আনাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) ইব্রাহীম (রাঃ) কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে।
৫৭৬৪। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুনিয়াতে কারো কুনিয়াত রেখো না।

আর যে ব্যাক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে, সে অবশ্যই আমাকে দেখেছে। শয়তান আমার আাকৃতি ধারন করতে পারে না। আর যে ব্যাক্তি ইচ্ছা করে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামেই তার বাসস্থান করে নেয়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৫ | 5765 | ۵۷٦۵

পরিচ্ছদঃ ২৫৪১. নাবীদের (আঃ) নামে যারা নাম রাখেন। আনাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) ইব্রাহীম (রাঃ) কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে।
৫৭৬৫। মুহাম্মদ ইবনু আলা (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার একটি ছেলে জন্মগ্রহন করলে আমি তাকে নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম।

তার নাম রেখে দিলেন ইবরাহীম। তারপর তিনি একটি খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিয়ে তার জন্য বরকতের দু’আ করলেন এবং তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। রাবী বলেনঃ সে ছিল আবূ মূসা (রাঃ) এর বড় সন্তান।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৬ | 5766 | ۵۷٦٦

পরিচ্ছদঃ ২৫৪১. নাবীদের (আঃ) নামে যারা নাম রাখেন। আনাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) ইব্রাহীম (রাঃ) কে চুমু দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর পুত্রকে।
৫৭৬৬। আবুল ওয়ালীদ (রহঃ) … যিয়াদ ইবনু ইলাকাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুগীরা ইবনু শু‘বা (রাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ যে দিন ইবরাহীম (রাঃ) মারা যান, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৭ | 5767 | ۵۷٦۷

পরিচ্ছদঃ ২৫৪২. ওয়ালীদ নাম রাখা
৫৭৬৭। আবূ নু‘আয়ম ফাযল ইবনু দুকায়ন (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) এর রুকু থেকে মাথা তুলে দু’আ করলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি ওয়ালীদ, সালাম ইবনু হিশাম, আইয়্যাশ ইবনুু আবূ রাবিয়া এবং মক্কার দুর্বল মুসলমানদের শত্রুর নির্যাতন থেকে নাজাত দাও।

আর হে আল্লাহ! মুযার গোত্রকে শক্তভাবে পাকড়াও করো। হে আল্লাহ! তুমি তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দাও, যেমন দুর্ভিক্ষ ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর যুগে এসেছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৮ | 5768 | ۵۷٦۸

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৩. কারো সঙ্গীকে তার নামের কিছু অক্ষর কমিয়ে ডাকা। আবু হাযিম (রহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, নবী (সাঃ) আমাকে “ইয়া আবা হিরিরিন” বলে ডাক দেন

৫৭৬৮। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আয়িশা! এই যে জিবরীল আলাইহিস সালাম তোমাকে সালাম বলেছেন।

তিনি বললেনঃ তাঁর উপরও আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। এরপর তিনি বললেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো দেখতে পান, যা আমি দেখি না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৬৯ | 5769 | ۵۷٦۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৩. কারো সঙ্গীকে তার নামের কিছু অক্ষর কমিয়ে ডাকা। আবু হাযিম (রহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, নবী (সাঃ) আমাকে “ইয়া আবা হিরিরিন” বলে ডাক দেন
৫৭৬৯। ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

একবার উম্মে সুলায়ম (রাঃ) সফরের সামগ্রীবাহী উটে সাওয়ার ছিলেন। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোলাম আরজাশা উটগুলোকে দ্রুত হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওহে আবূ আনজাশা। তুমি কাঁচপাত্রবাহী উটগুলো ধীরে ধীরে হাকিয়ে নিয়ে যাও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭০ | 5770 | ۵۷۷۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৪. কোন ব্যক্তির সন্তান জন্মানোর পূর্বেই সে শিশুর নাম দিয়ে তার ডাকনাম রাখা
৫৭৭০।

মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার চেয়ে বেশী সদাচারী ছিলেন। আমার একজন ভাই ছিল; তাকে ‘আবূ উমায়র’ বলে ডাকা হতো।

আমার অনুমান যে, সে তখন মায়ের দুধ খেতো না। যখনই সে তার নিকট আসতো, তিনি বলতেনঃ হে আবূ উমায়র! তোমার নুগায়র কি করছে? সে নুগায়র পাখিটা নিয়ে খেলতো।

আর প্রায়ই যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হতো, আর তিনি আমাদের ঘরে থাকতেন, তখন তার নীচে যে বিছানা থাকতো, সামান্য পানি ছিটিয়ে ঝেড়ে দেয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিতেন।

তারপর উনি সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য দাঁড়াতেন এবং আমরাও তার পেছনে দাঁড়াতাম। আর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭১ | 5771 | ۵۷۷۱

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৫. কারো অন্য কুনিয়াত থাকা সত্ত্বেও তার কুনিয়াত “আবু তুরাব” রাখা
৫৭৭১। খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আলী (রাঃ) এর নিকট তার নামগুলোর মধ্যে ‘আবূ তুরাব’ কুনিয়াত ছিলো সবচেয়ে বেশী প্রিয় এবং এ নামে ডাকলে তিনি খুব খুশী হতেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই তাকে ‘আবূ তুরাব’ কুনিয়াতে ডেকেছিলেন। একদিন তিনি ফাতিমা (রাঃ) এর সঙ্গে রাগ করে বেরিয়ে এসে মসজিদের দেয়াল ঘেসে ঘুমিয়ে পড়লেন।

এসময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তালাশ করছিলেন। এক ব্যাক্তি বললঃ তিনি তো ওখানে দেয়াল ঘেসে শুয়ে আছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে গিয়ে তাকে এমন অবস্থায় পেলেন যে তার পিঠে ধূলাবালি লেগে আছে।

তিনি তার পিঠ থেকে ধূলা ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে শুরু করলেনঃ হে আবূ তুরাব! উঠে বসো।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭২ | 5772 | ۵۷۷۲

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৬. আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত নাম
৫৭৭২। আবূল ইয়ামন (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিকট কিয়ামত দিবসে এ ব্যাক্তির নাম সব চাইতে ঘৃণিত, যে তার নাম ধারণ করেছে রাজাধিরাজ।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৩ | 5773 | ۵۷۷۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৬. আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত নাম
৫৭৭৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিকট সর্বাধিক নিকৃষ্ট নামধারী অথবা বলেছেন, সব নামের মধ্যে ঘৃণিত নাম হল সে ব্যাক্তি, যে রাজাধিরাজ নাম ধারণ করেছে। সুফিয়ান বলেন যে, অন্যেরা এর ব্যখ্যা করেছেন, শাহান শাহ।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৪ | 5774 | ۵۷۷٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৭. মুশরিকের কুনিয়াত। মিসওয়ার (রাঃ) বলেন যে, আমি নাবী (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, কিন্তু যদি ইবনু আবূ ত্বালিব চায়
৫৭৭৪। আবূল ইয়ামান ও ইসমাঈল (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার উপর সাওয়ার ছিলেন।

তখন তার গায়ে একখানা ফাদাকী চাদর ছিল এবং তার পেছনে উসামা বসাছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধের পূর্বে সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ) এর শুশ্রুষা করার উদ্দেশ্যে হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্র অভিমুখে রওয়ানা হচ্ছিলেন।

তারা চলতে চলতে এক মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল ছিল। এটা আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এর (প্রকাশ্যে) ইসলাম গ্রহনের আগের ঘটনা।

মজলিসটি ছিল মিশ্রিত। এতে ছিলেন মুসলমান মুশরিক, মূর্তিপূজক ও ইয়াহুদী। মুসলমানদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) ও ছিলেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

সাওয়ারীর চলার কারনে যখন উড়ন্ত ধুলাবালি মজলিসকে ঢেকে ফেলেছিল, তখন ইবনু উবাই তার চাদর দিয়ে তার নাক ঢেকে নিয়ে বললঃ তোমরা আমাদের উপর ধূলি উড়িওনা।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সালাম করলেন এবং সাওয়ারী থামিয়ে নামলেন। তারপর তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়ে কুরআন পড়ে শোনালেন।

তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল তাকে বললঃ হে ব্যাক্তি! আপনি যা বলছেন যদি তা ঠিক হয়ে থাকে তবে তার চেয়ে উত্তম কথা আর কিছুই নেই। তবে আপনি আমাদের মজলিসসমূহে এসে আমাদের কষ্ট দিয়েন না। যে আপনার কাছে যায়, তাকেই আপনি উপদেশ দিবেন।

তখন আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বললেন না। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাদের মজলিস সমূহে আসবেন। আমরা আপনার এ বক্তব্য পছন্দ করি। তখন মজলিসের মুসলমান, মুশরিক ও ইয়াহুদীরা পরস্পর গালমন্দ করতে লাগল।

এমনকি তাদের মধ্যে হাঙ্গামা হওয়ার উপক্রম হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থামাতে লাগলেন অবশেষে তারা নীরব হল। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সাওয়ারীর উপর সাওয়ার হয়ে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং সাদ ইবনু উবাদা (রাঃ) এর নিকট পৌছলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সা’দ! আবূ হুবার অর্থাৎআবদুল্লাহ ইবনু উবাই আমাকে যা বলেছেনঃ তা কি তুমি শোননি? সে এমন এমন কথা বলেছে।

তখন সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা আপনার প্রতি কুরবান আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার কথা ছেড়ে দিন। সেই সত্তার কসম! যিনি আপনার উপর কুরআন নাযিল করেছেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার তরফ থেকে আপনার প্রতি হক এমন সময় নাযিল করেছেন, যখন এই শহরের অধিবাসীরা পরস্পর পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, তারা তাকে রাজ মুকুট পরাবে এবং (রাজকীয়) পাগড়ী তার মাথায় বাঁধবে।

কিন্তু যখন আল্লাহ আপনাকে যে সত্য দিয়েছেন তা দিয়ে সেই সিদ্ধান্তকে নস্যাৎ করে দিলেন, তখন সে এতে রাগান্বিত হয়ে পড়েছে। এজন্যই সে আপনার সাথে এ ধরনের আচরণ করেছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করলেন।

তারপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন, আর আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তো এমনই মুশরিক ও কিতাবীদের ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের নির্যাতনে ধৈর্য ধারণ করতেন।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বানীঃ তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তোমরা তাদের থেকে নিশ্চয়ই আগের কথা শুনতে পাবে …… শেষ পর্যন্ত। আল্লাহ আরো বলেছেন কিতাবীরা অনেকেই কামনা করে……। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাদের ক্ষমা করতে থাকেন। অবশেষে তাকে তাদের সহিত জিহাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

তারপর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর অভিযান চালালেন তখন এর মাধ্যমে আল্লাহ কাফির বীর পুরুষদের এবং কুরাইশদের সরদারদের মধ্যে যারা নিহত হওয়ার তাদের হত্যা করেন।

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগন বিজয় বেশে গনীমত নিয়ে ফিরলেন। তাদের সাথে কাফিরদের অলেক বাহাদুর ও কুরাইশদের অনেক নেতাও বন্দী হয়ে আসে।

সে সময় ইবনু উবাই ইবনু সালুল ও তার সঙ্গী মূর্তিপূজক মুশরিকরা বললঃ এ ব্যাপারে অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম তো প্রবল হয়ে পড়ছে। সুতরাং এখন তোমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে ইসলামের বায়আত কর। তারপর তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ করল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৫ | 5775 | ۵۷۷۵

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৭. মুশরিকের কুনিয়াত। মিসওয়ার (রাঃ) বলেন যে, আমি নাবী (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, কিন্তু যদি ইবনু আবূ ত্বালিব চায়
৫৭৭৫। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আব্বাস ইবনু আদল মুত্তালিব (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি আবূ তালিবের কোন উপকার করতে পেরেছেন? তিনি তো সর্বদা আপনার হিফাযত করতেন এবং আপনার জন্য অন্যের উপর রাগ করতেন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি তো বর্তমানে জাহান্নামের হালকা স্তরে আছেন। যদি আমি না হতাম তাহলে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৬ | 5776 | ۵۷۷٦

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৮. পরোক্ষ কথা বলে মিথ্যা এড়ানোর উপায়। ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি। আবু তালহার একটি শিশুপুত্র মারা যায়। তিনি এসে (তার স্ত্রী কে) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ছেলেটি কেমন আছে? উম্মে সুলায়ম (রাঃ) বললেনঃ সে শান্ত। আমি আশা করছি, সে আরামেই আছে।

তিনি ধারনা করলেন যে, অবশ্য তিনি সত্য বলেছেন।
৫৭৭৬। আদম (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মহিলাদের সহ) এক সফরে ছিলেন। হুদী গায়ক হুদীগান গেয়ে যাচ্ছিল। তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, আফসোস তোমার প্রতি ওহে আনজাশা! তুমি কাচপাত্র তুল্য সাওয়ারীদের সাথে মৃদুকর।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৭ | 5777 | ۵۷۷۷

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৮. পরোক্ষ কথা বলে মিথ্যা এড়ানোর উপায়। ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি। আবু তালহার একটি শিশুপুত্র মারা যায়। তিনি এসে (তার স্ত্রী কে) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ছেলেটি কেমন আছে? উম্মে সুলায়ম (রাঃ) বললেনঃ সে শান্ত। আমি আশা করছি, সে আরামেই আছে।

তিনি ধারনা করলেন যে, অবশ্য তিনি সত্য বলেছেন।
৫৭৭৭। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফলে ছিলেন। তার আনজাশা নামে এক গোলাম ছিল। সে হুদী গান গেয়ে উটগুলো হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো।

তিনি তাকে বললেনঃ হে আনজাশাা! তুমি ধীরে উট হাঁকাও, যেহেতু তুমি কাচপাত্র তুল্যদের (আরোহী) উট চালিয়ে যাচ্ছ। আবূ কিলাবা বর্ণনা করেন, কাঁচপাত্র সদৃশ শব্দ দ্বারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের বুঝিয়েছেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৫ম পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৮ | 5778 | ۵۷۷۸

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৮. পরোক্ষ কথা বলে মিথ্যা এড়ানোর উপায়। ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি। আবু তালহার একটি শিশুপুত্র মারা যায়। তিনি এসে (তার স্ত্রী কে) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ছেলেটি কেমন আছে? উম্মে সুলায়ম (রাঃ) বললেনঃ সে শান্ত। আমি আশা করছি, সে আরামেই আছে। তিনি ধারনা করলেন যে, অবশ্য তিনি সত্য বলেছেন।
৫৭৭৮। ইসহাক (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হুদীগায়ক গোলাম ছিল। তাকে আনজাশা বলে ডাকা হতো। তার সুর ছিল মধুর। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে আনজাশা! তুমি নম্রভাবে হাঁকাও, যেন কাচপাত্রগুলো ভেঙ্গে না ফেল। কাতাদা (রহঃ) বলেনঃ তিনি কাঁচপাত্রগুলো শব্দ দ্বারা মহিলাদের বুঝিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৭৯ | 5779 | ۵۷۷۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৮. পরোক্ষ কথা বলে মিথ্যা এড়ানোর উপায়। ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি। আবু তালহার একটি শিশুপুত্র মারা যায়।

তিনি এসে (তার স্ত্রী কে) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ছেলেটি কেমন আছে? উম্মে সুলায়ম (রাঃ) বললেনঃ সে শান্ত। আমি আশা করছি, সে আরামেই আছে। তিনি ধারনা করলেন যে, অবশ্য তিনি সত্য বলেছেন।

৫৭৭৯। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার মদিনাতে (ভয়ংকর আওয়াজ হলে) আতঙ্ক দেখা দিল।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালহা (রাঃ) এর একটি ঘোড়ায় সাওয়ার হয়ে এগিয়ে গেলেন এবং (ফিরে এসে) বললেন আমি তো কিছুই দেখতে পেলাম না। আমি এ ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মত পেয়েছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৮০ | 5780 | ۵۷۸۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৯. কোন কিছু সম্পর্কে, তা অবাস্তব মনে করে বলা যে, এটা কোন কিছুই নয়
৫৭৮০। মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) বলেন, কয়েকজন লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গণকদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটা কিছুই নয়। তারা আবার আরয করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন ওটা কিছু নয়।

তারা আবার আরয করলো ইয়া রাসুলাল্লাহ! তারাতো কোন সময় এমন কথা বলে ফেলে, যা কাজে পরিনত হয়ে যায়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কথাটি জ্বীন থেকে প্রাপ্ত।

জ্বীনেরা তা (আসমানের ফিরিশতাদের থেকে) ছৌঁ মেরে নিয়ে এসে তাদের বন্ধু গণকদের কানে তুলে দেয়, যেভাবে তিনি তার বাচ্চাদের মুখে দানা তুলে দেয়। তারপর এ গণকরা এর সাথে আরও শতাধিক মিথ্যা কথা মিশিয়ে দেয়।

আরও পরুনঃ

রোগীদের বর্ণনা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৯ম খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ১ম পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ২য় পার্ট- সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৬ষ্ঠ খণ্ড

নৈতিক গুণাবলী অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৬ষ্ঠ খণ্ড

শর্তাবলী অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

মন্তব্য করুন