আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৫৬০১-৫৭০০

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯৩ | 5693 | ۵٦۹۳

পরিচ্ছদঃ ২৫১২. দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার উদ্দেশ্যে সত্য বলতে লজ্জাবোধ করতে নেই
৫৬৯৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো এবং তার সামনে নিজেকে পেশ করে বললঃ আপনার কি আমার প্রয়োজন আছে?

তখন আনাস (রাঃ) এর মেয়ে বললঃ এ মহিলার লজ্জা কত কম। আনাস (রাঃ) বললেনঃ সে তোমার চেয়ে ভাল। সে তো (নাবীর সহধর্মিণী হওয়ার সৌভাগ্য) লাভের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে নিজেকে (বিবাহের জন্য) পেশ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯৪ | 5694 | ۵٦۹٤

পরিচ্ছদঃ ২৫১৩. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ তোমরা নম্র হও, কঠোর ব্যবহার করো না। নাবী (সাঃ) মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার পছন্দ করতেন
৫৬৯৪। আদম (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নম্র ব্যবহার করো এবং কঠোর ব্যবহার করো না। আর মানুষকে শান্তি দাও এবং মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯৫ | 5695 | ۵٦۹۵

পরিচ্ছদঃ ২৫১৩. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ তোমরা নম্র হও, কঠোর ব্যবহার করো না। নাবী (সাঃ) মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার পছন্দ করতেন
৫৬৯৫। ইসহাক (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আর মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) কে ইয়ামানে পাঠান, তাদের অসিয়ত করেন।

তোমরা (লোকের সাথে) নম্র ব্যবহার করবে, কঠোর ব্যবহার করবে না। শুভ সংবাদ দেবে এবং তাদের মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে না। আর তোমরা দু’জনের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রাখবে।

তখন আবূ মূসা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা এমন এক দেশে যাচ্ছি, যেখানে মধু থেকে শরাব তৈরী হয়। একে ‘বিতউ’ বলা হল। আর ‘যব’ থেকেও শরাব তৈরী, করা হয় তাকে বলা হয় ‘মিযর’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রত্যেক নেশাসৃষ্টিকারী বস্তু হারাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯৬ | 5696 | ۵٦۹٦

পরিচ্ছদঃ ২৫১৩. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ তোমরা নম্র হও, কঠোর ব্যবহার করো না। নাবী (সাঃ) মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার পছন্দ করতেন
৫৬৯৬। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন কোন দু’টি কাজের মধ্যে এখতিয়ার দেয়া হয়। তখন তিনি দুটির মধ্যে অপেক্ষাকৃত সহজটি গ্রহণ করতেন যদি তা গুনাহর কাজ না হতো।

আর যদি তা গুনাহের কাজ হতো, তা হলে তিনি তা থেকে সবার চাইতে দূরে সরে থাকতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বিষয়ে নিজের ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ নিতেন না। অবশ্য কেউ আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার প্রতিশোধ নিতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯৭ | 5697 | ۵٦۹۷

পরিচ্ছদঃ ২৫১৩. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ তোমরা নম্র হও, কঠোর ব্যবহার করো না। নাবী (সাঃ) মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার পছন্দ করতেন
৫৬৯৭। আবূ নু’মান (রহঃ) … আযরাক ইবনু কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আহওয়ায নামক স্থানে একটা খালের কিনারায় অবস্থান করছিলাম। খালটির পানি শুকিয়ে গিয়েছিল।

এমন সময় আবূ বারযা আসলামী (রাঃ) একটি ঘোড়ায় সাওয়ার হয়ে সেখানে এলেন। তিনি ঘোড়াটিকে ছেড়ে দিয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। তখন ঘোড়াটা (দুরে) চলে গেল দেখে তিনি সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিয়ে ঘোড়ার অনুসরণ করলেন এবং ঘোড়াটি পেয়ে ধরে আনলেন।

তারপর সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ন করলেন। এ সময় আমাদের মধ্যে একজন বিরূপ সমালোচক ছিলেন। তিনি তা দেখে বললেনঃ এই বৃদ্ধের দিকে তাকাও, সে ঘোড়ার খাতিরে সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিল।

তখন আবূ বারযাহ (রাঃ) এগিয়ে এসে বললেনঃ যখন থেকে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হারিয়েছি, তখন থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এরূপ তিরস্কার করেন নি।

তিনি আরও বললেনঃ আমার বাড়ী বহুদূরে। সুতরাং যদি আমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম এবং ঘোড়াটিকে এভাবেই ছেড়ে দিতাম তাহলে আমি রাতে নিজ পরিবারের নিকট পৌছতে পারতাম না।

তিনি আরও উল্লেখ করলেন যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তার নম্র ব্যবহার প্রত্যক্ষ করেছেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯৮ | 5698 | ۵٦۹۸

পরিচ্ছদঃ ২৫১৩. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ তোমরা নম্র হও, কঠোর ব্যবহার করো না। নাবী (সাঃ) মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার পছন্দ করতেন
৫৬৯৮। আবুল ইয়ামান ও লায়স (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করে দিলো। তখন লোকজন তাকে শাসন করার জন্য উত্তেজিত হয়ে পড়ল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমরা তাকে ছেড়ে দাও এবং তার পেশাবের উপর এক বালতি পানি অথবা একপাত্র পানি ঢেলে দাও। কারণ, তোমাদের নম্র ব্যবহারকারী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে কঠোর ব্যবহারকারী হিসেবে পাঠানো হয় নি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯৯ | 5699 | ۵٦۹۹

পরিচ্ছদঃ ২৫১৪. মানুষের সাথে হাসিমুখে মেলামেশা করা। ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, মানুষের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করবে, যেন তাতে তোমার দ্বীনে আঘাত না লাগে। আর পরিবারের সঙ্গে হাসি তামাশা করা।

৫৬৯৯। আদম (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে মেলামেশা করতেন এমনকি একদিন তিনি আমার এক ছোট ভাইকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ওহে আবূ উমায়র। নুগায়র পাখিটি কেমন আছে?

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০০ | 5700 | ۵۷۰۰

পরিচ্ছদঃ ২৫১৪. মানুষের সাথে হাসিমুখে মেলামেশা করা। ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, মানুষের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করবে, যেন তাতে তোমার দ্বীনে আঘাত না লাগে। আর পরিবারের সঙ্গে হাসি তামাশা করা।

৫৭০০। মুহাম্মাদ (রহঃ) … আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলতো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলা করত।

বুখারি হাদিস নং ৫৭০১-৫৭৯৩

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০১ | 5701 | ۵۷۰۱

পরিচ্ছদঃ ২৫১৫. মানুষের সঙ্গে শিষ্টাচার করা। আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আমরা কোন কোন কাওমের সঙ্গে বাহ্যত হাসি-খুশি মেলামেশা করি। কিন্তু আমাদের অন্তরগুলো তাদের উপর লা’নাত বর্ষণ করে।

৫৭০১। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশ করে অনুমতি চাইলে তখন তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও। সে তার বংশের নিকৃষ্ট সন্তান। অথবা বললেনঃ সে তার গোত্রের ঘৃন্যতম ভাই।

যথন সে প্রবেশ করল তখন তিনি তার সাথে নম্রভাবে কথা বার্তা বললেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এর সম্পর্কে যা বলার তা বলেছেন। এখন আপনি তার সাথে নম্রভাবে কথা বললেন।

তিনি বললেনঃ হে আয়েশা! আল্লাহর কাছে মর্যাদায় নিকৃষ্ট সে ব্যাক্তি, যার অশালীন আচরন থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ তার সংশ্রব ত্যগ করে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০২ | 5702 | ۵۷۰۲

পরিচ্ছদঃ ২৫১৫. মানুষের সঙ্গে শিষ্টাচার করা। আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আমরা কোন কোন কাওমের সঙ্গে বাহ্যত হাসি-খুশি মেলামেশা করি। কিন্তু আমাদের অন্তরগুলো তাদের উপর লা’নাত বর্ষণ করে।

৫৭০২। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওহহাব (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে। তিনি একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কয়েকটি রেশমের তৈরী (সোনার বোতাম লাগান) ‘কাবা’ হাদিয়া দেওয়া হলো।

তিনি এগুলো সাহাবীদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন এবং তা থেকে একটি মাখরামা (রাঃ) এর জন্য আলাদা রেখে দিলেন। পরে যখন তিনি এলেন, তখন তিনি (সেটি তাকে দিয়ে) বললেনঃ আমি এটি তোমার জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম।

আইউব নিজের কাপড়ের দিকে ইশারা করলেন, তিনি যেন তার কাপড় মাখরামাকে দেখাচ্ছিলেন। মাখরামা (রাঃ) এর মেজাজের মধ্যে কিছু (অসন্তষের ভাব) ছিল।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০৩ | 5703 | ۵۷۰۳

পরিচ্ছদঃ ২৫১৬. মু’মিন এক গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না। মু’আবিয়া (রাঃ) বলেছেনঃ অভিজ্ঞতা ব্যতীত সহনশীলতা সম্ভব নয়
৫৭০৩। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রকৃত মুমিন একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০৪ | 5704 | ۵۷۰٤

পরিচ্ছদঃ ২৫১৭. মেহমানের হক
৫৭০৪। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ আমাকে কি এ খবর জানানো হয় নি যে, তুমি সারা রাত সালাতে কাটাও।

আর সারা দিন সিয়াম পালন কর। তিনি বললেনঃ তুমি (এরকম) করো না। রাতের কিছু অংশ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর, আর ঘুমাও।

কয়েকদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর, আর কয়েকদিন ইফতার কর (সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ভঙ্গ কর)। তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে।

তোমার উপর তোমার চোখের হক আছে, তোমার উপর তোমার মেহমানের হক আছে, আর তোমার উপর তোমার স্ত্রীরও হক আছে। নিশ্চয়ই তুমি তোমার আয়ু লম্বা হওয়ার আশা কর। সুতরাং প্রত্যেক মাসে তিন দিন সিয়াম পালনই তোমার পক্ষে যথেষ্ঠ।

কেননা, নিশ্চয়ই প্রতিটি নেক কাজের বদলে তার দশ গুন পরিমাণ সাওয়াব দেওয়া হয়। সুতরাং এভাবে সারা বছরেই সিয়ামের সাওয়াব পাওয়া যায়। তখন আমি কঠোর ব্যবস্থা চাইলে, আমাকে কঠোর ব্যবস্থা দেয়া হলো।

আমি বললাম এর চেয়েও বেশী পালনের সামর্থ আমার আছে। তিনি বললেনঃ তা হলে তুমি প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সিয়াম পালন কর। তখন আমি আরও কঠোর ব্যবস্থা চাইলে, আমাকে কঠোর ব্যবস্থা দেওয়া হল।

আমি বললাম আমি এর চেয়ে বেশী সিয়ামের সামর্থ রাখি। তিনি বললেনঃ তবে তুমি আল্লাহর নাবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর সিয়াম পালন কর। আমি বললাম ইয়া নাবী আল্লাহ! দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর সিয়াম কি রকম? তিনি বললেন? আধা বছর সিয়াম পালন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০৫ | 5705 | ۵۷۰۵

পরিচ্ছদঃ ২৫১৮. মেহমানের সম্মান করা ও নিজেই মেহমানের খিদমত করা। আল্লাহর বানীঃ তোমার নিকট ইবরাহীম এর সম্মানিত মেহমানদের ……
৫৭০৫। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ সুরায়হ কাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহতে ও শেষ দিনে ঈমান রাখে সে যেন মেহমানের সম্মান করে। মেহমানের সম্মান একদিন ও একরাত।

আর সাধারণ মেহমানদারী তিন দিন ও তিনরাত। এরপরে (তা হলে) ‘সাদাকা’। মেহমানকে কষ্ট দিয়ে, তার কাছে মেহমানের অবস্থান হালাল নয়।

(অন্য সূত্রে) মালিক (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করার পর অতিরিক্ত বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা সে যেন চুপ থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০৬ | 5706 | ۵۷۰٦

পরিচ্ছদঃ ২৫১৮. মেহমানের সম্মান করা ও নিজেই মেহমানের খিদমত করা। আল্লাহর বানীঃ তোমার নিকট ইবরাহীম এর সম্মানিত মেহমানদের ……
৫৭০৬। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও শেয দিনে ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।

আর যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে সে যেন মেহমানের সাম্মান করে। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা যেন চুপ থাকে।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০৭ | 5707 | ۵۷۰۷

পরিচ্ছদঃ ২৫১৮. মেহমানের সম্মান করা ও নিজেই মেহমানের খিদমত করা। আল্লাহর বানীঃ তোমার নিকট ইবরাহীম এর সম্মানিত মেহমানদের ……
৫৭০৭। কুতায়বা (রহঃ) … উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাদের কোথাও পাঠালে আমরা এমন কোন কাওমের কাছে উপস্থিত হই, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না।

এ ব্যাপারে আপনার মত কি? তখন তিনি আমাদের বললেনঃ যদি তোমরা কোন কাওমের নিকট গিয়ে পৌছ আর তারা তোমাদের মেহমানের উপযোগী যত্ন নেয়, তবে তোমরা তা সাদরে গ্রহণ করবে।

আর যদি তারা না করে, তা হলে, তাদের অবস্থানুযায়ী তাদের থেকে মেহমানের উপযোগী দাবী আদায় করে নেবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০৮ | 5708 | ۵۷۰۸

পরিচ্ছদঃ ২৫১৮. মেহমানের সম্মান করা ও নিজেই মেহমানের খিদমত করা। আল্লাহর বানীঃ তোমার নিকট ইবরাহীম এর সম্মানিত মেহমানদের ……
৫৭০৮। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে।

আর যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন তার রক্তের সম্পর্ক যুক্ত রাখে। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা নীরব থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭০৯ | 5709 | ۵۷۰۹

পরিচ্ছদঃ ২৫১৯. খাবার তৈরি করা ও মেহমানের জন্য কষ্ট স্বীকার করা
৫৭০৯। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ জুহায়ফা (রহঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান (রাঃ) ও আবূ দারদা (রাঃ) এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে দেন।

এরপর একদিন সালমান (রাঃ) আবূ দারদা (রাঃ) এর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, তখন তিনি উম্মে দারাদা (রাঃ) কে অতি সাধারন পোশাকে দেখতে পেলেন।

তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেনঃ তোমার ভাই আবূ দারদা (রাঃ) এর দুনিয়াতে কিছুর প্রয়োজন নেই। ইতিমধ্যে আবূ দারদা (রাঃ) এলেন।

তারপর তার জন্য খাবার প্রস্তুত করে তাঁকে বললেনঃ আপনি খেয়ে নিন। আমি তো সিয়াম পালন করছি। তিনি বললেনঃ আপনি যতক্ষণ না খাবেন ততক্ষণ আমিও খাব না।

তখন তিনিও খেলেন তারপর যখন রাত হল, তখন আবূ দারদা (রাঃ) সালাতে দাঁড়ালেন। তখন সালমান (রাঃ) তাকে বললেনঃ আপনি ঘুমিয়ে নিন। তিনি শুয়ে পড়লেন।

কিছুক্ষন পরে আবার উঠে দাঁড়ালে, তিনি বললেনঃ (আরও) ঘুমান। অবশেষে যখন রাত শেষ হয়ে এল, তখন সালমান (রাঃ) বললেনঃ এখন উঠুন এবং তারা উভয়েই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

তারপর সালমান (রাঃ) বললেনঃ তোমার উপর তোমার রবের দাবী আছে, (তেমনি) তোমার উপর তোমার দাবী আছে এবং তোমার স্ত্রীরও তোমার উপর দাবী আছে।

সুতরাং তুমি প্রত্যেক দাবীদারের দাবী আদায় করবে। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে, তার কাছে তার কথা উল্লেখ করলেন তিনি বললেনঃ সালমান সত্যই বলেছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১০ | 5710 | ۵۷۱۰

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. মেহমানের সামনে কারো উপর রাগ করা, আর অসহনশীল হওয়া অনুচিত
৫৭১০। আয়্যাশ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) কিছু লোককে মেহমান হিসাবে গ্রহন করলেন।

তিনি (তার পুত্র) আবদুর রহমান কে নির্দেশ দিলেন, তোমার এ মেহমানদের নিয়ে যাও। আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাচ্ছি।

আমি ফিরে আসার পূর্বে তুমি তাদের খাইয়ে দাইয়ে অবসর হয়ে যেয়ো। আবদুর রহমান (রাঃ) তাদের নিয়ে চলে গেলেন এবং তার ঘরে যা ছিল তা সামনে পেশ করে দিয়ে তাদের বললেনঃ আপনারা খেয়ে নিন।

তাঁরা বললেন আমাদের এ বাড়ীর মালিক কোথায়? তিনি বললেনঃ আপনারা খেয়ে নিন। তারা বললেন বাড়ীর মালিক না আসা পর্যন্ত আমরা খাবো না।

তিনি বললেনঃ আমাদের পাত্র থেকে আপনারা আপনাদের খাবার খেয়ে নিন। কারন আপনারা না খেলে তিনি এসে আমার উপর রাগ করবেন। কিন্তু তাঁরা অস্বীকার করলেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

আমি ভাবলাম যে তিনি অবশ্যই আমার উপর ক্ষুব্ধ হবেন। তারপর তিনি ফিরে আসলে আমি তার থেকে এক পাশে সরে পড়লাম। তিনি তাদের জিজাসা করলেন, আপনারা কী করেছেন।

তখন তারা তাঁকে সব বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে আবদুর রহমান! তখন আমি চুপ করে রইলাম। তিনি আবার ডাকলেন, হে আবদুর রহমান। এবারেও আমি চুপ করে রইলাম।

তিনি আবার ডেকে বললেনঃ ওহে মূর্খ! আমি তোকে কসম দিচ্ছি। যদি আমার ডাক শুনে থাকিস, তবে কেন আসছিস না? তখন আমি বেরিয়ে এসে বললামঃ আপনি আপনার মেহমানদের জিজ্ঞাসা করুন।

তখন তারা বললেন সে ঠিকই আমাদের খাবার এনে দিয়েছিল। তিনি বললেন তবুও কি আপনারা আমার অপেক্ষা করছেন? আল্লাহর কসম! আমি আজ রাতে তো খাবো না।

মেহমানরাও বললেনঃ আল্লাহর কসম আপনি যতক্ষন না খাবেন ততক্ষন আমরাও খাব না। তখন তিনি বললেনঃ আমি আজ রাতের মত খারাপ রাত আর দেখিনি। আপনাদের প্রতি আক্ষেপ।

আপনারা কি আমাদের খাবার গ্রহণ করবেন না? তখন তিনি (আবদুর রহমানকে ডেকে) বললেনঃ তোমার খাবার নিয়ে এসো। তিনি তা নিয়ে আসলে তিনিই খাবারের উপর নিজ হাত রেখে বললেন, বিসমিল্লাহ এ প্রথম ঘটনাটা শয়তানের কারনেই ঘটেছে। তারপর তিনি খেলেন এবাং তারাও খেলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১১ | 5711 | ۵۷۱۱

পরিচ্ছদঃ ২৫২১. মেহমানকে মেজবানের (এ কথা) বলা যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি না খান ততক্ষণ আমিও খাব না। এ সম্পর্কে নবী (সাঃ) থেকে আবু জুহায়ফার হাদীস রয়েছে
৫৭১১। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ একবার আবূ বকর (রাঃ) তার একজন কিংবা কয়েকজন মেহমান নিয়ে এলেন এবং সন্ধ্যার সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলেন।

তিনি ফিরে এলে আমার আম্মা তাকে বললেনঃ আপনি মেহমানকে, কিংবা বললেন, মেহমানদের (ঘরে) রেখে (এতো) রাত কোথায় আটকা পড়েছিলেন?

তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেঃ তুমি কি তাদের খাবার দাওনি? তিনি বললেনঃ আমি তাদের সামনে খাবার দিয়েছিলাম কিন্তু তারা, বা সে তা খেতে অস্বীকার করলেন।

তখন আবূ বকর (রাঃ) রেগে গাল মন্দ বললেন ও বদ দু’আ করলেন। আর শপথ করলেন যে, তিনি খাবার খাবেন না। আমি লুকিয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন ওরে মূর্খ! তখন মহিলা (আমার আম্মা) ও কসম করলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি না খাবেন ততক্ষন আম্মাও খাবেন না।

এদিকে মেহমানটি বা মেহমানরাও কসম খেয়ে বসলেন যে, যতক্ষন তিনি না খান, ততক্ষন পর্যন্ত তারাও খাবেন না। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে শয়তান থেকে।

তারপর তিনি খাবার আনতে বললেন। আর তিনি খেলেন এবং মেহমানরাও খেলেন। কিন্তু তারা খাওয়া আরম্ভ করে যতবারই লুকমা উঠাতে লাগলেন, তার নীচে থেকে তার চেয়েও বেশী খাবার বৃদ্ধি পেতে লাগলো। তখন তিনি তার স্ত্রীকে ডেকে বললেন হে বনী ফেরাসের বোন এ কি?

তিনি বললেন আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এতো আমাদের পূর্বের খাবার থেকে এখন অনেক বেশী দেখছি।

তখন সবাই খেলেন এবং তা থেকে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে কিছু পাঠিয়ে দিলেন। তারপর তিনি বর্ণনা করেন যে, তা থেকে তিনিও খেয়েছিলেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১২ | 5712 | ۵۷۱۲

পরিচ্ছদঃ ২৫২২. বড়কে সম্মান করা। বয়সে যিনি বড় তিনিই কথাবার্তা ও প্রশ্নাদি আরম্ভ করবেন
৫৭১২। সুলায়মাল ইবনুু হারব (রহঃ) … রাফে ইবনু খাদীজ (রাঃ) ও সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ও মুহাইয়ইসা ইবনু মাসউদ (রাঃ) খায়বারে পৌছে উভয়েই খেজুরের বাগানের ভিন্ন ভিন্ন পথে চলে গেলেন।

সেখানে আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাঃ) কে হত্যা করা হল। এ ঘটনার পর আবদুর রহমান ইবনু সাহল ও ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর দুই ছেলে হুওয়াইসা (রাঃ) ও মুহায়ইসা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং তাঁর কাছে নিহত ব্যাক্তির কথা বলতে লাগলেন।

আবদুর রহমান (রাঃ) কথা শুরু করলেন। তিনি ছোট ছিলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তুমি বড়দের সম্মান করবে।

বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসমের মাধ্যমে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর।

তারা বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! ঘটনা তো আমরা দেখিনি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহুদীরা তাদের থেকে পঞ্চাশ জনের কসমের মাধ্যমে তোমাদের কসম থেকে মুক্তি দিবে।

তখন তারা বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যাক্তির ফিদইয়া দিয়ে দিলেন।

সাহল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথী মারলো।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৩ | 5713 | ۵۷۱۳

পরিচ্ছদঃ ২৫২২. বড়কে সম্মান করা। বয়সে যিনি বড় তিনিই কথাবার্তা ও প্রশ্নাদি আরম্ভ করবেন
৫৭১৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে এমন একটা বৃক্ষের খবর দাও, মুসলমানের সাথে যার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তা সর্বদা তার প্রতিপালকের নির্দেশে খাদ্য দান করে, আর তার পাতাও ঝরে না। তাখন আমার মনে আসলো যে, এটি খেজুর গাছ।

কিন্তু যেহেতু সে স্থানে আবূ বকর ও উমর (রাঃ) উপস্থিত থেকেও কথা বলছিলেন না, তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করি নি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বললেনঃ সেটি হলো, খেজুর গাছ।

তারপর যখন আমি আমার আব্বার সঙ্গে বেরিয়ে এলাম, তখন আমি বললাম আব্বা! আমার মনেও খেয়াল এসেছিল যে, এটা নিশ্চয়ই খেজুর গাছ। তিনি বললেনঃ তোমাকে তা বলতে কিসে বাধা দিয়েছিল?

যদি তুমি তা বলতে তাহলে একথা আামার কাছে এত এত ধন-সম্পদ পাওয়ার চেয়েও বেশী প্রিয় হতো। তিনি বললেনঃ আমাকে শুধু একথাই বাধা দিয়েছিল যে, আমি দেখলাম আপনি ও আবূ বকর (রাঃ) কেউই কথা বলছেন না। তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করলাম না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৪ | 5714 | ۵۷۱٤

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে

৫৭১৪। আবুল ইয়ামান (রহঃ) … উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চই কোন কোন কবিতার মধ্যে জ্ঞানের কথাও রয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৫ | 5715 | ۵۷۱۵

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৫। আবূ নুয়াইম (রহঃ) … জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জিহাদে হেটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটা পাথরে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন এবং তার একটা আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে গেল।

তখন তিনি কবিতার ছন্দে বলেন তুমি একটি রক্তাক্ত আংগুল বৈ কিছুই নও, আর যে কষ্ট ভোগ করছ তা তো একমাত্র আল্লাহর পথেই।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৬ | 5716 | ۵۷۱٦

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৬।

মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কবিরা যে সব কথা বলেছেন তার মধ্যে কবি লবীদের কথাটাই সবচেয়ে বেশী সত্য কথা।

(তিনি বলেছেন) শোন! আল্লাহ ব্যতীত সব কিছুই বাতিল। তিনি আরও বলেছেনঃ কবি উমাইয়া ইবনু আবূ সালত ইসলাম গ্রহনের কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৭ | 5717 | ۵۷۱۷

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৭।

কুতায়বা (রহঃ) … সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে বের হলাম।

আমরা রাতের বেলায় চলছিলাম। দলের মধ্যে থেকে একজন আমির ইবনু আকওয়া (রাঃ) কে বলল যে, আপনি কি আপনার (ছোট) কবিতাগুলো থেকে কিছু পড়ে আমাদের শোনাবেন না? আমির (রাঃ) ছিলেন একজন কবি। সুতরাং তিনি দলের লোকদের হুদী গেয়ে শোনাতে লাগলেন।

হে আল্লাহ! তুমি না হলে, আমরা হেদায়েত পেতাম না। আমরা সাদাকা দিতাম না, সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম না। আমাদের আগেকার-গুনাহু ক্ষমা করুন; যা আমরা করেছি।

আমরা আপনার জন্য উৎসর্গিত। যদি আমরা শত্রুর সম্মুখীন হই, তখন আমাদের পদদ্বইয় সুদৃঢ় রাখুন। আমাদের উপর শান্তি বর্ষন করুন। শত্রুর ডাকের সময় আমরা যেন বীরের মত ধাবিত হই, যখন তারা হৈ-হুল্লোড় করে, আমাদের উপর আক্রমণ চালায়।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? সে যে এ রকম উট চালিয়ে যাচ্ছে। লোকেরা বললেনঃ তিনি আমির ইবনু আকওয়া।

তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। দলের একজন বললেন ইয়া নাবী আল্লাহ! তার জন্য তো শাহাদাত নির্দিষ্ট হয়ে গেলো। হায়! যদি আমাদের এ সুযোগ দান করতেন।

তারপর আমরা খায়বারে পৌছে শত্রুদের অবরোধ করে ফেললাম। এ সময় আমরা অতিশয় ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লাম। অবশেষে আল্লাহ (খায়বার যুদ্ধে) তাদের উপর আমাদের বিজয় দান করলেন। তারপর যেদিন খায়বার বিজিত হলো, সেদিন লোকেরা অনেক আগুন জ্বালাল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা এত সব আগুন কি জন্য জ্বালাচ্ছ? লোকেবা বললোঃ গোশত রান্নার জন্য। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কিসের গোশত?

তারা বললঃ গৃহপালিত গাধার গোশত। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব গোশত ফেলে দাও এবং হাড়িগুলো ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যাক্তি বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! বরং গোশতগুলো ফেলে আমরা হাড়িগুলো ধুয়ে নেই? তিনি বললেনঃ তবে তাই কর।

রাবী বলেন যখন লোকের যুদ্ধে সারিবদ্ধ হল, আমির (রাঃ) এর তলোয়ার খানা খাঁটো ছিল। তিনি এক ইয়াহুদীকে মারার উদ্দেশ্য এটি দিয়ে তার উপর আক্রমণ করলেন।

কিন্তু তার তলোয়ারের ধারাল অংশ আমির (রাঃ) এর হাটুতে এসে আঘাত করল। এতে তিনি মারা গেলেন। তারপর ফিরার সময় সবাই ফিরলেন।

সালামা (রাঃ) বলেনঃ আমার চেহারার রং পরিবর্তন দেখে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি হয়েছে?

আমি বললাম আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবানী হউন! লোকেরা বলছে যে, আমিরের আমল সব বরবাদ হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ এ কথাটা কে বলেছে?

আমি বললাম অমুক, অমুক অমুক এবং উসায়দ ইবনু হুয়াইর আনসারী (রাঃ)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা এ কথা বলেছে, তারা মিথ্যা বলেছে। তিনি বললেনঃ তার দুটি পুরস্কার রয়েছে, সে জাহিদ এবং মুজাহিদ। আরব ভূ-খণ্ডে তার মত লোক অল্পই জন্ম নিয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৮ | 5718 | ۵۷۱۸

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও উট চালানোর সঙ্গীতের মধ্যে যা জায়িয ও যা না-জায়িয। আল্লাহ তা’আলার বানীঃ এবং বিপথগামী লোকেরাই কবিদের অনুসরন করে থাকে …… তারা কোন পথে ফিরে বেড়াচ্ছে
৫৭১৮।

মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কতক সহধর্মিণীর কাছে আসলেন।

তখন তাদের সঙ্গে উম্মে সুলায়মও ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সর্বনাশ, হে আনজাশাহ! তুমি (উট) চালাও। কেননা, তুমি কাঁচপাত্র (মহিলা নিয়ে চলেছ।

রাবী আবূ কিলাবা বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘সাওকাকা বিল কাওয়ারীর’ বাক্য দ্বারা এমন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করলেন, যা অন্য কেউ বললে, তোমরা তাকে ঠাট্টা করতে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭১৯ | 5719 | ۵۷۱۹

পরিচ্ছদঃ ২৫২৩. কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিন্দা করা
৫৭১৯। মুহাম্মদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মুশরিকদের নিন্দা করার অনুমতি চাইলেন।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে এ নিন্দা থেকে আমার বংশ মর্যাদা কিভাবে বাঁচাবে? তখন হাসসান (রাঃ) বললেনঃ আমি তাদের থেকে আপনাকে এমনভাবে বের করে দেব, যেভাবে মাখানো আটা থেকে চুল বের করে আনা হয়।

রাবী উরওয়া বর্ননা করেন একদিন আমি আয়িশা (রাঃ) এর কাছে হাসসান (রাঃ) কে গালি দিতে শুরু করলাম তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাকে গালমন্দ করো না। কারণ, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরফ থেকে মুশরিকদের প্রতিরোধ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২০ | 5720 | ۵۷۲۰

পরিচ্ছদঃ ২৫২৩. কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিন্দা করা
৫৭২০। আসবাগ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) তার বর্ণনায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা উল্লেখ করে বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ভাই অর্থাৎ কবি ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) অশ্লীল কথা বলেনি।

তিনি বলতেনঃ আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনি কুরআন তিলাওয়াত করেন; যখন ভোরের মনোরম আলো ফুটে উঠে।

পথভ্রষ্ট হওয়ার পর তিনি আমাদের সুপথ দেখিয়েছেন। আর আমরা অন্তরের সাথে একীন করলাম যে, তিনি যা বলছেন তা ঘটবেই। তিনি নিজ পিঠ বিছানা থেকে সরিয়ে রেখেই রাত কাটান। যখন কাফিরদের শয্যা-সুখ ত্যাগ করা তাদের পক্ষে ভারী কষ্টকর হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২১ | 5721 | ۵۷۲۱

পরিচ্ছদঃ ২৫২৩. কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিন্দা করা
৫৭২১। আবুল ইয়ামান ও ইসরাঈল (রহঃ) … হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আবূ হুরায়রা! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি।

আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একথা বলতে শুনেছেন যে ওহে হাসসান! তুমি আল্লাহর রাসুলের তরফ থেকে পাল্টা জবাব দাও। হে আল্লাহ! তুমি জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এর মাধ্যমে তাকে সাহায্য কর। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২২ | 5722 | ۵۷۲۲

পরিচ্ছদঃ ২৫২৩. কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিন্দা করা
৫৭২২। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান (রাঃ) কে বললেনঃ তুমি কাফিরদের নিন্দা করো। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তোমার সহায়।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৩ | 5723 | ۵۷۲۳

পরিচ্ছদঃ ২৫২৪. যে কবিতা মানুষকে এতটা প্রভাবিত করে, যা তাকে আল্লাহর স্মরণ, জ্ঞান অর্জন ও কুরআন থেকে বাধা দেয়, তা নিষিদ্ধ
৫৭২৩। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো উদর কবিতা দিয়ে ভর্তি হওয়ার চেয়ে পূজ দিয়ে ভর্তি হওয়া অনেক ভাল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৪ | 5724 | ۵۷۲٤

পরিচ্ছদঃ ২৫২৪. যে কবিতা মানুষকে এতটা প্রভাবিত করে, যা তাকে আল্লাহর স্মরণ, জ্ঞান অর্জন ও কুরআন থেকে বাধা দেয়, তা নিষিদ্ধ
৫৭২৪। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির পেট কবিতা দিয়ে ভর্তি হওয়ার চাইতে এমন পূজে তর্তি হওয়া উত্তম যা তোমাদের পেটকে ধবংস করে ফেলে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৫ | 5725 | ۵۷۲۵

পরিচ্ছদঃ ২৫২৫. নাবী (ﷺ)এর উক্তিঃ তোমার ডান হাত ধূলি ধূসরিত হোক। তোমার হাত-পা ধ্বংস হোক এবং তোমার কন্ঠদেশ ঘায়েল হোক
৫৭২৫। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পর আবূ কুয়ায়সের ভাই আফলাহ আমার গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন।

আমি বললামঃ আল্লাহর কসম! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুমতি না নিয়ে, তাকে অনুমতি দেব না। কারন, আবূ কুয়ায়সের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন।

ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! এ ব্যাক্তি তো আমাকে দুধ পান করান নি।

বরং তার স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। তিনি বললেন অনুমতি দাও। কারণ এ লোকটি তোমার (দুধ) চাচা। তোমার ডান হাত ধূলায় ধূসরিত হোক। রাবী উরওয়া বলেন, এ কারণেই আয়িশা (রাঃ) বলতেন যে, বংশগত সম্পর্কে বিবাহে যারা হারাম হয় দুধ পান সম্পর্কেও তোমরা তাদের হারাম গন্য করবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৬ | 5726 | ۵۷۲٦

পরিচ্ছদঃ ২৫২৫. নাবী (ﷺ)এর উক্তিঃ তোমার ডান হাত ধূলি ধূসরিত হোক। তোমার হাত-পা ধ্বংস হোক এবং তোমার কন্ঠদেশ ঘায়েল হোক
৫৭২৬। আদম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসার ইচ্ছা করলেন।

তখন সাফিয়্যা (রাঃ) ঋতুস্রাব আরম্ভ হওয়ায় তার দরজার সামনে চিন্তিত ও বিষণ্ণ বদনে দাঁড়িয়ে আছেন দেখতে পেলেন। তখন তিনি কুরাইশদের বাগধারায় বলেনঃ ‘আকরা হালকী’।

তুমি তো দেখছি, আমাদের আটকিয়ে দিবে। এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কুরবানীর দিনে ফরয তাওয়াফ আদায় করেছিলে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ: তাহলে এখন তুমি চলো।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৭ | 5727 | ۵۷۲۷

পরিচ্ছদঃ ২৫২৬. ‘যা‘আমু’ (তারা ধারণা করেন) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৫৭২৭। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … উম্মে হানী বিনত আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন মক্কা বিজয়ের বছর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে গিয়ে তাকে গোসল করতে পেলাম।

তখন তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) তাঁকে পর্দা দিয়ে আড়াল করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন এ কে? আমি বললাম আমি আবূ তালিবের মেয়ে উম্মে হানী।

তিনি বললেনঃ উম্মে হানীর জন্য মারহাবা। তারপর তিনি যখন গোসল শেষ করলেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং এক কাপড় গায়ে জড়িয়ে আট রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি হুবায়রার পূত্র অমুককে নিরাপত্তা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার ভাই বলছে, সে তাকে হত্যা করবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মে হানী। তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ, আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। উলে হানী (রাঃ) বলেন এই সময়টি ছিল চাশতের সময়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৮ | 5728 | ۵۷۲۸

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭২৮। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে, তাকে বললেনঃ এতে সাওয়ার হয়ে যাও।

সে বললঃ এটি তো কুরবানীর উট। তিনি আবার বললেন সাওয়ার হয়ে যাও। সে বললঃ এটি তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন এতে সাওয়ার হয়ে যাও। সে বলল, এটি তো কুরবানীর উট। তিনি বললেনঃ ওয়াইলাকা (তোমার অকল্যাণ হোক) তুমি এটির উপর সাওয়ার হয়ে যাও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৯ | 5729 | ۵۷۲۹

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭২৯। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে একটা কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে বললেনঃ তুমি এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। সে বলল ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটি তো কুরবানীর উট। তখন তিনি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার বললেনঃ ওয়াইলাকা (তোমার অনিষ্ট হোক) তুমি এতে সাওয়ার হয়ে যাও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩০ | 5730 | ۵۷۳۰

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭৩০। মুসাদ্দাদ ও আইউব (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন।

তার সঙ্গে তখন আনজাশা নামক একজন কালো গোলাম ছিল। সে পুথি গাইতেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওহে আনজালা তোমার সর্বনাশ। তুমি উটটিকে কাচপাত্র সদৃশ সাওয়ারীদের নিয়ে ধীরে চালিয়ে যাও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩১ | 5731 | ۵۷۳۱

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭৩১। মূসা ইবনু ইসমাঈস (রহঃ) … আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে অনেক জনের প্রশংসা করলো।

তিনি বললেনঃ ‘ওয়াইলাকা’ (তোমার অমঙ্গল হোক) তুমি তো তোমার ভাই এর গর্দান কেটে দিয়েছ। তিনি এ কথাটি তিনবার বললেনঃ তিনি আরও বললেনঃ যদি তোমাদের কাউকে কারেই প্রশংসা করতেই হয়, আর সে তার অবস্থা সম্পর্কে অবহিত থাকে, তবে শুধু এতটুকু বলবে যে, আমি এ ব্যাক্তি সম্পর্কেই এরূপ ধারনা পোষণ করি।

প্রকৃত হিসাব নিকাশের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আর আমি নিশ্চিতভাবে আল্লাহর সামনে কারো পবিত্রতা বর্ণনা করছি না।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৪র্থ পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩২ | 5732 | ۵۷۳۲

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. কাউকে ‘ওয়ালাইকা’ বলা
৫৭৩২। আবদুর রহমান ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নিজ অধিকারভুক্ত কিছু মাল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাগ করে দিলেন।

এমন সমর তামীম গোত্রের যুল খোয়াইসীরা নামক এক ব্যাক্তি বলে উঠল ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইনসাফ করুন। তখন তিনি বললেনঃ ওয়ায়লাকা (তোমার অমঙ্গল হোক) আমি ইনসাফ না করলে আর কে ইনসাফ করবে? তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি এর গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ না।

কারন, তার এমন কতক সাথী রয়েছে; যাদের সালাত (নামায/নামাজ) এর সামনে নিজেদের সালাত (নামায/নামাজ)কে তুচ্ছ মনে করবে এবং তাদের সিয়ামের সামনে তোমাদের নিজেদের সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে।

তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে! যেমনিভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায় — গোবর ও রক্তকে এমনভাবে অতিক্রম করে যায় যে তীরের অগ্রভাগ লক্ষ্য করলে তাতে কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না, তার উপরিভাগে লক্ষ্য করলেও কোন চিহ্ন পাওয়া যায়না।

তার কাঠামোতে ও কোন চিহ্ন নেই। তার পাতির মধ্যে ও, কোন চিহ্ন নেই।

এমন সময় তাদের আবির্ভাব হবে যখন মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ দেখা দিবে। তাদের পরিচয় হল, তাদের নেতা এমন এক ব্যাক্তি হবে, যার একহাত স্ত্রীলোকের রক্তের মত অথবা শিড়ের মত তা কাপতে থাকবে।

রাবী আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, আমি নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একথা শুনেছি এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজে আলী (রাঃ) এর সাথে ছিলাম যখন তিনি এ দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন।

তখন সে লোকটিকে যুদ্ধের নিহত ব্যাক্তিদের মধ্য থেকে খুজে বের করে আনার পর তাকে ঠিক সেই অবস্থায়ই পাওয়া গেল, যে অবস্থার বর্ণনা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ

শাহাদাত অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

সহীহ বুখারী

মন্তব্য করুন