আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ৫৬০১-৫৭০০

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৪৭ | 5647 | ۵٦٤۷

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৪. সম্পর্ক ত্যাগ এবং এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর বাণীঃ কোন লোকের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিনদিনের বেশি কথাবার্তা পরিত্যাগ করা জায়িয নহে
৫৬৪৭। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ো না, হিংসা করো না এবং একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেো না। আর তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ও পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে থেকো।

কোন মুসলমানের জন্য জায়েয নয় যে, সে তার ভাই থেকে তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৪৮ | 5648 | ۵٦٤۸

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৪. সম্পর্ক ত্যাগ এবং এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর বাণীঃ কোন লোকের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিনদিনের বেশি কথাবার্তা পরিত্যাগ করা জায়িয নহে
৫৬৪৮। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির জন্য হালাল নয় যে সে তার ভাই এর সাথে তিন দিনের বেশী এমনভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে যে, দু’জনে সাক্ষাৎ হলেও একজন এদিকে আর অপর জন সে দিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের মধ্যে যে সর্ব প্রথম সালামের সূচনা করবে, সেই উত্তম ব্যাক্তি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৪৯ | 5649 | ۵٦٤۹

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৫. যে আল্লাহর নাফরমানী করে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েয। কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) যখন (তাবুক যুদ্ধের সময়) নাবী (সাঃ) এর পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তখনকার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, নাবী (সাঃ) মুসলিমদেরকে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলা নিষেধ করে দিয়েছিলেন। তিনি পঞ্চাশ দিনের কথাও উল্লেখ করেন।

৫৬৪৯। মুহাম্মদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন (একদিন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার রাগ ও খুশী উভয়ই বুঝতে পারি।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ আপনি তা কি ভাবে বুঝে নেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ যখন তুমি খুশী থাক, তখন তুমি বলোঃ হ্যাঁ, মুহাম্মদের রবের কসম!

আর যখন তুমি রাগান্বিত হও, তখন তুমি বলে থাকোঃ না, ইবরাহীমের রবের কসম! আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি বললাম হ্যাঁ। আমিতো শুধু আপনার নামটি বর্জন করি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫০ | 5650 | ۵٦۵۰

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৬. আপন লোকের সাথে প্রতিদিন সাক্ষাৎ করবে অথবা সকালে-বিকালে
৫৬৫০। ইবরাহীম ইবনু মূসা ও লায়স (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ আমার বুঝ হওয়ার পর থেকেই আমি আমার বাবা-মাকে ইসলামের অন্তর্ভুক্তই পেয়েছি। আমাদের উপর এমন কোন দিন অতিবাহিত হতো না, যে দিনের উভয় প্রান্তে সকালে ও বিকেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসতেন না।

একদা ঠিক দুপুর বেলায় আমরা আবূ বকর (রাঃ) এর কক্ষে বসা ছিলাম। একজন বলে উঠলেনঃ এই যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি এমন সময় এসেছেন, যে সময় তিনি আমাদের এখানে আসেন না।

আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ তাকে কোন গুরত্বপূর্ণ বিষয়ই এ মুহূর্তে নিয়ে এসেছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে মক্কা থেকে বের হয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫১ | 5651 | ۵٦۵۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৯. ভ্রাতৃত্বের ও প্রতিশ্রুতির বন্ধন স্থাপন। আবু জুহাই.ফা.হ্ (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) সালমান ও আবু দারদার মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করেন।

‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বলেনঃ আমরা মাদীনায় আসলে নাবী (সাঃ) আমার ও সা’দ ইবনু রাবী-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দেন
৫৬৫১। মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন এরপর তিনি তাদের সেখানে খাবার খেলেন।

এরপর যখন তিনি বেরিয়ে আসার ইচ্ছা করলেন, তখন ঘরের মধ্যে এক জায়গায় (সালাত (নামায/নামাজ) এর জন্য) বিছানা করতে নির্দেশ দিলেন।

তখন তার জন্য পানি ছিটিয়ে একখানা চাটাই বিছিয়ে দেয়া হলো। তারপর তিনি এর উপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের জন্য দু’আ করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫২ | 5652 | ۵٦۵۲

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৮. প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ উপলক্ষে সুন্দর পোশাক পরিধান করা
৫৬৫২। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … ইয়াহইয়া ইবনু আবূ ইসহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইস্তাবরাক কী? আমি বললামঃ তা মোটা ও সুন্দর রেশমী বস্ত্র।

তিনি বললেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমরকে বলতে শুনেছি যে, উমর (রাঃ) এক ব্যাক্তির গায়ে একজোড়া মোটা রেশমী বস্ত্র দেখলেন। তখন তিনি সেটা নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এটি কিনে নিন।

যখন আপনার নিকট কোন প্রতিনিধি দল আসবে, (তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য) তখন আপনি এটি পরবেন। তিনি বললেনঃ রেশমী বস্ত্র একমাত্র ঐ ব্যাক্তই পরবে, যার (আখিরাতে) কোন হিসসা নেই।

এরপর বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর (রাঃ) এর নিকট এরূপ একজোড়া কাপড় পাঠালেন। তখন তিনি সেটি নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে এসে বললেনঃ আপনি এটা আমার নিকট পাঠালেন, অথচ নিজেই এ জাতীয় বস্ত্র সম্পর্কে যা বলার তা বলেছিলেন।

তিনি বললেনঃ আমি তো এটা একমাত্র এ জন্য তোমার নিকট পাঠিয়েছি, যেন তুমি এর বিনিময়ে কোন মাল গ্রহন করতে পার। এ হাদীসের প্রেক্ষিতে ইবনু উমর (রাঃ) কারুকার্য খচিত কাপড় পড়তে অপছন্দ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫৩ | 5653 | ۵٦۵۳

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৯. ভ্রাতৃত্বের ও প্রতিশ্রুতির বন্ধন স্থাপন। আবু জুহাই.ফা.হ্ (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) সালমান ও আবু দারদার মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করেন। ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বলেনঃ আমরা মাদীনায় আসলে নাবী (সাঃ) আমার ও সা’দ ইবনু রাবী-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দেন

৫৬৫৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) আমাদের নিকট এলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সা’দ ইবনু রাবী এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দেন।

তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিয়ের পর তাকে বললেনঃ তুমি ওয়ালিমা করো অন্তত একটি বকরী দিয়ে হলেও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫৪ | 5654 | ۵٦۵٤

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৯. ভ্রাতৃত্বের ও প্রতিশ্রুতির বন্ধন স্থাপন। আবু জুহাই.ফা.হ্ (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) সালমান ও আবু দারদার মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করেন। ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বলেনঃ আমরা মাদীনায় আসলে নাবী (সাঃ) আমার ও সা’দ ইবনু রাবী-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দেন

৫৬৫৪। মুহাম্মদ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) … আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি আনাস ইবনু মাসিক (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম। আপনি জানেন কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলামে প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক নেই?

তিনি বললেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো আমার ঘরে বসে কুরায়শ আর আনসারদের মধ্যে পরস্পর প্রতিশ্রুতির বন্ধন স্থাপন করেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫৫ | 5655 | ۵٦۵۵

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক
৫৬৫৫।

হিব্বান ইবনু মূসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রিফাআ কুরাবী (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন এবং অকাট্য তালাক দেন। এরপর আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র তাকে বিয়ে করেন।

পরে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি রিফাআর কাছে ছিলেন এবং রিফাআ তাকে শেষ তিন তালাক দিয়ে দেন এবং তাঁকে আবুদর রহমান ইবনু যুবায়র বিয়ে করেন। আল্লাহর কসমা ইয়া রাসুলাল্লাহ! এর কাছে তো শুধু এ কাপড়ের মত রয়েছে।

(একথা বলে) তিনি তাঁর ওড়নার আচল ধরে উঠালেন। রাবী বলেনঃ তখন আবূ বকর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলেন এবং সাঈদ ইবনু আসও ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি লাভের অপেক্ষায় হুজরার দরজার কাছে বসা ছিলেন।

তখন সা’দ (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) কে উচ্চস্বরে ডেকে বললেনঃ হে আবূ বকর আপনি এই মহিলাকে কেন ধমক দিচ্ছেন না, যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে (প্রকাশ্যে) এসব কথাবার্তা বলছে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুচকি হাসছিলেন।

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সম্ভবত তুমি আবার রিফাআ (রাঃ) এর নিকট ফিরে যেতে চাও। তা হবে না। যতক্ষন না তুমি তার এবং সে তোমার মিলন স্বাদ গ্রহন করবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫৬ | 5656 | ۵٦۵٦

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক

৫৬৫৬। ইসমাঈল (রহঃ) সা’দ ইবনু আবূ ওক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। তখন তার নিকট কুরাইশের কয়েকজন মহিলা প্রশ্নাদি করছিলেন এবং তাঁদের আওয়াজ তার আওয়াজের উপর চড়া ছিল।

যখন উমর (রাঃ) অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁরা তাড়াতাড়ি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দেওয়ার পর যখন তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন।

উমর (রাঃ) বললেন আল্লাহ আপনাকে হাসি মুখে রাখুন; ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখনই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার নিকট যে সব মহিলা ছিলেন, তাদের প্রতি আমি আশ্চার্যান্বিত যে তারা তোমার আওয়াজ শোনা মাত্রই তাড়াতাড়ি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

উমর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! এদের ভয় করার জন্য আপনিই অধিক যোগ্য ছিলেন। এরপর তিনি মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন হে নিজের জানের দুশমনরা! তোমরা কি আমাকে ভয় কর, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভয় কর না?

তারা জবাব দিলেন আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক বেশী কঠিন ও কঠোর ব্যাক্তি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হে ইবনু খাত্তাব! শোনো! সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন; যখন শয়তান পথ চলতে তোমার সম্মুখীন হয়, তখনই শয়তান তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫৭ | 5657 | ۵٦۵۷

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক

৫৬৫৭। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফে (অবরোধ করে) ছিলেন, তখন একদিন তিনি বললেনঃ ইনশাআল্লাহ আগামী কাল আমরা ফিরে যাব।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী বললেনঃ আমরা তায়েফ জয় না করা পর্যন্ত স্থান ত্যাগ করব না। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তবে ভোর হলেই তোমরা যুদ্ধে নেমে পড়বে।

রাবী বলেনঃ তারা ভোর থেকেই তাদের সাথে ভীষণ লড়াই আরম্ভ করলেন। এতে তাদের মধ্যে বহুলোক জখম হয়ে পড়লেন।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইয়া আল্লাহ আমরা আগামীকাল ফিরে চলে যাবো এবং তারা সবাই নীরব রইলেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫৮ | 5658 | ۵٦۵۸

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক

৫৬৫৮। মূসা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, এক বাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। আমি রামাযানে (দিনে) আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ তুমি একটি গোলাম আযাদ করে দাও।

সে বলল আমার গোলাম নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে একধারে দু’মাস সিয়াম পালন কর। সে বললঃ এতেও আমি সক্ষম নই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে ষাটজন মিসকীনকে খাবার দাও।

সে বললঃ তারও আমার সামর্থ নেই। তখন এক ঝুড়ি খেজুর এল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রশ্নকারী ব্যাক্তিটি কোথায়? এইটি নিয়ে সাদাকা করে দাও।

লোকটি বললঃ আমার চেয়ে বেশী অভাবগ্রস্ত আর কে? আল্লাহর কসম! মদিনার উভয় প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থলে এমন কোন পরিবার নেই, যে আমাদের চেয়ে বেশী অভাবগ্রস্ত।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তার চোয়ালের দাঁতগুলো প্রকাশ পেল এবং তিনি বললেনঃ তাহলে এখন এটা তোমরাই খেয়ে নাও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৫৯ | 5659 | ۵٦۵۹

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক
৫৬৫৯।

আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হেঁটে চলছিলাম।

তখন তার গায়ে একখানা গাঢ় পাড়যুক্ত নাজরানী চাদর ছিল। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে চাদরখানা ধরে ভীষণ জোরে টান দিল। আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁধের উপর তাকিয়ে দেখলাম যে, জোরে চাদরখানা টানার কারনে তার কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে।

তারপর বেদুঈনটি বললোঃ হে মুহাম্মাদ! তোমার কাছে আল্লাহর দেওয়া সে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে দেওয়ার নির্দেশ দাও। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬০ | 5660 | ۵٦٦۰

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক
৫৬৬০।

ইবনু নুমায়র (রহঃ) … জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইসলাম গ্রহন করার পর থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার কাছে যেতে বাধা দেননি।

তিনি আমাকে দেখামাত্রই আমার সামনে মুচকি হাসি হাসতেন। একদিন আমি অভিযোগ করে বললামঃ আমি ঘোড়ার পিঠে চেপে বসে আকড়ে থাকতে পারি না।

তখন তিনি আমার বুকে হাত রেখে দু’আ করলেন। হে আল্লাহ! তাকে দৃঢ়মনা করে দিন এবং তাকে হেদায়েতকারী ও হেদায়েত প্রাপ্ত বানিয়ে দিন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬১ | 5661 | ۵٦٦۱

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক
৫৬৬১।

মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … যায়নাব বিনত উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার উম্মে সুলায়ম (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তো সত্য কথা বলতে লজ্জা করেন না।

মেয়েলোকের স্বপ্নদোষ হলে তাদেরও কি গোসল করতে হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যদি সে পানি (বীর্য) দেখতে পায়। তখন উম্মে সুলায়মা (রাঃ) হেসে দিলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন মেয়ে লোকেরও কি স্বপ্নদোষ হতে পারে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা না হলে, সন্তানের মধ্যে সাদৃশ্য হয় কেমন করে?

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬২ | 5662 | ۵٦٦۲

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক
৫৬৬২।

ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমনভাবে মুখভরে হাসতে দেখিনি যে, তার আলা জিহ্বা দেখা যেত। তিনি তো শুধু মুচকি হাসতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬৩ | 5663 | ۵٦٦۳

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, একবার নাবী (সাঃ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক
৫৬৬৩।

মুহাম্মাদ ইবনু মাহবুব ও খালীফা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জুমুআর দিন মদিনায় এল, যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন।

সে বললোঃ বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে আপনি বৃষ্টিপাতের জন্য আপনার রবের নিকট দুআ করুন। তখন আকাশের দিকে তাকালেন তখন আমরা আকাশে কোন মেঘ দেখছিলাম না।

তখন তিনি বৃষ্টিপাতের জন্য দু আ করলেন। এ সময় মেঘ এসে মিলিত হতে লাগলো। তারপর এমন বৃষ্টিপাত হল যে, মদিনার খাল-নালাগুলো প্রবাহিত হতে লাগল এবং ক্রমাগত পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকল, মাঝে আর বিরতি হয়নি।

পরবর্তী জুমুআয় যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন ঐ ব্যাক্তি অথবা অন্য এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আমরা তো ডুবে গেছি।

আপনি আপনার রবের কাছে দু’আ করুন, যেন তিনি আমাদের উপর থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন। তখন তিনি হেসে দিলেন এবং দু’বার অথবা তিন বার দুআ করলেন। ইয়া আল্লাহ! (বৃষ্টি) আশে পাশে নিয়ে যান, আমাদের উপর নয়।

তখন মেঘপুঞ্জ দূর হয়ে গিয়ে মদিনার আশে-পাশে বর্ষণ করতে লাগল। আমাদের উপর আর বর্ষিত হলো না। এতে আল্লাহ তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুজিযা ও তার দুআ কবুল হওয়ার নিদর্শন দেখান।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬৪ | 5664 | ۵٦٦٤

পরিচ্ছদঃ ২৫০১. আল্লাহ তা’আলার বানীঃ “হে ইমানদারগন তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো” মিথ্যা কথা বলা নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে
৫৬৬৪। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সত্য নেকীর দিকে পরিচালিত করে আর নেকী জান্নাতের দিকে পৌছায়।

আর মানুষ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে অবশেষে সিদ্দীক এর দরজা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়। পাপ তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহামিথ্যাবাদী রূপে সাব্যস্ত হয়ে যায়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬৫ | 5665 | ۵٦٦۵

পরিচ্ছদঃ ২৫০১. আল্লাহ তা’আলার বানীঃ “হে ইমানদারগন তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো” মিথ্যা কথা বলা নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে
৫৬৬৫। ইবনু সালাম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকের চিহ্ন তিনটিঃ যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে, আর যখন সে ওয়াদা করে, তখন তা ভঙ্গ করে আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন সে তাতে খিয়ানত করে।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬৬ | 5666 | ۵٦٦٦

পরিচ্ছদঃ ২৫০১. আল্লাহ তা’আলার বানীঃ “হে ইমানদারগন তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো” মিথ্যা কথা বলা নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে
৫৬৬৬। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আজ রাতে (স্বপ্নে)! দু’জন লোককে দেখলাম।

তারা বললোঃ আপনি যে লোকটির গাল চিরে ফেলতে দেখলেন, সে বড় মিথ্যাবাদী। সে এমন মিথ্যা বলত যে দুনিয়ার (লোক) আনাচে কানাচে তা ছড়িয়ে দিত। ফলে, কিয়ামত পর্যন্ত তার সাথে এরূপ ব্যবহার হতে থাকবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬৭ | 5667 | ۵٦٦۷

পরিচ্ছদঃ ২৫০২. উত্তম চরিত্র
৫৬৬৭। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, মানুষের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে চাল-চলনে, রীতি-নীতিতে ও স্বভাব-চরিত্রে, যার সবচেয়ে বেশী সামঞ্জস্য বিদ্যমান, তিনি হলেন ইবনু উম্মে আবদ।

যখন তিনি নিজ ঘর থেকে বের হন, তখন থেকে ঘরে ফিরে আসা পর্যন্ত এ সামঞ্জস্য দেখা যায়। তবে তিনি একাকী নিজ গৃহে কিরূপ ব্যবহার করেন, তা আমরা জানি না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬৮ | 5668 | ۵٦٦۸

পরিচ্ছদঃ ২৫০২. উত্তম চরিত্র
৫৬৬৮। আবুল ওয়ালীদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উত্তম বানী হলো আল্লাহর কিতাব। আর সবচে উত্তম চরিত্র হল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৬৯ | 5669 | ۵٦٦۹

পরিচ্ছদঃ ২৫০৩. ধৈর্যধারণ ও কষ্ট দেয়া। আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের অগণিত পুরস্কার দেওয়া হবে
৫৬৬৯। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কষ্টের কথা শোনার পর আল্লাহ তা’আলার চেয়ে অধিক ধৈর্যধারনকারী কেউ বা কোন কিছুই নেই। লোকেরা তার জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে; এরপরও তিনি তাদের বিপদ মুক্ত রাখেন এবং রিযিক দান করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭০ | 5670 | ۵٦۷۰

পরিচ্ছদঃ ২৫০৩. ধৈর্যধারণ ও কষ্ট দেয়া। আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের অগণিত পুরস্কার দেওয়া হবে
৫৬৭০। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল বণ্টন করলেন। তখন এক আনসারী ব্যাক্তি বললঃ আল্লাহর কসম এ বণ্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি। তখন আমি বললামঃ জেনে রেখো, আমি নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ কথা বলব।

সুতরাং আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তখন তিনি তার সাহাবীগণের মধ্যে ছিলেন। এজন্য তার কাছে কথাটা চুপেচুপে বললাম।

একথাটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বড়ই কষ্টদায়ক হল, তার চেহারার রং বদলে গেল এবং তিনি এত রাগাম্বিত হলেন যে, আমি ভাবলাম, হায়! যদি আমি তার কাছে এ খবর না দিতাম, তবে কত ভাল হত।

এরপর বললেনঃ মূসা (আলাইহিস সালাম) কে নিশ্চই এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। তাতেও তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭১ | 5671 | ۵٦۷۱

পরিচ্ছদঃ ২৫০৪. কারো মুখোমুখী তিরস্কার না করা
৫৬৭১। উমর ইবনু হাফয (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কোন কাজ করলেন এবং অন্যদের তা করার অনুমতি দিলেন।

তথাপি একদল লোক তা থেকে বিরত রইল। এ খবর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি ভাষণ দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসার পর বললেন কিছু লোকের কি হয়েছে।

তারা এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে চায়, যা আমি নিজে করছি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর সম্পর্কে তাদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত এবং আমি তাকে তাদের চাইতে অনেক বেশী ভয় করি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭২ | 5672 | ۵٦۷۲

পরিচ্ছদঃ ২৫০৪. কারো মুখোমুখী তিরস্কার না করা
৫৬৭২। আবদান (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পর্দার ভেতরে কুমারীদের চেয়েও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশী লাজুক ছিলেন। যখন তিনি তার কাছে অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন, তখন আমরা তার চেহারাতেই এর আভাস পেয়ে যেতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭৩ | 5673 | ۵٦۷۳

পরিচ্ছদঃ ২৫০৫. কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে বিনা কারণে কাফির বললে তা তার নিজের উপরই বার্তাবে
৫৬৭৩। মুহাম্মাদ ও আহমাদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যাক্তি তার মুসলমান ভাইকে ‘হে কাফির’ বলে ডাকে, তখন তা তাদের দু’জনের কোন একজনের উপর বর্তায়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭৪ | 5674 | ۵٦۷٤

পরিচ্ছদঃ ২৫০৫. কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে বিনা কারণে কাফির বললে তা তার নিজের উপরই বার্তাবে
৫৬৭৪। ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউ তার ভাইকে কাফির বলবে, তাদের দু’জনের একজনের উপর তা বর্তাবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭৫ | 5675 | ۵٦۷۵

পরিচ্ছদঃ ২৫০৫. কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে বিনা কারণে কাফির বললে তা তার নিজের উপরই বার্তাবে
৫৬৭৫। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … সাবিত ইবনু যাহহাক (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউ ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের মিথ্যা কসম খায়, সে যা বলে তাই হবে।

আর যে বস্তু দিয়ে কেউ আত্নহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে তাকে সে বস্তু দিয়েই আযাব দেওয়া হবে। ঈমানদারকে লানত করা, তাকে হত্যা করার সমান। আর যে কেউ কোন ঈমানদারকে কুফরীর অপবাদ দিবে, তাও তাকে হত্যা করার সমান হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭৬ | 5676 | ۵٦۷٦

পরিচ্ছদঃ ২৫০৬. কেউ যদি কাউকে না জেনে কিংবা নিজ ধারণ অনুযায়ী (কাফির বা মুনাফিক) সম্বোধন করে, তাকে কাফির বলা যাবে না। উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাতিব ইবনু বাল্তা’আ (রাঃ) কে বলেছিলেন, ইনি মুনাফিক।

তখন নাবী (সাঃ) বললেনঃ তা তুমি কী করে জানলে? অথচ আল্লাহ বদর যুদ্ধে যোগদানকারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ আমি তোমাদের গুনাহ মাফ করে দিলাম।
৫৬৭৬। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত যে মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

পুনরায় তিনি নিজ কাওমের নিকট এসে তাদের তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। একবার তিনি তাদের নিয়ে সালাতে সুরা বাকারা পড়লেন। তখন এক ব্যাক্তি; সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষেপ করতে চাইল। সুতরাং সে (আলাদা হয়ে) সংক্ষেপে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

এ খবর মু’আয (রাঃ) এর কাছ পৌছলে তিনি বললেনঃ সে মুনাফিক! লোকটির কাছে এ খবর পৌছলে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা এমন এক কাওমের লোক, যারা নিজের হাতে কাজ করি, আর নিজের উট দিয়ে সেঁচের কাজ করি।

মুআয (রাঃ) গত রাত্রে সূরা বাকারা দিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে আরম্ভ করলেন, তখন আমি সংক্ষেপে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নিলাম। এতে মু’আয (রাঃ) বললেন যে, আমি মুনাফিক।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে মু’আয। তুমি কি (লোকদের) দ্বীনের প্রতি বিতৃঞ্চ করতে চাও? একথাটি তিনি তিন বার বললেন। পরে তিনি তাকে বললেনঃ তুমি ওয়াশ শামসি ওয়াদ দু-হা আর সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা এবং এর অনুরূপ ছোট সূরা পড়বে।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭৭ | 5677 | ۵٦۷۷

পরিচ্ছদঃ ২৫০৬. কেউ যদি কাউকে না জেনে কিংবা নিজ ধারণ অনুযায়ী (কাফির বা মুনাফিক) সম্বোধন করে, তাকে কাফির বলা যাবে না। উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাতিব ইবনু বাল্তা’আ (রাঃ) কে বলেছিলেন, ইনি মুনাফিক।

তখন নাবী (সাঃ) বললেনঃ তা তুমি কী করে জানলে? অথচ আল্লাহ বদর যুদ্ধে যোগদানকারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ আমি তোমাদের গুনাহ মাফ করে দিলাম।
৫৬৭৭। ইসহাক (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি কসম খায় এবং লাত ও উযযার কসম করে, তবে সে যেন (সাথে সাথেই) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে। আর যদি কেউ তার সাথীকে বলে, এসো আমরা জুয়া খেলি; তবে সে যেন (কোন কিছু) সাদাকা করে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭৮ | 5678 | ۵٦۷۸

পরিচ্ছদঃ ২৫০৬. কেউ যদি কাউকে না জেনে কিংবা নিজ ধারণ অনুযায়ী (কাফির বা মুনাফিক) সম্বোধন করে, তাকে কাফির বলা যাবে না।

উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাতিব ইবনু বাল্তা’আ (রাঃ) কে বলেছিলেন, ইনি মুনাফিক। তখন নাবী (সাঃ) বললেনঃ তা তুমি কী করে জানলে? অথচ আল্লাহ বদর যুদ্ধে যোগদানকারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ আমি তোমাদের গুনাহ মাফ করে দিলাম।

৫৬৭৮। কুতায়বা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে একদিন আরোহীর মাঝে এমন সময় পেলেন, যখন তিনি তার পিতার নামে কসম খাচ্ছিলেন।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে তাদের বললেনঃ জেনে রাখ! আল্লাহ তোমাদের নিজের পিতার নামে কসম খেতে নিষেধ করেছেন। যদি কাউকে কসম খেতেই হয়, তবে সে যেন আল্লাহর নামেই কসম খায়, অন্যথায় সে যেন চুপ থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৭৯ | 5679 | ۵٦۷۹

পরিচ্ছদঃ ২৫০৭. আল্লাহর বিধি-নিষেধের ব্যাপারে রাগ করা ও কঠোরতা অবলম্বন করা জায়িয। আল্লাহ বলেছেনঃ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর, তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কর।

৫৬৭৯। ইয়াসারাহ ইবনু সাফওয়ান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন।

তখন ঘরে একখানি পর্দা ঝুলানো ছিল। যাতে ছবি ছিল। তা দেখে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারার রং বদলিয়ে গেল। এরপর তিনি পর্দাখানা হাতে নিয়ে ছিড়ে ফেললেন।

আয়িশা (রাঃ) বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে বললেন কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে ঐসব লোকদের যারা এ সকল ছবি আঁকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮০ | 5680 | ۵٦۸۰

পরিচ্ছদঃ ২৫০৭. আল্লাহর বিধি-নিষেধের ব্যাপারে রাগ করা ও কঠোরতা অবলম্বন করা জায়িয। আল্লাহ বলেছেনঃ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর, তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কর।

৫৬৮০। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন অমুক ব্যাক্তি সালাত (নামায/নামাজ) দীর্ঘ করার কারণে আমি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) থেকে পিছনে থাকি।

বর্ণনাকারী বলেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কোন ওয়াযের মধ্যে সেদিন থেকে বেশী রাগান্বিত হতে আর দেখি নি। রাবী বলেন, এরপর তিনি বললেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী আছে।

সুতরাং তোমাদের যে কেউ লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারণ তাদের মধ্যে রোগী, বৃদ্ধ এবং কর্মব্যাস্ত লোক থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮১ | 5681 | ۵٦۸۱

পরিচ্ছদঃ ২৫০৭. আল্লাহর বিধি-নিষেধের ব্যাপারে রাগ করা ও কঠোরতা অবলম্বন করা জায়িয। আল্লাহ বলেছেনঃ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর, তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কর।

৫৬৮১। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

তখন তিনি মসজিদের কিবলার দিকে নাকের শ্লেষ্মা দেখতে পান। এরপর তিনি তা নিজ হাতে খুটিয়ে পরিস্কার করলেন এবং রাগান্বিত হয়ে বললেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষন সালাতে থাকে, ততক্ষন আল্লাহ তার চেহারার সামনে থাকেন।

সুতরাং সালাত (নামায/নামাজ) এর অবস্থায় কখনো সামনের দিকে নাকের শ্লেষ্মা ফেলবেনা।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮২ | 5682 | ۵٦۸۲

পরিচ্ছদঃ ২৫০৭. আল্লাহর বিধি-নিষেধের ব্যাপারে রাগ করা ও কঠোরতা অবলম্বন করা জায়িয। আল্লাহ বলেছেনঃ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর, তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কর।

৫৬৮২। মুহাম্মদ (রহঃ) … যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পথে পড়ে থাকা জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন তুমি তা এক বছর পর্যন্ত প্রচার করতে থাকো, তারপর তার বাঁধন চিনে রাখ। তারপর তা তুমি ব্যয় কর।

এরপর যদি এর মালিক এসে যায়, তবে তুমি তাকে ফিরিয়ে দাও। লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করলঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! হরিয়ে যাওয়া ছাগলের কি হুকুম? তিনি বললেন সেটা তুমি নিয়ে যাও। কারণ এটা হয়ত তোমার জন্য অথবা তোমার কোন ভাইয়ের অথবা চিতাবাঘের।

লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করল। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আর হারানো উটের কি হুকুম? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেগে গেলেন। এমন কি তার গন্ডদ্বয় রক্তিমাভ হয়ে গেল।

তিনি বললেনঃ তাতে তোমার কি? তাঁর সাথেই তার চলমান পা ও পানি রয়েছে এবং এ পর্যন্ত সেটি তার মালিকের নাগাল পেয়ে যাবে।আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮৩ | 5683 | ۵٦۸۳

পরিচ্ছদঃ ২৫০৭. আল্লাহর বিধি-নিষেধের ব্যাপারে রাগ করা ও কঠোরতা অবলম্বন করা জায়িয। আল্লাহ বলেছেনঃ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর, তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন কর।

৫৬৮৩। মাক্কী ও মুহম্মদ ইবনু যিয়াদ (রহঃ) … যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের পাতা দিয়ে, অথবা চাটাই দিয়ে একটি ছোট হুজরা তৈরী করলেন এবং ঘর থেকে বেবিয়ে এসে ঐ হুজরায় (রাতে নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে লাগলেন।

তখন একদল লোক তাঁর খোঁজে এসে তার সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে লাগল। পরবর্তী রাতও লোকজন সেখানে এসে হাযির হল।

কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেরী করলেন এবং তাদের দিকে বেরিয়ে আসলেন না। তারা উচ্চস্বরে আওয়াজ দিতে লাগলেন এবং ঘরের দরজায় কংকর নিক্ষেপ করতে লাগলেন।

তখন তিনি রাগাম্বিত হয়ে তাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেন তোমরা যা করছ তাতে আমি আশংকা করছি যে সম্ভবত এটি না তোমাদের উপর ফরয করে দেয়া হয়।

সুতরাং তোমাদের উচিত তোমরা ঘরেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। কারন ফরয ব্যতীত অন্য সালাত (নামায/নামাজ) নিজ নিজ ঘরে পড়াই উত্তম।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮৪ | 5684 | ۵٦۸٤

পরিচ্ছদঃ ২৫০৯. ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকা। মহান আল্লাহর বানীঃ যারা গুরতর পাপ ও অশালীন কাজ থেকে বেঁচে থাকে এবং যখন ক্রধান্নিত হয় তখন তারা (তাদের) মাফ করে দেয়। (এবং আল্লাহর বানীঃ) যারা সচ্চল ও অসচ্চল অবস্থায় ব্য্য করে, আর যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, আল্লাহ সতকর্ম পরায়ণদের ভালবাসেন।

৫৬৮৪। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন প্রকৃত বীর সে নয়, সে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই প্রকৃত বাহাদুর, সে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮৫ | 5685 | ۵٦۸۵

পরিচ্ছদঃ ২৫০৯. ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকা। মহান আল্লাহর বানীঃ যারা গুরতর পাপ ও অশালীন কাজ থেকে বেঁচে থাকে এবং যখন ক্রধান্নিত হয় তখন তারা (তাদের) মাফ করে দেয়। (এবং আল্লাহর বানীঃ) যারা সচ্চল ও অসচ্চল অবস্থায় ব্য্য করে, আর যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, আল্লাহ সতকর্ম পরায়ণদের ভালবাসেন।

৫৬৮৫। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … সুলায়মান ইবনু সুরদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দু’ব্যাক্তি পাগলামী করছিল।

আমরাও তার কাছেই বসাছিলাম, তাদের একজন অপর জনকে এত রাগান্বিত হয়ে গালী দিচ্ছিল যে তার চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি একটি কালেমা জানি, যদি এ লোকটি তা পড়তো, তা হলে তার ক্রোধ চলে যেত।

অর্থাৎ যদি লোকটি “আউযুবিল্লাহি মিনাশশাইতানির রাজীম” পড়তো। তখন লোকেরা সে ব্যাক্তিকে বলল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেছেন, তা কি তুমি শুনছো না? সে বললোঃ আমি নিশ্চয়ই পাগল নই।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮৬ | 5686 | ۵٦۸٦

পরিচ্ছদঃ ২৫০৯. ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকা। মহান আল্লাহর বানীঃ যারা গুরতর পাপ ও অশালীন কাজ থেকে বেঁচে থাকে এবং যখন ক্রধান্নিত হয় তখন তারা (তাদের) মাফ করে দেয়। (এবং আল্লাহর বানীঃ) যারা সচ্চল ও অসচ্চল অবস্থায় ব্য্য করে, আর যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, আল্লাহ সতকর্ম পরায়ণদের ভালবাসেন।

৫৬৮৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললোঃ আপনি আমাকে অসিয়ত করুন।

তিনি বললেনঃ তুমি রাগ করো না। লোকটা কয়েকবার তা বললেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক বারই বললেনঃ রাগ করো না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮৭ | 5687 | ۵٦۸۷

পরিচ্ছদঃ ২৫১০. লজ্জাশীলতা
৫৬৮৭। আদম (রহঃ) … ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জাশীলতা কল্যাণ ব্যতীত কোন কিছুই বয়ে আনে না।

তখন বুশায়র ইবনু কাব (রাঃ) বললেন হিকমতের পুস্তকে লিখা আছে যে, কোন কোন লজ্জাশীলতা ধৈর্যশীলতা বয়ে আনে। আর কোনকোন লজ্জাশীলতা এনে দেয় শান্তি ও সুখ।

তখন ইমরান (রাঃ) বললেন, আমি তোমার কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছি। আর তুমি (এর মোকাবিলায়) আমাকে তোমার পুস্তিকা থেকে বর্ণনা করছ।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮৮ | 5688 | ۵٦۸۸

পরিচ্ছদঃ ২৫১০. লজ্জাশীলতা
৫৬৮৮। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ সময় লোকটি (তার ভাইকে) লজ্জা সম্পর্কে তিরস্কার করছিল এবং বলছিল যে, তুমি বেশী লজ্জা করছ, এমনকি সে যেন এ কথাও বলছিল যে, এ তোমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দাও। কারণ নিশ্চই লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮৯ | 5689 | ۵٦۸۹

পরিচ্ছদঃ ২৫১০. লজ্জাশীলতা
৫৬৮৯। আলী ইবনু জায়দ (রহঃ) … আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ গৃহে অবস্থানরত কুমারী মেয়েদের চেয়েও বেশী লাজুক ছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯০ | 5690 | ۵٦۹۰

পরিচ্ছদঃ ২৫১১. যখন তুমি লজ্জা ত্যাগ করবে, তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে
৫৬৯০। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুর্বেকার নাবীদের কর্তব্য থেকে মানুষ যা বর্জন করেছে তার একটি হল, যদি তুমি লজ্জাই ছেড়ে দাও তবে তুমি যা চাও তা কর।

আচার ব্যবহার অধ্যায় ৩য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯১ | 5691 | ۵٦۹۱

পরিচ্ছদঃ ২৫১২. দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার উদ্দেশ্যে সত্য বলতে লজ্জাবোধ করতে নেই
৫৬৯১। ইসমাঈল (রহঃ) … উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ একদিন উম্মে সুলায়ম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তো সত্য কথা বলার ব্যাপারে লজ্জা করতে নির্দেশ দেন না।

সুতরাং মেয়ে লোকের স্বপ্নদোষ হলে কি তার উপরও গোসল করা ফরয? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যদি সে পানি, বীর্য দেখতে পায়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৬৯২ | 5692 | ۵٦۹۲

পরিচ্ছদঃ ২৫১২. দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার উদ্দেশ্যে সত্য বলতে লজ্জাবোধ করতে নেই
৫৬৯২। আাদম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিনের দৃষ্টান্ত হল এমন একটি সবুজ গাছ, যার পাতা ঝরে পড়ে না এবং একটির সঙ্গে আর একটির ঘর্ষণ লাগে না। তখন কেউ কেউ বললঃ এটি অমুক গাছ, আবার কেউ বললঃ এটি অমুক গাছ। তখন আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, এটি খেজুর গাছ।

তবে, যেহেতু আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম, তাই বলতে সংকোচবোধ করলাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিলেন যে, সেটি খেজুর গাছ।

আর শুবা (রহঃ) থেকে ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, তারপর আমি উমর (রাঃ) এর নিকট এ সম্বন্ধে বললাম। তখন তিনি বললেনঃ যদি তুমি সে সময় একথা বলে দিতে তবে তা আমার নিকট এত এত (ধন সম্পদ থেকেও) বেশী খুশীর বিষয় হতো।

আরও পড়ুনঃ

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

জুলুম ও কিসাস অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কলহ বিবাদ অধ্যায় । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন