অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

অসীয়াত অধ্যায়

 অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

Table of Contents

অসীয়াত অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৫১ – অসীয়াত প্রসঙ্গে এবং নবী (সা.) এর বাণী : মানুষের অসীয়াত তার নিকট লিখিত আকারে থাকা উচিত।

হাদীস নং ২৫৫১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন মুসলিম ব্যক্তির উচিত নয় যে, তার অসীয়াতযোগ্য কিছু রয়েছে, সে দু’রাত কাটাবে অথচ তার কাছে তার অসীয়াত লিখিত থাকবে না।

মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম রহ. এ হাদীস বর্ণনায় মালিক রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। এ সনদে আমর রহ. ইবনে উমর রা.-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৫২

হাদীস নং ২৫৫২

ইবরাহীম ইবনে হারিস রহ………. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্যালক অর্থাৎ উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া বিনতে হারিসের ভাই ইবনুল হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইনতিকাল সময় তাঁর সাদা খচ্চরটা, তাঁর হাতিয়ার এবং সে জমি যা তিনি সাদকা করেছিলেন, তাছাড়া কোন স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা, কোন দাস-দাসী কিংবা কোন জিনিস রেখে যাননি।

বুখারি হাদিস নং ২৫৫৩

হাদীস নং ২৫৫৩

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ……..তালহা ইবনে মুসাররিফ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আদী আওফা রা.-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি অসীয়াত করেছিলেন ?

তিনি বলেন, না। আমি বললাম, তাহলে কিভাবে লোকদের উপর অসীয়াত ফরয করা হল, কিংবা অসীয়াতের নির্দেশ দেয়া হল? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবের (অনুযায়ী আমল করার) অসীয়াত করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৫৪

হাদীস নং ২৫৫৪

আমর ইবনে যুরারা রহ……..আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবীগণ আয়িশা রা.-এর কাছে আলোচনা করলেন যে, আলী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াসী ছিলেন।

আয়িশা রা. বলেন, তিনি কখন তাঁর প্রতি অসীয়াত করলেন ? অথচ আমি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার বুকে অথবা বলেছেন আমার কোলে হেলান দিয়ে রেখেছিলাম।

তখন তিনি পানির তস্তুরি চাইলেন, তারপর আমার কোলে ঝুঁকে পড়লেন। আমি বুঝতেই পারিনি যে, তিনি ইন্তিকাল করেছেন। অতএব তাঁর প্রতি কখন অসীয়াত করলেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৫৫ – ওয়ারিসদের অপরের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে মালদার রেখে যাওয়া শ্রেয়।

হাদীস নং ২৫৫৫

আবু নুআইম রহ………সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেখতে আসেন। সে সময় আমি মক্কায় ছিলাম।

কোন ব্যক্তি যে স্থান থেকে হিজরত করে, সেখানে মৃত্যুবরণ করাকে তিনি অপছন্দ করতেন। এজন্য তিনি বলতেন, আল্লাহর রহম করুক ইবনে আফরা-র উপর। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি কি আমার সমুদয় মালের ব্যবহারের অসীয়াত করে যাব? তিনি বললেন, না । আমি আরয করলাম, তবে অর্ধেক ?

তিনি ইরশাদ করলেন, না। আমি আরয করলাম, তবে এক তৃতীয়াংশ ? তিনি ইরশাদ করলেন, (হ্যাঁ) এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও অনেক। ওয়ারিসগণকে দরিদ্র পরমুখাপেক্ষী করে রেখে যাওয়ার চেয়ে ধনী অবস্থায় রেখে যাওয়া শ্রেয়। তুমি যখনই কোন খরচ করবে, তা সাদকারূপে গণ্য হবে।

এমনকি সে লোকমাও যা তোমার স্ত্র্রীর মুখে তুলে দিবে। হয়ত আল্লাহ পাক তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং লোকেরা তোমার দ্বারা উপকৃত হবেন, আবার কিছু লোক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সে সময় তার একটি মাত্র কন্যা ছাড়া কেউ ছিল না।

 অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৫৬ – এক তৃতীয়াংশ অসীয়াত করা।

হাদীস নং ২৫৫৬

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা যদি এক চতুর্থাংশে নেমে আসত (তবে ভাল হত) কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, এক তৃতীয়াংশ এবং তৃতীয়াংশই বিরাট অথবা তিনি বলেছেন বেশ।

বুখারি হাদিস নং ২৫৫৭

হাদীস নং ২৫৫৭

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম রহ……….আমির ইবনে সাদ রা.-এর পিতা সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (একবার) অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে পেছন দিকে ফিরিয়ে না নেন। তিনি বললেন, আশা করি আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার দ্বারা লোকদের উপকৃত করবেন।

আমি বললাম, আমি অসীয়াত করতে চাই। আমার তো একটি মাত্র কন্যা রয়েছে। আমি আরো বললাম, আমি অর্ধেক অসীয়াত করতে চাই। তিনি বললেন, অর্ধেক অনেক বেশী।

আমি বললাম, এক তৃতীয়াংশ। তিনি বললেন, আচ্ছা এক তৃতীয়াংশ এবং এক তৃতীয়াংশ বেশ বা তিনি বলেছেন বিরাট। সাদ রা. বলেন, এরপর লোকেরা এক তৃতীয়াংশ অসীয়াত করতে লাগল। আর তা-ই বৈধ হল।

বুখারি হাদিস নং ২৫৫৮ – অসীর প্রতি অসীয়াতকারীর উক্তি : তুমি আমার সন্তানদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, আর অসীর জন্য কিরূপ দাবী জায়িয।

হাদীস নং ২৫৫৮

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……… রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. তাঁর ভাই সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-কে এই বলে অসীয়াত করেন যে, যামআর দাসীর ছেলেটি আমার ঔরসজাত। তাকে তুমি তোমার অধিকারে আনবে।

মক্কা বিজয়ের বছর সাদ রা. তাকে নিয়ে নেন এবং বলেন, সে আমার ভাতিজা আমাকে এর ব্যাপারে অসীয়াত করে গেছেন। আবদ ইবনে যামআ রা. দাঁড়িয়ে বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। আমার পিতার বিছানায় তার জন্ম হয়েছে। তারা উভয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসেন।

সাদ রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে আমার ভাইয়ের পুত্র এবং তিনি আমাকে তা সম্পর্কে অসীয়াত করে গেছেন। আবদ ইবনে যামআ রা. বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবদ ইবনে যামআ সে তোমারই প্রাপ্য। কেননা যার বিছানায় সন্তান জন্মেছে, সেই সন্তানের অধিকারী। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর।

তারপর তিনি সাওদা বিনতে যামআ রা.-কে বললেন, তুমি এই ছেলেটি থেকে পর্দা কর। কেননা তিনি ছেলেটির সঙ্গে উতবা-র সাদৃশ্য দেখতে পান। ছেলেটির আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত সে কখনো সাওদা রা.-কে দেখেনি।

বুখারি হাদিস নং ২৫৫৯ – কোন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি মাথা দিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত করলে তা গ্রহণযোগ্য।

হাদীস নং ২৫৫৯

হাসসান ইবনে আবু আব্বাদ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, এক ইয়াহুদী একটি মেয়ের মাথা দুইটি পাথরের মাঝে মাঝে রেখে তা তেথলে ফেলে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কে তোমাকে এমন করেছে ? কি অমুক, না অমুক ব্যক্তি ?

অবশেষে যখন সেই ইয়াহুদীর নাম নেওয়া হল তখন মেয়েটি মাথা দিয়ে ইশারা করল, হ্যাঁ। তারপর সেই ইয়াহুদীকে নিয়ে আসা হল এবং তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে সে স্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন। সে মতে পাথর দিয়ে তার মাথা তেথরিয়ে দেয়া হল।

বুখারি হাদিস নং ২৫৬০ – ওয়ারিসের জন্য কোন অসীয়াত নেই।

হাদীস নং ২৫৬০

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পদ পেত সন্তান আর পিতা-মাতার জন্য ছিল অসীয়াত ।

এরপর আল্লাহ তা’আলা তাঁর পছন্দ মোতাবেক এ বিধান রহিত করে ছেলের অংশ মেয়ের দ্বিগুণ, পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য এক ষষ্ঠমাংশ, স্ত্রীর জন্য (যদি সন্তান থাকে) এক অষ্টমাংশ, (না থাকলে) এক চতুর্থাংশ, স্বামীর জন্য (সন্তান না থাকলে) অর্ধেক, (থাকলে) এক চতুর্থাংশ নির্ধারণ করেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৬১ – মৃত্যুর সময় দান খায়রাত করা।

হাদীস নং ২৫৬১

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! উত্তম সাদকা কোনটি ?

তিনি বলেন, সুস্থ এবং সম্পদের প্রতি অনুরাগ থাকা অবস্থায় দান খায়রাত করা, যখন তোমরা ধনী হওয়ার আকাঙ্খা থাকে এবং তুমি দারিদ্র্যের আশংকা রাখ, আর তুমি এভাবে অপেক্ষায় থাকবে না যে, যখন তোমার প্রাণ কণ্ঠাগত হয়ে আসে, তখন তুমি বলবে, অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু অথচ তা অমুকের জন্য হয়েই গেছে।

অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৬২ – মহান আল্লাহর বাণী: ঋণ আদায় ও অসীয়াত পূর্ণ করার পর (মৃতের সম্পত্তি ভাগ হবে)।(৪: ১২)।

হাদীস নং ২৫৬২

সুলাইমান ইবনে দাউদ আবু রাবী রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি : যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে তা খেয়ানত করে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে।

বুখারি হাদিস নং ২৫৬৩ – আল্লাহ তা’আলার বাণী: ঋণ আদায় ও অসীয়াত পূর্ণ করার পর (মৃতের সম্পত্তি ভাগ হবে)।(৪: ১২) এর ব্যাখ্যা।

হাদীস নং ২৫৬৩

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ………হাকীম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমি সওয়াল করলাম, তিনি আমাকে দান করলেন।

আবার সওয়াল করলাম, তিনি আমাকে দান করলেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন, হে হাকীম ! এই ধন সম্পদ সবুজ-শ্যামল, মধুর। যে ব্যক্তি দানশীলতার মনোভাব নিয়ে তা গ্রহণ করবে, তাঁতে তার বরকত হবে। আর যে ব্যক্তি প্রতীক্ষা কাতর অন্তরে তা গ্রহণ করবে, তাঁতে তার বরকত হবে না। সে ঐ ব্যক্তির মত যে খায়, কিন্তু তৃপ্ত হয় না।

উপরের (দাতার) হাত নীচের (গ্রহীতার) হাতের চাইতে উত্তম। হাকীম রা. বলেন, তারপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আপনার পরে আমি দুনিয়া থেকে বিদায়ের আগে আর কারো কিছু চাইব না।

(কোন কিছু নেব না) এরপর আবু বকর রা. কিছু দান করার জন্য হাকীমকে আহবান করেন, কিন্তু হাকীম রা. তাঁর কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তারপর উমর রা.-ও কিছু দান করার জন্য ডেকে পাঠান, কিন্তু তাঁর কাছে থেকেও কিছু গ্রহণ করতে তিনি অস্বীকার করেন।

তখন উমর রা. বলেন, হে মুসলিম সমাজ ! আমি আল্লাহ প্রদত্ত গনীমতের মাল থেকে প্রাপ্য তাঁর অংশ তাঁর সামনে পেশ করেছি, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছেন, হাকীম রা. তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে আর কারো নিকট কিছু চাননি।

 

বুখারি হাদিস নং ২৫৬৪

হাদীস নং ২৫৬৪

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্ববান এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

তাই শাসক হলেন দায়িত্ববান, তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্ববান এবং তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্ববান, তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। গোলাম তার মালিকের ধন-সম্পদের দায়িত্ববান, তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেন যে, পুত্র তার পিতার সম্পদের দায়িত্ববান।

বুখারি হাদিস নং ২৫৬৫ – যখন আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওয়াকফ বা অসীয়াত করা হয় এবং আত্মীয় কারা ?

হাদীস নং ২৫৬৫

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহা রা.-কে বলেন, মত হল, তোমার বাগানটি তোমার আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে দাও।

আবু তালহা রা. বলেন, আমি তাই করব ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তাই আবু তালহা রা. তার বাগানটি তার আত্মীয়-স্বজন ও চাচাত ভাইয়ের মধ্যে ভাগ করে দেন।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যখন এই আয়াতটি নাযিল হল : (হে মুহাম্মদ) আপনার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দেন (২৬ : ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোত্রদের ডেকে বললেন, হে বানু ফিহর, হে বানু আদী, তোমরা সতর্ক হও।

আবু হুরায়রা রা. বলেনে যে, যখন কুরআনের এই আয়াত নাযিল হল: (হে মুহাম্মদ) আপনার নিকট আত্মীয় বর্গকে সতর্ক করে দেন (২৬ : ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়।

 অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

 

বুখারি হাদিস নং ২৫৬৬ – স্ত্রীলোক ও সন্তান-সন্ততি (অসীয়াতরে ক্ষেত্রে) আত্মীয়-স্বজনের অন্তর্ভূক্ত হবে কি ?

হাদীস নং ২৫৬৬

আবুল ইয়ামান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আল্লাহ তা’আলা কুরআনের এই আয়াতটি নাযিল করলেন, (হে মুহাম্মদ) আপনার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দেন (২৬ : ২১৪)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়।

কিংবা অনুরূপ শব্দ বললেন, তোমরা (আল্লাহর আযাব থেকে) আত্মরক্ষা কর। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে বানু আবদ মানাফ ! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব !

আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে সাফিয়্যা ! রাসূলুল্লাহর ফুফু, আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না।

হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। আসবাগ রহ. ইবনে ওয়াহব রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় আবুল ইয়ামান রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৬৭ – ওয়াকফকারী তার কৃত ওয়াকফ দ্বারা উপকার হাসিল করতে পারে কি?

হাদীস নং ২৫৬৭

কুতাইবা রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন দেখতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বললেন, এর উপর সওয়ার হও।

সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এটি তো কুরবানীর উট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বার বা চতুর্থবার তাকে বললেন, তার উপর সওয়ার হয়ে যাও, দুর্ভোগ তোমার জন্য কিংবা বললেন, তোমার প্রতি আফসোস।

বুখারি হাদিস নং ২৫৬৮

হাদীস নং ২৫৬৮

ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যে, সে একটি কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বললেন, এর উপর সওয়ার হও। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এটি তো কুরবানীর উট। তিনি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার তাকে বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও, দুর্ভোগ তোমার জন্য।

অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৬৯ – যদি কেউ বলে যে, আমার এই জমিটি কিংবা বাগানটি আমার মায়ের তরফ থেকে আল্লাহর ওয়াস্তে সাদকা তবে তা জায়িয, যদিও তা কার জন্য জন্য ব্যক্ত না করে।

হাদীস নং ২৫৬৯

মুহাম্মদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, সাদ ইবনে উবাদা রা.-এর মা মারা গেলেন এবং তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে (সাদ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার মা আমার অনুপস্থিতে মারা যান।

আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে কিছু সাদকা করি, তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সাদ রা. বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করছি আমার মিখরাফ নামক বাগানটি তাঁর জন্য সাদকা করলাম।

 

বুখারি হাদিস নং ২৫৭০ – কেউ যদি তার আংশিক সম্পদ কিংবা কতিপয় গোলাম অথবা কিছু জন্তু-জানোয়ার সাদকা বা ওয়াকফ করে তবে তা জায়িয।

হাদীস নং ২৫৭০

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………কাব ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি আমার তাওবা (কবুলের শুকরিয়া) হিসাবে আমি আমার যাবতীয় মাল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে সাদকা করে মুক্ত হতে চাই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিছু মাল নিজের জন্য রেখে দাও, তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, তাহলে আমি আমার খায়বারের অংশটি নিজের জন্য রেখে দিলাম।

বুখারি হাদিস নং ২৫৭১ – আল্লাহর তা’আলার বাণী: মীরাসের মাল ভাগাভাগির সময় যদি কোন আত্মীয়, ইয়াতীম ও মিসকীন উপস্থিত থাকে তবে তা থেকে তাদেরও কিছু দান করবে। (৪: ৮)

হাদীস নং ২৫৭১

আবু নুমান মুহাম্মদ ইবনে ফাযল রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের ধারণা, উক্ত আয়াতটি মানসুখ হয়ে গেছে; কিন্তু আল্লাহর কসম ! আয়াতটি মানসুখ হয়নি; বরং লোকেরা এর উপর আমল করতে অনীহা প্রকাশ করছে।

আত্মীয় দু’ধরনের- এক. আত্মীয় যারা ওয়ারিস হয়, এবং তারা উপস্থিত কিছু দিবে। দুই. এমন আত্মীয় যারা ওয়ারিস নয়, তারা উপস্থিতদের সঙ্গে সদালাপ করবে এবং বলবে, আমাদের অধিকার কিছু নেই, যা তোমাদের দিতে পারি।

বুখারি হাদিস নং ২৫৭২ – হঠাৎ মারা গেলে তার পক্ষ থেকে সাদকা করা মুস্তাহাব আর মৃত ব্যক্তির তরফ থেকে তার মান্নত আদায় করা।

হাদীস নং ২৫৭২

ইসমাঈল রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, একজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমার মা হঠাৎ মারা যান।

আমার ধারণা যে, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন, তাহলে সাদকা করতেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে সাদকা করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তুমি তার পক্ষ থেকে সাদকা কর।

বুখারি হাদিস নং ২৫৭৩

হাদীস নং ২৫৭৩

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, সাদ ইবনে উবাদা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলেন যে, আমার মা মারা গেছেন এবং তার উপর মান্নত ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তা পক্ষ থেকে তা আদায় কর।

বুখারি হাদিস নং ২৫৭৪ – ওয়াকফ, সাদকা ও অসীয়াতে সাক্ষী রাখা।

হাদীস নং ২৫৭৪

ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, বানু সাঈদার নেতা সাদ ইবনে উবাদা রা.-এর মা মারা গেলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার মা আমার অনুপস্থিতে মারা যান।

আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে কিছু সাদকা করি, তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সাদ রা. বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে আমি আমার মিখরাফ নামক বাগানটি তাঁর জন্য সাদকা করলাম।

অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

 

 

বুখারি হাদিস নং ২৫৭৫ – আল্লাহ তা’আলার বাণী : ইয়াতীমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ দিয়ে দিবে এবং ভালোর সংগে মন্দ বদল করবে না………….যাকে তোমাদের ভালো লাগে (৪: ২-৩)।

হাদীস নং ২৫৭৫

আবুল ইয়ামান রহ……….উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করেন: “তোমরা যদি আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে, যাকে তোমাদের ভাল লাগে”(৪:৩)। আয়াতটির অর্থ কি? আয়িশা রা. বললেন, এখানে সেই ইয়াতীম মেয়েদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যে তার অভিভাবকের লালন-পালনে থাকে।

এরপর সে অভিভাবক তার রূপ-লাবণ্য ও ধন-সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে, তার সমমানে মেয়েদের প্রচলিত মহর থেকে কম দিয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়। অতএব যদি মহর পূর্ণ করার ব্যাপারে এদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারে তবে ঐ অভিভাবকদেরকে নিষেধ করা হয়েছে এদের বিবাহ করতে এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের ছাড়া অন্য মেয়েদের বিবাহ করতে।

আয়িশা রা. বলেন, এরপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত করেন : “এবং লোকে আপনার কাছে মহিলাদের বিষয়ে জানতে চায়।

বলুন, আল্লাহ তোমাদের তাদের সম্বন্ধে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন। (৪:১২৭)। আশিয়া রা. বলেন, আল্লাহ তা’আলা এই আয়াতে বর্ণনা করেন যে, ইয়াতীম মেয়েরা সুন্দরী ও সম্পদশালী হলে অভিভাবকরা তাদের বিয়ে করতে আগ্রহী হয়, কিন্তু পূর্ণ মহর প্রদান করে না।

আবার ইয়াতীম মেয়েরা গরীব হলে এবং সুশ্রী না হলে তাদের বিয়ে করতে চায় না বরং অন্য মেয়ে তালাশ করে।

আয়িশা রা. বলেন যে, আকর্ষণীয় না হলে তারা যেমন ইয়াতীম মেয়েদের পরিত্যাগ করে, তেমনি আকর্ষণীয় মেয়েদেরও তারা বিয়ে করতে পারবে না, যদি তাদের ইনসাফ মাফিক পূর্ণ মহর প্রদান এবং তাদের হক যথাযথভাবে আদায় না করে।

বুখারি হাদিস নং ২৫৭৬ – আল্লাহ তা’আলার বাণী: তোমরা ইয়াতীমদের যাচাই করবে, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য হয় এবং তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখলে তাদের সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দেবে……………

হাদীস নং ২৫৭৬

হারূন রহ………..ইবনে উম রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে উমর রা. নিজের কিছু সম্পত্তি সাদকা করেছিলেন, তা ছিল ছামাগ নামে একটি খেজুর বাগান। উমর রা. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি একটি সম্পদ পেয়েছি, যা আমার নিকট খুবই পছন্দনীয়। আমি সেটি সাদকা করতে চাই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মূল সম্পদটি এ শর্তে সাদকা কর যে, তা বিক্রি করা যাবে না। এবং কেউ ওয়ারিস হবে না, বরং তার ফল দান করা হবে।

তারপর উমর রা. সেটি এভাবেই সাদকা করলেন। তার এ সাদকা ব্যয় হবে আল্লাহর রাস্তায়, দাস মুক্তির ব্যাপারে, মিসকীন, মেহমান, মুসাফির ও আত্মীয়দের জন্য।

এর যে মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ আহার করলে কিংবা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ালে কোন দোষ নেই। তবে তা সঞ্চয় করতে পারবে না।

অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৭৭

হাদীস নং ২৫৭৭

উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আল্লাহ তাআলার বাণী) যে বিত্তবান সে যেন বিরত থাকে আর যে বিত্তহীন সে যেন সংগত পরিমাণ ভোগ করে (৪:৬) আয়াতটি ইয়াতীমের অভিভাবক সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে।

অভিভাবক যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ইয়াতীমের সম্পত্তি থেকে প্রয়োজন পরিমাণ খেতে পারবে।

 

বুখারি হাদিস নং ২৫৭৮ – আল্লাহ তা’আলার বাণী: যারা ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তাদের উপর উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে, তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।

হাদীস নং ২৫৭৮

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি?

তিনি বললেন, ১. আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা ২. যাদু ৩. আল্লাহ তা’আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা ৪. সুদ খাওয়া ৫. ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা ৬. রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ৭. সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।

বুখারি হাদিস নং ২৫৭৯ – আবাসে কিংবা প্রবাসে ইয়াতীমদের থেকে খেদমত গ্রহণ করা, তা তাদের জন্য কল্যাণকর হয় এবং মা ও মায়ের স্বামী কর্তৃক ইয়াতীমের প্রতি স্নেহ দৃষ্টি রাখা।

হাদীস নং ২৫৭৯

ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় এলেন, তখন তাঁর কোন খাদিম ছিল না।

আবু তালহা রা. আমার হাত ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমাকে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আনাস একজন বুদ্ধিমান ছেলে। সে আপনার খেদমত করবে।

এরপর প্রবাসে ও আবাসে আমি তাঁর খেদমত করেছি। আমার কৃত কোন কাজ সম্পর্কে তিনি কখনো বলেননি, তুমি এরূপ কেন করলে? কোন কাজ না করলে তিনি বলেননি, তুমি এটি এরূপ কেন করলে না?

বুখারি হাদিস নং ২৫৮০ – যখন কোন জমি ওয়াকফ করে এবং সীমা নির্ধারণ না করে তা বৈধ। অনুরূপ সাদকাও।

হাদীস নং ২৫৮০

আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, মদীনায় আনসারদের মধ্যে আবু তালহার খেজুর বাগান-সম্পদ সবচাইতে বেশী ছিল। আর সকল সম্পদের মধ্যে তাঁর কাছে সবচাইতে প্রিয় সম্পদ ছিল মসজিদের সামনে অবস্থিত বায়রুহা বাগানটি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বাগানে যেতেন এবং এর সুস্বাদু পানি পান করতেন। আনাস রা. বলেন, যখন নাযিল হল: “তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা নেকী হাসিল করতে পারবে না।

আবু তালহা রা. দাঁড়িয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহ বলেছেন: তোমরা যা ভালবাস, তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো নেকী হাসিল করতে পারবে না। আমার কাছে সবচাইতে প্রিয় সম্পদ হল বায়রুহা । সেটি আল্লাহর নামে সাদকা। আমি আল্লাহর কাছে এর সওয়াব ও কিয়ামতের সঞ্চয়ের আশা করি।

আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী আপনি তা ব্যয় করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বেশ ! এটি লাভজনক সম্পদ অথবা (বলেন) অস্থায়ী সম্পদ।

ইবনে মাসলামা সন্দেহ পোষণ করেন। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) তুমি যা বলেছ, আমি তা শুনেছি। আমার মতে তুমি তা তোমার আত্মীয়দের মধ্যে বন্টন করে দাও।

আবু তালহা রা. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তা-ই করব। তারপর তিনি তা তার আত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। ইসমাঈল,আবদুল্লাহ, ইবনে ইউসুফ, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া রা. মালিক রহ-এর (সন্দেহ ছাড়াই (অস্থায়ী) বর্ণনা করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৮১

হাদীস নং ২৫৮১

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহীম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন এবং তার মা মারা গেছেন।

তার পক্ষ থেকে যদি আমি সাদকা করি তাহলে তা কি তার উপকারে আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সাহাবী বললেন, আমার একটি বাগান আছে, আপনাকে সাক্ষী রেখে আমি তার পক্ষ থেকে সাদকা করলাম।

 

বুখারি হাদিস নং ২৫৮২ – এক দল লোক তাদের কোন শরীকী জমি ওয়াকফ করে তাহলে তা জায়িয।

হাদীস নং ২৫৮২

মুসাদ্দাদ রহ………….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ তৈরীর নির্দেশ দিলেন। তারপর বললেন, হে বানু নাজ্জার তোমরা এই বাগানটির মূল্য নির্ধারণ করে আমার কাছে বিক্রি কর। তারা বলল, এরূপ নয়। আল্লাহর কসম ! আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছেই এর মূল্যের আশা রাখি।

অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৮৩ – ওয়াকফ কিভাবে লেখা হবে?

হাদীস নং ২৫৮৩

মুসাদ্দাদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. খায়বারে কিছু জমি লাভ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি এমন ভাল একটি জমি পেয়েছি, যা ইতিপূর্বে পাইনি। আপনি এ সম্পর্কে আমাকে কি নির্দেশ দেন?

তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে আসল জমিটি ওয়াকফ করে তার উৎপন্ন সাদকা করতে পার।

উমর রা. এটি গরীব, আত্মীয়-স্বজন, গোলাম আযাদ, আল্লাহর পথে, মেহমান ও মুসাফিরদের জন্য এ শর্তে সাদকা করলেন যে, আসল জমি বিক্রি করা যাবে না, কাউকে দান করা যাবে না, কেউ এর উত্তরাধিকারী হবে না।

তবে যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য তা থেকে সংগত পরিমাণ খেতে বা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়াতে কোন দোষ নেই। তবে এ থেকে সঞ্চয় করবে না।

বুখারি হাদিস নং ২৫৮৪ – অভাবগ্রস্ত ধনী ও মেহমানদের জন্য ওয়াকফ করা।

হাদীস নং ২৫৮৪

আবু আসিম রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর রা. খায়বারে কিছু সম্পদ লাভ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাকে অবহিত করেন।

তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছা করলে সেটি সাদকা করতে পার। তারপর তিনি সেটি অভাবগ্রস্ত, মিসকীন, আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের মধ্যে সাদকা করে দেন।

বুখারি হাদিস নং ২৫৮৫ – মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করা।

হাদীস নং ২৫৮৫

ইসহাক রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় এলেন তখন মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি বললেন, হে বানু নাজ্জার! মূল্য নির্ধারিত করে তোমাদের এ বাগানটি আমার কাছে বিক্রি করে দাও। তারা বলল, এরূপ নয়, আল্লাহর কসম ! একমাত্র আল্লাহর কাছেই আমরা এর মূ্ল্যের আশা রাখি।

বুখারি হাদিস নং ২৫৮৬ – জন্তু জানোয়ার, ঘোড়া, আসবাবপত্র ও সোনারূপা ওয়াকফ করা।

হাদীস নং ২৫৮৬

মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, উমর রা. এক ব্যক্তিকে তার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দেন, যেটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আরোহণ করার জন্য দিয়েছিলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে তা আরোহণ করার জন্য দিলেন।

উমর রা.-কে জানান হল যে, ঘোড়াটি সে ব্যক্তি বিক্রির জন্য রেখে দিয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা ক্রয় করার ব্যপারে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, তুমি তা ক্রয় করবে না এবং যা সাদকা করে দিয়েছ তা ফিরিয়ে নিবে না।

বুখারি হাদিস নং ২৫৮৭ – ওয়াকফের তত্ত্বাবধায়কের খরচ।

হাদীস নং ২৫৮৭

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উত্তরাধিকারী কোন স্বর্ণমুদ্রা এবং রৌপ্যমুদ্রা ভাগাভাগি করবে না, বরং আমি যা কিছু রেখে গেলাম তা থেকে আমার সহধর্মিণীদের খরচ এবং কর্মচারীদের পারিশ্রমিক দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সাদকা।

অসীয়াত অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) - ৫ম খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৫৮৮

হাদীস নং ২৫৮৮

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, উমর রা. তাঁর ওয়াকফে এই শর্তারোপ করেন যে, মুতাওয়াল্লী তা থেকে নিজে খেতে পারবে এবং বন্ধু-বান্ধবকেও খাওয়াতে পারবে, তবে সম্পদ সঞ্চয় করতে পারবে না।

বুখারি হাদিস নং ২৫৮৯ – ওয়াকফকারী যদি বলে, আমি একমাত্র আল্লাহর কাছে এর মূল্যের আশা করি, তবে তা জায়িয।

হাদীস নং ২৫৮৯

মুসাদ্দাদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বানূ নাজ্জার ! তোমাদের বাগানটি মূল্য নির্ধারণ করে আমার কাছে বিক্রি করে দাও। তারা বলল, আমরা এর মূল্য একমাত্র আল্লাহর কাছে আশা রাখি।

বুখারি হাদিস নং ২৫৯০ – অসীয়াতকারী কর্তৃক মৃতের ওয়ারিসদের অনুপস্থিতিতে মৃতের ঋণ পরিশোধ করা।

হাদীস নং ২৫৯০

মুহাম্মদ ইবনে সাবিক রহ. কিংবা ফযল ইবনে ইয়াকুব রহ…………মুহাম্মদ ইবনে সাবিক রহ.-এর মাধ্যমে…….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত যে, তার পিতাকে উহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয়। তিনি ছয়টি কন্যা সন্তান রেখে যান আর তাঁর উপর ঋণও রেখে যান।

খেজুর কাটার সময় হলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার পিতাকে উহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয়েছে আর তিনি অনেক ঋণ রেখে গেছেন।আমার মনে চায় যে, পাওনাদাররা আপনাকে দেখে নিক।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যাও। (খেজুর কেটে) এক এক রকম খেজুর এক এক স্থানে জমা কর। আমি তা-ই করলাম। এরপর তাকে অনুরোধ করে নিয়ে এলাম। লোকেরা যখন তাকে দেখল, তখন তারা আমার কাছে জোর তাগাদা করতে লাগল।

তিনি তাদের এরূপ করতে দেখে খেজুরের বড় স্তুপটির চারদিকে তিনবার ঘুরলেন, এরপর তার উপর বসে পড়লেন। তারপর বললেন, তোমার পাওয়ানাদারদের ডাক। তিনি মেপে তাদের পাওনা আদায় করতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার পিতার সমস্ত ঋণ আদায় করে দিলেন।

আর আল্লাহর কসম, আমি এতেই সন্তষ্ট যে, আমার পিতার ঋণ আল্লাহ পরিশোধ করে দেন, এবং আমি আমার বোনদের কাছে একটি খেজুরও নিয়ে না ফিরি। কিন্তু আল্লাহর কসম, সমস্ত স্তুপই যেমন ছিল তেমন রয়ে গেল।

আমি সেই স্তুপটির দিকে বিশেষভাবে তাকিয়ে ছিলাম, যার উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে ছিলেন। মনে হল যে, তা থেকে একটি খেজুরও কমেনি।

আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, أغروا بي এর অর্থ হল هيجوا بي অর্থাৎ আমার কাছে জোর তাগাদা করতে লাগল। মহান আল্লাহর বাণী : আমি তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগরুক রেখেছি।(৫:১৪)।

আরও পড়ুনঃ

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

গোলাম আযাদ করা অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বন্ধক অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কলহ বিবাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন