অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৩৩ | 5833 | ۵۸۳۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৯০. যে ব্যক্তি কারো ডাকে লাব্বাইকা এবং ‘সা’দাইকা’ বলে জবাব দিল
৫৮৩৩। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) বলেন, আমি একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে তার সওয়ারীর উপর বসা ছিলাম।

তখন তিনি আমাকে ডাকলেনঃ ওহে মুআয! আমি বললাম, লাব্বায়কা ওয়া সাদায়কা। তারপর তিনি অনুরূপ তিনবার ডাকলেন। এর পর তিনি বললেনঃ তুমি কি জানো যে, বান্দাদের উপর আল্লাহর হক কি?

তিনি বললেনঃ তা হল বান্দারা তার ইবাদত করবে আর এতে তার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না।

আবার কিছুক্ষণ চলার পর তিনি বললেনঃ ওহে মুআয! আমি জবাবে বাললামঃ লাব্বায়কা ওয়া সাদায়কা। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি জানো যে, বান্দা যখন তার ইবাদত করবে, তখন আল্লাহর উপর বান্দাদের হক কি হবে? তিনি বললেনঃ তা হল এই যে, তিনি তাদের আযাব দিবেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৩৪ | 5834 | ۵۸۳٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৯০. যে ব্যক্তি কারো ডাকে লাব্বাইকা এবং ‘সা’দাইকা’ বলে জবাব দিল
৫৮৩৪। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … যায়দ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) বলেনঃ, আল্লাহর কসম! আবূ যার (রাঃ) রাবাযাহ নামক স্থানে আমাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, একবার আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এশার সময় মদিনায় হাররা নামক স্থান দিয়ে পায়ে হেটে যাচ্ছিলাম।

তখন আমরা ওহুদ পাহাড়ের সম্মুখীন হলে তিনি আমাকে বললেনঃ হে আবূ যার! আমি এটা পছন্দ করি না যে, আমার নিকট ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা আসুক। আর ঋন পরিশোধ পরিমাণ ব্যতীত এক দ্বীনার পরিমাণ সোনাও এক রাত অথবা তিন তাত পর্যন্ত আমার হাতে তা থেকে যাক।

বরং আনি পছন্দ করি যে, আমি এগুলো আল্লাহর বান্দাদের এভাবে বিলিয়ে দেই। (কিভাবে দিবেন) তা তার হাত দিয়ে তিনি দেখালেন। তারপর বললেনঃ হে আবূ যার! আমি বললামঃ লাব্বায়কা ওয়া সাদায়কা, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন তিনি বললেনঃ দুনিয়াতে যারা অধিক সম্পদাশালী, আখিরাতে তারা হবেন অনেক কম সাওয়াবের অধিকারী।

তবে যারা তাদের সম্পদকে এভাবে, এভাবে বিলিয়ে দেবে। তারা হবেন এর ব্যতিক্রম।

তারপর তিনি আমাকে বললেনঃ আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত হে আবূ যার! তুমি এ স্থানেই থাকো। এখান থেকে কোখাও যেয়োনা। এরপর তিনি রওয়ানা হয়ে গেলেন, এমন কি আমার চোখের আড়ালে চলে গেলেন।

এমন সময় একটা শব্দ শুনলাম। এতে আমি শংকিত হয়ে পড়লাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বিপদের সন্মুখীন হয়ে পড়লেন কিনা? তাই আমি সে দিকে অগ্রসর হতে চাইলাম।

কিন্তু সাথে সাথেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিষেধাজ্ঞা, যে কোথায়ও যেয়োনা মনে পড়লো এবং আমি থেমে গেলাম।

এরপর তিনি ফিরে আসলে আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি একটা আওয়াজ শুনে শংকিত হয়ে পড়লাম যে, আপনি সেখানে গিয়ে কোন বিপদে পড়লেন কিনা। আপনার কথা স্মরণ করে থেমে গেলাম।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তিনি ছিলেন জিবরীল। তিনি আমার নিকট এসে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যাক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক না করে মারা যাবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।

তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদিও সে ব্যাক্তি ব্যভিচার করে? যদিও সে ব্যাক্তি চুরি করে? তিনি বললেনঃ সে যদিও ব্যভিচার করে, যদিও চুরি করে থাকে তবুও।

আমাশ (রহঃ) বললেনঃ আমি যাবদকে বললাম, আমার কাছে খবর পৌছেছে যে, এ হাদীসের রাবী হল আবূ দারদা। তিনি বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ হাদীসটি আবূ যারই রাবাযা নামক স্থানে আমার কাছে বর্ননা করেছেন।

আমাশ (রহঃ) বলেন, আবূ সালিহ ও আবূদ দারদা (রাঃ) সুত্রে আমার কাছে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবূ শিহাব আমাশ থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেনঃ ‘তিন দিনের অতিরিক্ত’।

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৩৫ | 5835 | ۵۸۳۵

পরিচ্ছদঃ ২৫৯১. কোন ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে তার বসার স্থান থেকে উঠাবে না
৫৮৩৫। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তি অপর কাউকে তার বসার জায়গা থেকে তুলে দিয়ে সে সেখানে বসবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৩৬ | 5836 | ۵۸۳٦

পরিচ্ছদঃ ২৫৯২. (আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ) যদি তোমাদের বলা হয় যে, তোমরা মজলিসে বসার জায়গা করে দাও। তখন তোমরা বসার জায়গা করে দিবে, তা হলে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্থান প্রশস্ত করে দিবেন …… (৫৮ঃ ১১)

৫৮৩৬। খাল্লাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যাক্তিকে তার বসার জায়গা থেকে তুলে দিয়ে সেখানে অপর ব্যাক্তিকে বসতে নিষেধ করেছেন।

তবে তোমরা বসার জায়গা প্রশস্ত করে দাও এবং ব্যবস্থা করে দাও। ইবনু উমর (রাঃ) কেউ তার জায়গা থেকে উঠে যাক এবং তার জায়গায় অন্যজন বসুক তা পছন্দ করতেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৩৭ | 5837 | ۵۸۳۷

পরিচ্ছদঃ ২৫৯৩. কারো তার সাথীদের থেকে অনুমতি না নিয়ে মজলিস কিংবা ঘর থেকে উঠে যাওয়া, কিংবা নিজে উঠে যাবার প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাতে অন্যরা উঠে যায়
৫৮৩৭। হাসান ইবনু উমর (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেনঃ যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাব বিনত জাহশ (রাঃ) কে বিয়ে করলেন, তখন তিনি কয়েকজন লোককে দাওয়াত করলেন। তারা আহার করার পর বসে বসে অনেক সময় আলাপ আলোচনায় মশগুল থাকলেন। তখন তিনি নিজে উঠে চলে যাওয়ার ভাব প্রকাশ করতে শুরু করলেন।

কিন্তু এতেও তারা উঠলেন না। তিনি এ অবস্থা দেখে নিজেই উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি চলে গেলেন, তখন লোকজনের মধ্যে যারা দাঁড়াবার ইচ্ছা করলেন, তারা তার সাথেই উঠে চলে গেলেন।

কিন্তু তাদের তিনজন থেকে গেলেন। এরপর যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে ঘরে প্রবেশ করতে চাইলেন, তখন দেখলেন যে ঐ তিনজন তখনো বসে রয়েছে।

কিছুক্ষণ পর তারাও উঠে চলে গেলে, আমি গিয়ে তাকে তাদের চলে যাওয়ার সংবাদ দিলাম। এরপর তিনি এসে ঘরে ঢুকলেন। তখন আমিও ঢ়ুকতে চাইলে তিনি আমার ও তার মধ্যে পর্দা টেনে দিলেন।

এই সময় আল্লাহ তাআলা ওহী নাযিল করলেনঃ হে মুনিনগণ! তোমাদের অনুমতি দেওয়া না হলে তোমরা নাবী গৃহে প্রবেশ করবে না …… আল্লাহর দৃষ্টিতে তা ঘোরতর অপরাধ (৩৩ঃ ৫৩)।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৩৮ | 5838 | ۵۸۳۸

পরিচ্ছদঃ ২৫৯৪. দু’ হাটুকে খাড়া করে দু’ হাতে বেড় দিয়ে পাছার উপর বসা
৫৮৩৮। মুহাম্মদ ইবনু আবূ গালিব (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাবা শরীফের আঙ্গিনায় দু’হাঁটু খাড়া করে দু’হাত দিয়ে তা বেড় দিয়ে এভাবে বসা অবস্থায় পেয়েছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৩৯ | 5839 | ۵۸۳۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৯৫. যিনি তার সাথীদের সামনে হেলান দিয়ে বসেন। খাব্বাব (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি একবার নবী (সাঃ) এর কাছে আসলাম। তখন তিনি একখানা চাদর দিয়ে বালিশ বানিয়ে তাতে হেলান দিচ্ছিলেন। আমি বললামঃ আপনি কি (আমার মুক্তির জন্য) আল্লাহর কাছে দু’আ করছেন না? তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন।

৫৮৩৯। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাদের নিকৃষ্ট কবীরা গুনাহের বর্ণনা দিব না?

সকলে বললেনঃ হ্যাঁ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে, আল্লাহব সঙ্গে অন্য কোন কিছুকে শরীক করা এবং মা বাপের অবাধ্যতা। মুসাদ্দাদ বিশরের এক সুত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ননা করেছেন।

তাতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ হুশিয়ার হয়ে যাও! আর (সবচেয়ে বড় গুনাহ হল) মিথ্যা কথা বলা। এ কথাটা তিনি বারবার বলতে থাকলেন অবশেষে আমরা বললামঃ হায়! তিনি যদি থেমে যেতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪০ | 5840 | ۵۸٤۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৯৬. যিনি কোন বিশেষ প্রয়োজনে অথবা যে কোন উদ্দেশ্যে তাড়াতাড়ি চলেন
৫৮৪০। আবূ আসিম (রহঃ) … উকবা ইবনু হারিস (রাঃ) বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তাড়াতাড়ি গিয়ে নিজ ঘরে প্রবেশ করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪১ | 5841 | ۵۸٤۱

পরিচ্ছদঃ ২৫৯৭. পালঙ্ক ব্যবহার করা
৫৮৪১। কুতাইবা (রহঃ) … আয়িশা। (রাঃ) বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার) পালঙ্গের মধাখানে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। তখন আমি তাঁর কিবলার মাঝখানে শুয়ে থাকতাম। যখন আমার কোন প্রয়োজন হতো, তখন আমি তাঁর দিকে মুখ করে উঠে দাঁড়ানো পছন্দ করতাম না বরং আমি শুয়ে শুয়েই পেছনের দিক দিয়ে কেটে পড়তাম।

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪২ | 5842 | ۵۸٤۲

পরিচ্ছদঃ ২৫৯৮. যার হেলান দেয়ার উদ্দেশ্যে একটা বালিশ পেশ করা হয়
৫৮৪২। ইসহাক এবং আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আমার বেশী সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন সম্পর্কে উল্লেখ করা হল।

তখন তিনি আমার ঘরে আসলেন এবং আমি তার উদ্দেশ্যে খেজুরের ছাল ভর্তি করা চামড়ার একটা বালিশ পেশ করলাম। তিনি মাটিতেই বসে পড়লেন।

আর বাশিশটা আমার ও তার মাঝখানে থেকে গেল। তিনি আমাকে বললেনঃ প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোযা থাকা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি বললাম। ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ তা হলে পাঁচ দিন? আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ তবে সাতদিন? আমি আবার বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ তবে নয়দিন?

আমি পূনরায় বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ তা হলে এগার দিন? আমি আবার বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি বললেনঃ দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) এর চেয়ে বেশী কোন (নফল) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) নেই।

তিনি প্রত্যেক মাসের (অথবা বছরের) অর্ধেক দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন অর্থাৎ একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন আর একদিন পালন করতেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৩ | 5843 | ۵۸٤۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৯৮. যার হেলান দেয়ার উদ্দেশ্যে একটা বালিশ পেশ করা হয়
৫৮৪৩। ইয়াহইয়া ইবনু জাফর ও আবূ ওয়ালীদ (রহঃ) … ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আলকামা (রহঃ) সিরিয়া গমন করলেন।

তখন তিনি মসজিদে গিয়ে দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে দু’আ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাকে একজন নেক সঙ্গী দান করুন।

এরপর তিনি আবূদ দারদা (রাঃ) এর পাশে গিয়ে বসে পড়লেন। তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনি কোন শহবের লোক? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি কুফার বাসিন্দা।

তিনি জিজ্ঞাসা করললেনঃ আপনাদের মধ্যে কি সেই ব্যাক্তি নেই? যিনি ঐ ভেদ সম্পর্কে অবগত ছিলেন, যা অপর কেউ জানতেন না।

(রাবী বলেন) অর্থাৎ হুযায়ফা (রাঃ) আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনাদের মধ্যে কি এমন ব্যাক্তি নেই, অথবা আছে যাকে আল্লাহ তা’আলা তার রাসুলের দু’আর কারনে শয়তান থেকে পানাহ দিয়েছেন?

(রাবী বলেন) অর্থাৎ আম্মার (রাঃ) তিনি আবার জিজ্ঞাস করলেনঃ আর আপনাদের মধ্যে কি সে ব্যাক্তি নেই যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিসওয়াক ও বালিশের জিম্মাদার ছিলেন?

(রাবী বলেন) অর্থাৎ আাদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। আবূ দারদা (রাঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূরায়ে ‘ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা’ কি রকম পড়তেন?

তিনি বললেনঃ তিনি ‘ওমা খালাকায যাকারা ওইয়াল উনসা’ এর স্থলে ‘ওয়ামা খালাকা’ অংশটুকু ছেড়ে দিয়ে পড়তেন “ওয়ায যাকারা ওইয়াল উনসা”। তখন তিনি বললেনঃ এখানকার লোকেরা আমাকে এ সূরা সম্পর্কেই সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিচ্ছিলেন। অথচ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকমই শুনেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৪ | 5844 | ۵۸٤٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৯৯. জুমু’আর সালাত শেষে কায়লুলা (দুপুরের বিশ্রাম গ্রহন)
৫৮৪৪। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমরা জুমুআর সালাত (নামায/নামাজ) এর পরেই কায়লুলা করতাম এবং দুপূরের খাবার খেতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৫ | 5845 | ۵۸٤۵

পরিচ্ছদঃ ২৬০০. মসজিদে কাইলুলা করা
৫৮৪৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাঃ) এর কাছে আবূ তুরাব এর চাইতে প্রিয়তর কোন নাম ছিল না। এ নামে ডাকা হলে তিনি অতান্ত খুশী হতেন। কারণ একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রাঃ) এর ঘরে আসলেন। তখন আলী (রাঃ) কে ঘরে পেলেন না।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার চাচাতো ভাই কোথায়? তিনি বললেনঃ আমার ও তার মধ্যে কিছু ঘটায় তিনি আমার সঙ্গে রাগারাগি করে বেরিয়ে গেছেন।

আমার কাছে কায়লুলা করেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ দেখতো সে কোথায়? সে লোকটি এসে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি তো মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দেখতে পেলেন যে, তিনি কাত হয়ে শুয়ে আছেন, আর তার চাঁদরখানা পাশ থেকে পড়ে গেছে। ফলে তার সাথে মাটি লেগে গেছে।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গায়ের মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেনঃ ওঠো, আবূ তুরাব (মাটির বাবা) ওঠো, আবূ তুরাব! একথাটা তিনি দু’বার বললেন।

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৬ | 5846 | ۵۸٤٦

পরিচ্ছদঃ ২৬০১. যিনি কোন কাওমের সাথে দেখা করতে যান এবং সেখানে ‘কাইলুলা’ করেন
৫৮৪৬। কুতায়বা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, উম্মে সুলায়ম (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি সেখানেই ঐ চামড়ার বিছানার উপর কায়লুলা করতেন।

এরপর তিনি যখন ঘুম থেকে উঠতেন তখন তিনি তার শরীরের কিছুটা ঘাম ও চুল সংগ্রহ করতেন এবং তা একটা শিশির মধ্যে জমাতেন এবং তাকে ‘সুক্ক’ নামক সুগন্ধির মধ্যে মিশাতেন।

রাবী বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনু মালিক এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে আসলে, তিনি আমাকে অসিয়ত করলেনঃ যেন ঐ ‘সুক্ক’ থেকে কিছুটা তার সুগন্ধির মধ্যে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং তা তার সুগন্ধির মধ্যে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৭ | 5847 | ۵۸٤۷

পরিচ্ছদঃ ২৬০১. যিনি কোন কাওমের সাথে দেখা করতে যান এবং সেখানে ‘কাইলুলা’ করেন
৫৮৪৭। ইসমাঈল (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কুবা’ এর দিকে যখন যেতেন তখন প্রায়ই উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করতেন এবং তিনি তাঁকে খানা খাওয়াতেন।

তিনি উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) এর স্ত্রী ছিলেন। একদিন তিনি তার ঘরে গেলে তাকে খাবার খাওয়ালেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানেই ঘুমালেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি সজাগ হয়ে হাসতে লাগলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে?

তিনি বললেনঃ স্বপ্নের মধ্যে আমাকে আমার উম্মাতের মধ্য হতে আল্লাহর পথে জিহাদকারী কিছু সংখ্যক মুজাহিদ দেখানো হয়েছে, যারা এই বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে বাদশাহদের মত সিংহাসনের উপর সমাসীন।

তখন তিনি বললেনঃ আপনি দু’আ করুন সেন আল্লাহ তা’আলা আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। তিনি সে দু’আ করলেন এবং বিছানায় মাথা রেখে আবার শুয়ে পড়লেন।

কিছুক্ষণ পর তিনি আবার হাসতে হাসতে সজাগ হলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে? তিনি বললেন (স্বপ্নের মধ্যে) আমাকে আমার উম্মতের মধ্য থেকে আল্লাহর পথে জিহাদকারী কিছু সংখ্যক লোক দেখানো হয়েছে, যারা এই বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে বাদশাহদের মত সিংহাসলের উপর সমাসীন।

তখন আবার আমি বললামঃ আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম বাহিনীদেরই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সুতরাং তিনি মুআবিয়া (রাঃ) এর আমলে সামুদ্রিক অভিযানে রওয়ানা হন এবং সমুদ্রাভিযান থেকে ফিরে এসে তার নিজেরই সাওয়ারী থেকে পড়ে গিয়ে (আল্লাহর পথেই) শাহাদাত বরণ করেন।

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৮ | 5848 | ۵۸٤۸

পরিচ্ছদঃ ২৬০২. যার জন্য যেভাবে সহজ হয়, সেভাবেই বসা
৫৮৪৮। আলা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রকমের লেবাস এবং দু’ধরনের বিক্রয় নিষেধ করেছেন।

পেচিয়ে কাপড় পরিধান করা থেকে এবং এক কাপড় পরে এহতেবা করা থেকে, যাতে মানুষের লজ্জাস্থানের উপর কোন কাপড় না থাকে এবং “মুলামাসা ও মুনাবাযা” বেচা-কেনা থেকেও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৪৯ | 5849 | ۵۸٤۹

পরিচ্ছদঃ ২৬০৩. যিনি মানুষের সামনে কারো সঙ্গে কানে কানে কথা বলেন। আর যিনি আপন বন্ধুর গোপনীয় কথা কারো কাছে প্রকাশ করেন নি। অবশ্য তার মৃত্যুর পর তা প্রকাশ করেন
৫৮৪৯।

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) বর্ণণা করেন, একবার আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সব সহধর্মিণী তাঁর নিকট জমায়েত হয়েছিলাম। আমাদের একজনও অনুপস্থিত ছিলাম না। এমন সময় ফাতিমা (রাঃ) পায়ে হেঁটে আসছিলেন।

আল্লাহর কসম! তাঁর হাঁটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাঁটার অনুরূপই ছিল। তিনি যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি আমার মেয়ের আগমন শুভ হোক বলে তাঁকে সম্বর্ধনা জানালেন।

এরপর যখন তিনি তাঁকে নিজের ডান পাশে অথবা (রাবী বলেন) বাম পাশে বসালেন। তারপর তিনি তাঁর সঙ্গে কানে কানে কিছুক্ষণ কথা বললেন, তিনি (ফাতেমা) খুব বেশী কাঁদতে লাগলেন।

এরপর তাঁর বিষন্ন অবস্থা দেখে দ্বিতীয়বার তাঁর সঙ্গে তিনি কানে কানে আরো কিছু কথা বললেন, তখন ফাতিমা (রাঃ) হাসতে লাগলেন।

তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণের মধ্য থেকে আমি বললামঃ আমাদের উপস্থিত থাকা অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ করে আপনার সঙ্গে বিশেষ কি গোপনীয় কথা কানে কানে বললেন, যার কারণে আপনি খুব কাঁদছিলেন?

এরপর যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে চলে গেলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তিনি আপনাকে কানে কানে কি বলেছিলেন?

তিনি বললেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভেদ (গোপনীয় কথা) ফাঁস করবো না। এরপর রাসূুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত হয়ে গেল।

তখন আমি তাঁকে বললামঃ আপনার উপর আমার যে দাবী আছে, আপনি আমি তার কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি কি গোপনীয় কথাটি আমাকে জানাবেন না?

তখন ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, এখন আপনাকে জানাবো। সুতরাং তিনি আমাকে জানাতে গিয়ে বললেনঃ প্রথম বার তিনি আমার নিকট যে গোপনীয় কথা বললেন, তাহল এই যে, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, জিবরীল আলাইহিস সালাম প্রত্যেক বছর এসে পূর্ণ কুরআন একবার আমার নিকট পেশ করতেন।

কিন্তু এ বছর তিনি এসে তা আমার কাছে দু’বার পেশ করেছেন। এতে আমি অনুমান করছি যে, আমার চির বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসছে। সুতরাং তুমি আল্লাহকে ভয় করে চলবে এবং বিপদে ধৈর্যধারণ করবে। নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগমনকারী।

তখন আমি কাঁদলাম যা নিজেই দেখলেন। তারপর যখন তিনি আমার বিষন্ন ভাব দেখলেন, তখন দ্বিতীয়বার আমাকে কানে কানে বললেনঃ তুমি কি জান্নাতের মুসলিম মহিলাদের অথবা এ উম্মতের মহিলাদের নেত্রী হয়ে যাওয়াতে সন্তুষ্ট হবে না? (তখন আমি হেসে দিলাম)।

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫০ | 5850 | ۵۸۵۰

পরিচ্ছদঃ ২৬০৪. চিত হয়ে শোয়া
৫৮৫০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মসজিদে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছি, তখন তার এক পা আরেক পায়ের উপর রাখা ছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫১ | 5851 | ۵۸۵۱

পরিচ্ছদঃ ২৬০৫. তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দু’জনে কানে-কানে বলবে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বানীঃ হে মুমিনগন! যখন গোপন পরামর্শ কর, সে পরামর্শ যেন পাপাচার, সীমালঙ্গন … মুমিনদের কর্তব্য আল্লাহর উপর নির্ভর করবে” (৫৮ঃ ৯-১০)।

আরও আল্লাহর বানীঃ হে মুমিনগন! তোমরা রসূলের সঙ্গে চুপিচুপি কথা বলতে চাইলে তাঁর পূর্বে সদাকা প্রদান করবে … তোমরা যা কর আল্লাহ তা সম্যক অবগত(৫৮ঃ ১২-১৩)।

৫৮৫১। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ ও ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোথাও তিনজন লোক থাকে তবে তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে দু’জনে মিলে চুপি চুপি কথা বলবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫২ | 5852 | ۵۸۵۲

পরিচ্ছদঃ ২৬০৬. গোপনীয়তা রক্ষা করা
৫৮৫২। আবদুল্লাহ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে একটি বিষয় গোপনে বলেছিলেন। আমি তার পরেও কাউকে তা জানাইনি। এটা সম্পর্কে উম্মে সুলায়ম (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু আমি তাঁকেও বলি নি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫৩ | 5853 | ۵۸۵۳

পরিচ্ছদঃ ২৬০৭. কোথাও তিনজনের বেশী লোক হলে গোপনে কথা বলা, আর কানে-কানে কথা বলা দূষনীয় নয়
৫৮৫৩। উসমান (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোথাও তোমরা তিনজন থাকো, তখন একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনে কানে-কানে কথা বলবে না। এতে তার মনে দুঃখ হবে। তোমরা পরস্পর মিশে গেলে তবে তা করাতে দোষ নেই।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫৪ | 5854 | ۵۸۵٤

পরিচ্ছদঃ ২৬০৭. কোথাও তিনজনের বেশী লোক হলে গোপনে কথা বলা, আর কানে-কানে কথা বলা দূষনীয় নয়
৫৮৫৪। আবদান (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন কিছু মাল লোকজনকে বণ্টন করে দিলেন।

তখন একজন আনসারী মন্তব্য করলেন যে এ বণ্টনটি এমন যার মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়নি। তখন আমি বললাম সাবধান! আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে এ কথাটা বলে দিব। এরপর আমি তার নিকট গেলাম। কিন্তু তখন তিনি একদল সাহাবীর মধ্যে ছিলেন।

তাই আমি কথাটা তাকে কানে-কানেই বললাম তখন তিনি রেগে গেলেন। এমন কি তার চেহারার রং লাল হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে তিনি বললেনঃ মূসা (আলাইহিস সালাম) এর উপর রহমত নাযিল হোক। তাকে এর চাইতে অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫৫ | 5855 | ۵۸۵۵

পরিচ্ছদঃ ২৬০৮. দীর্ঘ সময় কারো সাথে কানে-কানে কথা বলা
৫৮৫৫। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন।

একবার সালাত (নামায/নামাজ) এর একামত হয়ে গেলো, তখনও একজন লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কানে-কানে কথা বলছিলেন এবং দীর্ঘক্ষন ধরে তিনি এভাবে আলাপ করতে থাকলেন। এমন কি তার সঙ্গীগণ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫৬ | 5856 | ۵۸۵٦

পরিচ্ছদঃ ২৬০৯. ঘুমানোর সময় ঘরে আগুন রাখবে না
৫৮৫৬। আবূ নুয়ায়ম (রহঃ) … সালিম (রাঃ) তার পিতা থেকে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যখন তোমরা ঘুমাবে তখন তোমাদের ঘরগুলোতে আগুন রেখে ঘুমাবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫৭ | 5857 | ۵۸۵۷

পরিচ্ছদঃ ২৬০৯. ঘুমানোর সময় ঘরে আগুন রাখবে না
৫৮৫৭। মুহাম্মদ ইবনু আ’লা (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাত্রি কালে মদিনার এক ঘরে আগুন লেগে ঘরের লোকজনসহ পুড়ে গেল।

এদের অবস্থা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জানানো হলে, তিনি বললেনঃ এ আগুন নিঃসন্দেহে তোমাদের জন্য চরম শত্রু। সুতরাং তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে, তখন তোমাদেরই হিফাযতের জন্য তা নিভিয়ে ফেলবে।

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫৮ | 5858 | ۵۸۵۸

পরিচ্ছদঃ ২৬০৯. ঘুমানোর সময় ঘরে আগুন রাখবে না
৫৮৫৮। কুতায়বা (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পানাহারের পাত্রগুলো ঢেকে রাখবে।

আর ঘুমাবার সময় (ঘরের) দরজাগুলো বন্ধ করবে এবং বাতিগুলো নিভিয়ে ফেলবে। কারণ প্রায়ই দুষ্ট ইদুরেরা জালানো বাতির ফিতাগুলো টেনে নিয়ে যায় এবং ঘরে আগুন লাগিয়ে গৃহবাসীকে জ্বালিয়ে দেয়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৫৯ | 5859 | ۵۸۵۹

পরিচ্ছদঃ ২৬১০. রাত্রিকালে (ঘরের) দরজাগুলো বন্ধ করা
৫৮৫৯। হাসসান ইবনু আবূ আব্বাদ (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতে যখন তোমরা ঘুমাতে যাবে, তখন বাতি নিভিয়ে দেবে, দরজা বন্ধ করবে, খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি ঢেকে রাখবে এবং মশকের মুখ বেঁধে বাখবে। হাম্মাম বলেনঃ এক টুকরা কাঠ দিয়ে হলেও।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৬০ | 5860 | ۵۸٦۰

পরিচ্ছদঃ ২৬১১. বয়োঃপ্রাপ্তির পর খাতনা করা এবং বগলের পশম উপড়ানো
৫৮৬০। ইয়াহইয়া ইবনু কুযাআ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের স্বভাবগত বিষয় হলো পাচটিঃ খাতনা করা, নাভির নীচের পশম কামানো, বগলের পশম উপড়ানো, গোঁফ কাটা এবং (অতিরিক্ত) নখ কাটা।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৬১ | 5861 | ۵۸٦۱

পরিচ্ছদঃ ২৬১১. বয়োঃপ্রাপ্তির পর খাতনা করা এবং বগলের পশম উপড়ানো
৫৮৬১। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) আশি বছর বয়সের পর কাদূম ‘নামক’ স্থানে নিজেই নিজের খাতনা করেন। কুতায়বা (রহঃ) আবূয যিনাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘কাদ্দুম’ একটি স্থানের নাম।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৬২ | 5862 | ۵۸٦۲

পরিচ্ছদঃ ২৬১১. বয়োঃপ্রাপ্তির পর খাতনা করা এবং বগলের পশম উপড়ানো
৫৮৬২। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুর রহীম (রহঃ) … সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের সময় আপনি বয়সে কার মত ছিলেন?

তিনি বললেনঃ আমি তখন মাখতুন (খাতনাকৃত) ছিলাম। তিনি আরও বলেনঃ তাদের নিয়ম ছিল যে সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তারা খাতনা করতেন না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৬৩ | 5863 | ۵۸٦۳

পরিচ্ছদঃ ২৬১২. যেসব খেলাধুলা আল্লাহর আনুগত্য হতে বিরত রাখে সেগুলো বাতিল (হারাম)। আর ঐ ব্যক্তির ব্যপারে, যে তার বন্ধুকে বলল, চলো, আমি তোমার সাথে জুয়া খেলবো। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণীঃ “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশতঃ অসার বাক্য ক্রয় করে নেয়”। (৩১ঃ ৬)

৫৮৬৩। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি কসম করে এবং তার কসমে বলে লাত ও উযযার কসম, তা হলে সে যেন লা ইলাহা ইলাল্লাহ বলে, আর যে কেউ তার বন্ধুকে বলেঃ এসো আমি তোমার সাথে জুয়া খেলবো। সে যেন সাদাকা করে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৬৪ | 5864 | ۵۸٦٤

পরিচ্ছদঃ ২৬১৩. পাকা ঘর-বাড়ি নির্মাণ করা। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো, তখন পশুর রাখালেরা পাকা বাড়ি-ঘর নির্মাণে পরস্পর প্রতিযোগিতা করবে

৫৮৬৪। আবূ নুয়ায়ম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) বর্ননা করেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় আমার খেয়াল হলো যে, আমি নিজ হাতে আল্লাহর কোন সৃষ্টির সাহায্য ছাড়া এমন একটা ঘর বানিয়ে নেই, যা আমাকে বৃষ্টির পানি থেকে ঢেকে রাখে এবং আমাকে রোদ থেকে ছায়া দান করে।

অনুমতি চাওয়া অধ্যায় ২য় পার্ট । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৯ম খণ্ড

হাদিস নম্বরঃ ৫৮৬৫ | 5865 | ۵۸٦۵

পরিচ্ছদঃ ২৬১৩. পাকা ঘর-বাড়ি নির্মাণ করা। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো, তখন পশুর রাখালেরা পাকা বাড়ি-ঘর নির্মাণে পরস্পর প্রতিযোগিতা করবে
৫৮৬৫।

আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) বর্ননা করেন। আল্লাহর কসম! আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর থেকে এ পর্যন্ত কোন ইটের উপর ইট রাখি নি।

(অর্থাৎ কোন পাকা ঘর নির্মাণ করিনি) আর কোন খেজুরের চারা লাগাই নি। সুফিয়ান (রাবী) বর্ণনা করেন, আমি এ হাদীসটি তার পরিবারের এক ব্যাক্তির নিকট উল্লেখ করলাম।

তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! তিনি তো নিশ্চয়ই পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন। তখন আমি বললাম, তা হলে সম্ভবতঃ এ হাদীসটি তাঁর পাকা ঘর নিমাণের আগেকার হবে।

আরও পড়ুনঃ

মুকাতাব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় ১ম পার্ট – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

হিবা ও তার ফযীলত অধ্যায় ২য় পার্ট – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় পার্ট ১ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

শাহাদাত অধ্যায় পার্ট ২ । সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) । ৪র্থ খণ্ড

সহীহ বুখারী

মন্তব্য করুন