অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

অংশীদারিত্ব অধ্যায়

অংশীদারিত্ব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

Table of Contents

অংশীদারিত্ব অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩২১ – আহার্য, পাথেয় এবং দ্রব্য সামগ্রীতে শরীক হওয়া।

হাদীস নং ২৩২১

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমুদ্র তীর অভিমুখে বাহিনী প্রেরণ করেন এবং আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ রা.-কে তাদের সেনাপতি নিয়োগ করলেন। এ বাহিনীতে তিনশত লোক ছিলেন। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম।

আমরা রওয়ানা হলাম। কিন্তু মাঝখানেই আমাদের পাথেয় শেষ হয়ে গেল। তখন আবু উবায়দা রা. দলের সকলকে নিজ নিজ খাদ্যদ্রব্য এক জায়গায় জমা করার নির্দেশ দিলেন। তাই সমস্ত খাদ্য দ্রব্য জমা করা হল। এতে মোট দুথলে খেজুর জমা করা হল। আবু উবায়দা রা. প্রতিদিন আমাদের এই খেজুর থেকে কিছু কিছু করে খেতে দিতেন।

অবশেষে তাও শেষ হওয়ার উপক্রম হল এবং জন প্রতি একটা করে খেজুর ভাগে পড়তে লাগল। (রাবী বলেন) আমি (জাবির রা.-কে) বললাম, একটি খেজুর কি যথেষ্ট হত। তিনি বললেন, তার মূল্য তখন বুঝতে পারলাম, যখন তাও শেষ হয়ে গেল । তিনি বলেন, এরপর আমরা সমুদ্র পর্যন্ত পৌছে গেলাম।

হঠাৎ ছোট পাহাড়ের ন্যায় একটা মাছ আমরা পেয়ে গেলাম। এবং এ বাহিনী আঠারো দিন পর্যন্ত এই মাছ থেকে খেল। তারপর আবু উবায়দা রা.-এর আদেশে সে মাছের পাঁজর থেকে দুটো কাঁটা দাঁড় করানো হল।

তারপর তিনি হাওদা লাগাতে বললেন। হাওদা লাগানো হল। এরপর উট আর তার পাঁজরের নীচ দিয়ে চলে গেল কিন্তু উটের দেহ সে দুটো কাঁটা স্পর্শ করল না।

অংশীদারিত্ব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩২২

হাদীস নং ২৩২২

বিশর ইবনে মারহুম রহ……..সালামা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে লোকদের পাথেয় কমে গিয়েছিল এবং তারা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের উট যবেহ করার অনুমতি দেয়ার জন্য এলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুমতি দিলেন। তারপর তাদের সঙ্গে উমর রা.-এর সাক্ষাত হলে তারা তাকে এ খবর দিলেন। তিনি বললেন, উট শেস হয়ে যাবার পর তোমাদের বাঁচার কি উপায় থাকবে?

তারপর উমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললে, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! উট শেষ হয়ে যাবার পর তাদের বাঁচার কি উপায় হবে?

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : লোকদের কাছে ঘোষণা করে দাও যে, যাদের কাছে অতিরিক্ত যে খাদ্য সামগ্রী আছে, তা যেন আমার কাছে নিয়ে আসে।

এর জন্য একটা চামড়া বিছিয়ে দেওয়া হল। তার সেই চামড়ার উপর তা রাখলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাঁতে বরকতের জন্য দু’আ করলেন।

এরপর তিনি তাদেরকে তাদের পাত্রগুলো নিয়ে আসতে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল।

বুখারি হাদিস নং ২৩২৩

হাদীস নং ২৩২৩

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……..রাফি ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আসরের সালাত আদায় করে উট যবেহ করতাম। তারপর সে গোশত দশ ভাগে ভাগ করা হত এবং সূর্যাস্তের পূর্বেই আমরা রান্না করা গোশত খেয়ে নিতাম।

বুখারি হাদিস নং ২৩২৪

হাদীস নং ২৩২৪

মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……..আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আশআরী গোত্রের লোকেরা যখন জিহাদে গিয়ে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে বা মদীনাতেই তাদের পরিবার পরিজনদের খাবার কম হয়ে যায়, তখন তারা তাদের যা কিছু সম্বল থাকে, তা একটা কাপড়ে জমা করে।

তারপর একটা পাত্র দিয়ে মেপে তা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নেয়। কাজেই তারা আমার এবং আমি তাদের।

বুখারি হাদিস নং ২৩২৫ – যেখানে দু’জন অংশীদার থাকে যাকাতের ক্ষেত্রে তারা উভয়ে নিজ নিজ অংশ হিসাবে নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করে নেবে।

হাদীস নং ২৩২৫

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসান্না রহ……….আনাস রা. থেকে রা. বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতের বিধান হিসাবে যা নির্দিষ্ট করেছিলেন, আবু বকর রা. তা আমাকে লিখে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছেন, যেখানে দু’জন অংশীদার থেকে (যাকাত প্রদানের পর) তারা দু’জনে নিজ নিজ অংশ আদান-প্রদান করে নেবে।

অংশীদারিত্ব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩২৬ – বকরী বন্টন।

হাদীস নং ২৩২৬

আলী ইবনে হাকাম আনসারী রহ……..রাফি ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যুল-হুলাইফাতে ছিলাম।

সাহাবীগণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন, তারা কিছু উট ও বকরী পেলেন। রাফি রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দলের পিছনে ছিলেন। তারা তাড়াহুড়া করে গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে সেগুলোকে যবেহ করে পাত্রে চড়িয়ে দিলেন।

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে পাত্র উল্টিয়ে ফেলা হল। তারপর তিনি (গনীমতের মাল) বন্টন শুরু করলেন। তিনি একটি উটের সমান দশটি বকরী নির্ধারণ করেন। হঠাৎ একটি উট পালিয়ে গেল।

সাহাবীগণ উটকে ধরার জন্য ছুটলেন, কিন্তু উটটি তাদেরকে ক্লান্ত করে ছাড়ল। সে সময় তাদের নিকট অল্প সংখ্যক ঘোড়া ছিল। অবশেষে তাদের মধ্যে একজন সেটির প্রতি তীর ছুড়লেন।

তখন আল্লাহ উটটাকে থামিয়ে দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : নিশ্চয়ই পলায়নপর বন্য জন্তুদের মত এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে কতক পলায়নপর হয়ে থাকে। কাজেই যদি এসব জন্তুর কোনটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠে তবে তার সাথে এরূপ করবে।

(রাবী বলেন) তখন আমার দাদা (রাফি রা.) বললেন, আমরা আশংকা করছিলাম যে, কাল শত্রুর সাথে মুকাবিলা হবে। আমর আমাদের নিকট কোন ছুরি ছিল না।

তাই আমরা ধারালো বাঁশ দিয়ে যবেহ করতে পারব কি ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে বস্তু প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, সেটা তোমরা আহার করতে পার।

কিন্তু দাঁত বা নখ দিয়ে যেন যবেহ না করা হয়। আমি তোমাদেরকে এর কারণ বলে দিচ্ছি। দাঁত তো হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।

অংশীদারিত্ব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩২৭ – এক সঙ্গে খেতে বসলে সাথীদের অনুমতি ব্যতীত এক সঙ্গে দুটো করে খেজুর খাওয়া।

হাদীস নং ২৩২৭

খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এক সাথে খেতে বসে) সঙ্গে দুটো করে করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩২৮

হাদীস নং ২৩২৮

আবুল ওয়ালিদ রহ……….জাবালা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মদীনায় ছিলাম। একবার আমরা দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হলাম। তখন ইবনে যুবাইর রা. আমাদেরকে (প্রত্যহ) খেজুর খেতে দিতেন।

একদিন ইবনে উমর রা. আমাদের কাছে দিয়ে যাচ্ছিলেন। (আমাদের খেজুর খেতে দেখে) তিনি বললেন, তোমরা এক সাথে দুটো করে খেজুর খেওনা।

কেননা , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ব্যতীত দুটো খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩২৯ – কয়েক শরীকের ইজমালী বস্তুর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ।

হাদীস নং ২৩২৯

ইমরান ইবনে মায়সারা রহ………উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (শরীকী) গোলাম থেকে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে এবং তার কাছে গোলামের ন্যায্য মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকলে সে গোলাম (সম্পূর্ণ) আযাদ হয়ে যাবে (তবে আযাদকারী ন্যায্যমূল্য শরীকদের ক্ষতিপূরণ দিবে) আর সে পরিমাণ অর্থ না থাকলে যতটুকু সে আযাদ করবে ততটুকুই আযাদ হবে।

(রাবী আইয়ূব রা.) বলেন, عتق منه ما عتق বাক্যটি নাফি রহ.-এর নিজস্ব উক্তি, না নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসের অংশ, তা আমি বলতে পারি না।

 

বুখারি হাদিস নং ২৩৩০

হাদীস নং ২৩৩০

বিশর ইবনে মুহাম্মদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ (শরীক) গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করে দিলে তার দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজস্ব অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা।

যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

তারপর (অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য) তাকে উপার্জনে যেতে হবে, তবে তার উপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না।

অংশীদারিত্ব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৩১ – কুরআর মাধ্যমে বন্টন ও অংশ নির্ধারণ যাবে কি?

হাদীস নং ২৩৩১

আবু নুআঈম রহ……….নুমান ইবনে বাশীর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং যে সীমা লংঘন করে, তাদের দৃষ্টান্ত সেই যাত্রীদলের মত, যারা কুরআর মাধ্যেমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল।

তাদের কেউ স্থান পেল উপর তলায় আর কেউ নীচ তলায় (পানির ব্যবস্থা ছিল উপর তলা) কাজেই নীচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহ কালে উপর তলায় লোকদের ডিঙ্গিয়ে যেত।

তখন নীচ তলার লোকেরা বলল, উপর তলার লোকদের কষ্ট না দিয়ে আমরা যদি নিজেদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই (তবে ভাল হত) এমতাবস্থায় তারা যদি এদেরকে আপন মর্জির উপর ছেড়ে দেয় তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।

আর যদি তারা এদের হাত ধরে রাখে। (বিরত রাখ) তবে তারা এবং সকলেই রক্ষা পাবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৩২ – ইয়াতীম ও ওয়ারিসদের অংশদারিত্ব।

হাদীস নং ২৩৩২

আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ আমিরী ওয়াইসী ও লাইস রহ……..উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি একবার আয়িশা রা.-কে আল্লাহর তা’আলার বাণী :

আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তাহলে অন্য মহিলাদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দ মত দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজনকে বিয়ে করতে পারবে (৪ : ৩) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আয়িশা রা. বললেন, আমার ভাগিনা !

এ হচ্ছে সেই ইয়াতীম মেয়ের কথা, যে অভিভাবকের আশ্রয়ে থাকে এবং তার সম্পদে অংশীদার হয়। এদিকে মেয়ের ধন-রূপে মুগ্ধ হয়ে তার অভিভাবক মহরানার ব্যাপারে সুবিচার না করে অর্থাৎ অন্য কেউ যে পরিমাণ মহরানা দিতে রাযী হত, তা না দিয়েই তাকে বিয়ে করতে চাইত।

তাই প্রাপ্য মহরানা আদায়ের মাধ্যমে সুবিচার না করা পর্যন্ত তাদরেকে আশ্রিতা ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পছন্দমত অন্য মহিলাদেরকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে।

উরওয়া রা. বলেন, আয়িশা রা. বলেছেন, পরে সাহাবীগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (মহিলাদের সম্পর্কে) ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করলেন তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করেন।

তারা আপনার নিকট মহিলাদের সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করে, আপনি বলুন, আল্লাহই তাদের সম্পর্কে তোমাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

আর ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে কিতাব থেকে তোমাদেরকে পাঠ করে শোনান হয় যে, তাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ রয়েছে, তা তোমরা তাদের দাও না অথচ তাদের তোমরা বিয়ে করতে চাও।

(৪: ১২৭) يتلى عليكم في الكتاب বলে আল্লাহ পূর্বোক্ত আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে- আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তাহলে অন্য মহিলাদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দ মত দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজনকে বিয়ে করতে পারবে।

আয়িশা রা. বলেন, আর অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ এর মর্ম হল ধন ও রূপের স্বল্পতা হেতু তোমাদের আশ্রিতা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তোমাদের অনাগ্রহ।

তাই ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি অনাগ্রহ সত্ত্বেও শুধু ধন-রূপের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য ন্যায়সংগত মহরানা আদায় করে বিয়ে করতে পারে।

অংশীদারিত্ব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৩৩ – জমি ইত্যাদিতে অংশীদারিত্ব।

হাদীস নং ২৩৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে সব (স্থাবর) সম্পত্তি এখনো বণ্টিত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুফআ আর (তথা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার) বিধান দিয়েছেন। এরপর সীমানা নির্ধারণ করা হলে এবং পথ আলাদা করে নেওয়া হলে শুফআর অধিকার থাকেনা।

বুখারি হাদিস নং ২৩৩৪ – শরীকগণ বাড়িঘর বা অন্যান্য সম্পত্তি বন্টন করে নেওয়ার পর তাদের তা প্রত্যাহারের বা শুফআর অধিকার থাকে না।

হাদীস নং ২৩৩৪

মুসাদ্দাদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ধরনের অবণ্টিত স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে শুফআর ফায়সাল দিয়েছেন। এরপর সীমানা নির্ধারণ করে পথ আলাদা করে নেওয়া হলে শুফআর অধিকার থাকে না ।

বুখারি হাদিস নং ২৩৩৫ – সোনা ও রূপা বিনিময় যোগ্য মুদ্রার অংশীদার হওয়া।

হাদীস নং ২৩৩৫

আমর ইবনে আলী রহ……..সুলাইমান ইবনে আবু মুসলিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবুল মিনহাল রহ.-কে মুদ্রার নগদ বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, আমি এবং আমরা এক অংশীদার একবার কিছু মুদ্র নগদ ও বাকীতে বিনিময় করেছিলাম। এরপর বারা ইবনে আযিব রা. আমাদের কাছে এলে আমরা তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, আমি এবং আমার অংশীদার যায়েদ ইবনে আরকাম রা. এরূপ করেছিলাম।পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন, নগদে যা বিনিময় করেছ, তা বহাল রাখ, আর বাকীতে যা বিনিময় করেছ, তা প্রত্যাহার কর।

বুখারি হাদিস নং ২৩৩৬ – কৃষিকাজে যিম্মী ও মুশরিকদের অংশীদার করা।

হাদীস নং ২৩৩৬

মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে জমি এ শর্তে ইয়াহুদীদের দিয়েছেলেন যে, তারা নিজেদের শ্রমে তাঁতে চাষাবাদ করবে, তার বিনিময়ে উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক তাদের হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৩৭ – ছাগল বন্টন করা ও তাঁতে ইনসাফ করা।

হাদীস নং ২৩৩৭

কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর কিছু বকরী সাহাবীদের মাঝে বন্টনের জন্য তাকে (দায়িত্ব) দিয়ে ছিলেন।

বন্টন শেষে এক বছর বয়সী একটা ছাগল ছানা রয়ে গেল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে সে কথা জানালে তিনি ইরশাদ করলেন : ওটা তুমিই কুরবানী কর।

বুখারি হাদিস নং ২৩৩৮ – খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদিতে অংশীদারীত্ব।

হাদীস নং ২৩৩৮

আসবাগ ইবনে ফারজ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন।

তার মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ রা. একবার তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! একে বায়আত করে নিন।

তিনি বললেন : সে তো ছোট। তখন তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার জন্য দু’আ করলেন। (একই সনদে) যুহরা ইবনে মাবাদ রহ. থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম রা. তাকে নিয়ে বাজারে যেতেন, খাদ্য সমাগ্রী করিদ করতেন।

পথে ইবনে উমর রা. ও ইবনে যুবাইরের সাথে দেখা হলে তারা তাকে বলতেন (আপনার সাথে ব্যবসায়) আমাদেরও শরীক করে নিন। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য বরকতের দু’আ করেছেন।

এ কথায় তিনি তাদের শরীক করে নিতেন। অনেক সময় (লভ্যাংশ হিসাবে) এক উট বোঝাই মাল তিনি ভাগে পেতেন আর তা বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন।

বুখারি হাদিস নং ২৩৩৯ – গোলাম বাঁদীতে অংশীদারিত্ব।

হাদীস নং ২৩৩৯

মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (শরীকী) গোলাম থেকে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে সেই গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ করা তার জন্য ওয়াজিব হবে যাবে।

যদি তারা কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে অংশীদারদের তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করা হবে এবং আযাদকৃত গোলামের পথ ছেড়ে দেওয়া হবে।

অংশীদারিত্ব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৪০

হাদীস নং ২৩৪০

আবু নুমান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ (শরীকী) গোলাম থেকে একটা অংশ আযাদ করে দিলে গোলামটাই আযাদ হয়ে যাবে।

যদি তার কাছে (প্রয়োজনীয়) অর্থ থাকে (তাহলে সেখান থেকে অন্য অংশীদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে) অন্যথায় অতিরিক্ত কষ্ট না চাপিয়ে তাকে উপার্জন করতে বলা হবে।

বুখারি হাদিস নং ২৩৪১ – কুরবানীর পশু ও উট শরীক হওয়া এবং হাদী রওয়ানা করার পর কেউ কাউকে শরীক করলে তার বিধান।

হাদীস নং ২৩৪১

আবু নুমান রহ……….জাবির ও ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ ৪ঠা যিলহজ্জ ভোরে শুধু হজ্জের ইহরাম বেধে মক্কায় এসে পৌঁছলেন।

কিন্তু আমরা মক্কায় এসে পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করার আদেশ দিলেন। তখন আমরা হজ্জকে উমরায় পরিণত করলাম। তিনি আমাদেরকে স্ত্রীদের সাথে সহবাসেরও অনুমতি দিলেন।

এ বিষয়ে কেউ কথা ছড়ালো (অধস্তন রাবী) আতা রহ. বলেন, জাবির রা. বলেছেন, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সংগম করে মিনায় যাবে। এ কথা বলে জাবির রা. নিজের হাত লজ্জাস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। এ খবর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানে পৌঁছলে তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন।

আমি শুনতে পেয়েছি যে, লোকেরা এটা সেটা বলছে। আল্লাহর কসম ! আমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং অধিক আল্লাহ ভীরু।

পরে যা জেনেছি তা আগে ভাগে জানতে পারলে হাদী সাথে নিয়ে আসতাম না। আর সাথে হাদীস না থাকলে আমি ও ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যেতাম। তখন সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জুসুম রা. দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ !

এ হুকুম শুধু আমাদের জন্য, না এটা সর্বকালের জন্য। (রাবী আতা রহ.) বলেন, পরে আলী ইবনে আবু তালেব রা. (ইয়ামান থেকে) মক্কায় এলেন দুই রাবীর একজন বলেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম।

অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম।

ফলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাকেও হাদী এর মধ্যে শরীক করে দিলেন।

অংশীদারিত্ব অধ্যায় - সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

বুখারি হাদিস নং ২৩৪২ – যে ব্যক্তি বন্টন কালে দশটি বকরীকে একটা উটের সমান মনে করে।

হাদীস নং ২৩৪২

মুহাম্মদ রহ……….রাফি ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিহামার অন্তর্গত যুলহুলাইফা নামক স্থানে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অবস্থান করছিলাম।

সে সময় আমরা (গনীমতের অংশ হিসাবে) কিছু বকরী কিংবা উট পেয়ে গেলাম। সাহাবীগণ (অনুমতির অপেক্ষা না করেই) তাড়াহুড়া করে পাত্রে গোশত ছড়িয়ে দিলেন।

পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পাত্রগুলো উল্টিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। (বন্টনকালে) প্রতি দশটি বকরীকে তিনি একটি উটের সমান ধার্য করলেন।

ইতিমধ্যে একটি উট পালিয়ে গেল। সে সময় দলে ঘোড়ার সংখ্যাও ছিল খুব অল্প। তাই একজন তীর ছুড়ে সেটাকে আটকালেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, পলায়নপর বন্য জন্তুদের মতো এই গৃহপালিত পশুগুলোর মধ্যেও কোন কোনটা পলায়নপর স্বভাব বিশিষ্ট।

কাজেই সেগুলোর মধ্যে যেটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠবে তার সাথে এরূপই করবে। (রাবী আবয়াহ রহ.) বলেন, আমার দাদা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা আশংকা করি, আগামীকাল হয়ত আমরা শত্রুর মুখোমুখি হব।

আমাদের সাথে তো কোন ছুরি নেই। এমতাবস্থায় আমরা কি বাঁশের ধারালো কুঞ্চি দিয়ে যবেহ করতে পারি? তিনি বললেন : যে রক্ত বের করে তা দিয়ে দ্রুত কর।

যা আল্লাহর নাম দিয়ে যবেহ হয়, তা তোমরা খেতে পার। তবে তা যেন দাঁত বা নখ না হয়। তোমাদের আমি এর কারণ বলছি, দাঁত তো হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।

আরও পড়ুনঃ

পড়ে থাকা বস্তু উঠান (কুড়ানো বস্তু) অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) -৪র্থ খণ্ড

কলহ-বিবাদ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

ঋণ গ্রহণ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

পানি সিঞ্চন অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

বর্গাচাষ অধ্যায় – সহিহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) – ৪র্থ খণ্ড

মন্তব্য করুন